Tag Archives: Community

রোহিত ভেমুলা ও ঘরের কাছের অন্ধকার

১৬ জানুয়ারী ২০১৬ অর্থাৎ যেদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  ঘোষণা করলেন যে ২৫ কোটি টাকা অবধি দরের ‘স্টার্ট-আপ’ কোম্পানি খুলে ব্যবসা শুরু করলে ৩ বছর আয়কর দিতে হবে না, শ্রমিক অধিকার ও ভাতা ঠিকঠাক দেওয়া হচ্ছে কিনা, পরিবেশ দুষিত করা হচ্ছে কিনা, এসবের কোন কিছুরই সরকার ৩ বছর অবধি পর্যবেক্ষণ পর্যবেক্ষণ করবে না, ঠিক তার পরের দিন,  গত রবিবার একজন ছাত্র আত্মহত্যা করেছে। এরম আত্মহত্যা তো কতজন করেই থাকে, কতরকম কি হয় আজকাল – প্রেমঘটিত, অবসাদ, ‘ড্রাগস’। একজন পিএইচডি গবেষণারত ছাত্র আত্মহত্যা করেছে।  সে ক্ষেত্রে আবার যোগ হতে পারে ‘স্ট্রেস’। কিনতু তারপর যদি বলি গ্রামের ছেলে, ইংরেজি মিডিয়াম নয়, দলিত – এমন একজন আমার-আপনার শহরের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে দু-চোখ জোড়া স্বপ্ন নিয়ে এসে আত্মহত্যা করেছে, তখুনো আমরা একটু হাতরাবো একটু ‘স্ট্রেস’, একটু প্রেম, একটু ‘ড্রাগস’। কিনতু তারপর যদি আরো বলি যে তার বৃত্তির টাকা পাঠাত সে বাড়িতে, তা দিয়ে তার বিধবা মায়ের চলত, তখন হয়ত ‘ড্রাগস’টা বাদ পড়বে। তারও পরে যদি বলি যে সে স্বাভিমান নিয়ে প্রকাশ্যেই বলত যে সে বাবাসাহেব আম্বেদকরের  আদর্শে বিশ্বাসী, সে মৃত্যুদন্ড বিরোধী – তা সে ইয়াকুব মেমনেরই হোক বা কাশ্মীরে কুনান-পোসপোড়ায় কাশ্মীরি নারীদের গণ-ধর্ষণ করা সৈন্যদেরই হোক (পরের মৃত্যুদন্ডটা হয়নি, কোন দন্ডই হয়নি) এবং সে কারণে সে ছিল আমার-আপনার রাষ্ট্রের ঠিকাদারী নেওয়া বিজেপি দলের ছাত্র সংগঠন এবিভিপির চক্ষুশূল, তালে হয়ত বলবেন ব্যাপারটি ‘গোলমেলে’। এবং আরো যদি বলি যে মৃত্যুদন্ডের বিরোধীতা করে মিছিল বার করার জন্য বিজেপির এক সাংসদের অঙ্গুলিহেলনে নতুন  দিল্লীর হুকুমে জো-হুজুরি করা এক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য্য তাকে ছাত্রাবাস থেকে বহিস্কার করে।  যদি বলি যে তার সেই বৃত্তির টাকা, তার হকের টাকা সে পায়নি বেশ কয়েক মাস? যদি এটাও বলি যে তাকে দলিত বলে সামাজিক বয়কটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল নতুন দিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের এদেশে চলা হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে? আর কি কি তথ্য লাগবে, সত্যের আর কত পরত ছাড়াতে হবে এইটা বুঝতে যে হায়দ্রাবাদ কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানে পিএইচডি-রত ছাত্র রোহিত ভেমুলার মৃত্যু স্থুলভাবে একটি আত্মহত্যা হলেও একটি অন্য সর্বার্থেই একটি রাজনৈতিক হত্যা?

এই রাজনৈতিক হত্যা কে করেছে, তার একটা সহজ এবং চালক- দায়সারা উত্তর হয়।  সেটা হলো ‘সমাজ’। কিন্নতু  তাকে কি দলিত সমাজ মেরেছে? তাকে কি হিন্দু সমাজ মেরেছে? তাকে কি মোসলমান সমাজ মেরেছে? তাকে কি উচ্চ-বর্ণের হিন্দু সমাজ মেরেছে? বৈষম্যের পৃথিবীতে সমাজ বলে কিছু হয়না, বৈষম্যের টানাপোড়েনে, ঘাত-প্রতিঘাতে লিপ্ত থাকে নানা গোষ্ঠী, নানা সমাজ। বৈষম্যের কারণে এই বিভক্তি আবার এই বিভক্তিই হলো শক্তি। কারণ বহির্শত্রু নিপীড়ক গোষ্ঠীর বিরুধ্যে আত্মশক্তিকে সংগঠিত করার জন্য দরকার আভ্যন্তরীন ঐক্য। আর নিপিরিতের এই নিজে নিজে গোষ্ঠী তৈরী করে নিপীড়ক-কে মোকাবিলা করার প্রয়াসের বিরুধ্যে নানা পাল্টা চেষ্টা চলে, চেষ্টা চলে বৈষম্যগুলিকে বাদ দিয়ে নিপীড়কের ধান্দা অনুযায়ী বিশাল একতার দোকান খোলা, এমন দোকান যার প্রধান মালিক হবে নিপীড়ক, অংশ-মালিক হবে নিপীড়িতের মধ্যে থেকে তৈরী করা দালাল আর লাভের গুড় খাওয়া হবে সকল মানুষের ঐক্যের নাম।  নিপীড়কের ঐক্যের নানা দোকান আছে – সেসব দোকানের নানারকম নাম আছে – যেমন হিন্দুত্ব, ইসলাম, ভারত, ইন্ডিয়া, সমাজ, সুশীল, ইত্যাদি। রোহিত ভেমুলা এইসব স্বপ্ন দেখত এইসব দোকান ভেঙ্গে একদিন খোলা মাঠে মানুষের হাট-বাজার তৈরী হবে।

আমরা বঙ্গবাসী। রোহিত থাকত দূরে। সেই দূর থেকে তার বন্ধুরা জানিয়েছে যে দলিত বলে, তেলুগু মাধ্যমে পড়াশুনো করে উচ্চ-শিক্ষার স্বপ্ন দ্যাখার ধৃষ্টতা দ্যাখানোর জন্যে রোহিতকে এবং তার বন্ধুদের শুনতে হতো টিপ্পনি , হাসাহাসি করা হত মফঃস্বল গুনটুরের গন্ধ গায়ে লেগে থাকা স্বপ্নালু মানুষগুলিকে নিয়ে। আজকে চুনি কোটালের মৃত্যুর প্রায় ২৪ বছর পরে আমরা এমন এক শিক্ষা-

সংস্কৃতি তৈরী করেছি যেখানে মেডিকেল কলেজগুলিতে শহুরে আইসিএসই-সিবিএসইর রমরমা (যদিও পশ্চিমবাংলার ১০% ছাত্রছাত্রীও এইসব বোর্ডে পড়ে না), উত্কর্ষ-কেন্দ্র প্রেসিডেন্সিতে নানা বিষয়ের প্রবেশিকা পরীক্ষা যাতে বাংলায় না হয়, তার পাঁয়তাড়া করা হয় এই বাংলার মাটিতে থেকে, বসে, খেয়ে মোটা হওয়া একধরনের আরকাঠি  গোষ্ঠীর চক্রান্তে, যাদবপুরের তথাকথিত ‘কুল’ বিভাগগুলি থেকে বাংলায় কথা বলাদের পরিকল্পিত ভাবে হতে হয় হীনমন্যতার স্বীকার, সেখানকার  ইতিহাস বিভাগে বাংলায় স্নাতকোত্তর স্তরের উত্তর লেখার জন্য লাঞ্চিত হতে হয় প্রতিবন্ধী ছাত্র রামতনুকে, অন্য সময়ে ভুলে যাওয়া দিনে এই রকম-ভাবেই বাংলায় লেখার জন্য হেনস্থা হতে হতে আত্মহত্যা করেছিল যাদবপুরের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী পৌলমী সাহা। এই বাংলা বাংলা করলাম এতক্ষণ কারণ বৈষম্যের জন্য  বাংলা একটা উছিলা মাত্র। বাংলা মানে শহর কম মফঃস্বল বেশি গ্রাম আরো বেশি, বাংলা মানে বড়লোক কম গরীব বেশি, বাংলা মানে হাতখরচা কম টিউশনি বেশি, বাংলা মানে গাড়ি কম সাইকেল বেশি – অর্থাৎ বাংলা মানে সেই সংখ্যাগরিষ্ঠ যাকে জোর করে হারিয়ে দেবার চক্রান্ত চলছে আমাদের এই বাংলাদেশে। প্রেসিডেন্সি যত বাংলা-বিরোধী শহুরে-ইংরেজদের আখড়ায় পরিণত হবে, ততবেশী অসবর্ণ  অধ্যাপক  মহিতোষ মন্ডল লাঞ্ছিত হবেন এই-সকল ‘সুপার-কুল’ পোস্টমডার্ন আখড়ায়। মেডিকেল কলেজগুলি তত বেশি করে গুরগাঁও, নয়ডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার ডাক্তার তৈরীর কারখানা হবে। বাংলার গণ-মানুষকে, অন্তজ জনতাকে  জোর করিয়ে হারিয়ে দেবার এই চক্রান্ত বন্ধ হওয়া দরকার। দরকার জনসংখ্যার অনুপাতে সর্বস্তরে সংরক্ষণ। দরকার বিরাট একতার বুটিক দোকান ভেঙ্গে হাট-বাজারের দাপাদাপি। রোহিত ভেমুলার  সুইসাইড নোটটি ইন্টারনেট-এ পাবেন। সেটিকে পড়ুন। বামুন-কায়েত বিপ্লবী আর রেডিকেল-দের অপরাধ-বিলাসের জন্য চে গেভারার মৃত্যু অবধি যেতে হবে না। রোহিত ভেমুলার মৃত্যু আমাদের অন্তরের অন্ধকারগুলিকে  প্রকাশ্যে আনতে সাহায্য করুক।                                        

6 Comments

Filed under Acedemia, বাংলা, Bengal, Caste, Community, Elite, Our underbellies, Scars, Science, Under the skin, Urbanity

