বোর্ড, শিক্ষা, আদর্শ – দিল্লী আমাদের ভবিষ্যত লুটছে

আমি যখন ডাক্তারী পড়তাম, একটা কথা বেশ চালু ছিল।এই যে পৃথিবীতে ডাক্তারদের বাজার কখুনোই কমবে না।  কারণ জনসংখ্যা বাড়তেই থাকবে, ফলে রোগীর সংখ্যাও বাড়তেই থাকবে। এই যুক্তিটি জন-সংখ্যার সাথে যুক্ত অনেক কিছুর ক্ষেত্রেই খাটে – যদি না ভয়ানক গোলমেলে কিছু ঘটে।  ঠিক তেমনই কিছু একটা ঘটছে আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা-ক্ষেত্রে। এবং আমরা উদাসীন।  একটু খুলে বলি।

শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা দিন কে দিন বাড়ছে, স্কুল পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ছে আর এসবের মধ্যেই এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে ! ভাবা যায়? তাও সামান্য, নয় – নয় নয় করে প্রায় ১৫ হাজার। একই সাথে অবশ্য এ বাংলায় প্রতি বছর বেড়ে চলেছে দিল্লীর নানা বোর্ডের পরীক্ষার্থী সংখ্যা। পর্ষদ কর্তারা বেহায়া হয়ে অদ্ভূত সব কারণ দিচ্ছেন। কলকাতা শহরে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা এতই কমে গেছে যে নানা রকম অজুহাতের শাক দিয়ে পচে যাওয়া মাছ থেকে দুর্গন্ধ আটকানো যাচ্ছে না একেবারেই। এ কেমন করে হলো? এবং এমন চলতে থাকলে, ক্ষতি কি? ক্লাস টেন পাশ করাই তো মোদ্দা কথা – মাধ্যমিক হোক বা সিবিএসই /আইসিএসই। ব্যাপারটা এত সহজ নয়।

শিক্ষা নাগরিক গঠন করে। তাই একজন স্কুল-পড়ুয়াকে কি শেখানো হবে, সেটা গুরুত্তপূর্ণ। আমাদের বাংলাদেশের জাতি ও সমাজের ভবিষ্যত এই ‘কি শেখানো হবে’র আদর্শের উপ নির্ভরশীল। একেই বলে সিলেবাস। মাধ্যমিক ও দিল্লী থেকে আমদানি করা বোর্ড-গুলির সিলেবাস এক নয়। পার্থক্য আছে।  এই পার্থক্য মানের তারতম্যের প্রশ্ন না , ভিন্নতার প্রশ্ন। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে এতগুলি রাজ্য বোর্ড, তাদের সিলেবাসের ভিন্নতা আছে কারণ এই এলাকার মধ্যে বিশাল বৈচিত্র ও ভিন্নতা রয়েছে। তাই সিলেবাসকে যদি হতে হয় বাস্তবমুখী ও ছাত্রের আপন পরিবেশের সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত, রাজ্য বোর্ড ছাড়া তার গতি নেই।  আর যদি ছাত্রটিকে তার পারিপার্শিকতা থেকে বিছিন্ন করে, তার বাঙালিত্বকে ছেঁটে দিল্লি-নির্দেশিত এক কল্পিত ভারতীয়ত্তর জোব্বা পড়ানোই হয় সিলেবাসের লক্ষ্য, তাহলে দিল্লির বোর্ড-গুলির জুড়ি মেলা ভার। যা শুরু হয়েছিল সৈন্য বাহিনী ও বদলির চাকরির লোকেদের সুবিদার্থে তথা মিশনারী কিছু প্রচেষ্টায়, সেই গোষ্ঠী-গুলির দ্বারা পরিচালিত বোর্ড-গুলি এখুন কেন্দ্রীয়-সরকারী নীতির মদতে এক-কালের শক্তিশালী ও খ্যাতিমান রাজ্য বোর্ড-গুলিকে পরিকল্পনা-মাফিক মুমূর্ষু করে তুলছে – শিক্ষার বানিজ্যিকরন তথা নাগরিকদের বৈচিত্র হরণের দ্বিমুখী উদ্দেশ্যে।  তার ফল ভয়ানক।

বাংলার বোর্ডে ইংরাজি, বাংলা বা হিন্দী মাধ্যমে পড়া ছাত্রটি জানতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ভূগোলের খুঁটিনাটি বা বাংলার ধানের খেতে কি কি বোকা লাগে। তার ইতিহাস শিক্ষা স্রেফ দিল্লির  প্রাচীন ও বর্তমান সম্রাটদের গুনগাথায় সীমিত থাকে না। ভবিষ্যতে, জলে আর্সেনিক দুষণের প্রভাব দিল্লি থেকে আমদানি বোর্ড-গুলির সিলেবাসে না ঢুকলেও আমাদের ছেলে-মেয়েদের তা নিয়ে শিক্ষিত হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আমাদের এই বাংলাদেশের বৈশিষ্টগুলিকে বিশেষ-ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ইচ্ছা বা দায়, কোনটাই দিল্লীর নেই। ওদের থেকে আমদানি করা বোর্ড-এ  আপনার ছেলে-মেয়ে এই বাংলায় বসে ক্লাস-টেন পাশ করতে পারে এক বর্ণ বাংলা না শিখে। এই বঙ্গদেশের অধিকাংশ দিল্লী-বোর্ড-ওয়ালা ইস্কুলে প্রথম ভাষা হিসেবে বাংলা পড়ার কোন সুযোগ নেই। ভারতীয়ত্বের হাঁড়িকাঠে বাঙালিত্বের বলি দিয়ে যারা গুরগাঁও-বেঙ্গালুরুর দিকে শিশুকাল চেয়ে থাকবে চাতকের মতো, স্বপ্ন দেখবে হিন্দীর দেশের ইংরেজি মরুদ্যানে খেজুর গাছ হবার, আমরা কি সেই সন্তান গড়তে চাই? আত্মঘাতী হবার জন্য এর চেয়ে অনেক সহজ পথ আছে। 

এই বোর্ড-গুলি কার, এবং কাদের প্রাধান্য রক্ষা করতে গঠিত ও পরিচালিত, তা তামিল নাডু বা কর্ণাটকের অনেক শিক্ষাবিদের কাছেই পরিষ্কার।  শুধু এই অধম বাঙালি তার নিজের বোর্ড-এ পড়া ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত অন্ধকার করতে চায়, দিল্লির বোর্ড-গুলির সুবিধা করে দিয়ে।  কি ভাবে ? অনেক ভাবে।  একটা উদাহরণ এরকম।  অনেক  ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার।  তার জন্য দিতে হয় জয়েন্ট পরীক্ষা। তার সিলেবাস অধুনা বদলানো হয়েছে – যাতে কিনা পশ্চিমবঙ্গের বোর্ড ও দিল্লি থেকে আমদানি করা বোর্ড-গুলির সিলেবাসের মধ্যে যে অংশটুকু কমন, প্রশ্ন আসবে শুধু সেখান থেকেই।  অথচ, কেন্দ্র যে আইআইটি বা  অল ইন্ডিয়া প্রি-মেডিকেল পরীক্ষা নেয় , সেখানে কিন্তু কোন কমনের বালাই নেই – একদম সোজাসুজি দিল্লির বোর্ড-গুলির সিলেবাসকে অনুসরণ করা হয়।  অথচ, যেটুকু সুযোগ আমরা আমাদের ছাত্রদের দিতে পারি, সেখানে আমরা তাদের লেঙ্গি মারছি ‘কমন’ ‘কমন’ খেলায়।  আর বাংলার মেডিকেল কলেজগুলি থেকে যে ডাক্তার বেরুবে, যে কলেজগুলি বাংলার মানুষের টাকায় গড়া, তা কার  স্বার্থে? নিশ্চই কতিপয় কলকাতাবাসী ‘এস্পিরেসনাল’ যুবক-যুবতীর কেরিয়ার গর্তে নয়।  বরং তা বাংলার মানুষের স্বাস্থ্যের স্বার্থে।  আজ-ও বাংলার কনে কনে যে ডাক্তার , তারা অধিকাংশ সেই পশ্চিমবঙ্গ বোর্ড-এই পড়া  .গুরগাঁও-বেঙ্গালুরু-লন্ডনের স্বপ্নে বিভোর আধুনিক শহুরে ভারতীয় দিয়ে এই বাংলার স্বাস্থ্য পরিসেবা চলবে না, তার জন্য চাই সেই বাংলা বোর্ডের ছেলেমেয়েগুলিকে  – যারা জেলাগুলিকে চেনে, বাংলার গ্রাম-মফস্স্বল চেনে, এলাকার ভাষা জানে।  কোথায় আমরা তাদের আরো আরো সামনে আনব – তা না করে আমরা  ‘আধুনিকীকরণের’ নাম বাংলার নিজের বোর্ড-কে ধ্বংস করছি। এ সকলেই জানেন যে পশ্চিমবাংলায় দিল্লি থেকে আমদানি করা বোর্ডে পরা শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে  বেশি  শহরকেন্দ্রিক, বেশি বিত্তশালী বর্ণহিন্দু প্রভাবিত। পাশ করলেই বাংলা ছেড়ে ফুরুত হবার স্বপ্নে বিভোর শ্রেনীর ত্যালা মাথায়ে তেল দিয়েই কি আমরা  সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা করছি ?  গুরগাঁও-এর কর্পোরেট হাসপাতালের ডাক্তার গড়ার কোন দায় পশ্চিম-বাংলার মানুষের নেই। বাংলা বোর্ডের সিলেবাস নির্ধারণকারী আধিকারিক যারা, জয়েন্ট এন্ট্রেন্স বর্ডার পদাধিকারী যারা, তাদের সন্তানেরা কোন বোর্ডে পড়েন, সেটা জানা দরকার। নইলে এসব ক্ষেত্রে  অন্য কি কি ধরনের স্বার্থ  কাজ করতে পারে, তা জানা যাবে না।  আমাদের বুঝতে হবে কাদের চক্রান্তে বাংলা বোর্ড ক্রমে পরিনত হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেনীর বোর্ডে, যেখানে বনের জলে ভেসে আসার ঠাই পাবেন।

বাঁকুড়া জেলা স্কুল, বর্ধমানের সিএমএস। সিউরী জেলা স্কুল – এই নামজাদা প্রতিষ্ঠানগুলিকে জোর করে হারিয়ে দিলে শেষ নিরিখে বাংলা হারবে। দিল্লির নামধারী ইস্কুলে দিল্লি থেকে আমদানি সিলেবাস পড়ে শহুরে বাঙালির  বাচ্চারা মানুষ হবে – বাংলার ভবিষ্যত আর যেখানেই হোক, এই উড়ে এসে জুড়ে ব্যবসা করা ইস্কুল্গুলির অলিন্দে খোঁজা অনুচিত। ব্যাপারটিকে যেন আমরা  মাতৃভাষায় শিক্ষার সাথে গুলিয়ে না ফেলি।  পশ্চিমবঙ্গের মধ্যশিক্ষা প্রসদের অনুমোদিত স্কুলগুলির সিলেবাস বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে অভিন্ন।  আমি পড়েছিলাম সাউথ পয়েন্ট-এ , এক কালের নামজাদা ইস্কুল, পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের মুকুটের একসময়কার মণি।  এখান সময় পাল্টেছে – সেখানেও দিল্লি ও কেন্দ্র ঢুকেছে। শুনি ব্যবসা বেড়েছে। বেনিয়া কেন্দ্রীয়করণের এই প্রকল্পে, বাংলার মাজরা পোকা ও আলুর ধ্বসা রোগে নিয়ে শিক্ষার কোন জায়গা নেই।  তবুও কি আমরা আশা করতে পারি না, আমরা আমাদের বাংলার বোর্ড সেই ভাবে গড়ব , যাতে কিনা শহুরে বাঙ্গালী  ‘মিডিল-কেলাস’-এর গ্লোবাল ও ইন্ডিয়ান পোলাপানের সাথে মফস্স্বলের, গ্রামের, শহরের মধ্যে অন্যত্র শহরের সেইসব ছেলেমেয়েরাও সুযোগ পায় সাফল্যের – যাদের আজ দিল্লি ও তাদের বাঙালি দালালেরা জোর করে হারিয়ে দিচ্ছে।

1 Comment

Filed under Acedemia, বাংলা, Bengal, Class, Delhi Durbar, Education, Elite, Identity, Kolkata, Language

আমার শহর, আমার আশা

সামনেই আমার শহর কলকাতার পৌর নির্বাচন। এ শহর আমার জন্মের শহর। এখানে বস্তিবাসীকে নিমেষে হটিয়ে দিয়ে শহর ‘পরিষ্কার’ করা যায় না – কাউন্সিলর এম-এল-এর বেনামীতে প্রমোটারী ব্যবসা সত্ত্বেও। এখানে প্রধান প্রধান রাজপথে লক্ষ লক্ষ্য হকার সৎ ভাবে আয় করেন – মানুষের পেটে লাথি মেরে সূর্যোদয়ের বিরূদ্ধে দাঁড়ায় এ শহরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। এ শহরের পথে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলার গরীব খাটিয়ে মানুষ বাংলা ভাষার জ্ঞান ছাড়াই ক্ষুন্নিবৃত্তি করে। অন্য কিছু শহর যেমন বাঙ্গালিকে হিন্দুস্তানি বা ইংরেজি বুলি বলতে বাধ্য করে, আমার শহর সেই পংক্তিতে পড়ে না। এ শহরের মন বড়। এ শহর আমার গর্বের শহর। তাই শহরের পৌরসভায় আমার প্রতিনিধিত্ব করবে কে, এটা খুব এলে-বেলে একটা সিদ্ধান্ত নয়। তেরঙ্গা পতাকার রাষ্ট্রর থেকে এই শহর আমার রোজকার জীবনে অনেক অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক, অনেক বেশি বাস্তব।

আমার এ শহর নিয়ে ক্ষোভ আছে – যেমন মানুষের থাকে একদম একান্ত নিজের কিছুকে নিয়ে। আমার ওয়ার্ডের পৌরপিতা আমাদের এলাকার নতুন কাজ বা পরিকল্পনা নিয়ে অরাজনৈতিক নাগরিক সভা করেন না। আমার এলাকায় আমার প্রতিনিধি যিনি, তার কাছ থেকে এইটুকু কি আশা করা খুব অন্যায়। আপনারা যারা এবারও আমার পৌর-প্রতিনিধি হবার ইচ্ছা রাখেন, এলাকার নানা পরিকল্পনা দলের রং না দেখে, নাগরিক-দের সাধারণ সভা ডেকে করবেন – এমন কথা দেবেন? এই টুকু চাইব না? অথচ আমার করের টাকাতেই তো পুরসভা চলে। বাড়ির বাচ্চাকে আলু-বেগুন কিনতে বাজারে পাঠালে আমরা পাই-পয়সার হিসেব নিই, আর কোটি কোটি টাকার বরাতে কর্পোরেশনের বাজার-রাস্তা-ইস্কুল-ত্রিফলার হিসেব নেব না ? হিসেব চাইব আমি নাগরিক হিসেবে। শহরের সৌন্দর্যায়নে আমার আপনার মতামত নেওয়ার দরকার নেই আমাদের প্রতিনিধিদের? নইলে সে কেমন প্রতিনিধি ? আমার আপনার ভোটে জিতে সে তাহলে কার প্রতিনিধিত্ব করে?

যে চরিত্রহীন, তার হীনমন্যতাই তাকে বাধ্য করে অন্যের চরিত্র ধার করে নিজেকে চরিত্রবান প্রমাণ করাতে। যার গায়ে কাপড় নেই, সে অন্যের জমকালো কাপড় গায় জড়িয়ে লজ্জা নিবারণ করে। যারা কলকাতাকে লন্ডন-নিউয়র্ক বানাতে চান, তারা না চেনেন কলকাতাকে, না চেনেন লন্ডন-নিউয়র্ককে। তাই তো তারা পরমা আইল্যান্ডের ‘পরমা’ স্থাপত্যকে ভেঙ্গে দেন অবলীলায়, বৃটেনের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রতিবাদ করে ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় এসে আস্তানা গড়া বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী ও সমাজচিন্তক জে বি এস হলডেনের নামাঙ্কিত রাস্তার নাম বদলের পায়তাড়া করা হয়। মধ্যমেধা ও মধ্যকল্পনার সাথে চাটুকারিতা ও দুনম্বরী মেশালে তিলোত্তমা গড়ার তিলের যোগান হয় না, লন্ডন-সিঙ্গাপুরের কয়েক তাল স্থুল অনুকরণ গড়া যায় ঠিকাদারী ব্যবসার মাধ্যমে। এ শহরের নিজস্বতা, এ শহরের প্রাণ-ভোমরা – শহর সাজাতে যদি তাকে যদি মন্থন না করা হয়, তখন সৌন্দর্য্য হয়ে ওঠে নগর ও নাগরিকের মধ্যেকার একটি দেওয়াল। সে দেওয়ালের উচ্চতা দেখে ভয় ও সমীহ হতে পারে, কিন্তু কেউ সেখানে গিয়ে চুমু খাবে না, আল্পনা দেবে না।

এ শহর দাঁড়ায় সিঙ্গুরের পাশে। তাই এ শহরে বিজনেস ক্লাসে উড়ে আসা লোক কম। আর খুব কম সম্বল করেও অমাবস্যার রাতে একটুখানি চাঁদের আলোর স্পর্শ পেতে চাওয়া লোকের সংখ্যা অনেক। আমার শহরের নায়কেরা শহরের নাম ভাঙিয়ে ক্রিকেট দল খোলে না , বিনোদন টেক্স বাকি রেখে নেচে কুদে ‘আই লাভ কলকাতা’ বলে বোম্বাই পালিয়ে যায় না। আমার শহরের আসল নায়কদের একজন হলো শমভু সিং। এ শহরের দক্ষিণে গগনচুম্বী বহুতলের খোপ-ঘরের আধুনিক হুল্লোড়ের উপর ঘুরপাক খায় জয় ইঞ্জিনিয়ারিং-এর নিহত কর্মী শমভু সিং-এর বিদেশী আত্মা – অপরাজিত সৈনিকের মতো। এহেন শহরের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব করা যে-সে কাজ না। এ শহর দিল্লি-বেঙ্গালুরু-নয়ডা-গুরগাঁও হতে চায় না। এ শহর এখুনো দোকানের নাম ও রাজনৈতিক পোস্টার লেখে মাতৃভাষায়। এ শহর হিন্দুস্তানের মরুভূমিতে মরুদ্যান নয়, ভাগীরথী-হুগলীর ব-দ্বীপের কোল ঘেঁসে গড়ে ওঠা মহা-গঞ্জ। এ শহর নিখিল বাংলাদেশের বৃহত্তম শহর। এ শহর অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের সকল বঙ্গবাসীর।

