Tag Archives: Dhaka

উবার চড়ে যাচ্ছি কোথায়?

খুব বেশিদিন আগের কথা বলছি না, কলকাতায় একটা সময় ছিল যখন গাড়ি চড়ে কোথাও যাবার মানে ছিল হয় প্রাইভেট গাড়ি বা টেক্সী। কিন্তু স্মার্টফোন ভিত্তিক আপ-এর দৌলতে ২৮ ঘন্টা  তত্ক্ষণিক ভাড়া গাড়ি বুকিং ব্যবস্থা ভারতের কিছু কিছু শহরের এক বিপুলভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উবার বা ওলা গোছের কোম্পানিগুলি এখানে খুবই ভালো ব্যবসা করছে।  এছাড়া তাদের জোরদার বিজ্ঞাপনের ফলে তাদের নাম ছড়িয়েছে যথেষ্ট। আমাদের এই বাংলাদেশের পশ্চিমাংশে  তাদের এমনই রমরমা ব্যবসা যে উবার কোম্পানি জানিয়েছে যে মার্কিন কলকাতাই তাদের  বাড়তে থাকা বাজার এবং তাদের এই বৃদ্ধির হার তাদের লন্ডনের ব্যবসার চেয়েও বেশি। ভারতে  কলকাতার পরে তাদের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকা বাজার হলো মুম্বইর। এই ধরনের পরিষেবা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই চিরাচরিত লাইসেন্স প্রাপ্ত টেক্সী ব্যবসার লাভের গুড়ে থাবা বসিয়েছে। সেটা এখানকার ক্ষেত্রেও সত্যি। ফ্রান্স থেকে দক্ষিন আফ্রিকা, নানা জায়গায় ট্যাক্সি চালক তথা মালিক ইউনীয়ন্গুলি উবারের ব্যবসা পদ্ধতিকে অনৈতিক ও বে-আইনি বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে – যে ধরনের সরকারী নজরদারির স্বীকার সাধারণ তেক্সীরা, বা যতরকমের কর তাদের দিতে হয়, তার ফলেই উবারদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। উদাহরণ স্বরূপ, টেক্সী না যেতে চাইলে আইনে জরিমানার ব্যবস্থা আছে, উবারদের ক্ষেত্রে এমন কোন আইন-ই নেই। সাধারণ টেক্সীগুলি বেসরকারী মালিকানাধীন হলেও সে ব্যবসা বেশ ভালো পরিমানে সরকারী নিয়ন্ত্রনের আওতায়।  টেক্সী ভাড়ার তালিকাও সরকারের সাথে বোঝাপড়া করে ঠিক হয়। উবার-ওলারা তাদের রেট্ ঠিক করে ও বদলে নিজেদের ব্যবসা মাফিক, নানারকম ছাড় ও অন্যান্য বিপণন-ফন্দিরও তারা সাহায্য নিয়ে থাকে, যা সাধারণ টেক্সী আইনত পারে না।

এই ভাবে যখন কোথাও এক ধরনের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বেসরকারী পরিবহণ ব্যবসার একটা রেকর্ড প্রসার ঘটে, তখন সেই জায়গার গণ-পরিবহণের অবস্থা ও মান সম্পর্কে প্রশ্ন মনে চলেই আসে। তাই ভারতের প্রধান শহরগুলির গণপরিবহনের মান বিশ্বের নিরিখে দেখে নেওয়া যাক। ‘ফিউচার অফ আর্বান মোটিলিটি ২.০’ নামের বিশদ একটি জরিপ-ভিত্তিক গবেষণার ফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়। এই জরিপ রিপোর্ট-টি প্রনিধানযোগ্য কারণ এতে বাজার-আদর্শ ও শ্বেতাঙ্গ-বিশ্ব ‘প্রগতি’ ও ‘উন্নয়ন’ বলতে যা বোঝায় (মূলতঃ চওড়া রাস্তা ধরে হুস-হুস করে যাওয়া রাশি রাশি সমাজ-বিছিন্ন প্রাইভেট গাড়ি) , তার কিছুটা বাইরে গিয়েও গণপরিবহনের মানের একটা মানাঙ্ক কষা হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরকে মাথায় রেখে। এই সব ফ্যাক্টরের কয়েকটি হলো – মোট যাত্রা-সংখ্যার মধ্যে গণপরিবহনের সাহায্যে করা যাত্রার হিস্যা, স্মার্ট কার্ডের ব্যবহার, রাস্তার ঘনত্ব, গণপরিবহনের বৈচিত্র এবং সেগুলি কত সময় অন্তর অন্তর আসে, সরকারী পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগ, ইত্যাদি। সারা বিশ্বের ৮৪টি বৃহৎ শহরে এই নিয়ে গবেষণা ও জরিপ চালানো হয়।  তার থেকে পাওয়া ফলগুলি এইরকম। ভারতে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী মুম্বই-এর হাল মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-র চেয়ে সামান্য ভালো, লস এঞ্জেলেস পিছিয়ে আছে চেন্নাই-এর থেকে। অনেকের ধারনায় ভারতে ‘উন্নত’ দিল্লির হাল এই বহুমাত্রিক গণমুখী ফ্যাক্টরগুলির নিরিখে বেশ খারাপ – সেটির স্থান ৮৪টি শহরের মধ্যে শেষের দিক থেকে ৫ম। কলকাতা হলো ভারতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ – ৮৪র মধ্যে তার স্থান ৩১, যার মানে আমরা নিউ ইয়র্ক, মন্ট্রিয়ল, টরন্টো ও সিডনির থেকে এগিয়ে আছি। জনসংখ্যার অনুপাতে ব্যক্তিগত গাড়ি মালিকানার হার ভারতের মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতায় সবচেয়ে কম। পয়লা স্থান অধিকার করে হংকং। প্রসঙ্গত এই পরিমাপে ঢাকার রেঙ্ক করাচীর থেকে খারাপ কিন্তু বেঙ্গালুরু বা ওসাকা বা মায়ামির থেকে ভালো। এই রেঙ্কগুলি আমাদের যদি অবিশ্বাস্য লাগে, তার থেকে এই বোঝা যায় যে দুনিয়ায় উন্নয়ন ও প্রগতির জনবিরোধী হেজিমনিক ধারণা আমাদের কল্পনা ও ইপ্সাকে কতটা গুলিয়ে দিয়েছে যার ফলে আমরা সামনে ঘটমান বাস্তবকে দেখেও দেখি না, হাঁ করে অন্যত্র তাকাই। মাথার মধ্যে ভালো-খারাপ-গণমুখী-জনবিরোধী এইসব ব্যাপারগুলি কেমন গুলিয়ে মিলিয়ে দিয়েছে বাজার ও ক্ষমতার যুগলবন্দীতে তৈরী আমাদের এই ‘কমনসেন্স’। আর কলকাতা ও মুম্বই-এর তুলনামূলক ভালো স্থানের কারণে এরই রহস্যময় ও বেমানান লাগে সেই প্রাথমিক তথ্যটি – যে ভারতে উবার যে ধরনের  ব্যক্তিগত পরিবহণ ব্যবসা করে খায়, তাতে তারা সবচেয়ে সফল ঠিক এই কলকাতা ও মুম্বই-তেই।  আসলে ঘটছে তা কি? আমার কিছু আন্দাজ আছে।  আর সেই আন্দাজের হাত ধরে মনে আসে কিছু আশঙ্কা।

ভারতের শহরগুলির প্রায় সবকটিই অতি বিভক্ত শহর – বিভক্ত শ্রেণী, জাত ও অন্যান্য নানা ফেক্টর দ্বারা। আমরা এলিট বলতে বুঝি টাটা-বিড়লা।  আর বাকি সকলেই নিজেদের মনে করে মধ্যবিত্ত – অথচ এই মধ্যবিত্ত প্রায় কিছুতেই কোন কিছুর মধ্যস্থান অধিকার করে না – অর্থ-সামাজিক ভাবে তো নয়-ই। এই উপমহাদেশে এই গোষ্ঠিকে তুলনামূলক-ভাবে কম এলিট বলা যেতে পারে, কিন্তু এলিট তারা বটেই।  এই গোষ্ঠির নিজের গাড়িতে চেপে সবসময় সবজায়গায় যাবার সামর্থ্য নেই, যার ফলে তাদের অনেক ক্ষেত্রেই না চাইলেও অগত্যা গণ-পরিবহণের শরণাপন্ন হতে হয়। তাদের জীবনের এই অংশটি তাদের খরুচে ‘ট্রেন্ডি’ জীবনযাত্রার সাথে খাপ খায় না। গণপরিবহনে তাদেরকে এমন সমস্ত মানুষজনের পাশে বসতে হয়, এমন সমস্ত মানুষের গায়ের গন্ধ ঘামের গন্ধ নাকে আসে, ভিড়ের মান্ঝে এমন মানুষের থেকে ঠেলা ও গুঁতো খেতে হয়, নিজে দাঁড়ানো অবস্থায় এমন সব মানুষকে বসা অবস্থায় দেখতে হয়, যাদের কিনা তারা তাদের জীবনের অন্য সকল অঙ্গন থেকে নির্বাসিত করেছে সফলভাবে – নানা ধরনের প্রকাশ্য বা ছদ্ম ভৃত্য ভূমিকা ছাড়া। উবার-ওলার সাফল্যকে এই আঙ্গিকে দেখা প্রয়োজন। প্রথমতঃ।এর ফলে ‘পাবলিক’ থেকে নিজেকে স্থানিক-ভাবে আলাদা করা যায় – অর্থাৎ একই জায়গায় বসে যাতাওয়াত করতে হয় না, একই যানের মধ্যে বসে। দ্বিতীয়তঃ, পাবলিকের থেকে কালিক ভাবেই আলাদা হওয়া যায় – তাদের ২৪ ঘন্টা তত্পর পরিষেবার কারণে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যে সময় গনপ্রবহনের অপ্রতুলতার জন্য বেশি ঘোরাফেরা করতে পারে না, যেমন ধরা যাক গভীর রাত, এই শ্রেণী সেই সময়গুলিকে কেন্দ্র করে নিজেদের জীবনধারা সাজিয়ে নেয়। সমাজের কিছু পাত্র-পাত্রীর মধ্যে জনসাধারণের থেকে নিজেদের আলাদা করে স্থান-কালের মালিকানা নেবার যে মানসিক ইপ্সা, উবার-ওলারা সেই বৈকল্যের ইচ্ছা-নদীতে সাঁকোর কাজ করে।  তার উপর দিয়ে আমাদের মত কিছু মনুষ তরতরিয়ে চলে যায় ইপ্সিত ওপারে, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, সুরক্ষিত ভাবে। বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলি থেকে লেটনাইট পার্টি করে হিন্দুস্থান পার্কে ফেরত আশা হয়ে যায় জলভাত। শহরেরএলিটদের  জীবনে কিছু নতুন স্রোতের জন্ম হয়। কে কোথায় কখন কি ভাবে আসছে-যাচ্ছে, তাতে কারোর কিছু এসে যেত না, যদি না এই অর্থ-সমাজিক গোষ্টির প্রভাব ও প্রতিপত্তি তাদের সংখ্যার তুলনায় দৃষ্টিকটু ভাবে অনেক বেশি না হতো। কিন্তু বাস্তবে, তাদের উদ্বেগকে পাত্তা দেওয়া, তাদের সুরক্ষাকে সিরিয়াসলি নেওয়া, তাদের ইছাগুলিকে প্রশমিত করা হয়ে ওঠে  নগরের সরকারী ও বেসরকারী অধিপতিদের প্রথম কর্তব্য – কারণ যে মাছের মুড়ো এরা. তারই পেটি হলো উবার-ওলা শ্রেণী।  সংবাদমাধ্যমের বড় অংশও এই ক্ষুদ্র অংশের উদ্বেগ-সুরক্ষা ইত্যাদিকে এমন ভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে একটা ‘গণ’ চরিত্র দেবার চেষ্টা করে যে মনে হতেই পারে যে আমরা ইতিমধ্যেই একটি আর্থ-সামাজিক বৈষম্যহীন মিডিল ইনকাম সমাজে পরিণত হয়েছি।

এর একটি কুফল দেখা গেছে সম্প্রতি।  যখন ভারতে রাস্তা-ঘাটে নারী নিরাপত্তার মত একটি গুরুত্তপূর্ণ বিষয় নিয়ে বেশ একটা জনমত তৈরী তৈরী হচ্ছিল, উবারের একজন চালক দ্বারা এক মহিলা যাত্রীর ধর্ষিত হবার ফলে নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি এই প্রতাপশালী গোষ্টির উদ্বেগের জোরে পর্যবসিত হলো উবার গাড়ির নিষিদ্ধকরণ ও উবার চালকদের নিয়োগের আগে পূর্ব অপরাধ বিষয়ক খোজখবর নেওয়া গুরুত্ব ইত্যাদিতে। ভারতে, নারীদের এক বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের কাছে  ভাড়া করা বা নিজ মালিকানাধীন গাড়িতে একা চলাফেরার সুবিধে-বিপদ সংক্রান্ত যে আলোচনা, তা একদমই অপ্রাসঙ্গিক কারণে তাদের জীবনের বাস্তবতার সাথে এর কোন সম্পর্কই নেই। অথচ ‘নারী নিরাপত্তার’ মোড়কে মিডিয়ায়ে আদতে চলল এলিট নারীদের নিরাপত্তার পুঙ্খানুপুন্ক্ষ আলোচনা।

যখনই সমাজের ক্ষমতাধারী ও গনপরিসরে-কি-আলোচিত-হবে-তা-নির্ণয়কারী গোষ্ঠীগুলি সর্বসাধারণের জন্য তৈরী পরিষেবাগুলি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়, তখন সেই সেই পরিষেবার মান নিম্নগামী হয়। কারণ পরিষেবাগুলি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিলেও সেই পরিসেবা চালনা সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা এই গোষ্ঠীই কুক্ষিগত করে রাখে। তখন এদের নির্দেশে-উপদেশে সরকার যা করে তা হলো অপেক্ষাকৃত গণতান্ত্রিক ভাবে বন্টিত গণপরিষেবা থেকে অর্থ শুষে বার করে তারা ঢুকিয়ে দেয় এমন সব পরিষেবায় যা আপাত ভাবে সর্বসাধারণের জন্যে হলেও বাস্তবে কাজে লাগে মূলতঃ এলিট শ্রেনীর-ই। পূর্ব্বে উন্নত মানের এবং নির্ভরযোগ্য সংস্থা যেমন বৃহৎ সরকারী হাসপাতাল বা সরকারী ইস্কুল এই গোত্রে পড়ে। এলিট শ্রেণী এক-কালে এসব জায়গায় যেতো।  তারপর যখন তারা সরকারী ভর্তুকি ব্যবহার করে নিয়ম বদলিয়ে বেসরকারী পুঁজি দিয়ে এসব ক্ষেত্রে নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থা করলো, তখন সরকারী সংস্থাগুলিতে তাদের আর কোন আগ্রহ রইলো না।  যে সর্বসাধারণের গরুর দুধ তারা রোজ খেতো এবং সেই কারণে বিচালি দিত, পরিষ্কার করত, সেই গরুর দুধ বেচে তারা তৈরী করলো নিজেদের মালিকিনাধীন গরুর  প্রাইভেট গোয়াল। কলকাতায়, টিবি হাসপাতাল ১ টাকা দিয়ে বেসরকারী সংস্থাকে বেছে তৈরী হলো কেপিসি হাসপাতাল।  ঢাকুরিয়ার এএমআরআই হাসপাতাল ও সরকারী মালিকানা থেক বেসরকারী মালিকানায় দেওয়া হলে ১ টাকার নাম-কে-ওয়াস্তে অঙ্কের বিনিময়ে।  শর্ত থাল এখানে একটা বড় শতাংশ বেদ থাকবে গরিবের জন্য সংরক্ষিত।  বলাই বাহুল্য, সেই সংরক্ষণ থেকে গেছে কাগজের পাতায়, এগ্রিমেন্টের দলিলে। আমি যেটা বলতে চাই সেটা এই যে ভারতে সরকারী হাসপাতাল বা ইস্কুলের মানের নিম্নগামী মানের সাথে এলিট শ্রেণীর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নিজ বিকল্প করে তলার ব্যাপারটি অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। দুটো আলাদা ঘটনা নয়। তাই আশঙ্কা হয়, হারত সরকারের জোরদার প্রাইভেট গাড়ি তৈরী ও বিক্রির ক্ষেত্রে নানা রকম আর্থিক উত্সাহপ্রদানের যুগে উবার-ওলার বিস্ময়কর ব্যবসায়িক সাফল্য দেশের মোটামুটি ভাবে চলনসই গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য কোন অশনি সংকেত বয়ে আনবে ? আরেকটু ব্যাপক ভাবে বলতে হলে, যে দেশ ও সমাজের শক্তিশালী নীতিনির্ধারক অংশ ব্যাপক গণ-মানুষের কোনরকম ছোয়া থেকে নিয়েজদের দূরে রাখতে চায়, এমন বৈসম্যযুক্ত সমাজপতি-ওয়ালা সমাজের ভবিষ্যত কি?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Democracy, Dhaka, Elite, Kolkata, Urbanity

ভারত ও ঢাকার মাঝখানে – অনিকেত প্রান্তর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সাথে ভারতীয় সংঘ-রাষ্ট্রের নরেন্দ্র মোদীর চুক্তির ফলে নিরসন হলো ছিটমহল অধ্যায়, যদিও এর মধ্যেই অন্য রাষ্ট্র  বেছে নেওয়ায়ে সংখ্যালঘু ঘর ইতিমধ্যেই ঘর জ্বলেছে এক রাষ্ট্রে । অদ্ভূত জিনিস এই ধর্ম, রাষ্ট্র ও নাগরিকত্বের টানাপড়েন-গুলি।  আর এসব  এলোমেলো করে দেওয়া সেই অদ্ভূত শব্দটি – ‘জন্মভূমি’। বাংলাদেশের অন্তর্গত ‘ভারতীয়’ ছিটমহলে ‘ভারতীয়’ নাগরিক শিশু পাশের গ্রামে (অর্থাৎ বাংলাদেশে) গিয়ে শিখেছে যে তার প্রধানমন্ত্রী হলো শেখ হাসিনা। সর্বার্থেই ছিট-মহল গুলি প্রান্তিক, এমনকি রাষ্ট্রও তাদের থেকে আনুগত্য দাবি করে না। ভারতের নাগরিক নিজেকে ভারতীয় মনে করে কিনা, তেরঙ্গা দেখে সটান হয় কিনা, গান্ধী দেখে শ্রদ্ধা দেখানোর ভাব করে কিনা, ক্রিকেটে পাকিস্থান-ঘেন্না করে কিনা, ছিটমহলবাসীদের ক্ষেত্রে ভারতের তাও এসে যেত না। আজকালকার রাষ্ট্র-ভিত্তিক বিশ্ব-চরাচর-কল্পনার দিনে  দিনে এর চেয়ে হতোছেদা আর কি করে করা যেতে পারে। যাই হোক, আশা করা যায় যে এখান থেকে দুই দেশের বাচ্চারা ঠিক ঠিক পতাকা দেখে ঠিক ঠিক সটান হতে শিখবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী, যিনি ঘুণাক্ষরেও সোসিয়াল মিডিয়া-তে হিন্দি ছাড়া কোন দেশী ভাষায় তার প্রজাদের বার্তা পাঠান না, এ হেন পাক্কা ভারতীয় জাতীয়তাবাদী পূর্ব্ববাংলা সফরকালে সস্তা চমক দিয়ে সেখানকার বাঙ্গালীর মন জয় করার জন্য টুইট করলেন বাংলায়। একজন পশ্চিম-বঙ্গবাসী হিসেবে এটা  কতটা অপমানজনক যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের সেটুকু স্বীকৃতিও দেয় না, যতটা কিনা পূর্ব্ব-বঙ্গবাসীদের দেয়। আকাশ খুব অন্ধকার।  আমরা একটু নিজেদের ভাঙ্গা সিঁড়দারাটার দিকে চেয়ে দেখি, একটু লজ্জা পাই, একটু ক্ষুব্ধ হই, একটু আত্মসম্মান সঞ্চয় করি । স্বীকৃতি দিক না দিক, দিল্লি বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের থেকে করের টাকা নিয়ে খয়রাতি করে আসবে বিদেশে একটি বিশেষ ভাষা-কে ‘ভারতের  মুখ’হিসেবে ফোকাস দেওয়ার জন্য। এবার-ও নরেন্দ্রভাই-এর ঢাকা সফরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে নতুন দিল্লির সরকার বাহাদুরের কল্যানে। বাঙালি, তামিল, অহমিয়া, তেলুগু, কন্নড়-ভাষী মানুষেরা এটা জেনে প্রীত হবেন যে তাদের ভাষা-সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব-টা হিন্দী আপনাদের না জানিয়েই নিয়ে নিয়েছেন আর সাথে নিয়েছে আপনাদের করের টাকা।  বলাই-বাহূল্য, নতুন দিল্লীর খয়রাতি পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগটির নাম হিন্দী। আর এই সব খয়রাতি করে অনেকে ভেবেছেন ওরা হেব্বি খুশি।  ওরা কিন্তু অনেকেই বেশ রেগে আছেন।