কুমিল্লা সংস্কৃতি উত্সব – স্পর্ধা অন্যতর

আমি যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌছলাম পড়াশুনো করতে, তখন ওখানে স্থিত পশ্চিম বাংলার বাঙ্গালীদের মধ্যে অদ্ভূত আবিষ্কার করলাম। আপনি কোথাকার, এটা জিগেশ করলে, কেউ তার জেলা শহরের কথা বলেন না। প্রশ্নকর্তার ‘সুবিধার্থে’ বলেন যে তিনি কলকাতার।  কলকাতার একটা ব্যাপ্তি আছে।  ১৪৪ ওয়ার্ড-দিয়ে গড়া। আমি কলকাতা থেকে  বরানগরে  কর্মস্থলে যাই।  এটা কলকাতা নয়। কলকাতার উত্তরে একটা এলাকা। এখানকার অনেক মানুষ সহজ ভাবেই বলেন যে কাজে কলকাতায় যাচ্ছেন। আরেকটু উত্তরে ব্যারাকপুরে  কথাই নেই।  সেখানে এটা আরো পরিষ্কার ভাবে কলকাতা নয়, মানুষের ভাবনায়, চেতনায়, কল্পনায়। কিন্তু এই সব কিছু-কে কলকাতা মহানগরের মধ্যে মিলিয়ে দেবার প্রবণতার পিছনে আরেকটা কিছু রয়েছে। একটি শ্রেনীর হয়েছে, যারা কোনো কিছুরই নন গভীর-ভাবে।  তাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক।  ‘গ্লোবাল’ দুনিয়ার ম্যাপে একটা খুঁটি পোতা  এবং অন্যদের কে বোঝানো – এটাই সেই আত্মপরিচিতির লক্ষ্য। এক সাথে রয়েছে স্থানীয় অনেক ব্যাপার থেকে এলিয়েনেশন। সেটা শ্রেণীগত কারণে হতে পারে, ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির লেজুর-বৃত্তির ইপ্সায়  হতে পারে, স্থানীয় সংস্কৃতিক ধারা নিয়ে নিরক্ষরতাও একটা কারণ বটে। কিন্তু সকলে এমন নন। পূর্ব বাংলার যে মানুষদের সাথে আমার পরিচয়, তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভাবে স্থানীয় পরিচয় গৌণ  নয়, বা নিজেকে ‘ঢাকা’র বলে জানানোর প্রবৃত্তি কম।  এটা অনাবাসীদের ক্ষেত্রেও সত্যি। আমার বাড়ি চেতলা এলাকায়। আমি এখুন সেখানে থাকি।  পড়াশুনো ও গবেষনার কারণে ৮ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছি। আমি অতি ভাগ্যবান যে এমন এক নিবিড় পারা-সংস্কৃতি, ধর্মাচার ও নানা রকম মানুষ ও বাজারের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি বড় হবার সময়ে। যেহেতু আমি চেতলার, বাকি কলকাতা বা ‘কলকাতা’ কে দেখার আমার যে দৃষ্টি , যার মধ্যে চেতলার ছাপ অনস্বীকার্য।  আর সেটা হবে নাই বা কেন?  মাটি থেকে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, হাওয়া থেকে নয়, এলিয়েনেটেড মানুষের আমদানি করা ভাঁজ থেকে না। স্বেচ্ছায় শিকড়হীন শ্রেণী যে পশ্চিম বঙ্গে ও কিছুটা পূর্ব বঙ্গেও রাজনীতিতে, ক্ষমতায়, সংস্কৃতিতে – অন্দরে ও বিশ্বের কাছে নিখিল বাংলাদেশের মানুষের ‘মুখপত্র’ হয়েছেন মূলতঃ শ্রেণীগত ভাবে এক ধরনের ইংরেজি ভাষায় সমাজকে স্থুল ভাবে সাহেবের কাছে ও একে অপরের কাছে প্রদর্শনের কারণে, এ আমাদের লজ্জা। দোষ তাদের না – দোষ বাকিদের, যারা এই জায়গা ছেড়ে দিয়েছে ভয়, স্পর্ধাহিনতায়। মাটির থেকে, স্থানজ সংস্কৃতি থেকে বিছিন্ন শ্রেনীর এই আধিপত্যের বিরুধ্যে লড়াই একটা গভীর লড়াই – এর সাথে আমাদের যুগের সংস্কৃতিক সংকট, ও তার সাথে ক্ষমতার সম্পর্কের প্রশ্ন অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। এই ‘আব্সেনটি ল্যান্ডলর্ড’ শ্রেনীর বিরুধ্যে সংগ্রাম কোন প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতিক প্রতিরোধ নয়। পশ্চিম-চালিত একমুখী বৈচিত্র-বিরোধী যে দানবের দুনিয়া জোড়া আস্ফালন আমাদের পোড়ার দেশগুলিতে, তার শিকড়হীন দেশীয় দালাল-দের বিরুধ্যে সংগ্রাম আসলে গণতন্ত্রিকরণের সংগ্রাম। এটাই এই যুগের গণ-লাইন। নানা বৈচিত্রের, নানা বিভন্গের মানব-জমিন কে দখলদার মুক্ত করা, যাতে কিনা ‘ডকুমেন্টেশন’ এর বাইরেও কিছু হয়, যাতে সে জমিতে নতুন ফসল ফোটে , যে জমিতে পূর্বসুরীরা ফসল ফলিয়েছেন – তার ধারাবাহিকতায় ও এবং সেই  স্থানীয় পরিপ্রেক্ষিতে তার থেকেই বিচ্ছিন্নতায় – যে বিছিনতায় রয়েছে, যার থেকে বিছিন্ন, তার গভীর ছাপ।

এই কথাগুলি বলার কারণ হলো আমাদের সংস্কৃতিক ভাবনা ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও, কলকাতা-ঢাকা কেন্দ্রিকতার ঝোঁক স্পষ্ট। কল্কে পাবার যে সংজ্ঞা গুলি, কোন উদ্যোগ হলে সেটি কোথায় হতে হবে, করা করা না দেখলে তা প্রায় দেখার মতোই হলো না – এই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে বেশ কিছু কুসংস্কার কাজ করে। ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতি থেকেও তাহলে কিছু কিছু কুসংস্কারের উদ্ভব হয় – সব কিছু আমাদের স্থানজ যাপন ও চর্চার দোষ না। কি বলেন ?

অনেক কিছুই হয় কলকাতায়।  কিছুতে লোক আসে, কিছুতে আসে না।  অনেক ক্ষেত্রে অপাত্রে দান হয়। যদিও সে চর্চার মাহাত্ম্য বোঝার আসল লোক অন্যত্র।  কিন্তু সেখানে হলে মহানগরবাসী আদৌ যাবেন না।  অত দূর যাওয়া যায় নাকি। বাঁকুড়া – সে তো বহুদূর।  কিন্তু সে বাঁকুড়া থেকেই তারা আসেন, কলকাতার অত্যধিক ত্যালা মাথার তেল একটু গায়ে লাগানোর জন্য।  এই ধরনের সংস্কৃতিক কেন্দ্রিকতা সংস্কৃতিকে একটা নিষ্প্রাণ ধারণার সাথে ঠিক আছে, কিন্তু যাপন ও স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, এলাকার জল-আবহাওবায় ভেজে না সে সংস্কৃতি। তাই হয়তো তা  ‘এক্সপোর্ট কোয়ালিটি’র না। ডানা ছেঁটে, তাকে সাইজ করে, ‘ডকুমেন্ট’ করে, রামের জিনিস শ্যামকে দেখিয়ে,  সংগঠক হিসেবে নিজের নাম দিয়ে, এক শ্রেনীর ঠিকাদার নাম কামান সংস্কৃতির ধারক বাহক ও সমঝদার হিসেবে।  এদের শিকর-হীনতার জন্যেই, স্থানীয় ভ্যালুস এদের জীবনে অপ্রাসঙ্গিক হবার কারণে, এদের গর্জে ওঠেন ‘ঘষা-মজা’ না-করা স্থানীয় সংস্কৃতিক প্রকাশের বিরুধ্যে। কেন্দ্রিকতায় এদের কায়েমী স্বার্থ। ‘কস্মপলিটানিজম’ এর নাম এক বিশেষ ধরনের সংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ এদের মূল-মন্ত্র, যেখানে ল্যাজ-কাটা শেয়াল ল্যাজ-ওলা শেয়ালদের নিজ ল্যাজ সম্বন্ধে লজ্জিত করানোর চেষ্টা করে, ‘উচ্চমার্গ’ ও সূক্ষতার দোহাই দিয়ে। গণসংস্কৃতি, জনসংখ্যা -এদের বড় শত্রু। তাই সেগুলিকে জোর করে অদৃশ্য করে দেওয়ার চেষ্টা চলে নিরন্তর। তাই তো মনে হয় অনেকের কথা শুনে না ‘ইউথ’ মানে সে যে কফির পেয়ালা ধরে এক ধরনের চর্চা করে।  বাকি কিছুই ইউথ না। অন্ততঃ তাদের ইউথ হয়ে উঠতে অনেকগুলি ধাপ পেরোতে হবে, পরীক্ষা দিতে হবে শিকড়হীনতার – মাথায় তেলের চেয়ে সেম্পু বেশি লাগানোর।

এত কথা বললাম, কারণ ক্ষমতার সঙ্গে সন্ধি করে যে সংস্কৃতিক স্রোত বইছে মহানগরে, তার থেকে আলাদা যে কোন উদ্যোগ-ই বিরুদ্ধতা।  দহয়ত এটা দুঃখের যে স্বাভাবিক ভাবে বাঁকুড়া তে থেকে বাঁকুড়া নিমজ্জিত থাকাও আজকে একরকম দ্রোহ। এতেই ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির অসহনশীলতার প্রকাশ। এরই মাঝে দাঁড়িয়ে আছে – এক, দুই, তিন নয় – ৫ বছরের কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।

এই বাত্সরিক উত্সব কুমিল্লার মানুষের, অবারিত দ্বার সেখানে। সংগঠক এলাকার মানুষ, নতুন মানুষ এবং কুমিল্লার চশমা পরে বিশ্ব দেখে এসে ফের কুমিল্লায় আস্তানা বাঁধা মানুষজন – মনজুরুল আজিম পলাশ যার অন্যতম। এলাকার সংস্কৃতি, তার উপর যে নানা স্বার্থান্বেষী, বিদ্বেষী আঘাত – আধুনিকতার নাম, ধর্মের নাম – সে সকলের বিরুধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এই উত্সব। ঢাকা, কলকাতা, চিটাগাং, টরন্টো, চীন এসকল জায়গা থেকে মানুষ কুমিল্লা গেছিলাম।  বড় শহর থেকে মানুষ ছোট শহরে যাবে কিছু পাবার জন্য – জজ-জুরি হিসেবে না, অতিথি হিসেবে, নিজেকে ব্যাপ্ত করার সুযোগ হিসেবে – এটা আজকের সময়ে বড় কম কথা নয়। এবং সেখানকার গণ-সংস্কৃতির কাছে মাথা নবাবে, আঁজলা  ভরে নেবে, হয়ত বা কিছু দেবেও।  এই ভাবেই অতিথির চোখে দেখলাম এই অসাধারণ উত্সব।  সুসু অতীত চর্চা নয়, শুধু ‘সনাতন’ চর্চা নয়, আবার সেসব বাদ দিয়েও নয়, আবার সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা কে সামনে রেখে, অনেক স্বেচ্ছা-সেবকের উদ্যোগে হলো এই উত্সব।  এলাকার গণ-সংস্কৃতির ও গর্ববোধের কাঠামো যে মজবুত তা বুঝলাম কুমিল্লার একাধিক স্থানীয় দৈনিক কাগজ দেখে – এবং সেখানে এই উত্সবের উত্সাহী রিপোর্টিং দেখে।  আলাপ হলো কুম্মিলার কাগজের নির্ভিক দরদী সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের সাথে।  আরো কত জানা হলো, কত কিছু শিখলাম।

এই সময়ে, এই স্পর্ধা করা যে কুমিল্লায়, তাদের কাছে যে মাল মজুত আছে, তা ঝুলি থেকে বার করে দেখালে, বাইরে থেকে লোক আসবে। তারাও আসবে নিজেদের একটু আধটু নিয়ে, নিয়ে যাবে অনেক বেশি।  আজকের কেন্দ্রিকতার দুনিয়ায়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব ( কুমিল্লা কালচারাল ফেস্টিভেল) -এর স্পর্ধা অন্যতর বিশ্বায়নের এক মেনিফেস্টোর মত – গণসংযোগ, স্থানীয় সংস্কৃতিক স্বাক্ষরতা, মাটির সাথে সম্পর্ক, মানুষ সম্পর্কে শ্রদ্ধা, বিকেন্দ্রীকরণ, গণতন্ত্রীকরণ এবং নিজেকে পৃথিবীর কেন্দ্র মনে করা এক বহুকেন্দ্রিক পৃথিবীর কল্পনা করা।