আমার শহরে থাবা বসিয়েছে অনেক দুর্বৃত্ত। তারা শহরের রাজপথে সাইকেল চালানোকে বে-আইনি ঘোষণা করেছে। তারা গাড়ি থামিয়ে মানুষকে সিগনাল পারাপার করতে একটু বেশি সময় চায় না। তাদের কাছে ট্রাফিক মানেই গাড়ি, রাস্তা মানে শুধুই গাড়ীর পথ। আমি চাই আমার পৌর-প্রতিনিধি এদের সমঝে দিক। আমি চাই আমার শহরে গাড়ি কমুক, বাস বাড়ুক, পথিক বাড়ুক। আমি চাই আমার আগামী প্রজন্ম সুস্থ থাকুক, ভালো ভাবে শহরে নিশ্বাস নিতে পারুক। যিনি আমার প্রতিনিধি হবেন, তার প্রতি আমার দাবি অনেক, আশা অনেক। তারা পারবেন-ও, যদি ইচ্ছা থাকে। আর যদি থাকে শহরের প্রতি ভালবাসা, শহরবাসীর প্রতি দরদ।

আমি চাই আমার ওয়ার্ডে আরো গাছ লাগানো হোক – ফলের, ফুলের। সবুজ রং দিয়ে শহর মুড়লে সবুজায়ন হয় না। নীল রং দিয়ে মুরলে নীলকন্ঠ হওয়া যায় না, পাপ পাপ-ই থেকে যায়। সাদা রং করে পবিত্র হওয়া যায় না – প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। লাল নিশান ওড়ালেই সংগ্রামী হওয়া যায় না – তাপসী মালিকের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। আসন্ন নির্বাচন পুরনো হিসেব বুঝে নেবার নির্বাচন, নতুন দাবি রাখার নির্বাচন।

আমার শহর দেশভাগের শহর। এ শহরে একাধিক বাজারের নাম বাস্তুহারা বাজার। এ শহরের অনেক হকার প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের রিফিউজি। এ শহর বিস্থাপিতের অভয়ারণ্য। এ শহর শুধুমাত্র মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তদের দিয়ে তৈরী ‘বস্তিহীন’ হকার-হীন ‘ছিম-ছাম’ ও ‘শান্তিপূর্ণ’ নকল শহর না। বাস্তুহারা বাজারের প্রতিনিধিত্ব বড়বাজারের দ্বারা সম্ভব না। ওসব এখানে হয় না।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Democracy, Kolkata, Urbanity

গোবিন্দ হালদারের নিষিদ্ধ ফিসফিস

সে যতই দেখনদারী হোক, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ওপার বাংলায় যাত্রার ফলে কিছু সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে – যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই একটি জাতির দুই বিভক্ত অংশের একে অপরের দিকে নতুন করে তাকানো। এই বিভক্তির কারণের মধ্যে, তার ঠিক-ভুলের মধ্যে না গিয়েও একটা কথা বলা যায়। দেশভাগ ও তার পরেও ঘটতে থাকা খুন-ধর্ষণ-ধর্মান্তরকরণ-লুঠ-ঘরপোড়ানো-সম্পত্তিদখল ইত্যাদি ভয়ানকের অপরাধের শাস্তি হয়নি, এপারেও – ওপারেও। এই আদি পেপার বোঝা সুদে-আসলে এতই ভারী যে মানুষ সেই বোঝাকে ফেলে দিয়ে ভুলেই গেছে পাপের কথা। প্রায়শ্চিত্ত তো দূরস্থান।

১৯৪৭-এর বাংলা-ভাগের সাথে ব্রিটিশদের দ্বারা উপমহাদেশের শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলির হাতে যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল, আজকের ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন, পাকিস্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এক অর্থে তার-ই ফসল। এই ভাগের সাথে সাথেই ‘আমরা’ কারা ,’বন্ধু’ কারা ’, ‘শত্রু’ কারা- এগুলির নানা মিথ রচনার বীজ পোঁতা হয়, যার থেকে বেরোনো মহীরুহ আজকের দিনে আমাদের মনকে, আমাদের কল্পনাকে একদম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে। নতুন রাষ্ট্রের পেটের গভীর থেকে জন্মানো এই কল্পকাহিনীগুলি যে আজ পবিত্র সত্যের স্থান নিয়েছে, তা শুধু গল্পের ভাবের জোরে নয়। সরকারী প্রচার এবং সরকারী বাহিনী, ঘুষ ও শাসানি, আঁচড় ও আদর, পুরস্কার ও থার্ড ডিগ্রী, জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও মিথ্যা মামলায় হাজতবাসের এক অসামান্য সংমিশ্রনেই আজকের পবিত্রতা, সংহতি, ‘বিকাশ’, রাষ্ট্রপ্রেমের জন্ম (দেশপ্রেমের নয়)। সাবালক এই সব বিষবৃক্ষের রসালো ফলের আমার দৈনিক কাস্টমার। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে, আমাদের স্বকীয় আত্মপরিচিতকে পিটিয়ে পিটিয়ে রাষ্ট্রীয় ছাঁচে ঢোকানো হয়েছে দিল্লী, ইসলামাবাদ ও ঢাকার মাতব্বরদের স্বার্থে। মানুষের আত্মাকে কেটে সাইজ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার জুজু দেখিয়ে। এই পাপ বঙ্গোপসাগরের থেকেও গভীর।

আমাদের কল্পনা ও স্মৃতির অগভীরতার কারণে আমরা মনে করি যে এক রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বোধয় দৈব নির্ধারিত কোন ‘প্রাকৃতিক’ নিয়ম যা না মানলে আমরা দুনম্বরী বিশ্বাসঘাতক মানুষ। যাদের আনুগত্য, টান ও ভালবাসা রাষ্ট্র-সীমান্ত পেরোলে ঝুপ করে উবে যায় না, তারা বুঝিবা মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং রাষ্ট্রের চোখে নেমকহারাম। রোজ এই ধারণাগুলিকে বিনা বাক্যে মেনে দিয়ে আমরা আমাদের এই মর্ত্যলোকে স্বল্প সময়ের জীবনকে করে তুলি ঘৃণাময়, ভীতিময়, কুঁকড়ে থাকা। ১৯৭১-এ কিছু সময়ের জন্য পূর্ব বাংলার মুক্তিসংগ্রামের সময়ে এপার বাংলায় এরকম অনেক তথাকথিত বিকার চোরাগলি ছেড়ে রাজপথে মুখ দেখানোর সাহস ও সুযোগ পেয়েছিল। এ সত্যি যে ১৯৭১-এ ইন্ডিয়ান উনীয়নের নানা এলাকায় পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সমর্থন ও সাহায্য ছিল। কিন্তু পশ্চিম বাংলায় এই সাহায্যের আড়ালে যে আবেগের প্রকাশ ঘটেছিল, তা আজকের ডেটল-ধোয়া ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্রাষ্ট্রিক সম্পর্কের পবিত্র গণ্ডির বাইরের এক প্রায়-নিষিদ্ধ জিনিস। পশ্চিমবঙ্গের সাথে পূর্ববঙ্গের যে একাত্তুরে ‘ঘনিষ্টতা’, তার সাথে কর্ণাটকের সাথে পশ্চিমবঙ্গের ঘনিষ্টতা বা কর্ণাটকের সাথে পূর্ববঙ্গের ঘনিষ্টতার কোন মিল নেই। এই মিল-অমিলের অঙ্ক মেলাতেই তো ঘনঘন বেজে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত, যাতে এরম চিন্তা গুলিয়ে যায় মিলিটারি ব্যান্ডের আওয়াজে। দিল্লি-ও একাত্তরে ভালই জানত এসব ‘নিষিদ্ধ’ প্রেমের কথা – কিন্তু এই প্রেম তখন তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পক্ষে কাজ করেছিল বলে বাড়তে দিয়েছিল কিছুদিন অন্যদিকে তাকুয়ে, তারপর রাশ টেনে সমঝে দিয়েছিল সময়মত। এই আচরণেরও অন্য উদাহরণ আছে। যেমন তামিল নাদুর বিধানসভায় শ্রীলংকার ইলম তামিলদের সমর্থনে যেসব প্রস্তাব পাশ হয়, তা নিয়ে দিল্লীর নিস্তব্ধতা – যেন দেখেও দেখছে না। যেমন কাবুল ও পেশোওয়ারের মধ্যে যে ঠান্ডা-গরম পাখতুন বন্ধন ও তা নিয়ে আজকে ইসলামাবাদের চাপা ভীতি।

১৯৭১ অবশ্যই অতীত। সেই ‘নিষিদ্ধ’ প্রেম আমরা কবে বন্ধক দিয়েছি বেঙ্গালোর-দিল্লী-নয়ডা-গুরগাঁও স্বপ্নে বিভোর হয়ে। তাই তো আজ, আমরা, এই বাংলায়, দিল্লির থেকে ধার করা চশমায় পূব দিকে তাকাই আর দেখি – গরুপাচারকারীর মুখ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মিছিল, হিন্দু বাঙালির শেষ আশ্রয়স্থল হোমল্যান্ডটিকেও জনসংখ্যার বিন্যাসে কেড়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র। এই সবই কিছু ঠিক, কিছু ভুল, কিন্তু সেসব ঠিক-ভুলের পরেও মধ্যে লুটোয় দিগন্তজোড়া বাংলাদেশের মাঠ, যে মাঠ শুধু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাঠ নয়, বরং নিখিল বাংলাদেশের মাঠ। সে উত্তরাধিকার আজ প্রায় তামাদি।

বিগতকালের এই যে সম্পর্ক, যার শেষ প্রতিভুদের একজন এই গোবিন্দ হালদার। একরাষ্ট্রের আনুগত্যে বাঁধা আমরা, তাই এ প্রেমের কথা কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার পায় না। এ সম্পর্ক – তা ঠিক পরকীয়া নয়, বরং এমন এক প্রেম যার শুরুর পরে প্রেমিক হয়েছে বিভাজিত। আর প্রেমিকার প্রেম থেকে গেছে একইরকম। কিন্ত অন্যের চোখে সে দুই প্রেমিকের প্রেমিকা, এবং কলঙ্কিনী। এমনই এক প্রেমিকা ছিলেন গোবিন্দ হালদার। গত ১৭ জানুয়ারী, ৮৪ বছর বয়সে মারা গেলেন অতি সাধারণ এক হাসপাতালে। অবিভক্ত যশোর জেলার বনগাঁ এলাকায় জন্ম।বনগাঁ ‘পড়ে’ ‘ইন্ডিয়ায়’।আকাশবাণীর জন্য গান লিখেছেন। একাত্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আকাশবাণী কলকাতা। পরে যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য প্রচুর গান লেখেন যা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ও পূর্ব বাংলার জনগণের মুখের গান, প্রাণের গান হয়ে ওঠে। মোরা একটি ফুল বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠেছে রক্ত লাল, পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা – এগুলি তার প্রবাদপ্রতিম রচনা। শ্রোতার ভোটে তৈরী বিবিসি রেডিওর সর্বকালের সেরা ১০টি বাংলা গানের তালিকায় তার দুটি গান উপস্থিত। এই লোকটি মারা গেল, কোন বঙ্গশ্রী, পদ্মশ্রী ছাড়াই। আসলে সে ঠিক গান লিখেছিল ‘ভুল’ রাষ্ট্রের জন্য। তাই এপারে তার কল্কে নেই। আমাদের মধ্যেই ছিলেন এতদিন। জানতে চেষ্টাও করিনি, কারণ রাষ্ট্রর ক্ষমতা যত বেড়েছে, তা আমাদের মানুষ হিসেবে ছোট করে দিয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-ও একাত্তরে গোবিন্দ হালদারের নাম ফলাও করত না – সে ‘ভুল’ রাষ্ট্রের যে। পরে ঋণ শোধের চেষ্টা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিত্সার খরচ পাঠিয়েছেন, সরকার পুরস্কৃত করেছেন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কলকাতায় মৃত্যুপথযাত্রী গোবিন্দ হালদারকে দেখে গেছেন। আমার কাছে একটা ছবি আছে – বৃদ্ধ গোবিন্দ হালদার বাংলাদেশের পতাকা নিজের বুকের কাছে ধরে আছেন। পার্টিশন এলাকার যারা নন, একদেশ-একজাতি-একরাষ্ট্র রাষ্ট্রের গর্বে বলিয়ান যারা, হয়ত ভাগ্যশালী তারা,কিন্তু তাদের কি করে বোঝাব এসব ? হয়ত তারা বুঝবে পরজনমে, রাধা হয়ে। তখুন হয়তো তারা অনুভব করবে গোবিন্দ হালদারদের দেশের ঠিকানা।

কেউ কেউ কিন্তু তলে তলে বোঝে। ঢাকার অভিজিত রায় – খ্যাতিমান মুক্তমনা ব্লগার। ২৬ তারিখে , একুশে বইমেলা থেকে ফেরত আসার সময়ে তাকে রামদা দিয়ে হত্যা করা হলো। তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। দায় নিয়েছে ইসলামী সংগঠন আনসার বাংলা-৭। প্রতিবাদে এ বাংলার কিছু মানুষ ২৭এই কিন্তু জমায়েত করলেন যাদবপুরে। নিষিদ্ধ প্রেম পরিণত হয় নিষিদ্ধ কান্নায়, কাঁটাতার ভেদী শপথে, চোরাগোপ্তা। সব রং তেরঙ্গায় নেই।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Kolkata, Language, Nation, Open futures

রাম ও রামীর পয়লা ফাল্গুন

কালকে ভ্যালেন্টাইন্স ডে।  আপনার জীবনে যদি প্রেম-পিরিতির কেউ থাকে এবং  নগদ টেকা-টুকা থাকে, তাহলে এটা আপনার আধুনিক  নাগরিক কর্তব্য যে আপনি কাল চকোলেট কোম্পানি, মাল্টিপ্লেক্স কোম্পানি, রেস্টুরেন্ট কোম্পানি, গ্রিটিং কার্ড কোম্পানির মতো হরেক কোম্পানিকে কাল বেশি মুনাফা দেবেন।  আপনি উত্তরাধুনিক  নাগরিক হলে দেবেন ডার্ক চকোলেট, দেখবেন আর্ট ফিলিম, দেবেন অন্যের হাতে আঁকা কার্ড।  খাবেন  রেস্টুরেন্টে কারণ কুকিং বর্জন প্রগতিশীলতার এক প্রাথমিক শর্ত। এই সকল মাজারে চাদর না চড়ালে আপনার প্রেম খাঁটি নয়। যারা নরসিংহ রাও পরবর্তী যুগে লায়েক হয়েছেন, তাদের অনেকের এতদিনে প্রতি ভ্যালেন্টাইন্স ডে-তে যা যা প্রেমের প্রমাণ জমেছে, তার একটা আর্কাইভ করলে বেশ একটা সমাজতাত্ত্বিক ব্যাপার হবে। কিছু ক্ষেত্রে এই উপহারের আর্কাইভ আবার অনেকের সিরিজ প্রেমের আর্কাইভ ও বটে – কে কার পেছনে কত টাকা খরচ করলো বা করলো না, স্মৃতির মনিকোঠায় সেই অনুযায়ী বরাদ্দ থাকে বর্গফুট কার্পেট-এরিয়া। হয়ত যারা কালচার-ফাল্চার স্টাডি করে শ্বেতাঙ্গদের কাছে দিশি মানুষের জীবনকে উজাগর করে নাম কামান, তারা দুর্বোধ্য ভাষায় কিছু পুঁথিও লিখে ফেলবেন। আমার কথা নিশ্চই তেকেলে জ্যাঠার মতো  শোনাচ্ছে।  আমার ঠাকুরদার বাপ, আমার ঠাকুরদা, আমার বাপ – এরা সকলেই কুলের বড় ছেলে, অতয়েব নানা মানুষের জ্যাঠা। আমি এদেরই ডাইরেক্ট উত্তরসুরী। আমি মূলতঃ চট্টোপাধ্যায়।  গর্গ নামটি উছিলা মাত্র।

বাংলা জুড়েই একটি খাঁটি বাঙালি জিনিস আমার আপনার সকলের আছে। এটাকে বাংলায়ে বলে ফিলিংস। অনেকে এই মোক্ষম দিনে এহেন মোক্ষম ফিলিংস প্রকাশ করেন প্রথম বার। কে বলে যে শুধু আমরাই পাজি দেখে শুভ কাজ করি? আপনারা যারা আধুনিক-উত্তরাধুনিক – তার বেলা ? এই যে চেনা ছকে চেনা কোম্পানির চেনা উপহার দিয়ে চেনা ফিলিংস-কে দৃঢ় করা, এ কি “রিচুয়াল” না ? যত স্বকীয়তা আর স্বতস্ফুর্ততা, তা আপনাদের ক্রেতা-আচরণে? আর যত দোষ ও ব্যাকওয়ার্ড রিচুয়াল আমাদের সিন্নি চটচটে ধুনো ধূমায়িত পরিসরে ?

