ভারতের নতুন টাকার নোট ও হিন্দী-দিল্লী আধিপত্যবাদ

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোট চালু পরপরেই এই নতুন নোটের নানা বৈশিষ্টকে বেআইনি বলে অভিযোগ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্টে। বিচারপতি সে মামলা গ্রহণ করেছেন এবং প্রাথমিক শুনানিতে সরকারপক্ষের এই বক্তব্য যে দেবনাগরীতে সংখ্যা আসলে সংখ্যা নয়, নকশা মাত্র, এ হেন সাফাইতে  সন্তুষ্ট হননি। সরকারপক্ষ আরো সময় চেয়েছে। আগের ৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ফলে যে রাষ্ট্রব্যাপী ব্যাপক আর্থিক অস্থিতি তৈরী হয়েছে, এই নতুন নোট আস্তে আস্তে তা সামলাবে। অথচ এই নতুন নোটের ডিজাইনের মধ্যে নিহিত রয়েছে এমন কয়েকটি জিনিস, তা এই ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক  জাতিসমূহের মধ্যে যে মৌলিক বোঝাপড়া, তাকে পদদলিত করে। এই নতুন নোটে অগ্রাধিকার পেয়েছে ৩টি জিনিস – হিন্দি, দিল্লি ও মোদী।

নতুন নোটগুলিতে সংখ্যা বড় করে ছাপা হয়েছে হিন্দির সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রচারিত লিপি দেবনাগরিতে। আগের নোট সংখ্যা দেবনাগরীতে ছিল না। নতুন দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকার কি মনে করে যে হিন্দিভাষীরই একমাত্র মাতৃভাষায় নোটের সংখ্যা পড়ার অধিকার আছে, আর অহিন্দীভাষীদের নেই? টাকার নোটে কোন লিপিতে সংখ্যা থাকবে, তা নির্ধারণ করে সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশাবলী। সংবিধানের ৩৪৩ নং ধারায় পরিষ্কার ভাবে বলা আছে যে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের যে কোন সরকারী (অফিসিয়াল ) কাজে ব্যবহার করতে হবে আন্তর্জাতিক সংখ্যালিপি। যার মানে হলো “ইংরেজি”তে আরবি-হিন্দু সংখ্যা। অর্থাৎ 1,2,3 ইত্যাদি। এতদিন তাই  হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক লিপি ছাড়াও নোটের ব্যাপারে দেবনাগরী লিপিতে সংখ্যা ছাপা যাবে, এই মর্মে কোন রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকা বা সাংবিধানিক বিধান নেই। ১৯৬০-এর রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকায় বলা আছে যে দেবনাগরী লিপির সংখ্যা শুধু সেই কেন্দ্রীয় সরকারী প্রকাশনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যে ক্ষেত্রে জনতার যে অংশের জন্য এই প্রকাশনা, তার জন্য এটি জরুরি। প্রথমতঃ, টাকার নোট কোন কেন্দ্রীয় সরকারী “প্রকাশনা” নয়। ফলে এই নির্দেশিকা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর দ্বিতীয়তঃ, টাকার নোটে ছাপা তথ্য কি শুধু হিন্দিভাষীদের জন্য? বাকিরা কি বানের জলে ভেসে এসছে? এই সকল ধারণার একটা মিথ্যা উত্তর মজুত থাকে।  সেটা হলো হিন্দী হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা। এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ও বেসরকারি কায়েমী স্বার্থান্বেষী চক্র গত ৭০ বছর ধরে এই মিথ্যা প্রচার করে চলেছেন।  ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা ধারণাটিরই কোন স্থান নেই। ভারতের কোন রাষ্ট্রভাষা নেই। গুজরাট হাইকোর্ট তার বিখ্যাত রায়তে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে অহিন্দী রাজ্যে, হিন্দী বিদেশী ভাষার সমতুল্য।

ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন নামক সংঘরাষ্ট্রে অহিন্দীভাষী জাতিসমূহ যে চুক্তির দ্বারা হিন্দীভাষী জাতির সাথে আবদ্ধ, তার নাম দিল্লীতে ক্ষমতাধারী পার্টির হিন্দীকরণের ম্যানিফেস্টো নয়। তার নাম সংবিধান। টাকার নোটে এই সংবিধানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো প্রকারান্তরে ইন্ডিয়ান উনিয়নের ঐক্যের উপর আঘাত হানা। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে যে রাজনৈতিক আদর্শ মানুষে মানুষে ভাষার প্রশ্নে বৈষম্য ঘটায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিককে ভাষার প্রশ্নে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করে, তা কোন বহুভাষী রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণময় নয়। এ ব্যাপারে হাতের কাছে ১৯৭১-পূর্ব্ববর্তী পাকিস্তান এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

