Tag Archives: Bengal

ভারতের নতুন টাকার নোট ও হিন্দী-দিল্লী আধিপত্যবাদ

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোট চালু পরপরেই এই নতুন নোটের নানা বৈশিষ্টকে বেআইনি বলে অভিযোগ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্টে। বিচারপতি সে মামলা গ্রহণ করেছেন এবং প্রাথমিক শুনানিতে সরকারপক্ষের এই বক্তব্য যে দেবনাগরীতে সংখ্যা আসলে সংখ্যা নয়, নকশা মাত্র, এ হেন সাফাইতে  সন্তুষ্ট হননি। সরকারপক্ষ আরো সময় চেয়েছে। আগের ৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ফলে যে রাষ্ট্রব্যাপী ব্যাপক আর্থিক অস্থিতি তৈরী হয়েছে, এই নতুন নোট আস্তে আস্তে তা সামলাবে। অথচ এই নতুন নোটের ডিজাইনের মধ্যে নিহিত রয়েছে এমন কয়েকটি জিনিস, তা এই ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক  জাতিসমূহের মধ্যে যে মৌলিক বোঝাপড়া, তাকে পদদলিত করে। এই নতুন নোটে অগ্রাধিকার পেয়েছে ৩টি জিনিস – হিন্দি, দিল্লি ও মোদী।

নতুন নোটগুলিতে সংখ্যা বড় করে ছাপা হয়েছে হিন্দির সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রচারিত লিপি দেবনাগরিতে। আগের নোট সংখ্যা দেবনাগরীতে ছিল না। নতুন দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকার কি মনে করে যে হিন্দিভাষীরই একমাত্র মাতৃভাষায় নোটের সংখ্যা পড়ার অধিকার আছে, আর অহিন্দীভাষীদের নেই? টাকার নোটে কোন লিপিতে সংখ্যা থাকবে, তা নির্ধারণ করে সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশাবলী। সংবিধানের ৩৪৩ নং ধারায় পরিষ্কার ভাবে বলা আছে যে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের যে কোন সরকারী (অফিসিয়াল ) কাজে ব্যবহার করতে হবে আন্তর্জাতিক সংখ্যালিপি। যার মানে হলো “ইংরেজি”তে আরবি-হিন্দু সংখ্যা। অর্থাৎ 1,2,3 ইত্যাদি। এতদিন তাই  হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক লিপি ছাড়াও নোটের ব্যাপারে দেবনাগরী লিপিতে সংখ্যা ছাপা যাবে, এই মর্মে কোন রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকা বা সাংবিধানিক বিধান নেই। ১৯৬০-এর রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকায় বলা আছে যে দেবনাগরী লিপির সংখ্যা শুধু সেই কেন্দ্রীয় সরকারী প্রকাশনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যে ক্ষেত্রে জনতার যে অংশের জন্য এই প্রকাশনা, তার জন্য এটি জরুরি। প্রথমতঃ, টাকার নোট কোন কেন্দ্রীয় সরকারী “প্রকাশনা” নয়। ফলে এই নির্দেশিকা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর দ্বিতীয়তঃ, টাকার নোটে ছাপা তথ্য কি শুধু হিন্দিভাষীদের জন্য? বাকিরা কি বানের জলে ভেসে এসছে? এই সকল ধারণার একটা মিথ্যা উত্তর মজুত থাকে।  সেটা হলো হিন্দী হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা। এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ও বেসরকারি কায়েমী স্বার্থান্বেষী চক্র গত ৭০ বছর ধরে এই মিথ্যা প্রচার করে চলেছেন।  ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা ধারণাটিরই কোন স্থান নেই। ভারতের কোন রাষ্ট্রভাষা নেই। গুজরাট হাইকোর্ট তার বিখ্যাত রায়তে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে অহিন্দী রাজ্যে, হিন্দী বিদেশী ভাষার সমতুল্য।

ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন নামক সংঘরাষ্ট্রে অহিন্দীভাষী জাতিসমূহ যে চুক্তির দ্বারা হিন্দীভাষী জাতির সাথে আবদ্ধ, তার নাম দিল্লীতে ক্ষমতাধারী পার্টির হিন্দীকরণের ম্যানিফেস্টো নয়। তার নাম সংবিধান। টাকার নোটে এই সংবিধানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো প্রকারান্তরে ইন্ডিয়ান উনিয়নের ঐক্যের উপর আঘাত হানা। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে যে রাজনৈতিক আদর্শ মানুষে মানুষে ভাষার প্রশ্নে বৈষম্য ঘটায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিককে ভাষার প্রশ্নে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করে, তা কোন বহুভাষী রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণময় নয়। এ ব্যাপারে হাতের কাছে ১৯৭১-পূর্ব্ববর্তী পাকিস্তান এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

যদি শাসকেরা চাইতেন যে ইংরেজি ছাড়াও মানুষের অন্যান্য ভাষায় সংখ্যাগুলি পঠিত হওয়া জরুরি, তার দুটি সহজ উপায় ছিল। এক, টাকার নোট যেহেতু প্রচার বা স্তুতির স্থান নয়, বরং একটি নিত্য ব্যবহারিক বস্তু, তাই টাকার বিনিময় কার্য্যের সাথে অপ্রাসঙ্গিক অন্যান্য ছবি ও নকশা তুলে নিয়ে অনেকগুলি ভাষার লিপিতে একই সাইজে সংখ্যা দেওয়া যেতো। দুই, ইউরো মডেল নেওয়া যেতো।  সে ক্ষেত্রে, ভাষিক জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত নগদের সমানুপাতিক হারে নানা সিরিজের নোট ছাপা যায়, যেখানে ইংরেজি সংখ্যার সাথে কিছু শতাংশ নোটে সংখ্যা থাকবে বাংলায়, কিছু শতাংশে দেবনাগরীতে, কিছু শতাংশ তামিলে, ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যের কথা এই যে যখন এই উপমহাদেশ ফিরিঙ্গী শাসনাধীন ছিল, তখন কিন্তু এই এলাকায় চালু টাকার নোটে ৯টি লিপিতে সংখ্যা (ইংরেজি সমেত) একই সাইজে দেওয়া থাকতো। ১৯১০ খ্রীষ্টাব্দের ১০ টাকার নোট দ্রষ্টব্য। একই সাথে একই সাইজে থাকতো নানা ভাষায় টাকার অঙ্কটি অক্ষরে লেখা – যথা বাংলায় দশ টাকা। বহু ভাষাকে সমমর্যাদা দেবার ব্যাপারটির ইতি ঘটে ১৯৪৭-এ ইন্ডিয়া রাষ্ট্র গঠিত হবার সাথে।  তবে থেকে হিন্দি তথা দেবনাগরী পরিণত হয় তথ্য দেবার জন্য বড় আকারে। অন্যান্য ভাষা পর্যবসিত হয় পিছনদিকের এক ছোট প্যানেলে গাদাগাদি করে ক্ষুদ্র আকারে, বৈচিত্রের পরাকাষ্ঠা হিসেবে। ১৯৪৭এর পর থেকেই ক্রমাগত টাকার নোটে হিন্দীর মোট এলাকার তুলনায় ইংরেজি ব্যতীত অহিন্দী ভাষাসমূহের মোট ছাপা এলাকা কমেছে বিরাটভাবে। ঔপনিবেশিক শাসনের তুলনায় টাকার নোটের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষিক জাতীয়তাগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য যে ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন রাষ্ট্রে লঙ্ঘিত হয়েছে, তা শুধু লজ্জার বিষয় নয়, চিন্তারও বিষয়। অহিন্দী ভাষাগুলির এই প্রান্তিকায়ন আকস্মিক নয়, প্রকট ভাবে পরিকল্পিত কেন্দ্রীকরণ-মূলক রাষ্ট্রনীতিরই অঙ্গ। ১০% তামিল আর ৭৫% চৈনিক জনগোষ্ঠীর সিঙ্গাপুর তাদের টাকার নোট তামিল, চীনা ও ইংরেজিতে একই সাইজের অক্ষরে নোটের অঙ্ক ছাপে। আসলে সমতা হোক বা বৈষম্য, ইচ্ছা ও নীতিটা আসল। নোট তারই বহিঃপ্রকাশ।

নতুন নোটে রয়েছে দেবনাগরী “র” অক্ষর সম্বলিত নতুন টাকার আইকন। এই আইকন বাছাইকালে কোন জনমত যাচাই হয়নি। আমার ভাষা বাংলা তথা অসমীয়াতে টাকা শব্দ যে অক্ষর দিয়ে শুরু, তা হলো “ট”, হিন্দীর রুপিয়ার “র” নয় । যদি আজ “র” এর জায়গায় সকল নোটে “ট” সম্বলিত আইকন ব্যবহার হতো, তাহলে হিন্দিভাষীরা কি মনে করতেন? তারা ছেড়ে দিতেন? আসলে হিন্দী আধিপত্যবাদের এই রাষ্ট্রে এই “ট” আইকন কল্পনা করাও শক্ত। পরিকল্পিত ভাবে অহিন্দীদেড় প্রান্তিক করে দেবার যে নানা প্রকল্প চালু হয়েছে, তা এখন টাকার নোটেও ঢুকে গেলো আরো জোরালো ভাবে।

কেউ বলতে পারেন, তাহলে ইংরেজিই বা এতো পবিত্র কেন? হিন্দী হলেই যত অসুবিধে? হিন্দী তো অন্ততঃ বিদেশী নয়। এ প্রসঙ্গে ফের মনে করাতে চাই, যে হ্যাঁ ইংরেজি বিদেশী ভাষা, এবং অহিন্দী মানুষের কাছে হিন্দীও বিদেশী ভাষাই। পূর্বোল্লোখিত গুজরাট হাই কোর্টের রায় সেটা পরিষ্কার করে দেয়। আমরা যেন দেশ ও রাষ্ট্র, এই ভিন্ন দুটি ধারণাকে এক না করে ফেলি। অবশ্যই, সকল ভাষার সমান অধিকারই আদর্শ উপায়।  তার ব্যতিরেকে কেন ইংরেজি, সে নিয়ে প্রবাদপ্রতিম গণনেতা তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী আন্নাদুরাই-এর মন্তব্য স্মর্তব্য। তিনি বলেছিলেন, ইন্ডিয়ান উনিয়নের মতো একটি বহুভাষিক সংঘরাষ্ট্রে প্রতিটি ভাষিক জাতীয়তাকে সুবিধা ও অসুবিধা সমান ভাবে ভাগ করে নিতে হবে। তবেই ঐক্য সাধিত হবে। ইংরেজি হলো এই ভাষিক জাতীয়তাগুলি থেকে সমদূরত্বে। এটাই ইংরেজির সুবিধে।  আরেকটি সত্য হলো যে ভারত নামক রাষ্ট্র কল্পিত হয়েছিল ইংরেজিতে – নানা জায়গার উচ্চবর্গের মানুষের মূলতঃ ইংরেজিতে ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে। আজও তা সত্য। এটা অবশ্যই ভারত কল্পনায় উচ্চবর্গের বিশেষ স্বার্থ ও প্রাধান্যকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়, কিন্তু তা আজকেও সত্য এবং বাস্তব।  ইংরেজি না থাকলে নানা ভাষী শাসক গোষ্ঠীর কোন মেলবন্ধন নেই।

এই নোটে রয়েছে আরো নানা সমস্যা। সংবিধানের অষ্টম তফসিলে গত কয়েক বছরে অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু ভাষা, যেগুলির নিজস্ব লিপি আছে, যেমন মনিপুরের মেইটেইলোন, সাঁওতালি (অলচিকি যার লিপি), সেগুলি নোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০ হাজারেরও কম মানুষের ভাষা সংস্কৃত রয়েছে নোটে কিন্তু ৭০ লক্ষাধিক মানুষের মাতৃভাষা সাঁওতালি নেই, এ কেমন পরিহাস?

অথচ নতুন করে যখন নোট ছাপা হলো, সেই সুযোগ তো ছিল। ফের, প্রশ্নটা সদিচ্ছার ও সমতার, যে সমতার আদর্শকে গলা টিপে মারে ক্ষমতা। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক বৈচিত্রকে নতুন দিল্লী একটি নিরাপত্তা ও ঐক্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। এই ভাষ্যে, হিন্দি ছাড়া সবকিছুই গোলমালের, অনৈক্যের প্রতীক, আর হিন্দী হলো ঐক্যের প্রতীক। এই প্রায় সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যকামী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায় যখন সরকারি ভাষার প্রচার ও প্রসার তথা অন্যান্য ভাষার স্বীকৃতি দেবার বিষয়টি দেখাশুনো করে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রকের অধীন একটি দপ্তর। নতুন দিল্লি নতুন নিয়ম চালু করেছে যে নিজস্ব লিপিহীন নতুন ভাষাগুলিকে সরকারি পঞ্জীকরণ ও স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য সেই ভাষা লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরী লিপি আবশ্যিক ভাবে মেনে নিতে হবে।  এখানে সেই ভাষার মানুষ তথা বিদ্দ্বদজনদেড় মতামত গুরুত্বহীন। এই ব্যবস্থার এক বলি হলো বোড়ো ভাষা, যেটির আবাদভূমি কোন হিন্দিভাষী এলাকার সংলগ্ন নয়। বোড়ো  লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে নতুন দিল্লীর আদেশে।  এর আগে মোহনদাস গান্ধীর ছবি দিয়ে টাকার নোটের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার রাজনীতিকরণ করা শুরু হয়েছিল। টাকায় এইবার বিজেপি সরকারের “স্বচ্ছ ভারত” প্রকল্পের বিজ্ঞাপন হিন্দিতে ছেপে টাকার নোটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে অন্য স্তরে নিয়ে গেলো। এর ফলে এবার থেকে টাকার নোট হয়ে উঠবে নিজ প্রবর্তিত সরকারি প্রকল্প বিজ্ঞাপনের এক নতুন ক্যানভাস। একটু একটু করে গণতন্ত্রের মৌলিক নিরপেক্ষতার কাঠামোটি ধ্বংস প্রাপ্ত হচ্ছে।

পুরানো নোটগুলিতে স্থান-ভিত্তিক রাজনৈতিক সিম্বল জায়গা পায়নি ৫০ টাকার নোট সংসদ ভবন ছাড়া। এই সংসদ ভবন সকল নাগরিকের প্রতীক।  অথচ আমরা দেখছি যে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোটে বিরাজ করছে লাল কেল্লার ছবি। এই লাল কেল্লার স্মৃতি ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের সকল জাতির কাছে সুখকর নয়। লাল কেল্লা ছিল দিল্লী-কেন্দ্রিক মোঘল সাম্রাজ্যের সদর দফতর। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্র মোঘল সাম্রাজ্যের উত্তরাধীকারী কোন রাষ্ট্র নয়।  এটি ১৯৪৭-এ সৃষ্ট। দিল্লী-কেন্দ্রিক যে সাম্রাজ্য বাঙালি, অহমিয়া, ওড়িয়া ইত্যাদি নানা স্বাধীন এলাকা দখল করেছিল, লাল কেল্লা সেই স্বাধীনতা হরণের প্রতীক। মূলতঃ হিন্দী-উর্দু ভাষী লোক-লস্কর এই দখলকৃত এলাকায় বসিয়ে তারা এই দেশগুলিকে শাসন করতো। সেই কাটা ঘায়ে লাল কেল্লার নুনের ছিটে দিয়ে আজকের নতুন দিল্লীর সরকার কি প্রমাণ করতে চায়?

৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ঘোষণাটি যখন নরেন্দ্র মোদী দিলেন হিন্দি ও ইংরেজি, ইংরেজির সময়ে পর্দায় ফুটে উঠলো হিন্দি অনুবাদ। কলকাতা দূরদর্শন কেন্দ্রকে বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয়নি, চেন্নাইকে দেওয়া হয়নি তামিল। তাই বাকি অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাগ্যে বরাদ্দ হয়েছে অন্যের থেকে শোনা কথা, গুজব ও বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম। রাষ্ট্র সবার। এবং সবাইকে তাদের ভাষায় জানানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই মৌলিক নীতির লঙ্ঘন জলভাতে পরিণত হয়েছে। এদিকে অহিন্দিভাষী অঞ্চলে ভোট চাইতে যাবার সময়ে কিন্তু বিজেপি সেই ভাষাতে পোস্টার-ফ্লেক্স দিতে ভোলে না। ক্ষমতার যত কেন্দ্রীকরণ হবে, ততো বেশি বেশি করে আরো বেশি মানুষ প্রান্তিক হবেন।নাগরিকের দায়িত্ব নয় নিজেকে বদলে রাষ্ট্রের উপযোগী হয়ে ওঠা।  কল্যাণকামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার পরিষেবার ক্ষেত্রে ও অন্য সকল ক্ষেত্রে নাগরিকসমূহের ভিন্নতার বাস্তবতা মাথায় রেখে সেই ভিন্নতাকে ধারণ করার উপযোগী হয়ে ওঠা।  যেন এরই রূপক হিসেবে দেখা গেল যে নতুন নোট চলতি এটিএম মেশিনগুলিকে না আঁটার ঘটনা। হাজারে হাজারে এটিএম মেশিন নতুন নোট অনুযায়ী বদলাতে হলো। বদলে চলতি এটিএম মেশিন অনুযায়ী নতুন নোট বানালে হতো না?

4 Comments

Filed under বাংলা, Colony, Federalism, Hindustan, Identity, India, Language, Nation, Uncategorized

রোহিত ভেমুলা ও ঘরের কাছের অন্ধকার

১৬ জানুয়ারী ২০১৬ অর্থাৎ যেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  ঘোষণা করলেন যে ২৫ কোটি টাকা অবধি দরের ‘স্টার্ট-আপ’ কোম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করলে ৩ বছর আয়কর দিতে হবে না, শ্রমিক অধিকার ও ভাতা ঠিকঠাক দেওয়া হচ্ছে কিনা, পরিবেশ দুষিত করা হচ্ছে কিনা, এসবের কোন কিছুরই সরকার ৩ বছর অবধি পর্যবেক্ষণ পর্যবেক্ষণ করবে না, ঠিক তার পরের দিন,  গত রবিবার একজন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। এরম আত্মহত্যা তো কতজন করেই থাকে, কতরকম কি হয় আজকাল – প্রেমঘটিত, অবসাদ, ‘ড্রাগস’। একজন পিএইচডি গবেষণারত ছাত্র আত্মহত্যা করেছে।  সে ক্ষেত্রে আবার যোগ হতে পারে ‘স্ট্রেস’। কিনতু তারপর যদি বলি গ্রামের ছেলে, ইংরেজি মিডিয়াম নয়, দলিত – এমন একজন আমার-আপনার শহরের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দু-চোখ জোড়া স্বপ্ন নিয়ে এসে আত্মহত্যা করেছে, তখুনো আমরা একটু হাতরাবো একটু ‘স্ট্রেস’, একটু প্রেম, একটু ‘ড্রাগস’। কিনতু তারপর যদি আরো বলি যে তার বৃত্তির টাকা পাঠাত সে বাড়িতে, তা দিয়ে তার বিধবা মায়ের চলত, তখন হয়ত ‘ড্রাগস’টা বাদ পড়বে। তারও পরে যদি বলি যে সে স্বাভিমান নিয়ে প্রকাশ্যেই বলত যে সে বাবাসাহেব আম্বেদকরের  আদর্শে বিশ্বাসী, সে মৃত্যুদন্ড বিরোধী – তা সে ইয়াকুব মেমনেরই হোক বা কাশ্মীরে কুনান-পোসপোড়ায় কাশ্মীরি নারীদের গণ-ধর্ষণ করা সৈন্যদেরই হোক (পরের মৃত্যুদন্ডটা হয়নি, কোন দন্ডই হয়নি) এবং সে কারণে সে ছিল আমার-আপনার রাষ্ট্রের ঠিকাদারী নেওয়া বিজেপি দলের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির চক্ষুশূল, তালে হয়ত বলবেন ব্যাপারটি ‘গোলমেলে’। এবং আরো যদি বলি যে মৃত্যুদন্ডের বিরোধীতা করে মিছিল বার করার জন্য বিজেপির এক সাংসদের অঙ্গুলিহেলনে নতুন  দিল্লীর হুকুমে জো-হুজুরি করা এক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য্য তাকে ছাত্রাবাস থেকে বহিস্কার করে।  যদি বলি যে তার সেই বৃত্তির টাকা, তার হকের টাকা সে পায়নি বেশ কয়েক মাস? যদি এটাও বলি যে তাকে দলিত বলে সামাজিক বয়কটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল নতুন দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের এদেশে চলা হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে? আর কি কি তথ্য লাগবে, সত্যের আর কত পরত ছাড়াতে হবে এইটা বুঝতে যে হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানে পিএইচডি-রত ছাত্র রোহিত ভেমুলার মৃত্যু স্থুলভাবে একটি আত্মহত্যা হলেও একটি অন্য সর্বার্থেই একটি রাজনৈতিক হত্যা?

এই রাজনৈতিক হত্যা কে করেছে, তার একটা সহজ এবং চালক- দায়সারা উত্তর হয়।  সেটা হলো ‘সমাজ’। কিন্নতু  তাকে কি দলিত সমাজ মেরেছে? তাকে কি হিন্দু সমাজ মেরেছে? তাকে কি মোসলমান সমাজ মেরেছে? তাকে কি উচ্চ-বর্ণের হিন্দু সমাজ মেরেছে? বৈষম্যের পৃথিবীতে সমাজ বলে কিছু হয়না, বৈষম্যের টানাপোড়েনে, ঘাত-প্রতিঘাতে লিপ্ত থাকে নানা গোষ্ঠী, নানা সমাজ। বৈষম্যের কারণে এই বিভক্তি আবার এই বিভক্তিই হলো শক্তি। কারণ বহির্শত্রু নিপীড়ক গোষ্ঠীর বিরুধ্যে আত্মশক্তিকে সংগঠিত করার জন্য দরকার আভ্যন্তরীন ঐক্য। আর নিপিরিতের এই নিজে নিজে গোষ্ঠী তৈরী করে নিপীড়ক-কে মোকাবিলা করার প্রয়াসের বিরুধ্যে নানা পাল্টা চেষ্টা চলে, চেষ্টা চলে বৈষম্যগুলিকে বাদ দিয়ে নিপীড়কের ধান্দা অনুযায়ী বিশাল একতার দোকান খোলা, এমন দোকান যার প্রধান মালিক হবে নিপীড়ক, অংশ-মালিক হবে নিপীড়িতের মধ্যে থেকে তৈরী করা দালাল আর লাভের গুড় খাওয়া হবে সকল মানুষের ঐক্যের নাম।  নিপীড়কের ঐক্যের নানা দোকান আছে – সেসব দোকানের নানারকম নাম আছে – যেমন হিন্দুত্ব, ইসলাম, ভারত, ইন্ডিয়া, সমাজ, সুশীল, ইত্যাদি। রোহিত ভেমুলা এইসব স্বপ্ন দেখত এইসব দোকান ভেঙ্গে একদিন খোলা মাঠে মানুষের হাট-বাজার তৈরী হবে।

আমরা বঙ্গবাসী। রোহিত থাকত দূরে। সেই দূর থেকে তার বন্ধুরা জানিয়েছে যে দলিত বলে, তেলুগু মাধ্যমে পড়াশুনো করে উচ্চ-শিক্ষার স্বপ্ন দ্যাখার ধৃষ্টতা দ্যাখানোর জন্যে রোহিতকে এবং তার বন্ধুদের শুনতে হতো টিপ্পনি , হাসাহাসি করা হত মফঃস্বল গুনটুরের গন্ধ গায়ে লেগে থাকা স্বপ্নালু মানুষগুলিকে নিয়ে। আজকে চুনি কোটালের মৃত্যুর প্রায় ২৪ বছর পরে আমরা এমন এক শিক্ষা-

সংস্কৃতি তৈরী করেছি যেখানে মেডিকেল কলেজগুলিতে শহুরে আইসিএসই-সিবিএসইর রমরমা (যদিও পশ্চিমবাংলার ১০% ছাত্রছাত্রীও এইসব বোর্ডে পড়ে না), উত্কর্ষ-কেন্দ্র প্রেসিডেন্সিতে নানা বিষয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা যাতে বাংলায় না হয়, তার পাঁয়তাড়া করা হয় এই বাংলার মাটিতে থেকে, বসে, খেয়ে মোটা হওয়া একধরনের আরকাঠি  গোষ্ঠীর চক্রান্তে, যাদবপুরের তথাকথিত ‘কুল’ বিভাগগুলি থেকে বাংলায় কথা বলাদের পরিকল্পিত ভাবে হতে হয় হীনমন্যতার স্বীকার, সেখানকার  ইতিহাস বিভাগে বাংলায় স্নাতকোত্তর স্তরের উত্তর লেখার জন্য লাঞ্চিত হতে হয় প্রতিবন্ধী ছাত্র রামতনুকে, অন্য সময়ে ভুলে যাওয়া দিনে এই রকম-ভাবেই বাংলায় লেখার জন্য হেনস্থা হতে হতে আত্মহত্যা করেছিল যাদবপুরের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী পৌলমী সাহা। এই বাংলা বাংলা করলাম এতক্ষণ কারণ বৈষম্যের জন্য  বাংলা একটা উছিলা মাত্র। বাংলা মানে শহর কম মফঃস্বল বেশি গ্রাম আরো বেশি, বাংলা মানে বড়লোক কম গরীব বেশি, বাংলা মানে হাতখরচা কম টিউশনি বেশি, বাংলা মানে গাড়ি কম সাইকেল বেশি – অর্থাৎ বাংলা মানে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ যাকে জোর করে হারিয়ে দেবার চক্রান্ত চলছে আমাদের এই বাংলাদেশে। প্রেসিডেন্সি যত বাংলা-বিরোধী শহুরে-ইংরেজদের আখড়ায় পরিণত হবে, ততবেশী অসবর্ণ  অধ্যাপক  মহিতোষ মন্ডল লাঞ্ছিত হবেন এই-সকল ‘সুপার-কুল’ পোস্টমডার্ন আখড়ায়। মেডিকেল কলেজগুলি তত বেশি করে গুরগাঁও, নয়ডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার ডাক্তার তৈরীর কারখানা হবে। বাংলার গণ-মানুষকে, অন্তজ জনতাকে  জোর করিয়ে হারিয়ে দেবার এই চক্রান্ত বন্ধ হওয়া দরকার। দরকার জনসংখ্যার অনুপাতে সর্বস্তরে সংরক্ষণ। দরকার বিরাট একতার বুটিক দোকান ভেঙ্গে হাট-বাজারের দাপাদাপি। রোহিত ভেমুলার  সুইসাইড নোটটি ইন্টারনেট-এ পাবেন। সেটিকে পড়ুন। বামুন-কায়েত বিপ্লবী আর রেডিকেল-দের অপরাধ-বিলাসের জন্য চে গেভারার মৃত্যু অবধি যেতে হবে না। রোহিত ভেমুলার মৃত্যু আমাদের অন্তরের অন্ধকারগুলিকে  প্রকাশ্যে আনতে সাহায্য করুক।                                        

6 Comments

Filed under Acedemia, বাংলা, Bengal, Caste, Community, Elite, Our underbellies, Scars, Science, Under the skin, Urbanity

এই বাংলায় মায়ের দুটি পা, গরুর চারটে

অনেকে হয়তো এই লেখাটি সকালে কাজে যেতে যেতে বাসে-ট্রামে-ট্রেনে-মেট্রোতে পড়বেন। কেউ হয়ত পড়বেন সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরে, চান করে খাওয়ার টেবিলে। ভেবে দেখুন, খেতে বসেছেন। ফ্রীজে একটু মাংস রাখা আছে।  কাল বা পরশু রাঁধা হবে।  স্ত্রী খাবার বারছেন। বুড়া বাপ সোফায় বসে।  হঠাত শতশত লোক এসে আপনাকে, আপনার বাবাকে টেনে নিয়ে গেল। হঠাতই। তারপর অনেকে মিলে আপনাকে আধমরা করলো, আপনার বাবাকে মেরেই ফেলল।  তারপর চলে গেল। আপনার দুনিয়াটা শেষ হয়ে গেল। কারণ আপনার ফ্রিজে রাখা প্যাকেটে সেই মাংস এই খুনীদের, এই পাপীদের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাত করেছে। উত্তর প্রদেশের দাদরিতে ঠিক এই ঘটনাটাই ঘটেছে।  মহম্মদ আখলাক খুন হয়েছেন। তার লাশের মাংসের চেয়ে তার ফ্রীজের মাংসকে শনাক্ত করতে যে পাপিষ্ঠদের বেশি মাথাব্যথা, তাদেরই গুরু-ভাইরা দিল্লির মাধ্যমে এই বাংলাকেও শাসান এবং কোন একদিন শাসন করার স্বপ্ন দ্যাখেন। দাদরি কোথায় জানেন? নয়ডা-তে।  সেই নয়ডা যেখানে আপনার ছেলে-মেয়েকে আপনি পাঠাতে উত্সুক, যাতে তারা ‘আরো বড়’ হয়। এইটা হলো নয়ডা। শিকড়হীন যুবসমাজের ঝিনচ্যাক আর গরুর জন্য মানুষ খুন, এই নিয়ে সেখানকার সংস্কৃতি। ভাগ্যিস ‘আরো বড়’ হইনি, রয়েছি বঙ্গবাসী হয়ে, নয়ডাবাসী হইনি।

বিহারের মানুষের বড়ই দুর্ভাগ্য।  একটা নির্বাচন যেটা কিনা তাদের সামনে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-নারী অধিকার-জাত ভিত্তিক বৈষম্য এবং আরো কত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হবার সুযোগ এনে দিয়েছিল, কিছু ঘৃণার কারবারী সেই নির্বাচনকে গরু-কেন্দ্রিক নির্বাচনে পরিনত করতে চায় জনগণকে ভ্যাড়া বানিয়ে। আর বাকি রাজ্যেও তারা ঢোকাতে চায় গরুর পাল, চালাতে চায় গরুর হাড়-শিং-মাংস নিয়ে ফেইসবুক, এসএমএস, হওয়াট্সয়াপের ছবি ও ঘৃণা  চালাচালির রাজনীতি। যে সময়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আয়ের দিক থেকে সামান্য এগিয়ে থাকা আফ্রিকা মহাদেশের সাথে মহাসমেল্লনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আয়ের দিক থেকে আফ্রিকার থেকেও গড়ে পিছিয়ে থাকা ভারতীয় সংঘরাষ্ট্র গরীব জনতার টাকায় সস্তা বারফাট্টাই করে আফ্রিকাকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ‘সাহায্য’ করার নানা চুক্তি করে, একই সময়ে আমাদের এই পোড়ার রাষ্ট্রে আত্মহত্যারত কৃষক, বেকার যুবক, ক্ষুধার্ত মা, রোগাক্রান্ত দাদু ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সামনে হাজির করা হচ্ছে তাদের সব সমস্যার এক দাওয়াই – গরুকে মা রূপে পুজো করা। আমরা যারা রোজ পেট পুরে খেতে পাই, যাদের আয় করার মোটামুটি একটা নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা আছে, তাদের একটা দায় আছে এই ষড়যন্ত্রের আগুনে হাওয়া না দেবার। বিজয়া দশমী সবে গেল।  সামনে কালী পুজো আসছে। তার মাঝে মানুষের জীবনের ইস্যুগুলিকে তুচ্ছ করে গরু, গরু করা একটা পাপ। আমরা বাঙ্গালী। মা দূর্গা আমাদের মা। মা দূর্গা আমাদের দ্যাখেন  এবং তিনি সব কিছুই দ্যাখেন। হিন্দুস্তানি এলাকায় গরু নিয়ে রাজনীতি দেখে এখানে কিছু লোকের মনে কি কি ফন্দি মাথায় আসছে, তিনি সেটাও দেখছেন। তিনি আমাদের হাড়ে হাড়ে চেনেন। আমাদের একটু সাবধান হওয়া উচিত। পাপ-পূণ্য বলে একটা ব্যাপার আছে – যেটা গরু-ভ্যাড়া-ছাগলের-শুয়োরের অনেক উপরে।

আমরা বঙ্গবাসী।  আমরা মাকে মা বলে জানি আর গরুকে গরু বলে জানি।  আমার মায়ের দুটো পা। গরুর চারটে পা। দুটো যাতে গুলিয়ে না ফেলি, এবং দুনিয়াকে চেনার সঠিক শিক্ষা পাই, তার জন্য আমার মা ও ঠাকুমা ছোটবেলায় আমাকে অনেকবার ‘আস্ত একটা গরু’ বলে বকাবকি করেছেন, উচিত শিক্ষা দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ‘শুয়ার’ বলে গালি দিয়েছেন আমাকে আমার মা।  সেই শিক্ষায় আমরা মানুষ হয়েছি। যে মা আমাকে ‘গরু’ বলে গালি দিয়ে শিক্ষা দিত, আজ কারুর প্ররোচনায় যদি গরুকে মা বলে ডাক দিই, তাহলে আমাদের মায়ের শিক্ষা ব্যর্থ। বাংলা মায়ের অযোগ্য সন্তান হবার শখ আমার নেই। আজ বাইরে থেকে নানা তত্ত্ব আমদানি করে বাঙ্গালীকে কেউ কেউ মাকে ও গরুকে নতুন করে চেনানোর ঠিকাদারী নিয়ে বাংলায় ঘনঘন যাতাওয়াত করছে। এদের যাতাওয়াতের খাই-খরচা দিয়ে বাংলার মাটিতে বসেই ১৯৪৩-র মন্বন্তরে অশুভলাভ করা গণশত্রু  মজুতদারের নাতি-পুতিরা আরেকটা মহামৃত্যু ঘটানোর ফন্দি আটছে আরো বড় মুনাফার জন্য। তারা দিল্লীর সাথে ষড়যন্ত্র করে এককালে  বাংলা ভাগ করেছে, কলকাতাকে নিংড়ে নিয়েছে, তারা রক্ত শুষেছে বাংলার মানুষের, কিন্তু তাদের রক্তের খাই মেটে নাই। পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ানক হলো অহিংসার কীর্তন করা মানুষের চোরাগোপ্তা সহিংসতা। জল বেশি দূর গড়ানোর আগেই এই খেলার নেপথ্য খেলোয়ারদের জার্সির রং, ক্লাবের তাঁবুর ঠিকানা, সব চিনে নেওয়া প্রয়োজন।  বাংলার স্বার্থে। শান্তি-রক্ষার স্বার্থে। মানবতার স্বার্থে।

বাংলার বাইরে অর্থাৎ  মুম্বই, গুরগাঁও, ছত্তিসগড়, রাজস্থান ইত্যাদি নানা জায়গায় সম্প্রতি গরু পেরিয়ে ভ্যাড়া, ছাগল ও মুরগির দিকেও হাত পড়েছে ধর্মের দোহাই দিয়ে। আমি শাক্ত, আমার চৌদ্দ পুরুষ শাক্ত, আমরা কালিঘাটে পাঠা বলি দিই মাকে তুষ্ট করতে, সেই বলির মাংস আমাদের কাছে  মায়ের প্রসাদ। সেই প্রসাদকে যারা হেয় করে, ঘেন্না করে, সেটাকে নিষিদ্ধ করে ধর্মের দোহাই দিয়ে, তাদের ধর্ম আমাদের নয়। সে ধর্মের প্রভাব থেকে মা কালী আমাদের রক্ষা করে আসছেন, করে যাবেন।  মা কালীর বাংলায় আমাদের যারা নিরামিষাশী গরু-ছাগল বানাতে চায়, তাদের ঠাঁই নাই। আজ কলকাতা শহরের বেসরকারী হাসপাতালে মুমূর্ষু রুগীকে নিরামিষ খেতে দেওয়া হয় মালিকের ধর্মীয় ‘অনুভূতি’ অনুযায়ী, চিকিত্সাবিজ্ঞানে কিছু ক্ষেত্রে আমিষ-প্রোটিন পথ্য বলে দেওয়া সত্ত্বেও।  আমাদের অজান্তেই আমাদের ঘর বেদখল হয়ে যাচ্ছে না তো ? এরা গরুতে থামবে না, এরা ছাগলে থামবে না, এরা সুজলা সুফলা বাংলাকে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান বানিয়ে তবে থামবে। শুয়োর-গরু-ছাগলের পাল যদি আমাদের এই বাংলার সোনালী-সবুজ ক্ষেতে ঢুকে শত শত বছর ধরে মানুষের রক্তে-ঘামে-ভালবাসায়-বোধে-বিশ্বাসে তৈরী করা সহাবস্থানের ফসল ধ্বংস করতে চায়, তাহলে মা কালিকে সাক্ষী রেখে কালিপটকার চেইন বাঁধা দরকার।  সে কালী পটকার চেইন লাগিয়ে দেওয়া দরকার বহির্শত্রুর ল্যাজে। তারপর আলতো করতে একটু আগুন জ্বালালেই পাপাত্মা থেকে মুক্তি। ব্যাপারটা সিরিয়াস। অনেককালের, অনেক যুগের, অনেক সিঞ্চনের, অনেক প্রেমের ফসল এই বাংলার মাটি। এই মাটিতে আমরা খাল কেটে কুমির ডাকবো নাকি এ মাটির ফসল লালন করব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বঙ্গবাসীর জন্য, সিদ্ধান্তটা আমাদের। ব্যক্তিগত ভাবে সিদ্ধান্তটা আমি নিয়ে ফেলেছি। তাই ঘরে কালিপটকা মজুত রেখেছি জন্ম থেকেই।  আসলে ওই মজুত করা কালী-পটকা আমি কিনিনি।  কিনেছিল আমার পূর্বপুরুষেরা। অনেক শতক আগে।  সেই থেকে ঘরে আছে। মাঝে মাঝে ওগুলোকে ছাদে উঠে রোদে তা দেওয়াই। কে জানে কখন কাজে লাগে। মা দুর্গাকে প্রার্থনা করি যেন কখুনো কাজে না লাগে, কিন্তু হিন্দুস্তানি এলাকার হল-হকিকত দ্যাখে আজকাল একটু ঘনঘনই ছাদে উঠি। রোদে তা দিই এবং মেঘের রং দেখি। আমরা ঘরপোড়া। অনেকের সিঁথির সিঁদুর উজাড় হয়েছে, অনেকের সম্ভ্রম লুন্ঠিত হয়েছে, অনেকের জান-মাল নষ্ট হয়েছে, ভিটামাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ১৯৪৭-এর আগেকার গরু-ভ্যাড়ার রাজনীতিতে। পূর্ব্ববঙ্গে সে রাজনীতি ধিকিধিকি আজও চলছে। ভিটা ছেড়ে তারা আজও আসছে এই বাংলায়। এই বাংলা যে সে মাটি নয়। আমাদের একটা দায়িত্ব আছে। রোগ না ছড়ানোর। রোগ সারানোর। মা কালী সকলের মঙ্গল করুন।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Kolkata, Religion

ভাষা, আত্মসম্মান ও অধিকার – পা চাটতে লাগে শুধু জিভ

পুরো দুনিয়া জুড়ে ব্যবসার একটা প্রাথমিক নিয়ম আছে।  ইংরেজিতে এই নিয়ম-কে বলে ‘কাস্টমার ইজ কিং’ অথবা ‘কাস্টমার ইজ  অলওয়েজ রাইট’। এর ভাবার্থ হলো, কোন পরিষেবা দানের ক্ষেত্রে, গ্রাহকের সুবিধে-অসুবিধে, সেইটাই আসল। যে পরিষেবা দিচ্ছে, যেহেতু যে গ্রাহকের থেকে টাকা নিচ্ছে, তাই তার দায়িত্ব হলো গ্রাহক-কে তার সুবিধে মত পরিসেবা দেওয়া। গ্রাহকের কাজ নয় পরিষেবা-দাতার সুবিধে মত ছাঁচে নিজেকে তৈরী করা। দুঃখের বিষয় হলো, নিখিল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শহর আমাদের এই কলকাতায় এই নিয়মটি বাঙালিদের ক্ষেত্রে খাটে না। একটু ভেঙ্গে বলি।  

সম্প্রতি আমি প্লেনে চেপে চেন্নাই গেছিলাম।  দমদম বিমানবন্দরে পৌছনোর পর ঘোষণায় জানলাম যে গেটটি থেকে প্লেন ছাড়ার কথা ছিল, সেটি পাল্টে গেছে।  আমাকে যেতে হবে আরেকটি গেটে।  অগত্যা তাই গেলাম। আমি ছিলাম প্লেনে ওঠার লাইনের একদম শেষের দিকে।  আমরা সকলে প্রায় প্লেনে উঠে পরেছি তখন দেখলাম একজনকে বেশ ধমক দিতে দিতে একজন এয়ার ইন্ডিয়া কর্মী আমাদের লাইনের দিকে দেখাচ্ছেন।  উনি বেশ অপদস্থ ও লজ্জিত বোধ করে গুটি গুটি আমাদের লাইনের দিকে এগিয়ে এলেন। আমি ওনাকে ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করলাম।  উনি আমাকে জানালেন যে উনি বাংলা জানেন কিন্তু ইংরেজি-হিন্দী জানেন না। না জানতেই পারেন। অধিকাংশ বাঙালি-ই ইংরেজি-হিন্দি জানেন না।  বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ মানুষই নিজেদের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষা জানেন না। না জানাটা অপরাধ নয়। অধিকাংশ রুশ, অধিকাংশ জাপানি, অধিকাংশ চীনা মানুষ-ই নিজেদের মাতৃভাষাই শুধু জানেন। যেহেতু এই বাংলার সর্ববৃহৎ শহরের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দরে এই বাঙ্গালীটি শুধু বাংলা জেনেই ঢুকে পড়েছেন প্লেনে চাপতে, তাই স্রেফ হিন্দি ও ইংরেজি-তে করা ঘোষণাগুলি উনি ঠিক ধরতে পারেননি। ফলে পুরনো গেটেই এদিক সেদিক করছিলেন। তারপর সেখানে চেন্নাই-এর প্লেন ছাড়ার কোন চিহ্ন না দেখে শেষে একে তাকে জিজ্ঞেস করে এই নতুন গেটে এসছেন।  যেহেতু দেরি করে এসছেন, তাই যে এয়ার ইন্ডিয়াকে উনি গুনে গুনে প্লেনে চড়তে অনেক টাকাই দিয়েছেন, তারা তাকে দেরি করার জন্য ধমক দিচ্ছিলেন।  উনি লজ্জা করে আর বলে উঠতে পারেননি যে উনি হিন্দি-ইংরেজি জানেন না।  আসলে লজ্জা পাওয়ার কথা এয়ার ইন্ডিয়ার।  যে কোম্পানি কারুর থেকে কড়ায়গন্ডায় টাকা বুঝে নিয়ে গ্রাহকের নিজের ভাষায় তাকে পরিষেবা দিতে অস্বীকার করে। আর লজ্জা পাওয়ার কথা আমাদের – যারা বাংলায় বসে বাঙালির সাথে এয়ার ইন্ডিয়ার এই হিন্দি-ইংরেজি খবরদারি নীতিকে  স্বাভাবিক মনে করি এবং স্রেফ বাংলা জানা বাঙালির হিন্দি-ইংরেজি না জেনেই তার নিজেদের দেশ বাংলার মাটিতে গড়া বিমানবন্দরে এসে প্লেনে চড়ার ‘ধৃষ্টতা’কে অস্বাভাবিক মনে করি।

আমরা ভারতীয় ইউনিয়ন নাম এক অদ্ভূত রাষ্ট্রের অধীন। এখানে সরকারী এয়ারলাইন কোম্পানি, যা কিনা অনেকের মতই বাঙালির দেওয়া টাকার ভর্তুকি-তে চলে, এলাকার মানুষকে এলাকার ভাষায় পরিষেবা দিতে চায় না। বলে নিয়ম নেই।  আসলে এই নিয়ম ভারত সরকারের।  এ নিয়ম সচেতন।  এ নিয়ম এই রাষ্ট্রে হিন্দি-ইংরেজি ভাষী ছাড়া আর সকলকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক করে রাখার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।  এই নিয়মতন্ত্র চলছে আমার আপনার টাকায়। এই নিয়মকে অনেক উড়ুক্কু বাঙালি সঠিক মনে করেন। আমাদের মতো নির্লজ্জ ও ক্ষমতার পা-চাটা জাত আর হয় না। বাঙালি এলিট-রা এককালে ইংরেজ-দের পা চাটত, এখন তারা পা চাটে দিল্লীর।  এই পা চাটার মাধ্যমেই স্রেফ নামে একটি বাঙালি শ্রেণী সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রাণে-বচনে-যাপনে বাঙালিদের দাবিয়ে রেখেছে। এই শ্রেনীর উত্খাত এমন এক মঙ্গলময় প্রকল্প যাতে বঙ্গলক্ষ্মীর আশীর্বাদ থাকবে বলে আমি নিশ্চিত।

ওই প্লেন যাত্রায় বাঙালির বিড়ম্বনা এখানেই শেষ না।  প্লেন যাচ্ছে বাংলা থেকে তামিল নাডু।  প্লেনের অধিকাংশ যাত্রীর মাতৃভাষা হয় বাংলা কিম্বা তামিল।  কি করে সিট-বেল্ট বাঁধতে হয় থেকে শুরু করে বিপদ হলে কি কি করতে হবে, এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি এই সরকারী প্লেনে বাংলা বা তামিল, কোন ভাষাতেই বিমান-সেবিকারা ঘোষণা করলেন না। এমনকি লিখিত অবস্থাতেও সেটি সে তথ্য কথাও ছিল না। যে সরকার তার নীতির অংশ হিসেবে বাঙালি ও তামিলদের সুরক্ষা নির্দেশাবলী শোনায় হিন্দি-তে, সে সরকার আর যাই হোক বাঙালি বা তামিলের প্রাণ ও সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত নয়। তাহলে এ কেন্দ্রীয় সরকার আসলে কার? যাদের ভাষায় তারা সুরক্ষা নির্দেশ দিল, তার। আমার বলতে লজ্জা করছে যে মধ্য-প্রাচ্য থেকে অনেক বিমানে চড়ে আমি কলকাতা এসছি, যেখানে প্লেনের নানা অংশে নানা নির্দেশ (যেমন দরজায় লেখা ‘টানুন’ বা ফ্লাস করতে কোথায় টিপতে হবে) বাংলা-তামিল-হিন্দি-আরবী-ইংরেজি এমন অনেক ভাষায় লেখা থাকে। কেন? তাদের কাছে বিমান একটি পরিষেবা, যেখানে তারা গ্রাহকের সুবিধা করতে চায়। আমার দেশ যে রাষ্ট্রের অধীন, তারা দুরদর্শন থেকে ব্যাঙ্কের পাশবই  থেকে সরকারী বিমানের সুরক্ষা নির্দেশ, সবখানেই হিন্দি প্রচারের মাধ্যমে তেরঙ্গা জাতীয়তাবাদ প্রচারে ব্যস্ত। ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্রের স্লোগানের নাম যে জুয়াচুরি অ-হিন্দিভাষীদের সাথে চলেছে দেশভাগের পর থেকে, তার হিসেব কি আমরা নেব না? আমরা নিজেদের কাছে আর কত ছোট হবো? এ কোন একতা যা বজায় রাখতে আত্মসম্মান বন্ধক রাখতে হয়? একতা চাই – এমন একটা, তার পূর্বশর্ত হবে পারস্পরিক সম্মান।

প্লেনে যে ওঠে, সে শুধু বাংলা জানুক বা ইংরেজি পণ্ডিত হোক, নিখিল বাংলাদেশের নিরিখে সে একজন এলিট। সেখানেই যদি ভাষার ক্ষেত্রে এমন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, একবার ভেবে দেখুন রোজকার সেই অভিজ্ঞতাগুলির কথা – যেখানে বাংলার সীমান্তের বিএসএফ, কলকাতার মেট্রোতে রেল পুলিশ, বর্ধমানে সরকারী বেঙ্কের ম্যানেজার এবং আরো অনেকে যারা নাকি আমাদের ‘পরিসেবা’ দ্যান বাংলা না জেনেই। উত্তরপ্রদেশে হিন্দি না জেনে এই কাজগুলি করতে চাইলে স্থানীয় মানুষ তাদের কি অবস্থা করত, সেটা নাই বললাম। অনেকেই এসব শুনে বলবেন – হিন্দী তো রাষ্ট্রভাষা বা জাতীয়ভাষা। তাদের জানিয়ে রাখি, হিন্দি রাষ্ট্রভাষা নয়, জাতীয় ভাষাও নয়। এগুলি রাষ্ট্র হিতার্থে চালু গুজব। গুজরাট হাইকোর্ট রায়তে জানিয়েছেন যে গুজরাটের ক্ষেত্রে হিন্দী ‘ফরেন’ বা বিদেশী ভাষা। আর রয়েছি আমরা। এমন এক জাতি, যারা কোথাও ঢুকতে গেলে দরজা খুলতে বলিনা, দরজার ফাঁক দিয়ে নিজেকে বেঁকিয়ে গলানোর চেষ্টা করি। এই বাঙালিই বাংলার মাটিতে টেক্সীকে হাত দেখিয়ে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করে ‘যায়েগা?’। চম্পারন বা ভোজপুর জেলা কলকাতায় গতর খাটতে আশা আমার সেই টেক্সী-চালক ভাই-এর ভাষা যে হিন্দি নয়, ভোজপুরি, আমরা তাও জানিনা। এও জানিনা যে সে বাংলা বোঝে। দিল্লি-তে তো কত বাঙালি শ্রমিক কাজে যান – কোন হিন্দিভাষী সেখানে তাদেরকে বাংলায় হাঁক দ্যান?

সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকার নিয়ম করেছেন যে নতুন অটো-রিক্শ পারমিট পেতে হলে মারাঠি বলতে জানতে হবে। কোন প্রতিবাদ হয়নি এ ঘোষণার কারণ এটি স্বাভাবিক। সেখানে অধিকাংশ অটো-চালকের মাতৃভাষা মারাঠি নয়। তারা বাইরে থেকে আসা।  কিন্তু তারা জানে না এক্ষেত্রে যাকে পরিসেবা দেওয়া হচ্ছে, সেটাই অগ্রধিকার পায়। সেই বহিরাগতরাও মারাঠি শিখে নিয়েছে এবং সৎভাবে রোজগার করে খাচ্ছে। এটা এই বাংলায় সম্ভব না। কারণ এর জন্য লাগে আত্মসম্মান ও শিরদাঁড়া।  পা চাটতে লাগে শুধু জিভ।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Language, Power, Rights

কলরব ও সংহতির জাতবিচার

কদিন আগে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর সরকার মদতপুষ্ট ‘শিক্ষাকর্মী’ ভেকধারী কিছু গুন্ডা বর্বর আঘাত নামিয়ে আনলো। শুনছি এস.এফ.আই এবং ডি .ওয়াই.এফ.আই-এর টগবগে তরুণ-রা নাকি এতে ভীষণ ক্ষুব্ধ। এই উঠতি চে গুয়েভারারা ধুতি-পাঞ্জাবী পরে কয়েক দশক ধরে হোলটাইম স্তালিনবাদ করা পার্টি শিরোমনীদের জিজ্ঞেস করে দেখলে পারেন যে এই মারকুটে ‘শিক্ষাকর্মী’দের মধ্যে কারা কারা ৫ বছর আগেও কর্ডিনেশন কমিটির সদস্য ছিল এবং নিয়মিত কিনতো ‘সংগ্রামী হাতিয়ার’? অতীতের শুরু ১৯১৭-তে না, ২০১১-তে তো নয়ই।  তা সে যাই হোক, বর্ধমানের ঘটনার  প্রতিবাদ করতে পশ্চিমবঙ্গের
‘স্বশাসিত’ রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ‘স্বাধীন’ উপাচার্য্যরা যে লাইন দিয়ে নিন্দামূলক বিবৃতি দেবেন না, সেটা বলাই বাহুল্য।  ঘটনাটা সত্য কি অসত্য, কুকুর মানুষকে কামড়েছে না মানুষ কুকুরকে কামড়েছে, এই বিতর্কে তেরঙ্গা ঝান্ডাধারী ‘শিক্ষাকর্মী’দের দ্বারা ছাত্রীদের প্রহার ও শ্লীলতাহানি শীঘ্রই চাপা পড়ে যাবে। বর্ধমানের সত্য জানতে কোন ‘রাষ্ট্রীয়’ চ্যানেলের ওবি ভ্যান ছুটে যাবে  না সেদিকে। ‘সত্যমেব জয়তে’ হলো ভারতীয় রাষ্ট্রের স্লোগান – অর্থাৎ শুধু সত্যেরই জয় হবে। যেটা উহ্য, তা হলো এই ‘সত্য’ পয়দা করার মেশিনগুলির মালিকানা যাদের হাতে, জয় হবে তাদেরই।

কিন্তু আমি ভাবছি অন্য কথা। এই যে বর্ধমানের ঘটনা, বা সবং সজনীকান্ত মহাবিদ্যালয়ের ছাত্র কৃষ্ণপ্রসাদ জানার খুন হবার ঘটনা, এগুলি নিয়ে কোন ‘কলরব’ হয় না কেন? এর কারণ কি ? বড় শহর থেকে দূরের ঘটনা বলে? ইংরেজিতে জ্বালাময়ী ও ক্ষুরধার বক্তব্য ফেইসবুকে তারা দেয়নি বলে ? এখান থেকে পাশ করে তারা দিল্লি-মুম্বই-বিলেতের নানা জায়গায় প্রাক্তনী-চক্র তৈরী করতে পারেনি বলে? আমাদের এই সংহতির জাতপাত, পাশে দাঁড়ানোর বাছ-বিচারের সাংস্কৃতিক রাজনীতিকে বুঝতে হবে। নইলে আমাদের বর্ধমানে শ্লীলতাহানিগুলি, সবং-এ খুন গুলি চিরকাল থেকে যাবে ব্রাত্য, ঠিক যেমন মোমবাতি সংহতি থেকে ব্রাত্য থেকে যায় দলিত মেয়ের উপর গণধর্ষণ। আর এফ.টি.আই.আই-গজেন্দ্র বা ‘নির্ভয়া’ ঘটনার ‘সচেতন’ সংহতির কলরবে হারিয়ে যায় ‘বাকিরা’,
সংখ্যাগরিষ্টরা – ইংরেজির ক্রাচ ব্যবহার করে ‘গভীর’ মনোভাব প্রকাশে যারা এখুনো সাবলীল হয়ে ওঠে নি – তারা।

মনে পরে যাদবপুরের কলরব? সে ঘটনার সংহতিতে দিল্লীর জহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ে, দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয়ে, পুণের ফিল্ম ইনস্টিটিউটে এবং গরিব দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে বরাদ্দ স্বল্প তেলের বেশিরভাগ অংশ যেসব টাকে লাগানো হয়, সেইরকম সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংগঠিত হয় সংহতি আন্দোলন। যাদবপুরের পাশে থাকা। পুণের ফিল্ম ইনস্টিটিউট-এ সরকার সত্যবাদী গজেন্দ্রকে বসিয়ে জায়গাটাকে একটু আয়ত্তে আনতে চাইছে, আবার সংগ্রামের দিনে পাশে থাকা মানুষগুলিকে কিছু উচ্চপদে বসিয়ে কৃতজ্ঞতাও জানাচ্ছে – যেমনটা জনগনের সম্পত্তিকে বাপের মাল তথা লুঠের মাল মনে করা দলগুলি মনে করে থাকে চিরকাল। তার প্রতিবাদ করেছে ফিল্ম ইনস্টিটিউট-এর শিক্ষার্থীরা। তাদের যারা পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের মধ্যে বলিউডের প্রধান তারকাদের মধ্যে খুব কম মানুষই আছেন। এই মর্মে হলিউডের সাথে তুলনাটা জরুরি, যেখানে নানা সাধারণ রাজনৈতিক প্রশ্নে ফিলিম জগতে গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই রুপোলি পর্দার আড়ালে নিজেদের ঢেকে রাখেন না। চার্লি চ্যাপলিন থেকে সুসান সারান্ডন – নিজ রাষ্ট্রের দ্বারা সংগঠিত অত্যাচারের প্রতিবাদের মাধ্যমে এরা দেখিয়েছেন যে চলচ্চিত্র একটি মাধ্যম মাত্র এবং চলচ্চিত্র-জগতের সাথে জড়িত বলেই সেটাই তাদের একমাত্র মাধ্যম নয় – অন্য সকলের মতই, তাদের মুখ আছে, হাত আছে, পা আছে। হিন্দী ফিল্ম সংস্কৃতির টপ লোকেরা অবশ্য কংগ্রেসী টুপি পরে ১৯৮৪-র শিখবিরোধী দাঙ্গায় প্ররোচনা দিতে অথবা মদ্যপ অবস্থায় ফুটপাথবাসীদের গাড়ির তলায় পিষে দিয়ে খুন করতেই বেশি ভালবাসেন (গুজরাট পর্যটন সংস্থার দালালি করে বা অনাথাশ্রমে ছিটে ফোঁটা দান করে সেসব পাপ ঘোঁচে না), তাই এই ধরনের জীবগুলির থেকে কোন ধরনের সংহতি আশা করা শক্ত। তবে পুণের পাশে আছে এলিট নানা বিশ্ববিদ্যালের ছাত্র-ছাত্রীরা, কলরবিরা, মতলবিরা এবং আরো অনেকে। জহরলাল বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছু হলে সংহতি জানায় প্রেসিডেন্সি, সেখানে কিছু হলে পাশে দাঁড়ায় যাদবপুর। এরা অনেকেই একে অপরকে চেনে, পৌছে যায় একে অপরের কাছে, একে অপরের হোস্টেল-এ ওঠে, পাশে থাকে, সাথে থাকে, এলিট প্রতিষ্ঠান-জাত বুঝে নিয়ে এক থালায় খাবার খায়। খবর ছড়ায় প্রাক্তনিদের মধ্যে, সংবাদ-মাধ্যমের ‘সিনিয়র’দের মধ্যে। এইটে হলো একরকম সাংস্কৃতিক পুঁজি – যার রন্ধ্রে রন্ধ্রে উচ্চ-কুল-শীলের আল্পনা আঁকা।   কিন্তু তারপর সংহতির বৃত্ত বাড়ে না – খুজতে থাকে সেই চেনা এলিট-দের, চেনা ভাষ্য, চেনা ভাঁজ, চেনা স্লোগান, চেনা অবিন্যস্ততা – অসাধারণ ও ঐতিহাসিক ছাত্র আন্দোলনে তাই ‘সাধারণ’দের কোন জায়গা নেই। যাদবপুরের পাশে মফস্স্বল থেকে অনেকে এসে দাঁড়াতে পারে বৃষ্টির দিনে – যেন সেটা তাদের দায়িত্ব, কিন্তু বর্ধমানের পাশে গিয়ে যাদবপুরের দাঁড়ায় না – দূরত্বটা এক, তবে সংহতির গতিপথটা একমুখী।

যখন নানা বিষয়ে রাষ্ট্রের, সরকারের, সরকারী দলের নিপীড়ন ও নগ্ন স্বেচ্ছাচারিতায় গণমানুষ আক্রান্ত হয়, তখন এলিট সংহতির বৃত্ত তৈরী করে ক্ষুদ্র বৃত্তে বাহবা ও অন্যান্য জিনিস পাওয়া যেতে পারে, কিন্তু তার থেকে দীর্ঘমেয়াদী বা দায়িত্বশীল কিছু আশা করা অনুচিত। তারা ক্যাম্পাসে ‘ফ্রীডম’ চান, সেই ‘ফ্রীডম স্ট্রাগেল’-এ জনমতকে আবার পাশেও চান, আবার সবং-এর মতো ‘আনকুল’ নামের জায়গার ‘সাধারণ’ কলেজের নৃশংসতার পাঁকে ঢুকতে চাননা, পরমহংসের মত গা না ভিজিয়ে ডুব দিতে চান গভীর জলে। সত্যই তো তাদের স্পেশ্যাল কোন দায় নেই, কিন্তু স্পেশাল দায় আছে বৃহত্তর সমাজের, তাদের কষ্টকে বোঝার। ‘আমাকে আমার মত থাকতে দাও’ এই সময়ের শিক্ষার্থী এলিটের জাতীয় সঙ্গীত। মরুঝড়ের মাঝে এলিট মরুদ্যানের নেটওয়ার্ক বানিয়ে কোন প্রলয় কখুনো বন্ধ হয়েছে আজ অবধি? একটা পুরনো সময়ের কিছু লাইন মনে এলো – ‘আমরাও তবে এই ভাবে, এ মুহুর্তে মরে যাবো নাকি, আমাদের পথ নেই আর, আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি..পৃথিবী হয়তো গেছে মরে, আমাদের কথা কে বা জানে, আমরা ফিরেছি দোরে দোরে, কিছুই কোথাও যদি নেই, তবু তো কজন আছি বাকি, আয় আরো হাতে হাত রেখে, আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।”  বাংলার এলিট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে চাহ্ত্র-ছাত্রীদের আর্থ-সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ড ছাড়াও মিল রয়েছে সেখানে অবশিষ্ট অবাধ গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চায়। এর একটা বড় কারণ হলো যে এলিট নেটওয়ার্ক-এ থাকলে কলেজ পরবর্তী সময়ে শাসকদলের ল্যাজ না ধরেও ঠিকঠাক কেরিয়ার বানানো সম্ভব। এই তুলনামূলক নিরাপত্তার ফলে যে সাহসটুকু আসে, তাতে হিস্যার দাবি কি করতে পারে না
‘সাধারণ’রা? দিল্লী-পুণের হ্যেপ ও কুল বৃত্তের বাইরে অন্য জাতের হাত ধরতে এতো কুন্ঠা কিসের? এই প্রবন্ধটি কলরব বিরোধী নয়। এলিট না হয়েও স্রেফ
রবাহুত হয়ে যারা কলরবের পাশে দাঁড়ায়, তাদের জন্য কলরব হয় না কেন, মূলতঃ প্রশ্ন সেটাই।

Leave a comment

Filed under Academia, বাংলা, Bengal, Elite, Media

উবার চড়ে যাচ্ছি কোথায়?

খুব বেশিদিন আগের কথা বলছি না, কলকাতায় একটা সময় ছিল যখন গাড়ি চড়ে কোথাও যাবার মানে ছিল হয় প্রাইভেট গাড়ি বা টেক্সী। কিন্তু স্মার্টফোন ভিত্তিক আপ-এর দৌলতে ২৮ ঘন্টা  তত্ক্ষণিক ভাড়া গাড়ি বুকিং ব্যবস্থা ভারতের কিছু কিছু শহরের এক বিপুলভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উবার বা ওলা গোছের কোম্পানিগুলি এখানে খুবই ভালো ব্যবসা করছে।  এছাড়া তাদের জোরদার বিজ্ঞাপনের ফলে তাদের নাম ছড়িয়েছে যথেষ্ট। আমাদের এই বাংলাদেশের পশ্চিমাংশে  তাদের এমনই রমরমা ব্যবসা যে উবার কোম্পানি জানিয়েছে যে মার্কিন কলকাতাই তাদের  বাড়তে থাকা বাজার এবং তাদের এই বৃদ্ধির হার তাদের লন্ডনের ব্যবসার চেয়েও বেশি। ভারতে  কলকাতার পরে তাদের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকা বাজার হলো মুম্বইর। এই ধরনের পরিষেবা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই চিরাচরিত লাইসেন্স প্রাপ্ত টেক্সী ব্যবসার লাভের গুড়ে থাবা বসিয়েছে। সেটা এখানকার ক্ষেত্রেও সত্যি। ফ্রান্স থেকে দক্ষিন আফ্রিকা, নানা জায়গায় ট্যাক্সি চালক তথা মালিক ইউনীয়ন্গুলি উবারের ব্যবসা পদ্ধতিকে অনৈতিক ও বে-আইনি বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে – যে ধরনের সরকারী নজরদারির স্বীকার সাধারণ তেক্সীরা, বা যতরকমের কর তাদের দিতে হয়, তার ফলেই উবারদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। উদাহরণ স্বরূপ, টেক্সী না যেতে চাইলে আইনে জরিমানার ব্যবস্থা আছে, উবারদের ক্ষেত্রে এমন কোন আইন-ই নেই। সাধারণ টেক্সীগুলি বেসরকারী মালিকানাধীন হলেও সে ব্যবসা বেশ ভালো পরিমানে সরকারী নিয়ন্ত্রনের আওতায়।  টেক্সী ভাড়ার তালিকাও সরকারের সাথে বোঝাপড়া করে ঠিক হয়। উবার-ওলারা তাদের রেট্ ঠিক করে ও বদলে নিজেদের ব্যবসা মাফিক, নানারকম ছাড় ও অন্যান্য বিপণন-ফন্দিরও তারা সাহায্য নিয়ে থাকে, যা সাধারণ টেক্সী আইনত পারে না।

এই ভাবে যখন কোথাও এক ধরনের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বেসরকারী পরিবহণ ব্যবসার একটা রেকর্ড প্রসার ঘটে, তখন সেই জায়গার গণ-পরিবহণের অবস্থা ও মান সম্পর্কে প্রশ্ন মনে চলেই আসে। তাই ভারতের প্রধান শহরগুলির গণপরিবহনের মান বিশ্বের নিরিখে দেখে নেওয়া যাক। ‘ফিউচার অফ আর্বান মোটিলিটি ২.০’ নামের বিশদ একটি জরিপ-ভিত্তিক গবেষণার ফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়। এই জরিপ রিপোর্ট-টি প্রনিধানযোগ্য কারণ এতে বাজার-আদর্শ ও শ্বেতাঙ্গ-বিশ্ব ‘প্রগতি’ ও ‘উন্নয়ন’ বলতে যা বোঝায় (মূলতঃ চওড়া রাস্তা ধরে হুস-হুস করে যাওয়া রাশি রাশি সমাজ-বিছিন্ন প্রাইভেট গাড়ি) , তার কিছুটা বাইরে গিয়েও গণপরিবহনের মানের একটা মানাঙ্ক কষা হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরকে মাথায় রেখে। এই সব ফ্যাক্টরের কয়েকটি হলো – মোট যাত্রা-সংখ্যার মধ্যে গণপরিবহনের সাহায্যে করা যাত্রার হিস্যা, স্মার্ট কার্ডের ব্যবহার, রাস্তার ঘনত্ব, গণপরিবহনের বৈচিত্র এবং সেগুলি কত সময় অন্তর অন্তর আসে, সরকারী পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগ, ইত্যাদি। সারা বিশ্বের ৮৪টি বৃহৎ শহরে এই নিয়ে গবেষণা ও জরিপ চালানো হয়।  তার থেকে পাওয়া ফলগুলি এইরকম। ভারতে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী মুম্বই-এর হাল মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-র চেয়ে সামান্য ভালো, লস এঞ্জেলেস পিছিয়ে আছে চেন্নাই-এর থেকে। অনেকের ধারনায় ভারতে ‘উন্নত’ দিল্লির হাল এই বহুমাত্রিক গণমুখী ফ্যাক্টরগুলির নিরিখে বেশ খারাপ – সেটির স্থান ৮৪টি শহরের মধ্যে শেষের দিক থেকে ৫ম। কলকাতা হলো ভারতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ – ৮৪র মধ্যে তার স্থান ৩১, যার মানে আমরা নিউ ইয়র্ক, মন্ট্রিয়ল, টরন্টো ও সিডনির থেকে এগিয়ে আছি। জনসংখ্যার অনুপাতে ব্যক্তিগত গাড়ি মালিকানার হার ভারতের মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতায় সবচেয়ে কম। পয়লা স্থান অধিকার করে হংকং। প্রসঙ্গত এই পরিমাপে ঢাকার রেঙ্ক করাচীর থেকে খারাপ কিন্তু বেঙ্গালুরু বা ওসাকা বা মায়ামির থেকে ভালো। এই রেঙ্কগুলি আমাদের যদি অবিশ্বাস্য লাগে, তার থেকে এই বোঝা যায় যে দুনিয়ায় উন্নয়ন ও প্রগতির জনবিরোধী হেজিমনিক ধারণা আমাদের কল্পনা ও ইপ্সাকে কতটা গুলিয়ে দিয়েছে যার ফলে আমরা সামনে ঘটমান বাস্তবকে দেখেও দেখি না, হাঁ করে অন্যত্র তাকাই। মাথার মধ্যে ভালো-খারাপ-গণমুখী-জনবিরোধী এইসব ব্যাপারগুলি কেমন গুলিয়ে মিলিয়ে দিয়েছে বাজার ও ক্ষমতার যুগলবন্দীতে তৈরী আমাদের এই ‘কমনসেন্স’। আর কলকাতা ও মুম্বই-এর তুলনামূলক ভালো স্থানের কারণে এরই রহস্যময় ও বেমানান লাগে সেই প্রাথমিক তথ্যটি – যে ভারতে উবার যে ধরনের  ব্যক্তিগত পরিবহণ ব্যবসা করে খায়, তাতে তারা সবচেয়ে সফল ঠিক এই কলকাতা ও মুম্বই-তেই।  আসলে ঘটছে তা কি? আমার কিছু আন্দাজ আছে।  আর সেই আন্দাজের হাত ধরে মনে আসে কিছু আশঙ্কা।

ভারতের শহরগুলির প্রায় সবকটিই অতি বিভক্ত শহর – বিভক্ত শ্রেণী, জাত ও অন্যান্য নানা ফেক্টর দ্বারা। আমরা এলিট বলতে বুঝি টাটা-বিড়লা।  আর বাকি সকলেই নিজেদের মনে করে মধ্যবিত্ত – অথচ এই মধ্যবিত্ত প্রায় কিছুতেই কোন কিছুর মধ্যস্থান অধিকার করে না – অর্থ-সামাজিক ভাবে তো নয়-ই। এই উপমহাদেশে এই গোষ্ঠিকে তুলনামূলক-ভাবে কম এলিট বলা যেতে পারে, কিন্তু এলিট তারা বটেই।  এই গোষ্ঠির নিজের গাড়িতে চেপে সবসময় সবজায়গায় যাবার সামর্থ্য নেই, যার ফলে তাদের অনেক ক্ষেত্রেই না চাইলেও অগত্যা গণ-পরিবহণের শরণাপন্ন হতে হয়। তাদের জীবনের এই অংশটি তাদের খরুচে ‘ট্রেন্ডি’ জীবনযাত্রার সাথে খাপ খায় না। গণপরিবহনে তাদেরকে এমন সমস্ত মানুষজনের পাশে বসতে হয়, এমন সমস্ত মানুষের গায়ের গন্ধ ঘামের গন্ধ নাকে আসে, ভিড়ের মান্ঝে এমন মানুষের থেকে ঠেলা ও গুঁতো খেতে হয়, নিজে দাঁড়ানো অবস্থায় এমন সব মানুষকে বসা অবস্থায় দেখতে হয়, যাদের কিনা তারা তাদের জীবনের অন্য সকল অঙ্গন থেকে নির্বাসিত করেছে সফলভাবে – নানা ধরনের প্রকাশ্য বা ছদ্ম ভৃত্য ভূমিকা ছাড়া। উবার-ওলার সাফল্যকে এই আঙ্গিকে দেখা প্রয়োজন। প্রথমতঃ।এর ফলে ‘পাবলিক’ থেকে নিজেকে স্থানিক-ভাবে আলাদা করা যায় – অর্থাৎ একই জায়গায় বসে যাতাওয়াত করতে হয় না, একই যানের মধ্যে বসে। দ্বিতীয়তঃ, পাবলিকের থেকে কালিক ভাবেই আলাদা হওয়া যায় – তাদের ২৪ ঘন্টা তত্পর পরিষেবার কারণে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যে সময় গনপ্রবহনের অপ্রতুলতার জন্য বেশি ঘোরাফেরা করতে পারে না, যেমন ধরা যাক গভীর রাত, এই শ্রেণী সেই সময়গুলিকে কেন্দ্র করে নিজেদের জীবনধারা সাজিয়ে নেয়। সমাজের কিছু পাত্র-পাত্রীর মধ্যে জনসাধারণের থেকে নিজেদের আলাদা করে স্থান-কালের মালিকানা নেবার যে মানসিক ইপ্সা, উবার-ওলারা সেই বৈকল্যের ইচ্ছা-নদীতে সাঁকোর কাজ করে।  তার উপর দিয়ে আমাদের মত কিছু মনুষ তরতরিয়ে চলে যায় ইপ্সিত ওপারে, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, সুরক্ষিত ভাবে। বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলি থেকে লেটনাইট পার্টি করে হিন্দুস্থান পার্কে ফেরত আশা হয়ে যায় জলভাত। শহরেরএলিটদের  জীবনে কিছু নতুন স্রোতের জন্ম হয়। কে কোথায় কখন কি ভাবে আসছে-যাচ্ছে, তাতে কারোর কিছু এসে যেত না, যদি না এই অর্থ-সমাজিক গোষ্টির প্রভাব ও প্রতিপত্তি তাদের সংখ্যার তুলনায় দৃষ্টিকটু ভাবে অনেক বেশি না হতো। কিন্তু বাস্তবে, তাদের উদ্বেগকে পাত্তা দেওয়া, তাদের সুরক্ষাকে সিরিয়াসলি নেওয়া, তাদের ইছাগুলিকে প্রশমিত করা হয়ে ওঠে  নগরের সরকারী ও বেসরকারী অধিপতিদের প্রথম কর্তব্য – কারণ যে মাছের মুড়ো এরা. তারই পেটি হলো উবার-ওলা শ্রেণী।  সংবাদমাধ্যমের বড় অংশও এই ক্ষুদ্র অংশের উদ্বেগ-সুরক্ষা ইত্যাদিকে এমন ভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে একটা ‘গণ’ চরিত্র দেবার চেষ্টা করে যে মনে হতেই পারে যে আমরা ইতিমধ্যেই একটি আর্থ-সামাজিক বৈষম্যহীন মিডিল ইনকাম সমাজে পরিণত হয়েছি।

এর একটি কুফল দেখা গেছে সম্প্রতি।  যখন ভারতে রাস্তা-ঘাটে নারী নিরাপত্তার মত একটি গুরুত্তপূর্ণ বিষয় নিয়ে বেশ একটা জনমত তৈরী তৈরী হচ্ছিল, উবারের একজন চালক দ্বারা এক মহিলা যাত্রীর ধর্ষিত হবার ফলে নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি এই প্রতাপশালী গোষ্টির উদ্বেগের জোরে পর্যবসিত হলো উবার গাড়ির নিষিদ্ধকরণ ও উবার চালকদের নিয়োগের আগে পূর্ব অপরাধ বিষয়ক খোজখবর নেওয়া গুরুত্ব ইত্যাদিতে। ভারতে, নারীদের এক বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের কাছে  ভাড়া করা বা নিজ মালিকানাধীন গাড়িতে একা চলাফেরার সুবিধে-বিপদ সংক্রান্ত যে আলোচনা, তা একদমই অপ্রাসঙ্গিক কারণে তাদের জীবনের বাস্তবতার সাথে এর কোন সম্পর্কই নেই। অথচ ‘নারী নিরাপত্তার’ মোড়কে মিডিয়ায়ে আদতে চলল এলিট নারীদের নিরাপত্তার পুঙ্খানুপুন্ক্ষ আলোচনা।

যখনই সমাজের ক্ষমতাধারী ও গনপরিসরে-কি-আলোচিত-হবে-তা-নির্ণয়কারী গোষ্ঠীগুলি সর্বসাধারণের জন্য তৈরী পরিষেবাগুলি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়, তখন সেই সেই পরিষেবার মান নিম্নগামী হয়। কারণ পরিষেবাগুলি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিলেও সেই পরিসেবা চালনা সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা এই গোষ্ঠীই কুক্ষিগত করে রাখে। তখন এদের নির্দেশে-উপদেশে সরকার যা করে তা হলো অপেক্ষাকৃত গণতান্ত্রিক ভাবে বন্টিত গণপরিষেবা থেকে অর্থ শুষে বার করে তারা ঢুকিয়ে দেয় এমন সব পরিষেবায় যা আপাত ভাবে সর্বসাধারণের জন্যে হলেও বাস্তবে কাজে লাগে মূলতঃ এলিট শ্রেনীর-ই। পূর্ব্বে উন্নত মানের এবং নির্ভরযোগ্য সংস্থা যেমন বৃহৎ সরকারী হাসপাতাল বা সরকারী ইস্কুল এই গোত্রে পড়ে। এলিট শ্রেণী এক-কালে এসব জায়গায় যেতো।  তারপর যখন তারা সরকারী ভর্তুকি ব্যবহার করে নিয়ম বদলিয়ে বেসরকারী পুঁজি দিয়ে এসব ক্ষেত্রে নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থা করলো, তখন সরকারী সংস্থাগুলিতে তাদের আর কোন আগ্রহ রইলো না।  যে সর্বসাধারণের গরুর দুধ তারা রোজ খেতো এবং সেই কারণে বিচালি দিত, পরিষ্কার করত, সেই গরুর দুধ বেচে তারা তৈরী করলো নিজেদের মালিকিনাধীন গরুর  প্রাইভেট গোয়াল। কলকাতায়, টিবি হাসপাতাল ১ টাকা দিয়ে বেসরকারী সংস্থাকে বেছে তৈরী হলো কেপিসি হাসপাতাল।  ঢাকুরিয়ার এএমআরআই হাসপাতাল ও সরকারী মালিকানা থেক বেসরকারী মালিকানায় দেওয়া হলে ১ টাকার নাম-কে-ওয়াস্তে অঙ্কের বিনিময়ে।  শর্ত থাল এখানে একটা বড় শতাংশ বেদ থাকবে গরিবের জন্য সংরক্ষিত।  বলাই বাহুল্য, সেই সংরক্ষণ থেকে গেছে কাগজের পাতায়, এগ্রিমেন্টের দলিলে। আমি যেটা বলতে চাই সেটা এই যে ভারতে সরকারী হাসপাতাল বা ইস্কুলের মানের নিম্নগামী মানের সাথে এলিট শ্রেণীর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নিজ বিকল্প করে তলার ব্যাপারটি অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। দুটো আলাদা ঘটনা নয়। তাই আশঙ্কা হয়, হারত সরকারের জোরদার প্রাইভেট গাড়ি তৈরী ও বিক্রির ক্ষেত্রে নানা রকম আর্থিক উত্সাহপ্রদানের যুগে উবার-ওলার বিস্ময়কর ব্যবসায়িক সাফল্য দেশের মোটামুটি ভাবে চলনসই গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য কোন অশনি সংকেত বয়ে আনবে ? আরেকটু ব্যাপক ভাবে বলতে হলে, যে দেশ ও সমাজের শক্তিশালী নীতিনির্ধারক অংশ ব্যাপক গণ-মানুষের কোনরকম ছোয়া থেকে নিয়েজদের দূরে রাখতে চায়, এমন বৈসম্যযুক্ত সমাজপতি-ওয়ালা সমাজের ভবিষ্যত কি?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Democracy, Dhaka, Elite, Kolkata, Urbanity

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

প্রতি বছর বিশ্বের কিছু নামী সংস্থা দুনিয়ার সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশাল রেঙ্কিং তালিকা এনে উপস্থিত করেন। কোন বছরেই কোন তালিকাতেই সেখানে ভারতীয় সংঘরাষ্ট্রের কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ২০০-র মধ্যে আসে না। সেই নিয়ে এখানকার কিছু লোক একটু চিন্তা ব্যক্ত করেন। আর কেউ কেউ বলেন ওসব রেঙ্কিং আসলে পশ্চিমা দুনিয়ার চক্রান্ত, যাতে কিনা আমাদেরকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয় (তারা বেমালুম চেপে যান যে শ্রেষ্ঠ ২০০-র তালিকায় একাধিক এশীয় বিশ্ববিদ্যালয় থাকে, থাকে চীনের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়)। যেসব পন্ডিত মনে করেন যে সমগ্র বিশ্ব একমাত্র আমাদেরকে কোণঠাসা করার জন্য এই শ্রেষ্ঠত্বের তালিকা থেকে আমাদেরগুলিকে বাদ দ্যান, তাদের জানা উচিত, এই ধরণের বিশ্ব-ষড়যন্ত্র মার্কা ধারণা গভীর মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক ধারা বা ধর্মীয় ধারা এমন ভাবে নিজেদের সকল বিশ্বের ষড়যন্ত্রের স্বীকার বলে প্রচার চালায়। এই সব সেয়ানা কারবারীদের চেনা প্রয়োজন। এরা কেউ অসুস্থ নয় – ষড়যন্ত্রের শাঁক দিয়ে নিজেদের ভেতরের পচনের মাছ ঢাকার একটা নিষ্ফলা চেষ্টা করেন এরা। এর ফলে বন্গায়ে শিয়াল রাজা হয়ে অন্যান্য রদ্দি শেয়ালদের থেকে বাহবা পাওয়া যায়, কিন্তু বিশ্ব-দরবারের বেঞ্চিতে এক ইঞ্চি জায়গা-ও জোটে না।

এই ধরা যাক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ৫০-টা  বিশ্ববিদ্যালয় – সেগুলির কিছু বৈশিষ্টের দিকে একটু মন দিয়ে দেখি। তারপর নিজেদের সাথে তুলনা করি। আপাতত টাইমস হায়ার এডুকেশন রেন্কিং মেনে চলি, যদিও কিউ.এস এবং এ.আর.ডাব্লু.ইউ, এই দুটিও যথেষ্ট খ্যাতনামা। আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় একটা তফাত হলো যে এই শ্রেষ্ঠতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্নাতক স্তরের কোর্সগুলো মূলতঃ হয় সেই দেশের প্রচলিত মাতৃভাষায়। এবং সেই দেশে ইস্কুল্গুলির, পাঠ্যবই-এর মধ্যেও মাতৃভাষার দাপট-ই বেশি – এটা কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন চৈনিক, সুইডিশ, ইংরেজি, জাপানি, জার্মান, অর্থাত যে সব দেশের মাতৃভাষার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শ্রেষ্ঠ ৫০-এর তালিকায় আছে, এই সকল ভাষার ক্ষেত্রেই সত্যি। আমাদের এই বাংলাদেশে তথা দিল্লি-তে অনেক পন্ডিত বলেন যে মাতৃভাষায় ব উচ্চ-শিক্ষা হলে সমাজ পিছিয়ে পড়বে। তথাকথিত এক আন্তর্জাতিক পরিসরের দোহাই দিয়ে বলা হয় এইসব। তথ্য থেকে এটা পরিষ্কার যে মাতৃভাষা-হীন উচ্চ-শিক্ষা দিয়ে ইংরেজি-ভাষা প্রচলিত দেশের জন্য প্রযুক্তি-ব্যবসার ঝাঁকা-মুটে  বা মূলতঃ শ্বেতাঙ্গ বাচ্চাদের আমদানি করা ‘বৈচিত্রময়’ অধ্যাপক হওয়া সম্ভব, কিন্তু নিজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃভাষাকে দুরে রেখে উত্কর্ষ তৈরী কঠিন। রাজনৈতিক নেতারা যতই ‘সেন্টার ও এক্সেলেন্স’ লেখা শ্বেতপাথর উদ্বোধন করে জনগণ-কে ধোঁকা দিন, এক্সেলেন্স-হীনতার এই ফাঁকি এইসব রেঙ্কিং তালিকায় ধরা পড়ে যায়। এছাড়াও এর ফলে মাতৃভাষায় শিক্ষিত ইস্কুলের গন্ডি পেরুনো যে শিক্ষার্থী-সমাজ, যারা কিনা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদেরকে অবহেলা করে, প্রান্তিক করে দিয়ে, হীনমন্যতায় ভুগিয়ে তাদের মেধা সম্পদ নষ্ট করা হয়। এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয় দেশ ও জাতি।  অবশ্যই এর পিছনে রয়েছে আমার মতো ইংরেজিতে পরা ভদ্রলোকের বাচ্চার কায়েমী স্বার্থ। এই মাতৃভাষায় শিক্ষিত সমাজকে প্রান্তিক করে রাখা নিয়ে রেঙ্কিং হলে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়-গুলি যে বিশ্বে প্রথম ৫০-টি স্থান অধিকার করবে, এ নিয়ে আমার সন্দেহ নেই। তবে নিজেদের কায়েমী স্বার্থকে কি করে সর্বসাধারণের স্বার্থ হিসেবে দেখিয়ে ক্ষমতা ও প্রাধান্য ধরে রাখতে হয়, তার ইন্টেলেকচুয়াল ট্রেনিং দিতে আমরা ওস্তাদ।  পশ্চিমবঙ্গে অধ্যাপকের চাকরি লোভনীয়। নানা দেশের অধ্যাপকের মাস মাইনের সঠিক তুলনা (অর্থাৎ সেই পরিমাণ অর্থের সেই দেশে ক্রয়ক্ষমতা – যাকে বলে পারচেসিং পাওয়ার) করলে দেখা যায় যে এদেশের অধ্যাপকেরা গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, ফ্রান্স, জাপান প্রভৃতি দেশের অধ্যাপকদের থেকে বেশি ক্রয়ক্ষমতার অধিকারী। আমাদের পিছিয়ে থাকাটা টাকাকড়ির কারণে না।

কি কি দেখা হয়েছে এই সব রেন্কিং-এ ? রয়েছে গবেষনার খ্যাতি ও পরিমাণ, শিক্ষা-দানের খ্যাতি, তবে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ‘সাইটেশন ইম্পেক্ট’-এ।  অর্থাৎ এই যে জনগণের টাকা নিয়ে বিদ্যাচর্চা ও গবেষণার আয়োজন, তাতে যা পয়দা হচ্ছে, তা কি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশ্বে অন্যদের নজরে আসছে, তারা কি সেগুলির কথা বলছেন, নিজেদের কাছে ব্যবহার করছেন ? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মূলতঃ জ্ঞান দেবার জায়গা, নতুন জ্ঞান তৈরী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গৌণ। এর ফল খুব সহজ। আমরা এখুনো  হা-পিত্যেশ করে বসে থাকি সাহেব-মেম-রা নতুন কি বার করলো। যেহেতু নিজেদের উঠোনে হয়না সেসব কাজ, তাই আমদানি করা জ্ঞান সিলেবাস ভুক্ত করতেও হয়ে যায় বিরাট সময়ের ব্যবধান। আর এই কারণেই চলে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি-ছাটার সময়ে দেশে আশা স্বজাতীয় পরিযায়ী পাখি অধ্যাপকদের নিয়ে একটা আদেখলাপনা। সাফল্যের মাপকাঠি হয়ে ওঠে বিদেশে কে কত নাম করলো। ফলে গবেষনার বিষয়-গুলিও মূলতঃ হয়ে যায় বিদেশের সমাজের মাথাব্যথার উপশম করার
‘আন্তর্জাতিক’ প্রকল্পে হাথ লাগানো বা শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতকুলের আভ্যন্তরীণ বিতর্কে নাক গলিয়ে জাতে ওঠার চেষ্টা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে এদেশের
ব্যবস্থা ঠিক এই ধরনের আচরণ-কে পুরস্কৃত করে।

অথচ এহেন গুরুদের প্রশ্নবিদ্ধ করার সংস্কৃতিকেও এখানে বেশ জোর দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়।  যেখা চিত্ত হওয়ার কথা ভয়-শূন্য, সেখানে
সামন্ত্রতান্ত্রিক গুরুবাদের ঠেলায় তৈরী হয় ত্রাসের পরিবেশ। প্রশ্ন করতে নেই, নিলে স্যার রেগে যাবেন, তারপর স্যার তার ক্ষমতা-মতো ‘দেখে
নেবেন’, তখন কে বাঁচাবে ? জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা এমন এক জিনিস, যেখানে সব কিছুকে অনাবৃত করতে হয়।  যেখানে যুক্তির শানিত ব্যবহারে অধ্যাপক-কে কাছাখোলা করাটাই শ্রেয়, সেইসব ক্ষেত্রে গুরুর ঘরের সামনে মাথা নোয়ানোকে মনে করা হয় আদর্শ ব্যবহার। মেধার বিকাশের জন্য গুরু-ভজনা নয়, গুরু-মারা বিদ্যা আয়ত্ত করা প্রয়োজন।  এবং দরকার সেই ধরনের গুরু, যারা ছাত্রদের গুরু-মারা জ্ঞানচর্চা করতে উত্সাহিত বোধ করেন, ‘আমি জানি না’ -পরিষ্কারভাবে  এই বাক্যটি  ভাবে বলতে পারেন সকলের সামনে।  এক্সেলেন্স ফলে মানুষের মাঝে মুক্তচিন্তার অঙ্গনে, শিক্ষামন্ত্রীর বাণীতে  না, ফলকে না, অধ্যাপকের চেয়ারে রাখা তোয়ালের নিষ্ফলা ‘মর্যাদা’তেও না।

মতান্তর ও বিতর্ক হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। ক্ষমতার সান্নিধ্য মুক্ত-চিন্তার কাছে বিষময়। ঠিক সে কারণেই চিরকাল-ই প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ত্বের সাথে মেধা ও উত্কর্ষের একটা সম্পর্ক থেকেছে আর ক্যাম্পাসে সরকারপন্থী ছড়ি ঘোরানোর রাজনীতি জন্ম দিয়েছে গতদিনের
প্রফেসর অনিল ও আজকের  প্রফেসর শঙ্কুদের। এই বাংলার অন্যতম ভালো বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুরে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা-সভা করতে অনুমতি দেওয়া হয়না, উপাচার্যের টুকলি-করা গবেষণা-পত্র ধরা পড়েও চাকরি থেকে সে বরখাস্ত হয় না – সসম্মানে ফিরে যায়ে পুরনো আস্তানায় – আরেক ‘উত্কর্ষ’ কেন্দ্রে, নিরাপত্তার নাম করে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর সিসিটিভি নজরদারী চালানো হয়। যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তা ও আলোচনার বিষয়
কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষ, অধ্যাপক-বেশী চোরেরা আসল অধ্যাপকদের দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসেন, খাঁকি জামাপরা পুরুষ সরকারী কর্মীরা
সুরক্ষার নামে যুবক-যুবতীরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে কখন-কোথায়-কি করছে, তা টিভি-তে দেখার মত অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকে, সে দেশের কোন
বিশ্ববিদ্যালয় যে বিশ্ব-বরেণ্য তালিকায় নেই, এতে এত আশ্চর্যের কি আছে। তবুও এর মধ্যেই যাদবপুরের নয়া উপাচার্য্য সুরঞ্জন দাস যাদবপুরে
সিসিটিভি-গুলি নামিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।  শুরুটি ভালো। কার তাতে কি, আমরা যদি এই আকালেও স্বপ্ন দেখি।

Leave a comment

Filed under Academia, বাংলা, Bengal, Education, Knowledge, Kolkata, Language

ভারত ও ঢাকার মাঝখানে – অনিকেত প্রান্তর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সাথে ভারতীয় সংঘ-রাষ্ট্রের নরেন্দ্র মোদীর চুক্তির ফলে নিরসন হলো ছিটমহল অধ্যায়, যদিও এর মধ্যেই অন্য রাষ্ট্র  বেছে নেওয়ায়ে সংখ্যালঘু ঘর ইতিমধ্যেই ঘর জ্বলেছে এক রাষ্ট্রে । অদ্ভূত জিনিস এই ধর্ম, রাষ্ট্র ও নাগরিকত্বের টানাপড়েন-গুলি।  আর এসব  এলোমেলো করে দেওয়া সেই অদ্ভূত শব্দটি – ‘জন্মভূমি’। বাংলাদেশের অন্তর্গত ‘ভারতীয়’ ছিটমহলে ‘ভারতীয়’ নাগরিক শিশু পাশের গ্রামে (অর্থাৎ বাংলাদেশে) গিয়ে শিখেছে যে তার প্রধানমন্ত্রী হলো শেখ হাসিনা। সর্বার্থেই ছিট-মহল গুলি প্রান্তিক, এমনকি রাষ্ট্রও তাদের থেকে আনুগত্য দাবি করে না। ভারতের নাগরিক নিজেকে ভারতীয় মনে করে কিনা, তেরঙ্গা দেখে সটান হয় কিনা, গান্ধী দেখে শ্রদ্ধা দেখানোর ভাব করে কিনা, ক্রিকেটে পাকিস্থান-ঘেন্না করে কিনা, ছিটমহলবাসীদের ক্ষেত্রে ভারতের তাও এসে যেত না। আজকালকার রাষ্ট্র-ভিত্তিক বিশ্ব-চরাচর-কল্পনার দিনে  দিনে এর চেয়ে হতোছেদা আর কি করে করা যেতে পারে। যাই হোক, আশা করা যায় যে এখান থেকে দুই দেশের বাচ্চারা ঠিক ঠিক পতাকা দেখে ঠিক ঠিক সটান হতে শিখবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী, যিনি ঘুণাক্ষরেও সোসিয়াল মিডিয়া-তে হিন্দি ছাড়া কোন দেশী ভাষায় তার প্রজাদের বার্তা পাঠান না, এ হেন পাক্কা ভারতীয় জাতীয়তাবাদী পূর্ব্ববাংলা সফরকালে সস্তা চমক দিয়ে সেখানকার বাঙ্গালীর মন জয় করার জন্য টুইট করলেন বাংলায়। একজন পশ্চিম-বঙ্গবাসী হিসেবে এটা  কতটা অপমানজনক যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের সেটুকু স্বীকৃতিও দেয় না, যতটা কিনা পূর্ব্ব-বঙ্গবাসীদের দেয়। আকাশ খুব অন্ধকার।  আমরা একটু নিজেদের ভাঙ্গা সিঁড়দারাটার দিকে চেয়ে দেখি, একটু লজ্জা পাই, একটু ক্ষুব্ধ হই, একটু আত্মসম্মান সঞ্চয় করি । স্বীকৃতি দিক না দিক, দিল্লি বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের থেকে করের টাকা নিয়ে খয়রাতি করে আসবে বিদেশে একটি বিশেষ ভাষা-কে ‘ভারতের  মুখ’হিসেবে ফোকাস দেওয়ার জন্য। এবার-ও নরেন্দ্রভাই-এর ঢাকা সফরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে নতুন দিল্লির সরকার বাহাদুরের কল্যানে। বাঙালি, তামিল, অহমিয়া, তেলুগু, কন্নড়-ভাষী মানুষেরা এটা জেনে প্রীত হবেন যে তাদের ভাষা-সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব-টা হিন্দী আপনাদের না জানিয়েই নিয়ে নিয়েছেন আর সাথে নিয়েছে আপনাদের করের টাকা।  বলাই-বাহূল্য, নতুন দিল্লীর খয়রাতি পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগটির নাম হিন্দী। আর এই সব খয়রাতি করে অনেকে ভেবেছেন ওরা হেব্বি খুশি।  ওরা কিন্তু অনেকেই বেশ রেগে আছেন।

কলকাতার হো চি মিন সরনীর নাম অনেকেই শুনে থাকবেন।  কেউ কেউ হয়তো জানবেন যে এই রাস্তার আগের নাম ছিল হ্যারিংটন স্ট্রীট। কে এই হ্যারিংটন? ইনি ফিরিঙ্গি কোম্পানির আমলে নিজামত বা সদর আদালত-এর প্রধান বিচারক ছিলেন।  ১৮২৩ সালের  ২৮ জুন তিনি লিখিত মন্তব্য করেন যে সতীদাহ প্রথা যদি তখুনি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলেও এই নিষিদ্ধকরণের বিরুধ্যে তেমন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন তিনি আশা করেন না। অর্থাৎ জনগণ সে অর্থে সতিদাহর পক্ষে ছিল না। সতী-দাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় এর ছয় বছর পরে, ১৮২৯ -এ। নানা বিরুদ্ধতা উপেক্ষা সত্তেও সতিদাহ নিষিদ্ধকরণের যে প্রকাশ্য নায়কদের কথা আমাদের চিরকাল জেনে এসেছি, কিন্তু নেপথ্য নায়ক যে জনগণ, তাদেরকে স্বীকার করে নেন হ্যারিংটন। ফলে নায়কদের উচ্চতা একটু কমে, তাদের সংগ্রাম একটু ফ্যাকাশে হয়। তবুও সেটাই বাস্তব।  হ্যারিংটন-এর নামের জায়গায় হো চি মিন  দিয়ে সেটা ভোলা যায় না।  তবে হো চি মিন নামকরণের ছিল আরেকটি উদ্দেশ্য, এবং সেটি কিন্তু গর্ব করার মতো। এই রাস্তাতেই মার্কিন কনসুলেট। ভিয়েতনাম-এ মহিলা-শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে মানুষকে হত্যা করার যে নৃশংস খেলায় মেতেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এটা ছিল তার-ই বিরুধ্যে কলকাতার নিজের মত করে প্রতিবাদ। একটু লজ্জা দেওয়া, একটু বিড়ম্বনায় ফেলা। কলকাতার মার্কিন দূতাবাসকে আজ-ও হো চি মিন-এর নাম স্মরণ করতে হয়, না চাইলেও। নৃশংসতার প্রতিবাদ হিসেবে লজ্জা দেওয়ার মতো নাম পরিবর্তনের দাবি কিন্তু বেশ ছোয়াঁচে।  নিষ্পাপ শিশু ফেলানি-কে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বি-এস-এফ বাহিনী গুলি করে হত্যা করে দুই বাংলার সীমান্তে। গরীবের মেয়ে ফেলানির দেহ লটকে সীমান্তের কাঁটাতারে লটকে থাকে বেশ কিছু সময়। আর বিঁধে থাকে ‘অনুভূতিগুলো’। এই কাঁটা-তার-এ ঝুলে থাকা শিশুর ছবিটি ভারতের ‘স্বাধীন’ ও ‘মুক্ত’ সংবাদ-মাধ্যম খুব বেশি প্রচার না করলেও, সারা বিশ্ব জেনে গেছিল ফেলানিকে এবং তাকে খুন করা উর্ধি-ধারী বাহিনীকে, যাদের মাইনে  আমি আপনি দিই। বাঙ্গালীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ঢাকায় উঠেছিল প্রতিবাদের ঝড়, দাবি উঠেছিল সেখানকার ভারতীয় দুতাবাসের সামনের রাস্তার নাম বদলে  ফেলানির নামে করে দেবার জন্য। তারপর যা হবার, তাই হয়েছে।  গরিব মানুষের মেয়ের মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদ বেশিদিন টিকে থাকে না – ঘটনা হয়ে যায় সংখ্যা । ফেলানি ঝুলে ছিল যে কাঁটা-তারে, দুই বাংলার মধ্যে সে কাঁটা-তার বানিয়েছে দিল্লী। এতে ওপার থেকে অনুপ্রবেশ কমেছে কিনা, তার কোন খবর নেই , তবে এই কাঁটা-তার লাগানোর বরাত পেয়ে যে ঠিকাদার-রা কাজ করেছেন, তারা যাদের ঠিকাদার হবার নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের যে পকেট ভালই ভরেছে, সেটা বলাই বাহুল্য। সেটাও আমার আপনার টাকা। তবে এটা যেহেতু ‘জাতীয় সুরক্ষা’র প্রশ্ন, বেশি হিসেব চাইবেন না। বেশি হিসেব চাইলে আপনাকে সিধা করার মত নানা কালা কানুন ভারতে মজুত আছে – অশোক-স্তম্ভের সিংহ-গুলি শুধু দাঁড়িয়ে থাকে না, কামড়ে রক্ত-ও বার করে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি পূর্ব্ব বাংলা ঘুরে এসে বললেন যে ছিট-মহল বিনিময়ের ঘটনা হলো বার্লিনের প্রাচীরের পতনের মতই ‘ঐতিহাসিক’। এই ‘ঐতিহাসিক’ ধারণাটা আমি কখুনই ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কোনটা ঐতিহাসিক, কোনটা নয়, কেই বা সেসব ঠিক করে দেয়।  তবে এটুকু জানি, যে দুই গরীব বাস্তুহারা টইটুম্বুর  বাংলার মধ্যে যে ‘অনিকেত প্রান্তর’, তার মাঝে কাঁটা-তার বসিয়ে আর যাই হোক, বার্লিনের প্রাচীর পতন হয় না। সীমান্ত-বাসী মানুষের ভাষা যারা বোঝে না, তাদের গায়ে উর্দি পরিয়ে, হাতে বন্দুক ধরিয়ে ধর্ষণ করানোকে, মন-মর্জি মতো মারামারি ও জিনিস-পত্র হাতানোকে, হতদরিদ্র মানুষ খুন করানোকে ‘সুরক্ষা’র নাম দেওয়া পাপ। এই পাপ কিন্তু আমাদের পয়সায় মাইনে পাওয়া-রা কিন্তু করে এপার বাংলার মানুষজনের সঙ্গেও।  এমন পাপ মা দূর্গা কখুনো মাফ করবেন কিনা জানিনা।

যখন এই দিল্লী-ঢাকা শীর্ষ দেওয়া-নেওয়া হচ্ছিল, পাশে থাকা থেকে সাথে থাকার সুললিত বাণী দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখুনই হাসিনা সরকারের প্রবাস কল্যাণমন্ত্রী মোশারফ হোসেন ফরিদপুরে তার বহুদিনকার চেনা একটি প্রথিত্জসা সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি জোর করে হাতিয়ে নেবার সব রকম ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। একদিন হয়তো সেই নিপীড়িত পরিবারের একজন ‘এপারে’ চলে আসবে। পশ্চিম-বঙ্গের বাঙ্গালীদের সংস্কৃতিক নিজস্বতাকে যারা স্বীকৃতি দেয় না, তাদের কোলেই খুঁজতে হবে নতুন আশ্রয় ও পরিচয়। তারপর তার এই নতুন প্রভু তার নিজের রাজনীতির খেলার অংশ হিসেবে দেখাবেন ‘নাগরিকত্বের’ লোভ। তাই দেখে পূর্ব্ব বাংলার কেউ কেউ বলবেন যে এমন ঘোষণা হলো অনধিকার-চর্চা। ঘর-পালানো মানুষটা কি আজ-ও ‘ওপারের’?  পূর্ব্ব বাংলার ভিটে ছেড়ে পালিয়ে আসা বাঙ্গালী হিন্দু ঠিক কোন মুহুর্তে ‘ইন্ডিয়ান’ হয়ে যায় এবং দেশ নিয়ে কিছু বলার অধিকার হারায়? পালানোর দিন ? বর্ডার পেরোলে ? ‘ইন্ডিয়ান’ নাগরিকত্ব পেলে? দুই পুরুষ পরে? নাকি এসবের অনেক আগে, ‘ভুল’ ধর্মে জন্মমুহুর্তে? আমি জানি না।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Bengal, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Hindustan, Identity, India, Kolkata, Language, Partition, Religion

কুমিল্লা সংস্কৃতি উত্সব – স্পর্ধা অন্যতর

আমি যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌছলাম পড়াশুনো করতে, তখন ওখানে স্থিত পশ্চিম বাংলার বাঙ্গালীদের মধ্যে অদ্ভূত আবিষ্কার করলাম। আপনি কোথাকার, এটা জিগেশ করলে, কেউ তার জেলা শহরের কথা বলেন না। প্রশ্নকর্তার ‘সুবিধার্থে’ বলেন যে তিনি কলকাতার।  কলকাতার একটা ব্যাপ্তি আছে।  ১৪৪ ওয়ার্ড-দিয়ে গড়া। আমি কলকাতা থেকে  বরানগরে  কর্মস্থলে যাই।  এটা কলকাতা নয়। কলকাতার উত্তরে একটা এলাকা। এখানকার অনেক মানুষ সহজ ভাবেই বলেন যে কাজে কলকাতায় যাচ্ছেন। আরেকটু উত্তরে ব্যারাকপুরে  কথাই নেই।  সেখানে এটা আরো পরিষ্কার ভাবে কলকাতা নয়, মানুষের ভাবনায়, চেতনায়, কল্পনায়। কিন্তু এই সব কিছু-কে কলকাতা মহানগরের মধ্যে মিলিয়ে দেবার প্রবণতার পিছনে আরেকটা কিছু রয়েছে। একটি শ্রেনীর হয়েছে, যারা কোনো কিছুরই নন গভীর-ভাবে।  তাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক।  ‘গ্লোবাল’ দুনিয়ার ম্যাপে একটা খুঁটি পোতা  এবং অন্যদের কে বোঝানো – এটাই সেই আত্মপরিচিতির লক্ষ্য। এক সাথে রয়েছে স্থানীয় অনেক ব্যাপার থেকে এলিয়েনেশন। সেটা শ্রেণীগত কারণে হতে পারে, ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির লেজুর-বৃত্তির ইপ্সায়  হতে পারে, স্থানীয় সংস্কৃতিক ধারা নিয়ে নিরক্ষরতাও একটা কারণ বটে। কিন্তু সকলে এমন নন। পূর্ব বাংলার যে মানুষদের সাথে আমার পরিচয়, তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভাবে স্থানীয় পরিচয় গৌণ  নয়, বা নিজেকে ‘ঢাকা’র বলে জানানোর প্রবৃত্তি কম।  এটা অনাবাসীদের ক্ষেত্রেও সত্যি। আমার বাড়ি চেতলা এলাকায়। আমি এখুন সেখানে থাকি।  পড়াশুনো ও গবেষনার কারণে ৮ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছি। আমি অতি ভাগ্যবান যে এমন এক নিবিড় পারা-সংস্কৃতি, ধর্মাচার ও নানা রকম মানুষ ও বাজারের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি বড় হবার সময়ে। যেহেতু আমি চেতলার, বাকি কলকাতা বা ‘কলকাতা’ কে দেখার আমার যে দৃষ্টি , যার মধ্যে চেতলার ছাপ অনস্বীকার্য।  আর সেটা হবে নাই বা কেন?  মাটি থেকে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, হাওয়া থেকে নয়, এলিয়েনেটেড মানুষের আমদানি করা ভাঁজ থেকে না। স্বেচ্ছায় শিকড়হীন শ্রেণী যে পশ্চিম বঙ্গে ও কিছুটা পূর্ব বঙ্গেও রাজনীতিতে, ক্ষমতায়, সংস্কৃতিতে – অন্দরে ও বিশ্বের কাছে নিখিল বাংলাদেশের মানুষের ‘মুখপত্র’ হয়েছেন মূলতঃ শ্রেণীগত ভাবে এক ধরনের ইংরেজি ভাষায় সমাজকে স্থুল ভাবে সাহেবের কাছে ও একে অপরের কাছে প্রদর্শনের কারণে, এ আমাদের লজ্জা। দোষ তাদের না – দোষ বাকিদের, যারা এই জায়গা ছেড়ে দিয়েছে ভয়, স্পর্ধাহিনতায়। মাটির থেকে, স্থানজ সংস্কৃতি থেকে বিছিন্ন শ্রেনীর এই আধিপত্যের বিরুধ্যে লড়াই একটা গভীর লড়াই – এর সাথে আমাদের যুগের সংস্কৃতিক সংকট, ও তার সাথে ক্ষমতার সম্পর্কের প্রশ্ন অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। এই ‘আব্সেনটি ল্যান্ডলর্ড’ শ্রেনীর বিরুধ্যে সংগ্রাম কোন প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতিক প্রতিরোধ নয়। পশ্চিম-চালিত একমুখী বৈচিত্র-বিরোধী যে দানবের দুনিয়া জোড়া আস্ফালন আমাদের পোড়ার দেশগুলিতে, তার শিকড়হীন দেশীয় দালাল-দের বিরুধ্যে সংগ্রাম আসলে গণতন্ত্রিকরণের সংগ্রাম। এটাই এই যুগের গণ-লাইন। নানা বৈচিত্রের, নানা বিভন্গের মানব-জমিন কে দখলদার মুক্ত করা, যাতে কিনা ‘ডকুমেন্টেশন’ এর বাইরেও কিছু হয়, যাতে সে জমিতে নতুন ফসল ফোটে , যে জমিতে পূর্বসুরীরা ফসল ফলিয়েছেন – তার ধারাবাহিকতায় ও এবং সেই  স্থানীয় পরিপ্রেক্ষিতে তার থেকেই বিচ্ছিন্নতায় – যে বিছিনতায় রয়েছে, যার থেকে বিছিন্ন, তার গভীর ছাপ।

এই কথাগুলি বলার কারণ হলো আমাদের সংস্কৃতিক ভাবনা ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও, কলকাতা-ঢাকা কেন্দ্রিকতার ঝোঁক স্পষ্ট। কল্কে পাবার যে সংজ্ঞা গুলি, কোন উদ্যোগ হলে সেটি কোথায় হতে হবে, করা করা না দেখলে তা প্রায় দেখার মতোই হলো না – এই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে বেশ কিছু কুসংস্কার কাজ করে। ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতি থেকেও তাহলে কিছু কিছু কুসংস্কারের উদ্ভব হয় – সব কিছু আমাদের স্থানজ যাপন ও চর্চার দোষ না। কি বলেন ?

