Category Archives: Culture

গোলাম আলির গজল সন্ধ্যার নেপথ্য রাজনীতি

গত অক্টোবর মাসে, পূর্ব পঞ্জাবের পাটিয়ালা ঘরানার প্রবাদপ্রতিম গজল গায়ক পাকিস্তানি পাঞ্জাবী নাগরিক গোলাম আলির একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী মুম্বই শহরে।উগ্র-হিন্দুত্ববাদী শিবসেনা দলের হুমকি ও চাপে সে অনুষ্ঠান বাতিল হয়। ফলে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে এনিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই ঘোলা জলে মাছ ধরে নিজেদের  “সহনশীলতা” প্রমাণ করে  বাহবা পাওয়ার প্রচেষ্টায় জুট যায় বেশ কিছু অ-বিজেপি রাজনৈতিক শক্তি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি গোলাম আলিকে আমন্ত্রণ জানান পশ্চিমবঙ্গে এসে তাঁর অনুষ্ঠান করার জন্য। এই বছরের ১২ জানুয়ারী কলকাতার নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়ামে ১৫০০০ শ্রোতার সামনে অনুষ্ঠিত হয় গোলাম আলির গজল সন্ধ্যা। সেদিনের সব ব্যবস্থাপনাকে ব্যক্তিগত ভাবে তদারকি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় স্বয়ং। গোলাম আলিকে তিনি সংবর্ধনাও দ্যান। দৃশ্যতই আপ্লূত হয়ে অভিজ্ঞ গায়ক মমতাদেবীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি সরস্বতী রূপে আমাদের সকলের উপকার করেছেন”।  

মমতা দেবীর গোলাম আলির অনুষ্ঠানের হোতা হওয়া নানাভাবে ইঙ্গিতময়। সবচেয়ে বড় করে যে সংকেত তিনি দিলেন না হলো এই যে ভারত সংঘরাষ্ট্রের সকল এলাকায় সকল মানুষ পাকিস্তানি সবকিছুকে বয়কট করার প্রশ্নে এককাট্টা নয়, সকল এলাকায় অসহনশীলতা শক্তিগুলির খবরদারিও চলে না । উপমহাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক পটভূমিতে এটি অবশ্যই একটি সুস্থ ও শুভ লক্ষণ। কিনতু আমরা যদি এই অনুষ্ঠান ও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক আরো কিছু অনুরূপ ঘটনার খুঁটিনাটি তলিয়ে দেখি, তাহলে দেখব যে ব্যাপারটি অতটা সহজ নয়। বিশেষতঃ পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরে  ধর্মনিরপেক্ষ ও  সাম্প্রদায়িক সামাজিক-রাজনৈতিক স্রোতগুলির মধ্যে যে আপাত সহজ বিভাজন আছে, তার প্রেক্ষিতে মমতা দেবীর  কিছু সংকেত ও কিছু চিহ্ন ব্যবহারের রাজনীতি কোন স্রোতগুলিকে পুষ্ট করে, সেটা পরিষ্কার করে বোঝা প্রয়োজন।

কলকাতায় পাকিস্তানি গায়ক গোলাম আলির গজল সন্ধ্যার উদ্যোক্তা ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।  কিনতু  পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোন দফতর? পাকিস্তানি গায়কের উর্দু গজলের যে আসলেই কোন  ধর্ম হয়না, তা বোঝাতে এটির উদ্যোক্তা হতেই পারত সংস্কৃতি দফতর বা নিদেনপক্ষে পর্যটন দফতর। উদ্যোক্তা ছিল পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ নিগম। পশ্চিমবঙ্গের “সংখ্যালঘু”-দের মধ্যে ৯০%এরও বেশি হলেন মোসলমান। তাদের সাথে একজন পাকিস্তানি গায়কের কিভাবে কোন ‘বিশেষ’ সম্পর্ক থাকতে পারে, তা পরিষ্কার নয়, যদি না পশ্চিমবঙ্গ সরকার বোঝাতে চান যে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জনগণের তুলনায়  গোলাম আলি কোন অর্থে পশ্চিমবঙ্গের মোসলমানের বেশি কাছের। গোলাম আলির উর্দুও কোন ‘বিশেষ  সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের মোসলমানের সাথে তাকে আবদ্ধ করে না কারণ এ রাজ্যের মোসলমানের মধ্যে ৯০%এরও বেশি হলেন বাংলাভাষী, বাঙ্গালী। এই উদ্যোক্তা চয়নের মাধ্যমে যে ভাবে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের এক অংশকে স্রেফ তার ধর্মীয় (পড়ুন  মোসলমান ) পরিচিতির মধ্যে সীমিত করা হলো এবং সেই গোদা পরিচিতিটিকে বেশ প্রকট ভাবেই পাকিস্তানের আরেক মোসলমান গায়কের সাথে ‘বিশেষ ভাবে যুক্ত করা হলো, তা ভারত সংঘের রাজনৈতিক আবর্তের সাম্প্রদায়িক ধারায় মোসলমান সম্বন্ধে চালু সবচেয়ে ক্ষতিকারক  স্টিরিওটিপিকাল ধারনাগুলিকেও হাওয়া দেয়। এই ধারণার সংক্ষিপ্ত আকার হলো – মোসলমানদের পাকিস্তানের প্রতি বিশেষ প্রেম আছে। উপমহাদেশের প্রায় সকল রাষ্ট্রেই প্রধান ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে ‘অন্যের মাল’ বা ঘরশত্রু হিসেবে কল্পনা করার একটি সুদীর্ঘ লজ্জাজনক ঐতিহ্য চালু আছে, এমনকি রাজনৈতিক ভাবে যারা ধর্মনিরপেক্ষ অর্থে মন্দের ভালো বলে পরিচিত, তাদের মধ্যেও।

প্রসঙ্গত, মমতা দেবী  এই প্রথমবার  সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ নিগমের ঢাল ব্যবহার করছেন আধা-রাজনৈতিক স্বার্থে, এমন নয়। এই নিগমেরই অনুস্থানগুলিতে তিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু, প্রধানত মোসলমানদের জন্য বিশেষ প্রকল্প ঘোষণা করতে করেছেন। নানা বিশেষের মধ্যে একটি বিশেষ ছিল বড়ই দৃষ্টিকটু। সেটি ছিল পশ্চিমবঙ্গে একটি বিরাট নজরুল কেন্দ্র স্থাপনার ঘোষণা (যেটি ইতিমধ্যে রাজারহাটে নজরুলতীর্থ নামে  চালু হয়ে গেছে)। নিখিল বাংলাদেশে মোসলমান ঘরে জন্মানো ব্যক্তিত্ব খুব কম ছিলেন বা আছেন যাদের প্রতিপত্তি ও যশ হিন্দু-মোসলমানের ধার ধারে না, যদিও ১৯৭১ পরবর্তী কালে (এবং কিছুটা তার পূর্ব্বেও) নজরুলকে গনপ্রজান্তন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় কবি বানিয়ে আলতো করে নজরুলকে ‘বিশেষ’ ভাবে পূর্ব্ব-বাংলার করে গড়ে তোলা হয়েছে। এই ‘বিশেষ’ এর মধ্যে ধর্মের ছাপ অনস্বীকার্য্য এবং মমতা দেবীর রকম-সকম দেখে মনে হয়, তিনিও বোধহয় নজরুলের এই ভ্রান্ত চরিত্রায়নে আস্থা রাখেন, অন্ততঃ রাজনৈতিক স্বার্থে।  একটি সংখ্যালঘু উন্নয়ন মঞ্চকে ব্যবহার করে মমতা দেবীর নজরুল সংক্রান্ত ঘোষণা আবার করে দেখিয়ে দেয় পশ্চিমবঙ্গের মোসলমান কি শুনতে চায়, সেই সম্বন্ধে তাঁর ঠিক বা বেঠিক ধারণা।

২০১৫র মে মাসে, মমতা দেবীর সরকার প্রখ্যাত উর্দু কবি আল্লামা ইকবালের নাতি ওয়ালিদ ইকবালকে কলকাতায় ডাকেন সরকারী সাহায্যে চলা পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অকাদেমির বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে। সুদূর লাহৌর থেকে এসে তিনি তাঁর দীর্ঘদিন আগে প্রয়াত ঠাকুর্দার সম্মানার্থে দেওয়া একটি পুরস্কার গ্রহণ করেন।  আবারও, কোন উর্দু কবিকে সম্মান দেওয়ার ব্যাপারে আপত্তির কিই বা থাকতে পারে? আপত্তির কিছুই নেই।  সমস্যা হলো, তৃনমূল দল যেভাবে উর্দু ও মোসলমানকে যুক্ত করে ফেলে সেটা নিয়ে , যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লামা ইকবালের নাতিকে এনে সেই ব্যাপারটিকে বিশাল সংখ্যক হোর্ডিং-এর সাহায্যে কলকাতার মোসলমান প্রধান এলাকাগুলিতে প্রচার করার পিছনের রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ ও ধারণা নিয়ে। তৃণমূল দলের ২০১১সালের ঘোষণাপত্রে তারা যেভাবে মাদ্রাসা ও উর্দু স্কুলের ব্যাপারটি সহজেই একসাথে বলেছে, তা থেকেই  ধারণা পাওয়া যায় তারা মোসলমান ও উর্দু, এই দুটি ব্যাপারকে কি ভাবে দেখে। ঘোষণাপত্রে তারা প্রকট-ভাবে গুলিয়ে ফেলে মোসলমান ও উর্দু, আর তাদের অনুষ্ঠান-সম্মান্প্রদানের মধ্যে অন্তর্নিহিত থাকে  উর্দু ও পাকিস্তানকে গুলিয়ে ফেলার, এবং পরিশেষে আভাস থাকে মোসলমান ও পাকিস্তানকে গুলিয়ে ফেলার। শেষের ভ্রান্তিটিই সবচেয়ে বিপদজনক।

পশ্চিমবঙ্গের ৯০% মোসলমান  বাংলাভাষী। আল্লামা ইকবাল  বা উর্দু বা গোলাম আলি পশ্চিমবঙ্গের  হিন্দু  বাঙ্গালীর থেকে যত দুরে, ততটাই দুরের সেখানকার মোসলমান বাঙ্গালীর থেকেও। অথচ তৃনমূল দলের মোসলমান নেতৃত্ত্বের মধ্যে আনুপাতিক হারে বাংলাভাষীদের প্রতিনিধিত্ব বেশ কম। তৃণমূলের জন্মসুত্রে মোসলমান সাংসদ-দের মধ্যে ৪০% হলেন উর্দুভাষী, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মোসলমানদের মধ্যে তারা ১০%ও না। এদেরকে নেতৃত্বে রাখার একটা সুবিধে হলো, জনভিত্তিহীন নেতাদের বসিয়ে একাধারে যেমন দলের মোসলমানদের মধ্য থেকে স্বতন্ত্র জননেতা তৈরীকে আটকানো যায়, আবার একই সাথে এই নেতাদের মোসলমানত্ব ভাঙ্গিয়ে  সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের দায়টিও সারা হয়। পশ্চিমবঙ্গের ২৫%জনগণ হলেন মোসলমান বাঙ্গালী। সেই বর্গ থেকে উঠে আসা স্বতন্র জননেতা যে শর্তে দর কষাকষি করবেন, যে ভাবে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার অন্য বিন্যাস তৈরীর সম্ভাবনা ধারণ করবেন, তা প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির মধ্যে আজকে বর্তমান কায়েমী স্বার্থগুলির স্থিতিশীলতার পক্ষে বিপদ। দেশ-ভাগ পুর্ব্ববর্তি সময়ে শের-এ-বাংলা ঠিক এটিই করেছিলেন কৃষক-প্রজা পার্টির আমলে, সামন্তপ্রভু নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ও সামন্ত্রপ্রভু নিয়ন্ত্রিত  মুসলিম লীগের ‘শরিফজাদা’ নেতৃত্বের বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে। ৭১-ও এক অর্থে এই আপাত বাঙ্গালী  ছুপা  ‘উচ্চকুল্শীল“ উর্দুপ্রেমীদের ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের আরেকটি ধাপ। দুঃখের বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের মোসলমান ৪৭-এর পর থেকে কোন ফজলুল হক-কে পায়নি। তাই কলকাতায় উর্দু-পাকিস্তান আপ্যায়ন করে মোসলমান -মোসলমান খেলা করা সম্ভব।  গোলাম আলীর গজল সন্ধ্যাকে বুঝতে হবে সেই পরিপ্রেক্ষিতেও । সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার কালিয়াচকে প্রায় লক্ষাধিক মোসলমান জনতা এক জমায়েত করে সুদূর উত্তর প্রদেশের এক অখ্যাত হিন্দু সাম্প্রদায়িক নেতার হজরত মহম্মদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে। জমায়েতটি সহিংস হয়ে ওঠে এবং বেশ কিছু গাড়ি জ্বালায় এবং হিন্দু দোকান ভাঙ্গচুর করে। এই দুরের ঘটনার উপর ভিত্তি করে, সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণার প্রচার যেভাবে এতগুলি মানুষকে এককাট্টা করলো এক সহিংস প্রতিবাদে, তা চিন্তার বিষয় কারণ রাজনৈতিক দল বহির্ভূত  এত বড় হিংসাত্বক জমায়েত প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক সংগঠনের অক্ষমতা ও মাঠস্তরে অনুপস্থিতিকেই প্রমাণ করে । যে কোন গোষ্ঠীর উপর ভিন্নতা আরোপ করতে করতে তা এক সময় ফ্র্যন্কেনস্টাইন দৈত্যে পরিণত হতেই পারে।  বরং পশ্চিমবঙ্গের মোসলমান বাঙ্গালীর আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নের যে রাজনীতি, তা গজল সন্ধ্যা ও নজরুল তীর্থের চমকের মাধ্যমে সম্ভব না। কারণ তার চাহিদাগুলি বিশাল-সংখ্যক হিন্দু বাঙ্গালির থেকে আলাদা নয় – যথা  খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইত্যাদি। এই পথটি কন্টকময় ও  লম্বা – অনেক বিরোধিতাও আসবে আশরাফ মোসলমান ও সবর্ণ হিন্দু কায়েমী স্বার্থে ঘা লাগলে। কিনতু সে কঠিন পথের কোন সহজ  বিকল্প নেই।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Elite, Faith, Identity, Kolkata, Language, Pakistan, Partition, Polity, Power, Religion, Uncategorized

কুমিল্লা সংস্কৃতি উত্সব – স্পর্ধা অন্যতর

আমি যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌছলাম পড়াশুনো করতে, তখন ওখানে স্থিত পশ্চিম বাংলার বাঙ্গালীদের মধ্যে অদ্ভূত আবিষ্কার করলাম। আপনি কোথাকার, এটা জিগেশ করলে, কেউ তার জেলা শহরের কথা বলেন না। প্রশ্নকর্তার ‘সুবিধার্থে’ বলেন যে তিনি কলকাতার।  কলকাতার একটা ব্যাপ্তি আছে।  ১৪৪ ওয়ার্ড-দিয়ে গড়া। আমি কলকাতা থেকে  বরানগরে  কর্মস্থলে যাই।  এটা কলকাতা নয়। কলকাতার উত্তরে একটা এলাকা। এখানকার অনেক মানুষ সহজ ভাবেই বলেন যে কাজে কলকাতায় যাচ্ছেন। আরেকটু উত্তরে ব্যারাকপুরে  কথাই নেই।  সেখানে এটা আরো পরিষ্কার ভাবে কলকাতা নয়, মানুষের ভাবনায়, চেতনায়, কল্পনায়। কিন্তু এই সব কিছু-কে কলকাতা মহানগরের মধ্যে মিলিয়ে দেবার প্রবণতার পিছনে আরেকটা কিছু রয়েছে। একটি শ্রেনীর হয়েছে, যারা কোনো কিছুরই নন গভীর-ভাবে।  তাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক।  ‘গ্লোবাল’ দুনিয়ার ম্যাপে একটা খুঁটি পোতা  এবং অন্যদের কে বোঝানো – এটাই সেই আত্মপরিচিতির লক্ষ্য। এক সাথে রয়েছে স্থানীয় অনেক ব্যাপার থেকে এলিয়েনেশন। সেটা শ্রেণীগত কারণে হতে পারে, ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির লেজুর-বৃত্তির ইপ্সায়  হতে পারে, স্থানীয় সংস্কৃতিক ধারা নিয়ে নিরক্ষরতাও একটা কারণ বটে। কিন্তু সকলে এমন নন। পূর্ব বাংলার যে মানুষদের সাথে আমার পরিচয়, তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভাবে স্থানীয় পরিচয় গৌণ  নয়, বা নিজেকে ‘ঢাকা’র বলে জানানোর প্রবৃত্তি কম।  এটা অনাবাসীদের ক্ষেত্রেও সত্যি। আমার বাড়ি চেতলা এলাকায়। আমি এখুন সেখানে থাকি।  পড়াশুনো ও গবেষনার কারণে ৮ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছি। আমি অতি ভাগ্যবান যে এমন এক নিবিড় পারা-সংস্কৃতি, ধর্মাচার ও নানা রকম মানুষ ও বাজারের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি বড় হবার সময়ে। যেহেতু আমি চেতলার, বাকি কলকাতা বা ‘কলকাতা’ কে দেখার আমার যে দৃষ্টি , যার মধ্যে চেতলার ছাপ অনস্বীকার্য।  আর সেটা হবে নাই বা কেন?  মাটি থেকে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, হাওয়া থেকে নয়, এলিয়েনেটেড মানুষের আমদানি করা ভাঁজ থেকে না। স্বেচ্ছায় শিকড়হীন শ্রেণী যে পশ্চিম বঙ্গে ও কিছুটা পূর্ব বঙ্গেও রাজনীতিতে, ক্ষমতায়, সংস্কৃতিতে – অন্দরে ও বিশ্বের কাছে নিখিল বাংলাদেশের মানুষের ‘মুখপত্র’ হয়েছেন মূলতঃ শ্রেণীগত ভাবে এক ধরনের ইংরেজি ভাষায় সমাজকে স্থুল ভাবে সাহেবের কাছে ও একে অপরের কাছে প্রদর্শনের কারণে, এ আমাদের লজ্জা। দোষ তাদের না – দোষ বাকিদের, যারা এই জায়গা ছেড়ে দিয়েছে ভয়, স্পর্ধাহিনতায়। মাটির থেকে, স্থানজ সংস্কৃতি থেকে বিছিন্ন শ্রেনীর এই আধিপত্যের বিরুধ্যে লড়াই একটা গভীর লড়াই – এর সাথে আমাদের যুগের সংস্কৃতিক সংকট, ও তার সাথে ক্ষমতার সম্পর্কের প্রশ্ন অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। এই ‘আব্সেনটি ল্যান্ডলর্ড’ শ্রেনীর বিরুধ্যে সংগ্রাম কোন প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতিক প্রতিরোধ নয়। পশ্চিম-চালিত একমুখী বৈচিত্র-বিরোধী যে দানবের দুনিয়া জোড়া আস্ফালন আমাদের পোড়ার দেশগুলিতে, তার শিকড়হীন দেশীয় দালাল-দের বিরুধ্যে সংগ্রাম আসলে গণতন্ত্রিকরণের সংগ্রাম। এটাই এই যুগের গণ-লাইন। নানা বৈচিত্রের, নানা বিভন্গের মানব-জমিন কে দখলদার মুক্ত করা, যাতে কিনা ‘ডকুমেন্টেশন’ এর বাইরেও কিছু হয়, যাতে সে জমিতে নতুন ফসল ফোটে , যে জমিতে পূর্বসুরীরা ফসল ফলিয়েছেন – তার ধারাবাহিকতায় ও এবং সেই  স্থানীয় পরিপ্রেক্ষিতে তার থেকেই বিচ্ছিন্নতায় – যে বিছিনতায় রয়েছে, যার থেকে বিছিন্ন, তার গভীর ছাপ।

এই কথাগুলি বলার কারণ হলো আমাদের সংস্কৃতিক ভাবনা ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও, কলকাতা-ঢাকা কেন্দ্রিকতার ঝোঁক স্পষ্ট। কল্কে পাবার যে সংজ্ঞা গুলি, কোন উদ্যোগ হলে সেটি কোথায় হতে হবে, করা করা না দেখলে তা প্রায় দেখার মতোই হলো না – এই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে বেশ কিছু কুসংস্কার কাজ করে। ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতি থেকেও তাহলে কিছু কিছু কুসংস্কারের উদ্ভব হয় – সব কিছু আমাদের স্থানজ যাপন ও চর্চার দোষ না। কি বলেন ?

