Tag Archives: Hindustan

ভারতের নতুন টাকার নোট ও হিন্দী-দিল্লী আধিপত্যবাদ

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোট চালু পরপরেই এই নতুন নোটের নানা বৈশিষ্টকে বেআইনি বলে অভিযোগ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্টে। বিচারপতি সে মামলা গ্রহণ করেছেন এবং প্রাথমিক শুনানিতে সরকারপক্ষের এই বক্তব্য যে দেবনাগরীতে সংখ্যা আসলে সংখ্যা নয়, নকশা মাত্র, এ হেন সাফাইতে  সন্তুষ্ট হননি। সরকারপক্ষ আরো সময় চেয়েছে। আগের ৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ফলে যে রাষ্ট্রব্যাপী ব্যাপক আর্থিক অস্থিতি তৈরী হয়েছে, এই নতুন নোট আস্তে আস্তে তা সামলাবে। অথচ এই নতুন নোটের ডিজাইনের মধ্যে নিহিত রয়েছে এমন কয়েকটি জিনিস, তা এই ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক  জাতিসমূহের মধ্যে যে মৌলিক বোঝাপড়া, তাকে পদদলিত করে। এই নতুন নোটে অগ্রাধিকার পেয়েছে ৩টি জিনিস – হিন্দি, দিল্লি ও মোদী।

নতুন নোটগুলিতে সংখ্যা বড় করে ছাপা হয়েছে হিন্দির সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রচারিত লিপি দেবনাগরিতে। আগের নোট সংখ্যা দেবনাগরীতে ছিল না। নতুন দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকার কি মনে করে যে হিন্দিভাষীরই একমাত্র মাতৃভাষায় নোটের সংখ্যা পড়ার অধিকার আছে, আর অহিন্দীভাষীদের নেই? টাকার নোটে কোন লিপিতে সংখ্যা থাকবে, তা নির্ধারণ করে সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশাবলী। সংবিধানের ৩৪৩ নং ধারায় পরিষ্কার ভাবে বলা আছে যে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের যে কোন সরকারী (অফিসিয়াল ) কাজে ব্যবহার করতে হবে আন্তর্জাতিক সংখ্যালিপি। যার মানে হলো “ইংরেজি”তে আরবি-হিন্দু সংখ্যা। অর্থাৎ 1,2,3 ইত্যাদি। এতদিন তাই  হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক লিপি ছাড়াও নোটের ব্যাপারে দেবনাগরী লিপিতে সংখ্যা ছাপা যাবে, এই মর্মে কোন রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকা বা সাংবিধানিক বিধান নেই। ১৯৬০-এর রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকায় বলা আছে যে দেবনাগরী লিপির সংখ্যা শুধু সেই কেন্দ্রীয় সরকারী প্রকাশনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যে ক্ষেত্রে জনতার যে অংশের জন্য এই প্রকাশনা, তার জন্য এটি জরুরি। প্রথমতঃ, টাকার নোট কোন কেন্দ্রীয় সরকারী “প্রকাশনা” নয়। ফলে এই নির্দেশিকা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর দ্বিতীয়তঃ, টাকার নোটে ছাপা তথ্য কি শুধু হিন্দিভাষীদের জন্য? বাকিরা কি বানের জলে ভেসে এসছে? এই সকল ধারণার একটা মিথ্যা উত্তর মজুত থাকে।  সেটা হলো হিন্দী হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা। এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ও বেসরকারি কায়েমী স্বার্থান্বেষী চক্র গত ৭০ বছর ধরে এই মিথ্যা প্রচার করে চলেছেন।  ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা ধারণাটিরই কোন স্থান নেই। ভারতের কোন রাষ্ট্রভাষা নেই। গুজরাট হাইকোর্ট তার বিখ্যাত রায়তে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে অহিন্দী রাজ্যে, হিন্দী বিদেশী ভাষার সমতুল্য।

ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন নামক সংঘরাষ্ট্রে অহিন্দীভাষী জাতিসমূহ যে চুক্তির দ্বারা হিন্দীভাষী জাতির সাথে আবদ্ধ, তার নাম দিল্লীতে ক্ষমতাধারী পার্টির হিন্দীকরণের ম্যানিফেস্টো নয়। তার নাম সংবিধান। টাকার নোটে এই সংবিধানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো প্রকারান্তরে ইন্ডিয়ান উনিয়নের ঐক্যের উপর আঘাত হানা। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে যে রাজনৈতিক আদর্শ মানুষে মানুষে ভাষার প্রশ্নে বৈষম্য ঘটায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিককে ভাষার প্রশ্নে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করে, তা কোন বহুভাষী রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণময় নয়। এ ব্যাপারে হাতের কাছে ১৯৭১-পূর্ব্ববর্তী পাকিস্তান এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

যদি শাসকেরা চাইতেন যে ইংরেজি ছাড়াও মানুষের অন্যান্য ভাষায় সংখ্যাগুলি পঠিত হওয়া জরুরি, তার দুটি সহজ উপায় ছিল। এক, টাকার নোট যেহেতু প্রচার বা স্তুতির স্থান নয়, বরং একটি নিত্য ব্যবহারিক বস্তু, তাই টাকার বিনিময় কার্য্যের সাথে অপ্রাসঙ্গিক অন্যান্য ছবি ও নকশা তুলে নিয়ে অনেকগুলি ভাষার লিপিতে একই সাইজে সংখ্যা দেওয়া যেতো। দুই, ইউরো মডেল নেওয়া যেতো।  সে ক্ষেত্রে, ভাষিক জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত নগদের সমানুপাতিক হারে নানা সিরিজের নোট ছাপা যায়, যেখানে ইংরেজি সংখ্যার সাথে কিছু শতাংশ নোটে সংখ্যা থাকবে বাংলায়, কিছু শতাংশে দেবনাগরীতে, কিছু শতাংশ তামিলে, ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যের কথা এই যে যখন এই উপমহাদেশ ফিরিঙ্গী শাসনাধীন ছিল, তখন কিন্তু এই এলাকায় চালু টাকার নোটে ৯টি লিপিতে সংখ্যা (ইংরেজি সমেত) একই সাইজে দেওয়া থাকতো। ১৯১০ খ্রীষ্টাব্দের ১০ টাকার নোট দ্রষ্টব্য। একই সাথে একই সাইজে থাকতো নানা ভাষায় টাকার অঙ্কটি অক্ষরে লেখা – যথা বাংলায় দশ টাকা। বহু ভাষাকে সমমর্যাদা দেবার ব্যাপারটির ইতি ঘটে ১৯৪৭-এ ইন্ডিয়া রাষ্ট্র গঠিত হবার সাথে।  তবে থেকে হিন্দি তথা দেবনাগরী পরিণত হয় তথ্য দেবার জন্য বড় আকারে। অন্যান্য ভাষা পর্যবসিত হয় পিছনদিকের এক ছোট প্যানেলে গাদাগাদি করে ক্ষুদ্র আকারে, বৈচিত্রের পরাকাষ্ঠা হিসেবে। ১৯৪৭এর পর থেকেই ক্রমাগত টাকার নোটে হিন্দীর মোট এলাকার তুলনায় ইংরেজি ব্যতীত অহিন্দী ভাষাসমূহের মোট ছাপা এলাকা কমেছে বিরাটভাবে। ঔপনিবেশিক শাসনের তুলনায় টাকার নোটের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষিক জাতীয়তাগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য যে ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন রাষ্ট্রে লঙ্ঘিত হয়েছে, তা শুধু লজ্জার বিষয় নয়, চিন্তারও বিষয়। অহিন্দী ভাষাগুলির এই প্রান্তিকায়ন আকস্মিক নয়, প্রকট ভাবে পরিকল্পিত কেন্দ্রীকরণ-মূলক রাষ্ট্রনীতিরই অঙ্গ। ১০% তামিল আর ৭৫% চৈনিক জনগোষ্ঠীর সিঙ্গাপুর তাদের টাকার নোট তামিল, চীনা ও ইংরেজিতে একই সাইজের অক্ষরে নোটের অঙ্ক ছাপে। আসলে সমতা হোক বা বৈষম্য, ইচ্ছা ও নীতিটা আসল। নোট তারই বহিঃপ্রকাশ।

নতুন নোটে রয়েছে দেবনাগরী “র” অক্ষর সম্বলিত নতুন টাকার আইকন। এই আইকন বাছাইকালে কোন জনমত যাচাই হয়নি। আমার ভাষা বাংলা তথা অসমীয়াতে টাকা শব্দ যে অক্ষর দিয়ে শুরু, তা হলো “ট”, হিন্দীর রুপিয়ার “র” নয় । যদি আজ “র” এর জায়গায় সকল নোটে “ট” সম্বলিত আইকন ব্যবহার হতো, তাহলে হিন্দিভাষীরা কি মনে করতেন? তারা ছেড়ে দিতেন? আসলে হিন্দী আধিপত্যবাদের এই রাষ্ট্রে এই “ট” আইকন কল্পনা করাও শক্ত। পরিকল্পিত ভাবে অহিন্দীদেড় প্রান্তিক করে দেবার যে নানা প্রকল্প চালু হয়েছে, তা এখন টাকার নোটেও ঢুকে গেলো আরো জোরালো ভাবে।

কেউ বলতে পারেন, তাহলে ইংরেজিই বা এতো পবিত্র কেন? হিন্দী হলেই যত অসুবিধে? হিন্দী তো অন্ততঃ বিদেশী নয়। এ প্রসঙ্গে ফের মনে করাতে চাই, যে হ্যাঁ ইংরেজি বিদেশী ভাষা, এবং অহিন্দী মানুষের কাছে হিন্দীও বিদেশী ভাষাই। পূর্বোল্লোখিত গুজরাট হাই কোর্টের রায় সেটা পরিষ্কার করে দেয়। আমরা যেন দেশ ও রাষ্ট্র, এই ভিন্ন দুটি ধারণাকে এক না করে ফেলি। অবশ্যই, সকল ভাষার সমান অধিকারই আদর্শ উপায়।  তার ব্যতিরেকে কেন ইংরেজি, সে নিয়ে প্রবাদপ্রতিম গণনেতা তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী আন্নাদুরাই-এর মন্তব্য স্মর্তব্য। তিনি বলেছিলেন, ইন্ডিয়ান উনিয়নের মতো একটি বহুভাষিক সংঘরাষ্ট্রে প্রতিটি ভাষিক জাতীয়তাকে সুবিধা ও অসুবিধা সমান ভাবে ভাগ করে নিতে হবে। তবেই ঐক্য সাধিত হবে। ইংরেজি হলো এই ভাষিক জাতীয়তাগুলি থেকে সমদূরত্বে। এটাই ইংরেজির সুবিধে।  আরেকটি সত্য হলো যে ভারত নামক রাষ্ট্র কল্পিত হয়েছিল ইংরেজিতে – নানা জায়গার উচ্চবর্গের মানুষের মূলতঃ ইংরেজিতে ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে। আজও তা সত্য। এটা অবশ্যই ভারত কল্পনায় উচ্চবর্গের বিশেষ স্বার্থ ও প্রাধান্যকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়, কিন্তু তা আজকেও সত্য এবং বাস্তব।  ইংরেজি না থাকলে নানা ভাষী শাসক গোষ্ঠীর কোন মেলবন্ধন নেই।

এই নোটে রয়েছে আরো নানা সমস্যা। সংবিধানের অষ্টম তফসিলে গত কয়েক বছরে অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু ভাষা, যেগুলির নিজস্ব লিপি আছে, যেমন মনিপুরের মেইটেইলোন, সাঁওতালি (অলচিকি যার লিপি), সেগুলি নোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০ হাজারেরও কম মানুষের ভাষা সংস্কৃত রয়েছে নোটে কিন্তু ৭০ লক্ষাধিক মানুষের মাতৃভাষা সাঁওতালি নেই, এ কেমন পরিহাস?