যখন প্রেম-পিরিতির সম্পর্কে যা গভীরত্ব জানান দিতে হয় বাজারী জিনিসপত্রের মাধ্যমে, এবং প্রেম-পিরিতির যাচাইও হয় বাজারের নিরিখে, তখন সে ভালবাসা সর্বার্থেই অর্থপূর্ণ। বাজার আজকে মোটামুটি এটা বুঝিয়ে ফেলেছে যে চাষের জন্য যেমন লাঙ্গল দরকার (বড়লোক হলে ট্রাক্টর), তেমনই ১৪ ফেব্রুয়ারী প্রেমের জন্য ফুল-চকোলেট দরকার (ধনকুবের হলে ছোট্ট হীরে)।  মনের সঙ্গে মালের এই সহজ কিন্তু কুটিল সম্পর্ক প্রথমতঃ কল্পনার শত্রু। দুইটি মানুষ যখন এই দিনকেই ইস্পেসাল করে তোলে, এই দিনেই জিনিস -প্রদান করে, তারা নিজেদের স্বকীয়তাকে গৌণ  করে দেয়। রামা-শ্যামা-যদু-মধু সকলেরই প্রেম একদিন বেশি করে জাগে, একই দিনে তারা চেনা চকে চেনা জিনিস করে, তা রাম ও রামীর অথবা রাম ও শ্যামের যে নিজস্বতা, তাকেই নস্যাত করে।  দুই প্রেমীর কাজ হয়ে যায়  গ্লোবাল সংস্কৃতির পাতায় সামান্য ফাঁকা জায়গায় নিজেদের নাম লেখা – ফিল আপ দি ব্ল্যান্ক। বাকিটা এক। কিন্তু মানুষ তো এরকম এক না। তাই পিরিতির এই ভালেন্তিনীয় প্রকাশে কোন কোন সম্ভাবনার মৃত্যু হয় ? নগদ-হীন ভালবাসা প্রকাশে কার লাভ, কার ক্ষতি? কাগজে ছাপাঅশোকস্তম্ভের সিংহের কাঁধে ভর করা এ কোন ভালবাসা ?  অশোক স্তম্ভ ছাড়া যেমন ভারত রাষ্ট্র নেই, চকলেট-খানাপিনা-সিনেমা-ফুল-গিফটের মোড়ক ছাড়ালে যেটা বাকি থাকে, সেটা কি ? এগুলি না থাকলে, কি বাকি থাকে? কাদের ক্ষেত্রে বাকি থাকে, কাদের ক্ষেত্রে থাকে না ? এগুলি স্রেফ প্রশ্ন।  কার ভালবাসা খাঁটি আর কারটা মাটি , সেটা মাপার  জ্ঞান আমার নেই। তবে গদাধর চট্টোপাধ্যায় বলে গেছেন – টাকা মাটি, মাটি টাকা। মা সারদা আজকাল টাকার ব্যাপারে কম বলছেন, মাটি নিয়েই মনোযোগ বেশি। মার্কিন দেশে ২০১৩-তে একেকজন মানুষ গড়ে ৭৮০০ টাকা খরচা করেছেন ভালেন্টাইনস ডে  বাবদ। যদি মার্কিনি হয়োনের শখ থেকে থাকে, তালে ওই ৭৮০০ সংখ্যাটিকে পাখির চোখ মনে করে এগিয়ে চলুন। খ্রিষ্টীয় সন্ত ভালেন্টাইন আপনার সহায় হোন।

ভ্যালেন্টাইন্স ডে আমাদের বাংলাদেশের জনজীবনে, বিশেষতঃ শহুরে এলাকায় একটা জায়গা করে নিয়েছে।  জায়গা করে নিয়েছে আরো অনেক কিছুই।  এসবের ক্ষেত্রে একটা কথা খুব শোনা যায়।  চয়েস।  আমি যা চাইব। আমি চাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে – এটা আমার চয়েস।  ভালো কথা।  কিন্তু চয়েস বা বাচাবাচির মধ্যে  যা বাছা হয়, তা যাপনে হোক, ভাষায় হোক, বসনে হোক, দিবসে হোক – তার ভৌগোলিক উত্পত্তিস্থল যদি পৃথিবীতে সংখ্যালঘু যে শ্বেতাঙ্গ মানুষজন, তাদের  এলাকা থেকেই আগাপাশতলা আমদানি করা হয়, তাহলে চয়েস আসলে বাড়ে, না কমে ?  বিশ্বায়নের ফলে তো আমাদের  বিশ্ব আরো ব্যাপ্ত হবার কথা ছিল – বসনে, ভূষণে, ভাষায় সবেতে বৈচিত্র বাড়ার কথা ছিল।  তাই না ? গলদটা কোথায়?  তার জন্য হয়ত আমাদের এই ১৪ ফেব্রুয়ারির বাংলায় আমদানির গল্পটি জানতে হবে, সেই আমদানির ফড়েদের কথা জানতে হবে, আমাদের কল্পনা ও ফিলিংস কেমনে  শ্বেতাঙ্গ পপ-কালচারের গারদে আটকা পড়ল, সেটা একটু ভাবতে হবে। শ্বেতাঙ্গ আক্সেন্ট ও জোক্স মুখস্ত করতে করতে আমরা আমাদের বগল ও কুঁচকি দেখতেই ভুলে গেছি। ময়লা জমবেই।  তখন সেন্ট যদি আমদানি করতে হয়, সায়েবের কি দোষ ?

আমি যখন মার্কিন দেশে থাকতাম, তখন ১৪ ফেব্রুয়ারীকে কেন্দ্র করে নানা জিনিস নতুন মোড়কে পাওয়া যেত।  ১8 তারিখ কাটলেই সেগুলির দাম হয়ে যেত অর্ধেক।  আধুনিক ও উত্তর-আধুনিকদের  বিশ্বেও  তিথি অনুযায়ী জিনিসের দর বারে কমে, ঠিক কোজাগরী লক্ষী পুজোর দিনে সবজির মত। এবার ভ্যালেন্টাইন্স পড়েছে পয়লা ফাল্গুনে।  শুনতে কি বোরিং লাগছে না? পয়লা ফাল্গুন আর ১৪ ফেব্রুয়ারী কি এক হলো ?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Language, Sahib

মুকুল ঝরবে?

তৃণের নানা ঋতুতে নানা রূপ। ঘোর বর্ষায় তা রসালো। মাটির সঙ্গে তার সংযোগ – মাটি থেকেই তার উদ্ভব। প্রখর গ্রীষ্মে তা শুকনো – বেড়ে ওঠার সময়ের প্রাণরস শুকিয়ে গেলে, মাটির সাথে নিবিড় সম্পর্ক আলগা হলে, পড়ে থাকে হলুদ বহিরঙ্গ । শুকনো তৃণের একটি বৈশিষ্ট হলো কোথাও একটু আগুন লাগলে, তা দ্রুত ছড়ায়।  নিমেষে শুকনো তৃণের বিরাট মাঠ ছাড়খার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আগুন লাগার জন্য একটা স্ফুলিঙ্গ দরকার। বিনা আগুনে মাঠও পোড়ে না,  আবার বিনা আগুনে ছেলের বিয়েতে কোর্মা বিরিয়ানী রান্নাও হয়না। স্ফুলিঙ্গের অস্তিত্ব তাই অনেকটা বিরিয়ানীর গন্ধের মতো। যা রটে, তা কিছুটা বটে। এই কিছুটা আসলে ঠিক কতটা, নাকি অনেকটা, নাকি পুরোটাই , তা আমরা কেউ-ই জানি না। যে সকল  ঠাকুর-দেবতারা সবার  ভেতরের সব কিছু  জানেন, তারা মানুষের সাথে সচরাচর কথা বলেন না। আর যারা সংবাদমাধ্যমের কানে কানে এই ‘কতটা’র গল্প নিয়মিত চালান করেন, তারা স্রেফ ভানে দেবতা, প্রাণে আর সকলেরই মত ধান্দাবাজ মাত্র। হ্যা ভাই, দিল্লীকে স্যালুট করা ভয়-শুন্য চিত্ত উচ্চ-শীর লোকগুলি ঠিক আর বাকি সকলেরই মতো। শুধু টিকিটি অন্য জায়গায় বাঁধা, তফাত এই যা। ‘বিশেষ’ সূত্রের জনকেরা বড়ই সাধারণ।  তফাৎ নেই শিরদাঁড়ায় – সে শিরদাঁড়ার রং লাল হোক, তেরঙ্গা হোক, গেরুয়া হোক, খাঁকি হোক বা জলপাই হোক। বিশেষতঃ খাঁকি বা জলপাই-দের বিশেষ সুত্র বা ভেতরের সূত্র সাদা পোশাকের পুলিশের মতোই সততা ও সত্যতার মহান প্রতীক। তাই সাধু সাবধান।

তৃণের মাঠ পুড়ে  ছারখার হলে সেখানে স্বপ্নের নীড়  গড়ার যারা স্বপন দেখছে, তারা জানে সে শহর কলকাতার কনক্রিটের মাটির থেকে কলকাতার পাশে জলাজমি, বোজানো জলাজমি ও দখলি ফসলিজমিতেই পদ্ম ফোটার সম্ভাবনা বেশি। ঝুপড়ি-বস্তিহীন এলাকাতেই পদ্ম-তদ্ম বেশি মানায় – বিউটিতা খোলতাই হয় ।  এক সময় শিরে সংক্রান্তি হওয়াতে শহর কলকাতায় কমরেডরা আওয়াজ তুলেছিলেন – মেগাসিটি গড়বে কে? ভাগ্যিস রক্ত দিয়ে মেগাসিটি গড়া যায় না (আসলে রক্তিম ধাপ্পা দিয়ে বক্রেশ্বর-ও গড়া যায়না ওইভাবে , তবে সে অন্য প্রসঙ্গ)। মেগাসিটির অবসরপ্রাপ্ত নায়কেরা বিধান-বাবুর বস্তিহীন নগরে প্লট-টট গুছিয়ে নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন। আর দেকছেন, বুঝছেন, ভাবছেন – দেশ ও দশের কথা। এদিকে মেগাসিটি গড়ার জন্য রাজারহাট-এর নাম থেকে তার পরিচিতি সরিয়ে নিউটাউন হচ্ছে – যা এক-কালে হযেছিল ‘বিধান-নগর’-এ। মানুষের স্মৃতিকে ক্ষমতাবানদের বড় ভয়, বিস্মৃতি বড় ভরসা। তাই তো কলকাতা ও বিধান-নগরের সীমান্তে শানু লাহিড়ীর ‘পরমা’ ভাস্কর্যকে গুঁড়িয়ে দেওয়া যায় অবলীলায় – সেই ভাস্কর্য যার নামে পরমা আইল্যান্ড , সেই পরমা যেখানে এসে পার্কসার্কাস থেকে ফ্লাইওভার আসছে তো আসছে, আসছে তো আসছে। ঠিক বাংলার যুব সমাজের কাছে প্রতিশ্রুত লক্ষ লক্ষ চাকরির মত, ঠিক সারদার আমানতকারীদের কাছে প্রতিশ্রুত বিপুল লাভের গুড়ের মত। পরমা নেই, আছে এক গোলক – যাতে পথচলতি মানুষ ঠিকঠাক বুঝে  নেয় বিশ্বে বাংলার স্থান ঠিক কোথায় আর লন্ডনের স্থান-ই বা কোথায় – তাদের মধ্যে দুরত্ব কতটা।  দুরত্ব কমাতে ‘কাছের মানুষ, কাজের মানুষ’রা বদ্ধপরিকর। তাই তো এই বাংলার স্বনামধন্য আপন শিল্পীর স্থাপত্য ধ্বংসের সাথেই চলছে  লন্ডনের বড় ঘরি-স্তম্ভ ‘বিগবেন’-এর  একটি চটুল নকল বানানোর অশ্লীল পরিকল্পনা। টেমস নদীর ন্যায় নদী পার হওয়া ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর মতই আসছে তো আসছে। তাই  দুধের স্বাদ  ঘোলে মেটানোর পরিকল্পনা – খালপাড়ের বিগবেন।  আমরা আশায় আশায় বাঁচি। এই আশা বা ‘হোপ’-এর বাপ হোপ ৮৬-র সম্রাট তার পুত্রের সংগ্রামী মানস-পুত্রের ঘড়িস্তম্ভের কথা শুনে বলতেন ‘বাপ কা বেটা’। কিন্তু আফশোস, দুধ হোক বা ঘোল, তার জন্য নিদেনপক্ষে গরু দরকার। যেদিন ওই নকল বিগবেন-এ বারোটার ঘন্টা বাজবে – সেদিন সকল কাগজেই আধপাতা বিজ্ঞাপন হয়ে তা জানান দেবে। বলদ বলদ-ই। গরু নয়।

মুকুল ধরতে শুরু করেছে শহরের বেঁচে থাকা কয়েকটি আমগাছে।  মুকুল যখন ধরে, তখন সারা গাছ ভরে যায়। অন্য সকল পাতা ঢেকে যায়।  দেখে মনে হয় যেন  মুকুলেরই গাছ। হুগলী  জেলায়  আমার গুষ্টির আদি ভিটা।  সেখানে আমাদের এজমালি আম-বাগান আছে।  তাই আমরা জানি যে মুকুল ধরল মানেই যে সেবার আমের ফলন ভালো হবে, এমন নয়।  মুকুল ঝরে যেতেই পারে – ভেতরের রোগে, বাইরের আবহওয়া বদলে। এই বঙ্গের ভাগ্যবিধাতারা দিল্লিতে থাকেন – তার বঙ্গের লজ্জা। এ লজ্জা অন্য সকল রাজ্যেরও। দিল্লী হতে ঠিক হয় মুকুল ঝড়বে কি ঝড়বে না।  তাই উড়ে চলো দিল্লী। বঙ্গের ভেতরে যে সারদা রোগ তা অবশ্য দিল্লীর সাহারা রোগ ও অন্যান্য মহারোগের তুলনায় নস্যি। কিন্তু রোগ রোগ-ই।  সে ক্যাঁক করে কাকে ধরবে, তা ২৭২+ এর যুগে বলা শক্ত। এখুন পর্যন্ত যাদেরকে রোগে ধরেছে, তারা কিন্তু বেজায় ভয় পেয়েছে।  আমি তো পেতাম।  তবে তাদের  সাথে আমার তুলনা চলে না।  আমি ল্যাম্প-পোস্ট ও নই। আমার পেটে লাথি  মারলেও গৌর-নিতাই ত্রিফলা বাতি জ্বলবে না। এই  সপ্তাহে আমগাছের দিকে চোখ রাখুন – মুকুল ঝড়বে না কি  ঝড়বেনা ?

তবু আমগাছের মুকুলের ঝরঝরে হবার বা ঝরে পড়ার এই দিনে যে সংগ্রামী কমরেডরা পাশে দাঁড়িয়ে মজা দেখছেন, সেই  দুর্বৃত্ত ফসিল-গুলিই গত  কয়েক দশক ধরে বলত কেন্দ্রের গা-জওয়ারীর কথা। আজ যখন দিল্লী থেকে বর্গি এসে তাদের শত্তুরকে কোণে নিয়ে গিয়ে কম্বল-ধোলাই দিচ্ছে , তখন তাদের একইসাথে হাত-তালি ও  নিস্তব্ধতাকেও মনে রাখা দরকার।  পরে কাজে দেবে। কেউ নিজে খাল কেটে আসে না – কেটে আনানো হয়। দিল্লি থেকে কলকাতা – লম্বা এই খাল। যে চির-সংগ্রামী  কমরেডরা ভাবছেন যে বাংলায় গ্রেফতার ও গুজরাতে  সাত খুন মাফের খেলায় তারা এখানে হাততালি, ওখানে গালি দিয়ে ঘোলা জলে মাছ ধরবেন, তারা এই ঘোলা জলে কব্জি ডোবালেই  বুঝবেন খাল কেটে কি জীব তারা ঢোকাচ্ছেন। এখুন  তো কলির সন্ধে। আমের ফলন কেমন হবে, তা ঠিক হতে এখুন দেরি  আছে।

Leave a comment

Filed under বাংলা

ডাক্তার ও মেরুদন্ড

ডাক্তারের অন্যতম কাজ রোগ নির্ণয়। কিন্তু এসএসকেএম হাসপাতাল-এ গত বেশ কয়দিন যাবৎ যে প্রহসন চলল, তাকে রোগ ‘আবিষ্কার’ বলা যেতে পারে। কিন্তু অচেনা ভুতের ভয় ছাড়া অন্য কোন রোগ আবিষ্কৃত হলো না। ডাক্তারবাবুরা কিন্তু যথাসাধ্য চেষ্টা করেছিলেন। খুব চেষ্টা করেছিলেন। কি হতো যদি প্রথম দিনেই দেওয়া হত ‘ফিট’ সার্টিফিকেট? কি হারাতেন তারা? সরকারী চাকরি যা কিনা হারানোর কোন ভয় নেই – মাসে লাখটাকার অনেক বেশি মাইনে। মনুষ্যরুপী দেবতা ইমেজটা তার সাথে একদম ফ্রী। কি হারাতেন তারা যদি তারা বলতেন সূর্য্য পূব দিকে ওঠে , অথবা, যদি জানিয়ে দিতেন যে পৃথিবী সুর্য্যকে প্রদক্ষিণ করে ? একটা জেলা শহরে ট্রান্সফার, খুব বেশি হলে। বঙ্গবাসীর চরম দুর্ভাগ্য যে কোন এক সুদূর অতীতের পাড়ার মেধাবী ছাত্র জেলার গর্ব বাপমায়ের আশাভরসা এককালে মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক-ডাক্তারি প্রবেশিকা-ডাক্তারি পরীক্ষা সবেতে ভালো ভাবে পাশ দিয়ে অভিজ্ঞতায় নুব্জ হওয়া রত্নদের মধ্যে ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়’ বলার মত একটিও মানুষ পাওয়া গেল না মেডিকেল বোর্ড-এ। অথচ মালিন্গেড়িং বা রোগের নাটক করাকে কি ভাবে ধরতে হয়, তার শিক্ষা তো এমবিবিএস করার সময়েই দেওয়া হয়। এনারাই তো সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে টুক করে গাড়িতে উঠলেন। ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে হুশ করে বেরোলেন। চেম্বার সেরে বাড়ি ঢুকলেন। হয়ত সন্তানের সাথে চোখাচোখি হলো। সে মুহুর্তে আগামী প্রজন্মের চোখে ছোট হলেন না বড় হলেন নাকি বুদ্ধি খাটিয়ে শাক দিয়ে মাছ ঢাকলেন , ম্যানেজ দিলেন। হয়তো মনে হলো, কেউ জানতে পারল না। যে মা মুখ দেখলে বুঝে ফেলতেন মিথ্যা বলছেন কিনা, তিনি তো কবেই চোখ বুজেছেন। আর কোন সাক্ষী নেই, আয়না নেই। সভ্যতা ভুলে গেছে, মেরুদন্ডি প্রাণীর উদাহরণে একদিন কি বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল মানুষের। কোন পাঠক মনে করাবেন কবির নামটা?