অনেক কিছুই হয় কলকাতায়।  কিছুতে লোক আসে, কিছুতে আসে না।  অনেক ক্ষেত্রে অপাত্রে দান হয়। যদিও সে চর্চার মাহাত্ম্য বোঝার আসল লোক অন্যত্র।  কিন্তু সেখানে হলে মহানগরবাসী আদৌ যাবেন না।  অত দূর যাওয়া যায় নাকি। বাঁকুড়া – সে তো বহুদূর।  কিন্তু সে বাঁকুড়া থেকেই তারা আসেন, কলকাতার অত্যধিক ত্যালা মাথার তেল একটু গায়ে লাগানোর জন্য।  এই ধরনের সংস্কৃতিক কেন্দ্রিকতা সংস্কৃতিকে একটা নিষ্প্রাণ ধারণার সাথে ঠিক আছে, কিন্তু যাপন ও স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, এলাকার জল-আবহাওবায় ভেজে না সে সংস্কৃতি। তাই হয়তো তা  ‘এক্সপোর্ট কোয়ালিটি’র না। ডানা ছেঁটে, তাকে সাইজ করে, ‘ডকুমেন্ট’ করে, রামের জিনিস শ্যামকে দেখিয়ে,  সংগঠক হিসেবে নিজের নাম দিয়ে, এক শ্রেনীর ঠিকাদার নাম কামান সংস্কৃতির ধারক বাহক ও সমঝদার হিসেবে।  এদের শিকর-হীনতার জন্যেই, স্থানীয় ভ্যালুস এদের জীবনে অপ্রাসঙ্গিক হবার কারণে, এদের গর্জে ওঠেন ‘ঘষা-মজা’ না-করা স্থানীয় সংস্কৃতিক প্রকাশের বিরুধ্যে। কেন্দ্রিকতায় এদের কায়েমী স্বার্থ। ‘কস্মপলিটানিজম’ এর নাম এক বিশেষ ধরনের সংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ এদের মূল-মন্ত্র, যেখানে ল্যাজ-কাটা শেয়াল ল্যাজ-ওলা শেয়ালদের নিজ ল্যাজ সম্বন্ধে লজ্জিত করানোর চেষ্টা করে, ‘উচ্চমার্গ’ ও সূক্ষতার দোহাই দিয়ে। গণসংস্কৃতি, জনসংখ্যা -এদের বড় শত্রু। তাই সেগুলিকে জোর করে অদৃশ্য করে দেওয়ার চেষ্টা চলে নিরন্তর। তাই তো মনে হয় অনেকের কথা শুনে না ‘ইউথ’ মানে সে যে কফির পেয়ালা ধরে এক ধরনের চর্চা করে।  বাকি কিছুই ইউথ না। অন্ততঃ তাদের ইউথ হয়ে উঠতে অনেকগুলি ধাপ পেরোতে হবে, পরীক্ষা দিতে হবে শিকড়হীনতার – মাথায় তেলের চেয়ে সেম্পু বেশি লাগানোর।

এত কথা বললাম, কারণ ক্ষমতার সঙ্গে সন্ধি করে যে সংস্কৃতিক স্রোত বইছে মহানগরে, তার থেকে আলাদা যে কোন উদ্যোগ-ই বিরুদ্ধতা।  দহয়ত এটা দুঃখের যে স্বাভাবিক ভাবে বাঁকুড়া তে থেকে বাঁকুড়া নিমজ্জিত থাকাও আজকে একরকম দ্রোহ। এতেই ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির অসহনশীলতার প্রকাশ। এরই মাঝে দাঁড়িয়ে আছে – এক, দুই, তিন নয় – ৫ বছরের কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।

এই বাত্সরিক উত্সব কুমিল্লার মানুষের, অবারিত দ্বার সেখানে। সংগঠক এলাকার মানুষ, নতুন মানুষ এবং কুমিল্লার চশমা পরে বিশ্ব দেখে এসে ফের কুমিল্লায় আস্তানা বাঁধা মানুষজন – মনজুরুল আজিম পলাশ যার অন্যতম। এলাকার সংস্কৃতি, তার উপর যে নানা স্বার্থান্বেষী, বিদ্বেষী আঘাত – আধুনিকতার নাম, ধর্মের নাম – সে সকলের বিরুধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এই উত্সব। ঢাকা, কলকাতা, চিটাগাং, টরন্টো, চীন এসকল জায়গা থেকে মানুষ কুমিল্লা গেছিলাম।  বড় শহর থেকে মানুষ ছোট শহরে যাবে কিছু পাবার জন্য – জজ-জুরি হিসেবে না, অতিথি হিসেবে, নিজেকে ব্যাপ্ত করার সুযোগ হিসেবে – এটা আজকের সময়ে বড় কম কথা নয়। এবং সেখানকার গণ-সংস্কৃতির কাছে মাথা নবাবে, আঁজলা  ভরে নেবে, হয়ত বা কিছু দেবেও।  এই ভাবেই অতিথির চোখে দেখলাম এই অসাধারণ উত্সব।  সুসু অতীত চর্চা নয়, শুধু ‘সনাতন’ চর্চা নয়, আবার সেসব বাদ দিয়েও নয়, আবার সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা কে সামনে রেখে, অনেক স্বেচ্ছা-সেবকের উদ্যোগে হলো এই উত্সব।  এলাকার গণ-সংস্কৃতির ও গর্ববোধের কাঠামো যে মজবুত তা বুঝলাম কুমিল্লার একাধিক স্থানীয় দৈনিক কাগজ দেখে – এবং সেখানে এই উত্সবের উত্সাহী রিপোর্টিং দেখে।  আলাপ হলো কুম্মিলার কাগজের নির্ভিক দরদী সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের সাথে।  আরো কত জানা হলো, কত কিছু শিখলাম।

এই সময়ে, এই স্পর্ধা করা যে কুমিল্লায়, তাদের কাছে যে মাল মজুত আছে, তা ঝুলি থেকে বার করে দেখালে, বাইরে থেকে লোক আসবে। তারাও আসবে নিজেদের একটু আধটু নিয়ে, নিয়ে যাবে অনেক বেশি।  আজকের কেন্দ্রিকতার দুনিয়ায়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব ( কুমিল্লা কালচারাল ফেস্টিভেল) -এর স্পর্ধা অন্যতর বিশ্বায়নের এক মেনিফেস্টোর মত – গণসংযোগ, স্থানীয় সংস্কৃতিক স্বাক্ষরতা, মাটির সাথে সম্পর্ক, মানুষ সম্পর্কে শ্রদ্ধা, বিকেন্দ্রীকরণ, গণতন্ত্রীকরণ এবং নিজেকে পৃথিবীর কেন্দ্র মনে করা এক বহুকেন্দ্রিক পৃথিবীর কল্পনা করা।

গেছিলাম আমন্ত্রণে।  ফিরলাম এলাকাকে ও তার মানুষকে একটু চিনে, আর এও জেনে যে ঢাকা ও কলকাতার দিয়ে সংস্কৃতির সকল ধারা কে বাধ দেওয়া যায় না, এবং সেগুলি অনেক কিছুর জন্যই আদর্শ স্থান নয়।  আমার-ও কিছু পাওয়ার আছে কুমিল্লা থেকে। কাউন্টার ভ্যানগার্ড হয়ে হয়্তো তা ভ্যানগার্ড ধারণার সঙ্গে একটা সমালোচনা-মূলক সংলাপ। সেদিক থেকে কুমিল্লার এই উত্সব পথিকৃত। এলাকার গান ছিল, এলাকার নাটক ছিল, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আশা মানুষের একাধিক মাস্টার ক্লাস ছিল, মোটর সাইকেল স্টান্ট ছিল, আলাপ-আড্ডা-হেঁটে বেড়ানো ছিল। পর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনা ছিল।  স্থানীয় অশুভ শক্তির সাথে যুগপত সমঝোতা ও বিরুদ্ধতার যে কঠিন আভ্যন্তরীন সংগ্রাম, তাও ছিল।  শুধু অনুষ্ঠান সূচী দিয়ে এই উত্সব কে বোঝা যাবে না।  তার জন্য নিজ এলাকায় এমন উত্সব সংগঠিত করতে হবে, মানুষকে জুড়তে হবে।  কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব কোন তীর্থ না, এটি একটি মডেল। সতী মাতার শরীরের নানা অংশ বাংলার নানা স্থানে পড়েছিল , এক স্থানে পড়ে নি। তাই এত গুলি তীর্থ কে কেন্দ্র করা এতগুলি ধারা, এতগুলি চর্চা ও ভাবনা। পুরনো তীর্থ গুলু ধুঁকছে, নতুন তীর্থ জন্মাচ্ছে না,  ঢাকা-কলকাতা ‘মহাতীর্থ’ হয়ে উঠছে।  এই সময়ে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব একটি আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠার আভাস দেখায়। পরের বার ষষ্ঠ কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।  চোখ কান খোলা রাখব আমি, আপনারাও রাখবেন। বিকল্প অন্বেষণের  একই প্রয়োগশালাটি  আবার দেখা সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Dhaka, Kolkata

গোবিন্দ হালদারের নিষিদ্ধ ফিসফিস

সে যতই দেখনদারী হোক, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ওপার বাংলায় যাত্রার ফলে কিছু সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে – যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই একটি জাতির দুই বিভক্ত অংশের একে অপরের দিকে নতুন করে তাকানো। এই বিভক্তির কারণের মধ্যে, তার ঠিক-ভুলের মধ্যে না গিয়েও একটা কথা বলা যায়। দেশভাগ ও তার পরেও ঘটতে থাকা খুন-ধর্ষণ-ধর্মান্তরকরণ-লুঠ-ঘরপোড়ানো-সম্পত্তিদখল ইত্যাদি ভয়ানকের অপরাধের শাস্তি হয়নি, এপারেও – ওপারেও। এই আদি পেপার বোঝা সুদে-আসলে এতই ভারী যে মানুষ সেই বোঝাকে ফেলে দিয়ে ভুলেই গেছে পাপের কথা। প্রায়শ্চিত্ত তো দূরস্থান।

১৯৪৭-এর বাংলা-ভাগের সাথে ব্রিটিশদের দ্বারা উপমহাদেশের শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলির হাতে যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল, আজকের ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন, পাকিস্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এক অর্থে তার-ই ফসল। এই ভাগের সাথে সাথেই ‘আমরা’ কারা ,’বন্ধু’ কারা ’, ‘শত্রু’ কারা- এগুলির নানা মিথ রচনার বীজ পোঁতা হয়, যার থেকে বেরোনো মহীরুহ আজকের দিনে আমাদের মনকে, আমাদের কল্পনাকে একদম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে। নতুন রাষ্ট্রের পেটের গভীর থেকে জন্মানো এই কল্পকাহিনীগুলি যে আজ পবিত্র সত্যের স্থান নিয়েছে, তা শুধু গল্পের ভাবের জোরে নয়। সরকারী প্রচার এবং সরকারী বাহিনী, ঘুষ ও শাসানি, আঁচড় ও আদর, পুরস্কার ও থার্ড ডিগ্রী, জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও মিথ্যা মামলায় হাজতবাসের এক অসামান্য সংমিশ্রনেই আজকের পবিত্রতা, সংহতি, ‘বিকাশ’, রাষ্ট্রপ্রেমের জন্ম (দেশপ্রেমের নয়)। সাবালক এই সব বিষবৃক্ষের রসালো ফলের আমার দৈনিক কাস্টমার। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে, আমাদের স্বকীয় আত্মপরিচিতকে পিটিয়ে পিটিয়ে রাষ্ট্রীয় ছাঁচে ঢোকানো হয়েছে দিল্লী, ইসলামাবাদ ও ঢাকার মাতব্বরদের স্বার্থে। মানুষের আত্মাকে কেটে সাইজ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার জুজু দেখিয়ে। এই পাপ বঙ্গোপসাগরের থেকেও গভীর।

আমাদের কল্পনা ও স্মৃতির অগভীরতার কারণে আমরা মনে করি যে এক রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বোধয় দৈব নির্ধারিত কোন ‘প্রাকৃতিক’ নিয়ম যা না মানলে আমরা দুনম্বরী বিশ্বাসঘাতক মানুষ। যাদের আনুগত্য, টান ও ভালবাসা রাষ্ট্র-সীমান্ত পেরোলে ঝুপ করে উবে যায় না, তারা বুঝিবা মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং রাষ্ট্রের চোখে নেমকহারাম। রোজ এই ধারণাগুলিকে বিনা বাক্যে মেনে দিয়ে আমরা আমাদের এই মর্ত্যলোকে স্বল্প সময়ের জীবনকে করে তুলি ঘৃণাময়, ভীতিময়, কুঁকড়ে থাকা। ১৯৭১-এ কিছু সময়ের জন্য পূর্ব বাংলার মুক্তিসংগ্রামের সময়ে এপার বাংলায় এরকম অনেক তথাকথিত বিকার চোরাগলি ছেড়ে রাজপথে মুখ দেখানোর সাহস ও সুযোগ পেয়েছিল। এ সত্যি যে ১৯৭১-এ ইন্ডিয়ান উনীয়নের নানা এলাকায় পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সমর্থন ও সাহায্য ছিল। কিন্তু পশ্চিম বাংলায় এই সাহায্যের আড়ালে যে আবেগের প্রকাশ ঘটেছিল, তা আজকের ডেটল-ধোয়া ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্রাষ্ট্রিক সম্পর্কের পবিত্র গণ্ডির বাইরের এক প্রায়-নিষিদ্ধ জিনিস। পশ্চিমবঙ্গের সাথে পূর্ববঙ্গের যে একাত্তুরে ‘ঘনিষ্টতা’, তার সাথে কর্ণাটকের সাথে পশ্চিমবঙ্গের ঘনিষ্টতা বা কর্ণাটকের সাথে পূর্ববঙ্গের ঘনিষ্টতার কোন মিল নেই। এই মিল-অমিলের অঙ্ক মেলাতেই তো ঘনঘন বেজে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত, যাতে এরম চিন্তা গুলিয়ে যায় মিলিটারি ব্যান্ডের আওয়াজে। দিল্লি-ও একাত্তরে ভালই জানত এসব ‘নিষিদ্ধ’ প্রেমের কথা – কিন্তু এই প্রেম তখন তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পক্ষে কাজ করেছিল বলে বাড়তে দিয়েছিল কিছুদিন অন্যদিকে তাকুয়ে, তারপর রাশ টেনে সমঝে দিয়েছিল সময়মত। এই আচরণেরও অন্য উদাহরণ আছে। যেমন তামিল নাদুর বিধানসভায় শ্রীলংকার ইলম তামিলদের সমর্থনে যেসব প্রস্তাব পাশ হয়, তা নিয়ে দিল্লীর নিস্তব্ধতা – যেন দেখেও দেখছে না। যেমন কাবুল ও পেশোওয়ারের মধ্যে যে ঠান্ডা-গরম পাখতুন বন্ধন ও তা নিয়ে আজকে ইসলামাবাদের চাপা ভীতি।

১৯৭১ অবশ্যই অতীত। সেই ‘নিষিদ্ধ’ প্রেম আমরা কবে বন্ধক দিয়েছি বেঙ্গালোর-দিল্লী-নয়ডা-গুরগাঁও স্বপ্নে বিভোর হয়ে। তাই তো আজ, আমরা, এই বাংলায়, দিল্লির থেকে ধার করা চশমায় পূব দিকে তাকাই আর দেখি – গরুপাচারকারীর মুখ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মিছিল, হিন্দু বাঙালির শেষ আশ্রয়স্থল হোমল্যান্ডটিকেও জনসংখ্যার বিন্যাসে কেড়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র। এই সবই কিছু ঠিক, কিছু ভুল, কিন্তু সেসব ঠিক-ভুলের পরেও মধ্যে লুটোয় দিগন্তজোড়া বাংলাদেশের মাঠ, যে মাঠ শুধু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাঠ নয়, বরং নিখিল বাংলাদেশের মাঠ। সে উত্তরাধিকার আজ প্রায় তামাদি।

বিগতকালের এই যে সম্পর্ক, যার শেষ প্রতিভুদের একজন এই গোবিন্দ হালদার। একরাষ্ট্রের আনুগত্যে বাঁধা আমরা, তাই এ প্রেমের কথা কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার পায় না। এ সম্পর্ক – তা ঠিক পরকীয়া নয়, বরং এমন এক প্রেম যার শুরুর পরে প্রেমিক হয়েছে বিভাজিত। আর প্রেমিকার প্রেম থেকে গেছে একইরকম। কিন্ত অন্যের চোখে সে দুই প্রেমিকের প্রেমিকা, এবং কলঙ্কিনী। এমনই এক প্রেমিকা ছিলেন গোবিন্দ হালদার। গত ১৭ জানুয়ারী, ৮৪ বছর বয়সে মারা গেলেন অতি সাধারণ এক হাসপাতালে। অবিভক্ত যশোর জেলার বনগাঁ এলাকায় জন্ম।বনগাঁ ‘পড়ে’ ‘ইন্ডিয়ায়’।আকাশবাণীর জন্য গান লিখেছেন। একাত্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আকাশবাণী কলকাতা। পরে যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য প্রচুর গান লেখেন যা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ও পূর্ব বাংলার জনগণের মুখের গান, প্রাণের গান হয়ে ওঠে। মোরা একটি ফুল বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠেছে রক্ত লাল, পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা – এগুলি তার প্রবাদপ্রতিম রচনা। শ্রোতার ভোটে তৈরী বিবিসি রেডিওর সর্বকালের সেরা ১০টি বাংলা গানের তালিকায় তার দুটি গান উপস্থিত। এই লোকটি মারা গেল, কোন বঙ্গশ্রী, পদ্মশ্রী ছাড়াই। আসলে সে ঠিক গান লিখেছিল ‘ভুল’ রাষ্ট্রের জন্য। তাই এপারে তার কল্কে নেই। আমাদের মধ্যেই ছিলেন এতদিন। জানতে চেষ্টাও করিনি, কারণ রাষ্ট্রর ক্ষমতা যত বেড়েছে, তা আমাদের মানুষ হিসেবে ছোট করে দিয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-ও একাত্তরে গোবিন্দ হালদারের নাম ফলাও করত না – সে ‘ভুল’ রাষ্ট্রের যে। পরে ঋণ শোধের চেষ্টা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিত্সার খরচ পাঠিয়েছেন, সরকার পুরস্কৃত করেছেন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কলকাতায় মৃত্যুপথযাত্রী গোবিন্দ হালদারকে দেখে গেছেন। আমার কাছে একটা ছবি আছে – বৃদ্ধ গোবিন্দ হালদার বাংলাদেশের পতাকা নিজের বুকের কাছে ধরে আছেন। পার্টিশন এলাকার যারা নন, একদেশ-একজাতি-একরাষ্ট্র রাষ্ট্রের গর্বে বলিয়ান যারা, হয়ত ভাগ্যশালী তারা,কিন্তু তাদের কি করে বোঝাব এসব ? হয়ত তারা বুঝবে পরজনমে, রাধা হয়ে। তখুন হয়তো তারা অনুভব করবে গোবিন্দ হালদারদের দেশের ঠিকানা।