অথচ নতুন করে যখন নোট ছাপা হলো, সেই সুযোগ তো ছিল। ফের, প্রশ্নটা সদিচ্ছার ও সমতার, যে সমতার আদর্শকে গলা টিপে মারে ক্ষমতা। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক বৈচিত্রকে নতুন দিল্লী একটি নিরাপত্তা ও ঐক্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। এই ভাষ্যে, হিন্দি ছাড়া সবকিছুই গোলমালের, অনৈক্যের প্রতীক, আর হিন্দী হলো ঐক্যের প্রতীক। এই প্রায় সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যকামী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায় যখন সরকারি ভাষার প্রচার ও প্রসার তথা অন্যান্য ভাষার স্বীকৃতি দেবার বিষয়টি দেখাশুনো করে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রকের অধীন একটি দপ্তর। নতুন দিল্লি নতুন নিয়ম চালু করেছে যে নিজস্ব লিপিহীন নতুন ভাষাগুলিকে সরকারি পঞ্জীকরণ ও স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য সেই ভাষা লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরী লিপি আবশ্যিক ভাবে মেনে নিতে হবে।  এখানে সেই ভাষার মানুষ তথা বিদ্দ্বদজনদেড় মতামত গুরুত্বহীন। এই ব্যবস্থার এক বলি হলো বোড়ো ভাষা, যেটির আবাদভূমি কোন হিন্দিভাষী এলাকার সংলগ্ন নয়। বোড়ো  লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে নতুন দিল্লীর আদেশে।  এর আগে মোহনদাস গান্ধীর ছবি দিয়ে টাকার নোটের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার রাজনীতিকরণ করা শুরু হয়েছিল। টাকায় এইবার বিজেপি সরকারের “স্বচ্ছ ভারত” প্রকল্পের বিজ্ঞাপন হিন্দিতে ছেপে টাকার নোটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে অন্য স্তরে নিয়ে গেলো। এর ফলে এবার থেকে টাকার নোট হয়ে উঠবে নিজ প্রবর্তিত সরকারি প্রকল্প বিজ্ঞাপনের এক নতুন ক্যানভাস। একটু একটু করে গণতন্ত্রের মৌলিক নিরপেক্ষতার কাঠামোটি ধ্বংস প্রাপ্ত হচ্ছে।

পুরানো নোটগুলিতে স্থান-ভিত্তিক রাজনৈতিক সিম্বল জায়গা পায়নি ৫০ টাকার নোট সংসদ ভবন ছাড়া। এই সংসদ ভবন সকল নাগরিকের প্রতীক।  অথচ আমরা দেখছি যে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোটে বিরাজ করছে লাল কেল্লার ছবি। এই লাল কেল্লার স্মৃতি ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের সকল জাতির কাছে সুখকর নয়। লাল কেল্লা ছিল দিল্লী-কেন্দ্রিক মোঘল সাম্রাজ্যের সদর দফতর। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্র মোঘল সাম্রাজ্যের উত্তরাধীকারী কোন রাষ্ট্র নয়।  এটি ১৯৪৭-এ সৃষ্ট। দিল্লী-কেন্দ্রিক যে সাম্রাজ্য বাঙালি, অহমিয়া, ওড়িয়া ইত্যাদি নানা স্বাধীন এলাকা দখল করেছিল, লাল কেল্লা সেই স্বাধীনতা হরণের প্রতীক। মূলতঃ হিন্দী-উর্দু ভাষী লোক-লস্কর এই দখলকৃত এলাকায় বসিয়ে তারা এই দেশগুলিকে শাসন করতো। সেই কাটা ঘায়ে লাল কেল্লার নুনের ছিটে দিয়ে আজকের নতুন দিল্লীর সরকার কি প্রমাণ করতে চায়?

৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ঘোষণাটি যখন নরেন্দ্র মোদী দিলেন হিন্দি ও ইংরেজি, ইংরেজির সময়ে পর্দায় ফুটে উঠলো হিন্দি অনুবাদ। কলকাতা দূরদর্শন কেন্দ্রকে বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয়নি, চেন্নাইকে দেওয়া হয়নি তামিল। তাই বাকি অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাগ্যে বরাদ্দ হয়েছে অন্যের থেকে শোনা কথা, গুজব ও বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম। রাষ্ট্র সবার। এবং সবাইকে তাদের ভাষায় জানানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই মৌলিক নীতির লঙ্ঘন জলভাতে পরিণত হয়েছে। এদিকে অহিন্দিভাষী অঞ্চলে ভোট চাইতে যাবার সময়ে কিন্তু বিজেপি সেই ভাষাতে পোস্টার-ফ্লেক্স দিতে ভোলে না। ক্ষমতার যত কেন্দ্রীকরণ হবে, ততো বেশি বেশি করে আরো বেশি মানুষ প্রান্তিক হবেন।নাগরিকের দায়িত্ব নয় নিজেকে বদলে রাষ্ট্রের উপযোগী হয়ে ওঠা।  কল্যাণকামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার পরিষেবার ক্ষেত্রে ও অন্য সকল ক্ষেত্রে নাগরিকসমূহের ভিন্নতার বাস্তবতা মাথায় রেখে সেই ভিন্নতাকে ধারণ করার উপযোগী হয়ে ওঠা।  যেন এরই রূপক হিসেবে দেখা গেল যে নতুন নোট চলতি এটিএম মেশিনগুলিকে না আঁটার ঘটনা। হাজারে হাজারে এটিএম মেশিন নতুন নোট অনুযায়ী বদলাতে হলো। বদলে চলতি এটিএম মেশিন অনুযায়ী নতুন নোট বানালে হতো না?

4 Comments

Filed under বাংলা, Colony, Federalism, Hindustan, Identity, India, Language, Nation, Uncategorized

ভারত ও ঢাকার মাঝখানে – অনিকেত প্রান্তর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সাথে ভারতীয় সংঘ-রাষ্ট্রের নরেন্দ্র মোদীর চুক্তির ফলে নিরসন হলো ছিটমহল অধ্যায়, যদিও এর মধ্যেই অন্য রাষ্ট্র  বেছে নেওয়ায়ে সংখ্যালঘু ঘর ইতিমধ্যেই ঘর জ্বলেছে এক রাষ্ট্রে । অদ্ভূত জিনিস এই ধর্ম, রাষ্ট্র ও নাগরিকত্বের টানাপড়েন-গুলি।  আর এসব  এলোমেলো করে দেওয়া সেই অদ্ভূত শব্দটি – ‘জন্মভূমি’। বাংলাদেশের অন্তর্গত ‘ভারতীয়’ ছিটমহলে ‘ভারতীয়’ নাগরিক শিশু পাশের গ্রামে (অর্থাৎ বাংলাদেশে) গিয়ে শিখেছে যে তার প্রধানমন্ত্রী হলো শেখ হাসিনা। সর্বার্থেই ছিট-মহল গুলি প্রান্তিক, এমনকি রাষ্ট্রও তাদের থেকে আনুগত্য দাবি করে না। ভারতের নাগরিক নিজেকে ভারতীয় মনে করে কিনা, তেরঙ্গা দেখে সটান হয় কিনা, গান্ধী দেখে শ্রদ্ধা দেখানোর ভাব করে কিনা, ক্রিকেটে পাকিস্থান-ঘেন্না করে কিনা, ছিটমহলবাসীদের ক্ষেত্রে ভারতের তাও এসে যেত না। আজকালকার রাষ্ট্র-ভিত্তিক বিশ্ব-চরাচর-কল্পনার দিনে  দিনে এর চেয়ে হতোছেদা আর কি করে করা যেতে পারে। যাই হোক, আশা করা যায় যে এখান থেকে দুই দেশের বাচ্চারা ঠিক ঠিক পতাকা দেখে ঠিক ঠিক সটান হতে শিখবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী, যিনি ঘুণাক্ষরেও সোসিয়াল মিডিয়া-তে হিন্দি ছাড়া কোন দেশী ভাষায় তার প্রজাদের বার্তা পাঠান না, এ হেন পাক্কা ভারতীয় জাতীয়তাবাদী পূর্ব্ববাংলা সফরকালে সস্তা চমক দিয়ে সেখানকার বাঙ্গালীর মন জয় করার জন্য টুইট করলেন বাংলায়। একজন পশ্চিম-বঙ্গবাসী হিসেবে এটা  কতটা অপমানজনক যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের সেটুকু স্বীকৃতিও দেয় না, যতটা কিনা পূর্ব্ব-বঙ্গবাসীদের দেয়। আকাশ খুব অন্ধকার।  আমরা একটু নিজেদের ভাঙ্গা সিঁড়দারাটার দিকে চেয়ে দেখি, একটু লজ্জা পাই, একটু ক্ষুব্ধ হই, একটু আত্মসম্মান সঞ্চয় করি । স্বীকৃতি দিক না দিক, দিল্লি বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের থেকে করের টাকা নিয়ে খয়রাতি করে আসবে বিদেশে একটি বিশেষ ভাষা-কে ‘ভারতের  মুখ’হিসেবে ফোকাস দেওয়ার জন্য। এবার-ও নরেন্দ্রভাই-এর ঢাকা সফরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে নতুন দিল্লির সরকার বাহাদুরের কল্যানে। বাঙালি, তামিল, অহমিয়া, তেলুগু, কন্নড়-ভাষী মানুষেরা এটা জেনে প্রীত হবেন যে তাদের ভাষা-সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব-টা হিন্দী আপনাদের না জানিয়েই নিয়ে নিয়েছেন আর সাথে নিয়েছে আপনাদের করের টাকা।  বলাই-বাহূল্য, নতুন দিল্লীর খয়রাতি পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগটির নাম হিন্দী। আর এই সব খয়রাতি করে অনেকে ভেবেছেন ওরা হেব্বি খুশি।  ওরা কিন্তু অনেকেই বেশ রেগে আছেন।