সত্যই কি কেউ জানতে পারল না? এই তো সেদিন অবধি মেডিকেল কলেজে ছাত্রাবস্থায় বন্দেমাতরম জয়ধ্বনী দিয়ে ছাত্রপরিষদ করছিলেন – সরকারী গান্ধীবাদের। কাজে ঢুকে হয়ে গেলেন এইচএসডি – কমরেডি কৃপা ও সান্নিধ্যের লোভে । আজকে পরিবর্তনের যুগে ‘প্রগ্রেসিভ ডক্টর’-এর অগুরু আতর গায় লাগিয়ে আবার সেটিং করে নিয়েছেন, কালকে পদ্মপাতায় নজনের মধ্যে জায়গা হবে কিনা, তার হিসেব ও করছেন আজকাল একটু-আধটু। ছাতা-জার্সি সব বদলেছেন ভয়ে ভয়ে – কখনো প্রোবেশন, কখনো প্রমোশন, কখনো ট্রান্সফার, কখনো উচ্চাকাঙ্খা, কখনো ভিজিলেন্স। খবরটা এবেলা জানিয়ে রাখি – আপনার বিশ্বরূপের সাক্ষী আছে। সেই অন্তরাত্মার মালিক সাক্ষী, এই দিন দুনিয়ার মালিক সাক্ষী, মা দূর্গা-মনসা-চন্ডি-শীতলা সাক্ষী, ধর্মঠাকুর সাক্ষী, নার্স দিদি সাক্ষী, গ্রুপ-ডি ষ্টাফ সাক্ষী, এমনকি আপনার পোষা ড্রাইভার-ও সাক্ষী – অধঃস্তন বলে সামনে কিছু বলে না। দেবতারা ডাক্তারদের খুব ভালবাসেন। নইলে প্রতিদিন পূর্বের পাপস্খালনের এত নিত্য-নৈমিত্তিক সুযোগ তৈরী করে দিতেন না তারা। ভাবেন তারা উপরে বসে ‘এবার তো সুযোগটা নে, কালি মোছ।’ দয়াময় সুযোগের পর সুযোগ দ্যান – আর সুযোগগুলি দিনের শেষে শুকিয়ে যায় উচ্ছিষ্ট ভাতের মতো। আরো টেস্ট করা দরকার – হৃদয়, মল, মুত্র। কিছু একটা পেতেই হবে, অথবা দেখাতে হবে যে পাবার আপ্রাণ চেষ্টা করছি। সভ্যতা ভুলে গেছে, মেরুদন্ডি প্রাণীর উদাহরণে একদিন কি বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল মানুষের।

মেরুদন্ডী গুরুর ছাত্র হয় মেরুদন্ডি। আর জার্সি-বদল ‘নির্বিবাদ’ ‘ঝামেলা এড়ানো’ গুরুর ছাত্র হয় কোরপান শাহ-এর হত্যাকারীরা। যারা মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষটাকে অত্যাচার করে খুন করলো, তারা হত্যাকারী, তারা সংখ্যায় বেশি না , এক বাটি দুধে একটুখানি চোনা । আর যারা, তাকিয়ে তাকিয়ে দেখল – সেই সংখ্যাগুরু সোনার টুকরো প্রত্যক্ষদর্শিরা ? এদের তো বলতেও হবে না , ‘মাস্টারমশাই, আপনি কিন্তু কিছু দেখেননি’। এরা এখুনি সব দেখেও না দেখতে, সব জেনেও মুখ বন্ধ রাখতে শিখে গেছে। এরা আসছে দিনে ডাক্তারী মাষ্টারমশাই হবেন। সামনের দিনে আরো দীর্ঘায়িত হবে মেডিকেল বোর্ডের রোগ-আবিষ্কার নাটক। জার্সি-বদল হবে অহোরহ। অনেকে একই জার্সি-তে নানা পতাকার তালি লাগিয়ে কাপড় সাশ্রয় করবেন। নব যুগের ফকিরী সাজ। কারণ দেড় লাখি মাইনের ডাক্তার-ও অমেরুদন্ডি হবার কারণ হিসেবে বলেন ‘পেটের দায়’। সভ্যতা ভুলে গেছে, মেরুদন্ডি প্রাণীর উদাহরণে একদিন কি বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল মানুষের।

একদিন ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার পরে বাংলা থেকেই কত ডাক্তার ছুটে গেসলো, আরো পরে পাশে দাঁড়িয়েছিল কানোরিয়া জুট-আন্দোলনের। তাদেরই রেশ দেখা গেছে বন্যা-ত্রাণে, আইলায়ে, নন্দীগ্রামে। ৮০-র দশকে এই বাংলা থেকেই চিকিত্সক-রোগী উভয়ের কল্যাণের দাবি নিয়ে হয়েছিল ঐতিহাসিক জুনিয়র ডাক্তার আন্দোলন। পাশে দাঁড়িয়েছিল সরকারী ডাক্তারদের অদলীয় সংগঠন। লোভ, ভয় ও হুমকি দিয়ে তত্কালীন সরকার সে সংগঠন ভাঙ্গিয়ে দলদাস ডাক্তার গোষ্ঠী গড়ে তোলে। লজ্জার ইতিহাস বেশ পুরনো। দল-দাসত্বের লাভ অনেকে কড়ায়-গন্ডায় উসুল করেছেন – সল্টলেকে প্লট নিয়ে, ট্রান্সফার আটকে দশকের পর দশক কলকাতায় থেকে গিয়ে, মেরুদন্ডি ডাক্তারদের প্রমোশন আটকে, বারবার দূরে ট্রান্সফার করিয়ে। লাল পতাকাধারী কেষ্টর সুযোগ্য উত্তরসুরী হলো সাদা কেড্স পরা তেরঙ্গা বিষ্টু। আগে পেছনে ‘স্যার স্যার’ করার জাতীয় সঙ্গীত গাওয়া হয়েছে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে। অথচ, মেরুদন্ডি প্রাণীর উদাহরণে একদিন কি বিপুল জনপ্রিয়তা ছিল মানুষের।

এই তো সেদিন, কোরপান শাহ-এর বধ্যভূমি এনআরএস-এই সূর্য্য উঠেছিল।মিথ্যা কেসে সন্ত্রাসবাদী তকমা পাওয়া ছত্তিশগড়ের আদিবাসী স্কুল-শিক্ষিকা সোনি সোরির যোনির গভীরে পাওয়া গেল পাথরের একাধিক টুকরো ও পুলিশী অত্যাচারের অনেক চিহ্ন। ফরেন্সিক ডাক্তারের রিপোর্ট বুঝিয়ে দিলো ছত্তিশগড়ের পুলিশ-গোয়েন্দারা অপরাধী, মিথ্যাবাদী, অত্যাচারী। আজ-ও এমন শিরদাড়াওয়ালা ডাক্তার থাকতে বিভুষণের শাল দেওয়া হলো দাগী আসামিকে? শাল-এর এতই আকাল ? কোরপান হত্যার নিশ্চুপ সাক্ষীদের কেউকেউ কাল ফরেন্সিক ডাক্তার হবে। তখন যোনির মধ্যে আটকে থাকা রাষ্ট্রের প্রেম-মাখা পাথরের টুকরোর খবর থাকবে কি মেডিকেল রিপোর্ট-এ ? কালকের সোনি সোরীরা, আমার বোনেরা ভায়েরা মায়েরা থার্ড ডিগ্রীর চিহ্ন নিয়ে কোথায় যাবে? আমার যে খুব ভয় করছে।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Bengal, Terror, Under the skin

লাভ জেহাদ – তথ্য কই ?

[ ArekRakam]
অধিকাংশ মানব সমাজেই বিবাহ বা তারই কোনো অন্য সমাজ-স্বীকৃত রূপকে মানব-মানবীর প্রেমের স্থায়ী বন্ধনের সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপ বলে মনে করা হয়।  যদিও বাজারে প্রেমে ‘অন্ধ’ হওয়ার কথাটি বেশ চালু আছে, সমাজ স্বীকৃত সম্পর্ক বা নিজেদের রেডিকাল বলে প্রচার করা মানুষদিগের তথাকথিত ‘বিকল্প’ সম্পর্ক-ধারনায় হোক, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার চোখ অন্ধ তো নয়,বন্ধ ও নয়।  যদি বিবাহের দিকেই তাকানো যায় , তাহলেই দেখব যে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী, জাত, ভাষা অথবা এ সকল জিনিসের এক সংমিশ্রণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্পষ্ট ভাবে নির্ধারক ভূমিকা নেয়। তাদের ব্যক্তিগত আদর্শ বা চিন্তাধারার কারণে এহেন অবস্থাকে কেউ কেউ অপছন্দ করতেই পারেন, কিন্তু এটাই সামাজিক বাস্তবতা।  শুধু ‘সাধারণ’ মানুষ নন, স্ব-আখ্যাত ‘অসাধারণ’ ও ‘রেডিকেল’ মানুষজনেরও যুগল ভাবনা মুখের বুলিতে যাই হোক, বাস্তবে তাদের
বাছ-বিচারেও ‘সাধারণ’-এর মাপকাঠিগুলিই প্রকট। চড়া গলায় প্রকাশ্য দ্রোহের অন্তরালে দেখা যায় যে ‘অসাধারণ’ রা আসলে সাধারণ।  ক্রিষ্ঠান ধর্মাবলম্বী পরিবারে জন্মানো শ্বেতাঙ্গ পুরুষ-মহিলাগণ, যাদের জীবন ,
আদর্শ ও দর্শন অনেকাংশেই শহুরে দিশি ‘রেডিকেল’ দের অনুপ্রাণিত করে, সেই নরোত্তমেরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই ক্রিষ্ঠীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ পরিবারের কাউকেই বিবাহ করে। নানা রকম ‘কসমোপলিটান’ কল্পনার শাক দিয়ে এই মাছ ঢাকার অপচেষ্টা চললেও, এটাই ঘটনা। সংখ্যাগরিষ্ট কে লঘু করে দেখানো আর সংখ্যালঘু কেকে ফাঁপিয়ে দেখানোটা ঈসপের ল্যাজ-কাটা শেয়ালের কৌশলের অংশ।একটা জিনিস বুঝে নেওয়া দরকার। কিছু মহলে, ভিন্ন ধর্ম বা ভাষা বা জাতীয়তার মানুষের মধ্যে বিবাহকে কিছুটা ‘উচ্চতর’ মর্যাদা দেওয়া হয়। যেন এগুলি সাধারণ বিবাহের থেকে একটু উচ্চকোটির জিনিস।  নিজেদের পারিবারিক
ধর্মের মানুষকেই বিবাহ করেন মানব জাতির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ট মানুষ। ভালো-মন্দ অপ্রাসঙ্গিক। এইটেই বাস্তব।
‘লাভ জেহাদ’ হলো এমন এক ঘটনা যেখানে মোসলমান পুরুষ পূর্ব-পরিকল্পিত ভাবে অ-মোসলমান নারীকে বাছাই করে, অনেক ক্ষেত্রে নিজের মোসলমান পরিচয় গোপন করে  তার সাথে  প্রেম, বিবাহ বা যৌনাচার বা সবকটিই করে শেষ অবধি তাকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করার উদেশ্যে বা অ-মোসলমান নারী ও তার সমাজের সম্ভ্রম-হানি ঘটানোর উদ্দেশ্যে। পাকিস্তানে (বিশেষত সিন্ধু প্রদেশে) ও ইংলন্ডে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় ইউনিয়ন-এ কেরল, কর্নাটক ও সম্প্রতি উত্তর প্রদেশ  থেকে এমন কিছু ঘটনার অভিযোগ এসছে।  এই ঘটনাগুলিতে পুলিশী তদন্ত কিন্তু এমন কোনো ব্যাপক তথা পূর্বপরিকল্পিত ‘লাভ জেহাদ’-এর মত ঘটনার  প্রমাণ পায়নি।  উত্তর প্রদেশের মতো এলাকা, যেখানে সাম্প্রদায়িক রেষারেষির সুদীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, সেখানে এই ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে ব্যাপক প্রচার চলেছে কট্টর হিন্দুত্ববাদী কিছু চক্রের সাহায্যে।
ভারতীয় ইউনিয়ন-এ যে আইন প্রচলিত আছে, তাতে কোনো মোসলমান পুরুষ-এর কোন অ-মোসলমান নারীর সাথে প্রেম বা বিবাহ করতে বাধা নেই, বাধা নেই সেই মহিলাকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করতেও। একই ভাবে, কোন হিন্দু পুরুষ-এরও কোন অ-হিন্দু নারীর সাথে প্রেম বা বিবাহ করতে বা ধর্মান্তরিত করানোতে বাধা নেই।  যখন এই জিনিসগুলি ঘটে, তখন খাঁটি প্রেমের কারণে হয় নাকি মনের গোপনে গোপনে তা কেউ অপর ধর্মের নারী-দের ফাঁসানোর উদেশ্যে করে, তা জানতে মনের খবর জানার যে প্রযুক্তি প্রয়োজন, তা ভাগ্যিস এখুনো কল্পবিজ্ঞানের স্তরেই আছে। কিন্তু কেউ যদি ইচ্ছাকৃত ভাবে পরিচয় গোপন করে (  উদাহরণ স্বরূপ, কোন হিন্দু পুরুষ যদি তার হিন্দু পরিচয় গোপন করে সে মোসলমান , এমন ধারণা দেয়ে কোন মোসলমান নারী-কে আকর্ষিত করতে), সে ক্ষেত্রে ব্যাপারটা জালিয়াতি বলেই গন্য করা উচিত এবং এর পিছনে অন্য অসাধু উদ্দেশ্যের কথাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।  যদিও এমন জালিয়াতির ঘটনা কিছু পাওয়া-ও যায়, তার ভিত্তিতে এটা বলা  সম্ভব না যে এই ঘটনা বৃহত্তর কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ কি না। কিন্তু ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে যে উত্তেজক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যাপারে পরিষ্কার তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।  যখন তথ্য থাকে অপ্রতুল, তখন বাগাড়ম্বর, গুজব ও ঘৃণা-উদ্ভূত কল্পিত ‘তথ্য’-ই সত্যের স্থান দখল করে নেয়।  সেটা একটা বিপজ্জনক খেলা। অনেক সময় নিরীহ মানুষকে  রক্তে সে খেলার দাম চোকাতে হয়।
ভারতীয় ইউনিয়ন-এ প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বর্তমানে অবিবাহিত যে কোন পুরুষ  বর্তমানে অবিবাহিত যে কোন মহিলাকে বিবাহ করতে পারে।  যদি কোন ধর্মের থেকে অপর ধর্মের মহিলাদের বিশেষ-ভাবে ‘টার্গেট’ না করা হয়, এ ব্যবস্থার ফলশ্রুতি হিসেবে বাস্তবে এই দেখতে পাওয়া উচিত যে হিন্দু স্বামী – মোসলমান স্ত্রী যুগলের সংখ্যা মোসলমান স্বামী – হিন্দু স্ত্রী যুগল সংখ্যার মোটামুটি কাছাকাছি। রাজ্য স্তরে বা জেলা স্তরেও এই প্যাটার্ন দেখতে পাওয়া উচিত।  তার থেকেও স্থানীয় স্তর-এ সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচার করার মত সংখ্যায় তথ্য নাও থাকতে পারে।  যদি রাজ্য স্তরে বা জেলা স্তরে দেখা যায় এক ধরণের যুগলের সংখ্যার সাথে  অন্য ধরণের যুগলের সংখ্যার অনেকটা অসাম্য রয়েছে, তখন বৃহত্তর কারণের কথা ভাবতে হবে।  কিন্তু ঘটনা হলো, এসব কোন তথ্যই কারো কাছে নেই।  এমন তথ্য কেন নেই, সে প্রশ্ন করা দরকার – বিশেষত যখন এই ধরনের ব্যাপার বর্তমান রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতে এমন বিভেদকারী পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। ভারতীয় ইউনিয়ন-এ জ্ঞানীগুনী  গবেষকের কোনো অভাব নেই।  ভালো করে সমাজ-বিজ্ঞান ভিত্তিক একটা কাজ করে, জরিপ করে এগুলি জানতে পারা কি এতই শক্ত? দেশ ও দশের সামাজিক-রাজনৈতিক  জীবনের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক গবেষণাতে এহেন অনীহা এই উপমহাদেশের জ্ঞানী শ্রেনীর  সমাজ-বিচ্যুত অবস্থানের দিকেই দিক-নির্দেশ করে। অথচ টিভি তথা অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমে  প্রায়শই দেখা যায় পন্ডিত ও আলোচকদের , ‘লাভ জেহাদ’ সত্য বা মিথ্যা, এই নিয়ে জোর গলায়ে দাবি রাখতে, এক তিল তথ্য প্রদান না করেও।  এটা শুধু হতাশাব্যঞ্জক নয়, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বটে।
জনসংখ্যার ধর্মভিত্তিক অনুপাত ইত্যাদি নিয়ে উদ্বেগ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি, দুইই বাস্তব। গুজরাটের সুরাবর্দি এবং অধুনা ভারতীয় ইউনিয়ন-এর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক সময়  নিয়মিত ভাবে তার রাজনৈতিক জমায়েত-এ মোসলমান সম্প্রদায়-কে ব্যঙ্গ করতেন  ‘হাম পাঁচ , হামারে পচ্চিস ‘ ( আমরা পাঁচজন , আমাদের পচিসজন ) বলে।  অর্থাত , এক মোসলমান পুরুষ, তার ৪ স্ত্রী, ও তার ফলে ২৫ টি সন্তান।  এর মাধ্যমে ইসলাম স্বীকৃত ও ভারতীয় আইন স্বীকৃত  মোসলমান পুরুষের বহুবিবাহের বৈধতার দিকে যেমন খোঁচা আছে, তেমনি আছে বেশি সংখ্যক সন্তান উত্পাদনের মাধ্যমে জন-সংখ্যার ধর্মভিত্তিক অনুপাত বদলানোর প্রচেষ্টার ইঙ্গিত। এই নিয়ে প্রচার ‘লাভ জেহাদ’ এর থেকে অনেক বেশি।  এই যে দাবি, যা নিয়ে প্রচার-ও বড় কম নয়, তার কি বাস্তব ভিত্তি আছে। অন্ততঃ বহুবিবাহ প্রশ্নে উত্তর স্পষ্টতই না।  কারণ এক্ষেত্রে তথ্য আছে। যতদিন আদমশুমারিতে বিবাহিত স্ত্রীর সংখ্যা গণনা করা হত, তার শেষ তথ্য ১৯৬১ সালের আদমশুমারির। তাতে আমরা কি দেখতে পাই? আমরা দেখি যে ৫.৭% মোসলমান পুরুষের একাধিক স্ত্রী আছে। অর্থাৎ মোটামুটি ২০ জন-এ ১ জন মোসলমান পুরুষের ১৯৬১ নাগাদ একাধিক স্ত্রী ছিল।  সেই একই সময়ে হিন্দু পুরুষের বহুবিবাহের হার হলো ৫.৮% – অর্থাৎ মোটামুটি এক, এবং চুলচেরা বিচার করলে অতি সামান্য বেশি-ই। অর্থাৎ বাস্তব তথ্য বহুবিবাহ সংক্রান্ত  মুসলমান-বিদ্বেষী প্রচারের বিপরীত।  ঠিক এই কারণেই তথ্য প্রয়োজন, প্রয়োজন সংখ্যার – ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত, আছে না নেই, এই সব দিয়ে পরিস্থিতি বিষনোর আগে।এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভালো যে ১৯৫৫ অবধি হিন্দু বহুবিবাহ-ও আইনত বৈধ ছিল। আজও মোসলমান সম্প্রদায়ের বিরুধ্যে অন্য সম্প্রদায়ের থেকে বেশি হারে বহুবিবাহের অভিযোগ আনা হয় হরদম কোন তথ্যের ধার না ধেরেই।
তথ্য ভিত্তিহীন প্রচারের ভুক্তভোগী কুলীন ব্রাহ্মণেরাও।  রাজনৈতিক প্রচারে, ব্যঙ্গে এবং ‘অন্তর্জলি যাত্রা’র মতো  চলচ্চিত্রের ফলে এক ধারণা জনমানসে বেশ বদ্ধমূল।  তা হলো এক কালের  কুলীন ব্রাহ্মণ মাত্রেই বহুবিবাহ করা লোক।এ কথা সত্য যে কিছু কুলীন ব্রাহ্মণ বহুবিবাহ করতেন – তাদের মধ্যে একটি ক্ষুদ্র অংশ বিশাল সংখ্যায় করতেন এই কদর্য  কাজ।  এ নিয়ে বিতর্ক নেই।  কিন্তু কুলীন ব্রাহ্মণ বলতেই যে একরকম চরিত্র-অঙ্কন তার মধ্যে রয়েছে গোঁজামিল। যে সমাজে কন্যা ভ্রুণ হত্যার সুদীর্ঘ মর্মন্তুদ ইতিহাস রয়েছে এবং বিবাহে জাতের বাছ-বিচারের ফলে নিজের জাতেই বিয়ে হত কুলীন ব্রাহ্মণ-দের, সেই পরিপ্রেক্ষিতে সেক্স রেসিও (অর্থাত জনসংখ্যায়  ১০০০ পুরুষ প্রতি কজন মহিলা) ১০০০-এর কম হওয়াটাই  স্বাভাবিক।  যেখানে অনেক কুলীন ব্রাহ্মণ পুরুষের স্ত্রী জতারি কথা নয় সরল সংখ্যাতাত্ত্বিক বিচারে, সেখানে বহুবিবাহের ব্যাপক প্রসার এক কথায় অসম্ভব।  ঠিক যেমন যে কোন সমাজে একই সাথে একধিক স্ত্রী থাকার ব্যাপারটি এক ক্ষুদ্র অংশেরই আচরণ হতে পারে।  অন্যথা হওয়াটা গাণিতিক-ভাবেই দুষ্কর।
কাউকে কেউ অপছন্দ করতেই পারেন, সে মোসলমান হোক, কুলীন ব্রাহ্মণ হোক, শ্বেতাঙ্গ সাহেব হোক। কিন্তু সে ঘৃণার বর্শায়ে বিষ হিসেবে বাস্তব-ভিত্তিহীন প্রচার মাখানো অন্যায় ও পাপ।  ‘লাভ জেহাদ’ নিয়ে যে বিতর্ক, তা এই ধরনের প্রচারের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ মাত্র।  বরং প্রশ্ন উঠুক – তথ্য নেই কেন ? সামাজিক বাস্তবতা নিয়ে তথ্যই তো গণ-বিতর্ক-কে শক্তিশালী করে।  অন্যথা চলে ঘৃনা-প্রতিঘৃণার এক প্রাচীন খেলা। প্রশ্ন যখন সংখ্যা নিয়ে, তথ্যই হোক হাতিয়ার। গুজবের মাঞ্জা দিয়ে একে অপরকে ভো-কাট্টা করার অপচেষ্টা বন্ধ হোক।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Community, Gender, Religion, Sex