কেউ কেউ কিন্তু তলে তলে বোঝে। ঢাকার অভিজিত রায় – খ্যাতিমান মুক্তমনা ব্লগার। ২৬ তারিখে , একুশে বইমেলা থেকে ফেরত আসার সময়ে তাকে রামদা দিয়ে হত্যা করা হলো। তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। দায় নিয়েছে ইসলামী সংগঠন আনসার বাংলা-৭। প্রতিবাদে এ বাংলার কিছু মানুষ ২৭এই কিন্তু জমায়েত করলেন যাদবপুরে। নিষিদ্ধ প্রেম পরিণত হয় নিষিদ্ধ কান্নায়, কাঁটাতার ভেদী শপথে, চোরাগোপ্তা। সব রং তেরঙ্গায় নেই।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Kolkata, Language, Nation, Open futures

রাম ও রামীর পয়লা ফাল্গুন

কালকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে।  আপনার জীবনে যদি প্রেম-পিরিতির কেউ থাকে এবং  নগদ টেকা-টুকা থাকে, তাহলে এটা আপনার আধুনিক  নাগরিক কর্তব্য যে আপনি কাল চকোলেট কোম্পানি, মাল্টিপ্লেক্স কোম্পানি, রেস্টুরেন্ট কোম্পানি, গ্রিটিং কার্ড কোম্পানির মতো হরেক কোম্পানিকে কাল বেশি মুনাফা দেবেন।  আপনি উত্তরাধুনিক  নাগরিক হলে দেবেন ডার্ক চকোলেট, দেখবেন আর্ট ফিলিম, দেবেন অন্যের হাতে আঁকা কার্ড।  খাবেন  রেস্টুরেন্টে কারণ কুকিং বর্জন প্রগতিশীলতার এক প্রাথমিক শর্ত। এই সকল মাজারে চাদর না চড়ালে আপনার প্রেম খাঁটি নয়। যারা নরসিংহ রাও পরবর্তী যুগে লায়েক হয়েছেন, তাদের অনেকের এতদিনে প্রতি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে যা যা প্রেমের প্রমাণ জমেছে, তার একটা আর্কাইভ করলে বেশ একটা সমাজতাত্ত্বিক ব্যাপার হবে। কিছু ক্ষেত্রে এই উপহারের আর্কাইভ আবার অনেকের সিরিজ প্রেমের আর্কাইভ ও বটে – কে কার পেছনে কত টাকা খরচ করলো বা করলো না, স্মৃতির মনিকোঠায় সেই অনুযায়ী বরাদ্দ থাকে বর্গফুট কার্পেট-এরিয়া। হয়ত যারা কালচার-ফাল্চার স্টাডি করে শ্বেতাঙ্গদের কাছে দিশি মানুষের জীবনকে উজাগর করে নাম কামান, তারা দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু পুঁথিও লিখে ফেলবেন। আমার কথা নিশ্চই তেকেলে জ্যাঠার মতো  শোনাচ্ছে।  আমার ঠাকুরদার বাপ, আমার ঠাকুরদা, আমার বাপ – এরা সকলেই কুলের বড় ছেলে, অতয়েব নানা মানুষের জ্যাঠা। আমি এদেরই ডাইরেক্ট উত্তরসুরী। আমি মূলতঃ চট্টোপাধ্যায়।  গর্গ নামটি উছিলা মাত্র।

বাংলা জুড়েই একটি খাঁটি বাঙালি জিনিস আমার আপনার সকলের আছে। এটাকে বাংলায়ে বলে ফিলিংস। অনেকে এই মোক্ষম দিনে এহেন মোক্ষম ফিলিংস প্রকাশ করেন প্রথম বার। কে বলে যে শুধু আমরাই পাজি দেখে শুভ কাজ করি? আপনারা যারা আধুনিক-উত্তরাধুনিক – তার বেলা ? এই যে চেনা ছকে চেনা কোম্পানির চেনা উপহার দিয়ে চেনা ফিলিংস-কে দৃঢ় করা, এ কি “রিচুয়াল” না ? যত স্বকীয়তা আর স্বতস্ফুর্ততা, তা আপনাদের ক্রেতা-আচরণে? আর যত দোষ ও ব্যাকওয়ার্ড রিচুয়াল আমাদের সিন্নি চটচটে ধুনো ধূমায়িত পরিসরে ?

যখন প্রেম-পিরিতির সম্পর্কে যা গভীরত্ব জানান দিতে হয় বাজারী জিনিসপত্রের মাধ্যমে, এবং প্রেম-পিরিতির যাচাইও হয় বাজারের নিরিখে, তখন সে ভালবাসা সর্বার্থেই অর্থপূর্ণ। বাজার আজকে মোটামুটি এটা বুঝিয়ে ফেলেছে যে চাষের জন্য যেমন লাঙ্গল দরকার (বড়লোক হলে ট্রাক্টর), তেমনই ১৪ ফেব্রুয়ারী প্রেমের জন্য ফুল-চকোলেট দরকার (ধনকুবের হলে ছোট্ট হীরে)।  মনের সঙ্গে মালের এই সহজ কিন্তু কুটিল সম্পর্ক প্রথমতঃ কল্পনার শত্রু। দুইটি মানুষ যখন এই দিনকেই ইস্পেসাল করে তোলে, এই দিনেই জিনিস -প্রদান করে, তারা নিজেদের স্বকীয়তাকে গৌণ  করে দেয়। রামা-শ্যামা-যদু-মধু সকলেরই প্রেম একদিন বেশি করে জাগে, একই দিনে তারা চেনা চকে চেনা জিনিস করে, তা রাম ও রামীর অথবা রাম ও শ্যামের যে নিজস্বতা, তাকেই নস্যাত করে।  দুই প্রেমীর কাজ হয়ে যায়  গ্লোবাল সংস্কৃতির পাতায় সামান্য ফাঁকা জায়গায় নিজেদের নাম লেখা – ফিল আপ দি ব্ল্যান্ক। বাকিটা এক। কিন্তু মানুষ তো এরকম এক না। তাই পিরিতির এই ভালেন্তিনীয় প্রকাশে কোন কোন সম্ভাবনার মৃত্যু হয় ? নগদ-হীন ভালবাসা প্রকাশে কার লাভ, কার ক্ষতি? কাগজে ছাপাঅশোকস্তম্ভের সিংহের কাঁধে ভর করা এ কোন ভালবাসা ?  অশোক স্তম্ভ ছাড়া যেমন ভারত রাষ্ট্র নেই, চকলেট-খানাপিনা-সিনেমা-ফুল-গিফটের মোড়ক ছাড়ালে যেটা বাকি থাকে, সেটা কি ? এগুলি না থাকলে, কি বাকি থাকে? কাদের ক্ষেত্রে বাকি থাকে, কাদের ক্ষেত্রে থাকে না ? এগুলি স্রেফ প্রশ্ন।  কার ভালবাসা খাঁটি আর কারটা মাটি , সেটা মাপার  জ্ঞান আমার নেই। তবে গদাধর চট্টোপাধ্যায় বলে গেছেন – টাকা মাটি, মাটি টাকা। মা সারদা আজকাল টাকার ব্যাপারে কম বলছেন, মাটি নিয়েই মনোযোগ বেশি। মার্কিন দেশে ২০১৩-তে একেকজন মানুষ গড়ে ৭৮০০ টাকা খরচা করেছেন ভালেন্টাইনস ডে  বাবদ। যদি মার্কিনি হয়োনের শখ থেকে থাকে, তালে ওই ৭৮০০ সংখ্যাটিকে পাখির চোখ মনে করে এগিয়ে চলুন। খ্রিষ্টীয় সন্ত ভালেন্টাইন আপনার সহায় হোন।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে আমাদের বাংলাদেশের জনজীবনে, বিশেষতঃ শহুরে এলাকায় একটা জায়গা করে নিয়েছে।  জায়গা করে নিয়েছে আরো অনেক কিছুই।  এসবের ক্ষেত্রে একটা কথা খুব শোনা যায়।  চয়েস।  আমি যা চাইব। আমি চাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে – এটা আমার চয়েস।  ভালো কথা।  কিন্তু চয়েস বা বাচাবাচির মধ্যে  যা বাছা হয়, তা যাপনে হোক, ভাষায় হোক, বসনে হোক, দিবসে হোক – তার ভৌগোলিক উত্পত্তিস্থল যদি পৃথিবীতে সংখ্যালঘু যে শ্বেতাঙ্গ মানুষজন, তাদের  এলাকা থেকেই আগাপাশতলা আমদানি করা হয়, তাহলে চয়েস আসলে বাড়ে, না কমে ?  বিশ্বায়নের ফলে তো আমাদের  বিশ্ব আরো ব্যাপ্ত হবার কথা ছিল – বসনে, ভূষণে, ভাষায় সবেতে বৈচিত্র বাড়ার কথা ছিল।  তাই না ? গলদটা কোথায়?  তার জন্য হয়ত আমাদের এই ১৪ ফেব্রুয়ারির বাংলায় আমদানির গল্পটি জানতে হবে, সেই আমদানির ফড়েদের কথা জানতে হবে, আমাদের কল্পনা ও ফিলিংস কেমনে  শ্বেতাঙ্গ পপ-কালচারের গারদে আটকা পড়ল, সেটা একটু ভাবতে হবে। শ্বেতাঙ্গ আক্সেন্ট ও জোক্স মুখস্ত করতে করতে আমরা আমাদের বগল ও কুঁচকি দেখতেই ভুলে গেছি। ময়লা জমবেই।  তখন সেন্ট যদি আমদানি করতে হয়, সায়েবের কি দোষ ?

আমি যখন মার্কিন দেশে থাকতাম, তখন ১৪ ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে নানা জিনিস নতুন মোড়কে পাওয়া যেত।  ১8 তারিখ কাটলেই সেগুলির দাম হয়ে যেত অর্ধেক।  আধুনিক ও উত্তর-আধুনিকদের  বিশ্বেও  তিথি অনুযায়ী জিনিসের দর বারে কমে, ঠিক কোজাগরী লক্ষী পুজোর দিনে সবজির মত। এবার ভ্যালেন্টাইন্স পড়েছে পয়লা ফাল্গুনে।  শুনতে কি বোরিং লাগছে না? পয়লা ফাল্গুন আর ১৪ ফেব্রুয়ারী কি এক হলো ?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Language, Sahib

কলকাতার গাজী ইলিয়াস

কলকাতার পথের মধ্যে গল্প থাকে। শীত কাল বলে সে গল্প ভালো করে শোনা যায় – শীতে নিখিল বাংলাদেশে মানুষ একটু কম ঘামে। গল্প চেঁচিয়ে কথা বলে ফাঁকা রাস্তাতেও। তাই অনেক গল্প পথিকের মিস হয়ে যায়। এই তো কদিন আগে আমি ভাগ্যক্রমে এক গল্পের সাক্ষী থাকলাম যেটা কিনা একটু হলেই আড়ালে ঘটে যেত। কলকাতার সেই ছোট গল্পের আগে ঢাকার একটি গল্প দিয়ে একটা  গৌরচন্দ্রিকা করব।
সে ছিল আরেকটি শীতের মরশুম। ২০১০-এর ডিসেম্বরে ঢাকায় লাইভ প্রোগ্রাম করতে এলেন হিন্দী চলচিত্র জগতের জনপ্রিয় নায়ক শারুখ খান, ‘কিং’ খান। হয়তো অনেকেরই মনে আছে। সেদিন শারুখ ছিল স্টেজে।  দাপাদাপি করে সে জনতাকে বিনোদন দিয়েছিল।  এটাই তার পেশা ও কাজ। লাইভ শোতে একটি জনপ্রিয় ক্যারদানি হলো  হঠাত করে দর্শকদের মধ্যে থেকে কাউকে স্টেজে ডাকা। সুপারস্টার ও ভক্ত – এই ব্যাপারটি নিয়ে একটি তাত্ক্ষণিক নাটক মঞ্চস্থ করা আর কি। হঠাত করে ডাক পাওয়া ভক্ত স্টেজে উঠে নায়ক-কে বলবে আপনি মহান, আপনার জন্মদিন-বিয়ের তারিখ-সন্তানের অন্নপ্রাশনের তারিখ সকলই আমার মুখস্থ, কোনদিন-ই আপনার একটি বই-ও মিস করিনি, এখুনো বারবার দেখি বউবাচ্চা নিয়ে, চিরকাল ইচ্ছে ছিল আপনার গা ঘেঁষে একটু দাঁড়াই , আজ সে সুযোগ পেলাম, যেন লটারি-ই জিতলাম আর কি, ইত্যাদি, ইত্যাদি ।  নায়ক-ও ধন্যবাদ জানাবেন, একটু ‘মাটির মানুষ’ বা ‘আমি তোমাদেরই একজন’ গোছের একটু বিনয়, একটু  হাসি ঠাট্টা করবেন আর কি।  এমনই  দস্তুর। সব কিছুরই নাকি একটা ব্যাকরণ আছে অর্থাৎ সকলে তথাকথিত ভাবে ‘সর্বজ্ঞাত’ অনুযায়ী নিজের নিজের ভূমিকা পালন করবে। ‘কিং’-এর শুনবে, আহ্লাদিত হবে, প্রায় পায়ে পড়বে আর এহেন ‘ফ্যান’-এর গ্যাঁজলার গন্ধে  দর্শকেও মত্ত হবে।  প্রোগ্রাম তার ব্যাকরণ মেনে হবে সুপারহিট।
 কপট হয়েই হোক বা অকপট হয়েই হোক, এই ব্যাকরণ যখন লাইভ প্রোগ্রাম-এ কারুর দ্বারা কোন  ভাবে ভঙ্গ হয়, তখন আর এডিট করে ব্যাকরণ-মত করার সুযোগ থাকে না।  বরং ব্যাকরণ  একটি ভান, একটি আস্তরণ, একটি কিম্ভূত নির্মাণ, সেটাই প্রকাশ হয়ে পরে নগ্ন ভাবে। যে পৃথিবীতে কোথায় কেমন ভাবে ঠিক কি করে আচরণ করতে হয়, তা জানা এবং না জানা দিয়ে মানুষের ভাগ্য ও ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়, সেই পৃথিবীতে যারা অজান্তে হোক বা জ্ঞানপাপী হয়েও হোক, ব্যাকরণ ভাঙ্গেন, তাদের সাধুবাদ প্রাপ্য। তাই সাধুবাদ দিতেই হয় গাজী ইলিয়াস-কে।  মনে পরে গাজী ইলিয়াস-কে? শাহরুখ খান যখন তাকে স্টেজে ডাকে, সে এসে বলে যে সে বাংলা জানে, দাবি করে যে সে হিন্দী জানেনা। না জানাটাই স্বাভাবিক। ইলিয়াস কিন্তু একরকম চালিয়ে দেবার ইংরেজি জানে। এরপরে সে লম্ফঝম্ফ করা শাহরুখের জন্য রাখা জলের বোতল চেয়ে জল খায়, পিপাসা নিবৃত্তি করতে। তাকে দেখে মনে হয় সে ‘নার্ভাস’, কিন্তু তবুও যখন শাহরুখ বলে যে স্টেজে সকলে দেখছে, ইটা লাইভ প্রোগ্রাম, তাই ‘ঠিক করে’ আচরণ করতে, ঠিক স্টাইলে দাঁড়াতে, তখন ইলিয়াস জানায় যে শাহরুখের স্টাইল এক, আর ইলিয়াসের স্টাইল অন্যরকম।  মঞ্চের কাঠামো অটুট থাকলেও ব্যাকরণ ভেঙ্গে পড়ে।  এর পরে ইলিয়াস আবার বোতল থেকে জল খায়, সবার সামনেই। অনেকের কাছে সে হাসির খোরাক হয়। সে উপযুক্ত ভাবে তার ভূমিকা পালন করতে পারে নি। ইলিয়াস কিন্তু তার নাম ভূমিকা পালন করেছিল সেদিন। গাজী ইলিয়াস ছিল গাজী ইলিয়াস। আর উজ্জ্বল নক্ষত্রের সামনেও গাজী ইলিয়াস থেকে যাওয়ার ফলে শাহরুখ খান-এরই কিছু সময়ের জন্য  করতে হয়েছে, ইলিয়াসকে ধমক দিতে হয়েছে, তারপর ‘ইমেজ’এর স্বার্থে দ্রুত সামলে নিতে হয়েছে। এরই মাঝে এক মেরু-দণ্ডযুক্ত বাঙালিকে শাহরুখ তার বলশালী মারকুটে পাঠান পরিচয় দিয়েছে এক হুমকি-ইয়ার্কির মাধ্যমে। কায়িক বলের এই খেলাচ্ছলে আস্ফালনের জবাব দেয়নি গাজী ইলিয়াস – দিতে পারত। দিলে আরো রসভঙ্গ হত। শাহরুখ খান অভিনেতা।  ইলিয়াস গাজী নার্ভাস কিন্তু অভিনেতা নন।  তার জল পিপাসার ফলে জল খাওয়া শারুখের প্লান-মাফিক মায়া তৈরিকে হঠাত করে রুদ্ধ করেছে।  শারুখের অভিনয়ে গাজী ইলিয়াস সাময়িক যতি চিন্হ এনে দিয়েছে – স্ক্রিপ্ত্হীন নায়ক-কে একটু ঘামিয়েছে। শাহরুখ যে আসল নয়, সে যে অভিনয়, তা ওই সাময়িক যতির কারণে আরো বেশি বেশি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ করেছে নার্ভাস গাজী ইলিয়াস।যেখানে যে কথা বললে খাপে খাপ হয়, সেটা না করে বা করতে না জেনে। আমরা গাজী ইলিয়াসকে চিনি।  আমাদের অনেকের মধ্যে সে বাস করে।  আমরা তাকে চেপে রাখি, আমি নিজেদের ভেতরের গাজী ইলিয়াসকে ঘেন্না করি। আমাদের মনের মধ্যে গাজী ইলিয়াস  আছে  বলে আমরা লজ্জা পাই। আমরা নিজেদের ভেতরের গাজী ইলিয়াসকে হত্যা করতে চাই।  আমরা রাস্তার গাজী ইলিয়াসকে নিয়ে নাক সিঁটকোতে চাই , তাকে দুয়ো  দিতে চাই। আমরা আমাদের বাপ-মায়েদের-আত্মীয়-স্বজন-পারা-প্রতিবেশীদের নিচু নজরে দেখি কারণ তাদের অনেকের মধ্যে গাজী ইলিয়াসের সুস্পষ্ট ছাপ।  হয়ত  তারাও নিজেদের অপছন্দ করতে শিখে গেছে। কোথা থেকে আসে এই ছিছিকার, এই নিজেকে লজ্জা করা? আমরা চাই, তারাও চায়, যে তাদের সন্তান যেন দুধে-ভাতে থাকে আর তাদের মধ্যে যেন এক ফোঁটা গাজী ইলিয়াস না থাকে।  তারা যেন স্মার্ট হয়, তারা যেন স্টেজে তুললে পটাপট খাপেখাপ জবাব দিতে পারে।  তাদের দেখে যেন শাহরুখের মাথা একটুও গরম না হয়, একটুও যেন রাগ না চাপতে হয়। যেন শুধুই থাকে ‘সভ্য ব্যাকরণ’ সম্মত হাসি আর আনন্দ। এভাবেই রস গড়াতে থাকে। গড়াতেই  থাকে।
স্থান-কাল-পাত্র বোঝার, তার ব্যাকরণ বোঝার একটা রাজনীতি আছে।  এই রাজনীতির প্রকাশ আচরণে – স্থান-কাল- আচরণে। কিন্তু সে আর নতুন কি? নতুন হলো এই আচরণকে সারাক্ষণ অভ্যাস করে যাওয়া।  এই আচরণকে, এই ভানকে সত্য ও সুন্দর মনে করা। কোন কোন আচরণ? আমি গোদা ভাবে বলতে হলে আমি বলব আমাদের মত কালো মানুষের কল্পনায় শ্বেতাঙ্গ মানুষ যেমন আচরণ করে , তেমন আচরণ। এই আচরণ যে সাফল্যের চাবিকাঠি তা আর কেউ না জানুক,স্পোকেন-ইংলিস সম্রাট সাইফুর স্যার প্রচন্ড ভালো জানেন। এই উপমহাদেশে অন্যের হীনমন্যতা ভাঙ্গিয়ে ব্যবসা করার ঐতিহ্য বেশ পুরাতন। আমরা চাই আমাদের যেন ‘পাতে দেওয়া যায়’। এই পাত কিন্তু কলাপাতা বা শালপাতার না, এমনকি ভূমিজ এলিটের কাঁসার থালা ও না। একেবারে ম্যালামাইন। তাই দরকার পরে চামচ ঠিক করে ধরতে শেখার, আওয়াজ না করে স্যুপ খাওয়ার, এবং আরো হাজারো ‘সভ্য’ ঢং।
ঢং শিক্ষার দুনিয়ায়ে যে অশিক্ষিত, তাকে দেখলেই বোঝা যাবে যে এখুন কোথায় কখন কি করা উচিতের যে বিশ্বজনীন ‘স্বাভাবিক’ সহজপাঠ, তার শিক্ষাগুলি সত্যই শেষ প্রান্ত অবধি পৌঁছয়নি। তাই হঠাত করে আলোকিত করে দেয় অকপট গাজী ইলিয়াস। তাই রক্ষে। আর সে যদি ছুপা রুস্তম কপট হয়?  আমি তাহলে  বলব, সাবাস ইলিয়াস । কত লোকে ক্লিষ্ট ইংরেজি লিখে ভুঁরু ফুটিয়ে সাবভার্সন মারালো, তুমি করে দেখালে।
অথচ কোথায় কেমন করে কি কতক্ষণ করা উচিত – অপিসে, ক্যাফেতে , শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতের সামনে, ইংরেজি-কপচানো আমাদের দেশেরই হাপ-পন্ডিতের সামনে, সিনেমা হলে, জলে, স্থলে, অন্তঃরিক্ষে, যারা তার পাঠ বিলোয়ে ‘আধুনিক’ স্বকীয়তার মোড়কে এবং ইলিয়াস্দের প্রবল দুয়ো দেয় ‘অন্কাল্চারড’ হিসেবে – তারাই আবার পরিবার, পারিবারিক আচারআচরণ, বয়স্জ্যেষ্ঠেকে সম্মান, পারিবারিক চেতনা, কোথায় কার সাথে কেমন ভাবে কি আচরণ করতে হয়, বা করতে হয় না,তাকে পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঐযে বিশ্বজনীন ‘স্বাভাবিক’ আচরণের সহজপাঠ, তার প্রথম পাঠ হলো – নিজের সবকিছুকে প্রশ্ন করো, কিন্তু প্রশ্নের উছিলায় তুমি নিজে যে অন্যতর বিশ্বকল্পের দাস হয়ে যাচ্ছো, সে প্রক্রিয়া কে প্রশ্ন করো না। একবার কাছি কেটে দিলেই সহজপাঠের কাজ শেষ, তারপর মানুষ জলে না দবার জন্যই অন্য ডাঙ্গার সন্ধানে জোরে দাঁড় চালাবে, পৌছক আর না পৌছক। এই প্রক্রিয়াটাই খাপে-খাপ। যে ডাঙ্গা থেকে কাছি কেটে আসা হয়েছে, সেখানে ফেরা যাবে না।  সেখানে ইলিয়াস্দের বাস।  ফিরলে সে যদি হাসে? ইলিয়াস্দের উপর হাসা যেতে পারে, কিন্তু ইলিয়াস্দের হাসির পত্র হওয়াটা ঘোর অপমানের। আসলে আমরা আমাদের ক্ষমতাই বুঝি না।  অধিকাংশ ইলিয়াসের মেরুদন্ড আমরা ভেঙ্গে দিয়েছি কবেই। ওই হাড়ের গুঁড়া দিয়েই আমাদের কালো ত্বক সাদা করার পাউডার যোগান হয়। সাদা পাউডার মেখে নিজ সমাজের নরম মাটিতে আমরা নৃসংশ ভাবে আঁচড়ে  দেখাই স্বকীয়তা,  মুক্তিকামিতা, স্বাধীনতা, স্পষ্টবাদিতা , আর কত কি। আসলে যে অন্যকে ‘আন্কাল্চার্ড’ বলে,সে যে ভীষণভাবে সংস্কৃতিক ভাবে নিরক্ষর হতে পারে। বিশেষত দেশ-দশ-সমাজ যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্তরায় হয়, তখন কাছি কাটাই হয় নবধর্ম। আর ভূমিজ ধর্ম ছেড়ে নবধর্ম ধরলে প্রথম প্রথম যা ঘটার তাই ঘটে – চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী, চূড়ান্ত পূর্ব-আত্মবিস্মৃতি এবং আত্মসমালোচনার নিদারুণ অভাব। যা কিনা চলতি ক্ষমতার সংস্কৃতি,  হাজার রকম বড় বড় ইংরেজি শব্দ দিয়ে ‘ক্রিটিসিজম’ হবে, মোটা বই হবে।হারেমের স্বেছাবাশিনিরা এবং দ্বাররক্ষীরা কেমনে -বলবে  রাজা তোর  কাপড় কোথায়? রসভঙ্গ করতে লাগবে মানুষ। সে কাজটি করবে অন্য মানুষ। সহজ কিন্তু সরল নয় , এমন মানুষ। এবার ফিরি কলকাতার পথে।
আমি যাচ্ছি বরানগর থেকে হাওড়া স্টেশন, দিল্লীগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ধরতে।  আমি ট্যাক্সি করে যাচ্ছি। সাধারনতঃ আমি ট্যাক্সিচালকের নাম, ধাম জিজ্ঞেস করি, কিন্তু সেদিন নানা ব্যাপারে একটু চিন্তার মধ্যে ছিলাম।  তার-ই মধ্যে তারস্বরে চালু হলো এফ এম রেডিও, ট্যাক্সির মধ্যেই লাগানো। এক নারী উপস্থাপিকা সুন্দর গলা করে বললেন, শীত তো এসে পড়ল।  আপনার শীতে কি কি ভালো লাগে? এক ব্যাক্তি উত্তর দিতে শুরু করলো – আওয়াজের ধরণে বুঝলাম ইটা লাইভ টেলিফোন কলের মাধ্যমে কোন শ্রোতা বলছেন।  একজন পুরুষ। সে জানায় যে শীতকাল মানেই বিয়ে ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের মরশুম। এত অবধি ঠিক-ই ছিল।এত অবধি রাজার, বা ঢপের চলতি বিনোদনের কোন লজ্জাহানি হয়নি। এরপর জল গড়ায় অন্য দিকে।  সে বলে যে শীতকালে তাই মেয়েদের অসুবিধে আর ছেলেদের একটু সুবিধে। অনুষ্ঠানে মেয়েরা সেজেগুজে যায় – শাল জড়ালেও সুন্দর পোশাক আশাক সাজগোজ করতে হয়। কিন্তু ছেলেদের একটা জ্যাকেট বা ফুল হাতা সোয়েটার পরলেই হয়ে যায়ে , নিচে কি পরা, তা ইস্ত্রী করা না কুচ্কোনো, কেমন দেখতে, কিছু এসে যায় না।  পুরনো হলেও এসে যায় না। সুন্দর জামা, সুন্দর দোকান, সুন্দর ক্রেতা ,বিকিকিনি কেন্দ্রিক জীবনকল্পনা, ভালো থাকা কাকে বলে, তার জনসমক্ষে প্রকাশের যে ‘আধুনিক, সুশীল,পাতে দেওয়ার মতো’ ব্যাকরণ, তা টেলিফোন-কারী শ্রোতা লঙ্ঘন করতে শুরু করে।  আমি তখন স্ট্র্যান্ড রোড-এ। বিরল এক মুহূর্ত। উপস্থাপিকা একটু বিষয় বদলাতে চেষ্টা করে কিন্তুপ্রাণবন্ত সচল ডাকসু-তে শুধু সুন্দর গলা দিয়ে অচল করা শক্ত। শ্রোতা থামে না, সে বলে যায়  অবলীলায়, ‘প্লাস ২-৩ দিন কাপড় না  কাচ্লেও শীতকালে গন্ধ কম হয়।  ধরেন চান টান হয়নি তখুন  ভালো করে সেন্ট টেন্ট মেরে জ্যাকেট দিয়েও বিয়েবাড়ি  যাওয়া যায়।  কেউ বুঝতে পারবে না।’ ‘স্টাইলিশ’ ফরফর ইংরেজি-বাংলা মিলমিশ  উপস্থাপিকার গলায় অপ্রস্তুত বেকুব হাসি শুনতে পাই। এর পর বিজ্ঞাপন বিরতি। আর আমার ট্যাক্সি পৌছে গেছে হাওড়া স্টেশন, হাতে কিছুটা সময় নিয়েই। এই ভাবেই, আজকের  সময়ে, কলকাতার পথে যেতে যেতে শুনলাম, যেন আরেক গাজী ইলিয়াসের গলা – ‘রাজা, তোর কাপড় কোথায়?’ কোন এক অজানা কারণে আমার মনে পড়ে  যায় ছাত্রজীবনের স্লোগান ‘তাই তো বলি কমরেড, গড়ে তোল ব্যারিকেড’। ঠাকুর সব দেখছেন, কিন্তু কি ভাবছেন?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bahishkrit Samaj, Bengal, Culture, Elite, Kolkata, The perfumed ones, Urbanity