যদি শাসকেরা চাইতেন যে ইংরেজি ছাড়াও মানুষের অন্যান্য ভাষায় সংখ্যাগুলি পঠিত হওয়া জরুরি, তার দুটি সহজ উপায় ছিল। এক, টাকার নোট যেহেতু প্রচার বা স্তুতির স্থান নয়, বরং একটি নিত্য ব্যবহারিক বস্তু, তাই টাকার বিনিময় কার্য্যের সাথে অপ্রাসঙ্গিক অন্যান্য ছবি ও নকশা তুলে নিয়ে অনেকগুলি ভাষার লিপিতে একই সাইজে সংখ্যা দেওয়া যেতো। দুই, ইউরো মডেল নেওয়া যেতো।  সে ক্ষেত্রে, ভাষিক জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত নগদের সমানুপাতিক হারে নানা সিরিজের নোট ছাপা যায়, যেখানে ইংরেজি সংখ্যার সাথে কিছু শতাংশ নোটে সংখ্যা থাকবে বাংলায়, কিছু শতাংশে দেবনাগরীতে, কিছু শতাংশ তামিলে, ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যের কথা এই যে যখন এই উপমহাদেশ ফিরিঙ্গী শাসনাধীন ছিল, তখন কিন্তু এই এলাকায় চালু টাকার নোটে ৯টি লিপিতে সংখ্যা (ইংরেজি সমেত) একই সাইজে দেওয়া থাকতো। ১৯১০ খ্রীষ্টাব্দের ১০ টাকার নোট দ্রষ্টব্য। একই সাথে একই সাইজে থাকতো নানা ভাষায় টাকার অঙ্কটি অক্ষরে লেখা – যথা বাংলায় দশ টাকা। বহু ভাষাকে সমমর্যাদা দেবার ব্যাপারটির ইতি ঘটে ১৯৪৭-এ ইন্ডিয়া রাষ্ট্র গঠিত হবার সাথে।  তবে থেকে হিন্দি তথা দেবনাগরী পরিণত হয় তথ্য দেবার জন্য বড় আকারে। অন্যান্য ভাষা পর্যবসিত হয় পিছনদিকের এক ছোট প্যানেলে গাদাগাদি করে ক্ষুদ্র আকারে, বৈচিত্রের পরাকাষ্ঠা হিসেবে। ১৯৪৭এর পর থেকেই ক্রমাগত টাকার নোটে হিন্দীর মোট এলাকার তুলনায় ইংরেজি ব্যতীত অহিন্দী ভাষাসমূহের মোট ছাপা এলাকা কমেছে বিরাটভাবে। ঔপনিবেশিক শাসনের তুলনায় টাকার নোটের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষিক জাতীয়তাগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য যে ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন রাষ্ট্রে লঙ্ঘিত হয়েছে, তা শুধু লজ্জার বিষয় নয়, চিন্তারও বিষয়। অহিন্দী ভাষাগুলির এই প্রান্তিকায়ন আকস্মিক নয়, প্রকট ভাবে পরিকল্পিত কেন্দ্রীকরণ-মূলক রাষ্ট্রনীতিরই অঙ্গ। ১০% তামিল আর ৭৫% চৈনিক জনগোষ্ঠীর সিঙ্গাপুর তাদের টাকার নোট তামিল, চীনা ও ইংরেজিতে একই সাইজের অক্ষরে নোটের অঙ্ক ছাপে। আসলে সমতা হোক বা বৈষম্য, ইচ্ছা ও নীতিটা আসল। নোট তারই বহিঃপ্রকাশ।

নতুন নোটে রয়েছে দেবনাগরী “র” অক্ষর সম্বলিত নতুন টাকার আইকন। এই আইকন বাছাইকালে কোন জনমত যাচাই হয়নি। আমার ভাষা বাংলা তথা অসমীয়াতে টাকা শব্দ যে অক্ষর দিয়ে শুরু, তা হলো “ট”, হিন্দীর রুপিয়ার “র” নয় । যদি আজ “র” এর জায়গায় সকল নোটে “ট” সম্বলিত আইকন ব্যবহার হতো, তাহলে হিন্দিভাষীরা কি মনে করতেন? তারা ছেড়ে দিতেন? আসলে হিন্দী আধিপত্যবাদের এই রাষ্ট্রে এই “ট” আইকন কল্পনা করাও শক্ত। পরিকল্পিত ভাবে অহিন্দীদেড় প্রান্তিক করে দেবার যে নানা প্রকল্প চালু হয়েছে, তা এখন টাকার নোটেও ঢুকে গেলো আরো জোরালো ভাবে।