কলকাতার গাজী ইলিয়াস

কলকাতার পথের মধ্যে গল্প থাকে। শীত কাল বলে সে গল্প ভালো করে শোনা যায় – শীতে নিখিল বাংলাদেশে মানুষ একটু কম ঘামে। গল্প চেঁচিয়ে কথা বলে ফাঁকা রাস্তাতেও। তাই অনেক গল্প পথিকের মিস হয়ে যায়। এই তো কদিন আগে আমি ভাগ্যক্রমে এক গল্পের সাক্ষী থাকলাম যেটা কিনা একটু হলেই আড়ালে ঘটে যেত। কলকাতার সেই ছোট গল্পের আগে ঢাকার একটি গল্প দিয়ে একটা  গৌরচন্দ্রিকা করব।
সে ছিল আরেকটি শীতের মরশুম। ২০১০-এর ডিসেম্বরে ঢাকায় লাইভ প্রোগ্রাম করতে এলেন হিন্দী চলচিত্র জগতের জনপ্রিয় নায়ক শারুখ খান, ‘কিং’ খান। হয়তো অনেকেরই মনে আছে। সেদিন শারুখ ছিল স্টেজে।  দাপাদাপি করে সে জনতাকে বিনোদন দিয়েছিল।  এটাই তার পেশা ও কাজ। লাইভ শোতে একটি জনপ্রিয় ক্যারদানি হলো  হঠাত করে দর্শকদের মধ্যে থেকে কাউকে স্টেজে ডাকা। সুপারস্টার ও ভক্ত – এই ব্যাপারটি নিয়ে একটি তাত্ক্ষণিক নাটক মঞ্চস্থ করা আর কি। হঠাত করে ডাক পাওয়া ভক্ত স্টেজে উঠে নায়ক-কে বলবে আপনি মহান, আপনার জন্মদিন-বিয়ের তারিখ-সন্তানের অন্নপ্রাশনের তারিখ সকলই আমার মুখস্থ, কোনদিন-ই আপনার একটি বই-ও মিস করিনি, এখুনো বারবার দেখি বউবাচ্চা নিয়ে, চিরকাল ইচ্ছে ছিল আপনার গা ঘেঁষে একটু দাঁড়াই , আজ সে সুযোগ পেলাম, যেন লটারি-ই জিতলাম আর কি, ইত্যাদি, ইত্যাদি ।  নায়ক-ও ধন্যবাদ জানাবেন, একটু ‘মাটির মানুষ’ বা ‘আমি তোমাদেরই একজন’ গোছের একটু বিনয়, একটু  হাসি ঠাট্টা করবেন আর কি।  এমনই  দস্তুর। সব কিছুরই নাকি একটা ব্যাকরণ আছে অর্থাৎ সকলে তথাকথিত ভাবে ‘সর্বজ্ঞাত’ অনুযায়ী নিজের নিজের ভূমিকা পালন করবে। ‘কিং’-এর শুনবে, আহ্লাদিত হবে, প্রায় পায়ে পড়বে আর এহেন ‘ফ্যান’-এর গ্যাঁজলার গন্ধে  দর্শকেও মত্ত হবে।  প্রোগ্রাম তার ব্যাকরণ মেনে হবে সুপারহিট।
 কপট হয়েই হোক বা অকপট হয়েই হোক, এই ব্যাকরণ যখন লাইভ প্রোগ্রাম-এ কারুর দ্বারা কোন  ভাবে ভঙ্গ হয়, তখন আর এডিট করে ব্যাকরণ-মত করার সুযোগ থাকে না।  বরং ব্যাকরণ  একটি ভান, একটি আস্তরণ, একটি কিম্ভূত নির্মাণ, সেটাই প্রকাশ হয়ে পরে নগ্ন ভাবে। যে পৃথিবীতে কোথায় কেমন ভাবে ঠিক কি করে আচরণ করতে হয়, তা জানা এবং না জানা দিয়ে মানুষের ভাগ্য ও ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়, সেই পৃথিবীতে যারা অজান্তে হোক বা জ্ঞানপাপী হয়েও হোক, ব্যাকরণ ভাঙ্গেন, তাদের সাধুবাদ প্রাপ্য। তাই সাধুবাদ দিতেই হয় গাজী ইলিয়াস-কে।  মনে পরে গাজী ইলিয়াস-কে? শাহরুখ খান যখন তাকে স্টেজে ডাকে, সে এসে বলে যে সে বাংলা জানে, দাবি করে যে সে হিন্দী জানেনা। না জানাটাই স্বাভাবিক। ইলিয়াস কিন্তু একরকম চালিয়ে দেবার ইংরেজি জানে। এরপরে সে লম্ফঝম্ফ করা শাহরুখের জন্য রাখা জলের বোতল চেয়ে জল খায়, পিপাসা নিবৃত্তি করতে। তাকে দেখে মনে হয় সে ‘নার্ভাস’, কিন্তু তবুও যখন শাহরুখ বলে যে স্টেজে সকলে দেখছে, ইটা লাইভ প্রোগ্রাম, তাই ‘ঠিক করে’ আচরণ করতে, ঠিক স্টাইলে দাঁড়াতে, তখন ইলিয়াস জানায় যে শাহরুখের স্টাইল এক, আর ইলিয়াসের স্টাইল অন্যরকম।  মঞ্চের কাঠামো অটুট থাকলেও ব্যাকরণ ভেঙ্গে পড়ে।  এর পরে ইলিয়াস আবার বোতল থেকে জল খায়, সবার সামনেই। অনেকের কাছে সে হাসির খোরাক হয়। সে উপযুক্ত ভাবে তার ভূমিকা পালন করতে পারে নি। ইলিয়াস কিন্তু তার নাম ভূমিকা পালন করেছিল সেদিন। গাজী ইলিয়াস ছিল গাজী ইলিয়াস। আর উজ্জ্বল নক্ষত্রের সামনেও গাজী ইলিয়াস থেকে যাওয়ার ফলে শাহরুখ খান-এরই কিছু সময়ের জন্য  করতে হয়েছে, ইলিয়াসকে ধমক দিতে হয়েছে, তারপর ‘ইমেজ’এর স্বার্থে দ্রুত সামলে নিতে হয়েছে। এরই মাঝে এক মেরু-দণ্ডযুক্ত বাঙালিকে শাহরুখ তার বলশালী মারকুটে পাঠান পরিচয় দিয়েছে এক হুমকি-ইয়ার্কির মাধ্যমে। কায়িক বলের এই খেলাচ্ছলে আস্ফালনের জবাব দেয়নি গাজী ইলিয়াস – দিতে পারত। দিলে আরো রসভঙ্গ হত। শাহরুখ খান অভিনেতা।  ইলিয়াস গাজী নার্ভাস কিন্তু অভিনেতা নন।  তার জল পিপাসার ফলে জল খাওয়া শারুখের প্লান-মাফিক মায়া তৈরিকে হঠাত করে রুদ্ধ করেছে।  শারুখের অভিনয়ে গাজী ইলিয়াস সাময়িক যতি চিন্হ এনে দিয়েছে – স্ক্রিপ্ত্হীন নায়ক-কে একটু ঘামিয়েছে। শাহরুখ যে আসল নয়, সে যে অভিনয়, তা ওই সাময়িক যতির কারণে আরো বেশি বেশি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ করেছে নার্ভাস গাজী ইলিয়াস।যেখানে যে কথা বললে খাপে খাপ হয়, সেটা না করে বা করতে না জেনে। আমরা গাজী ইলিয়াসকে চিনি।  আমাদের অনেকের মধ্যে সে বাস করে।  আমরা তাকে চেপে রাখি, আমি নিজেদের ভেতরের গাজী ইলিয়াসকে ঘেন্না করি। আমাদের মনের মধ্যে গাজী ইলিয়াস  আছে  বলে আমরা লজ্জা পাই। আমরা নিজেদের ভেতরের গাজী ইলিয়াসকে হত্যা করতে চাই।  আমরা রাস্তার গাজী ইলিয়াসকে নিয়ে নাক সিঁটকোতে চাই , তাকে দুয়ো  দিতে চাই। আমরা আমাদের বাপ-মায়েদের-আত্মীয়-স্বজন-পারা-প্রতিবেশীদের নিচু নজরে দেখি কারণ তাদের অনেকের মধ্যে গাজী ইলিয়াসের সুস্পষ্ট ছাপ।  হয়ত  তারাও নিজেদের অপছন্দ করতে শিখে গেছে। কোথা থেকে আসে এই ছিছিকার, এই নিজেকে লজ্জা করা? আমরা চাই, তারাও চায়, যে তাদের সন্তান যেন দুধে-ভাতে থাকে আর তাদের মধ্যে যেন এক ফোঁটা গাজী ইলিয়াস না থাকে।  তারা যেন স্মার্ট হয়, তারা যেন স্টেজে তুললে পটাপট খাপেখাপ জবাব দিতে পারে।  তাদের দেখে যেন শাহরুখের মাথা একটুও গরম না হয়, একটুও যেন রাগ না চাপতে হয়। যেন শুধুই থাকে ‘সভ্য ব্যাকরণ’ সম্মত হাসি আর আনন্দ। এভাবেই রস গড়াতে থাকে। গড়াতেই  থাকে।
স্থান-কাল-পাত্র বোঝার, তার ব্যাকরণ বোঝার একটা রাজনীতি আছে।  এই রাজনীতির প্রকাশ আচরণে – স্থান-কাল- আচরণে। কিন্তু সে আর নতুন কি? নতুন হলো এই আচরণকে সারাক্ষণ অভ্যাস করে যাওয়া।  এই আচরণকে, এই ভানকে সত্য ও সুন্দর মনে করা। কোন কোন আচরণ? আমি গোদা ভাবে বলতে হলে আমি বলব আমাদের মত কালো মানুষের কল্পনায় শ্বেতাঙ্গ মানুষ যেমন আচরণ করে , তেমন আচরণ। এই আচরণ যে সাফল্যের চাবিকাঠি তা আর কেউ না জানুক,স্পোকেন-ইংলিস সম্রাট সাইফুর স্যার প্রচন্ড ভালো জানেন। এই উপমহাদেশে অন্যের হীনমন্যতা ভাঙ্গিয়ে ব্যবসা করার ঐতিহ্য বেশ পুরাতন। আমরা চাই আমাদের যেন ‘পাতে দেওয়া যায়’। এই পাত কিন্তু কলাপাতা বা শালপাতার না, এমনকি ভূমিজ এলিটের কাঁসার থালা ও না। একেবারে ম্যালামাইন। তাই দরকার পরে চামচ ঠিক করে ধরতে শেখার, আওয়াজ না করে স্যুপ খাওয়ার, এবং আরো হাজারো ‘সভ্য’ ঢং।
ঢং শিক্ষার দুনিয়ায়ে যে অশিক্ষিত, তাকে দেখলেই বোঝা যাবে যে এখুন কোথায় কখন কি করা উচিতের যে বিশ্বজনীন ‘স্বাভাবিক’ সহজপাঠ, তার শিক্ষাগুলি সত্যই শেষ প্রান্ত অবধি পৌঁছয়নি। তাই হঠাত করে আলোকিত করে দেয় অকপট গাজী ইলিয়াস। তাই রক্ষে। আর সে যদি ছুপা রুস্তম কপট হয়?  আমি তাহলে  বলব, সাবাস ইলিয়াস । কত লোকে ক্লিষ্ট ইংরেজি লিখে ভুঁরু ফুটিয়ে সাবভার্সন মারালো, তুমি করে দেখালে।
অথচ কোথায় কেমন করে কি কতক্ষণ করা উচিত – অপিসে, ক্যাফেতে , শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতের সামনে, ইংরেজি-কপচানো আমাদের দেশেরই হাপ-পন্ডিতের সামনে, সিনেমা হলে, জলে, স্থলে, অন্তঃরিক্ষে, যারা তার পাঠ বিলোয়ে ‘আধুনিক’ স্বকীয়তার মোড়কে এবং ইলিয়াস্দের প্রবল দুয়ো দেয় ‘অন্কাল্চারড’ হিসেবে – তারাই আবার পরিবার, পারিবারিক আচারআচরণ, বয়স্জ্যেষ্ঠেকে সম্মান, পারিবারিক চেতনা, কোথায় কার সাথে কেমন ভাবে কি আচরণ করতে হয়, বা করতে হয় না,তাকে পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঐযে বিশ্বজনীন ‘স্বাভাবিক’ আচরণের সহজপাঠ, তার প্রথম পাঠ হলো – নিজের সবকিছুকে প্রশ্ন করো, কিন্তু প্রশ্নের উছিলায় তুমি নিজে যে অন্যতর বিশ্বকল্পের দাস হয়ে যাচ্ছো, সে প্রক্রিয়া কে প্রশ্ন করো না। একবার কাছি কেটে দিলেই সহজপাঠের কাজ শেষ, তারপর মানুষ জলে না দবার জন্যই অন্য ডাঙ্গার সন্ধানে জোরে দাঁড় চালাবে, পৌছক আর না পৌছক। এই প্রক্রিয়াটাই খাপে-খাপ। যে ডাঙ্গা থেকে কাছি কেটে আসা হয়েছে, সেখানে ফেরা যাবে না।  সেখানে ইলিয়াস্দের বাস।  ফিরলে সে যদি হাসে? ইলিয়াস্দের উপর হাসা যেতে পারে, কিন্তু ইলিয়াস্দের হাসির পত্র হওয়াটা ঘোর অপমানের। আসলে আমরা আমাদের ক্ষমতাই বুঝি না।  অধিকাংশ ইলিয়াসের মেরুদন্ড আমরা ভেঙ্গে দিয়েছি কবেই। ওই হাড়ের গুঁড়া দিয়েই আমাদের কালো ত্বক সাদা করার পাউডার যোগান হয়। সাদা পাউডার মেখে নিজ সমাজের নরম মাটিতে আমরা নৃসংশ ভাবে আঁচড়ে  দেখাই স্বকীয়তা,  মুক্তিকামিতা, স্বাধীনতা, স্পষ্টবাদিতা , আর কত কি। আসলে যে অন্যকে ‘আন্কাল্চার্ড’ বলে,সে যে ভীষণভাবে সংস্কৃতিক ভাবে নিরক্ষর হতে পারে। বিশেষত দেশ-দশ-সমাজ যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্তরায় হয়, তখন কাছি কাটাই হয় নবধর্ম। আর ভূমিজ ধর্ম ছেড়ে নবধর্ম ধরলে প্রথম প্রথম যা ঘটার তাই ঘটে – চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী, চূড়ান্ত পূর্ব-আত্মবিস্মৃতি এবং আত্মসমালোচনার নিদারুণ অভাব। যা কিনা চলতি ক্ষমতার সংস্কৃতি,  হাজার রকম বড় বড় ইংরেজি শব্দ দিয়ে ‘ক্রিটিসিজম’ হবে, মোটা বই হবে।হারেমের স্বেছাবাশিনিরা এবং দ্বাররক্ষীরা কেমনে -বলবে  রাজা তোর  কাপড় কোথায়? রসভঙ্গ করতে লাগবে মানুষ। সে কাজটি করবে অন্য মানুষ। সহজ কিন্তু সরল নয় , এমন মানুষ। এবার ফিরি কলকাতার পথে।
আমি যাচ্ছি বরানগর থেকে হাওড়া স্টেশন, দিল্লীগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ধরতে।  আমি ট্যাক্সি করে যাচ্ছি। সাধারনতঃ আমি ট্যাক্সিচালকের নাম, ধাম জিজ্ঞেস করি, কিন্তু সেদিন নানা ব্যাপারে একটু চিন্তার মধ্যে ছিলাম।  তার-ই মধ্যে তারস্বরে চালু হলো এফ এম রেডিও, ট্যাক্সির মধ্যেই লাগানো। এক নারী উপস্থাপিকা সুন্দর গলা করে বললেন, শীত তো এসে পড়ল।  আপনার শীতে কি কি ভালো লাগে? এক ব্যাক্তি উত্তর দিতে শুরু করলো – আওয়াজের ধরণে বুঝলাম ইটা লাইভ টেলিফোন কলের মাধ্যমে কোন শ্রোতা বলছেন।  একজন পুরুষ। সে জানায় যে শীতকাল মানেই বিয়ে ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের মরশুম। এত অবধি ঠিক-ই ছিল।এত অবধি রাজার, বা ঢপের চলতি বিনোদনের কোন লজ্জাহানি হয়নি। এরপর জল গড়ায় অন্য দিকে।  সে বলে যে শীতকালে তাই মেয়েদের অসুবিধে আর ছেলেদের একটু সুবিধে। অনুষ্ঠানে মেয়েরা সেজেগুজে যায় – শাল জড়ালেও সুন্দর পোশাক আশাক সাজগোজ করতে হয়। কিন্তু ছেলেদের একটা জ্যাকেট বা ফুল হাতা সোয়েটার পরলেই হয়ে যায়ে , নিচে কি পরা, তা ইস্ত্রী করা না কুচ্কোনো, কেমন দেখতে, কিছু এসে যায় না।  পুরনো হলেও এসে যায় না। সুন্দর জামা, সুন্দর দোকান, সুন্দর ক্রেতা ,বিকিকিনি কেন্দ্রিক জীবনকল্পনা, ভালো থাকা কাকে বলে, তার জনসমক্ষে প্রকাশের যে ‘আধুনিক, সুশীল,পাতে দেওয়ার মতো’ ব্যাকরণ, তা টেলিফোন-কারী শ্রোতা লঙ্ঘন করতে শুরু করে।  আমি তখন স্ট্র্যান্ড রোড-এ। বিরল এক মুহূর্ত। উপস্থাপিকা একটু বিষয় বদলাতে চেষ্টা করে কিন্তুপ্রাণবন্ত সচল ডাকসু-তে শুধু সুন্দর গলা দিয়ে অচল করা শক্ত। শ্রোতা থামে না, সে বলে যায়  অবলীলায়, ‘প্লাস ২-৩ দিন কাপড় না  কাচ্লেও শীতকালে গন্ধ কম হয়।  ধরেন চান টান হয়নি তখুন  ভালো করে সেন্ট টেন্ট মেরে জ্যাকেট দিয়েও বিয়েবাড়ি  যাওয়া যায়।  কেউ বুঝতে পারবে না।’ ‘স্টাইলিশ’ ফরফর ইংরেজি-বাংলা মিলমিশ  উপস্থাপিকার গলায় অপ্রস্তুত বেকুব হাসি শুনতে পাই। এর পর বিজ্ঞাপন বিরতি। আর আমার ট্যাক্সি পৌছে গেছে হাওড়া স্টেশন, হাতে কিছুটা সময় নিয়েই। এই ভাবেই, আজকের  সময়ে, কলকাতার পথে যেতে যেতে শুনলাম, যেন আরেক গাজী ইলিয়াসের গলা – ‘রাজা, তোর কাপড় কোথায়?’ কোন এক অজানা কারণে আমার মনে পড়ে  যায় ছাত্রজীবনের স্লোগান ‘তাই তো বলি কমরেড, গড়ে তোল ব্যারিকেড’। ঠাকুর সব দেখছেন, কিন্তু কি ভাবছেন?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bahishkrit Samaj, Bengal, Culture, Elite, Kolkata, The perfumed ones, Urbanity