কলকাতার হো চি মিন সরনীর নাম অনেকেই শুনে থাকবেন।  কেউ কেউ হয়তো জানবেন যে এই রাস্তার আগের নাম ছিল হ্যারিংটন স্ট্রীট। কে এই হ্যারিংটন? ইনি ফিরিঙ্গি কোম্পানির আমলে নিজামত বা সদর আদালত-এর প্রধান বিচারক ছিলেন।  ১৮২৩ সালের  ২৮ জুন তিনি লিখিত মন্তব্য করেন যে সতীদাহ প্রথা যদি তখুনি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলেও এই নিষিদ্ধকরণের বিরুধ্যে তেমন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন তিনি আশা করেন না। অর্থাৎ জনগণ সে অর্থে সতিদাহর পক্ষে ছিল না। সতী-দাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় এর ছয় বছর পরে, ১৮২৯ -এ। নানা বিরুদ্ধতা উপেক্ষা সত্তেও সতিদাহ নিষিদ্ধকরণের যে প্রকাশ্য নায়কদের কথা আমাদের চিরকাল জেনে এসেছি, কিন্তু নেপথ্য নায়ক যে জনগণ, তাদেরকে স্বীকার করে নেন হ্যারিংটন। ফলে নায়কদের উচ্চতা একটু কমে, তাদের সংগ্রাম একটু ফ্যাকাশে হয়। তবুও সেটাই বাস্তব।  হ্যারিংটন-এর নামের জায়গায় হো চি মিন  দিয়ে সেটা ভোলা যায় না।  তবে হো চি মিন নামকরণের ছিল আরেকটি উদ্দেশ্য, এবং সেটি কিন্তু গর্ব করার মতো। এই রাস্তাতেই মার্কিন কনসুলেট। ভিয়েতনাম-এ মহিলা-শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে মানুষকে হত্যা করার যে নৃশংস খেলায় মেতেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এটা ছিল তার-ই বিরুধ্যে কলকাতার নিজের মত করে প্রতিবাদ। একটু লজ্জা দেওয়া, একটু বিড়ম্বনায় ফেলা। কলকাতার মার্কিন দূতাবাসকে আজ-ও হো চি মিন-এর নাম স্মরণ করতে হয়, না চাইলেও। নৃশংসতার প্রতিবাদ হিসেবে লজ্জা দেওয়ার মতো নাম পরিবর্তনের দাবি কিন্তু বেশ ছোয়াঁচে।  নিষ্পাপ শিশু ফেলানি-কে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বি-এস-এফ বাহিনী গুলি করে হত্যা করে দুই বাংলার সীমান্তে। গরীবের মেয়ে ফেলানির দেহ লটকে সীমান্তের কাঁটাতারে লটকে থাকে বেশ কিছু সময়। আর বিঁধে থাকে ‘অনুভূতিগুলো’। এই কাঁটা-তার-এ ঝুলে থাকা শিশুর ছবিটি ভারতের ‘স্বাধীন’ ও ‘মুক্ত’ সংবাদ-মাধ্যম খুব বেশি প্রচার না করলেও, সারা বিশ্ব জেনে গেছিল ফেলানিকে এবং তাকে খুন করা উর্ধি-ধারী বাহিনীকে, যাদের মাইনে  আমি আপনি দিই। বাঙ্গালীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ঢাকায় উঠেছিল প্রতিবাদের ঝড়, দাবি উঠেছিল সেখানকার ভারতীয় দুতাবাসের সামনের রাস্তার নাম বদলে  ফেলানির নামে করে দেবার জন্য। তারপর যা হবার, তাই হয়েছে।  গরিব মানুষের মেয়ের মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদ বেশিদিন টিকে থাকে না – ঘটনা হয়ে যায় সংখ্যা । ফেলানি ঝুলে ছিল যে কাঁটা-তারে, দুই বাংলার মধ্যে সে কাঁটা-তার বানিয়েছে দিল্লী। এতে ওপার থেকে অনুপ্রবেশ কমেছে কিনা, তার কোন খবর নেই , তবে এই কাঁটা-তার লাগানোর বরাত পেয়ে যে ঠিকাদার-রা কাজ করেছেন, তারা যাদের ঠিকাদার হবার নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের যে পকেট ভালই ভরেছে, সেটা বলাই বাহুল্য। সেটাও আমার আপনার টাকা। তবে এটা যেহেতু ‘জাতীয় সুরক্ষা’র প্রশ্ন, বেশি হিসেব চাইবেন না। বেশি হিসেব চাইলে আপনাকে সিধা করার মত নানা কালা কানুন ভারতে মজুত আছে – অশোক-স্তম্ভের সিংহ-গুলি শুধু দাঁড়িয়ে থাকে না, কামড়ে রক্ত-ও বার করে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি পূর্ব্ব বাংলা ঘুরে এসে বললেন যে ছিট-মহল বিনিময়ের ঘটনা হলো বার্লিনের প্রাচীরের পতনের মতই ‘ঐতিহাসিক’। এই ‘ঐতিহাসিক’ ধারণাটা আমি কখুনই ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কোনটা ঐতিহাসিক, কোনটা নয়, কেই বা সেসব ঠিক করে দেয়।  তবে এটুকু জানি, যে দুই গরীব বাস্তুহারা টইটুম্বুর  বাংলার মধ্যে যে ‘অনিকেত প্রান্তর’, তার মাঝে কাঁটা-তার বসিয়ে আর যাই হোক, বার্লিনের প্রাচীর পতন হয় না। সীমান্ত-বাসী মানুষের ভাষা যারা বোঝে না, তাদের গায়ে উর্দি পরিয়ে, হাতে বন্দুক ধরিয়ে ধর্ষণ করানোকে, মন-মর্জি মতো মারামারি ও জিনিস-পত্র হাতানোকে, হতদরিদ্র মানুষ খুন করানোকে ‘সুরক্ষা’র নাম দেওয়া পাপ। এই পাপ কিন্তু আমাদের পয়সায় মাইনে পাওয়া-রা কিন্তু করে এপার বাংলার মানুষজনের সঙ্গেও।  এমন পাপ মা দূর্গা কখুনো মাফ করবেন কিনা জানিনা।

যখন এই দিল্লী-ঢাকা শীর্ষ দেওয়া-নেওয়া হচ্ছিল, পাশে থাকা থেকে সাথে থাকার সুললিত বাণী দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখুনই হাসিনা সরকারের প্রবাস কল্যাণমন্ত্রী মোশারফ হোসেন ফরিদপুরে তার বহুদিনকার চেনা একটি প্রথিত্জসা সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি জোর করে হাতিয়ে নেবার সব রকম ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। একদিন হয়তো সেই নিপীড়িত পরিবারের একজন ‘এপারে’ চলে আসবে। পশ্চিম-বঙ্গের বাঙ্গালীদের সংস্কৃতিক নিজস্বতাকে যারা স্বীকৃতি দেয় না, তাদের কোলেই খুঁজতে হবে নতুন আশ্রয় ও পরিচয়। তারপর তার এই নতুন প্রভু তার নিজের রাজনীতির খেলার অংশ হিসেবে দেখাবেন ‘নাগরিকত্বের’ লোভ। তাই দেখে পূর্ব্ব বাংলার কেউ কেউ বলবেন যে এমন ঘোষণা হলো অনধিকার-চর্চা। ঘর-পালানো মানুষটা কি আজ-ও ‘ওপারের’?  পূর্ব্ব বাংলার ভিটে ছেড়ে পালিয়ে আসা বাঙ্গালী হিন্দু ঠিক কোন মুহুর্তে ‘ইন্ডিয়ান’ হয়ে যায় এবং দেশ নিয়ে কিছু বলার অধিকার হারায়? পালানোর দিন ? বর্ডার পেরোলে ? ‘ইন্ডিয়ান’ নাগরিকত্ব পেলে? দুই পুরুষ পরে? নাকি এসবের অনেক আগে, ‘ভুল’ ধর্মে জন্মমুহুর্তে? আমি জানি না।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Bengal, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Hindustan, Identity, India, Kolkata, Language, Partition, Religion

The 2014 India election review / A question of power

[ The Friday Times (Lahore), 16 May 2014]

When the grand parliamentary elections happen in the Indian Union, certain changes are always visible in the commentary around it. The more systemic critiques are replaced by adulation-with-minor-faults type of views. We hear less of the diseased orchard and more about bad apples. There is a reason. Elections of these kinds are periodic revalidation of the state’s legitimacy itself, much like a car’s license renewal before the expiry date. Any aspersion on the basis of continuity creates deep anxieties. The Indian Union is no exception. What is exceptional is the number of people from which it claims to get its legitimacy from, thus earning the much used, tired epithet of being the ‘world’s largest democracy’. This makes the present elections and all elections to the lower house of the Indian Union parliament the ‘world’s largest democratic exercise’. The reality makes that claim patchy at places – heavens on earth do not need legitimate worldly elections for peace and development. This does not take away the fact that a large majority of the adult citizens living in territories administered by the Indian Union government voted in the 2014 Lok Sabha elections.