গেছিলাম আমন্ত্রণে।  ফিরলাম এলাকাকে ও তার মানুষকে একটু চিনে, আর এও জেনে যে ঢাকা ও কলকাতার দিয়ে সংস্কৃতির সকল ধারা কে বাধ দেওয়া যায় না, এবং সেগুলি অনেক কিছুর জন্যই আদর্শ স্থান নয়।  আমার-ও কিছু পাওয়ার আছে কুমিল্লা থেকে। কাউন্টার ভ্যানগার্ড হয়ে হয়্তো তা ভ্যানগার্ড ধারণার সঙ্গে একটা সমালোচনা-মূলক সংলাপ। সেদিক থেকে কুমিল্লার এই উত্সব পথিকৃত। এলাকার গান ছিল, এলাকার নাটক ছিল, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আশা মানুষের একাধিক মাস্টার ক্লাস ছিল, মোটর সাইকেল স্টান্ট ছিল, আলাপ-আড্ডা-হেঁটে বেড়ানো ছিল। পর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনা ছিল।  স্থানীয় অশুভ শক্তির সাথে যুগপত সমঝোতা ও বিরুদ্ধতার যে কঠিন আভ্যন্তরীন সংগ্রাম, তাও ছিল।  শুধু অনুষ্ঠান সূচী দিয়ে এই উত্সব কে বোঝা যাবে না।  তার জন্য নিজ এলাকায় এমন উত্সব সংগঠিত করতে হবে, মানুষকে জুড়তে হবে।  কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব কোন তীর্থ না, এটি একটি মডেল। সতী মাতার শরীরের নানা অংশ বাংলার নানা স্থানে পড়েছিল , এক স্থানে পড়ে নি। তাই এত গুলি তীর্থ কে কেন্দ্র করা এতগুলি ধারা, এতগুলি চর্চা ও ভাবনা। পুরনো তীর্থ গুলু ধুঁকছে, নতুন তীর্থ জন্মাচ্ছে না,  ঢাকা-কলকাতা ‘মহাতীর্থ’ হয়ে উঠছে।  এই সময়ে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব একটি আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠার আভাস দেখায়। পরের বার ষষ্ঠ কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।  চোখ কান খোলা রাখব আমি, আপনারাও রাখবেন। বিকল্প অন্বেষণের  একই প্রয়োগশালাটি  আবার দেখা সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Dhaka, Kolkata

রাম ও রামীর পয়লা ফাল্গুন

কালকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে।  আপনার জীবনে যদি প্রেম-পিরিতির কেউ থাকে এবং  নগদ টেকা-টুকা থাকে, তাহলে এটা আপনার আধুনিক  নাগরিক কর্তব্য যে আপনি কাল চকোলেট কোম্পানি, মাল্টিপ্লেক্স কোম্পানি, রেস্টুরেন্ট কোম্পানি, গ্রিটিং কার্ড কোম্পানির মতো হরেক কোম্পানিকে কাল বেশি মুনাফা দেবেন।  আপনি উত্তরাধুনিক  নাগরিক হলে দেবেন ডার্ক চকোলেট, দেখবেন আর্ট ফিলিম, দেবেন অন্যের হাতে আঁকা কার্ড।  খাবেন  রেস্টুরেন্টে কারণ কুকিং বর্জন প্রগতিশীলতার এক প্রাথমিক শর্ত। এই সকল মাজারে চাদর না চড়ালে আপনার প্রেম খাঁটি নয়। যারা নরসিংহ রাও পরবর্তী যুগে লায়েক হয়েছেন, তাদের অনেকের এতদিনে প্রতি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে যা যা প্রেমের প্রমাণ জমেছে, তার একটা আর্কাইভ করলে বেশ একটা সমাজতাত্ত্বিক ব্যাপার হবে। কিছু ক্ষেত্রে এই উপহারের আর্কাইভ আবার অনেকের সিরিজ প্রেমের আর্কাইভ ও বটে – কে কার পেছনে কত টাকা খরচ করলো বা করলো না, স্মৃতির মনিকোঠায় সেই অনুযায়ী বরাদ্দ থাকে বর্গফুট কার্পেট-এরিয়া। হয়ত যারা কালচার-ফাল্চার স্টাডি করে শ্বেতাঙ্গদের কাছে দিশি মানুষের জীবনকে উজাগর করে নাম কামান, তারা দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু পুঁথিও লিখে ফেলবেন। আমার কথা নিশ্চই তেকেলে জ্যাঠার মতো  শোনাচ্ছে।  আমার ঠাকুরদার বাপ, আমার ঠাকুরদা, আমার বাপ – এরা সকলেই কুলের বড় ছেলে, অতয়েব নানা মানুষের জ্যাঠা। আমি এদেরই ডাইরেক্ট উত্তরসুরী। আমি মূলতঃ চট্টোপাধ্যায়।  গর্গ নামটি উছিলা মাত্র।

বাংলা জুড়েই একটি খাঁটি বাঙালি জিনিস আমার আপনার সকলের আছে। এটাকে বাংলায়ে বলে ফিলিংস। অনেকে এই মোক্ষম দিনে এহেন মোক্ষম ফিলিংস প্রকাশ করেন প্রথম বার। কে বলে যে শুধু আমরাই পাজি দেখে শুভ কাজ করি? আপনারা যারা আধুনিক-উত্তরাধুনিক – তার বেলা ? এই যে চেনা ছকে চেনা কোম্পানির চেনা উপহার দিয়ে চেনা ফিলিংস-কে দৃঢ় করা, এ কি “রিচুয়াল” না ? যত স্বকীয়তা আর স্বতস্ফুর্ততা, তা আপনাদের ক্রেতা-আচরণে? আর যত দোষ ও ব্যাকওয়ার্ড রিচুয়াল আমাদের সিন্নি চটচটে ধুনো ধূমায়িত পরিসরে ?

যখন প্রেম-পিরিতির সম্পর্কে যা গভীরত্ব জানান দিতে হয় বাজারী জিনিসপত্রের মাধ্যমে, এবং প্রেম-পিরিতির যাচাইও হয় বাজারের নিরিখে, তখন সে ভালবাসা সর্বার্থেই অর্থপূর্ণ। বাজার আজকে মোটামুটি এটা বুঝিয়ে ফেলেছে যে চাষের জন্য যেমন লাঙ্গল দরকার (বড়লোক হলে ট্রাক্টর), তেমনই ১৪ ফেব্রুয়ারী প্রেমের জন্য ফুল-চকোলেট দরকার (ধনকুবের হলে ছোট্ট হীরে)।  মনের সঙ্গে মালের এই সহজ কিন্তু কুটিল সম্পর্ক প্রথমতঃ কল্পনার শত্রু। দুইটি মানুষ যখন এই দিনকেই ইস্পেসাল করে তোলে, এই দিনেই জিনিস -প্রদান করে, তারা নিজেদের স্বকীয়তাকে গৌণ  করে দেয়। রামা-শ্যামা-যদু-মধু সকলেরই প্রেম একদিন বেশি করে জাগে, একই দিনে তারা চেনা চকে চেনা জিনিস করে, তা রাম ও রামীর অথবা রাম ও শ্যামের যে নিজস্বতা, তাকেই নস্যাত করে।  দুই প্রেমীর কাজ হয়ে যায়  গ্লোবাল সংস্কৃতির পাতায় সামান্য ফাঁকা জায়গায় নিজেদের নাম লেখা – ফিল আপ দি ব্ল্যান্ক। বাকিটা এক। কিন্তু মানুষ তো এরকম এক না। তাই পিরিতির এই ভালেন্তিনীয় প্রকাশে কোন কোন সম্ভাবনার মৃত্যু হয় ? নগদ-হীন ভালবাসা প্রকাশে কার লাভ, কার ক্ষতি? কাগজে ছাপাঅশোকস্তম্ভের সিংহের কাঁধে ভর করা এ কোন ভালবাসা ?  অশোক স্তম্ভ ছাড়া যেমন ভারত রাষ্ট্র নেই, চকলেট-খানাপিনা-সিনেমা-ফুল-গিফটের মোড়ক ছাড়ালে যেটা বাকি থাকে, সেটা কি ? এগুলি না থাকলে, কি বাকি থাকে? কাদের ক্ষেত্রে বাকি থাকে, কাদের ক্ষেত্রে থাকে না ? এগুলি স্রেফ প্রশ্ন।  কার ভালবাসা খাঁটি আর কারটা মাটি , সেটা মাপার  জ্ঞান আমার নেই। তবে গদাধর চট্টোপাধ্যায় বলে গেছেন – টাকা মাটি, মাটি টাকা। মা সারদা আজকাল টাকার ব্যাপারে কম বলছেন, মাটি নিয়েই মনোযোগ বেশি। মার্কিন দেশে ২০১৩-তে একেকজন মানুষ গড়ে ৭৮০০ টাকা খরচা করেছেন ভালেন্টাইনস ডে  বাবদ। যদি মার্কিনি হয়োনের শখ থেকে থাকে, তালে ওই ৭৮০০ সংখ্যাটিকে পাখির চোখ মনে করে এগিয়ে চলুন। খ্রিষ্টীয় সন্ত ভালেন্টাইন আপনার সহায় হোন।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে আমাদের বাংলাদেশের জনজীবনে, বিশেষতঃ শহুরে এলাকায় একটা জায়গা করে নিয়েছে।  জায়গা করে নিয়েছে আরো অনেক কিছুই।  এসবের ক্ষেত্রে একটা কথা খুব শোনা যায়।  চয়েস।  আমি যা চাইব। আমি চাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে – এটা আমার চয়েস।  ভালো কথা।  কিন্তু চয়েস বা বাচাবাচির মধ্যে  যা বাছা হয়, তা যাপনে হোক, ভাষায় হোক, বসনে হোক, দিবসে হোক – তার ভৌগোলিক উত্পত্তিস্থল যদি পৃথিবীতে সংখ্যালঘু যে শ্বেতাঙ্গ মানুষজন, তাদের  এলাকা থেকেই আগাপাশতলা আমদানি করা হয়, তাহলে চয়েস আসলে বাড়ে, না কমে ?  বিশ্বায়নের ফলে তো আমাদের  বিশ্ব আরো ব্যাপ্ত হবার কথা ছিল – বসনে, ভূষণে, ভাষায় সবেতে বৈচিত্র বাড়ার কথা ছিল।  তাই না ? গলদটা কোথায়?  তার জন্য হয়ত আমাদের এই ১৪ ফেব্রুয়ারির বাংলায় আমদানির গল্পটি জানতে হবে, সেই আমদানির ফড়েদের কথা জানতে হবে, আমাদের কল্পনা ও ফিলিংস কেমনে  শ্বেতাঙ্গ পপ-কালচারের গারদে আটকা পড়ল, সেটা একটু ভাবতে হবে। শ্বেতাঙ্গ আক্সেন্ট ও জোক্স মুখস্ত করতে করতে আমরা আমাদের বগল ও কুঁচকি দেখতেই ভুলে গেছি। ময়লা জমবেই।  তখন সেন্ট যদি আমদানি করতে হয়, সায়েবের কি দোষ ?

আমি যখন মার্কিন দেশে থাকতাম, তখন ১৪ ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে নানা জিনিস নতুন মোড়কে পাওয়া যেত।  ১8 তারিখ কাটলেই সেগুলির দাম হয়ে যেত অর্ধেক।  আধুনিক ও উত্তর-আধুনিকদের  বিশ্বেও  তিথি অনুযায়ী জিনিসের দর বারে কমে, ঠিক কোজাগরী লক্ষী পুজোর দিনে সবজির মত। এবার ভ্যালেন্টাইন্স পড়েছে পয়লা ফাল্গুনে।  শুনতে কি বোরিং লাগছে না? পয়লা ফাল্গুন আর ১৪ ফেব্রুয়ারী কি এক হলো ?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Language, Sahib

লাভ জেহাদ – তথ্য কই ?

