Tag Archives: Language

ভারতের নতুন টাকার নোট ও হিন্দী-দিল্লী আধিপত্যবাদ

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক নতুন ৫০০ ও ২০০০ টাকার নোট চালু পরপরেই এই নতুন নোটের নানা বৈশিষ্টকে বেআইনি বলে অভিযোগ করে জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়েছে মাদ্রাজ হাইকোর্টে। বিচারপতি সে মামলা গ্রহণ করেছেন এবং প্রাথমিক শুনানিতে সরকারপক্ষের এই বক্তব্য যে দেবনাগরীতে সংখ্যা আসলে সংখ্যা নয়, নকশা মাত্র, এ হেন সাফাইতে  সন্তুষ্ট হননি। সরকারপক্ষ আরো সময় চেয়েছে। আগের ৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ফলে যে রাষ্ট্রব্যাপী ব্যাপক আর্থিক অস্থিতি তৈরী হয়েছে, এই নতুন নোট আস্তে আস্তে তা সামলাবে। অথচ এই নতুন নোটের ডিজাইনের মধ্যে নিহিত রয়েছে এমন কয়েকটি জিনিস, তা এই ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক  জাতিসমূহের মধ্যে যে মৌলিক বোঝাপড়া, তাকে পদদলিত করে। এই নতুন নোটে অগ্রাধিকার পেয়েছে ৩টি জিনিস – হিন্দি, দিল্লি ও মোদী।

নতুন নোটগুলিতে সংখ্যা বড় করে ছাপা হয়েছে হিন্দির সর্বাধিক প্রচলিত ও প্রচারিত লিপি দেবনাগরিতে। আগের নোট সংখ্যা দেবনাগরীতে ছিল না। নতুন দিল্লীর কেন্দ্রীয় সরকার কি মনে করে যে হিন্দিভাষীরই একমাত্র মাতৃভাষায় নোটের সংখ্যা পড়ার অধিকার আছে, আর অহিন্দীভাষীদের নেই? টাকার নোটে কোন লিপিতে সংখ্যা থাকবে, তা নির্ধারণ করে সংবিধান ও রাষ্ট্রপতির নির্দেশাবলী। সংবিধানের ৩৪৩ নং ধারায় পরিষ্কার ভাবে বলা আছে যে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের যে কোন সরকারী (অফিসিয়াল ) কাজে ব্যবহার করতে হবে আন্তর্জাতিক সংখ্যালিপি। যার মানে হলো “ইংরেজি”তে আরবি-হিন্দু সংখ্যা। অর্থাৎ 1,2,3 ইত্যাদি। এতদিন তাই  হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক লিপি ছাড়াও নোটের ব্যাপারে দেবনাগরী লিপিতে সংখ্যা ছাপা যাবে, এই মর্মে কোন রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকা বা সাংবিধানিক বিধান নেই। ১৯৬০-এর রাষ্ট্রপতির নির্দেশিকায় বলা আছে যে দেবনাগরী লিপির সংখ্যা শুধু সেই কেন্দ্রীয় সরকারী প্রকাশনার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে, যে ক্ষেত্রে জনতার যে অংশের জন্য এই প্রকাশনা, তার জন্য এটি জরুরি। প্রথমতঃ, টাকার নোট কোন কেন্দ্রীয় সরকারী “প্রকাশনা” নয়। ফলে এই নির্দেশিকা এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আর দ্বিতীয়তঃ, টাকার নোটে ছাপা তথ্য কি শুধু হিন্দিভাষীদের জন্য? বাকিরা কি বানের জলে ভেসে এসছে? এই সকল ধারণার একটা মিথ্যা উত্তর মজুত থাকে।  সেটা হলো হিন্দী হলো ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের রাষ্ট্রভাষা। এই দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা হওয়া সত্ত্বেও সরকারি ও বেসরকারি কায়েমী স্বার্থান্বেষী চক্র গত ৭০ বছর ধরে এই মিথ্যা প্রচার করে চলেছেন।  ভারতের সংবিধানে রাষ্ট্রভাষা ধারণাটিরই কোন স্থান নেই। ভারতের কোন রাষ্ট্রভাষা নেই। গুজরাট হাইকোর্ট তার বিখ্যাত রায়তে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে অহিন্দী রাজ্যে, হিন্দী বিদেশী ভাষার সমতুল্য।

ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন নামক সংঘরাষ্ট্রে অহিন্দীভাষী জাতিসমূহ যে চুক্তির দ্বারা হিন্দীভাষী জাতির সাথে আবদ্ধ, তার নাম দিল্লীতে ক্ষমতাধারী পার্টির হিন্দীকরণের ম্যানিফেস্টো নয়। তার নাম সংবিধান। টাকার নোটে এই সংবিধানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখানো প্রকারান্তরে ইন্ডিয়ান উনিয়নের ঐক্যের উপর আঘাত হানা। রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে যে রাজনৈতিক আদর্শ মানুষে মানুষে ভাষার প্রশ্নে বৈষম্য ঘটায় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ নাগরিককে ভাষার প্রশ্নে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করে, তা কোন বহুভাষী রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণময় নয়। এ ব্যাপারে হাতের কাছে ১৯৭১-পূর্ব্ববর্তী পাকিস্তান এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

যদি শাসকেরা চাইতেন যে ইংরেজি ছাড়াও মানুষের অন্যান্য ভাষায় সংখ্যাগুলি পঠিত হওয়া জরুরি, তার দুটি সহজ উপায় ছিল। এক, টাকার নোট যেহেতু প্রচার বা স্তুতির স্থান নয়, বরং একটি নিত্য ব্যবহারিক বস্তু, তাই টাকার বিনিময় কার্য্যের সাথে অপ্রাসঙ্গিক অন্যান্য ছবি ও নকশা তুলে নিয়ে অনেকগুলি ভাষার লিপিতে একই সাইজে সংখ্যা দেওয়া যেতো। দুই, ইউরো মডেল নেওয়া যেতো।  সে ক্ষেত্রে, ভাষিক জনগোষ্ঠীর ব্যবহৃত নগদের সমানুপাতিক হারে নানা সিরিজের নোট ছাপা যায়, যেখানে ইংরেজি সংখ্যার সাথে কিছু শতাংশ নোটে সংখ্যা থাকবে বাংলায়, কিছু শতাংশে দেবনাগরীতে, কিছু শতাংশ তামিলে, ইত্যাদি। দুর্ভাগ্যের কথা এই যে যখন এই উপমহাদেশ ফিরিঙ্গী শাসনাধীন ছিল, তখন কিন্তু এই এলাকায় চালু টাকার নোটে ৯টি লিপিতে সংখ্যা (ইংরেজি সমেত) একই সাইজে দেওয়া থাকতো। ১৯১০ খ্রীষ্টাব্দের ১০ টাকার নোট দ্রষ্টব্য। একই সাথে একই সাইজে থাকতো নানা ভাষায় টাকার অঙ্কটি অক্ষরে লেখা – যথা বাংলায় দশ টাকা। বহু ভাষাকে সমমর্যাদা দেবার ব্যাপারটির ইতি ঘটে ১৯৪৭-এ ইন্ডিয়া রাষ্ট্র গঠিত হবার সাথে।  তবে থেকে হিন্দি তথা দেবনাগরী পরিণত হয় তথ্য দেবার জন্য বড় আকারে। অন্যান্য ভাষা পর্যবসিত হয় পিছনদিকের এক ছোট প্যানেলে গাদাগাদি করে ক্ষুদ্র আকারে, বৈচিত্রের পরাকাষ্ঠা হিসেবে। ১৯৪৭এর পর থেকেই ক্রমাগত টাকার নোটে হিন্দীর মোট এলাকার তুলনায় ইংরেজি ব্যতীত অহিন্দী ভাষাসমূহের মোট ছাপা এলাকা কমেছে বিরাটভাবে। ঔপনিবেশিক শাসনের তুলনায় টাকার নোটের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষিক জাতীয়তাগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য যে ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর পরবর্তী ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন রাষ্ট্রে লঙ্ঘিত হয়েছে, তা শুধু লজ্জার বিষয় নয়, চিন্তারও বিষয়। অহিন্দী ভাষাগুলির এই প্রান্তিকায়ন আকস্মিক নয়, প্রকট ভাবে পরিকল্পিত কেন্দ্রীকরণ-মূলক রাষ্ট্রনীতিরই অঙ্গ। ১০% তামিল আর ৭৫% চৈনিক জনগোষ্ঠীর সিঙ্গাপুর তাদের টাকার নোট তামিল, চীনা ও ইংরেজিতে একই সাইজের অক্ষরে নোটের অঙ্ক ছাপে। আসলে সমতা হোক বা বৈষম্য, ইচ্ছা ও নীতিটা আসল। নোট তারই বহিঃপ্রকাশ।

নতুন নোটে রয়েছে দেবনাগরী “র” অক্ষর সম্বলিত নতুন টাকার আইকন। এই আইকন বাছাইকালে কোন জনমত যাচাই হয়নি। আমার ভাষা বাংলা তথা অসমীয়াতে টাকা শব্দ যে অক্ষর দিয়ে শুরু, তা হলো “ট”, হিন্দীর রুপিয়ার “র” নয় । যদি আজ “র” এর জায়গায় সকল নোটে “ট” সম্বলিত আইকন ব্যবহার হতো, তাহলে হিন্দিভাষীরা কি মনে করতেন? তারা ছেড়ে দিতেন? আসলে হিন্দী আধিপত্যবাদের এই রাষ্ট্রে এই “ট” আইকন কল্পনা করাও শক্ত। পরিকল্পিত ভাবে অহিন্দীদেড় প্রান্তিক করে দেবার যে নানা প্রকল্প চালু হয়েছে, তা এখন টাকার নোটেও ঢুকে গেলো আরো জোরালো ভাবে।

কেউ বলতে পারেন, তাহলে ইংরেজিই বা এতো পবিত্র কেন? হিন্দী হলেই যত অসুবিধে? হিন্দী তো অন্ততঃ বিদেশী নয়। এ প্রসঙ্গে ফের মনে করাতে চাই, যে হ্যাঁ ইংরেজি বিদেশী ভাষা, এবং অহিন্দী মানুষের কাছে হিন্দীও বিদেশী ভাষাই। পূর্বোল্লোখিত গুজরাট হাই কোর্টের রায় সেটা পরিষ্কার করে দেয়। আমরা যেন দেশ ও রাষ্ট্র, এই ভিন্ন দুটি ধারণাকে এক না করে ফেলি। অবশ্যই, সকল ভাষার সমান অধিকারই আদর্শ উপায়।  তার ব্যতিরেকে কেন ইংরেজি, সে নিয়ে প্রবাদপ্রতিম গণনেতা তামিল নাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী আন্নাদুরাই-এর মন্তব্য স্মর্তব্য। তিনি বলেছিলেন, ইন্ডিয়ান উনিয়নের মতো একটি বহুভাষিক সংঘরাষ্ট্রে প্রতিটি ভাষিক জাতীয়তাকে সুবিধা ও অসুবিধা সমান ভাবে ভাগ করে নিতে হবে। তবেই ঐক্য সাধিত হবে। ইংরেজি হলো এই ভাষিক জাতীয়তাগুলি থেকে সমদূরত্বে। এটাই ইংরেজির সুবিধে।  আরেকটি সত্য হলো যে ভারত নামক রাষ্ট্র কল্পিত হয়েছিল ইংরেজিতে – নানা জায়গার উচ্চবর্গের মানুষের মূলতঃ ইংরেজিতে ভাব বিনিময়ের মাধ্যমে। আজও তা সত্য। এটা অবশ্যই ভারত কল্পনায় উচ্চবর্গের বিশেষ স্বার্থ ও প্রাধান্যকেই চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়, কিন্তু তা আজকেও সত্য এবং বাস্তব।  ইংরেজি না থাকলে নানা ভাষী শাসক গোষ্ঠীর কোন মেলবন্ধন নেই।

এই নোটে রয়েছে আরো নানা সমস্যা। সংবিধানের অষ্টম তফসিলে গত কয়েক বছরে অন্তর্ভুক্ত বেশ কিছু ভাষা, যেগুলির নিজস্ব লিপি আছে, যেমন মনিপুরের মেইটেইলোন, সাঁওতালি (অলচিকি যার লিপি), সেগুলি নোটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ২০ হাজারেরও কম মানুষের ভাষা সংস্কৃত রয়েছে নোটে কিন্তু ৭০ লক্ষাধিক মানুষের মাতৃভাষা সাঁওতালি নেই, এ কেমন পরিহাস?

অথচ নতুন করে যখন নোট ছাপা হলো, সেই সুযোগ তো ছিল। ফের, প্রশ্নটা সদিচ্ছার ও সমতার, যে সমতার আদর্শকে গলা টিপে মারে ক্ষমতা। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের ভাষিক বৈচিত্রকে নতুন দিল্লী একটি নিরাপত্তা ও ঐক্যের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে। এই ভাষ্যে, হিন্দি ছাড়া সবকিছুই গোলমালের, অনৈক্যের প্রতীক, আর হিন্দী হলো ঐক্যের প্রতীক। এই প্রায় সাম্রাজ্যবাদী ও আধিপত্যকামী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বোঝা যায় যখন সরকারি ভাষার প্রচার ও প্রসার তথা অন্যান্য ভাষার স্বীকৃতি দেবার বিষয়টি দেখাশুনো করে কেন্দ্রীয় গৃহমন্ত্রকের অধীন একটি দপ্তর। নতুন দিল্লি নতুন নিয়ম চালু করেছে যে নিজস্ব লিপিহীন নতুন ভাষাগুলিকে সরকারি পঞ্জীকরণ ও স্বীকৃতি প্রাপ্তির জন্য সেই ভাষা লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরী লিপি আবশ্যিক ভাবে মেনে নিতে হবে।  এখানে সেই ভাষার মানুষ তথা বিদ্দ্বদজনদেড় মতামত গুরুত্বহীন। এই ব্যবস্থার এক বলি হলো বোড়ো ভাষা, যেটির আবাদভূমি কোন হিন্দিভাষী এলাকার সংলগ্ন নয়। বোড়ো  লেখার ক্ষেত্রে দেবনাগরী বাধ্যতামূলক করা হয়েছে নতুন দিল্লীর আদেশে।  এর আগে মোহনদাস গান্ধীর ছবি দিয়ে টাকার নোটের সার্বিক গ্রহণযোগ্যতার রাজনীতিকরণ করা শুরু হয়েছিল। টাকায় এইবার বিজেপি সরকারের “স্বচ্ছ ভারত” প্রকল্পের বিজ্ঞাপন হিন্দিতে ছেপে টাকার নোটকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে অন্য স্তরে নিয়ে গেলো। এর ফলে এবার থেকে টাকার নোট হয়ে উঠবে নিজ প্রবর্তিত সরকারি প্রকল্প বিজ্ঞাপনের এক নতুন ক্যানভাস। একটু একটু করে গণতন্ত্রের মৌলিক নিরপেক্ষতার কাঠামোটি ধ্বংস প্রাপ্ত হচ্ছে।

পুরানো নোটগুলিতে স্থান-ভিত্তিক রাজনৈতিক সিম্বল জায়গা পায়নি ৫০ টাকার নোট সংসদ ভবন ছাড়া। এই সংসদ ভবন সকল নাগরিকের প্রতীক।  অথচ আমরা দেখছি যে নতুন নকশার ৫০০ টাকার নোটে বিরাজ করছে লাল কেল্লার ছবি। এই লাল কেল্লার স্মৃতি ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্রের সকল জাতির কাছে সুখকর নয়। লাল কেল্লা ছিল দিল্লী-কেন্দ্রিক মোঘল সাম্রাজ্যের সদর দফতর। ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন সংঘরাষ্ট্র মোঘল সাম্রাজ্যের উত্তরাধীকারী কোন রাষ্ট্র নয়।  এটি ১৯৪৭-এ সৃষ্ট। দিল্লী-কেন্দ্রিক যে সাম্রাজ্য বাঙালি, অহমিয়া, ওড়িয়া ইত্যাদি নানা স্বাধীন এলাকা দখল করেছিল, লাল কেল্লা সেই স্বাধীনতা হরণের প্রতীক। মূলতঃ হিন্দী-উর্দু ভাষী লোক-লস্কর এই দখলকৃত এলাকায় বসিয়ে তারা এই দেশগুলিকে শাসন করতো। সেই কাটা ঘায়ে লাল কেল্লার নুনের ছিটে দিয়ে আজকের নতুন দিল্লীর সরকার কি প্রমাণ করতে চায়?

৫০০-১০০০ টাকার নোট বাতিলের ঘোষণাটি যখন নরেন্দ্র মোদী দিলেন হিন্দি ও ইংরেজি, ইংরেজির সময়ে পর্দায় ফুটে উঠলো হিন্দি অনুবাদ। কলকাতা দূরদর্শন কেন্দ্রকে বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয়নি, চেন্নাইকে দেওয়া হয়নি তামিল। তাই বাকি অর্থাৎ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাগ্যে বরাদ্দ হয়েছে অন্যের থেকে শোনা কথা, গুজব ও বেসরকারি সংবাদ মাধ্যম। রাষ্ট্র সবার। এবং সবাইকে তাদের ভাষায় জানানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এই মৌলিক নীতির লঙ্ঘন জলভাতে পরিণত হয়েছে। এদিকে অহিন্দিভাষী অঞ্চলে ভোট চাইতে যাবার সময়ে কিন্তু বিজেপি সেই ভাষাতে পোস্টার-ফ্লেক্স দিতে ভোলে না। ক্ষমতার যত কেন্দ্রীকরণ হবে, ততো বেশি বেশি করে আরো বেশি মানুষ প্রান্তিক হবেন।নাগরিকের দায়িত্ব নয় নিজেকে বদলে রাষ্ট্রের উপযোগী হয়ে ওঠা।  কল্যাণকামী রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার পরিষেবার ক্ষেত্রে ও অন্য সকল ক্ষেত্রে নাগরিকসমূহের ভিন্নতার বাস্তবতা মাথায় রেখে সেই ভিন্নতাকে ধারণ করার উপযোগী হয়ে ওঠা।  যেন এরই রূপক হিসেবে দেখা গেল যে নতুন নোট চলতি এটিএম মেশিনগুলিকে না আঁটার ঘটনা। হাজারে হাজারে এটিএম মেশিন নতুন নোট অনুযায়ী বদলাতে হলো। বদলে চলতি এটিএম মেশিন অনুযায়ী নতুন নোট বানালে হতো না?

Advertisements

4 Comments

Filed under বাংলা, Colony, Federalism, Hindustan, Identity, India, Language, Nation, Uncategorized

ভাষা অধিকার নিয়ে চেন্নাই ঘোষণা

ভারত সরকারের  হিন্দি আধিপত্যবাদের বিরুধ্যে সকল ভাষার সম অধিকারের দাবিতে নানা ভাষার প্রতিনিধি মিলিত হয়েছিলেন তামিল নাডুর চেন্নাইতে। সেখানে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে তৈরী হয় ভাষা অধিকার নিয়ে চেন্নাই ঘোষণা। ভাষা অধিকার নিয়ে চেন্নাই ঘোষণার বাংলা তর্জমা করেছেন আমাদের Promote Linguistic Equality – West Bengal গোষ্ঠীর সদস্য রৌনক। সাথীদের অনুরোধ করব, চেন্নাই ঘোষণাটিকে  দিকে দিকে ছড়িয়ে দিন।  এটিকে পড়ুন, এটিকে কেন্দ্র করে আলোচনা-সমালোচনা চলুক।

**************************

ভাষার অধিকার বিষয়ে চেন্নাই ঘোষণা

ভাষার অধিকার বিষয়ক অধিবেশন

১৯-২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ (১-২য় ভাদ্র, ১৪২২)

চেন্নাই

২০-ই সেপ্টেম্বার, ২০১৫, চেন্নাই-এ সমবেত হয়ে, যে-যে সংগঠন ও যে-যে ব্যক্তি-জন বর্তমান ‘ভাষার অধিকার বিষয়ে চেন্নাই ঘোষণা’ বা চেন্নাই ঘোষণার সাক্ষরকারী,

৯-ই জুন, ১৯৯৬, স্পেন-এর বার্সেলোনা থেকে প্রকাশিত ‘ভাষার অধিকার বিষয়ে সর্বজনীন অধিকারের ঘোষণা’-কে বিবেচনা করে, যেটা ছিল নানাবিধ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ঘোষণা, আইন-সমূহ, অঙ্গীকারপত্র এবং অধিবেশনের পরিণতি, যার মধ্যে পড়ে ১৯৪৮-এর ‘মানবাধিকার বিষয়ে সর্বজনীন ঘোষণা’, ১৯৬৬-এর ‘নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারপত্র’, ১৯৯২-এর ইউনাইটেড নেশান্স অর্গানাইজ়েশান এর সাধারণ সম্মেলন-এর ৪৭/১৩৫ প্রতিজ্ঞাপত্র, ১৯৮৯-এর ইন্টার্ন্যাশানাল লেবার অর্গানাইজ়েশান-এর বৈঠক এবং অন্যান্য, কোনো বিশেষ ভাষার বিকাশ-কে রুদ্ধ করা বা জোর করে আরোপ করা বা অন্যান্য ভাষার তুলনায় এক বিশেষ ভাষা-কে প্রচার করা এবং ভাষার অধিকার নিয়ে ভারত গণরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত একাধিক ভাষা-গোষ্ঠীর সংকল্প এবং দাবী-সমূহ বিবেচনা করে, ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বর্তমান ভাষা-ভিত্তিক নীতি-গুলো মাথায় রেখে যা ভারত গণরাজ্যের বিবিধ সম্প্রদায়ের মুখের-ভাষার বিকাশ এবং কখনও-কখনও অস্তিত্ব-রক্ষার পরিপন্থী, ভারতের সংবিধান দ্বারা প্রদত্ত বর্তমানে প্রচলিত নির্দেশিকা-সমূহ কে বিবেচনা করে, যেখান থেকে উৎপত্তি ঘটেছে ভারত গণরাজ্যের মধ্যে ব্যবহৃত সমস্ত ভাষার সঙ্গে সম্পর্ক-যুক্ত সব আইন, নিয়ম-কানুন ও মূলনীতি, যা মোটেও ভাষাগত সমতা এবং অধিকারের ওপর নির্ভরশীল নয়, যা মোটেও বিভিন্ন ভাষাগত সম্প্রদায়ের দাবী-কে মর্যাদা দেয় না, ভারত গণরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারের হিন্দী চাপিয়ে দেওয়ার কৌশল কে বিবেচনা করে, যা সর্ব-ভারতীয় স্তরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সংগঠন ছাড়াও বৃহৎ বাণিজ্যিক গণমাধ্যম ও রাজ্য সরকার-দের দ্বারা সমর্থিত ও প্রচারিত, এবং সর্বোপরি সময়ে-সময়ে নানাবিধ ভাষাগত সম্প্রদায়ের এই বাধ্যতামূলক আরোপ-এর বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ গণ-অসন্তোষ ও গণবিক্ষোভ কে মনে রেখে, উন্নয়নের তকমা দিয়ে ইংরাজী-কে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার অভ্যাস এবং জনজীবন ও ব্যক্তিগত যাপন থেকে ভারত গণরাজ্যের মধ্যে প্রচলিত সমস্ত ভাষা-কে ছেঁটে ফেলে প্রাত্যহিক জীবনে ইংরাজীর সর্বগ্রাসী দাপট যে আমাদের ভাষাগত-সংস্কৃতিগত-অর্থোপার্জন এর সম্ভাবনার পরিসর-কে সংকীর্ণ করে – এই ব্যাপার-টা বিবেচনা করে,

এই নিম্নোল্লিখিত তিন-টে দাবী মনে রেখেঃ

১। ভারতের সংবিধান এর পরিশিষ্টের আট নম্বর তথ্য সারণি-তে তালিকা-ভুক্ত

ভাষা-সমূহ কে প্রতিনিধিত্ব করা ব্যাপক জনমানব তাদের নিজ-নিজ ভাষা-কে ভারত গণরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারের সরকারি ভাষা রূপে চালু করার দাবী,

২। সেই-সব অন্যান্য অনেক ভাষা-সমূহ কে প্রতিনিধিত্ব করা ব্যাপক জনমানব-এর এই উপরি-উক্ত পরিশিষ্টে নিজ-নিজ ভাষা-কে যুক্ত করার দাবী,

৩। বিবিধ ভূমিসন্তান-দের এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী সহ শতাধিক ভাষাগত সম্প্রদায়ের প্রত্যেক অপ্রতুল জনসংখ্যা এবং তাদের সদস্য-দের নিজ-নিজ ভাষা-কে সংরক্ষিত করা এবং বিকশিত করার দাবী,