অনেক কিছুই হয় কলকাতায়।  কিছুতে লোক আসে, কিছুতে আসে না।  অনেক ক্ষেত্রে অপাত্রে দান হয়। যদিও সে চর্চার মাহাত্ম্য বোঝার আসল লোক অন্যত্র।  কিন্তু সেখানে হলে মহানগরবাসী আদৌ যাবেন না।  অত দূর যাওয়া যায় নাকি। বাঁকুড়া – সে তো বহুদূর।  কিন্তু সে বাঁকুড়া থেকেই তারা আসেন, কলকাতার অত্যধিক ত্যালা মাথার তেল একটু গায়ে লাগানোর জন্য।  এই ধরনের সংস্কৃতিক কেন্দ্রিকতা সংস্কৃতিকে একটা নিষ্প্রাণ ধারণার সাথে ঠিক আছে, কিন্তু যাপন ও স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, এলাকার জল-আবহাওবায় ভেজে না সে সংস্কৃতি। তাই হয়তো তা  ‘এক্সপোর্ট কোয়ালিটি’র না। ডানা ছেঁটে, তাকে সাইজ করে, ‘ডকুমেন্ট’ করে, রামের জিনিস শ্যামকে দেখিয়ে,  সংগঠক হিসেবে নিজের নাম দিয়ে, এক শ্রেনীর ঠিকাদার নাম কামান সংস্কৃতির ধারক বাহক ও সমঝদার হিসেবে।  এদের শিকর-হীনতার জন্যেই, স্থানীয় ভ্যালুস এদের জীবনে অপ্রাসঙ্গিক হবার কারণে, এদের গর্জে ওঠেন ‘ঘষা-মজা’ না-করা স্থানীয় সংস্কৃতিক প্রকাশের বিরুধ্যে। কেন্দ্রিকতায় এদের কায়েমী স্বার্থ। ‘কস্মপলিটানিজম’ এর নাম এক বিশেষ ধরনের সংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ এদের মূল-মন্ত্র, যেখানে ল্যাজ-কাটা শেয়াল ল্যাজ-ওলা শেয়ালদের নিজ ল্যাজ সম্বন্ধে লজ্জিত করানোর চেষ্টা করে, ‘উচ্চমার্গ’ ও সূক্ষতার দোহাই দিয়ে। গণসংস্কৃতি, জনসংখ্যা -এদের বড় শত্রু। তাই সেগুলিকে জোর করে অদৃশ্য করে দেওয়ার চেষ্টা চলে নিরন্তর। তাই তো মনে হয় অনেকের কথা শুনে না ‘ইউথ’ মানে সে যে কফির পেয়ালা ধরে এক ধরনের চর্চা করে।  বাকি কিছুই ইউথ না। অন্ততঃ তাদের ইউথ হয়ে উঠতে অনেকগুলি ধাপ পেরোতে হবে, পরীক্ষা দিতে হবে শিকড়হীনতার – মাথায় তেলের চেয়ে সেম্পু বেশি লাগানোর।

এত কথা বললাম, কারণ ক্ষমতার সঙ্গে সন্ধি করে যে সংস্কৃতিক স্রোত বইছে মহানগরে, তার থেকে আলাদা যে কোন উদ্যোগ-ই বিরুদ্ধতা।  দহয়ত এটা দুঃখের যে স্বাভাবিক ভাবে বাঁকুড়া তে থেকে বাঁকুড়া নিমজ্জিত থাকাও আজকে একরকম দ্রোহ। এতেই ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির অসহনশীলতার প্রকাশ। এরই মাঝে দাঁড়িয়ে আছে – এক, দুই, তিন নয় – ৫ বছরের কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।

এই বাত্সরিক উত্সব কুমিল্লার মানুষের, অবারিত দ্বার সেখানে। সংগঠক এলাকার মানুষ, নতুন মানুষ এবং কুমিল্লার চশমা পরে বিশ্ব দেখে এসে ফের কুমিল্লায় আস্তানা বাঁধা মানুষজন – মনজুরুল আজিম পলাশ যার অন্যতম। এলাকার সংস্কৃতি, তার উপর যে নানা স্বার্থান্বেষী, বিদ্বেষী আঘাত – আধুনিকতার নাম, ধর্মের নাম – সে সকলের বিরুধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এই উত্সব। ঢাকা, কলকাতা, চিটাগাং, টরন্টো, চীন এসকল জায়গা থেকে মানুষ কুমিল্লা গেছিলাম।  বড় শহর থেকে মানুষ ছোট শহরে যাবে কিছু পাবার জন্য – জজ-জুরি হিসেবে না, অতিথি হিসেবে, নিজেকে ব্যাপ্ত করার সুযোগ হিসেবে – এটা আজকের সময়ে বড় কম কথা নয়। এবং সেখানকার গণ-সংস্কৃতির কাছে মাথা নবাবে, আঁজলা  ভরে নেবে, হয়ত বা কিছু দেবেও।  এই ভাবেই অতিথির চোখে দেখলাম এই অসাধারণ উত্সব।  সুসু অতীত চর্চা নয়, শুধু ‘সনাতন’ চর্চা নয়, আবার সেসব বাদ দিয়েও নয়, আবার সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা কে সামনে রেখে, অনেক স্বেচ্ছা-সেবকের উদ্যোগে হলো এই উত্সব।  এলাকার গণ-সংস্কৃতির ও গর্ববোধের কাঠামো যে মজবুত তা বুঝলাম কুমিল্লার একাধিক স্থানীয় দৈনিক কাগজ দেখে – এবং সেখানে এই উত্সবের উত্সাহী রিপোর্টিং দেখে।  আলাপ হলো কুম্মিলার কাগজের নির্ভিক দরদী সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের সাথে।  আরো কত জানা হলো, কত কিছু শিখলাম।

এই সময়ে, এই স্পর্ধা করা যে কুমিল্লায়, তাদের কাছে যে মাল মজুত আছে, তা ঝুলি থেকে বার করে দেখালে, বাইরে থেকে লোক আসবে। তারাও আসবে নিজেদের একটু আধটু নিয়ে, নিয়ে যাবে অনেক বেশি।  আজকের কেন্দ্রিকতার দুনিয়ায়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব ( কুমিল্লা কালচারাল ফেস্টিভেল) -এর স্পর্ধা অন্যতর বিশ্বায়নের এক মেনিফেস্টোর মত – গণসংযোগ, স্থানীয় সংস্কৃতিক স্বাক্ষরতা, মাটির সাথে সম্পর্ক, মানুষ সম্পর্কে শ্রদ্ধা, বিকেন্দ্রীকরণ, গণতন্ত্রীকরণ এবং নিজেকে পৃথিবীর কেন্দ্র মনে করা এক বহুকেন্দ্রিক পৃথিবীর কল্পনা করা।

গেছিলাম আমন্ত্রণে।  ফিরলাম এলাকাকে ও তার মানুষকে একটু চিনে, আর এও জেনে যে ঢাকা ও কলকাতার দিয়ে সংস্কৃতির সকল ধারা কে বাধ দেওয়া যায় না, এবং সেগুলি অনেক কিছুর জন্যই আদর্শ স্থান নয়।  আমার-ও কিছু পাওয়ার আছে কুমিল্লা থেকে। কাউন্টার ভ্যানগার্ড হয়ে হয়্তো তা ভ্যানগার্ড ধারণার সঙ্গে একটা সমালোচনা-মূলক সংলাপ। সেদিক থেকে কুমিল্লার এই উত্সব পথিকৃত। এলাকার গান ছিল, এলাকার নাটক ছিল, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আশা মানুষের একাধিক মাস্টার ক্লাস ছিল, মোটর সাইকেল স্টান্ট ছিল, আলাপ-আড্ডা-হেঁটে বেড়ানো ছিল। পর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনা ছিল।  স্থানীয় অশুভ শক্তির সাথে যুগপত সমঝোতা ও বিরুদ্ধতার যে কঠিন আভ্যন্তরীন সংগ্রাম, তাও ছিল।  শুধু অনুষ্ঠান সূচী দিয়ে এই উত্সব কে বোঝা যাবে না।  তার জন্য নিজ এলাকায় এমন উত্সব সংগঠিত করতে হবে, মানুষকে জুড়তে হবে।  কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব কোন তীর্থ না, এটি একটি মডেল। সতী মাতার শরীরের নানা অংশ বাংলার নানা স্থানে পড়েছিল , এক স্থানে পড়ে নি। তাই এত গুলি তীর্থ কে কেন্দ্র করা এতগুলি ধারা, এতগুলি চর্চা ও ভাবনা। পুরনো তীর্থ গুলু ধুঁকছে, নতুন তীর্থ জন্মাচ্ছে না,  ঢাকা-কলকাতা ‘মহাতীর্থ’ হয়ে উঠছে।  এই সময়ে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব একটি আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠার আভাস দেখায়। পরের বার ষষ্ঠ কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।  চোখ কান খোলা রাখব আমি, আপনারাও রাখবেন। বিকল্প অন্বেষণের  একই প্রয়োগশালাটি  আবার দেখা সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Dhaka, Kolkata

বোর্ড, শিক্ষা, আদর্শ – দিল্লী আমাদের ভবিষ্যত লুটছে

আমি যখন ডাক্তারী পড়তাম, একটা কথা বেশ চালু ছিল।এই যে পৃথিবীতে ডাক্তারদের বাজার কখুনোই কমবে না।  কারণ জনসংখ্যা বাড়তেই থাকবে, ফলে রোগীর সংখ্যাও বাড়তেই থাকবে। এই যুক্তিটি জন-সংখ্যার সাথে যুক্ত অনেক কিছুর ক্ষেত্রেই খাটে – যদি না ভয়ানক গোলমেলে কিছু ঘটে।  ঠিক তেমনই কিছু একটা ঘটছে আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা-ক্ষেত্রে। এবং আমরা উদাসীন।  একটু খুলে বলি।

শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা দিন কে দিন বাড়ছে, স্কুল পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ছে আর এসবের মধ্যেই এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে ! ভাবা যায়? তাও সামান্য, নয় – নয় নয় করে প্রায় ১৫ হাজার। একই সাথে অবশ্য এ বাংলায় প্রতি বছর বেড়ে চলেছে দিল্লীর নানা বোর্ডের পরীক্ষার্থী সংখ্যা। পর্ষদ কর্তারা বেহায়া হয়ে অদ্ভূত সব কারণ দিচ্ছেন। কলকাতা শহরে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা এতই কমে গেছে যে নানা রকম অজুহাতের শাক দিয়ে পচে যাওয়া মাছ থেকে দুর্গন্ধ আটকানো যাচ্ছে না একেবারেই। এ কেমন করে হলো? এবং এমন চলতে থাকলে, ক্ষতি কি? ক্লাস টেন পাশ করাই তো মোদ্দা কথা – মাধ্যমিক হোক বা সিবিএসই /আইসিএসই। ব্যাপারটা এত সহজ নয়।

শিক্ষা নাগরিক গঠন করে। তাই একজন স্কুল-পড়ুয়াকে কি শেখানো হবে, সেটা গুরুত্তপূর্ণ। আমাদের বাংলাদেশের জাতি ও সমাজের ভবিষ্যত এই ‘কি শেখানো হবে’র আদর্শের উপ নির্ভরশীল। একেই বলে সিলেবাস। মাধ্যমিক ও দিল্লী থেকে আমদানি করা বোর্ড-গুলির সিলেবাস এক নয়। পার্থক্য আছে।  এই পার্থক্য মানের তারতম্যের প্রশ্ন না , ভিন্নতার প্রশ্ন। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে এতগুলি রাজ্য বোর্ড, তাদের সিলেবাসের ভিন্নতা আছে কারণ এই এলাকার মধ্যে বিশাল বৈচিত্র ও ভিন্নতা রয়েছে। তাই সিলেবাসকে যদি হতে হয় বাস্তবমুখী ও ছাত্রের আপন পরিবেশের সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত, রাজ্য বোর্ড ছাড়া তার গতি নেই।  আর যদি ছাত্রটিকে তার পারিপার্শিকতা থেকে বিছিন্ন করে, তার বাঙালিত্বকে ছেঁটে দিল্লি-নির্দেশিত এক কল্পিত ভারতীয়ত্তর জোব্বা পড়ানোই হয় সিলেবাসের লক্ষ্য, তাহলে দিল্লির বোর্ড-গুলির জুড়ি মেলা ভার। যা শুরু হয়েছিল সৈন্য বাহিনী ও বদলির চাকরির লোকেদের সুবিদার্থে তথা মিশনারী কিছু প্রচেষ্টায়, সেই গোষ্ঠী-গুলির দ্বারা পরিচালিত বোর্ড-গুলি এখুন কেন্দ্রীয়-সরকারী নীতির মদতে এক-কালের শক্তিশালী ও খ্যাতিমান রাজ্য বোর্ড-গুলিকে পরিকল্পনা-মাফিক মুমূর্ষু করে তুলছে – শিক্ষার বানিজ্যিকরন তথা নাগরিকদের বৈচিত্র হরণের দ্বিমুখী উদ্দেশ্যে।  তার ফল ভয়ানক।

বাংলার বোর্ডে ইংরাজি, বাংলা বা হিন্দী মাধ্যমে পড়া ছাত্রটি জানতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ভূগোলের খুঁটিনাটি বা বাংলার ধানের খেতে কি কি বোকা লাগে। তার ইতিহাস শিক্ষা স্রেফ দিল্লির  প্রাচীন ও বর্তমান সম্রাটদের গুনগাথায় সীমিত থাকে না। ভবিষ্যতে, জলে আর্সেনিক দুষণের প্রভাব দিল্লি থেকে আমদানি বোর্ড-গুলির সিলেবাসে না ঢুকলেও আমাদের ছেলে-মেয়েদের তা নিয়ে শিক্ষিত হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আমাদের এই বাংলাদেশের বৈশিষ্টগুলিকে বিশেষ-ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ইচ্ছা বা দায়, কোনটাই দিল্লীর নেই। ওদের থেকে আমদানি করা বোর্ড-এ  আপনার ছেলে-মেয়ে এই বাংলায় বসে ক্লাস-টেন পাশ করতে পারে এক বর্ণ বাংলা না শিখে। এই বঙ্গদেশের অধিকাংশ দিল্লী-বোর্ড-ওয়ালা ইস্কুলে প্রথম ভাষা হিসেবে বাংলা পড়ার কোন সুযোগ নেই। ভারতীয়ত্বের হাঁড়িকাঠে বাঙালিত্বের বলি দিয়ে যারা গুরগাঁও-বেঙ্গালুরুর দিকে শিশুকাল চেয়ে থাকবে চাতকের মতো, স্বপ্ন দেখবে হিন্দীর দেশের ইংরেজি মরুদ্যানে খেজুর গাছ হবার, আমরা কি সেই সন্তান গড়তে চাই? আত্মঘাতী হবার জন্য এর চেয়ে অনেক সহজ পথ আছে। 

এই বোর্ড-গুলি কার, এবং কাদের প্রাধান্য রক্ষা করতে গঠিত ও পরিচালিত, তা তামিল নাডু বা কর্ণাটকের অনেক শিক্ষাবিদের কাছেই পরিষ্কার।  শুধু এই অধম বাঙালি তার নিজের বোর্ড-এ পড়া ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত অন্ধকার করতে চায়, দিল্লির বোর্ড-গুলির সুবিধা করে দিয়ে।  কি ভাবে ? অনেক ভাবে।  একটা উদাহরণ এরকম।  অনেক  ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার।  তার জন্য দিতে হয় জয়েন্ট পরীক্ষা। তার সিলেবাস অধুনা বদলানো হয়েছে – যাতে কিনা পশ্চিমবঙ্গের বোর্ড ও দিল্লি থেকে আমদানি করা বোর্ড-গুলির সিলেবাসের মধ্যে যে অংশটুকু কমন, প্রশ্ন আসবে শুধু সেখান থেকেই।  অথচ, কেন্দ্র যে আইআইটি বা  অল ইন্ডিয়া প্রি-মেডিকেল পরীক্ষা নেয় , সেখানে কিন্তু কোন কমনের বালাই নেই – একদম সোজাসুজি দিল্লির বোর্ড-গুলির সিলেবাসকে অনুসরণ করা হয়।  অথচ, যেটুকু সুযোগ আমরা আমাদের ছাত্রদের দিতে পারি, সেখানে আমরা তাদের লেঙ্গি মারছি ‘কমন’ ‘কমন’ খেলায়।  আর বাংলার মেডিকেল কলেজগুলি থেকে যে ডাক্তার বেরুবে, যে কলেজগুলি বাংলার মানুষের টাকায় গড়া, তা কার  স্বার্থে? নিশ্চই কতিপয় কলকাতাবাসী ‘এস্পিরেসনাল’ যুবক-যুবতীর কেরিয়ার গর্তে নয়।  বরং তা বাংলার মানুষের স্বাস্থ্যের স্বার্থে।  আজ-ও বাংলার কনে কনে যে ডাক্তার , তারা অধিকাংশ সেই পশ্চিমবঙ্গ বোর্ড-এই পড়া  .গুরগাঁও-বেঙ্গালুরু-লন্ডনের স্বপ্নে বিভোর আধুনিক শহুরে ভারতীয় দিয়ে এই বাংলার স্বাস্থ্য পরিসেবা চলবে না, তার জন্য চাই সেই বাংলা বোর্ডের ছেলেমেয়েগুলিকে  – যারা জেলাগুলিকে চেনে, বাংলার গ্রাম-মফস্স্বল চেনে, এলাকার ভাষা জানে।  কোথায় আমরা তাদের আরো আরো সামনে আনব – তা না করে আমরা  ‘আধুনিকীকরণের’ নাম বাংলার নিজের বোর্ড-কে ধ্বংস করছি। এ সকলেই জানেন যে পশ্চিমবাংলায় দিল্লি থেকে আমদানি করা বোর্ডে পরা শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে  বেশি  শহরকেন্দ্রিক, বেশি বিত্তশালী বর্ণহিন্দু প্রভাবিত। পাশ করলেই বাংলা ছেড়ে ফুরুত হবার স্বপ্নে বিভোর শ্রেনীর ত্যালা মাথায়ে তেল দিয়েই কি আমরা  সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা করছি ?  গুরগাঁও-এর কর্পোরেট হাসপাতালের ডাক্তার গড়ার কোন দায় পশ্চিম-বাংলার মানুষের নেই। বাংলা বোর্ডের সিলেবাস নির্ধারণকারী আধিকারিক যারা, জয়েন্ট এন্ট্রেন্স বর্ডার পদাধিকারী যারা, তাদের সন্তানেরা কোন বোর্ডে পড়েন, সেটা জানা দরকার। নইলে এসব ক্ষেত্রে  অন্য কি কি ধরনের স্বার্থ  কাজ করতে পারে, তা জানা যাবে না।  আমাদের বুঝতে হবে কাদের চক্রান্তে বাংলা বোর্ড ক্রমে পরিনত হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেনীর বোর্ডে, যেখানে বনের জলে ভেসে আসার ঠাই পাবেন।

বাঁকুড়া জেলা স্কুল, বর্ধমানের সিএমএস। সিউরী জেলা স্কুল – এই নামজাদা প্রতিষ্ঠানগুলিকে জোর করে হারিয়ে দিলে শেষ নিরিখে বাংলা হারবে। দিল্লির নামধারী ইস্কুলে দিল্লি থেকে আমদানি সিলেবাস পড়ে শহুরে বাঙালির  বাচ্চারা মানুষ হবে – বাংলার ভবিষ্যত আর যেখানেই হোক, এই উড়ে এসে জুড়ে ব্যবসা করা ইস্কুল্গুলির অলিন্দে খোঁজা অনুচিত। ব্যাপারটিকে যেন আমরা  মাতৃভাষায় শিক্ষার সাথে গুলিয়ে না ফেলি।  পশ্চিমবঙ্গের মধ্যশিক্ষা প্রসদের অনুমোদিত স্কুলগুলির সিলেবাস বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে অভিন্ন।  আমি পড়েছিলাম সাউথ পয়েন্ট-এ , এক কালের নামজাদা ইস্কুল, পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের মুকুটের একসময়কার মণি।  এখান সময় পাল্টেছে – সেখানেও দিল্লি ও কেন্দ্র ঢুকেছে। শুনি ব্যবসা বেড়েছে। বেনিয়া কেন্দ্রীয়করণের এই প্রকল্পে, বাংলার মাজরা পোকা ও আলুর ধ্বসা রোগে নিয়ে শিক্ষার কোন জায়গা নেই।  তবুও কি আমরা আশা করতে পারি না, আমরা আমাদের বাংলার বোর্ড সেই ভাবে গড়ব , যাতে কিনা শহুরে বাঙ্গালী  ‘মিডিল-কেলাস’-এর গ্লোবাল ও ইন্ডিয়ান পোলাপানের সাথে মফস্স্বলের, গ্রামের, শহরের মধ্যে অন্যত্র শহরের সেইসব ছেলেমেয়েরাও সুযোগ পায় সাফল্যের – যাদের আজ দিল্লি ও তাদের বাঙালি দালালেরা জোর করে হারিয়ে দিচ্ছে।

2 Comments

Filed under Acedemia, বাংলা, Bengal, Class, Delhi Durbar, Education, Elite, Identity, Kolkata, Language

আমার শহর, আমার আশা

সামনেই আমার শহর কলকাতার পৌর নির্বাচন। এ শহর আমার জন্মের শহর। এখানে বস্তিবাসীকে নিমেষে হটিয়ে দিয়ে শহর ‘পরিষ্কার’ করা যায় না – কাউন্সিলর এম-এল-এর বেনামীতে প্রমোটারী ব্যবসা সত্ত্বেও। এখানে প্রধান প্রধান রাজপথে লক্ষ লক্ষ্য হকার সৎ ভাবে আয় করেন – মানুষের পেটে লাথি মেরে সূর্যোদয়ের বিরূদ্ধে দাঁড়ায় এ শহরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। এ শহরের পথে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলার গরীব খাটিয়ে মানুষ বাংলা ভাষার জ্ঞান ছাড়াই ক্ষুন্নিবৃত্তি করে। অন্য কিছু শহর যেমন বাঙ্গালিকে হিন্দুস্তানি বা ইংরেজি বুলি বলতে বাধ্য করে, আমার শহর সেই পংক্তিতে পড়ে না। এ শহরের মন বড়। এ শহর আমার গর্বের শহর। তাই শহরের পৌরসভায় আমার প্রতিনিধিত্ব করবে কে, এটা খুব এলে-বেলে একটা সিদ্ধান্ত নয়। তেরঙ্গা পতাকার রাষ্ট্রর থেকে এই শহর আমার রোজকার জীবনে অনেক অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক, অনেক বেশি বাস্তব।

আমার এ শহর নিয়ে ক্ষোভ আছে – যেমন মানুষের থাকে একদম একান্ত নিজের কিছুকে নিয়ে। আমার ওয়ার্ডের পৌরপিতা আমাদের এলাকার নতুন কাজ বা পরিকল্পনা নিয়ে অরাজনৈতিক নাগরিক সভা করেন না। আমার এলাকায় আমার প্রতিনিধি যিনি, তার কাছ থেকে এইটুকু কি আশা করা খুব অন্যায়। আপনারা যারা এবারও আমার পৌর-প্রতিনিধি হবার ইচ্ছা রাখেন, এলাকার নানা পরিকল্পনা দলের রং না দেখে, নাগরিক-দের সাধারণ সভা ডেকে করবেন – এমন কথা দেবেন? এই টুকু চাইব না? অথচ আমার করের টাকাতেই তো পুরসভা চলে। বাড়ির বাচ্চাকে আলু-বেগুন কিনতে বাজারে পাঠালে আমরা পাই-পয়সার হিসেব নিই, আর কোটি কোটি টাকার বরাতে কর্পোরেশনের বাজার-রাস্তা-ইস্কুল-ত্রিফলার হিসেব নেব না ? হিসেব চাইব আমি নাগরিক হিসেবে। শহরের সৌন্দর্যায়নে আমার আপনার মতামত নেওয়ার দরকার নেই আমাদের প্রতিনিধিদের? নইলে সে কেমন প্রতিনিধি ? আমার আপনার ভোটে জিতে সে তাহলে কার প্রতিনিধিত্ব করে?

যে চরিত্রহীন, তার হীনমন্যতাই তাকে বাধ্য করে অন্যের চরিত্র ধার করে নিজেকে চরিত্রবান প্রমাণ করাতে। যার গায়ে কাপড় নেই, সে অন্যের জমকালো কাপড় গায় জড়িয়ে লজ্জা নিবারণ করে। যারা কলকাতাকে লন্ডন-নিউয়র্ক বানাতে চান, তারা না চেনেন কলকাতাকে, না চেনেন লন্ডন-নিউয়র্ককে। তাই তো তারা পরমা আইল্যান্ডের ‘পরমা’ স্থাপত্যকে ভেঙ্গে দেন অবলীলায়, বৃটেনের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রতিবাদ করে ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় এসে আস্তানা গড়া বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী ও সমাজচিন্তক জে বি এস হলডেনের নামাঙ্কিত রাস্তার নাম বদলের পায়তাড়া করা হয়। মধ্যমেধা ও মধ্যকল্পনার সাথে চাটুকারিতা ও দুনম্বরী মেশালে তিলোত্তমা গড়ার তিলের যোগান হয় না, লন্ডন-সিঙ্গাপুরের কয়েক তাল স্থুল অনুকরণ গড়া যায় ঠিকাদারী ব্যবসার মাধ্যমে। এ শহরের নিজস্বতা, এ শহরের প্রাণ-ভোমরা – শহর সাজাতে যদি তাকে যদি মন্থন না করা হয়, তখন সৌন্দর্য্য হয়ে ওঠে নগর ও নাগরিকের মধ্যেকার একটি দেওয়াল। সে দেওয়ালের উচ্চতা দেখে ভয় ও সমীহ হতে পারে, কিন্তু কেউ সেখানে গিয়ে চুমু খাবে না, আল্পনা দেবে না।

এ শহর দাঁড়ায় সিঙ্গুরের পাশে। তাই এ শহরে বিজনেস ক্লাসে উড়ে আসা লোক কম। আর খুব কম সম্বল করেও অমাবস্যার রাতে একটুখানি চাঁদের আলোর স্পর্শ পেতে চাওয়া লোকের সংখ্যা অনেক। আমার শহরের নায়কেরা শহরের নাম ভাঙিয়ে ক্রিকেট দল খোলে না , বিনোদন টেক্স বাকি রেখে নেচে কুদে ‘আই লাভ কলকাতা’ বলে বোম্বাই পালিয়ে যায় না। আমার শহরের আসল নায়কদের একজন হলো শমভু সিং। এ শহরের দক্ষিণে গগনচুম্বী বহুতলের খোপ-ঘরের আধুনিক হুল্লোড়ের উপর ঘুরপাক খায় জয় ইঞ্জিনিয়ারিং-এর নিহত কর্মী শমভু সিং-এর বিদেশী আত্মা – অপরাজিত সৈনিকের মতো। এহেন শহরের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব করা যে-সে কাজ না। এ শহর দিল্লি-বেঙ্গালুরু-নয়ডা-গুরগাঁও হতে চায় না। এ শহর এখুনো দোকানের নাম ও রাজনৈতিক পোস্টার লেখে মাতৃভাষায়। এ শহর হিন্দুস্তানের মরুভূমিতে মরুদ্যান নয়, ভাগীরথী-হুগলীর ব-দ্বীপের কোল ঘেঁসে গড়ে ওঠা মহা-গঞ্জ। এ শহর নিখিল বাংলাদেশের বৃহত্তম শহর। এ শহর অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের সকল বঙ্গবাসীর।

আমার শহরে থাবা বসিয়েছে অনেক দুর্বৃত্ত। তারা শহরের রাজপথে সাইকেল চালানোকে বে-আইনি ঘোষণা করেছে। তারা গাড়ি থামিয়ে মানুষকে সিগনাল পারাপার করতে একটু বেশি সময় চায় না। তাদের কাছে ট্রাফিক মানেই গাড়ি, রাস্তা মানে শুধুই গাড়ীর পথ। আমি চাই আমার পৌর-প্রতিনিধি এদের সমঝে দিক। আমি চাই আমার শহরে গাড়ি কমুক, বাস বাড়ুক, পথিক বাড়ুক। আমি চাই আমার আগামী প্রজন্ম সুস্থ থাকুক, ভালো ভাবে শহরে নিশ্বাস নিতে পারুক। যিনি আমার প্রতিনিধি হবেন, তার প্রতি আমার দাবি অনেক, আশা অনেক। তারা পারবেন-ও, যদি ইচ্ছা থাকে। আর যদি থাকে শহরের প্রতি ভালবাসা, শহরবাসীর প্রতি দরদ।

আমি চাই আমার ওয়ার্ডে আরো গাছ লাগানো হোক – ফলের, ফুলের। সবুজ রং দিয়ে শহর মুড়লে সবুজায়ন হয় না। নীল রং দিয়ে মুরলে নীলকন্ঠ হওয়া যায় না, পাপ পাপ-ই থেকে যায়। সাদা রং করে পবিত্র হওয়া যায় না – প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। লাল নিশান ওড়ালেই সংগ্রামী হওয়া যায় না – তাপসী মালিকের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। আসন্ন নির্বাচন পুরনো হিসেব বুঝে নেবার নির্বাচন, নতুন দাবি রাখার নির্বাচন।

আমার শহর দেশভাগের শহর। এ শহরে একাধিক বাজারের নাম বাস্তুহারা বাজার। এ শহরের অনেক হকার প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের রিফিউজি। এ শহর বিস্থাপিতের অভয়ারণ্য। এ শহর শুধুমাত্র মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তদের দিয়ে তৈরী ‘বস্তিহীন’ হকার-হীন ‘ছিম-ছাম’ ও ‘শান্তিপূর্ণ’ নকল শহর না। বাস্তুহারা বাজারের প্রতিনিধিত্ব বড়বাজারের দ্বারা সম্ভব না। ওসব এখানে হয় না।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Democracy, Kolkata, Urbanity

গোবিন্দ হালদারের নিষিদ্ধ ফিসফিস

সে যতই দেখনদারী হোক, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ওপার বাংলায় যাত্রার ফলে কিছু সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে – যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই একটি জাতির দুই বিভক্ত অংশের একে অপরের দিকে নতুন করে তাকানো। এই বিভক্তির কারণের মধ্যে, তার ঠিক-ভুলের মধ্যে না গিয়েও একটা কথা বলা যায়। দেশভাগ ও তার পরেও ঘটতে থাকা খুন-ধর্ষণ-ধর্মান্তরকরণ-লুঠ-ঘরপোড়ানো-সম্পত্তিদখল ইত্যাদি ভয়ানকের অপরাধের শাস্তি হয়নি, এপারেও – ওপারেও। এই আদি পেপার বোঝা সুদে-আসলে এতই ভারী যে মানুষ সেই বোঝাকে ফেলে দিয়ে ভুলেই গেছে পাপের কথা। প্রায়শ্চিত্ত তো দূরস্থান।

১৯৪৭-এর বাংলা-ভাগের সাথে ব্রিটিশদের দ্বারা উপমহাদেশের শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলির হাতে যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল, আজকের ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন, পাকিস্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এক অর্থে তার-ই ফসল। এই ভাগের সাথে সাথেই ‘আমরা’ কারা ,’বন্ধু’ কারা ’, ‘শত্রু’ কারা- এগুলির নানা মিথ রচনার বীজ পোঁতা হয়, যার থেকে বেরোনো মহীরুহ আজকের দিনে আমাদের মনকে, আমাদের কল্পনাকে একদম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে। নতুন রাষ্ট্রের পেটের গভীর থেকে জন্মানো এই কল্পকাহিনীগুলি যে আজ পবিত্র সত্যের স্থান নিয়েছে, তা শুধু গল্পের ভাবের জোরে নয়। সরকারী প্রচার এবং সরকারী বাহিনী, ঘুষ ও শাসানি, আঁচড় ও আদর, পুরস্কার ও থার্ড ডিগ্রী, জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও মিথ্যা মামলায় হাজতবাসের এক অসামান্য সংমিশ্রনেই আজকের পবিত্রতা, সংহতি, ‘বিকাশ’, রাষ্ট্রপ্রেমের জন্ম (দেশপ্রেমের নয়)। সাবালক এই সব বিষবৃক্ষের রসালো ফলের আমার দৈনিক কাস্টমার। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে, আমাদের স্বকীয় আত্মপরিচিতকে পিটিয়ে পিটিয়ে রাষ্ট্রীয় ছাঁচে ঢোকানো হয়েছে দিল্লী, ইসলামাবাদ ও ঢাকার মাতব্বরদের স্বার্থে। মানুষের আত্মাকে কেটে সাইজ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার জুজু দেখিয়ে। এই পাপ বঙ্গোপসাগরের থেকেও গভীর।

আমাদের কল্পনা ও স্মৃতির অগভীরতার কারণে আমরা মনে করি যে এক রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বোধয় দৈব নির্ধারিত কোন ‘প্রাকৃতিক’ নিয়ম যা না মানলে আমরা দুনম্বরী বিশ্বাসঘাতক মানুষ। যাদের আনুগত্য, টান ও ভালবাসা রাষ্ট্র-সীমান্ত পেরোলে ঝুপ করে উবে যায় না, তারা বুঝিবা মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং রাষ্ট্রের চোখে নেমকহারাম। রোজ এই ধারণাগুলিকে বিনা বাক্যে মেনে দিয়ে আমরা আমাদের এই মর্ত্যলোকে স্বল্প সময়ের জীবনকে করে তুলি ঘৃণাময়, ভীতিময়, কুঁকড়ে থাকা। ১৯৭১-এ কিছু সময়ের জন্য পূর্ব বাংলার মুক্তিসংগ্রামের সময়ে এপার বাংলায় এরকম অনেক তথাকথিত বিকার চোরাগলি ছেড়ে রাজপথে মুখ দেখানোর সাহস ও সুযোগ পেয়েছিল। এ সত্যি যে ১৯৭১-এ ইন্ডিয়ান উনীয়নের নানা এলাকায় পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সমর্থন ও সাহায্য ছিল। কিন্তু পশ্চিম বাংলায় এই সাহায্যের আড়ালে যে আবেগের প্রকাশ ঘটেছিল, তা আজকের ডেটল-ধোয়া ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্রাষ্ট্রিক সম্পর্কের পবিত্র গণ্ডির বাইরের এক প্রায়-নিষিদ্ধ জিনিস। পশ্চিমবঙ্গের সাথে পূর্ববঙ্গের যে একাত্তুরে ‘ঘনিষ্টতা’, তার সাথে কর্ণাটকের সাথে পশ্চিমবঙ্গের ঘনিষ্টতা বা কর্ণাটকের সাথে পূর্ববঙ্গের ঘনিষ্টতার কোন মিল নেই। এই মিল-অমিলের অঙ্ক মেলাতেই তো ঘনঘন বেজে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত, যাতে এরম চিন্তা গুলিয়ে যায় মিলিটারি ব্যান্ডের আওয়াজে। দিল্লি-ও একাত্তরে ভালই জানত এসব ‘নিষিদ্ধ’ প্রেমের কথা – কিন্তু এই প্রেম তখন তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পক্ষে কাজ করেছিল বলে বাড়তে দিয়েছিল কিছুদিন অন্যদিকে তাকুয়ে, তারপর রাশ টেনে সমঝে দিয়েছিল সময়মত। এই আচরণেরও অন্য উদাহরণ আছে। যেমন তামিল নাদুর বিধানসভায় শ্রীলংকার ইলম তামিলদের সমর্থনে যেসব প্রস্তাব পাশ হয়, তা নিয়ে দিল্লীর নিস্তব্ধতা – যেন দেখেও দেখছে না। যেমন কাবুল ও পেশোওয়ারের মধ্যে যে ঠান্ডা-গরম পাখতুন বন্ধন ও তা নিয়ে আজকে ইসলামাবাদের চাপা ভীতি।

১৯৭১ অবশ্যই অতীত। সেই ‘নিষিদ্ধ’ প্রেম আমরা কবে বন্ধক দিয়েছি বেঙ্গালোর-দিল্লী-নয়ডা-গুরগাঁও স্বপ্নে বিভোর হয়ে। তাই তো আজ, আমরা, এই বাংলায়, দিল্লির থেকে ধার করা চশমায় পূব দিকে তাকাই আর দেখি – গরুপাচারকারীর মুখ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মিছিল, হিন্দু বাঙালির শেষ আশ্রয়স্থল হোমল্যান্ডটিকেও জনসংখ্যার বিন্যাসে কেড়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র। এই সবই কিছু ঠিক, কিছু ভুল, কিন্তু সেসব ঠিক-ভুলের পরেও মধ্যে লুটোয় দিগন্তজোড়া বাংলাদেশের মাঠ, যে মাঠ শুধু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাঠ নয়, বরং নিখিল বাংলাদেশের মাঠ। সে উত্তরাধিকার আজ প্রায় তামাদি।

বিগতকালের এই যে সম্পর্ক, যার শেষ প্রতিভুদের একজন এই গোবিন্দ হালদার। একরাষ্ট্রের আনুগত্যে বাঁধা আমরা, তাই এ প্রেমের কথা কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার পায় না। এ সম্পর্ক – তা ঠিক পরকীয়া নয়, বরং এমন এক প্রেম যার শুরুর পরে প্রেমিক হয়েছে বিভাজিত। আর প্রেমিকার প্রেম থেকে গেছে একইরকম। কিন্ত অন্যের চোখে সে দুই প্রেমিকের প্রেমিকা, এবং কলঙ্কিনী। এমনই এক প্রেমিকা ছিলেন গোবিন্দ হালদার। গত ১৭ জানুয়ারী, ৮৪ বছর বয়সে মারা গেলেন অতি সাধারণ এক হাসপাতালে। অবিভক্ত যশোর জেলার বনগাঁ এলাকায় জন্ম।বনগাঁ ‘পড়ে’ ‘ইন্ডিয়ায়’।আকাশবাণীর জন্য গান লিখেছেন। একাত্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আকাশবাণী কলকাতা। পরে যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য প্রচুর গান লেখেন যা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ও পূর্ব বাংলার জনগণের মুখের গান, প্রাণের গান হয়ে ওঠে। মোরা একটি ফুল বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠেছে রক্ত লাল, পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা – এগুলি তার প্রবাদপ্রতিম রচনা। শ্রোতার ভোটে তৈরী বিবিসি রেডিওর সর্বকালের সেরা ১০টি বাংলা গানের তালিকায় তার দুটি গান উপস্থিত। এই লোকটি মারা গেল, কোন বঙ্গশ্রী, পদ্মশ্রী ছাড়াই। আসলে সে ঠিক গান লিখেছিল ‘ভুল’ রাষ্ট্রের জন্য। তাই এপারে তার কল্কে নেই। আমাদের মধ্যেই ছিলেন এতদিন। জানতে চেষ্টাও করিনি, কারণ রাষ্ট্রর ক্ষমতা যত বেড়েছে, তা আমাদের মানুষ হিসেবে ছোট করে দিয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-ও একাত্তরে গোবিন্দ হালদারের নাম ফলাও করত না – সে ‘ভুল’ রাষ্ট্রের যে। পরে ঋণ শোধের চেষ্টা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিত্সার খরচ পাঠিয়েছেন, সরকার পুরস্কৃত করেছেন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কলকাতায় মৃত্যুপথযাত্রী গোবিন্দ হালদারকে দেখে গেছেন। আমার কাছে একটা ছবি আছে – বৃদ্ধ গোবিন্দ হালদার বাংলাদেশের পতাকা নিজের বুকের কাছে ধরে আছেন। পার্টিশন এলাকার যারা নন, একদেশ-একজাতি-একরাষ্ট্র রাষ্ট্রের গর্বে বলিয়ান যারা, হয়ত ভাগ্যশালী তারা,কিন্তু তাদের কি করে বোঝাব এসব ? হয়ত তারা বুঝবে পরজনমে, রাধা হয়ে। তখুন হয়তো তারা অনুভব করবে গোবিন্দ হালদারদের দেশের ঠিকানা।

কেউ কেউ কিন্তু তলে তলে বোঝে। ঢাকার অভিজিত রায় – খ্যাতিমান মুক্তমনা ব্লগার। ২৬ তারিখে , একুশে বইমেলা থেকে ফেরত আসার সময়ে তাকে রামদা দিয়ে হত্যা করা হলো। তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। দায় নিয়েছে ইসলামী সংগঠন আনসার বাংলা-৭। প্রতিবাদে এ বাংলার কিছু মানুষ ২৭এই কিন্তু জমায়েত করলেন যাদবপুরে। নিষিদ্ধ প্রেম পরিণত হয় নিষিদ্ধ কান্নায়, কাঁটাতার ভেদী শপথে, চোরাগোপ্তা। সব রং তেরঙ্গায় নেই।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Kolkata, Language, Nation, Open futures

রাম ও রামীর পয়লা ফাল্গুন

কালকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে।  আপনার জীবনে যদি প্রেম-পিরিতির কেউ থাকে এবং  নগদ টেকা-টুকা থাকে, তাহলে এটা আপনার আধুনিক  নাগরিক কর্তব্য যে আপনি কাল চকোলেট কোম্পানি, মাল্টিপ্লেক্স কোম্পানি, রেস্টুরেন্ট কোম্পানি, গ্রিটিং কার্ড কোম্পানির মতো হরেক কোম্পানিকে কাল বেশি মুনাফা দেবেন।  আপনি উত্তরাধুনিক  নাগরিক হলে দেবেন ডার্ক চকোলেট, দেখবেন আর্ট ফিলিম, দেবেন অন্যের হাতে আঁকা কার্ড।  খাবেন  রেস্টুরেন্টে কারণ কুকিং বর্জন প্রগতিশীলতার এক প্রাথমিক শর্ত। এই সকল মাজারে চাদর না চড়ালে আপনার প্রেম খাঁটি নয়। যারা নরসিংহ রাও পরবর্তী যুগে লায়েক হয়েছেন, তাদের অনেকের এতদিনে প্রতি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে যা যা প্রেমের প্রমাণ জমেছে, তার একটা আর্কাইভ করলে বেশ একটা সমাজতাত্ত্বিক ব্যাপার হবে। কিছু ক্ষেত্রে এই উপহারের আর্কাইভ আবার অনেকের সিরিজ প্রেমের আর্কাইভ ও বটে – কে কার পেছনে কত টাকা খরচ করলো বা করলো না, স্মৃতির মনিকোঠায় সেই অনুযায়ী বরাদ্দ থাকে বর্গফুট কার্পেট-এরিয়া। হয়ত যারা কালচার-ফাল্চার স্টাডি করে শ্বেতাঙ্গদের কাছে দিশি মানুষের জীবনকে উজাগর করে নাম কামান, তারা দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু পুঁথিও লিখে ফেলবেন। আমার কথা নিশ্চই তেকেলে জ্যাঠার মতো  শোনাচ্ছে।  আমার ঠাকুরদার বাপ, আমার ঠাকুরদা, আমার বাপ – এরা সকলেই কুলের বড় ছেলে, অতয়েব নানা মানুষের জ্যাঠা। আমি এদেরই ডাইরেক্ট উত্তরসুরী। আমি মূলতঃ চট্টোপাধ্যায়।  গর্গ নামটি উছিলা মাত্র।

বাংলা জুড়েই একটি খাঁটি বাঙালি জিনিস আমার আপনার সকলের আছে। এটাকে বাংলায়ে বলে ফিলিংস। অনেকে এই মোক্ষম দিনে এহেন মোক্ষম ফিলিংস প্রকাশ করেন প্রথম বার। কে বলে যে শুধু আমরাই পাজি দেখে শুভ কাজ করি? আপনারা যারা আধুনিক-উত্তরাধুনিক – তার বেলা ? এই যে চেনা ছকে চেনা কোম্পানির চেনা উপহার দিয়ে চেনা ফিলিংস-কে দৃঢ় করা, এ কি “রিচুয়াল” না ? যত স্বকীয়তা আর স্বতস্ফুর্ততা, তা আপনাদের ক্রেতা-আচরণে? আর যত দোষ ও ব্যাকওয়ার্ড রিচুয়াল আমাদের সিন্নি চটচটে ধুনো ধূমায়িত পরিসরে ?

যখন প্রেম-পিরিতির সম্পর্কে যা গভীরত্ব জানান দিতে হয় বাজারী জিনিসপত্রের মাধ্যমে, এবং প্রেম-পিরিতির যাচাইও হয় বাজারের নিরিখে, তখন সে ভালবাসা সর্বার্থেই অর্থপূর্ণ। বাজার আজকে মোটামুটি এটা বুঝিয়ে ফেলেছে যে চাষের জন্য যেমন লাঙ্গল দরকার (বড়লোক হলে ট্রাক্টর), তেমনই ১৪ ফেব্রুয়ারী প্রেমের জন্য ফুল-চকোলেট দরকার (ধনকুবের হলে ছোট্ট হীরে)।  মনের সঙ্গে মালের এই সহজ কিন্তু কুটিল সম্পর্ক প্রথমতঃ কল্পনার শত্রু। দুইটি মানুষ যখন এই দিনকেই ইস্পেসাল করে তোলে, এই দিনেই জিনিস -প্রদান করে, তারা নিজেদের স্বকীয়তাকে গৌণ  করে দেয়। রামা-শ্যামা-যদু-মধু সকলেরই প্রেম একদিন বেশি করে জাগে, একই দিনে তারা চেনা চকে চেনা জিনিস করে, তা রাম ও রামীর অথবা রাম ও শ্যামের যে নিজস্বতা, তাকেই নস্যাত করে।  দুই প্রেমীর কাজ হয়ে যায়  গ্লোবাল সংস্কৃতির পাতায় সামান্য ফাঁকা জায়গায় নিজেদের নাম লেখা – ফিল আপ দি ব্ল্যান্ক। বাকিটা এক। কিন্তু মানুষ তো এরকম এক না। তাই পিরিতির এই ভালেন্তিনীয় প্রকাশে কোন কোন সম্ভাবনার মৃত্যু হয় ? নগদ-হীন ভালবাসা প্রকাশে কার লাভ, কার ক্ষতি? কাগজে ছাপাঅশোকস্তম্ভের সিংহের কাঁধে ভর করা এ কোন ভালবাসা ?  অশোক স্তম্ভ ছাড়া যেমন ভারত রাষ্ট্র নেই, চকলেট-খানাপিনা-সিনেমা-ফুল-গিফটের মোড়ক ছাড়ালে যেটা বাকি থাকে, সেটা কি ? এগুলি না থাকলে, কি বাকি থাকে? কাদের ক্ষেত্রে বাকি থাকে, কাদের ক্ষেত্রে থাকে না ? এগুলি স্রেফ প্রশ্ন।  কার ভালবাসা খাঁটি আর কারটা মাটি , সেটা মাপার  জ্ঞান আমার নেই। তবে গদাধর চট্টোপাধ্যায় বলে গেছেন – টাকা মাটি, মাটি টাকা। মা সারদা আজকাল টাকার ব্যাপারে কম বলছেন, মাটি নিয়েই মনোযোগ বেশি। মার্কিন দেশে ২০১৩-তে একেকজন মানুষ গড়ে ৭৮০০ টাকা খরচা করেছেন ভালেন্টাইনস ডে  বাবদ। যদি মার্কিনি হয়োনের শখ থেকে থাকে, তালে ওই ৭৮০০ সংখ্যাটিকে পাখির চোখ মনে করে এগিয়ে চলুন। খ্রিষ্টীয় সন্ত ভালেন্টাইন আপনার সহায় হোন।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে আমাদের বাংলাদেশের জনজীবনে, বিশেষতঃ শহুরে এলাকায় একটা জায়গা করে নিয়েছে।  জায়গা করে নিয়েছে আরো অনেক কিছুই।  এসবের ক্ষেত্রে একটা কথা খুব শোনা যায়।  চয়েস।  আমি যা চাইব। আমি চাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে – এটা আমার চয়েস।  ভালো কথা।  কিন্তু চয়েস বা বাচাবাচির মধ্যে  যা বাছা হয়, তা যাপনে হোক, ভাষায় হোক, বসনে হোক, দিবসে হোক – তার ভৌগোলিক উত্পত্তিস্থল যদি পৃথিবীতে সংখ্যালঘু যে শ্বেতাঙ্গ মানুষজন, তাদের  এলাকা থেকেই আগাপাশতলা আমদানি করা হয়, তাহলে চয়েস আসলে বাড়ে, না কমে ?  বিশ্বায়নের ফলে তো আমাদের  বিশ্ব আরো ব্যাপ্ত হবার কথা ছিল – বসনে, ভূষণে, ভাষায় সবেতে বৈচিত্র বাড়ার কথা ছিল।  তাই না ? গলদটা কোথায়?  তার জন্য হয়ত আমাদের এই ১৪ ফেব্রুয়ারির বাংলায় আমদানির গল্পটি জানতে হবে, সেই আমদানির ফড়েদের কথা জানতে হবে, আমাদের কল্পনা ও ফিলিংস কেমনে  শ্বেতাঙ্গ পপ-কালচারের গারদে আটকা পড়ল, সেটা একটু ভাবতে হবে। শ্বেতাঙ্গ আক্সেন্ট ও জোক্স মুখস্ত করতে করতে আমরা আমাদের বগল ও কুঁচকি দেখতেই ভুলে গেছি। ময়লা জমবেই।  তখন সেন্ট যদি আমদানি করতে হয়, সায়েবের কি দোষ ?