কলকাতার হো চি মিন সরনীর নাম অনেকেই শুনে থাকবেন।  কেউ কেউ হয়তো জানবেন যে এই রাস্তার আগের নাম ছিল হ্যারিংটন স্ট্রীট। কে এই হ্যারিংটন? ইনি ফিরিঙ্গি কোম্পানির আমলে নিজামত বা সদর আদালত-এর প্রধান বিচারক ছিলেন।  ১৮২৩ সালের  ২৮ জুন তিনি লিখিত মন্তব্য করেন যে সতীদাহ প্রথা যদি তখুনি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলেও এই নিষিদ্ধকরণের বিরুধ্যে তেমন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন তিনি আশা করেন না। অর্থাৎ জনগণ সে অর্থে সতিদাহর পক্ষে ছিল না। সতী-দাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় এর ছয় বছর পরে, ১৮২৯ -এ। নানা বিরুদ্ধতা উপেক্ষা সত্তেও সতিদাহ নিষিদ্ধকরণের যে প্রকাশ্য নায়কদের কথা আমাদের চিরকাল জেনে এসেছি, কিন্তু নেপথ্য নায়ক যে জনগণ, তাদেরকে স্বীকার করে নেন হ্যারিংটন। ফলে নায়কদের উচ্চতা একটু কমে, তাদের সংগ্রাম একটু ফ্যাকাশে হয়। তবুও সেটাই বাস্তব।  হ্যারিংটন-এর নামের জায়গায় হো চি মিন  দিয়ে সেটা ভোলা যায় না।  তবে হো চি মিন নামকরণের ছিল আরেকটি উদ্দেশ্য, এবং সেটি কিন্তু গর্ব করার মতো। এই রাস্তাতেই মার্কিন কনসুলেট। ভিয়েতনাম-এ মহিলা-শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে মানুষকে হত্যা করার যে নৃশংস খেলায় মেতেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এটা ছিল তার-ই বিরুধ্যে কলকাতার নিজের মত করে প্রতিবাদ। একটু লজ্জা দেওয়া, একটু বিড়ম্বনায় ফেলা। কলকাতার মার্কিন দূতাবাসকে আজ-ও হো চি মিন-এর নাম স্মরণ করতে হয়, না চাইলেও। নৃশংসতার প্রতিবাদ হিসেবে লজ্জা দেওয়ার মতো নাম পরিবর্তনের দাবি কিন্তু বেশ ছোয়াঁচে।  নিষ্পাপ শিশু ফেলানি-কে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বি-এস-এফ বাহিনী গুলি করে হত্যা করে দুই বাংলার সীমান্তে। গরীবের মেয়ে ফেলানির দেহ লটকে সীমান্তের কাঁটাতারে লটকে থাকে বেশ কিছু সময়। আর বিঁধে থাকে ‘অনুভূতিগুলো’। এই কাঁটা-তার-এ ঝুলে থাকা শিশুর ছবিটি ভারতের ‘স্বাধীন’ ও ‘মুক্ত’ সংবাদ-মাধ্যম খুব বেশি প্রচার না করলেও, সারা বিশ্ব জেনে গেছিল ফেলানিকে এবং তাকে খুন করা উর্ধি-ধারী বাহিনীকে, যাদের মাইনে  আমি আপনি দিই। বাঙ্গালীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ঢাকায় উঠেছিল প্রতিবাদের ঝড়, দাবি উঠেছিল সেখানকার ভারতীয় দুতাবাসের সামনের রাস্তার নাম বদলে  ফেলানির নামে করে দেবার জন্য। তারপর যা হবার, তাই হয়েছে।  গরিব মানুষের মেয়ের মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদ বেশিদিন টিকে থাকে না – ঘটনা হয়ে যায় সংখ্যা । ফেলানি ঝুলে ছিল যে কাঁটা-তারে, দুই বাংলার মধ্যে সে কাঁটা-তার বানিয়েছে দিল্লী। এতে ওপার থেকে অনুপ্রবেশ কমেছে কিনা, তার কোন খবর নেই , তবে এই কাঁটা-তার লাগানোর বরাত পেয়ে যে ঠিকাদার-রা কাজ করেছেন, তারা যাদের ঠিকাদার হবার নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের যে পকেট ভালই ভরেছে, সেটা বলাই বাহুল্য। সেটাও আমার আপনার টাকা। তবে এটা যেহেতু ‘জাতীয় সুরক্ষা’র প্রশ্ন, বেশি হিসেব চাইবেন না। বেশি হিসেব চাইলে আপনাকে সিধা করার মত নানা কালা কানুন ভারতে মজুত আছে – অশোক-স্তম্ভের সিংহ-গুলি শুধু দাঁড়িয়ে থাকে না, কামড়ে রক্ত-ও বার করে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি পূর্ব্ব বাংলা ঘুরে এসে বললেন যে ছিট-মহল বিনিময়ের ঘটনা হলো বার্লিনের প্রাচীরের পতনের মতই ‘ঐতিহাসিক’। এই ‘ঐতিহাসিক’ ধারণাটা আমি কখুনই ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কোনটা ঐতিহাসিক, কোনটা নয়, কেই বা সেসব ঠিক করে দেয়।  তবে এটুকু জানি, যে দুই গরীব বাস্তুহারা টইটুম্বুর  বাংলার মধ্যে যে ‘অনিকেত প্রান্তর’, তার মাঝে কাঁটা-তার বসিয়ে আর যাই হোক, বার্লিনের প্রাচীর পতন হয় না। সীমান্ত-বাসী মানুষের ভাষা যারা বোঝে না, তাদের গায়ে উর্দি পরিয়ে, হাতে বন্দুক ধরিয়ে ধর্ষণ করানোকে, মন-মর্জি মতো মারামারি ও জিনিস-পত্র হাতানোকে, হতদরিদ্র মানুষ খুন করানোকে ‘সুরক্ষা’র নাম দেওয়া পাপ। এই পাপ কিন্তু আমাদের পয়সায় মাইনে পাওয়া-রা কিন্তু করে এপার বাংলার মানুষজনের সঙ্গেও।  এমন পাপ মা দূর্গা কখুনো মাফ করবেন কিনা জানিনা।

যখন এই দিল্লী-ঢাকা শীর্ষ দেওয়া-নেওয়া হচ্ছিল, পাশে থাকা থেকে সাথে থাকার সুললিত বাণী দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখুনই হাসিনা সরকারের প্রবাস কল্যাণমন্ত্রী মোশারফ হোসেন ফরিদপুরে তার বহুদিনকার চেনা একটি প্রথিত্জসা সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি জোর করে হাতিয়ে নেবার সব রকম ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। একদিন হয়তো সেই নিপীড়িত পরিবারের একজন ‘এপারে’ চলে আসবে। পশ্চিম-বঙ্গের বাঙ্গালীদের সংস্কৃতিক নিজস্বতাকে যারা স্বীকৃতি দেয় না, তাদের কোলেই খুঁজতে হবে নতুন আশ্রয় ও পরিচয়। তারপর তার এই নতুন প্রভু তার নিজের রাজনীতির খেলার অংশ হিসেবে দেখাবেন ‘নাগরিকত্বের’ লোভ। তাই দেখে পূর্ব্ব বাংলার কেউ কেউ বলবেন যে এমন ঘোষণা হলো অনধিকার-চর্চা। ঘর-পালানো মানুষটা কি আজ-ও ‘ওপারের’?  পূর্ব্ব বাংলার ভিটে ছেড়ে পালিয়ে আসা বাঙ্গালী হিন্দু ঠিক কোন মুহুর্তে ‘ইন্ডিয়ান’ হয়ে যায় এবং দেশ নিয়ে কিছু বলার অধিকার হারায়? পালানোর দিন ? বর্ডার পেরোলে ? ‘ইন্ডিয়ান’ নাগরিকত্ব পেলে? দুই পুরুষ পরে? নাকি এসবের অনেক আগে, ‘ভুল’ ধর্মে জন্মমুহুর্তে? আমি জানি না।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Bengal, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Hindustan, Identity, India, Kolkata, Language, Partition, Religion

কুমিল্লা সংস্কৃতি উত্সব – স্পর্ধা অন্যতর

আমি যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌছলাম পড়াশুনো করতে, তখন ওখানে স্থিত পশ্চিম বাংলার বাঙ্গালীদের মধ্যে অদ্ভূত আবিষ্কার করলাম। আপনি কোথাকার, এটা জিগেশ করলে, কেউ তার জেলা শহরের কথা বলেন না। প্রশ্নকর্তার ‘সুবিধার্থে’ বলেন যে তিনি কলকাতার।  কলকাতার একটা ব্যাপ্তি আছে।  ১৪৪ ওয়ার্ড-দিয়ে গড়া। আমি কলকাতা থেকে  বরানগরে  কর্মস্থলে যাই।  এটা কলকাতা নয়। কলকাতার উত্তরে একটা এলাকা। এখানকার অনেক মানুষ সহজ ভাবেই বলেন যে কাজে কলকাতায় যাচ্ছেন। আরেকটু উত্তরে ব্যারাকপুরে  কথাই নেই।  সেখানে এটা আরো পরিষ্কার ভাবে কলকাতা নয়, মানুষের ভাবনায়, চেতনায়, কল্পনায়। কিন্তু এই সব কিছু-কে কলকাতা মহানগরের মধ্যে মিলিয়ে দেবার প্রবণতার পিছনে আরেকটা কিছু রয়েছে। একটি শ্রেনীর হয়েছে, যারা কোনো কিছুরই নন গভীর-ভাবে।  তাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক।  ‘গ্লোবাল’ দুনিয়ার ম্যাপে একটা খুঁটি পোতা  এবং অন্যদের কে বোঝানো – এটাই সেই আত্মপরিচিতির লক্ষ্য। এক সাথে রয়েছে স্থানীয় অনেক ব্যাপার থেকে এলিয়েনেশন। সেটা শ্রেণীগত কারণে হতে পারে, ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির লেজুর-বৃত্তির ইপ্সায়  হতে পারে, স্থানীয় সংস্কৃতিক ধারা নিয়ে নিরক্ষরতাও একটা কারণ বটে। কিন্তু সকলে এমন নন। পূর্ব বাংলার যে মানুষদের সাথে আমার পরিচয়, তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভাবে স্থানীয় পরিচয় গৌণ  নয়, বা নিজেকে ‘ঢাকা’র বলে জানানোর প্রবৃত্তি কম।  এটা অনাবাসীদের ক্ষেত্রেও সত্যি। আমার বাড়ি চেতলা এলাকায়। আমি এখুন সেখানে থাকি।  পড়াশুনো ও গবেষনার কারণে ৮ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছি। আমি অতি ভাগ্যবান যে এমন এক নিবিড় পারা-সংস্কৃতি, ধর্মাচার ও নানা রকম মানুষ ও বাজারের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি বড় হবার সময়ে। যেহেতু আমি চেতলার, বাকি কলকাতা বা ‘কলকাতা’ কে দেখার আমার যে দৃষ্টি , যার মধ্যে চেতলার ছাপ অনস্বীকার্য।  আর সেটা হবে নাই বা কেন?  মাটি থেকে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, হাওয়া থেকে নয়, এলিয়েনেটেড মানুষের আমদানি করা ভাঁজ থেকে না। স্বেচ্ছায় শিকড়হীন শ্রেণী যে পশ্চিম বঙ্গে ও কিছুটা পূর্ব বঙ্গেও রাজনীতিতে, ক্ষমতায়, সংস্কৃতিতে – অন্দরে ও বিশ্বের কাছে নিখিল বাংলাদেশের মানুষের ‘মুখপত্র’ হয়েছেন মূলতঃ শ্রেণীগত ভাবে এক ধরনের ইংরেজি ভাষায় সমাজকে স্থুল ভাবে সাহেবের কাছে ও একে অপরের কাছে প্রদর্শনের কারণে, এ আমাদের লজ্জা। দোষ তাদের না – দোষ বাকিদের, যারা এই জায়গা ছেড়ে দিয়েছে ভয়, স্পর্ধাহিনতায়। মাটির থেকে, স্থানজ সংস্কৃতি থেকে বিছিন্ন শ্রেনীর এই আধিপত্যের বিরুধ্যে লড়াই একটা গভীর লড়াই – এর সাথে আমাদের যুগের সংস্কৃতিক সংকট, ও তার সাথে ক্ষমতার সম্পর্কের প্রশ্ন অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। এই ‘আব্সেনটি ল্যান্ডলর্ড’ শ্রেনীর বিরুধ্যে সংগ্রাম কোন প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতিক প্রতিরোধ নয়। পশ্চিম-চালিত একমুখী বৈচিত্র-বিরোধী যে দানবের দুনিয়া জোড়া আস্ফালন আমাদের পোড়ার দেশগুলিতে, তার শিকড়হীন দেশীয় দালাল-দের বিরুধ্যে সংগ্রাম আসলে গণতন্ত্রিকরণের সংগ্রাম। এটাই এই যুগের গণ-লাইন। নানা বৈচিত্রের, নানা বিভন্গের মানব-জমিন কে দখলদার মুক্ত করা, যাতে কিনা ‘ডকুমেন্টেশন’ এর বাইরেও কিছু হয়, যাতে সে জমিতে নতুন ফসল ফোটে , যে জমিতে পূর্বসুরীরা ফসল ফলিয়েছেন – তার ধারাবাহিকতায় ও এবং সেই  স্থানীয় পরিপ্রেক্ষিতে তার থেকেই বিচ্ছিন্নতায় – যে বিছিনতায় রয়েছে, যার থেকে বিছিন্ন, তার গভীর ছাপ।

এই কথাগুলি বলার কারণ হলো আমাদের সংস্কৃতিক ভাবনা ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও, কলকাতা-ঢাকা কেন্দ্রিকতার ঝোঁক স্পষ্ট। কল্কে পাবার যে সংজ্ঞা গুলি, কোন উদ্যোগ হলে সেটি কোথায় হতে হবে, করা করা না দেখলে তা প্রায় দেখার মতোই হলো না – এই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে বেশ কিছু কুসংস্কার কাজ করে। ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতি থেকেও তাহলে কিছু কিছু কুসংস্কারের উদ্ভব হয় – সব কিছু আমাদের স্থানজ যাপন ও চর্চার দোষ না। কি বলেন ?

অনেক কিছুই হয় কলকাতায়।  কিছুতে লোক আসে, কিছুতে আসে না।  অনেক ক্ষেত্রে অপাত্রে দান হয়। যদিও সে চর্চার মাহাত্ম্য বোঝার আসল লোক অন্যত্র।  কিন্তু সেখানে হলে মহানগরবাসী আদৌ যাবেন না।  অত দূর যাওয়া যায় নাকি। বাঁকুড়া – সে তো বহুদূর।  কিন্তু সে বাঁকুড়া থেকেই তারা আসেন, কলকাতার অত্যধিক ত্যালা মাথার তেল একটু গায়ে লাগানোর জন্য।  এই ধরনের সংস্কৃতিক কেন্দ্রিকতা সংস্কৃতিকে একটা নিষ্প্রাণ ধারণার সাথে ঠিক আছে, কিন্তু যাপন ও স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, এলাকার জল-আবহাওবায় ভেজে না সে সংস্কৃতি। তাই হয়তো তা  ‘এক্সপোর্ট কোয়ালিটি’র না। ডানা ছেঁটে, তাকে সাইজ করে, ‘ডকুমেন্ট’ করে, রামের জিনিস শ্যামকে দেখিয়ে,  সংগঠক হিসেবে নিজের নাম দিয়ে, এক শ্রেনীর ঠিকাদার নাম কামান সংস্কৃতির ধারক বাহক ও সমঝদার হিসেবে।  এদের শিকর-হীনতার জন্যেই, স্থানীয় ভ্যালুস এদের জীবনে অপ্রাসঙ্গিক হবার কারণে, এদের গর্জে ওঠেন ‘ঘষা-মজা’ না-করা স্থানীয় সংস্কৃতিক প্রকাশের বিরুধ্যে। কেন্দ্রিকতায় এদের কায়েমী স্বার্থ। ‘কস্মপলিটানিজম’ এর নাম এক বিশেষ ধরনের সংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ এদের মূল-মন্ত্র, যেখানে ল্যাজ-কাটা শেয়াল ল্যাজ-ওলা শেয়ালদের নিজ ল্যাজ সম্বন্ধে লজ্জিত করানোর চেষ্টা করে, ‘উচ্চমার্গ’ ও সূক্ষতার দোহাই দিয়ে। গণসংস্কৃতি, জনসংখ্যা -এদের বড় শত্রু। তাই সেগুলিকে জোর করে অদৃশ্য করে দেওয়ার চেষ্টা চলে নিরন্তর। তাই তো মনে হয় অনেকের কথা শুনে না ‘ইউথ’ মানে সে যে কফির পেয়ালা ধরে এক ধরনের চর্চা করে।  বাকি কিছুই ইউথ না। অন্ততঃ তাদের ইউথ হয়ে উঠতে অনেকগুলি ধাপ পেরোতে হবে, পরীক্ষা দিতে হবে শিকড়হীনতার – মাথায় তেলের চেয়ে সেম্পু বেশি লাগানোর।

এত কথা বললাম, কারণ ক্ষমতার সঙ্গে সন্ধি করে যে সংস্কৃতিক স্রোত বইছে মহানগরে, তার থেকে আলাদা যে কোন উদ্যোগ-ই বিরুদ্ধতা।  দহয়ত এটা দুঃখের যে স্বাভাবিক ভাবে বাঁকুড়া তে থেকে বাঁকুড়া নিমজ্জিত থাকাও আজকে একরকম দ্রোহ। এতেই ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির অসহনশীলতার প্রকাশ। এরই মাঝে দাঁড়িয়ে আছে – এক, দুই, তিন নয় – ৫ বছরের কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।

এই বাত্সরিক উত্সব কুমিল্লার মানুষের, অবারিত দ্বার সেখানে। সংগঠক এলাকার মানুষ, নতুন মানুষ এবং কুমিল্লার চশমা পরে বিশ্ব দেখে এসে ফের কুমিল্লায় আস্তানা বাঁধা মানুষজন – মনজুরুল আজিম পলাশ যার অন্যতম। এলাকার সংস্কৃতি, তার উপর যে নানা স্বার্থান্বেষী, বিদ্বেষী আঘাত – আধুনিকতার নাম, ধর্মের নাম – সে সকলের বিরুধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এই উত্সব। ঢাকা, কলকাতা, চিটাগাং, টরন্টো, চীন এসকল জায়গা থেকে মানুষ কুমিল্লা গেছিলাম।  বড় শহর থেকে মানুষ ছোট শহরে যাবে কিছু পাবার জন্য – জজ-জুরি হিসেবে না, অতিথি হিসেবে, নিজেকে ব্যাপ্ত করার সুযোগ হিসেবে – এটা আজকের সময়ে বড় কম কথা নয়। এবং সেখানকার গণ-সংস্কৃতির কাছে মাথা নবাবে, আঁজলা  ভরে নেবে, হয়ত বা কিছু দেবেও।  এই ভাবেই অতিথির চোখে দেখলাম এই অসাধারণ উত্সব।  সুসু অতীত চর্চা নয়, শুধু ‘সনাতন’ চর্চা নয়, আবার সেসব বাদ দিয়েও নয়, আবার সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা কে সামনে রেখে, অনেক স্বেচ্ছা-সেবকের উদ্যোগে হলো এই উত্সব।  এলাকার গণ-সংস্কৃতির ও গর্ববোধের কাঠামো যে মজবুত তা বুঝলাম কুমিল্লার একাধিক স্থানীয় দৈনিক কাগজ দেখে – এবং সেখানে এই উত্সবের উত্সাহী রিপোর্টিং দেখে।  আলাপ হলো কুম্মিলার কাগজের নির্ভিক দরদী সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের সাথে।  আরো কত জানা হলো, কত কিছু শিখলাম।