ভারত গণরাজ্যের মধ্যে ব্যবহৃত সমস্ত ভাষা ভারত গণরাজ্যের নাগরিক-দের বৈচিত্র্যের দিকে চিহ্নত করে যার জন্য এই ভাষা গুলো ঐতিহাসিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আঞ্চলিক কারণে প্রত্যেক বিশেষ-বিশেষ ভাষা সম্প্রদায়ের অঙ্গ – এই ব্যাপার-টা বিবেচনা করে,

এইটা মনে রেখে যে, ভারত গণরাজ্যের সমস্ত ভাষা ইতিবাচক পরম্পরাগত জ্ঞানের উৎকৃষ্ট সঞ্চয়-স্থান যেগুলো শত-শত বছর ধরে বিকশিত হয়েছে নিজ-নিজ আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও চর্চার ওপর দাঁড়িয়ে যাকে হারানোর মর্ম হল প্রত্যেক ভাষাগত সম্প্রদায়ের পূর্ব প্রজন্মের থেকে পাওয়া নিজস্ব ইতিবাচক উত্তরাধিকার, জ্ঞানভান্ডার এবং পর্মপরাগত বিশেষজ্ঞতা কে বিস্মৃতির অতলে হারানো,

আমরা এহেন ঘোষণা করছি যে

ভারত গণরাজ্যের মধ্যে সমস্ত ভাষা-কে সমান দৃষ্টি-তে বিবেচনা করতে হবে এবং প্রত্যেক ভাষাগত সম্প্রদায়ের নিজ-নিজ ভাষা-কে যে-কোনো সম্ভাব্য উপায়ে সংরক্ষিত করা, বিকশিত করা এবং জোরদার করে তোলার অধিকার আছে যেমন-টা কোনো গণতান্ত্রিক পরিমন্ডলে থাকা উচিত।

ভারত গণরাজ্যের প্রত্যেক নাগরিক-এর মৌলিক এবং অ-বিচ্ছেদ্য অধিকার হচ্ছে সরকারের আমলা, বিচার-ব্যবস্থায় কর্মরত সরকারী কর্মচারী এবং জন-প্রতিনিধি দের সাথে তাঁর নিজের মাতৃ-ভাষায় সংযোগ স্থাপন করতে পারা এবং সরকারের প্রতিনিধি-রাও যেন সেই উক্ত নাগরিক-এর সাথে তাঁর মাতৃ-ভাষার মাধ্যমেই আদান-প্রদান ও সংযোগ-স্থাপন করেন। ভারত গণরাজ্যের প্রত্যেক নাগরিক-এর তাঁর নিজের মাতৃ-ভাষায় প্রথাগত শিক্ষা-গ্রহণ এর অধিকার আছে। ভারত গণরাজ্যের প্রত্যেক নাগরিক-এর তাঁর নিজের মাতৃভাষায় বাণিজ্যিক ও জন-পরিষেবা পাওয়ার অধিকার আছে।

ভারত গণরাজ্যের মধ্যে অবস্থিত সমস্ত ভাষাগত সম্প্রদায়ের একাধিক সুপারিশ ও দাবী-সমূহের ওপর ভিত্তি করে আমরা একটা ‘নতুন ভাষা কমিশন’ গড়ে তোলার আবেদন জানাচ্ছি যার কাজ হবে ভারতের সংবিধান এর ১৭ সংখ্যক অংশ এবৎ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নির্দেশিকা-সমূহ কে পুনরায় বিচার এবং সংশোধন করে একটা নতুন ভাষা-নীতির প্রণয়ন ও প্রয়োগ।

আমরা দাবী জানাচ্ছি যে ভারত রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার নিম্নোল্লিখিত দাবী-সমূহ কে তৎক্ষণাৎ স্বীকৃতি দিক এবং মান্যতা প্রদান করুক :

১। ভারতের সংবিধান এর পরিশিষ্টের আট নম্বর তথ্য সারণি-তে তালিকা-ভুক্ত

ভাষা-সমূহ কে প্রতিনিধিত্ব করা ব্যাপক জনমানব তাদের নিজ-নিজ ভাষা-কে ভারত গণরাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারের সরকারি ভাষা রূপে চালু করার দাবী,

২। সেই-সব অন্যান্য অনেক ভাষা-সমূহ কে প্রতিনিধিত্ব করা ব্যাপক জনমানব-এর এই উপরি-উক্ত পরিশিষ্টে নিজ-নিজ ভাষা-কে যুক্ত করার দাবী,

৩। বিবিধ ভূমিসন্তান-দের এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠী সহ শতাধিক ভাষাগত সম্প্রদায়ের প্রত্যেক অপ্রতুল জনসংখ্যা এবং তাদের সদস্য-দের নিজ-নিজ ভাষা যাতে বিলুপ্ত বা

বৃহৎ ধারার মধ্যে বিলীন না হয়ে যায়, তার জন্য একটা বিশেষ সরকারী দপ্তরের মাধ্যমে জরুরী সহায়তা করা।

আমরা এই দাবী জানাচ্ছি যে প্রত্যেক স্তরের সরকার যেন এইটা নিশ্চিত করে যে মাতৃ-ভাষায় প্রচলিত শিক্ষা গ্রহণ এর অধিকার যেন কোনো ভাবেই লঙ্ঘিত না হয়।

আমরা দাবী জানাচ্ছি যে সমস্ত রাজ্য-সরকার যেন ইতিপূর্বে বহাল প্রশাসনিক ভাষা বিষয়ে আইন-সমূহ ও নীতি-সমূহ কে শত শতাংশ প্রয়োগ করে। যে-যে রাজ্যে এই ধরণের নীতি নেই, তারা যেন গুরুত্ব দিয়ে এই নীতি তৈরী করেন।

আমরা এই উপরি-উক্ত দাবী-সমূহ ঘোষণা করার মাধ্যমে মানবাধিকার সংগঠন, প্রথাগত শিক্ষা-ভিত্তিক ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী সহ অন্যান্য নাগরিক সম্প্রদায়ের সংগঠন, সমস্ত রাজনৈতিক দল, সংগঠন, গণ-মাধ্যম, এদের কাছে আবেদন রাখছি যেন তারা সংসদে ‘ভাষাগত সমতা এবং অধিকার বিষয়ক প্রস্তাবনা’ আনার জন্য নিজ-নিজ ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালান এবং সেই প্রস্তাবনা গৃহীত হওয়ার পর আমরা যেন আমাদের অভীষ্ট লক্ষে পৌঁছতে পারি।

এই খসড়ার নির্মাতা-রা হলেন :

আনান্দ্ গ., কার্ণাটাক (কান্নাড়)

উমাকান্থান প., কার্ণাটাক (কান্নাড়)

কোমাক্কামবেড়ু হিমাকিরাণ আঙ্গুলা, তামিল নাড়ু (তামিল,তেলুগু)

গর্গ চ্যাটার্জী, পশ্চিমবঙ্গ (বাঙলা)

গাণেশ চেতান, কার্ণাটাক (কান্নাড়)

যোগা সিং ভার্ক, পাঞ্জাব (পাঞ্জাবী)

থামিজ়নেরিয়াঁ, তামিল নাড়ু (তামিল)

দীপাক পাওয়ার, মহারাষ্ট্র (মারাঠী)

প. পাভিথ্রান, কেড়লা (মালায়ালাম)

প্রিয়াঙ্ক্ ক.স., কার্ণাটাক (কান্নাড়)

ভাসান্ত্ শেট্টি, কার্ণাটাক (কান্নাড়)

মাণি ভ. মাণিভান্নান, তামিল নাড়ু (তামিল)

রাভিশাঙ্কার আয়াক্কান্নু, তামিল নাড়ু (তামিল)

স. সেন্থিলনাথান (আঝ়ি সেন্থিলনাথান), তামিল নাড়ু (তামিল),

সাকেত শ্রীভূষাণ শাহু, ওড়িষা (কোশালি)

Leave a comment

Filed under বাংলা, Identity, Language, Rights

ভাষা, আত্মসম্মান ও অধিকার – পা চাটতে লাগে শুধু জিভ

পুরো দুনিয়া জুড়ে ব্যবসার একটা প্রাথমিক নিয়ম আছে।  ইংরেজিতে এই নিয়ম-কে বলে ‘কাস্টমার ইজ কিং’ অথবা ‘কাস্টমার ইজ  অলওয়েজ রাইট’। এর ভাবার্থ হলো, কোন পরিষেবা দানের ক্ষেত্রে, গ্রাহকের সুবিধে-অসুবিধে, সেইটাই আসল। যে পরিষেবা দিচ্ছে, যেহেতু যে গ্রাহকের থেকে টাকা নিচ্ছে, তাই তার দায়িত্ব হলো গ্রাহক-কে তার সুবিধে মত পরিসেবা দেওয়া। গ্রাহকের কাজ নয় পরিষেবা-দাতার সুবিধে মত ছাঁচে নিজেকে তৈরী করা। দুঃখের বিষয় হলো, নিখিল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শহর আমাদের এই কলকাতায় এই নিয়মটি বাঙালিদের ক্ষেত্রে খাটে না। একটু ভেঙ্গে বলি।  

সম্প্রতি আমি প্লেনে চেপে চেন্নাই গেছিলাম।  দমদম বিমানবন্দরে পৌছনোর পর ঘোষণায় জানলাম যে গেটটি থেকে প্লেন ছাড়ার কথা ছিল, সেটি পাল্টে গেছে।  আমাকে যেতে হবে আরেকটি গেটে।  অগত্যা তাই গেলাম। আমি ছিলাম প্লেনে ওঠার লাইনের একদম শেষের দিকে।  আমরা সকলে প্রায় প্লেনে উঠে পরেছি তখন দেখলাম একজনকে বেশ ধমক দিতে দিতে একজন এয়ার ইন্ডিয়া কর্মী আমাদের লাইনের দিকে দেখাচ্ছেন।  উনি বেশ অপদস্থ ও লজ্জিত বোধ করে গুটি গুটি আমাদের লাইনের দিকে এগিয়ে এলেন। আমি ওনাকে ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করলাম।  উনি আমাকে জানালেন যে উনি বাংলা জানেন কিন্তু ইংরেজি-হিন্দী জানেন না। না জানতেই পারেন। অধিকাংশ বাঙালি-ই ইংরেজি-হিন্দি জানেন না।  বিশ্বজুড়ে অধিকাংশ মানুষই নিজেদের মাতৃভাষা ছাড়া অন্য ভাষা জানেন না। না জানাটা অপরাধ নয়। অধিকাংশ রুশ, অধিকাংশ জাপানি, অধিকাংশ চীনা মানুষ-ই নিজেদের মাতৃভাষাই শুধু জানেন। যেহেতু এই বাংলার সর্ববৃহৎ শহরের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দরে এই বাঙ্গালীটি শুধু বাংলা জেনেই ঢুকে পড়েছেন প্লেনে চাপতে, তাই স্রেফ হিন্দি ও ইংরেজি-তে করা ঘোষণাগুলি উনি ঠিক ধরতে পারেননি। ফলে পুরনো গেটেই এদিক সেদিক করছিলেন। তারপর সেখানে চেন্নাই-এর প্লেন ছাড়ার কোন চিহ্ন না দেখে শেষে একে তাকে জিজ্ঞেস করে এই নতুন গেটে এসছেন।  যেহেতু দেরি করে এসছেন, তাই যে এয়ার ইন্ডিয়াকে উনি গুনে গুনে প্লেনে চড়তে অনেক টাকাই দিয়েছেন, তারা তাকে দেরি করার জন্য ধমক দিচ্ছিলেন।  উনি লজ্জা করে আর বলে উঠতে পারেননি যে উনি হিন্দি-ইংরেজি জানেন না।  আসলে লজ্জা পাওয়ার কথা এয়ার ইন্ডিয়ার।  যে কোম্পানি কারুর থেকে কড়ায়গন্ডায় টাকা বুঝে নিয়ে গ্রাহকের নিজের ভাষায় তাকে পরিষেবা দিতে অস্বীকার করে। আর লজ্জা পাওয়ার কথা আমাদের – যারা বাংলায় বসে বাঙালির সাথে এয়ার ইন্ডিয়ার এই হিন্দি-ইংরেজি খবরদারি নীতিকে  স্বাভাবিক মনে করি এবং স্রেফ বাংলা জানা বাঙালির হিন্দি-ইংরেজি না জেনেই তার নিজেদের দেশ বাংলার মাটিতে গড়া বিমানবন্দরে এসে প্লেনে চড়ার ‘ধৃষ্টতা’কে অস্বাভাবিক মনে করি।

আমরা ভারতীয় ইউনিয়ন নাম এক অদ্ভূত রাষ্ট্রের অধীন। এখানে সরকারী এয়ারলাইন কোম্পানি, যা কিনা অনেকের মতই বাঙালির দেওয়া টাকার ভর্তুকি-তে চলে, এলাকার মানুষকে এলাকার ভাষায় পরিষেবা দিতে চায় না। বলে নিয়ম নেই।  আসলে এই নিয়ম ভারত সরকারের।  এ নিয়ম সচেতন।  এ নিয়ম এই রাষ্ট্রে হিন্দি-ইংরেজি ভাষী ছাড়া আর সকলকে দ্বিতীয় শ্রেনীর নাগরিক করে রাখার এক সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।  এই নিয়মতন্ত্র চলছে আমার আপনার টাকায়। এই নিয়মকে অনেক উড়ুক্কু বাঙালি সঠিক মনে করেন। আমাদের মতো নির্লজ্জ ও ক্ষমতার পা-চাটা জাত আর হয় না। বাঙালি এলিট-রা এককালে ইংরেজ-দের পা চাটত, এখন তারা পা চাটে দিল্লীর।  এই পা চাটার মাধ্যমেই স্রেফ নামে একটি বাঙালি শ্রেণী সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রাণে-বচনে-যাপনে বাঙালিদের দাবিয়ে রেখেছে। এই শ্রেনীর উত্খাত এমন এক মঙ্গলময় প্রকল্প যাতে বঙ্গলক্ষ্মীর আশীর্বাদ থাকবে বলে আমি নিশ্চিত।

ওই প্লেন যাত্রায় বাঙালির বিড়ম্বনা এখানেই শেষ না।  প্লেন যাচ্ছে বাংলা থেকে তামিল নাডু।  প্লেনের অধিকাংশ যাত্রীর মাতৃভাষা হয় বাংলা কিম্বা তামিল।  কি করে সিট-বেল্ট বাঁধতে হয় থেকে শুরু করে বিপদ হলে কি কি করতে হবে, এমন গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলি এই সরকারী প্লেনে বাংলা বা তামিল, কোন ভাষাতেই বিমান-সেবিকারা ঘোষণা করলেন না। এমনকি লিখিত অবস্থাতেও সেটি সে তথ্য কথাও ছিল না। যে সরকার তার নীতির অংশ হিসেবে বাঙালি ও তামিলদের সুরক্ষা নির্দেশাবলী শোনায় হিন্দি-তে, সে সরকার আর যাই হোক বাঙালি বা তামিলের প্রাণ ও সুরক্ষা নিয়ে চিন্তিত নয়। তাহলে এ কেন্দ্রীয় সরকার আসলে কার? যাদের ভাষায় তারা সুরক্ষা নির্দেশ দিল, তার। আমার বলতে লজ্জা করছে যে মধ্য-প্রাচ্য থেকে অনেক বিমানে চড়ে আমি কলকাতা এসছি, যেখানে প্লেনের নানা অংশে নানা নির্দেশ (যেমন দরজায় লেখা ‘টানুন’ বা ফ্লাস করতে কোথায় টিপতে হবে) বাংলা-তামিল-হিন্দি-আরবী-ইংরেজি এমন অনেক ভাষায় লেখা থাকে। কেন? তাদের কাছে বিমান একটি পরিষেবা, যেখানে তারা গ্রাহকের সুবিধা করতে চায়। আমার দেশ যে রাষ্ট্রের অধীন, তারা দুরদর্শন থেকে ব্যাঙ্কের পাশবই  থেকে সরকারী বিমানের সুরক্ষা নির্দেশ, সবখানেই হিন্দি প্রচারের মাধ্যমে তেরঙ্গা জাতীয়তাবাদ প্রচারে ব্যস্ত। ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্রের স্লোগানের নাম যে জুয়াচুরি অ-হিন্দিভাষীদের সাথে চলেছে দেশভাগের পর থেকে, তার হিসেব কি আমরা নেব না? আমরা নিজেদের কাছে আর কত ছোট হবো? এ কোন একতা যা বজায় রাখতে আত্মসম্মান বন্ধক রাখতে হয়? একতা চাই – এমন একটা, তার পূর্বশর্ত হবে পারস্পরিক সম্মান।

প্লেনে যে ওঠে, সে শুধু বাংলা জানুক বা ইংরেজি পণ্ডিত হোক, নিখিল বাংলাদেশের নিরিখে সে একজন এলিট। সেখানেই যদি ভাষার ক্ষেত্রে এমন করে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়, একবার ভেবে দেখুন রোজকার সেই অভিজ্ঞতাগুলির কথা – যেখানে বাংলার সীমান্তের বিএসএফ, কলকাতার মেট্রোতে রেল পুলিশ, বর্ধমানে সরকারী বেঙ্কের ম্যানেজার এবং আরো অনেকে যারা নাকি আমাদের ‘পরিসেবা’ দ্যান বাংলা না জেনেই। উত্তরপ্রদেশে হিন্দি না জেনে এই কাজগুলি করতে চাইলে স্থানীয় মানুষ তাদের কি অবস্থা করত, সেটা নাই বললাম। অনেকেই এসব শুনে বলবেন – হিন্দী তো রাষ্ট্রভাষা বা জাতীয়ভাষা। তাদের জানিয়ে রাখি, হিন্দি রাষ্ট্রভাষা নয়, জাতীয় ভাষাও নয়। এগুলি রাষ্ট্র হিতার্থে চালু গুজব। গুজরাট হাইকোর্ট রায়তে জানিয়েছেন যে গুজরাটের ক্ষেত্রে হিন্দী ‘ফরেন’ বা বিদেশী ভাষা। আর রয়েছি আমরা। এমন এক জাতি, যারা কোথাও ঢুকতে গেলে দরজা খুলতে বলিনা, দরজার ফাঁক দিয়ে নিজেকে বেঁকিয়ে গলানোর চেষ্টা করি। এই বাঙালিই বাংলার মাটিতে টেক্সীকে হাত দেখিয়ে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করে ‘যায়েগা?’। চম্পারন বা ভোজপুর জেলা কলকাতায় গতর খাটতে আশা আমার সেই টেক্সী-চালক ভাই-এর ভাষা যে হিন্দি নয়, ভোজপুরি, আমরা তাও জানিনা। এও জানিনা যে সে বাংলা বোঝে। দিল্লি-তে তো কত বাঙালি শ্রমিক কাজে যান – কোন হিন্দিভাষী সেখানে তাদেরকে বাংলায় হাঁক দ্যান?

সম্প্রতি মহারাষ্ট্র সরকার নিয়ম করেছেন যে নতুন অটো-রিক্শ পারমিট পেতে হলে মারাঠি বলতে জানতে হবে। কোন প্রতিবাদ হয়নি এ ঘোষণার কারণ এটি স্বাভাবিক। সেখানে অধিকাংশ অটো-চালকের মাতৃভাষা মারাঠি নয়। তারা বাইরে থেকে আসা।  কিন্তু তারা জানে না এক্ষেত্রে যাকে পরিসেবা দেওয়া হচ্ছে, সেটাই অগ্রধিকার পায়। সেই বহিরাগতরাও মারাঠি শিখে নিয়েছে এবং সৎভাবে রোজগার করে খাচ্ছে। এটা এই বাংলায় সম্ভব না। কারণ এর জন্য লাগে আত্মসম্মান ও শিরদাঁড়া।  পা চাটতে লাগে শুধু জিভ।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Language, Power, Rights

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

প্রতি বছর বিশ্বের কিছু নামী সংস্থা দুনিয়ার সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশাল রেঙ্কিং তালিকা এনে উপস্থিত করেন। কোন বছরেই কোন তালিকাতেই সেখানে ভারতীয় সংঘরাষ্ট্রের কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ২০০-র মধ্যে আসে না। সেই নিয়ে এখানকার কিছু লোক একটু চিন্তা ব্যক্ত করেন। আর কেউ কেউ বলেন ওসব রেঙ্কিং আসলে পশ্চিমা দুনিয়ার চক্রান্ত, যাতে কিনা আমাদেরকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয় (তারা বেমালুম চেপে যান যে শ্রেষ্ঠ ২০০-র তালিকায় একাধিক এশীয় বিশ্ববিদ্যালয় থাকে, থাকে চীনের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়)। যেসব পন্ডিত মনে করেন যে সমগ্র বিশ্ব একমাত্র আমাদেরকে কোণঠাসা করার জন্য এই শ্রেষ্ঠত্বের তালিকা থেকে আমাদেরগুলিকে বাদ দ্যান, তাদের জানা উচিত, এই ধরণের বিশ্ব-ষড়যন্ত্র মার্কা ধারণা গভীর মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক ধারা বা ধর্মীয় ধারা এমন ভাবে নিজেদের সকল বিশ্বের ষড়যন্ত্রের স্বীকার বলে প্রচার চালায়। এই সব সেয়ানা কারবারীদের চেনা প্রয়োজন। এরা কেউ অসুস্থ নয় – ষড়যন্ত্রের শাঁক দিয়ে নিজেদের ভেতরের পচনের মাছ ঢাকার একটা নিষ্ফলা চেষ্টা করেন এরা। এর ফলে বন্গায়ে শিয়াল রাজা হয়ে অন্যান্য রদ্দি শেয়ালদের থেকে বাহবা পাওয়া যায়, কিন্তু বিশ্ব-দরবারের বেঞ্চিতে এক ইঞ্চি জায়গা-ও জোটে না।

এই ধরা যাক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ৫০-টা  বিশ্ববিদ্যালয় – সেগুলির কিছু বৈশিষ্টের দিকে একটু মন দিয়ে দেখি। তারপর নিজেদের সাথে তুলনা করি। আপাতত টাইমস হায়ার এডুকেশন রেন্কিং মেনে চলি, যদিও কিউ.এস এবং এ.আর.ডাব্লু.ইউ, এই দুটিও যথেষ্ট খ্যাতনামা। আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় একটা তফাত হলো যে এই শ্রেষ্ঠতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্নাতক স্তরের কোর্সগুলো মূলতঃ হয় সেই দেশের প্রচলিত মাতৃভাষায়। এবং সেই দেশে ইস্কুল্গুলির, পাঠ্যবই-এর মধ্যেও মাতৃভাষার দাপট-ই বেশি – এটা কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন চৈনিক, সুইডিশ, ইংরেজি, জাপানি, জার্মান, অর্থাত যে সব দেশের মাতৃভাষার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শ্রেষ্ঠ ৫০-এর তালিকায় আছে, এই সকল ভাষার ক্ষেত্রেই সত্যি। আমাদের এই বাংলাদেশে তথা দিল্লি-তে অনেক পন্ডিত বলেন যে মাতৃভাষায় ব উচ্চ-শিক্ষা হলে সমাজ পিছিয়ে পড়বে। তথাকথিত এক আন্তর্জাতিক পরিসরের দোহাই দিয়ে বলা হয় এইসব। তথ্য থেকে এটা পরিষ্কার যে মাতৃভাষা-হীন উচ্চ-শিক্ষা দিয়ে ইংরেজি-ভাষা প্রচলিত দেশের জন্য প্রযুক্তি-ব্যবসার ঝাঁকা-মুটে  বা মূলতঃ শ্বেতাঙ্গ বাচ্চাদের আমদানি করা ‘বৈচিত্রময়’ অধ্যাপক হওয়া সম্ভব, কিন্তু নিজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃভাষাকে দুরে রেখে উত্কর্ষ তৈরী কঠিন। রাজনৈতিক নেতারা যতই ‘সেন্টার ও এক্সেলেন্স’ লেখা শ্বেতপাথর উদ্বোধন করে জনগণ-কে ধোঁকা দিন, এক্সেলেন্স-হীনতার এই ফাঁকি এইসব রেঙ্কিং তালিকায় ধরা পড়ে যায়। এছাড়াও এর ফলে মাতৃভাষায় শিক্ষিত ইস্কুলের গন্ডি পেরুনো যে শিক্ষার্থী-সমাজ, যারা কিনা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদেরকে অবহেলা করে, প্রান্তিক করে দিয়ে, হীনমন্যতায় ভুগিয়ে তাদের মেধা সম্পদ নষ্ট করা হয়। এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয় দেশ ও জাতি।  অবশ্যই এর পিছনে রয়েছে আমার মতো ইংরেজিতে পরা ভদ্রলোকের বাচ্চার কায়েমী স্বার্থ। এই মাতৃভাষায় শিক্ষিত সমাজকে প্রান্তিক করে রাখা নিয়ে রেঙ্কিং হলে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়-গুলি যে বিশ্বে প্রথম ৫০-টি স্থান অধিকার করবে, এ নিয়ে আমার সন্দেহ নেই। তবে নিজেদের কায়েমী স্বার্থকে কি করে সর্বসাধারণের স্বার্থ হিসেবে দেখিয়ে ক্ষমতা ও প্রাধান্য ধরে রাখতে হয়, তার ইন্টেলেকচুয়াল ট্রেনিং দিতে আমরা ওস্তাদ।  পশ্চিমবঙ্গে অধ্যাপকের চাকরি লোভনীয়। নানা দেশের অধ্যাপকের মাস মাইনের সঠিক তুলনা (অর্থাৎ সেই পরিমাণ অর্থের সেই দেশে ক্রয়ক্ষমতা – যাকে বলে পারচেসিং পাওয়ার) করলে দেখা যায় যে এদেশের অধ্যাপকেরা গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, ফ্রান্স, জাপান প্রভৃতি দেশের অধ্যাপকদের থেকে বেশি ক্রয়ক্ষমতার অধিকারী। আমাদের পিছিয়ে থাকাটা টাকাকড়ির কারণে না।