আমি যখন মার্কিন দেশে থাকতাম, তখন ১৪ ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে নানা জিনিস নতুন মোড়কে পাওয়া যেত।  ১8 তারিখ কাটলেই সেগুলির দাম হয়ে যেত অর্ধেক।  আধুনিক ও উত্তর-আধুনিকদের  বিশ্বেও  তিথি অনুযায়ী জিনিসের দর বারে কমে, ঠিক কোজাগরী লক্ষী পুজোর দিনে সবজির মত। এবার ভ্যালেন্টাইন্স পড়েছে পয়লা ফাল্গুনে।  শুনতে কি বোরিং লাগছে না? পয়লা ফাল্গুন আর ১৪ ফেব্রুয়ারী কি এক হলো ?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Language, Sahib

ডাক্তার ও মেরুদন্ড

ডাক্তারের অন্যতম কাজ রোগ নির্ণয়। কিন্তু এসএসকেএম হাসপাতাল-এ গত বেশ কয়দিন যাবৎ যে প্রহসন চলল, তাকে রোগ ‘আবিষ্কার’ বলা যেতে পারে। কিন্তু অচেনা ভুতের ভয় ছাড়া অন্য কোন রোগ আবিষ্কৃত হলো না। ডাক্তারবাবুরা কিন্তু যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। খুব চেষ্টা করেছিলেন। কি হতো যদি প্রথম দিনেই দেওয়া হত ‘ফিট’ সার্টিফিকেট? কি হারাতেন তারা? সরকারী চাকরি যা কিনা হারানোর কোন ভয় নেই – মাসে লাখটাকার অনেক বেশি মাইনে। মনুষ্যরুপী দেবতা ইমেজটা তার সাথে একদম ফ্রী। কি হারাতেন তারা যদি তারা বলতেন সূর্য্য পূব দিকে ওঠে , অথবা, যদি জানিয়ে দিতেন যে পৃথিবী সুর্য্যকে প্রদক্ষিণ করে ? একটা জেলা শহরে ট্রান্সফার, খুব বেশি হলে। বঙ্গবাসীর চরম দুর্ভাগ্য যে কোন এক সুদূর অতীতের পাড়ার মেধাবী ছাত্র জেলার গর্ব বাপমায়ের আশাভরসা এককালে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক-ডাক্তারি প্রবেশিকা-ডাক্তারি পরীক্ষা সবেতে ভালো ভাবে পাশ দিয়ে অভিজ্ঞতায় নুব্জ হওয়া রত্নদের মধ্যে ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়’ বলার মত একটিও মানুষ পাওয়া গেল না মেডিকেল বোর্ড-এ। অথচ মালিন্গেড়িং বা রোগের নাটক করাকে কি ভাবে ধরতে হয়, তার শিক্ষা তো এমবিবিএস করার সময়েই দেওয়া হয়। এনারাই তো সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে টুক করে গাড়িতে উঠলেন। ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে হুশ করে বেরোলেন। চেম্বার সেরে বাড়ি ঢুকলেন। হয়ত সন্তানের সাথে চোখাচোখি হলো। সে মুহুর্তে আগামী প্রজন্মের চোখে ছোট হলেন না বড় হলেন নাকি বুদ্ধি খাটিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকলেন , ম্যানেজ দিলেন। হয়তো মনে হলো, কেউ জানতে পারল না। যে মা মুখ দেখলে বুঝে ফেলতেন মিথ্যা বলছেন কিনা, তিনি তো কবেই চোখ বুজেছেন। আর কোন সাক্ষী নেই, আয়না নেই। সভ্যতা ভুলে গেছে, মেরুদন্ডি প্রাণীর উদাহরণে একদিন কি বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল মানুষের। কোন পাঠক মনে করাবেন কবির নামটা?

সত্যই কি কেউ জানতে পারল না? এই তো সেদিন অবধি মেডিকেল কলেজে ছাত্রাবস্থায় বন্দেমাতরম জয়ধ্বনী দিয়ে ছাত্রপরিষদ করছিলেন – সরকারী গান্ধীবাদের। কাজে ঢুকে হয়ে গেলেন এইচএসডি – কমরেডি কৃপা ও সান্নিধ্যের লোভে । আজকে পরিবর্তনের যুগে ‘প্রগ্রেসিভ ডক্টর’-এর অগুরু আতর গায় লাগিয়ে আবার সেটিং করে নিয়েছেন, কালকে পদ্মপাতায় নজনের মধ্যে জায়গা হবে কিনা, তার হিসেব ও করছেন আজকাল একটু-আধটু। ছাতা-জার্সি সব বদলেছেন ভয়ে ভয়ে – কখনো প্রোবেশন, কখনো প্রমোশন, কখনো ট্রান্সফার, কখনো উচ্চাকাঙ্খা, কখনো ভিজিলেন্স। খবরটা এবেলা জানিয়ে রাখি – আপনার বিশ্বরূপের সাক্ষী আছে। সেই অন্তরাত্মার মালিক সাক্ষী, এই দিন দুনিয়ার মালিক সাক্ষী, মা দূর্গা-মনসা-চন্ডি-শীতলা সাক্ষী, ধর্মঠাকুর সাক্ষী, নার্স দিদি সাক্ষী, গ্রুপ-ডি ষ্টাফ সাক্ষী, এমনকি আপনার পোষা ড্রাইভার-ও সাক্ষী – অধঃস্তন বলে সামনে কিছু বলে না। দেবতারা ডাক্তারদের খুব ভালবাসেন। নইলে প্রতিদিন পূর্বের পাপস্খালনের এত নিত্য-নৈমিত্তিক সুযোগ তৈরী করে দিতেন না তারা। ভাবেন তারা উপরে বসে ‘এবার তো সুযোগটা নে, কালি মোছ।’ দয়াময় সুযোগের পর সুযোগ দ্যান – আর সুযোগগুলি দিনের শেষে শুকিয়ে যায় উচ্ছিষ্ট ভাতের মতো। আরো টেস্ট করা দরকার – হৃদয়, মল, মুত্র। কিছু একটা পেতেই হবে, অথবা দেখাতে হবে যে পাবার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। সভ্যতা ভুলে গেছে, মেরুদন্ডি প্রাণীর উদাহরণে একদিন কি বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল মানুষের।

মেরুদন্ডী গুরুর ছাত্র হয় মেরুদন্ডি। আর জার্সি-বদল ‘নির্বিবাদ’ ‘ঝামেলা এড়ানো’ গুরুর ছাত্র হয় কোরপান শাহ-এর হত্যাকারীরা। যারা মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষটাকে অত্যাচার করে খুন করলো, তারা হত্যাকারী, তারা সংখ্যায় বেশি না , এক বাটি দুধে একটুখানি চোনা । আর যারা, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল – সেই সংখ্যাগুরু সোনার টুকরো প্রত্যক্ষদর্শিরা ? এদের তো বলতেও হবে না , ‘মাস্টারমশাই, আপনি কিন্তু কিছু দেখেননি’। এরা এখুনি সব দেখেও না দেখতে, সব জেনেও মুখ বন্ধ রাখতে শিখে গেছে। এরা আসছে দিনে ডাক্তারী মাষ্টারমশাই হবেন। সামনের দিনে আরো দীর্ঘায়িত হবে মেডিকেল বোর্ডের রোগ-আবিষ্কার নাটক। জার্সি-বদল হবে অহোরহ। অনেকে একই জার্সি-তে নানা পতাকার তালি লাগিয়ে কাপড় সাশ্রয় করবেন। নব যুগের ফকিরী সাজ। কারণ দেড় লাখি মাইনের ডাক্তার-ও অমেরুদন্ডি হবার কারণ হিসেবে বলেন ‘পেটের দায়’। সভ্যতা ভুলে গেছে, মেরুদন্ডি প্রাণীর উদাহরণে একদিন কি বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল মানুষের।

একদিন ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার পরে বাংলা থেকেই কত ডাক্তার ছুটে গেসলো, আরো পরে পাশে দাঁড়িয়েছিল কানোরিয়া জুট-আন্দোলনের। তাদেরই রেশ দেখা গেছে বন্যা-ত্রাণে, আইলায়ে, নন্দীগ্রামে। ৮০-র দশকে এই বাংলা থেকেই চিকিত্সক-রোগী উভয়ের কল্যাণের দাবি নিয়ে হয়েছিল ঐতিহাসিক জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলন। পাশে দাঁড়িয়েছিল সরকারী ডাক্তারদের অদলীয় সংগঠন। লোভ, ভয় ও হুমকি দিয়ে তত্কালীন সরকার সে সংগঠন ভাঙ্গিয়ে দলদাস ডাক্তার গোষ্ঠী গড়ে তোলে। লজ্জার ইতিহাস বেশ পুরনো। দল-দাসত্বের লাভ অনেকে কড়ায়-গন্ডায় উসুল করেছেন – সল্টলেকে প্লট নিয়ে, ট্রান্সফার আটকে দশকের পর দশক কলকাতায় থেকে গিয়ে, মেরুদন্ডি ডাক্তারদের প্রমোশন আটকে, বারবার দূরে ট্রান্সফার করিয়ে। লাল পতাকাধারী কেষ্টর সুযোগ্য উত্তরসুরী হলো সাদা কেড্স পরা তেরঙ্গা বিষ্টু। আগে পেছনে ‘স্যার স্যার’ করার জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে। অথচ, মেরুদন্ডি প্রাণীর উদাহরণে একদিন কি বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল মানুষের।

এই তো সেদিন, কোরপান শাহ-এর বধ্যভূমি এনআরএস-এই সূর্য্য উঠেছিল।মিথ্যা কেসে সন্ত্রাসবাদী তকমা পাওয়া ছত্তিশগড়ের আদিবাসী স্কুল-শিক্ষিকা সোনি সোরির যোনির গভীরে পাওয়া গেল পাথরের একাধিক টুকরো ও পুলিশী অত্যাচারের অনেক চিহ্ন। ফরেন্সিক ডাক্তারের রিপোর্ট বুঝিয়ে দিলো ছত্তিশগড়ের পুলিশ-গোয়েন্দারা অপরাধী, মিথ্যাবাদী, অত্যাচারী। আজ-ও এমন শিরদাড়াওয়ালা ডাক্তার থাকতে বিভুষণের শাল দেওয়া হলো দাগী আসামিকে? শাল-এর এতই আকাল ? কোরপান হত্যার নিশ্চুপ সাক্ষীদের কেউকেউ কাল ফরেন্সিক ডাক্তার হবে। তখন যোনির মধ্যে আটকে থাকা রাষ্ট্রের প্রেম-মাখা পাথরের টুকরোর খবর থাকবে কি মেডিকেল রিপোর্ট-এ ? কালকের সোনি সোরীরা, আমার বোনেরা ভায়েরা মায়েরা থার্ড ডিগ্রীর চিহ্ন নিয়ে কোথায় যাবে? আমার যে খুব ভয় করছে।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Bengal, Terror, Under the skin

কলকাতার গাজী ইলিয়াস

কলকাতার পথের মধ্যে গল্প থাকে। শীত কাল বলে সে গল্প ভালো করে শোনা যায় – শীতে নিখিল বাংলাদেশে মানুষ একটু কম ঘামে। গল্প চেঁচিয়ে কথা বলে ফাঁকা রাস্তাতেও। তাই অনেক গল্প পথিকের মিস হয়ে যায়। এই তো কদিন আগে আমি ভাগ্যক্রমে এক গল্পের সাক্ষী থাকলাম যেটা কিনা একটু হলেই আড়ালে ঘটে যেত। কলকাতার সেই ছোট গল্পের আগে ঢাকার একটি গল্প দিয়ে একটা  গৌরচন্দ্রিকা করব।
সে ছিল আরেকটি শীতের মরশুম। ২০১০-এর ডিসেম্বরে ঢাকায় লাইভ প্রোগ্রাম করতে এলেন হিন্দী চলচিত্র জগতের জনপ্রিয় নায়ক শারুখ খান, ‘কিং’ খান। হয়তো অনেকেরই মনে আছে। সেদিন শারুখ ছিল স্টেজে।  দাপাদাপি করে সে জনতাকে বিনোদন দিয়েছিল।  এটাই তার পেশা ও কাজ। লাইভ শোতে একটি জনপ্রিয় ক্যারদানি হলো  হঠাত করে দর্শকদের মধ্যে থেকে কাউকে স্টেজে ডাকা। সুপারস্টার ও ভক্ত – এই ব্যাপারটি নিয়ে একটি তাত্ক্ষণিক নাটক মঞ্চস্থ করা আর কি। হঠাত করে ডাক পাওয়া ভক্ত স্টেজে উঠে নায়ক-কে বলবে আপনি মহান, আপনার জন্মদিন-বিয়ের তারিখ-সন্তানের অন্নপ্রাশনের তারিখ সকলই আমার মুখস্থ, কোনদিন-ই আপনার একটি বই-ও মিস করিনি, এখুনো বারবার দেখি বউবাচ্চা নিয়ে, চিরকাল ইচ্ছে ছিল আপনার গা ঘেঁষে একটু দাঁড়াই , আজ সে সুযোগ পেলাম, যেন লটারি-ই জিতলাম আর কি, ইত্যাদি, ইত্যাদি ।  নায়ক-ও ধন্যবাদ জানাবেন, একটু ‘মাটির মানুষ’ বা ‘আমি তোমাদেরই একজন’ গোছের একটু বিনয়, একটু  হাসি ঠাট্টা করবেন আর কি।  এমনই  দস্তুর। সব কিছুরই নাকি একটা ব্যাকরণ আছে অর্থাৎ সকলে তথাকথিত ভাবে ‘সর্বজ্ঞাত’ অনুযায়ী নিজের নিজের ভূমিকা পালন করবে। ‘কিং’-এর শুনবে, আহ্লাদিত হবে, প্রায় পায়ে পড়বে আর এহেন ‘ফ্যান’-এর গ্যাঁজলার গন্ধে  দর্শকেও মত্ত হবে।  প্রোগ্রাম তার ব্যাকরণ মেনে হবে সুপারহিট।
 কপট হয়েই হোক বা অকপট হয়েই হোক, এই ব্যাকরণ যখন লাইভ প্রোগ্রাম-এ কারুর দ্বারা কোন  ভাবে ভঙ্গ হয়, তখন আর এডিট করে ব্যাকরণ-মত করার সুযোগ থাকে না।  বরং ব্যাকরণ  একটি ভান, একটি আস্তরণ, একটি কিম্ভূত নির্মাণ, সেটাই প্রকাশ হয়ে পরে নগ্ন ভাবে। যে পৃথিবীতে কোথায় কেমন ভাবে ঠিক কি করে আচরণ করতে হয়, তা জানা এবং না জানা দিয়ে মানুষের ভাগ্য ও ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়, সেই পৃথিবীতে যারা অজান্তে হোক বা জ্ঞানপাপী হয়েও হোক, ব্যাকরণ ভাঙ্গেন, তাদের সাধুবাদ প্রাপ্য। তাই সাধুবাদ দিতেই হয় গাজী ইলিয়াস-কে।  মনে পরে গাজী ইলিয়াস-কে? শাহরুখ খান যখন তাকে স্টেজে ডাকে, সে এসে বলে যে সে বাংলা জানে, দাবি করে যে সে হিন্দী জানেনা। না জানাটাই স্বাভাবিক। ইলিয়াস কিন্তু একরকম চালিয়ে দেবার ইংরেজি জানে। এরপরে সে লম্ফঝম্ফ করা শাহরুখের জন্য রাখা জলের বোতল চেয়ে জল খায়, পিপাসা নিবৃত্তি করতে। তাকে দেখে মনে হয় সে ‘নার্ভাস’, কিন্তু তবুও যখন শাহরুখ বলে যে স্টেজে সকলে দেখছে, ইটা লাইভ প্রোগ্রাম, তাই ‘ঠিক করে’ আচরণ করতে, ঠিক স্টাইলে দাঁড়াতে, তখন ইলিয়াস জানায় যে শাহরুখের স্টাইল এক, আর ইলিয়াসের স্টাইল অন্যরকম।  মঞ্চের কাঠামো অটুট থাকলেও ব্যাকরণ ভেঙ্গে পড়ে।  এর পরে ইলিয়াস আবার বোতল থেকে জল খায়, সবার সামনেই। অনেকের কাছে সে হাসির খোরাক হয়। সে উপযুক্ত ভাবে তার ভূমিকা পালন করতে পারে নি। ইলিয়াস কিন্তু তার নাম ভূমিকা পালন করেছিল সেদিন। গাজী ইলিয়াস ছিল গাজী ইলিয়াস। আর উজ্জ্বল নক্ষত্রের সামনেও গাজী ইলিয়াস থেকে যাওয়ার ফলে শাহরুখ খান-এরই কিছু সময়ের জন্য  করতে হয়েছে, ইলিয়াসকে ধমক দিতে হয়েছে, তারপর ‘ইমেজ’এর স্বার্থে দ্রুত সামলে নিতে হয়েছে। এরই মাঝে এক মেরু-দণ্ডযুক্ত বাঙালিকে শাহরুখ তার বলশালী মারকুটে পাঠান পরিচয় দিয়েছে এক হুমকি-ইয়ার্কির মাধ্যমে। কায়িক বলের এই খেলাচ্ছলে আস্ফালনের জবাব দেয়নি গাজী ইলিয়াস – দিতে পারত। দিলে আরো রসভঙ্গ হত। শাহরুখ খান অভিনেতা।  ইলিয়াস গাজী নার্ভাস কিন্তু অভিনেতা নন।  তার জল পিপাসার ফলে জল খাওয়া শারুখের প্লান-মাফিক মায়া তৈরিকে হঠাত করে রুদ্ধ করেছে।  শারুখের অভিনয়ে গাজী ইলিয়াস সাময়িক যতি চিন্হ এনে দিয়েছে – স্ক্রিপ্ত্হীন নায়ক-কে একটু ঘামিয়েছে। শাহরুখ যে আসল নয়, সে যে অভিনয়, তা ওই সাময়িক যতির কারণে আরো বেশি বেশি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ করেছে নার্ভাস গাজী ইলিয়াস।যেখানে যে কথা বললে খাপে খাপ হয়, সেটা না করে বা করতে না জেনে। আমরা গাজী ইলিয়াসকে চিনি।  আমাদের অনেকের মধ্যে সে বাস করে।  আমরা তাকে চেপে রাখি, আমি নিজেদের ভেতরের গাজী ইলিয়াসকে ঘেন্না করি। আমাদের মনের মধ্যে গাজী ইলিয়াস  আছে  বলে আমরা লজ্জা পাই। আমরা নিজেদের ভেতরের গাজী ইলিয়াসকে হত্যা করতে চাই।  আমরা রাস্তার গাজী ইলিয়াসকে নিয়ে নাক সিঁটকোতে চাই , তাকে দুয়ো  দিতে চাই। আমরা আমাদের বাপ-মায়েদের-আত্মীয়-স্বজন-পারা-প্রতিবেশীদের নিচু নজরে দেখি কারণ তাদের অনেকের মধ্যে গাজী ইলিয়াসের সুস্পষ্ট ছাপ।  হয়ত  তারাও নিজেদের অপছন্দ করতে শিখে গেছে। কোথা থেকে আসে এই ছিছিকার, এই নিজেকে লজ্জা করা? আমরা চাই, তারাও চায়, যে তাদের সন্তান যেন দুধে-ভাতে থাকে আর তাদের মধ্যে যেন এক ফোঁটা গাজী ইলিয়াস না থাকে।  তারা যেন স্মার্ট হয়, তারা যেন স্টেজে তুললে পটাপট খাপেখাপ জবাব দিতে পারে।  তাদের দেখে যেন শাহরুখের মাথা একটুও গরম না হয়, একটুও যেন রাগ না চাপতে হয়। যেন শুধুই থাকে ‘সভ্য ব্যাকরণ’ সম্মত হাসি আর আনন্দ। এভাবেই রস গড়াতে থাকে। গড়াতেই  থাকে।
স্থান-কাল-পাত্র বোঝার, তার ব্যাকরণ বোঝার একটা রাজনীতি আছে।  এই রাজনীতির প্রকাশ আচরণে – স্থান-কাল- আচরণে। কিন্তু সে আর নতুন কি? নতুন হলো এই আচরণকে সারাক্ষণ অভ্যাস করে যাওয়া।  এই আচরণকে, এই ভানকে সত্য ও সুন্দর মনে করা। কোন কোন আচরণ? আমি গোদা ভাবে বলতে হলে আমি বলব আমাদের মত কালো মানুষের কল্পনায় শ্বেতাঙ্গ মানুষ যেমন আচরণ করে , তেমন আচরণ। এই আচরণ যে সাফল্যের চাবিকাঠি তা আর কেউ না জানুক,স্পোকেন-ইংলিস সম্রাট সাইফুর স্যার প্রচন্ড ভালো জানেন। এই উপমহাদেশে অন্যের হীনমন্যতা ভাঙ্গিয়ে ব্যবসা করার ঐতিহ্য বেশ পুরাতন। আমরা চাই আমাদের যেন ‘পাতে দেওয়া যায়’। এই পাত কিন্তু কলাপাতা বা শালপাতার না, এমনকি ভূমিজ এলিটের কাঁসার থালা ও না। একেবারে ম্যালামাইন। তাই দরকার পরে চামচ ঠিক করে ধরতে শেখার, আওয়াজ না করে স্যুপ খাওয়ার, এবং আরো হাজারো ‘সভ্য’ ঢং।
ঢং শিক্ষার দুনিয়ায়ে যে অশিক্ষিত, তাকে দেখলেই বোঝা যাবে যে এখুন কোথায় কখন কি করা উচিতের যে বিশ্বজনীন ‘স্বাভাবিক’ সহজপাঠ, তার শিক্ষাগুলি সত্যই শেষ প্রান্ত অবধি পৌঁছয়নি। তাই হঠাত করে আলোকিত করে দেয় অকপট গাজী ইলিয়াস। তাই রক্ষে। আর সে যদি ছুপা রুস্তম কপট হয়?  আমি তাহলে  বলব, সাবাস ইলিয়াস । কত লোকে ক্লিষ্ট ইংরেজি লিখে ভুঁরু ফুটিয়ে সাবভার্সন মারালো, তুমি করে দেখালে।
অথচ কোথায় কেমন করে কি কতক্ষণ করা উচিত – অপিসে, ক্যাফেতে , শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতের সামনে, ইংরেজি-কপচানো আমাদের দেশেরই হাপ-পন্ডিতের সামনে, সিনেমা হলে, জলে, স্থলে, অন্তঃরিক্ষে, যারা তার পাঠ বিলোয়ে ‘আধুনিক’ স্বকীয়তার মোড়কে এবং ইলিয়াস্দের প্রবল দুয়ো দেয় ‘অন্কাল্চারড’ হিসেবে – তারাই আবার পরিবার, পারিবারিক আচারআচরণ, বয়স্জ্যেষ্ঠেকে সম্মান, পারিবারিক চেতনা, কোথায় কার সাথে কেমন ভাবে কি আচরণ করতে হয়, বা করতে হয় না,তাকে পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঐযে বিশ্বজনীন ‘স্বাভাবিক’ আচরণের সহজপাঠ, তার প্রথম পাঠ হলো – নিজের সবকিছুকে প্রশ্ন করো, কিন্তু প্রশ্নের উছিলায় তুমি নিজে যে অন্যতর বিশ্বকল্পের দাস হয়ে যাচ্ছো, সে প্রক্রিয়া কে প্রশ্ন করো না। একবার কাছি কেটে দিলেই সহজপাঠের কাজ শেষ, তারপর মানুষ জলে না দবার জন্যই অন্য ডাঙ্গার সন্ধানে জোরে দাঁড় চালাবে, পৌছক আর না পৌছক। এই প্রক্রিয়াটাই খাপে-খাপ। যে ডাঙ্গা থেকে কাছি কেটে আসা হয়েছে, সেখানে ফেরা যাবে না।  সেখানে ইলিয়াস্দের বাস।  ফিরলে সে যদি হাসে? ইলিয়াস্দের উপর হাসা যেতে পারে, কিন্তু ইলিয়াস্দের হাসির পত্র হওয়াটা ঘোর অপমানের। আসলে আমরা আমাদের ক্ষমতাই বুঝি না।  অধিকাংশ ইলিয়াসের মেরুদন্ড আমরা ভেঙ্গে দিয়েছি কবেই। ওই হাড়ের গুঁড়া দিয়েই আমাদের কালো ত্বক সাদা করার পাউডার যোগান হয়। সাদা পাউডার মেখে নিজ সমাজের নরম মাটিতে আমরা নৃসংশ ভাবে আঁচড়ে  দেখাই স্বকীয়তা,  মুক্তিকামিতা, স্বাধীনতা, স্পষ্টবাদিতা , আর কত কি। আসলে যে অন্যকে ‘আন্কাল্চার্ড’ বলে,সে যে ভীষণভাবে সংস্কৃতিক ভাবে নিরক্ষর হতে পারে। বিশেষত দেশ-দশ-সমাজ যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্তরায় হয়, তখন কাছি কাটাই হয় নবধর্ম। আর ভূমিজ ধর্ম ছেড়ে নবধর্ম ধরলে প্রথম প্রথম যা ঘটার তাই ঘটে – চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী, চূড়ান্ত পূর্ব-আত্মবিস্মৃতি এবং আত্মসমালোচনার নিদারুণ অভাব। যা কিনা চলতি ক্ষমতার সংস্কৃতি,  হাজার রকম বড় বড় ইংরেজি শব্দ দিয়ে ‘ক্রিটিসিজম’ হবে, মোটা বই হবে।হারেমের স্বেছাবাশিনিরা এবং দ্বাররক্ষীরা কেমনে -বলবে  রাজা তোর  কাপড় কোথায়? রসভঙ্গ করতে লাগবে মানুষ। সে কাজটি করবে অন্য মানুষ। সহজ কিন্তু সরল নয় , এমন মানুষ। এবার ফিরি কলকাতার পথে।
আমি যাচ্ছি বরানগর থেকে হাওড়া স্টেশন, দিল্লীগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ধরতে।  আমি ট্যাক্সি করে যাচ্ছি। সাধারনতঃ আমি ট্যাক্সিচালকের নাম, ধাম জিজ্ঞেস করি, কিন্তু সেদিন নানা ব্যাপারে একটু চিন্তার মধ্যে ছিলাম।  তার-ই মধ্যে তারস্বরে চালু হলো এফ এম রেডিও, ট্যাক্সির মধ্যেই লাগানো। এক নারী উপস্থাপিকা সুন্দর গলা করে বললেন, শীত তো এসে পড়ল।  আপনার শীতে কি কি ভালো লাগে? এক ব্যাক্তি উত্তর দিতে শুরু করলো – আওয়াজের ধরণে বুঝলাম ইটা লাইভ টেলিফোন কলের মাধ্যমে কোন শ্রোতা বলছেন।  একজন পুরুষ। সে জানায় যে শীতকাল মানেই বিয়ে ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের মরশুম। এত অবধি ঠিক-ই ছিল।এত অবধি রাজার, বা ঢপের চলতি বিনোদনের কোন লজ্জাহানি হয়নি। এরপর জল গড়ায় অন্য দিকে।  সে বলে যে শীতকালে তাই মেয়েদের অসুবিধে আর ছেলেদের একটু সুবিধে। অনুষ্ঠানে মেয়েরা সেজেগুজে যায় – শাল জড়ালেও সুন্দর পোশাক আশাক সাজগোজ করতে হয়। কিন্তু ছেলেদের একটা জ্যাকেট বা ফুল হাতা সোয়েটার পরলেই হয়ে যায়ে , নিচে কি পরা, তা ইস্ত্রী করা না কুচ্কোনো, কেমন দেখতে, কিছু এসে যায় না।  পুরনো হলেও এসে যায় না। সুন্দর জামা, সুন্দর দোকান, সুন্দর ক্রেতা ,বিকিকিনি কেন্দ্রিক জীবনকল্পনা, ভালো থাকা কাকে বলে, তার জনসমক্ষে প্রকাশের যে ‘আধুনিক, সুশীল,পাতে দেওয়ার মতো’ ব্যাকরণ, তা টেলিফোন-কারী শ্রোতা লঙ্ঘন করতে শুরু করে।  আমি তখন স্ট্র্যান্ড রোড-এ। বিরল এক মুহূর্ত। উপস্থাপিকা একটু বিষয় বদলাতে চেষ্টা করে কিন্তুপ্রাণবন্ত সচল ডাকসু-তে শুধু সুন্দর গলা দিয়ে অচল করা শক্ত। শ্রোতা থামে না, সে বলে যায়  অবলীলায়, ‘প্লাস ২-৩ দিন কাপড় না  কাচ্লেও শীতকালে গন্ধ কম হয়।  ধরেন চান টান হয়নি তখুন  ভালো করে সেন্ট টেন্ট মেরে জ্যাকেট দিয়েও বিয়েবাড়ি  যাওয়া যায়।  কেউ বুঝতে পারবে না।’ ‘স্টাইলিশ’ ফরফর ইংরেজি-বাংলা মিলমিশ  উপস্থাপিকার গলায় অপ্রস্তুত বেকুব হাসি শুনতে পাই। এর পর বিজ্ঞাপন বিরতি। আর আমার ট্যাক্সি পৌছে গেছে হাওড়া স্টেশন, হাতে কিছুটা সময় নিয়েই। এই ভাবেই, আজকের  সময়ে, কলকাতার পথে যেতে যেতে শুনলাম, যেন আরেক গাজী ইলিয়াসের গলা – ‘রাজা, তোর কাপড় কোথায়?’ কোন এক অজানা কারণে আমার মনে পড়ে  যায় ছাত্রজীবনের স্লোগান ‘তাই তো বলি কমরেড, গড়ে তোল ব্যারিকেড’। ঠাকুর সব দেখছেন, কিন্তু কি ভাবছেন?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bahishkrit Samaj, Bengal, Culture, Elite, Kolkata, The perfumed ones, Urbanity

বাম্বু ও বিষ্ণু

যে জাতি মাতৃভাষার অধিকার ও সম্মান রক্ষা করতে মানভূমে, ঢাকায়, বরাক উপতক্যায় বারবার রাস্তায় নেমেছে, মার খেয়েছে, মৃত্যুবরণ করেছে, এমনকি দেশ স্বাধীন করেছে, সে জাতির মুখের ভাষার প্রশ্ন যে রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে ওঠে, সে আর আশ্চর্য কি। তবে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক কালের যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাষা নিয়ে, তা ঠিক ভাষার অধিকার নিয়ে নয়, সর্বসমক্ষে শালীনতা বজায় রাখার দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে। সে কথায় একটু পরে আসব। প্রথমেই বলি আমার নিজের কুল-গরিমা নিয়ে। আমার পিতৃকুল হুগলী জেলার পাটুলিগ্রামের অনেক বহুকালের (মানে বহু শতকের) বাসিন্দা এবং এই ‘দেশ’-এর সঙ্গে এই প্রজন্মেও আমাদের সম্পর্ক বেশ গভীর। আমরা রাঢী ব্রাহ্মণ এবং কৌলিন্যপ্রাপ্ত (অর্থাৎ কুলীন)। আমার পূর্বপুরুষেরা বিবাহ-সুত্রে ফুলিয়া মেল প্রাপ্ত হন। অর্থাৎ হিন্দু-প্রধান পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক বিন্যাসে আমরা একদম যাকে বলে টপ-ক্লাস। আমাদের কুলের একজন রায় বাহাদুর ছিলেন, যা কারণে অকারণে (যেমন এখুন) আমরা টুক করে জানিয়ে দিই (ইংরেজিতে যাকে বলে নেমড্রপিং)। এর থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার। তা হলো যাকে কিনা কিছু পন্ডিত এক বিশেষ ধরণের ‘সাবল্টার্ন’ বলেন, এবং আমাদের ‘নিজেদের’ মধ্যে চর্চায় বলি ‘ছোটলোক’ (প্রকাশ্যে বলি অন্ত্যজ, ব্রাত্যজন ইত্যাদি ), আমরা আর যাই হই, তা নই। আমার এই কুলেরই আমার প্রিয় এক জ্ঞাতি জ্যাঠামশাই আমাদের পৈতের পরের বছর দুর্গাপূজার সময় এক সংস্কৃত মন্ত্র শেখান। এটি আচমন মন্ত্র। কোনো অস্ট্রিক ব্যাপার স্যাপার নাই। মন্ত্রটি এরকম – ‘ওঁ বিষ্ণু তদ্‌বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ। দিবীব চক্ষুরাততম্‌।। ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু।’ কুলীন টু কুলীন জ্ঞান ট্রান্সফার হিসেবে আমার রসিক জ্যাঠা ফাজিল ভাইপো-কে এর মানে বলেন। ‘ওঁ বিষ্ণু’ অর্থাৎ একটি বাঁশ , তদ্‌বিষ্ণোঃ অর্থাৎ সেই বাঁশ, পরমং পদং সদা পশ্যন্তি অর্থাৎ পরের পশ্চাতে সদা প্রবেশ করাইবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। বলাই বাহূল্য, আসল মানেটা তাই ছিল না। সেই অর্জিনাল-এ বিষ্ণুর বঙ্গায়ন হয়ে বাঁশ হয় নাই। আমাদের পাটুলিগ্রাম তথা জিরাট-বলাগড় এলাকায় বাঁশঝার বেশ ঘন। তাই হয়তো বিষ্ণু যখন হিন্দুস্তান থেকে বাঁশঝার নিবিড় এই বাংলাদেশে আসেন আমাদের হাত ঘুরে, একটু অদলবদল হয়ে যায় আর কি। ইয়ার্কি মারছি বলে রাখলাম – বিশেষতঃ বোষ্টমদের প্রতি এই ক্ষমাপ্রার্থনা। আমরা শাক্তরা একটু ইয়ে হই। এবার ফিরি রাজনীতি, ভাষা ও শালীনতা প্রসঙ্গে।

পাটুলিগ্রামে যা বাঁশ, লন্ডনে তাই ব্যাম্বু, আর এই দুইয়ের মাঝামাঝি জল্পাইগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাই হয় ‘বাম্বু’। এতে বেশ একটা ‘বিতর্ক’ হয়েছে। এক দল বলছেন, রামঃ, বঙ্গেশ্বরীর মুখের এই ভাষার ছিরি? একদম ‘ঝি-ক্লাস’। কোটি টাকার আঁকিয়ে ও গল্প-কবিতার বই লিখিয়ের আড়ালে এই তাহলে স্বরূপ? আরেকদল বলছেন, আমাদের এই বাংলাদেশের লক্ষলক্ষ মানুষের মুখের ভাষা এরকমই। যিনি জননেত্রী তার ভাষাও যে হবে গণমানুষের মতো, নন্দনে বসে মার্কেজ পড়নেওয়ালাদের মত নয়, তা বলাই বাহূল্য। দুই পক্ষকেই বলি, ভাবের ঘরে চুরি করে কি লাভ? বাম্বু দেওয়ার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়া, প্রবল ভাবে শ্রেণী-ঘৃনা উগরে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর শব্দচয়নকে সমালচনার উছিলায়, এগুলি ভন্ডামি ও ন্যক্কারজনক। একই সাথে, যারা এমন ভাব করছেন যে কিছুই হয়নি, ভাষা তো ভাষাই, শব্দ তো শব্দই, মানুষে তো এমন করেই কথা বলে গোছের অজুহাত দেখিয়ে বাম্বুর খুঁটি দিয়ে নেত্রীর সাথে জনগনের হৃদয়ের সম্পর্কের গভীরতা মাপছেন, তাদেরকে বলি যে বাংলার গণমানুষকে অপমান করবেন না।

এটা ঠিক যে সব শব্দই সমানভাবে একটি ভাষার সম্পদ – বেশি সম্পদ বা কম সম্পদ নয় । ভাষা জীবন পায় তার ব্যবহারে। সেই ব্যবহারের একটা প্রেক্ষিত আছে। ঠিক যেমন আমরা মাষ্টারমশাই-এর সামনে সিগারেট খাইনা ( যারা উচ্চতর লিবার্টি চেতনার ভারে কুঁজো হয়ে গেছে, তাদের কথা বাদ দিলাম ), ঠিক তেমনই মা-বাপের সামনে কিছু ধরণের শব্দ প্রয়োগ করিনা যা কিনা ইয়ার-বন্ধুদের সাথে চলে। ব্যক্তিগত জীবন ও যাপনকে উলঙ্গ ভাবে মেলে ধরা যাদের জীবনাদর্শ, তারা এই স্থান-কাল-পত্র বুঝে শব্দ প্রয়োগের মধ্যে দ্বিচারিতা দেখতে পারেন। তাদেরকে অনুরোধ, যে ধরনের গণমানুষের কথা বলে বাম্বুর সামনে পর্দা টানা হচ্ছে, সেই রকম ভাষা তারা পথে যেতে-আসতে রোজ ব্যবহার করে দেখুন। গণমানুষ বলবেন ‘মুখ সামলে’। এই গণমানুষ ‘গালমন্দ’ বোঝেন, আবার বোঝেন কারুর মুখের কথা সুন্দর। তাই জনগনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বুলেট বা বাম্বু, কিছুই ছোঁড়া অনুচিত। জলের লাইনে ‘ঝি’-দের ঝগড়ার ভাষা টুকুই যারা শুনেছেন কিন্তু শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা রোজ সক্কাল সক্কাল উঠে কিছুক্ষণের কর্পোরেশনের জলের সাপ্লাই-এর জন্য একাধিক বালতি নিয়ে অপেক্ষা করা যাদের জীবন-যাপনের অংশ নয়, তাদেরকে বলি – এরা গান গায়, ভালবাসে,ঘুম পাড়ানিয়া গান শোনায় শিশুদের। আপনারা যাদের লোকসঙ্গীত বিশ্ববাজারে বেচে খান ও ফান্ড আনান, এরা সেই ‘লোক’। গালি দেওয়া বা বাম্বু দেওয়া, একটিও সহজাত নয়। হয় তা পরিস্থিতির সামনে একটি প্রত্যুত্তর, চরম হতাশার প্রকাশ কিংবা জিঘাংসার উদগিরণ। আমি অবশ্যি কলকাত্তাই সেই ভদ্দরলোক শ্রেণীকে এসব গালি-চরিত থেকে বাদ দিলাম, যাদের কাছে f-ওয়ালা ৪ বর্ণের ইংরেজি গালি হলো কুল (অর্থাত নব্য কৌলিন্যের চিহ্ন) কিন্তু বাংলা গালি হলো চীপ ও ভালগার। তারা অন্য গ্রহের বাসিন্দা। তাদের দূর থেকে প্রণাম।

বাম্বু দেওয়া বা বাম্বুর দ্বারা তাড়া খাওয়া, এ যদি রাজনীতির ভাষা হয়, তাহলে আমি বলব এ ভাষা অশালীন হোক না হোক, চরম হিংস্র তো বটেই। রাজনীতি যখন এলাকা দখল বা এলাকা ধরে রাখার খেলায় পরিনত হয়, সেই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বাম্বু এক প্রতিশোধমূলক একক। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার আরেক মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির কুকথার বলেছেন যে নিরঞ্জন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের মানুষ উঠতে বসতে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ান না, বাংলার তৃণমূল স্তরের মানুষ বাম্বুর চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকেন না। তারা চাকরি চান, নিরাপত্তা চান, বাম্বু দিতে চান না, নিতে তো নয়-ই। বাঁশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংগ্রাম কল্পনা আমাদের বাংলাদেশে বেশ পুরনো। বাঁশেরকেল্লার মধ্যে যতটা ছিল ‘সাবল্টার্ন’ ততটা ছিল হিংস্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদ। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার আরেক মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির কুকথার সাফাইতে বলেছেন যে নিরঞ্জন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের মানুষ উঠতে বসতে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ান না, বাংলার তৃণমূল স্তরের মানুষ বাম্বুর চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকেন না। তারা চাকরি চান, নিরাপত্তা চান, বাম্বু দিতে চান না, নিতে তো নয়-ই। রাজনৈতিক দল একটি তাঁবুর মত, তা দাঁড় করিয়ে রাখতে বাঁশ লাগে। বাঁশ যেন বাংলার রাজনীতিতে স্থায়ী কাঠামোর কাজ করে, সচল না হয়। নইলে তাঁবু-ও ভেঙ্গে পড়বে। তাঁবুর ব্যাপারীরা বাঁশ সচল করার আগে আশা করি একটু ভাববেন। কারণ ফেইসবুকে সেদিন দেখি এক জায়গায় লেখা , ‘সময় থাকতে পিওর হন,নইলে বাম্বু দেবে জনগণ’।

2 Comments

Filed under বাংলা, Bahishkrit Samaj, Bengal, Caste, Elite, Kolkata, Language, Polity, Power

The 2014 India election review / A question of power

[ The Friday Times (Lahore), 16 May 2014]

When the grand parliamentary elections happen in the Indian Union, certain changes are always visible in the commentary around it. The more systemic critiques are replaced by adulation-with-minor-faults type of views. We hear less of the diseased orchard and more about bad apples. There is a reason. Elections of these kinds are periodic revalidation of the state’s legitimacy itself, much like a car’s license renewal before the expiry date. Any aspersion on the basis of continuity creates deep anxieties. The Indian Union is no exception. What is exceptional is the number of people from which it claims to get its legitimacy from, thus earning the much used, tired epithet of being the ‘world’s largest democracy’. This makes the present elections and all elections to the lower house of the Indian Union parliament the ‘world’s largest democratic exercise’. The reality makes that claim patchy at places – heavens on earth do not need legitimate worldly elections for peace and development. This does not take away the fact that a large majority of the adult citizens living in territories administered by the Indian Union government voted in the 2014 Lok Sabha elections.

A lot is at stake this time around – depending on the nature of the stake. What started as an exercise in cosmetic beautification of Gujarat’s tarnished reputation by government hired PR agencies after the riots of 2002 slowly grew into a united corporate cheer about Gujarat chief minister Narendrabhai Modi’s governance style. The Ambanis, the Mittals and other such paragons of 101% honest and clean business practices sang frequent paeans to Narendrabhai and the Gujarat that he had made at the biennial investors summit called Vibrant Gujarat. A few years ago, this became the site from where India’s richest man, Mukesh Ambani, publicly declared Narendrabhai Modi to be the best person to become India’s next prime minister. When such endorsers talk, the endorsed better walk. An ambitious one will run. The rest, as they say, is history. The Bharatiya Janata Party anointed Narendrabhai Modi as its prime ministerial poster-boy. This cut short the octogenarian ambitions of a Sindhi old man who in many ways had politically mentored Narendrabhai. Advani sulked and then relented. What followed was an unprecedented spending spree to create a larger-than-life helmsman image for Narendrabhai. The Indira Congress also spent many crores of Rupees to present its latest Gandhi as the young and youthful future of face of India. As if on cue, Delhi media has sought to make this battle for the parliament of the Indian Union look like a two-horse presidential election. The truth is, between them, the two national parties have won less than 50 per cent votes in three of the last five Lok Sabha elections. This time will only be marginally different. So-called ‘regional parties’, which are mostly presented as spoilsport in the ‘national’ scene, will again be crucial to any government formation at Delhi. What is the scope of these ‘regional’ parties in the global perspective? The West Bengal-centric Trinamool Congress (TMC) got more votes in 2009 Lok Sabha than the victorious Tories got in the UK parliamentary elections of 2010. The Tamil Nadu-centric Dravida Munnetra Kazhagam (DMK) got more votes than the ruling Conservative party of Canada got in their 2011 federal election. Consider this: Post-Partition, no national party has won an absolute majority of votes, ever. The Indian Union remains and will remain a politically diverse landscape, irrespective of the terrific howls from policywallahs, mediawallahs, academics, defence contractors, security apparatchiks, lobbyists, pimps and other glittering-shady characters of all hues invested hard in the Delhi circuit. This diversity is the greatest hindrance in the smooth entry of global capital as well as cultural homogenization of the Indian Union. Such a rocky and uneven political landscape needs a wave. This time around, even sectors of the deep state has deserted the Indira Congress and put its bet on the ‘Modi wave’.

If you draw an imaginary line from Kishanganj in Bihar to Goa, you can roughly divide the territories of the Indian Union into two parts. The part to the left of this line contains much of Hindi-ized India or greater Hindia. This is where the pull of Hindutva politics is at its strongest. This is also where the politics of social justice powered by parties that organized themselves around lower castes have long kept the BJP in check after the terminal decline of the Indira Congress in Uttar Pradesh and Bihar. There is a feeling that some of these levees make break in the face of the ‘Modi wave’, which might acquire great strength in the fertile communally divided ground created by the 2013 Muzzafarnagar riots in western Uttar Pradesh . This would mean that stalwart leaders of lower castes like the Mulayam Singh Yadav-led Samajwadi Party, Mayavati-led Bahujan Samaj Party, Lalu Prasad Yadav-led Rashtriya Janata Dal and Nitish Kumar led Janata Dal (United) will mostly hold on to their core support groups and lose significant portions of their peripheral support to the BJP. That might well be true if the exit polls by CNN-IBN, suggesting an unprecedented sweep of Uttar Predesh and Bihar by the BJP turn out to be correct. This TV channel like many others has seen huge investments from Mukesh Ambani’s Reliance Industries Limited. CMS, an independent media research organization, has reported that in this personality-driven campaign, Narendrabhai Modi got 33.21% of primetime news telecast. Rahul Gandhi got 4.33%. Since the BJP will not get 8 times the number of seats or votes than Indira Congress, the disproportionate coverage that has been given to corporate India’s chosen successor is quite clear. The top 10 list of persona who were given most primetime media coverage did not contain a single person from the southern part of the Indian Union. It is not accidental that the south is not the BJP’s strongest territory. The urban Hindi-heartland bias of Delhi-centric media is rather shameful. More worrisome are its implications.

The urban Hindustan has thrown up the newest and probably the promising kid on the block of these elections, the Aam Aadmi Party.(AAP) Formed about one and a half years ago, upset all known political equations by decimating the Indira Congress and stopping the BJP in its tracks in the Delhi provincial elections. This time around, its charismatic leader Arvind Kejriwal has successfully projected himself as the most vocal critique of Narendrabhai Modi. He has challenged Narendrabhai in Benares, a seat that the BJP held in the last parliament and where AAP had no prior organization whatsoever. Thus every vote that Arvind Kejriwal gets is a vote won or transferred from others. The difference between the votes Narendrabhai will get above and beyond what the BJP’S ageing brahmin top dog Murli Manohar Joshi got in Benares can be attributed to the ‘Modi wave’. That is the relevant comparison. We shall see who will win but the AAP through its shrewd manoevering and its no nonsense stance on corruption has captured the imagination of a significant section of the urban youth. It really is trying to capture the historical political space of the Indira Congress and wants to position itself as the ‘national’ opposition and alternative to the BJP next time around. That is a tall order, especially given that the AAP’s stated list of enemies includes not only the BJP but also the Indira Congress, the Gandhis, the Ambanis and the newest Gujarati ‘110% honest’ millionaires, the Adanis.

On the morning of May 12th, I stood at the voting line in the Chetla area of Kolkata, the capital of Bengal. As a Bengali, my interests are most focused here. In almost all seats of Bengal, BJP is not among the top 2 forces in contention. This is broadly true for most of the regions east of my earlier stated Kishanganj-Goa line. Here the non-Congress non-BJP forces more or less hold on to their spheres of influence thought there is a huge increase in the visibility of the Modi campaign. This will surely reflect as a general bump in the percentage of BJP votes, but on the whole, in the south and the east of the Indian Union, what we have may at best be called a ‘Modi trickle’. In many places, event that hint of saffron ghairat is absent. This is not odd for a multinational super-state like the Indian Union but these elections will probably underline that fact quite clearly.

These elections kept Muslims in particular focus all through the campaign. This started at first as a part of the old Indira Congress and Samajwadi Party tactics of buying Muslim votes by fear-mongering. Among many Muslims, there is deep distrust and suspicion of a Modi government, if not outright fear. But if fear alone is able to herd a people together to the arms of the cynical fear-mongerer doubling up as protector, it is unfortunate for the community and its politics. AAP aimed to change this narrative at many places. When asked my Muslim community leaders about what could AAP do for Muslims, Arvind Kejriwal famously replied that he could not do anything special but will ensure that people from every faith are treated equally under all circumstances. This is in line with what G Shah commented on Kejriwal’s letter to Muslim – ‘As a muslim voice, dare I say that we do not want any special benefits, aka appeasement. Even if the regular / common state welfare mechanisms are made available to everyone (including us) that would be more than enough for everyone (including us).’ The loss of Muslim support might be a significant blow to the Indira Congress, which prides itself as being the sole ‘national’ embodiment of the Indian Union’s secular ethos.

During his campaign, Narendrabhai Modi assailed Mulayam Singh Yadav saying “do you know the meaning of coverting to Gujarat? It means 24-hour electricity in every village and street. You can’t do it. It requires 56-inch chest.” People of the Indian Union will soon come to know the advantages or disadvantages of pectoral girth in poverty alleviation, human rights, civil liberties and a list of other issues that almost always has required a big heart, not a big chest.

Leave a comment

Filed under Delhi Durbar, Democracy, Federalism, Hindustan, India, Media, Polity, Power

The illegal Bangladeshi – a view from West Bengal

[ Express Tribune (Karachi), 16 May 2014 ; Observer Bangladesh, 17 May 2014 ; Millenium Post, 15 May 2014; Kashmir Observer, 17 May 2014]

The massive victory of Narendrabhai Modi led Bharatiya Janata Party (BJP) in the recently concluded parliamentary elections of the Indian Union has brought much cheer to Islamo-nationalist political forces in the People’s Republic of Bangladesh. The cynical calculation behind the jubilation is that the new government will squeeze illegal Bangladeshi migrants who are in the Indian Union. The Awami League government will look like a lame duck in front of an aggressive New Delhi. This would strengthen the Bangladeshi opposition’s case of Awami League being an Indian (read Hindu) stooge. This will politically benefit the opposition. However, it is not to be forgotten that during the last Islamo-nationalist Bangaldesh Nationalist Party government at Dhaka, which partially coincided with the tenure of the BJP-led government at New Delhi, many ‘deals’ happened. There were ‘illegal Bangladeshis’ then too. What are the plans of the new New Delhi government will unfold soon.

The People’s Republic of Bangladesh shares with the Indian Union a border whose drawing, policing and barb-wiring takes into account the concerns of everyone except those who live at the border. This is probably true for nation-state borders in general. The Border Security Force (BSF) of the Indian Union has a distinctly bad reputation for being trigger-happy when it comes to shooting down what it claims as people illegally crossing the border. This makes the BSF a much-hated name in the People’s Republic of Bangladesh, a sentiment that is used to the hilt by Islamo-nationalist political forces in their campaigns. The BSF also routinely harasses, rapes, maims and assaults people in the villages of the West Bengal side of the border. This complicates the easy narrative of BSF’s anti-Bangladesh bias. Like all stat-raised band of armed people, these are self-serving forces. The border is a plum posting for the amount of money paid to border security personnel on either side – an ‘illegal’ taxing of ‘illegal’ activities. BSF, with its assaults on both East Bengalis and West Bengalis, seems to be an equal opportunity brutalizer. This is the force entrusted by the Indian Union to keep ‘illegal Bangladeshis’ to enter the territories of the Indian Union.

During elections in the subcontinent, neighbouring nation-states and their inhabitants come alive as proxies for domestic issues and fissures. ‘India’ is one of the fundamental axes around which politics in Pakistan, Bangladesh and Nepal expresses itself. The Indian Union has ‘closet Pakistanis’ and ‘illegal Bangladeshis’.

Narendra Modi, speaking at a Bharatiya Janata Party (BJP) rally at Srirampur in West Bengal on 27th April, made public his resolve to deport Bangladeshis from India. It is an old BJP charge that most political forces in West Bengal have tried to get Muslim votes by nurturing illegal Muslim migrants from Bangladesh, by getting them government documents to regularize their illegal status. The unsubstantiated underside of this charge is that the West Bengali Muslims look favourably at this development and do not mind this increase in the number of their co-religionists. At the alarmist end of this claim is that West Bengal is staring at an inevitable demographic reversal where Bengali Hindus will soon lose their majority, thus losing their only safe haven (though victims of the 1971 Marichjhapi massacre would say otherwise). That modern yearning for a united Hindu vote (just like monolithic Hinduism) remains unfulfilled. The BJP’s thought that in West Bengal’s multi-cornered fight, a renewed push at the consolidation of some Hindu votes might reap some dividends has turned out to be true as it increased its vote percentage all across West Bengal and has emerged as the second largest party in the Kolkata metropolis – an unprecedented development.

Mamata Banerjee, the chief beneficiary of Muslim Bengali votes, had reacted sharply to Modi’s statement. She characterized it as a ploy to divide Bengalis along religious lines. Banerjee is aware that between a third and a fourth of West Bengal’s electorate are Muslims and were crucial to her dream post-May 16th scenario of calling shots at Delhi. With the BJP’s absolute majority at the centre, such dreams came to a nought. Nonetheless, she had reminded the people that the ‘butcher of Gujarat’ does not have a clean record of ensuring peaceful co-existence between religious communities. Modi’s ‘Bangladeshi’ is a codeword that Banerjee can decode.