এই সময়ে, এই স্পর্ধা করা যে কুমিল্লায়, তাদের কাছে যে মাল মজুত আছে, তা ঝুলি থেকে বার করে দেখালে, বাইরে থেকে লোক আসবে। তারাও আসবে নিজেদের একটু আধটু নিয়ে, নিয়ে যাবে অনেক বেশি।  আজকের কেন্দ্রিকতার দুনিয়ায়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব ( কুমিল্লা কালচারাল ফেস্টিভেল) -এর স্পর্ধা অন্যতর বিশ্বায়নের এক মেনিফেস্টোর মত – গণসংযোগ, স্থানীয় সংস্কৃতিক স্বাক্ষরতা, মাটির সাথে সম্পর্ক, মানুষ সম্পর্কে শ্রদ্ধা, বিকেন্দ্রীকরণ, গণতন্ত্রীকরণ এবং নিজেকে পৃথিবীর কেন্দ্র মনে করা এক বহুকেন্দ্রিক পৃথিবীর কল্পনা করা।

গেছিলাম আমন্ত্রণে।  ফিরলাম এলাকাকে ও তার মানুষকে একটু চিনে, আর এও জেনে যে ঢাকা ও কলকাতার দিয়ে সংস্কৃতির সকল ধারা কে বাধ দেওয়া যায় না, এবং সেগুলি অনেক কিছুর জন্যই আদর্শ স্থান নয়।  আমার-ও কিছু পাওয়ার আছে কুমিল্লা থেকে। কাউন্টার ভ্যানগার্ড হয়ে হয়্তো তা ভ্যানগার্ড ধারণার সঙ্গে একটা সমালোচনা-মূলক সংলাপ। সেদিক থেকে কুমিল্লার এই উত্সব পথিকৃত। এলাকার গান ছিল, এলাকার নাটক ছিল, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আশা মানুষের একাধিক মাস্টার ক্লাস ছিল, মোটর সাইকেল স্টান্ট ছিল, আলাপ-আড্ডা-হেঁটে বেড়ানো ছিল। পর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনা ছিল।  স্থানীয় অশুভ শক্তির সাথে যুগপত সমঝোতা ও বিরুদ্ধতার যে কঠিন আভ্যন্তরীন সংগ্রাম, তাও ছিল।  শুধু অনুষ্ঠান সূচী দিয়ে এই উত্সব কে বোঝা যাবে না।  তার জন্য নিজ এলাকায় এমন উত্সব সংগঠিত করতে হবে, মানুষকে জুড়তে হবে।  কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব কোন তীর্থ না, এটি একটি মডেল। সতী মাতার শরীরের নানা অংশ বাংলার নানা স্থানে পড়েছিল , এক স্থানে পড়ে নি। তাই এত গুলি তীর্থ কে কেন্দ্র করা এতগুলি ধারা, এতগুলি চর্চা ও ভাবনা। পুরনো তীর্থ গুলু ধুঁকছে, নতুন তীর্থ জন্মাচ্ছে না,  ঢাকা-কলকাতা ‘মহাতীর্থ’ হয়ে উঠছে।  এই সময়ে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব একটি আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠার আভাস দেখায়। পরের বার ষষ্ঠ কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।  চোখ কান খোলা রাখব আমি, আপনারাও রাখবেন। বিকল্প অন্বেষণের  একই প্রয়োগশালাটি  আবার দেখা সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Dhaka, Kolkata

গোবিন্দ হালদারের নিষিদ্ধ ফিসফিস

সে যতই দেখনদারী হোক, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ওপার বাংলায় যাত্রার ফলে কিছু সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে – যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই একটি জাতির দুই বিভক্ত অংশের একে অপরের দিকে নতুন করে তাকানো। এই বিভক্তির কারণের মধ্যে, তার ঠিক-ভুলের মধ্যে না গিয়েও একটা কথা বলা যায়। দেশভাগ ও তার পরেও ঘটতে থাকা খুন-ধর্ষণ-ধর্মান্তরকরণ-লুঠ-ঘরপোড়ানো-সম্পত্তিদখল ইত্যাদি ভয়ানকের অপরাধের শাস্তি হয়নি, এপারেও – ওপারেও। এই আদি পেপার বোঝা সুদে-আসলে এতই ভারী যে মানুষ সেই বোঝাকে ফেলে দিয়ে ভুলেই গেছে পাপের কথা। প্রায়শ্চিত্ত তো দূরস্থান।

১৯৪৭-এর বাংলা-ভাগের সাথে ব্রিটিশদের দ্বারা উপমহাদেশের শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলির হাতে যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল, আজকের ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন, পাকিস্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এক অর্থে তার-ই ফসল। এই ভাগের সাথে সাথেই ‘আমরা’ কারা ,’বন্ধু’ কারা ’, ‘শত্রু’ কারা- এগুলির নানা মিথ রচনার বীজ পোঁতা হয়, যার থেকে বেরোনো মহীরুহ আজকের দিনে আমাদের মনকে, আমাদের কল্পনাকে একদম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে। নতুন রাষ্ট্রের পেটের গভীর থেকে জন্মানো এই কল্পকাহিনীগুলি যে আজ পবিত্র সত্যের স্থান নিয়েছে, তা শুধু গল্পের ভাবের জোরে নয়। সরকারী প্রচার এবং সরকারী বাহিনী, ঘুষ ও শাসানি, আঁচড় ও আদর, পুরস্কার ও থার্ড ডিগ্রী, জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও মিথ্যা মামলায় হাজতবাসের এক অসামান্য সংমিশ্রনেই আজকের পবিত্রতা, সংহতি, ‘বিকাশ’, রাষ্ট্রপ্রেমের জন্ম (দেশপ্রেমের নয়)। সাবালক এই সব বিষবৃক্ষের রসালো ফলের আমার দৈনিক কাস্টমার। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে, আমাদের স্বকীয় আত্মপরিচিতকে পিটিয়ে পিটিয়ে রাষ্ট্রীয় ছাঁচে ঢোকানো হয়েছে দিল্লী, ইসলামাবাদ ও ঢাকার মাতব্বরদের স্বার্থে। মানুষের আত্মাকে কেটে সাইজ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার জুজু দেখিয়ে। এই পাপ বঙ্গোপসাগরের থেকেও গভীর।

আমাদের কল্পনা ও স্মৃতির অগভীরতার কারণে আমরা মনে করি যে এক রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বোধয় দৈব নির্ধারিত কোন ‘প্রাকৃতিক’ নিয়ম যা না মানলে আমরা দুনম্বরী বিশ্বাসঘাতক মানুষ। যাদের আনুগত্য, টান ও ভালবাসা রাষ্ট্র-সীমান্ত পেরোলে ঝুপ করে উবে যায় না, তারা বুঝিবা মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং রাষ্ট্রের চোখে নেমকহারাম। রোজ এই ধারণাগুলিকে বিনা বাক্যে মেনে দিয়ে আমরা আমাদের এই মর্ত্যলোকে স্বল্প সময়ের জীবনকে করে তুলি ঘৃণাময়, ভীতিময়, কুঁকড়ে থাকা। ১৯৭১-এ কিছু সময়ের জন্য পূর্ব বাংলার মুক্তিসংগ্রামের সময়ে এপার বাংলায় এরকম অনেক তথাকথিত বিকার চোরাগলি ছেড়ে রাজপথে মুখ দেখানোর সাহস ও সুযোগ পেয়েছিল। এ সত্যি যে ১৯৭১-এ ইন্ডিয়ান উনীয়নের নানা এলাকায় পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সমর্থন ও সাহায্য ছিল। কিন্তু পশ্চিম বাংলায় এই সাহায্যের আড়ালে যে আবেগের প্রকাশ ঘটেছিল, তা আজকের ডেটল-ধোয়া ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্রাষ্ট্রিক সম্পর্কের পবিত্র গণ্ডির বাইরের এক প্রায়-নিষিদ্ধ জিনিস। পশ্চিমবঙ্গের সাথে পূর্ববঙ্গের যে একাত্তুরে ‘ঘনিষ্টতা’, তার সাথে কর্ণাটকের সাথে পশ্চিমবঙ্গের ঘনিষ্টতা বা কর্ণাটকের সাথে পূর্ববঙ্গের ঘনিষ্টতার কোন মিল নেই। এই মিল-অমিলের অঙ্ক মেলাতেই তো ঘনঘন বেজে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত, যাতে এরম চিন্তা গুলিয়ে যায় মিলিটারি ব্যান্ডের আওয়াজে। দিল্লি-ও একাত্তরে ভালই জানত এসব ‘নিষিদ্ধ’ প্রেমের কথা – কিন্তু এই প্রেম তখন তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পক্ষে কাজ করেছিল বলে বাড়তে দিয়েছিল কিছুদিন অন্যদিকে তাকুয়ে, তারপর রাশ টেনে সমঝে দিয়েছিল সময়মত। এই আচরণেরও অন্য উদাহরণ আছে। যেমন তামিল নাদুর বিধানসভায় শ্রীলংকার ইলম তামিলদের সমর্থনে যেসব প্রস্তাব পাশ হয়, তা নিয়ে দিল্লীর নিস্তব্ধতা – যেন দেখেও দেখছে না। যেমন কাবুল ও পেশোওয়ারের মধ্যে যে ঠান্ডা-গরম পাখতুন বন্ধন ও তা নিয়ে আজকে ইসলামাবাদের চাপা ভীতি।

১৯৭১ অবশ্যই অতীত। সেই ‘নিষিদ্ধ’ প্রেম আমরা কবে বন্ধক দিয়েছি বেঙ্গালোর-দিল্লী-নয়ডা-গুরগাঁও স্বপ্নে বিভোর হয়ে। তাই তো আজ, আমরা, এই বাংলায়, দিল্লির থেকে ধার করা চশমায় পূব দিকে তাকাই আর দেখি – গরুপাচারকারীর মুখ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মিছিল, হিন্দু বাঙালির শেষ আশ্রয়স্থল হোমল্যান্ডটিকেও জনসংখ্যার বিন্যাসে কেড়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র। এই সবই কিছু ঠিক, কিছু ভুল, কিন্তু সেসব ঠিক-ভুলের পরেও মধ্যে লুটোয় দিগন্তজোড়া বাংলাদেশের মাঠ, যে মাঠ শুধু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাঠ নয়, বরং নিখিল বাংলাদেশের মাঠ। সে উত্তরাধিকার আজ প্রায় তামাদি।

বিগতকালের এই যে সম্পর্ক, যার শেষ প্রতিভুদের একজন এই গোবিন্দ হালদার। একরাষ্ট্রের আনুগত্যে বাঁধা আমরা, তাই এ প্রেমের কথা কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার পায় না। এ সম্পর্ক – তা ঠিক পরকীয়া নয়, বরং এমন এক প্রেম যার শুরুর পরে প্রেমিক হয়েছে বিভাজিত। আর প্রেমিকার প্রেম থেকে গেছে একইরকম। কিন্ত অন্যের চোখে সে দুই প্রেমিকের প্রেমিকা, এবং কলঙ্কিনী। এমনই এক প্রেমিকা ছিলেন গোবিন্দ হালদার। গত ১৭ জানুয়ারী, ৮৪ বছর বয়সে মারা গেলেন অতি সাধারণ এক হাসপাতালে। অবিভক্ত যশোর জেলার বনগাঁ এলাকায় জন্ম।বনগাঁ ‘পড়ে’ ‘ইন্ডিয়ায়’।আকাশবাণীর জন্য গান লিখেছেন। একাত্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আকাশবাণী কলকাতা। পরে যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য প্রচুর গান লেখেন যা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ও পূর্ব বাংলার জনগণের মুখের গান, প্রাণের গান হয়ে ওঠে। মোরা একটি ফুল বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠেছে রক্ত লাল, পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা – এগুলি তার প্রবাদপ্রতিম রচনা। শ্রোতার ভোটে তৈরী বিবিসি রেডিওর সর্বকালের সেরা ১০টি বাংলা গানের তালিকায় তার দুটি গান উপস্থিত। এই লোকটি মারা গেল, কোন বঙ্গশ্রী, পদ্মশ্রী ছাড়াই। আসলে সে ঠিক গান লিখেছিল ‘ভুল’ রাষ্ট্রের জন্য। তাই এপারে তার কল্কে নেই। আমাদের মধ্যেই ছিলেন এতদিন। জানতে চেষ্টাও করিনি, কারণ রাষ্ট্রর ক্ষমতা যত বেড়েছে, তা আমাদের মানুষ হিসেবে ছোট করে দিয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-ও একাত্তরে গোবিন্দ হালদারের নাম ফলাও করত না – সে ‘ভুল’ রাষ্ট্রের যে। পরে ঋণ শোধের চেষ্টা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিত্সার খরচ পাঠিয়েছেন, সরকার পুরস্কৃত করেছেন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কলকাতায় মৃত্যুপথযাত্রী গোবিন্দ হালদারকে দেখে গেছেন। আমার কাছে একটা ছবি আছে – বৃদ্ধ গোবিন্দ হালদার বাংলাদেশের পতাকা নিজের বুকের কাছে ধরে আছেন। পার্টিশন এলাকার যারা নন, একদেশ-একজাতি-একরাষ্ট্র রাষ্ট্রের গর্বে বলিয়ান যারা, হয়ত ভাগ্যশালী তারা,কিন্তু তাদের কি করে বোঝাব এসব ? হয়ত তারা বুঝবে পরজনমে, রাধা হয়ে। তখুন হয়তো তারা অনুভব করবে গোবিন্দ হালদারদের দেশের ঠিকানা।

কেউ কেউ কিন্তু তলে তলে বোঝে। ঢাকার অভিজিত রায় – খ্যাতিমান মুক্তমনা ব্লগার। ২৬ তারিখে , একুশে বইমেলা থেকে ফেরত আসার সময়ে তাকে রামদা দিয়ে হত্যা করা হলো। তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। দায় নিয়েছে ইসলামী সংগঠন আনসার বাংলা-৭। প্রতিবাদে এ বাংলার কিছু মানুষ ২৭এই কিন্তু জমায়েত করলেন যাদবপুরে। নিষিদ্ধ প্রেম পরিণত হয় নিষিদ্ধ কান্নায়, কাঁটাতার ভেদী শপথে, চোরাগোপ্তা। সব রং তেরঙ্গায় নেই।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Kolkata, Language, Nation, Open futures

The illegal Bangladeshi – a view from West Bengal

[ Express Tribune (Karachi), 16 May 2014 ; Observer Bangladesh, 17 May 2014 ; Millenium Post, 15 May 2014; Kashmir Observer, 17 May 2014]

The massive victory of Narendrabhai Modi led Bharatiya Janata Party (BJP) in the recently concluded parliamentary elections of the Indian Union has brought much cheer to Islamo-nationalist political forces in the People’s Republic of Bangladesh. The cynical calculation behind the jubilation is that the new government will squeeze illegal Bangladeshi migrants who are in the Indian Union. The Awami League government will look like a lame duck in front of an aggressive New Delhi. This would strengthen the Bangladeshi opposition’s case of Awami League being an Indian (read Hindu) stooge. This will politically benefit the opposition. However, it is not to be forgotten that during the last Islamo-nationalist Bangaldesh Nationalist Party government at Dhaka, which partially coincided with the tenure of the BJP-led government at New Delhi, many ‘deals’ happened. There were ‘illegal Bangladeshis’ then too. What are the plans of the new New Delhi government will unfold soon.

The People’s Republic of Bangladesh shares with the Indian Union a border whose drawing, policing and barb-wiring takes into account the concerns of everyone except those who live at the border. This is probably true for nation-state borders in general. The Border Security Force (BSF) of the Indian Union has a distinctly bad reputation for being trigger-happy when it comes to shooting down what it claims as people illegally crossing the border. This makes the BSF a much-hated name in the People’s Republic of Bangladesh, a sentiment that is used to the hilt by Islamo-nationalist political forces in their campaigns. The BSF also routinely harasses, rapes, maims and assaults people in the villages of the West Bengal side of the border. This complicates the easy narrative of BSF’s anti-Bangladesh bias. Like all stat-raised band of armed people, these are self-serving forces. The border is a plum posting for the amount of money paid to border security personnel on either side – an ‘illegal’ taxing of ‘illegal’ activities. BSF, with its assaults on both East Bengalis and West Bengalis, seems to be an equal opportunity brutalizer. This is the force entrusted by the Indian Union to keep ‘illegal Bangladeshis’ to enter the territories of the Indian Union.

During elections in the subcontinent, neighbouring nation-states and their inhabitants come alive as proxies for domestic issues and fissures. ‘India’ is one of the fundamental axes around which politics in Pakistan, Bangladesh and Nepal expresses itself. The Indian Union has ‘closet Pakistanis’ and ‘illegal Bangladeshis’.

Narendra Modi, speaking at a Bharatiya Janata Party (BJP) rally at Srirampur in West Bengal on 27th April, made public his resolve to deport Bangladeshis from India. It is an old BJP charge that most political forces in West Bengal have tried to get Muslim votes by nurturing illegal Muslim migrants from Bangladesh, by getting them government documents to regularize their illegal status. The unsubstantiated underside of this charge is that the West Bengali Muslims look favourably at this development and do not mind this increase in the number of their co-religionists. At the alarmist end of this claim is that West Bengal is staring at an inevitable demographic reversal where Bengali Hindus will soon lose their majority, thus losing their only safe haven (though victims of the 1971 Marichjhapi massacre would say otherwise). That modern yearning for a united Hindu vote (just like monolithic Hinduism) remains unfulfilled. The BJP’s thought that in West Bengal’s multi-cornered fight, a renewed push at the consolidation of some Hindu votes might reap some dividends has turned out to be true as it increased its vote percentage all across West Bengal and has emerged as the second largest party in the Kolkata metropolis – an unprecedented development.

Mamata Banerjee, the chief beneficiary of Muslim Bengali votes, had reacted sharply to Modi’s statement. She characterized it as a ploy to divide Bengalis along religious lines. Banerjee is aware that between a third and a fourth of West Bengal’s electorate are Muslims and were crucial to her dream post-May 16th scenario of calling shots at Delhi. With the BJP’s absolute majority at the centre, such dreams came to a nought. Nonetheless, she had reminded the people that the ‘butcher of Gujarat’ does not have a clean record of ensuring peaceful co-existence between religious communities. Modi’s ‘Bangladeshi’ is a codeword that Banerjee can decode.

Though pre-partition Bengal was very often called Bangladesh, and a dwindling number of West Bengalis continue to say Bangladesh when they mean West Bengal, the term ‘Bangladeshi’ is a relatively recent term. The term owes its present currency to Bangladesh’s dictator Zia-ur-Rahman who used this term effectively in his soft-Islamization programme to counter the politico-cultural capital of Bengali identity, deemed to be a political tool of the Awami League and otherwise polluted by Hindu Bengali influences.

The ‘Bangladeshi’ that Modi wants deport back to East Bengal is a Muslim migrant from East Bengal. He did not cross over or bribe the Border Security Force in order to wage a demographic war against West Bengal’s Hindu majority. He did that because he is pitifully poor in a low-wage country and would have gone to Dubai or Malaysia if he could. East Bengali Hindus have additional reasons to cross over, given the rampant systemic discrimination they face in their homeland, in addition to the general atmosphere of insecurity for religious minorities in that country.

When some professional secularists claim that few, if any, illegal Bangladeshi migrants are present in the Indian Union, they are consciously lying and this does immense damage to their otherwise good causes. It is undeniable that a very large people from East Bengal (whose present political form broadly is the People’s Republic of Bangladesh) have been migrating to the Indian Union, since 1947. While this traffic has seen ups and downs, there are specific high-points. The early migrations are etched in public memory due to their immediate ties to the partition. The widespread rioting in East Bengal in 1950 led to a large second wave. There have been many waves after that. The anti-Hindu riots of 1964 and the 1965 Indo-Pak war saw a huge number of people move out. The events of 1971 took this to another scale altogether, where a genocide, directed towards East Bengalis in general and East Bengali Hindus in particular, produced 10 million refugees of which nearly 1.5 million (mostly East Bengali Hindus and East Pakistani Bihari Muslims) never went back. 1971 marks the peculiar end of the ‘legitimate’ refugee. This partly stems from the false idea that religious minorities are ‘safe’ in ‘secular’ Bangladesh. By 1974, those who had fled during the Bangladesh Liberation war events of 1971, the percentage of Hindus in the People’s Republic of Bangladesh stood at 12.1 %. The 2011 figure was 8.5 %, a staggering 33% decrease in proportional terms. The downward trend continued through every decade since 1971. The Babri demolition of 1992, the 2001 and 2014 anti-Hindu violence were big-spurt in this continuous trickle. Even on 27th April, the day Narendrabhai Modi gave several Hindu temples and homes were ransacked in the Comilla district of Bangladesh.