কি কি দেখা হয়েছে এই সব রেন্কিং-এ ? রয়েছে গবেষনার খ্যাতি ও পরিমাণ, শিক্ষা-দানের খ্যাতি, তবে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ‘সাইটেশন ইম্পেক্ট’-এ।  অর্থাৎ এই যে জনগণের টাকা নিয়ে বিদ্যাচর্চা ও গবেষণার আয়োজন, তাতে যা পয়দা হচ্ছে, তা কি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশ্বে অন্যদের নজরে আসছে, তারা কি সেগুলির কথা বলছেন, নিজেদের কাছে ব্যবহার করছেন ? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মূলতঃ জ্ঞান দেবার জায়গা, নতুন জ্ঞান তৈরী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গৌণ। এর ফল খুব সহজ। আমরা এখুনো  হা-পিত্যেশ করে বসে থাকি সাহেব-মেম-রা নতুন কি বার করলো। যেহেতু নিজেদের উঠোনে হয়না সেসব কাজ, তাই আমদানি করা জ্ঞান সিলেবাস ভুক্ত করতেও হয়ে যায় বিরাট সময়ের ব্যবধান। আর এই কারণেই চলে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি-ছাটার সময়ে দেশে আশা স্বজাতীয় পরিযায়ী পাখি অধ্যাপকদের নিয়ে একটা আদেখলাপনা। সাফল্যের মাপকাঠি হয়ে ওঠে বিদেশে কে কত নাম করলো। ফলে গবেষনার বিষয়-গুলিও মূলতঃ হয়ে যায় বিদেশের সমাজের মাথাব্যথার উপশম করার
‘আন্তর্জাতিক’ প্রকল্পে হাথ লাগানো বা শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতকুলের আভ্যন্তরীণ বিতর্কে নাক গলিয়ে জাতে ওঠার চেষ্টা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে এদেশের
ব্যবস্থা ঠিক এই ধরনের আচরণ-কে পুরস্কৃত করে।

অথচ এহেন গুরুদের প্রশ্নবিদ্ধ করার সংস্কৃতিকেও এখানে বেশ জোর দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়।  যেখা চিত্ত হওয়ার কথা ভয়-শূন্য, সেখানে
সামন্ত্রতান্ত্রিক গুরুবাদের ঠেলায় তৈরী হয় ত্রাসের পরিবেশ। প্রশ্ন করতে নেই, নিলে স্যার রেগে যাবেন, তারপর স্যার তার ক্ষমতা-মতো ‘দেখে
নেবেন’, তখন কে বাঁচাবে ? জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা এমন এক জিনিস, যেখানে সব কিছুকে অনাবৃত করতে হয়।  যেখানে যুক্তির শানিত ব্যবহারে অধ্যাপক-কে কাছাখোলা করাটাই শ্রেয়, সেইসব ক্ষেত্রে গুরুর ঘরের সামনে মাথা নোয়ানোকে মনে করা হয় আদর্শ ব্যবহার। মেধার বিকাশের জন্য গুরু-ভজনা নয়, গুরু-মারা বিদ্যা আয়ত্ত করা প্রয়োজন।  এবং দরকার সেই ধরনের গুরু, যারা ছাত্রদের গুরু-মারা জ্ঞানচর্চা করতে উত্সাহিত বোধ করেন, ‘আমি জানি না’ -পরিষ্কারভাবে  এই বাক্যটি  ভাবে বলতে পারেন সকলের সামনে।  এক্সেলেন্স ফলে মানুষের মাঝে মুক্তচিন্তার অঙ্গনে, শিক্ষামন্ত্রীর বাণীতে  না, ফলকে না, অধ্যাপকের চেয়ারে রাখা তোয়ালের নিষ্ফলা ‘মর্যাদা’তেও না।

মতান্তর ও বিতর্ক হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। ক্ষমতার সান্নিধ্য মুক্ত-চিন্তার কাছে বিষময়। ঠিক সে কারণেই চিরকাল-ই প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ত্বের সাথে মেধা ও উত্কর্ষের একটা সম্পর্ক থেকেছে আর ক্যাম্পাসে সরকারপন্থী ছড়ি ঘোরানোর রাজনীতি জন্ম দিয়েছে গতদিনের
প্রফেসর অনিল ও আজকের  প্রফেসর শঙ্কুদের। এই বাংলার অন্যতম ভালো বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুরে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা-সভা করতে অনুমতি দেওয়া হয়না, উপাচার্যের টুকলি-করা গবেষণা-পত্র ধরা পড়েও চাকরি থেকে সে বরখাস্ত হয় না – সসম্মানে ফিরে যায়ে পুরনো আস্তানায় – আরেক ‘উত্কর্ষ’ কেন্দ্রে, নিরাপত্তার নাম করে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর সিসিটিভি নজরদারী চালানো হয়। যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তা ও আলোচনার বিষয়
কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষ, অধ্যাপক-বেশী চোরেরা আসল অধ্যাপকদের দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসেন, খাঁকি জামাপরা পুরুষ সরকারী কর্মীরা
সুরক্ষার নামে যুবক-যুবতীরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে কখন-কোথায়-কি করছে, তা টিভি-তে দেখার মত অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকে, সে দেশের কোন
বিশ্ববিদ্যালয় যে বিশ্ব-বরেণ্য তালিকায় নেই, এতে এত আশ্চর্যের কি আছে। তবুও এর মধ্যেই যাদবপুরের নয়া উপাচার্য্য সুরঞ্জন দাস যাদবপুরে
সিসিটিভি-গুলি নামিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।  শুরুটি ভালো। কার তাতে কি, আমরা যদি এই আকালেও স্বপ্ন দেখি।

Leave a comment

Filed under Academia, বাংলা, Bengal, Education, Knowledge, Kolkata, Language

ভারত ও ঢাকার মাঝখানে – অনিকেত প্রান্তর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সাথে ভারতীয় সংঘ-রাষ্ট্রের নরেন্দ্র মোদীর চুক্তির ফলে নিরসন হলো ছিটমহল অধ্যায়, যদিও এর মধ্যেই অন্য রাষ্ট্র  বেছে নেওয়ায়ে সংখ্যালঘু ঘর ইতিমধ্যেই ঘর জ্বলেছে এক রাষ্ট্রে । অদ্ভূত জিনিস এই ধর্ম, রাষ্ট্র ও নাগরিকত্বের টানাপড়েন-গুলি।  আর এসব  এলোমেলো করে দেওয়া সেই অদ্ভূত শব্দটি – ‘জন্মভূমি’। বাংলাদেশের অন্তর্গত ‘ভারতীয়’ ছিটমহলে ‘ভারতীয়’ নাগরিক শিশু পাশের গ্রামে (অর্থাৎ বাংলাদেশে) গিয়ে শিখেছে যে তার প্রধানমন্ত্রী হলো শেখ হাসিনা। সর্বার্থেই ছিট-মহল গুলি প্রান্তিক, এমনকি রাষ্ট্রও তাদের থেকে আনুগত্য দাবি করে না। ভারতের নাগরিক নিজেকে ভারতীয় মনে করে কিনা, তেরঙ্গা দেখে সটান হয় কিনা, গান্ধী দেখে শ্রদ্ধা দেখানোর ভাব করে কিনা, ক্রিকেটে পাকিস্থান-ঘেন্না করে কিনা, ছিটমহলবাসীদের ক্ষেত্রে ভারতের তাও এসে যেত না। আজকালকার রাষ্ট্র-ভিত্তিক বিশ্ব-চরাচর-কল্পনার দিনে  দিনে এর চেয়ে হতোছেদা আর কি করে করা যেতে পারে। যাই হোক, আশা করা যায় যে এখান থেকে দুই দেশের বাচ্চারা ঠিক ঠিক পতাকা দেখে ঠিক ঠিক সটান হতে শিখবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী, যিনি ঘুণাক্ষরেও সোসিয়াল মিডিয়া-তে হিন্দি ছাড়া কোন দেশী ভাষায় তার প্রজাদের বার্তা পাঠান না, এ হেন পাক্কা ভারতীয় জাতীয়তাবাদী পূর্ব্ববাংলা সফরকালে সস্তা চমক দিয়ে সেখানকার বাঙ্গালীর মন জয় করার জন্য টুইট করলেন বাংলায়। একজন পশ্চিম-বঙ্গবাসী হিসেবে এটা  কতটা অপমানজনক যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের সেটুকু স্বীকৃতিও দেয় না, যতটা কিনা পূর্ব্ব-বঙ্গবাসীদের দেয়। আকাশ খুব অন্ধকার।  আমরা একটু নিজেদের ভাঙ্গা সিঁড়দারাটার দিকে চেয়ে দেখি, একটু লজ্জা পাই, একটু ক্ষুব্ধ হই, একটু আত্মসম্মান সঞ্চয় করি । স্বীকৃতি দিক না দিক, দিল্লি বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের থেকে করের টাকা নিয়ে খয়রাতি করে আসবে বিদেশে একটি বিশেষ ভাষা-কে ‘ভারতের  মুখ’হিসেবে ফোকাস দেওয়ার জন্য। এবার-ও নরেন্দ্রভাই-এর ঢাকা সফরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে নতুন দিল্লির সরকার বাহাদুরের কল্যানে। বাঙালি, তামিল, অহমিয়া, তেলুগু, কন্নড়-ভাষী মানুষেরা এটা জেনে প্রীত হবেন যে তাদের ভাষা-সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব-টা হিন্দী আপনাদের না জানিয়েই নিয়ে নিয়েছেন আর সাথে নিয়েছে আপনাদের করের টাকা।  বলাই-বাহূল্য, নতুন দিল্লীর খয়রাতি পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগটির নাম হিন্দী। আর এই সব খয়রাতি করে অনেকে ভেবেছেন ওরা হেব্বি খুশি।  ওরা কিন্তু অনেকেই বেশ রেগে আছেন।

কলকাতার হো চি মিন সরনীর নাম অনেকেই শুনে থাকবেন।  কেউ কেউ হয়তো জানবেন যে এই রাস্তার আগের নাম ছিল হ্যারিংটন স্ট্রীট। কে এই হ্যারিংটন? ইনি ফিরিঙ্গি কোম্পানির আমলে নিজামত বা সদর আদালত-এর প্রধান বিচারক ছিলেন।  ১৮২৩ সালের  ২৮ জুন তিনি লিখিত মন্তব্য করেন যে সতীদাহ প্রথা যদি তখুনি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলেও এই নিষিদ্ধকরণের বিরুধ্যে তেমন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন তিনি আশা করেন না। অর্থাৎ জনগণ সে অর্থে সতিদাহর পক্ষে ছিল না। সতী-দাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় এর ছয় বছর পরে, ১৮২৯ -এ। নানা বিরুদ্ধতা উপেক্ষা সত্তেও সতিদাহ নিষিদ্ধকরণের যে প্রকাশ্য নায়কদের কথা আমাদের চিরকাল জেনে এসেছি, কিন্তু নেপথ্য নায়ক যে জনগণ, তাদেরকে স্বীকার করে নেন হ্যারিংটন। ফলে নায়কদের উচ্চতা একটু কমে, তাদের সংগ্রাম একটু ফ্যাকাশে হয়। তবুও সেটাই বাস্তব।  হ্যারিংটন-এর নামের জায়গায় হো চি মিন  দিয়ে সেটা ভোলা যায় না।  তবে হো চি মিন নামকরণের ছিল আরেকটি উদ্দেশ্য, এবং সেটি কিন্তু গর্ব করার মতো। এই রাস্তাতেই মার্কিন কনসুলেট। ভিয়েতনাম-এ মহিলা-শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে মানুষকে হত্যা করার যে নৃশংস খেলায় মেতেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এটা ছিল তার-ই বিরুধ্যে কলকাতার নিজের মত করে প্রতিবাদ। একটু লজ্জা দেওয়া, একটু বিড়ম্বনায় ফেলা। কলকাতার মার্কিন দূতাবাসকে আজ-ও হো চি মিন-এর নাম স্মরণ করতে হয়, না চাইলেও। নৃশংসতার প্রতিবাদ হিসেবে লজ্জা দেওয়ার মতো নাম পরিবর্তনের দাবি কিন্তু বেশ ছোয়াঁচে।  নিষ্পাপ শিশু ফেলানি-কে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বি-এস-এফ বাহিনী গুলি করে হত্যা করে দুই বাংলার সীমান্তে। গরীবের মেয়ে ফেলানির দেহ লটকে সীমান্তের কাঁটাতারে লটকে থাকে বেশ কিছু সময়। আর বিঁধে থাকে ‘অনুভূতিগুলো’। এই কাঁটা-তার-এ ঝুলে থাকা শিশুর ছবিটি ভারতের ‘স্বাধীন’ ও ‘মুক্ত’ সংবাদ-মাধ্যম খুব বেশি প্রচার না করলেও, সারা বিশ্ব জেনে গেছিল ফেলানিকে এবং তাকে খুন করা উর্ধি-ধারী বাহিনীকে, যাদের মাইনে  আমি আপনি দিই। বাঙ্গালীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ঢাকায় উঠেছিল প্রতিবাদের ঝড়, দাবি উঠেছিল সেখানকার ভারতীয় দুতাবাসের সামনের রাস্তার নাম বদলে  ফেলানির নামে করে দেবার জন্য। তারপর যা হবার, তাই হয়েছে।  গরিব মানুষের মেয়ের মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদ বেশিদিন টিকে থাকে না – ঘটনা হয়ে যায় সংখ্যা । ফেলানি ঝুলে ছিল যে কাঁটা-তারে, দুই বাংলার মধ্যে সে কাঁটা-তার বানিয়েছে দিল্লী। এতে ওপার থেকে অনুপ্রবেশ কমেছে কিনা, তার কোন খবর নেই , তবে এই কাঁটা-তার লাগানোর বরাত পেয়ে যে ঠিকাদার-রা কাজ করেছেন, তারা যাদের ঠিকাদার হবার নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের যে পকেট ভালই ভরেছে, সেটা বলাই বাহুল্য। সেটাও আমার আপনার টাকা। তবে এটা যেহেতু ‘জাতীয় সুরক্ষা’র প্রশ্ন, বেশি হিসেব চাইবেন না। বেশি হিসেব চাইলে আপনাকে সিধা করার মত নানা কালা কানুন ভারতে মজুত আছে – অশোক-স্তম্ভের সিংহ-গুলি শুধু দাঁড়িয়ে থাকে না, কামড়ে রক্ত-ও বার করে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি পূর্ব্ব বাংলা ঘুরে এসে বললেন যে ছিট-মহল বিনিময়ের ঘটনা হলো বার্লিনের প্রাচীরের পতনের মতই ‘ঐতিহাসিক’। এই ‘ঐতিহাসিক’ ধারণাটা আমি কখুনই ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কোনটা ঐতিহাসিক, কোনটা নয়, কেই বা সেসব ঠিক করে দেয়।  তবে এটুকু জানি, যে দুই গরীব বাস্তুহারা টইটুম্বুর  বাংলার মধ্যে যে ‘অনিকেত প্রান্তর’, তার মাঝে কাঁটা-তার বসিয়ে আর যাই হোক, বার্লিনের প্রাচীর পতন হয় না। সীমান্ত-বাসী মানুষের ভাষা যারা বোঝে না, তাদের গায়ে উর্দি পরিয়ে, হাতে বন্দুক ধরিয়ে ধর্ষণ করানোকে, মন-মর্জি মতো মারামারি ও জিনিস-পত্র হাতানোকে, হতদরিদ্র মানুষ খুন করানোকে ‘সুরক্ষা’র নাম দেওয়া পাপ। এই পাপ কিন্তু আমাদের পয়সায় মাইনে পাওয়া-রা কিন্তু করে এপার বাংলার মানুষজনের সঙ্গেও।  এমন পাপ মা দূর্গা কখুনো মাফ করবেন কিনা জানিনা।

যখন এই দিল্লী-ঢাকা শীর্ষ দেওয়া-নেওয়া হচ্ছিল, পাশে থাকা থেকে সাথে থাকার সুললিত বাণী দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখুনই হাসিনা সরকারের প্রবাস কল্যাণমন্ত্রী মোশারফ হোসেন ফরিদপুরে তার বহুদিনকার চেনা একটি প্রথিত্জসা সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি জোর করে হাতিয়ে নেবার সব রকম ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। একদিন হয়তো সেই নিপীড়িত পরিবারের একজন ‘এপারে’ চলে আসবে। পশ্চিম-বঙ্গের বাঙ্গালীদের সংস্কৃতিক নিজস্বতাকে যারা স্বীকৃতি দেয় না, তাদের কোলেই খুঁজতে হবে নতুন আশ্রয় ও পরিচয়। তারপর তার এই নতুন প্রভু তার নিজের রাজনীতির খেলার অংশ হিসেবে দেখাবেন ‘নাগরিকত্বের’ লোভ। তাই দেখে পূর্ব্ব বাংলার কেউ কেউ বলবেন যে এমন ঘোষণা হলো অনধিকার-চর্চা। ঘর-পালানো মানুষটা কি আজ-ও ‘ওপারের’?  পূর্ব্ব বাংলার ভিটে ছেড়ে পালিয়ে আসা বাঙ্গালী হিন্দু ঠিক কোন মুহুর্তে ‘ইন্ডিয়ান’ হয়ে যায় এবং দেশ নিয়ে কিছু বলার অধিকার হারায়? পালানোর দিন ? বর্ডার পেরোলে ? ‘ইন্ডিয়ান’ নাগরিকত্ব পেলে? দুই পুরুষ পরে? নাকি এসবের অনেক আগে, ‘ভুল’ ধর্মে জন্মমুহুর্তে? আমি জানি না।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Bengal, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Hindustan, Identity, India, Kolkata, Language, Partition, Religion

বোর্ড, শিক্ষা, আদর্শ – দিল্লী আমাদের ভবিষ্যত লুটছে

আমি যখন ডাক্তারী পড়তাম, একটা কথা বেশ চালু ছিল।এই যে পৃথিবীতে ডাক্তারদের বাজার কখুনোই কমবে না।  কারণ জনসংখ্যা বাড়তেই থাকবে, ফলে রোগীর সংখ্যাও বাড়তেই থাকবে। এই যুক্তিটি জন-সংখ্যার সাথে যুক্ত অনেক কিছুর ক্ষেত্রেই খাটে – যদি না ভয়ানক গোলমেলে কিছু ঘটে।  ঠিক তেমনই কিছু একটা ঘটছে আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা-ক্ষেত্রে। এবং আমরা উদাসীন।  একটু খুলে বলি।

শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা দিন কে দিন বাড়ছে, স্কুল পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ছে আর এসবের মধ্যেই এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে ! ভাবা যায়? তাও সামান্য, নয় – নয় নয় করে প্রায় ১৫ হাজার। একই সাথে অবশ্য এ বাংলায় প্রতি বছর বেড়ে চলেছে দিল্লীর নানা বোর্ডের পরীক্ষার্থী সংখ্যা। পর্ষদ কর্তারা বেহায়া হয়ে অদ্ভূত সব কারণ দিচ্ছেন। কলকাতা শহরে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা এতই কমে গেছে যে নানা রকম অজুহাতের শাক দিয়ে পচে যাওয়া মাছ থেকে দুর্গন্ধ আটকানো যাচ্ছে না একেবারেই। এ কেমন করে হলো? এবং এমন চলতে থাকলে, ক্ষতি কি? ক্লাস টেন পাশ করাই তো মোদ্দা কথা – মাধ্যমিক হোক বা সিবিএসই /আইসিএসই। ব্যাপারটা এত সহজ নয়।

শিক্ষা নাগরিক গঠন করে। তাই একজন স্কুল-পড়ুয়াকে কি শেখানো হবে, সেটা গুরুত্তপূর্ণ। আমাদের বাংলাদেশের জাতি ও সমাজের ভবিষ্যত এই ‘কি শেখানো হবে’র আদর্শের উপ নির্ভরশীল। একেই বলে সিলেবাস। মাধ্যমিক ও দিল্লী থেকে আমদানি করা বোর্ড-গুলির সিলেবাস এক নয়। পার্থক্য আছে।  এই পার্থক্য মানের তারতম্যের প্রশ্ন না , ভিন্নতার প্রশ্ন। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে এতগুলি রাজ্য বোর্ড, তাদের সিলেবাসের ভিন্নতা আছে কারণ এই এলাকার মধ্যে বিশাল বৈচিত্র ও ভিন্নতা রয়েছে। তাই সিলেবাসকে যদি হতে হয় বাস্তবমুখী ও ছাত্রের আপন পরিবেশের সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত, রাজ্য বোর্ড ছাড়া তার গতি নেই।  আর যদি ছাত্রটিকে তার পারিপার্শিকতা থেকে বিছিন্ন করে, তার বাঙালিত্বকে ছেঁটে দিল্লি-নির্দেশিত এক কল্পিত ভারতীয়ত্তর জোব্বা পড়ানোই হয় সিলেবাসের লক্ষ্য, তাহলে দিল্লির বোর্ড-গুলির জুড়ি মেলা ভার। যা শুরু হয়েছিল সৈন্য বাহিনী ও বদলির চাকরির লোকেদের সুবিদার্থে তথা মিশনারী কিছু প্রচেষ্টায়, সেই গোষ্ঠী-গুলির দ্বারা পরিচালিত বোর্ড-গুলি এখুন কেন্দ্রীয়-সরকারী নীতির মদতে এক-কালের শক্তিশালী ও খ্যাতিমান রাজ্য বোর্ড-গুলিকে পরিকল্পনা-মাফিক মুমূর্ষু করে তুলছে – শিক্ষার বানিজ্যিকরন তথা নাগরিকদের বৈচিত্র হরণের দ্বিমুখী উদ্দেশ্যে।  তার ফল ভয়ানক।

বাংলার বোর্ডে ইংরাজি, বাংলা বা হিন্দী মাধ্যমে পড়া ছাত্রটি জানতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ভূগোলের খুঁটিনাটি বা বাংলার ধানের খেতে কি কি বোকা লাগে। তার ইতিহাস শিক্ষা স্রেফ দিল্লির  প্রাচীন ও বর্তমান সম্রাটদের গুনগাথায় সীমিত থাকে না। ভবিষ্যতে, জলে আর্সেনিক দুষণের প্রভাব দিল্লি থেকে আমদানি বোর্ড-গুলির সিলেবাসে না ঢুকলেও আমাদের ছেলে-মেয়েদের তা নিয়ে শিক্ষিত হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আমাদের এই বাংলাদেশের বৈশিষ্টগুলিকে বিশেষ-ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ইচ্ছা বা দায়, কোনটাই দিল্লীর নেই। ওদের থেকে আমদানি করা বোর্ড-এ  আপনার ছেলে-মেয়ে এই বাংলায় বসে ক্লাস-টেন পাশ করতে পারে এক বর্ণ বাংলা না শিখে। এই বঙ্গদেশের অধিকাংশ দিল্লী-বোর্ড-ওয়ালা ইস্কুলে প্রথম ভাষা হিসেবে বাংলা পড়ার কোন সুযোগ নেই। ভারতীয়ত্বের হাঁড়িকাঠে বাঙালিত্বের বলি দিয়ে যারা গুরগাঁও-বেঙ্গালুরুর দিকে শিশুকাল চেয়ে থাকবে চাতকের মতো, স্বপ্ন দেখবে হিন্দীর দেশের ইংরেজি মরুদ্যানে খেজুর গাছ হবার, আমরা কি সেই সন্তান গড়তে চাই? আত্মঘাতী হবার জন্য এর চেয়ে অনেক সহজ পথ আছে। 