কেউ বলতে পারেন, তাহলে ইংরেজিই বা এতো পবিত্র কেন? হিন্দী হলেই যত অসুবিধে? হিন্দী তো অন্ততঃ বিদেশী নয়। এ প্রসঙ্গে ফের মনে করাতে চাই, যে হ্যাঁ ইংরেজি বিদেশী ভাষা, এবং অহিন্দী মানুষের কাছে হিন্দীও বিদেশী ভাষাই। পূর্বোল্লোখিত গুজরাট হাই কোর্টের রায় সেটা পরিষ্কার করে দেয়। আমরা যেন দেশ ও রাষ্ট্র, এই ভিন্ন দুটি ধারণাকে এক না করে ফেলি। অবশ্যই, সকল ভাষার সমান অধিকারই আদর্শ উপায়।  তার ব্যতিরেকে কেন ইংরেজি, সে নিয়ে প্রবাদপ্রতিম গণনেতা তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী আন্নাদুরাই-এর মন্তব্য স্মর্তব্য। তিনি বলেছিলেন, ইন্ডিয়ান উনিয়নের মতো একটি বহুভাষিক সংঘরাষ্ট্রে প্রতিটি ভাষিক জাতীয়তাকে সুবিধা ও অসুবিধা সমান ভাবে ভাগ করে নিতে হবে। তবেই ঐক্য সাধিত হবে। ইংরেজি হলো এই ভাষিক জাতীয়তাগুলি থেকে সমদূরত্বে। এটাই ইংরেজির সুবিধে।  আরেকটি সত্য হলো যে ভারত নামক রাষ্ট্র কল্পিত হয়েছিল ইংরেজিতে – নানা জায়গার উচ্চবর্গের মানুষের মূলতঃ ইংরেজিতে ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে। আজও তা সত্য। এটা অবশ্যই ভারত কল্পনায় উচ্চবর্গের বিশেষ স্বার্থ ও প্রাধান্যকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়, কিন্তু তা আজকেও সত্য এবং বাস্তব।  ইংরেজি না থাকলে নানা ভাষী শাসক গোষ্ঠীর কোন মেলবন্ধন নেই।

এই নোটে রয়েছে আরো নানা সমস্যা। সংবিধানের অষ্টম তফসিলে গত কয়েক বছরে অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু ভাষা, যেগুলির নিজস্ব লিপি আছে, যেমন মনিপুরের মেইটেইলোন, সাঁওতালি (অলচিকি যার লিপি), সেগুলি নোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০ হাজারেরও কম মানুষের ভাষা সংস্কৃত রয়েছে নোটে কিন্তু ৭০ লক্ষাধিক মানুষের মাতৃভাষা সাঁওতালি নেই, এ কেমন পরিহাস?

অথচ নতুন করে যখন নোট ছাপা হলো, সেই সুযোগ তো ছিল। ফের, প্রশ্নটা সদিচ্ছার ও সমতার, যে সমতার আদর্শকে গলা টিপে মারে ক্ষমতা। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক বৈচিত্রকে নতুন দিল্লী একটি নিরাপত্তা ও ঐক্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। এই ভাষ্যে, হিন্দি ছাড়া সবকিছুই গোলমালের, অনৈক্যের প্রতীক, আর হিন্দী হলো ঐক্যের প্রতীক। এই প্রায় সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যকামী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায় যখন সরকারি ভাষার প্রচার ও প্রসার তথা অন্যান্য ভাষার স্বীকৃতি দেবার বিষয়টি দেখাশুনো করে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রকের অধীন একটি দপ্তর। নতুন দিল্লি নতুন নিয়ম চালু করেছে যে নিজস্ব লিপিহীন নতুন ভাষাগুলিকে সরকারি পঞ্জীকরণ ও স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য সেই ভাষা লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরী লিপি আবশ্যিক ভাবে মেনে নিতে হবে।  এখানে সেই ভাষার মানুষ তথা বিদ্দ্বদজনদেড় মতামত গুরুত্বহীন। এই ব্যবস্থার এক বলি হলো বোড়ো ভাষা, যেটির আবাদভূমি কোন হিন্দিভাষী এলাকার সংলগ্ন নয়। বোড়ো  লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে নতুন দিল্লীর আদেশে।  এর আগে মোহনদাস গান্ধীর ছবি দিয়ে টাকার নোটের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার রাজনীতিকরণ করা শুরু হয়েছিল। টাকায় এইবার বিজেপি সরকারের “স্বচ্ছ ভারত” প্রকল্পের বিজ্ঞাপন হিন্দিতে ছেপে টাকার নোটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে অন্য স্তরে নিয়ে গেলো। এর ফলে এবার থেকে টাকার নোট হয়ে উঠবে নিজ প্রবর্তিত সরকারি প্রকল্প বিজ্ঞাপনের এক নতুন ক্যানভাস। একটু একটু করে গণতন্ত্রের মৌলিক নিরপেক্ষতার কাঠামোটি ধ্বংস প্রাপ্ত হচ্ছে।