It can be safely assumed that most of those who fled their homeland ended up in the Indian Union. The long partition continues. 1971 does not represent a change. That partition and refugee narratives tend to centre around 1947 and are mostly from the higher castes, the low-caste heavy later traffic does garner the same prominence in ‘public imagination’ of West Bengal, still dominated by the higher-castes. Namasudras and other lower caste communities of East Bengal have formed the bulk of the post-1971 migration, many settling in 24 Parganas district. The Muslim migration follows similar routes. The shifting demographic reality of 24 Parganas and the consequent insecurity that it evokes among people who recently fled East Bengal to find security in a different demographic reality across the border has resulted in a series of riots in that area. Fringe groups like Hindu Samhati have fished in these troubled waters with some success. Public muscle flexing of certain Muslim groups in that area has not helped matters. Copybook trigger issues like music in religious procession passing through specific routes, encroaching on religious site and trans-community eloping/kidnapping are all present. While political parties are doing their arithmetic carefully, conflagrations in the subcontinent have the power of burning calculation sheets to ashes, with the spoils going to the most cynical players.

In this high-stakes game among the powerful, the unresolved issues of the powerless fester on. Fleeing persecution, insecurity and death, the post-1971 lower caste refugees from East Bengal remain ‘illegal’. For all practical purposes, the Indian Union denies citizenship to those who crossed over from East Bengal after 25th March 1971, the day when major atrocities by the Pakistan army started in Dhaka. The 2003 Citizenship (Amendment) Act took away the possibility of birthright citizenship from the children of many of those who fled persecution in East Bengal. This has created millions of state-less young people who are children of refugees (infiltrators in government-speak) who have lived all their life in the Indian Union. Due to the amendment, many Dalit migrants were been identified as ‘infiltrators’ and deportation proceedings were started. The Matuas, one of the largest low caste groups of primarily East Bengali origin namasudras settled in West Bengal, have been protesting this act, passed incidentally by a BJP-led government. While all political parties want the ‘legal’ Matua vote, they are silent on the citizenship question. The root problem is that they want to duck the issue of distinguishing between the varying motives of those who crossed over. To the Hindutva brigade, this question is a ‘secular’ way of effectively distinguishing between Muslim and Hindu illegal migrants. No one wants to be seen as the one who wants blanket amnesty to Bangladeshi Muslim migrants. Neither does one want to appear insensitive to the plight of human rights refugees. Silent solidarity will be enough for votes. Modi has astutely recognized an opportunity and has set the cat among pigeons by calling for for evaluation of illegal migrants, case by case. He has also gone on to state that all Hindus have a right to seek refuge in the Indian Union. He is silent on why his party’s government passed legislation that took away the possibility of citizenship from the children of lakhs of low caste Hindus of East Bengal.

Ultimately, the persecuted Hindus of East Bengal (refugees and resident) are mere pawns. When Delhi-based Subramaniam Swamy (who has not been included in the cabinet till now by Narendra Modi) outrageously claimed a third of the territory of the Bangladesh to settle illegal Bangladeshis, he does not care about the ramifications of such statements on the situation of Hindu Bengalis presently living in Dhaka and Chittagong, where they are branded Indian fifth-columnists by dint of faith. The 1992 actions of Ramlala’s lovers took its toll on many Hindus in Dhaka and elsewhere. The Hindustani Hindutva brigade couldn’t care less about this type of ‘collateral damage’.

East Bengali Hindu migrants are unfortunate. The prime beneficiaries of partition crafted the Nehru-Liaquat pact of 1950. Many did not move due to the false sense of assurance (including the assurance of the door being permanently open) that came with this largely ceremonial gesture. By this, the Indian Union effectively washed off its hands from the ‘minority problem’ in Pakistan. It did not want the refugees whose refugee status resulted directly from the political agreement and power-hungry moves that created the Indian Union in the way it did. ‘Shutting the door’ has been the Indian Union policy post-1971 (similar to what Pakistan did to stranded Pakistanis in Dhaka), something it cannot implement – one of the natural consequences of claiming full monitoring abilities over an absurd frontier. For decades, the Indian Union has systematically discriminated Eastern frontier refugees (mostly Bengalis) on questions of compensation, entitlement, relief, citizenship, etc. The Indian Union owes reparation to these people, for the Indian Union’s creation and its geographical contours are intimately tied to their migration and impoverishment.

The ‘illegal Bangladeshi’ and associated codeword play is a problem created by a partition that failed as a solution. If division has failed, some measure of integration is necessary. This can take various forms including the possibility of dual or tiered citizenship for all Bangladeshi migrants. Of course, the government at Dhaka has to be a party to it, since migration to the Indian Union has been crucial in the alienation of a huge amount of Hindu-owned property in Bangladesh. Whatever certain private fantasies may be, that a Muslim-free Indian Union or a Hindu-free Bangladesh cannot be a solution is evident on a daily basis in almost minority-free Pakistan. A comprehensive asylum system needs to be instituted, which does not discriminate on the basis of religion. Hindus are not the only human rights victims in Bangladesh. The Ahmadiya Muslims, the Jumma people of the Chittagong Hill tracts and many more are. When any India-based entity like the BJP makes public pronouncements about its sympathy towards victims of human rights victims anywhere, it might do well to make amends for the communal riots in Muzaffarnagar, Ahmedabad, Deganga and a lot more. What is good for the goose is good for the gander.

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Caste, Delhi Durbar, Dhaka, Displacement, Identity, Nation, Partition, Religion

বঙ্গদর্শন

[ Ebela, 4 Nov 2014]
খণ্ডিত বঙ্গের দুই অংশ – ছোট ভাই পশ্চিমবঙ্গ ও বড় ভাই পূর্ব্ববঙ্গ।  এই দুই বঙ্গ মিলেই আবহমানকালের বাংলাদেশ – যদিও ১৯৭১-এর পর তা মূলতঃ পূর্ব্ববঙ্গের জাতিরাষ্ট্রের
‘অফিসিয়াল’ নামে পরিণত হয়েছে। নিজেকে বাংলাদেশ নামে ডাকার অধিকার পশ্চিমবঙ্গের বড় অংশই ছেড়ে দিয়েছে। সেটা দুঃখজনক। নিজের নাম স্বেচ্ছায় কেন কেউ নিজে থেকেই ভুলে যাবে, তা আমার বোধগম্য নয়। তো সে যাই হোক, এতটাই আত্মবিস্মৃত আমরা যে বাংলাদেশ নামটির পুরো অধিকারটাই আমরা তুলে দিয়েছি পূর্ব্ববঙ্গের হাতে। খন্ড-বঙ্গের ছোট খন্ড আমরা।  এই খন্ড ভাব আর ছোট ভাব দুটি প্রায় হারাতে বসেছে আজ দিল্লীর তালে নাচতে গিয়ে। তাই তো আজ পশ্চিমবঙ্গের অধঃপতিত জাতি নাক সিঁটকে বলতে শিখেছে ‘ওরা তো বাংলাদেশি’। আর তোরা হলি ‘ইন্ডিয়ান’। বাঙ্গালী তাহলে বোধহয় বঙ্গোপসাগরের গভীরে বসে মাঝে মাঝে মুণ্ডু তুলে কলকাতার ডাঙ্গা দেখছে – কেকেআর, শাহরুখের নাচ, আটলেটিকো, দিওয়ালি, হোলি, গুরগাঁও তথা আরো হরেক বেঙ্গলী ব্যাপার-স্যাপার। এরই মাঝে বোমা ফাটল বর্ধমানে। আরেক রকমের বেঙ্গলী সকলের টিভিতে এসে উপস্থিত। বাংলাদেশী ! এবার আর গরু-পাচারকারী বা কাঁটাতার পেরোনো বেআইনি হিসেবে নয়। পরিচয় এবার জেহাদি। খবরে তেমনই প্রকাশ।
অথচ চিরকাল ব্যাপারটা এমন ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ বুঝত ও জানত যে ‘ওপারে’ যে দেশটি, তার সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক। সে সম্পর্কের স্বীকৃতি কোনো আইন বা সংবিধান দেয় না। তাতে কি বা এসে যায়? এসে যায়নি বলেই তো ১৯৭১-এ পূর্ববঙ্গের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গে  যে বিশেষ সংহতির উন্মাদনা দেখা গেছিল, তাতে অনেক ঐক্য ও অখন্ডতার পূজারীরা ভয়ানক জুজু দেখেছিল। যখন স্লোগান উঠেছিল – এপার বাংলা, অপার বাংলা, জয় বাংলা, জয় বাংলা – তখন অশোকস্তম্ভের ৪ সিংহের ভুরু কুঁচকে গেছিল। পূর্ব্ববঙ্গের এক নকশালপন্থী (হ্যা, ওদিকেও ছিল ও আছে) দল -এর স্লোগানে ছিল অন্যতর কল্পনার বীজ – দুই বাংলার চেকপোস্ট উড়িয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। সে  বীজ থেকে যে কোনো চারাগাছ বেরোয়নি আজ অবধি, তা বলাই বাহুল্য। যে কোন দাবি বা স্লোগান একটি বিশেষ সময়ের দলিল। আজ এই স্লোগান উঠলে অবশ্যই শুনতে পাব – চেকপোস্ট উড়িয়ে মরি আর কি। এমনিতেই বিএসএফ দিয়ে ওদের পিলপিল করে আশা রোখা যাচ্ছে না, উড়িয়ে দিলে তো পশ্চিমবঙ্গ-টাই দখল করে নেবে।  ন্যায্য চিন্তা, বিশেষতঃ যখন ১৯৭১-এর পরেও পূর্ব্ববঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর
নির্যাতন, সম্পত্তিদখল, দাঙ্গা ইত্যাদি চলেছে প্রায় নিরন্তর – সরকারী/বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায়। আর হিন্দুদের পূর্ববঙ্গ থেকে পালিয়ে আসাও চলেছে নিরন্তর।  চলছে আজ-ও। তবে তারা নিম্নবর্গের, তারা ব্রাহ্ম্মন-কায়স্থ-বৈদ্য নয়, তাই তাদের আখ্যান পশ্চিমবঙ্গে উপেক্ষিত। তার উপর আছে এক ধরনের মেকি ধর্মনিরপেক্ষতার। ১৯৭১-এর সংহতি থেকে আজকের পূর্ব্ববঙ্গের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞানহীনতা, ইটা ঘটল কি করে? কি করে পশ্চিমবঙ্গ তার ওপর অংশ কে দেখার বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি হারিয়ে ফেলল?  কেন আজ তাকে দিল্লীর থেকে চোখ, ক্রাচ আর দূরবীন ধার করে পুর্ব্ববঙ্গকে দেখতে হয়। কখন আমরা অন্ধ, অশিক্ষিত ও পঙ্গু হয়ে গেলাম? কখন আমরা ‘বৈরী বাংলাদেশী’ নামক চরিত্রের নির্মাণের দিল্লী রেজিমেন্টে নাম লেখালাম?
আজকে বর্ধমানের কল্যাণে আমরা জেনেছি জামাত-এ-ইসলামীর নাম। এর আগের গল্প কেন আমরা এত কম জানি? আসলে আমরা তো ক্রমে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিরও নাম ভুলতে শিখেছি, ওপারের খবর কি জানব। বরং দিল্লি-বম্বে-গুরগাঁও-নয়ডার মানচিত্র মুখস্থ করি গিয়ে। সচিন মোদের  ব্রহ্মা, শাহরুখ মোদের বিষ্ণু আর দিল্লীশ্বর হলেন সাক্ষাত মহেশ্বর। মন্দিরে আর জায়গা কই ? কার সন্তান কত অন্যাশে বঙ্গ-ত্যাগ করে দিল্লী-বোম্বাই পৌছেছে, এই যাদের সাফল্যের মাপকাঠি, তারাই ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে। অনুপ্রবেশ অবশ্যই সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে, কিন্তু বলবে কারা – যারা পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে উন্মুখ, তারা ? বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপক অংশ জেহাদ করতে কাঁটাতার পেরোন না, আসেন জীবিকার জন্য। দুবাই বা মালয়শিয়া পাথেয় যোগার করতে পারলে এদিকে আসতেন-ও না। ঠিক যেমন আমলাশোল থেকে ঢাকা যাবার সহজ ব্যবস্থা থাকলে অনাহারে মরার থেকে অনেকেই গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতে বেশি পছন্দ করতেন।
ক্ষুদ্রতর পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে বৃহত্তর পূর্ব্ববঙ্গকে বোঝার দায় আমাদের আছে। আজকের পুর্ব্ববঙ্গকে। কবেকার ফেলে আসা ভিটেকে খোঁজা না , সেই ভিটেতে যে ব্যাপক বদল ঘটেছে – সেটাকে বোঝা। আমাদের জানতেই হবে যে শিশু ফালানি খাতুনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ কেন কাঁটাতারে ঝুলছিল, জানতেই হবে কোন সীমান্তরক্ষী তাকে খুন করলো – তবে জানতে পারব এই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমান্তরক্ষীদের দৈনিক অত্যাচারের কথা।ওদিকের সীমান্ত রক্কাহ করে বাঙ্গালী। স্থানীয় মানুষের মুখের ভাষা বোঝে।  এদিকের কথা আর বললাম না। মার্কিন দূতাবাসের সামনের রাস্তার নাম হোচিমিনের নামাঙ্কিত করে যে দুঃসাহস ও ঘৃণা জানিয়েছিল কলকাতা, সেই দায়তেই জানতে হবে কেন ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাস্তা ফেলানির নামাঙ্কিত করার দাবি ওঠে।  জানতে হবে ওদিকের সুন্দরবনের রামপালে ভারতের এনটিপিসি-র পরিবেশ ধ্বংসকারী বিদ্যুত প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গবাসী দায়হীন কিনা। জানতে হবে সব সাইক্লোন শেষ মুহুর্তে আমাদের কাটিয়ে যখন ওদিকে ঘুরে যায়,তারপর কি হয়? তার জন্য পরের ছুটিতে হিমাচল-কন্তাকুমারি-রাজস্থান-আন্দামান না করে একটু যান-না ওদিকে।
এক শ্রেনীর পশ্চিমবঙ্গীয় ওদিক ঘুরে এসে এক রোমান্টিক স্বর্গের চিত্র আঁকেন। ঢাকায় দুর্গাপুজো দেখে বলেন, সব ঠিক-ই আছে। ফি বছর যে বেশ কিছু দুর্গাপ্রতিমা আক্রান্ত হয় ওদিকে, সেটা বলতে কুন্ঠা কেন? ওদিকের সংবিধানের আগেই রয়েছে একেশ্বরবাদী ইসলামী বাণী।  এদিকে মা দূর্গা সহায় বা জয় শ্রী রাম নেই। এদিকে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তিলুঠ হচ্ছে, দেশত্যাগে
বাধ্য করা হচ্ছে, একথা নিন্দুকেও বলতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে ওদিকের লজ্জিত হওয়া উচিত। অতীতের হিন্দু জমিদারের অত্যাচারের শাক দিয়ে আজকের বাস্তবতার মাছ ঢাকা যায়না। আবার ওদিকেই শাহবাগে ৭১-এর চেতনাধারী মূলতঃ মোসলমান বিশাল যুবসমাবেশে ডাক ওঠে ‘সূর্য্য সেনের বাংলায়, জামাত-শিবিরের ঠাই নাই’। সূর্য্য সেনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে  ওদিকের খবরের কাগজে একটি ব্যাঙ্কের পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দেখেছি – এদিক কল্পনা করতে পারে?
শরতচন্দ্র বাঙ্গালী ও মোসলমানের মধ্যে ফুটবল খেলিয়ে অনেক গাল খেয়েছেন। আজ কলকাতা নামধারী ফুটবল-দলের সাথে ঢাকা মহমেডান ক্লাবের খেলা হলে উনি বুঝতেন, মোসলমানের টিমটাই বাঙ্গালীর টিম। কলকাতার দলটি বাঙালিও নয়,মোসলমান-ও নয়, এক্কেরে আন্তর্জাতিক – স্রেফ টাকাটা দিল্লি-বম্বের। অন্যের মাতাকে মাতৃজ্ঞানে পুজো করতে বাধ্য হবার মত পরাধীন ওরা নয়, সেটা ‘মাইন্ড’ না করার মত শিরদাঁড়াহীন-ও ওরা নয়। ওরা বাংলার ভবিষ্যৎ বলতে জাতির, ভাষার ভবিষ্যৎ বোঝে – আমরা বুঝি রাজারহাটে কল-সেন্টার।  আমাদের মধ্যে ‘কানেকশান’ সত্যিই আজ কম।  কারণ ওরা বাঙ্গালী, আমরা বং।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Delhi Durbar, Dhaka, Identity, India, Kolkata, Nation

খেলা স্রেফ খেলা নয়

[ Ebela, 15 Jul 2014]

পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল আমাদের চেতলা পাড়া থেকে রাসবিহারী মোড় যাওয়ার অটো রুটেই। জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের রক্ত পতাকাগুলি নেমে আসতে শুরু করলো। তার জায়গায়ে এলো মা-মাটি-মানুষের নিশান। এখুন-ও সেগুলি উড্ডীন। এই পথেই এক-কালে বসত বিরাট রথের মেলা। চলত ১৪ দিন। এখুন সে ঐতিহ্যশালী মেলা চেতলা ব্রিজের নীচে নির্বাসিত। পরিসরে ১০ বছর আগের তুলনায় এক দশমাংশ-ও নয়। সে যাই হোক, বর্ষাস্নাত এক সন্ধ্যায় আমি রাসবিহারী মোড়ের অটোর জটলার দিকে গেলাম। দেখি কয়েকটা অটো-তে এক নতুন পতাকা। ব্রেজিল দেশের। এই পতাকা বদল সাময়িক এবং তার জন্য এই তরুণ অটোচালককে কোন চোখ রাঙ্গানি দেখতে হবে না।  কোনো সরকার, কোনো দল , কোনো ইউনিয়ন বা ক্লাব-কেই ব্রেজিলের থেকে কোনো ভয় নেই।  তাই একয়দিন নতুন পতাকা উড়বে। তা উরুক।  শত পতাকা বিকশিত হোক।

ব্রেজিল যে কজন মানুষকে গৃহহীন করে এই বিশ্বকাপ রোশনাই করছে, কত ব্রেজিলীয় সুরেশ কালমাদী রিও-সাওপাওলোর স্টেডিয়ামের ভিআইপি দর্শকাসনগুলি আলো করে আছে, তার বিবরণ আমাদের নরম হৃদয়ে ধাক্কা মারতে পারে, তাই ওই খারাপ জায়গায়ে বেশি হাতরাবো না। আর্জেন্টিনার ভক্তদের হাতে ব্রেজিলের বিরুদ্ধে খেলার মাঠের বাইরের রসদ দিয়ে লাভ নাই। এ যুদ্ধে যেই জয়ী হোক, নিখিল বাংলাদেশে একটি মানুষের কিসুই হবে না।  তবে তাতে কি? তা নয়, শুধু এটাই যে এই বাংলাদেশের বুকেই কলকাতার মাটিতে এক ফুটবল
যুদ্ধের ফলাফলে আমাদের কিসু এসে গেছিল। আইএফএ শিল্ডে কালা আদমির দল মোহনবাগান যখন সাহেবদের খেলায়ে সাহেবদের বাচ্চাদের হারিয়েছিল। এই খেলা শুধু খেলা নয়।  সমাজ-জাত কোন কিছুই শুধু খেলা থাকে না, সমষ্টিগত বোধ তাকে ক্রমে সামাজিক সত্যে পরিনত করে। বাংলাদেশের পাড়ায়ে পাড়ায়ে যে ফুটবল-চর্চা তা অনেকটাই কিআইএফএ শিল্ডের  যুদ্ধের উত্তরাধিকার নয় ? আর এই চর্চা যে খেলার জন্ম দেয়, তার দাম, তার শিহরণ, ঠিক হয়েছিল এই মাটির নিরিখে।  আমাদের সেরা দল ব্রেজিল বা আর্জেনটিনার কাছে ২০ গোল খেলেও নয়। সেটা আমাদের খেলা, আমাদের অতীত, আমাদের যাপন,  আমাদের রাজনীতির সঙ্গতে গড়ে ওঠা।  সেটা ফুটবল হলেও বিশ্বকাপ-এ যে খেলাটি হয়, সেটা নয়।
একান্তই আমাদের একটি খেলা। আমাদের ব্রাজিল, আমাদের আর্জেনটিনা একান্তই আমাদেরই।  কোন ব্রেজিলবাসী বা আর্জেনটিনাবাসী তাকে চেনে না।

ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মোহমডান, আবাহনী  – এই নামগুলি যে স্রেফ দল নয়, বরং ভিন্ন-ভিন্ন গোষ্ঠিচেতনার প্রকাশ, তার আভাস এখুনো খেলার মাঠে গিয়ে দর্শকাসনে কান পাতলে একটু একটু পাওয়া যায়। আজকে অতি ক্ষীণ হয়ে আসা এই গোষ্ঠিচেতনায় কুমোরটুলি, উয়ারী, রাজস্থান, এরিয়ান, টালিগঞ্জ অগ্রগামী স্রেফ ফুটবল দল মাত্র থাকে না , আমাদের সমাজজীবনের নানা খন্ডচিত্রের, শহর কলকাতার মধ্যে থাকা মানুষের আত্মচেতনার দলিল হয়ে থাকে। জাত-ধর্ম-জাতি-ভূগোল-ধন-অতীতের মত  আরো নানা পরিচয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গোষ্ঠী ও তাদের একান্ত ক্ষোভ-গর্ব-অভিমান ও এমন শত আবেগ-কে দিয়ে তৈরী বাংলাদেশের যে সমাজ চেতনা, ফুটবল তার এক প্রকাশ মাত্র। সমাজের
অভ্যন্তরের সংলাপ সেটি। তাই ব্রেজিল-কে লুঙ্গী পরে, আর্জেন্টিনা-কে সায়া পরে বাংলাদেশের সেই অন্দরমহলে ঢুকতে হত বহুকাল।  শত শত বার্সিলোনা-মেদ্রিদ-মিউনিখ-ম্যানচেস্টারের মিলেও অন্দরমহলের সে খেলা খেলতে পারবে না। স্পেনীয়দের নিজেদের দেশে কিন্তু বার্সিলোনা-মেদ্রিদ এমন-ই নিজস্ব আত্মচেতনার অংশ। কিছু খেলা, কিছু বোধ, কিছু মনোভাব, কিছু বিশ্বদর্শন একদম নিজেদের, একদম আসল জিনিস, একটুও বিনিময়যোগ্য নয়।  এই আসলটার একটা কার্টুন রূপ যে বিক্রয়যোগ্য, তা বিশ্ব-ব্যাপী খোলা বাজারের
ব্যাপারীরা বুঝে গেছে বেশ কিছুকাল । আজকের ব্রেজিল দল গড়ে ওঠে য়ুরোপের ভিন্ন ভিন্ন শহরের, জেলার, গঞ্জের আত্মচেতনার প্রকাশের নিশানী দলগুলির হয়ে ভাড়া খাটনেওয়ালাদের দিয়ে। ব্রেজিল ও বার্সিলোনা , দুই স্থানীয় মধ্যে যোগসূত্র বিশ্ব ফুটবল বাজারের কিছু পরিযায়ী পণ্য।

শ্বেতাঙ্গ থেকে শেখা খেলাকে আমরা নিজেদের করে নিয়েছিলাম – বিলেতের ফুটবল এসোসিয়েশন যে খেলার ঠিকাদার, তার সাথে আমাদের খেলার মিল বাহ্যিক। শ্বেতাঙ্গের তালে তালে ‘মানুষের মতো মানুষ’ হয়ে উঠতে আমরা আমাদের অন্দরের খেলাটির দিকে মৃত্যুবাণ ছুড়েছি। বিকিনি মডেল, চোলাই কোম্পানি আর মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল যখন তলে তলে এক দল হয়ে যায়ে , শেষের শুরু তখুনি। যে মৃত্যু গোষ্ঠ পালের বিষ্ঠাপুর্ণ মূর্তিতে মাল্যদান করে ঠেকানো যায়ে না। তাই অন্দরমহলে আনাগোনা লিভারপুল-ম্যানচেষ্টার-চেলসি দলের
নামধারী পণ্যগুলির। সদর দরজা এখন হাট করে খোলা। উঠোনের জাম গাছটির শিকড় আলগা হয়ে এসছে। এমনকি বট গাছটিও কেটে ফেলা হয়েছে – ৬ কাঠা জমিতে উঠেছে
যে বহুতল, তাকেই জায়গা করে দিতে। মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন নবসমাজের বিচ্ছিন্নতা একে অপরের সঙ্গে।  সামূহিক আত্মপরিচয় নাকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক আধুনিকতার পথে বিশাল কাঁটা, এবং বেশ ‘ব্যাকডেটেড’ ও বটে।  তাই নবসমাজের আভ্যন্তরীন সংলাপ নাই, সমাজ থেকে উঠে আসা খেলার দরকার নাই, আমদানি করা মাল প্যাকেট শুদ্ধ গিলে ফেলার মধ্যেই মুক্তি।  ব্যাক্তিমুক্তি।

সমাজ থেকে উঠে আসা বলেই বিভিন্ন স্তরে যে ফুটবল খেলা হয় নিখিল বাংলাদেশে। অন্ত্যজের ক্ষমতায়নের সাথে তাল মিলিয়েই উচু-জাতের মৌরসীপাট্টা নয় আর ফুটবল। তাই দেশীয় এলিটের দেশীয় ফুটবল এমনিতেও দৃষ্টিকটু লাগবে। যে কারণে দৃষ্টিকটু লাগে না টলিউড বা বলিউডের প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী-কলাকুশলী -নির্দেশক-প্রযোজকদের মধ্যে উচু জাতের, রয়িস খান্দানের মানুষের প্রায় একাধিপত্য।  সংবেদনশীল ফিলিমপ্রেমীরা তা দেখতে যান, প্রশংসা করেন, খারাপ বলেন। হলিউডিও-য়ুরোপীয় তুলনা দ্যান। এও এক
ধরনের সমাজের আভ্যন্তরীন সংলাপ।  তবে সে সমাজের পা কি মাটিতে ? সে সমাজের স্বপ্ন কি নিজের না আমদানি করা? সেই সমাজের লিভারপুল প্রেমের মধ্যে নিজের
পারিপার্শিক সমাজকে ঘেন্নার একটু গন্ধ কি নেই ?

কোনো কিছুই বিনামূল্যে হয় না।  কোনো না কোনো ভাবে মূল্য চোকাতে হয়। যখন চেতলায়ে কেউ হয়ে ওঠেন চেলসির ভক্ত, মল্লিকবাজারের কোনো বহুতলীয় তরুণের স্বপ্নে দেখা দেয় ম্যানচেষ্টার, তখন আমাদের আত্মপরিচয়ের ভিত আলগা হয়। অতীত ও সমাজ, দুই হতেই বিচ্ছিন্ন বাঙ্গালীকে তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গণমৃত্যুর কথা জিজ্ঞেস করলে শুনতে পাবো ইহুদী, জিপসী ও অন্যান্য শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠির নাম। ১৯৪৩-এ  ব্রিটিশ শাসক ও তার দেশীয় তাবেদারদের ষড়যন্ত্রে যে ৩০ লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছিল নিখিল বাংলাদেশে, মৃত শ্বেতাঙ্গদের সাথে তারা একাসনে জায়গা পায়না।  কল্পনা ও আত্মপরিচয় যখন সমাজ-বিচ্ছিন্ন, তখন সে নরসংহারের চিত্র উত্তরপুরুষদের জন্য রেখে গিয়েছেন যে  জয়নুল আবেদীন বা চিত্তপ্রসাদ, তাদের নাম যে চেলসির ভক্ত জানে না, তা কি খুব আশ্চর্যের? উত্তর-মনমোহন কলকাতা তথা বাংলায়ে সমানে চলেছে জাম গাছের শিকড় উপড়ে কিউই ফ্রুট খেতে শেখার গল্প। বিশ্বায়িত হওয়া মানে শ্বেতাঙ্গ মানুষের আত্মপরিচয়ের সাথে হাইফেন দ্বারা যুক্ত হওয়া। এটলেটিকো মাদ্রিদ ‘কলকাতা’কে নিলামে কিনে বানায়ে ‘এটলেটিকো ডি
কলকাতা’।  কালা মানুষে ধন্য হয়।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Colony, Dhaka, Elite, Kolkata

The Goonda first came for the Assamese / Gunday on the loose / The Bollywood Gunday threat against Assam and Bengal

[ Daily News and Analysis, 4 Mar 2014 ; Dhaka Tribune, 5 Mar 2014 ; Echo of India, 11 Mar 2014 ]

People in the Bengals use the word ‘Goonda’ quite liberally – to refer to anything between a naughty child to the local political thug. But in the eyes of law, who is a Goonda? One of its many legal definitions is to be found in the Control of Disorderly and Dangerous Persons (Goondas) Act (East Bengal Act IV of 1954). There is goonda is someone ‘involved in affray, rowdyism or acts of intimidation or violence in any place private or public so as to cause alarm to the people living or frequenting the neighbourhood’. According to the Uttar Pradesh Control of Goondas Act (U.P. Act No. 8 of 1971, amended by U.P. Act No. 1 of 1985), it is ‘generally reputed to be a person who is desperate and dangerous to the community’. But if film and artist communities in Assam and West Bengal have been protesting mischief and many young people in the People’s Republic of Bangladesh are disgusted at the false and mischievous retelling of its Liberation struggle, then the source of mischief can safely be called a Goonda, at least rhetorically if not legally. When there is more than one such public enemy, in Hindi they are called Gunday. Gunday are backed by deep-pockets whose ulterior projects are more extensive than the specific acts of mischief. More often than not, the Gunday of the real-world are mercenaries for other people’s projects, even part of broader, more sinister projects of which the employed Gunday may not be even aware of. The Gunday are as important as the people who dictate what Gunday does, how they do it, when they do it.

In the reel-world, ‘Gunday’ is a project of Yash Raj Films, a Bollywood centric entertainment behemoth. It is one of greatest flag-bearer of Bollywood Hindi films, that grandest by-product of ‘Indianness’. Some perverse people like me feel that the relationship is inverse – that ‘Indianness’ is a byproduct of Bollywood Hindi films, among other things. It is the thread that connects the browns to browns, with the punitive sedition laws at hand just in case some folks didn’t get the point. Whatever be the tall ‘diversity’ claims of the Indian Union, the cultural landscape after partition has a couple of winners (English being one) and a large set of losers. In the Indian Union, we all know that cultural and political clout of which language has expanded after partition, so much so that not knowing it is seen as a sign of being politically and culturally queer. This advancement comes with the retreat of Marathi, Kannada, Bengali, Assamese, etc. as playgrounds of cultural imagination and virtual annihilation of fecund tongues like Maithili, Awadhi, Brajbhasha, etc. It is not accidental that the most successful film industry is of the same language that receives the maximum preferential subsidy for its advancement. The subsidy to English in poor brown-land is a scandal of another scale altogether.

Let me not beat about the bush and come to the point. Gunday is a Bollywood Hindi film. For West Bengal, it was dubbed in Bengali. This make one, get many formula by dubbing into other tongues makes economic sense for the producer. But that also opens the flood-gates for this trend. The film and cultural community in West Bengal has protested against this. If using their mighty economic muscle, Bollywood producers can brow-beat distribution networks and cinema halls into showing such dubbed material, this will be an economic bonanza for Bollywood. Much black money will find greater returns but fledling non-Hindi film industries will fail ruin as they cannot outcompete Bollywood in black money, film volume and the cinema-hall blackmailing strength that comes with it. This desperate aggression was in full display in Assam where Rajni Basumatary’s Assamese film ‘Raag’ which was running quite well was removed by economic goondaism to make way for Gunday. Not too many films are produced in Assamese and when a good one is made with help from the Assam Film Development Corporation, this is the fate. Cultural diversity, even cultural competition, can only flourish in a level economic playing field. No amount of bleating about ‘unity in diversity’ changes that basic fact.

Let me describe a scenario. Dubbing my story and then forcing it down your throat using my economic muscle will slowly silence you. You wont be able to tell your own stories. You will have to adapt my stories. It does not matter if you have a long tradition of telling stories. Soon you may even develop an aesthetic sense for my stories, get alienated from your stories, from your people, look at them with curious eyes of an outsider. In short, I will destroy you cultural roots, replace them with mine and you will finally clap along the way. If that does not make me a Goonda, I don’t know what does.

The acts of some gansters have international manifestations. Gunday has chosen to parrot the official Delhi fiction of Bangladesh being a product of a brief Indo-Pak war. The people of that independent nation did not take that lying down. The producers have apologized. The Assamese can dream on. Pakistan has sought to protect its film industry by trying to restrict ‘Indian’ (read Bollywood) films. The states of the Indian Union have no such power, just like they do not have the power to protest the huge subsidy and preference given to one desi language. Apparently, this language ‘unites’. We know how this unidirectional unity works. No Assamese film will be dubbed in Hindi and released to multiplex audiences in Delhi and Mumbai. Not in this nation state. If slow but sure annihilation of certain cultures is a pre-condition to some kind of a ‘national integration’ project, then that nation is an enemy of those cultures. It is up to the Indian Union to decide what integration project it wants to promote – a predatory one or a harmonious one. It is up to you, the viewer, to ask whether your film ticket is filling a goonda’s pocket.

 

 

1 Comment

Filed under Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Hindustan, Kolkata, Language, Nation, Pakistan

Is this the Bangladesh we wanted? Analyzing the Hindu Population Gap (2001-2011)

[ Alal o Dulal, Apr 2014 ]

Garga Chatterjee and Naeem Mohaiemen for AoD

In October 2012, Prothom Alo published a frightening report that stated, in plain words, that over the last decade (which spans a BNP, an AL, and a Military “CTG” government), the Hindu population of Bangladesh has dropped dramatically and continuously. We at Alal O Dulal are a group of editors committed to a secular Bangladesh. At the same time, we are mindful that “secularism” has become a politically inert, and semantically complex, category, often providing cover for a political party’s other follies (the sentiment here can broadly be categorized as, “at least they are secular”).

Since the publication of the PA report, the editors of AoD have been having a series of discussions on what these numbers mean for the future of Bangladesh. We believe secularism cannot be enforced by force, certainly not through the barrel of a gun. A process of domination, subjugation, and political nullification of oppositions in order to “defend” secularism is dangerous. Instead of producing secularism as a normative, naturalized, and lasting category, it reinforces the perception (internally and externally) that secularism can only be defended by force. This, in the long term, weakens secularism.

Neither of the two main political parties (the AL or the BNP) have made secularism a priority, using it mainly at the polls as a strategy. A common perception that minorities were safer under an AL government, prevailed for a while, benefiting AL in a number of past elections. Riots instigated during the twilight of Ershad era, or the anti-Hindu backlash carried out after 2001 election victory of BNP-JI alliance, or the more recent anti-Hindu violence in 2013, are highlighted to support this view. We have done such highlighting ourselves in our past activist work (at Alal O Dulal, at Drishtipat, in the pages of Daily Star, New Age, Prothom Alo, and Dhaka Tribune). Our own personal political commitments have also been guided by a belief in secularism and therefore in opposition to parties that do not take a public secular stance. However, events of the last four decades prove that minorities have fared poorly under every government.

There is also the concern, in 2013, that our national politics has been degraded to such a degree that attacks against Hindu community may even be deployed as a “false flag” operation, giving a cover to target the opposition parties as the presumed protagonists of these attacks. It is difficult to believe such a scenario, but it is difficult to entirely ignore the troubling evidence.

Indeed, the BNP and Jamaat are usually presumed to be the protagonists of these attacks according to the media. However, the post-Shahbag/Shapla murky political landscape of Bangladesh forces us to ask ourselves uncomfortable questions. One question we have been asking ourselves is this: Since the Jamaat is currently hamstrung by the negative backlash it faces due to its role in 1971, and the BNP faces the problem of its alliance with Jamaat, who benefits at the present time from these attacks? What is the benefit to the Jamaat (or BNP) to attacking Hindu homes– a move certain to result in widespread national and international backlash against these two parties (as has happened). Recall that the 2001 attacks happened after BNP-Jamaat were solidly in power, and presumably considered themselves invincible. But the attacks of 2013 happened when that coalition was out of power and in fact on the defensive (in spite of public posturing)– the recent announcement that BNP would not undertake any long campaigns until they get the party (http://www.dhakatribune.com/politics/2014/apr/09/bnp-wants-overcome-frustration-first) shows the party acknowledging its (http://www.dhakatribune.com/politics/2014/apr/11/question-bnp%E2%80%99s-existence-ignites-debate) current weakness, and the tenuousness/controversy of its alliance with Jamaat. In this weakened scenario, why would that alliance, or its subsidiaries, carry out attacks on Hindu homes– an event that would surely create backlash and condemnation against the party?

A few newspaper reports have reported that, in at least some of the cases, ruling AL party affiliated activists were either involved in the attacks, or fomented them, or stood by while they happened . We at Alal O Dulal do not have the resources to investigate these reports further, but an independent, neutral probe body must look into these issues. These reports, mostly falling into silence since they do not match a national liberal-secular script, have reminded us that 2013 is not the same as 2001– when the BNP election victory saw widespread attacks against the Hindu community, and a (http://www.dhakatribune.com/law-amp-rights/2014/jan/24/judicial-commission-finds-bnp-jamaat-involved) probe found BNP-Jamaat involved. At that time, some AoD editors worked actively to rehabilitate victims of one such attack in the village of Annadaprashad– as members of the diaspora activist organization (https://groups.yahoo.com/neo/groups/mukto-mona/conversations/topics/8110),Drishtipat. But in 2014, we find a complex situation where minority communities are surrounded by both hostile forces and “friends” who use them as chess pawns.

In his introduction to the investigative book, Ramu: Shamprodayik Shohingshota Shongkolon<, Barrister Barua shares how communalism is a cross-party, indeed pan-Bangladesh, phenomenon:
“In my professional life I often have to face a different kind of communalism. Instead of feeling pride in my achievements often I am made to feel embarrassed by trivial things. In 2001 when on the occasion of being inducted into the Dhaka Barristers’ Association I went to a courtesy meeting with committee, the Awami League backed Chairman, on examining my educational qualifications, commented,“I see that all your degrees are from India, so why didn’t you stay back there?”

Does the Chairman not know how many of young men from the majority religion go to India every year to obtain their degrees and how many of them choose to stay there? After almost nine years of studying in England when I returned home in 2011 and was interviewing for the post of the lawyer for Dhaka City Corporation, North and was asked exactly the same question by a teacher from Dhaka University, I realized that the country hadn’t moved ahead much from 2001, at least in terms of communal thinking.

Beside these, among the communal words that we hear or use often but pretend to not to notice are: the use of the word “Babu” to address to someone, to call someone “malaun” or “nere” (shaved head) despite deep friendship whenever we lose an argument with them. In recent times the Awami League leader Suranjit Sen has been a major victim of this sort of things. The roots of these ugly words go so deep that it is not easy to uproot them. On top, we have gotten so used to hearing these words that we are no longer shocked by them. But, in the words of Tagore, whether this acceptance is true acceptance is rather doubtful.

In my opinion the fact that there is no law regarding this is a contributing factor as to why we aren’t able to come out of this. The time has come for us to think about introducing an anti-communalism/anti-racism law in our country. In many countries of the world there are effective laws regarding this and these laws are implemented. If we had a similar law in our country that would help in increasing communal harmony. At least it would somewhat alleviate the everyday harassment that minorities have to face in the country.” (excerpt translated by Tibra Ali)
***

How gholate(murky) is our national politics that we need to consider seriously the allegation made by some newspapers, that attacks against the Hindu community may also have been deployed by the party that represents secularism, as a “false flag” operation to blame the opposition? The water is very muddy by now.

Meanwhile, the opposition BNP also continues to have a party position that is silent on support for secularism as state policy. Other than a few pro forma responses denying responsibility for these attacks, we have not seen the BNP take any strong stance for secularism. This party also uses this issue for their political advantage (no doubt some party stalwarts will take comfort from the fact that we have indicted AL equally for this issue– but again, this is simply about one party getting an advantage over another, neither party is sincere on this issue).

In this situation, where will those outside of majoritarian, Bengali, Muslim, domination-subjugation identification go for political support? They are homeless in Bangladesh.

We should also point out that, in academic discourse, “secularism” is now a vastly debated term. What it means in 2013 is not what it meant in 2001. There is a sprawling body of work and debate on this, but without delving into that, we at AoD define “secularism” as a safeguarding and guaranteeing of all non-majority communities’ political, economic, and cultural rights.