এই বোর্ড-গুলি কার, এবং কাদের প্রাধান্য রক্ষা করতে গঠিত ও পরিচালিত, তা তামিল নাডু বা কর্ণাটকের অনেক শিক্ষাবিদের কাছেই পরিষ্কার।  শুধু এই অধম বাঙালি তার নিজের বোর্ড-এ পড়া ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত অন্ধকার করতে চায়, দিল্লির বোর্ড-গুলির সুবিধা করে দিয়ে।  কি ভাবে ? অনেক ভাবে।  একটা উদাহরণ এরকম।  অনেক  ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার।  তার জন্য দিতে হয় জয়েন্ট পরীক্ষা। তার সিলেবাস অধুনা বদলানো হয়েছে – যাতে কিনা পশ্চিমবঙ্গের বোর্ড ও দিল্লি থেকে আমদানি করা বোর্ড-গুলির সিলেবাসের মধ্যে যে অংশটুকু কমন, প্রশ্ন আসবে শুধু সেখান থেকেই।  অথচ, কেন্দ্র যে আইআইটি বা  অল ইন্ডিয়া প্রি-মেডিকেল পরীক্ষা নেয় , সেখানে কিন্তু কোন কমনের বালাই নেই – একদম সোজাসুজি দিল্লির বোর্ড-গুলির সিলেবাসকে অনুসরণ করা হয়।  অথচ, যেটুকু সুযোগ আমরা আমাদের ছাত্রদের দিতে পারি, সেখানে আমরা তাদের লেঙ্গি মারছি ‘কমন’ ‘কমন’ খেলায়।  আর বাংলার মেডিকেল কলেজগুলি থেকে যে ডাক্তার বেরুবে, যে কলেজগুলি বাংলার মানুষের টাকায় গড়া, তা কার  স্বার্থে? নিশ্চই কতিপয় কলকাতাবাসী ‘এস্পিরেসনাল’ যুবক-যুবতীর কেরিয়ার গর্তে নয়।  বরং তা বাংলার মানুষের স্বাস্থ্যের স্বার্থে।  আজ-ও বাংলার কনে কনে যে ডাক্তার , তারা অধিকাংশ সেই পশ্চিমবঙ্গ বোর্ড-এই পড়া  .গুরগাঁও-বেঙ্গালুরু-লন্ডনের স্বপ্নে বিভোর আধুনিক শহুরে ভারতীয় দিয়ে এই বাংলার স্বাস্থ্য পরিসেবা চলবে না, তার জন্য চাই সেই বাংলা বোর্ডের ছেলেমেয়েগুলিকে  – যারা জেলাগুলিকে চেনে, বাংলার গ্রাম-মফস্স্বল চেনে, এলাকার ভাষা জানে।  কোথায় আমরা তাদের আরো আরো সামনে আনব – তা না করে আমরা  ‘আধুনিকীকরণের’ নাম বাংলার নিজের বোর্ড-কে ধ্বংস করছি। এ সকলেই জানেন যে পশ্চিমবাংলায় দিল্লি থেকে আমদানি করা বোর্ডে পরা শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে  বেশি  শহরকেন্দ্রিক, বেশি বিত্তশালী বর্ণহিন্দু প্রভাবিত। পাশ করলেই বাংলা ছেড়ে ফুরুত হবার স্বপ্নে বিভোর শ্রেনীর ত্যালা মাথায়ে তেল দিয়েই কি আমরা  সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা করছি ?  গুরগাঁও-এর কর্পোরেট হাসপাতালের ডাক্তার গড়ার কোন দায় পশ্চিম-বাংলার মানুষের নেই। বাংলা বোর্ডের সিলেবাস নির্ধারণকারী আধিকারিক যারা, জয়েন্ট এন্ট্রেন্স বর্ডার পদাধিকারী যারা, তাদের সন্তানেরা কোন বোর্ডে পড়েন, সেটা জানা দরকার। নইলে এসব ক্ষেত্রে  অন্য কি কি ধরনের স্বার্থ  কাজ করতে পারে, তা জানা যাবে না।  আমাদের বুঝতে হবে কাদের চক্রান্তে বাংলা বোর্ড ক্রমে পরিনত হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেনীর বোর্ডে, যেখানে বনের জলে ভেসে আসার ঠাই পাবেন।

বাঁকুড়া জেলা স্কুল, বর্ধমানের সিএমএস। সিউরী জেলা স্কুল – এই নামজাদা প্রতিষ্ঠানগুলিকে জোর করে হারিয়ে দিলে শেষ নিরিখে বাংলা হারবে। দিল্লির নামধারী ইস্কুলে দিল্লি থেকে আমদানি সিলেবাস পড়ে শহুরে বাঙালির  বাচ্চারা মানুষ হবে – বাংলার ভবিষ্যত আর যেখানেই হোক, এই উড়ে এসে জুড়ে ব্যবসা করা ইস্কুল্গুলির অলিন্দে খোঁজা অনুচিত। ব্যাপারটিকে যেন আমরা  মাতৃভাষায় শিক্ষার সাথে গুলিয়ে না ফেলি।  পশ্চিমবঙ্গের মধ্যশিক্ষা প্রসদের অনুমোদিত স্কুলগুলির সিলেবাস বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে অভিন্ন।  আমি পড়েছিলাম সাউথ পয়েন্ট-এ , এক কালের নামজাদা ইস্কুল, পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের মুকুটের একসময়কার মণি।  এখান সময় পাল্টেছে – সেখানেও দিল্লি ও কেন্দ্র ঢুকেছে। শুনি ব্যবসা বেড়েছে। বেনিয়া কেন্দ্রীয়করণের এই প্রকল্পে, বাংলার মাজরা পোকা ও আলুর ধ্বসা রোগে নিয়ে শিক্ষার কোন জায়গা নেই।  তবুও কি আমরা আশা করতে পারি না, আমরা আমাদের বাংলার বোর্ড সেই ভাবে গড়ব , যাতে কিনা শহুরে বাঙ্গালী  ‘মিডিল-কেলাস’-এর গ্লোবাল ও ইন্ডিয়ান পোলাপানের সাথে মফস্স্বলের, গ্রামের, শহরের মধ্যে অন্যত্র শহরের সেইসব ছেলেমেয়েরাও সুযোগ পায় সাফল্যের – যাদের আজ দিল্লি ও তাদের বাঙালি দালালেরা জোর করে হারিয়ে দিচ্ছে।

2 Comments

Filed under Acedemia, বাংলা, Bengal, Class, Delhi Durbar, Education, Elite, Identity, Kolkata, Language

গোবিন্দ হালদারের নিষিদ্ধ ফিসফিস

সে যতই দেখনদারী হোক, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ওপার বাংলায় যাত্রার ফলে কিছু সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে – যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই একটি জাতির দুই বিভক্ত অংশের একে অপরের দিকে নতুন করে তাকানো। এই বিভক্তির কারণের মধ্যে, তার ঠিক-ভুলের মধ্যে না গিয়েও একটা কথা বলা যায়। দেশভাগ ও তার পরেও ঘটতে থাকা খুন-ধর্ষণ-ধর্মান্তরকরণ-লুঠ-ঘরপোড়ানো-সম্পত্তিদখল ইত্যাদি ভয়ানকের অপরাধের শাস্তি হয়নি, এপারেও – ওপারেও। এই আদি পেপার বোঝা সুদে-আসলে এতই ভারী যে মানুষ সেই বোঝাকে ফেলে দিয়ে ভুলেই গেছে পাপের কথা। প্রায়শ্চিত্ত তো দূরস্থান।

১৯৪৭-এর বাংলা-ভাগের সাথে ব্রিটিশদের দ্বারা উপমহাদেশের শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলির হাতে যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল, আজকের ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন, পাকিস্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এক অর্থে তার-ই ফসল। এই ভাগের সাথে সাথেই ‘আমরা’ কারা ,’বন্ধু’ কারা ’, ‘শত্রু’ কারা- এগুলির নানা মিথ রচনার বীজ পোঁতা হয়, যার থেকে বেরোনো মহীরুহ আজকের দিনে আমাদের মনকে, আমাদের কল্পনাকে একদম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে। নতুন রাষ্ট্রের পেটের গভীর থেকে জন্মানো এই কল্পকাহিনীগুলি যে আজ পবিত্র সত্যের স্থান নিয়েছে, তা শুধু গল্পের ভাবের জোরে নয়। সরকারী প্রচার এবং সরকারী বাহিনী, ঘুষ ও শাসানি, আঁচড় ও আদর, পুরস্কার ও থার্ড ডিগ্রী, জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও মিথ্যা মামলায় হাজতবাসের এক অসামান্য সংমিশ্রনেই আজকের পবিত্রতা, সংহতি, ‘বিকাশ’, রাষ্ট্রপ্রেমের জন্ম (দেশপ্রেমের নয়)। সাবালক এই সব বিষবৃক্ষের রসালো ফলের আমার দৈনিক কাস্টমার। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে, আমাদের স্বকীয় আত্মপরিচিতকে পিটিয়ে পিটিয়ে রাষ্ট্রীয় ছাঁচে ঢোকানো হয়েছে দিল্লী, ইসলামাবাদ ও ঢাকার মাতব্বরদের স্বার্থে। মানুষের আত্মাকে কেটে সাইজ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার জুজু দেখিয়ে। এই পাপ বঙ্গোপসাগরের থেকেও গভীর।

আমাদের কল্পনা ও স্মৃতির অগভীরতার কারণে আমরা মনে করি যে এক রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বোধয় দৈব নির্ধারিত কোন ‘প্রাকৃতিক’ নিয়ম যা না মানলে আমরা দুনম্বরী বিশ্বাসঘাতক মানুষ। যাদের আনুগত্য, টান ও ভালবাসা রাষ্ট্র-সীমান্ত পেরোলে ঝুপ করে উবে যায় না, তারা বুঝিবা মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং রাষ্ট্রের চোখে নেমকহারাম। রোজ এই ধারণাগুলিকে বিনা বাক্যে মেনে দিয়ে আমরা আমাদের এই মর্ত্যলোকে স্বল্প সময়ের জীবনকে করে তুলি ঘৃণাময়, ভীতিময়, কুঁকড়ে থাকা। ১৯৭১-এ কিছু সময়ের জন্য পূর্ব বাংলার মুক্তিসংগ্রামের সময়ে এপার বাংলায় এরকম অনেক তথাকথিত বিকার চোরাগলি ছেড়ে রাজপথে মুখ দেখানোর সাহস ও সুযোগ পেয়েছিল। এ সত্যি যে ১৯৭১-এ ইন্ডিয়ান উনীয়নের নানা এলাকায় পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সমর্থন ও সাহায্য ছিল। কিন্তু পশ্চিম বাংলায় এই সাহায্যের আড়ালে যে আবেগের প্রকাশ ঘটেছিল, তা আজকের ডেটল-ধোয়া ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্রাষ্ট্রিক সম্পর্কের পবিত্র গণ্ডির বাইরের এক প্রায়-নিষিদ্ধ জিনিস। পশ্চিমবঙ্গের সাথে পূর্ববঙ্গের যে একাত্তুরে ‘ঘনিষ্টতা’, তার সাথে কর্ণাটকের সাথে পশ্চিমবঙ্গের ঘনিষ্টতা বা কর্ণাটকের সাথে পূর্ববঙ্গের ঘনিষ্টতার কোন মিল নেই। এই মিল-অমিলের অঙ্ক মেলাতেই তো ঘনঘন বেজে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত, যাতে এরম চিন্তা গুলিয়ে যায় মিলিটারি ব্যান্ডের আওয়াজে। দিল্লি-ও একাত্তরে ভালই জানত এসব ‘নিষিদ্ধ’ প্রেমের কথা – কিন্তু এই প্রেম তখন তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পক্ষে কাজ করেছিল বলে বাড়তে দিয়েছিল কিছুদিন অন্যদিকে তাকুয়ে, তারপর রাশ টেনে সমঝে দিয়েছিল সময়মত। এই আচরণেরও অন্য উদাহরণ আছে। যেমন তামিল নাদুর বিধানসভায় শ্রীলংকার ইলম তামিলদের সমর্থনে যেসব প্রস্তাব পাশ হয়, তা নিয়ে দিল্লীর নিস্তব্ধতা – যেন দেখেও দেখছে না। যেমন কাবুল ও পেশোওয়ারের মধ্যে যে ঠান্ডা-গরম পাখতুন বন্ধন ও তা নিয়ে আজকে ইসলামাবাদের চাপা ভীতি।

১৯৭১ অবশ্যই অতীত। সেই ‘নিষিদ্ধ’ প্রেম আমরা কবে বন্ধক দিয়েছি বেঙ্গালোর-দিল্লী-নয়ডা-গুরগাঁও স্বপ্নে বিভোর হয়ে। তাই তো আজ, আমরা, এই বাংলায়, দিল্লির থেকে ধার করা চশমায় পূব দিকে তাকাই আর দেখি – গরুপাচারকারীর মুখ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মিছিল, হিন্দু বাঙালির শেষ আশ্রয়স্থল হোমল্যান্ডটিকেও জনসংখ্যার বিন্যাসে কেড়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র। এই সবই কিছু ঠিক, কিছু ভুল, কিন্তু সেসব ঠিক-ভুলের পরেও মধ্যে লুটোয় দিগন্তজোড়া বাংলাদেশের মাঠ, যে মাঠ শুধু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাঠ নয়, বরং নিখিল বাংলাদেশের মাঠ। সে উত্তরাধিকার আজ প্রায় তামাদি।

বিগতকালের এই যে সম্পর্ক, যার শেষ প্রতিভুদের একজন এই গোবিন্দ হালদার। একরাষ্ট্রের আনুগত্যে বাঁধা আমরা, তাই এ প্রেমের কথা কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার পায় না। এ সম্পর্ক – তা ঠিক পরকীয়া নয়, বরং এমন এক প্রেম যার শুরুর পরে প্রেমিক হয়েছে বিভাজিত। আর প্রেমিকার প্রেম থেকে গেছে একইরকম। কিন্ত অন্যের চোখে সে দুই প্রেমিকের প্রেমিকা, এবং কলঙ্কিনী। এমনই এক প্রেমিকা ছিলেন গোবিন্দ হালদার। গত ১৭ জানুয়ারী, ৮৪ বছর বয়সে মারা গেলেন অতি সাধারণ এক হাসপাতালে। অবিভক্ত যশোর জেলার বনগাঁ এলাকায় জন্ম।বনগাঁ ‘পড়ে’ ‘ইন্ডিয়ায়’।আকাশবাণীর জন্য গান লিখেছেন। একাত্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আকাশবাণী কলকাতা। পরে যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য প্রচুর গান লেখেন যা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ও পূর্ব বাংলার জনগণের মুখের গান, প্রাণের গান হয়ে ওঠে। মোরা একটি ফুল বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠেছে রক্ত লাল, পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা – এগুলি তার প্রবাদপ্রতিম রচনা। শ্রোতার ভোটে তৈরী বিবিসি রেডিওর সর্বকালের সেরা ১০টি বাংলা গানের তালিকায় তার দুটি গান উপস্থিত। এই লোকটি মারা গেল, কোন বঙ্গশ্রী, পদ্মশ্রী ছাড়াই। আসলে সে ঠিক গান লিখেছিল ‘ভুল’ রাষ্ট্রের জন্য। তাই এপারে তার কল্কে নেই। আমাদের মধ্যেই ছিলেন এতদিন। জানতে চেষ্টাও করিনি, কারণ রাষ্ট্রর ক্ষমতা যত বেড়েছে, তা আমাদের মানুষ হিসেবে ছোট করে দিয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-ও একাত্তরে গোবিন্দ হালদারের নাম ফলাও করত না – সে ‘ভুল’ রাষ্ট্রের যে। পরে ঋণ শোধের চেষ্টা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিত্সার খরচ পাঠিয়েছেন, সরকার পুরস্কৃত করেছেন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কলকাতায় মৃত্যুপথযাত্রী গোবিন্দ হালদারকে দেখে গেছেন। আমার কাছে একটা ছবি আছে – বৃদ্ধ গোবিন্দ হালদার বাংলাদেশের পতাকা নিজের বুকের কাছে ধরে আছেন। পার্টিশন এলাকার যারা নন, একদেশ-একজাতি-একরাষ্ট্র রাষ্ট্রের গর্বে বলিয়ান যারা, হয়ত ভাগ্যশালী তারা,কিন্তু তাদের কি করে বোঝাব এসব ? হয়ত তারা বুঝবে পরজনমে, রাধা হয়ে। তখুন হয়তো তারা অনুভব করবে গোবিন্দ হালদারদের দেশের ঠিকানা।

কেউ কেউ কিন্তু তলে তলে বোঝে। ঢাকার অভিজিত রায় – খ্যাতিমান মুক্তমনা ব্লগার। ২৬ তারিখে , একুশে বইমেলা থেকে ফেরত আসার সময়ে তাকে রামদা দিয়ে হত্যা করা হলো। তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। দায় নিয়েছে ইসলামী সংগঠন আনসার বাংলা-৭। প্রতিবাদে এ বাংলার কিছু মানুষ ২৭এই কিন্তু জমায়েত করলেন যাদবপুরে। নিষিদ্ধ প্রেম পরিণত হয় নিষিদ্ধ কান্নায়, কাঁটাতার ভেদী শপথে, চোরাগোপ্তা। সব রং তেরঙ্গায় নেই।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Kolkata, Language, Nation, Open futures

রাম ও রামীর পয়লা ফাল্গুন

কালকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে।  আপনার জীবনে যদি প্রেম-পিরিতির কেউ থাকে এবং  নগদ টেকা-টুকা থাকে, তাহলে এটা আপনার আধুনিক  নাগরিক কর্তব্য যে আপনি কাল চকোলেট কোম্পানি, মাল্টিপ্লেক্স কোম্পানি, রেস্টুরেন্ট কোম্পানি, গ্রিটিং কার্ড কোম্পানির মতো হরেক কোম্পানিকে কাল বেশি মুনাফা দেবেন।  আপনি উত্তরাধুনিক  নাগরিক হলে দেবেন ডার্ক চকোলেট, দেখবেন আর্ট ফিলিম, দেবেন অন্যের হাতে আঁকা কার্ড।  খাবেন  রেস্টুরেন্টে কারণ কুকিং বর্জন প্রগতিশীলতার এক প্রাথমিক শর্ত। এই সকল মাজারে চাদর না চড়ালে আপনার প্রেম খাঁটি নয়। যারা নরসিংহ রাও পরবর্তী যুগে লায়েক হয়েছেন, তাদের অনেকের এতদিনে প্রতি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে যা যা প্রেমের প্রমাণ জমেছে, তার একটা আর্কাইভ করলে বেশ একটা সমাজতাত্ত্বিক ব্যাপার হবে। কিছু ক্ষেত্রে এই উপহারের আর্কাইভ আবার অনেকের সিরিজ প্রেমের আর্কাইভ ও বটে – কে কার পেছনে কত টাকা খরচ করলো বা করলো না, স্মৃতির মনিকোঠায় সেই অনুযায়ী বরাদ্দ থাকে বর্গফুট কার্পেট-এরিয়া। হয়ত যারা কালচার-ফাল্চার স্টাডি করে শ্বেতাঙ্গদের কাছে দিশি মানুষের জীবনকে উজাগর করে নাম কামান, তারা দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু পুঁথিও লিখে ফেলবেন। আমার কথা নিশ্চই তেকেলে জ্যাঠার মতো  শোনাচ্ছে।  আমার ঠাকুরদার বাপ, আমার ঠাকুরদা, আমার বাপ – এরা সকলেই কুলের বড় ছেলে, অতয়েব নানা মানুষের জ্যাঠা। আমি এদেরই ডাইরেক্ট উত্তরসুরী। আমি মূলতঃ চট্টোপাধ্যায়।  গর্গ নামটি উছিলা মাত্র।

বাংলা জুড়েই একটি খাঁটি বাঙালি জিনিস আমার আপনার সকলের আছে। এটাকে বাংলায়ে বলে ফিলিংস। অনেকে এই মোক্ষম দিনে এহেন মোক্ষম ফিলিংস প্রকাশ করেন প্রথম বার। কে বলে যে শুধু আমরাই পাজি দেখে শুভ কাজ করি? আপনারা যারা আধুনিক-উত্তরাধুনিক – তার বেলা ? এই যে চেনা ছকে চেনা কোম্পানির চেনা উপহার দিয়ে চেনা ফিলিংস-কে দৃঢ় করা, এ কি “রিচুয়াল” না ? যত স্বকীয়তা আর স্বতস্ফুর্ততা, তা আপনাদের ক্রেতা-আচরণে? আর যত দোষ ও ব্যাকওয়ার্ড রিচুয়াল আমাদের সিন্নি চটচটে ধুনো ধূমায়িত পরিসরে ?

যখন প্রেম-পিরিতির সম্পর্কে যা গভীরত্ব জানান দিতে হয় বাজারী জিনিসপত্রের মাধ্যমে, এবং প্রেম-পিরিতির যাচাইও হয় বাজারের নিরিখে, তখন সে ভালবাসা সর্বার্থেই অর্থপূর্ণ। বাজার আজকে মোটামুটি এটা বুঝিয়ে ফেলেছে যে চাষের জন্য যেমন লাঙ্গল দরকার (বড়লোক হলে ট্রাক্টর), তেমনই ১৪ ফেব্রুয়ারী প্রেমের জন্য ফুল-চকোলেট দরকার (ধনকুবের হলে ছোট্ট হীরে)।  মনের সঙ্গে মালের এই সহজ কিন্তু কুটিল সম্পর্ক প্রথমতঃ কল্পনার শত্রু। দুইটি মানুষ যখন এই দিনকেই ইস্পেসাল করে তোলে, এই দিনেই জিনিস -প্রদান করে, তারা নিজেদের স্বকীয়তাকে গৌণ  করে দেয়। রামা-শ্যামা-যদু-মধু সকলেরই প্রেম একদিন বেশি করে জাগে, একই দিনে তারা চেনা চকে চেনা জিনিস করে, তা রাম ও রামীর অথবা রাম ও শ্যামের যে নিজস্বতা, তাকেই নস্যাত করে।  দুই প্রেমীর কাজ হয়ে যায়  গ্লোবাল সংস্কৃতির পাতায় সামান্য ফাঁকা জায়গায় নিজেদের নাম লেখা – ফিল আপ দি ব্ল্যান্ক। বাকিটা এক। কিন্তু মানুষ তো এরকম এক না। তাই পিরিতির এই ভালেন্তিনীয় প্রকাশে কোন কোন সম্ভাবনার মৃত্যু হয় ? নগদ-হীন ভালবাসা প্রকাশে কার লাভ, কার ক্ষতি? কাগজে ছাপাঅশোকস্তম্ভের সিংহের কাঁধে ভর করা এ কোন ভালবাসা ?  অশোক স্তম্ভ ছাড়া যেমন ভারত রাষ্ট্র নেই, চকলেট-খানাপিনা-সিনেমা-ফুল-গিফটের মোড়ক ছাড়ালে যেটা বাকি থাকে, সেটা কি ? এগুলি না থাকলে, কি বাকি থাকে? কাদের ক্ষেত্রে বাকি থাকে, কাদের ক্ষেত্রে থাকে না ? এগুলি স্রেফ প্রশ্ন।  কার ভালবাসা খাঁটি আর কারটা মাটি , সেটা মাপার  জ্ঞান আমার নেই। তবে গদাধর চট্টোপাধ্যায় বলে গেছেন – টাকা মাটি, মাটি টাকা। মা সারদা আজকাল টাকার ব্যাপারে কম বলছেন, মাটি নিয়েই মনোযোগ বেশি। মার্কিন দেশে ২০১৩-তে একেকজন মানুষ গড়ে ৭৮০০ টাকা খরচা করেছেন ভালেন্টাইনস ডে  বাবদ। যদি মার্কিনি হয়োনের শখ থেকে থাকে, তালে ওই ৭৮০০ সংখ্যাটিকে পাখির চোখ মনে করে এগিয়ে চলুন। খ্রিষ্টীয় সন্ত ভালেন্টাইন আপনার সহায় হোন।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে আমাদের বাংলাদেশের জনজীবনে, বিশেষতঃ শহুরে এলাকায় একটা জায়গা করে নিয়েছে।  জায়গা করে নিয়েছে আরো অনেক কিছুই।  এসবের ক্ষেত্রে একটা কথা খুব শোনা যায়।  চয়েস।  আমি যা চাইব। আমি চাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে – এটা আমার চয়েস।  ভালো কথা।  কিন্তু চয়েস বা বাচাবাচির মধ্যে  যা বাছা হয়, তা যাপনে হোক, ভাষায় হোক, বসনে হোক, দিবসে হোক – তার ভৌগোলিক উত্পত্তিস্থল যদি পৃথিবীতে সংখ্যালঘু যে শ্বেতাঙ্গ মানুষজন, তাদের  এলাকা থেকেই আগাপাশতলা আমদানি করা হয়, তাহলে চয়েস আসলে বাড়ে, না কমে ?  বিশ্বায়নের ফলে তো আমাদের  বিশ্ব আরো ব্যাপ্ত হবার কথা ছিল – বসনে, ভূষণে, ভাষায় সবেতে বৈচিত্র বাড়ার কথা ছিল।  তাই না ? গলদটা কোথায়?  তার জন্য হয়ত আমাদের এই ১৪ ফেব্রুয়ারির বাংলায় আমদানির গল্পটি জানতে হবে, সেই আমদানির ফড়েদের কথা জানতে হবে, আমাদের কল্পনা ও ফিলিংস কেমনে  শ্বেতাঙ্গ পপ-কালচারের গারদে আটকা পড়ল, সেটা একটু ভাবতে হবে। শ্বেতাঙ্গ আক্সেন্ট ও জোক্স মুখস্ত করতে করতে আমরা আমাদের বগল ও কুঁচকি দেখতেই ভুলে গেছি। ময়লা জমবেই।  তখন সেন্ট যদি আমদানি করতে হয়, সায়েবের কি দোষ ?