বাম্বু ও বিষ্ণু

যে জাতি মাতৃভাষার অধিকার ও সম্মান রক্ষা করতে মানভূমে, ঢাকায়, বরাক উপতক্যায় বারবার রাস্তায় নেমেছে, মার খেয়েছে, মৃত্যুবরণ করেছে, এমনকি দেশ স্বাধীন করেছে, সে জাতির মুখের ভাষার প্রশ্ন যে রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে ওঠে, সে আর আশ্চর্য কি। তবে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক কালের যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাষা নিয়ে, তা ঠিক ভাষার অধিকার নিয়ে নয়, সর্বসমক্ষে শালীনতা বজায় রাখার দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে। সে কথায় একটু পরে আসব। প্রথমেই বলি আমার নিজের কুল-গরিমা নিয়ে। আমার পিতৃকুল হুগলী জেলার পাটুলিগ্রামের অনেক বহুকালের (মানে বহু শতকের) বাসিন্দা এবং এই ‘দেশ’-এর সঙ্গে এই প্রজন্মেও আমাদের সম্পর্ক বেশ গভীর। আমরা রাঢী ব্রাহ্মণ এবং কৌলিন্যপ্রাপ্ত (অর্থাৎ কুলীন)। আমার পূর্বপুরুষেরা বিবাহ-সুত্রে ফুলিয়া মেল প্রাপ্ত হন। অর্থাৎ হিন্দু-প্রধান পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক বিন্যাসে আমরা একদম যাকে বলে টপ-ক্লাস। আমাদের কুলের একজন রায় বাহাদুর ছিলেন, যা কারণে অকারণে (যেমন এখুন) আমরা টুক করে জানিয়ে দিই (ইংরেজিতে যাকে বলে নেমড্রপিং)। এর থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার। তা হলো যাকে কিনা কিছু পন্ডিত এক বিশেষ ধরণের ‘সাবল্টার্ন’ বলেন, এবং আমাদের ‘নিজেদের’ মধ্যে চর্চায় বলি ‘ছোটলোক’ (প্রকাশ্যে বলি অন্ত্যজ, ব্রাত্যজন ইত্যাদি ), আমরা আর যাই হই, তা নই। আমার এই কুলেরই আমার প্রিয় এক জ্ঞাতি জ্যাঠামশাই আমাদের পৈতের পরের বছর দুর্গাপূজার সময় এক সংস্কৃত মন্ত্র শেখান। এটি আচমন মন্ত্র। কোনো অস্ট্রিক ব্যাপার স্যাপার নাই। মন্ত্রটি এরকম – ‘ওঁ বিষ্ণু তদ্‌বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ। দিবীব চক্ষুরাততম্‌।। ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু।’ কুলীন টু কুলীন জ্ঞান ট্রান্সফার হিসেবে আমার রসিক জ্যাঠা ফাজিল ভাইপো-কে এর মানে বলেন। ‘ওঁ বিষ্ণু’ অর্থাৎ একটি বাঁশ , তদ্‌বিষ্ণোঃ অর্থাৎ সেই বাঁশ, পরমং পদং সদা পশ্যন্তি অর্থাৎ পরের পশ্চাতে সদা প্রবেশ করাইবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। বলাই বাহূল্য, আসল মানেটা তাই ছিল না। সেই অর্জিনাল-এ বিষ্ণুর বঙ্গায়ন হয়ে বাঁশ হয় নাই। আমাদের পাটুলিগ্রাম তথা জিরাট-বলাগড় এলাকায় বাঁশঝার বেশ ঘন। তাই হয়তো বিষ্ণু যখন হিন্দুস্তান থেকে বাঁশঝার নিবিড় এই বাংলাদেশে আসেন আমাদের হাত ঘুরে, একটু অদলবদল হয়ে যায় আর কি। ইয়ার্কি মারছি বলে রাখলাম – বিশেষতঃ বোষ্টমদের প্রতি এই ক্ষমাপ্রার্থনা। আমরা শাক্তরা একটু ইয়ে হই। এবার ফিরি রাজনীতি, ভাষা ও শালীনতা প্রসঙ্গে।

পাটুলিগ্রামে যা বাঁশ, লন্ডনে তাই ব্যাম্বু, আর এই দুইয়ের মাঝামাঝি জল্পাইগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাই হয় ‘বাম্বু’। এতে বেশ একটা ‘বিতর্ক’ হয়েছে। এক দল বলছেন, রামঃ, বঙ্গেশ্বরীর মুখের এই ভাষার ছিরি? একদম ‘ঝি-ক্লাস’। কোটি টাকার আঁকিয়ে ও গল্প-কবিতার বই লিখিয়ের আড়ালে এই তাহলে স্বরূপ? আরেকদল বলছেন, আমাদের এই বাংলাদেশের লক্ষলক্ষ মানুষের মুখের ভাষা এরকমই। যিনি জননেত্রী তার ভাষাও যে হবে গণমানুষের মতো, নন্দনে বসে মার্কেজ পড়নেওয়ালাদের মত নয়, তা বলাই বাহূল্য। দুই পক্ষকেই বলি, ভাবের ঘরে চুরি করে কি লাভ? বাম্বু দেওয়ার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়া, প্রবল ভাবে শ্রেণী-ঘৃনা উগরে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর শব্দচয়নকে সমালচনার উছিলায়, এগুলি ভন্ডামি ও ন্যক্কারজনক। একই সাথে, যারা এমন ভাব করছেন যে কিছুই হয়নি, ভাষা তো ভাষাই, শব্দ তো শব্দই, মানুষে তো এমন করেই কথা বলে গোছের অজুহাত দেখিয়ে বাম্বুর খুঁটি দিয়ে নেত্রীর সাথে জনগনের হৃদয়ের সম্পর্কের গভীরতা মাপছেন, তাদেরকে বলি যে বাংলার গণমানুষকে অপমান করবেন না।

এটা ঠিক যে সব শব্দই সমানভাবে একটি ভাষার সম্পদ – বেশি সম্পদ বা কম সম্পদ নয় । ভাষা জীবন পায় তার ব্যবহারে। সেই ব্যবহারের একটা প্রেক্ষিত আছে। ঠিক যেমন আমরা মাষ্টারমশাই-এর সামনে সিগারেট খাইনা ( যারা উচ্চতর লিবার্টি চেতনার ভারে কুঁজো হয়ে গেছে, তাদের কথা বাদ দিলাম ), ঠিক তেমনই মা-বাপের সামনে কিছু ধরণের শব্দ প্রয়োগ করিনা যা কিনা ইয়ার-বন্ধুদের সাথে চলে। ব্যক্তিগত জীবন ও যাপনকে উলঙ্গ ভাবে মেলে ধরা যাদের জীবনাদর্শ, তারা এই স্থান-কাল-পত্র বুঝে শব্দ প্রয়োগের মধ্যে দ্বিচারিতা দেখতে পারেন। তাদেরকে অনুরোধ, যে ধরনের গণমানুষের কথা বলে বাম্বুর সামনে পর্দা টানা হচ্ছে, সেই রকম ভাষা তারা পথে যেতে-আসতে রোজ ব্যবহার করে দেখুন। গণমানুষ বলবেন ‘মুখ সামলে’। এই গণমানুষ ‘গালমন্দ’ বোঝেন, আবার বোঝেন কারুর মুখের কথা সুন্দর। তাই জনগনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বুলেট বা বাম্বু, কিছুই ছোঁড়া অনুচিত। জলের লাইনে ‘ঝি’-দের ঝগড়ার ভাষা টুকুই যারা শুনেছেন কিন্তু শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা রোজ সক্কাল সক্কাল উঠে কিছুক্ষণের কর্পোরেশনের জলের সাপ্লাই-এর জন্য একাধিক বালতি নিয়ে অপেক্ষা করা যাদের জীবন-যাপনের অংশ নয়, তাদেরকে বলি – এরা গান গায়, ভালবাসে,ঘুম পাড়ানিয়া গান শোনায় শিশুদের। আপনারা যাদের লোকসঙ্গীত বিশ্ববাজারে বেচে খান ও ফান্ড আনান, এরা সেই ‘লোক’। গালি দেওয়া বা বাম্বু দেওয়া, একটিও সহজাত নয়। হয় তা পরিস্থিতির সামনে একটি প্রত্যুত্তর, চরম হতাশার প্রকাশ কিংবা জিঘাংসার উদগিরণ। আমি অবশ্যি কলকাত্তাই সেই ভদ্দরলোক শ্রেণীকে এসব গালি-চরিত থেকে বাদ দিলাম, যাদের কাছে f-ওয়ালা ৪ বর্ণের ইংরেজি গালি হলো কুল (অর্থাত নব্য কৌলিন্যের চিহ্ন) কিন্তু বাংলা গালি হলো চীপ ও ভালগার। তারা অন্য গ্রহের বাসিন্দা। তাদের দূর থেকে প্রণাম।

বাম্বু দেওয়া বা বাম্বুর দ্বারা তাড়া খাওয়া, এ যদি রাজনীতির ভাষা হয়, তাহলে আমি বলব এ ভাষা অশালীন হোক না হোক, চরম হিংস্র তো বটেই। রাজনীতি যখন এলাকা দখল বা এলাকা ধরে রাখার খেলায় পরিনত হয়, সেই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বাম্বু এক প্রতিশোধমূলক একক। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার আরেক মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির কুকথার বলেছেন যে নিরঞ্জন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের মানুষ উঠতে বসতে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ান না, বাংলার তৃণমূল স্তরের মানুষ বাম্বুর চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকেন না। তারা চাকরি চান, নিরাপত্তা চান, বাম্বু দিতে চান না, নিতে তো নয়-ই। বাঁশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংগ্রাম কল্পনা আমাদের বাংলাদেশে বেশ পুরনো। বাঁশেরকেল্লার মধ্যে যতটা ছিল ‘সাবল্টার্ন’ ততটা ছিল হিংস্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদ। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার আরেক মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির কুকথার সাফাইতে বলেছেন যে নিরঞ্জন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের মানুষ উঠতে বসতে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ান না, বাংলার তৃণমূল স্তরের মানুষ বাম্বুর চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকেন না। তারা চাকরি চান, নিরাপত্তা চান, বাম্বু দিতে চান না, নিতে তো নয়-ই। রাজনৈতিক দল একটি তাঁবুর মত, তা দাঁড় করিয়ে রাখতে বাঁশ লাগে। বাঁশ যেন বাংলার রাজনীতিতে স্থায়ী কাঠামোর কাজ করে, সচল না হয়। নইলে তাঁবু-ও ভেঙ্গে পড়বে। তাঁবুর ব্যাপারীরা বাঁশ সচল করার আগে আশা করি একটু ভাববেন। কারণ ফেইসবুকে সেদিন দেখি এক জায়গায় লেখা , ‘সময় থাকতে পিওর হন,নইলে বাম্বু দেবে জনগণ’।

2 Comments

Filed under বাংলা, Bahishkrit Samaj, Bengal, Caste, Elite, Kolkata, Language, Polity, Power

10 interesting facts about the 2014 Indian elections

[ The Friday Times (Lahore), 23 May 2014 ; Kashmir Monitor, 26 May 2014 ]

The results of the 2014 elections of the Indian Union parliament are out. In the subcontinent, this has been one of the most watched elections ever. The neighbouring nation-states of the Indian Union, particularly Pakistan, Bangladesh and Sri Lanka watched these elections closely – given that these nation-states and their names come up in various degrees and forms in the Indian Union’s domestic political scene. The Bharatiya Janata Party (BJP) and its charismatic, divisive leader Narendrabhai Modi, are the two big winners of the election – one will be the party in power and the other will be the prime minister of the Indian Union. The ‘Modi wave’ is the phrase that has been used to characterize the nature of the results. Here are 10 pointers about the 2014 verdict, within and beyond the ‘wave’.