Secularism, in our view would be an embedding set of national policies which would ensure full, deep, and representative presence of such communities in all national spaces. It would foster the implementation of “affirmative action” policies that would ensure representation of these communities to counterbalance decades of under-representation and marginalization. At the same time, we caution that such policy cannot take the forms of current cynical political practice, where representation of minority communities in economic and political life is simply used as a political tool to ensure visible “loyalty”– those are policies that benefit, as with many things in our politics, party not people.

Let us take a longer view. Analysis of the Enemy Property Act (later the Vested Property Act) shows that both AL and BNP, when in power, have used this to grab minorities land. Abuse of state power to grab land from minorities, in fact, appears to be the only constant–on this issue, both major parties are on the same wavelength when it comes to grabbing minorities properties and land.

Every government has used the minorities for political gain, yet nobody has truly been on their side. In the end, no political party truly defends the rights of minorities, perhaps with the exception of small left parties who are sincere at the grassroots, but weak at national electoral level.

After the PA report, AlalODulal published the post (http://alalodulal.org/2012/10/02/hindu-2/)Final destination and quoted Afsan Chowdhury’s words. We at AoD shared his anger and shame and feel it’s appropriate to quote, again, his cuttings words: “After all the words are spent, what remains behind is the shame. We have allowed this to happen again and again (http://opinion.bdnews24.com/2012/10/01/ramu-when-shame-is-not-enough/). We didn’t need a new version of old Pakistan. Bangladesh was to be the exact opposite but thanks to inefficiency, corruption, bigotry and religious excess, we have failed to build a state we could be proud of. For us there is only disgust. On behalf of all who accept what we have said, our sincerest and humblest apology to the people who have suffered in particular and to all minorities in general.”

And of course we must nod toward the late Humayun Azad, who passed away from complications six months after he was brutally attached outside the Book Fair. He coined the phrase “Is this the Bangladesh we wanted?”

Over six months in 2013, a group of independent researchers have been looking at the data cited by Prothom Alo, from Bangladesh Bureau of Statistics (BBS). They have shared it with AlalODulal, for wider dissemination. In a web exclusive we publish those research results in excel data form (go to article end  for link, if quoting these results anywhere, please cite “AlalODulal.org”).

***

Research Summary:

1. In the 2001 census, the total Hindu population was 11,608,268. The annual population growth rate was 1.37%. According to the published research in the Prothom Alo, by 2011 the number of the Hindu population should be 13,200,000. But in BBS` 2011 census report the actual Hindu population is 12,299,940. The gap amounts to 900,060. This is the missing Hindu population.

2. The study of the Prothom Alo had one limitation. BBS adjusted its census and its 2011-data of the Hindu population in 2012 including data of the Bangladesh Institute of Development Studies (BIDS) that were assigned for the post-enumeration check and that found 3.97 percent people were left out in the first count. Now, the actual number of the Hindu population in 2011 is 12,789,113. Considering the total Hindu population in 2001 and the annual growth rate of 1.37% the predicted number in 2011 should actually be 13,337,065 people. This means that the decrease of Hindu population would change to 547,953 (instead of 900,060). The adjusted figures data from the IRC data sheet on the population change characteristics of Bangladesh between 2001 and 2011 have certain important features.

3. To discover that the decline in Hindu population is 0.5 million, instead of 0.9 million is of little comfort. This is still a very large number and confirms the worrying trend of continuous decline.

4. Even on the adjusted numbers, there is a shortfall of 0.5 million Hindus from what would be predicted using the rate of growth of population in the decade. Unless there has been some drastic and unexplainable change in Hindu fecundity rates or large-scale conversion to other faiths (both of which we consider unlikely as explanations), the reason for this shortfall has to be explored. Prima facie, this represents the net Hindu emigration out of Bangladesh in that period. The real population growth of Hindus of Bangladesh between 2001 and 2011 was 1,148,769 (using the adjusted figures). The gap between predicted growth and actual growth is 547,953.

5. Assuming that the 1.37% annual growth in Hindu population did happen (dismissing drastic fecundity /death rate/life expectancy/conversion explanations), something around 547,953 Hindu individuals of Bangladesh origin exist, somewhere in the world. To make sense of these numbers in some other way, we can state that in the 2001-2011 decade, for 1696721 new individuals added to the Hindu population, 547,953 have left the country. That is about 1 person leaving the country for every 3 persons newly added. This is a shocking statistic.

6. Family planning depends on the long-term plans of the family – which also includes the stability of their present state, including stability of homestead and source of income. While we think that low birth-rates cannot explain a deficit as large as 547,953, it is well known that a sense of security and long-term stability affects birth-rates in a community. For example, the birth-rates of Kashmiri Pandits, after their displacement from the Kashmir valley, have taken a drastic hit. Numerous studies document this.(http://www.hardnewsmedia.com/2009/03/2679 ). It is not improbable that a small proportion of the ‘missing Hindus’ were not actually born.

7. What is the geographical distribution of the deficit and does that tell us anything? Some districts have actually registered a net decrease in Hindu population in the 2001 to 2011 period. There are 9 such districts. Most of these 9 districts form a near-contiguous belt – Bhola, Barisal, Jhalokathi, Pirojpur, Bagerhat, Narail, Gopalganj and then Rajbari and Manikganj. What does this strong geographical concentration of the districts actually registering a net Hindu population decrement in 10 years tell us. Some of these districts (Bhola being the most infamous example) have been sites for serious anti-Hindu attacks. It may also be useful to note that in 2001 the BNP-Jamaat won all seats in Manikganj, Bhola, Pirojpur, Jhalokathi, Barisal and Rajbari. But Gopalganj, the ultra-identified borough of Awami League is also in the list. Hence this precludes any clear explanation in terms of local party domination, though one cannot rule it out as one of the out-migration factors.

8. Studies  which also look at the volume of ‘enemy property’ in different districts in terms of number of affected families, percentage of Hindu families affected and correlating that with the percentage of Hindu population change would be useful to trying to find out the reasons behind the ‘missing Hindus’ of Bangladesh. For example, see this 2009 ( http://archive.thedailystar.net/forum/2009/february/our.htm )summary of Abul Barakat’s research. Here are some key statistics from Barakat’s research:

a) Households: 43% of all Hindu households (1.2 million) have been affected by EPA/VPA. 57% of households that lost land lost an average of 100 decimals. Survey data shows 33% of affluent Hindu families lost land due to EPA/VPA. 50% of affluent households had at least one close relative who lost land

b) Total Land: Total area of land lost is 2.01 million acres, which is 5.5% of Bangladesh’s total land mass but 45% of land owned by the Hindu community. The research shows two numbers: one is the impact on Hindu community as measured by the official land records, the second is the impact as measured by survey data. The survey data shows 22% more land loss (2.6 million acres) than official records. The type of land lost is typically agricultural, homestead, pond area, orchard, fallow land, etc.

d) Value: Assuming average market price of land as seen in the year 2007, total value of land lost is Tk. 2,416,273 million (Tk. 3,106,636 million from survey data).

e) Sale Value: Even if land is being lawfully sold, the price of Hindu-owned land is reported as Tk. 900,000 per acre, as compared to Tk. 1,500,000 for similar Muslim-owned land

f) Methods of dispossession: Influential parties grab land in connivance with Tahsil and Thana Revenue Office, Tahsil and Thana Revnue Office itself grabs land. Death and/or out-migration of one member of a Hindu family is used as excuse to enlist the whole property. Influential parties grab the land by using violence, local thugs, and forged documents. Influentials allure sharecroppers to occupy land, and then become eventual owners, etc.

g) Accompanying harassment: Harassment that accompanies land-grabbing includes obstruction in casting vote in elections, obstruction in harvesting crops, workplace intimidation, property destruction, eve-teasing, looting, robbery, obstruction in shopping, extortion, etc.

h) Political affiliation: Barakat’s research also shows that grabbers try to change their political affiliation with each change in government. We can conclude that either party affiliation is switching after change of government, or ownership is switching from one party affiliate to another.

9. For those looking to one party or another for a solution, note that this drop has happened in both AL and BNP period. Unless there is an united political push to protect minorities and to give them full rights of a citizen, neither of the two parties will be able to reverse this trend. Where would this trend lead to? This statistical analysis has some shocking pointers. As Dipen Bhattacharya wrote in an earlier op-ed for Alal O Dulal:
“Until a few years ago, I believed that even though the Hindu percentage was declining, the absolute number of the Hindu population was increasing and would continue to increase. However, the truth is <strong>bitter and it’s statistical. It seems the trend is for negative growth numbers. For the next forty years or so, we might expect to see the Hindu population drop from a high of 13 million (in 2011) to 10 million. Whether the population will plummet drastically after 2051 is a matter of speculation. But for all practical purposes, the Hindu community will stop being a major participating community in Bangladesh. If the country stabilizes its population at 250 million, then an estimate for the Hindu number for the year 2101 could be as low as 3.75 million.

Among several explanations of  the low growth rate are (i) mass exodus to India, (ii) the disruption of the family structure and (iii) the willful underestimation by the the Census Bureau. Some say the migration to India is for better economic opportunities. Even when the existing religious bonding favors the power structure, some explanations comprise “land-shortage” and “land-grabbing” as if those words could take away the inherent religious bigotry that is present. They fail to see how – without any access to the existing power system of the current Bangladesh society – vulnerable the Hindu population is. Soft and hard intimidation, extortion, threat to family structures, illegal occupation of property, and looting and burning of households and temples are sufficient to have this population scurry across the border. The Hindus migrate to India because their lives are made unbearable through various means in Bangladesh. (http://alalodulal.org/2014/01/09/statistics/)  (The Statistical Future of Bangladeshi Hindus )

Meanwhile Ali Riaz came to this conclusion in 2012:
“Take for example the issue of the dwindling Hindu population in the country. An examination of the census data of the composition of religious minorities since 1901, led me to conclude in 2004 that there is a massive out-migration of the Hindu population: about 5.3 million in the preceding 25 years. The Hindu community in Bangladesh has been weak owing to its lack of access to resources and hence has never been able to mount resistance to the institutional persecutions faced. This has left Hindus with no choice but to relocate. In 2001, for example, a large number of Hindus from three districts (Barisal, Pirojpur and Bagerhat) initially moved to the neighbouring Gopalganj district in search of a safe haven. In the absence of a potential haven nearby the persecuted Hindus decided to cross the border. The porous border between Bangladesh and West Bengal, not to mention the cultural and historical ties between these two parts of Bengal, helped the intended migrants to move to the Indian state. Some returned later, but some didn’t…

The census reports of the past 60 years show a steady decline of the Hindu population. This decline is not consistent with the population growth rate of the country. For example, the population growth rate was 3.13 percent for 1961-1974, 3.08 percent for 1974-1981; 2.20 percent for 1981-1991; 1.58 percent for 1991-2001; and roughly 1.34 percent for 2001-2011. It cannot be ascribed to low Total Fertility Rate (TFR) of the adherents of Hindu religion. Even if one takes into account that the TFR among Hindu women is estimated at 13% less (estimate is based on recent contraceptive use rates) until 1991 and 15% after 1991, the average annual growth rates of the Hindu population would have been 2.72 during 1961-1974, 2.68% during 1974-1981; 1.92% during 1981-1991; 1.34% during 1991-2001, and 1.14% during 2001-2011.

If we factor in these assumptions and reconsider the government statistics, the numbers change drastically. By 1991 the Hindu population should have reached 16.5 million as opposed to 11.16 million recorded in census data. The rate of the missing population has increased in the past two decades. The current Hindu population, 13.47 million, is far short of the number one should expect based on population growth rates. The decline of the religious minority community is matched by the increased use of Islamic icons and symbols in political rhetoric, not to mention deletion of secularism as state principle and official designation of Islam as the state religion.”

Full data, with district wise break up on Hindu and other populations and detailed tables are available at Alal o Dulal :

http://alalodulal.org/2014/04/12/hindu-population-gap/

1 Comment

Filed under Bengal, Dhaka, Partition, Religion, Terror

January on Jessore Road / The besieged Hindus of Bangladesh

[ The Hindu, 16 Jan 2014 ; The Friday Times (Lahore), 17 Jan 2014 ]

“Hey there mister can you tell me what happened to the seeds I’ve sown

Can you give me a reason sir as to why they’ve never grown?

They’ve just blown around from town to town

Till they’re back out on these fields

Where they fall from my hand

Back into the dirt of this hard land”

– Bruce Springsteen, This Hard Land

Few moments in the past century evoked as much hope in its stakeholders than the emergence of the People’s Republic of Bangladesh as a secular state in the eastern part of the subcontinent. Drenched in the blood of martyrs and fired by lofty idealism that has still not completely died, this nation-state has not lived up to its ideals. Often declared by some to be the greatest achievement of the Bengali people, is at a dangerous crossroad, once again. The ruling Awami League has an unenviable record of corruption and graft tainting its last 5 years in government. To be fair, the previous elected government of the Bangladesh Nationalist Party (BNP)-Jamaat-e-Islami combine had a track record far worse in this regard. But the country is young and the BNP-Jamaat was last in power 7 years ago – when a significant section of the present population was had not reached adulthood. In addition to that, the opposition, especially the Jamaat, has been partially successful in using its massive economic clout and international propaganda apparatus to portray itself as a victim of state-sponsored witch-hunting. The ‘witch-hunting’ boils down to two things that can all but finish the Jamaat off as a viable political force. The first is the deregistration of Jamaat as an electoral force, as it privileged divine ideas over democracy in the party constitution – something that the Supreme Court deemed as illegal. The second is the War Crimes trial of those who committed crimes against humanity during 1971. Almost all of the present Jamaat leadership was heavily involved in murder, rape, arson and forced conversions. In a subcontinent where politics thrives on the erasure of public memory, this episode has refused to disappear. In fact, a dilly-dallying Awami League government was almost forced by the youth movement in Shahbag to pursue the war crimes trial seriously. Facing the prospect of political annihilation, the Jamaat responded by a three-pronged offensive. One, marshaling young Madrassa students and use them for blockading Dhaka. Two, lending BNP its activists to act as boots-on-the-ground. Three, carrying out targeted attacks on the homes, businesses and places of worship of Hindus, the nation’s largest religious minority. But the collateral damage is often wider.

Farid Mia, a fruit seller, had the extreme misfortune of being near the Ruposhi Bangla Hotel in Dhaka when the street-fighters of the opposition BNP–Jamaat combine hurled petrol bombs indiscriminately. They were aiming to create a scenario of fear in the run-up to the parliamentary elections of January 5, which the principal opposition combine was boycotting. By January 8th, the elections were over. So was Farid’s fight for life at the Dhaka Medical College Hospital. The devastated face of the young child Mohammod Liton, Farid Mia’s youngest son, will go down as a call to conscience, however transient. Farid was unlucky. He could not have known that he would be a victim.

But there are predictable victims. In 2001, after the BNP led alliance won the elections, the usual pattern of murder, rape and arson targeting Hindus happened on a very wide scale. Hindus have traditionally voted for the Awami League. The guarantee for ‘Jaan’ and ‘Maal’ is important for the survival of any people. In the Awami League regime, although Maal in the form of property and homestead has been regularly taken away by Awami League powerfuls, the attack of life and systematic rape of minority women was not part of the party’s policy. The same cannot be said of the BNP-Jamaat under whom cadres, systematically aided by the police forces, have regularly threatened both ‘Jaan and Maal’. Thus, it is not hard to see why the Hindus chose the devil over the deep sea. The Hindus who had voted in 2001 had learned their lesson when they were targeted in massive post-poll violence, most infamously in Bhola. This time around, the Hindus seemed to be out of favour from both sides. While they were targeted by the BNP-Jamaat for coming out to vote at all, in other areas they were targeted by Awami League rebels for coming out to vote for the official Awami League candidate who happened to be of the Hindu faith. There have been disturbing signs over the last few years that at the very local level, the difference between the ‘secular’ Awami League and the communal-fundamentalist BNP-Jamaat seems to disappear, though publicly the former does not tire in parroting the secular ideals of 1971 – the much used and abused ‘Muktijudhher chetona’ (Ideals of the Liberation War).

The violence unleashed against the Hindus this time around, before and after the 5th January polls, have been worst in Jessore, Dinajpur and Satkhira, though many other places like Thakurgaon, Rangpur, Bogra, Lalmonirhat, Gaibandha, Rajshahi and Chittagong have been affected. If people remember Thakurgaon and Dinajpur from a different time, it is probably because these were strongholds of the communist-led Tebhaga movement of the late 1940s. Part of the reason few riots happened in these areas when the subcontinent was in the throes of communal riots was the cross-community solidarity and political consolidation that had been achieved. That was then and we have come a long way since then. Malopara in Abhaynagar, Jessore, inhabited by Bengali Dalit castes, has been attacked repeatedly. Large scale attacks on villages, businesses and places on worship, able-bodied men being on night vigils, women huddling together in one place – all these things brought back memories of 1971 for many of its inhabitants. In Hazrail Rishipara of Jessore, women were raped at gunpoint for the crime that their families had voted in the January 5th election. Dinajpur has been badly hit with cases of beatings, home and shop burnings, and putting fire to haystacks and crops. Both Jessore and Dinajpur being areas bordering West Bengal, crossing the border for preserving life is a sad trek that many have undergone. Such slow ‘squeezing out’ is not new, neither is it intermittent. It is a continuously process that is an effect of a political discourses the willy-nilly aims to delegitimize the very existence of the minorities on their ancestral land by always asking the question –‘Why are you still here?’. ‘Why am I still here’ is a question the minorities have asked themselves and as the statistics show, a staggering number could not find a good answer and hence they left. The trickle has been slow and silent. The ‘Partition’ continues.

The ‘Partition’ was swift and vicious in the Punjabs and Sindh where religious minorities have ceased to exist for all practical purposes. This is not so in the Bengals, where many still live in the ancestral land claimed by nations whose legitimacies are much more recent than people’s ancestral claims over their homestead. Nearly 30% of the Bengal’s western half’s population is Mohammeddan (the figure was 19.46% in 1951, after the 1947 partition). Even in the eastern half, little less than 10% of the population is Hindu (it was 22% in 1951). In East Bengal, secular politics does exist beyond the fashionable drawing rooms of liberaldom. It was one of the four much touted foundational principles of the 1971 Liberation war. The autocratic years of BAKSAL, the long years of army rule when the barracks used Islam to create a veneer of political legitimacy beyond the Awami League and pro-liberation forces, the overtures by mainstream parties to fundamentalist groupings – all of this has given religion-based politics a front-row seat in the nation. Neither have religio-political organizations been immune to the violent turn of this brand of politics internationally in the last decade or so.

How did things come to be this way? The issue of minority targeting, one must admit has deeper roots than simple ‘communal politics’ and ‘mixing politics with religion’. Pro-Pakistan forces, which looked to faith-unity as basis of statehood, did not disappear after the Liberation War. They were broadly and transiently (as it increasingly seems) delegitimized due to the their role in the atrocities of 71. But what about the ideological moorings of the project that religion marks a nation? What about the splinters of that project stuck deep in the political and social structures? That trend did not die not did it dry up. One has to remember that even the Awami League in its inception is a faction of such a trend that reoriented later along the lines of Bengali Nationalism. In the imagination of all the ruling factions since 1947 during East Bengal, East Pakistan and Bangladesh periods, there has been a tacit understanding of the normative citizen – a Muslim Bengali male or a Bengali Muslim male. Hindus of East Bengal are a living reminder of a Bengaliness that is not co-terminal with narratives that conflate Bengaliness (or Bangladeshiness) with being a Bengali Muslim. Their progressive marginality in numbers makes this conflation project easier. Such projects are not necessarily active political projects but often live in the underside of mindscapes that can be ‘secular’ in very many declarations. Thus they can be marginalized without being actively targeted in ‘innocuous’ everyday dealings. Communally targeted violence feeds off from a broader spectrum of support, from active to lukewarm to unconscious.

In any modern nation-state, the majority can decide to be whatever it wants and the minority has to follow suit. So Hindus were expected to become Pakistanis overnight in 1947. While Bengali Muslims politicians have the autonomous agency to un-Pakistanize themselves at will, east Bengali Hindus could only publicly do so at explicit cue from their Bengali Muslim brethren. At any rate, they are never ‘good enough’ citizens in whatever dispensation they find themselves. At one point, they weren’t good enough Pakistanis. Now they are not good enough Bangladeshis. What is the commonality between being a good enough Bangladeshi and good-enough Pakistanis, since being Bengali is not enough. Isn’t religious majoritarianism part of that mix? If yes, what did 1971 achieve for the security of ‘maal’ for Hindus, given that more Hindu land has been usurped by the Awami League than by any other party. But still the Sarkar Bahadur is responsible for jaan and maal. As I said before, the Awami League takes maal for protection of jaan. BNP assures neither. This is part of the draw for Awami League for the Hindus of East Bengal. Just like other minorities, extra-territorial loyalty is the easiest slur that is bandied about. And this is also what makes minorities lesser citizens in a polity – they cannot critique their state in all the ways a majority community person can. They are forced into living double lives and then condemned for living it. Fortunately or unfortunately for Hindus of East Bengal, West Bengal exists where their situation is nothing but information to be used tactically by Hindu-majoritarian forces to oil their own political ambitions. Thankfully, they have been more successful outside West Bengal than within it, but who can say for how long?