A lot is at stake this time around – depending on the nature of the stake. What started as an exercise in cosmetic beautification of Gujarat’s tarnished reputation by government hired PR agencies after the riots of 2002 slowly grew into a united corporate cheer about Gujarat chief minister Narendrabhai Modi’s governance style. The Ambanis, the Mittals and other such paragons of 101% honest and clean business practices sang frequent paeans to Narendrabhai and the Gujarat that he had made at the biennial investors summit called Vibrant Gujarat. A few years ago, this became the site from where India’s richest man, Mukesh Ambani, publicly declared Narendrabhai Modi to be the best person to become India’s next prime minister. When such endorsers talk, the endorsed better walk. An ambitious one will run. The rest, as they say, is history. The Bharatiya Janata Party anointed Narendrabhai Modi as its prime ministerial poster-boy. This cut short the octogenarian ambitions of a Sindhi old man who in many ways had politically mentored Narendrabhai. Advani sulked and then relented. What followed was an unprecedented spending spree to create a larger-than-life helmsman image for Narendrabhai. The Indira Congress also spent many crores of Rupees to present its latest Gandhi as the young and youthful future of face of India. As if on cue, Delhi media has sought to make this battle for the parliament of the Indian Union look like a two-horse presidential election. The truth is, between them, the two national parties have won less than 50 per cent votes in three of the last five Lok Sabha elections. This time will only be marginally different. So-called ‘regional parties’, which are mostly presented as spoilsport in the ‘national’ scene, will again be crucial to any government formation at Delhi. What is the scope of these ‘regional’ parties in the global perspective? The West Bengal-centric Trinamool Congress (TMC) got more votes in 2009 Lok Sabha than the victorious Tories got in the UK parliamentary elections of 2010. The Tamil Nadu-centric Dravida Munnetra Kazhagam (DMK) got more votes than the ruling Conservative party of Canada got in their 2011 federal election. Consider this: Post-Partition, no national party has won an absolute majority of votes, ever. The Indian Union remains and will remain a politically diverse landscape, irrespective of the terrific howls from policywallahs, mediawallahs, academics, defence contractors, security apparatchiks, lobbyists, pimps and other glittering-shady characters of all hues invested hard in the Delhi circuit. This diversity is the greatest hindrance in the smooth entry of global capital as well as cultural homogenization of the Indian Union. Such a rocky and uneven political landscape needs a wave. This time around, even sectors of the deep state has deserted the Indira Congress and put its bet on the ‘Modi wave’.

If you draw an imaginary line from Kishanganj in Bihar to Goa, you can roughly divide the territories of the Indian Union into two parts. The part to the left of this line contains much of Hindi-ized India or greater Hindia. This is where the pull of Hindutva politics is at its strongest. This is also where the politics of social justice powered by parties that organized themselves around lower castes have long kept the BJP in check after the terminal decline of the Indira Congress in Uttar Pradesh and Bihar. There is a feeling that some of these levees make break in the face of the ‘Modi wave’, which might acquire great strength in the fertile communally divided ground created by the 2013 Muzzafarnagar riots in western Uttar Pradesh . This would mean that stalwart leaders of lower castes like the Mulayam Singh Yadav-led Samajwadi Party, Mayavati-led Bahujan Samaj Party, Lalu Prasad Yadav-led Rashtriya Janata Dal and Nitish Kumar led Janata Dal (United) will mostly hold on to their core support groups and lose significant portions of their peripheral support to the BJP. That might well be true if the exit polls by CNN-IBN, suggesting an unprecedented sweep of Uttar Predesh and Bihar by the BJP turn out to be correct. This TV channel like many others has seen huge investments from Mukesh Ambani’s Reliance Industries Limited. CMS, an independent media research organization, has reported that in this personality-driven campaign, Narendrabhai Modi got 33.21% of primetime news telecast. Rahul Gandhi got 4.33%. Since the BJP will not get 8 times the number of seats or votes than Indira Congress, the disproportionate coverage that has been given to corporate India’s chosen successor is quite clear. The top 10 list of persona who were given most primetime media coverage did not contain a single person from the southern part of the Indian Union. It is not accidental that the south is not the BJP’s strongest territory. The urban Hindi-heartland bias of Delhi-centric media is rather shameful. More worrisome are its implications.

The urban Hindustan has thrown up the newest and probably the promising kid on the block of these elections, the Aam Aadmi Party.(AAP) Formed about one and a half years ago, upset all known political equations by decimating the Indira Congress and stopping the BJP in its tracks in the Delhi provincial elections. This time around, its charismatic leader Arvind Kejriwal has successfully projected himself as the most vocal critique of Narendrabhai Modi. He has challenged Narendrabhai in Benares, a seat that the BJP held in the last parliament and where AAP had no prior organization whatsoever. Thus every vote that Arvind Kejriwal gets is a vote won or transferred from others. The difference between the votes Narendrabhai will get above and beyond what the BJP’S ageing brahmin top dog Murli Manohar Joshi got in Benares can be attributed to the ‘Modi wave’. That is the relevant comparison. We shall see who will win but the AAP through its shrewd manoevering and its no nonsense stance on corruption has captured the imagination of a significant section of the urban youth. It really is trying to capture the historical political space of the Indira Congress and wants to position itself as the ‘national’ opposition and alternative to the BJP next time around. That is a tall order, especially given that the AAP’s stated list of enemies includes not only the BJP but also the Indira Congress, the Gandhis, the Ambanis and the newest Gujarati ‘110% honest’ millionaires, the Adanis.

On the morning of May 12th, I stood at the voting line in the Chetla area of Kolkata, the capital of Bengal. As a Bengali, my interests are most focused here. In almost all seats of Bengal, BJP is not among the top 2 forces in contention. This is broadly true for most of the regions east of my earlier stated Kishanganj-Goa line. Here the non-Congress non-BJP forces more or less hold on to their spheres of influence thought there is a huge increase in the visibility of the Modi campaign. This will surely reflect as a general bump in the percentage of BJP votes, but on the whole, in the south and the east of the Indian Union, what we have may at best be called a ‘Modi trickle’. In many places, event that hint of saffron ghairat is absent. This is not odd for a multinational super-state like the Indian Union but these elections will probably underline that fact quite clearly.

These elections kept Muslims in particular focus all through the campaign. This started at first as a part of the old Indira Congress and Samajwadi Party tactics of buying Muslim votes by fear-mongering. Among many Muslims, there is deep distrust and suspicion of a Modi government, if not outright fear. But if fear alone is able to herd a people together to the arms of the cynical fear-mongerer doubling up as protector, it is unfortunate for the community and its politics. AAP aimed to change this narrative at many places. When asked my Muslim community leaders about what could AAP do for Muslims, Arvind Kejriwal famously replied that he could not do anything special but will ensure that people from every faith are treated equally under all circumstances. This is in line with what G Shah commented on Kejriwal’s letter to Muslim – ‘As a muslim voice, dare I say that we do not want any special benefits, aka appeasement. Even if the regular / common state welfare mechanisms are made available to everyone (including us) that would be more than enough for everyone (including us).’ The loss of Muslim support might be a significant blow to the Indira Congress, which prides itself as being the sole ‘national’ embodiment of the Indian Union’s secular ethos.

During his campaign, Narendrabhai Modi assailed Mulayam Singh Yadav saying “do you know the meaning of coverting to Gujarat? It means 24-hour electricity in every village and street. You can’t do it. It requires 56-inch chest.” People of the Indian Union will soon come to know the advantages or disadvantages of pectoral girth in poverty alleviation, human rights, civil liberties and a list of other issues that almost always has required a big heart, not a big chest.

Leave a comment

Filed under Delhi Durbar, Democracy, Federalism, Hindustan, India, Media, Polity, Power

ম্যাড্রাসী কারে কয়?

 

ইউটিউবে একটি ভিডিও সর্দি-কাশির ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়েছে। নাম ‘এন্না দা রাস্কালাস – সাউথ অফ ইন্ডিয়া’। বেশ চনমনে ও মজাদার এই ভিডিও ইতিমধ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ বার দেখা হয়েছে মাত্র ২ সপ্তাহে । না দেখে থাকলে দেখে ফেলুন। স্ট্রে ফ্যাক্টরি ও কালচার মেশিন নামের দুই শিল্পীগোষ্ঠী ‘দক্ষিন ভারত’-এর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র ও পৃথক সংস্কৃতি ও জীবনবৈশিষ্ট-কে তুলে ধরেছেন। ‘মাদ্রাজী’ নাম এক করে দেখা এবং হেয় করার প্রবণতার বিরুধ্যে এই ভিডিও। ‘দেয়ার ইজ নো ম্যাড্রাসী, উই আর অল পারোসি’ ( ম্যাড্রাসী বলে কিছুই নেই, আমরা সকলে প্রতিবেশী) – এই হলো গানের জনপ্রিয় লাইন ও মূলমন্ত্র।

এবেলা স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে ম্যাড্রাসী শব্দটা আমি বাঙ্গালীদের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যবহার করে থাকি। এ শব্দটি শুনেই বড় হয়েছি। আসলে, বাংলায়ে ম্যাড্রাসীর সাথে মাদ্রাজী শব্দটিও চালু আছে – রোজকার কথায় এবং সাহিত্যেও, প্রথম হিন্দী ফিলিম হবার অনেক আগে থেকে। নিখিল বাংলাদেশে সাধারণত এই শব্দটি কাউকে নিচু করে দেখাতে ব্যবহার করা হয় বলে মনে হয়নি। আমি গঙ্গা-যমুনার হিন্দুস্তানী এলাকায় বড় হইনি। শুনেছি সেখানে নাকি ম্যাড্রাসী শব্দটি বেশ হেয় করেই ব্যবহার করা হয়। আমার বাংলার ‘মাদ্রাজী ‘ শব্দ, যার মাধ্যমে আমি অন্য বাঙ্গালীর সাথে একটা সাধারণ-ভাবে জানা ধারণাকেই নির্দেশ করি। যদিও এটি মোটামুটি নানান দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠির (যেমন তামিল, তেলুগু, ইত্যাদি) জাতীয়তাগুলিকে বোঝাতে ব্যবহার হয়, সচেতনভাবে তাদের মধ্যেকার তফাত্গুলিকে মোছার লক্ষ্যে ‘মাদ্রাজী’ শব্দের উত্পত্তি নয়। দ্রাবিড় জাতীয়তাগুলির মধ্যের বাস্তব ভিন্নতা নিয়ে আসলে আমাদের মাথাব্যথা ছিল না। বরং এই বাংলাদেশে আমরা যে সব দ্রাবিড় জাতীয়তাগুলির মানুষের সংস্পর্শে এসেছি, তার ভিত্তিতে বানিয়ে নিয়েছি এক ‘মাদ্রাজি’ – যার আকার ও বৈশিষ্ট একান্তই আমাদের নিজস্ব দ্যাখা-শোনার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের মনের একটি জায়গায় বাস করে আমাদের এই ধারণার ‘মাদ্রাজী’, কিছুটা বাঙ্গালীর ‘ব্রেজিল-আর্জেন্টিনা’র মত – আগমার্কা আসলের সাথে যার মিল খুজতে গেলে আমাদের নিজেদের গড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে এবং সে প্রক্রিয়ার সততাকে অস্বীকার করতে হয়। ঔপনিবেশিক সময়ে নিখিল বাংলাদেশের শহুরে মানুষের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ফল যে মাদ্রাজী, দক্ষিণের নানান জনগোষ্টির সাথে তার সম্পর্কে দূরের , যদিও পুরো সম্পর্কহীন-ও নয়।