Though pre-partition Bengal was very often called Bangladesh, and a dwindling number of West Bengalis continue to say Bangladesh when they mean West Bengal, the term ‘Bangladeshi’ is a relatively recent term. The term owes its present currency to Bangladesh’s dictator Zia-ur-Rahman who used this term effectively in his soft-Islamization programme to counter the politico-cultural capital of Bengali identity, deemed to be a political tool of the Awami League and otherwise polluted by Hindu Bengali influences.

The ‘Bangladeshi’ that Modi wants deport back to East Bengal is a Muslim migrant from East Bengal. He did not cross over or bribe the Border Security Force in order to wage a demographic war against West Bengal’s Hindu majority. He did that because he is pitifully poor in a low-wage country and would have gone to Dubai or Malaysia if he could. East Bengali Hindus have additional reasons to cross over, given the rampant systemic discrimination they face in their homeland, in addition to the general atmosphere of insecurity for religious minorities in that country.

When some professional secularists claim that few, if any, illegal Bangladeshi migrants are present in the Indian Union, they are consciously lying and this does immense damage to their otherwise good causes. It is undeniable that a very large people from East Bengal (whose present political form broadly is the People’s Republic of Bangladesh) have been migrating to the Indian Union, since 1947. While this traffic has seen ups and downs, there are specific high-points. The early migrations are etched in public memory due to their immediate ties to the partition. The widespread rioting in East Bengal in 1950 led to a large second wave. There have been many waves after that. The anti-Hindu riots of 1964 and the 1965 Indo-Pak war saw a huge number of people move out. The events of 1971 took this to another scale altogether, where a genocide, directed towards East Bengalis in general and East Bengali Hindus in particular, produced 10 million refugees of which nearly 1.5 million (mostly East Bengali Hindus and East Pakistani Bihari Muslims) never went back. 1971 marks the peculiar end of the ‘legitimate’ refugee. This partly stems from the false idea that religious minorities are ‘safe’ in ‘secular’ Bangladesh. By 1974, those who had fled during the Bangladesh Liberation war events of 1971, the percentage of Hindus in the People’s Republic of Bangladesh stood at 12.1 %. The 2011 figure was 8.5 %, a staggering 33% decrease in proportional terms. The downward trend continued through every decade since 1971. The Babri demolition of 1992, the 2001 and 2014 anti-Hindu violence were big-spurt in this continuous trickle. Even on 27th April, the day Narendrabhai Modi gave several Hindu temples and homes were ransacked in the Comilla district of Bangladesh.

It can be safely assumed that most of those who fled their homeland ended up in the Indian Union. The long partition continues. 1971 does not represent a change. That partition and refugee narratives tend to centre around 1947 and are mostly from the higher castes, the low-caste heavy later traffic does garner the same prominence in ‘public imagination’ of West Bengal, still dominated by the higher-castes. Namasudras and other lower caste communities of East Bengal have formed the bulk of the post-1971 migration, many settling in 24 Parganas district. The Muslim migration follows similar routes. The shifting demographic reality of 24 Parganas and the consequent insecurity that it evokes among people who recently fled East Bengal to find security in a different demographic reality across the border has resulted in a series of riots in that area. Fringe groups like Hindu Samhati have fished in these troubled waters with some success. Public muscle flexing of certain Muslim groups in that area has not helped matters. Copybook trigger issues like music in religious procession passing through specific routes, encroaching on religious site and trans-community eloping/kidnapping are all present. While political parties are doing their arithmetic carefully, conflagrations in the subcontinent have the power of burning calculation sheets to ashes, with the spoils going to the most cynical players.

In this high-stakes game among the powerful, the unresolved issues of the powerless fester on. Fleeing persecution, insecurity and death, the post-1971 lower caste refugees from East Bengal remain ‘illegal’. For all practical purposes, the Indian Union denies citizenship to those who crossed over from East Bengal after 25th March 1971, the day when major atrocities by the Pakistan army started in Dhaka. The 2003 Citizenship (Amendment) Act took away the possibility of birthright citizenship from the children of many of those who fled persecution in East Bengal. This has created millions of state-less young people who are children of refugees (infiltrators in government-speak) who have lived all their life in the Indian Union. Due to the amendment, many Dalit migrants were been identified as ‘infiltrators’ and deportation proceedings were started. The Matuas, one of the largest low caste groups of primarily East Bengali origin namasudras settled in West Bengal, have been protesting this act, passed incidentally by a BJP-led government. While all political parties want the ‘legal’ Matua vote, they are silent on the citizenship question. The root problem is that they want to duck the issue of distinguishing between the varying motives of those who crossed over. To the Hindutva brigade, this question is a ‘secular’ way of effectively distinguishing between Muslim and Hindu illegal migrants. No one wants to be seen as the one who wants blanket amnesty to Bangladeshi Muslim migrants. Neither does one want to appear insensitive to the plight of human rights refugees. Silent solidarity will be enough for votes. Modi has astutely recognized an opportunity and has set the cat among pigeons by calling for for evaluation of illegal migrants, case by case. He has also gone on to state that all Hindus have a right to seek refuge in the Indian Union. He is silent on why his party’s government passed legislation that took away the possibility of citizenship from the children of lakhs of low caste Hindus of East Bengal.

Ultimately, the persecuted Hindus of East Bengal (refugees and resident) are mere pawns. When Delhi-based Subramaniam Swamy (who has not been included in the cabinet till now by Narendra Modi) outrageously claimed a third of the territory of the Bangladesh to settle illegal Bangladeshis, he does not care about the ramifications of such statements on the situation of Hindu Bengalis presently living in Dhaka and Chittagong, where they are branded Indian fifth-columnists by dint of faith. The 1992 actions of Ramlala’s lovers took its toll on many Hindus in Dhaka and elsewhere. The Hindustani Hindutva brigade couldn’t care less about this type of ‘collateral damage’.

East Bengali Hindu migrants are unfortunate. The prime beneficiaries of partition crafted the Nehru-Liaquat pact of 1950. Many did not move due to the false sense of assurance (including the assurance of the door being permanently open) that came with this largely ceremonial gesture. By this, the Indian Union effectively washed off its hands from the ‘minority problem’ in Pakistan. It did not want the refugees whose refugee status resulted directly from the political agreement and power-hungry moves that created the Indian Union in the way it did. ‘Shutting the door’ has been the Indian Union policy post-1971 (similar to what Pakistan did to stranded Pakistanis in Dhaka), something it cannot implement – one of the natural consequences of claiming full monitoring abilities over an absurd frontier. For decades, the Indian Union has systematically discriminated Eastern frontier refugees (mostly Bengalis) on questions of compensation, entitlement, relief, citizenship, etc. The Indian Union owes reparation to these people, for the Indian Union’s creation and its geographical contours are intimately tied to their migration and impoverishment.

The ‘illegal Bangladeshi’ and associated codeword play is a problem created by a partition that failed as a solution. If division has failed, some measure of integration is necessary. This can take various forms including the possibility of dual or tiered citizenship for all Bangladeshi migrants. Of course, the government at Dhaka has to be a party to it, since migration to the Indian Union has been crucial in the alienation of a huge amount of Hindu-owned property in Bangladesh. Whatever certain private fantasies may be, that a Muslim-free Indian Union or a Hindu-free Bangladesh cannot be a solution is evident on a daily basis in almost minority-free Pakistan. A comprehensive asylum system needs to be instituted, which does not discriminate on the basis of religion. Hindus are not the only human rights victims in Bangladesh. The Ahmadiya Muslims, the Jumma people of the Chittagong Hill tracts and many more are. When any India-based entity like the BJP makes public pronouncements about its sympathy towards victims of human rights victims anywhere, it might do well to make amends for the communal riots in Muzaffarnagar, Ahmedabad, Deganga and a lot more. What is good for the goose is good for the gander.

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Caste, Delhi Durbar, Dhaka, Displacement, Identity, Nation, Partition, Religion

ম্যাড্রাসী কারে কয়?

 

ইউটিউবে একটি ভিডিও সর্দি-কাশির ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়েছে। নাম ‘এন্না দা রাস্কালাস – সাউথ অফ ইন্ডিয়া’। বেশ চনমনে ও মজাদার এই ভিডিও ইতিমধ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ বার দেখা হয়েছে মাত্র ২ সপ্তাহে । না দেখে থাকলে দেখে ফেলুন। স্ট্রে ফ্যাক্টরি ও কালচার মেশিন নামের দুই শিল্পীগোষ্ঠী ‘দক্ষিন ভারত’-এর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র ও পৃথক সংস্কৃতি ও জীবনবৈশিষ্ট-কে তুলে ধরেছেন। ‘মাদ্রাজী’ নাম এক করে দেখা এবং হেয় করার প্রবণতার বিরুধ্যে এই ভিডিও। ‘দেয়ার ইজ নো ম্যাড্রাসী, উই আর অল পারোসি’ ( ম্যাড্রাসী বলে কিছুই নেই, আমরা সকলে প্রতিবেশী) – এই হলো গানের জনপ্রিয় লাইন ও মূলমন্ত্র।

এবেলা স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে ম্যাড্রাসী শব্দটা আমি বাঙ্গালীদের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যবহার করে থাকি। এ শব্দটি শুনেই বড় হয়েছি। আসলে, বাংলায়ে ম্যাড্রাসীর সাথে মাদ্রাজী শব্দটিও চালু আছে – রোজকার কথায় এবং সাহিত্যেও, প্রথম হিন্দী ফিলিম হবার অনেক আগে থেকে। নিখিল বাংলাদেশে সাধারণত এই শব্দটি কাউকে নিচু করে দেখাতে ব্যবহার করা হয় বলে মনে হয়নি। আমি গঙ্গা-যমুনার হিন্দুস্তানী এলাকায় বড় হইনি। শুনেছি সেখানে নাকি ম্যাড্রাসী শব্দটি বেশ হেয় করেই ব্যবহার করা হয়। আমার বাংলার ‘মাদ্রাজী ‘ শব্দ, যার মাধ্যমে আমি অন্য বাঙ্গালীর সাথে একটা সাধারণ-ভাবে জানা ধারণাকেই নির্দেশ করি। যদিও এটি মোটামুটি নানান দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠির (যেমন তামিল, তেলুগু, ইত্যাদি) জাতীয়তাগুলিকে বোঝাতে ব্যবহার হয়, সচেতনভাবে তাদের মধ্যেকার তফাত্গুলিকে মোছার লক্ষ্যে ‘মাদ্রাজী’ শব্দের উত্পত্তি নয়। দ্রাবিড় জাতীয়তাগুলির মধ্যের বাস্তব ভিন্নতা নিয়ে আসলে আমাদের মাথাব্যথা ছিল না। বরং এই বাংলাদেশে আমরা যে সব দ্রাবিড় জাতীয়তাগুলির মানুষের সংস্পর্শে এসেছি, তার ভিত্তিতে বানিয়ে নিয়েছি এক ‘মাদ্রাজি’ – যার আকার ও বৈশিষ্ট একান্তই আমাদের নিজস্ব দ্যাখা-শোনার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের মনের একটি জায়গায় বাস করে আমাদের এই ধারণার ‘মাদ্রাজী’, কিছুটা বাঙ্গালীর ‘ব্রেজিল-আর্জেন্টিনা’র মত – আগমার্কা আসলের সাথে যার মিল খুজতে গেলে আমাদের নিজেদের গড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে এবং সে প্রক্রিয়ার সততাকে অস্বীকার করতে হয়। ঔপনিবেশিক সময়ে নিখিল বাংলাদেশের শহুরে মানুষের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ফল যে মাদ্রাজী, দক্ষিণের নানান জনগোষ্টির সাথে তার সম্পর্কে দূরের , যদিও পুরো সম্পর্কহীন-ও নয়।

এই উপমহাদেশের দক্ষিন অংশে রয়েছে নানান দ্রাবিড় জাতীয়তাগুলির নিজনিজ মাতৃভূমি। এই এলাকাগুলির একটা বড় অংশ ইংরেজরা ‘ম্যাড্রাস প্রেসিডেন্সি’ নাম দিয়ে এক প্রশাসনের ছত্রতলে নিয়ে আসে। এই সময়েই নানান ভৌগলিক ও জাতিগোষ্টির এলাকা তালগোল পাকিয়ে ‘মাদ্রাজ’ নামক নির্মিত ধারণার উদ্ভব ঘটে। নির্মিত কারণ সাহেবরা এক প্রশাসনের তলায় এনে মানচিত্রে দাগ কেটে দেওয়ার ফলেই ‘মাদ্রাজ’ ব্যাপারটি চালু হয়, ক্রমে হয়ে ওঠে ‘আসল’ কিছুটা। ঠিক এই ঔপনিবেশিক সময়েই, প্রশাসনিক একতা ও মানচিত্রে সাহেবের টানা দাগের ভিত্তিতে আরেকটা ধারণার বাজার আস্তে আস্তে গরম হতে থাকে। সে ধারণাটির নাম ‘ইন্ডিয়া’। যে ধারণাগুলির পেছনে ঠেকা হিসেবে থাকে বন্দুক ও লস্কর, তার নাম হয় জাতিরাষ্ট্র। আর যেগুলির থাকে না, তা থেকে যায় জাতীয়তা হিসেবে।

দেশভাগের পরে রাজ্যগুলির ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠন এবং শহরের পুনর্নাম্করণের ফলে ‘মাদ্রাজ’ মোটামুটি অবলুপ্ত হয়েছে। ‘ইন্ডিয়া’ ধারণাটি নানাভাবে বিভক্ত হয়েছে – এক পবিত্র মাতৃভূমি (ভারত নামধারী সংঘ-রাষ্ট্রে), শক্তিশালী ষড়যন্ত্রকারী শত্রু (পাকিস্তানে), দাদাগিরি দেখানো ‘বন্ধু’ (৭১ পরবর্তী পূর্ব্ববঙ্গ অর্থাত গনপ্রজান্তন্ত্রী বাংলাদেশে), এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী (বর্মায়), ইত্যাদি। অনেক উপনিবেশ এলাকাতেই ‘মাদ্রাজ’ বা ‘ইন্ডিয়া’ গোছের ধারণাগুলি গল্পটা একইরকম। একই প্রশাসনের তলায়ে বসবাসকারী নানান জাতীয়তার মানুষ , বিশেষতঃ শহুরে পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা, অন্যান্য এলাকার শহরে পৌছয়ে। এই আদানপ্রদানের মাধ্যমে এবং সাহেব বিরুদ্ধতাকে কেন্দ্র করে একটা সাধারণ ঐক্যের ধারণা তৈরী হয় – যা ক্রমে জাতিরাষ্ট্রের হিসেবে বাঁধে। এই ধরনে ধারণা কাল্পনিক বলেই ঐক্য, অখন্ডতা, পতাকা স্যালুট, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পশু, এক সংসদ, এক প্রশাসনিক ক্যাডার (আইএএস, আইপিএস), কেন্দ্রীয় সিলেবাস, শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি নানা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই কল্পনাকে বাস্তবের রং দিতে হয়, মন্ত্রের মত বলে যেতে হয় এই ধারণার পবিত্রতার কথা। আবার একই সাথে ধারালো অস্ত্রে সান দিতে হয় সারাক্ষণ – এই গানের সুরে যারা গলা মেলায় না, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য। এইখানে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের আশ্চর্য মিল। তা গুমখুন হওয়া বেলুচি-সিন্ধি-মণিপুরী-নাগারা হাড়েহাড়ে জানেন।

‘ইন্ডিয়া’র অন্তর্গত জাতীয়গোষ্ঠির্গুলিকে কেন্দ্র যে এক চোখে দ্যাখে না, সেটা কারো অজানা নয়। কাল্পনিক ‘ইন্ডিয়া’র ”আসল’ আত্মাটি যে বিন্ধ্য পর্বতমালার উত্তরে হিন্দুস্থানী এলাকায়, তা আর বলতে অপেক্ষা রাখে না। বলিউডিয় ‘আম আদমি’ যে পূর্বের বা দক্ষিণের আদমি নন, সেটা পরিষ্কার নিশ্চই পরিষ্কার হয় এশিয়াড বা অলিম্পিকে ‘ইন্ডিয়া’ দলের ‘আসল’ পাগড়ি দেখে – সে মাথা তামিল হোক বা উড়িয়া। পাগড়ি হলো মেনস্ট্রিম। বাকিদের কষ্ট করে বোঝাতে হয় তারা কারা, কি খায়, কি গায়, কি করে, কি পরে, কি বলে, ইত্যাদি। যেমন পুষ্প-প্রদর্শনীতে অজানা গাছের নাম ছোট করে লেখা থাকে , তেমনই আর কি। ‘সাউথ অফ ইন্ডিয়া’ ভিডিওর মূলে রয়েছে ‘আসলি’ ইন্ডিয়ানদের কাছে নিজেদেরকে তুলে ধরার, বুঝিয়ে বলার প্রচেষ্টা। যাতে তাদেরকে একইভাবে স্টিরিওটাইপ না করা হয়। ‘ইন্ডিয়া’র দিল যে দিল্লীতে , একের পর এক নাগা, মিজো , মণিপুরী হত্যা, ধর্ষণ, প্রহার, অপমানের ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় যে সব স্টিরিওটাইপ বাঙ্গালীর ‘মাদ্রাজির’ মত অপেক্ষাকৃত নিষ্পাপ নয়। হিন্দী বচন, গুরগাঁও গমন, দেওয়ালি পালন – এগুলিই ‘ইন্ডিয়া’র আত্মা থেকে দুরে থাকা জনগষ্টিগুলির ‘ইন্ডিয়ান’ হবার সোপান। কিন্তু আমাদের নিজনিজ মাতৃদুগ্ধ-মাতৃভাষা-মাতৃভূমি তো কাল্পনিক নয়। উপমহাদেশের অনেকে ‘ইন্ডিয়ান’ বলতে যাকে কল্পনা করেন, তাদের সাথে অনেক ‘ইন্ডিয়ান’এরই কোন মিল নেই। তারা যদি আজ মাইল গান গায় , ‘দেয়ার ইজ নো ইন্ডিয়ান, উই আর অল পারোসি’ – তারা কি খুব ভুল বলবে? ‘ম্যাড্রাসী’ নামের ধারণাকে যদি বেশি তলিয়ে মারো টান, আরো অনেক পবিত্র কল্পনাও হয় খানখান। তাই, ‘ওপারে যেও না ভাই, ফটিংটিং-এর ভয়’। দিনকাল ভালো না।

2 Comments

Filed under বাংলা, Bengal, Colony, Foundational myths, Hindustan, India, Nation, Pakistan

কলকাতার কাশ্মীর

[ Doinik Arthokotha (Dhaka), Nov 2014]

কয়েকদিন আগে দিল্লীর একটি মেগাজিনে একটা লেখা দেখলাম। শিরোনাম ‘কলকাতা আফটার ক্যালক্যাটা’। নামটি বেশ ব্যঞ্জনাময়।  এই লেখা তাদের জন্য, যাদের জন্য ক্যালক্যাটা ছিল সুন্দর, তার পরে তা যখন কলকাতায়ে পরিণত হলো,  তখন শহরের জাত গেল, সম্মান গেল, সেই ‘চার্ম’-টা আর রইলো না। এ শহরের একটা বড় অংশ কিন্তু কখুনই কলকাতা থেকে ক্যালকাটায়ে সে অর্থে প্রবেশ করেনি ফেরিওয়ালা বা ভৃত্য হিসেবে ছাড়া।  তাদের জন্য কোনো ‘কলকাতা আফটার ক্যালক্যাটা’ নেই।  রয়েছে কলকাতার নিরবিছিন্নতা। ক্যালক্যাটা পরিযায়ী পাখিদের শহর।  তারা অনেকে আজ উড়ে গেছে ব্যাঙ্গালোর, বোম্বেতে । যদিও সেখানেও বেঙ্গালুরু বা মুম্বই-এর সাথে তাদের যোগ ক্ষীণ।  ঠিক যেমন কলকাতায়ে অবস্থান-কালীন সময়ে এই ক্যালক্যাটা কোনো ক্রমে কলকাতা-কে বাঁচিয়ে চলত। কলকাতার পরিসর থেকে ক্যালক্যাটার স্বেচ্ছা-নির্বাসনে কলকাতার খুব তফাৎ হয়নি।  কলকাতা নিজের  মধ্যে যাযা ধারণ করে, তা ক্যালক্যাটার ধারণার অতীত। এমনকি এক কলকাতা হলো কলকাতার কাশ্মীর।

বলাই বাহুল্য এই কাশ্মীরের সাথে ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের ‘কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী’ হুঙ্কারের কাশ্মীরের মিল নেই।  প্রায় সকল কাশ্মীর-ই আমাদের মনে মনে বানিয়ে নেওয়া। প্রায় সকল বললাম কারণ কাশ্মীরিদের-ও একটা কাশ্মীর আছে , যেটা এই নানা কাশ্মীরের মাঝে হারিয়ে যায়। ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’র হুঙ্কারে , স্লোগানে বাস্তবের টেকনাফ বা তেঁতুলিয়া বড় প্রান্তিক।  উচ্চ্চারিত অক্ষরের মিল ঘটিয়ে স্লোগান বলশালী ও ছন্দময় হয়, কিন্তু টেকনাফ ও তেঁতুলিয়ার সাথে ঢাকার দূরত্ব একই থেকে যায়। প্রসঙ্গত, পশ্চিম বাংলাতেও একাধিক তেঁতুলিয়া নামধারী জায়গা আছে। তবে এখুন সেটা থাক।ফিরি কাশ্মীরে , কলকাতার কাশ্মীরে।

আমার কর্মস্থল আমার ঘর থেকে বেশ খানিকটা দূরে।  আমি থাকি কলকাতা শহরের দক্ষিণ দিকে, চেতলা অঞ্চলে।  এলাকাটি শহর কলকাতার থেকে পুরনো – তখন নাম ছিল জেলেপাড়া। এখুনো এই জেলেপাড়া নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি। জেলেপাড়া থেকে আজকের চেতলায়ে  এলাকার  বিবর্তন-ও এক অসামান্য গল্প, যা আরেকদিন বলব । তো রোজ-ই চেতলা থেকে আমি যাই বরানগর। এটি কলকাতা ছাড়িয়ে উত্তরে একটি ছোট শহর। আমি কলকাতার ভূগর্ভস্থ মেট্রো-রেলে চড়ে পৌছই শ্যামবাজার – একটি  বিশাল, বর্ণময়, জনবহুল, সদাব্যস্ত বাজার এলাকা – তাঁতের শাড়ি থেকে ভাং-এর মিষ্টি, সবই পাওয়া যায়। এখানেই ৫টি রাস্তা এসে মিশেছে – তাই নাম ৫ মাথার মোড়। কেন্দ্রস্থলে রয়েছে সুভাষ চন্দ্র বসুর মূর্তি, ঘোড়ায় চড়া, সমর-সজ্জায়। ঘোড়ার উন্নত ল্যাজ যে দিকে নির্দেশ করে, সেদিক ধরে আমি এগিয়ে একদিন পৌছলাম এক তেলে ভাজার  দোকানে। সবই সুলভ মূল্যের – একটু বেশীই সুলভ যা কিনা আমার মতো সবর্ণ ভদ্রলোক স্বচ্ছল মানুষের মনে খাবারের গুণমান সম্পর্কে সন্দেহ জাগায়। সঙ্গের ছবিতে দিলাম মূল্য তালিকা। জিনিসগুলি প্রায় সবই বেশ চেনা – আলুর চপ, বেগুনী, কচুরী, সিঙ্গাড়া, ধোকা ইত্যাদি। চোখ আটকালো কাশ্মিরী চপ-এ গিয়ে।  এ আবার কি জিনিস? জিজ্ঞেস করলাম দোকানিকে।  ততক্ষণে আমার হাতে কাগজের ঠোঙায় ইতিমধ্যেই একটা ভাজা ধোকা রয়েছে। দোকানি বলল, খেয়ে দেখতে পারেন একটা।  আমি নেবার আগে জিজ্ঞেস করলাম কেমন খেতে? দোকানি  বলল খেয়েই দেখুন না – মাত্র ৩টে টাকাই তো দাম। তারপর বলল, একটু টক-ঝাল-মিষ্টি। ৩
টাকার কাশ্মীরি চপ কেনার আগে অজানা স্বাদ নিয়ে ঠকে যাবার ব্যাপারে সজাগ এই ক্রেতা (অর্থাৎ আমি) যে কতবার দামি খাবারের হোটেলে গিয়ে নাম না জানা ভিনদেশী খাবার নিয়ে ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করেছে। স্থান, কাল, পত্র দেখে আমার পরীক্ষা কমে, নিরীক্ষা বাড়ে। স্বচ্ছল মানুষের ব্যক্তিগত দুনম্বরীর নানা অব্যক্ত বিভঙ্গ আছে, এটি তার একটি। আজ তার-ই মধ্যে একটা বাজারে প্রকাশ করে দিলাম। সে যাই হোক, নিলাম একটা কাশ্মীরি চপ।  বাইরে থেকে দেখতে ভেজিটেবিল চপের থেকে আলাদা নয়, ভেতরেও বিশেষ তফাৎ নেই।  তফাৎ-টা স্বাদে। সত্যই টক-মিষ্টি, ঝাল প্রায় নেই। উদরস্থ করলাম দ্রুত। ভাই, এটাকে কাশ্মীরি চপ কেন বলা হয় ? সে বলল, কাশ্মীরে খায়টায় বোধহয়, ঠিক জানিনা। তবে অনেকদিনের আইটেম। আমারও এই ‘কাশ্মীরে খায়টায়’ ব্যাপারটি ঠিক বিশ্বাস হলো না।  তাতে কি। নিখিল বাংলাদেশে, কলকাতায়, ঢাকায়, টেকনাফ থেকে হাসিমারা, দীঘা থেকে বিয়ানীবাজার ফুটবলকে কেন্দ্র করে যে ব্রেজিল-আর্জেন্টিনা মত্ততা, তা একান্তই আমাদের, ব্রেজিল-আর্জেন্টিনা তার খবর জানে না, রাখেও না।  তাতে আমাদের ভারী বয়েই যায়। আমি নিশ্চিত আরো এমন ছোট দোকানে ‘কাশ্মীর’ বেঁচে আছে।  কলকাতার এই কাশ্মীরি ঐতিহ্য একান্তই তার নিজের। এবং খাঁটি। এর ভাষা ও ভাষ্য, পোড়া নিকৃষ্ট তেল, বদহজম, ঘাম, টক-ঝাল-মিষ্টি আমাদের। এই কাশ্মীরের তারিফ করতে গেলে শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতের মতামত ধার করতে হয় না, যেমন করতে হয় শ্বেতাঙ্গ মানসিকতার কালা আদমির ইংরেজি রচনার ক্ষেত্রে। সায়েব পিঠ চাপড়ে সাবাস না বললে কালা আদমির ইংরেজি রচনা থেকে যায় অক্ষম। কলকাতার এই কাশ্মীর চর্চার জন্য শারীরিক বা মানসিক শ্বেতাঙ্গের দ্বারা পিঠ চাপড়ানোর দরকার পড়ে না। শ্বেতাঙ্গ দৃষ্টির শ্বেতাঙ্গ মননের সীমাবদ্ধতা বিশাল। সে জানেই না আমাদের পিঠ কোথায় আর পেট কোথায়। তাই অনেক মরেও বাংলা বেঁচে গেছে। ঠাকুর মঙ্গলময়।

এই শহর কলকাতায় আমি আরো কাশ্মীর দেখেছি। যখন আমি কলেজ স্ট্রিটস্থ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়তাম, তখন মাঝে সাঝেই যেতাম কলুটোলা স্ট্রিট ধরে চিত্তরঞ্জন এভিনিউর ওপারে, মৌলানা সৌকত আলী স্ট্রিটে। সেখান থেকে বেরিয়েছে এক অবিস্মরণীয় ছোট গলি – নাম ফিয়ার্স লেন। ফিয়ার্স লেন-এর নানা মহিমা নয় আরেকদিন বলব, আজ আসি এখানকার সুতা কাবাবের দোকানের সামনে। এখানকার অসম্ভব স্বস্বাদু শাল-পাতায় পরিবেশিত কাবাব আমি খেয়েছি অনেকবার।  একদিন দেখি উল্টোদিকে বসেছেন আরেকজন – সাদা জামা-কাপড়, টুপি-দাঁড়ি, সামনে একটা ডেকচি, আর পাশে লেখা ‘কাশ্মীরি কাবাব’। গিয়ে খেলাম।   যা পেলাম, তা হলো দুপিস ছোট বান-রুটির মধ্যে হলুদ রঙের থকথকে মশলাদার কাই-তে মাংসের কিমা।  অর্থাৎ এই সে অর্থে ‘কাবাব’ নয়। জিজ্ঞেস করলাম, উনি কে, কবে থেকে বসছেন ( আমি তো প্রায়-ই যেতাম ওখানে, আগে দেখিনি), কাশ্মীরি ব্যাপারটা কি, ইত্যাদি। জানলাম ওরা ৩ পুরুষ কলকাতায়, এরা হিন্দুস্থানী – সেখান থেকেই এখানে আসা কিন্তু কাশ্মীর থেকে কিনা বলতে পারেন না, জানবাজারে একটা ঘড়ি সারাই-এর দোকান ছিল বা আছে কিন্তু তা ভালো চলছে না, নতুন ব্যবসা শুরু করে আয়ের চেষ্টা করছেন। আর কাশ্মীর ? ওটা এমনিই লিখেছেন।  কদিন বাদে ওনাকে আর দেখিনি – হয়ত কাশ্মীরি কাবাব ব্যবসা চলেনি, হয়ত ঘড়ি সারাই-তে ফের একটা চেষ্টা করছেন, হয়ত অন্য কোথাও কাশ্মীরি কাবাব বেচছেন, যেখানে উল্টোদিকেই এমন সফল কাবাব দোকান নেই। যদি কাশ্মীরি কাবাব ব্যবসা সফল হত, এর ৩-৪ পুরুষ পরে এক খাঁটি ‘কাশ্মীরি’
আইটেমটিকে , পরিবারটির আদি কাশ্মীরি বংশপরম্পরা ও আরো নানা প্রবাদ তৈরী হত। সেটা হয়নি।  গড়ার সাথে সাথেই ভেঙ্গে গেছে হয়তো। কিন্তু যেগুলি ভাঙ্গেনি, এমনই অনেক খাঁটি ‘কাশ্মীর’ , এমনই অনেক খাঁটি ‘বঙ্গীয়’ ব্যাপার-স্যাপার লুকিয়ে আছে আমাদের মাঝে, আমাদের অস্থিমজ্জায় , আমাদের আত্মপরিচয়ে, বাঙ্গালিত্বে।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Kolkata, Urbanity

বঙ্গদর্শন

[ Ebela, 4 Nov 2014]
খণ্ডিত বঙ্গের দুই অংশ – ছোট ভাই পশ্চিমবঙ্গ ও বড় ভাই পূর্ব্ববঙ্গ।  এই দুই বঙ্গ মিলেই আবহমানকালের বাংলাদেশ – যদিও ১৯৭১-এর পর তা মূলতঃ পূর্ব্ববঙ্গের জাতিরাষ্ট্রের
‘অফিসিয়াল’ নামে পরিণত হয়েছে। নিজেকে বাংলাদেশ নামে ডাকার অধিকার পশ্চিমবঙ্গের বড় অংশই ছেড়ে দিয়েছে। সেটা দুঃখজনক। নিজের নাম স্বেচ্ছায় কেন কেউ নিজে থেকেই ভুলে যাবে, তা আমার বোধগম্য নয়। তো সে যাই হোক, এতটাই আত্মবিস্মৃত আমরা যে বাংলাদেশ নামটির পুরো অধিকারটাই আমরা তুলে দিয়েছি পূর্ব্ববঙ্গের হাতে। খন্ড-বঙ্গের ছোট খন্ড আমরা।  এই খন্ড ভাব আর ছোট ভাব দুটি প্রায় হারাতে বসেছে আজ দিল্লীর তালে নাচতে গিয়ে। তাই তো আজ পশ্চিমবঙ্গের অধঃপতিত জাতি নাক সিঁটকে বলতে শিখেছে ‘ওরা তো বাংলাদেশি’। আর তোরা হলি ‘ইন্ডিয়ান’। বাঙ্গালী তাহলে বোধহয় বঙ্গোপসাগরের গভীরে বসে মাঝে মাঝে মুণ্ডু তুলে কলকাতার ডাঙ্গা দেখছে – কেকেআর, শাহরুখের নাচ, আটলেটিকো, দিওয়ালি, হোলি, গুরগাঁও তথা আরো হরেক বেঙ্গলী ব্যাপার-স্যাপার। এরই মাঝে বোমা ফাটল বর্ধমানে। আরেক রকমের বেঙ্গলী সকলের টিভিতে এসে উপস্থিত। বাংলাদেশী ! এবার আর গরু-পাচারকারী বা কাঁটাতার পেরোনো বেআইনি হিসেবে নয়। পরিচয় এবার জেহাদি। খবরে তেমনই প্রকাশ।
অথচ চিরকাল ব্যাপারটা এমন ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ বুঝত ও জানত যে ‘ওপারে’ যে দেশটি, তার সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক। সে সম্পর্কের স্বীকৃতি কোনো আইন বা সংবিধান দেয় না। তাতে কি বা এসে যায়? এসে যায়নি বলেই তো ১৯৭১-এ পূর্ববঙ্গের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গে  যে বিশেষ সংহতির উন্মাদনা দেখা গেছিল, তাতে অনেক ঐক্য ও অখন্ডতার পূজারীরা ভয়ানক জুজু দেখেছিল। যখন স্লোগান উঠেছিল – এপার বাংলা, অপার বাংলা, জয় বাংলা, জয় বাংলা – তখন অশোকস্তম্ভের ৪ সিংহের ভুরু কুঁচকে গেছিল। পূর্ব্ববঙ্গের এক নকশালপন্থী (হ্যা, ওদিকেও ছিল ও আছে) দল -এর স্লোগানে ছিল অন্যতর কল্পনার বীজ – দুই বাংলার চেকপোস্ট উড়িয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। সে  বীজ থেকে যে কোনো চারাগাছ বেরোয়নি আজ অবধি, তা বলাই বাহুল্য। যে কোন দাবি বা স্লোগান একটি বিশেষ সময়ের দলিল। আজ এই স্লোগান উঠলে অবশ্যই শুনতে পাব – চেকপোস্ট উড়িয়ে মরি আর কি। এমনিতেই বিএসএফ দিয়ে ওদের পিলপিল করে আশা রোখা যাচ্ছে না, উড়িয়ে দিলে তো পশ্চিমবঙ্গ-টাই দখল করে নেবে।  ন্যায্য চিন্তা, বিশেষতঃ যখন ১৯৭১-এর পরেও পূর্ব্ববঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর
নির্যাতন, সম্পত্তিদখল, দাঙ্গা ইত্যাদি চলেছে প্রায় নিরন্তর – সরকারী/বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায়। আর হিন্দুদের পূর্ববঙ্গ থেকে পালিয়ে আসাও চলেছে নিরন্তর।  চলছে আজ-ও। তবে তারা নিম্নবর্গের, তারা ব্রাহ্ম্মন-কায়স্থ-বৈদ্য নয়, তাই তাদের আখ্যান পশ্চিমবঙ্গে উপেক্ষিত। তার উপর আছে এক ধরনের মেকি ধর্মনিরপেক্ষতার। ১৯৭১-এর সংহতি থেকে আজকের পূর্ব্ববঙ্গের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞানহীনতা, ইটা ঘটল কি করে? কি করে পশ্চিমবঙ্গ তার ওপর অংশ কে দেখার বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি হারিয়ে ফেলল?  কেন আজ তাকে দিল্লীর থেকে চোখ, ক্রাচ আর দূরবীন ধার করে পুর্ব্ববঙ্গকে দেখতে হয়। কখন আমরা অন্ধ, অশিক্ষিত ও পঙ্গু হয়ে গেলাম? কখন আমরা ‘বৈরী বাংলাদেশী’ নামক চরিত্রের নির্মাণের দিল্লী রেজিমেন্টে নাম লেখালাম?
আজকে বর্ধমানের কল্যাণে আমরা জেনেছি জামাত-এ-ইসলামীর নাম। এর আগের গল্প কেন আমরা এত কম জানি? আসলে আমরা তো ক্রমে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিরও নাম ভুলতে শিখেছি, ওপারের খবর কি জানব। বরং দিল্লি-বম্বে-গুরগাঁও-নয়ডার মানচিত্র মুখস্থ করি গিয়ে। সচিন মোদের  ব্রহ্মা, শাহরুখ মোদের বিষ্ণু আর দিল্লীশ্বর হলেন সাক্ষাত মহেশ্বর। মন্দিরে আর জায়গা কই ? কার সন্তান কত অন্যাশে বঙ্গ-ত্যাগ করে দিল্লী-বোম্বাই পৌছেছে, এই যাদের সাফল্যের মাপকাঠি, তারাই ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে। অনুপ্রবেশ অবশ্যই সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে, কিন্তু বলবে কারা – যারা পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে উন্মুখ, তারা ? বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপক অংশ জেহাদ করতে কাঁটাতার পেরোন না, আসেন জীবিকার জন্য। দুবাই বা মালয়শিয়া পাথেয় যোগার করতে পারলে এদিকে আসতেন-ও না। ঠিক যেমন আমলাশোল থেকে ঢাকা যাবার সহজ ব্যবস্থা থাকলে অনাহারে মরার থেকে অনেকেই গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতে বেশি পছন্দ করতেন।
ক্ষুদ্রতর পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে বৃহত্তর পূর্ব্ববঙ্গকে বোঝার দায় আমাদের আছে। আজকের পুর্ব্ববঙ্গকে। কবেকার ফেলে আসা ভিটেকে খোঁজা না , সেই ভিটেতে যে ব্যাপক বদল ঘটেছে – সেটাকে বোঝা। আমাদের জানতেই হবে যে শিশু ফালানি খাতুনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ কেন কাঁটাতারে ঝুলছিল, জানতেই হবে কোন সীমান্তরক্ষী তাকে খুন করলো – তবে জানতে পারব এই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমান্তরক্ষীদের দৈনিক অত্যাচারের কথা।ওদিকের সীমান্ত রক্কাহ করে বাঙ্গালী। স্থানীয় মানুষের মুখের ভাষা বোঝে।  এদিকের কথা আর বললাম না। মার্কিন দূতাবাসের সামনের রাস্তার নাম হোচিমিনের নামাঙ্কিত করে যে দুঃসাহস ও ঘৃণা জানিয়েছিল কলকাতা, সেই দায়তেই জানতে হবে কেন ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাস্তা ফেলানির নামাঙ্কিত করার দাবি ওঠে।  জানতে হবে ওদিকের সুন্দরবনের রামপালে ভারতের এনটিপিসি-র পরিবেশ ধ্বংসকারী বিদ্যুত প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গবাসী দায়হীন কিনা। জানতে হবে সব সাইক্লোন শেষ মুহুর্তে আমাদের কাটিয়ে যখন ওদিকে ঘুরে যায়,তারপর কি হয়? তার জন্য পরের ছুটিতে হিমাচল-কন্তাকুমারি-রাজস্থান-আন্দামান না করে একটু যান-না ওদিকে।
এক শ্রেনীর পশ্চিমবঙ্গীয় ওদিক ঘুরে এসে এক রোমান্টিক স্বর্গের চিত্র আঁকেন। ঢাকায় দুর্গাপুজো দেখে বলেন, সব ঠিক-ই আছে। ফি বছর যে বেশ কিছু দুর্গাপ্রতিমা আক্রান্ত হয় ওদিকে, সেটা বলতে কুন্ঠা কেন? ওদিকের সংবিধানের আগেই রয়েছে একেশ্বরবাদী ইসলামী বাণী।  এদিকে মা দূর্গা সহায় বা জয় শ্রী রাম নেই। এদিকে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তিলুঠ হচ্ছে, দেশত্যাগে
বাধ্য করা হচ্ছে, একথা নিন্দুকেও বলতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে ওদিকের লজ্জিত হওয়া উচিত। অতীতের হিন্দু জমিদারের অত্যাচারের শাক দিয়ে আজকের বাস্তবতার মাছ ঢাকা যায়না। আবার ওদিকেই শাহবাগে ৭১-এর চেতনাধারী মূলতঃ মোসলমান বিশাল যুবসমাবেশে ডাক ওঠে ‘সূর্য্য সেনের বাংলায়, জামাত-শিবিরের ঠাই নাই’। সূর্য্য সেনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে  ওদিকের খবরের কাগজে একটি ব্যাঙ্কের পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দেখেছি – এদিক কল্পনা করতে পারে?
শরতচন্দ্র বাঙ্গালী ও মোসলমানের মধ্যে ফুটবল খেলিয়ে অনেক গাল খেয়েছেন। আজ কলকাতা নামধারী ফুটবল-দলের সাথে ঢাকা মহমেডান ক্লাবের খেলা হলে উনি বুঝতেন, মোসলমানের টিমটাই বাঙ্গালীর টিম। কলকাতার দলটি বাঙালিও নয়,মোসলমান-ও নয়, এক্কেরে আন্তর্জাতিক – স্রেফ টাকাটা দিল্লি-বম্বের। অন্যের মাতাকে মাতৃজ্ঞানে পুজো করতে বাধ্য হবার মত পরাধীন ওরা নয়, সেটা ‘মাইন্ড’ না করার মত শিরদাঁড়াহীন-ও ওরা নয়। ওরা বাংলার ভবিষ্যৎ বলতে জাতির, ভাষার ভবিষ্যৎ বোঝে – আমরা বুঝি রাজারহাটে কল-সেন্টার।  আমাদের মধ্যে ‘কানেকশান’ সত্যিই আজ কম।  কারণ ওরা বাঙ্গালী, আমরা বং।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Delhi Durbar, Dhaka, Identity, India, Kolkata, Nation

Looking for colours beyond Holi / Are there colours that Holi suppresses?

[ Daily News and Analysis, 19 Mar 2014 ]

There is a high possibility that some of the readers of this column still have colour-stains on their faces and bodies from the festival of colours. Monday, March 17, was Holi. All parts of the Indian Union had a riot with colours – one would have been led to believe. The multi-colour motif of Holi comes in handy as a living manifestation of the much-touted ‘unity in diversity’ trademark of this nation-state. People sprinkled colours on each other. Unsuspecting people who were out and about wearing normal dress regretted that they did so. A lot of bhang-laden Thandai was drunk. A lot of women were taken advantage of. Some desi and many firangi photographers were shooting away to capture the colourful ‘soul of India’ that was on public display on its streets and on private display in the farmhouses of the powerful. That was the day. Or was it?

Sunday, March 16, was Dol-Jatra for tens of millions of inhabitants of Odisha, Assam and Bengal, and yes that too was a riot of colours. ‘Dol’ means a swing and Jatra means journey. Of course, Lord Krishna and Radha are the ones of the swing and the devotees take them around. Phakuwa happened in Assam around the same time. All this is accompanied with much merriment with colours. There is no thandai involved. Not all ‘festivals of colour’ are the same. When someone says, Dol Jatra is Bengal’s version of Holi, it does not sound objectionable. However, if I say, Holi is Delhi’s or Uttar Pradesh’s version of Dol Jatra, it sounds odd. At that, some will say, I am being ‘parochial’. I will be advised not to mix-up up the mainstream with the variant, the standard language with the marginal dialect. I will be shown my place. I will be forced to play along in the ‘national’ festival of colours. Some will say, how does the name matter – it’s a fun occasion after all. It is easy for people to ‘look past’ variations, when the hierarchy of variations favours their cultural world. Others ‘look past’ to be accepted by the ‘mainstream’.

The problem with this idea of a cultural ‘mainstream’ with ‘regional’ variants is that it is a sophisticated name for good old crude majoritarianism. So much for the half-hearted paeans to ‘unity in diversity’. If you thought that the state does not endorse one view over another, think again. In West Bengal, the governor notified that the day after Dol Jatra will also be a holiday in all offices under the Government of West Bengal. In the Central governments list of holidays, there is only mention of Holika Dahan. There is no mention of the name Dol Jatra. The deep ideology of a state is given by these ‘innocuous’ choices, of font-size variations of different languages in Gandhi-chhap currency notes, the automatic language of CRPF or BSF irrespective of their posting in West Bengal or Tamil Nadu and many other instances. Look for such signs. They are everywhere.

There are soft-exports too. The marriage-associated events from the Punjab and the Hindi-heartland are now increasingly part of marriage ceremonies of Bengalis and Kannadigas. The most sublime form of this cultural hierarchy is seen is diasporic communities whose marriages invariably have ‘Sangeet’ and the colour festival is always called ‘Holi’. They are nothing but Indians. The next group who embody this sublime ideology are the upwardly mobile, well-off yuppies who have voluntarily moved to subcontinental cities located outside the province they were born in. Such ethno-cultural flattening does no service to the Hindi-heartland where many cultures are in a state of decay, thanks to metro-centrism Hindianism.

Whose ‘local’ becomes ‘national’ and whose ‘local’ disappears when ideas like ‘all India’ and ‘mainstream’ are evoked? Why is the direction of traffic in this supposedly two-way street so predictable? When was the last time a Tamil marriage/religious/cultural custom went ‘mainstream’ and was picked up in Delhi? Why does the leading contender for prime-ministership focus most in areas where Holi is the uncontested name for the festival of colours. Whether that kind of politics expands the palette in this diverse subcontinent is a different matter.

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Community, Culture, Delhi Durbar, Faith, Identity

খেলা স্রেফ খেলা নয়

[ Ebela, 15 Jul 2014]

পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল আমাদের চেতলা পাড়া থেকে রাসবিহারী মোড় যাওয়ার অটো রুটেই। জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের রক্ত পতাকাগুলি নেমে আসতে শুরু করলো। তার জায়গায়ে এলো মা-মাটি-মানুষের নিশান। এখুন-ও সেগুলি উড্ডীন। এই পথেই এক-কালে বসত বিরাট রথের মেলা। চলত ১৪ দিন। এখুন সে ঐতিহ্যশালী মেলা চেতলা ব্রিজের নীচে নির্বাসিত। পরিসরে ১০ বছর আগের তুলনায় এক দশমাংশ-ও নয়। সে যাই হোক, বর্ষাস্নাত এক সন্ধ্যায় আমি রাসবিহারী মোড়ের অটোর জটলার দিকে গেলাম। দেখি কয়েকটা অটো-তে এক নতুন পতাকা। ব্রেজিল দেশের। এই পতাকা বদল সাময়িক এবং তার জন্য এই তরুণ অটোচালককে কোন চোখ রাঙ্গানি দেখতে হবে না।  কোনো সরকার, কোনো দল , কোনো ইউনিয়ন বা ক্লাব-কেই ব্রেজিলের থেকে কোনো ভয় নেই।  তাই একয়দিন নতুন পতাকা উড়বে। তা উরুক।  শত পতাকা বিকশিত হোক।

ব্রেজিল যে কজন মানুষকে গৃহহীন করে এই বিশ্বকাপ রোশনাই করছে, কত ব্রেজিলীয় সুরেশ কালমাদী রিও-সাওপাওলোর স্টেডিয়ামের ভিআইপি দর্শকাসনগুলি আলো করে আছে, তার বিবরণ আমাদের নরম হৃদয়ে ধাক্কা মারতে পারে, তাই ওই খারাপ জায়গায়ে বেশি হাতরাবো না। আর্জেন্টিনার ভক্তদের হাতে ব্রেজিলের বিরুদ্ধে খেলার মাঠের বাইরের রসদ দিয়ে লাভ নাই। এ যুদ্ধে যেই জয়ী হোক, নিখিল বাংলাদেশে একটি মানুষের কিসুই হবে না।  তবে তাতে কি? তা নয়, শুধু এটাই যে এই বাংলাদেশের বুকেই কলকাতার মাটিতে এক ফুটবল
যুদ্ধের ফলাফলে আমাদের কিসু এসে গেছিল। আইএফএ শিল্ডে কালা আদমির দল মোহনবাগান যখন সাহেবদের খেলায়ে সাহেবদের বাচ্চাদের হারিয়েছিল। এই খেলা শুধু খেলা নয়।  সমাজ-জাত কোন কিছুই শুধু খেলা থাকে না, সমষ্টিগত বোধ তাকে ক্রমে সামাজিক সত্যে পরিনত করে। বাংলাদেশের পাড়ায়ে পাড়ায়ে যে ফুটবল-চর্চা তা অনেকটাই কিআইএফএ শিল্ডের  যুদ্ধের উত্তরাধিকার নয় ? আর এই চর্চা যে খেলার জন্ম দেয়, তার দাম, তার শিহরণ, ঠিক হয়েছিল এই মাটির নিরিখে।  আমাদের সেরা দল ব্রেজিল বা আর্জেনটিনার কাছে ২০ গোল খেলেও নয়। সেটা আমাদের খেলা, আমাদের অতীত, আমাদের যাপন,  আমাদের রাজনীতির সঙ্গতে গড়ে ওঠা।  সেটা ফুটবল হলেও বিশ্বকাপ-এ যে খেলাটি হয়, সেটা নয়।
একান্তই আমাদের একটি খেলা। আমাদের ব্রাজিল, আমাদের আর্জেনটিনা একান্তই আমাদেরই।  কোন ব্রেজিলবাসী বা আর্জেনটিনাবাসী তাকে চেনে না।

ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মোহমডান, আবাহনী  – এই নামগুলি যে স্রেফ দল নয়, বরং ভিন্ন-ভিন্ন গোষ্ঠিচেতনার প্রকাশ, তার আভাস এখুনো খেলার মাঠে গিয়ে দর্শকাসনে কান পাতলে একটু একটু পাওয়া যায়। আজকে অতি ক্ষীণ হয়ে আসা এই গোষ্ঠিচেতনায় কুমোরটুলি, উয়ারী, রাজস্থান, এরিয়ান, টালিগঞ্জ অগ্রগামী স্রেফ ফুটবল দল মাত্র থাকে না , আমাদের সমাজজীবনের নানা খন্ডচিত্রের, শহর কলকাতার মধ্যে থাকা মানুষের আত্মচেতনার দলিল হয়ে থাকে। জাত-ধর্ম-জাতি-ভূগোল-ধন-অতীতের মত  আরো নানা পরিচয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গোষ্ঠী ও তাদের একান্ত ক্ষোভ-গর্ব-অভিমান ও এমন শত আবেগ-কে দিয়ে তৈরী বাংলাদেশের যে সমাজ চেতনা, ফুটবল তার এক প্রকাশ মাত্র। সমাজের
অভ্যন্তরের সংলাপ সেটি। তাই ব্রেজিল-কে লুঙ্গী পরে, আর্জেন্টিনা-কে সায়া পরে বাংলাদেশের সেই অন্দরমহলে ঢুকতে হত বহুকাল।  শত শত বার্সিলোনা-মেদ্রিদ-মিউনিখ-ম্যানচেস্টারের মিলেও অন্দরমহলের সে খেলা খেলতে পারবে না। স্পেনীয়দের নিজেদের দেশে কিন্তু বার্সিলোনা-মেদ্রিদ এমন-ই নিজস্ব আত্মচেতনার অংশ। কিছু খেলা, কিছু বোধ, কিছু মনোভাব, কিছু বিশ্বদর্শন একদম নিজেদের, একদম আসল জিনিস, একটুও বিনিময়যোগ্য নয়।  এই আসলটার একটা কার্টুন রূপ যে বিক্রয়যোগ্য, তা বিশ্ব-ব্যাপী খোলা বাজারের
ব্যাপারীরা বুঝে গেছে বেশ কিছুকাল । আজকের ব্রেজিল দল গড়ে ওঠে য়ুরোপের ভিন্ন ভিন্ন শহরের, জেলার, গঞ্জের আত্মচেতনার প্রকাশের নিশানী দলগুলির হয়ে ভাড়া খাটনেওয়ালাদের দিয়ে। ব্রেজিল ও বার্সিলোনা , দুই স্থানীয় মধ্যে যোগসূত্র বিশ্ব ফুটবল বাজারের কিছু পরিযায়ী পণ্য।

শ্বেতাঙ্গ থেকে শেখা খেলাকে আমরা নিজেদের করে নিয়েছিলাম – বিলেতের ফুটবল এসোসিয়েশন যে খেলার ঠিকাদার, তার সাথে আমাদের খেলার মিল বাহ্যিক। শ্বেতাঙ্গের তালে তালে ‘মানুষের মতো মানুষ’ হয়ে উঠতে আমরা আমাদের অন্দরের খেলাটির দিকে মৃত্যুবাণ ছুড়েছি। বিকিনি মডেল, চোলাই কোম্পানি আর মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল যখন তলে তলে এক দল হয়ে যায়ে , শেষের শুরু তখুনি। যে মৃত্যু গোষ্ঠ পালের বিষ্ঠাপুর্ণ মূর্তিতে মাল্যদান করে ঠেকানো যায়ে না। তাই অন্দরমহলে আনাগোনা লিভারপুল-ম্যানচেষ্টার-চেলসি দলের
নামধারী পণ্যগুলির। সদর দরজা এখন হাট করে খোলা। উঠোনের জাম গাছটির শিকড় আলগা হয়ে এসছে। এমনকি বট গাছটিও কেটে ফেলা হয়েছে – ৬ কাঠা জমিতে উঠেছে
যে বহুতল, তাকেই জায়গা করে দিতে। মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন নবসমাজের বিচ্ছিন্নতা একে অপরের সঙ্গে।  সামূহিক আত্মপরিচয় নাকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক আধুনিকতার পথে বিশাল কাঁটা, এবং বেশ ‘ব্যাকডেটেড’ ও বটে।  তাই নবসমাজের আভ্যন্তরীন সংলাপ নাই, সমাজ থেকে উঠে আসা খেলার দরকার নাই, আমদানি করা মাল প্যাকেট শুদ্ধ গিলে ফেলার মধ্যেই মুক্তি।  ব্যাক্তিমুক্তি।

সমাজ থেকে উঠে আসা বলেই বিভিন্ন স্তরে যে ফুটবল খেলা হয় নিখিল বাংলাদেশে। অন্ত্যজের ক্ষমতায়নের সাথে তাল মিলিয়েই উচু-জাতের মৌরসীপাট্টা নয় আর ফুটবল। তাই দেশীয় এলিটের দেশীয় ফুটবল এমনিতেও দৃষ্টিকটু লাগবে। যে কারণে দৃষ্টিকটু লাগে না টলিউড বা বলিউডের প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী-কলাকুশলী -নির্দেশক-প্রযোজকদের মধ্যে উচু জাতের, রয়িস খান্দানের মানুষের প্রায় একাধিপত্য।  সংবেদনশীল ফিলিমপ্রেমীরা তা দেখতে যান, প্রশংসা করেন, খারাপ বলেন। হলিউডিও-য়ুরোপীয় তুলনা দ্যান। এও এক
ধরনের সমাজের আভ্যন্তরীন সংলাপ।  তবে সে সমাজের পা কি মাটিতে ? সে সমাজের স্বপ্ন কি নিজের না আমদানি করা? সেই সমাজের লিভারপুল প্রেমের মধ্যে নিজের
পারিপার্শিক সমাজকে ঘেন্নার একটু গন্ধ কি নেই ?