  1. This is the first time since partition, or for that matter, first time since the 1937 elections, that any party other than the Congress won an absolutely majority of the total number of seats. In the 543 seat lower house of the Indian Union parliament, the number 272 represents an absolute majority. The BJP has won 282 seats. It has won 31% of the all the votes polled, representing a staggering 12.2 % increase in vote share. Though it is the largest non-Congress party ever, in terms of seat number, in terms of vote share, it was bettered by the Janata Party in 1977, which inflicted a crushing defeat on Indira Gandhi’s Congress, post-emergency.
  2. The BJP has benefitted from much its vote being heavily concentrated in the Hindi-belt of the Indian Union. This has resulted in a high number of seats, compared to the vote share. Indeed, for a party winning a majority of seats, this is the lowest vote share since partition. In terms of vote share increases, the BJP has got about 50% more than its last time. While this is impressive, even more impressive are the results of the All India Anna Dravida Munnetra Kazhagam, the ruling party of Tamil Nadu and the Telengana Rashtra Samithi, the soon-to-be ruling party of Telengana, a new state that was carved out of Andhra Pradesh and its contours similar to the Nizam of Hyderabad’s territories in 1948. Both of these parties doubled their vote shares, a 100% increase over the previous parliamentary election.
  3. This was also the costliest parliamentary election ever, anywhere. That also includes the 2012 US presidential elections, which cost about 2.6 billion US Dollars. By cost, I mean the campaign cost and not the cost of actually organizing the elections. The 2014 Indian Union parliamentary elections saw the candidates and their backers spent 5.2 billion US Dollars. This is a ‘conservative’ estimate arrived at by the respected weekly Outlook. The official spending limit per constituency (as per the Election Commission of India) is 70 lakh Indian Rupees. The joke is not lost on us. Sadly, the joke is at the people’s expense, whose resources have to cough up many times the 5.2 billion dollars to line pockets of entities that invested this astronomical amount in these elections. An important loophole that allows parties to have such huge amounts of unaccounted donations is the rule that parties do not need to divulge the name of donors who pay under 20000 Indian Rupees. Most parties, as a rule, present audit reports, where a huge majority of the fund comes from a large number of small donations from unnamed persons. The Aam Aadmi Party demanded that this rule be changed, so that electoral spending and political funding becomes transparent. BJP and Congress, both opposed it vociferously. The new government is very unlikely to change that. BJP or Congress, certain things remain the same. This is one of them.
  4. Given that the electoral exercise aims to ensure people’s representation, to what extent are the elected legislators ‘representative’ of the general population is an important question. In a year, an inhabitant of the Indian Union earns roughly 70000 Indian Rupees on average (this is the nominal per capita year income). This utterly poor nation-state will be represented by 442 crorepatis among its 543 members of parliament. The total assets of these 442 newly-minted members of parliament is to the tune of 7850 crore Indian Rupees (source: Association for Democratic Reforms). This is the figure arrived from ‘declared’ assets. Modi wave, Congress wave – all waves of recent years has had mostly crorepatis riding the waves. This is the richest parliament ever, in a literal economic sense. As a result, this might well be the poorest parliament ever, in every other sense.
  5. 34% of the members of the 16th Lok Sabha (Indian Union parliament lower house) have declared criminal cases. That is 186 have declared that they have criminal cases against them. Of this186, 112 have cases of very serious nature, like murder, attempt to murder, crimes against women, dacoity, etc. (source: Association for Democratic Reforms). If one were to interview each these 186 proud sons and daughters of Mother India, they would reply that the cases against them are politically motivated, that is, they are false cases. Curiously, most of these cases remain in suspended animation indefinitely. False or not, they do not seem to be too interested in getting their name cleared. The good news is that many members of parliament do not have murder charges against them.
  6. You can actually start walking from Kolkata in West Bengal and reach Chennai in Tamil Nadu and not pass through any constituency won by the BJP. West Bengal, Orissa, Telengana and Tamil Nadu have voted overwhelmingly for political parties that represent provincial interests. The ‘national’ parties are marginal players in these large states. You can walk from Ladakh in Jammu and Kashmir and reach the eastern end of Bihar or the southern tip of Gujarat and not have to pass through a single non-BJP constituency. If you start from any Congress-won constituency, you don’t get very far unless you step into a non-Congress constituency. This election has seriously punctured the Congress claim of having a ‘nation-wide’ presence. In the Hindi-belt of the Indian Union, the Congress managed to win 7 out of 251 seats. The BJP swept this area, underscoring its reputation as a party of Hindi and Hindustan. The Kishanganj-Goa line that I had referred to in my article in The Friday Times last week has been breached in Karntaka and Assam. Otherwise, the line still is a broad demarcation of the BJP’s core sphere of influence.3 out of 4 seats won by the BJP came from the Hindi belt or Gujarat.
  7. Among major parties, the Trinamool Congress of West Bengal has the largest proportion of female candiadates among their seats won – more than 30%. Uma Soren of the Trinamool Congress is also the poorest winning candidate in this parliament. She has less than 5 lakh Indian Rupees in total assets. 12 out of 60 female members of the just elected parliament, that is 20%, are from West Bengal. This is more than double of proportion of West Bengal population in the Indian Union. Also, this parliament will have more women members of parliament than the last one.
  8. This is the first time in the Indian Union parliament’s lower house that the largest party (BJP) will not have a single Muslim member of parliament. The BJP led pre-poll alliance called the National Democratic Alliance (NDA) has won more than half the seats where the proportion of Muslims among the voters in more than 20%. Unless one assumes that a significant proportion of Muslims in Muslim-heavy constituencies voted for the BJP-led alliance, what comes to light is a partial consolidation of non-Muslim votes. Many of these constituencies are in Assam, Bihar and Uttar Pradesh, where three, four and even five cornered contests helped the BJP win handsomely.
  9. The combined vote share of the two ‘national’ parties, the BJP and the Congress, is 50.3%. The rest of the votes come from parties that did not win seats in more than 2 states, making them ‘regional’ entities for all practical purposes. The combined vote-share of the 2 big national parties have not significantly changed over 20 years or so, this indicating that the BJP’s gain this time came largely from the Congress’ collapse.
  10. Bahujan Samaj Party, the third largest party of the Indian Union in terms of number of votes, did not win a single seat.

1 Comment

Filed under Delhi Durbar, Democracy, India, Polity

The 2014 India election review / A question of power

[ The Friday Times (Lahore), 16 May 2014]

When the grand parliamentary elections happen in the Indian Union, certain changes are always visible in the commentary around it. The more systemic critiques are replaced by adulation-with-minor-faults type of views. We hear less of the diseased orchard and more about bad apples. There is a reason. Elections of these kinds are periodic revalidation of the state’s legitimacy itself, much like a car’s license renewal before the expiry date. Any aspersion on the basis of continuity creates deep anxieties. The Indian Union is no exception. What is exceptional is the number of people from which it claims to get its legitimacy from, thus earning the much used, tired epithet of being the ‘world’s largest democracy’. This makes the present elections and all elections to the lower house of the Indian Union parliament the ‘world’s largest democratic exercise’. The reality makes that claim patchy at places – heavens on earth do not need legitimate worldly elections for peace and development. This does not take away the fact that a large majority of the adult citizens living in territories administered by the Indian Union government voted in the 2014 Lok Sabha elections.

A lot is at stake this time around – depending on the nature of the stake. What started as an exercise in cosmetic beautification of Gujarat’s tarnished reputation by government hired PR agencies after the riots of 2002 slowly grew into a united corporate cheer about Gujarat chief minister Narendrabhai Modi’s governance style. The Ambanis, the Mittals and other such paragons of 101% honest and clean business practices sang frequent paeans to Narendrabhai and the Gujarat that he had made at the biennial investors summit called Vibrant Gujarat. A few years ago, this became the site from where India’s richest man, Mukesh Ambani, publicly declared Narendrabhai Modi to be the best person to become India’s next prime minister. When such endorsers talk, the endorsed better walk. An ambitious one will run. The rest, as they say, is history. The Bharatiya Janata Party anointed Narendrabhai Modi as its prime ministerial poster-boy. This cut short the octogenarian ambitions of a Sindhi old man who in many ways had politically mentored Narendrabhai. Advani sulked and then relented. What followed was an unprecedented spending spree to create a larger-than-life helmsman image for Narendrabhai. The Indira Congress also spent many crores of Rupees to present its latest Gandhi as the young and youthful future of face of India. As if on cue, Delhi media has sought to make this battle for the parliament of the Indian Union look like a two-horse presidential election. The truth is, between them, the two national parties have won less than 50 per cent votes in three of the last five Lok Sabha elections. This time will only be marginally different. So-called ‘regional parties’, which are mostly presented as spoilsport in the ‘national’ scene, will again be crucial to any government formation at Delhi. What is the scope of these ‘regional’ parties in the global perspective? The West Bengal-centric Trinamool Congress (TMC) got more votes in 2009 Lok Sabha than the victorious Tories got in the UK parliamentary elections of 2010. The Tamil Nadu-centric Dravida Munnetra Kazhagam (DMK) got more votes than the ruling Conservative party of Canada got in their 2011 federal election. Consider this: Post-Partition, no national party has won an absolute majority of votes, ever. The Indian Union remains and will remain a politically diverse landscape, irrespective of the terrific howls from policywallahs, mediawallahs, academics, defence contractors, security apparatchiks, lobbyists, pimps and other glittering-shady characters of all hues invested hard in the Delhi circuit. This diversity is the greatest hindrance in the smooth entry of global capital as well as cultural homogenization of the Indian Union. Such a rocky and uneven political landscape needs a wave. This time around, even sectors of the deep state has deserted the Indira Congress and put its bet on the ‘Modi wave’.

If you draw an imaginary line from Kishanganj in Bihar to Goa, you can roughly divide the territories of the Indian Union into two parts. The part to the left of this line contains much of Hindi-ized India or greater Hindia. This is where the pull of Hindutva politics is at its strongest. This is also where the politics of social justice powered by parties that organized themselves around lower castes have long kept the BJP in check after the terminal decline of the Indira Congress in Uttar Pradesh and Bihar. There is a feeling that some of these levees make break in the face of the ‘Modi wave’, which might acquire great strength in the fertile communally divided ground created by the 2013 Muzzafarnagar riots in western Uttar Pradesh . This would mean that stalwart leaders of lower castes like the Mulayam Singh Yadav-led Samajwadi Party, Mayavati-led Bahujan Samaj Party, Lalu Prasad Yadav-led Rashtriya Janata Dal and Nitish Kumar led Janata Dal (United) will mostly hold on to their core support groups and lose significant portions of their peripheral support to the BJP. That might well be true if the exit polls by CNN-IBN, suggesting an unprecedented sweep of Uttar Predesh and Bihar by the BJP turn out to be correct. This TV channel like many others has seen huge investments from Mukesh Ambani’s Reliance Industries Limited. CMS, an independent media research organization, has reported that in this personality-driven campaign, Narendrabhai Modi got 33.21% of primetime news telecast. Rahul Gandhi got 4.33%. Since the BJP will not get 8 times the number of seats or votes than Indira Congress, the disproportionate coverage that has been given to corporate India’s chosen successor is quite clear. The top 10 list of persona who were given most primetime media coverage did not contain a single person from the southern part of the Indian Union. It is not accidental that the south is not the BJP’s strongest territory. The urban Hindi-heartland bias of Delhi-centric media is rather shameful. More worrisome are its implications.

The urban Hindustan has thrown up the newest and probably the promising kid on the block of these elections, the Aam Aadmi Party.(AAP) Formed about one and a half years ago, upset all known political equations by decimating the Indira Congress and stopping the BJP in its tracks in the Delhi provincial elections. This time around, its charismatic leader Arvind Kejriwal has successfully projected himself as the most vocal critique of Narendrabhai Modi. He has challenged Narendrabhai in Benares, a seat that the BJP held in the last parliament and where AAP had no prior organization whatsoever. Thus every vote that Arvind Kejriwal gets is a vote won or transferred from others. The difference between the votes Narendrabhai will get above and beyond what the BJP’S ageing brahmin top dog Murli Manohar Joshi got in Benares can be attributed to the ‘Modi wave’. That is the relevant comparison. We shall see who will win but the AAP through its shrewd manoevering and its no nonsense stance on corruption has captured the imagination of a significant section of the urban youth. It really is trying to capture the historical political space of the Indira Congress and wants to position itself as the ‘national’ opposition and alternative to the BJP next time around. That is a tall order, especially given that the AAP’s stated list of enemies includes not only the BJP but also the Indira Congress, the Gandhis, the Ambanis and the newest Gujarati ‘110% honest’ millionaires, the Adanis.

On the morning of May 12th, I stood at the voting line in the Chetla area of Kolkata, the capital of Bengal. As a Bengali, my interests are most focused here. In almost all seats of Bengal, BJP is not among the top 2 forces in contention. This is broadly true for most of the regions east of my earlier stated Kishanganj-Goa line. Here the non-Congress non-BJP forces more or less hold on to their spheres of influence thought there is a huge increase in the visibility of the Modi campaign. This will surely reflect as a general bump in the percentage of BJP votes, but on the whole, in the south and the east of the Indian Union, what we have may at best be called a ‘Modi trickle’. In many places, event that hint of saffron ghairat is absent. This is not odd for a multinational super-state like the Indian Union but these elections will probably underline that fact quite clearly.

These elections kept Muslims in particular focus all through the campaign. This started at first as a part of the old Indira Congress and Samajwadi Party tactics of buying Muslim votes by fear-mongering. Among many Muslims, there is deep distrust and suspicion of a Modi government, if not outright fear. But if fear alone is able to herd a people together to the arms of the cynical fear-mongerer doubling up as protector, it is unfortunate for the community and its politics. AAP aimed to change this narrative at many places. When asked my Muslim community leaders about what could AAP do for Muslims, Arvind Kejriwal famously replied that he could not do anything special but will ensure that people from every faith are treated equally under all circumstances. This is in line with what G Shah commented on Kejriwal’s letter to Muslim – ‘As a muslim voice, dare I say that we do not want any special benefits, aka appeasement. Even if the regular / common state welfare mechanisms are made available to everyone (including us) that would be more than enough for everyone (including us).’ The loss of Muslim support might be a significant blow to the Indira Congress, which prides itself as being the sole ‘national’ embodiment of the Indian Union’s secular ethos.

During his campaign, Narendrabhai Modi assailed Mulayam Singh Yadav saying “do you know the meaning of coverting to Gujarat? It means 24-hour electricity in every village and street. You can’t do it. It requires 56-inch chest.” People of the Indian Union will soon come to know the advantages or disadvantages of pectoral girth in poverty alleviation, human rights, civil liberties and a list of other issues that almost always has required a big heart, not a big chest.

Leave a comment

Filed under Delhi Durbar, Democracy, Federalism, Hindustan, India, Media, Polity, Power

Quitting Modi’s India / Fleeing from Narendra Modi and other urban liberal maladies

[ Daily News & Analysis, 12 May 2014 ; Dhaka Tribune, 15 May 2014]

Soon after May 16th, the nature of the Union government due to be formed at New Delhi should be clear. While a coalition of parties led by Narendrabhai Modi is the most talked about scenario, the possibility of a non-Gandhi, non-saffron helmswoman buoyed up by political forces outside the Delhi establishment cannot be ruled out. Some well-heeled liberal types, half-jokingly (you never know), have declared a desire to leave the country, if Modi eventually happens, while looks increasingly likely. U.R.Ananthamurthy and Kamaal Khan are the most famous among this species.

This joking about fleeing a place whose emerging reality you do not like is another clichéd Anglo-American import. This unoriginal venting style was copied from those who disliked the George W. Bush regime in USA. Many of them wanted to move to Canada if Bush won again (he did). Other Bush-haters jokingly wanted the Eastern and Western coasts of USA (where Bush had less support) to secede. The ‘liberated’ brown person’s international imagination has predictable import locations. Beyond the joke, the difference is that most residents of the subcontinent do not have the means to move anywhere. The emigration ‘joke’ only highlights the disconnect of this class from the masses.

The problem is that the Modi-hate of urbane left-liberal types does not stop at Narendrabhai. Their hate list is long and includes hundreds of millions who didn’t vote for the BJP. These objects of urban liberal disgust includes those who are most comfortable in dhoti, lungi or saree, women wearing sindoor, namaji Muslims, ritual fasting Hindus, people who scratch themselves publicly, people who have not heard of white thinkers of the last two centuries and don’t need their ‘eyes opened’ by intellectual mumbo-jumbo, people who think family and community are important, people who can clearly reply to the question ‘where are you from, which community do you belong to’, people who create and recreate culture rather than using fancy technology to ‘document’ it, people with faith in gods, goddesses and other divine beings, people who are able to express their innermost feelings with ease without book-learned western conceptual crutches, people whose self-identity would not be in peril if white colonizers never appeared in the subcontinent, young people who don’t say ‘ohmygod’ in sitcom accents, people who love and dream in their mother-tongue and who sing their children generationally handed-down lullabies. And so on. Ashis Nandy has taught us to take people’s categories seriously. That talisman also helps distinguish between people and their parasites.

Thus those who don’t attend any political rallies (too many people, too much sweat), do not know the name of their local councilor, anglicized ‘aspirational’ migrants who do not care to change their domicile when they move to another city (and neither visit their parental home to vote), those who love to paint most brown people as dehati and ‘uneducated’, and hence unfit for the kind of decision-making that electoral politics requires – these are the people who capture inordinate public discourse space due to their privileges. In their view, the ‘uneducated’ cannot see through propaganda and can be instigated easily. These parasites, after reading tome after tome, will tell you that they get it – how power works and the sort and if others got it too, it would all be so nice. If they could, they would elect the people themselves, replacing the rural and ‘uneducated’, with their own English-big word correctly reared kind. They do not care about data, but they are masters at abstractions- fitting the world into their warped book-derived worldview. They hate the masses, wish the masses were not as they are and spend lifetimes trying to shut the masses out of their lives. When such people capture positions from where they can infect others, like academia and media, social justice is at stake. Long well-fed by the dole that the Indira Congressite governments at the centre reserved for the professor/activist nomenklatura and other managers of such Delhi-based government-subsidized ‘liberal’ fortresses, there is a feeling that the party might end. The emigration ‘joke’ is a part of that anxiety.

The advantage of ‘book-read’ ideologies is that they offer excellent excuses for holding both wine glasses and radical positions. Those with a penchant for theorizing the world before they can jump in do that by constantly cleaning their local socio-political infections in their private homes with imported soaps. Nothing is more sacred than pure ideology. Their engagement with the people – zero. Thankfully, that’s what most people think of them as – zero. Common people’s lives are at the cross-roads of caste-class-language-religion flows. To them ‘fascism’ and ‘neoliberalism’ are not smart words to be said at the right time but things with real-life consequences. To the non-religious, post-casteist, cosmopolitan left-liberal urbanite, these are ‘concepts’ which coexist perfectly well with their sixth pay commission salaries and ‘refined’ sensibilities.

Some of them even fancy themselves as the cutting edge of the fight against Modi, fascism and all that. As my friend Uday Chandra succinctly puts it, ‘the electoral fight against Modi and his politics begins and ends in the regions and localities where the likes of Mayawati, Laloo, and Mamata emerge from. Upon their unpretentious and all-too-mortal shoulders the hopes of millions of Indians rest. Don’t let your academic or activist friends or nandu-sabka-bandhus tell you otherwise. If things were left to the urban and the urbane, we’d be fed to the wolves long ago’.

There is much to be concerned about a strong, stable government that defends extra-judicial killings of young women, is unapologetic about large-scale killings under its watch, pimps out natural resources to those who help light up the government’s ‘vibrant’ mask and shares the Delhi-Mumbai Indian vision of the urbane. The fight against such powers and such governments will continue to come from the rooted, with family values and communitarian ethos. The rustic and the fantastic, not urban liberal smart talkers have always carried on the real struggles for a just world.

Leave a comment

Filed under Acedemia, Elite, India, Polity, Power, Urbanity

The illegal Bangladeshi – a view from West Bengal

[ Express Tribune (Karachi), 16 May 2014 ; Observer Bangladesh, 17 May 2014 ; Millenium Post, 15 May 2014; Kashmir Observer, 17 May 2014]

The massive victory of Narendrabhai Modi led Bharatiya Janata Party (BJP) in the recently concluded parliamentary elections of the Indian Union has brought much cheer to Islamo-nationalist political forces in the People’s Republic of Bangladesh. The cynical calculation behind the jubilation is that the new government will squeeze illegal Bangladeshi migrants who are in the Indian Union. The Awami League government will look like a lame duck in front of an aggressive New Delhi. This would strengthen the Bangladeshi opposition’s case of Awami League being an Indian (read Hindu) stooge. This will politically benefit the opposition. However, it is not to be forgotten that during the last Islamo-nationalist Bangaldesh Nationalist Party government at Dhaka, which partially coincided with the tenure of the BJP-led government at New Delhi, many ‘deals’ happened. There were ‘illegal Bangladeshis’ then too. What are the plans of the new New Delhi government will unfold soon.