এই উপমহাদেশের দক্ষিন অংশে রয়েছে নানান দ্রাবিড় জাতীয়তাগুলির নিজনিজ মাতৃভূমি। এই এলাকাগুলির একটা বড় অংশ ইংরেজরা ‘ম্যাড্রাস প্রেসিডেন্সি’ নাম দিয়ে এক প্রশাসনের ছত্রতলে নিয়ে আসে। এই সময়েই নানান ভৌগলিক ও জাতিগোষ্টির এলাকা তালগোল পাকিয়ে ‘মাদ্রাজ’ নামক নির্মিত ধারণার উদ্ভব ঘটে। নির্মিত কারণ সাহেবরা এক প্রশাসনের তলায় এনে মানচিত্রে দাগ কেটে দেওয়ার ফলেই ‘মাদ্রাজ’ ব্যাপারটি চালু হয়, ক্রমে হয়ে ওঠে ‘আসল’ কিছুটা। ঠিক এই ঔপনিবেশিক সময়েই, প্রশাসনিক একতা ও মানচিত্রে সাহেবের টানা দাগের ভিত্তিতে আরেকটা ধারণার বাজার আস্তে আস্তে গরম হতে থাকে। সে ধারণাটির নাম ‘ইন্ডিয়া’। যে ধারণাগুলির পেছনে ঠেকা হিসেবে থাকে বন্দুক ও লস্কর, তার নাম হয় জাতিরাষ্ট্র। আর যেগুলির থাকে না, তা থেকে যায় জাতীয়তা হিসেবে।

দেশভাগের পরে রাজ্যগুলির ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠন এবং শহরের পুনর্নাম্করণের ফলে ‘মাদ্রাজ’ মোটামুটি অবলুপ্ত হয়েছে। ‘ইন্ডিয়া’ ধারণাটি নানাভাবে বিভক্ত হয়েছে – এক পবিত্র মাতৃভূমি (ভারত নামধারী সংঘ-রাষ্ট্রে), শক্তিশালী ষড়যন্ত্রকারী শত্রু (পাকিস্তানে), দাদাগিরি দেখানো ‘বন্ধু’ (৭১ পরবর্তী পূর্ব্ববঙ্গ অর্থাত গনপ্রজান্তন্ত্রী বাংলাদেশে), এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী (বর্মায়), ইত্যাদি। অনেক উপনিবেশ এলাকাতেই ‘মাদ্রাজ’ বা ‘ইন্ডিয়া’ গোছের ধারণাগুলি গল্পটা একইরকম। একই প্রশাসনের তলায়ে বসবাসকারী নানান জাতীয়তার মানুষ , বিশেষতঃ শহুরে পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা, অন্যান্য এলাকার শহরে পৌছয়ে। এই আদানপ্রদানের মাধ্যমে এবং সাহেব বিরুদ্ধতাকে কেন্দ্র করে একটা সাধারণ ঐক্যের ধারণা তৈরী হয় – যা ক্রমে জাতিরাষ্ট্রের হিসেবে বাঁধে। এই ধরনে ধারণা কাল্পনিক বলেই ঐক্য, অখন্ডতা, পতাকা স্যালুট, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পশু, এক সংসদ, এক প্রশাসনিক ক্যাডার (আইএএস, আইপিএস), কেন্দ্রীয় সিলেবাস, শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি নানা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই কল্পনাকে বাস্তবের রং দিতে হয়, মন্ত্রের মত বলে যেতে হয় এই ধারণার পবিত্রতার কথা। আবার একই সাথে ধারালো অস্ত্রে সান দিতে হয় সারাক্ষণ – এই গানের সুরে যারা গলা মেলায় না, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য। এইখানে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের আশ্চর্য মিল। তা গুমখুন হওয়া বেলুচি-সিন্ধি-মণিপুরী-নাগারা হাড়েহাড়ে জানেন।

‘ইন্ডিয়া’র অন্তর্গত জাতীয়গোষ্ঠির্গুলিকে কেন্দ্র যে এক চোখে দ্যাখে না, সেটা কারো অজানা নয়। কাল্পনিক ‘ইন্ডিয়া’র ”আসল’ আত্মাটি যে বিন্ধ্য পর্বতমালার উত্তরে হিন্দুস্থানী এলাকায়, তা আর বলতে অপেক্ষা রাখে না। বলিউডিয় ‘আম আদমি’ যে পূর্বের বা দক্ষিণের আদমি নন, সেটা পরিষ্কার নিশ্চই পরিষ্কার হয় এশিয়াড বা অলিম্পিকে ‘ইন্ডিয়া’ দলের ‘আসল’ পাগড়ি দেখে – সে মাথা তামিল হোক বা উড়িয়া। পাগড়ি হলো মেনস্ট্রিম। বাকিদের কষ্ট করে বোঝাতে হয় তারা কারা, কি খায়, কি গায়, কি করে, কি পরে, কি বলে, ইত্যাদি। যেমন পুষ্প-প্রদর্শনীতে অজানা গাছের নাম ছোট করে লেখা থাকে , তেমনই আর কি। ‘সাউথ অফ ইন্ডিয়া’ ভিডিওর মূলে রয়েছে ‘আসলি’ ইন্ডিয়ানদের কাছে নিজেদেরকে তুলে ধরার, বুঝিয়ে বলার প্রচেষ্টা। যাতে তাদেরকে একইভাবে স্টিরিওটাইপ না করা হয়। ‘ইন্ডিয়া’র দিল যে দিল্লীতে , একের পর এক নাগা, মিজো , মণিপুরী হত্যা, ধর্ষণ, প্রহার, অপমানের ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় যে সব স্টিরিওটাইপ বাঙ্গালীর ‘মাদ্রাজির’ মত অপেক্ষাকৃত নিষ্পাপ নয়। হিন্দী বচন, গুরগাঁও গমন, দেওয়ালি পালন – এগুলিই ‘ইন্ডিয়া’র আত্মা থেকে দুরে থাকা জনগষ্টিগুলির ‘ইন্ডিয়ান’ হবার সোপান। কিন্তু আমাদের নিজনিজ মাতৃদুগ্ধ-মাতৃভাষা-মাতৃভূমি তো কাল্পনিক নয়। উপমহাদেশের অনেকে ‘ইন্ডিয়ান’ বলতে যাকে কল্পনা করেন, তাদের সাথে অনেক ‘ইন্ডিয়ান’এরই কোন মিল নেই। তারা যদি আজ মাইল গান গায় , ‘দেয়ার ইজ নো ইন্ডিয়ান, উই আর অল পারোসি’ – তারা কি খুব ভুল বলবে? ‘ম্যাড্রাসী’ নামের ধারণাকে যদি বেশি তলিয়ে মারো টান, আরো অনেক পবিত্র কল্পনাও হয় খানখান। তাই, ‘ওপারে যেও না ভাই, ফটিংটিং-এর ভয়’। দিনকাল ভালো না।

2 Comments

Filed under বাংলা, Bengal, Colony, Foundational myths, Hindustan, India, Nation, Pakistan

মেরী কম, তেরঙ্গা বেশি

[ Ebela, 10 Oct 2014]

জাতীয়তাবাদের মার শেষ রাতে, এমনই আমার সাম্প্রতিক উপলব্ধি । নাইটশোতে হিন্দী বই ‘মেরী কম’ শেষ  হলো ‘জনগনমন’ দিয়ে। বইটার-ই অঙ্গ – হলমালিকের অত্যুত্সাহ নয়। প্রায়ে মাঝরাতে রাষ্ট্রপ্রেম পরীক্ষা। কে দাঁড়ায়ে, কে দাঁড়ায়ে না – এই সব পায়তারা। বন্ধুর থেকে খবর পেলাম হিন্দুস্তানের রাজধানীর। সেখানে একটি সিনেমা-হলে নাকি এই দাঁড়ানো-না দাঁড়ানো কেন্দ্র করে হাতাহাতি হয়েছে।  তা ভালো।  ঘুষোঘুষি নিয়ে যে বই, তার যবনিকা মুহুর্তে কিছু মানুষের হাত নিশপিশ করতেই পারে। সেখানেই ছবির সার্থকতা। মশলাদার ডিনার খেয়ে পেট গুরগুর, হল-এ ঠায়ে বসে কোমর অবশ কিন্তু বুকে চাগার দেয়ে ‘ইন্ডিয়া’। পয়সা উসুল।

চ্যাম্পিয়ন মনিপুরি মুষ্টিযোদ্ধা মেরী কম-এর জীবনসংগ্রাম-ই ‘মেরী কম’ বই-এর মূল ব্যাপার। তাতে নানা ভাবে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গের ছোয়াচ – মনিপুরের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মনিপুরীদের সঙ্গে হিন্দুস্তানিদের বৈষম্যমূলক ব্যবহার, ভারতীয় বাহিনী, মনিপুরি সন্ত্রাসবাদী ( কারুর কাছে সসস্ত্রসংগ্রামি), ইত্যাদি। ‘মেরী কম’ মালাইকারি-তে নাম চরিত্রের ব্যক্তিগত  সংগ্রাম-সংসার যদি হয় চিংড়ি, তবে এই অন্য গল্পগুলি হলো মশলা। চিংড়ি যতই ভালো হোক, মশলা ঠিকঠাক না পড়লে, ঠিক করে না কষলে, পাতে দেওয়া যায় না – বিশেষতঃ সে পাত যখন ছড়িয়ে আছে ভারত রাষ্ট্রের শহরে-গঞ্জে হলে-মাল্টিপ্লেক্সে। প্রতিদিন বলিউডের হেসেলে তৈরী খাবার হিন্দী-মাতা বেড়ে দ্যান দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার রাষ্ট্রপ্রেমী সন্তানদের পাতে । অশোক-স্তম্ভের উপর দাঁড়ানো সিংহ-গুলির গায়ে গত্তি লাগে। অনেকেই এখন নানা কুইজিন আস্বাদন করতে চান – একটু মুখ বদলানো, একটু ‘বৈচিত্রের মধ্যে একতা’ আর কি । তাই জমে গেছে ‘মেরী কম’ এর গল্প – এক মেয়ের কাহিনী, এক মায়ের কাহিনী, এক স্ত্রীর কাহিনী, মনেপ্রাণে ভারতীয় এক  মণিপুরীর ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার কাহিনী, প্রান্তিক ভারতীয়তার মঞ্চের কেন্দ্রে আসার কাহিনী, দুষ্টু মেয়ে মনিপুরের সাথে ভারতমাতার মান-অভিমানের কাহিনী। ভারত রাষ্ট্র লিবারেল – এসব এখন নেওয়া যায়।  মনিপুরি-দের কথা জানিনা তবে নাগা-রা নাকি আরো কিসব খায়। সেসব হিন্দুস্তানী পাতে দেওয়া মুশকিল কারণ কিছু স্বাদ এতই ভিন্ন যে অনেক তেরঙ্গা গরম মশলা দিয়েও তা বাগে আনা যায় না। যে সাপের বিষদাঁত আছে, তাকে নিয়ে খেলা দেখানো যে বিপদজনক তা সব সাপুড়ে জানে।