কোনো কিছুই বিনামূল্যে হয় না।  কোনো না কোনো ভাবে মূল্য চোকাতে হয়। যখন চেতলায়ে কেউ হয়ে ওঠেন চেলসির ভক্ত, মল্লিকবাজারের কোনো বহুতলীয় তরুণের স্বপ্নে দেখা দেয় ম্যানচেষ্টার, তখন আমাদের আত্মপরিচয়ের ভিত আলগা হয়। অতীত ও সমাজ, দুই হতেই বিচ্ছিন্ন বাঙ্গালীকে তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গণমৃত্যুর কথা জিজ্ঞেস করলে শুনতে পাবো ইহুদী, জিপসী ও অন্যান্য শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠির নাম। ১৯৪৩-এ  ব্রিটিশ শাসক ও তার দেশীয় তাবেদারদের ষড়যন্ত্রে যে ৩০ লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছিল নিখিল বাংলাদেশে, মৃত শ্বেতাঙ্গদের সাথে তারা একাসনে জায়গা পায়না।  কল্পনা ও আত্মপরিচয় যখন সমাজ-বিচ্ছিন্ন, তখন সে নরসংহারের চিত্র উত্তরপুরুষদের জন্য রেখে গিয়েছেন যে  জয়নুল আবেদীন বা চিত্তপ্রসাদ, তাদের নাম যে চেলসির ভক্ত জানে না, তা কি খুব আশ্চর্যের? উত্তর-মনমোহন কলকাতা তথা বাংলায়ে সমানে চলেছে জাম গাছের শিকড় উপড়ে কিউই ফ্রুট খেতে শেখার গল্প। বিশ্বায়িত হওয়া মানে শ্বেতাঙ্গ মানুষের আত্মপরিচয়ের সাথে হাইফেন দ্বারা যুক্ত হওয়া। এটলেটিকো মাদ্রিদ ‘কলকাতা’কে নিলামে কিনে বানায়ে ‘এটলেটিকো ডি
কলকাতা’।  কালা মানুষে ধন্য হয়।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Colony, Dhaka, Elite, Kolkata

The Goonda first came for the Assamese / Gunday on the loose / The Bollywood Gunday threat against Assam and Bengal

[ Daily News and Analysis, 4 Mar 2014 ; Dhaka Tribune, 5 Mar 2014 ; Echo of India, 11 Mar 2014 ]

People in the Bengals use the word ‘Goonda’ quite liberally – to refer to anything between a naughty child to the local political thug. But in the eyes of law, who is a Goonda? One of its many legal definitions is to be found in the Control of Disorderly and Dangerous Persons (Goondas) Act (East Bengal Act IV of 1954). There is goonda is someone ‘involved in affray, rowdyism or acts of intimidation or violence in any place private or public so as to cause alarm to the people living or frequenting the neighbourhood’. According to the Uttar Pradesh Control of Goondas Act (U.P. Act No. 8 of 1971, amended by U.P. Act No. 1 of 1985), it is ‘generally reputed to be a person who is desperate and dangerous to the community’. But if film and artist communities in Assam and West Bengal have been protesting mischief and many young people in the People’s Republic of Bangladesh are disgusted at the false and mischievous retelling of its Liberation struggle, then the source of mischief can safely be called a Goonda, at least rhetorically if not legally. When there is more than one such public enemy, in Hindi they are called Gunday. Gunday are backed by deep-pockets whose ulterior projects are more extensive than the specific acts of mischief. More often than not, the Gunday of the real-world are mercenaries for other people’s projects, even part of broader, more sinister projects of which the employed Gunday may not be even aware of. The Gunday are as important as the people who dictate what Gunday does, how they do it, when they do it.

In the reel-world, ‘Gunday’ is a project of Yash Raj Films, a Bollywood centric entertainment behemoth. It is one of greatest flag-bearer of Bollywood Hindi films, that grandest by-product of ‘Indianness’. Some perverse people like me feel that the relationship is inverse – that ‘Indianness’ is a byproduct of Bollywood Hindi films, among other things. It is the thread that connects the browns to browns, with the punitive sedition laws at hand just in case some folks didn’t get the point. Whatever be the tall ‘diversity’ claims of the Indian Union, the cultural landscape after partition has a couple of winners (English being one) and a large set of losers. In the Indian Union, we all know that cultural and political clout of which language has expanded after partition, so much so that not knowing it is seen as a sign of being politically and culturally queer. This advancement comes with the retreat of Marathi, Kannada, Bengali, Assamese, etc. as playgrounds of cultural imagination and virtual annihilation of fecund tongues like Maithili, Awadhi, Brajbhasha, etc. It is not accidental that the most successful film industry is of the same language that receives the maximum preferential subsidy for its advancement. The subsidy to English in poor brown-land is a scandal of another scale altogether.

Let me not beat about the bush and come to the point. Gunday is a Bollywood Hindi film. For West Bengal, it was dubbed in Bengali. This make one, get many formula by dubbing into other tongues makes economic sense for the producer. But that also opens the flood-gates for this trend. The film and cultural community in West Bengal has protested against this. If using their mighty economic muscle, Bollywood producers can brow-beat distribution networks and cinema halls into showing such dubbed material, this will be an economic bonanza for Bollywood. Much black money will find greater returns but fledling non-Hindi film industries will fail ruin as they cannot outcompete Bollywood in black money, film volume and the cinema-hall blackmailing strength that comes with it. This desperate aggression was in full display in Assam where Rajni Basumatary’s Assamese film ‘Raag’ which was running quite well was removed by economic goondaism to make way for Gunday. Not too many films are produced in Assamese and when a good one is made with help from the Assam Film Development Corporation, this is the fate. Cultural diversity, even cultural competition, can only flourish in a level economic playing field. No amount of bleating about ‘unity in diversity’ changes that basic fact.

Let me describe a scenario. Dubbing my story and then forcing it down your throat using my economic muscle will slowly silence you. You wont be able to tell your own stories. You will have to adapt my stories. It does not matter if you have a long tradition of telling stories. Soon you may even develop an aesthetic sense for my stories, get alienated from your stories, from your people, look at them with curious eyes of an outsider. In short, I will destroy you cultural roots, replace them with mine and you will finally clap along the way. If that does not make me a Goonda, I don’t know what does.

The acts of some gansters have international manifestations. Gunday has chosen to parrot the official Delhi fiction of Bangladesh being a product of a brief Indo-Pak war. The people of that independent nation did not take that lying down. The producers have apologized. The Assamese can dream on. Pakistan has sought to protect its film industry by trying to restrict ‘Indian’ (read Bollywood) films. The states of the Indian Union have no such power, just like they do not have the power to protest the huge subsidy and preference given to one desi language. Apparently, this language ‘unites’. We know how this unidirectional unity works. No Assamese film will be dubbed in Hindi and released to multiplex audiences in Delhi and Mumbai. Not in this nation state. If slow but sure annihilation of certain cultures is a pre-condition to some kind of a ‘national integration’ project, then that nation is an enemy of those cultures. It is up to the Indian Union to decide what integration project it wants to promote – a predatory one or a harmonious one. It is up to you, the viewer, to ask whether your film ticket is filling a goonda’s pocket.

 

 

1 Comment

Filed under Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Hindustan, Kolkata, Language, Nation, Pakistan

Is this the Bangladesh we wanted? Analyzing the Hindu Population Gap (2001-2011)

[ Alal o Dulal, Apr 2014 ]

Garga Chatterjee and Naeem Mohaiemen for AoD

In October 2012, Prothom Alo published a frightening report that stated, in plain words, that over the last decade (which spans a BNP, an AL, and a Military “CTG” government), the Hindu population of Bangladesh has dropped dramatically and continuously. We at Alal O Dulal are a group of editors committed to a secular Bangladesh. At the same time, we are mindful that “secularism” has become a politically inert, and semantically complex, category, often providing cover for a political party’s other follies (the sentiment here can broadly be categorized as, “at least they are secular”).

Since the publication of the PA report, the editors of AoD have been having a series of discussions on what these numbers mean for the future of Bangladesh. We believe secularism cannot be enforced by force, certainly not through the barrel of a gun. A process of domination, subjugation, and political nullification of oppositions in order to “defend” secularism is dangerous. Instead of producing secularism as a normative, naturalized, and lasting category, it reinforces the perception (internally and externally) that secularism can only be defended by force. This, in the long term, weakens secularism.

Neither of the two main political parties (the AL or the BNP) have made secularism a priority, using it mainly at the polls as a strategy. A common perception that minorities were safer under an AL government, prevailed for a while, benefiting AL in a number of past elections. Riots instigated during the twilight of Ershad era, or the anti-Hindu backlash carried out after 2001 election victory of BNP-JI alliance, or the more recent anti-Hindu violence in 2013, are highlighted to support this view. We have done such highlighting ourselves in our past activist work (at Alal O Dulal, at Drishtipat, in the pages of Daily Star, New Age, Prothom Alo, and Dhaka Tribune). Our own personal political commitments have also been guided by a belief in secularism and therefore in opposition to parties that do not take a public secular stance. However, events of the last four decades prove that minorities have fared poorly under every government.

There is also the concern, in 2013, that our national politics has been degraded to such a degree that attacks against Hindu community may even be deployed as a “false flag” operation, giving a cover to target the opposition parties as the presumed protagonists of these attacks. It is difficult to believe such a scenario, but it is difficult to entirely ignore the troubling evidence.

Indeed, the BNP and Jamaat are usually presumed to be the protagonists of these attacks according to the media. However, the post-Shahbag/Shapla murky political landscape of Bangladesh forces us to ask ourselves uncomfortable questions. One question we have been asking ourselves is this: Since the Jamaat is currently hamstrung by the negative backlash it faces due to its role in 1971, and the BNP faces the problem of its alliance with Jamaat, who benefits at the present time from these attacks? What is the benefit to the Jamaat (or BNP) to attacking Hindu homes– a move certain to result in widespread national and international backlash against these two parties (as has happened). Recall that the 2001 attacks happened after BNP-Jamaat were solidly in power, and presumably considered themselves invincible. But the attacks of 2013 happened when that coalition was out of power and in fact on the defensive (in spite of public posturing)– the recent announcement that BNP would not undertake any long campaigns until they get the party (http://www.dhakatribune.com/politics/2014/apr/09/bnp-wants-overcome-frustration-first) shows the party acknowledging its (http://www.dhakatribune.com/politics/2014/apr/11/question-bnp%E2%80%99s-existence-ignites-debate) current weakness, and the tenuousness/controversy of its alliance with Jamaat. In this weakened scenario, why would that alliance, or its subsidiaries, carry out attacks on Hindu homes– an event that would surely create backlash and condemnation against the party?

A few newspaper reports have reported that, in at least some of the cases, ruling AL party affiliated activists were either involved in the attacks, or fomented them, or stood by while they happened . We at Alal O Dulal do not have the resources to investigate these reports further, but an independent, neutral probe body must look into these issues. These reports, mostly falling into silence since they do not match a national liberal-secular script, have reminded us that 2013 is not the same as 2001– when the BNP election victory saw widespread attacks against the Hindu community, and a (http://www.dhakatribune.com/law-amp-rights/2014/jan/24/judicial-commission-finds-bnp-jamaat-involved) probe found BNP-Jamaat involved. At that time, some AoD editors worked actively to rehabilitate victims of one such attack in the village of Annadaprashad– as members of the diaspora activist organization (https://groups.yahoo.com/neo/groups/mukto-mona/conversations/topics/8110),Drishtipat. But in 2014, we find a complex situation where minority communities are surrounded by both hostile forces and “friends” who use them as chess pawns.

In his introduction to the investigative book, Ramu: Shamprodayik Shohingshota Shongkolon<, Barrister Barua shares how communalism is a cross-party, indeed pan-Bangladesh, phenomenon:
“In my professional life I often have to face a different kind of communalism. Instead of feeling pride in my achievements often I am made to feel embarrassed by trivial things. In 2001 when on the occasion of being inducted into the Dhaka Barristers’ Association I went to a courtesy meeting with committee, the Awami League backed Chairman, on examining my educational qualifications, commented,“I see that all your degrees are from India, so why didn’t you stay back there?”

Does the Chairman not know how many of young men from the majority religion go to India every year to obtain their degrees and how many of them choose to stay there? After almost nine years of studying in England when I returned home in 2011 and was interviewing for the post of the lawyer for Dhaka City Corporation, North and was asked exactly the same question by a teacher from Dhaka University, I realized that the country hadn’t moved ahead much from 2001, at least in terms of communal thinking.

Beside these, among the communal words that we hear or use often but pretend to not to notice are: the use of the word “Babu” to address to someone, to call someone “malaun” or “nere” (shaved head) despite deep friendship whenever we lose an argument with them. In recent times the Awami League leader Suranjit Sen has been a major victim of this sort of things. The roots of these ugly words go so deep that it is not easy to uproot them. On top, we have gotten so used to hearing these words that we are no longer shocked by them. But, in the words of Tagore, whether this acceptance is true acceptance is rather doubtful.

In my opinion the fact that there is no law regarding this is a contributing factor as to why we aren’t able to come out of this. The time has come for us to think about introducing an anti-communalism/anti-racism law in our country. In many countries of the world there are effective laws regarding this and these laws are implemented. If we had a similar law in our country that would help in increasing communal harmony. At least it would somewhat alleviate the everyday harassment that minorities have to face in the country.” (excerpt translated by Tibra Ali)
***

How gholate(murky) is our national politics that we need to consider seriously the allegation made by some newspapers, that attacks against the Hindu community may also have been deployed by the party that represents secularism, as a “false flag” operation to blame the opposition? The water is very muddy by now.

Meanwhile, the opposition BNP also continues to have a party position that is silent on support for secularism as state policy. Other than a few pro forma responses denying responsibility for these attacks, we have not seen the BNP take any strong stance for secularism. This party also uses this issue for their political advantage (no doubt some party stalwarts will take comfort from the fact that we have indicted AL equally for this issue– but again, this is simply about one party getting an advantage over another, neither party is sincere on this issue).

In this situation, where will those outside of majoritarian, Bengali, Muslim, domination-subjugation identification go for political support? They are homeless in Bangladesh.

We should also point out that, in academic discourse, “secularism” is now a vastly debated term. What it means in 2013 is not what it meant in 2001. There is a sprawling body of work and debate on this, but without delving into that, we at AoD define “secularism” as a safeguarding and guaranteeing of all non-majority communities’ political, economic, and cultural rights.

Secularism, in our view would be an embedding set of national policies which would ensure full, deep, and representative presence of such communities in all national spaces. It would foster the implementation of “affirmative action” policies that would ensure representation of these communities to counterbalance decades of under-representation and marginalization. At the same time, we caution that such policy cannot take the forms of current cynical political practice, where representation of minority communities in economic and political life is simply used as a political tool to ensure visible “loyalty”– those are policies that benefit, as with many things in our politics, party not people.

Let us take a longer view. Analysis of the Enemy Property Act (later the Vested Property Act) shows that both AL and BNP, when in power, have used this to grab minorities land. Abuse of state power to grab land from minorities, in fact, appears to be the only constant–on this issue, both major parties are on the same wavelength when it comes to grabbing minorities properties and land.

Every government has used the minorities for political gain, yet nobody has truly been on their side. In the end, no political party truly defends the rights of minorities, perhaps with the exception of small left parties who are sincere at the grassroots, but weak at national electoral level.

After the PA report, AlalODulal published the post (http://alalodulal.org/2012/10/02/hindu-2/)Final destination and quoted Afsan Chowdhury’s words. We at AoD shared his anger and shame and feel it’s appropriate to quote, again, his cuttings words: “After all the words are spent, what remains behind is the shame. We have allowed this to happen again and again (http://opinion.bdnews24.com/2012/10/01/ramu-when-shame-is-not-enough/). We didn’t need a new version of old Pakistan. Bangladesh was to be the exact opposite but thanks to inefficiency, corruption, bigotry and religious excess, we have failed to build a state we could be proud of. For us there is only disgust. On behalf of all who accept what we have said, our sincerest and humblest apology to the people who have suffered in particular and to all minorities in general.”

And of course we must nod toward the late Humayun Azad, who passed away from complications six months after he was brutally attached outside the Book Fair. He coined the phrase “Is this the Bangladesh we wanted?”

Over six months in 2013, a group of independent researchers have been looking at the data cited by Prothom Alo, from Bangladesh Bureau of Statistics (BBS). They have shared it with AlalODulal, for wider dissemination. In a web exclusive we publish those research results in excel data form (go to article end  for link, if quoting these results anywhere, please cite “AlalODulal.org”).

***

Research Summary:

1. In the 2001 census, the total Hindu population was 11,608,268. The annual population growth rate was 1.37%. According to the published research in the Prothom Alo, by 2011 the number of the Hindu population should be 13,200,000. But in BBS` 2011 census report the actual Hindu population is 12,299,940. The gap amounts to 900,060. This is the missing Hindu population.

2. The study of the Prothom Alo had one limitation. BBS adjusted its census and its 2011-data of the Hindu population in 2012 including data of the Bangladesh Institute of Development Studies (BIDS) that were assigned for the post-enumeration check and that found 3.97 percent people were left out in the first count. Now, the actual number of the Hindu population in 2011 is 12,789,113. Considering the total Hindu population in 2001 and the annual growth rate of 1.37% the predicted number in 2011 should actually be 13,337,065 people. This means that the decrease of Hindu population would change to 547,953 (instead of 900,060). The adjusted figures data from the IRC data sheet on the population change characteristics of Bangladesh between 2001 and 2011 have certain important features.

3. To discover that the decline in Hindu population is 0.5 million, instead of 0.9 million is of little comfort. This is still a very large number and confirms the worrying trend of continuous decline.

4. Even on the adjusted numbers, there is a shortfall of 0.5 million Hindus from what would be predicted using the rate of growth of population in the decade. Unless there has been some drastic and unexplainable change in Hindu fecundity rates or large-scale conversion to other faiths (both of which we consider unlikely as explanations), the reason for this shortfall has to be explored. Prima facie, this represents the net Hindu emigration out of Bangladesh in that period. The real population growth of Hindus of Bangladesh between 2001 and 2011 was 1,148,769 (using the adjusted figures). The gap between predicted growth and actual growth is 547,953.

5. Assuming that the 1.37% annual growth in Hindu population did happen (dismissing drastic fecundity /death rate/life expectancy/conversion explanations), something around 547,953 Hindu individuals of Bangladesh origin exist, somewhere in the world. To make sense of these numbers in some other way, we can state that in the 2001-2011 decade, for 1696721 new individuals added to the Hindu population, 547,953 have left the country. That is about 1 person leaving the country for every 3 persons newly added. This is a shocking statistic.

6. Family planning depends on the long-term plans of the family – which also includes the stability of their present state, including stability of homestead and source of income. While we think that low birth-rates cannot explain a deficit as large as 547,953, it is well known that a sense of security and long-term stability affects birth-rates in a community. For example, the birth-rates of Kashmiri Pandits, after their displacement from the Kashmir valley, have taken a drastic hit. Numerous studies document this.(http://www.hardnewsmedia.com/2009/03/2679 ). It is not improbable that a small proportion of the ‘missing Hindus’ were not actually born.

7. What is the geographical distribution of the deficit and does that tell us anything? Some districts have actually registered a net decrease in Hindu population in the 2001 to 2011 period. There are 9 such districts. Most of these 9 districts form a near-contiguous belt – Bhola, Barisal, Jhalokathi, Pirojpur, Bagerhat, Narail, Gopalganj and then Rajbari and Manikganj. What does this strong geographical concentration of the districts actually registering a net Hindu population decrement in 10 years tell us. Some of these districts (Bhola being the most infamous example) have been sites for serious anti-Hindu attacks. It may also be useful to note that in 2001 the BNP-Jamaat won all seats in Manikganj, Bhola, Pirojpur, Jhalokathi, Barisal and Rajbari. But Gopalganj, the ultra-identified borough of Awami League is also in the list. Hence this precludes any clear explanation in terms of local party domination, though one cannot rule it out as one of the out-migration factors.

8. Studies  which also look at the volume of ‘enemy property’ in different districts in terms of number of affected families, percentage of Hindu families affected and correlating that with the percentage of Hindu population change would be useful to trying to find out the reasons behind the ‘missing Hindus’ of Bangladesh. For example, see this 2009 ( http://archive.thedailystar.net/forum/2009/february/our.htm )summary of Abul Barakat’s research. Here are some key statistics from Barakat’s research:

a) Households: 43% of all Hindu households (1.2 million) have been affected by EPA/VPA. 57% of households that lost land lost an average of 100 decimals. Survey data shows 33% of affluent Hindu families lost land due to EPA/VPA. 50% of affluent households had at least one close relative who lost land

b) Total Land: Total area of land lost is 2.01 million acres, which is 5.5% of Bangladesh’s total land mass but 45% of land owned by the Hindu community. The research shows two numbers: one is the impact on Hindu community as measured by the official land records, the second is the impact as measured by survey data. The survey data shows 22% more land loss (2.6 million acres) than official records. The type of land lost is typically agricultural, homestead, pond area, orchard, fallow land, etc.

d) Value: Assuming average market price of land as seen in the year 2007, total value of land lost is Tk. 2,416,273 million (Tk. 3,106,636 million from survey data).

e) Sale Value: Even if land is being lawfully sold, the price of Hindu-owned land is reported as Tk. 900,000 per acre, as compared to Tk. 1,500,000 for similar Muslim-owned land

f) Methods of dispossession: Influential parties grab land in connivance with Tahsil and Thana Revenue Office, Tahsil and Thana Revnue Office itself grabs land. Death and/or out-migration of one member of a Hindu family is used as excuse to enlist the whole property. Influential parties grab the land by using violence, local thugs, and forged documents. Influentials allure sharecroppers to occupy land, and then become eventual owners, etc.

g) Accompanying harassment: Harassment that accompanies land-grabbing includes obstruction in casting vote in elections, obstruction in harvesting crops, workplace intimidation, property destruction, eve-teasing, looting, robbery, obstruction in shopping, extortion, etc.

h) Political affiliation: Barakat’s research also shows that grabbers try to change their political affiliation with each change in government. We can conclude that either party affiliation is switching after change of government, or ownership is switching from one party affiliate to another.

9. For those looking to one party or another for a solution, note that this drop has happened in both AL and BNP period. Unless there is an united political push to protect minorities and to give them full rights of a citizen, neither of the two parties will be able to reverse this trend. Where would this trend lead to? This statistical analysis has some shocking pointers. As Dipen Bhattacharya wrote in an earlier op-ed for Alal O Dulal:
“Until a few years ago, I believed that even though the Hindu percentage was declining, the absolute number of the Hindu population was increasing and would continue to increase. However, the truth is <strong>bitter and it’s statistical. It seems the trend is for negative growth numbers. For the next forty years or so, we might expect to see the Hindu population drop from a high of 13 million (in 2011) to 10 million. Whether the population will plummet drastically after 2051 is a matter of speculation. But for all practical purposes, the Hindu community will stop being a major participating community in Bangladesh. If the country stabilizes its population at 250 million, then an estimate for the Hindu number for the year 2101 could be as low as 3.75 million.

Among several explanations of  the low growth rate are (i) mass exodus to India, (ii) the disruption of the family structure and (iii) the willful underestimation by the the Census Bureau. Some say the migration to India is for better economic opportunities. Even when the existing religious bonding favors the power structure, some explanations comprise “land-shortage” and “land-grabbing” as if those words could take away the inherent religious bigotry that is present. They fail to see how – without any access to the existing power system of the current Bangladesh society – vulnerable the Hindu population is. Soft and hard intimidation, extortion, threat to family structures, illegal occupation of property, and looting and burning of households and temples are sufficient to have this population scurry across the border. The Hindus migrate to India because their lives are made unbearable through various means in Bangladesh. (http://alalodulal.org/2014/01/09/statistics/)  (The Statistical Future of Bangladeshi Hindus )

Meanwhile Ali Riaz came to this conclusion in 2012:
“Take for example the issue of the dwindling Hindu population in the country. An examination of the census data of the composition of religious minorities since 1901, led me to conclude in 2004 that there is a massive out-migration of the Hindu population: about 5.3 million in the preceding 25 years. The Hindu community in Bangladesh has been weak owing to its lack of access to resources and hence has never been able to mount resistance to the institutional persecutions faced. This has left Hindus with no choice but to relocate. In 2001, for example, a large number of Hindus from three districts (Barisal, Pirojpur and Bagerhat) initially moved to the neighbouring Gopalganj district in search of a safe haven. In the absence of a potential haven nearby the persecuted Hindus decided to cross the border. The porous border between Bangladesh and West Bengal, not to mention the cultural and historical ties between these two parts of Bengal, helped the intended migrants to move to the Indian state. Some returned later, but some didn’t…

The census reports of the past 60 years show a steady decline of the Hindu population. This decline is not consistent with the population growth rate of the country. For example, the population growth rate was 3.13 percent for 1961-1974, 3.08 percent for 1974-1981; 2.20 percent for 1981-1991; 1.58 percent for 1991-2001; and roughly 1.34 percent for 2001-2011. It cannot be ascribed to low Total Fertility Rate (TFR) of the adherents of Hindu religion. Even if one takes into account that the TFR among Hindu women is estimated at 13% less (estimate is based on recent contraceptive use rates) until 1991 and 15% after 1991, the average annual growth rates of the Hindu population would have been 2.72 during 1961-1974, 2.68% during 1974-1981; 1.92% during 1981-1991; 1.34% during 1991-2001, and 1.14% during 2001-2011.

If we factor in these assumptions and reconsider the government statistics, the numbers change drastically. By 1991 the Hindu population should have reached 16.5 million as opposed to 11.16 million recorded in census data. The rate of the missing population has increased in the past two decades. The current Hindu population, 13.47 million, is far short of the number one should expect based on population growth rates. The decline of the religious minority community is matched by the increased use of Islamic icons and symbols in political rhetoric, not to mention deletion of secularism as state principle and official designation of Islam as the state religion.”

Full data, with district wise break up on Hindu and other populations and detailed tables are available at Alal o Dulal :

http://alalodulal.org/2014/04/12/hindu-population-gap/

1 Comment

Filed under Bengal, Dhaka, Partition, Religion, Terror

Netaji and the politics of legacy and memory

[ Daily News and Analysis, 4 Feb 2014 ;  Millenium Post, 6 Feb 2014 ; Echo of India, 11 Feb 2014 ; Frontier Weekly online, 5 Apr 2014 ]

When Mohandas Karamchand Gandhi was born in Porbandar, he ensured that many decades later, all state government and union government employees get a day off on October 2nd every year. When Jawaharlal arrived in a Kashmiri Brahmin family of Allahabad on 14th November, the seed of Children’s Day was born in this brown land. For some curious reason, decades of publicly money funded propaganda has ensured that people are fed stories about unverifiable heartwarming anecdotes about child welfare priorities of the Indian Union’s first Prime Minister, father of the Union’s fourth Prime Minister and grandfather of a subsequent one. What is verifiable though is that the regime of the great do-gooder of children also ruled for long years over the highest number of hungry, starving children among United Nations member states. But then, Henry Kissinger also won a Nobel peace prize. If you have not heard of the ‘National Integration Day’ of 19th November beyond large newspaper ads with beaming faces of people your government wants to remind you at a cost to the public exchequer, you should be ashamed of yourself. The lone child of the great man of Children’s Day fame was born on that day. You should mark your calendars for another version of that auspicious day coming up this year. While you are at it, lose you eyes and take a deep breadth. Imagine your worst enemy. Do you feel any pent up anger? If yes, you may be lacking in the Sadbhavna Quotient (SQ – yes you first heard it here). Then I suggest you make the best of the Sadbhavna Day celebrations that happen on August 20th every year. On this auspicious day, the first prime minister who took over from his mother’s constitutional position without a non-family interregnum was born. The sarkar bahadur at Delhi sends memoranda on unforgetabble days to all central government departments, to do the needful. You better head to the nearest central sarkar bahadur office next time to catch the action. You might even get some chai-biskit to smoothly complement the ‘sadbhavna’ or ‘national integration’ feeling that might be evoked. One tends to get carried away at such holy occasions with free chai, year after year. Browns are, after all, very emotional people.

On 23rd January, a only MP who turned up at the Parliament of India to garland the picture of Subhash Chandra Bose on his birthday was Lal Krishna Advani of the BJP. Some MPs from West Bengal were busy in similar events in their state. The Indira Congress must have been tired from cheering the great rise of the great-grandson of Government of India’s children’s welfare champion Number one. Or they could have been tired of the burden of extra cylinders. Subhash Chandra Bose was also figured in the expanded pantheon that loomed large behind of podium from where the great grandson demanded cylinders. The curious shape of the select pantheon of past presidents of the Indian National Congress (which Indira Congress claims to be the successor of) resembled a 9-headed Ravan with the non-family Gandhi at the centre. Electoral desperation forces many things. Subhash Bose was there too, with the white cap that was snatched from his head by Nehru-Gandhi Congressites after the 1939 Tripuri session of the Congress. The military cap that Netaji put on later is too uncomfortable for those who would want to erase the various other currents and means that was part of the anti-colonial struggle in the subcontinent. Greater awareness of such trends may undercut official narratives and make many question the differences between freedom and brown-mask-government, liberation and transfer of power. That can be very uncomfortable.

This erasure has enabled the sons and grandsons of the Hindu Mahasabha and JanSangh to add past Congress presidents to their sordid pantheon of Hitler-lovers and British informers. In a subcontinent where erasure of public memory and creation of false legacies is a fine art, even the atheist, socialist, anti-communal Bhagat Singh is now wrapped in a saffron turban for 272+ mileage. The lure of power is reflected in the eagerness of liliputs to stand on the shoulder of giants.

But this false bhakti can be easily tested. The Prime Minister’s Office admits that there are 20 secret files relating to Netaji’s disappearance. Can the BJP guarantee that it will publicly disclose uncensored versions of these files if its alliance attains power in 2014? The complicity of all the players of the deep state to this conspiracy of silence and evasion needs to be exposed.

Leave a comment

Filed under Bengal, Delhi Durbar, Democracy, Foundational myths, History, Memory

January on Jessore Road / The besieged Hindus of Bangladesh

[ The Hindu, 16 Jan 2014 ; The Friday Times (Lahore), 17 Jan 2014 ]

“Hey there mister can you tell me what happened to the seeds I’ve sown

Can you give me a reason sir as to why they’ve never grown?

They’ve just blown around from town to town

Till they’re back out on these fields

Where they fall from my hand

Back into the dirt of this hard land”

– Bruce Springsteen, This Hard Land

Few moments in the past century evoked as much hope in its stakeholders than the emergence of the People’s Republic of Bangladesh as a secular state in the eastern part of the subcontinent. Drenched in the blood of martyrs and fired by lofty idealism that has still not completely died, this nation-state has not lived up to its ideals. Often declared by some to be the greatest achievement of the Bengali people, is at a dangerous crossroad, once again. The ruling Awami League has an unenviable record of corruption and graft tainting its last 5 years in government. To be fair, the previous elected government of the Bangladesh Nationalist Party (BNP)-Jamaat-e-Islami combine had a track record far worse in this regard. But the country is young and the BNP-Jamaat was last in power 7 years ago – when a significant section of the present population was had not reached adulthood. In addition to that, the opposition, especially the Jamaat, has been partially successful in using its massive economic clout and international propaganda apparatus to portray itself as a victim of state-sponsored witch-hunting. The ‘witch-hunting’ boils down to two things that can all but finish the Jamaat off as a viable political force. The first is the deregistration of Jamaat as an electoral force, as it privileged divine ideas over democracy in the party constitution – something that the Supreme Court deemed as illegal. The second is the War Crimes trial of those who committed crimes against humanity during 1971. Almost all of the present Jamaat leadership was heavily involved in murder, rape, arson and forced conversions. In a subcontinent where politics thrives on the erasure of public memory, this episode has refused to disappear. In fact, a dilly-dallying Awami League government was almost forced by the youth movement in Shahbag to pursue the war crimes trial seriously. Facing the prospect of political annihilation, the Jamaat responded by a three-pronged offensive. One, marshaling young Madrassa students and use them for blockading Dhaka. Two, lending BNP its activists to act as boots-on-the-ground. Three, carrying out targeted attacks on the homes, businesses and places of worship of Hindus, the nation’s largest religious minority. But the collateral damage is often wider.

Farid Mia, a fruit seller, had the extreme misfortune of being near the Ruposhi Bangla Hotel in Dhaka when the street-fighters of the opposition BNP–Jamaat combine hurled petrol bombs indiscriminately. They were aiming to create a scenario of fear in the run-up to the parliamentary elections of January 5, which the principal opposition combine was boycotting. By January 8th, the elections were over. So was Farid’s fight for life at the Dhaka Medical College Hospital. The devastated face of the young child Mohammod Liton, Farid Mia’s youngest son, will go down as a call to conscience, however transient. Farid was unlucky. He could not have known that he would be a victim.

But there are predictable victims. In 2001, after the BNP led alliance won the elections, the usual pattern of murder, rape and arson targeting Hindus happened on a very wide scale. Hindus have traditionally voted for the Awami League. The guarantee for ‘Jaan’ and ‘Maal’ is important for the survival of any people. In the Awami League regime, although Maal in the form of property and homestead has been regularly taken away by Awami League powerfuls, the attack of life and systematic rape of minority women was not part of the party’s policy. The same cannot be said of the BNP-Jamaat under whom cadres, systematically aided by the police forces, have regularly threatened both ‘Jaan and Maal’. Thus, it is not hard to see why the Hindus chose the devil over the deep sea. The Hindus who had voted in 2001 had learned their lesson when they were targeted in massive post-poll violence, most infamously in Bhola. This time around, the Hindus seemed to be out of favour from both sides. While they were targeted by the BNP-Jamaat for coming out to vote at all, in other areas they were targeted by Awami League rebels for coming out to vote for the official Awami League candidate who happened to be of the Hindu faith. There have been disturbing signs over the last few years that at the very local level, the difference between the ‘secular’ Awami League and the communal-fundamentalist BNP-Jamaat seems to disappear, though publicly the former does not tire in parroting the secular ideals of 1971 – the much used and abused ‘Muktijudhher chetona’ (Ideals of the Liberation War).

The violence unleashed against the Hindus this time around, before and after the 5th January polls, have been worst in Jessore, Dinajpur and Satkhira, though many other places like Thakurgaon, Rangpur, Bogra, Lalmonirhat, Gaibandha, Rajshahi and Chittagong have been affected. If people remember Thakurgaon and Dinajpur from a different time, it is probably because these were strongholds of the communist-led Tebhaga movement of the late 1940s. Part of the reason few riots happened in these areas when the subcontinent was in the throes of communal riots was the cross-community solidarity and political consolidation that had been achieved. That was then and we have come a long way since then. Malopara in Abhaynagar, Jessore, inhabited by Bengali Dalit castes, has been attacked repeatedly. Large scale attacks on villages, businesses and places on worship, able-bodied men being on night vigils, women huddling together in one place – all these things brought back memories of 1971 for many of its inhabitants. In Hazrail Rishipara of Jessore, women were raped at gunpoint for the crime that their families had voted in the January 5th election. Dinajpur has been badly hit with cases of beatings, home and shop burnings, and putting fire to haystacks and crops. Both Jessore and Dinajpur being areas bordering West Bengal, crossing the border for preserving life is a sad trek that many have undergone. Such slow ‘squeezing out’ is not new, neither is it intermittent. It is a continuously process that is an effect of a political discourses the willy-nilly aims to delegitimize the very existence of the minorities on their ancestral land by always asking the question –‘Why are you still here?’. ‘Why am I still here’ is a question the minorities have asked themselves and as the statistics show, a staggering number could not find a good answer and hence they left. The trickle has been slow and silent. The ‘Partition’ continues.

The ‘Partition’ was swift and vicious in the Punjabs and Sindh where religious minorities have ceased to exist for all practical purposes. This is not so in the Bengals, where many still live in the ancestral land claimed by nations whose legitimacies are much more recent than people’s ancestral claims over their homestead. Nearly 30% of the Bengal’s western half’s population is Mohammeddan (the figure was 19.46% in 1951, after the 1947 partition). Even in the eastern half, little less than 10% of the population is Hindu (it was 22% in 1951). In East Bengal, secular politics does exist beyond the fashionable drawing rooms of liberaldom. It was one of the four much touted foundational principles of the 1971 Liberation war. The autocratic years of BAKSAL, the long years of army rule when the barracks used Islam to create a veneer of political legitimacy beyond the Awami League and pro-liberation forces, the overtures by mainstream parties to fundamentalist groupings – all of this has given religion-based politics a front-row seat in the nation. Neither have religio-political organizations been immune to the violent turn of this brand of politics internationally in the last decade or so.

How did things come to be this way? The issue of minority targeting, one must admit has deeper roots than simple ‘communal politics’ and ‘mixing politics with religion’. Pro-Pakistan forces, which looked to faith-unity as basis of statehood, did not disappear after the Liberation War. They were broadly and transiently (as it increasingly seems) delegitimized due to the their role in the atrocities of 71. But what about the ideological moorings of the project that religion marks a nation? What about the splinters of that project stuck deep in the political and social structures? That trend did not die not did it dry up. One has to remember that even the Awami League in its inception is a faction of such a trend that reoriented later along the lines of Bengali Nationalism. In the imagination of all the ruling factions since 1947 during East Bengal, East Pakistan and Bangladesh periods, there has been a tacit understanding of the normative citizen – a Muslim Bengali male or a Bengali Muslim male. Hindus of East Bengal are a living reminder of a Bengaliness that is not co-terminal with narratives that conflate Bengaliness (or Bangladeshiness) with being a Bengali Muslim. Their progressive marginality in numbers makes this conflation project easier. Such projects are not necessarily active political projects but often live in the underside of mindscapes that can be ‘secular’ in very many declarations. Thus they can be marginalized without being actively targeted in ‘innocuous’ everyday dealings. Communally targeted violence feeds off from a broader spectrum of support, from active to lukewarm to unconscious.

In any modern nation-state, the majority can decide to be whatever it wants and the minority has to follow suit. So Hindus were expected to become Pakistanis overnight in 1947. While Bengali Muslims politicians have the autonomous agency to un-Pakistanize themselves at will, east Bengali Hindus could only publicly do so at explicit cue from their Bengali Muslim brethren. At any rate, they are never ‘good enough’ citizens in whatever dispensation they find themselves. At one point, they weren’t good enough Pakistanis. Now they are not good enough Bangladeshis. What is the commonality between being a good enough Bangladeshi and good-enough Pakistanis, since being Bengali is not enough. Isn’t religious majoritarianism part of that mix? If yes, what did 1971 achieve for the security of ‘maal’ for Hindus, given that more Hindu land has been usurped by the Awami League than by any other party. But still the Sarkar Bahadur is responsible for jaan and maal. As I said before, the Awami League takes maal for protection of jaan. BNP assures neither. This is part of the draw for Awami League for the Hindus of East Bengal. Just like other minorities, extra-territorial loyalty is the easiest slur that is bandied about. And this is also what makes minorities lesser citizens in a polity – they cannot critique their state in all the ways a majority community person can. They are forced into living double lives and then condemned for living it. Fortunately or unfortunately for Hindus of East Bengal, West Bengal exists where their situation is nothing but information to be used tactically by Hindu-majoritarian forces to oil their own political ambitions. Thankfully, they have been more successful outside West Bengal than within it, but who can say for how long?

But still one cannot but hope that the People’s Republic of Bangladesh would live up to its original ideals. Minorities have fled the nation-state for want of security in large numbers, year after year. Numbers matter. It also matters that nothing of the scale of Delhi 1984 or Gujarat 2002 has happened there since 1971. The name of a ‘Hindu’ hero like Shurjo Sen can be chanted spiritedly by tens of thousands of mostly Muslim youths in the streets of Dhaka. There is no such parallel in the nation-states that are the other fragments of 1947. Even in the recent protests at Shahbag, lakhs raised slogans in his name. “Shurjo sen-er banglaye, jamaat-shibirer thhai nai (No place for Jamaat-Shibir in Shurjo Sen’s Bengal).” There is significant presence of minorities in the bureaucracy and local administration. Even in the recent spate of violence, the state has transferred police officials for failing to provide security. Gonojagoron Moncho, the youth movement that spearheaded the Shahbag protests for war crime trials, has led a road-march to violence stricken Abhaynagar to stand in solidarity with the affected. This is not a fly-by-night visit by VIPs or a handful of politicos. This reality exists too. It is this reality that partly prevents a mass exodus of Hindus beyond the levels seen at present. There is too much to lose to leave. Still. For far too many.

সুধাংশু যাবে না

–শামসুর রাহমান

লুণ্ঠিত মন্দির, আর অগ্নিদগ্ধ বাস্তুভিটা থেকে

একটি বিবাগী স্বর সুধাংশুকে ছুঁলো

‘আখেরে কি তুলি চলে যাবে?’ বেলা শেষে

সুধাংশু ভস্মের মাঝে খুঁজে

বেড়ায় দলিল, ভাঙা চুড়ি, সিঁদুরের স্তব্ধ কৌটা,

স্মৃতির বিক্ষিপ্ত পুঁতিমালা।

স্বর বলে, ‘লুটেরা তোমাকে জব্দ ক’রে

ফেলে আশে পাশে

তোমার জীবনে নিত্যদিন লেপ্টে থাকে

পশুর চেহারা সহ ঘাতকের ছায়া,

আতঙ্কের বাদুড় পাখার নিচে কাটাচ্ছ প্রহর,

তবু তুমি যেও না সুধাংশু।’

আকাশের নীলিমা এখনো

হয়নি ফেরারি, শুদ্ধাচারী গাছপালা

আজও সবুজের

পতাকা ওড়ায়,

ভরা নদীকোমর বাঁকায় তন্বী বেদিনীর মতো।

এ পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনো কোথাও

পরাজিত সৈনিকের মতো

সুধাংশু যাবে না।

Risen from the embers of an ancestral place–plundered temple–

An unearthly voice vibrates in Sudhanshu

Are you, finally, leaving?’ At the end of the day

Sudhanshu gropes amidst cinders

For the deeds of his homestead, splintered bangles, the mute colours of a vermillion box.

The dog-eared scatters of manuscripts in memory.

The phantom says, ‘The plunderer has beaten you

Here and there

Your daylight clings to

An animal outline ambushed by a murderer’s mien,

You spend your hours crouching under the bat-wings of terror,

Despite all, do not leave, oh Sudhanshu.’

The blue of this sky is yet to

Diminish, the sacred trees

Are yet flying green

Banners, the copious river

Meanders her waist like a slim snakecharmer lass.

He won’t abandon this sacred earth for elsewhere,

Unlike a retreating soldier in defeat,

Sudhanshu would forever not leave

– Shamsur Rahman

(Gargi Bhattacharya translated the poem from the Bengali original)

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Displacement, Foundational myths, History, Identity, India, Language, Memory, Nation, Pakistan, Partition, Power, Religion, Rights, Terror

Battling religious censorship / Muzzling Expression of Taslima Nasreen

[ Outlook, 23 Dec 2013 ; Echo of India, 29 Dec 2013 ]

Kolkata, the so-called ‘cultural capital’, has demonstrated the increasing emptiness of the epithet, yet again. Taslima Nasreen, one of the most famous Bengali authors alive, had scripted a TV serial named ‘Doohshahobash’ ( Difficult cohabitaions) portraying 3 sisters and their lives – standing up to kinds of unjust behaviour that are everyday realities for the lives of women in the subcontinent. Nasreen has long lent a powerful voice to some of the most private oppressions that women face, often silently. The private channel where the serial was slotted ran a vigorous and visible advertising campaign – Nasreen’s name still has serious pull among Bengalis and the channel knew it. Nasreen had made it clear that the serial had nothing to do with religion.  However that was not enough for the self-appointed ‘leaders’ of the Muslims of West Bengal who issued warnings to the effect that the serial not be aired. The commencement of the serial, sure to be a hit and a commercial success for the channel, has now been postponed indefinitely. One can imagine the pressure the producers and broadcasters have faced that led to the shelving of a potential runaway commercial success. As in the recent incident of Salman Rushdie being prevented from coming to Kolkata due to the protest by similar characters, one can be sure of the kind of role the Trinamool Congress government and its law enforcement agencies had in this affair. If the government is to be believed, it had no role in the criminal farce that is being played out unchecked. Muzzling free speech and right to expression does not always need written orders from the government. A phone call here, a verbal order there – these are typically enough.

Nasreen has been living in New Delhi since 2007, after being hounded out of Kolkata by the CPI(M) led government on the instigation of Muslim groups threatening ‘unrest’. The pathetic reality of the lives of ordinary women in the subcontinent and the extraordinary oppression meted out to them, especially due to certain religious systems, have been the single most important theme of her writing. Steeped broadly and deeply in the cultural fabric of Bengal, the specific socio-geographical setting of much of her work is in the Muslim-majority nation-state of Bangladesh. Hence, in her earlier writings, Islam primarily represented the ugly face of religious majoritarianism. However, those who have cared to read her corpus, know very well that she has been an equal-opportunity truth-teller, castigating both Hindu and Muslim religious practices and ideologies.

Taslima Nasreen is a daughter of the subcontinent. Islamists in Bangladesh wanted her head and made life miserable for her. After a few years in the West, she returned to West Bengal. I say ‘returned’ as it was an inalienable part of her cultural homeland. In Kolkata too, she lived in the face of constant death-threats there too. After her forcible ejection from Kolkata, she has never been allowed back, though she remains extremely interested in relocating back. One would think that the culture of issuing death-threats to one feels one’s religion has been slighted by is alien to Bengal – which has, for centuries, been the ground Zero of religious syncretism as well as tolerance to so-called deviants of all hues. It is indeed sad that this alien culture of extremism of relatively recent import has managed to gain the upper-hand so as to force the government of the day to pander to these elements at huge cost to the social and cultural fabric of West Bengal.

Who exactly are these vocal opposers of Taslima Nasreen’s serial being shown publicly? Whenever one has self-appointed spokespersons doing the shrillest speaking, it is useful to study their antecedents. Abdul Aziz of Milli Ittehad Parishad and Mohammad Quamruzzaman of the All Bengal Minority Youth Federation are two prime examples who have been extraordinarily active in running the Taslima-denounication industry in West Bengal. Both these organizations share another distinction. They led a mass-meeting earlier this year in Kolkata protesting the punishment of Islamist leaders of Bangladesh who had directly committed crimes against humanity during the 1971 Bangladesh Liberation War.  Thus those who defended rapists and mass murderers of 1971 (the victims were Bengalis, of whom a significant proportion were Muslims) have taken upon the mantle of community guardianship of Muslims in West Bengal. It cannot be clearer what kind of Muslim interest these folks represent. To even consider that such elements represent Muslim interests of West Bengal is tantamount to insulting the intelligence and humanity of the Mohammedans of the state.

Kolkata’s intelligentsia and youth, once known to take to the streets and chant songs to protest the muzzling of Paul Robeson, a black-American singer and artist, has had nothing but silence to offer on this one. The Trinamool Congress rulers and the erstwhile CPI(M) rulers have set a record of competing with each other on muzzling free speech on the instigation of groups in whose worldview, free speech has no place. While there may be short-term electoral gain for such posturing, this race to the bottom has no winners. The loser is the idea of a free and democratic society where dialogue and understanding is privileged over violence to ‘solve’ differences. In effect, such groups aspire for a society where there are no differences – no diversity of thought, expression, living and being. Nothing is more alien to the human condition than that. Gods only can help a society where governmental policy is dictated by sociopaths, unless a critical mass stands up to publicly state that enough is enough. Does the right to be offended take precedence over the right to free speech? If yes, we are in sad and dark times.

When insulting books, gods and other creatures has become the touchstone of ‘community leadership’, one might do well to remember the words of Kaji Nazrul Islam, the fiery poet of all of Bengal who is increasingly being packaged into a ‘Muslim’ poet – ‘Manush enechhe grontho, grontho aneni manush kono’ (Man has produced books, no book has ever produced a man). There is nothing truer than man himself and free speech is an pre-condition for that truth to shine forth, in its myriad hues.

Leave a comment

Filed under Bengal, Culture, Kolkata, Religion, Rights, The written word

The urban myth of the ‘simple villager’ / The convenient fiction of the ‘simple villager’ / Urban legend of the simple villager

[ Daily News and Analysis, 11 Nov 2013 ; Millenium Post, 9 Nov 2013 ; Echo of India, 12 Nov 2013 ; New Age (Dhaka), 12 Nov 2013 ]

Our family hails from Patuligram near Jirat, in the Hooghly district of Bengal. We have been there for at least four centuries and our clan has deep ties with the place. This ensured that I accompanied my parents to our ancestral village home once or twice a year. By no stretch of imagination can I claim myself to be a village boy but it was not an altogether alien thing to me. It was not ‘exotic’ or many other things apparently villages in the subcontinent are. That there are as many types of villages as there are villages is something I learned slowly, but that is another matter.

In my childhood years in urban Bengal, ‘Boshe Ako’ (Sit and Draw) painting competitions were a rage among the pre-teens. Anecdotes gathered from others make me think that this was prevalent in many areas of the subcontinent. Today, the definition of ‘coolness’ does not include such things, especially among the more Anglo-Americanized segments of society, but that was then and there. A ‘village scene’ figured among the most popular themes that one would draw.

A typical ‘village scene’ would include a focal hut and sometimes a few huts in the distance, a river, a few coconut trees, a lot of empty paper to signify open land, sometimes a few human figures to denote villagers, and most curiously, a few sharp triangles in the background that might have signified hills with peaks, with the sun peeking out from behind, much like the electoral symbol of the Dravida Munnetra Kazhagam. Most villages of the subcontinent do not look like this. This was an idea of the village generated in city-spaces populated with the scions of a generation that could not completely deny their erstwhile origin from villages but were mostly clueless about what it might look like. The tiny producers of these kitsch villages have grown up and gone on to form that generation that wears rootlessness as a badge of honour.

That urban kid of yesteryears was expressing a very distilled form of an ideology. The same kid would draw many more articles in a city scene, make it a much more ‘active’ site of human activity. The village was of one type – undifferentiated. Simple. So were the villagers. Of simple mind. The lack of a human connection with the village (as opposed to the ‘exploration’ tourism type of thing that some urbanites now do) enabled the construction of a certain idea of a village and the villager. Now that rural lands are the primary targets for the unsustainable and parasitic urban expansion, this idea comes most handy. Especially in a development discourse, the simple villager idea helps getting consent and support from crucial urban sectors for land grabbing and urbanization.