আমি যখন মার্কিন দেশে থাকতাম, তখন ১৪ ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে নানা জিনিস নতুন মোড়কে পাওয়া যেত।  ১8 তারিখ কাটলেই সেগুলির দাম হয়ে যেত অর্ধেক।  আধুনিক ও উত্তর-আধুনিকদের  বিশ্বেও  তিথি অনুযায়ী জিনিসের দর বারে কমে, ঠিক কোজাগরী লক্ষী পুজোর দিনে সবজির মত। এবার ভ্যালেন্টাইন্স পড়েছে পয়লা ফাল্গুনে।  শুনতে কি বোরিং লাগছে না? পয়লা ফাল্গুন আর ১৪ ফেব্রুয়ারী কি এক হলো ?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Language, Sahib

বাম্বু ও বিষ্ণু

যে জাতি মাতৃভাষার অধিকার ও সম্মান রক্ষা করতে মানভূমে, ঢাকায়, বরাক উপতক্যায় বারবার রাস্তায় নেমেছে, মার খেয়েছে, মৃত্যুবরণ করেছে, এমনকি দেশ স্বাধীন করেছে, সে জাতির মুখের ভাষার প্রশ্ন যে রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে ওঠে, সে আর আশ্চর্য কি। তবে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক কালের যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাষা নিয়ে, তা ঠিক ভাষার অধিকার নিয়ে নয়, সর্বসমক্ষে শালীনতা বজায় রাখার দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে। সে কথায় একটু পরে আসব। প্রথমেই বলি আমার নিজের কুল-গরিমা নিয়ে। আমার পিতৃকুল হুগলী জেলার পাটুলিগ্রামের অনেক বহুকালের (মানে বহু শতকের) বাসিন্দা এবং এই ‘দেশ’-এর সঙ্গে এই প্রজন্মেও আমাদের সম্পর্ক বেশ গভীর। আমরা রাঢী ব্রাহ্মণ এবং কৌলিন্যপ্রাপ্ত (অর্থাৎ কুলীন)। আমার পূর্বপুরুষেরা বিবাহ-সুত্রে ফুলিয়া মেল প্রাপ্ত হন। অর্থাৎ হিন্দু-প্রধান পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক বিন্যাসে আমরা একদম যাকে বলে টপ-ক্লাস। আমাদের কুলের একজন রায় বাহাদুর ছিলেন, যা কারণে অকারণে (যেমন এখুন) আমরা টুক করে জানিয়ে দিই (ইংরেজিতে যাকে বলে নেমড্রপিং)। এর থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার। তা হলো যাকে কিনা কিছু পন্ডিত এক বিশেষ ধরণের ‘সাবল্টার্ন’ বলেন, এবং আমাদের ‘নিজেদের’ মধ্যে চর্চায় বলি ‘ছোটলোক’ (প্রকাশ্যে বলি অন্ত্যজ, ব্রাত্যজন ইত্যাদি ), আমরা আর যাই হই, তা নই। আমার এই কুলেরই আমার প্রিয় এক জ্ঞাতি জ্যাঠামশাই আমাদের পৈতের পরের বছর দুর্গাপূজার সময় এক সংস্কৃত মন্ত্র শেখান। এটি আচমন মন্ত্র। কোনো অস্ট্রিক ব্যাপার স্যাপার নাই। মন্ত্রটি এরকম – ‘ওঁ বিষ্ণু তদ্‌বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ। দিবীব চক্ষুরাততম্‌।। ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু।’ কুলীন টু কুলীন জ্ঞান ট্রান্সফার হিসেবে আমার রসিক জ্যাঠা ফাজিল ভাইপো-কে এর মানে বলেন। ‘ওঁ বিষ্ণু’ অর্থাৎ একটি বাঁশ , তদ্‌বিষ্ণোঃ অর্থাৎ সেই বাঁশ, পরমং পদং সদা পশ্যন্তি অর্থাৎ পরের পশ্চাতে সদা প্রবেশ করাইবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। বলাই বাহূল্য, আসল মানেটা তাই ছিল না। সেই অর্জিনাল-এ বিষ্ণুর বঙ্গায়ন হয়ে বাঁশ হয় নাই। আমাদের পাটুলিগ্রাম তথা জিরাট-বলাগড় এলাকায় বাঁশঝার বেশ ঘন। তাই হয়তো বিষ্ণু যখন হিন্দুস্তান থেকে বাঁশঝার নিবিড় এই বাংলাদেশে আসেন আমাদের হাত ঘুরে, একটু অদলবদল হয়ে যায় আর কি। ইয়ার্কি মারছি বলে রাখলাম – বিশেষতঃ বোষ্টমদের প্রতি এই ক্ষমাপ্রার্থনা। আমরা শাক্তরা একটু ইয়ে হই। এবার ফিরি রাজনীতি, ভাষা ও শালীনতা প্রসঙ্গে।

পাটুলিগ্রামে যা বাঁশ, লন্ডনে তাই ব্যাম্বু, আর এই দুইয়ের মাঝামাঝি জল্পাইগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাই হয় ‘বাম্বু’। এতে বেশ একটা ‘বিতর্ক’ হয়েছে। এক দল বলছেন, রামঃ, বঙ্গেশ্বরীর মুখের এই ভাষার ছিরি? একদম ‘ঝি-ক্লাস’। কোটি টাকার আঁকিয়ে ও গল্প-কবিতার বই লিখিয়ের আড়ালে এই তাহলে স্বরূপ? আরেকদল বলছেন, আমাদের এই বাংলাদেশের লক্ষলক্ষ মানুষের মুখের ভাষা এরকমই। যিনি জননেত্রী তার ভাষাও যে হবে গণমানুষের মতো, নন্দনে বসে মার্কেজ পড়নেওয়ালাদের মত নয়, তা বলাই বাহূল্য। দুই পক্ষকেই বলি, ভাবের ঘরে চুরি করে কি লাভ? বাম্বু দেওয়ার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়া, প্রবল ভাবে শ্রেণী-ঘৃনা উগরে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর শব্দচয়নকে সমালচনার উছিলায়, এগুলি ভন্ডামি ও ন্যক্কারজনক। একই সাথে, যারা এমন ভাব করছেন যে কিছুই হয়নি, ভাষা তো ভাষাই, শব্দ তো শব্দই, মানুষে তো এমন করেই কথা বলে গোছের অজুহাত দেখিয়ে বাম্বুর খুঁটি দিয়ে নেত্রীর সাথে জনগনের হৃদয়ের সম্পর্কের গভীরতা মাপছেন, তাদেরকে বলি যে বাংলার গণমানুষকে অপমান করবেন না।

এটা ঠিক যে সব শব্দই সমানভাবে একটি ভাষার সম্পদ – বেশি সম্পদ বা কম সম্পদ নয় । ভাষা জীবন পায় তার ব্যবহারে। সেই ব্যবহারের একটা প্রেক্ষিত আছে। ঠিক যেমন আমরা মাষ্টারমশাই-এর সামনে সিগারেট খাইনা ( যারা উচ্চতর লিবার্টি চেতনার ভারে কুঁজো হয়ে গেছে, তাদের কথা বাদ দিলাম ), ঠিক তেমনই মা-বাপের সামনে কিছু ধরণের শব্দ প্রয়োগ করিনা যা কিনা ইয়ার-বন্ধুদের সাথে চলে। ব্যক্তিগত জীবন ও যাপনকে উলঙ্গ ভাবে মেলে ধরা যাদের জীবনাদর্শ, তারা এই স্থান-কাল-পত্র বুঝে শব্দ প্রয়োগের মধ্যে দ্বিচারিতা দেখতে পারেন। তাদেরকে অনুরোধ, যে ধরনের গণমানুষের কথা বলে বাম্বুর সামনে পর্দা টানা হচ্ছে, সেই রকম ভাষা তারা পথে যেতে-আসতে রোজ ব্যবহার করে দেখুন। গণমানুষ বলবেন ‘মুখ সামলে’। এই গণমানুষ ‘গালমন্দ’ বোঝেন, আবার বোঝেন কারুর মুখের কথা সুন্দর। তাই জনগনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বুলেট বা বাম্বু, কিছুই ছোঁড়া অনুচিত। জলের লাইনে ‘ঝি’-দের ঝগড়ার ভাষা টুকুই যারা শুনেছেন কিন্তু শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা রোজ সক্কাল সক্কাল উঠে কিছুক্ষণের কর্পোরেশনের জলের সাপ্লাই-এর জন্য একাধিক বালতি নিয়ে অপেক্ষা করা যাদের জীবন-যাপনের অংশ নয়, তাদেরকে বলি – এরা গান গায়, ভালবাসে,ঘুম পাড়ানিয়া গান শোনায় শিশুদের। আপনারা যাদের লোকসঙ্গীত বিশ্ববাজারে বেচে খান ও ফান্ড আনান, এরা সেই ‘লোক’। গালি দেওয়া বা বাম্বু দেওয়া, একটিও সহজাত নয়। হয় তা পরিস্থিতির সামনে একটি প্রত্যুত্তর, চরম হতাশার প্রকাশ কিংবা জিঘাংসার উদগিরণ। আমি অবশ্যি কলকাত্তাই সেই ভদ্দরলোক শ্রেণীকে এসব গালি-চরিত থেকে বাদ দিলাম, যাদের কাছে f-ওয়ালা ৪ বর্ণের ইংরেজি গালি হলো কুল (অর্থাত নব্য কৌলিন্যের চিহ্ন) কিন্তু বাংলা গালি হলো চীপ ও ভালগার। তারা অন্য গ্রহের বাসিন্দা। তাদের দূর থেকে প্রণাম।

বাম্বু দেওয়া বা বাম্বুর দ্বারা তাড়া খাওয়া, এ যদি রাজনীতির ভাষা হয়, তাহলে আমি বলব এ ভাষা অশালীন হোক না হোক, চরম হিংস্র তো বটেই। রাজনীতি যখন এলাকা দখল বা এলাকা ধরে রাখার খেলায় পরিনত হয়, সেই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বাম্বু এক প্রতিশোধমূলক একক। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার আরেক মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির কুকথার বলেছেন যে নিরঞ্জন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের মানুষ উঠতে বসতে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ান না, বাংলার তৃণমূল স্তরের মানুষ বাম্বুর চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকেন না। তারা চাকরি চান, নিরাপত্তা চান, বাম্বু দিতে চান না, নিতে তো নয়-ই। বাঁশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংগ্রাম কল্পনা আমাদের বাংলাদেশে বেশ পুরনো। বাঁশেরকেল্লার মধ্যে যতটা ছিল ‘সাবল্টার্ন’ ততটা ছিল হিংস্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদ। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার আরেক মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির কুকথার সাফাইতে বলেছেন যে নিরঞ্জন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের মানুষ উঠতে বসতে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ান না, বাংলার তৃণমূল স্তরের মানুষ বাম্বুর চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকেন না। তারা চাকরি চান, নিরাপত্তা চান, বাম্বু দিতে চান না, নিতে তো নয়-ই। রাজনৈতিক দল একটি তাঁবুর মত, তা দাঁড় করিয়ে রাখতে বাঁশ লাগে। বাঁশ যেন বাংলার রাজনীতিতে স্থায়ী কাঠামোর কাজ করে, সচল না হয়। নইলে তাঁবু-ও ভেঙ্গে পড়বে। তাঁবুর ব্যাপারীরা বাঁশ সচল করার আগে আশা করি একটু ভাববেন। কারণ ফেইসবুকে সেদিন দেখি এক জায়গায় লেখা , ‘সময় থাকতে পিওর হন,নইলে বাম্বু দেবে জনগণ’।

2 Comments

Filed under বাংলা, Bahishkrit Samaj, Bengal, Caste, Elite, Kolkata, Language, Polity, Power

Bostonian accent and coconuts / Urban vision blind to the poor and their languages

[ Daily News and Analysis, 15 Apr 2014 ; The Independent (Bangladesh), 16 Apr 2014 ; Millenium Post, Apr 23 2014 ]

The greater Boston area of the United States of America has a very good public transportation system. This comprises of buses, local trains, boats and the metro rail. The Red line is one of the metro routes, stopping at Harvard and MIT, the two institutions where I have spent all of my academic-professional life outside Bengal. This means that I have taken the Red Line metro many, many times. One of the stations on the route is called Porter Square. Soon after the metro leaves a stop, there is a recorded voice which lets the passengers know what the next station is. The way that voice said ‘Porter Square’ was in what can be called a Bostonian accent. That is apt since the metro is in Boston, most users of the metro are from Boston and that is the accent they are most comfortable with.

The Unites States of America exists much beyond its territorial limits. Specks of California and Manhattan are scattered in urban centres of the southern world, including our subcontinent. Here, in Delhi, Mumbai, Bangalore and beyond, those specks of Amerikana exist with a lot of vigour thanks to the brown-outside-white-inside coconut desis whose rootlessness attracts them to these ‘cosmopolitan’ areas. The subcontinent lives with such offsprings, proudly alienated, consciously ‘liberated’ and hip. With sentences peppered with ‘like’ and liberally spreading their ‘sh*t’,‘cr*p’ and other four-letter jewels among the rest of us, they constantly want to signify their ‘cosmopolitan’ awareness, maturity and liberation. Picking up the expressions of their own life’s many moments not from their living environment but from but from American/western popular media styles is the principal marker of these types. The problem is, it does not end there.

Given their numbers, they wouldn’t have mattered unless wielded inordinate power over policy and public life, given ‘English mediates our own social hierarchy’, as Hartosh Bal astutely puts it. They speak English in ‘cafes’ and restaurants, Hindi to their domestic helps. They prefer to live within self-created bubbles where they perform predictable ‘firangi duniya’-philia rituals with a commitment that often amuses the West. This is like the amusement of a father who has just come to know that the rape he had committed actually resulted in a child who loves him more than its mother.

Coming back to public transport. The coconuts constantly lament that brown cities are not ‘outsider’ and tourist friendly. This is rich coming from those who are voluntary outsiders in their birth-lands. They lament that the buses often have things written in ‘local’ language. The same goes for street signs, shop names and so much more. This constant reminder of brown-ness is an eyesore that they have successfully removed from their bubbles. Their all-English restaurant menus, their all English working spaces, get-togethers, poetry-readings, book-launches, debates, discussions, malls and supermarkets help them, at least in certain hours during their daily life, forget the horrid brown land whose imprint they carry, whether they like it or not. And so they complain of their spaces being ‘too vernacular’, harbor ideas of transforming the subcontinent’s urban areas into ‘world class’ – which is a code for a place where a firang would not feel lost. The fact is that in the last couple of decades, in the language of street names, public signage, private spaces and much more, the staggering majority of the people have been progressively told to ‘get lost’.

The poor and their language have been excluded for long. Now even the middle-class is under attack. In the brown subcontinent, even a telecaller now starts in default in English or Hindi, irrespective of whether it is Chennai or Mumbai. We are staring at an increasingly exclusionary urban vision which is undemocratic and downright insensitive which consciously overcounts the few and ignores the majority. At the root of this is an elite idea of citizenship, what constitutes a human being, who is counted as a person of value.

Yet, our languages live among the people on whose back breaking work everything is made, while angrejiwalas have their sausage, wine, banter and sophistication, building tapestries and ‘narratives’. If there is good in this universe or there are gods and goddesses who care about human dignity, something must give.

Leave a comment

Filed under Americas, Class, Culture, Education, Elite, Knowledge, Language, Sahib, The perfumed ones

The Goonda first came for the Assamese / Gunday on the loose / The Bollywood Gunday threat against Assam and Bengal

[ Daily News and Analysis, 4 Mar 2014 ; Dhaka Tribune, 5 Mar 2014 ; Echo of India, 11 Mar 2014 ]

People in the Bengals use the word ‘Goonda’ quite liberally – to refer to anything between a naughty child to the local political thug. But in the eyes of law, who is a Goonda? One of its many legal definitions is to be found in the Control of Disorderly and Dangerous Persons (Goondas) Act (East Bengal Act IV of 1954). There is goonda is someone ‘involved in affray, rowdyism or acts of intimidation or violence in any place private or public so as to cause alarm to the people living or frequenting the neighbourhood’. According to the Uttar Pradesh Control of Goondas Act (U.P. Act No. 8 of 1971, amended by U.P. Act No. 1 of 1985), it is ‘generally reputed to be a person who is desperate and dangerous to the community’. But if film and artist communities in Assam and West Bengal have been protesting mischief and many young people in the People’s Republic of Bangladesh are disgusted at the false and mischievous retelling of its Liberation struggle, then the source of mischief can safely be called a Goonda, at least rhetorically if not legally. When there is more than one such public enemy, in Hindi they are called Gunday. Gunday are backed by deep-pockets whose ulterior projects are more extensive than the specific acts of mischief. More often than not, the Gunday of the real-world are mercenaries for other people’s projects, even part of broader, more sinister projects of which the employed Gunday may not be even aware of. The Gunday are as important as the people who dictate what Gunday does, how they do it, when they do it.

In the reel-world, ‘Gunday’ is a project of Yash Raj Films, a Bollywood centric entertainment behemoth. It is one of greatest flag-bearer of Bollywood Hindi films, that grandest by-product of ‘Indianness’. Some perverse people like me feel that the relationship is inverse – that ‘Indianness’ is a byproduct of Bollywood Hindi films, among other things. It is the thread that connects the browns to browns, with the punitive sedition laws at hand just in case some folks didn’t get the point. Whatever be the tall ‘diversity’ claims of the Indian Union, the cultural landscape after partition has a couple of winners (English being one) and a large set of losers. In the Indian Union, we all know that cultural and political clout of which language has expanded after partition, so much so that not knowing it is seen as a sign of being politically and culturally queer. This advancement comes with the retreat of Marathi, Kannada, Bengali, Assamese, etc. as playgrounds of cultural imagination and virtual annihilation of fecund tongues like Maithili, Awadhi, Brajbhasha, etc. It is not accidental that the most successful film industry is of the same language that receives the maximum preferential subsidy for its advancement. The subsidy to English in poor brown-land is a scandal of another scale altogether.

Let me not beat about the bush and come to the point. Gunday is a Bollywood Hindi film. For West Bengal, it was dubbed in Bengali. This make one, get many formula by dubbing into other tongues makes economic sense for the producer. But that also opens the flood-gates for this trend. The film and cultural community in West Bengal has protested against this. If using their mighty economic muscle, Bollywood producers can brow-beat distribution networks and cinema halls into showing such dubbed material, this will be an economic bonanza for Bollywood. Much black money will find greater returns but fledling non-Hindi film industries will fail ruin as they cannot outcompete Bollywood in black money, film volume and the cinema-hall blackmailing strength that comes with it. This desperate aggression was in full display in Assam where Rajni Basumatary’s Assamese film ‘Raag’ which was running quite well was removed by economic goondaism to make way for Gunday. Not too many films are produced in Assamese and when a good one is made with help from the Assam Film Development Corporation, this is the fate. Cultural diversity, even cultural competition, can only flourish in a level economic playing field. No amount of bleating about ‘unity in diversity’ changes that basic fact.

Let me describe a scenario. Dubbing my story and then forcing it down your throat using my economic muscle will slowly silence you. You wont be able to tell your own stories. You will have to adapt my stories. It does not matter if you have a long tradition of telling stories. Soon you may even develop an aesthetic sense for my stories, get alienated from your stories, from your people, look at them with curious eyes of an outsider. In short, I will destroy you cultural roots, replace them with mine and you will finally clap along the way. If that does not make me a Goonda, I don’t know what does.

The acts of some gansters have international manifestations. Gunday has chosen to parrot the official Delhi fiction of Bangladesh being a product of a brief Indo-Pak war. The people of that independent nation did not take that lying down. The producers have apologized. The Assamese can dream on. Pakistan has sought to protect its film industry by trying to restrict ‘Indian’ (read Bollywood) films. The states of the Indian Union have no such power, just like they do not have the power to protest the huge subsidy and preference given to one desi language. Apparently, this language ‘unites’. We know how this unidirectional unity works. No Assamese film will be dubbed in Hindi and released to multiplex audiences in Delhi and Mumbai. Not in this nation state. If slow but sure annihilation of certain cultures is a pre-condition to some kind of a ‘national integration’ project, then that nation is an enemy of those cultures. It is up to the Indian Union to decide what integration project it wants to promote – a predatory one or a harmonious one. It is up to you, the viewer, to ask whether your film ticket is filling a goonda’s pocket.

 

 

1 Comment

Filed under Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Hindustan, Kolkata, Language, Nation, Pakistan

January on Jessore Road / The besieged Hindus of Bangladesh

[ The Hindu, 16 Jan 2014 ; The Friday Times (Lahore), 17 Jan 2014 ]

“Hey there mister can you tell me what happened to the seeds I’ve sown

Can you give me a reason sir as to why they’ve never grown?

They’ve just blown around from town to town

Till they’re back out on these fields

Where they fall from my hand

Back into the dirt of this hard land”

– Bruce Springsteen, This Hard Land

Few moments in the past century evoked as much hope in its stakeholders than the emergence of the People’s Republic of Bangladesh as a secular state in the eastern part of the subcontinent. Drenched in the blood of martyrs and fired by lofty idealism that has still not completely died, this nation-state has not lived up to its ideals. Often declared by some to be the greatest achievement of the Bengali people, is at a dangerous crossroad, once again. The ruling Awami League has an unenviable record of corruption and graft tainting its last 5 years in government. To be fair, the previous elected government of the Bangladesh Nationalist Party (BNP)-Jamaat-e-Islami combine had a track record far worse in this regard. But the country is young and the BNP-Jamaat was last in power 7 years ago – when a significant section of the present population was had not reached adulthood. In addition to that, the opposition, especially the Jamaat, has been partially successful in using its massive economic clout and international propaganda apparatus to portray itself as a victim of state-sponsored witch-hunting. The ‘witch-hunting’ boils down to two things that can all but finish the Jamaat off as a viable political force. The first is the deregistration of Jamaat as an electoral force, as it privileged divine ideas over democracy in the party constitution – something that the Supreme Court deemed as illegal. The second is the War Crimes trial of those who committed crimes against humanity during 1971. Almost all of the present Jamaat leadership was heavily involved in murder, rape, arson and forced conversions. In a subcontinent where politics thrives on the erasure of public memory, this episode has refused to disappear. In fact, a dilly-dallying Awami League government was almost forced by the youth movement in Shahbag to pursue the war crimes trial seriously. Facing the prospect of political annihilation, the Jamaat responded by a three-pronged offensive. One, marshaling young Madrassa students and use them for blockading Dhaka. Two, lending BNP its activists to act as boots-on-the-ground. Three, carrying out targeted attacks on the homes, businesses and places of worship of Hindus, the nation’s largest religious minority. But the collateral damage is often wider.

Farid Mia, a fruit seller, had the extreme misfortune of being near the Ruposhi Bangla Hotel in Dhaka when the street-fighters of the opposition BNP–Jamaat combine hurled petrol bombs indiscriminately. They were aiming to create a scenario of fear in the run-up to the parliamentary elections of January 5, which the principal opposition combine was boycotting. By January 8th, the elections were over. So was Farid’s fight for life at the Dhaka Medical College Hospital. The devastated face of the young child Mohammod Liton, Farid Mia’s youngest son, will go down as a call to conscience, however transient. Farid was unlucky. He could not have known that he would be a victim.