Bostonian accent and coconuts / Urban vision blind to the poor and their languages

[ Daily News and Analysis, 15 Apr 2014 ; The Independent (Bangladesh), 16 Apr 2014 ; Millenium Post, Apr 23 2014 ]

The greater Boston area of the United States of America has a very good public transportation system. This comprises of buses, local trains, boats and the metro rail. The Red line is one of the metro routes, stopping at Harvard and MIT, the two institutions where I have spent all of my academic-professional life outside Bengal. This means that I have taken the Red Line metro many, many times. One of the stations on the route is called Porter Square. Soon after the metro leaves a stop, there is a recorded voice which lets the passengers know what the next station is. The way that voice said ‘Porter Square’ was in what can be called a Bostonian accent. That is apt since the metro is in Boston, most users of the metro are from Boston and that is the accent they are most comfortable with.

The Unites States of America exists much beyond its territorial limits. Specks of California and Manhattan are scattered in urban centres of the southern world, including our subcontinent. Here, in Delhi, Mumbai, Bangalore and beyond, those specks of Amerikana exist with a lot of vigour thanks to the brown-outside-white-inside coconut desis whose rootlessness attracts them to these ‘cosmopolitan’ areas. The subcontinent lives with such offsprings, proudly alienated, consciously ‘liberated’ and hip. With sentences peppered with ‘like’ and liberally spreading their ‘sh*t’,‘cr*p’ and other four-letter jewels among the rest of us, they constantly want to signify their ‘cosmopolitan’ awareness, maturity and liberation. Picking up the expressions of their own life’s many moments not from their living environment but from but from American/western popular media styles is the principal marker of these types. The problem is, it does not end there.

Given their numbers, they wouldn’t have mattered unless wielded inordinate power over policy and public life, given ‘English mediates our own social hierarchy’, as Hartosh Bal astutely puts it. They speak English in ‘cafes’ and restaurants, Hindi to their domestic helps. They prefer to live within self-created bubbles where they perform predictable ‘firangi duniya’-philia rituals with a commitment that often amuses the West. This is like the amusement of a father who has just come to know that the rape he had committed actually resulted in a child who loves him more than its mother.

Coming back to public transport. The coconuts constantly lament that brown cities are not ‘outsider’ and tourist friendly. This is rich coming from those who are voluntary outsiders in their birth-lands. They lament that the buses often have things written in ‘local’ language. The same goes for street signs, shop names and so much more. This constant reminder of brown-ness is an eyesore that they have successfully removed from their bubbles. Their all-English restaurant menus, their all English working spaces, get-togethers, poetry-readings, book-launches, debates, discussions, malls and supermarkets help them, at least in certain hours during their daily life, forget the horrid brown land whose imprint they carry, whether they like it or not. And so they complain of their spaces being ‘too vernacular’, harbor ideas of transforming the subcontinent’s urban areas into ‘world class’ – which is a code for a place where a firang would not feel lost. The fact is that in the last couple of decades, in the language of street names, public signage, private spaces and much more, the staggering majority of the people have been progressively told to ‘get lost’.

The poor and their language have been excluded for long. Now even the middle-class is under attack. In the brown subcontinent, even a telecaller now starts in default in English or Hindi, irrespective of whether it is Chennai or Mumbai. We are staring at an increasingly exclusionary urban vision which is undemocratic and downright insensitive which consciously overcounts the few and ignores the majority. At the root of this is an elite idea of citizenship, what constitutes a human being, who is counted as a person of value.

Yet, our languages live among the people on whose back breaking work everything is made, while angrejiwalas have their sausage, wine, banter and sophistication, building tapestries and ‘narratives’. If there is good in this universe or there are gods and goddesses who care about human dignity, something must give.

Leave a comment

Filed under Americas, Class, Culture, Education, Elite, Knowledge, Language, Sahib, The perfumed ones

মেরী কম, তেরঙ্গা বেশি

[ Ebela, 10 Oct 2014]

জাতীয়তাবাদের মার শেষ রাতে, এমনই আমার সাম্প্রতিক উপলব্ধি । নাইটশোতে হিন্দী বই ‘মেরী কম’ শেষ  হলো ‘জনগনমন’ দিয়ে। বইটার-ই অঙ্গ – হলমালিকের অত্যুত্সাহ নয়। প্রায়ে মাঝরাতে রাষ্ট্রপ্রেম পরীক্ষা। কে দাঁড়ায়ে, কে দাঁড়ায়ে না – এই সব পায়তারা। বন্ধুর থেকে খবর পেলাম হিন্দুস্তানের রাজধানীর। সেখানে একটি সিনেমা-হলে নাকি এই দাঁড়ানো-না দাঁড়ানো কেন্দ্র করে হাতাহাতি হয়েছে।  তা ভালো।  ঘুষোঘুষি নিয়ে যে বই, তার যবনিকা মুহুর্তে কিছু মানুষের হাত নিশপিশ করতেই পারে। সেখানেই ছবির সার্থকতা। মশলাদার ডিনার খেয়ে পেট গুরগুর, হল-এ ঠায়ে বসে কোমর অবশ কিন্তু বুকে চাগার দেয়ে ‘ইন্ডিয়া’। পয়সা উসুল।

চ্যাম্পিয়ন মনিপুরি মুষ্টিযোদ্ধা মেরী কম-এর জীবনসংগ্রাম-ই ‘মেরী কম’ বই-এর মূল ব্যাপার। তাতে নানা ভাবে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গের ছোয়াচ – মনিপুরের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মনিপুরীদের সঙ্গে হিন্দুস্তানিদের বৈষম্যমূলক ব্যবহার, ভারতীয় বাহিনী, মনিপুরি সন্ত্রাসবাদী ( কারুর কাছে সসস্ত্রসংগ্রামি), ইত্যাদি। ‘মেরী কম’ মালাইকারি-তে নাম চরিত্রের ব্যক্তিগত  সংগ্রাম-সংসার যদি হয় চিংড়ি, তবে এই অন্য গল্পগুলি হলো মশলা। চিংড়ি যতই ভালো হোক, মশলা ঠিকঠাক না পড়লে, ঠিক করে না কষলে, পাতে দেওয়া যায় না – বিশেষতঃ সে পাত যখন ছড়িয়ে আছে ভারত রাষ্ট্রের শহরে-গঞ্জে হলে-মাল্টিপ্লেক্সে। প্রতিদিন বলিউডের হেসেলে তৈরী খাবার হিন্দী-মাতা বেড়ে দ্যান দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার রাষ্ট্রপ্রেমী সন্তানদের পাতে । অশোক-স্তম্ভের উপর দাঁড়ানো সিংহ-গুলির গায়ে গত্তি লাগে। অনেকেই এখন নানা কুইজিন আস্বাদন করতে চান – একটু মুখ বদলানো, একটু ‘বৈচিত্রের মধ্যে একতা’ আর কি । তাই জমে গেছে ‘মেরী কম’ এর গল্প – এক মেয়ের কাহিনী, এক মায়ের কাহিনী, এক স্ত্রীর কাহিনী, মনেপ্রাণে ভারতীয় এক  মণিপুরীর ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার কাহিনী, প্রান্তিক ভারতীয়তার মঞ্চের কেন্দ্রে আসার কাহিনী, দুষ্টু মেয়ে মনিপুরের সাথে ভারতমাতার মান-অভিমানের কাহিনী। ভারত রাষ্ট্র লিবারেল – এসব এখন নেওয়া যায়।  মনিপুরি-দের কথা জানিনা তবে নাগা-রা নাকি আরো কিসব খায়। সেসব হিন্দুস্তানী পাতে দেওয়া মুশকিল কারণ কিছু স্বাদ এতই ভিন্ন যে অনেক তেরঙ্গা গরম মশলা দিয়েও তা বাগে আনা যায় না। যে সাপের বিষদাঁত আছে, তাকে নিয়ে খেলা দেখানো যে বিপদজনক তা সব সাপুড়ে জানে।

‘মেরী কম’ বইতে অন্তঃসত্ত্বা নায়িকা তার স্বামীর হাত ধরে এগোচ্ছে হাসপাতালের দিকে।  প্রসব বেদনা উঠেছে।  বাইরে চলছে কারফিউ। স্ত্রী-কে একটু অপেক্ষা করতে বলে স্বামী এগিয়ে গেল। রাষ্ট্রবিরোধীদের তাড়া করতে ব্যস্ত  খাঁকি উর্দি পড়া সরকারী বাহিনীর সামনে পরে গেল স্বামী। সে জানালো তার স্ত্রীর কথা।  এক জওয়ান এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেল স্ত্রী-কে – ঠিকই বলছে। যেতে দেওয়া হলো। অস্থির মণিপুরের এমন নানা কাল্পনিক খণ্ডচিত্র বারবার ফিরে আসে ‘মেরী কম’-এ। কাল্পনিক বলছি কারণ কিছু বাস্তব বড়ই অন্যরকম। সেই বাস্তবের মণিপুরে সরকারী বাহিনী ইম্ফল-এর ভিড়ের রাস্তায়  দিনে-দুপুরে সকলের সামনে চংখাম সঞ্জিতকে ঘিরে ফেলে। সঞ্জিত বাধা দেয় না। উর্দিধারীরা তাকে নিয়ে যায় রাস্তার পাশে এক ওষুধের দোকানের মধ্যে। কয়েক মিনিট  বাদে সঞ্জিতের রক্তাক্ত মৃতদেহ খাঁকি-ওয়ালারা বাইরে এনে তুলে দেয় একটা ট্রাক-এ। পুলিশ একই সঙ্গে আরেকজন যুবক-কে তাড়া করে এবং গুলি করে মারে পথচলতি রবীনা দেবীকে। রবীনা দেবীও ছিলেন অন্তঃস্বত্ত্বা। রবীনা দেবী ও সঞ্জিতের নিথর দেহদুটি ট্রাক-এ পরে থাকে পাশাপাশি।  প্রায় সিনেমার মতই এই ঘটনাটির সব মুহূর্ত  লাইভ ধারাভাষ্যের মত উঠে যায় কামেরায়ে। আগ্রহী পাঠক গুগুল দেবতার কাছে খোজ করলেই তা দেখতে পাবেন। মাল্টিপ্লেক্সে বর্ণিত অস্থির মণিপুরের যে শিশুভোলানো নকল চিত্র, তার পাল্টা এই অন্তঃসত্বার বিয়োগান্ত পরিণতি। বিশেষ সেনা ক্ষমতা আইন-এর তলায় কাঁপতে থাকা মণিপুরীর দৈনন্দিন বাঁচা ও মরার গল্পের বাজার নেই। নাকে-নল নিয়ে অনশনকারী ইরম সর্মিলার আখ্যান পপকর্নের স্বাদকে একটু তেঁতো করে দিতে পারে।আর সেন্সর-বোর্ড তো আছেই – প্রাপ্তবয়স্ক দেশবাসীকে এই অনুত্তেজক রাষ্ট্রীয় নগ্নতা থেকে বাঁচানোর জন্য। তাই খেলাধুলাই ভালো। মণিপুরী মেয়ের শত প্রতিকূলতায় ভারতীয়ত্ব প্রমানের চেষ্টা এবং আসতে আসতে ভারতমাতার পক্ষ থেকে তাকে বুকে টেনে নেওয়া।  তালি তালি। আর যারা ভারতীয় হতেই চায় না? ওদিকে যেও না ভাই ফটিংটিং-এর ভয়। তেরঙ্গা বুনয়িপ একেবারে কাঁচা খেয়ে ফেলবে – কেউ জানতেই নাও পারতে পারে।