[ ArekRakam]
অধিকাংশ মানব সমাজেই বিবাহ বা তারই কোনো অন্য সমাজ-স্বীকৃত রূপকে মানব-মানবীর প্রেমের স্থায়ী বন্ধনের সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপ বলে মনে করা হয়।  যদিও বাজারে প্রেমে ‘অন্ধ’ হওয়ার কথাটি বেশ চালু আছে, সমাজ স্বীকৃত সম্পর্ক বা নিজেদের রেডিকাল বলে প্রচার করা মানুষদিগের তথাকথিত ‘বিকল্প’ সম্পর্ক-ধারনায় হোক, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার চোখ অন্ধ তো নয়,বন্ধ ও নয়।  যদি বিবাহের দিকেই তাকানো যায় , তাহলেই দেখব যে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, জাত, ভাষা অথবা এ সকল জিনিসের এক সংমিশ্রণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্পষ্ট ভাবে নির্ধারক ভূমিকা নেয়। তাদের ব্যক্তিগত আদর্শ বা চিন্তাধারার কারণে এহেন অবস্থাকে কেউ কেউ অপছন্দ করতেই পারেন, কিন্তু এটাই সামাজিক বাস্তবতা।  শুধু ‘সাধারণ’ মানুষ নন, স্ব-আখ্যাত ‘অসাধারণ’ ও ‘রেডিকেল’ মানুষজনেরও যুগল ভাবনা মুখের বুলিতে যাই হোক, বাস্তবে তাদের
বাছ-বিচারেও ‘সাধারণ’-এর মাপকাঠিগুলিই প্রকট। চড়া গলায় প্রকাশ্য দ্রোহের অন্তরালে দেখা যায় যে ‘অসাধারণ’ রা আসলে সাধারণ।  ক্রিষ্ঠান ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্মানো শ্বেতাঙ্গ পুরুষ-মহিলাগণ, যাদের জীবন ,
আদর্শ ও দর্শন অনেকাংশেই শহুরে দিশি ‘রেডিকেল’ দের অনুপ্রাণিত করে, সেই নরোত্তমেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই ক্রিষ্ঠীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ পরিবারের কাউকেই বিবাহ করে। নানা রকম ‘কসমোপলিটান’ কল্পনার শাক দিয়ে এই মাছ ঢাকার অপচেষ্টা চললেও, এটাই ঘটনা। সংখ্যাগরিষ্ট কে লঘু করে দেখানো আর সংখ্যালঘু কেকে ফাঁপিয়ে দেখানোটা ঈসপের ল্যাজ-কাটা শেয়ালের কৌশলের অংশ।একটা জিনিস বুঝে নেওয়া দরকার। কিছু মহলে, ভিন্ন ধর্ম বা ভাষা বা জাতীয়তার মানুষের মধ্যে বিবাহকে কিছুটা ‘উচ্চতর’ মর্যাদা দেওয়া হয়। যেন এগুলি সাধারণ বিবাহের থেকে একটু উচ্চকোটির জিনিস।  নিজেদের পারিবারিক
ধর্মের মানুষকেই বিবাহ করেন মানব জাতির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ। ভালো-মন্দ অপ্রাসঙ্গিক। এইটেই বাস্তব।
‘লাভ জেহাদ’ হলো এমন এক ঘটনা যেখানে মোসলমান পুরুষ পূর্ব-পরিকল্পিত ভাবে অ-মোসলমান নারীকে বাছাই করে, অনেক ক্ষেত্রে নিজের মোসলমান পরিচয় গোপন করে  তার সাথে  প্রেম, বিবাহ বা যৌনাচার বা সবকটিই করে শেষ অবধি তাকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার উদেশ্যে বা অ-মোসলমান নারী ও তার সমাজের সম্ভ্রম-হানি ঘটানোর উদ্দেশ্যে। পাকিস্তানে (বিশেষত সিন্ধু প্রদেশে) ও ইংলন্ডে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় ইউনিয়ন-এ কেরল, কর্নাটক ও সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ  থেকে এমন কিছু ঘটনার অভিযোগ এসছে।  এই ঘটনাগুলিতে পুলিশী তদন্ত কিন্তু এমন কোনো ব্যাপক তথা পূর্বপরিকল্পিত ‘লাভ জেহাদ’-এর মত ঘটনার  প্রমাণ পায়নি।  উত্তর প্রদেশের মতো এলাকা, যেখানে সাম্প্রদায়িক রেষারেষির সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, সেখানে এই ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চলেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী কিছু চক্রের সাহায্যে।
ভারতীয় ইউনিয়ন-এ যে আইন প্রচলিত আছে, তাতে কোনো মোসলমান পুরুষ-এর কোন অ-মোসলমান নারীর সাথে প্রেম বা বিবাহ করতে বাধা নেই, বাধা নেই সেই মহিলাকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করতেও। একই ভাবে, কোন হিন্দু পুরুষ-এরও কোন অ-হিন্দু নারীর সাথে প্রেম বা বিবাহ করতে বা ধর্মান্তরিত করানোতে বাধা নেই।  যখন এই জিনিসগুলি ঘটে, তখন খাঁটি প্রেমের কারণে হয় নাকি মনের গোপনে গোপনে তা কেউ অপর ধর্মের নারী-দের ফাঁসানোর উদেশ্যে করে, তা জানতে মনের খবর জানার যে প্রযুক্তি প্রয়োজন, তা ভাগ্যিস এখুনো কল্পবিজ্ঞানের স্তরেই আছে। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে পরিচয় গোপন করে (  উদাহরণ স্বরূপ, কোন হিন্দু পুরুষ যদি তার হিন্দু পরিচয় গোপন করে সে মোসলমান , এমন ধারণা দেয়ে কোন মোসলমান নারী-কে আকর্ষিত করতে), সে ক্ষেত্রে ব্যাপারটা জালিয়াতি বলেই গন্য করা উচিত এবং এর পিছনে অন্য অসাধু উদ্দেশ্যের কথাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।  যদিও এমন জালিয়াতির ঘটনা কিছু পাওয়া-ও যায়, তার ভিত্তিতে এটা বলা  সম্ভব না যে এই ঘটনা বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কি না। কিন্তু ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে যে উত্তেজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যাপারে পরিষ্কার তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।  যখন তথ্য থাকে অপ্রতুল, তখন বাগাড়ম্বর, গুজব ও ঘৃণা-উদ্ভূত কল্পিত ‘তথ্য’-ই সত্যের স্থান দখল করে নেয়।  সেটা একটা বিপজ্জনক খেলা। অনেক সময় নিরীহ মানুষকে  রক্তে সে খেলার দাম চোকাতে হয়।
ভারতীয় ইউনিয়ন-এ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে অবিবাহিত যে কোন পুরুষ  বর্তমানে অবিবাহিত যে কোন মহিলাকে বিবাহ করতে পারে।  যদি কোন ধর্মের থেকে অপর ধর্মের মহিলাদের বিশেষ-ভাবে ‘টার্গেট’ না করা হয়, এ ব্যবস্থার ফলশ্রুতি হিসেবে বাস্তবে এই দেখতে পাওয়া উচিত যে হিন্দু স্বামী – মোসলমান স্ত্রী যুগলের সংখ্যা মোসলমান স্বামী – হিন্দু স্ত্রী যুগল সংখ্যার মোটামুটি কাছাকাছি। রাজ্য স্তরে বা জেলা স্তরেও এই প্যাটার্ন দেখতে পাওয়া উচিত।  তার থেকেও স্থানীয় স্তর-এ সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচার করার মত সংখ্যায় তথ্য নাও থাকতে পারে।  যদি রাজ্য স্তরে বা জেলা স্তরে দেখা যায় এক ধরণের যুগলের সংখ্যার সাথে  অন্য ধরণের যুগলের সংখ্যার অনেকটা অসাম্য রয়েছে, তখন বৃহত্তর কারণের কথা ভাবতে হবে।  কিন্তু ঘটনা হলো, এসব কোন তথ্যই কারো কাছে নেই।  এমন তথ্য কেন নেই, সে প্রশ্ন করা দরকার – বিশেষত যখন এই ধরনের ব্যাপার বর্তমান রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে এমন বিভেদকারী পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। ভারতীয় ইউনিয়ন-এ জ্ঞানীগুনী  গবেষকের কোনো অভাব নেই।  ভালো করে সমাজ-বিজ্ঞান ভিত্তিক একটা কাজ করে, জরিপ করে এগুলি জানতে পারা কি এতই শক্ত? দেশ ও দশের সামাজিক-রাজনৈতিক  জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক গবেষণাতে এহেন অনীহা এই উপমহাদেশের জ্ঞানী শ্রেনীর  সমাজ-বিচ্যুত অবস্থানের দিকেই দিক-নির্দেশ করে। অথচ টিভি তথা অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে  প্রায়শই দেখা যায় পন্ডিত ও আলোচকদের , ‘লাভ জেহাদ’ সত্য বা মিথ্যা, এই নিয়ে জোর গলায়ে দাবি রাখতে, এক তিল তথ্য প্রদান না করেও।  এটা শুধু হতাশাব্যঞ্জক নয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বটে।
জনসংখ্যার ধর্মভিত্তিক অনুপাত ইত্যাদি নিয়ে উদ্বেগ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, দুইই বাস্তব। গুজরাটের সুরাবর্দি এবং অধুনা ভারতীয় ইউনিয়ন-এর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক সময়  নিয়মিত ভাবে তার রাজনৈতিক জমায়েত-এ মোসলমান সম্প্রদায়-কে ব্যঙ্গ করতেন  ‘হাম পাঁচ , হামারে পচ্চিস ‘ ( আমরা পাঁচজন , আমাদের পচিসজন ) বলে।  অর্থাত , এক মোসলমান পুরুষ, তার ৪ স্ত্রী, ও তার ফলে ২৫ টি সন্তান।  এর মাধ্যমে ইসলাম স্বীকৃত ও ভারতীয় আইন স্বীকৃত  মোসলমান পুরুষের বহুবিবাহের বৈধতার দিকে যেমন খোঁচা আছে, তেমনি আছে বেশি সংখ্যক সন্তান উত্পাদনের মাধ্যমে জন-সংখ্যার ধর্মভিত্তিক অনুপাত বদলানোর প্রচেষ্টার ইঙ্গিত। এই নিয়ে প্রচার ‘লাভ জেহাদ’ এর থেকে অনেক বেশি।  এই যে দাবি, যা নিয়ে প্রচার-ও বড় কম নয়, তার কি বাস্তব ভিত্তি আছে। অন্ততঃ বহুবিবাহ প্রশ্নে উত্তর স্পষ্টতই না।  কারণ এক্ষেত্রে তথ্য আছে। যতদিন আদমশুমারিতে বিবাহিত স্ত্রীর সংখ্যা গণনা করা হত, তার শেষ তথ্য ১৯৬১ সালের আদমশুমারির। তাতে আমরা কি দেখতে পাই? আমরা দেখি যে ৫.৭% মোসলমান পুরুষের একাধিক স্ত্রী আছে। অর্থাৎ মোটামুটি ২০ জন-এ ১ জন মোসলমান পুরুষের ১৯৬১ নাগাদ একাধিক স্ত্রী ছিল।  সেই একই সময়ে হিন্দু পুরুষের বহুবিবাহের হার হলো ৫.৮% – অর্থাৎ মোটামুটি এক, এবং চুলচেরা বিচার করলে অতি সামান্য বেশি-ই। অর্থাৎ বাস্তব তথ্য বহুবিবাহ সংক্রান্ত  মুসলমান-বিদ্বেষী প্রচারের বিপরীত।  ঠিক এই কারণেই তথ্য প্রয়োজন, প্রয়োজন সংখ্যার – ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত, আছে না নেই, এই সব দিয়ে পরিস্থিতি বিষনোর আগে।এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভালো যে ১৯৫৫ অবধি হিন্দু বহুবিবাহ-ও আইনত বৈধ ছিল। আজও মোসলমান সম্প্রদায়ের বিরুধ্যে অন্য সম্প্রদায়ের থেকে বেশি হারে বহুবিবাহের অভিযোগ আনা হয় হরদম কোন তথ্যের ধার না ধেরেই।
তথ্য ভিত্তিহীন প্রচারের ভুক্তভোগী কুলীন ব্রাহ্মণেরাও।  রাজনৈতিক প্রচারে, ব্যঙ্গে এবং ‘অন্তর্জলি যাত্রা’র মতো  চলচ্চিত্রের ফলে এক ধারণা জনমানসে বেশ বদ্ধমূল।  তা হলো এক কালের  কুলীন ব্রাহ্মণ মাত্রেই বহুবিবাহ করা লোক।এ কথা সত্য যে কিছু কুলীন ব্রাহ্মণ বহুবিবাহ করতেন – তাদের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র অংশ বিশাল সংখ্যায় করতেন এই কদর্য  কাজ।  এ নিয়ে বিতর্ক নেই।  কিন্তু কুলীন ব্রাহ্মণ বলতেই যে একরকম চরিত্র-অঙ্কন তার মধ্যে রয়েছে গোঁজামিল। যে সমাজে কন্যা ভ্রুণ হত্যার সুদীর্ঘ মর্মন্তুদ ইতিহাস রয়েছে এবং বিবাহে জাতের বাছ-বিচারের ফলে নিজের জাতেই বিয়ে হত কুলীন ব্রাহ্মণ-দের, সেই পরিপ্রেক্ষিতে সেক্স রেসিও (অর্থাত জনসংখ্যায়  ১০০০ পুরুষ প্রতি কজন মহিলা) ১০০০-এর কম হওয়াটাই  স্বাভাবিক।  যেখানে অনেক কুলীন ব্রাহ্মণ পুরুষের স্ত্রী জতারি কথা নয় সরল সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচারে, সেখানে বহুবিবাহের ব্যাপক প্রসার এক কথায় অসম্ভব।  ঠিক যেমন যে কোন সমাজে একই সাথে একধিক স্ত্রী থাকার ব্যাপারটি এক ক্ষুদ্র অংশেরই আচরণ হতে পারে।  অন্যথা হওয়াটা গাণিতিক-ভাবেই দুষ্কর।
কাউকে কেউ অপছন্দ করতেই পারেন, সে মোসলমান হোক, কুলীন ব্রাহ্মণ হোক, শ্বেতাঙ্গ সাহেব হোক। কিন্তু সে ঘৃণার বর্শায়ে বিষ হিসেবে বাস্তব-ভিত্তিহীন প্রচার মাখানো অন্যায় ও পাপ।  ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে যে বিতর্ক, তা এই ধরনের প্রচারের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ মাত্র।  বরং প্রশ্ন উঠুক – তথ্য নেই কেন ? সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তথ্যই তো গণ-বিতর্ক-কে শক্তিশালী করে।  অন্যথা চলে ঘৃনা-প্রতিঘৃণার এক প্রাচীন খেলা। প্রশ্ন যখন সংখ্যা নিয়ে, তথ্যই হোক হাতিয়ার। গুজবের মাঞ্জা দিয়ে একে অপরকে ভো-কাট্টা করার অপচেষ্টা বন্ধ হোক।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Community, Gender, Religion, Sex