But there are predictable victims. In 2001, after the BNP led alliance won the elections, the usual pattern of murder, rape and arson targeting Hindus happened on a very wide scale. Hindus have traditionally voted for the Awami League. The guarantee for ‘Jaan’ and ‘Maal’ is important for the survival of any people. In the Awami League regime, although Maal in the form of property and homestead has been regularly taken away by Awami League powerfuls, the attack of life and systematic rape of minority women was not part of the party’s policy. The same cannot be said of the BNP-Jamaat under whom cadres, systematically aided by the police forces, have regularly threatened both ‘Jaan and Maal’. Thus, it is not hard to see why the Hindus chose the devil over the deep sea. The Hindus who had voted in 2001 had learned their lesson when they were targeted in massive post-poll violence, most infamously in Bhola. This time around, the Hindus seemed to be out of favour from both sides. While they were targeted by the BNP-Jamaat for coming out to vote at all, in other areas they were targeted by Awami League rebels for coming out to vote for the official Awami League candidate who happened to be of the Hindu faith. There have been disturbing signs over the last few years that at the very local level, the difference between the ‘secular’ Awami League and the communal-fundamentalist BNP-Jamaat seems to disappear, though publicly the former does not tire in parroting the secular ideals of 1971 – the much used and abused ‘Muktijudhher chetona’ (Ideals of the Liberation War).

The violence unleashed against the Hindus this time around, before and after the 5th January polls, have been worst in Jessore, Dinajpur and Satkhira, though many other places like Thakurgaon, Rangpur, Bogra, Lalmonirhat, Gaibandha, Rajshahi and Chittagong have been affected. If people remember Thakurgaon and Dinajpur from a different time, it is probably because these were strongholds of the communist-led Tebhaga movement of the late 1940s. Part of the reason few riots happened in these areas when the subcontinent was in the throes of communal riots was the cross-community solidarity and political consolidation that had been achieved. That was then and we have come a long way since then. Malopara in Abhaynagar, Jessore, inhabited by Bengali Dalit castes, has been attacked repeatedly. Large scale attacks on villages, businesses and places on worship, able-bodied men being on night vigils, women huddling together in one place – all these things brought back memories of 1971 for many of its inhabitants. In Hazrail Rishipara of Jessore, women were raped at gunpoint for the crime that their families had voted in the January 5th election. Dinajpur has been badly hit with cases of beatings, home and shop burnings, and putting fire to haystacks and crops. Both Jessore and Dinajpur being areas bordering West Bengal, crossing the border for preserving life is a sad trek that many have undergone. Such slow ‘squeezing out’ is not new, neither is it intermittent. It is a continuously process that is an effect of a political discourses the willy-nilly aims to delegitimize the very existence of the minorities on their ancestral land by always asking the question –‘Why are you still here?’. ‘Why am I still here’ is a question the minorities have asked themselves and as the statistics show, a staggering number could not find a good answer and hence they left. The trickle has been slow and silent. The ‘Partition’ continues.

The ‘Partition’ was swift and vicious in the Punjabs and Sindh where religious minorities have ceased to exist for all practical purposes. This is not so in the Bengals, where many still live in the ancestral land claimed by nations whose legitimacies are much more recent than people’s ancestral claims over their homestead. Nearly 30% of the Bengal’s western half’s population is Mohammeddan (the figure was 19.46% in 1951, after the 1947 partition). Even in the eastern half, little less than 10% of the population is Hindu (it was 22% in 1951). In East Bengal, secular politics does exist beyond the fashionable drawing rooms of liberaldom. It was one of the four much touted foundational principles of the 1971 Liberation war. The autocratic years of BAKSAL, the long years of army rule when the barracks used Islam to create a veneer of political legitimacy beyond the Awami League and pro-liberation forces, the overtures by mainstream parties to fundamentalist groupings – all of this has given religion-based politics a front-row seat in the nation. Neither have religio-political organizations been immune to the violent turn of this brand of politics internationally in the last decade or so.

How did things come to be this way? The issue of minority targeting, one must admit has deeper roots than simple ‘communal politics’ and ‘mixing politics with religion’. Pro-Pakistan forces, which looked to faith-unity as basis of statehood, did not disappear after the Liberation War. They were broadly and transiently (as it increasingly seems) delegitimized due to the their role in the atrocities of 71. But what about the ideological moorings of the project that religion marks a nation? What about the splinters of that project stuck deep in the political and social structures? That trend did not die not did it dry up. One has to remember that even the Awami League in its inception is a faction of such a trend that reoriented later along the lines of Bengali Nationalism. In the imagination of all the ruling factions since 1947 during East Bengal, East Pakistan and Bangladesh periods, there has been a tacit understanding of the normative citizen – a Muslim Bengali male or a Bengali Muslim male. Hindus of East Bengal are a living reminder of a Bengaliness that is not co-terminal with narratives that conflate Bengaliness (or Bangladeshiness) with being a Bengali Muslim. Their progressive marginality in numbers makes this conflation project easier. Such projects are not necessarily active political projects but often live in the underside of mindscapes that can be ‘secular’ in very many declarations. Thus they can be marginalized without being actively targeted in ‘innocuous’ everyday dealings. Communally targeted violence feeds off from a broader spectrum of support, from active to lukewarm to unconscious.

In any modern nation-state, the majority can decide to be whatever it wants and the minority has to follow suit. So Hindus were expected to become Pakistanis overnight in 1947. While Bengali Muslims politicians have the autonomous agency to un-Pakistanize themselves at will, east Bengali Hindus could only publicly do so at explicit cue from their Bengali Muslim brethren. At any rate, they are never ‘good enough’ citizens in whatever dispensation they find themselves. At one point, they weren’t good enough Pakistanis. Now they are not good enough Bangladeshis. What is the commonality between being a good enough Bangladeshi and good-enough Pakistanis, since being Bengali is not enough. Isn’t religious majoritarianism part of that mix? If yes, what did 1971 achieve for the security of ‘maal’ for Hindus, given that more Hindu land has been usurped by the Awami League than by any other party. But still the Sarkar Bahadur is responsible for jaan and maal. As I said before, the Awami League takes maal for protection of jaan. BNP assures neither. This is part of the draw for Awami League for the Hindus of East Bengal. Just like other minorities, extra-territorial loyalty is the easiest slur that is bandied about. And this is also what makes minorities lesser citizens in a polity – they cannot critique their state in all the ways a majority community person can. They are forced into living double lives and then condemned for living it. Fortunately or unfortunately for Hindus of East Bengal, West Bengal exists where their situation is nothing but information to be used tactically by Hindu-majoritarian forces to oil their own political ambitions. Thankfully, they have been more successful outside West Bengal than within it, but who can say for how long?

But still one cannot but hope that the People’s Republic of Bangladesh would live up to its original ideals. Minorities have fled the nation-state for want of security in large numbers, year after year. Numbers matter. It also matters that nothing of the scale of Delhi 1984 or Gujarat 2002 has happened there since 1971. The name of a ‘Hindu’ hero like Shurjo Sen can be chanted spiritedly by tens of thousands of mostly Muslim youths in the streets of Dhaka. There is no such parallel in the nation-states that are the other fragments of 1947. Even in the recent protests at Shahbag, lakhs raised slogans in his name. “Shurjo sen-er banglaye, jamaat-shibirer thhai nai (No place for Jamaat-Shibir in Shurjo Sen’s Bengal).” There is significant presence of minorities in the bureaucracy and local administration. Even in the recent spate of violence, the state has transferred police officials for failing to provide security. Gonojagoron Moncho, the youth movement that spearheaded the Shahbag protests for war crime trials, has led a road-march to violence stricken Abhaynagar to stand in solidarity with the affected. This is not a fly-by-night visit by VIPs or a handful of politicos. This reality exists too. It is this reality that partly prevents a mass exodus of Hindus beyond the levels seen at present. There is too much to lose to leave. Still. For far too many.

সুধাংশু যাবে না

–শামসুর রাহমান

লুণ্ঠিত মন্দির, আর অগ্নিদগ্ধ বাস্তুভিটা থেকে

একটি বিবাগী স্বর সুধাংশুকে ছুঁলো

‘আখেরে কি তুলি চলে যাবে?’ বেলা শেষে

সুধাংশু ভস্মের মাঝে খুঁজে

বেড়ায় দলিল, ভাঙা চুড়ি, সিঁদুরের স্তব্ধ কৌটা,

স্মৃতির বিক্ষিপ্ত পুঁতিমালা।

স্বর বলে, ‘লুটেরা তোমাকে জব্দ ক’রে

ফেলে আশে পাশে

তোমার জীবনে নিত্যদিন লেপ্টে থাকে

পশুর চেহারা সহ ঘাতকের ছায়া,

আতঙ্কের বাদুড় পাখার নিচে কাটাচ্ছ প্রহর,

তবু তুমি যেও না সুধাংশু।’

আকাশের নীলিমা এখনো

হয়নি ফেরারি, শুদ্ধাচারী গাছপালা

আজও সবুজের

পতাকা ওড়ায়,

ভরা নদীকোমর বাঁকায় তন্বী বেদিনীর মতো।

এ পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনো কোথাও

পরাজিত সৈনিকের মতো

সুধাংশু যাবে না।

Risen from the embers of an ancestral place–plundered temple–

An unearthly voice vibrates in Sudhanshu

Are you, finally, leaving?’ At the end of the day

Sudhanshu gropes amidst cinders

For the deeds of his homestead, splintered bangles, the mute colours of a vermillion box.

The dog-eared scatters of manuscripts in memory.

The phantom says, ‘The plunderer has beaten you

Here and there

Your daylight clings to

An animal outline ambushed by a murderer’s mien,

You spend your hours crouching under the bat-wings of terror,

Despite all, do not leave, oh Sudhanshu.’

The blue of this sky is yet to

Diminish, the sacred trees

Are yet flying green

Banners, the copious river

Meanders her waist like a slim snakecharmer lass.

He won’t abandon this sacred earth for elsewhere,

Unlike a retreating soldier in defeat,

Sudhanshu would forever not leave

– Shamsur Rahman

(Gargi Bhattacharya translated the poem from the Bengali original)

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Displacement, Foundational myths, History, Identity, India, Language, Memory, Nation, Pakistan, Partition, Power, Religion, Rights, Terror

Why Pakistan’s resistance to Bollywood is justified

[ The Express Tribune, 24 Dec 2013 ]

The case in Pakistan regarding the continued certification and commercial screening of films produced in the Indian Union territory has been settled. Mubashir Lucman, Film Producers Association and Cinema Owners Association have come to an agreement that would allow for the equal sharing of screening time between films made locally and those imported from the Union of India. This is a useful opportunity to discuss some issues regarding the commercial import and certification of Bollywood Hindi films in Pakistan.

Let us first understand what are these ‘Indian’ films. We are largely talking of films made in the Hindi language produced via a very cash rich industry setting in Mumbai. For the rootless young people in certain metros of the Indian Union, that is much of what constitutes ‘Indian’ films. But for those who are talking in terms of greater mutual understanding via these films, one needs to realize that much of the Indian Union does not speak Hindi. Additionally, they do produce their own films. The content of such non-Hindi films represent a much greater terrain of the subcontinent than Bollywood Hindi flicks can ever aspire to. To be fair, Bollywood Hindi films never did aspire to that. Thank the gods for that, as with the money power behind Bollywood Hindi films, they might even try to define Tamil-ness or Bengali-ness through a metro-centric Hindi medium. Are they influencing people in Pakistan with an alien commercially produced idiom? If yes, people in Pakistan better take notice.

And those who portray films as some sort of a medium to develop Indo-Pak bonhomie might also do well to look beyond Bollywood. Virulently anti-Pakistan films with a lot of ‘action’ are also a Bollywood Hindi film sub-genre. Yes, that does good business. Go find an Assamese, Bengali, Tamil, Manipuri or a Oriya film in the last fifteen years that has an anti-Pakistan theme. There are none. Are these not ‘Indian’ films? What is it about Bollywood Hindi film idiom that lends itself to making films like Gadar: Ek Prem Katha and LOC Kargil, which unabashedly dehumanize people from Pakistan? The economic muscle of Bollywood ensures that such films receive a wide audience. It is not the specific film that matters. Pakistan can choose to not allow this film or that. But it is the same set of cartels that produce most of the films – the ones that are anti-Pakistan and the ones that are unrelated. This industry understands only money and would not stop from producing the next commercially lucrative anti-Pakistan blockbuster? There is a market for such prejudice in India just like there is a market for anti-Hindu prejudice in Pakistan. Do people from Lahore and Karachi really need to add to the profits of an industry that sees no qualms in showing Pakistanis in bad light?

Most Bollywood Hindi films are set in the cities of Mumbai or New Delhi, and increasingly in cities of the Western World where people from North India live and aspire to flourish. This can be Sydney, London, New York or Chicago (Dhoom 3, an action film released a few days ago and which has already grossed crores of Rupees, is set largely in Chicago). Delhi and Mumbai choses to tell its story and wants people to pay for it. But Karachi is not Delhi and I am sure it has its own stories to tell, stories that are different from the stories of young partying explorers of Mumbai and Goa, stories that are not about aspirational or ‘everyday’ life of Delhi people. Inspite of the Zia years, one can be sure that 15 crore people have stories to tell. If the decision was left to the burgers, they might even start a juloos in support of Hollywood and Bollywood. The culturally illiterate has no investment in their own cultural milieu. That is precisely why their ‘tastes’ shouldn’t be setting agendas. Nor can they be depended on for a revitalization of films culturally rooted in Pakistan (and not cheap Bollywood remakes).

Bollywood Hindi films represent the metro-centric and homogenized ‘idea of India’ in the mind of the new Indians – 20-40 years old, in the top 5% income category, aspirational migrants with Hindi and English being their near exclusive vocabulary. They are concentrated in a few cities but they have the economic might to determine cultural policy. These multiplex consumers with their moneybags have done a great assault to the idea of mass-films, which is why now film profits are not an indication of film popularity. Pakistani film industry is up against an economic behemoth with an agenda of own-cultural expansion. Its production, distribution and broadcasting machines are well oiled. Stupendous amounts of black money from deep pockets bankroll the ‘creative’ explosion that is Bollywood.

The twin attack of a homogenizing national ideology and economic muscle has grave implications on visible public culture. The 19th Kolkata International Film Festival witnessed the extra-ordinary scene of Bollywood Hindi filmstars being feted in a manner as though they represented some pinnacle of human achievement. It was a sad moment – underlining how limited and predictable the cultural horizon of West Bengal’s film industry had become. The lack of self-confidence showed. Film industries that do not have as much black money circulating, have lesser number of casting couches, have lesser number of ageing ‘artists’ and producers targeting young actresses, have lesser number of big crooks financing films and which do not make films in Hindi or India-English, have been relegated to second and third class status. Pakistan has the legal mechanisms to stop the damage that Bollywood has done to films industries elsewhere. It better act soon.

Leave a comment

Filed under Culture, Delhi Durbar, Identity, Kolkata, Language, Pakistan

‘Sala Main To Sahab Ban Gaya’… and other thrills / Angrezi delusions

[ Daily News and Analysis, 23 Dec 2013 ]

Very recently, I was on a flight from Zurich to New Delhi, operated by Swiss International Air Lines. My co-passenger was brown like me and had strong opinions on the mis-pronunciation of English words by desis. The person was especially perturbed how even proper nouns and place names were being rendered unrecognizable. My co-passenger was quite sad that this was happening. I mostly did the listening. I guess trans-continental flights are spaces that assume a kind of brown cultural homogeneity and hence a commonly held set of sensibilities. The top 5% income category browns have many worldly burdens. Defending the sanctity of the mother tongue of Anglo-Saxons apparently is one of them.

All through our journey, the captain kept us updated about how the flight was going. The captain, who was Swiss, repeatedly said that out destination city was ‘Deheli’. The firangi word pronunciation Nazi who I was sitting with it seemed to have no take on this. ‘Deheli’ was okay, given the race of the speaker. There was nothing to be ‘corrected’. It was his natural accent. There was no need to graduate into some ‘ higher’ state of correctness, whatever that is. While ‘Deheli’ of Swiss extraction was deemed acceptable, ‘Delly’ is the pronunciation of choice for the uppity. This is what some pack of pale-face marauders had pronounced a few centuries ago and what could be wrong about that. Dehli or Dilli may not sound anything like ‘Delly’ but that did not make ‘Delly’ a mis-pronunciation in my co-passenger’s sensibilities. This sensibility is more widely held. It is my suspicion that the origin and contours of such refined sensibilities and the predictable double-standards hold some clue to the increasingly rootlessness one observes in the metro-centric aspirational classes of the subcontinent.

Now try to imagine the reverse. When someone says ‘New Yaark’ as many in Punjab may do, or ‘Lawndawn’ as many in Bengal do, the brown thikadars of English pronunciation will react with thinly veiled contempt. You may even be ‘corrected’ in ‘good faith’ – ‘See, it is ‘actually’ pronounced like this’. Between these responses, the speaker of ‘Lawndawn’ will be classified by the enlightened brown ones as either being not well rounded enough or being an obstinate non-learner or worst still, getting some vicarious thrill by sticking out.

They will try to explain root-cause of ‘New Yaark’ and ‘Lawndawn’  – you know, socio-economic rungs and such. And that moment of trying to explain is an illuminating moment – it explains the person who is doing the explaining. Their exasperation with ‘Lawndawn’ standing uncorrected goes much further and deeper than plain prickliness about the mother tongue of English people. It veers into the underbellies of their Anglicized exteriors – into ideas of correctness, propriety, higher and lower, sameness and difference, own and foreign, alienation and privilege.

At the centre of this probably stands the fear of being swept away in this brown subcontinent by those who think, imagine and love in their mother tongue. The alienated recognize the confidence that comes with it. That confidence is a threat that needs to be broken; otherwise it has insurgent qualities that might just want to reclaim centre-stage. What absurdity is that, in ‘this time and age’? The speed with which we label something absurd hints at something else. As Allan Bloom said, ‘The most successful tyranny is not the one that uses force to assure uniformity, but the one that removes awareness of other possibilities, that makes it seem inconceivable that other ways are viable, that removes the sense that there is an outside’. The even sadder bit is that an alienated, self-hating minority is able to dictate the terms of what is this outside.

‘New Yaark’ and ‘Lawndawn’ symbolize exactly the sort of confident agency that is rootless is fearful of, partly because it reminds them of their own ‘non-place’-ness. Identifying deeply with the oppressor’s ‘refinement’, they would rather have agency always stay with the oppressor while they can take on the mantle of being gatekeepers to that enchanted world of refinement. The culturally illiterate Bombay-Delhi bubble urbania, with their undue and incestuous grip on the ideology of indoctrination systems like centres of higher learning, fear things that draw inspiration from the ground beneath their feet, and not from the words of gods from superior worlds. They love to play the role of this native priest (to lesser brown folks) and translator (to remotely enthusiastic firangis). They stand at the gates of modern citizenship in brownland, correcting their backward folks as liberated pundits. I wish it were funny. It is not.

Leave a comment

Filed under Bahishkrit Samaj, Class, Colony, Elite, Identity, Knowledge, Language, Sahib

Next time you hear intellectual mumbo jumbo/ On the accountability of ‘intellectuals’ / Knowledge in these times / Lacking in intelligibility and accountability

[ Daily News and Analysis, 19 Aug 2013 ; Morung Express, 23 Aug 2013 ; Daily Excelsior (Jammu), 25 Aug 2013 ; Echo of India, 1 Sep 2013 ; Millenium Post, 24 Aug 2013 ]

A kind of human being derives strange pleasure in appreciating music that few others like. In fact, if too many people start listening to it, they get dejected. Their special thing has become too commonplace like a road-side tea stall. Such is often the case with those academicians and their acolytes who love big words and impenetrable sentences. They protect their rarified lens to the world with smugness. They are quick to defend their demi-gods of helped them build these lenses. Why would legitimate knowledge seekers be so invested in thinkers than thoughts themselves and whether such idolatry is healthy for frank and critical knowledge production is another question.

In the first year of my PhD at Harvard, I sat in a 2-semester long statistics class. Professor Jim Sidanius, a former Black Panther, taught us concepts – breaking them down for us. But he also wanted to make sure that we were digesting the broken bits. He knew that hiding behind jargon is the best way to evade clarity. And he would have none of it. So, when he asked us questions, and we started replying in jargon, he would promptly cut us short and ask with a smile – ‘How will you explain that to my grand-ma?” This was a crucial question. In many cases, it called our bluff and made us more honest to ourselves. This was more than knowledge acquisition. Jim was trying to drive in a characteristic that academicians and thinkers owe to society – clarity.

Clarity is something that ought not to be limited to knowledge acquisition, but also knowledge production and communication of ideas. But are not some ideas inherently so complex that an insistence of broad intelligibility would somehow make those ideas flatter than they actually are. And to this, a response came from Steven Pinker, another professor from our department at Harvard. To simplify is not to be simplistic, he said.

Fine, but why should we care about such issues at all? Ideas shape people, their ideas about themselves, other and the world at large. So, if certain kinds of ideas gain currency, it is important that these do not become received wisdom but are critically evaluated by the people. For that, it is necessary that knowledge and ideas are available to the people at-large, with clarity, in forms and sites they can best engage in. Academicians occupy the most privileged centre of knowledge production in our times – the university. Hence they have to be held particularly accountable in this regard.

However, when we look into the academic circles that universities have been breeding, they seem to breed a pathetic tendency to jargonize and speak in tongues that are largely (and I daresay, intentionally) unintelligible to people. The intention is not necessarily conscious for most practitioners of this dubious art – it is something they pick up to be counted. This gulf between ‘high-brow’ knowledge and its public intelligibility is most acute in those practitioners to invoke that shameful phrase ‘in our field’. Typically, this implies that one would take liberties about facts or be oblivious of contrary facts, not expose the underbelly of assumptions to scalpels, would discount fundamental criticisms as being ill-motivated or worse, expressions of ‘power’. Such a petulant water-tightness is typically seen in ‘fields’ full of ‘-isms’ or those where sentences are peppered with things like, ‘in a –ian sense/paradigm/view’. And so forth. The latter is a classic method of saying – I will say this to you without explanation. Either you will not along as you wont admit to knowing what the ‘-ian view’ is, or if you say so, I will give such an exasperated look and say, well all this has been known for so long, and you are not at an intellectual level where I deem fit to engage with you. And such elements still have the gall to say that society owes their keep to them. It takes an immense amount of hubris to think that ideas articulated in forms unintelligible by much of perfectly intelligent people have added that much to that understanding that it can demand funding in spite of being unintelligible.

In the subcontinent, a rich tradition of handed-down knowledge in the form of songs and sayings attributed to thinkers like Kabir and Lalon Shah and myriad other unnamed ones, makes one thing very clear. The subcontinent has had intellectuals who have engaged with the public in terms that were clear and have been thought leaders who have shaped people’s conceptions. In such interactions, knowledge and ideas are located within society, and not in some cabal outside it, claiming to ‘understand’ society. Song and pravachans which people still know and remember have helped people deal and make sense of the human condition for millennia.

Only in a self-important and delusional view of human existence do recently produced knowledge and ideas come to be considered so groundbreaking and crucial for understanding the human condition. This view, in which the recent is so privileged, expresses the same kind of attitude that concepts like jahalaat embody. The difference is that the last 100 or 400 years are considered unprecedented.

Some would have you believe that the last 50 years have been crucial. But then we know there is nothing special except the kind of self-importance that confuses recency with progress. In such a ‘progressive’ world-view, earlier times are deemed bland. For example, the 50 years between say 1200 AD and 1250 AD would be considered much less ‘eventful’ which the period between 1950 and 2000 apparently has been world-changing is terms of idea productions. But the world was there then and it is there now. The same is true for the humankind and the human condition.

To think of ourselves of having been born in some special time can be nice. But it gets problematic when, to make careers out of ideas generated in the last 50 years, people start over-selling these times. That the selling involves more hocus pocus does not help. And hence, public scrutiny becomes important to separate the wheat from the chaff. At the end of the day, we know that two humans make more sense of the world than one, and three more than two, other things being the same. So, claims of certain geographical locales being particular sites of production of relevant and crucial knowledge, especially when such locales are also centers of colonial capital accumulation, have to be viewed with suspicion. Ideas from these locales also are in lock-step with the idea that the last 400 years or so have so uniquely informative in understanding the human condition. Decolonization of the mind is not an easy thing. It is especially hard to accomplish when such concepts live so comfortably within us, become like our skin and self-identity. We are not only slaves in what we follow, we can also be slaves in what we deem important, how we organize our mental worlds around exotic concepts, especially when we exhibit a distinct lack of understanding of the knowledge and ideas around us, in the specific geographies where we are embedded, in flesh, descent and culture. How did we come to be the way we are is a question we ought to be asking ourselves.