তাই ফিরে আসি ফিলিমেই। বাঙালি বা পাঞ্জাবি অভিনেত্রী দিয়ে ‘অথেন্টিক’ সাঁওতাল বাহা বা দুলি নামানো গেছে ইষ্টিকুটুম থেকে অরণ্যের দিনরাত্রিতে। সঞ্জয় ভনশালী সেদিক থেকে অনন্য নন। তিনি ভালোই জানেন যে তার বই-এর বাজার ইন্ডিয়া নামক চড়া তেরঙ্গা এলাকায়ে, মনিপুর-মিজোরাম-নাগাল্যান্ডের মত ফিকে তেরঙ্গার দেশে নয়। বাস্তব জীবনে মণিপুরী নন ভারতীয়-বাহিনীতে কর্মরত পিতা-মাতার কন্যা প্রিয়াঙ্কা চোপরা। ‘মেরী কম’ সেজে তিনি যা আয় করেছেন, মেরী কম বক্সিং রিং-এ এতদিনে তা আয় করেননি, করতে পারবেন ও না। তবু দুচোখে স্বপ্ন থাকলে ক্ষতি কি? ঠিক যেমন ‘মেরী কম’ বইটি রিলিজ হবার দিনেই শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রিজির ভাষণ শেষে ইম্ফল থেকে তাকে প্রশ্ন করলো ১৭ বছরের এক মিজো তরুণ। আমি কি করে প্রধানমন্ত্রী হতে পারি ? প্রধানমন্ত্রিজি ইয়ার্কিছলে উপদেশ দিলেন ২০২৪-এর নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে। যে সর্বজ্ঞাত সত্য তিনি বলেননি তা হলো অশোক-স্তম্ভের রাষ্ট্রে কোন মিজোর প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব না – আজ না, কাল না, ২০২৪ এও না। তারা বরং চীনা-জাপানী টিপ্পনী শুনতে শুনতে তথাকথিত ভারতীয়ত্বের তথাকথিত মূলস্রোতে গা ভাসানোর চেষ্টা করুক। এই চেনা ছকের বাইরে গেলে যে পরিণাম খুব একটা মনোরম হয় না, তা জানেন মনোরমা। বছর ৩৪-এর থাংজাম মনোরমাকে ২০০৪-এ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আধাসামরিক বাহিনী। অনেক বুলেটে বিদ্ধ এবং পুরুষসিংহদের বীর্যমাখা মৃতদেহ পাওয়া যায় পরদিন। এর প্রতিবাদে ৩০জন মণিপুরী নারী সরকারী বাহিনীর সদরদপ্তরের সামনে উলঙ্গ হয়ে গর্জে ওঠেন – আমরা মনোরমার মা, ভারতীয় বাহিনী আমাদেরও ধর্ষণ করো। যেদেশে মনোরমার ও তার মায়েদের গল্প হিন্দুস্তানী মশলা ছাড়াই নাইট-শো তে পরিবেশিত হবে, সেই দেশের জাতীয় সংগীতের আওয়াজে দাঁড়ানোর জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Culture, Hindustan, Nation, Terror

Looking for colours beyond Holi / Are there colours that Holi suppresses?

[ Daily News and Analysis, 19 Mar 2014 ]

There is a high possibility that some of the readers of this column still have colour-stains on their faces and bodies from the festival of colours. Monday, March 17, was Holi. All parts of the Indian Union had a riot with colours – one would have been led to believe. The multi-colour motif of Holi comes in handy as a living manifestation of the much-touted ‘unity in diversity’ trademark of this nation-state. People sprinkled colours on each other. Unsuspecting people who were out and about wearing normal dress regretted that they did so. A lot of bhang-laden Thandai was drunk. A lot of women were taken advantage of. Some desi and many firangi photographers were shooting away to capture the colourful ‘soul of India’ that was on public display on its streets and on private display in the farmhouses of the powerful. That was the day. Or was it?

Sunday, March 16, was Dol-Jatra for tens of millions of inhabitants of Odisha, Assam and Bengal, and yes that too was a riot of colours. ‘Dol’ means a swing and Jatra means journey. Of course, Lord Krishna and Radha are the ones of the swing and the devotees take them around. Phakuwa happened in Assam around the same time. All this is accompanied with much merriment with colours. There is no thandai involved. Not all ‘festivals of colour’ are the same. When someone says, Dol Jatra is Bengal’s version of Holi, it does not sound objectionable. However, if I say, Holi is Delhi’s or Uttar Pradesh’s version of Dol Jatra, it sounds odd. At that, some will say, I am being ‘parochial’. I will be advised not to mix-up up the mainstream with the variant, the standard language with the marginal dialect. I will be shown my place. I will be forced to play along in the ‘national’ festival of colours. Some will say, how does the name matter – it’s a fun occasion after all. It is easy for people to ‘look past’ variations, when the hierarchy of variations favours their cultural world. Others ‘look past’ to be accepted by the ‘mainstream’.

The problem with this idea of a cultural ‘mainstream’ with ‘regional’ variants is that it is a sophisticated name for good old crude majoritarianism. So much for the half-hearted paeans to ‘unity in diversity’. If you thought that the state does not endorse one view over another, think again. In West Bengal, the governor notified that the day after Dol Jatra will also be a holiday in all offices under the Government of West Bengal. In the Central governments list of holidays, there is only mention of Holika Dahan. There is no mention of the name Dol Jatra. The deep ideology of a state is given by these ‘innocuous’ choices, of font-size variations of different languages in Gandhi-chhap currency notes, the automatic language of CRPF or BSF irrespective of their posting in West Bengal or Tamil Nadu and many other instances. Look for such signs. They are everywhere.

There are soft-exports too. The marriage-associated events from the Punjab and the Hindi-heartland are now increasingly part of marriage ceremonies of Bengalis and Kannadigas. The most sublime form of this cultural hierarchy is seen is diasporic communities whose marriages invariably have ‘Sangeet’ and the colour festival is always called ‘Holi’. They are nothing but Indians. The next group who embody this sublime ideology are the upwardly mobile, well-off yuppies who have voluntarily moved to subcontinental cities located outside the province they were born in. Such ethno-cultural flattening does no service to the Hindi-heartland where many cultures are in a state of decay, thanks to metro-centrism Hindianism.

Whose ‘local’ becomes ‘national’ and whose ‘local’ disappears when ideas like ‘all India’ and ‘mainstream’ are evoked? Why is the direction of traffic in this supposedly two-way street so predictable? When was the last time a Tamil marriage/religious/cultural custom went ‘mainstream’ and was picked up in Delhi? Why does the leading contender for prime-ministership focus most in areas where Holi is the uncontested name for the festival of colours. Whether that kind of politics expands the palette in this diverse subcontinent is a different matter.

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Community, Culture, Delhi Durbar, Faith, Identity

Lit fests and not so well-lit fests / Not so organic fests

[ Down to Earth, 15-28 Feb 2014 ; Dhaka Tribune, 5 Apr 2014 ]

My home in Kolkata happens to be very near Kalighat. This is one of the holy Shaktipeeths (centres of divine power) that are spread across the subcontinent where different body parts of Lord Shib’s wife Mother Sati fell. For Bengali Shaktos, the Shaktipeeths, especially those in Bengal and Assam are of immense divine importance. At Kalighat, the reigning goddess is Mother Kali. In my life, I can rarely remember an auspicious occasion where a trip to Mother Kali of Kalighat was not undertaken. Kali, the dark mother holds immense sway over her mortal children.

As I grew up, I have often roamed about in the by-lanes around the temple. The temple lies on the bank of the Adi Ganga, at one time the principal flow channel of the Ganga and now a near-dead, rotting creek. This area with river-bank, shops, inhabitants, ganja-sellers and smaller temples has pulled me towards it time and again. Some of the smaller temples right on the river-bank belonged to goddesses whose names I did not know. In the pantheon of caste-Hindu Bengalis like me, there was an assumed mainstream where Mother Kali and Mother Durga had very important places. It was only by chance that I went to Kalighat once on a weekday afternoon on a chance school holiday due to rains. I was quite taken aback by the huge crowd, a few thousands strong, that had gathered around the temple. But to my astonishment, they were not there for the main temple of Mother Kali but for a very small temple of Mother Bogola. The people had a very intricate set of offerings that looked quite different from what I was used to seeing. And everyone there knew this occasion and at that moment, I was the fool in town, with my pantheon suddenly seeming irrelevant. Due to my very limited immersion in what we call in Bengali as gono-samaj (mass society can be a poor translation of the concept), a divine set had been built in my head that had entirely bypassed what was so near and what was always there. The blindness and illiteracy due to my social locus and ideologies that come with it was very badly exposed. Social alienation creates culturally illiterate beings.

Thankfully, the festivals of Southern West Bengal (where my home is broadly located) gave me many opportunities of unlearning and literacy. And they are not too hard to come by unless one is of the kind whose worlds are not defined by the physical-ecological-social reality they live in but the fantasy worlds they can afford to inhabit. I started attending the mela of Dharma Thakur, whose few sacred sites spread over the two Bengals, and have a distinct character in the kind of rice product that is offered (called hurrum) among other things. There is the 500-year old fish-fair held near the akhara of the seer Raghunath Das Goswami at Debanandapur in my ancestral district of Hooghly. The many Charaker melas that I have been too have been so enriching in its cultural produce that one wishes to be a sponge. The Gajaner mela in Tarakeswar, again in Hooghly district, goes on for 5 days and the cultural action is frenzied. The number of ‘parallel sessions’ (if one were to call the things going on there) is probably more than a thousand and there are no websites to print out the schedule. And that does not matter. The Ganga Sagar Mela is different every time. This mela, the second-largest in the Indian Union, is literally and allegorically an immersion experience. The experience is different in different times of the day, on different days of the mela and in different years. The festival around Salui Puja (worshipping the Sal tree) in Medinipur has tremendous footfall. Further west, in the adibashi areas, I once attended the Chhata Parab on Bhadra Sankranti day. In Malda, the week-long Ramkeli festival is a cultural cauldron that overflows during the summer month of Jaistha. The 2 big Ms associated with this fair is music of the Gaur-Vaishnavite tradition and mangoes that are harvested around this time. While stalls selling wares are an integral part of these festivals, each festival is different in its different parts and substantially different from each other. It is sad that I have to underline this point but I say this remembering my one-time know-all attitude towards these festivals before I had even attended them. What culture can a bunch of brown people produce left to their own devices? To know that, one has to have some humility in admitting cultural illiteracy and suspend ideas of supposed superiority of textual literacy, White man knowledge systems and the artifacts they produce. This unlearning can be harsh, especially when whole self-identities are built around wallowing on these artifacts. But there are too many brown people making too many things for too many centuries to take imported ideas of superiority seriously. One can live without being exposed to this reality and that wont cause any peril. The urbanites of the subcontinent have created a wondrous system by which they can eat rice but not know the rice-type or the growing area, get a house built but not know where the masons live. But of course they know where Indian wines are grown and the life-events of authors they have read, and other details of the lives of sundry characters of their fantasy world. The mindscape of the ‘enlightened’ can be more enlightening to the rest of us than they would want to it be.

The point of mentioning these festivals is not to create a mini catalogue but mention certain characteristics. Most of these festivals have a deep connection with the local ecology – cultural and natural. These are not American Burning Man type of fossil-fuel powered ‘creative’ fantasies (I have always failed to understand what is ‘creative’ about pursuits that require high fossil fuel burning or require pollution intensive factory made accessories). They don’t say ‘free entry’; that I mention that at all is absurd in their context. They don’t ‘say’ anything at all. They happen. They are organic, as opposed to the ‘festivals’ that are primarily thronged by the ‘fashionable’, the ‘articulate’, the ‘backpacker’, the ‘explorer’ and other curious species of the top 5% earning class of the subcontinent. Most of these festivals don’t have the kind of portable artifact quality that is so popular with the rootless, possibly best exemplified both by the Great India Mall and its location (the ‘Sector’ ‘city’ called NOIDA created by destroying many villages like Chhajarsi and Hazipur, now known by more fashionable and presentable names like Sector 63 and Sector 104). Most of them are not part of the ‘Incredible India!’ imagination and hence are largely devoid of white and brown people with cameras. Such a shabby state of affairs, however, has not prevented some of these festivals to go on for centuries, without sponsorship from ill-gotten-big-money supporters.

It was sometime in high school that I started noticing newspaper headlines such as ‘Kolkata’s young heads to the clubs’ (clubs being dancing places with rhythmic music). Many more young people regularly headed (and still do) to the East Bengal club or Mohan Bagan club grounds for football matches. But this was a different club. The idea was to create a fantasy and a false sense of feeling left out, of being in a minority, on not being ‘in’. For the already socially alienated, this pull can be magnetic – particularly because these come without pre-conditions of prior social immersion. If at all, certain kinds of fantasies and ‘enlightenments’ celebrate delinking from one’s immediate social milieu and replacing that with fantasy milieus, typically with White people’s hobbies. If the products of such indoctrination happen to arrive at the Muri Mela of Bankura (a festival where hundreds of varieties of ‘muri’ or puffed rice is produced, exhibited and sold), all they might see is more of the same. However, they do aspire to tell the difference between different red wines. Anything that requires being socially embedded in a largely non-textual cultural milieu (hence Wikipedia doesn’t come in handy), they are like fish out of water, gasping for the cultural familiarity of over-priced chain coffee stores.

It is the season of a new type of festival. Like an epidemic, big-money ‘lit’ fests have spread all over the subcontinent. The sudden-ness of the epidemic reminds me of the time when suddenly, year after year, brown women started winning ‘international’ beauty pageants. That ’arrival’ was meant to signify that browns are beautiful. The present trend probably is meant to convey that now there are enough number of moneyed browns spread all over who can nod knowingly hearing English. ‘Half of Jaipur is here at Google Mughal Tent’ – read a tweet from one of the fests. This tone sounded familiar to that time when I read that youth of my city headed to the clubs, but saw that no one around me did. May be I just belonged to an odd social sector, or may be they never counted me. But I am quite privileged otherwise. I never ever saw a headline saying youth of India head to Ganga Sagar mela on Makar Sankranti. At any rate, it is a greater statistical truth than saying youth of such and such city head to such and such ‘lit’ fest. This non-counting of many and over-counting of some is a predictable and sinister game that is played by the urbanbubbleophiles over and over again till it actually starts sounding true. The believers in such a worldview fear real numbers – the ‘odd’, the stubborn, the smelly. They would much rather ‘weigh’ according to their ‘subjectivities’. The sizeable ‘hip’ throngs within their tents are never ‘masses’; they are assemblages of aficionados. They have individual minds. They can think. They are human. The rest are better kept out until some floor mopping is required.

When real estate dacoits, construction mafias and mining goondas come together for a ‘cause’, one can well imagine the effect. The well lit fests provides a good opportunity for branding and white-washing crimes. Taking prizes from greasy hands, some authors are only too happy to oblige in that project. There they are, on the newspaper –smiling. They write ‘sensitively’, argue ‘provocatively’, and entertain ‘charmingly’. Ill-gotten prize money from the infrastructure mafia can supply powerful batteries for their headlights as they reach into the dark inner recesses of the human condition through their words. All this boils down to a few days of litting, ‘Think’ing, festing and other things that may get you in jail when done to people who have dignity and the courage to speak up.

The need to distinguish oneself from others can be rather acute in certain sectors of the subcontinental bubble urbania. What distinguishes one from the others whose ‘purposeful’ lives are peppered by sampling cultures whose social roots they are alienated from, long drives, coffee-chain hangouts, mall meetups, multiplex evenings and money-powered ‘rebelliousness’. To see oneself purely as a consumer – a seeker of market defined and mass-produced hatke (alternative for the discerning new Indian) ‘experiences’ and ‘thrills’, can be bit of a self turn-off for the brand and ego conscious yuppie. In a society where they want to define taste, no quarters should be given to others to make them appear as vacuous and crude. Hence, there is the search for ‘meaningfulness’ beyond the necessary evil of quotidian parasitism. This is best accomplished while practicing parasitism with a thin veneer of ‘meaningfulness’. Practising White people’s hobbies and engagements, with a bit of Indian elephant motif thrown in, fits the bill perfectly, at home and in the head. The well Lit fests of the rich with the ‘famous’ for the aspirational and the arrived accomplishes multiple functions at the same time. It is apparently ‘meaningful’ to be an onlooker at ill-gotten money sponsored talk-shows with only a few rows of seated brown sahibs and mems separating the top 5% income audience from the gods discussing the intricacies of brown and paler experiences. This ‘refinement’ is so much more substantive than double-refined mustard oil. And then there is the extra benefit of the Question and Answer – that which gives a feeling of participation and contribution, even accomplishment and ‘production’. That should give enough warmth, inject enough meaning and experiential richness to last through a cosmopolitan, urban winter after the show is over. And if any heat was lacking, such festivals and the spotlight it brings on the ‘winners’ and other such losers gives them an opportunity to impress those who hold such characters in awe and worship them. This gives these heroes a perfect pretext and opportunity to sample some fresh, young, fan ‘meat’. Some famous winning authors frequenting these spaces are equally famous for drug binges, for serial hunting of fans half their age, with some of these hapless young ones dying early deaths. Such ‘launches’ bring together publisher and author, writer and fan and above all, potential bedfellows. When infrastructure sleaze hosts ‘intellectual’ posturing, the sleaze-fest is complete. And of course it has to be winter. That is the time when brown and white migratory birds from White lands come down to brown land. They are in much demand – hopping from one gawk-fest to another. They dare not hold it in summer, like the Ramkeli festival. Their armpits might just start smelling like those of the ones outside the gates.

The well lit festivals have as much connection to ground realities as the owners of the palaces have with the local population. The court-like atmosphere, graced by tropic-charred whites turned native and tropic-born natives itching to be white, creates much gaiety and banter. Typically and predictably, the pre-eminent language of these well lit courts is something that most localites would not identify with. That goes for most of the books and the preferred language of the authors. Collectively it represents their fantasy world, as they claim to represent much. It is not as if the writers thronging these places are most sold or most read. The English-speaking spokesperson who has captive white and coconut (brown outside, white inside) ears becomes the chosen voice. He is the authentic insider and quite often a chronicler of the urban ennui and excitement of the parasites. The subcontinent has many authors who have sold more and been read more than all brown Englishwallahs taken together, but no infrastructure mafia wants to honour them by prizes. The loot of people’s money from the Commonwealth games by a famous prize giving company is better utilized elsewhere. Why is it that the Chennai or Kolkata book fair, with more attendance of authors and readers than a desert jamboree can ever manage, will never be covered by corporate media with the same degree of detail, as an event of similar importance. One has to ask, what are these choices meant to convey, why now, for what, for whom, against whom. The benign smile of prize acceptance of some of these first-boys and the fellowship of enthusiastic clappers need to be seen for what they are and what they represent. Why this project of pumping air into the English cat so that it looks like a tiger, to assist it to punch above its weight? Who does it want to scare into submission? Who does it want to provide confidence? Cultures, especially those that come associated with upward mobility, hubris and power, seek to displace others. As Hartosh Singh Bal puts it, ‘English mediates our own social hierarchy.’ The soft hearts of sensitive beneficiaries of cultural-economic hierarchies are too sensitive to probe their complicity in this project. Elsewhere, as Akshay Pathak has shown, the way some well ‘lit’ fests have tried to replicate their foreign idiom of ‘storytelling’ through festivals in less ‘lit’ places like Dantewada shows another aspect of the dark underbelly of the ‘articulate’ beast. Such beasts hunt in packs, as shown by their excellent ‘teamwork’.