The creamier part of this sector is shameless enough to partake in ‘traditional cuisine’ in an ‘authentic’ village setting, set up false ‘village-like’ props during their marriage ceremonies, de-stress at ‘traditional’ spas (the notorious ‘Vedic Village’ is one such) and seek a pollution-free ‘green’ life ‘away from the city’ – one’s private concrete ‘ashiyana’ in a manicured make-believe ‘village’ setting. The obscenity of it all is probably beyond these urban denizens but is not lost on the evicted villagers who often hover around their erstwhile homes and lands as menial help. It is my suspicion that they hover around the Rajarhats and Greater Noidas of the subcontinent even after death.

But the villagers were not so ‘simple’ even in the recent past. Though literary representations are a poor approximation of life itself, for what they are worth, the villagers in the works of Sarat Chandra Chattopadhyay, Munshi Premchad or Rabindranath Thakur are far from simple. The ‘simple’ villager fiction would not have sold amongst folks whose fathers and grandfathers were from the village and were not quite simple. Manmohan Singh grew up in a village during his ‘impressionable’ years before adulthood. Whatever be his virtues, ‘simplicity’ is not one of them.

The ‘simple’ villager is a useful product of propaganda, which dictates that villagers need to be protected against their own ‘simplicity’. The ‘simple’ villager is most commonly invoked when an obstinate and rooted one does not give up one’s land. His ‘simplicity’ makes him impressionable. He can be easily excited to protest against the state by manipulative ‘outsiders’. He, thus, has no agency. His opposition is false. His protest is false. His simplicity is true. Under these false ideas, we find the ideology of power at work, that always saves people from their own ideas. The simple village was born in a complex metropole without an umbilical cord but a voracious appetite. The objective of this infantilizing of the village is not nurture but infanticide. The paintings of our urban childhood were not that simple after all.

Leave a comment

Filed under Bengal, Displacement, Elite, Identity, Jal Jangal Zameen, Sahib, Urbanity

Death of a general / The unconquered General Giap

[ Daily News and Analysis, 12 Oct 2013 ; New Age (Dhaka), 24 Oct 2013 ]

‘Amar nam, tomar naam,

Vietnam, Vietnam’

(Your name, my name, Vietnam, Vietnam)

–       a popular slogan in West Bengal expressing solidarity with the Vietnemse people during the US-led military operations against Vietnam in the 60s and the 70s.

General Vo Nguyen Giap, the brilliant chief of the Vietnamese forces who gave the French, till-then the hardest kick in their back from a colonized people, died on 4th October. The development of civilizational and philosophical finesse in the form of Michelin stars, ‘fine’ dining, schools of politics and philosophy, experimental art and delicate wines have long been subsidized by the blood and tears of non-White people. So General Giap and his Vietnamese guerrillas surely left a bad, non-fruity after taste in the French palate. The French were thoroughly defeated at Dien Bien Phu. They surrendered to the Vietnamese. We had won.

For the subcontinent, whose ‘liberation’ from colonial rule did not involve surrender of the colonizers naturally did not involve liberation from the institutions that suppressed rebellions, beat up and tortured political workers, certain national liberation struggles of South-East Asia may seem from a different world. Indeed, it was a different world, where the native-staffed army and police that swore undying allegiance to some European power, did not automatically become the army of police of ‘independent’ nation-states. In the subcontinent, armed group of men in uniform loyal to the British crown, turned desi patriots overnight, with rank, pay and pension protected. Thus, it should not come as a surprise that the Indian Union’s Indian Army has conducted extensive aerial bombing of its own citizens in Mizoram and armed-uniformed wings of the state are the organizations accused of the largest number of rapes, again, of its own citizens. Its twin born out of the same transfer of power, the Pakistan Army has aerial bombed its own citizens in Balochistan for years. For a subcontinent, which has been taught to mix up transfer of power (and institutions) with national liberation, Vietnam would have showed them what the real thing looks like.

The Vietnamese victory at Dien Bien Phu shook the world. For those uninfected by the ‘White-awe’ syndrome, like Malcolm X, the meaning of this victory was clear who used this for his own political preaching. ‘White man can’t fight a guerilla warfare. Guerilla action takes heart, takes nerve, and he doesn’t have that. He’s brave when he’s got tanks. He’s brave when he’s got planes. He’s brave when he’s got bombs. He’s brave when he’s got a whole lot of company along with him, but you take that little man from Africa and Asia, turn him loose in the woods with a blade. That’s all he needs. All he needs is a blade. And when the sun goes down and it’s dark, it’s even-steven.’

There was a time when the 1905 Japanese naval victory over the Russians broadened the chest of many a brown people. There was a time when a significant number of middle-class brown people too considered themselves Asians. The idea of Asia and Asian-ness is long-gone from the subcontinent. The great-grand children of such brown Asians have their mindscapes dominated by video games and films and shows, with white winners, white saviours, white sexiness, white ruggedness, white determination, white failings, white sacrifices, white sadness and a million other minute shades of white-human personhood. To this generation, the Asian is a term for folks with ‘slit eyes’ – such is the pernicious grip of whiteness on bankrupt minds. Part of the reason that the subcontinent is saddled with false gods and extreme alienation is that we never had our own General Giap. Which is why, when this towering personality breathed his last, we did not know that we had lost our very own. The Vietnamese got a national liberation army. We got folks who pride themselves on being patted on the back for killing colored people, at home and in faraway land, for the British monarch.

My own city, Kolkata, had a special connection with General Giap and Vietnam. Even before partition, the students of Kolkata observed Vietnam Day in January 1947 in solidarity with the Vietnamese anti-colonial struggle. The brown British police killed 2 protesting students. The same police would be designated loyal enforcers of law in about 8 months time. General Giap visited the city more than once and then, as a school student, I had the good fortune of seeing him with my own eyes. Thousands had assembled to catch a glimpse of him that day. I feel it is not unrelated that removing slums is still the hardest in that metropolis. Many browns have a peculiar interest in the twists and turns of the World Wars. That the chivalrous white man dropped more bombs in Vietnam to crush them than they dropped in each other in Europe during the Second World war is one of those details that do not break into brown consciousness due to the ideological predilections we have to due other kinds of story-telling that we have become specifically atuned to, as an enslaved people. We know about white successes and white failings, white truths and white fictions, but that’s about it. In our enslaved heads, we can love or critique Rambo and other ‘world’-saving White creatures, real and imagined, but many coloured people were saved for the likes of General Giaps, big and small. Let us expand our heads to accommodate our heroes.

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Colony, History, Kolkata, Memory, Nation, Obituary, Sahib

Paying the price for a gory ideology of hostage theory / Vague vengeance driving terror / Vague vengeance and Pakistan church blast

[ Daily News and Analysis, 1 Oct 2013; Millenium Post, 7 Oct 2013; Shillong Times, 7 Oct 2013; Echo of India, 9 Oct 2013 ]

“Ekbar matir dike takao,

 Ekbar manusher dike”

 (Once, take a look at the ground beneath your feet. Then, look at human beings)

 –  Birendra Chattopadhyay, Bengali poet (1920-1985)

 

In the most murderous attack on what is left of the ever-terrorized Christian population in Pakistan, Islamic terrorists have killed at least 85 worshippers at the All Saints Church in Peshawar on September 22nd. Inspired suicide bombers were the weapon of choice to target the Christian congregation. The death count is still rising, as more people succumb to their injuries in the hospitals. Outright murder represents the sharpest edge of what Christian and other ‘constitutionally’ non-Muslim people endure in Pakistan. Their daily life in a nation-state that officially considers them unequal in various ways to official Muslims is not pretty. Usurpation of property, blasphemy charges, attacks and destruction of places of worship, rape and subsequent forced conversion (or the reverse order) of womenfolk form the visible tip of a much broader systemic antagonism.

Thankfully, the minorities are not completely friendless in Pakistan. At huge personal risk, people like IA Rahman, Asma Jehangir, Abid Hasan Minto and many others have been standing in solidarity with religious minorities of Pakistan, protesting on the streets, for decades together. The threat to their lives is real, as was shown by the brutal murder of Salman Taseer, governor of West Punjab, and someone who had expressed solidarity with a Christian woman, Aasia Bibi, phonily charged with blasphemy against Islam and given a death sentence. The recent anti-Christian massacre has brought the predictable protestors to the streets – human rights activists, left activists and the Christian community itself. But in addition to this, a somewhat broader segment also has protested. These groups have demanded that there be no dialogue or negotiations with Islamic terrorists behind this attack.

While shunning dialogue, the society in Pakistan may do well to initiate a broader dialogue. Directed not at the clearly-defined demons like the Taliban, this dialogue may point to a broader disease that emanates uncomfortably from the holy-cows of that nation-state. Only the society-at-large can initiate such a dialogue that explores the contours and content of inherited socio-political ideology, things that take a providential status as foundation-myths of any nation-state. Should one take a closer look at holy cows and foundation myths to diagnose the disease?

Jundallah, the Islamic terrorist group that claimed responsibility for the Peshawar massacre, laid out in no uncertain terms how it justifies the attack. ‘‘All non-Muslims in Pakistan are our target, and they will remain our target as long as America fails to stop drone strikes in our country.’’ So, non-Muslims in Pakistan are, in their understanding, more America’s than Pakistan’s and if America cared enough for its ‘own’ in Pakistan, it had better stop doing things to Muslims in Pakistan. This equation of America = Christian = some hapless Suleiman Masih in Peshawar has widespread appeal, not only for its simplicity, but also for its antiquity. For those who have a somewhat longer memory, the subcontinent has known this for some time – most famously as the pernicious ‘hostage’ theory.

The ‘hostage’ theory has been around for some time. This was enunciated most explicitly by Mohammad-Ali Jinnahbhai, the quaid of the All India Muslim League, as a macabre formula for peace. By this notion, the safety of religious ‘minorities’ in the then still-to-be-born Pakistan and India would be ensured by the fact that the majority community A wont attack minority community B, because in other places, community A is a minority where B is the majority, and hence vulnerable to ‘retributive’ counterattack. Hence, it would ensured (or so it was thought) that violence would not happen locally, as communities that imagine themselves non-locally, would see that this could go tit for tat for ‘themselves’ elsewhere. A minority then is a hostage of the majority. If there are two hostage takers, peace will be ensured. Rather then hostage-driven peace, the subcontinent has witnessed many instances of what can be called retaliatory hostage torture. The massacre of Hindus in Noakhali on Kojagori Lakshmi puja day, the massacre of Muslims at Garhmukteshwar, the reciprocal train-massacres crossing the Radcliffe border of the Punjab, the massacres in Dhaka and Barisal – the list goes on. The list shows that hostage torture enjoyed a broad currency. The Muslim League was simply brazen enough to state it as such. Other groups also used it to their advantage to the hilt.

A tacit acknowledgement of the ‘hostage’ status of minorities was the basis of the Nehru-Liaquat pact – to protect the minorities in West Bengal and East Bengal. The hostage theory lives on when the Babri mosque demolition causes hundreds of temples to be destroyed in the Peoples Republic of Bangladesh. This is why a Hindu there is more India’s than theirs – sort of an unreasonable remnant that ideally shouldn’t have been there. The hostage theory is an ideology of the book and not of the soil. The question of a human’s belonging, in that heartless scheme of things, is not with the soil beneath his ground, but with someone faraway bound by similar ideology. This binds people from disparate soils similarly, and divides people from the same soil. The modern dominance of universalist, extra-local ideologies of community definition, as opposed to the local and the ecological, has taken a very heavy toll on humanity. Peshawar shows that the ideology of the hostage theory is alive and well in the subcontinent. Jundallah is its bloody edge. The softer margins include a very many among us.

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Foundational myths, Identity, India, Kolkata, Our underbellies, Pakistan, Partition, Religion, Scars, Terror, Under the skin

My vote for pluralism

[ Open Magazine, 14 Sep 2013 ]

On one issue, there is no doubt. If there was a murder most foul – it was Narendra Dabholkar’s. The slain leader of the Maharashtra Andha Shraddha Nirmoolan Samithi was, by any measure, a well-wisher of the people. He was a strong supporter of inter-caste and inter-religious marriages. He had been fighting, for decades, an unwavering war against ‘black magic’ practitioners and had ruined the business for quite a few. Threat to his life was ever-present. It is thought that the recent airing of his views endorsing inter-caste marriages and his long-term push for an anti-superstition bill finally did him in.

A doctor by training, Narendra Dabholkar cut his teeth in rural social service with another doctor-turned-activist Baba Adhav during the “Ek gaav, ek panavtha” (One village, one pond) movement. What set Dabholkar apart from many atheist-rationalists is how his work was deeply embedded in society – not preaching from above but militantly conversing alongside. He earned his legitimacy by living an exemplary life. The widespread shock and anger on his murder points to that. Urban rationalist talking heads might learn a thing or two from his life before complaining for the umpteenth time how ignorant the people are. During his lifetime, he was painted, with partial success, as someone who was anti-religion. That view also has serious currency. It is important to see why.

Dabholkar led a crusade against the deleterious environmental effects of divine idols. Water pollution was the holy cow that was used to elicit a court order banning certain kinds of idol-making substance in Maharashtra. Is that being anti-religion or anti a particular religion? Who knows. But put back in the context of a world where the people see the pollution and choking of rivers, lakes and other waterbodies by large-scale industrial effluents going unpunished, this particular focus on water pollution from idols does carry a different charge.  What conclusion should those idol-worshippers draw, who see both the ban against plaster-of-paris idols and the unchecked water pollution from other sources? Believers are not donkeys.

It is not a coincidence that nearly all the self-styled gung-ho rationalists or ‘magic’-busters of the subcontinent are also staunch atheists. A stupendous majority of the people is not. However, when preaching rationalism, the preacher’s atheism bit is downplayed or made invisible. We are not against religion but against superstition, they say. Believers are not sheep either and can identify patronizing double-speak. They are naturally left unimpressed by those who claim to be sympathetic do-gooders but actually could give two hoots about people’s beliefs and viewpoints.

The grand failure of such atheist/rationalist projects, in spite of having the full weight of the constitution of the Indian Union behind them, also has to do with the patently alien idioms of communication and propaganda that they use. That the rationalist propagandists themselves are often alienated from the living currents of their own society does not help matters.

When a miniscule minority aims to scare, browbeat and threaten people of faith by trying to get legislation passed that criminalize practices that believers voluntarily submit to, what we have is a most naked use of privileged access. This privilege follows the usual path of undemocratic access in the subcontinent – urban backgrounds, English education, Delhi connections, friends in media and so on. Every time such legislation is passed, it undercuts democracy – for, in their spirit, such legislations seek to act as wise elders, running roughshod over the beliefs and opinions of the people at large. It may befit a sociopath to assume that the masses are either juvenile or imbecile or manipulated or in darkness. It hardly is the ideal characteristic of a socially engaged being in a democratic society. Every individual is a complete moral agent with as much intelligence and responsibility as the next one.

In the absence of empathy and respect towards difference – things that are the basis of a harmonious society, we have elitocracy. When some urban rationalists shamelessly clap at ‘anti-supersetition’ bills and legislations that few believers would agree to in a referendum, they often let the mask of false empathy and democratic pretense fall off from their faces. They can afford to do this as throwing stones at glass houses far from one-self has always been a very non-risky affair. Some excel at this. It is in the context of this snooty and privileged way of looking down and talking down to the believing unwashed masses that Ashis Nandy, the shaman of our times, had said ‘There are superstitions, and there are superstitions about superstitions.’ Others chose to work amongst the people and live (and some, like Dabholkar, unfortunately die) in the consequence of their actions. It is this latter kind which has won some legitimacy from the people.

In some ways, the work of rationalists should have become easier with rise of textual religion in many parts of the world, including the subcontinent. The level of canon literacy that exists now among the believers is truly unprecedented. But text also pins down belief, making it vulnerable to the kinds of tactics that rationalists use to expose certain practices. Ostensibly, contradictions between a certain belief and empirical reality can be shown more easily as scriptures and canons have taken up a largely immutable form by now. For example, followers of scriptures which claim a flat-earth or that the sun revolves around the earth are ripe for engagement as part of the rationalists’ ‘blind-faith’ removal programme. Rationalists have failed to do even that.

Reminding the body of believers that the development of ‘scientific temper’ is one of the ‘fundamental duties’ of the citizen according to the constitution of the Indian Union does not win any friends, neither does it challenge rationalists to develop meaningful ways of  engagement for their cause. This compounded by the notion that such ‘juktibadi’ (rationalist) types even look and act in a certain way. They are not different from other posturing social types like the faux-westernized body-art loving ‘rebellious’ 20-something yuppie of the post-liberalization era or the jhola-beard-jeans-chappal type communist youth of the same era. That certain rationalists chose to boycott all social occasions like marriage, funeral and so on as religious rites are performed there does not help in their social immersion.

Lived religion, like any other aspect of human life, is not something unpolluted from a changing world. Religion is not what it used to be and that is how it has always been. Religion has also taken up characteristics and props of this age of mass production of material goods, easy transport, mass media and increasing literacy in a few languages of dominance and power. The peculiarities of this age put their stamp on religion to create bizarre products that are as much characteristics of the age as they are of religion that consents to such corruption. In a way, that is how religion has always ‘survived’ in any meaningful sense of the word ‘survive’. However, to use the specific peculiarities of an age to paint religiosity or practices in general as a timeless evil is neither honest nor tactically smart. Constitutions and new ‘values’ that disappear almost as soon as they develop cannot and should not speak down to faith. This point becomes especially poignant when one quotes Karl Marx out of context – ‘Religion is the sigh of the oppressed creature, the heart of a heartless world, and the soul of soulless conditions.’

Let me make a final point. What is it to be human is a question that is hard to answer but a significant part of the world population, including the present author, believes that there are multiple ways of being human. Faith elements that are non-textual, that are handed down in communities, that makes their presence known in myriad practices (some of which may qualify in rationalist-speak as superstition) also contribute to the multiple ways of being human. These very many ways of being human come with as many world-views and whole theories of the workings of the world. These theories, world-views and practices – to what extent are they separable from one’s special sense of self and identity in this world? Religions, gods, goddesses and other beings, in so far as they are responsive to the changing world and living communities with which they are in constant interaction, also change. Being a certain kind of Bengalee, I grew up in the thick of brotos (practices to receive divine blessings) and many other acts, from which my particular kind of ‘Bengaleeness’ is indistinguishable. The gods and goddesses of my ‘Bengaleeness’, Ma Durga, Ma Monosha (often vulgarized off-hand as a ‘snake goddess’), Dhormo Thakur, and other divines who inhabit fringes of my ‘Bengaleeness’ like Ma Shitola, BonoDurga, and the practices and ‘superstitions’ associated with the particulars of my birth accident make me, in no small way. This Bengaleeness is not a static thing – static not even in a lifetime. Faiths and gods continue to communicate and adapt with the changing world their adherents inhabit. When some gods cannot adapt, they die too. An earlier time would have produced a different notion of selfhood in me.

Without this scaffolding, what kind of human would I be? Some may have no need of such things but what about the rest of us? What does this lack of particular scaffolding look like anyways?  Why do those do prescribe leaving such things, appear so much more similar to each other? Those who have some stake in the intrinsic plurality of the human condition and think that preserving that is a good thing, where would they stand if this homogeneity were the cost of inculcating a atheist-rationalist worldview. In any case, in colonial societies, the anti-traditionalist worldview can be as much received wisdom as any other tradition. Such a formulation might hurt the bloated egos of those who think that university departments and wistfully imported and badly digested bits of European post-enlightenment thought elevates them vis-à-vis their fellow hapless and ignorant brown people. Make no mistake; the hapless also have a theory about those who hold them in contempt.

Till ‘rationalism’ finds a way of preserving and strengthening the plural ways of being human that human societies believe they have produced in cahoots with their gods among other things, it certainly does not have my vote. An imported version of the universal brotherhood of man, something that some curious residents of the tropics always take to with more zeal and seriosity than the west itself ever did, is a cheap replacement for the loss of a million gods and a billion ‘superstitions’.

Leave a comment

Filed under A million Gods, Bengal, Caste, Democracy, Elite, Faith, Identity, Knowledge, Plural pasts, Religion, Science

The rise and rise of portable religion

[ Daily News and Analysis, 23 Jul 2013 ]

I remember a time, not so long ago, when my very Bengali brahmin family would travel outside Bengal. The visits would include religious places. Their attitude towards these places was clear – these were divine all right, but it was clearly understood within the family that these places were not ‘ours’. Sometimes such places invoked awe due to size, sometimes due to the volume of the crowds.

‘Our’ gods lay elsewhere. Among the creepers and water-bodies of a small village in the Hooghly district of Bengal, a particular mother goddess was omnipresent in the vocabulary of our family. They were in the form of a snake goddess who sat in a precarious perch near our Kolkata home, in a makeshift ‘temple’ between a bridge and a river. There was the lump-shaped Dharma Thakur, again of our village, who has had steadfastly refused brahminic mediation to this day. My family has come to live intimately with their moods and powers, their vehemence and their limits. They are ‘our’ gods.

In the last couple of decades, certain sentences have been thrown at me multiple times – scenarios I would not have expected earlier. The foremost among these is one spoken with some incredulity and an equal measure of haughtiness – ‘ Hindi nahi aata?’. A new nation-state is evolving; a new consensus is being beaten out of the badlands of the subcontinent. Gods are not unaffected in this scheme of things.

It started innocuously for such things have always happened. Young people moving away from their hometowns to other cities. Unprecedented levels of rural devastation and concomitant ‘urbanization’ for those beyond the pale of growth figures. But there has been a briskness in this process, a fast disemboweling, that cannot go unnoticed. The gods watched their devotees thinning away, overgrown groves lost witnesses to their sacredness. The story is clearly more complex than this but we do have at hand now, a generation or two, who have grown up without a conception of faith and religion that only an intimate ecology of a non-atomized society can provide. What we have in its place are unprecedented levels of scripture-literacy, a forced forgetting of the naked sacred, and shame about the practices of one’s grandmother. In this new religious worldview, older ‘superstitions’ are avoided and even condemned, with a mishmash of scriptures and lifestyle demands of modern urban society forming the bedrock of ‘eternal values’. These stances have wide currency among the rootless urbanfolk who may be religious or irreligious, but are Siamese twins when it comes to being self-servingly contemptuous of the rustic and the fantastic. The shaman of these times, Ashis Nandy provided a new language against these types when he wrote – ‘ There are superstitions, and there are superstitions about superstitions.’

So we have the rise and rise of portable religion. This is religion in its new avatar where a Quddus Sheikh from Murshidabad can go to some ‘bhavya’ mosque in Aligarh and see it as his own. This is the religion where certain gods have stolen a march on many other gods, creating a poor and sad ‘national’ pantheon of sorts – dreams of a ‘unified Hinduism’ finally bearing some fruit. From Boston to Bombay, through idioms created and perpetuated by mass media, a community is being created whose religious pantheon is dictated by that pathetic yearning for uniformity that only a nation-state can display. This is where portable religion and ‘Hindi nahi aata?’ come together as symptoms of the same disease. Sixty-six years after partition, this disease is hoping that its man from Gujarat would come to lead the nation-state.

Leave a comment

Filed under A million Gods, Bengal, Caste, Community, Displacement, Identity, Jal Jangal Zameen, Plural pasts, Religion, Urbanity

A naked sendoff / Remember Rituparno / Owning Rituparno Ghosh’s death

[ The Friday Times (Lahore), June 14-20, 2013 – Vol. XXV, No. 18 ; New Age (Dhaka), 10 June 2013 ; The NorthEast Today, July 2013 ]

The recently deceased acclaimed Bengali film-director Rituparno Ghosh (31 August 1963 – 30 May 2013) went to the same school as me, the very populous South Point High School of Kolkata. He was a couple of decades senior to me. It was at one time the largest school in Asia. My secondary standard graduation class was nearly 800 strong. One thing our school used to do very well (before it turned ‘Indian’ from ‘Bengali’ in the post  economic ‘liberalization’ era of the 90s) is that it did not inculcate ‘values’. The value of this lack of school-instilled ‘values’ has stood many alumni of the school in good stead throughout their lives. For one thing, it made unlearning easy, if one wanted to. Due to lack of values, reverence was shallow and hence irreverence was easy, if one wanted to. Rituparno Ghosh represents one of the best products of our school – more by omission than by commission. She made films primarily in my own mother-language and also lived in South Kolkata, where I am from. When media outlets all over India give front-page space to the death of a film-director whose primary film medium was not Hindi, it is important we pay more attention. There are only a few in the subcontinent who will command such widespread mourning in these times when the Bollywood = Hindia = India equation has gained serious currency. Rituparno Ghosh was one such. They don’t make ‘em like that any more. Or to put it more correctly, in an increasingly monocultural nation-state, it is getting ever harder to make them like that. Her death also made it to the front page of newspapers in the People’s Republic of Bangladesh. People in Pakistan may only be acquainted with him, if at all, through his Hindustani productions. I would invite people from Lahore, Karachi, Lyallpur and elsewhere to do what you know best how to, so that the Youtube ban in Pakistan does not stand between Rituparno and you.

She started his life as an ad-man and was tremendously successful at that. Then he ventured into film direction and, as they say, she never looked back. If one’s diet of films is limited Bollywood, it would be hard to know that Rituparno is widely regarded as one of the best film directors of the subcontinent in the post Satyajit Ray generation.  Chitrangada, Kashmakash , Mumbai Cutting (segment “Urge”) , Arekti Premer Golpo (Just Another Love Story), Abohomaan , Shob Charitro Kalponik , Khela (as Rituparno Ghosh) , The Last Lear , Dosor (The Companion , Antarmahal: Views of the Inner Chamber, Raincoat , Choker Bali: A Passion Play , Shubho Mahurat (An auspicious time), Titli (The First Monsoon Day ), Utshob ( The Festival ). Bariwali ( The Lady of the House),  Oshukh ( Malaise ),  Dahan ,Unishe April (as Rituparno Ghosh) , Hirer Angti ( The Diamond Ring) – the long list of films are a testament to the immense fecundity of the director. But it was just not about the number of films. Over the years, his films had one 12 National awards in India and also awards in film festivals of Berlin, Locarno and Chicago among many others. He also write the story and the screenplay of many of his films.

Death often creates a strange silence in a room that was laughing a moment ago. In this case, many Bengalis had been laughing to the blatantly hostile mimicry of Rituparno hosted by one Mir Afsar Ali, a comedian and anchor of sorts. In that ‘comedy’ show, there were hapless young men trying to keep a safe distance from a comedian mimicking Rituparno.  The portrayal of the queer as a predator on the hapless went by the name of mimicry. Laughter is the best medicine for diseases we wish to keep undiagnosed. Just that, now no one is laughing. This silence also matches the broad silence at what went by the name of ‘comedy’.  Honesty about the nature of our creatures would be a good tribute to Rituparno. And that involves none of the two silences.

As we talk about posthumous tributes, I remember one of Rituparno’s earlier films, Dahon. It was a story about the trials and tribulations of a woman who was molested on Kolkata’s streets. The real-life Bollywood style twist-in-the-tale came when the Chief Minister of West Bengal ‘directed’ the cheap posthumous drama of ‘owning’ the death of Rituparno. Death breeds selective memory. This Chief Minister had, only a few months ago, termed a rape on Park Street of Kolkata as a ‘staged incident’. Another MP from her party said that it was not a case of rape, but a ‘deal’ that had gone wrong. In Rituparno’s final journey, these are the people who scripted the show. When the government wanted to project sensitivity, few saw shamelessness.  No amount of fresh scented flowers can take the stench away from wreaths so rotten.

The sexual minorities in the subcontinent know better than many others how  police lathi feels inside their alimentary canal. The daily brutalization of sexual minorities is a frequent pastime for lions in khaki. Some of these lions were lined up beside Rituparno’s corpse in Kolkata. Rituparno’s on-your-face  ‘non-standard’ sexual identity, that made many squeamish, looked harmless, even absent, in death so much so that the police offered a ‘gun salute’. We were impressed.  The lathi has a spongy cuddly heart, you see.

Only the guilty is scared of nakedness. And to hide that, they gnaw at anything, even the shroud of a corpse. The guilty covers themselves in the shroud of the dead. This makes them a very peculiar kind of kafanchor – the kind that doesn’t even wait till the burial to steal the shroud in secrecy. Rather than the darkness of the night, such kafanchors like grand send-offs and flashing cameras. It offers the twin advantage of stealing the shroud from the corpse and showing it off to many others by wearing it right there. And looking very somber.  And almost comical. And yes, to laugh at that somberness would also be a tribute to Rituparno.

Such public spectacles add to the cesspool of vested interests that politics in West Bengal has become over the last 3 decades or so. Some would argue it was always so. But earlier there would be some distance. In moments of death, the leaders would become like the public and join them in remembering some worthy. Now that has become another cause to show who really runs the show. When a government cannot improve lives and deny rights of the people, spectacles over death become their forte.

Leave a comment

Filed under Army / police, Bengal, Gender, Obituary, Power

Nakbas near home – Their Palestines, Our Palestines

[ Daily News and Analysis, 28 May 2013 ; Kashmir Reader, 26 June 2013 ]

Fleeing from one’s homeland after being pushed out from there was a phenomenon that bound people across the subcontinent in 1947. It was also a time of unbinding as millions were frantically trying to prevents knots from untying – knots that had taken generations to build, knots out of which selfhoods emerged and thrived. That anxious and tragic trudge, leaving behind the land of ancestors, also happened to the west of the subcontinent, in Palestine. For Palestinians, 15 May is not ordinary day either. It remembered as Nakba Day or the ‘day of catastrophe’. More than half a million Palestinians fled their lands in the wake of the 1948 war – never to be able to return. They hold on to keys, real and symbolic, asserting their right to return to their lands, adding flesh to ‘the struggle of memory against forgetting’. The leaving behind the land of ancestors is something subcontinentals know too well.

Palestine has become a codeword for injustice to a people who had to flee their homes unwillingly. There very few large university campuses in the West where some form of Palestine solidarity activism does not exist. The present author has actually suffered some persecutions due to his involvement with such initiatives at one point. This also spills over to general activism against militarism and occupation – activist forces, however marginal, have a supportive stance on Palestine. Such support has almost become a sine qua non for being considered serious and passionate about human rights, in general.

Some years ago, I was chatting with a friend who is very passionate about Palestinian rights, their denied statehood and most importantly, their right to return to their ancestral homes in Palestine from their diasporic network, including many in refugee colonies.  He is a Bengali baidya born and brought up in the C.R.Park locality of New Delhi. The discussion turned to ancestral origins and he revealed that they were from Dhaka. I asked him, so what about your right to return? He looked perplexed. What do you mean – he asked? I said, I am guessing your East Bengali family, like most others, did not flee Dhaka voluntarily, and like Palestinians, their ancestral abode, even if razed or occupied, is as sacred to them, and most importantly, they did not have consent in the dispensation that made them refugees. And let the Rs.20000/sq.ft. property values of CR Park not make us forget the earlier name of this ‘posh’ locality – East Pakistan Displaced Persons(EPDR) Colony. Most ‘EPDP’ colonies are not ‘posh’ – especially those inhabited by people from backward castes. Such colonies, authorized and unauthorized, have been the site of state repression including large scale massacre, as in Marichjhhapi in 1979. Yes, there are differences from Palestine, but what prevents anyone from seeing the many similarities?

Palestine is not the site of the world’s largest or longest displacement. But what determines its pre-eminent position in the ‘global’ mindscape? Imperialism, that hollowed out word, also determines the pecking order of resistances, of solidarity causes, inside our heads. If the Bengali Baidya cared only about Bengal and  nothing about Palestine, that looking away from the priority list of the minority world into the majority world, would be termed ‘insular’ and ‘inward’ looking. That there is no such slur for those who don’t care about the displaced in the subcontinent is but a testimony to the skewed nature of our sensitibilities.

People who question such fundamental things as the nation-states in the subcontinent do not call for the right to return of Muslims who fled Ambala and Kolkata, or Hindus who fled and continue to flee East Bengal. What do these blind-spots reveal? What is so natural about the displacement from Ambala to Multan that it merits no call for justice and ‘right to return’? Surely, constitutional  ‘nationality’ cannot be a reason to suspend humanity and consider the myriad ‘right to return’s in our subcontinent as absurd.

There may be something else at play. It is harder to confront one’s immediate surround. We know them – the university rebel who is a docile son at home, the fire-eating caste-hating savarna who predictably marries someone else from a similar caste, and many others. Distant cause-mongering helps us to get away from these clearly disturbing mismatches between rhetoric and action, but at the same time preserves the semblance of an ethical self, even a pedestal.

One may ask, why not this and that?  But if ‘activism’ is to be taken seriously, tangible action is to be taken seriously, then there is a certain problem in having this cafeteria choice of causes.  Not all causes stand a crucial test – whether one is directly affected by the consequences of one’s actions in the furtherance of a cause. It matters.

Leave a comment

Filed under Bengal, History, Home, Identity, Memory, Nation, Pakistan, Partition, Scars

Bad moon rising / A dangerous connivance /

[ The Hindu, 6 Apr 2013 ; The Friday Times (Lahore), April 19-25, 2013 – Vol. XXV, No. 10 ; Kashmir Monitor, 25 Apr 2013 ; Himalayan Mirror (Gangtok), 12 Apr 2013 ; Himalayan Mail (Jammu), 7 Apr 2013; South Asia Citizen’s Web, 23 Apr 2013 ]

Many in West Bengal are looking to the Shahbag protests in Dhaka with a lot of hope and solidarity – as an important and necessary step that would usher in a rollback of the creeping communalism that has afflicted the People’s Republic of Bangladesh since 1975. 1971 is still fresh in the mind of many Bengalees from the West, when a massive relief and solidarity effort was under taken on that side of the border to reach out to a large mass of humanity trying to escape a situation that has been described variously – from ‘civil war’ to ‘genocide’. The then leaders of the Jamaat-e-Islami in East Bengal and its students wing organized murder and rape squads, at times in collaboration with the armed forces. The specific crimes include mass-murder, rape as a weapon of war, arson and forced conversions. They escaped prosecution due to the by generals who used them to cast an Islamic veneer of legitimacy over their illegal capture of power. They were gradually rehabilitated until the present Awami League led government came to power – whose manifesto among other things, promised the trial of war criminals. Thus started the proceedings against them in the War Crimes tribunal. The Shahbag protests have demanded maximum punishment for the guilty.

In West Bengal, a few meetings and assemblies have happened around Shahbag. However, to the shock and dismay of many, the largest of these assemblies was a massive rally held in central Kolkata’s Shahid Minar on 30th March, explicitly against the Shahbag protests and in support of the war criminals convicted by the tribunal. Various Muslim groups including the All India Milli Council, All Bengal Minority Youth Federation, West Bengal Sunnat Al Jamat Committee, Association of Protection of Civil Rights, Milli Ittehad Parishad, West Bengal Madrasa Students Union, Ashikane Rasul Committee, All India Minority Association, All Bengla Muslim Think Tank, All India Muslim Majlish E Mushawarat, Aminia Jamiat E Muttakin Committee, Ulama Parishad, Magribi Bangla Anzumane Wayejin, Bangiya Imama Parishad and All Bengal Imam Muazzin Assiciation convened the meeting. People had also arrived in buses and trucks from distant districts of West Bengal like Murshidabad and Nadia, in additional to those from the adjoining districts of North and South 24 Parganas, Haora and Hooghly, among others. Students of madrassas and the newly minted Aliah Madrassa University were conspicuous at the gathering.

They rallied because ‘Islam is in danger’ in Bangladesh. Never mind that that post-1947, that part of the world through all its forms ( East Bengal, East Pakistan, People’s Republic of Bangladesh) has seen a continuous drop in the population percentage of religious minorities, in every census since 1951.This rallying cry is not new. It was heard in 1952 when the mother language movement of was in full swing, in 1954 when the United Front led by Fazlul Haq and Maulana Bhashani challenged the Muslim League, in 1969 when the Awami League made its 6 demands and in 1971 when Bengalees fought for independence and now in the context of Shahbag in 2013 – basically during every secular movement for rights and justice. One of the main accused in the war-crimes trial, Golam Aazam (also the leader of the Jamaat in East Pakistan in 1971), had used this old trick in the hat when he has stated in 1971 “the supporters of the so-called Bangladesh Movement are the enemies of Islam, Pakistan, and Muslims”. Replace ‘Bangladesh’ with ‘Shahbag’ and ‘Pakistan’ with ‘Bangladesh’ and you have the same logic. Terming the struggle in Bangladesh to be one between Islam and Shaitan (Satan), it was announced at the meeting that they would cleanse West Bengal of those who were trying to support the present Prime-minister of Bangladesh and the war-crime trial effort. It was also threatened that those political forces that support Shahbag would ‘beaten with broom-sticks’ if they came to ask for votes from Muslims. Just like Taslima Nasreen and Salman Rushdie, Sheikh Hasina will also be kept out of Kolkata – they added. They also supported the anti-Shahbag ‘movement’ in Bangladesh. The last assertion is especially worrisome as this anti-Shahbag movement has let loose its fury on the religious minorities of Bangladesh. This has resulted in a wave of violent attacks on Hindus, Buddhists and secular individuals, with wanton burning and destruction of Hindu and Buddhist homes, businesses and places of worship. Amnesty International communiqué mentioned attacks on over 40 Hindu temples as of 6th March. The number is over 100 now and still rising.

Given the recent trends of politics in West Bengal, this large gathering and its pronouncements are not shocking. The writing has been in the wall for a while. A collapse in the Muslim vote of the Left Front is an important factor in its recent demise after more than three decades of uninterrupted rule. Various Muslim divines like Twaha Siddiqui of Furfura Sharif, have explicitly pointed that out as a point of threat to the present government. The Trinamool Congress wants to ensure a continued slice of this vote. The present government has tried to hand out sops to build a class of Muslim ‘community leaders’ who eat of its hand by its unprecedented move to giving monthly stipends to imams and muezzins. Very recently, it has been decided that such a cash scheme might be worked out for Muslim widows too. Given that it is beyond the ability of the debt-ridden, vision-poor government to solve the problems that are common to the poor, it has cynically chosen to woo a section of the marginalized on the basis of religion using handouts. These are excellent as speech-making points masquerading as empathy and social justice. This is dangerous politics to say the least. It sets into motion currents and gives fillip to forces whose trajectories are beyond the control of the present political groups. The Left Front’s political fortune has not improved after its humiliating defeat. It has cynically chosen not too oppose this communal turn to West Bengal’s politics, for it too, believes that silently waiting for the incumbent to falter is a better roadmap to power. The damage that is doing to the political culture of the state in immense and may well be irreparable. The incumbent’s connivance and the opposition’s silence are largely due to decades of erosion in the culture of democratic political contestation through grassroots organizing. Both the incumbent and the oppostition parties deal with West Bengal’s sizeable minority population primarily via intermediaries, often doing away with any pretense of political ideology while indulging in such transactions.

For their part, organizations owing allegiance to a particular brand of political Islam ala Moududi, have used this disconnect to the hilt. An emerging bloc of divines and ex-student leaders of certain organizations have used the students that they can amass at short notice to launch specific protests, aimed in getting a leverage in terms of policy. Sadly, this blackmailing is hardly aimed at uplifting the living standards of West Bengal Muslims in this world. Rather, its string of victories started with successfully driving out the famous persecuted humanist writer Taslima Nasreen during the Left Front regime. The most recent example was the governmental pressure that was exerted on their direction to keep Salman Rushdie out of a proposed event in Kolkata, after he successfully did such events in Bangalore, New Delhi and Mumbai. This slowly pushing of the envelope fits into a sequence of events that are increasingly stifling the freedom of expression. At the same time, its double-standards are explicit. On March 21st, a medium-sized group consisting of little-magazine publishers, human rights workers, theatre artists, womens’ organizations and peace activists had announced that they would march in solidarity with the Shahbag protests and express their support to the Bangladesh government’s war crimes trial initiative by marching to the deputy high-commission of Bangladesh. Even after prior intimation, the rally was not allowed to move by the police due to ‘orders’ and some of the marchers were detained. The same police provided security cover to pro-Jamaat-e-Islami organizations as they conducted a rally submitted a month earlier and again later when they submitted a memorandum to the same deputy high commission demanding acquittal of convicted war criminals. Last year, it issued a circular to public libraries to stock a sectarian daily even before its first issue had been published! The role of the state is explicit in these actions – it possibly thinks that it can play this game of brinksmanship with finesse. The flight of cultural capital from the self-styled cultural capital of India is but a natural corollary of such unholy alliances with the political class playing tactical spectators and tactical facilitators to apologists for one the largest mass-murders in the last century .

The recent bye-election to Jangipur, a Muslim majority constituency carried certain signals. Prompted by the elevation of Mr.Mukherjee to Presidency, this election saw the combined vote of the 2 main parties fall from 95% in 2009 to 78% in 2012. The major beneficiaries were the Welfare Party of India, a thinly veiled front organization of the Jamaat-e-Islami Hind and the Social Democratic Party of India, an even more radical group of a similar ilk. Such groups are armed with a programme of ‘tactical pluralism’, quite akin to the tactical defence of Taslima’s freedom of speech by majoritarian communal political forces in the Indian union. The rallying against Shahbag has blown the cover of faux pluralism. There was another significant beneficiary and predictable in the same election, the BJP. Communal tension has been on the rise in recent years – there has been serious disturbance by West Bengal standards in Deganga and Noliakhali. The majoritarian forces smell a subterranean polarization of the polity. Mouthing banalities about Bengal’s ‘intrinsically’ plural culture is quite useless – culture is a living entity, that is always in flux, created and recreated every moment. It is being recreated by the victimization discourse by fringe groups like Hindu Samhati. It is being recreated in certain religious congregations in parts of West Bengal of Aila where unalloyed poison produced by divines like Tarek Monawar Hossain from Bangladesh is played on loud-speakers. Thanks to technology, such vitriol produced in a milieu of free-style majoritarian muscle flexing in Bangladesh easily finds its way to a place where the demographic realities are different. Hence the popularity and consequent defence of one of the convicted war criminals, Delwar Hossain Sayedee, who in his post-71 avatar had become something of a superstar in the Bengali waz-mahfil (Islamic religious discourse congregation) circuit. What are the effects of the subterranean cultural exchange of this kind? The rally is a partial clue. A defence of Sayedee and claiming him to be innocent, as was repeatedly done in that rally, is like perpetrating Holocaust-denialism.

Just a day after the anti-Shahbag rally in Kolkata, almost as a divine reminder of starker realities beyond the defense of Islam, nearly 45 lakh unemployed youth, Hindus and Muslims, sat for the appointment as primary school teachers recruitment examination for 35000 empty posts. Roughly 1 in 128 will succeed. There is no employment exchange worth its name, including the ‘minority’ employment exchange set up by the incumbents, which would absorb the unsuccessful 44 lakh. West Bengal is one of the few states that have petitioned for a relaxation of the minimum qualifications for primary school teachers in the Sarva Shiksha Abhijan scheme, as stated in the Right of Children to Free and Compulsory Education Act of 2009. There is a rot at the base with every community affected. It has been long in the making. The promotion of religious education is hardly the way to empowerment and livelihood generation for minorities, especially in a state where they have been grossly under-represented in the all white-collar services. There are no short cut solutions to this.

Majority and minority communalism in West Bengal, though not generally overt, can be found easily by scratching the surface. A combination of circumstances can awaken it. Will more such circumstances arise, or will more responsible politics prevent a potential communal unraveling of West Bengal? Bengal’s past experience with communal politics is distinctly bitter, both in the west and the east.  The west lives with half-sleeping demons. In the east, the demons never really slept, and have been in and out of power.

 

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Community, Democracy, Dhaka, History, Identity, Kolkata, Language, Pakistan, Polity, Religion, Scars

Spokespersons of darker people – a response to Vijay Prashad’s Bengal’s Slide into Fascism

[ Frontier, 13 Apr 2013; The Northeast Today, May 2013]

There is a certain way in which certain spokes-people sell ‘movements’ happening in the third world to primarily white audiences in the first world. They act as non-partisan but ideological warriors. Curiously those representing this strand from India include many from the CPI(M), the foremost among them being Vijay Prashad. A recent article by Vijay Prashad in the widely read Counterpunch is a case in point where he paints an alarming scenario about the recent happenings in West Bengal – especially with reference to the death in police custody of Sudipto Gupta, a student activist of the SFI.

Much of what is being said about the incident is true, but, to the white readers in the first world, where English language ability becomes an important point of legitimacy of viewpoint, will hardly know that this is not unprecedented and that almost all of these crimes have been previously committed by the erstwhile CPI(M) government led by the party, They will also not know that such authors also support the same CPI(M).

The article in question can be found here ( http://www.counterpunch.org/2013/04/10/bengals-slide-into-fascism/)

1.Such propaganda materials do not state that the student organization of the CPI(M), when it was in power in West Bengal, systematically decimated other organizations, mostly through organized violence or threat thereof. These readers will also not know that during the CPI(M) regime, student union elections with non-SFI candidates happened in only a minority of college of Bengal -as in most colleges, SFI did not let others even submit nomination papers for candidature.

2.While they will wax eloquent on the danger of ‘neo-liberal reforms’ in education, they will not state that the ‘neo-liberal reforms’ like privatization and auctioning of college-seats to highest bidders were started by the erstwhile govt. to which the ‘main’ one owes allegiance to – and never confronted the government on the streets like it is doing now.

3.It will also not say that fees were raised many times during the  CPI(M) government – and that SFI did not take to the streets in protest.

4.The piece does not go into the details of “tendency to yoke education to careers and to measure learning with fealty to rules developed in the North Atlantic” – since a laying out of this would show that the past and present government were not qualitatively different in this respect.

5. That police lines have advanced hundreds of times with unpleasant and bloody motives on opposition student groups during the erstwhile regime, bloodying them and there was no ‘slide into fascism’ article written then by the author.

6.The arresting of hundreds of students and throwing them into buses to transport to jail, a vivid picture that would rouse a Westerner, is also something that the erstwhile government perfected and routinely practiced on opposition student activists.

7.Unless one probes deeper, the reader will not know that Sudipto Gupta was the latest in a string of students killed by police violence – a student protesting forcible takeover of land from peasants for a car factory was killed by police beating in Singur. There was no slide into ‘fascism’ when that happened. None of the 4 ‘left’ student organizations mentioned protested that killing. Shamefully, the present Chief Minister termed Sudipto’s death an accident. More shamefully, there are no words on record on the Singur death from the erstwhile Chief Minister Buddhadeb Bhattacharyya.

8.One should not forget that there has never been a public apology on any case of custodial death of opposition activists by the police during the CPI(M) rule. Trinamul is simply continuing that shameful tradition. Between 2001 and 2010, there have been 98 government documented cases of death in police custody due to torture during the CPM rule. This data is from the National Human Rights Commission, compiled by the Asian Centre of Human Rights led by Mr.Suhas Chakma. This is a fraction of the dead and a fraction of the CPM rule.

9.Sudipto Gupta is the 93rd ‘left front’ cadre killed in recent years, but the sordid ‘score’ is not 93-0. The lack of the other number is intellectual dishonesty. Scores of opposition members have been killed during the CPM regime. Even the erstwhile CPI(M) government did not only target the right-wing opposition but also communist activists from other parties and groups.

10.In the article, Vijay Prashad refers to a ‘temple’ dedicated to the present Chief Minister and presents a picture as proof. The Bangla words sadly dont say ‘temple’ – they simply say Alipur Trinamul Youth Congress office. By that same definition, Bengal is full of ‘temples’ to Lenin, Stalin and many others. No doubt the present Chief Minister is the singular face and command of the governing party, and she also has authoritarian tendencies, but to call that a ‘temple’ is pulling a fast one.

11.The article states ‘ any state inquiry would be compromised by the culture of impunity that has begun to enfold the state’ – what he does not say is that this culture of impunity is a legacy of the last government. How many killers of opposition activists were punished during the last regime? The article does not venture there. Impunity existed and continues to exist. The novelty is not the alarming bit, the continuity is. The piece , however, knows the value of using continuity to its favor, when it remembers acts by the present CM, similar to the one meted out to her in New Delhi. Just that there is a blind -spot and an empty time of 33 years, when all of this analysis does not seem to apply.The number of opposition party offices that had been destroyed and ransacked during the erstwhile regime somehow does not figure.

12.The piece correctly alarms how offices of party-affiliated women’s organizations were attacked. The same author in a different piece in the same publication, tried very hard to absolve party activists who committed the gruesome rape, burning and murder of Tapasi Malik, a fiery young activist who was fighting against forcible acquisition of land by the party-government that the author supported. The author insinuated that her father was involved in the killing. Later CPM party activists and functionaries were arrested.There was no follow-up from the author.

Read both the original piece http://www.counterpunch.org/2007/05/23/the-political-economy-of-a-crisis/ and its counterhttp://sanhati.com/news/307/ )

13.The piece states that the media will not let this be seen in context. True. So won’t the author. That missing context is the past record. Using the evocative imagery of the Kristallnacht may be smart for communicating the ‘gravity’ to Northern world sympathizers, but that’s just about it, especially in the context that this is not the first Kristallnacht, just the latest.

Bengal’s slide into fascism did not start with the present government, and with the past record of the present opposition, may not end with it, unless honesty and repentance of past-crimes becomes an integral part of political praxis of the opposition, including the CPM. Pointing out these out will bring obvious charges of being an apologist to the present government. In the meantime, poorer nations are stuck with self-appointed spokespersons with huge blind-spots. This was not an exercise in exposing an apologist of the CPI(M). It is also to make the point that honest reporting requires full truth-telling. Partial truths discredit everyone else who is fighting for justice.

Leave a comment

Filed under Bengal, Democracy, Power, Terror

Clothing the sacred in the vain / The race to Riyadh / Religious imperialism at the heart of a plural society

[ Daily News and Analysis, 10 Apr 2013; Millenium Post, 11 Apr 2013; Echo of India, 14 Apr 2013 ]

In the amazing race to match cities like Riyadh and Kabul, famous for free-thinking, art and culture, Mumbai stole a march on Kolkata by threatening Maqbul Fida Hussain and disrupting the exhibition of his paintings of goddess Durga and Saraswati. Not to be culturally outdone, the so-called ‘cultural capital’ struck back by expelling Tasleema Nasreen, giving in to the threats by some angry Muslims. In a classic ‘one-two combo’, Kolkata followed up this act by successfully keeping Salman Rushdie out of its limits. Mumbai had actually hosted him – it had fallen back in the race. But recently it roared back in the race by despatching its best sons of the Hindu Janjagruti Samiti to the Jehangir Art Gallery to remove paintings of goddess Kali by Kolkata-based painter Eleena Banik. Game on.

But this is a dangerous game. For people of faith, it is important that gods and goddesses be taken back from the loudest and the most threatening. Rather it should be asked that in a plural society, how is anyone able to violently attack, threaten, issue death-threats and shut down other voices. The plurality of divine forms in the subcontinent does not originate from scriptures and strictures, but from the agency of humans, however negligible in number, to be able to own, disown, partially own and partially disown the divine. No definition of how gods and goddesses ought to be or ought not to be can be enforced by force in a civilized society. If a group thinks that they are the thikadars of divine beings, I feel it is important to remind them that I did not appoint them to such a post, as far as my gods and goddesses are concerned.

The Hindu Janjagruti Samiti’s targetting of mother goddess Kali has forced me to respond, especially because I am from a Bengali Shakto ( followers of the divine mother) family. Our ancestral worship of the divine mother goes back at least four hundred years. We take our Kali seriously. Till now, Bengali Shaktos have not had the need to look to any Hindus from Mumbai or elsewhere for its ‘jagruti’. We have been worshipping mother Kali before Mumbai got its first temple for Mumbadevi.

The saffron neophytes who forced Eleena to take down her paintings of goddess Kali did not approve of the fact that she had painted her without the garland of skulls. Her breasts were visible, because she has them. The mother goddess does not wear garlands to cover her breasts from the scandalized. She is both maternal and sexual. And if your like your goddess to have lesser qualities than my mother goddess, that is your problem. If you feel ashamed of my naked holy mother, thats your problem, not mine. Keep your shame to yourself. Dont come draping my mother with your cloth. Your mother may like being told by their devotee-sons what to wear. My holy mother has a divine mind of her own.

People have conceived goddess Kali variously in different times, in different places. For someone to dictate how my conception of the goddess ‘should’ look like is religious imperialism. While a monolithic Indian Union nation-state helps such pan-subcontinental ‘standards’ to gain wider currency, the goddess is older than the constitution. Those who take their definitions of shame from the sensibilities of the Victorian British have long been ill at ease with the naked glory of goddess Kali. They have tried to make make the garland an essential accessory, have made the garland-heads bigger, have made the goddess always have her hair in front of the shoulder spread out on her body – essentially every cheap trick in the book to cover her breasts. Breasts are sexually desirable. Breasts are also symbols of motherly love. If you have a problem with a sexually active, breast-feeding mother goddess, try a ‘nirgun’ god. Don’t come draping my goddess.