I again return to the role of the intellectual, the academic, the thinker. Like most people who live off the public exchequer, earning one’s keep has to have people’s assent. Speaking over the head of the people, in the name of the people, remaining unintelligible and all the time claiming to unearth some deep understanding of the people, of their lives, desires, politics, structures and what not, is good for conversations inside such cabals. The outside world has not been scathing in asking for accountability. Like the Sanskrit mantras of today, these are performed technically in public view but are insider-talk at the end of the day. Such insider-talk, whatever its purported merits and brilliance, come with a severe lack of checks and balances, like any other priestly order. This is a dangerous thing for knowledge production as load fulls of quality bull shit can pass off as insight if its sounds and feels right to the ‘initiated’. The world, especially poorer societies, can ill afford the luxury of continually feeding white elephants whose public engagement ends within the ramparts of the university or other such spaces. It is about time that the real world asked for explanations about what is being done with their money.

Leave a comment

Filed under Acedemia, Democracy, Education, Knowledge, Language, Power

Close the gap / NEET ways of killing off competition / Nothing ‘national’ about this entrance test / Entrance test and bias

[ Daily News and Analysis, 11 Jun 2013 ; The Telegraph (Kolkata), 26 Jun 2013 ; Millenium Post, 19 Jun 2013 ; Echo of India, 22 Jun 2013 ; Hitavada, 20 Jun 2013 ]

The medical entrance scene in India has changed with the introduction of the undergraduate National Eligibility cum Entrance Test (NEET). This was meant to be a single window test. In one go, the NEET has replaced most of medical entrance tests that were prevalent. By qualifying in the NEET, students would be able to compete for a percentage of seats in most medical colleges, throughout the Indian union, by their ‘national’ rank, while their ‘state rank’ would be useful to compete for medical college seats in states where they fulfill domicile requirements. From the very start, the NEET scheme scheme has been mired in controversy, with the initial steadfast refusal of the apparatchiks of the Medical Council of India (MCI) to allow question papers in non-Hindi subcontinental languages. In the non-Hindi states, a majority of students study primarily in their mother tongue. The status of English as the pre-eminent language of the science in the world today is clear – but that didn’t explain why the MCI was fine with Hindi (not really known to have some long-standing language of science heritage) but not with other languages. Finally, the MCI had to buckle under severe pressure exerted by several non-Hindi states like Gujarat, Tamil Nadu, West Bengal, etc. The disgraceful compromise was that students can opt for question papers in Telugu, Assamese, Gujarati, Marathi, Tamil and Bengali (languages corresponding to the states that showed some spine) but those who do opt for the test in the ‘regional’ language will not be eligible for the all-India quota. ‘Regional language’ is not a term that exists anywhere in the constitution of the Indian Union – it is a figment of imagination and is a telling clue to the mindscape of Delhi-based administrators. This term has been used in the information booklet issued by the Central Board of Secondary Education (CBSE), another Delhi based outfit that is in charge of conducting the test. However, if a student took the test in Hindi, they would be eligible for the all-India quota. There have been very few instances where the federal system has been abused to such a grave degree in matters of education. The abject surrender of the states is even more sordid as they finally buckled under the pressure.

The results of the NEET were announced on June 5. The states stood in a pecking order of sorts, in terms of the percentage of students who qualified. Assuming an equal medical seat density throughout the Union ( this is not true), a worse over-all result from a state would mean that more seats in medical colleges of  that state would be bagged by out-of-state individuals while there will not be any corresponding parity. For states, which have a greater then average medical seat density and a low performance in the NEET, this is a double whammy. This has been the case with Maharashtra in the results that were announced.

One may ask, in this India-wide marketplace, it is only ‘merit’ that should matter, isn’t it? This ‘merit’ talk falls flat on its face as we know, that for decades together, private medical colleges have been admitting students who need not demonstrate any more merit than a 50% score at the Class XII examination. They have gone on to become doctors. It shows that the undergraduate medicine course-work is not something that requires top ranks. The ranks have become important as a sieving tool due to the severe dearth of medical seats in a territory as populous as the Indian Union. The problem is compounded by the fact that a MBBS degree is a sure-shot ticket to the top 5% income bracket in the nation. Hence the over-subscription for medical college seats and all the merit talk that comes with it. There is no systematic empirical evidence from the subcontinent that one’s rank in a medical entrance has anything to do with one’s success as a medical practitioner or researcher.

It is useful to ask what are medical entrance exams for. It may not be out of place to take one step back and ask, what are medical colleges for? To answer that, it is important to remind ourselves what it is not for. It is not for providing good exam takers of 12th standard science with a prize in the form of a lucrative career. It is also not for nourishing holy cows like ‘national integration’, filling the medical college seats with the most ‘meritorious’ (with all the dubious assumptions associated with that term) or worsen the already skewed urban rural divide in the density of doctors. At a very basic level, it is to produce trained health workers who would provide healthcare to the multitude and/or advance the understanding of human biology and diseases by research. The way in which the NEET is set up, is a grave challenge to these objectives. The results of the first NEET bear out that bitter truth.

Framed from Delhi, after ‘consultation’ (it has to be one of the most abused terms in a flawed federal system), the NEET syllabus favours those who have undergone their schooling and training in the CBSE/ISC framework, the syllabus being a vital component of that framework.  States  boards with syllabi that differ considerably from the CBSE are at an unfair disadvantage – they have to change or perish, for absolutely no reason. The viability or ‘worth’ of a board of education’s science syllabus then is not in how well it teaches science to the students but incredibly, by how well it has adapted (or not) the basic framework of a Delhi-based boards’ syllabus. Are students studying science at the 12th standard in the CBSE syllabus uniquely equipped with an understanding of the sciences that is unparalleled by the state-boards? Or in other words if the state-boards are being forced to emulate the CBSE (in the name of removing aligning syllabi), is it something worth emulating? By rigorous research work (published in Current Science, 2009) that reviewed the comparative performance of students from different boards, Anil Kumar and Dibakar Chatterjee, scientists at the Indian Institute of Science , showed that  when it comes to science proficiency, CBSE is not numero uno. West Bengal board students did better than CBSE students in all 4 science subjects – Physics, Chemistry, Biology and Mathematics. Andhra Pradesh does better than CBSE in Mathematics and Physics. By the same metric, Maharashtra is hardly the worst performing state as it was in the NEET. Tellingly, neither West Bengal nor Andhra Pradesh were top performing states in the NEET. Independent non-CBSE excellence has thus become an albatross around their neck. the CBSE ‘pattern’ of syllabus has become the standard, even though research shows it isn’t the best.

At a time when the urban-rural divide in doctor density is a matter of serious concern, the NEET favours a certain breed of to-be-doctors. Within a state, it favours students who study in central syllabi. This means, those segments of society who study in non-state boards will be disproportionately over-represented in the NEET. What are the implications? It means, more seats in medical colleges in states will be occupied by those who are more likely to be urban, non-native speakers of the state’s principal language, from a higher economic class who can afford to send their wards to well-established entrance exam factories in Kota and elsewhere, with feebler roots to the state and so on. Central boards have a lesser penetration in the non-Hindi regions. A recent 2-page advertisement from a Kota-based entrance-exam factory mentioned nearly a score of its clients in the top 50 NEET ranks. Of these 20 odd students, almost all were clearly North-Indian names. The south, on the other hand, has a higher seat density. The implications are not very encouraging as it can be assumed that those who are from a state are more likely to serve in rural outposts of the state as a career-physician. All these speculative points can be debated, but for that we need data. The NEET was conceived without any such data being made publicly available.

The NEET was sold on the point that it minimizes the number of entrance exams. What proportion of students studying science at the 12th standard took multiple medical entrance exams? This data is crucial. This is a very low number. And those of the central board profile likely to be over-represented even in that low number. So this grand scheme forces everyone to change to help an already privileged minority. This puts science education at the higher-secondary level in jeopardy all over as it reduces its goals to professional course entrance examinations. What the whole NEET exercise may be doing is to widen the pipeline that supplies medical manpower for snazzy hospitals that are being opened in metropoles that attract capital. There is a feverish rush of activity in an industry quite ironic for India – medical tourism.

The humble status of central boards to such commanding heights of dictation ( and not necessarily excellence) has happened with a concomitant fall in the status ( and again, not necessarily quality) of state boards. This phenomenon cannot be divorced from the centre-state context of the Indian Union where federalism means what bit of power that the states have can be wrested from them under various ruses. Education was classified as a state subject after partition.  It needed the Emergency under the Indira Congress to push education to the concurrent list by a constitutional amendment. Education, like most other concurrent list subjects has seen the slow ceding of power from state to centre, ‘consultations’ notwithstanding. The long-term implications of such India-wide tests are a future two-tier education system – the CBSE/ISC route for ‘people like us’ and state boards for the rest. As it is now, more students will continue to study in state-boards. In this year of ‘federal front’ talk, the return of education to the state list should be considered seriously for greater common good. For starters, the states which take rural healthcare seriously  should consider quitting the NEET.

Disclaimer: Garga Chatterjee was educated in a state board and was once a ‘topper’ of a state medical entrance examination.

*** DNA version ***

The undergraduate National Eligibility cum Entrance Test (NEET) was conceived as a single test by which students would be able to compete for seats in medical and dental colleges all over the Indian Union and also in states where they can prove domicile. Since inception, this scheme has been controversial — Central Board of Secondary Education (CBSE) initially refusing to allow question papers in non-Hindi subcontinental languages. Under the

compromise formula, those who do choose Telugu, Assamese, Gujarati, Marathi, Tamil or Bengali would be ineligible for the all-India quota. Hindi comes with total eligibility. Few of Delhi’s interventions have been so blatant.
NEET results were announced on June 5. States varied widely in their performance. Let’s clarify what medical entrance exams are not for. It is not for providing the kid who can answer many questions in a stipulated number of hours after months of training at costly coaching institutes with a lucrative career prospect and possibly a good bargaining chip for dowry or to provide manpower for medical tourism or worsen the already skewed urban rural divide in the density of doctors. It is to produce human resource that would provide health care to the multitude and advance the understanding of human diseases by research. NEET is a grave challenge to these goals.

The syllabus of NEET, framed by the CBSE, favours those who have studied in the CBSE syllabus. State boards with non-CBSE syllabi are at a distinct disadvantage. Are 12th standard students studying science by the CBSE syllabus uniquely good? Research by Kumar and Chatterjee shows that when it comes to high-level science proficiency, state boards like West Bengal and Andhra Pradesh are excellent. West Bengal board outperformed the CBSE in all science subjects — Physics, Chemistry, Biology and Mathematics. Andhra Pradesh outperforms CBSE in Mathematics and Physics. Maharashtra is not the worst performing state as it was in NEET. Neither Bengal nor Andhra Pradesh makes it to the top three states in NEET.

The syllabus issue is important as within a state it also favours those segments of society who study in CBSE — they are likely to be urban, non-native speakers of the state’s principal language, from a higher economic class who can afford to send their wards to Kota- based entrance exam factories, with feebler roots to the state and so on. What are the long-term effects of such individuals occupying more seats?

The USP of the NEET was that it minimizes the number of entrance exams. What proportion of students studying science at the 12th standard took multiple medical entrance exams? This is a very low number. Higher-secondary level science education’s goal must look beyond medical/engineering entrance examinations.
In medical research, the Union is abysmally backwards. This is only to be expected from a system that increasingly produces doctors evermore distant from people’s realities with medical colleges having become assembly line for private hospitals that will be opened in the greater-greater-NCR.

Such NEET ways of killing off the state boards points to a future two-tier education system — the CBSE/ISC route for the elite, uppity and the aspirational and the state boards for the rest. Children of the elite- predominantly do not study in state boards — they too ‘national’ for the ‘lowly’ states. But at the end of the day, education is a state subject. Caesar should claim what is rightfully his and push back the encroaching beast. If equitable healthcare is a goal of medical education, the states should considering quitting the NEET.

Leave a comment

Filed under Acedemia, Delhi Durbar, Education, Elite, Language

Cities that are easy on the eye / Swanky dreams and apartheid by other means

[ Daily News and Analysis, 30 Apr 2013 ]

Flights connecting the gulf-countries with Mumbai, Kolkata, Delhi, Cochin and other cities form a large portion of the international air-traffic between them. I have been in these flights a few times. Many of the travelers are labourers coming back to their families for a vacation after being away for months, sometimes years. Because they form a large part of the air-traffic, they also provide a large part of the airport revenue. Very few of the labourers I have interacted with can read English fluently, if at all . That most if not all of the airport, its nook and crannies, only make complete sense only to an English literate person, makes one wonder which ‘public’ did the planners have in mind when designing this public utility space. The unwashed masses and their squat latrines have no place here. The architectural language of these places conform to a ‘global’ idiom, however alien that may be to most desis. Airports and sites such as these are so-called ‘gateways’ of a place that would ideally exude an up-market, ‘international’ look – never mind that non-English literates form a significant part of the market. Such places are the product of a certain imagination – that conceive places like air-ports not only as places where people catch air-planes but also where a certain kind of people should ideally be able to enter. It is also symptomatic of nationalist anxieties – of being ‘up to standard’ to the west, so that the occasional gora who steps in should not feel confused in the least. Some of us browns know English anyways and empathize deeply with that discomfort. For the rest of the brown, frankly, who cares? They walk about hesitantly in the mirror chamber of its alien interiors. There is an invisible wall and often thinly veiled disgust in the face of coconut (brown outside, white inside) desis. This invisible wall has an invisible sign hanging on it which says ‘Unwelcome’ or ‘Unfit to be the kind of Indian that South Bombay is proud of’. What am I talking about is not about airports, signage or English – the disease is deeper and more serious.

There is something deeply troubling about the nature of our imagination of the city, including the idea of urban citizenship, who is included in that imagination, who is not, who is the city for. And how ”we’ appear to the West captures an inordinately large part of those concerns. City elites are obsessed in proving that they are tropic-burnt brothers of goras – and they wish that the tropic-burnt others, whose land and labour pay for such obsessions, ideally should vanish. Given that this is not an ideal world, splendid use has been made of their control over the bureaucracy and policy circles, to make others vanish, if not from the city, but at least out of sight. It is a hard task to make a city of their wish – a city easy on their eyes – but they do try.

During the commonwealth games, that ill-fated coming-of-age ritual of a diseased and demented nation-state with ‘super-power’ fantasies, its capital city was ‘beautified’. Among other things, it involved ‘garib hatao’. Thus the urban poor were kicked out and judicial officers moved around in police vans to sentence beggars. The normally slow judiciary knows where its priorities lie. If that were not enough, large sheets have been put up in many areas of Delhi, especially near bridges, to block out ‘unsightly’ (read poor people’s) areas so that the upwardly mobile residents and visitors can enjoy a virtual-reality show on its roads. The soul of this wall is made out of the same material that the invisible wall of the airport is made up of. The T3 airport terminal does not allow legally licensed auto-rickshaws to come near it lest phoren visitors have a ‘good impression’. In Kolkata, bicycles have been banned from plying in most of its main streets. Hand-pulled rickshaws are being pushed out.They say it is ‘inhuman’ and heart-wrenching, as if loss of employment is heart-warming.  Beyond the Indian Union, residents of Baridhara, one of the elite areas of Dhaka, have banned cycle-rikshaw-wallas who were the lungi. Shame about one’s people and feeling alienated from one’s broader environ is a nasty disease that afflicts whole of the subcontinent.

The dream of being counted as a part of the global cosmopolitan class has led to the blatant exclusion of people from public spaces who do not ‘fit the bill’. This forcible homogeneity of being ‘cool’ and ‘international’ finds its twin in the Hindi-ization of various subcontinental identities – in the name of being ‘traditional’ and ‘swadeshi’. Thus emerges the new desi – Bollywood loving, English speaking, having wholesome family fun eating McAloo Tikki. In many ways, the gated community, that pinnacle of contemporary desi urban aspirations, is a concrete form of this dystopic vision. It is safe inside, we are surrounded by people like us, we talk in English and Hindi and cheer for European football leagues There is a word that sums of all this that may sound quite bitter and might hurt those with ‘liberal’ and ‘inclusive’ sensibilities. It is called apartheid.

Leave a comment

Filed under Class, Elite, India, Kolkata, Language, Our underbellies, The perfumed ones, Under the skin, Urbanity

Bad moon rising / A dangerous connivance /

[ The Hindu, 6 Apr 2013 ; The Friday Times (Lahore), April 19-25, 2013 – Vol. XXV, No. 10 ; Kashmir Monitor, 25 Apr 2013 ; Himalayan Mirror (Gangtok), 12 Apr 2013 ; Himalayan Mail (Jammu), 7 Apr 2013; South Asia Citizen’s Web, 23 Apr 2013 ]

Many in West Bengal are looking to the Shahbag protests in Dhaka with a lot of hope and solidarity – as an important and necessary step that would usher in a rollback of the creeping communalism that has afflicted the People’s Republic of Bangladesh since 1975. 1971 is still fresh in the mind of many Bengalees from the West, when a massive relief and solidarity effort was under taken on that side of the border to reach out to a large mass of humanity trying to escape a situation that has been described variously – from ‘civil war’ to ‘genocide’. The then leaders of the Jamaat-e-Islami in East Bengal and its students wing organized murder and rape squads, at times in collaboration with the armed forces. The specific crimes include mass-murder, rape as a weapon of war, arson and forced conversions. They escaped prosecution due to the by generals who used them to cast an Islamic veneer of legitimacy over their illegal capture of power. They were gradually rehabilitated until the present Awami League led government came to power – whose manifesto among other things, promised the trial of war criminals. Thus started the proceedings against them in the War Crimes tribunal. The Shahbag protests have demanded maximum punishment for the guilty.

In West Bengal, a few meetings and assemblies have happened around Shahbag. However, to the shock and dismay of many, the largest of these assemblies was a massive rally held in central Kolkata’s Shahid Minar on 30th March, explicitly against the Shahbag protests and in support of the war criminals convicted by the tribunal. Various Muslim groups including the All India Milli Council, All Bengal Minority Youth Federation, West Bengal Sunnat Al Jamat Committee, Association of Protection of Civil Rights, Milli Ittehad Parishad, West Bengal Madrasa Students Union, Ashikane Rasul Committee, All India Minority Association, All Bengla Muslim Think Tank, All India Muslim Majlish E Mushawarat, Aminia Jamiat E Muttakin Committee, Ulama Parishad, Magribi Bangla Anzumane Wayejin, Bangiya Imama Parishad and All Bengal Imam Muazzin Assiciation convened the meeting. People had also arrived in buses and trucks from distant districts of West Bengal like Murshidabad and Nadia, in additional to those from the adjoining districts of North and South 24 Parganas, Haora and Hooghly, among others. Students of madrassas and the newly minted Aliah Madrassa University were conspicuous at the gathering.

They rallied because ‘Islam is in danger’ in Bangladesh. Never mind that that post-1947, that part of the world through all its forms ( East Bengal, East Pakistan, People’s Republic of Bangladesh) has seen a continuous drop in the population percentage of religious minorities, in every census since 1951.This rallying cry is not new. It was heard in 1952 when the mother language movement of was in full swing, in 1954 when the United Front led by Fazlul Haq and Maulana Bhashani challenged the Muslim League, in 1969 when the Awami League made its 6 demands and in 1971 when Bengalees fought for independence and now in the context of Shahbag in 2013 – basically during every secular movement for rights and justice. One of the main accused in the war-crimes trial, Golam Aazam (also the leader of the Jamaat in East Pakistan in 1971), had used this old trick in the hat when he has stated in 1971 “the supporters of the so-called Bangladesh Movement are the enemies of Islam, Pakistan, and Muslims”. Replace ‘Bangladesh’ with ‘Shahbag’ and ‘Pakistan’ with ‘Bangladesh’ and you have the same logic. Terming the struggle in Bangladesh to be one between Islam and Shaitan (Satan), it was announced at the meeting that they would cleanse West Bengal of those who were trying to support the present Prime-minister of Bangladesh and the war-crime trial effort. It was also threatened that those political forces that support Shahbag would ‘beaten with broom-sticks’ if they came to ask for votes from Muslims. Just like Taslima Nasreen and Salman Rushdie, Sheikh Hasina will also be kept out of Kolkata – they added. They also supported the anti-Shahbag ‘movement’ in Bangladesh. The last assertion is especially worrisome as this anti-Shahbag movement has let loose its fury on the religious minorities of Bangladesh. This has resulted in a wave of violent attacks on Hindus, Buddhists and secular individuals, with wanton burning and destruction of Hindu and Buddhist homes, businesses and places of worship. Amnesty International communiqué mentioned attacks on over 40 Hindu temples as of 6th March. The number is over 100 now and still rising.

Given the recent trends of politics in West Bengal, this large gathering and its pronouncements are not shocking. The writing has been in the wall for a while. A collapse in the Muslim vote of the Left Front is an important factor in its recent demise after more than three decades of uninterrupted rule. Various Muslim divines like Twaha Siddiqui of Furfura Sharif, have explicitly pointed that out as a point of threat to the present government. The Trinamool Congress wants to ensure a continued slice of this vote. The present government has tried to hand out sops to build a class of Muslim ‘community leaders’ who eat of its hand by its unprecedented move to giving monthly stipends to imams and muezzins. Very recently, it has been decided that such a cash scheme might be worked out for Muslim widows too. Given that it is beyond the ability of the debt-ridden, vision-poor government to solve the problems that are common to the poor, it has cynically chosen to woo a section of the marginalized on the basis of religion using handouts. These are excellent as speech-making points masquerading as empathy and social justice. This is dangerous politics to say the least. It sets into motion currents and gives fillip to forces whose trajectories are beyond the control of the present political groups. The Left Front’s political fortune has not improved after its humiliating defeat. It has cynically chosen not too oppose this communal turn to West Bengal’s politics, for it too, believes that silently waiting for the incumbent to falter is a better roadmap to power. The damage that is doing to the political culture of the state in immense and may well be irreparable. The incumbent’s connivance and the opposition’s silence are largely due to decades of erosion in the culture of democratic political contestation through grassroots organizing. Both the incumbent and the oppostition parties deal with West Bengal’s sizeable minority population primarily via intermediaries, often doing away with any pretense of political ideology while indulging in such transactions.

For their part, organizations owing allegiance to a particular brand of political Islam ala Moududi, have used this disconnect to the hilt. An emerging bloc of divines and ex-student leaders of certain organizations have used the students that they can amass at short notice to launch specific protests, aimed in getting a leverage in terms of policy. Sadly, this blackmailing is hardly aimed at uplifting the living standards of West Bengal Muslims in this world. Rather, its string of victories started with successfully driving out the famous persecuted humanist writer Taslima Nasreen during the Left Front regime. The most recent example was the governmental pressure that was exerted on their direction to keep Salman Rushdie out of a proposed event in Kolkata, after he successfully did such events in Bangalore, New Delhi and Mumbai. This slowly pushing of the envelope fits into a sequence of events that are increasingly stifling the freedom of expression. At the same time, its double-standards are explicit. On March 21st, a medium-sized group consisting of little-magazine publishers, human rights workers, theatre artists, womens’ organizations and peace activists had announced that they would march in solidarity with the Shahbag protests and express their support to the Bangladesh government’s war crimes trial initiative by marching to the deputy high-commission of Bangladesh. Even after prior intimation, the rally was not allowed to move by the police due to ‘orders’ and some of the marchers were detained. The same police provided security cover to pro-Jamaat-e-Islami organizations as they conducted a rally submitted a month earlier and again later when they submitted a memorandum to the same deputy high commission demanding acquittal of convicted war criminals. Last year, it issued a circular to public libraries to stock a sectarian daily even before its first issue had been published! The role of the state is explicit in these actions – it possibly thinks that it can play this game of brinksmanship with finesse. The flight of cultural capital from the self-styled cultural capital of India is but a natural corollary of such unholy alliances with the political class playing tactical spectators and tactical facilitators to apologists for one the largest mass-murders in the last century .