Looking for colours beyond Holi / Are there colours that Holi suppresses?

[ Daily News and Analysis, 19 Mar 2014 ]

There is a high possibility that some of the readers of this column still have colour-stains on their faces and bodies from the festival of colours. Monday, March 17, was Holi. All parts of the Indian Union had a riot with colours – one would have been led to believe. The multi-colour motif of Holi comes in handy as a living manifestation of the much-touted ‘unity in diversity’ trademark of this nation-state. People sprinkled colours on each other. Unsuspecting people who were out and about wearing normal dress regretted that they did so. A lot of bhang-laden Thandai was drunk. A lot of women were taken advantage of. Some desi and many firangi photographers were shooting away to capture the colourful ‘soul of India’ that was on public display on its streets and on private display in the farmhouses of the powerful. That was the day. Or was it?

Sunday, March 16, was Dol-Jatra for tens of millions of inhabitants of Odisha, Assam and Bengal, and yes that too was a riot of colours. ‘Dol’ means a swing and Jatra means journey. Of course, Lord Krishna and Radha are the ones of the swing and the devotees take them around. Phakuwa happened in Assam around the same time. All this is accompanied with much merriment with colours. There is no thandai involved. Not all ‘festivals of colour’ are the same. When someone says, Dol Jatra is Bengal’s version of Holi, it does not sound objectionable. However, if I say, Holi is Delhi’s or Uttar Pradesh’s version of Dol Jatra, it sounds odd. At that, some will say, I am being ‘parochial’. I will be advised not to mix-up up the mainstream with the variant, the standard language with the marginal dialect. I will be shown my place. I will be forced to play along in the ‘national’ festival of colours. Some will say, how does the name matter – it’s a fun occasion after all. It is easy for people to ‘look past’ variations, when the hierarchy of variations favours their cultural world. Others ‘look past’ to be accepted by the ‘mainstream’.

The problem with this idea of a cultural ‘mainstream’ with ‘regional’ variants is that it is a sophisticated name for good old crude majoritarianism. So much for the half-hearted paeans to ‘unity in diversity’. If you thought that the state does not endorse one view over another, think again. In West Bengal, the governor notified that the day after Dol Jatra will also be a holiday in all offices under the Government of West Bengal. In the Central governments list of holidays, there is only mention of Holika Dahan. There is no mention of the name Dol Jatra. The deep ideology of a state is given by these ‘innocuous’ choices, of font-size variations of different languages in Gandhi-chhap currency notes, the automatic language of CRPF or BSF irrespective of their posting in West Bengal or Tamil Nadu and many other instances. Look for such signs. They are everywhere.

There are soft-exports too. The marriage-associated events from the Punjab and the Hindi-heartland are now increasingly part of marriage ceremonies of Bengalis and Kannadigas. The most sublime form of this cultural hierarchy is seen is diasporic communities whose marriages invariably have ‘Sangeet’ and the colour festival is always called ‘Holi’. They are nothing but Indians. The next group who embody this sublime ideology are the upwardly mobile, well-off yuppies who have voluntarily moved to subcontinental cities located outside the province they were born in. Such ethno-cultural flattening does no service to the Hindi-heartland where many cultures are in a state of decay, thanks to metro-centrism Hindianism.

Whose ‘local’ becomes ‘national’ and whose ‘local’ disappears when ideas like ‘all India’ and ‘mainstream’ are evoked? Why is the direction of traffic in this supposedly two-way street so predictable? When was the last time a Tamil marriage/religious/cultural custom went ‘mainstream’ and was picked up in Delhi? Why does the leading contender for prime-ministership focus most in areas where Holi is the uncontested name for the festival of colours. Whether that kind of politics expands the palette in this diverse subcontinent is a different matter.

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Community, Culture, Delhi Durbar, Faith, Identity

A khidki into our minds / Khidki opens a window

[ Fountain Ink, April 2014 ]

Thanks to the mid-night anti ‘drug’ and ‘prostitution’ activism by the erstwhile Delhi law minister Somnath Bharti, the Khidki Village in Delhi had suddenly shot into prominence in the subcontinent and beyond. Many from New Delhi and elsewhere, who had barely heard of this place, descended upon the area in the aftermath of the ‘racist vigilantism’, to see the ‘backward’ brown creatures that inhabit that area. They wanted to see the village that lives up to its ’village-ness’, tucked in one of the armpits of the ‘cosmopolitan’ NCR metropolis. The Khidki village is older than all the malls and multiplexes of the NCR, older than all the universities of ‘New Delhi’, older than the nation’s bequeathed capital ‘New Delhi’, older than the nation, older than the idea of the ‘national’ and for that matter older than the ‘idea of India’. For all its antiquity, yuppies who claim to have a thing for brown heritage would much rather live in some sector of Gurgaon or Noida. Who wants to live in ‘Khidki village’? You know how that sounds, especially the derogation with which names like Khidki village are taken.

Outsiders (the non-village kind) from New Delhi refer to it as an ‘urban village’ (the inhabitants simply call it their village). There is a certain hip-ness that comes with the ‘urban village’ tag as it prepares the ground for using the area as a creative arts canvas by hip folks whose dads wont allow their own ‘authorised’ neighbourhoods for similar ‘creative’ projects. Khidki village and its extension have yet not earned the ‘hip and cool’ tag associated with another similar largely ‘unauthorised’ village agglomerate in Delhi called Shahpur Jat. This one has excelled as a haunt of White foreigners and brown yuppies with disposable cash. ‘Creativity’, ‘experimentation’, ‘urban village’ – brochures are full of these terms, marking out a niche as a social calendar hotspots. The elite’s ‘art’ studios feeding on low rents and insecurity of ‘unauthorised colonies’ bloom here. The inequality helps stretch the urban canvas – creative ‘arts’ indeed.

But I digress. The residents – they live there. They call it home. They have been calling it home much before six other villages were destroyed to make way for what is the New Delhi of the Union of India. Some people have roots, live in communities and do ‘come into their own’ with the fashionable beam of ‘urban anomy’.

The Khidki extension episode about Aam Aadmi Party minister Somnath Bharti’s nocturnal activism over ‘drugs’ and ‘prostitution’ has made monsters-at-large out of the minister and the complaining people of Khidki village. In circles whose voice comes most alive in European jargon, this has been called the cheap politics of ‘othering’. Worse displays of animus against African people have happened through cases of outright violence and at least one instance of vilification by a Goa minister. ‘Liberal India’ has typically swung into damage control mode. This damage control has included round after round of sanctimonious condemnation of racism against African black people. Television media knows its constituency of self-congratulation well and has followed it up with various talk shows themed around various versions of the question ‘Are we racists?’ and has invariably concluded that some bad apples are. And have added ‘I love you’ notes to Nigerians, at the end of such shows. Such shows also discuss the racism faced by desis abroad. The racism that uppity NRI desis show in their promised land and many desis show in the subcontinent can only be matched by the alarm that raised when some relatively elite brown gets paid back in the same coin in some white land.

With upward mobility for a section of the metropolis janata and the Indian Union taking a ‘greater role’ at the world stage, more of these people have white friends and acquaintances than ever before. Just when elite desis and their known whites seemed to have reached non-racist nirvana – imagining themselves as part of some universal brotherhood of idea, commerce, commodity and romance exchange, the prejudiced desi hordes are letting this emancipated side down. This is the source of embarrassment. Not themselves, but those who share their skin colour and give the whole team a bad name. During the British Raj, this embarrassed class of browns was quite well known and did well for themselves by distinguishing themselves from the ‘uncivilised’ loathsome browns. The overall rising tide of anti-colonial sentiment made such embarrassment less fashionable for sometime. Post 1990s, the sharp rise in the petulance/anger of brown consumer elites with racism they face abroad is matched by their condemnation of racism at home. This is one real contribution of GDP growth and ‘international“10 ization’ of commodity markets. With India rising and shining alongside the white world, in malls and tourist destinations, commercial and academic engagements, and anti-colonialism being passé, the time is ripe for more public display of embarrassment. The audience for this is the white World and self-image the desi liberal has created for oneself and almost believes in. They would hate to be confused with other browns.

But then, talk is cheap. The backward browns have shown their true colour through explicit racism that makes liberal, our homegrown ‘world citizens’ shudder. But what about things that are implicit in patterns of behaviour? Those are harder to track down but when done, do say a whole lot about the people practicing it. Their own displaying prejudice explicitly can be called out for it and asked to change, or at least reassess, their positions. But what about those whose public lives are epitomes of ‘ultra-liberal’ posturing peppered with condemnation of the ‘backward’ while implicit in their behaviour are exactly the for which they publicly bad-mouth the ‘backward’ every day? When you have such a class lecturing the prejudiced at every opportunity, the result is a farce of a poor quality. The farce needs to be exposed for what it is – too many people enjoy excellent views from the moral high ground that they occupy undeservedly. Too many are condemning the ‘backward’ by standing on self-constructed pedestals.When we are all naked, and the ‘liberal’ gives up the pretension of wearing ‘ultra-fine’ clothes, we can start talking truth. We can have a dialogue. We can be embarrassed or not, for what we are – irrespective of whether white people are watching.

What constitutes the ‘world’ of the ‘world citizen’– the world is mentally, if not physically located in a temperate zone OECD white-Caucasian country, given that not much of the world fits that description, the extent of the mental world of the world citizen is not so big after all. It is hard to map out the mental world but some things can give us certain clues.