পুরানো নোটগুলিতে স্থান-ভিত্তিক রাজনৈতিক সিম্বল জায়গা পায়নি ৫০ টাকার নোট সংসদ ভবন ছাড়া। এই সংসদ ভবন সকল নাগরিকের প্রতীক।  অথচ আমরা দেখছি যে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোটে বিরাজ করছে লাল কেল্লার ছবি। এই লাল কেল্লার স্মৃতি ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের সকল জাতির কাছে সুখকর নয়। লাল কেল্লা ছিল দিল্লী-কেন্দ্রিক মোঘল সাম্রাজ্যের সদর দফতর। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্র মোঘল সাম্রাজ্যের উত্তরাধীকারী কোন রাষ্ট্র নয়।  এটি ১৯৪৭-এ সৃষ্ট। দিল্লী-কেন্দ্রিক যে সাম্রাজ্য বাঙালি, অহমিয়া, ওড়িয়া ইত্যাদি নানা স্বাধীন এলাকা দখল করেছিল, লাল কেল্লা সেই স্বাধীনতা হরণের প্রতীক। মূলতঃ হিন্দী-উর্দু ভাষী লোক-লস্কর এই দখলকৃত এলাকায় বসিয়ে তারা এই দেশগুলিকে শাসন করতো। সেই কাটা ঘায়ে লাল কেল্লার নুনের ছিটে দিয়ে আজকের নতুন দিল্লীর সরকার কি প্রমাণ করতে চায়?

৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ঘোষণাটি যখন নরেন্দ্র মোদী দিলেন হিন্দি ও ইংরেজি, ইংরেজির সময়ে পর্দায় ফুটে উঠলো হিন্দি অনুবাদ। কলকাতা দূরদর্শন কেন্দ্রকে বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয়নি, চেন্নাইকে দেওয়া হয়নি তামিল। তাই বাকি অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাগ্যে বরাদ্দ হয়েছে অন্যের থেকে শোনা কথা, গুজব ও বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম। রাষ্ট্র সবার। এবং সবাইকে তাদের ভাষায় জানানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই মৌলিক নীতির লঙ্ঘন জলভাতে পরিণত হয়েছে। এদিকে অহিন্দিভাষী অঞ্চলে ভোট চাইতে যাবার সময়ে কিন্তু বিজেপি সেই ভাষাতে পোস্টার-ফ্লেক্স দিতে ভোলে না। ক্ষমতার যত কেন্দ্রীকরণ হবে, ততো বেশি বেশি করে আরো বেশি মানুষ প্রান্তিক হবেন।নাগরিকের দায়িত্ব নয় নিজেকে বদলে রাষ্ট্রের উপযোগী হয়ে ওঠা।  কল্যাণকামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার পরিষেবার ক্ষেত্রে ও অন্য সকল ক্ষেত্রে নাগরিকসমূহের ভিন্নতার বাস্তবতা মাথায় রেখে সেই ভিন্নতাকে ধারণ করার উপযোগী হয়ে ওঠা।  যেন এরই রূপক হিসেবে দেখা গেল যে নতুন নোট চলতি এটিএম মেশিনগুলিকে না আঁটার ঘটনা। হাজারে হাজারে এটিএম মেশিন নতুন নোট অনুযায়ী বদলাতে হলো। বদলে চলতি এটিএম মেশিন অনুযায়ী নতুন নোট বানালে হতো না?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Colony, Federalism, Hindustan, Identity, India, Language, Nation, Uncategorized

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s