But still one cannot but hope that the People’s Republic of Bangladesh would live up to its original ideals. Minorities have fled the nation-state for want of security in large numbers, year after year. Numbers matter. It also matters that nothing of the scale of Delhi 1984 or Gujarat 2002 has happened there since 1971. The name of a ‘Hindu’ hero like Shurjo Sen can be chanted spiritedly by tens of thousands of mostly Muslim youths in the streets of Dhaka. There is no such parallel in the nation-states that are the other fragments of 1947. Even in the recent protests at Shahbag, lakhs raised slogans in his name. “Shurjo sen-er banglaye, jamaat-shibirer thhai nai (No place for Jamaat-Shibir in Shurjo Sen’s Bengal).” There is significant presence of minorities in the bureaucracy and local administration. Even in the recent spate of violence, the state has transferred police officials for failing to provide security. Gonojagoron Moncho, the youth movement that spearheaded the Shahbag protests for war crime trials, has led a road-march to violence stricken Abhaynagar to stand in solidarity with the affected. This is not a fly-by-night visit by VIPs or a handful of politicos. This reality exists too. It is this reality that partly prevents a mass exodus of Hindus beyond the levels seen at present. There is too much to lose to leave. Still. For far too many.

সুধাংশু যাবে না

–শামসুর রাহমান

লুণ্ঠিত মন্দির, আর অগ্নিদগ্ধ বাস্তুভিটা থেকে

একটি বিবাগী স্বর সুধাংশুকে ছুঁলো

‘আখেরে কি তুলি চলে যাবে?’ বেলা শেষে

সুধাংশু ভস্মের মাঝে খুঁজে

বেড়ায় দলিল, ভাঙা চুড়ি, সিঁদুরের স্তব্ধ কৌটা,

স্মৃতির বিক্ষিপ্ত পুঁতিমালা।

স্বর বলে, ‘লুটেরা তোমাকে জব্দ ক’রে

ফেলে আশে পাশে

তোমার জীবনে নিত্যদিন লেপ্টে থাকে

পশুর চেহারা সহ ঘাতকের ছায়া,

আতঙ্কের বাদুড় পাখার নিচে কাটাচ্ছ প্রহর,

তবু তুমি যেও না সুধাংশু।’

আকাশের নীলিমা এখনো

হয়নি ফেরারি, শুদ্ধাচারী গাছপালা

আজও সবুজের

পতাকা ওড়ায়,

ভরা নদীকোমর বাঁকায় তন্বী বেদিনীর মতো।

এ পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনো কোথাও

পরাজিত সৈনিকের মতো

সুধাংশু যাবে না।

Risen from the embers of an ancestral place–plundered temple–

An unearthly voice vibrates in Sudhanshu

Are you, finally, leaving?’ At the end of the day

Sudhanshu gropes amidst cinders

For the deeds of his homestead, splintered bangles, the mute colours of a vermillion box.

The dog-eared scatters of manuscripts in memory.

The phantom says, ‘The plunderer has beaten you

Here and there

Your daylight clings to

An animal outline ambushed by a murderer’s mien,

You spend your hours crouching under the bat-wings of terror,

Despite all, do not leave, oh Sudhanshu.’

The blue of this sky is yet to

Diminish, the sacred trees

Are yet flying green

Banners, the copious river

Meanders her waist like a slim snakecharmer lass.

He won’t abandon this sacred earth for elsewhere,

Unlike a retreating soldier in defeat,

Sudhanshu would forever not leave

– Shamsur Rahman

(Gargi Bhattacharya translated the poem from the Bengali original)

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Displacement, Foundational myths, History, Identity, India, Language, Memory, Nation, Pakistan, Partition, Power, Religion, Rights, Terror

Paying the price for a gory ideology of hostage theory / Vague vengeance driving terror / Vague vengeance and Pakistan church blast

[ Daily News and Analysis, 1 Oct 2013; Millenium Post, 7 Oct 2013; Shillong Times, 7 Oct 2013; Echo of India, 9 Oct 2013 ]

“Ekbar matir dike takao,

 Ekbar manusher dike”

 (Once, take a look at the ground beneath your feet. Then, look at human beings)

 –  Birendra Chattopadhyay, Bengali poet (1920-1985)

 

In the most murderous attack on what is left of the ever-terrorized Christian population in Pakistan, Islamic terrorists have killed at least 85 worshippers at the All Saints Church in Peshawar on September 22nd. Inspired suicide bombers were the weapon of choice to target the Christian congregation. The death count is still rising, as more people succumb to their injuries in the hospitals. Outright murder represents the sharpest edge of what Christian and other ‘constitutionally’ non-Muslim people endure in Pakistan. Their daily life in a nation-state that officially considers them unequal in various ways to official Muslims is not pretty. Usurpation of property, blasphemy charges, attacks and destruction of places of worship, rape and subsequent forced conversion (or the reverse order) of womenfolk form the visible tip of a much broader systemic antagonism.

Thankfully, the minorities are not completely friendless in Pakistan. At huge personal risk, people like IA Rahman, Asma Jehangir, Abid Hasan Minto and many others have been standing in solidarity with religious minorities of Pakistan, protesting on the streets, for decades together. The threat to their lives is real, as was shown by the brutal murder of Salman Taseer, governor of West Punjab, and someone who had expressed solidarity with a Christian woman, Aasia Bibi, phonily charged with blasphemy against Islam and given a death sentence. The recent anti-Christian massacre has brought the predictable protestors to the streets – human rights activists, left activists and the Christian community itself. But in addition to this, a somewhat broader segment also has protested. These groups have demanded that there be no dialogue or negotiations with Islamic terrorists behind this attack.

While shunning dialogue, the society in Pakistan may do well to initiate a broader dialogue. Directed not at the clearly-defined demons like the Taliban, this dialogue may point to a broader disease that emanates uncomfortably from the holy-cows of that nation-state. Only the society-at-large can initiate such a dialogue that explores the contours and content of inherited socio-political ideology, things that take a providential status as foundation-myths of any nation-state. Should one take a closer look at holy cows and foundation myths to diagnose the disease?

Jundallah, the Islamic terrorist group that claimed responsibility for the Peshawar massacre, laid out in no uncertain terms how it justifies the attack. ‘‘All non-Muslims in Pakistan are our target, and they will remain our target as long as America fails to stop drone strikes in our country.’’ So, non-Muslims in Pakistan are, in their understanding, more America’s than Pakistan’s and if America cared enough for its ‘own’ in Pakistan, it had better stop doing things to Muslims in Pakistan. This equation of America = Christian = some hapless Suleiman Masih in Peshawar has widespread appeal, not only for its simplicity, but also for its antiquity. For those who have a somewhat longer memory, the subcontinent has known this for some time – most famously as the pernicious ‘hostage’ theory.

The ‘hostage’ theory has been around for some time. This was enunciated most explicitly by Mohammad-Ali Jinnahbhai, the quaid of the All India Muslim League, as a macabre formula for peace. By this notion, the safety of religious ‘minorities’ in the then still-to-be-born Pakistan and India would be ensured by the fact that the majority community A wont attack minority community B, because in other places, community A is a minority where B is the majority, and hence vulnerable to ‘retributive’ counterattack. Hence, it would ensured (or so it was thought) that violence would not happen locally, as communities that imagine themselves non-locally, would see that this could go tit for tat for ‘themselves’ elsewhere. A minority then is a hostage of the majority. If there are two hostage takers, peace will be ensured. Rather then hostage-driven peace, the subcontinent has witnessed many instances of what can be called retaliatory hostage torture. The massacre of Hindus in Noakhali on Kojagori Lakshmi puja day, the massacre of Muslims at Garhmukteshwar, the reciprocal train-massacres crossing the Radcliffe border of the Punjab, the massacres in Dhaka and Barisal – the list goes on. The list shows that hostage torture enjoyed a broad currency. The Muslim League was simply brazen enough to state it as such. Other groups also used it to their advantage to the hilt.

A tacit acknowledgement of the ‘hostage’ status of minorities was the basis of the Nehru-Liaquat pact – to protect the minorities in West Bengal and East Bengal. The hostage theory lives on when the Babri mosque demolition causes hundreds of temples to be destroyed in the Peoples Republic of Bangladesh. This is why a Hindu there is more India’s than theirs – sort of an unreasonable remnant that ideally shouldn’t have been there. The hostage theory is an ideology of the book and not of the soil. The question of a human’s belonging, in that heartless scheme of things, is not with the soil beneath his ground, but with someone faraway bound by similar ideology. This binds people from disparate soils similarly, and divides people from the same soil. The modern dominance of universalist, extra-local ideologies of community definition, as opposed to the local and the ecological, has taken a very heavy toll on humanity. Peshawar shows that the ideology of the hostage theory is alive and well in the subcontinent. Jundallah is its bloody edge. The softer margins include a very many among us.

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Foundational myths, Identity, India, Kolkata, Our underbellies, Pakistan, Partition, Religion, Scars, Terror, Under the skin

Cities that are easy on the eye / Swanky dreams and apartheid by other means

[ Daily News and Analysis, 30 Apr 2013 ]

Flights connecting the gulf-countries with Mumbai, Kolkata, Delhi, Cochin and other cities form a large portion of the international air-traffic between them. I have been in these flights a few times. Many of the travelers are labourers coming back to their families for a vacation after being away for months, sometimes years. Because they form a large part of the air-traffic, they also provide a large part of the airport revenue. Very few of the labourers I have interacted with can read English fluently, if at all . That most if not all of the airport, its nook and crannies, only make complete sense only to an English literate person, makes one wonder which ‘public’ did the planners have in mind when designing this public utility space. The unwashed masses and their squat latrines have no place here. The architectural language of these places conform to a ‘global’ idiom, however alien that may be to most desis. Airports and sites such as these are so-called ‘gateways’ of a place that would ideally exude an up-market, ‘international’ look – never mind that non-English literates form a significant part of the market. Such places are the product of a certain imagination – that conceive places like air-ports not only as places where people catch air-planes but also where a certain kind of people should ideally be able to enter. It is also symptomatic of nationalist anxieties – of being ‘up to standard’ to the west, so that the occasional gora who steps in should not feel confused in the least. Some of us browns know English anyways and empathize deeply with that discomfort. For the rest of the brown, frankly, who cares? They walk about hesitantly in the mirror chamber of its alien interiors. There is an invisible wall and often thinly veiled disgust in the face of coconut (brown outside, white inside) desis. This invisible wall has an invisible sign hanging on it which says ‘Unwelcome’ or ‘Unfit to be the kind of Indian that South Bombay is proud of’. What am I talking about is not about airports, signage or English – the disease is deeper and more serious.

There is something deeply troubling about the nature of our imagination of the city, including the idea of urban citizenship, who is included in that imagination, who is not, who is the city for. And how ”we’ appear to the West captures an inordinately large part of those concerns. City elites are obsessed in proving that they are tropic-burnt brothers of goras – and they wish that the tropic-burnt others, whose land and labour pay for such obsessions, ideally should vanish. Given that this is not an ideal world, splendid use has been made of their control over the bureaucracy and policy circles, to make others vanish, if not from the city, but at least out of sight. It is a hard task to make a city of their wish – a city easy on their eyes – but they do try.

During the commonwealth games, that ill-fated coming-of-age ritual of a diseased and demented nation-state with ‘super-power’ fantasies, its capital city was ‘beautified’. Among other things, it involved ‘garib hatao’. Thus the urban poor were kicked out and judicial officers moved around in police vans to sentence beggars. The normally slow judiciary knows where its priorities lie. If that were not enough, large sheets have been put up in many areas of Delhi, especially near bridges, to block out ‘unsightly’ (read poor people’s) areas so that the upwardly mobile residents and visitors can enjoy a virtual-reality show on its roads. The soul of this wall is made out of the same material that the invisible wall of the airport is made up of. The T3 airport terminal does not allow legally licensed auto-rickshaws to come near it lest phoren visitors have a ‘good impression’. In Kolkata, bicycles have been banned from plying in most of its main streets. Hand-pulled rickshaws are being pushed out.They say it is ‘inhuman’ and heart-wrenching, as if loss of employment is heart-warming.  Beyond the Indian Union, residents of Baridhara, one of the elite areas of Dhaka, have banned cycle-rikshaw-wallas who were the lungi. Shame about one’s people and feeling alienated from one’s broader environ is a nasty disease that afflicts whole of the subcontinent.

The dream of being counted as a part of the global cosmopolitan class has led to the blatant exclusion of people from public spaces who do not ‘fit the bill’. This forcible homogeneity of being ‘cool’ and ‘international’ finds its twin in the Hindi-ization of various subcontinental identities – in the name of being ‘traditional’ and ‘swadeshi’. Thus emerges the new desi – Bollywood loving, English speaking, having wholesome family fun eating McAloo Tikki. In many ways, the gated community, that pinnacle of contemporary desi urban aspirations, is a concrete form of this dystopic vision. It is safe inside, we are surrounded by people like us, we talk in English and Hindi and cheer for European football leagues There is a word that sums of all this that may sound quite bitter and might hurt those with ‘liberal’ and ‘inclusive’ sensibilities. It is called apartheid.

Leave a comment

Filed under Class, Elite, India, Kolkata, Language, Our underbellies, The perfumed ones, Under the skin, Urbanity

Bad moon rising / A dangerous connivance /

[ The Hindu, 6 Apr 2013 ; The Friday Times (Lahore), April 19-25, 2013 – Vol. XXV, No. 10 ; Kashmir Monitor, 25 Apr 2013 ; Himalayan Mirror (Gangtok), 12 Apr 2013 ; Himalayan Mail (Jammu), 7 Apr 2013; South Asia Citizen’s Web, 23 Apr 2013 ]

Many in West Bengal are looking to the Shahbag protests in Dhaka with a lot of hope and solidarity – as an important and necessary step that would usher in a rollback of the creeping communalism that has afflicted the People’s Republic of Bangladesh since 1975. 1971 is still fresh in the mind of many Bengalees from the West, when a massive relief and solidarity effort was under taken on that side of the border to reach out to a large mass of humanity trying to escape a situation that has been described variously – from ‘civil war’ to ‘genocide’. The then leaders of the Jamaat-e-Islami in East Bengal and its students wing organized murder and rape squads, at times in collaboration with the armed forces. The specific crimes include mass-murder, rape as a weapon of war, arson and forced conversions. They escaped prosecution due to the by generals who used them to cast an Islamic veneer of legitimacy over their illegal capture of power. They were gradually rehabilitated until the present Awami League led government came to power – whose manifesto among other things, promised the trial of war criminals. Thus started the proceedings against them in the War Crimes tribunal. The Shahbag protests have demanded maximum punishment for the guilty.

In West Bengal, a few meetings and assemblies have happened around Shahbag. However, to the shock and dismay of many, the largest of these assemblies was a massive rally held in central Kolkata’s Shahid Minar on 30th March, explicitly against the Shahbag protests and in support of the war criminals convicted by the tribunal. Various Muslim groups including the All India Milli Council, All Bengal Minority Youth Federation, West Bengal Sunnat Al Jamat Committee, Association of Protection of Civil Rights, Milli Ittehad Parishad, West Bengal Madrasa Students Union, Ashikane Rasul Committee, All India Minority Association, All Bengla Muslim Think Tank, All India Muslim Majlish E Mushawarat, Aminia Jamiat E Muttakin Committee, Ulama Parishad, Magribi Bangla Anzumane Wayejin, Bangiya Imama Parishad and All Bengal Imam Muazzin Assiciation convened the meeting. People had also arrived in buses and trucks from distant districts of West Bengal like Murshidabad and Nadia, in additional to those from the adjoining districts of North and South 24 Parganas, Haora and Hooghly, among others. Students of madrassas and the newly minted Aliah Madrassa University were conspicuous at the gathering.

They rallied because ‘Islam is in danger’ in Bangladesh. Never mind that that post-1947, that part of the world through all its forms ( East Bengal, East Pakistan, People’s Republic of Bangladesh) has seen a continuous drop in the population percentage of religious minorities, in every census since 1951.This rallying cry is not new. It was heard in 1952 when the mother language movement of was in full swing, in 1954 when the United Front led by Fazlul Haq and Maulana Bhashani challenged the Muslim League, in 1969 when the Awami League made its 6 demands and in 1971 when Bengalees fought for independence and now in the context of Shahbag in 2013 – basically during every secular movement for rights and justice. One of the main accused in the war-crimes trial, Golam Aazam (also the leader of the Jamaat in East Pakistan in 1971), had used this old trick in the hat when he has stated in 1971 “the supporters of the so-called Bangladesh Movement are the enemies of Islam, Pakistan, and Muslims”. Replace ‘Bangladesh’ with ‘Shahbag’ and ‘Pakistan’ with ‘Bangladesh’ and you have the same logic. Terming the struggle in Bangladesh to be one between Islam and Shaitan (Satan), it was announced at the meeting that they would cleanse West Bengal of those who were trying to support the present Prime-minister of Bangladesh and the war-crime trial effort. It was also threatened that those political forces that support Shahbag would ‘beaten with broom-sticks’ if they came to ask for votes from Muslims. Just like Taslima Nasreen and Salman Rushdie, Sheikh Hasina will also be kept out of Kolkata – they added. They also supported the anti-Shahbag ‘movement’ in Bangladesh. The last assertion is especially worrisome as this anti-Shahbag movement has let loose its fury on the religious minorities of Bangladesh. This has resulted in a wave of violent attacks on Hindus, Buddhists and secular individuals, with wanton burning and destruction of Hindu and Buddhist homes, businesses and places of worship. Amnesty International communiqué mentioned attacks on over 40 Hindu temples as of 6th March. The number is over 100 now and still rising.

Given the recent trends of politics in West Bengal, this large gathering and its pronouncements are not shocking. The writing has been in the wall for a while. A collapse in the Muslim vote of the Left Front is an important factor in its recent demise after more than three decades of uninterrupted rule. Various Muslim divines like Twaha Siddiqui of Furfura Sharif, have explicitly pointed that out as a point of threat to the present government. The Trinamool Congress wants to ensure a continued slice of this vote. The present government has tried to hand out sops to build a class of Muslim ‘community leaders’ who eat of its hand by its unprecedented move to giving monthly stipends to imams and muezzins. Very recently, it has been decided that such a cash scheme might be worked out for Muslim widows too. Given that it is beyond the ability of the debt-ridden, vision-poor government to solve the problems that are common to the poor, it has cynically chosen to woo a section of the marginalized on the basis of religion using handouts. These are excellent as speech-making points masquerading as empathy and social justice. This is dangerous politics to say the least. It sets into motion currents and gives fillip to forces whose trajectories are beyond the control of the present political groups. The Left Front’s political fortune has not improved after its humiliating defeat. It has cynically chosen not too oppose this communal turn to West Bengal’s politics, for it too, believes that silently waiting for the incumbent to falter is a better roadmap to power. The damage that is doing to the political culture of the state in immense and may well be irreparable. The incumbent’s connivance and the opposition’s silence are largely due to decades of erosion in the culture of democratic political contestation through grassroots organizing. Both the incumbent and the oppostition parties deal with West Bengal’s sizeable minority population primarily via intermediaries, often doing away with any pretense of political ideology while indulging in such transactions.

For their part, organizations owing allegiance to a particular brand of political Islam ala Moududi, have used this disconnect to the hilt. An emerging bloc of divines and ex-student leaders of certain organizations have used the students that they can amass at short notice to launch specific protests, aimed in getting a leverage in terms of policy. Sadly, this blackmailing is hardly aimed at uplifting the living standards of West Bengal Muslims in this world. Rather, its string of victories started with successfully driving out the famous persecuted humanist writer Taslima Nasreen during the Left Front regime. The most recent example was the governmental pressure that was exerted on their direction to keep Salman Rushdie out of a proposed event in Kolkata, after he successfully did such events in Bangalore, New Delhi and Mumbai. This slowly pushing of the envelope fits into a sequence of events that are increasingly stifling the freedom of expression. At the same time, its double-standards are explicit. On March 21st, a medium-sized group consisting of little-magazine publishers, human rights workers, theatre artists, womens’ organizations and peace activists had announced that they would march in solidarity with the Shahbag protests and express their support to the Bangladesh government’s war crimes trial initiative by marching to the deputy high-commission of Bangladesh. Even after prior intimation, the rally was not allowed to move by the police due to ‘orders’ and some of the marchers were detained. The same police provided security cover to pro-Jamaat-e-Islami organizations as they conducted a rally submitted a month earlier and again later when they submitted a memorandum to the same deputy high commission demanding acquittal of convicted war criminals. Last year, it issued a circular to public libraries to stock a sectarian daily even before its first issue had been published! The role of the state is explicit in these actions – it possibly thinks that it can play this game of brinksmanship with finesse. The flight of cultural capital from the self-styled cultural capital of India is but a natural corollary of such unholy alliances with the political class playing tactical spectators and tactical facilitators to apologists for one the largest mass-murders in the last century .