This odd idea of non-local ‘exploratory’ tourism cum weekend-thrill is a symptom of a deeper disease. This disease adds layer after layer between the earth and the birds who float atop that earth, with the organizers making sure that the undomesticated and the unrefined stench of the earth does not make its way in to this stratospheric paradise. Such ‘cosmopolitan’ inhabitants who belong nowhere produce nothing. Of course they know about the Sati ‘tradition’ and shur their book and minds with that. These are those who see no intrinsic value in any tradition but partake in its goodies, document it, sample it, sell it to visiting firangs, package it as if they were wares on sale but contribute very little to the richness of the human condition, on a long term basis. If this worldview and lifestyle becomes the dominant one, I shudder to think what kind of a cultural desert the flittering non-traditionalists will produce with their contempt of tradition and rootedness. Given their clout and power, that urban-industrial dream of an atomized society might become true, till every grain looks the same. Individual grains of sand around Jaipur have more heterogeneity and character than this.

Would the dominant idiom and language of these well lit fests survive if Whites paid reparations for colonialism and slavery? Will any of these well lit fests survive even for a year if the world magically becomes becomes crime-free? Something that owes its very survival to dirty money and claims to be a festival of ‘mind-opening’ needs to be exposed. This is true for many other creative pursuits of these times and these classes- they don’t exist without the backing of money, cannot be produced by the poor (hence most human beings) and, if the world could be flattened so that everyone was at mean income, none of these creativities would even exist. These are pursuits for which inequity is a necessary pre-condition. But there is art beyond that, in persisting oral traditions, lores, gods, non-‘cosmopolitan’ ways of everyday creativity and knowledge and earth inspired insurgents like Namdeo Dhasal and Gaddar but that is beyond the well lit faces and enlightened minds of the perfumed ones. It must be painful for the ‘enlightened’ ones to imagine that the world can actually go on without their collective knowledge being at the centre of it. But it does. It always has. And whether you like it or not, and whether you matter or not, it always will.

1 Comment

Filed under A million Gods, Bahishkrit Samaj, Class, Colony, Culture, Delhi Durbar, Elite, Faith, Knowledge, Sahib, Sex, The perfumed ones, Urbanity

The Goonda first came for the Assamese / Gunday on the loose / The Bollywood Gunday threat against Assam and Bengal

[ Daily News and Analysis, 4 Mar 2014 ; Dhaka Tribune, 5 Mar 2014 ; Echo of India, 11 Mar 2014 ]

People in the Bengals use the word ‘Goonda’ quite liberally – to refer to anything between a naughty child to the local political thug. But in the eyes of law, who is a Goonda? One of its many legal definitions is to be found in the Control of Disorderly and Dangerous Persons (Goondas) Act (East Bengal Act IV of 1954). There is goonda is someone ‘involved in affray, rowdyism or acts of intimidation or violence in any place private or public so as to cause alarm to the people living or frequenting the neighbourhood’. According to the Uttar Pradesh Control of Goondas Act (U.P. Act No. 8 of 1971, amended by U.P. Act No. 1 of 1985), it is ‘generally reputed to be a person who is desperate and dangerous to the community’. But if film and artist communities in Assam and West Bengal have been protesting mischief and many young people in the People’s Republic of Bangladesh are disgusted at the false and mischievous retelling of its Liberation struggle, then the source of mischief can safely be called a Goonda, at least rhetorically if not legally. When there is more than one such public enemy, in Hindi they are called Gunday. Gunday are backed by deep-pockets whose ulterior projects are more extensive than the specific acts of mischief. More often than not, the Gunday of the real-world are mercenaries for other people’s projects, even part of broader, more sinister projects of which the employed Gunday may not be even aware of. The Gunday are as important as the people who dictate what Gunday does, how they do it, when they do it.

In the reel-world, ‘Gunday’ is a project of Yash Raj Films, a Bollywood centric entertainment behemoth. It is one of greatest flag-bearer of Bollywood Hindi films, that grandest by-product of ‘Indianness’. Some perverse people like me feel that the relationship is inverse – that ‘Indianness’ is a byproduct of Bollywood Hindi films, among other things. It is the thread that connects the browns to browns, with the punitive sedition laws at hand just in case some folks didn’t get the point. Whatever be the tall ‘diversity’ claims of the Indian Union, the cultural landscape after partition has a couple of winners (English being one) and a large set of losers. In the Indian Union, we all know that cultural and political clout of which language has expanded after partition, so much so that not knowing it is seen as a sign of being politically and culturally queer. This advancement comes with the retreat of Marathi, Kannada, Bengali, Assamese, etc. as playgrounds of cultural imagination and virtual annihilation of fecund tongues like Maithili, Awadhi, Brajbhasha, etc. It is not accidental that the most successful film industry is of the same language that receives the maximum preferential subsidy for its advancement. The subsidy to English in poor brown-land is a scandal of another scale altogether.

Let me not beat about the bush and come to the point. Gunday is a Bollywood Hindi film. For West Bengal, it was dubbed in Bengali. This make one, get many formula by dubbing into other tongues makes economic sense for the producer. But that also opens the flood-gates for this trend. The film and cultural community in West Bengal has protested against this. If using their mighty economic muscle, Bollywood producers can brow-beat distribution networks and cinema halls into showing such dubbed material, this will be an economic bonanza for Bollywood. Much black money will find greater returns but fledling non-Hindi film industries will fail ruin as they cannot outcompete Bollywood in black money, film volume and the cinema-hall blackmailing strength that comes with it. This desperate aggression was in full display in Assam where Rajni Basumatary’s Assamese film ‘Raag’ which was running quite well was removed by economic goondaism to make way for Gunday. Not too many films are produced in Assamese and when a good one is made with help from the Assam Film Development Corporation, this is the fate. Cultural diversity, even cultural competition, can only flourish in a level economic playing field. No amount of bleating about ‘unity in diversity’ changes that basic fact.

Let me describe a scenario. Dubbing my story and then forcing it down your throat using my economic muscle will slowly silence you. You wont be able to tell your own stories. You will have to adapt my stories. It does not matter if you have a long tradition of telling stories. Soon you may even develop an aesthetic sense for my stories, get alienated from your stories, from your people, look at them with curious eyes of an outsider. In short, I will destroy you cultural roots, replace them with mine and you will finally clap along the way. If that does not make me a Goonda, I don’t know what does.

The acts of some gansters have international manifestations. Gunday has chosen to parrot the official Delhi fiction of Bangladesh being a product of a brief Indo-Pak war. The people of that independent nation did not take that lying down. The producers have apologized. The Assamese can dream on. Pakistan has sought to protect its film industry by trying to restrict ‘Indian’ (read Bollywood) films. The states of the Indian Union have no such power, just like they do not have the power to protest the huge subsidy and preference given to one desi language. Apparently, this language ‘unites’. We know how this unidirectional unity works. No Assamese film will be dubbed in Hindi and released to multiplex audiences in Delhi and Mumbai. Not in this nation state. If slow but sure annihilation of certain cultures is a pre-condition to some kind of a ‘national integration’ project, then that nation is an enemy of those cultures. It is up to the Indian Union to decide what integration project it wants to promote – a predatory one or a harmonious one. It is up to you, the viewer, to ask whether your film ticket is filling a goonda’s pocket.

 

 

1 Comment

Filed under Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Hindustan, Kolkata, Language, Nation, Pakistan

A khidki into our minds / Khidki opens a window

[ Fountain Ink, April 2014 ]

Thanks to the mid-night anti ‘drug’ and ‘prostitution’ activism by the erstwhile Delhi law minister Somnath Bharti, the Khidki Village in Delhi had suddenly shot into prominence in the subcontinent and beyond. Many from New Delhi and elsewhere, who had barely heard of this place, descended upon the area in the aftermath of the ‘racist vigilantism’, to see the ‘backward’ brown creatures that inhabit that area. They wanted to see the village that lives up to its ’village-ness’, tucked in one of the armpits of the ‘cosmopolitan’ NCR metropolis. The Khidki village is older than all the malls and multiplexes of the NCR, older than all the universities of ‘New Delhi’, older than the nation’s bequeathed capital ‘New Delhi’, older than the nation, older than the idea of the ‘national’ and for that matter older than the ‘idea of India’. For all its antiquity, yuppies who claim to have a thing for brown heritage would much rather live in some sector of Gurgaon or Noida. Who wants to live in ‘Khidki village’? You know how that sounds, especially the derogation with which names like Khidki village are taken.

Outsiders (the non-village kind) from New Delhi refer to it as an ‘urban village’ (the inhabitants simply call it their village). There is a certain hip-ness that comes with the ‘urban village’ tag as it prepares the ground for using the area as a creative arts canvas by hip folks whose dads wont allow their own ‘authorised’ neighbourhoods for similar ‘creative’ projects. Khidki village and its extension have yet not earned the ‘hip and cool’ tag associated with another similar largely ‘unauthorised’ village agglomerate in Delhi called Shahpur Jat. This one has excelled as a haunt of White foreigners and brown yuppies with disposable cash. ‘Creativity’, ‘experimentation’, ‘urban village’ – brochures are full of these terms, marking out a niche as a social calendar hotspots. The elite’s ‘art’ studios feeding on low rents and insecurity of ‘unauthorised colonies’ bloom here. The inequality helps stretch the urban canvas – creative ‘arts’ indeed.

But I digress. The residents – they live there. They call it home. They have been calling it home much before six other villages were destroyed to make way for what is the New Delhi of the Union of India. Some people have roots, live in communities and do ‘come into their own’ with the fashionable beam of ‘urban anomy’.

The Khidki extension episode about Aam Aadmi Party minister Somnath Bharti’s nocturnal activism over ‘drugs’ and ‘prostitution’ has made monsters-at-large out of the minister and the complaining people of Khidki village. In circles whose voice comes most alive in European jargon, this has been called the cheap politics of ‘othering’. Worse displays of animus against African people have happened through cases of outright violence and at least one instance of vilification by a Goa minister. ‘Liberal India’ has typically swung into damage control mode. This damage control has included round after round of sanctimonious condemnation of racism against African black people. Television media knows its constituency of self-congratulation well and has followed it up with various talk shows themed around various versions of the question ‘Are we racists?’ and has invariably concluded that some bad apples are. And have added ‘I love you’ notes to Nigerians, at the end of such shows. Such shows also discuss the racism faced by desis abroad. The racism that uppity NRI desis show in their promised land and many desis show in the subcontinent can only be matched by the alarm that raised when some relatively elite brown gets paid back in the same coin in some white land.

With upward mobility for a section of the metropolis janata and the Indian Union taking a ‘greater role’ at the world stage, more of these people have white friends and acquaintances than ever before. Just when elite desis and their known whites seemed to have reached non-racist nirvana – imagining themselves as part of some universal brotherhood of idea, commerce, commodity and romance exchange, the prejudiced desi hordes are letting this emancipated side down. This is the source of embarrassment. Not themselves, but those who share their skin colour and give the whole team a bad name. During the British Raj, this embarrassed class of browns was quite well known and did well for themselves by distinguishing themselves from the ‘uncivilised’ loathsome browns. The overall rising tide of anti-colonial sentiment made such embarrassment less fashionable for sometime. Post 1990s, the sharp rise in the petulance/anger of brown consumer elites with racism they face abroad is matched by their condemnation of racism at home. This is one real contribution of GDP growth and ‘international“10 ization’ of commodity markets. With India rising and shining alongside the white world, in malls and tourist destinations, commercial and academic engagements, and anti-colonialism being passé, the time is ripe for more public display of embarrassment. The audience for this is the white World and self-image the desi liberal has created for oneself and almost believes in. They would hate to be confused with other browns.

But then, talk is cheap. The backward browns have shown their true colour through explicit racism that makes liberal, our homegrown ‘world citizens’ shudder. But what about things that are implicit in patterns of behaviour? Those are harder to track down but when done, do say a whole lot about the people practicing it. Their own displaying prejudice explicitly can be called out for it and asked to change, or at least reassess, their positions. But what about those whose public lives are epitomes of ‘ultra-liberal’ posturing peppered with condemnation of the ‘backward’ while implicit in their behaviour are exactly the for which they publicly bad-mouth the ‘backward’ every day? When you have such a class lecturing the prejudiced at every opportunity, the result is a farce of a poor quality. The farce needs to be exposed for what it is – too many people enjoy excellent views from the moral high ground that they occupy undeservedly. Too many are condemning the ‘backward’ by standing on self-constructed pedestals.When we are all naked, and the ‘liberal’ gives up the pretension of wearing ‘ultra-fine’ clothes, we can start talking truth. We can have a dialogue. We can be embarrassed or not, for what we are – irrespective of whether white people are watching.

What constitutes the ‘world’ of the ‘world citizen’– the world is mentally, if not physically located in a temperate zone OECD white-Caucasian country, given that not much of the world fits that description, the extent of the mental world of the world citizen is not so big after all. It is hard to map out the mental world but some things can give us certain clues.

The ‘free choice’ that these brown ‘world-citizens’ in matters of marriage, romance and sex can be revealing. With increasing number of non-browns coming to the subcontinent and a correspondingly increasing number of browns going to ‘foreign’ countries, there are some foreign-brown marriages that happen. That’s all good. Now close your eyes and picture such a couple. There are many such ‘cute couples’ now. Note the colour of the ‘foreigner’ in the frame. Most likely, it is not someone African or Afro-American. The ‘cute’ or the ‘angelic’, sadly is from the same races whose mental worlds have shaped the world-view of the brown liberal – typically French of Anglo.

One in eight Americans are black. More than one in six are non-Whites (including Latinos, not including other browns). Now think of some people you may know or you may have heard of, who have married Americans. Normal human interaction without any colour prejudice or special colour affinity would have resulted in one in six such marriages being with non-Whites. Is that the case? Hell no. Is that the case even among those who would declare that in their post-racist world, love runs blind? Hell no. If you ask them individually, they would have said that their own White choice is ‘incidental’. It could have been someone black. Just that it hardly ever is. Their non-prejudiced ‘choice’ is so predictable, that it takes away all suspense. Many such individual choices hide behind the mask of politically correct speech. This closely parallels the marriage choices of the ‘I don’t believe in caste’ types. Individually, they would burn the sacred-thread (if a male) and/or denounce the ‘caste system’. Just that their life choices speak louder than their speeches and posturing. The cosmopolitan Savarna liberal usually leads a schizophrenic existence.

Let us come back to the subcontinent. Darker Africans have been coming to many parts of the subcontinent in recent years. A large number of them are students. ICCR has offered 900 specialised scholarships for students from African countries. There are more than 10,000 African students in the subcontinent and the largest chunk is in the institutions of NCR. Incidentally, African students consider Kochi, a city without the intellectual pretensions of New Delhi, very safe. There are thousands of Nigerians in the NCR. As for the students, we are talking of very meritorious ones, many of them studying in significant numbers in the NCR’s most premier institutions. But when it comes to campus-coupling of browns with foreigners (especially in vogue among liberal circles of elite institutions), whites rule the roost. The students from Africa may study advanced biology, Kathak dance, journalism, architecture, literature, history, sociology, urban planning, gender studies and many other things, but they are no match. I stress the liberal and elite bit, as these are the spaces from where the shrillest chants against racism typically come, along with pronouncements that they stand above differences of race, caste, colour and such things. For the ‘radical’ and ‘liberated’, neither the African nor the East Asian students do not forms a part of their desirable cohort, for purposes of campus romance or intimacy. Those from Manipur or Nagaland are also similarly excluded, always spoken on behalf of, by the predictable crowds. But when it comes to ‘desirability’ and ‘companionship’ as equals, other aliens matter. Whites win hands on. The white on campus will have an inordinately long line of droolers. Desirability is as much about how one’s views oneself as it is about the desirable one out there.

What is the source of such desire and skewed choices? Doesn’t it have something to do with fantasies tied with the awe that power evokes in certain minds? More often than not, it comes from a weak bond with one’s living environment, developing into a hatred of things associated with one’s own community. This journey away from the self is couched in the celebratory notion of ‘liberation’ – a journey involving progress towards a universal human ‘love-in’. That suits white Caucasians on campus very well, to find suddenly themselves in the enviable position of being able to punch way above their weight. It does not matter who approaches ‘first’ but the white in skin is acutely aware of his/her ‘market value’ in postcolonial lands, especially among the tribe of those with brown bodies with culturally illiterate, trying-hard-to-be-white minds. This state of thing makes it relatively easy for the gora who only has to show a little interest in things native and might even learn a native phrase or two. Before they can show that off, the coconut native is already trying to impress by showing off his/her acquaintance with all things white – their culture (pop and sophisticated), their stories, their sitcoms, their epistemologies, their myths, their histories, their nuances with some half-baked critique thrown in so as to avoid appearing too eager. Gone are the ‘politically correct’ measures of mutual compatibility based on mutual respect – otherwise the East Asian and black African students would not be so undesirable in romance and intimacy compared to Whites, even among the ‘thinking’ and ‘elite’ academic spaces, even among the ‘liberated’ and the ‘radical’? For these coconuts, of course the next best thing after a white body with a white mind is another fellow brown body with a white-mind. Certain kinds of urban agglomerations offer excellent refuges for browns to explore their mutually shared whiteness. They are also the elite – fatafat English, chain-café hangout types, even with browns of the same mother tongue.

The ex-colony is indeed an unfortunate thing. There is always a lingering infection at the head, because the vernacular non-elites could never quite take over and are on a retreat. Transfer of power happened so that the production of brown bodies with white minds could go on with locally produced grease. Not quite Macaulay. Way sophisticated. Way sordid. At least Macaulay’s children looked like buffoons to the rest of the browns and they themselves had few illusions of reciprocal equality with the whites. Now, the illusion of reciprocal equality with whites is strong. Alienated from their own communities, they need to maintain self-respect by these means. Due to their ubiquity in media and academia, they have an inordinate influence over the aspirational dreams of the masses. The new buffoons have indeed turned the joke on the people. It must be supreme irony that some of these ‘liberated’ browns will go on to lecture us other browns on agency, structures of power, media representation, feminism, politics of culture, indigeneity, even equality.

This holding of whites in high esteem is not peculiar to certain browns. Data from millions of users of the popular US dating website OKCupid suggests exactly the same (http://qz.com/149342/the-uncomfortable-racial-preferences-revealed-by-online-dating/). Disproportionately high (as in higher than what population percentages would suggest) desirability of whites as partners cuts across most non-white races, except African-Americans. The funny bit is that the data also reveals that this special desirability is not reciprocated by whites to any non-white group. One non-white person probably gets tantalizingly close to the origins of disproportionate desire by a description. The person talks about having grown up filled primarily with white narratives and depictions of white people and felt as if she was ‘in a movie’ when she was romancing a white. From the lists of ‘hottest actors’ to ‘sexiest actresses’, from fiction to philosophy, they cast a very deep shadow on the person’s mind that felt during intimate moments with the white partner that one was living a long-pregnant fantasy, as if it was a movie. The African-Americans, having to live with the reality of whiteness, as opposed to the nurtured fantasy about whiteness, have no illusions. They are confident enough to have a spine to hold them up straight without white crutches.