The recent bye-election to Jangipur, a Muslim majority constituency carried certain signals. Prompted by the elevation of Mr.Mukherjee to Presidency, this election saw the combined vote of the 2 main parties fall from 95% in 2009 to 78% in 2012. The major beneficiaries were the Welfare Party of India, a thinly veiled front organization of the Jamaat-e-Islami Hind and the Social Democratic Party of India, an even more radical group of a similar ilk. Such groups are armed with a programme of ‘tactical pluralism’, quite akin to the tactical defence of Taslima’s freedom of speech by majoritarian communal political forces in the Indian union. The rallying against Shahbag has blown the cover of faux pluralism. There was another significant beneficiary and predictable in the same election, the BJP. Communal tension has been on the rise in recent years – there has been serious disturbance by West Bengal standards in Deganga and Noliakhali. The majoritarian forces smell a subterranean polarization of the polity. Mouthing banalities about Bengal’s ‘intrinsically’ plural culture is quite useless – culture is a living entity, that is always in flux, created and recreated every moment. It is being recreated by the victimization discourse by fringe groups like Hindu Samhati. It is being recreated in certain religious congregations in parts of West Bengal of Aila where unalloyed poison produced by divines like Tarek Monawar Hossain from Bangladesh is played on loud-speakers. Thanks to technology, such vitriol produced in a milieu of free-style majoritarian muscle flexing in Bangladesh easily finds its way to a place where the demographic realities are different. Hence the popularity and consequent defence of one of the convicted war criminals, Delwar Hossain Sayedee, who in his post-71 avatar had become something of a superstar in the Bengali waz-mahfil (Islamic religious discourse congregation) circuit. What are the effects of the subterranean cultural exchange of this kind? The rally is a partial clue. A defence of Sayedee and claiming him to be innocent, as was repeatedly done in that rally, is like perpetrating Holocaust-denialism.

Just a day after the anti-Shahbag rally in Kolkata, almost as a divine reminder of starker realities beyond the defense of Islam, nearly 45 lakh unemployed youth, Hindus and Muslims, sat for the appointment as primary school teachers recruitment examination for 35000 empty posts. Roughly 1 in 128 will succeed. There is no employment exchange worth its name, including the ‘minority’ employment exchange set up by the incumbents, which would absorb the unsuccessful 44 lakh. West Bengal is one of the few states that have petitioned for a relaxation of the minimum qualifications for primary school teachers in the Sarva Shiksha Abhijan scheme, as stated in the Right of Children to Free and Compulsory Education Act of 2009. There is a rot at the base with every community affected. It has been long in the making. The promotion of religious education is hardly the way to empowerment and livelihood generation for minorities, especially in a state where they have been grossly under-represented in the all white-collar services. There are no short cut solutions to this.

Majority and minority communalism in West Bengal, though not generally overt, can be found easily by scratching the surface. A combination of circumstances can awaken it. Will more such circumstances arise, or will more responsible politics prevent a potential communal unraveling of West Bengal? Bengal’s past experience with communal politics is distinctly bitter, both in the west and the east.  The west lives with half-sleeping demons. In the east, the demons never really slept, and have been in and out of power.

 

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Community, Democracy, Dhaka, History, Identity, Kolkata, Language, Pakistan, Polity, Religion, Scars

Floating in the Durbar / Floats in the Delhi Durbar

[ The Friday Times , February 22-28, 2013 – Vol. XXV, No. 02 ]

Sometime last month, it was the 26th of January in the Indian Union. It was January 26th at many other places but the date has a special significance for the Union of India nation-state. And Delhi has a special significance for the Union of India. I was, in fact, in Delhi that day. Not in that ‘New’ Delhi – built on the land ‘cleared’ by displacing numerous villages, villages that had been there for centuries. Some descendants are still fighting for compensation for the land where present day Lutyens and Baker designed palaces stand. I am told that in some of these palaces, there are crisp-khadi-wearing sages who are busy determining compensation amounts for village-destructions and community-annihilations that are being planned right now. Some say, in the subcontinent, the notion of time is not linear but cyclical. I have an odd feeling that it is more like a downward spiral. By mistake, one may think it is an upward spiral, especially if one just sees a snapshot without a past. For every displaced village there is a trendy and hip urban ‘village’ in Delhi. For the hip, it is a world ‘pregnant’ with opportunities – some bellies need to be torn apart in the process, that’s all.

Since the day is a state holiday in the territory of the Indian Union, I will write and ramble. It’s a chhutti after all. So, I was in Delhi on the 26th. There is this splendid kababi on the road through the Delhi gate of Shahjahanabad. They call themselves Captain’s Kabab and claim to be more than a century old. They earlier had a signboard called Tundey Kabab. That had a different establishment date – again more than a century old. The signboards are very new. They haven’t even thrown away the Tunday Kabab signboard – the date discord is for all to see. But more importantly, the Kabab is there for all to taste. And it is sterling. The powers to be had fenced off the whole stretch of this road till the Red Fort and beyond. This made things hard for me as I had to walk quite a bit to simply reach the opposite side of the street where the Kabab shop is. This went on for a few days to the run up to the 26th. I had been in the same area, in a similar fix around August, the 15th. But then that occasion had brought cheer to my life. Ostensibly to portray that the Union’s diversity goes beyond humans, different kinds of animals are brought to parade on this day, on top of which men sit wearing gaudy military uniforms, ready to defend me. Some of these four-legged beasts used to rest in front of my hotel, taking a break from their patriotic duty. I had seen the mouth of a camel up close and had marveled at the size of its teeth.

For some reason, the morning sun of the 26th of January in Shahjahanabad reminded me of an anecdote that a gender studies scholar had once related to me. She grew up in Allahabad, no less – the city that housed the Nehrus’ and the city which saw its first motor car quite early – also of the Nehrus’. So there was this custom of standing up, with a spine as much erect as one can, when the Indian Union’s ‘national anthem’ is played. This ranked high among the set of ‘values’ to be inculcated in the young and the impressionable. So one day, when she and her sister was near about their father and his friend at a local tea shop, they all heard the ‘national anthem’ – Rabindranath’s words overworked to death for reasons of state. The father and his friend kept on drinking their tea, seated as before. Fresh with patriotic righteousness in such matters, the sisters castigated the elders, making them somewhat squeamish. After high school, she went to university and there she was starting to learn that there are many other in the world beyond the tricolour. But certain old habits die-hard. One day as she lay supine in her hostel bed, the radio decided to dish out Rabindranath’s co-opted verses. Her former tricolour self and her present multi-coloured self reflexively reached an instantaneous compromise – she continued laying on her back but stiffened her spine, stretched the fingers of her feet as much as she could. She lay ‘in attention’. Strange are the ways in which the tricolour evokes an erection. But I digress.

Whether I understood Gandhi wrong or the state read him wrong is an open question but a big attraction of the 26th in this Republic of self-proclaimed non-violence is the parading of its latest guns, tanks and missiles with concomitant cheering by its naturally, culturally, historically and physiologically non-violent Delhi citizenry. After the display of arms and ammunitions have soothed the anxious hearts of the non-violent people, gaudy floats or tableaux from various provinces and some central government agencies capture the road in front of the Red Fort. Lest someone may think that this kind of ‘diversity on display’ is inspired by the similarly annual spectacles organized by Stalin in Red Square (Square, Fort – what does it matter?), one simply has to look into the past of the eternal Republic. Not ‘Vedic  past’ but ‘Durbar past’. During the British rule over the subcontinent, Delhi was, for a few occasions, the venue of a spectacular and costly farce called the Durbar – a symbolic act of collective obeisance to the janaganabhagyavidhata of the time. The armies of the British crown (which continued uninterrupted under the Congressite crown) and the diversity of the spine-less native princes’ procession in front of the King-Emperor or his Viceroy for long provided the template from which today’s spectacle grew. The continuity is telling in more ways than one. A major project of post-partition history and civics in the Indian Union has been to manufacture a discontinuity. It is increasingly successful. Eternal republics have endless resources for such projects.

I was woken up early by the processions and I joined others to watch the annual Republican ritual. My peculiar location helped me get the view for the show that was otherwise ticketed. Lack of sleep does not suit me well. Last night’s food was making its presence felt. Standing by the march-past, I farted. Thankfully, there were lots of patriotic noises to drown me. I made a mental note to myself – radish, cabbage and Bengal grams, within 12 hours of consumption, are incompatible with patriotism. A man learns something every day.

I stood on the street-side as the floats passed one by one. Given my dirty mind, I could not help notice a little piece of ‘heaven’ floating as a float on this earth, right here in Delhi. Oh, the joy! On that float, there were people looking happy. They were looking happy continuously, a rare feat for even the happiest on this earth. They were happy up until the float finished its course. I do not know whether they continued to be happy ever after – those characters on the float. Some party-pooping voice in my head whispered that on this day, there were more people on this float in Delhi than there was on the streets of the capital of the province that this float is supposed to represent. The eternal Republic did not deny the whisper, its ‘independent’ media did not confirm it either. Cutting through the fog of unconfirmed discomforts, a little piece of heaven floated alongside the Red Fort. The atmosphere was gay and many a brown cheeks wore tricolour paint. Such was the glory of that splendid January morning.

One by one came floats from many areas – the affected mirth of one trying to vanquish the affected mirth of the one in front of it. This reminded me of Soviet show-farms but only better. They only managed affected mirth. The republic has managed to introduce the unique spectacle of competitive affected mirth. No kidding.

Then came the tableau of ‘Paschim Bangaal’, written in Devanagari, no less. Thankfully, this one did not have any affected mirth as it was decorated with statues of confirmed dead but famous people and one Subhash Chandra Bose. But that’s not the point. What is this ‘Paschim Bangaal’? Ostensibly, it has something to do with the western half of Bengal after its second partition in 1947. ‘Paschim Bangaal’ is not what a stupendous majority of the people living in that land calls it. The script in which that was written is understood by very few in that land. But to be ‘represented’ and made intelligible (to whom?), Delhi seems to have specific ways to caricature our names, a process to which we have to necessarily submit. The Hindi-Hindu republic is free to call anyone in whatever way it deems fit, and by dint of an ideological veneer lubricated with cold cash, this ‘way’ has now been normalized in the minds of many. Such is the insidious nature of a centralizing uni-lingual nation-state. When Bengalis pronounce other people’s names in their way, it is termed ignorance. When they stick to pronouncing names in their own ways, after being reminded of the correct way, it is termed obstinacy and parochialism. When the Hindi-Hindu mandarins do the same, it becomes a standard, a benchmark – to be emulated and propagated. All peoples have their own ways of making sense of others, except the hegemon who has a unilateral right to not only caricature others but also make sure that such caricatures enjoy the status of ‘official’ and ‘approved’ portrayals. The ideology runs deep. The Tamils or the Bengalees can be caricatured for their dress and pronunciation, but there is no fiddling with the Hindu-Hindi. The core is never caricatured. Or rather, what is not caricatured is a hint to what is the core. It is the sovereign and as Miss Roy points out, sovereign is the one that alone can decide on exceptions. It sits in the Red Fort, it sits in our school syllabi, it sits inside the heads of the subject peoples. To make a core-periphery distinction is unpalatable to some. Some from the periphery are complicit in this show – following to the minutest detail the correct and ‘standard’ way to bend over backwards, how to prostrate at the right moments, so as to have the privilege to strut in front of power.

The core is most comfortable, no doubt, in Delhi, where it all began. After all, what better place to institutionalize inequity and marginalization of ‘misfits’ than a new ‘city’ whose founding is based on the total uprooting of whole rooted communities. Rootedness is something it hates like a plague. This is a mecca of the rootless but even here, true success is only for those who are ready to reach for the stars on the shoulder of others. The state signals its favour for this ilk in no uncertain terms when it awards its badges of honour. The ‘Padma Shri’ for ‘distinguished service in any field’ is the award that is most commonly given away and is typically announced just before the 26th of January every year. Delhi accounts for less than 2 per cent of the population living in the territory of the Indian Union. This year, nearly 20 per cent of the winners of Padma Shri were from Delhi. There is something about Delhi, some believe – as the thick and rich cream generated by distributive injustice is made invisible as such, and transformed into the ‘spirit of Delhi’ and other such curious concepts.

From Delhi’s own float, a rock-star looking character sang –

‘Dilli khushion ka angan

Dilli sadio se raoshan

Dilli kala ka sagar…

Dilli sab ka dil hai yaaro,

Desh ki dharkan Dilli’

So, if you want to be counted, you know what tongue to speak and where to stay. For the rooted, the obstinate and the rest, there is ‘the idea of India’ to suck on.

Leave a comment

Filed under Army / police, Bengal, Delhi Durbar, Democracy, Foundational myths, Hindustan, Identity, Language, Nation, Power

The fax internet democratic republic / Focus on rapes that India forgets / Rapes do happen where there’s no internet / Rape: Elite mode not needed

[ Daily News and Analysis, 30 Dec 2012 ; Millenium Post, 7 Jan 2013 ; Kashmir Times, Jan 2013 ; Echo of India, 12 Jan 2013 ; Kashmir Reader, Jan 2013 ]

The notice has been served to ‘the people’. The Justice Verma Committee, set up to review the present criminal laws relating to safety and security with an eye to amend them, has asked ‘all members of the public’ among others to respond with ideas, knowledge and experience, to assist the committee in reaching its objective. The notice has been published in many newspapers. This mode of public consultation is not new. Parliamentary committees regularly serve such notices to the public. This usual practice has received unusual publicity due to the widespread focus and interest that has been generated in the context of the Delhi gang-rape. The government has touted this consultation practice as some measure of its response to public outrage. That the awareness of such consultations is abysmal is failure pf democratic governance. By taking advantage of this lack of public awareness, the government has now shed a spotlight so bright such that a not-so-rare practice is appearing extraordinary. This is disingenuous at best. This is a very smart stunt, not the act of setting up the committee itself, but how the setting of such committee has been publicized by the government.

The 3-member committee has asked that the pubic send in their comments by emailing justice.verma@nic.in or by sending a fax at 011-23092675, by the 5th of January. Embedded in this hasty empathy is a deeper message – its attitude towards consultation in this aspiring democracy. It is indeed tragic that the horizon of imagination of the powerful about modes of consultation with an utterly poor and regularly sexually brutalized people, is limited to email and fax. Unfortunately, when rapists target their victims, they do not discriminate on the basis of access to communication technology. Most rape victims and potential rape victims in the territory of the Indian Union do not have access to fax or email. It is not hard to predict that this lifeless and bureaucratic invitation will evoke very few responses from the billion plus populace. Most of the submissions will be in English, a minority will make their point in Hindi. The culture set by parliamentary committees  that explicitly state that submissions be made in English or Hindi has excluded and turned off the majority of the literate. Thus people, whose mother tongue in neither English nor Hindi will hardly write back . One must commend the Justice Verma committee’s adverts in that they do not explicitly mention any language in which the submissions need to be done. By the Delhi-based political culture of active exclusion of non-Hindi vernaculars has already taken its toll in the form of voicelessness and resultant disengagement. No democracy worth its name can afford that. Still larger is the majority to which email / fax are alien if not unheard media. That does not give them any respite from being raped; neither does it stop them from having opinion and rape legislation.

For a few decades now, a 3-tiered pecking order of citizenship has developed with the English/Hindi literate, the literate in ‘other’ languages and the illiterate. If you know only Tamil, it does not matter how erudite you are or how eager you are to put your opinion through on matters of legislation, the blunt message of the government about your suggestions to parliamentary committees essentially is, thanks, but no thanks. The lesser that is spoken about the lack of governmental efforts to reach out to the illiterate populace about their opinion, the better.

How state views the participation of people in making legislation in a participatory democracy gives out how it views such processes in the first place – an unnecessary but unavoidable ritual that is not to be taken seriously. Bureaucratism and alienation are every handy to help snuff out even the last possibilities of life of the ritual. All this points to a deeper disease, a malaise that reduces consultative democratic practices to things done for the record, not for the people.  Humane governance thus loses out to the clerical efficiency to bookkeeping. It is not that the government has never tried to engage the people at large. The Bt Brinjal consultations, where minister Jairam Ramesh held court at various areas beyond Delhi to hear what people had to say, were a positive step towards inclusive consultation. This example has unfortunately not been followed up for other legislations.

People, who bear the brunt of every day atrocities, clearly are not qualified to comment well on these issues. Those who keep cases pending for years and award gallantry awards to supervisors of rape of inmates are. Access barriers and ‘expertise’ hence become methods of choice for shunting out popular opinion in a democracy – given that fundamental rights of expression become less violable under metropolitan scrutiny. A democratic state folds itself to fit the aspirations of the people. A heartless state expects the people to contort themselves to fit some alien definition of an engaged citizen, or else, not be counted at all.

Leave a comment

Filed under Uncategorized

Long way from home – silent shuffles towards not sticking out

[ Agenda  – special issue on Migration and Displacement, July 2008 ; The Friday Times (Lahore), May 10-16, 2013 – Vol. XXV, No. 13 ]

A narrative set around the displacement during the partition of Bengal in 1947, exploring traumas not so explicit, adaptations not so consensual. And imprints of things thought to be lost.

***

I have crossed the border between the two Bengals multiple times. In February 2013, I took back my maternal uncle Bacchu mama to his ancestral home in East Bengal (now part of the People’s Republic of Bangladesh).He had fled after his matriculation, a little before the 1965 war. When we reached his 2-story modest tin-shed erstwhile home in the Janaki Singho Road of the Kawnia neighbourhood of Barishal town, I saw this mama of mine, trying to touch and feel dusty walls and stairs. He is by far the jolliest person I have seen. This was for the first time I have ever seen his eyes tear up. The story that follows is of his paternal aunt, or pishi.

Having had taken active interest and in some cases active participation in anti-displacement agitations of various sorts and hues, what does ring hollow to my privileged existence is the real trauma of the experience. I know the statistics, the caste break up of the internally displaced, the pain of being transformed from sharecroppers to urban shack dweller – raw stories of loss and displacement. The “on-the-face” ness of the accounts, unfortunately, has a numbing effect. With a populace numbed to the explicit, its sensitivity to things hidden is nearly non-existent. In spite of my association with causes of displacement, in my heart of heart, I empathize but don’t relate. Nobody I have grown up with seemed to have any psychological scar or trauma about it – at least none that they carried around, although I grew up around victims of one of the biggest mass displacements of all times – I am talking about the partition of Bengal in 1947.

When I grew up in Calcutta in the 80s, visits to my maternal grandparents’ place were a weekly feature. They were Bangals to my father’s extended family – we lived in a 30 something strong joint family, firmly rooted in West Bengal, very Ghoti. Bangals  are East Bengalis, a people with a culture less-sophisticated, in the minds of the Ghotis. In later years, especially post-1947, the term also came to mean refugees and hence evoked certain discomfiture about the presence of Bangals in West Bengali minds, if not outright animosity. With time, ties- political, amorous and otherwise were built between certain sections of the two communities. I am a child of mixed heritage – with a Ghoti father and a Bangal mother. Much of what I have said, except the last statement are generalizations, but they are useful in terms of broadly demarcating the space within which the narrative is set.

The people of my mother’s extended family had their displacement stories – not really of trauma, but a sense of material loss- the money they couldn’t bring, their land that had been expropriated ever since, the struggle of some families they knew, etc. Calcutta subsumed much of their selves now that they were here and most of them had been here in Calcutta for most of their lives. The character of importance here is my maternal grandmother, my Dida. She was married off to my maternal grandfather, my dadu, who I hear was visibly unwilling about the marriage at that time, if not the match itself – both were teenagers. When she came to Calcutta in tow with her husband, she was still quite young. My mother was born in Calcutta.

They lived in a rented place near Deshopriya Park. There was a certain air of dampness about the place – it connected to the metalled road by a longish and narrow path, not revolting but full of a strange smell of dampness. The path, gritty and dimly lit, was nearly metaphorical of my dida’s connection to her new world – connecting to the mainstream required a certain effort. Inside that house, it was strange and intriguing to me. The lingo was different – they spoke Bangal ( a Bengali dialect) with a Barishal twang ( Barishal was one of the more pupulous districts of East Bengal) called Barishailya. Dida referred to chokh ( eye) as tsokkhu and amader ( our) as amago. I used to pick these up and relate it to my Ghoti joint family, regaling them. Now I don’t think it is hard to imagine that many Bangals didn’t like the fact that other people found simple pronouncements in their dialect amusing and even comical.( Some comedians have used this aspect in Bengali comedy. I am reminded of black clowns with artificial and heightened mannerisms who regaled White audiences).

Dida cooked well and was known for it. What did she want to be known for? My mother related to me how her father was a great lover of letters and sciences. This was somewhat true – sometimes I abhorred going to him because he would not only tell me to do a math problem but also ask me why did I do it that way. He tried to get all his children formally educated – a Bangal signature of the time with imprints still continuing. Markedly different was his attitude towards Dida – I remember numerous instances of “o tumi bozba na” ( You wouldn’t understand that.) On her 50th marriage anniversary, her children got together for a celebration. The couple garlanded each other. She looked happy with her self and her world. “ Togo sara amar ar ki aase” (What else do I have but you people) was her pronouncement. Something happened a few years later that made me question the exhaustive nature of her statement..

Things happened in quick succession after this. The brothers and sisters split. The turn of events resulted in Dida staying with us . Our joint family had ceased to exist too. By now, I was a medical student. Dida was getting worse due to diabetes. So, I spent time with her. I remember her trying to speak ( and miserably failing) our non-Bangal Bengali dialect, to my paternal grandmother. She did try to mingle in, for circumstances demanded that she do. At the time, I   thought that she was extraordinarily fortunate. With my new-found sensitivity towards “identities”, I thought, she must have been very happy to speak Bangal until now. She did her groceries at a bazaar full of grocers who were themselves refugees from East Bengal. In fact one bazaar near my home in Chetla is actualled called the Bastuhara bajar ( the homestead loser’s bazar).Her husband’s extended family was essentially her social circle and they all chattered away in Bangal. They ate their fish their way and did their own thing. In spite of being displaced from East Bengal, she had retained her identity, her “self”. Or so I thought.

She suffered a cerebral stroke sometime later. A stroke is tragic and fascinating. It cripples and unmasks. The social beings we are, who care about what words to speak to whom, what state of dress or undress to be where and when, etc- this complex monument of pretense can come crashing down in a stroke. She had been for a day in what would medically be termed “delirium” , characterized by, among other things, speech that may be incoherent to the rest of us. She couldn’t move much and spoke what to us what was nearly gibberish- names we didn’t know, places we hadn’t heard of. To ascertain the stage of cerebral damage, one asks questions like Who are you? Where are we? What is the date? Etc. I was alone with her when I asked this first. Who are you? “Ami Shonkor Guptor bareer meye”.( I am a girl from Shonkor Gupto’s family).I repeated, and she gave the same answer. She couldn’t tell me her name. Shonkor Gupto wasn’t her father but an ancestor who had built their house in Goila village of Barisal, East Bengal. She recovered from the stroke and remembered nothing of the incident. When I asked her later, she replied “Jyotsna Sen” or  “Tore mare ziga” (Ask your mother).”Who are you” and “What’s your name” had become one and the same, again. She died sometime later. Another stroke felled her.

Displacement brings trauma with it. And the trauma can be cryptic. It can be hidden. It can be pushed down, sunk deep with the wish that it doesn’t surface. But displacement from home is a strange phenomenon – resurfacing in odd ways. And often an involuntary journey away from home is a journey away from one’s self too. The journey of displacement is hardly linear. It is more like a long arc. In most cases, the arc doesn’t turn back to where it started from. The journey looks unhindered by identities left back. But we can sometimes peer deeper. Nobody called my Dida  by the name Jyotsna Sen – she merely signed papers by the name. She had a name by which people called her before her marriage – “Monu”. This name had become hazy after her marriage and journey to her husband’s house and then essentially lost after she migrated to Calcutta. She had been doubly removed from the people, the household, the organic milieu that knew “Monu”. She had 3 children, 4 grandchildren, a husband, a new city. Where was she? And when all this was shorn off, what remained was a teenage girl from East Bengal village – a place she hadn’t been in 60 years, may be the only place where she will be much of herself. Monu of Shankar Gupto’s house.

At this point, I wonder, whether she silently bled all through. Would she have bled similarly if she had choices about her own life or at a bare minimum, if she had  an active participation in the  decisions that changed her life’s trajectory? The speculative nature of the inferences I draw from her “unmasking” story is not a hindrance to imagine what could have been. A little looking around might show such stories of long-drawn suppressions all around – suppressions we consider facts of life and take for granted. Who knows what she would have wanted at age 15 or at 22. Where was her voice, her own thing in the whole Calcutta saga that followed? The picture perfect 50th anniversary clearly didn’t capture all that she was. Her husband believed she had her due – what more does one need, he thought for her. My mother thought, with a well-intentioned husband that her father was, Dida must be happy. The identity-politics fired lefty in me had thought she hadn’t been displaced enough, given her Bangal milieu!  We were all wrong! A part of her lived repressed all along. In the microcosms we inhabit, there are stories of displacement, failed rehabilitation and denial of life choices. It is my suspicion that on learning about the Narmada valley displaced, a part of my Dida’s self would have differed vehemently with the Supreme Court judges Kirpal and Anand*1 – stances which often elude the nuanced mind of the intellectual.

*1 Justice Kirpal and Anand in their majority decision disposed off Narmada Bachao Andolan’s public interest litigation and allowed the resumption of construction of the Sardar Sarovar Dam and increasing of its height upto EL 90m, resulting in further displacements of many more families, in addition to the thousands already affected.

2 Comments

Filed under Bengal, Home, Identity, Kolkata, Language, Memory, Partition, Scars