‘মেরী কম’ বইতে অন্তঃসত্ত্বা নায়িকা তার স্বামীর হাত ধরে এগোচ্ছে হাসপাতালের দিকে।  প্রসব বেদনা উঠেছে।  বাইরে চলছে কারফিউ। স্ত্রী-কে একটু অপেক্ষা করতে বলে স্বামী এগিয়ে গেল। রাষ্ট্রবিরোধীদের তাড়া করতে ব্যস্ত  খাঁকি উর্দি পড়া সরকারী বাহিনীর সামনে পরে গেল স্বামী। সে জানালো তার স্ত্রীর কথা।  এক জওয়ান এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেল স্ত্রী-কে – ঠিকই বলছে। যেতে দেওয়া হলো। অস্থির মণিপুরের এমন নানা কাল্পনিক খণ্ডচিত্র বারবার ফিরে আসে ‘মেরী কম’-এ। কাল্পনিক বলছি কারণ কিছু বাস্তব বড়ই অন্যরকম। সেই বাস্তবের মণিপুরে সরকারী বাহিনী ইম্ফল-এর ভিড়ের রাস্তায়  দিনে-দুপুরে সকলের সামনে চংখাম সঞ্জিতকে ঘিরে ফেলে। সঞ্জিত বাধা দেয় না। উর্দিধারীরা তাকে নিয়ে যায় রাস্তার পাশে এক ওষুধের দোকানের মধ্যে। কয়েক মিনিট  বাদে সঞ্জিতের রক্তাক্ত মৃতদেহ খাঁকি-ওয়ালারা বাইরে এনে তুলে দেয় একটা ট্রাক-এ। পুলিশ একই সঙ্গে আরেকজন যুবক-কে তাড়া করে এবং গুলি করে মারে পথচলতি রবীনা দেবীকে। রবীনা দেবীও ছিলেন অন্তঃস্বত্ত্বা। রবীনা দেবী ও সঞ্জিতের নিথর দেহদুটি ট্রাক-এ পরে থাকে পাশাপাশি।  প্রায় সিনেমার মতই এই ঘটনাটির সব মুহূর্ত  লাইভ ধারাভাষ্যের মত উঠে যায় কামেরায়ে। আগ্রহী পাঠক গুগুল দেবতার কাছে খোজ করলেই তা দেখতে পাবেন। মাল্টিপ্লেক্সে বর্ণিত অস্থির মণিপুরের যে শিশুভোলানো নকল চিত্র, তার পাল্টা এই অন্তঃসত্বার বিয়োগান্ত পরিণতি। বিশেষ সেনা ক্ষমতা আইন-এর তলায় কাঁপতে থাকা মণিপুরীর দৈনন্দিন বাঁচা ও মরার গল্পের বাজার নেই। নাকে-নল নিয়ে অনশনকারী ইরম সর্মিলার আখ্যান পপকর্নের স্বাদকে একটু তেঁতো করে দিতে পারে।আর সেন্সর-বোর্ড তো আছেই – প্রাপ্তবয়স্ক দেশবাসীকে এই অনুত্তেজক রাষ্ট্রীয় নগ্নতা থেকে বাঁচানোর জন্য। তাই খেলাধুলাই ভালো। মণিপুরী মেয়ের শত প্রতিকূলতায় ভারতীয়ত্ব প্রমানের চেষ্টা এবং আসতে আসতে ভারতমাতার পক্ষ থেকে তাকে বুকে টেনে নেওয়া।  তালি তালি। আর যারা ভারতীয় হতেই চায় না? ওদিকে যেও না ভাই ফটিংটিং-এর ভয়। তেরঙ্গা বুনয়িপ একেবারে কাঁচা খেয়ে ফেলবে – কেউ জানতেই নাও পারতে পারে।

তাই ফিরে আসি ফিলিমেই। বাঙালি বা পাঞ্জাবি অভিনেত্রী দিয়ে ‘অথেন্টিক’ সাঁওতাল বাহা বা দুলি নামানো গেছে ইষ্টিকুটুম থেকে অরণ্যের দিনরাত্রিতে। সঞ্জয় ভনশালী সেদিক থেকে অনন্য নন। তিনি ভালোই জানেন যে তার বই-এর বাজার ইন্ডিয়া নামক চড়া তেরঙ্গা এলাকায়ে, মনিপুর-মিজোরাম-নাগাল্যান্ডের মত ফিকে তেরঙ্গার দেশে নয়। বাস্তব জীবনে মণিপুরী নন ভারতীয়-বাহিনীতে কর্মরত পিতা-মাতার কন্যা প্রিয়াঙ্কা চোপরা। ‘মেরী কম’ সেজে তিনি যা আয় করেছেন, মেরী কম বক্সিং রিং-এ এতদিনে তা আয় করেননি, করতে পারবেন ও না। তবু দুচোখে স্বপ্ন থাকলে ক্ষতি কি? ঠিক যেমন ‘মেরী কম’ বইটি রিলিজ হবার দিনেই শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রিজির ভাষণ শেষে ইম্ফল থেকে তাকে প্রশ্ন করলো ১৭ বছরের এক মিজো তরুণ। আমি কি করে প্রধানমন্ত্রী হতে পারি ? প্রধানমন্ত্রিজি ইয়ার্কিছলে উপদেশ দিলেন ২০২৪-এর নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে। যে সর্বজ্ঞাত সত্য তিনি বলেননি তা হলো অশোক-স্তম্ভের রাষ্ট্রে কোন মিজোর প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব না – আজ না, কাল না, ২০২৪ এও না। তারা বরং চীনা-জাপানী টিপ্পনী শুনতে শুনতে তথাকথিত ভারতীয়ত্বের তথাকথিত মূলস্রোতে গা ভাসানোর চেষ্টা করুক। এই চেনা ছকের বাইরে গেলে যে পরিণাম খুব একটা মনোরম হয় না, তা জানেন মনোরমা। বছর ৩৪-এর থাংজাম মনোরমাকে ২০০৪-এ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আধাসামরিক বাহিনী। অনেক বুলেটে বিদ্ধ এবং পুরুষসিংহদের বীর্যমাখা মৃতদেহ পাওয়া যায় পরদিন। এর প্রতিবাদে ৩০জন মণিপুরী নারী সরকারী বাহিনীর সদরদপ্তরের সামনে উলঙ্গ হয়ে গর্জে ওঠেন – আমরা মনোরমার মা, ভারতীয় বাহিনী আমাদেরও ধর্ষণ করো। যেদেশে মনোরমার ও তার মায়েদের গল্প হিন্দুস্তানী মশলা ছাড়াই নাইট-শো তে পরিবেশিত হবে, সেই দেশের জাতীয় সংগীতের আওয়াজে দাঁড়ানোর জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Culture, Hindustan, Nation, Terror

David versus Goliath in Benares

[ Express Tribune, 7 Apr 2014 ; Kashmir Times, 8 Apr 2014 ; Daily Peoples Times, 8 Apr 2014 ; Dhaka Tribune, 21 Apr 2014; Millenium Post, 22 Apr 2014]

As the Congress(I) looks sure to reap what it sowed, the possibilities for the Bharatiya Janata Party looked exceedingly certain in almost a walk-over game. It was just a few months ago when there was an air of everything having been settled. A corruption-ridden second term government of the Indira Congress was looking increasingly out of touch with people’s issues and aspirations. And a ‘saviour’ has descended from Gujarat –a ‘saviour’ whose public image was curated by the Bharatiya Janata Party’s slick PR machine to appear in stark contrast with the Nehru-Gandhi scion. It was but a matter of time. It still is a matter of time. Much is still quite settled. But the air has cleared a bit and faces of the demi-gods don’t appear as divine anymore. The man from Gujarat still stands tall and is way ahead in the battle. However, political currents in the last few months have ensured that at the end, the winner of the battle can claim political power, legislative power, administrative power, even the power to subvert habeas corpus and other things sacred to human dignity but it cannot claim ethical and moral power with full-throated confidence. The rise of the Aam Aadmi Party has ensured that.

Touted initially as a ‘electronic media creation’ that would vanish as soon as the cameras turned elsewhere, the Aam Aadmi Party has continued to punch way above it popular weight even after much of corporate media turned hostile overnight over the party’s decision to deny the Walmarts and Tescos of the world to set up shop in Delhi. This party, which cannot claim numerical parity with either of the 2 behemoths of the political scene of the Indian Union, has been able to go strength to strength with these two in the game of political agenda-setting. This is partly due to the base it has been able to create for itself in crucial urban sectors of Hindi-Hindustan (and not in many urban centres of the Indian Union). Anything in Hindi-Hindustan is able to claim top slot in the ‘national’ agenda – such is the nature of politics in this republic. But that is not all. The Aam Aadmi Party has been able to edge past its rivals in the universe of political morals and ethics by disclosing the hitherto undisclosable donor lists to party funds, naming the hitherto unnamable individuals and families who hold the political system in an unholy grip, forcing others to respond, retaliate, ignore and thus expose themselves. The subcontinent has a special place for this sort of thing, even if ethical giants were really acting all the way. Even if silenced by fear or state violence, people in the subcontinent have shown that they have respect for those who speak truth to power. Which is precisely why other agendas for respect garnering have to be generated – ‘strong’ leadership, teaching ‘them’ a lesson and content-less slogans of the ‘India first’ type. Such respect-generation is coupled with hope-production by false promises for job-creation and material prosperity that will be ushered in by the same corporates who help fund advertisements of the ‘strongman’ in widely circulated dailies, TV channels, cell phones and websites.