The ‘free choice’ that these brown ‘world-citizens’ in matters of marriage, romance and sex can be revealing. With increasing number of non-browns coming to the subcontinent and a correspondingly increasing number of browns going to ‘foreign’ countries, there are some foreign-brown marriages that happen. That’s all good. Now close your eyes and picture such a couple. There are many such ‘cute couples’ now. Note the colour of the ‘foreigner’ in the frame. Most likely, it is not someone African or Afro-American. The ‘cute’ or the ‘angelic’, sadly is from the same races whose mental worlds have shaped the world-view of the brown liberal – typically French of Anglo.

One in eight Americans are black. More than one in six are non-Whites (including Latinos, not including other browns). Now think of some people you may know or you may have heard of, who have married Americans. Normal human interaction without any colour prejudice or special colour affinity would have resulted in one in six such marriages being with non-Whites. Is that the case? Hell no. Is that the case even among those who would declare that in their post-racist world, love runs blind? Hell no. If you ask them individually, they would have said that their own White choice is ‘incidental’. It could have been someone black. Just that it hardly ever is. Their non-prejudiced ‘choice’ is so predictable, that it takes away all suspense. Many such individual choices hide behind the mask of politically correct speech. This closely parallels the marriage choices of the ‘I don’t believe in caste’ types. Individually, they would burn the sacred-thread (if a male) and/or denounce the ‘caste system’. Just that their life choices speak louder than their speeches and posturing. The cosmopolitan Savarna liberal usually leads a schizophrenic existence.

Let us come back to the subcontinent. Darker Africans have been coming to many parts of the subcontinent in recent years. A large number of them are students. ICCR has offered 900 specialised scholarships for students from African countries. There are more than 10,000 African students in the subcontinent and the largest chunk is in the institutions of NCR. Incidentally, African students consider Kochi, a city without the intellectual pretensions of New Delhi, very safe. There are thousands of Nigerians in the NCR. As for the students, we are talking of very meritorious ones, many of them studying in significant numbers in the NCR’s most premier institutions. But when it comes to campus-coupling of browns with foreigners (especially in vogue among liberal circles of elite institutions), whites rule the roost. The students from Africa may study advanced biology, Kathak dance, journalism, architecture, literature, history, sociology, urban planning, gender studies and many other things, but they are no match. I stress the liberal and elite bit, as these are the spaces from where the shrillest chants against racism typically come, along with pronouncements that they stand above differences of race, caste, colour and such things. For the ‘radical’ and ‘liberated’, neither the African nor the East Asian students do not forms a part of their desirable cohort, for purposes of campus romance or intimacy. Those from Manipur or Nagaland are also similarly excluded, always spoken on behalf of, by the predictable crowds. But when it comes to ‘desirability’ and ‘companionship’ as equals, other aliens matter. Whites win hands on. The white on campus will have an inordinately long line of droolers. Desirability is as much about how one’s views oneself as it is about the desirable one out there.

What is the source of such desire and skewed choices? Doesn’t it have something to do with fantasies tied with the awe that power evokes in certain minds? More often than not, it comes from a weak bond with one’s living environment, developing into a hatred of things associated with one’s own community. This journey away from the self is couched in the celebratory notion of ‘liberation’ – a journey involving progress towards a universal human ‘love-in’. That suits white Caucasians on campus very well, to find suddenly themselves in the enviable position of being able to punch way above their weight. It does not matter who approaches ‘first’ but the white in skin is acutely aware of his/her ‘market value’ in postcolonial lands, especially among the tribe of those with brown bodies with culturally illiterate, trying-hard-to-be-white minds. This state of thing makes it relatively easy for the gora who only has to show a little interest in things native and might even learn a native phrase or two. Before they can show that off, the coconut native is already trying to impress by showing off his/her acquaintance with all things white – their culture (pop and sophisticated), their stories, their sitcoms, their epistemologies, their myths, their histories, their nuances with some half-baked critique thrown in so as to avoid appearing too eager. Gone are the ‘politically correct’ measures of mutual compatibility based on mutual respect – otherwise the East Asian and black African students would not be so undesirable in romance and intimacy compared to Whites, even among the ‘thinking’ and ‘elite’ academic spaces, even among the ‘liberated’ and the ‘radical’? For these coconuts, of course the next best thing after a white body with a white mind is another fellow brown body with a white-mind. Certain kinds of urban agglomerations offer excellent refuges for browns to explore their mutually shared whiteness. They are also the elite – fatafat English, chain-café hangout types, even with browns of the same mother tongue.

The ex-colony is indeed an unfortunate thing. There is always a lingering infection at the head, because the vernacular non-elites could never quite take over and are on a retreat. Transfer of power happened so that the production of brown bodies with white minds could go on with locally produced grease. Not quite Macaulay. Way sophisticated. Way sordid. At least Macaulay’s children looked like buffoons to the rest of the browns and they themselves had few illusions of reciprocal equality with the whites. Now, the illusion of reciprocal equality with whites is strong. Alienated from their own communities, they need to maintain self-respect by these means. Due to their ubiquity in media and academia, they have an inordinate influence over the aspirational dreams of the masses. The new buffoons have indeed turned the joke on the people. It must be supreme irony that some of these ‘liberated’ browns will go on to lecture us other browns on agency, structures of power, media representation, feminism, politics of culture, indigeneity, even equality.

This holding of whites in high esteem is not peculiar to certain browns. Data from millions of users of the popular US dating website OKCupid suggests exactly the same (http://qz.com/149342/the-uncomfortable-racial-preferences-revealed-by-online-dating/). Disproportionately high (as in higher than what population percentages would suggest) desirability of whites as partners cuts across most non-white races, except African-Americans. The funny bit is that the data also reveals that this special desirability is not reciprocated by whites to any non-white group. One non-white person probably gets tantalizingly close to the origins of disproportionate desire by a description. The person talks about having grown up filled primarily with white narratives and depictions of white people and felt as if she was ‘in a movie’ when she was romancing a white. From the lists of ‘hottest actors’ to ‘sexiest actresses’, from fiction to philosophy, they cast a very deep shadow on the person’s mind that felt during intimate moments with the white partner that one was living a long-pregnant fantasy, as if it was a movie. The African-Americans, having to live with the reality of whiteness, as opposed to the nurtured fantasy about whiteness, have no illusions. They are confident enough to have a spine to hold them up straight without white crutches.

The ‘conservative’ in brown-land at least makes his/her mindset clear. They probably neither like the white nor the black. However, for the ‘liberal’, among the itinerant foreigners who come for study and pleasure, it is mostly the white that gets intimate attention, with others largely avoided. The ‘liberated’ typically talks his/her way out by jargonised hypocritical bluster. In fact, the observable action of black-avoidance being same, this bit dishonesty makes them a notch worse than the conservatives – and there is the rub. For the ‘enlightened’ and the ‘liberated’ are loathe to admit that they too are products of the ‘dominant’ worldview of white-worship. That in practice boils down to racial preference and that does not sound nice. The ‘liberated’ believes that dominant world-views only affect the ‘mindless’ hoi polloi. Facts show that they are not outside but inside the circle of dominance. Such stark demonstrations can be heart wrenching. Liberation warriors become quivering and petulant balls of self-defence, alarmed at the tug at the ground beneath their feet, the ground they had fashioned into a pedestal to preach others from. All kinds of desperate and verbose ego defences come up, aided by jargonized bluster.

Those who are busy condemning and vilifying the people of Khidki extension en masse stress that some of the residents who had gathered had even uttered the ‘N-word’. It was. The ‘N-word’ was also used to build brown-black solidarity against racism and anti-communist witch-hunt in the United States of America. One does not expect the yuppie anti-racists to have heard about the song ‘Negro bhai amar, Paul Robeson’ that Kamal Sarkar composed based on Najim Hikmet’s verses, a most popular song that the legendary folk-singer Hemango Biswas extensively sang. For that matter, the N-word vigilantes probably have not heard of Paul Robeson. For them, history started with 1991. One might add that the song inspired more people in the subcontinent to develop serious anti-racist views as well as a critique of the American state that newly-learned knee-jerk political correctness about ‘N-word’ and other White speech-forms can ever evoke. The particular charge that comes with the ‘N-word’ has a certain context. Ashis Nandy has repeatedly taught us one thing – to take people’s categories seriously. Grounded social and cultural literacy is not to be expected from those who think that only white people’s categories are the ones with meaning. A peculiar kind of browns whose cosmopolitanism almost always translates into a greater understanding of nuances and contexts of things from white lands than things back ‘home’ (the flittering class actually doesn’t like to be ‘tied down’ to the concept of ‘home’) possibly doesn’t realise the ridiculousness of charging the people of Khidki extension of using the ‘N-word’. Having gained adulthood by being consumers of Anglo-American public discourse and pop trivia, they often forget that their books, TV shows, webpages and magazines are part of their bubble-existence. To think that the bubble is the world may be fine for life and times in the bubble-urbania. The problem happens when they venture out into the real world and use their bubble-derived notions and categories to judge that. While being exquisitely literate about the ‘N-word’s horrendousness, they would not be able to name even 10 derogatory words used to refer to dalits in the subcontinent. This is no sign of enlightened purity or post-casteism or castelessness but the stench of super privilege by which everyday categories and realities have been shut out of their lives. Forever coddled, forever urban, forever ‘non-casteist’, forever offended by the N-word, neither can they name 10 dalit sub-groups (not that those who can pass the ‘name test’ are virtuous, but they are at least in touch with the structure they benefit from and have no illusions of innocence). Some of the disproportionate beneficiaries of a system can afford to not know the details of the victims. What is offensive is that these are kinds who are stomping all over the Khidki residents, with a righteous indignation. The browns are an unfortunate people. Those divorced from reality are the narrative-peddlers and the chroniclers of social tension and cultural flux of the browns. Sleek presentation in elite language and idiom, coupled with political correctness has helped many of the chroniclers go places.

The reality is, hundreds of African students stayed in the Khidki area. The same cannot be said of most ‘respectable’ yuppie locations of New Delhi, Noida and Gurgaon. Not every locality allows a ‘ghetto’ to develop. The curious bit is that areas without African ‘ghettos’ are typically places where the Khidki-haters like to live in. Whites get treated differently. May be they would have been treated differently at Khidki too. But wouldn’t those who criticize the Khidki residents while regularly lounging at ‘artistic’ cafes and other upscale hangout-with-whites-like-whites locales also treat them differently? The ‘backward’ Khidki-wallas do not hide their feelings. Khidki residents have not (yet) learned the language and style of appearing to be non-racist. The ‘backward’ often responds with equal alienation to black and white. Others who hide their selective alienation, having learned the language of not letting feelings and subjectivities publicly known, uses the ill-gotten pedestal to preach against racism.

The Khidki incident has given rise to many paeans to the ‘diversity’ of New Delhi and how the ‘othering’ of the black-Africans is a blot on its ‘cosmopolitan’ image. This ‘othering’ bit, a category dutifully imported from ‘Continental’ discourse, is a non-issue here. The problem is segregation. That is a broader issue than Africans. It is also about who is typically rounded up by the police when a car-lifting happens, or who is issued an ID card or is asked to register at the local police station because one happens to work as a domestic help in a upscale area. Just because these browns do not have an explicit skin-marker, does not make the treatment meted out them any different. However, all that is normal, even as youths from these posh homes have also added their voice against Khidki. It is not a simple blind spot. What are the predictable triggers of righteous indignation? Why does it typically parallel what would trigger indignation in a supposedly post-racist Euro-American society? Why are our daily segregations, born in the belly of our society, not similarly spectacular and newsworthy? The yardsticks of whose social realities have we borrowed to assess our own? What makes us chose among the segregations? What is the rank-order in our heads? From where did we import this hierarchy? By choosing to privilege one kind of segregation over another, which audience are we signaling to? Are all these audiences domestic? What does this tacitly self-congratulatory ‘anti-racism’ vis-à-vis the silence over daily seggregations tell us about our selves?