The ‘conservative’ in brown-land at least makes his/her mindset clear. They probably neither like the white nor the black. However, for the ‘liberal’, among the itinerant foreigners who come for study and pleasure, it is mostly the white that gets intimate attention, with others largely avoided. The ‘liberated’ typically talks his/her way out by jargonised hypocritical bluster. In fact, the observable action of black-avoidance being same, this bit dishonesty makes them a notch worse than the conservatives – and there is the rub. For the ‘enlightened’ and the ‘liberated’ are loathe to admit that they too are products of the ‘dominant’ worldview of white-worship. That in practice boils down to racial preference and that does not sound nice. The ‘liberated’ believes that dominant world-views only affect the ‘mindless’ hoi polloi. Facts show that they are not outside but inside the circle of dominance. Such stark demonstrations can be heart wrenching. Liberation warriors become quivering and petulant balls of self-defence, alarmed at the tug at the ground beneath their feet, the ground they had fashioned into a pedestal to preach others from. All kinds of desperate and verbose ego defences come up, aided by jargonized bluster.

Those who are busy condemning and vilifying the people of Khidki extension en masse stress that some of the residents who had gathered had even uttered the ‘N-word’. It was. The ‘N-word’ was also used to build brown-black solidarity against racism and anti-communist witch-hunt in the United States of America. One does not expect the yuppie anti-racists to have heard about the song ‘Negro bhai amar, Paul Robeson’ that Kamal Sarkar composed based on Najim Hikmet’s verses, a most popular song that the legendary folk-singer Hemango Biswas extensively sang. For that matter, the N-word vigilantes probably have not heard of Paul Robeson. For them, history started with 1991. One might add that the song inspired more people in the subcontinent to develop serious anti-racist views as well as a critique of the American state that newly-learned knee-jerk political correctness about ‘N-word’ and other White speech-forms can ever evoke. The particular charge that comes with the ‘N-word’ has a certain context. Ashis Nandy has repeatedly taught us one thing – to take people’s categories seriously. Grounded social and cultural literacy is not to be expected from those who think that only white people’s categories are the ones with meaning. A peculiar kind of browns whose cosmopolitanism almost always translates into a greater understanding of nuances and contexts of things from white lands than things back ‘home’ (the flittering class actually doesn’t like to be ‘tied down’ to the concept of ‘home’) possibly doesn’t realise the ridiculousness of charging the people of Khidki extension of using the ‘N-word’. Having gained adulthood by being consumers of Anglo-American public discourse and pop trivia, they often forget that their books, TV shows, webpages and magazines are part of their bubble-existence. To think that the bubble is the world may be fine for life and times in the bubble-urbania. The problem happens when they venture out into the real world and use their bubble-derived notions and categories to judge that. While being exquisitely literate about the ‘N-word’s horrendousness, they would not be able to name even 10 derogatory words used to refer to dalits in the subcontinent. This is no sign of enlightened purity or post-casteism or castelessness but the stench of super privilege by which everyday categories and realities have been shut out of their lives. Forever coddled, forever urban, forever ‘non-casteist’, forever offended by the N-word, neither can they name 10 dalit sub-groups (not that those who can pass the ‘name test’ are virtuous, but they are at least in touch with the structure they benefit from and have no illusions of innocence). Some of the disproportionate beneficiaries of a system can afford to not know the details of the victims. What is offensive is that these are kinds who are stomping all over the Khidki residents, with a righteous indignation. The browns are an unfortunate people. Those divorced from reality are the narrative-peddlers and the chroniclers of social tension and cultural flux of the browns. Sleek presentation in elite language and idiom, coupled with political correctness has helped many of the chroniclers go places.

The reality is, hundreds of African students stayed in the Khidki area. The same cannot be said of most ‘respectable’ yuppie locations of New Delhi, Noida and Gurgaon. Not every locality allows a ‘ghetto’ to develop. The curious bit is that areas without African ‘ghettos’ are typically places where the Khidki-haters like to live in. Whites get treated differently. May be they would have been treated differently at Khidki too. But wouldn’t those who criticize the Khidki residents while regularly lounging at ‘artistic’ cafes and other upscale hangout-with-whites-like-whites locales also treat them differently? The ‘backward’ Khidki-wallas do not hide their feelings. Khidki residents have not (yet) learned the language and style of appearing to be non-racist. The ‘backward’ often responds with equal alienation to black and white. Others who hide their selective alienation, having learned the language of not letting feelings and subjectivities publicly known, uses the ill-gotten pedestal to preach against racism.

The Khidki incident has given rise to many paeans to the ‘diversity’ of New Delhi and how the ‘othering’ of the black-Africans is a blot on its ‘cosmopolitan’ image. This ‘othering’ bit, a category dutifully imported from ‘Continental’ discourse, is a non-issue here. The problem is segregation. That is a broader issue than Africans. It is also about who is typically rounded up by the police when a car-lifting happens, or who is issued an ID card or is asked to register at the local police station because one happens to work as a domestic help in a upscale area. Just because these browns do not have an explicit skin-marker, does not make the treatment meted out them any different. However, all that is normal, even as youths from these posh homes have also added their voice against Khidki. It is not a simple blind spot. What are the predictable triggers of righteous indignation? Why does it typically parallel what would trigger indignation in a supposedly post-racist Euro-American society? Why are our daily segregations, born in the belly of our society, not similarly spectacular and newsworthy? The yardsticks of whose social realities have we borrowed to assess our own? What makes us chose among the segregations? What is the rank-order in our heads? From where did we import this hierarchy? By choosing to privilege one kind of segregation over another, which audience are we signaling to? Are all these audiences domestic? What does this tacitly self-congratulatory ‘anti-racism’ vis-à-vis the silence over daily seggregations tell us about our selves?

Leave a comment

Filed under Acedemia, Community, Culture, Elite, Eros, Gender, Non-barbarians, Our underbellies, Sahib, The perfumed ones, Under the skin, Urbanity

Why Pakistan’s resistance to Bollywood is justified

[ The Express Tribune, 24 Dec 2013 ]

The case in Pakistan regarding the continued certification and commercial screening of films produced in the Indian Union territory has been settled. Mubashir Lucman, Film Producers Association and Cinema Owners Association have come to an agreement that would allow for the equal sharing of screening time between films made locally and those imported from the Union of India. This is a useful opportunity to discuss some issues regarding the commercial import and certification of Bollywood Hindi films in Pakistan.

Let us first understand what are these ‘Indian’ films. We are largely talking of films made in the Hindi language produced via a very cash rich industry setting in Mumbai. For the rootless young people in certain metros of the Indian Union, that is much of what constitutes ‘Indian’ films. But for those who are talking in terms of greater mutual understanding via these films, one needs to realize that much of the Indian Union does not speak Hindi. Additionally, they do produce their own films. The content of such non-Hindi films represent a much greater terrain of the subcontinent than Bollywood Hindi flicks can ever aspire to. To be fair, Bollywood Hindi films never did aspire to that. Thank the gods for that, as with the money power behind Bollywood Hindi films, they might even try to define Tamil-ness or Bengali-ness through a metro-centric Hindi medium. Are they influencing people in Pakistan with an alien commercially produced idiom? If yes, people in Pakistan better take notice.

And those who portray films as some sort of a medium to develop Indo-Pak bonhomie might also do well to look beyond Bollywood. Virulently anti-Pakistan films with a lot of ‘action’ are also a Bollywood Hindi film sub-genre. Yes, that does good business. Go find an Assamese, Bengali, Tamil, Manipuri or a Oriya film in the last fifteen years that has an anti-Pakistan theme. There are none. Are these not ‘Indian’ films? What is it about Bollywood Hindi film idiom that lends itself to making films like Gadar: Ek Prem Katha and LOC Kargil, which unabashedly dehumanize people from Pakistan? The economic muscle of Bollywood ensures that such films receive a wide audience. It is not the specific film that matters. Pakistan can choose to not allow this film or that. But it is the same set of cartels that produce most of the films – the ones that are anti-Pakistan and the ones that are unrelated. This industry understands only money and would not stop from producing the next commercially lucrative anti-Pakistan blockbuster? There is a market for such prejudice in India just like there is a market for anti-Hindu prejudice in Pakistan. Do people from Lahore and Karachi really need to add to the profits of an industry that sees no qualms in showing Pakistanis in bad light?

Most Bollywood Hindi films are set in the cities of Mumbai or New Delhi, and increasingly in cities of the Western World where people from North India live and aspire to flourish. This can be Sydney, London, New York or Chicago (Dhoom 3, an action film released a few days ago and which has already grossed crores of Rupees, is set largely in Chicago). Delhi and Mumbai choses to tell its story and wants people to pay for it. But Karachi is not Delhi and I am sure it has its own stories to tell, stories that are different from the stories of young partying explorers of Mumbai and Goa, stories that are not about aspirational or ‘everyday’ life of Delhi people. Inspite of the Zia years, one can be sure that 15 crore people have stories to tell. If the decision was left to the burgers, they might even start a juloos in support of Hollywood and Bollywood. The culturally illiterate has no investment in their own cultural milieu. That is precisely why their ‘tastes’ shouldn’t be setting agendas. Nor can they be depended on for a revitalization of films culturally rooted in Pakistan (and not cheap Bollywood remakes).

Bollywood Hindi films represent the metro-centric and homogenized ‘idea of India’ in the mind of the new Indians – 20-40 years old, in the top 5% income category, aspirational migrants with Hindi and English being their near exclusive vocabulary. They are concentrated in a few cities but they have the economic might to determine cultural policy. These multiplex consumers with their moneybags have done a great assault to the idea of mass-films, which is why now film profits are not an indication of film popularity. Pakistani film industry is up against an economic behemoth with an agenda of own-cultural expansion. Its production, distribution and broadcasting machines are well oiled. Stupendous amounts of black money from deep pockets bankroll the ‘creative’ explosion that is Bollywood.

The twin attack of a homogenizing national ideology and economic muscle has grave implications on visible public culture. The 19th Kolkata International Film Festival witnessed the extra-ordinary scene of Bollywood Hindi filmstars being feted in a manner as though they represented some pinnacle of human achievement. It was a sad moment – underlining how limited and predictable the cultural horizon of West Bengal’s film industry had become. The lack of self-confidence showed. Film industries that do not have as much black money circulating, have lesser number of casting couches, have lesser number of ageing ‘artists’ and producers targeting young actresses, have lesser number of big crooks financing films and which do not make films in Hindi or India-English, have been relegated to second and third class status. Pakistan has the legal mechanisms to stop the damage that Bollywood has done to films industries elsewhere. It better act soon.

Leave a comment

Filed under Culture, Delhi Durbar, Identity, Kolkata, Language, Pakistan

Battling religious censorship / Muzzling Expression of Taslima Nasreen

[ Outlook, 23 Dec 2013 ; Echo of India, 29 Dec 2013 ]

Kolkata, the so-called ‘cultural capital’, has demonstrated the increasing emptiness of the epithet, yet again. Taslima Nasreen, one of the most famous Bengali authors alive, had scripted a TV serial named ‘Doohshahobash’ ( Difficult cohabitaions) portraying 3 sisters and their lives – standing up to kinds of unjust behaviour that are everyday realities for the lives of women in the subcontinent. Nasreen has long lent a powerful voice to some of the most private oppressions that women face, often silently. The private channel where the serial was slotted ran a vigorous and visible advertising campaign – Nasreen’s name still has serious pull among Bengalis and the channel knew it. Nasreen had made it clear that the serial had nothing to do with religion.  However that was not enough for the self-appointed ‘leaders’ of the Muslims of West Bengal who issued warnings to the effect that the serial not be aired. The commencement of the serial, sure to be a hit and a commercial success for the channel, has now been postponed indefinitely. One can imagine the pressure the producers and broadcasters have faced that led to the shelving of a potential runaway commercial success. As in the recent incident of Salman Rushdie being prevented from coming to Kolkata due to the protest by similar characters, one can be sure of the kind of role the Trinamool Congress government and its law enforcement agencies had in this affair. If the government is to be believed, it had no role in the criminal farce that is being played out unchecked. Muzzling free speech and right to expression does not always need written orders from the government. A phone call here, a verbal order there – these are typically enough.

Nasreen has been living in New Delhi since 2007, after being hounded out of Kolkata by the CPI(M) led government on the instigation of Muslim groups threatening ‘unrest’. The pathetic reality of the lives of ordinary women in the subcontinent and the extraordinary oppression meted out to them, especially due to certain religious systems, have been the single most important theme of her writing. Steeped broadly and deeply in the cultural fabric of Bengal, the specific socio-geographical setting of much of her work is in the Muslim-majority nation-state of Bangladesh. Hence, in her earlier writings, Islam primarily represented the ugly face of religious majoritarianism. However, those who have cared to read her corpus, know very well that she has been an equal-opportunity truth-teller, castigating both Hindu and Muslim religious practices and ideologies.

Taslima Nasreen is a daughter of the subcontinent. Islamists in Bangladesh wanted her head and made life miserable for her. After a few years in the West, she returned to West Bengal. I say ‘returned’ as it was an inalienable part of her cultural homeland. In Kolkata too, she lived in the face of constant death-threats there too. After her forcible ejection from Kolkata, she has never been allowed back, though she remains extremely interested in relocating back. One would think that the culture of issuing death-threats to one feels one’s religion has been slighted by is alien to Bengal – which has, for centuries, been the ground Zero of religious syncretism as well as tolerance to so-called deviants of all hues. It is indeed sad that this alien culture of extremism of relatively recent import has managed to gain the upper-hand so as to force the government of the day to pander to these elements at huge cost to the social and cultural fabric of West Bengal.

Who exactly are these vocal opposers of Taslima Nasreen’s serial being shown publicly? Whenever one has self-appointed spokespersons doing the shrillest speaking, it is useful to study their antecedents. Abdul Aziz of Milli Ittehad Parishad and Mohammad Quamruzzaman of the All Bengal Minority Youth Federation are two prime examples who have been extraordinarily active in running the Taslima-denounication industry in West Bengal. Both these organizations share another distinction. They led a mass-meeting earlier this year in Kolkata protesting the punishment of Islamist leaders of Bangladesh who had directly committed crimes against humanity during the 1971 Bangladesh Liberation War.  Thus those who defended rapists and mass murderers of 1971 (the victims were Bengalis, of whom a significant proportion were Muslims) have taken upon the mantle of community guardianship of Muslims in West Bengal. It cannot be clearer what kind of Muslim interest these folks represent. To even consider that such elements represent Muslim interests of West Bengal is tantamount to insulting the intelligence and humanity of the Mohammedans of the state.

Kolkata’s intelligentsia and youth, once known to take to the streets and chant songs to protest the muzzling of Paul Robeson, a black-American singer and artist, has had nothing but silence to offer on this one. The Trinamool Congress rulers and the erstwhile CPI(M) rulers have set a record of competing with each other on muzzling free speech on the instigation of groups in whose worldview, free speech has no place. While there may be short-term electoral gain for such posturing, this race to the bottom has no winners. The loser is the idea of a free and democratic society where dialogue and understanding is privileged over violence to ‘solve’ differences. In effect, such groups aspire for a society where there are no differences – no diversity of thought, expression, living and being. Nothing is more alien to the human condition than that. Gods only can help a society where governmental policy is dictated by sociopaths, unless a critical mass stands up to publicly state that enough is enough. Does the right to be offended take precedence over the right to free speech? If yes, we are in sad and dark times.

When insulting books, gods and other creatures has become the touchstone of ‘community leadership’, one might do well to remember the words of Kaji Nazrul Islam, the fiery poet of all of Bengal who is increasingly being packaged into a ‘Muslim’ poet – ‘Manush enechhe grontho, grontho aneni manush kono’ (Man has produced books, no book has ever produced a man). There is nothing truer than man himself and free speech is an pre-condition for that truth to shine forth, in its myriad hues.

Leave a comment

Filed under Bengal, Culture, Kolkata, Religion, Rights, The written word

The many avatars of Asaram Bapu / The Asarams around us

[ Daily News and Analysis, 28 Oct 2013 ]

The way the likes of Asaram Bapu and other ‘godmen’ have allegedly taken sexual advantage of the iniquitous power dynamic they had with their ‘disciples’ makes any consent in their acts questionable. Especially in the case of Asaram Bapu, the image of this man with ‘fans’ and disciples half his age or even less has evoked widespread revulsion from disciples and non-disciples alike. What Asaram preaches cannot be separated from what Asaram does. Can we extend these criteria to others? Which other people get away by taking advantage of iniquitous power dynamics?

There is something called ‘artistic license’, a concept often used to create a smoke-screen of exception around activities otherwise abhorrent. Some things are apparently okay if an iniquitous power situation is perpetrated by an artist, writer, poet, musician, visual artists, film-types – some ‘creative’ person. Not everyone is like this but you know the type we are talking about. In this ‘creative’ crowd, one often discovers characteristics that Asaram would recognize. A famous Bengali poet-novelist was known for his ‘intellectual’ communion with fans, typically half his age. Another equally famous and now-deceased writer of romance from Bangladesh married his daughter’s friend who was into films. Typically, they marry or propose to people half their age. The need for ‘fresh meat’ is a sick mentality that they can couch well by their word-wizardry and their ‘artistic’ bent. Some who marry early (like the deceased poet-novelist) put their spouses through a life of shame and indignity. Those who were just too cool for marriage before their 40s make it up by marrying people half their age. Are god-men the only schemers while these are on experimental ‘journeys’? Do these writers write why they mostly like them young – or will that literary ‘exploration’ destroy the ‘opportunity’ at hand one might be nourishing? Will abstract painters paint and film-types make ‘experimental’ films on the nitty-gritties of their inner schemes? That we don’t call out what’s going on here should cause serious self-reflection in those of us who condemn the Asarams. This blind-spot is especially troubling due to the deep sexism embedded of these circles. In such inequities, the less rich, famous and younger is mostly a female.

How do these wreckers of families and individuals, get such a long leash? Just because they are rich celebrities who can charm young ones in whirlwind summer romances of ‘special attention’ when people of their own age cohort have moved on? The combination of age, power/fame and economic difference is characteristic of a predator. Sadly, the victim’s false sense of agency is characteristic of the ‘liberated’ circles. Just like god-men, predators also often have a fully liberated person in every town, you know, just in case on has to drop in for some relief and ‘catching up’. Some victims are lured into thinking that they too are part of the predator’s dreamy, ‘interesting’, ‘care-free’, ‘experiential’ and ‘experimental world. This charade of agency is important for the ‘liberated’, for from that flows a sense of consent. Tragically, the predators know this too well and use to the hilt to their advantage.

Some victims return to society to cut losses. It hurts the pride of the ‘conscious’ and ‘liberated’ victim to admit that. Society holds the bag to collect the wreckage; due to ties it considers sacred – family values, matrimony and other markers of ‘backwardness’. If only these backward types could mix in the right circles, read the correct books and be ‘articulate’, snort the right stuff in right company, then they would understand such ‘creative’, ‘consensual’ projects. But alas.

Leave a comment

Filed under Culture, Elite, Eros, Gender, Our underbellies, Sahib, Scars, Sex, The perfumed ones, Under the skin, Urbanity

Hiding behind porn / Studied ignorance in India attributes rape to watching porn

[ Daily News and Analysis, 14 May 2013]

No son of Bharat-mata is bad himself. In the subcontinent, not for once have I heard from the parents of any errant youth that bad actions of their child might have something to do with, well, their child. Typically, it is ‘bad company’ that is the culprit of choice. The reasons of all things bad with us are to be found outside of us – a curious position that helps a perpetrator look like a victim. Externalities explain our vices; our intrinsic qualities are the source of our virtues. When this way of absolving the self gains wide public currency as a social ideology, we have a society that is always looking for scapegoats. The types of scapegoats that are found also express the subterranean ideologies and anxieties we have. When the migration of the rural poor to the city gains currency as a ‘cause’ for rapes, it tells us less about causes of rapes and more about ideology and anxieties of the people with whom this ‘cause’ resonates with. Such is the case with pornography as another cause of rape. What is even better, pornography has also been bandied about as one of the causal elements in contemporary rape. Rather than implicating the training in gender violence that society and family’s own values and norms faithfully provide on a daily basis, porn has been identified as public enemy. Legislators and the chatterati in the Indian Union are deliberating whether pornography, especially the online variety, should be banned. ‘Does porn cause rape’ is a question that has been discussed in these circles for public consumption. Certain women’s rights workers, virulently swadeshi ‘porn is Western, rape-causing evil imported into pure India’-types, free speech wallahs and freelance libertarians debated the issue in various fora. Many asked whether anyone wants their mother to be a porn-star? No one asked whether anyone wants their mother to be brick-kiln worker working 16 hours a day at slave-wages.