Arvind Kejriwal, ex-Chief Minister of Delhi and the public face of the Aam Aadmi Party, will be challenging Narendrabhai Modi, the chief-minister of Gujarat and prime-ministerial candidate of the Bharatiya Janata Party, in Benares in the upcoming parliamentary elections. This holy city, which is also the site of the controversial mosque that Aurangzeb Alamgir built after destroying the erstwhile Vishwanath temple, is all set for a David verses Goliath battle. And Goliath will win. When Arvind Kejriwal entered Benares for his inaugural political rally, he was pelted with rotten eggs and black ink was thrown on him. The kickback that is given by the saviour’s favourite banias in exchange of mining rights, ports, agricultural lands, tax breaks, mega-subsidies and natural resources finds it way into the petrol of the campaign helicopter, the liquor consumed by the black-ink and egg throwers, the danda that holds the jhanda. Kejriwal is astute enough to know that focus on Benares will garner publicity helping people know about the political agenda of a credible opposition to the Bharatiya Janata Party, especially when the Indira Congress is in retreat. An atheist turned believer, he can publicly pull off a call upon non-sectarian divine powers to intervene on the side of the ‘aam aadmi’. Call them publicity stunts, call them what you will but the egg and ink smeared Kejriwal has ensured that in spite of a ‘chhappan inch’ chest, immaculately clean dresses and ‘Har Har’ chants, the winner this time cannot rise above the fray. The owner of the 56-inch chest will invariably see his height diminished when the duel with Kejriwal progresses, when he reacts to the Aam Aadmi challenge. The ironman may stand tall but his rusty core will not be hidden either. That is serious political currency for the Aam Aadmi Party, which really is preparing for the election after this one.

Leave a comment

Filed under Democracy, Hindustan, Polity, Power, Religion

The Goonda first came for the Assamese / Gunday on the loose / The Bollywood Gunday threat against Assam and Bengal

[ Daily News and Analysis, 4 Mar 2014 ; Dhaka Tribune, 5 Mar 2014 ; Echo of India, 11 Mar 2014 ]

People in the Bengals use the word ‘Goonda’ quite liberally – to refer to anything between a naughty child to the local political thug. But in the eyes of law, who is a Goonda? One of its many legal definitions is to be found in the Control of Disorderly and Dangerous Persons (Goondas) Act (East Bengal Act IV of 1954). There is goonda is someone ‘involved in affray, rowdyism or acts of intimidation or violence in any place private or public so as to cause alarm to the people living or frequenting the neighbourhood’. According to the Uttar Pradesh Control of Goondas Act (U.P. Act No. 8 of 1971, amended by U.P. Act No. 1 of 1985), it is ‘generally reputed to be a person who is desperate and dangerous to the community’. But if film and artist communities in Assam and West Bengal have been protesting mischief and many young people in the People’s Republic of Bangladesh are disgusted at the false and mischievous retelling of its Liberation struggle, then the source of mischief can safely be called a Goonda, at least rhetorically if not legally. When there is more than one such public enemy, in Hindi they are called Gunday. Gunday are backed by deep-pockets whose ulterior projects are more extensive than the specific acts of mischief. More often than not, the Gunday of the real-world are mercenaries for other people’s projects, even part of broader, more sinister projects of which the employed Gunday may not be even aware of. The Gunday are as important as the people who dictate what Gunday does, how they do it, when they do it.

In the reel-world, ‘Gunday’ is a project of Yash Raj Films, a Bollywood centric entertainment behemoth. It is one of greatest flag-bearer of Bollywood Hindi films, that grandest by-product of ‘Indianness’. Some perverse people like me feel that the relationship is inverse – that ‘Indianness’ is a byproduct of Bollywood Hindi films, among other things. It is the thread that connects the browns to browns, with the punitive sedition laws at hand just in case some folks didn’t get the point. Whatever be the tall ‘diversity’ claims of the Indian Union, the cultural landscape after partition has a couple of winners (English being one) and a large set of losers. In the Indian Union, we all know that cultural and political clout of which language has expanded after partition, so much so that not knowing it is seen as a sign of being politically and culturally queer. This advancement comes with the retreat of Marathi, Kannada, Bengali, Assamese, etc. as playgrounds of cultural imagination and virtual annihilation of fecund tongues like Maithili, Awadhi, Brajbhasha, etc. It is not accidental that the most successful film industry is of the same language that receives the maximum preferential subsidy for its advancement. The subsidy to English in poor brown-land is a scandal of another scale altogether.

Let me not beat about the bush and come to the point. Gunday is a Bollywood Hindi film. For West Bengal, it was dubbed in Bengali. This make one, get many formula by dubbing into other tongues makes economic sense for the producer. But that also opens the flood-gates for this trend. The film and cultural community in West Bengal has protested against this. If using their mighty economic muscle, Bollywood producers can brow-beat distribution networks and cinema halls into showing such dubbed material, this will be an economic bonanza for Bollywood. Much black money will find greater returns but fledling non-Hindi film industries will fail ruin as they cannot outcompete Bollywood in black money, film volume and the cinema-hall blackmailing strength that comes with it. This desperate aggression was in full display in Assam where Rajni Basumatary’s Assamese film ‘Raag’ which was running quite well was removed by economic goondaism to make way for Gunday. Not too many films are produced in Assamese and when a good one is made with help from the Assam Film Development Corporation, this is the fate. Cultural diversity, even cultural competition, can only flourish in a level economic playing field. No amount of bleating about ‘unity in diversity’ changes that basic fact.

Let me describe a scenario. Dubbing my story and then forcing it down your throat using my economic muscle will slowly silence you. You wont be able to tell your own stories. You will have to adapt my stories. It does not matter if you have a long tradition of telling stories. Soon you may even develop an aesthetic sense for my stories, get alienated from your stories, from your people, look at them with curious eyes of an outsider. In short, I will destroy you cultural roots, replace them with mine and you will finally clap along the way. If that does not make me a Goonda, I don’t know what does.

The acts of some gansters have international manifestations. Gunday has chosen to parrot the official Delhi fiction of Bangladesh being a product of a brief Indo-Pak war. The people of that independent nation did not take that lying down. The producers have apologized. The Assamese can dream on. Pakistan has sought to protect its film industry by trying to restrict ‘Indian’ (read Bollywood) films. The states of the Indian Union have no such power, just like they do not have the power to protest the huge subsidy and preference given to one desi language. Apparently, this language ‘unites’. We know how this unidirectional unity works. No Assamese film will be dubbed in Hindi and released to multiplex audiences in Delhi and Mumbai. Not in this nation state. If slow but sure annihilation of certain cultures is a pre-condition to some kind of a ‘national integration’ project, then that nation is an enemy of those cultures. It is up to the Indian Union to decide what integration project it wants to promote – a predatory one or a harmonious one. It is up to you, the viewer, to ask whether your film ticket is filling a goonda’s pocket.

 

 

1 Comment

Filed under Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Hindustan, Kolkata, Language, Nation, Pakistan

Floating in the Durbar / Floats in the Delhi Durbar

[ The Friday Times , February 22-28, 2013 – Vol. XXV, No. 02 ]

Sometime last month, it was the 26th of January in the Indian Union. It was January 26th at many other places but the date has a special significance for the Union of India nation-state. And Delhi has a special significance for the Union of India. I was, in fact, in Delhi that day. Not in that ‘New’ Delhi – built on the land ‘cleared’ by displacing numerous villages, villages that had been there for centuries. Some descendants are still fighting for compensation for the land where present day Lutyens and Baker designed palaces stand. I am told that in some of these palaces, there are crisp-khadi-wearing sages who are busy determining compensation amounts for village-destructions and community-annihilations that are being planned right now. Some say, in the subcontinent, the notion of time is not linear but cyclical. I have an odd feeling that it is more like a downward spiral. By mistake, one may think it is an upward spiral, especially if one just sees a snapshot without a past. For every displaced village there is a trendy and hip urban ‘village’ in Delhi. For the hip, it is a world ‘pregnant’ with opportunities – some bellies need to be torn apart in the process, that’s all.

Since the day is a state holiday in the territory of the Indian Union, I will write and ramble. It’s a chhutti after all. So, I was in Delhi on the 26th. There is this splendid kababi on the road through the Delhi gate of Shahjahanabad. They call themselves Captain’s Kabab and claim to be more than a century old. They earlier had a signboard called Tundey Kabab. That had a different establishment date – again more than a century old. The signboards are very new. They haven’t even thrown away the Tunday Kabab signboard – the date discord is for all to see. But more importantly, the Kabab is there for all to taste. And it is sterling. The powers to be had fenced off the whole stretch of this road till the Red Fort and beyond. This made things hard for me as I had to walk quite a bit to simply reach the opposite side of the street where the Kabab shop is. This went on for a few days to the run up to the 26th. I had been in the same area, in a similar fix around August, the 15th. But then that occasion had brought cheer to my life. Ostensibly to portray that the Union’s diversity goes beyond humans, different kinds of animals are brought to parade on this day, on top of which men sit wearing gaudy military uniforms, ready to defend me. Some of these four-legged beasts used to rest in front of my hotel, taking a break from their patriotic duty. I had seen the mouth of a camel up close and had marveled at the size of its teeth.

For some reason, the morning sun of the 26th of January in Shahjahanabad reminded me of an anecdote that a gender studies scholar had once related to me. She grew up in Allahabad, no less – the city that housed the Nehrus’ and the city which saw its first motor car quite early – also of the Nehrus’. So there was this custom of standing up, with a spine as much erect as one can, when the Indian Union’s ‘national anthem’ is played. This ranked high among the set of ‘values’ to be inculcated in the young and the impressionable. So one day, when she and her sister was near about their father and his friend at a local tea shop, they all heard the ‘national anthem’ – Rabindranath’s words overworked to death for reasons of state. The father and his friend kept on drinking their tea, seated as before. Fresh with patriotic righteousness in such matters, the sisters castigated the elders, making them somewhat squeamish. After high school, she went to university and there she was starting to learn that there are many other in the world beyond the tricolour. But certain old habits die-hard. One day as she lay supine in her hostel bed, the radio decided to dish out Rabindranath’s co-opted verses. Her former tricolour self and her present multi-coloured self reflexively reached an instantaneous compromise – she continued laying on her back but stiffened her spine, stretched the fingers of her feet as much as she could. She lay ‘in attention’. Strange are the ways in which the tricolour evokes an erection. But I digress.