Leave a comment

Filed under Acedemia, Community, Culture, Elite, Eros, Gender, Non-barbarians, Our underbellies, Sahib, The perfumed ones, Under the skin, Urbanity

Eight tight slaps from Niyamgiri tribals / On giving up other ways of being human / Slippery slopes of development

[ Daily News and Analysis, 6 Aug 2013 ;  Shillong Times, 9 Aug 2013 ; Millenium Post, 9 Aug 2013 ; Echo of India, 12 Aug 2013 ; Morung Express, 20 Aug 2013 ]

You lifted one fistful of salt

And an empire was shamed.

Lift

One fistful of rubble

Now

And pour it on our shameless heads.

(Written by Gopal Gandhi on 6th December, 1992 – the day of Babri demolition)

In the United States of America, Thanksgiving Day is an example of a rather successful attempt in creating a popular and false impression of a harmonious past of North America – one of peaceful coexistence between White Christian colonizers and the colonized indigenous people. With decades of state endorsement, school indoctrination and mass-market celebration, genocide has been whitewashed into a love-in of sorts. But the descendants of the survivors still live and there is no forgetting. Certain truths cannot be buried by concrete and asbestos.

On one such day, some years ago, strolling in the Harvard campus, I saw a small group of native American youth standing in a semi-circle around a temporary structure that whispered –‘ this is a special space’. Someone elder led the invocations that exuded an unmistakable aura of sacredness to me. Before the genocide, this used to be a community celebration. Now, to the onlooker, it is a bunch of weirdos in strange gear doing their own thing in a campus that celebrates ‘diversity’ – adding to that vaunted cosmopolitan urbanscape that so many hold up as a model of all human futures, that pinnacle of rootless aspirations. Before the genocide, this was public culture. Today it is a curious performance, an act in the corner. How does it feel? I do not know. But I do know that less than 3 months from now the debi-paksha (the lunar fortnight of goddess Durga) will start and my clan-home in a village called Patuligram in Hooghly district of West Bengal will come alive to welcome the mother goddess, like every year. What if we had to do this invocation on the sly, and looked upon curiously? Could I then feel how those young people at Harvard were feeling that day? Probably not. I would not be accounting for the loss of language, community, clan-people, independence. And still they survive. For it is not that easy for everyone to give up other ways of being human.

It is partly an appreciation of this stubbornness that drew some activists, students and ragamuffins to a protest last week in front of the Orissa Bhavan at New Delhi. Niyamgiri, the holy hill, produced the valiant Dongria Kondh who have not only challenged the collective might of some of the most powerful money-gatherers and fixers of the world, but have also tripped up the trajectory of ‘progress’. What obscene cost-benefit calculation can put a price on a god and his abode? To us Bengali Shaktos (worshipper of goddess Shakti), what would be the ‘right price’ to dig up the Kali temple at Kalighat if bauxite were to be found underneath? The Dongria Kondh people have stuck to their main man, their principal deity Niyamraja for Niyamraja (the giver of law) has been sticking to them forever. Ijurupa, Phuldumer, Batudi, Palberi, Kunakadu, Tadijhola, Kesarpadi and Serkapadi are eight villages whose gram-sabhas have rejected a proposed bauxite-mining plan in Niyamgiri. In effect, these are eight tight slaps to an entire industry of consensus building that includes corporate houses, lobbyists, politicians, columnists, economists, ad-agencies, ‘development’-wallahs. CSR-wallahs, FabIndia-DSLR-NGOwallahs and probably your and my dad. Such has been the force of these slaps that the forces-that-be have pushed into action their spin-machine to concoct some ‘depth of Indian democracy’ type of bed-time story out of it. The force of the eight slaps (and there may be more) come precisely from forms of socio-political legitimacy and communitarian rights which are the bane of the forces-that-be. For all their love of swadeshi gods, like others, the saffron-party too has been exposed – that their love for alumina can easily make them sell gods on the sly.

In February, in Lakutia, near Barisal in East Bengal, I saw the ruins of a series of shiv-mandirs – corpses of places of worship. I remember muttering under by breath,  ‘never again’. Many have surrendered to those words, so simple yet so decisive – “it is too late now.” The Dongria Kondh seem to have different ideas about time and action. Far away, in southern Orissa, an explosive experiment in grassroots democracy is shaking the world. If it has not shaken your world, it better did.

1 Comment

Filed under A million Gods, Americas, Bahishkrit Samaj, Community, Democracy, Displacement, Faith, Identity, Jal Jangal Zameen, Religion

The rise and rise of portable religion

[ Daily News and Analysis, 23 Jul 2013 ]

I remember a time, not so long ago, when my very Bengali brahmin family would travel outside Bengal. The visits would include religious places. Their attitude towards these places was clear – these were divine all right, but it was clearly understood within the family that these places were not ‘ours’. Sometimes such places invoked awe due to size, sometimes due to the volume of the crowds.

‘Our’ gods lay elsewhere. Among the creepers and water-bodies of a small village in the Hooghly district of Bengal, a particular mother goddess was omnipresent in the vocabulary of our family. They were in the form of a snake goddess who sat in a precarious perch near our Kolkata home, in a makeshift ‘temple’ between a bridge and a river. There was the lump-shaped Dharma Thakur, again of our village, who has had steadfastly refused brahminic mediation to this day. My family has come to live intimately with their moods and powers, their vehemence and their limits. They are ‘our’ gods.

In the last couple of decades, certain sentences have been thrown at me multiple times – scenarios I would not have expected earlier. The foremost among these is one spoken with some incredulity and an equal measure of haughtiness – ‘ Hindi nahi aata?’. A new nation-state is evolving; a new consensus is being beaten out of the badlands of the subcontinent. Gods are not unaffected in this scheme of things.

It started innocuously for such things have always happened. Young people moving away from their hometowns to other cities. Unprecedented levels of rural devastation and concomitant ‘urbanization’ for those beyond the pale of growth figures. But there has been a briskness in this process, a fast disemboweling, that cannot go unnoticed. The gods watched their devotees thinning away, overgrown groves lost witnesses to their sacredness. The story is clearly more complex than this but we do have at hand now, a generation or two, who have grown up without a conception of faith and religion that only an intimate ecology of a non-atomized society can provide. What we have in its place are unprecedented levels of scripture-literacy, a forced forgetting of the naked sacred, and shame about the practices of one’s grandmother. In this new religious worldview, older ‘superstitions’ are avoided and even condemned, with a mishmash of scriptures and lifestyle demands of modern urban society forming the bedrock of ‘eternal values’. These stances have wide currency among the rootless urbanfolk who may be religious or irreligious, but are Siamese twins when it comes to being self-servingly contemptuous of the rustic and the fantastic. The shaman of these times, Ashis Nandy provided a new language against these types when he wrote – ‘ There are superstitions, and there are superstitions about superstitions.’

So we have the rise and rise of portable religion. This is religion in its new avatar where a Quddus Sheikh from Murshidabad can go to some ‘bhavya’ mosque in Aligarh and see it as his own. This is the religion where certain gods have stolen a march on many other gods, creating a poor and sad ‘national’ pantheon of sorts – dreams of a ‘unified Hinduism’ finally bearing some fruit. From Boston to Bombay, through idioms created and perpetuated by mass media, a community is being created whose religious pantheon is dictated by that pathetic yearning for uniformity that only a nation-state can display. This is where portable religion and ‘Hindi nahi aata?’ come together as symptoms of the same disease. Sixty-six years after partition, this disease is hoping that its man from Gujarat would come to lead the nation-state.

Leave a comment

Filed under A million Gods, Bengal, Caste, Community, Displacement, Identity, Jal Jangal Zameen, Plural pasts, Religion, Urbanity

Bad moon rising / A dangerous connivance /

[ The Hindu, 6 Apr 2013 ; The Friday Times (Lahore), April 19-25, 2013 – Vol. XXV, No. 10 ; Kashmir Monitor, 25 Apr 2013 ; Himalayan Mirror (Gangtok), 12 Apr 2013 ; Himalayan Mail (Jammu), 7 Apr 2013; South Asia Citizen’s Web, 23 Apr 2013 ]

Many in West Bengal are looking to the Shahbag protests in Dhaka with a lot of hope and solidarity – as an important and necessary step that would usher in a rollback of the creeping communalism that has afflicted the People’s Republic of Bangladesh since 1975. 1971 is still fresh in the mind of many Bengalees from the West, when a massive relief and solidarity effort was under taken on that side of the border to reach out to a large mass of humanity trying to escape a situation that has been described variously – from ‘civil war’ to ‘genocide’. The then leaders of the Jamaat-e-Islami in East Bengal and its students wing organized murder and rape squads, at times in collaboration with the armed forces. The specific crimes include mass-murder, rape as a weapon of war, arson and forced conversions. They escaped prosecution due to the by generals who used them to cast an Islamic veneer of legitimacy over their illegal capture of power. They were gradually rehabilitated until the present Awami League led government came to power – whose manifesto among other things, promised the trial of war criminals. Thus started the proceedings against them in the War Crimes tribunal. The Shahbag protests have demanded maximum punishment for the guilty.

In West Bengal, a few meetings and assemblies have happened around Shahbag. However, to the shock and dismay of many, the largest of these assemblies was a massive rally held in central Kolkata’s Shahid Minar on 30th March, explicitly against the Shahbag protests and in support of the war criminals convicted by the tribunal. Various Muslim groups including the All India Milli Council, All Bengal Minority Youth Federation, West Bengal Sunnat Al Jamat Committee, Association of Protection of Civil Rights, Milli Ittehad Parishad, West Bengal Madrasa Students Union, Ashikane Rasul Committee, All India Minority Association, All Bengla Muslim Think Tank, All India Muslim Majlish E Mushawarat, Aminia Jamiat E Muttakin Committee, Ulama Parishad, Magribi Bangla Anzumane Wayejin, Bangiya Imama Parishad and All Bengal Imam Muazzin Assiciation convened the meeting. People had also arrived in buses and trucks from distant districts of West Bengal like Murshidabad and Nadia, in additional to those from the adjoining districts of North and South 24 Parganas, Haora and Hooghly, among others. Students of madrassas and the newly minted Aliah Madrassa University were conspicuous at the gathering.

They rallied because ‘Islam is in danger’ in Bangladesh. Never mind that that post-1947, that part of the world through all its forms ( East Bengal, East Pakistan, People’s Republic of Bangladesh) has seen a continuous drop in the population percentage of religious minorities, in every census since 1951.This rallying cry is not new. It was heard in 1952 when the mother language movement of was in full swing, in 1954 when the United Front led by Fazlul Haq and Maulana Bhashani challenged the Muslim League, in 1969 when the Awami League made its 6 demands and in 1971 when Bengalees fought for independence and now in the context of Shahbag in 2013 – basically during every secular movement for rights and justice. One of the main accused in the war-crimes trial, Golam Aazam (also the leader of the Jamaat in East Pakistan in 1971), had used this old trick in the hat when he has stated in 1971 “the supporters of the so-called Bangladesh Movement are the enemies of Islam, Pakistan, and Muslims”. Replace ‘Bangladesh’ with ‘Shahbag’ and ‘Pakistan’ with ‘Bangladesh’ and you have the same logic. Terming the struggle in Bangladesh to be one between Islam and Shaitan (Satan), it was announced at the meeting that they would cleanse West Bengal of those who were trying to support the present Prime-minister of Bangladesh and the war-crime trial effort. It was also threatened that those political forces that support Shahbag would ‘beaten with broom-sticks’ if they came to ask for votes from Muslims. Just like Taslima Nasreen and Salman Rushdie, Sheikh Hasina will also be kept out of Kolkata – they added. They also supported the anti-Shahbag ‘movement’ in Bangladesh. The last assertion is especially worrisome as this anti-Shahbag movement has let loose its fury on the religious minorities of Bangladesh. This has resulted in a wave of violent attacks on Hindus, Buddhists and secular individuals, with wanton burning and destruction of Hindu and Buddhist homes, businesses and places of worship. Amnesty International communiqué mentioned attacks on over 40 Hindu temples as of 6th March. The number is over 100 now and still rising.