Beyond the obvious impossibility of showing causality of porn and rape, this debate has illuminated something quite embarrassing. In spite of web statistics that clearly document the subcontinent as being one of the top enjoyers of porn, almost no empirical work exists that studies porn and rape in brown folks in brownland. A minor part of the reason is that folks who abhor quantitative methods of research and analysis have the shrillest voice when claiming causality and/or correlation between porn and rape. A cocktail of moral righteousness, so-called ‘common sense’ and homemade theories of human psychology dominate the porn/rape discourse in the subcontinent.

This also points to a greater void. For a people so numerous, research on their sexual lives and on sex in general is scanty beyond textual and media analysis. Where are the physiological, psychological and behavior-analysis studies on sex and sexual enjoyment of brown people? Numerous journals on sex studies and sex research exist. Why do studies from the subcontinent figure in them so rarely, especially at a time when scientific research output from here has actually grown in almost all other fields? This gaping hole in the body of research closely parallels the ludicrous illustrations of the human body in the subcontinent’s biology texts, where all hint of external genitalia are erased. It is this air-brushing of reality that sustains a warped conception of propriety. What can studies inform us? Lets take the example of one of the few such studies done here. A 2011 paper by Kalra, Subramanyam and Pinto  studied the sexual behaviors of  a cohort of Mumbaikars over age 50 and report that 57% of those aged 60 and above were sexually active. Geriatric sexuality, thankfully, is goes beyond Hugh Hefner. How does that sit with the casual bundling of grand-children with grand-parents at night, with a tacit assumption that old folks do not have sex? In the January 2012 issue of the American Journal of Medicine, Elizabeth Barrett-Connor’s research group at the University of California at San Diego reported sexual satisfaction increases with age. Where is the corresponding study about our brown mothers and grandmothers?

During my student life, I have been the subject in numerous experiments, mainly at Harvard and New York University, where I have been shown sexually arousing pictures on screen. My reactions to them, in the form of galvanic skin responses (GSR) were recorded. Such work seeks to understand emotion-laden visual information processing by our nervous system and also the psychological underpinnings of certain facets of human experience. Where are such studies from the psychology departments in India?

Without research and knowledge about the full expanse of the human experience, how long shall we go on understanding society? Sexuality being an integral part of that experience, empirical research into sexuality of brown people is needed. Sex exists beyond health, disease, adolescence, safety, and reproduction. It has to be studied for its own value.

Finally, prurience is as old as life itself. Try not scratching an itch. It is hard. Do not scratch other people’s itches unless they ask you to. It is easy. Let us not mix up the two.

5 Comments

Filed under Culture, Eros, Gender, Scars, Sex, Under the skin

Clothing the sacred in the vain / The race to Riyadh / Religious imperialism at the heart of a plural society

[ Daily News and Analysis, 10 Apr 2013; Millenium Post, 11 Apr 2013; Echo of India, 14 Apr 2013 ]

In the amazing race to match cities like Riyadh and Kabul, famous for free-thinking, art and culture, Mumbai stole a march on Kolkata by threatening Maqbul Fida Hussain and disrupting the exhibition of his paintings of goddess Durga and Saraswati. Not to be culturally outdone, the so-called ‘cultural capital’ struck back by expelling Tasleema Nasreen, giving in to the threats by some angry Muslims. In a classic ‘one-two combo’, Kolkata followed up this act by successfully keeping Salman Rushdie out of its limits. Mumbai had actually hosted him – it had fallen back in the race. But recently it roared back in the race by despatching its best sons of the Hindu Janjagruti Samiti to the Jehangir Art Gallery to remove paintings of goddess Kali by Kolkata-based painter Eleena Banik. Game on.

But this is a dangerous game. For people of faith, it is important that gods and goddesses be taken back from the loudest and the most threatening. Rather it should be asked that in a plural society, how is anyone able to violently attack, threaten, issue death-threats and shut down other voices. The plurality of divine forms in the subcontinent does not originate from scriptures and strictures, but from the agency of humans, however negligible in number, to be able to own, disown, partially own and partially disown the divine. No definition of how gods and goddesses ought to be or ought not to be can be enforced by force in a civilized society. If a group thinks that they are the thikadars of divine beings, I feel it is important to remind them that I did not appoint them to such a post, as far as my gods and goddesses are concerned.

The Hindu Janjagruti Samiti’s targetting of mother goddess Kali has forced me to respond, especially because I am from a Bengali Shakto ( followers of the divine mother) family. Our ancestral worship of the divine mother goes back at least four hundred years. We take our Kali seriously. Till now, Bengali Shaktos have not had the need to look to any Hindus from Mumbai or elsewhere for its ‘jagruti’. We have been worshipping mother Kali before Mumbai got its first temple for Mumbadevi.

The saffron neophytes who forced Eleena to take down her paintings of goddess Kali did not approve of the fact that she had painted her without the garland of skulls. Her breasts were visible, because she has them. The mother goddess does not wear garlands to cover her breasts from the scandalized. She is both maternal and sexual. And if your like your goddess to have lesser qualities than my mother goddess, that is your problem. If you feel ashamed of my naked holy mother, thats your problem, not mine. Keep your shame to yourself. Dont come draping my mother with your cloth. Your mother may like being told by their devotee-sons what to wear. My holy mother has a divine mind of her own.

People have conceived goddess Kali variously in different times, in different places. For someone to dictate how my conception of the goddess ‘should’ look like is religious imperialism. While a monolithic Indian Union nation-state helps such pan-subcontinental ‘standards’ to gain wider currency, the goddess is older than the constitution. Those who take their definitions of shame from the sensibilities of the Victorian British have long been ill at ease with the naked glory of goddess Kali. They have tried to make make the garland an essential accessory, have made the garland-heads bigger, have made the goddess always have her hair in front of the shoulder spread out on her body – essentially every cheap trick in the book to cover her breasts. Breasts are sexually desirable. Breasts are also symbols of motherly love. If you have a problem with a sexually active, breast-feeding mother goddess, try a ‘nirgun’ god. Don’t come draping my goddess.

Sometimes we do not realize how recent some of our imaginations of gods and goddesses are. For example, many consider the blouse of the goddess to be a ‘sanatan’ item of clothing – just that it was virtually unknown in the subcontinent in that peculiar form before Empress Victoria’s reign. My holy mother is older than that. Maqbul Fida Hussain, that sterling admirer of goddess Durga, had liberated her form from the patently mid-19th century blouse clad look, re-imagining her in naked matriarchal glory. You expect me to give up my holy mother’s timeless antiquity for your second-rate desi version of imported Victorian sensibility?

By way of distortion of an oft-half quoted line by Karl Marx, one can say that in a plural society, religions have to be defended from becoming the tool of bigoted creatures, the face of a heartless worldview, the mechanical output of scripture-reading zombies. It has to be defended from becoming the enemy of a plural society. So-called ‘distortion’ is the long-term life-blood of plural, democratic societies. Joy Ma Kali.

Leave a comment

Filed under A million Gods, Bengal, Culture, Eros, Faith, Gender, Plural pasts, Religion, Sex

In defence of Ashis Nandy / Stir against Ashis Nandy exposes laziness of elite anti-casteism / Of caste, corruption and the Indian chatterati… / A skirmish in Jaipur

[ Daily News and Analysis, 28 Jan 2013 ; Millenium Post, 31 Jan 2013 ; Echo of India, 8 Feb 2013 ; Jansatta, 4 Feb 2013 (translated in Hindi) ; Frontier (web) 18 Feb 2013 ]

Whatever else it is, this is not a good time to be Ashis Nandy. In this age of ether when spoken words travel faster than sound leaving comprehension behind, it is not surprising that some ‘casteist’ words of Ashis Nandy, spoken by him at a literary festival, have been taken up by the chatterati. Token anti-casteism like token anti-communalism is one of the easiest paths to salvation for the elite chatterati. But even in the month of Magh, the Kumbho mela is too plebian for the comfort of such folk. No wonder, so many have chosen to sanctimoniously pounce on his statement, as a Plan B.

It is important to note what Ashis Nandy has not said. He did not say that people from the OBC, SC and ST communities are most corrupt. What has Ashis Nandy said then? “Most of the people who are doing corruption are people from OBC, SC and ST communities and as long as it remains Indian republic will survive.” The difference between most of the corrupt and corrupt-most is crucial. An audience whose interaction with the OBC, SC and ST communities is limited mostly to house-maids and drivers made sure that his comment did not go unchallenged. Later, he also tried to clarify that corruption from these communities are more likely to get caught, due to absence of mechanisms of saving themselves, unlike the upper castes.

At the most banal level, there is no way for the statement to be statistically untrue. ‘Most of the people who are doing corruption are people from OBC, SC and ST communities’ because most people who live in the Indian Union are from OBC, SC and ST communities. Together they form a stupendous majority of the population. That they also form a majority of the corrupt is only natural, unless corruption flows along caste lines. The problem with looking at corruption in this way is that it does not unpack this thing ‘corruption’ into the myriad forms it takes – and that matters. Limiting us only to economic corruption, by form I do not only mean the quantum of corruption but also the method of execution. Given that corruption is something that all communities indulge in, asking who does what how is important.

But there is also the public life of corruption, its most talked about form being corruption in public life. In that elite congregation in Jaipur and their kith and kin beyond it, if one were to ask for the names of 2 most corrupt politicians, Madhu Koda, A Raja, Mayawati, Laloo Prasad Yadav will jostle for space in their lists. That people from OBC/SC/ST communities are over-represented in the imaginary of this ‘public’ along with its pronouncements of wanting to see beyond caste needs some reflection. The charge of corruption is looked upon as a non-casteist charge and by bringing it up, prejudices and animosities, which may otherwise have casteist origins, can be sanctified and presented in public discourse. The devil, then, is not in the commissions but in the omissions. This brings us to the question of ‘visible’ corruption.

‘Visible’ corruption, the eye-ball grabbing variety, is visible mostly due to a crude job in covering up tracks. The visibility is due to getting caught. A clandestine political group escapes persecution by building a networked system of subterranean safe-houses. Caste groups with pre-existing socio-political hegemony have a long experience in building safe-houses so as to channelize their corruption into ‘internal channels’ rather than public-private ones. So much so that some such forms of corruption are not considered as such and do not need to be clandestine any more. Systems of aggrandizement are built into the system so that corruption happens even on auto-pilot. Just like old money begets new money. Older and much-maligned extractive capital becomes today’s fashionable finance capital. All this requires time. OBC/SC/ST communities, by and large, have not had the time to develop the art of reducing corruption to making the papers correctly. They do not have a well entrenched system of trustworthy accomplices who are well grounded in this management science. Upper castes elites have. They are its fathers. For example, they make green-laws and mangle them to their benefit. But the corrupt that this ‘public’ sees are squatters and ‘encroachers’ who pollute. The irony of the fact that all this corruption-talk happened in an event sponsored by a giant real-estate company should not be lost. But then, there is no corruption in corporate-sponsored, free-flowing red wine. It is only the water in the milk from the neighbourhood milkman that is corruption.

In the subcontinent, few opportunities exist for someone to undo the lack of caste or economic privilege at birth. Aspirations and accomplishments are pre-determined by a legal framework that does not acknowledge realities of the past or the present. The few viable ways to negotiate this disadvantage happen to be extra-legal. We love to call this corruption. Indeed, in the absence of this conduit, things would be even more skewed than they are.

Some anti-reservationists are jumping at joy at what Ashis Nandy has said. This is both tragic and comic at the same time – how the same lazy understanding gives rise to joy and uproar in different quarters. They shout – in anger and mirth – united by the pre-judging lens through which they view what he said.

His words on West Bengal being ‘clean’ has also been twisted out of meaning. Given how commonly the relatively ‘corruption-free’ politics is touted as some kind of virtue attributable to either the Bengalis as a people or the bhadralok political culture spanning the communists and the congressites, Ashis Nandy tried to drive a hole into that too.

If Ashis Nandy had said, most corrupt come from the forward castes, there would not be any furore. That is because, in the Indian Union, the potency of implicating hegemonic groups has been defanged by the enthusiastic appropriation of the mantle of fashionable anti-casteism by the very same groups. Which is why the persecution of the Kabir Kala Manch does not attract the ‘freedom of speech’ wallahs who also double up as ‘anti-casteism’ wallahs, as and when required. The reaction to Ashis Nandy’s statement exposes the laziness of elite anti-casteism. If condemnation is the best response we have, it is sad indeed. The essence of what said was that ‘visible’ corruption is rare in West Bengal because in this state, the political empowerment of SC/ST/OBC communities has not happened. This means that a political sphere which is dominated mostly by the upper castes will mostly have the long-entrenched kind of well-lubricated and ‘clean paperwork’ corruption, systems that these groups have developed over long periods in power. This is the mystery behind West Bengal’s apparent cleanliness. Thus he says that West Bengal appears cleans because the nature of its corruption bears imprints of long-entrenched elites and not new rising groups. To take this argument, albeit a roundabout one, to simply mean that West Bengal is actually non-corrupt and the upper castes who have long been in power in West Bengal as the reason behind some real lack of corruption, shows that we do not want to engage with arguments and understandings that are even a little complex.

Finally, it is the limitation of the non-printed form that when one speaks, words like ‘clean’, ‘corrupt’ or anything which one may be using in multiple meanings cannot be put in quotes like I just did..One has to understand grimaces and what not. I do not think that Ashis Nandy is best suited for the sound-byte medium, for the way he speaks and has always spoken. All that was said was in response to something said to Tarun Tejpal is important – that is the context. In the sound-byte and one-liner world, things acquire lives of their own after the words have been spoken. They acquire meanings based on the filters each one of us have in our heads. Ashis Nandy’s style is highly vulnerable to this. He is not an ‘academic’ academic. For decades, he has been an activist-intellectual for the underside, a champion of exiled sensibilities, a public speaker for what many publicly deny and privately acknowledge and I thank him for that.

Leave a comment

Filed under Acedemia, Bengal, Caste, Class, Culture, Elite, India, Knowledge, Media

A failure of imagination / A moment of Bengali glory?

[ Hindustan Times, 15 Oct 2012 ]

Sometimes moments of apparent glory also underline deeper failures. But very often the big hurrah is the last hurrah. Let me come to the point. For the first time in the post-partition Indian Union, two of the highest constitutional posts, that of the president and the chief justice of the supreme court, have Bengalee occupants. Altamas Kabir, the incumbent chief justice, is a Muslim from Bengal, hailing from one of the most elite Muslim families of the Subcontinent. If your grand-father was awarded a badge of service and loyalty by the British – a  Rai Bahadur or a Khan-Bahadur, it still matters in inexplicable and indeterminate ways, in terms of who you are, where you are and where you can get to. That there is a Bengali chief justice after more than twenty years was not greeted with much enthusiasm in Paschimbanga. There are very few Bengali Muslims from Paschimbanga who rise to such levels. Many possibly did not know he was a Bengali.  Structural disparities also colour attitudes and expectations. Kabir babu was sworn in by Shri Mukherjee. However, none of the two Bengalis are in directly elected posts. Still, this unlikely moment of crowding at the apex comes at a time when Bengal’s shadow on the subcontinent is at its shortest.

However, that is nothing to lament. There are a few good reasons why West Bengal’s shadow over the rest of the Indian Union would not be a good thing, at this point. If it looks to the east, East Bengal (whose geo-political avatar is the People’s Republic of Bangladesh) now matches if not surpasses the West in numerous indices of human well-being. When they were separated during the 2nd partition of Bengal or in the aftermath of 1971, very few would have bet that indices would turn out to be this way. But there they are.

Institutions of West Bengal, which for a long time were peerless in the subcontinent if not beyond, now stand as ghostly reminders of their former selves. In the secondary education front, the ‘Bengal board’ is one which does not regularly update itself, having been reduced to a teeming cesspool of political appointees of the CPI(M). This is something that the Trinamool looks eager to replicate. As pan-Indian boards of education start getting undue advantage due to central government policies, this process of ‘Indianization’ has been happening together with de-‘Bengalizing’ – a process whose full impact will not be evident till it is too late, a process that takes a direct stab at the plural reality of the Subcontinent. In the name of uniformity and simplicity, Bengali language is being denied its position as a medium of public life , education and commerce, under the undemocratic patronage of Hindi, a language that has decimated language diversity in the cow-belt itself. In higher education, the debt ridden state continues to pay less to its academicians vis-à-vis the central institutions, thus causing a Bengali brain-drain of epic proportions. Mukherjee and Kabir, have reached the pinnacle, outside Bengal – a point that should not be lost on the readers. Third-rate central universities pay their academicians more than Presidency University or Calcutta University – institutions that produced the pedagogical foundations of contemporary formal academics for much of the Subcontinent. Autonomy of educational institutions is still a pipe-dream in West Bengal with excellence always losing out to servility to the government of the day – the most recent example being that of the upright Chinmoy Guha, the ex-vice chancellor of Rabindra Bharati University.

In matters of  health, it is the paradise of low-grade unaccountable private health-care mafia. Its institutions of pride like the Calcutta Medical College Hospital being places where only the very poor and the helpless would go. There is a lot of medical traffic from West Bengal to Maharashtra and Tamil Nadu, a trend unthinkable a few decades ago.

Cities and towns in West Bengal are more ‘Bengali’ than ever before, indicating a loss of employment and entrepreneurial opportunities for non-Bengali migrants from Hindustan and beyond that created a semblance of a cosmopolitan culture for more than a century on the two banks of Bhagirathi-Hooghly. A union centre that discriminates has not helped matters.

On the cultural-linguistic front, excellent Bilingualism thereby which people could interpret that world of Bengali and the world made available by English, is near extinction. Anglophone elites retain nominal Bengali-ness and those whose cultural world is embedded in Bengal increasingly find themselves second class citizens in a scenario where Hindi is the language of political power and English is the language of socio-economic ascendancy. Ashok Mitra and his likes who would at ease write beautifully in both are rare, thus resulting in a collective curtailment in intellectual and interpretative space. In this context one notes the fall in the genre of translation of contemporary world classics in Bengali.

In the political sphere, but for the specific numbers in the present Lok Sabha, Bengal’s general clout has been, for decades, disproportionately small in proportion to its population in the Indian Union. The easy parallelism between ultra-centrism and the Congress system is to blame, but the long rule by the CPI(M) that pawned Bengal’s interests by not claiming the requisite pound of flesh, so that it could engage in ‘doctrinaire’ inner-party posturing has certainly assisted that. West Bengal has been one of the few regions in the Indian Union where long-dispossessed caste groups are still far from power, let alone being an effective power-brokering block as such. For all its ‘progressiveness’, post-partition West Bengal has only been able to produce Mamatas and Buddhadebs, not Mayabatis and Karunanidhis. More than anything else, this democratic deficit seriously cripples West Bengal’s potentialities. Being ruled by middle class / upper-middle class forward castes, its primary concerns are also of those groups – why Bengali IT graduates work in Bangalore and so forth. Its cultural icons are also from that small group, thus resulting in state-sponsored cretinization of the myriad cultures that constitute Bengal.

The same week when two Bengalees ‘reached the top’, a Hindi-film actor eyeing a tax break from West Bengal for a private cricket team entity he ‘owns’ and operates, produced a ‘promotional video’ as the state’s ‘brand ambassador’. Banalities about ‘mishti doi’ aside, this failure of imagination is not accidental. This is the greatest sign of decline. West Bengal has lost the confidence to look inward for inspiration and when it looks outward, it only imports kitsch.

Leave a comment

Filed under Acedemia, Bengal, Caste, Culture, Delhi Durbar, Kolkata, Language