Whether I understood Gandhi wrong or the state read him wrong is an open question but a big attraction of the 26th in this Republic of self-proclaimed non-violence is the parading of its latest guns, tanks and missiles with concomitant cheering by its naturally, culturally, historically and physiologically non-violent Delhi citizenry. After the display of arms and ammunitions have soothed the anxious hearts of the non-violent people, gaudy floats or tableaux from various provinces and some central government agencies capture the road in front of the Red Fort. Lest someone may think that this kind of ‘diversity on display’ is inspired by the similarly annual spectacles organized by Stalin in Red Square (Square, Fort – what does it matter?), one simply has to look into the past of the eternal Republic. Not ‘Vedic  past’ but ‘Durbar past’. During the British rule over the subcontinent, Delhi was, for a few occasions, the venue of a spectacular and costly farce called the Durbar – a symbolic act of collective obeisance to the janaganabhagyavidhata of the time. The armies of the British crown (which continued uninterrupted under the Congressite crown) and the diversity of the spine-less native princes’ procession in front of the King-Emperor or his Viceroy for long provided the template from which today’s spectacle grew. The continuity is telling in more ways than one. A major project of post-partition history and civics in the Indian Union has been to manufacture a discontinuity. It is increasingly successful. Eternal republics have endless resources for such projects.

I was woken up early by the processions and I joined others to watch the annual Republican ritual. My peculiar location helped me get the view for the show that was otherwise ticketed. Lack of sleep does not suit me well. Last night’s food was making its presence felt. Standing by the march-past, I farted. Thankfully, there were lots of patriotic noises to drown me. I made a mental note to myself – radish, cabbage and Bengal grams, within 12 hours of consumption, are incompatible with patriotism. A man learns something every day.

I stood on the street-side as the floats passed one by one. Given my dirty mind, I could not help notice a little piece of ‘heaven’ floating as a float on this earth, right here in Delhi. Oh, the joy! On that float, there were people looking happy. They were looking happy continuously, a rare feat for even the happiest on this earth. They were happy up until the float finished its course. I do not know whether they continued to be happy ever after – those characters on the float. Some party-pooping voice in my head whispered that on this day, there were more people on this float in Delhi than there was on the streets of the capital of the province that this float is supposed to represent. The eternal Republic did not deny the whisper, its ‘independent’ media did not confirm it either. Cutting through the fog of unconfirmed discomforts, a little piece of heaven floated alongside the Red Fort. The atmosphere was gay and many a brown cheeks wore tricolour paint. Such was the glory of that splendid January morning.

One by one came floats from many areas – the affected mirth of one trying to vanquish the affected mirth of the one in front of it. This reminded me of Soviet show-farms but only better. They only managed affected mirth. The republic has managed to introduce the unique spectacle of competitive affected mirth. No kidding.

Then came the tableau of ‘Paschim Bangaal’, written in Devanagari, no less. Thankfully, this one did not have any affected mirth as it was decorated with statues of confirmed dead but famous people and one Subhash Chandra Bose. But that’s not the point. What is this ‘Paschim Bangaal’? Ostensibly, it has something to do with the western half of Bengal after its second partition in 1947. ‘Paschim Bangaal’ is not what a stupendous majority of the people living in that land calls it. The script in which that was written is understood by very few in that land. But to be ‘represented’ and made intelligible (to whom?), Delhi seems to have specific ways to caricature our names, a process to which we have to necessarily submit. The Hindi-Hindu republic is free to call anyone in whatever way it deems fit, and by dint of an ideological veneer lubricated with cold cash, this ‘way’ has now been normalized in the minds of many. Such is the insidious nature of a centralizing uni-lingual nation-state. When Bengalis pronounce other people’s names in their way, it is termed ignorance. When they stick to pronouncing names in their own ways, after being reminded of the correct way, it is termed obstinacy and parochialism. When the Hindi-Hindu mandarins do the same, it becomes a standard, a benchmark – to be emulated and propagated. All peoples have their own ways of making sense of others, except the hegemon who has a unilateral right to not only caricature others but also make sure that such caricatures enjoy the status of ‘official’ and ‘approved’ portrayals. The ideology runs deep. The Tamils or the Bengalees can be caricatured for their dress and pronunciation, but there is no fiddling with the Hindu-Hindi. The core is never caricatured. Or rather, what is not caricatured is a hint to what is the core. It is the sovereign and as Miss Roy points out, sovereign is the one that alone can decide on exceptions. It sits in the Red Fort, it sits in our school syllabi, it sits inside the heads of the subject peoples. To make a core-periphery distinction is unpalatable to some. Some from the periphery are complicit in this show – following to the minutest detail the correct and ‘standard’ way to bend over backwards, how to prostrate at the right moments, so as to have the privilege to strut in front of power.

The core is most comfortable, no doubt, in Delhi, where it all began. After all, what better place to institutionalize inequity and marginalization of ‘misfits’ than a new ‘city’ whose founding is based on the total uprooting of whole rooted communities. Rootedness is something it hates like a plague. This is a mecca of the rootless but even here, true success is only for those who are ready to reach for the stars on the shoulder of others. The state signals its favour for this ilk in no uncertain terms when it awards its badges of honour. The ‘Padma Shri’ for ‘distinguished service in any field’ is the award that is most commonly given away and is typically announced just before the 26th of January every year. Delhi accounts for less than 2 per cent of the population living in the territory of the Indian Union. This year, nearly 20 per cent of the winners of Padma Shri were from Delhi. There is something about Delhi, some believe – as the thick and rich cream generated by distributive injustice is made invisible as such, and transformed into the ‘spirit of Delhi’ and other such curious concepts.

From Delhi’s own float, a rock-star looking character sang –

‘Dilli khushion ka angan

Dilli sadio se raoshan

Dilli kala ka sagar…

Dilli sab ka dil hai yaaro,

Desh ki dharkan Dilli’

So, if you want to be counted, you know what tongue to speak and where to stay. For the rooted, the obstinate and the rest, there is ‘the idea of India’ to suck on.

Leave a comment

Filed under Army / police, Bengal, Delhi Durbar, Democracy, Foundational myths, Hindustan, Identity, Language, Nation, Power

The Chautala that lives in me / Meanwhile across the border / Newer headlines, newer issues

[ Kashmir Times, Nov 2012 ; Millenium Post, 21 Nov 2012 ; Echo of India, 27 Nov 2012 ; Frontier (web), 21 Dec 2012 ; INSAF Bulletin 163, August 2013  ]

If you thought that ‘ghairat’ and ‘karo-kari’ are linked together only in Pakistan, you are mistaken. The zone of ‘shame’ stretches far into the other side of the border. It has been more than a month since the serial rapes in the Indian state of Haryana shot to the headlines. Now that our eyeballs have moved to newer headlines of the year in this holy land, and the urban liberal condemnation brigade has moved on to newer issues, let me spoil the momentum and bring back the issue. Is it surprising that Haryana, the state that has a sex ratio of 877 (females per 1000 men in population) is also the place where the most elaborate public charade of protecting the honour of women takes place? Is it surprising that the same state also has had more than 20 reported rapes in the last couple of months? What does one expect the administration to do when this happens? Apprehend the perpetrators? What can the ‘hapless’ policemen do when the alleged men are  ‘absconding’? It is in this backdrop that Haryana’s principal opposition leader, junior ‘Tau’ Om Prakash Chautala’s recent prescription of rape prevention, of marrying off girls early, has to be read. That prescription has twin benefits – sexual needs of men will be satisfied within the approved confines of the family and the women will also benefit from an early protective (and sexual) cover so that they do not turn errant due to ‘modern’ influences.

The ‘boys will be boys’ idea is not new. Burgeoned by ideas of  ‘manliness’ other such self-serving hocus-pocus that clouds the very real human tragedy in Haryana. The complementary idea of ‘boys will be boys’ is of the woman as a receptacle of male needs, which otherwise can go unbridled and result in rapes. In these times, ‘science’ has come to the rescue. Khap panchayats are unelected councils of village eminents, predominantly from the landed-class and almost always male. Haryanad and western UP are where Khaps continue to be relevant in the daily lives of many people. A soul-less set of male elders of a certain Khap has stated that nowadays women menstruate earlier, hinting that they are ‘ready’ earlier. Information that is soul-less and tradition couched in self-interest can become very easy bedfellows.  Indeed they are ‘ready’; ever ready really, in a judicial framework that does not recognize marital rape. The idea of special ‘vitality’ of men has a long past and extensive currency. After Anton Van Leeuwenhoek discovered the spermatozoon, it was widely thought that a fully formed little ‘man’ (a homunculus) is present inside each sperm cell. In short, the man produces the ‘human’ using the woman as a receptacle. This was called the ‘homunculus’ theory of preformation. This idea is not explicitly taught any longer – something we call ‘scientific progress’.

As I sat thinking about Om Prakash Chautala’s formula for achieving the twin objectives of reining in passions and keeping women safe, I did feel that I was more sensitive, if not superior, than him. A woman friend of mine was with me. Later I showed her what I thought was a funny image on Facebook. It was titled “ The earliest known picture of Michael Phelps”. Michael Phelps is a multi-world-record holding swimmer. The picture showed nine sperms – one of them much ahead of the other eight. The suggestion was that the sperm that was swimming much faster, far ahead of other sperms, just like Michael Phelps went on to fuse with the ovum, thus producing Michael Phelps. I thought that was pretty funny. My friend did not seem amused. She asked ‘Does it occur to you that this picture actually says that Michael Phelp’s speed, his speed in swimming, his vitality – all comes from his father?’ I realized that while I cognitively knew that the homunculus theory was bogus, the assumptions implicit in my ideology of the world had the theory written all over it. While I could posture publicly as much as I could, it is this deep ideology that matters.

Calling a whole people ‘backward’, ‘feudal’, ‘medieval’ – condemnations such as those have a certain currency in the cities. Such righteous posturing can co-exist seamlessly with living in apartments built by women labourers to whom minimum wage was not paid. Talk is cheap. The harder task of engaging with grass-roots forces that live socially embedded in the community requires a kind of political organizing that has long become passé. This is because bottom-up politics itself is in a state of crisis. Those who are engaged in struggles against patriarchy but are socially embedded and hence live with the consequences of their resistances often have opinions and solutions that are quite different from those which are bandied about liberally from ‘liberal’ bastions. Patriarchy is a grassroots force. The struggle against it cannot afford to be anything else. Patriarchy is also in my home, in my head. The struggle against it cannot solely by lodged incessantly against ‘other’ people.

Leave a comment

Filed under Gender, Hindustan, Scars, Under the skin, Urbanity