The recent bye-election to Jangipur, a Muslim majority constituency carried certain signals. Prompted by the elevation of Mr.Mukherjee to Presidency, this election saw the combined vote of the 2 main parties fall from 95% in 2009 to 78% in 2012. The major beneficiaries were the Welfare Party of India, a thinly veiled front organization of the Jamaat-e-Islami Hind and the Social Democratic Party of India, an even more radical group of a similar ilk. Such groups are armed with a programme of ‘tactical pluralism’, quite akin to the tactical defence of Taslima’s freedom of speech by majoritarian communal political forces in the Indian union. The rallying against Shahbag has blown the cover of faux pluralism. There was another significant beneficiary and predictable in the same election, the BJP. Communal tension has been on the rise in recent years – there has been serious disturbance by West Bengal standards in Deganga and Noliakhali. The majoritarian forces smell a subterranean polarization of the polity. Mouthing banalities about Bengal’s ‘intrinsically’ plural culture is quite useless – culture is a living entity, that is always in flux, created and recreated every moment. It is being recreated by the victimization discourse by fringe groups like Hindu Samhati. It is being recreated in certain religious congregations in parts of West Bengal of Aila where unalloyed poison produced by divines like Tarek Monawar Hossain from Bangladesh is played on loud-speakers. Thanks to technology, such vitriol produced in a milieu of free-style majoritarian muscle flexing in Bangladesh easily finds its way to a place where the demographic realities are different. Hence the popularity and consequent defence of one of the convicted war criminals, Delwar Hossain Sayedee, who in his post-71 avatar had become something of a superstar in the Bengali waz-mahfil (Islamic religious discourse congregation) circuit. What are the effects of the subterranean cultural exchange of this kind? The rally is a partial clue. A defence of Sayedee and claiming him to be innocent, as was repeatedly done in that rally, is like perpetrating Holocaust-denialism.

Just a day after the anti-Shahbag rally in Kolkata, almost as a divine reminder of starker realities beyond the defense of Islam, nearly 45 lakh unemployed youth, Hindus and Muslims, sat for the appointment as primary school teachers recruitment examination for 35000 empty posts. Roughly 1 in 128 will succeed. There is no employment exchange worth its name, including the ‘minority’ employment exchange set up by the incumbents, which would absorb the unsuccessful 44 lakh. West Bengal is one of the few states that have petitioned for a relaxation of the minimum qualifications for primary school teachers in the Sarva Shiksha Abhijan scheme, as stated in the Right of Children to Free and Compulsory Education Act of 2009. There is a rot at the base with every community affected. It has been long in the making. The promotion of religious education is hardly the way to empowerment and livelihood generation for minorities, especially in a state where they have been grossly under-represented in the all white-collar services. There are no short cut solutions to this.

Majority and minority communalism in West Bengal, though not generally overt, can be found easily by scratching the surface. A combination of circumstances can awaken it. Will more such circumstances arise, or will more responsible politics prevent a potential communal unraveling of West Bengal? Bengal’s past experience with communal politics is distinctly bitter, both in the west and the east.  The west lives with half-sleeping demons. In the east, the demons never really slept, and have been in and out of power.

 

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Community, Democracy, Dhaka, History, Identity, Kolkata, Language, Pakistan, Polity, Religion, Scars

Shahbag: A story of two hangings; differences in their dynamics / Shahbag live from Dhaka / Shahbag Live

[ Daily News and Analysis, 23 Feb 2013 ; Millenium Post, 21 Feb 2013 ]

It is indeed unfortunate that the name Shahbag will not evoke much response from the Indian pretenders to ‘global citizenship’. They may have heard of Tahrir Square and in their amateur glee, may have done the absurd comparison of an antic or two in Delhi and Mumbai to it. Dhaka is the city many Indians believe that ‘they’ liberated in 1971. In fact, the liberation war has not ended. It is still ongoing at Shahbag. Shahbag is one of the main street intersections of Dhaka where the events taking place as I write may have historic consequences.

Take the road that leads from Dhanmondi, Dhaka towards Nilkhet. Turn left at Science Lab and keep on walking. If you hear passionate slogans from the young and old shaking the ground beneath your feet, you have reached Shahbag. After the 1971 Liberation war of Bangladesh, the governments of the states of India, Pakistan and Bangladesh reached a tripartite agreement. One of the despicable results of this was the granting of clemency to some of the worst perpetrators of crimes against humanity in the last millennium. The few Bengali collaborators of the Pakistani occupation forces indulged in mass-murders and rapes that have few parallels in recent memory. They have never faced the judicial process, until now. The International War Crimes tribunal in Bangladesh has been pursuing some of the biggest leaders of the Jamaat-e-Islami, Razakar, Al-Shams and Al-Badr militia – a process that has stupendous public support in that nation. One of the most hated of these characters, Kader Mollah, has been handed a life sentence and not a death sentence. This resulted in a protest assembly started by a bloggers and online activist network that was quickly joined by progressive and left-wing student organizations. The result has been an unprecedented mass assembly that has been going on continuously since February 5 with people from all walks of life joining in. People are singing, making new slogans, giving new life to old slogans which had been made into lifeless clichés, drawing giant murals on the streetside, doing multiple street theatre performances at the same time in different locations of that busy urban intersection and what not. Having been witness to the Anna protests in Delhi last summer, all I can say is that if that was warm Jacuzzi or a stove-flame (depending on your perspective), Shahbag is a veritable volcano. It was briefly called off after February 21 only to start again a day later.

As I stand in Shahbag, soaking in this immense human energy, I cannot help compare this to another such urban assembly I was recently witness to, where too, calls for hanging (something I am personally opposed to, under any circumstance) were the primary chant. These were the India Gate protests after the Delhi rape and murder case. At India Gate, Kavita Krishnan and others tried their best to inject sanity into the folks demands for death and castration. There the political was trying to reason with the expressly ‘apolitical’. Here in Shahbag, from the very outset, it was very political. However, it was not partisan. The difference showed. In Shahbag, the politicized students and youth mood that bordered on uber-nationalism was blood-lust was interrogated, at the square itself, by mass chants, that challenged simplistic understandings of nation, nationalism and revenge. The slogan ‘Tumi ke, ami ke, Bangali, Bangali’ (Who are you, who am I? Bengali, Bengali) was often changed to ‘Chakma, Marma, Bangali’ to include other ethnicities in the state of Bangladesh. The former 2 ethnic groups were involved in a long armed insurrection with the government. This is not easy, especially in a nation-state formed primarily on the basis of an exclusivist ethno-linguistic nationalism. Imagine saying the K-word or the N-word as different from ‘Indian’ in the Delhi chants. But Dhaka could, and they could precisely because Shahbag is political. The media covers Shahbag, it does not dictate it. It does not repeat the world ‘apolitical’ like a ghost-busting mantra as those in Delhi studios did as soon as the ‘Damini’ protests started. In Shahbag, it was demanded that whole organizations that were involved in rapes and murders be banned. In the Indian Union, can we even dare to name the organizations and agencies to which the highest numbers of alleged rapists are affiliated? The amateur flash-in-the-pan nature of Delhi protests showed when it was all but broken but a Lathi-charge. The brutal murder of one of the organizers of the Shahbag protests, blogger Rajeeb Haidar, only strengthened the resolve of the square. In Shahbag, the government is trying hard to appropriate the movement for justice. At the India Gate, the Delhi Police meted out instant justice of another kind. Shahbag is also a call for a different political direction – the youth wanting to resolve issues that happened before their birth. This bursts the myth that today’s young only react when things affect them directly. The hip metro youth of India, are still sadly, in a state of political infancy in this regard.

I stood mesmerized by the slogan-chanting figure of Bangladesh Chhatro Union’s Lucky Akhtar, who has now been nicknamed ‘slogankanya’ by Shahbag itself. Lucky has been hospitalized multiple times, once after being pushed by the ruling party operatives keen to take the stage. Whenever Lucky led the sloganeering, it was hard to separate the aesthetic from the political. And why should one? In this assembly for justice against crimes that also includes innumerable rapes, there were thousands who were there not as somebody’s mother, daughter or sister, but as politically inspired women. And it matters. And that showed.

Leave a comment

Filed under Bengal, Change, Democracy, Dhaka, History, Religion, Scars, Terror

The multiverse of loyalty

[ Himal SouthAsian, May 2007 ; Dhaka Tribune, 7 Feb 2014 ; Shillong Times, 23 Jan 2014 ; Echo of India, 28 Jan 2014 ]

The multiverse of loyalty: ethnicity, state and the Bangladesh-India cricket match.

 

 

For the West Bengali bhadralok, East Bengal continues to represent vastly different things to different people: a Muslim-majority country, an audacious dream of ethnic pride and secularism, a land vaguely culturally similar but distant in imagination, their forefather’s homeland, the place where cyclones aimed at West Bengal finally end up, a hub of ISI activity, the place of origin of the wondrous Ilish fish, the list, of course, goes on. While every West Bengali’s attitude towards East Bengal/Bangladesh is formed from one or more such memories and connotations, many of these have a limited acceptability in standard discourse, particularly in public expression. That does not make them any less potent, however, and forces their manifestation only under very particular instances.

 

One of those instances was 17 March, the day Bangladesh scored its historic win over India in the World Cup cricket match in the West Indies. I watched the Bangladesh-India game in an undergraduate house at Harvard University. With India being the odds-on favourite, the Bangladeshi team was widely expected to take a beating. Since live telecasts of cricket matches are not available on cable TV, the Harvard Cricket Club folks, comprised primarily of Indians (including this writer), had bought a special subscription. Watching along with me were two East Bengali friends. If truth be told, I only watched the Bangladeshi innings because I could not wake up in time for the Indian innings after a late night’s work. Regardless, while I was happy that West Bengal’s own Sourav Ganguly, the Indian team’s former captain, was in the process of scoring the highest number of runs for the Indian side, I was not very happy with the Indian total. But slowly, perhaps as I became more and more caught up in the action on the field that reaction changed.

 

With the Bangladesh Tigers prowling all over, I felt the first of many alarm bells going off in my head. I was surrounded by non-Bengali supporters of India, who were cursing the Indian team for its poor performance. But as the direction of the game became increasingly obvious, I did not really see the coming defeat as my own. In fact, I was busy asking  somewhat quietly and ashamedly questions about the Bangladeshi team: Oi batsman tar nam ki? (What is that batsman’s name?) By the time the match was nearing its end, I had become an unabashed Bangladeshi cheerleader. This led to a few strange stares, but I did not care. Nonetheless, it did all feel a bit odd. My cheers, after all, were not really for good cricket. There was nothing remarkable about a single run taken by Bangladesh, except perhaps that it was bringing the underdog a little closer to a win against the titan. And I was happy, long-forbidden loyalties were having a free ride, and the Bengali (not the West-Bengali Hindu) in me loved that we had won.

 

After the game ended, the general ambience in the room was distinctly dark. But I found that my own mood was not part of the gloom. My East Bengali friends treated me to a pint of beer, and we had a hearty, congratulatory talk. As I walked home that evening, I felt a nagging confusion- not about the anger of the Indians, nor about their reaction to my cheers for Bangladesh. Rather, of my own change of heart. A side of me had opened that only had so much space and time for loyalties. It is an easy call, perhaps, when Ganguly is on the team – he is an Indian Bengali. But even here I was found wanting. And more generally? In the games to come, would I continue to root for the Bangladeshi team? And what did this opening mean for India-Pakistan matches to come?

 

Primordial organic identity

The way that my reaction had publicly changed during the course of the game would have been inconceivable had I been watching the match anywhere within India or Bangladesh. The split self that I harbour and which, I believe, many others do as well , does not have a legitimate space for expression in any but the most liberal of establishments in the Subcontinent. But such dual identities remain within us, deep down in our hearts, where politically correct stances and obeisance to national symbols cannot cast a shadow.

 

Ethnicity is a category, as is identification with a nation state. However, these two differ in one important aspect. A nation state demands explicit loyalty, and de-legitimises everything else; those who balk at this explicit parade of fidelity are at best and parasites at worst, loyal to another nation state. The kind of fealty that ethnicity proposes, I like to believe, is at once more organic and primordial than that demanded by the nation state. In most cases, the loyalties to ethnicity and to nation state do not come into specific conflict with one another. But the varying degrees of distance between the two can be mapped as a continuum. On the one hand is the Naga, for instance, who has no nation state but is held within an all-consuming one, which goes to repressive lengths to extract explicit loyalty. At the same time there is the Hindi belt, an area that can explicitly declare its unflinching loyalty, as the points of declaration in its case do not interfere with claims of ethnicity. The Hindi belt is to the localities the natural claimant of the spot where the Indian pulse is to be felt, something that the rest of India only grudgingly acknowledges.

 

West Bengal is an interesting case in this regard, falling somewhere in the middle of this continuum. Together with the explicit declaration of loyalty to the Indian nation state, we find here a vague understanding and acknowledgement of ethnic kinship with Bangladeshis. But of course, almost all Hindu (and Muslim) West Bengalis would balk at a declaration of loyalty to the state of Bangladesh. And so the split self remains masked. Even among West Bengalis there would be a continuum of the exact extent to which this kinship is felt, irrespective of loyalty to the state of India. It is an interesting and open question: How does the barrier between Muslim and Hindu West Bengalis differ from that between West Bengali Hindus and East Bengali Muslims? For that matter, can any such difference be attributed to allegiance to India? Would the dynamics of West Bengali loyalty to India change if Bangladesh were not a state that bore the primacy of Islam in its Constitution? Further, did Hindu West Bengalis feel clear affinity with the Bangladesh that was still officially ‘secular’ before the 1988 constitutional amendment that made it ‘Islamic’?

 

The day after Bangladesh’s 17 March win, I was reading Sangbad Pratidin, a Bangla daily published in Calcutta. It reported that, following India’s loss, local cricket fans were not as grief-stricken as was the rest of the country. This same story was echoed in the national media. I could not help wondering whether I would have felt as positive as I did if my local Calcutta boy, Sourav Ganguly, had not scored well  indeed, had he not been the highest run-getter among all of the two team’s batsmen. How would I have taken to East Bengali bowlers cutting short Sourav’s innings?

 

Days later, the Bangladeshi team defeated South Africa, the world’s top-ranked squad, doing much to demonstrate that their win against India was not a fluke. West Bengal’s largest-circulating Bangla daily, Anandabazar Patrika, carried huge headlines trumpeting, “Bengalis stun the world’s best”. Bangladesh had the sudden chance of a glory run, and I found that I wanted to cheer it all the way , my conscience perhaps cleared by India’s elimination.

 

United in grief

An inward-looking state experiences great problems with transnational loyalties and animosities associated with those loyalties. Nowhere were the disadvantages of this seen more clearly than in this year’s Cricket World Cup. It is widely acknowledged that Southasia, specifically India and Pakistan, are the lifeblood of commercial cricket (See Himal November 2006, Cricket cooperation). Southasian interests are the major stakeholders in wooing sponsors, popularising the game, worshipping the players, studying the telecasts, watching the ads, performing related ceremonies, baying for the blood of fallen stars, critiquing the teams, purchasing the tickets, buying the players. The majority of this exuberance has not spilled over into other global cricket audiences, except possibly the West Indies in an earlier era.

 

In the 2007 Cricket World Cup, all of this was fantastically played up. India lost unceremoniously to an unrated but spirited Bangladesh. Pakistan lost to Ireland, one of the weakest teams in the series. The drama reached its bizarre crescendo after the Pakistani loss, when the South African coach of the Pakistani team, Bob Woolmer, was found murdered in his hotel room. Rumour had it that Woolmer had learned that the match had been fixed, and that he might have had specific names. The reaction in India and Pakistan was one of shellshock. Normally larger-than-life cricketers came back home as social outlaws under cover of darkness, to avoid the wrath of fans. Allegations flew wildly, as did dispensations on what had gone wrong. India’s coach Greg Chappell resigned days later, checking himself into a hospital, reportedly fearing for his life. Only one player received a hero’s welcome upon his return to India, and that was Sourav Ganguly. Some Bengalis might have taken satisfaction in the thought that they had not been the ones who had lost. In the West Bengal imagination, India had.

 

With an estimated 70 percent of global cricket viewership residing in India and Pakistan, the economic fallout of the losses of these two teams was enormous. International and national corporations had invested tens of millions of dollars in television commercials touting the country’s cricket stars, while broadcasters were charging up to three times more for advertising during Indian games. Following the losses, many advertisers pulled out, with some of the largest attempting to default on contracts. The poor showing from these two teams also hit the host West Indies hard. An overwhelming number of travel and accommodation bookings had been made from India and Pakistan, and their near-simultaneous losses brought in a wave of cancellations and demands for refunds.

 

In the midst of all this, one heard oft-repeated laments of how invincible a combined India-Pakistan team would have been. In sleek television studios, ex-cricket stars frankly criticised their respective cricketing establishments, and even took the liberty of the moment to give advice to the other side. It was one of those rare moments when segments of the Indian and Pakistani populace were united in grief  and even sympathetic to the grief of the other.

 

These losses, however, did not have much direct emotional impact on me. I (along with many others, evidently) was still looking out for Bangladesh, and was finding doing so surprisingly easy. Given the relatively low expectation from Bangladesh, a loss did not bring sadness, but wins were unmistakably joyful. Segments of the Indian and Pakistani audiences may have broadly turned off emotionally from the game, but that only went to show how the ethnic continuums that spread across Southasian borders make it so tricky for the inward-looking nation states of Southasia to promote tendencies of crossborder solidarity.

 

Cricket in Southasia is not a game; it is serious business, and a regular metaphor for public imagination and expression. Cricket has been used as an acid test for loyalty to one’s country. In general, it does not leave much space to reach across and support the neighbours.

 

But primitive loyalties know no political frontiers, however strong the efforts of Southasian states to seek out exclusive loyalties. Rather, this more guttural type of devotion inevitably finds its own space in private imagination; crossborder organic connections, after all, predate the Southasian political landscape – not to mention cricket itself. But what can be used as a tool to solidify loyalty to a nation state can also act as an avenue of private, almost unconscious, subversion. Because the relationship between a country and its citizens has been moulded into one of either loyalty or defiance, this process inevitably comes with guilt.

 

Can we not imagine beyond this? If political identities in Southasia are largely imagined, then forceful transnational identities are potent triggers for an organic re-imagining of the region. Guilt makes the private dissident crave legitimacy, for intimate alternative identities do not like suppression. The dissident can only hope that organic continuities will eventually make states negotiate with transnational loyalties, with the audacious hope that such negotiations will be obligatory to the long-term survival of nation states in Southasia.

 

——————————————————————————–

 

Bangladeshi-Pakistani bhai-bhai?

Of course, the Southasian story in 2007 World Cup cricket did not end with the defeats of Pakistan and India. Perhaps just as significant as the losses of those titans were the surprising wins by Bangladesh and Sri Lanka. But while the series organisers must have prayed that the turn of events from these two teams would successfully retain the interest of the great mass of Indo-Pakistani audiences, they were to be disappointed.

 

There were widespread stories of Indians and other Southasians, once the smarting had subsided, changing their loyalties to cheer for either Bangladesh or Sri Lanka. This regional camaraderie and the denial thereof was unbeknownst to me, until I chanced upon it on the Internet. On a widely used social-networking website, a group of Pakistanis had formed a virtual community to cheer on what they called the ‘East Pakistanis’. This attempt at comradeship, of course, would not sit well with any Bangladeshi. The site called East Pakistan for World Champions included the line, After kicking India’s ass, they take on the world.

 

The forum quickly became a space for nationalist abuse and counter-abuse, all under the guise of sporting solidarity. After anger arose due to Bangladesh being referred to as ‘East Pakistan’, a Pakistani member retorted, ‘Ah, personal insults. I would expect nothing less from you, my less evolved, but still Pakistani brother.’ The thread of this type of baiting continued, with increasingly personal put-downs from both sides.

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Foundational myths, Identity, Kolkata, Nation