Given the recent trends of politics in West Bengal, this large gathering and its pronouncements are not shocking. The writing has been in the wall for a while. A collapse in the Muslim vote of the Left Front is an important factor in its recent demise after more than three decades of uninterrupted rule. Various Muslim divines like Twaha Siddiqui of Furfura Sharif, have explicitly pointed that out as a point of threat to the present government. The Trinamool Congress wants to ensure a continued slice of this vote. The present government has tried to hand out sops to build a class of Muslim ‘community leaders’ who eat of its hand by its unprecedented move to giving monthly stipends to imams and muezzins. Very recently, it has been decided that such a cash scheme might be worked out for Muslim widows too. Given that it is beyond the ability of the debt-ridden, vision-poor government to solve the problems that are common to the poor, it has cynically chosen to woo a section of the marginalized on the basis of religion using handouts. These are excellent as speech-making points masquerading as empathy and social justice. This is dangerous politics to say the least. It sets into motion currents and gives fillip to forces whose trajectories are beyond the control of the present political groups. The Left Front’s political fortune has not improved after its humiliating defeat. It has cynically chosen not too oppose this communal turn to West Bengal’s politics, for it too, believes that silently waiting for the incumbent to falter is a better roadmap to power. The damage that is doing to the political culture of the state in immense and may well be irreparable. The incumbent’s connivance and the opposition’s silence are largely due to decades of erosion in the culture of democratic political contestation through grassroots organizing. Both the incumbent and the oppostition parties deal with West Bengal’s sizeable minority population primarily via intermediaries, often doing away with any pretense of political ideology while indulging in such transactions.

For their part, organizations owing allegiance to a particular brand of political Islam ala Moududi, have used this disconnect to the hilt. An emerging bloc of divines and ex-student leaders of certain organizations have used the students that they can amass at short notice to launch specific protests, aimed in getting a leverage in terms of policy. Sadly, this blackmailing is hardly aimed at uplifting the living standards of West Bengal Muslims in this world. Rather, its string of victories started with successfully driving out the famous persecuted humanist writer Taslima Nasreen during the Left Front regime. The most recent example was the governmental pressure that was exerted on their direction to keep Salman Rushdie out of a proposed event in Kolkata, after he successfully did such events in Bangalore, New Delhi and Mumbai. This slowly pushing of the envelope fits into a sequence of events that are increasingly stifling the freedom of expression. At the same time, its double-standards are explicit. On March 21st, a medium-sized group consisting of little-magazine publishers, human rights workers, theatre artists, womens’ organizations and peace activists had announced that they would march in solidarity with the Shahbag protests and express their support to the Bangladesh government’s war crimes trial initiative by marching to the deputy high-commission of Bangladesh. Even after prior intimation, the rally was not allowed to move by the police due to ‘orders’ and some of the marchers were detained. The same police provided security cover to pro-Jamaat-e-Islami organizations as they conducted a rally submitted a month earlier and again later when they submitted a memorandum to the same deputy high commission demanding acquittal of convicted war criminals. Last year, it issued a circular to public libraries to stock a sectarian daily even before its first issue had been published! The role of the state is explicit in these actions – it possibly thinks that it can play this game of brinksmanship with finesse. The flight of cultural capital from the self-styled cultural capital of India is but a natural corollary of such unholy alliances with the political class playing tactical spectators and tactical facilitators to apologists for one the largest mass-murders in the last century .

The recent bye-election to Jangipur, a Muslim majority constituency carried certain signals. Prompted by the elevation of Mr.Mukherjee to Presidency, this election saw the combined vote of the 2 main parties fall from 95% in 2009 to 78% in 2012. The major beneficiaries were the Welfare Party of India, a thinly veiled front organization of the Jamaat-e-Islami Hind and the Social Democratic Party of India, an even more radical group of a similar ilk. Such groups are armed with a programme of ‘tactical pluralism’, quite akin to the tactical defence of Taslima’s freedom of speech by majoritarian communal political forces in the Indian union. The rallying against Shahbag has blown the cover of faux pluralism. There was another significant beneficiary and predictable in the same election, the BJP. Communal tension has been on the rise in recent years – there has been serious disturbance by West Bengal standards in Deganga and Noliakhali. The majoritarian forces smell a subterranean polarization of the polity. Mouthing banalities about Bengal’s ‘intrinsically’ plural culture is quite useless – culture is a living entity, that is always in flux, created and recreated every moment. It is being recreated by the victimization discourse by fringe groups like Hindu Samhati. It is being recreated in certain religious congregations in parts of West Bengal of Aila where unalloyed poison produced by divines like Tarek Monawar Hossain from Bangladesh is played on loud-speakers. Thanks to technology, such vitriol produced in a milieu of free-style majoritarian muscle flexing in Bangladesh easily finds its way to a place where the demographic realities are different. Hence the popularity and consequent defence of one of the convicted war criminals, Delwar Hossain Sayedee, who in his post-71 avatar had become something of a superstar in the Bengali waz-mahfil (Islamic religious discourse congregation) circuit. What are the effects of the subterranean cultural exchange of this kind? The rally is a partial clue. A defence of Sayedee and claiming him to be innocent, as was repeatedly done in that rally, is like perpetrating Holocaust-denialism.

Just a day after the anti-Shahbag rally in Kolkata, almost as a divine reminder of starker realities beyond the defense of Islam, nearly 45 lakh unemployed youth, Hindus and Muslims, sat for the appointment as primary school teachers recruitment examination for 35000 empty posts. Roughly 1 in 128 will succeed. There is no employment exchange worth its name, including the ‘minority’ employment exchange set up by the incumbents, which would absorb the unsuccessful 44 lakh. West Bengal is one of the few states that have petitioned for a relaxation of the minimum qualifications for primary school teachers in the Sarva Shiksha Abhijan scheme, as stated in the Right of Children to Free and Compulsory Education Act of 2009. There is a rot at the base with every community affected. It has been long in the making. The promotion of religious education is hardly the way to empowerment and livelihood generation for minorities, especially in a state where they have been grossly under-represented in the all white-collar services. There are no short cut solutions to this.

Majority and minority communalism in West Bengal, though not generally overt, can be found easily by scratching the surface. A combination of circumstances can awaken it. Will more such circumstances arise, or will more responsible politics prevent a potential communal unraveling of West Bengal? Bengal’s past experience with communal politics is distinctly bitter, both in the west and the east.  The west lives with half-sleeping demons. In the east, the demons never really slept, and have been in and out of power.

 

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Community, Democracy, Dhaka, History, Identity, Kolkata, Language, Pakistan, Polity, Religion, Scars

Honey Singh has already won / Honey-ed lyrics won’t change bitter truths / Hypocrisy in selective censuring / Beyond the ease of banning Honey Singh

[ Daily News and Analysis, 7 Jan 2013 ; Echo of India, 15 Jan 2013 ; Millenium Post, 12 Jan 2013 ]

A specific song by Honey Singh has been ‘discovered’. The tragic incident at Delhi  created the fertile ground for this. If the discovery was supposed to raise awareness against the contents of the songs and thus censuring Honey Singh, that scheme has failed miserably. The number of online views of the said song has shot-up steeply ever since the free publicity. So much for sensitization. Honey Singh has since then denied having to do anything with the song. Many people and groups, who, till yesterday had hardly heard of Honey Singh or this song, have assembled his paper and cloth idols to consign them to flames in public amidst much supportive sloganeering. This speedy move from relative ignorance to active denunciation, however heartfelt, is all too familiar. This has also given a good cover to misogynist groups to peddle high-decibel righteousness. If morality fired censorship riding high on the back of a human tragedy is not immoral and cynical, I do not know what is. Even more cynical is how some such groups stand side-by-side folks who have devoted decades working at the grassroots – Honey Singh has provided a strange equalizing opportunity, a short-cut of sorts.

Some of the same who are so-outraged and want to stop watching Anurag Kashyap’s movies for his association with Honey, do not stop deifying the tinsel- jewels in that sordid procession that led to the mansion of the erstwhile Mumbai butcher. Neither will they stop using products that are advertised using advertisements that ‘objectify’ women or boycott filmstars who publicly endorse such products. Walking the talk requires a different culture than consumer culture.  Many patriotic songs are full of exhortation of death and killing of name-less ‘others’. ‘Religious songs’ have elements of killing demons (considered by many as euphemism for dalits) and infidels. But we are like this only.

Some have deemed the lyrics of the specific song akin to hate speech. The song, in addition to explicit description of sexual acts, objectifies women as sexual objects, indeed as objects to rape. The curious thing is, while so many people are denouncing the song, it also liked by many. One is free to judge people who like it but online anonymity is a curious mirror, which often shows that even in the absence of a public voice that likes the song, such liking exists nonetheless. If one considers penning and singing the song as criminal, is liking the song similarly criminal? If I publicly stick my neck out and say I like the song, is that criminal? You may not like to talk to me or ‘give’ your daughter in marriage to me or ‘leave’ your sister alone near me – but that is up to you. But am I to be prosecuted for stating that I like it? This is not an argument for the sake of being contrarian.

Honey Singh has put to tune utterances and fantasies that are not unknown. He has sung what many males draw on bathroom walls. Some argue that the free distribution of such material creates an ambience that facilitates viewing women in a certain way – rape is a part of that way of viewing. The individual, in such a milieu, has a greater propensity to rape. To problem with such conjectures is that they do not have a clear causal relationship with criminal action. In the absence of that crucial link, to criminalize human behavior, however reprehensible it may be to some, leads all of us down an extremely slippery path. For what is important is the principle of criminality that gets legitimacy – that there does not need to be a strict causal relationship between action and crime. Theories of broad propensity are good enough. Consider the implications of this for the ‘single, migrant, underclass, male’ theory.

We should strive towards a fuller understanding of the popularity of songs such as these. The sad use of ‘impressionable children’ to grind their own axe has to stop. There is no evidence that grandfathers from ‘purer’ times any less likely to grope. And why should everything be ‘family friendly’ anyways? I have a hunch that we have more to lose by sacrificing free expression than the supposed gains of censoring Honey Singh. The slow systemic effects of the former can however pale in front of the immediate charge of the latter. Also, media ‘explicitness’ as a cause for sexual violence also tacitly legitimizes the ‘titilation’ theory. The less said about that, the better.

Central to all of this is a certain anxiety that unless there are curbs, the Honey Singhs will win hands down. There is a tacit acknowledgement that there are no robust alternatives on offer to item numbers or to the likes of Honey Singh. And there is the rub. There is a secret fear that there is no cultural repertoire that is up-to-date and ‘presentable’. Beyond religion and sex, the relationship of the market with non-sexual elements of ‘Lok-sanskriti’ is faint. In ‘Lok’ sanskriti, the real ‘Lok’ is important in production, consumption and propagation. When profiteers reduce the role of  ‘lok’ only to consumption, we have a problem at hand. Organized industry has a certain idiom it is comfortable. Socially rooted cultural produce without corporate intermediaries, say the Baul-shahajiya minstrels, thrive in a supportive ecology. One cannot take away the ecology and then expect that it will continue its own evolution, as if nothing changed.

One hundred ‘folk-music’ festivals in fashionable AC auditoriums in Delhi cannot provide alternatives work in a context where ‘folk’ are displaced and brutalized. Music  and art, in their many shades, springs from forth from life. Without it, it is simply a plant without roots- destined to die sooner or later. The new world selectively cuts roots. Hence Honey Singh lives. Only when we have a world where we cut no roots, then we shall see. After the destruction of rooted cultural idioms and ways of life, from where does one expect songs of life to spring ? What will the songs be about – since sadness and pain is ‘unfit’ for modern consumption? Even the idea of songs from struggles of the displaced is met with the some kind of mental cringe, if not a mental block. Consumption – is the basic framework in the new world. And there are no holy hills, groves, cultures, homelands, people. Honey Singh has sung the allegorical anthem of the new world. He may have sung it a bit too loudly, at an inopportune time. In disowning him, however loudly, there is not the slightest risk of any displaced community getting their homestead back. Honey Singh and the ‘Folk’ Festivals have already won.

Leave a comment

Filed under Uncategorized