Sometimes we do not realize how recent some of our imaginations of gods and goddesses are. For example, many consider the blouse of the goddess to be a ‘sanatan’ item of clothing – just that it was virtually unknown in the subcontinent in that peculiar form before Empress Victoria’s reign. My holy mother is older than that. Maqbul Fida Hussain, that sterling admirer of goddess Durga, had liberated her form from the patently mid-19th century blouse clad look, re-imagining her in naked matriarchal glory. You expect me to give up my holy mother’s timeless antiquity for your second-rate desi version of imported Victorian sensibility?

By way of distortion of an oft-half quoted line by Karl Marx, one can say that in a plural society, religions have to be defended from becoming the tool of bigoted creatures, the face of a heartless worldview, the mechanical output of scripture-reading zombies. It has to be defended from becoming the enemy of a plural society. So-called ‘distortion’ is the long-term life-blood of plural, democratic societies. Joy Ma Kali.

Leave a comment

Filed under A million Gods, Bengal, Culture, Eros, Faith, Gender, Plural pasts, Religion, Sex

Bihar’s just demands / Haq se maango

[ Daily News and Analysis, 2 Apr 2013 ; The Shillong Times, 6 Apr 2013; Millenium Post, 6 Apr 2013]

The recent induction of Narendra Modi to the to the parliamentary board of the Bharariya Janata Party (BJP), added one more chapter to the cold war between Janata Dal (United) and its no-as-secular ally. The BJP has been slowly pushing the envelope and this NDA partner is has been resisiting. When a chief minister of a opposition ruled state makes a visit to the New Delhi Durbar to meet Manmohan Singh, there is reason enough to follow it. When that chief minister in question is Bihar’s Nitish Kumar, one must sit up and take notice. This swift forward move from the backward state’s satrap is partly designed to polish Nitish’s ‘figher for Bihar’ image. Additionally, this also gives a clear signal to its supposed ally in Bihar, the BJP, that his party is not averse to two-timing. The ball is in the BJP’s court as this puts pressure on it to anoint a prime-ministerial candidate agreeable to Nitish’s party, Janata Dal (United). The BJP secretly wishes that New Delhi does not ahead and grant a substantial special package or the coveted ‘backward’ status to Bihar. Any such move from New Delhi will constrict the options in front of the BJP even more. It then has to match the Indira Congress bribe or play distant. The matching bribe may come in the form of a more Nitish-friendly prime-ministerial candidate for the NDA. Additionally, Nitish may simply call any grant from New Delhi inadequate and derive some kind of understanding from the BJP in that front if NDA comes to power. In short, Nitish’s Bihar can have its cake and eat it too. Nitish has played a masterstroke.

Sometimes such politicking overshadows genuine and substantive issues at hand. Case in point is the whole issue of ‘backward’ status or special financial package for Bihar. Bihar is one of the ‘sick’ or BIMARU states of the Union whose mineral wealth has been actively mined for a very long time. The clues to its special, but not unique, situation are to be found in the enthusiasm with which ruling party leaders from two other states – Orissa and West Bengal, have come out in support of Bihar’s plea and have added their own name to the queue.

To many, this might be appear to be an opportunistic gang-up moment to extract as much as one can from a fragile government with thinning numbers in the Lok Sabha and unsure of the reception at the hustings next time. And that is exactly correct. But what is forgotten in this age of short policy memory is that New Delhi shares a major part of blame for the pathetic industrial scenario in these states for decades – not as an innocent bystander but by active policy. The mineral rich states of Orissa, erstwhile Bihar (with Jharkhand) and West Bengal have been devastated for decades by the freight equalization policy of the centre. By this policy, the central governmental would subsidize the transportation cost of minerals from mining zones to anywhere else in the Union. Basic ideas of efficiency and cost considerations were thrown to the wind as the centre decided to create an artificial system by which production factories could now be uncoupled from the mines themselves. The locational and natural advantages of these states were neutralized by subsidizing their deindustrialization. This process went on for 4 decades, from 1952 to 1993. In addition to other factors, the present industrial map of India is based on the policy driven destruction of the competitive advantage of the mineral-rich states.

These eastern-states are textbook cases of what devastation centralist policywallahs can do in a pseudo-federal polity. The begging bowls in the hands of these states are not accidental, as these states have never received any reparation for this punitive central policy. That is long due. If the centre is too broke to give reparations, then a genuine federal solution must be found where states would control mineral revenues found under their soil. It is absurd that coal-producing states often pay more to the centre than non coal-producing states to buy their own coal. Revisiting the central, state and concurrent lists are the need of the hour. There is a limit to New Delhi keeping states at tenterhooks by dangling the carrot of central grants. Local control of revenue will blow the cover of this false sense of importance.

Leave a comment

Filed under Bengal, Delhi Durbar, Federalism, India, Nation

Chavez – a subcontinental remembrance

[ Daily News and Analysis, 7 Mar 2013 ; Kashmir Reader, 11 Mar 2013]

I never met the just-deceased leader of the neo-Bolivarian movement of Venezuela, Hugo Chavez, in person. However, living in this subcontinent, somewhat fortuitously, I have seen him in various forms. What does his death mean to the subcontinent? Did he mean anything to us when he was alive? I have a couple of personal snapshots to offer. It can be considered a tribute.

When I say that I have never met Hugo Chavez, it is only half true. I had seen him up on the stage at a mass-rally in Kolkata in 2005. At that point, I was in Medical College, Kolkata and a member of an independent students association, which was regularly threatened and sometimes physically beaten by members of the ‘Party’s’ student wing. Rakesh, a class-mate of mine and now a humanitarian doctor at the Shramajibi Hospital in the Sundarbans, and I saw the posters in the city that the ‘Party’ was organizing a mass rally at the Lake Stadium and Chavez would speak. At that time, the coup that had briefly deposed him and his valiant and popular return had gained wide currency in our minds. We did not have too much access to the Internet and online videos never smoothly streamed anyways. But what we had seen and heard, from here and there, had made us realize that this would be an opportunity of a lifetime. A ‘red’ leader whose action, mannerism and style was in such contrast to the Dodos that walked about in Kolkata neighbourhoods back then – this was reason enough for us to go to his rally that evening.

I must confess that we were rather scared. Rakesh had been repeatedly threatened and assaulted by the ‘Party’ and I was a known face too. And here we were, among thousands of the Party faithful. We hoped nobody recognized us – realistically the chances were slim. Half-jokingly, half-nervously, I whispered to Rakesh that in this 10000 (or more) versus 2 scenario, we could be vanished without trace.

The event was nominally organized the government. But the ‘Party’s top brass was in full attendance – some on stage and some very near it. Events like these were a strange version of universalism that only Kolkata used to experience. Once, the city was also treated to an event where Che Guevara’s daughter had come visiting. Around the time of these events, the public posturing of the ‘Party’ and the tone of the columns in the ‘Party’ daily used to be such as if the dhoti-clad were very uncomfortable in their air-conditioned offices, and were itching to hit the trenches. The last installment of this periodic farce was when Maradona came to Kolkata.

And then Chavez spoke. There was an interpreter who translated his Spanish to Bangla realtime. That poor soul drew angry jeers from the ‘Party’ faithful when he said ‘Karlos Markos’ – a name Hugo Chavez had just mentioned in that form. And I perked my ears up. Over the cacophony of the mujahideen disgusted at the Holy Name being taken in a non-divine Spanish ( and not divine English, but not German, mind you), a different Hugo emerged to us. The person on stage had been engaging with Karl Marx, on his own terms, with a confidence that comes from being deeply embedded in one’s cultural ethos. Rakesh and I were won.

There were layers upon layers of irony that evening. In the Panchayat Elections held less than two years earlier, as many as 5030 Gram Panchayat seats were won ‘unopposed’ by the same party that was hosting the character who had unleashed the most democratic regime that part of the world had seen in recent times – even facing a recall election. At some point in his speech, Chavez mentioned Gandhi (I don’t remember whether it was the Father or the Mother). The crowd fell silent – evidently, Hugo had not been briefed about the time and place. Rakesh and I, dirty-minded as we were, deliberately chose to clap hard at that moment, amongst angry looks of people around us. Looking back, I feel, that bit of bravado was not worth the potential risk.

When he left the stadium, he stuck out his torso the car-window, waving spiritedly. For a moment, he waved directly at us, or so I thought. A day later, there was a picture of him in the ‘Party’ daily from one of the ‘agricultural progress’ tours they must have organized. He smilingly held a giant-sized pumpkin on top of his head – with the dhoti-wallas around him not sure how to react. That moment, from the unlikely vantage of a still-photo in a Party daily, he spoke directly to irreverents like us. Such was Hugo.

And then, 8 years later, I saw ‘Hugo’ again, in Shahbag, Dhaka. He was about 25, wore a similar beret cap, and was leading the sloganeering. I saw a few others in Shahbag, sporting the ‘Hugo’ look. Surely Hugo was more alive in the East, beyond the clutches of the dodos of the West.

On Hugo’s death, my friend Aiyan Bhutta of Lahore, improvised an old Pakistan People’s Party slogan that had originally been coined after the hanging of Zulfikar Ali Bhutto. ‘Har ghar se Hugo nikleyga tum kitnay Hugo maaro gai’. ( From every home a Hugo will emerge, how many Hugo’s will you kill?). I remembered the 25-year old Bengali at Shahbag. Indeed. Tum kitnay Hugo maaro gai. Har ghar se Hugo nikleyga.

Leave a comment

Filed under Americas, Bengal, Democracy, Kolkata, Obituary, Power

Shahbag: A story of two hangings; differences in their dynamics / Shahbag live from Dhaka / Shahbag Live

[ Daily News and Analysis, 23 Feb 2013 ; Millenium Post, 21 Feb 2013 ]

It is indeed unfortunate that the name Shahbag will not evoke much response from the Indian pretenders to ‘global citizenship’. They may have heard of Tahrir Square and in their amateur glee, may have done the absurd comparison of an antic or two in Delhi and Mumbai to it. Dhaka is the city many Indians believe that ‘they’ liberated in 1971. In fact, the liberation war has not ended. It is still ongoing at Shahbag. Shahbag is one of the main street intersections of Dhaka where the events taking place as I write may have historic consequences.

Take the road that leads from Dhanmondi, Dhaka towards Nilkhet. Turn left at Science Lab and keep on walking. If you hear passionate slogans from the young and old shaking the ground beneath your feet, you have reached Shahbag. After the 1971 Liberation war of Bangladesh, the governments of the states of India, Pakistan and Bangladesh reached a tripartite agreement. One of the despicable results of this was the granting of clemency to some of the worst perpetrators of crimes against humanity in the last millennium. The few Bengali collaborators of the Pakistani occupation forces indulged in mass-murders and rapes that have few parallels in recent memory. They have never faced the judicial process, until now. The International War Crimes tribunal in Bangladesh has been pursuing some of the biggest leaders of the Jamaat-e-Islami, Razakar, Al-Shams and Al-Badr militia – a process that has stupendous public support in that nation. One of the most hated of these characters, Kader Mollah, has been handed a life sentence and not a death sentence. This resulted in a protest assembly started by a bloggers and online activist network that was quickly joined by progressive and left-wing student organizations. The result has been an unprecedented mass assembly that has been going on continuously since February 5 with people from all walks of life joining in. People are singing, making new slogans, giving new life to old slogans which had been made into lifeless clichés, drawing giant murals on the streetside, doing multiple street theatre performances at the same time in different locations of that busy urban intersection and what not. Having been witness to the Anna protests in Delhi last summer, all I can say is that if that was warm Jacuzzi or a stove-flame (depending on your perspective), Shahbag is a veritable volcano. It was briefly called off after February 21 only to start again a day later.

As I stand in Shahbag, soaking in this immense human energy, I cannot help compare this to another such urban assembly I was recently witness to, where too, calls for hanging (something I am personally opposed to, under any circumstance) were the primary chant. These were the India Gate protests after the Delhi rape and murder case. At India Gate, Kavita Krishnan and others tried their best to inject sanity into the folks demands for death and castration. There the political was trying to reason with the expressly ‘apolitical’. Here in Shahbag, from the very outset, it was very political. However, it was not partisan. The difference showed. In Shahbag, the politicized students and youth mood that bordered on uber-nationalism was blood-lust was interrogated, at the square itself, by mass chants, that challenged simplistic understandings of nation, nationalism and revenge. The slogan ‘Tumi ke, ami ke, Bangali, Bangali’ (Who are you, who am I? Bengali, Bengali) was often changed to ‘Chakma, Marma, Bangali’ to include other ethnicities in the state of Bangladesh. The former 2 ethnic groups were involved in a long armed insurrection with the government. This is not easy, especially in a nation-state formed primarily on the basis of an exclusivist ethno-linguistic nationalism. Imagine saying the K-word or the N-word as different from ‘Indian’ in the Delhi chants. But Dhaka could, and they could precisely because Shahbag is political. The media covers Shahbag, it does not dictate it. It does not repeat the world ‘apolitical’ like a ghost-busting mantra as those in Delhi studios did as soon as the ‘Damini’ protests started. In Shahbag, it was demanded that whole organizations that were involved in rapes and murders be banned. In the Indian Union, can we even dare to name the organizations and agencies to which the highest numbers of alleged rapists are affiliated? The amateur flash-in-the-pan nature of Delhi protests showed when it was all but broken but a Lathi-charge. The brutal murder of one of the organizers of the Shahbag protests, blogger Rajeeb Haidar, only strengthened the resolve of the square. In Shahbag, the government is trying hard to appropriate the movement for justice. At the India Gate, the Delhi Police meted out instant justice of another kind. Shahbag is also a call for a different political direction – the youth wanting to resolve issues that happened before their birth. This bursts the myth that today’s young only react when things affect them directly. The hip metro youth of India, are still sadly, in a state of political infancy in this regard.

I stood mesmerized by the slogan-chanting figure of Bangladesh Chhatro Union’s Lucky Akhtar, who has now been nicknamed ‘slogankanya’ by Shahbag itself. Lucky has been hospitalized multiple times, once after being pushed by the ruling party operatives keen to take the stage. Whenever Lucky led the sloganeering, it was hard to separate the aesthetic from the political. And why should one? In this assembly for justice against crimes that also includes innumerable rapes, there were thousands who were there not as somebody’s mother, daughter or sister, but as politically inspired women. And it matters. And that showed.

Leave a comment

Filed under Bengal, Change, Democracy, Dhaka, History, Religion, Scars, Terror

Floating in the Durbar / Floats in the Delhi Durbar

[ The Friday Times , February 22-28, 2013 – Vol. XXV, No. 02 ]

Sometime last month, it was the 26th of January in the Indian Union. It was January 26th at many other places but the date has a special significance for the Union of India nation-state. And Delhi has a special significance for the Union of India. I was, in fact, in Delhi that day. Not in that ‘New’ Delhi – built on the land ‘cleared’ by displacing numerous villages, villages that had been there for centuries. Some descendants are still fighting for compensation for the land where present day Lutyens and Baker designed palaces stand. I am told that in some of these palaces, there are crisp-khadi-wearing sages who are busy determining compensation amounts for village-destructions and community-annihilations that are being planned right now. Some say, in the subcontinent, the notion of time is not linear but cyclical. I have an odd feeling that it is more like a downward spiral. By mistake, one may think it is an upward spiral, especially if one just sees a snapshot without a past. For every displaced village there is a trendy and hip urban ‘village’ in Delhi. For the hip, it is a world ‘pregnant’ with opportunities – some bellies need to be torn apart in the process, that’s all.

Since the day is a state holiday in the territory of the Indian Union, I will write and ramble. It’s a chhutti after all. So, I was in Delhi on the 26th. There is this splendid kababi on the road through the Delhi gate of Shahjahanabad. They call themselves Captain’s Kabab and claim to be more than a century old. They earlier had a signboard called Tundey Kabab. That had a different establishment date – again more than a century old. The signboards are very new. They haven’t even thrown away the Tunday Kabab signboard – the date discord is for all to see. But more importantly, the Kabab is there for all to taste. And it is sterling. The powers to be had fenced off the whole stretch of this road till the Red Fort and beyond. This made things hard for me as I had to walk quite a bit to simply reach the opposite side of the street where the Kabab shop is. This went on for a few days to the run up to the 26th. I had been in the same area, in a similar fix around August, the 15th. But then that occasion had brought cheer to my life. Ostensibly to portray that the Union’s diversity goes beyond humans, different kinds of animals are brought to parade on this day, on top of which men sit wearing gaudy military uniforms, ready to defend me. Some of these four-legged beasts used to rest in front of my hotel, taking a break from their patriotic duty. I had seen the mouth of a camel up close and had marveled at the size of its teeth.

For some reason, the morning sun of the 26th of January in Shahjahanabad reminded me of an anecdote that a gender studies scholar had once related to me. She grew up in Allahabad, no less – the city that housed the Nehrus’ and the city which saw its first motor car quite early – also of the Nehrus’. So there was this custom of standing up, with a spine as much erect as one can, when the Indian Union’s ‘national anthem’ is played. This ranked high among the set of ‘values’ to be inculcated in the young and the impressionable. So one day, when she and her sister was near about their father and his friend at a local tea shop, they all heard the ‘national anthem’ – Rabindranath’s words overworked to death for reasons of state. The father and his friend kept on drinking their tea, seated as before. Fresh with patriotic righteousness in such matters, the sisters castigated the elders, making them somewhat squeamish. After high school, she went to university and there she was starting to learn that there are many other in the world beyond the tricolour. But certain old habits die-hard. One day as she lay supine in her hostel bed, the radio decided to dish out Rabindranath’s co-opted verses. Her former tricolour self and her present multi-coloured self reflexively reached an instantaneous compromise – she continued laying on her back but stiffened her spine, stretched the fingers of her feet as much as she could. She lay ‘in attention’. Strange are the ways in which the tricolour evokes an erection. But I digress.

Whether I understood Gandhi wrong or the state read him wrong is an open question but a big attraction of the 26th in this Republic of self-proclaimed non-violence is the parading of its latest guns, tanks and missiles with concomitant cheering by its naturally, culturally, historically and physiologically non-violent Delhi citizenry. After the display of arms and ammunitions have soothed the anxious hearts of the non-violent people, gaudy floats or tableaux from various provinces and some central government agencies capture the road in front of the Red Fort. Lest someone may think that this kind of ‘diversity on display’ is inspired by the similarly annual spectacles organized by Stalin in Red Square (Square, Fort – what does it matter?), one simply has to look into the past of the eternal Republic. Not ‘Vedic  past’ but ‘Durbar past’. During the British rule over the subcontinent, Delhi was, for a few occasions, the venue of a spectacular and costly farce called the Durbar – a symbolic act of collective obeisance to the janaganabhagyavidhata of the time. The armies of the British crown (which continued uninterrupted under the Congressite crown) and the diversity of the spine-less native princes’ procession in front of the King-Emperor or his Viceroy for long provided the template from which today’s spectacle grew. The continuity is telling in more ways than one. A major project of post-partition history and civics in the Indian Union has been to manufacture a discontinuity. It is increasingly successful. Eternal republics have endless resources for such projects.

I was woken up early by the processions and I joined others to watch the annual Republican ritual. My peculiar location helped me get the view for the show that was otherwise ticketed. Lack of sleep does not suit me well. Last night’s food was making its presence felt. Standing by the march-past, I farted. Thankfully, there were lots of patriotic noises to drown me. I made a mental note to myself – radish, cabbage and Bengal grams, within 12 hours of consumption, are incompatible with patriotism. A man learns something every day.

I stood on the street-side as the floats passed one by one. Given my dirty mind, I could not help notice a little piece of ‘heaven’ floating as a float on this earth, right here in Delhi. Oh, the joy! On that float, there were people looking happy. They were looking happy continuously, a rare feat for even the happiest on this earth. They were happy up until the float finished its course. I do not know whether they continued to be happy ever after – those characters on the float. Some party-pooping voice in my head whispered that on this day, there were more people on this float in Delhi than there was on the streets of the capital of the province that this float is supposed to represent. The eternal Republic did not deny the whisper, its ‘independent’ media did not confirm it either. Cutting through the fog of unconfirmed discomforts, a little piece of heaven floated alongside the Red Fort. The atmosphere was gay and many a brown cheeks wore tricolour paint. Such was the glory of that splendid January morning.

One by one came floats from many areas – the affected mirth of one trying to vanquish the affected mirth of the one in front of it. This reminded me of Soviet show-farms but only better. They only managed affected mirth. The republic has managed to introduce the unique spectacle of competitive affected mirth. No kidding.

Then came the tableau of ‘Paschim Bangaal’, written in Devanagari, no less. Thankfully, this one did not have any affected mirth as it was decorated with statues of confirmed dead but famous people and one Subhash Chandra Bose. But that’s not the point. What is this ‘Paschim Bangaal’? Ostensibly, it has something to do with the western half of Bengal after its second partition in 1947. ‘Paschim Bangaal’ is not what a stupendous majority of the people living in that land calls it. The script in which that was written is understood by very few in that land. But to be ‘represented’ and made intelligible (to whom?), Delhi seems to have specific ways to caricature our names, a process to which we have to necessarily submit. The Hindi-Hindu republic is free to call anyone in whatever way it deems fit, and by dint of an ideological veneer lubricated with cold cash, this ‘way’ has now been normalized in the minds of many. Such is the insidious nature of a centralizing uni-lingual nation-state. When Bengalis pronounce other people’s names in their way, it is termed ignorance. When they stick to pronouncing names in their own ways, after being reminded of the correct way, it is termed obstinacy and parochialism. When the Hindi-Hindu mandarins do the same, it becomes a standard, a benchmark – to be emulated and propagated. All peoples have their own ways of making sense of others, except the hegemon who has a unilateral right to not only caricature others but also make sure that such caricatures enjoy the status of ‘official’ and ‘approved’ portrayals. The ideology runs deep. The Tamils or the Bengalees can be caricatured for their dress and pronunciation, but there is no fiddling with the Hindu-Hindi. The core is never caricatured. Or rather, what is not caricatured is a hint to what is the core. It is the sovereign and as Miss Roy points out, sovereign is the one that alone can decide on exceptions. It sits in the Red Fort, it sits in our school syllabi, it sits inside the heads of the subject peoples. To make a core-periphery distinction is unpalatable to some. Some from the periphery are complicit in this show – following to the minutest detail the correct and ‘standard’ way to bend over backwards, how to prostrate at the right moments, so as to have the privilege to strut in front of power.

The core is most comfortable, no doubt, in Delhi, where it all began. After all, what better place to institutionalize inequity and marginalization of ‘misfits’ than a new ‘city’ whose founding is based on the total uprooting of whole rooted communities. Rootedness is something it hates like a plague. This is a mecca of the rootless but even here, true success is only for those who are ready to reach for the stars on the shoulder of others. The state signals its favour for this ilk in no uncertain terms when it awards its badges of honour. The ‘Padma Shri’ for ‘distinguished service in any field’ is the award that is most commonly given away and is typically announced just before the 26th of January every year. Delhi accounts for less than 2 per cent of the population living in the territory of the Indian Union. This year, nearly 20 per cent of the winners of Padma Shri were from Delhi. There is something about Delhi, some believe – as the thick and rich cream generated by distributive injustice is made invisible as such, and transformed into the ‘spirit of Delhi’ and other such curious concepts.

From Delhi’s own float, a rock-star looking character sang –

‘Dilli khushion ka angan

Dilli sadio se raoshan

Dilli kala ka sagar…

Dilli sab ka dil hai yaaro,

Desh ki dharkan Dilli’

So, if you want to be counted, you know what tongue to speak and where to stay. For the rooted, the obstinate and the rest, there is ‘the idea of India’ to suck on.

Leave a comment

Filed under Army / police, Bengal, Delhi Durbar, Democracy, Foundational myths, Hindustan, Identity, Language, Nation, Power

A matter of roads – elite panaceas and encroached commons : Emerging urban dystopias in the Subcontinent / Hope in jaywalkers

[ Himal SouthAsian Jan 2011; The Daily Star (Dhaka) Dec 4 2010; The Daily Mirror ( Colombo) Jan 4 2011; Down to Earth, 15 Oct 2013]

“ I have been to Houston and other American cities. Europe too. Traffic is fast. People wait for the traffic signal to walk. They are so disciplined.There are few people walking anyways. When will Kolkata become like that? Possibly never. Not with people like this. Not with so many people.They are not fit for a modern city.”

There is a certain angst at play when some look at Western cities and then look at cities of the subcontinent like Kolkata or Dhaka, only to sigh deeply (I exclude ‘planned’ dystopias like New Delhi from this discussion as they represent the defanging of the people at a very different level. I write about cities where there is still hope and obstinacy). Slow traffic, roads  of inadequate width, people on the streets, non-observance of traffic rules are cited as major reasons. Add to that rickshaws and bicycles – and  Paris like traffic looks like a perfectly unattainable dream. At this point, the nature of the voiced solutions should be predictable – widening of roads in the city but not tearing down middle-class homes, getting people off the streets by tightening and enforcing traffic rules and possibly, keeping rickshaws and bicycles off the busier areas. If some are already mentally nodding in agreement by now, there is something deeply troubling about the nature of imagination of our city we have, including the idea of urban citizenship, who is included in that imagination, who is not, who is the city for.

Among the upwardly mobile in the cities of the Subcontinent as elsewhere in the Southern World, there is an evolving homogenizing vision of what the future of global urbanity should look like – who is included, who is not. This vision has been long in the making , expressed privately in frustration at drawing rooms – now this progressively exclusive vision has the confidence of being forthright about itself, under the garb of urban  development  in the new century.

As a counter-force to this restrictive idea of urban citizenship,  one might ask, who  does the city really belong to?  And whether one likes it, cringes at it, celebrates it or wants them gone – some facts are worth mentioning. At least 40% of the population megalopolises of India like Kolkata and at least 50% of Dhaka live in slums (bostee). Slums are not only the underbelly of a city, they are a living critique of the dominant socio-political order of the sun-lit city. Hence the question of roads and traffic and the typical set of wants and frustrations that the elites express about the city is really another extended stage where the contestation of the question of ownership of the city is acted out. In such a contest, there really is a more plural view of the city from one side as opposed to a restrictive view – no slum ever dares or imagines that it will gobble up the quarters of the perfumed. The city that the slum and the lower middle-class imagines necessarily includes those who want to see the slums gone from the city and the jaywalkers gone from the street. The dominant urban vision has no time or imagination for such plurality in vision. The city that the perfumed classes of the Subcontinent want almost never looks like the city they live in. Many are ashamed of it. I grew up and lived in Chetla – a locality in Kolkata that is not really throbbing , in short, not ‘posh’. Some of the unfortunate ‘posh’ people who lived there used to say they lived ‘near New Alipore’ – New Alipore being a ‘posh’ area where much fewer people wearing lungi and brushing their teeth in the morning on the street could be found.This has interesting implications about how adjusted one is to reality in its full import. I wonder what some of these maladjusted would have thought about their great-grand father from the village, garu (water carrying vessel)  in hand, crossing a meadow in the morning to defaecate in the field but that is another question.

Given this, in contemporary times, the thrusts towards “cleaning-up” the cities and its streets have something holy at its core – distributive injustice. The city’s commons belong to everyone and so do its streets. The streets being common property to be used for transport, it deems fit that the proportion of a metalled road to footpath or side-walk in a given street should be commensurate with the nature of use. The proportion of people using the footpath to the proportion of people on cars on the streets are a good indicator of how common transport-intended land is to be divided in general , with adjustment space for specific situations. But has anyone every heard of footpath widening as opposed to road-widening ? What is especially ironic is how the shrinking , unmaintained footpath has become lower priority in the urban development discourse – this development is really a staking out of territory for some, the nature of thrust showing who is in charge. Footpaths are fast becoming in the mind of the upwardly mobile what government hospitals have already become to them – places they do not go to and hence they do not care about. Given its restrictive view of the urban future, the group wants to mark out a city for its own, within the city.This progressive loss of free walking space and the sophisticated and exclusionary plans of “urban development” represents this thrust to mark out a city for people-like-them, with ‘cleaner’ habits, ‘orderly’ manners and ‘refined’ sensibilities. There is an barely implicit collective will, laced with power and interest, and when those things combine, there surely is a way. The arc of that way, bends sharply towards to the interests of the new mandarins of the city- in whose vision, an increasing proportion of the city dwellers are quasi-traspassers.

In a situation where much of the city is considered trespassers to be avoided and given the stupendous majority of the city being formed by such ‘quasi-trespassers’, one sees the perfumed classes conjuring up a feeling of being besieged and finding ‘order’ and ‘security’ in that spectacular physical expression of this maladjustment to the living ecology of a city – the gated communities. An entire generation is growing up with limited or no consciousness of the bostee, jhupri, khalpar and rail-line jhupris and udbastu ( refugee) colonies. This lack of consciousness is not because they do not exist in the city, but the elites have now managed to carve off a sterilized existence where much of the city dare not show itself. Gated communities are also gates in the mind. All this would not have mattered if these elites were not disproportionately influential in conceiving the future of the whole city and not only their gated communities. Although these people have their gated communities, to much gritting of  teeth, there are not many gated roads – at least, not yet.

By top-down orders, increasing number of streets in Kolkata have seen bicycles being banned from plying on certain streets and consequent harassment of the bicyclists. Something is to be said of this ‘sanitization’ of streets of non-motorized transport. Given that the perfumed ones inhabit the same earth ( if not the same world) as those who smell from armpits, the central question of a sustainable ecological future is not really irrelevant to the future of our cities. Cornel West says that justice is what love looks like in public. In the context of urban resource allocation, distributive justice has to come from love of the city and all its people. This includes the rights of the pedestrian, the thhelawala ( cart-plyer), the bicylist and also the motorized. In case of the motorized, the question of passenger density is conceivably at the heart of the ecological question. With criminalizing non-motor transport and encouraging the rapid expansion of low passenger density private four-wheeler transport – the policy-makers show which world they belong to. They sadly, still belong to the same earth as before.

This brings us to jay-walking.The men and women behind the wheels hate these people- uncouth, running across streets, everywhere. They just keep on coming, running, getting into buses and now, horrendously, into underground railways too. And so there are calls for tightening traffic rules with more punitive fines and calls for more vigilant and numerous traffic police.In the absence of gated streets, at least one can ensure a semblance of that by keeping “jaywalkers” out of the streets. These filthy impediments of the city are partly what go into making the idea of a ‘long-drive’ so inherently appealing for some of the scions of the elite.And of course they also love the greenery in Amazon rain-forests as shown in the National Geographic channel. Some of them have also worn wrist-bands to “Save the Tiger”.

The traffic police make half-hearted attempts to control jay-walking. They recruit from schools with poorer children who spend days volunteering at busy traffic intersections of the city. A gaudy T-shirt from the Traffic Department, a badge of false-self importance saying “Traffic volunteer”, some stale snacks in a packet to take home – we have all seen them. The “Save the Tiger”s have better things to do – studying harder for engineering entrance, now that more seats are ‘reserved’. But the effort is bound to fail – the the hapless homeguard doubling up as traffic police, the child in the gaudy T shirt, their fathers, mothers, uncles, brothers, sisters are right there, right then, somewhere, on some other intersection, jay-walking across the street, holding up progress of fast traffic and smooth urbanity, crossing on to the other side, living to fight another day. No wonder the volunteers and their minders do not push hard, beyond a point. There is the rub- it is not a question of who is jaywalking the streets. Rather it is a mixture of contending ideas of who the city belongs to, of predictable eyesores counter-posed with the want of Paris and Singapores in Kolkata and Dhaka – the stuff of fantasies of resident non-Indians, as Ashis Nandy might put it.

But the jay-walkers keep on walking.The urban-industrial vision of the elites is a totalizing one-it brooks no dissent. It is distinctly irked by every interstice that is unfilled – it deems that as a nuisance at best and a law and order problem at worst. In our cities of ever decreasing interstices, of all crevices having been accounted for by census and survey, watched ever sternly by law, every such act of daily risk-taking, in that act of brisk jay walking restores a measure of dignity to vaunted idea of the city’s commons. In this act, they are joined by ‘other Wests’, like those espoused by the Reclaim the Streets (RTS) collective’s non-violent direct action street reclaiming and those that inspire the massive motor-traffic jamming bicycle-rides of Critical Mass.

I have a feeling that it is in those jay-walkers and in their haphazard trajectories, in their at-times-hesitant-at-times-wanton disregard of the impatiently honking Hyundai Santro, in their collective stoppage of a small fleet of Boleros, Marutis and Indicas to cross the street just in time even though the state has given a green-light, lie the multiple trajectories to plural, open and just futures for our beloved cities.

Leave a comment

Filed under Change, Class, Democracy, Elite, Open futures, Our underbellies, Urbanity

Long way from home – silent shuffles towards not sticking out

[ Agenda  – special issue on Migration and Displacement, July 2008 ; The Friday Times (Lahore), May 10-16, 2013 – Vol. XXV, No. 13 ]

A narrative set around the displacement during the partition of Bengal in 1947, exploring traumas not so explicit, adaptations not so consensual. And imprints of things thought to be lost.

***

I have crossed the border between the two Bengals multiple times. In February 2013, I took back my maternal uncle Bacchu mama to his ancestral home in East Bengal (now part of the People’s Republic of Bangladesh).He had fled after his matriculation, a little before the 1965 war. When we reached his 2-story modest tin-shed erstwhile home in the Janaki Singho Road of the Kawnia neighbourhood of Barishal town, I saw this mama of mine, trying to touch and feel dusty walls and stairs. He is by far the jolliest person I have seen. This was for the first time I have ever seen his eyes tear up. The story that follows is of his paternal aunt, or pishi.

Having had taken active interest and in some cases active participation in anti-displacement agitations of various sorts and hues, what does ring hollow to my privileged existence is the real trauma of the experience. I know the statistics, the caste break up of the internally displaced, the pain of being transformed from sharecroppers to urban shack dweller – raw stories of loss and displacement. The “on-the-face” ness of the accounts, unfortunately, has a numbing effect. With a populace numbed to the explicit, its sensitivity to things hidden is nearly non-existent. In spite of my association with causes of displacement, in my heart of heart, I empathize but don’t relate. Nobody I have grown up with seemed to have any psychological scar or trauma about it – at least none that they carried around, although I grew up around victims of one of the biggest mass displacements of all times – I am talking about the partition of Bengal in 1947.

When I grew up in Calcutta in the 80s, visits to my maternal grandparents’ place were a weekly feature. They were Bangals to my father’s extended family – we lived in a 30 something strong joint family, firmly rooted in West Bengal, very Ghoti. Bangals  are East Bengalis, a people with a culture less-sophisticated, in the minds of the Ghotis. In later years, especially post-1947, the term also came to mean refugees and hence evoked certain discomfiture about the presence of Bangals in West Bengali minds, if not outright animosity. With time, ties- political, amorous and otherwise were built between certain sections of the two communities. I am a child of mixed heritage – with a Ghoti father and a Bangal mother. Much of what I have said, except the last statement are generalizations, but they are useful in terms of broadly demarcating the space within which the narrative is set.

The people of my mother’s extended family had their displacement stories – not really of trauma, but a sense of material loss- the money they couldn’t bring, their land that had been expropriated ever since, the struggle of some families they knew, etc. Calcutta subsumed much of their selves now that they were here and most of them had been here in Calcutta for most of their lives. The character of importance here is my maternal grandmother, my Dida. She was married off to my maternal grandfather, my dadu, who I hear was visibly unwilling about the marriage at that time, if not the match itself – both were teenagers. When she came to Calcutta in tow with her husband, she was still quite young. My mother was born in Calcutta.

They lived in a rented place near Deshopriya Park. There was a certain air of dampness about the place – it connected to the metalled road by a longish and narrow path, not revolting but full of a strange smell of dampness. The path, gritty and dimly lit, was nearly metaphorical of my dida’s connection to her new world – connecting to the mainstream required a certain effort. Inside that house, it was strange and intriguing to me. The lingo was different – they spoke Bangal ( a Bengali dialect) with a Barishal twang ( Barishal was one of the more pupulous districts of East Bengal) called Barishailya. Dida referred to chokh ( eye) as tsokkhu and amader ( our) as amago. I used to pick these up and relate it to my Ghoti joint family, regaling them. Now I don’t think it is hard to imagine that many Bangals didn’t like the fact that other people found simple pronouncements in their dialect amusing and even comical.( Some comedians have used this aspect in Bengali comedy. I am reminded of black clowns with artificial and heightened mannerisms who regaled White audiences).

Dida cooked well and was known for it. What did she want to be known for? My mother related to me how her father was a great lover of letters and sciences. This was somewhat true – sometimes I abhorred going to him because he would not only tell me to do a math problem but also ask me why did I do it that way. He tried to get all his children formally educated – a Bangal signature of the time with imprints still continuing. Markedly different was his attitude towards Dida – I remember numerous instances of “o tumi bozba na” ( You wouldn’t understand that.) On her 50th marriage anniversary, her children got together for a celebration. The couple garlanded each other. She looked happy with her self and her world. “ Togo sara amar ar ki aase” (What else do I have but you people) was her pronouncement. Something happened a few years later that made me question the exhaustive nature of her statement..

Things happened in quick succession after this. The brothers and sisters split. The turn of events resulted in Dida staying with us . Our joint family had ceased to exist too. By now, I was a medical student. Dida was getting worse due to diabetes. So, I spent time with her. I remember her trying to speak ( and miserably failing) our non-Bangal Bengali dialect, to my paternal grandmother. She did try to mingle in, for circumstances demanded that she do. At the time, I   thought that she was extraordinarily fortunate. With my new-found sensitivity towards “identities”, I thought, she must have been very happy to speak Bangal until now. She did her groceries at a bazaar full of grocers who were themselves refugees from East Bengal. In fact one bazaar near my home in Chetla is actualled called the Bastuhara bajar ( the homestead loser’s bazar).Her husband’s extended family was essentially her social circle and they all chattered away in Bangal. They ate their fish their way and did their own thing. In spite of being displaced from East Bengal, she had retained her identity, her “self”. Or so I thought.

She suffered a cerebral stroke sometime later. A stroke is tragic and fascinating. It cripples and unmasks. The social beings we are, who care about what words to speak to whom, what state of dress or undress to be where and when, etc- this complex monument of pretense can come crashing down in a stroke. She had been for a day in what would medically be termed “delirium” , characterized by, among other things, speech that may be incoherent to the rest of us. She couldn’t move much and spoke what to us what was nearly gibberish- names we didn’t know, places we hadn’t heard of. To ascertain the stage of cerebral damage, one asks questions like Who are you? Where are we? What is the date? Etc. I was alone with her when I asked this first. Who are you? “Ami Shonkor Guptor bareer meye”.( I am a girl from Shonkor Gupto’s family).I repeated, and she gave the same answer. She couldn’t tell me her name. Shonkor Gupto wasn’t her father but an ancestor who had built their house in Goila village of Barisal, East Bengal. She recovered from the stroke and remembered nothing of the incident. When I asked her later, she replied “Jyotsna Sen” or  “Tore mare ziga” (Ask your mother).”Who are you” and “What’s your name” had become one and the same, again. She died sometime later. Another stroke felled her.

Displacement brings trauma with it. And the trauma can be cryptic. It can be hidden. It can be pushed down, sunk deep with the wish that it doesn’t surface. But displacement from home is a strange phenomenon – resurfacing in odd ways. And often an involuntary journey away from home is a journey away from one’s self too. The journey of displacement is hardly linear. It is more like a long arc. In most cases, the arc doesn’t turn back to where it started from. The journey looks unhindered by identities left back. But we can sometimes peer deeper. Nobody called my Dida  by the name Jyotsna Sen – she merely signed papers by the name. She had a name by which people called her before her marriage – “Monu”. This name had become hazy after her marriage and journey to her husband’s house and then essentially lost after she migrated to Calcutta. She had been doubly removed from the people, the household, the organic milieu that knew “Monu”. She had 3 children, 4 grandchildren, a husband, a new city. Where was she? And when all this was shorn off, what remained was a teenage girl from East Bengal village – a place she hadn’t been in 60 years, may be the only place where she will be much of herself. Monu of Shankar Gupto’s house.

At this point, I wonder, whether she silently bled all through. Would she have bled similarly if she had choices about her own life or at a bare minimum, if she had  an active participation in the  decisions that changed her life’s trajectory? The speculative nature of the inferences I draw from her “unmasking” story is not a hindrance to imagine what could have been. A little looking around might show such stories of long-drawn suppressions all around – suppressions we consider facts of life and take for granted. Who knows what she would have wanted at age 15 or at 22. Where was her voice, her own thing in the whole Calcutta saga that followed? The picture perfect 50th anniversary clearly didn’t capture all that she was. Her husband believed she had her due – what more does one need, he thought for her. My mother thought, with a well-intentioned husband that her father was, Dida must be happy. The identity-politics fired lefty in me had thought she hadn’t been displaced enough, given her Bangal milieu!  We were all wrong! A part of her lived repressed all along. In the microcosms we inhabit, there are stories of displacement, failed rehabilitation and denial of life choices. It is my suspicion that on learning about the Narmada valley displaced, a part of my Dida’s self would have differed vehemently with the Supreme Court judges Kirpal and Anand*1 – stances which often elude the nuanced mind of the intellectual.

*1 Justice Kirpal and Anand in their majority decision disposed off Narmada Bachao Andolan’s public interest litigation and allowed the resumption of construction of the Sardar Sarovar Dam and increasing of its height upto EL 90m, resulting in further displacements of many more families, in addition to the thousands already affected.

2 Comments

Filed under Bengal, Home, Identity, Kolkata, Language, Memory, Partition, Scars

The multiverse of loyalty

[ Himal SouthAsian, May 2007 ; Dhaka Tribune, 7 Feb 2014 ; Shillong Times, 23 Jan 2014 ; Echo of India, 28 Jan 2014 ]

The multiverse of loyalty: ethnicity, state and the Bangladesh-India cricket match.

 

 

For the West Bengali bhadralok, East Bengal continues to represent vastly different things to different people: a Muslim-majority country, an audacious dream of ethnic pride and secularism, a land vaguely culturally similar but distant in imagination, their forefather’s homeland, the place where cyclones aimed at West Bengal finally end up, a hub of ISI activity, the place of origin of the wondrous Ilish fish, the list, of course, goes on. While every West Bengali’s attitude towards East Bengal/Bangladesh is formed from one or more such memories and connotations, many of these have a limited acceptability in standard discourse, particularly in public expression. That does not make them any less potent, however, and forces their manifestation only under very particular instances.

 

One of those instances was 17 March, the day Bangladesh scored its historic win over India in the World Cup cricket match in the West Indies. I watched the Bangladesh-India game in an undergraduate house at Harvard University. With India being the odds-on favourite, the Bangladeshi team was widely expected to take a beating. Since live telecasts of cricket matches are not available on cable TV, the Harvard Cricket Club folks, comprised primarily of Indians (including this writer), had bought a special subscription. Watching along with me were two East Bengali friends. If truth be told, I only watched the Bangladeshi innings because I could not wake up in time for the Indian innings after a late night’s work. Regardless, while I was happy that West Bengal’s own Sourav Ganguly, the Indian team’s former captain, was in the process of scoring the highest number of runs for the Indian side, I was not very happy with the Indian total. But slowly, perhaps as I became more and more caught up in the action on the field that reaction changed.

 

With the Bangladesh Tigers prowling all over, I felt the first of many alarm bells going off in my head. I was surrounded by non-Bengali supporters of India, who were cursing the Indian team for its poor performance. But as the direction of the game became increasingly obvious, I did not really see the coming defeat as my own. In fact, I was busy asking  somewhat quietly and ashamedly questions about the Bangladeshi team: Oi batsman tar nam ki? (What is that batsman’s name?) By the time the match was nearing its end, I had become an unabashed Bangladeshi cheerleader. This led to a few strange stares, but I did not care. Nonetheless, it did all feel a bit odd. My cheers, after all, were not really for good cricket. There was nothing remarkable about a single run taken by Bangladesh, except perhaps that it was bringing the underdog a little closer to a win against the titan. And I was happy, long-forbidden loyalties were having a free ride, and the Bengali (not the West-Bengali Hindu) in me loved that we had won.

 

After the game ended, the general ambience in the room was distinctly dark. But I found that my own mood was not part of the gloom. My East Bengali friends treated me to a pint of beer, and we had a hearty, congratulatory talk. As I walked home that evening, I felt a nagging confusion- not about the anger of the Indians, nor about their reaction to my cheers for Bangladesh. Rather, of my own change of heart. A side of me had opened that only had so much space and time for loyalties. It is an easy call, perhaps, when Ganguly is on the team – he is an Indian Bengali. But even here I was found wanting. And more generally? In the games to come, would I continue to root for the Bangladeshi team? And what did this opening mean for India-Pakistan matches to come?

 

Primordial organic identity

The way that my reaction had publicly changed during the course of the game would have been inconceivable had I been watching the match anywhere within India or Bangladesh. The split self that I harbour and which, I believe, many others do as well , does not have a legitimate space for expression in any but the most liberal of establishments in the Subcontinent. But such dual identities remain within us, deep down in our hearts, where politically correct stances and obeisance to national symbols cannot cast a shadow.

 

Ethnicity is a category, as is identification with a nation state. However, these two differ in one important aspect. A nation state demands explicit loyalty, and de-legitimises everything else; those who balk at this explicit parade of fidelity are at best and parasites at worst, loyal to another nation state. The kind of fealty that ethnicity proposes, I like to believe, is at once more organic and primordial than that demanded by the nation state. In most cases, the loyalties to ethnicity and to nation state do not come into specific conflict with one another. But the varying degrees of distance between the two can be mapped as a continuum. On the one hand is the Naga, for instance, who has no nation state but is held within an all-consuming one, which goes to repressive lengths to extract explicit loyalty. At the same time there is the Hindi belt, an area that can explicitly declare its unflinching loyalty, as the points of declaration in its case do not interfere with claims of ethnicity. The Hindi belt is to the localities the natural claimant of the spot where the Indian pulse is to be felt, something that the rest of India only grudgingly acknowledges.

 

West Bengal is an interesting case in this regard, falling somewhere in the middle of this continuum. Together with the explicit declaration of loyalty to the Indian nation state, we find here a vague understanding and acknowledgement of ethnic kinship with Bangladeshis. But of course, almost all Hindu (and Muslim) West Bengalis would balk at a declaration of loyalty to the state of Bangladesh. And so the split self remains masked. Even among West Bengalis there would be a continuum of the exact extent to which this kinship is felt, irrespective of loyalty to the state of India. It is an interesting and open question: How does the barrier between Muslim and Hindu West Bengalis differ from that between West Bengali Hindus and East Bengali Muslims? For that matter, can any such difference be attributed to allegiance to India? Would the dynamics of West Bengali loyalty to India change if Bangladesh were not a state that bore the primacy of Islam in its Constitution? Further, did Hindu West Bengalis feel clear affinity with the Bangladesh that was still officially ‘secular’ before the 1988 constitutional amendment that made it ‘Islamic’?

 

The day after Bangladesh’s 17 March win, I was reading Sangbad Pratidin, a Bangla daily published in Calcutta. It reported that, following India’s loss, local cricket fans were not as grief-stricken as was the rest of the country. This same story was echoed in the national media. I could not help wondering whether I would have felt as positive as I did if my local Calcutta boy, Sourav Ganguly, had not scored well  indeed, had he not been the highest run-getter among all of the two team’s batsmen. How would I have taken to East Bengali bowlers cutting short Sourav’s innings?

 

Days later, the Bangladeshi team defeated South Africa, the world’s top-ranked squad, doing much to demonstrate that their win against India was not a fluke. West Bengal’s largest-circulating Bangla daily, Anandabazar Patrika, carried huge headlines trumpeting, “Bengalis stun the world’s best”. Bangladesh had the sudden chance of a glory run, and I found that I wanted to cheer it all the way , my conscience perhaps cleared by India’s elimination.

 

United in grief

An inward-looking state experiences great problems with transnational loyalties and animosities associated with those loyalties. Nowhere were the disadvantages of this seen more clearly than in this year’s Cricket World Cup. It is widely acknowledged that Southasia, specifically India and Pakistan, are the lifeblood of commercial cricket (See Himal November 2006, Cricket cooperation). Southasian interests are the major stakeholders in wooing sponsors, popularising the game, worshipping the players, studying the telecasts, watching the ads, performing related ceremonies, baying for the blood of fallen stars, critiquing the teams, purchasing the tickets, buying the players. The majority of this exuberance has not spilled over into other global cricket audiences, except possibly the West Indies in an earlier era.

 

In the 2007 Cricket World Cup, all of this was fantastically played up. India lost unceremoniously to an unrated but spirited Bangladesh. Pakistan lost to Ireland, one of the weakest teams in the series. The drama reached its bizarre crescendo after the Pakistani loss, when the South African coach of the Pakistani team, Bob Woolmer, was found murdered in his hotel room. Rumour had it that Woolmer had learned that the match had been fixed, and that he might have had specific names. The reaction in India and Pakistan was one of shellshock. Normally larger-than-life cricketers came back home as social outlaws under cover of darkness, to avoid the wrath of fans. Allegations flew wildly, as did dispensations on what had gone wrong. India’s coach Greg Chappell resigned days later, checking himself into a hospital, reportedly fearing for his life. Only one player received a hero’s welcome upon his return to India, and that was Sourav Ganguly. Some Bengalis might have taken satisfaction in the thought that they had not been the ones who had lost. In the West Bengal imagination, India had.

 

With an estimated 70 percent of global cricket viewership residing in India and Pakistan, the economic fallout of the losses of these two teams was enormous. International and national corporations had invested tens of millions of dollars in television commercials touting the country’s cricket stars, while broadcasters were charging up to three times more for advertising during Indian games. Following the losses, many advertisers pulled out, with some of the largest attempting to default on contracts. The poor showing from these two teams also hit the host West Indies hard. An overwhelming number of travel and accommodation bookings had been made from India and Pakistan, and their near-simultaneous losses brought in a wave of cancellations and demands for refunds.

 

In the midst of all this, one heard oft-repeated laments of how invincible a combined India-Pakistan team would have been. In sleek television studios, ex-cricket stars frankly criticised their respective cricketing establishments, and even took the liberty of the moment to give advice to the other side. It was one of those rare moments when segments of the Indian and Pakistani populace were united in grief  and even sympathetic to the grief of the other.

 

These losses, however, did not have much direct emotional impact on me. I (along with many others, evidently) was still looking out for Bangladesh, and was finding doing so surprisingly easy. Given the relatively low expectation from Bangladesh, a loss did not bring sadness, but wins were unmistakably joyful. Segments of the Indian and Pakistani audiences may have broadly turned off emotionally from the game, but that only went to show how the ethnic continuums that spread across Southasian borders make it so tricky for the inward-looking nation states of Southasia to promote tendencies of crossborder solidarity.

 

Cricket in Southasia is not a game; it is serious business, and a regular metaphor for public imagination and expression. Cricket has been used as an acid test for loyalty to one’s country. In general, it does not leave much space to reach across and support the neighbours.

 

But primitive loyalties know no political frontiers, however strong the efforts of Southasian states to seek out exclusive loyalties. Rather, this more guttural type of devotion inevitably finds its own space in private imagination; crossborder organic connections, after all, predate the Southasian political landscape – not to mention cricket itself. But what can be used as a tool to solidify loyalty to a nation state can also act as an avenue of private, almost unconscious, subversion. Because the relationship between a country and its citizens has been moulded into one of either loyalty or defiance, this process inevitably comes with guilt.

 

Can we not imagine beyond this? If political identities in Southasia are largely imagined, then forceful transnational identities are potent triggers for an organic re-imagining of the region. Guilt makes the private dissident crave legitimacy, for intimate alternative identities do not like suppression. The dissident can only hope that organic continuities will eventually make states negotiate with transnational loyalties, with the audacious hope that such negotiations will be obligatory to the long-term survival of nation states in Southasia.

 

——————————————————————————–

 

Bangladeshi-Pakistani bhai-bhai?

Of course, the Southasian story in 2007 World Cup cricket did not end with the defeats of Pakistan and India. Perhaps just as significant as the losses of those titans were the surprising wins by Bangladesh and Sri Lanka. But while the series organisers must have prayed that the turn of events from these two teams would successfully retain the interest of the great mass of Indo-Pakistani audiences, they were to be disappointed.

 

There were widespread stories of Indians and other Southasians, once the smarting had subsided, changing their loyalties to cheer for either Bangladesh or Sri Lanka. This regional camaraderie and the denial thereof was unbeknownst to me, until I chanced upon it on the Internet. On a widely used social-networking website, a group of Pakistanis had formed a virtual community to cheer on what they called the ‘East Pakistanis’. This attempt at comradeship, of course, would not sit well with any Bangladeshi. The site called East Pakistan for World Champions included the line, After kicking India’s ass, they take on the world.

 

The forum quickly became a space for nationalist abuse and counter-abuse, all under the guise of sporting solidarity. After anger arose due to Bangladesh being referred to as ‘East Pakistan’, a Pakistani member retorted, ‘Ah, personal insults. I would expect nothing less from you, my less evolved, but still Pakistani brother.’ The thread of this type of baiting continued, with increasingly personal put-downs from both sides.

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Foundational myths, Identity, Kolkata, Nation