The People’s Republic of Bangladesh shares with the Indian Union a border whose drawing, policing and barb-wiring takes into account the concerns of everyone except those who live at the border. This is probably true for nation-state borders in general. The Border Security Force (BSF) of the Indian Union has a distinctly bad reputation for being trigger-happy when it comes to shooting down what it claims as people illegally crossing the border. This makes the BSF a much-hated name in the People’s Republic of Bangladesh, a sentiment that is used to the hilt by Islamo-nationalist political forces in their campaigns. The BSF also routinely harasses, rapes, maims and assaults people in the villages of the West Bengal side of the border. This complicates the easy narrative of BSF’s anti-Bangladesh bias. Like all stat-raised band of armed people, these are self-serving forces. The border is a plum posting for the amount of money paid to border security personnel on either side – an ‘illegal’ taxing of ‘illegal’ activities. BSF, with its assaults on both East Bengalis and West Bengalis, seems to be an equal opportunity brutalizer. This is the force entrusted by the Indian Union to keep ‘illegal Bangladeshis’ to enter the territories of the Indian Union.

During elections in the subcontinent, neighbouring nation-states and their inhabitants come alive as proxies for domestic issues and fissures. ‘India’ is one of the fundamental axes around which politics in Pakistan, Bangladesh and Nepal expresses itself. The Indian Union has ‘closet Pakistanis’ and ‘illegal Bangladeshis’.

Narendra Modi, speaking at a Bharatiya Janata Party (BJP) rally at Srirampur in West Bengal on 27th April, made public his resolve to deport Bangladeshis from India. It is an old BJP charge that most political forces in West Bengal have tried to get Muslim votes by nurturing illegal Muslim migrants from Bangladesh, by getting them government documents to regularize their illegal status. The unsubstantiated underside of this charge is that the West Bengali Muslims look favourably at this development and do not mind this increase in the number of their co-religionists. At the alarmist end of this claim is that West Bengal is staring at an inevitable demographic reversal where Bengali Hindus will soon lose their majority, thus losing their only safe haven (though victims of the 1971 Marichjhapi massacre would say otherwise). That modern yearning for a united Hindu vote (just like monolithic Hinduism) remains unfulfilled. The BJP’s thought that in West Bengal’s multi-cornered fight, a renewed push at the consolidation of some Hindu votes might reap some dividends has turned out to be true as it increased its vote percentage all across West Bengal and has emerged as the second largest party in the Kolkata metropolis – an unprecedented development.

Mamata Banerjee, the chief beneficiary of Muslim Bengali votes, had reacted sharply to Modi’s statement. She characterized it as a ploy to divide Bengalis along religious lines. Banerjee is aware that between a third and a fourth of West Bengal’s electorate are Muslims and were crucial to her dream post-May 16th scenario of calling shots at Delhi. With the BJP’s absolute majority at the centre, such dreams came to a nought. Nonetheless, she had reminded the people that the ‘butcher of Gujarat’ does not have a clean record of ensuring peaceful co-existence between religious communities. Modi’s ‘Bangladeshi’ is a codeword that Banerjee can decode.

Though pre-partition Bengal was very often called Bangladesh, and a dwindling number of West Bengalis continue to say Bangladesh when they mean West Bengal, the term ‘Bangladeshi’ is a relatively recent term. The term owes its present currency to Bangladesh’s dictator Zia-ur-Rahman who used this term effectively in his soft-Islamization programme to counter the politico-cultural capital of Bengali identity, deemed to be a political tool of the Awami League and otherwise polluted by Hindu Bengali influences.

The ‘Bangladeshi’ that Modi wants deport back to East Bengal is a Muslim migrant from East Bengal. He did not cross over or bribe the Border Security Force in order to wage a demographic war against West Bengal’s Hindu majority. He did that because he is pitifully poor in a low-wage country and would have gone to Dubai or Malaysia if he could. East Bengali Hindus have additional reasons to cross over, given the rampant systemic discrimination they face in their homeland, in addition to the general atmosphere of insecurity for religious minorities in that country.

When some professional secularists claim that few, if any, illegal Bangladeshi migrants are present in the Indian Union, they are consciously lying and this does immense damage to their otherwise good causes. It is undeniable that a very large people from East Bengal (whose present political form broadly is the People’s Republic of Bangladesh) have been migrating to the Indian Union, since 1947. While this traffic has seen ups and downs, there are specific high-points. The early migrations are etched in public memory due to their immediate ties to the partition. The widespread rioting in East Bengal in 1950 led to a large second wave. There have been many waves after that. The anti-Hindu riots of 1964 and the 1965 Indo-Pak war saw a huge number of people move out. The events of 1971 took this to another scale altogether, where a genocide, directed towards East Bengalis in general and East Bengali Hindus in particular, produced 10 million refugees of which nearly 1.5 million (mostly East Bengali Hindus and East Pakistani Bihari Muslims) never went back. 1971 marks the peculiar end of the ‘legitimate’ refugee. This partly stems from the false idea that religious minorities are ‘safe’ in ‘secular’ Bangladesh. By 1974, those who had fled during the Bangladesh Liberation war events of 1971, the percentage of Hindus in the People’s Republic of Bangladesh stood at 12.1 %. The 2011 figure was 8.5 %, a staggering 33% decrease in proportional terms. The downward trend continued through every decade since 1971. The Babri demolition of 1992, the 2001 and 2014 anti-Hindu violence were big-spurt in this continuous trickle. Even on 27th April, the day Narendrabhai Modi gave several Hindu temples and homes were ransacked in the Comilla district of Bangladesh.

It can be safely assumed that most of those who fled their homeland ended up in the Indian Union. The long partition continues. 1971 does not represent a change. That partition and refugee narratives tend to centre around 1947 and are mostly from the higher castes, the low-caste heavy later traffic does garner the same prominence in ‘public imagination’ of West Bengal, still dominated by the higher-castes. Namasudras and other lower caste communities of East Bengal have formed the bulk of the post-1971 migration, many settling in 24 Parganas district. The Muslim migration follows similar routes. The shifting demographic reality of 24 Parganas and the consequent insecurity that it evokes among people who recently fled East Bengal to find security in a different demographic reality across the border has resulted in a series of riots in that area. Fringe groups like Hindu Samhati have fished in these troubled waters with some success. Public muscle flexing of certain Muslim groups in that area has not helped matters. Copybook trigger issues like music in religious procession passing through specific routes, encroaching on religious site and trans-community eloping/kidnapping are all present. While political parties are doing their arithmetic carefully, conflagrations in the subcontinent have the power of burning calculation sheets to ashes, with the spoils going to the most cynical players.

In this high-stakes game among the powerful, the unresolved issues of the powerless fester on. Fleeing persecution, insecurity and death, the post-1971 lower caste refugees from East Bengal remain ‘illegal’. For all practical purposes, the Indian Union denies citizenship to those who crossed over from East Bengal after 25th March 1971, the day when major atrocities by the Pakistan army started in Dhaka. The 2003 Citizenship (Amendment) Act took away the possibility of birthright citizenship from the children of many of those who fled persecution in East Bengal. This has created millions of state-less young people who are children of refugees (infiltrators in government-speak) who have lived all their life in the Indian Union. Due to the amendment, many Dalit migrants were been identified as ‘infiltrators’ and deportation proceedings were started. The Matuas, one of the largest low caste groups of primarily East Bengali origin namasudras settled in West Bengal, have been protesting this act, passed incidentally by a BJP-led government. While all political parties want the ‘legal’ Matua vote, they are silent on the citizenship question. The root problem is that they want to duck the issue of distinguishing between the varying motives of those who crossed over. To the Hindutva brigade, this question is a ‘secular’ way of effectively distinguishing between Muslim and Hindu illegal migrants. No one wants to be seen as the one who wants blanket amnesty to Bangladeshi Muslim migrants. Neither does one want to appear insensitive to the plight of human rights refugees. Silent solidarity will be enough for votes. Modi has astutely recognized an opportunity and has set the cat among pigeons by calling for for evaluation of illegal migrants, case by case. He has also gone on to state that all Hindus have a right to seek refuge in the Indian Union. He is silent on why his party’s government passed legislation that took away the possibility of citizenship from the children of lakhs of low caste Hindus of East Bengal.

Ultimately, the persecuted Hindus of East Bengal (refugees and resident) are mere pawns. When Delhi-based Subramaniam Swamy (who has not been included in the cabinet till now by Narendra Modi) outrageously claimed a third of the territory of the Bangladesh to settle illegal Bangladeshis, he does not care about the ramifications of such statements on the situation of Hindu Bengalis presently living in Dhaka and Chittagong, where they are branded Indian fifth-columnists by dint of faith. The 1992 actions of Ramlala’s lovers took its toll on many Hindus in Dhaka and elsewhere. The Hindustani Hindutva brigade couldn’t care less about this type of ‘collateral damage’.

East Bengali Hindu migrants are unfortunate. The prime beneficiaries of partition crafted the Nehru-Liaquat pact of 1950. Many did not move due to the false sense of assurance (including the assurance of the door being permanently open) that came with this largely ceremonial gesture. By this, the Indian Union effectively washed off its hands from the ‘minority problem’ in Pakistan. It did not want the refugees whose refugee status resulted directly from the political agreement and power-hungry moves that created the Indian Union in the way it did. ‘Shutting the door’ has been the Indian Union policy post-1971 (similar to what Pakistan did to stranded Pakistanis in Dhaka), something it cannot implement – one of the natural consequences of claiming full monitoring abilities over an absurd frontier. For decades, the Indian Union has systematically discriminated Eastern frontier refugees (mostly Bengalis) on questions of compensation, entitlement, relief, citizenship, etc. The Indian Union owes reparation to these people, for the Indian Union’s creation and its geographical contours are intimately tied to their migration and impoverishment.

The ‘illegal Bangladeshi’ and associated codeword play is a problem created by a partition that failed as a solution. If division has failed, some measure of integration is necessary. This can take various forms including the possibility of dual or tiered citizenship for all Bangladeshi migrants. Of course, the government at Dhaka has to be a party to it, since migration to the Indian Union has been crucial in the alienation of a huge amount of Hindu-owned property in Bangladesh. Whatever certain private fantasies may be, that a Muslim-free Indian Union or a Hindu-free Bangladesh cannot be a solution is evident on a daily basis in almost minority-free Pakistan. A comprehensive asylum system needs to be instituted, which does not discriminate on the basis of religion. Hindus are not the only human rights victims in Bangladesh. The Ahmadiya Muslims, the Jumma people of the Chittagong Hill tracts and many more are. When any India-based entity like the BJP makes public pronouncements about its sympathy towards victims of human rights victims anywhere, it might do well to make amends for the communal riots in Muzaffarnagar, Ahmedabad, Deganga and a lot more. What is good for the goose is good for the gander.

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Caste, Delhi Durbar, Dhaka, Displacement, Identity, Nation, Partition, Religion

ম্যাড্রাসী কারে কয়?

 

ইউটিউবে একটি ভিডিও সর্দি-কাশির ভাইরাসের মত ছড়িয়ে পড়েছে। নাম ‘এন্না দা রাস্কালাস – সাউথ অফ ইন্ডিয়া’। বেশ চনমনে ও মজাদার এই ভিডিও ইতিমধ্যে প্রায় ১৪ লক্ষ বার দেখা হয়েছে মাত্র ২ সপ্তাহে । না দেখে থাকলে দেখে ফেলুন। স্ট্রে ফ্যাক্টরি ও কালচার মেশিন নামের দুই শিল্পীগোষ্ঠী ‘দক্ষিন ভারত’-এর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর স্বতন্ত্র ও পৃথক সংস্কৃতি ও জীবনবৈশিষ্ট-কে তুলে ধরেছেন। ‘মাদ্রাজী’ নাম এক করে দেখা এবং হেয় করার প্রবণতার বিরুধ্যে এই ভিডিও। ‘দেয়ার ইজ নো ম্যাড্রাসী, উই আর অল পারোসি’ ( ম্যাড্রাসী বলে কিছুই নেই, আমরা সকলে প্রতিবেশী) – এই হলো গানের জনপ্রিয় লাইন ও মূলমন্ত্র।

এবেলা স্বীকার করে নেওয়া ভালো যে ম্যাড্রাসী শব্দটা আমি বাঙ্গালীদের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যবহার করে থাকি। এ শব্দটি শুনেই বড় হয়েছি। আসলে, বাংলায়ে ম্যাড্রাসীর সাথে মাদ্রাজী শব্দটিও চালু আছে – রোজকার কথায় এবং সাহিত্যেও, প্রথম হিন্দী ফিলিম হবার অনেক আগে থেকে। নিখিল বাংলাদেশে সাধারণত এই শব্দটি কাউকে নিচু করে দেখাতে ব্যবহার করা হয় বলে মনে হয়নি। আমি গঙ্গা-যমুনার হিন্দুস্তানী এলাকায় বড় হইনি। শুনেছি সেখানে নাকি ম্যাড্রাসী শব্দটি বেশ হেয় করেই ব্যবহার করা হয়। আমার বাংলার ‘মাদ্রাজী ‘ শব্দ, যার মাধ্যমে আমি অন্য বাঙ্গালীর সাথে একটা সাধারণ-ভাবে জানা ধারণাকেই নির্দেশ করি। যদিও এটি মোটামুটি নানান দ্রাবিড় ভাষাগোষ্ঠির (যেমন তামিল, তেলুগু, ইত্যাদি) জাতীয়তাগুলিকে বোঝাতে ব্যবহার হয়, সচেতনভাবে তাদের মধ্যেকার তফাত্গুলিকে মোছার লক্ষ্যে ‘মাদ্রাজী’ শব্দের উত্পত্তি নয়। দ্রাবিড় জাতীয়তাগুলির মধ্যের বাস্তব ভিন্নতা নিয়ে আসলে আমাদের মাথাব্যথা ছিল না। বরং এই বাংলাদেশে আমরা যে সব দ্রাবিড় জাতীয়তাগুলির মানুষের সংস্পর্শে এসেছি, তার ভিত্তিতে বানিয়ে নিয়েছি এক ‘মাদ্রাজি’ – যার আকার ও বৈশিষ্ট একান্তই আমাদের নিজস্ব দ্যাখা-শোনার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের মনের একটি জায়গায় বাস করে আমাদের এই ধারণার ‘মাদ্রাজী’, কিছুটা বাঙ্গালীর ‘ব্রেজিল-আর্জেন্টিনা’র মত – আগমার্কা আসলের সাথে যার মিল খুজতে গেলে আমাদের নিজেদের গড়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে এবং সে প্রক্রিয়ার সততাকে অস্বীকার করতে হয়। ঔপনিবেশিক সময়ে নিখিল বাংলাদেশের শহুরে মানুষের অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ফল যে মাদ্রাজী, দক্ষিণের নানান জনগোষ্টির সাথে তার সম্পর্কে দূরের , যদিও পুরো সম্পর্কহীন-ও নয়।

এই উপমহাদেশের দক্ষিন অংশে রয়েছে নানান দ্রাবিড় জাতীয়তাগুলির নিজনিজ মাতৃভূমি। এই এলাকাগুলির একটা বড় অংশ ইংরেজরা ‘ম্যাড্রাস প্রেসিডেন্সি’ নাম দিয়ে এক প্রশাসনের ছত্রতলে নিয়ে আসে। এই সময়েই নানান ভৌগলিক ও জাতিগোষ্টির এলাকা তালগোল পাকিয়ে ‘মাদ্রাজ’ নামক নির্মিত ধারণার উদ্ভব ঘটে। নির্মিত কারণ সাহেবরা এক প্রশাসনের তলায় এনে মানচিত্রে দাগ কেটে দেওয়ার ফলেই ‘মাদ্রাজ’ ব্যাপারটি চালু হয়, ক্রমে হয়ে ওঠে ‘আসল’ কিছুটা। ঠিক এই ঔপনিবেশিক সময়েই, প্রশাসনিক একতা ও মানচিত্রে সাহেবের টানা দাগের ভিত্তিতে আরেকটা ধারণার বাজার আস্তে আস্তে গরম হতে থাকে। সে ধারণাটির নাম ‘ইন্ডিয়া’। যে ধারণাগুলির পেছনে ঠেকা হিসেবে থাকে বন্দুক ও লস্কর, তার নাম হয় জাতিরাষ্ট্র। আর যেগুলির থাকে না, তা থেকে যায় জাতীয়তা হিসেবে।

দেশভাগের পরে রাজ্যগুলির ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠন এবং শহরের পুনর্নাম্করণের ফলে ‘মাদ্রাজ’ মোটামুটি অবলুপ্ত হয়েছে। ‘ইন্ডিয়া’ ধারণাটি নানাভাবে বিভক্ত হয়েছে – এক পবিত্র মাতৃভূমি (ভারত নামধারী সংঘ-রাষ্ট্রে), শক্তিশালী ষড়যন্ত্রকারী শত্রু (পাকিস্তানে), দাদাগিরি দেখানো ‘বন্ধু’ (৭১ পরবর্তী পূর্ব্ববঙ্গ অর্থাত গনপ্রজান্তন্ত্রী বাংলাদেশে), এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী (বর্মায়), ইত্যাদি। অনেক উপনিবেশ এলাকাতেই ‘মাদ্রাজ’ বা ‘ইন্ডিয়া’ গোছের ধারণাগুলি গল্পটা একইরকম। একই প্রশাসনের তলায়ে বসবাসকারী নানান জাতীয়তার মানুষ , বিশেষতঃ শহুরে পেশাজীবী ও শ্রমিকেরা, অন্যান্য এলাকার শহরে পৌছয়ে। এই আদানপ্রদানের মাধ্যমে এবং সাহেব বিরুদ্ধতাকে কেন্দ্র করে একটা সাধারণ ঐক্যের ধারণা তৈরী হয় – যা ক্রমে জাতিরাষ্ট্রের হিসেবে বাঁধে। এই ধরনে ধারণা কাল্পনিক বলেই ঐক্য, অখন্ডতা, পতাকা স্যালুট, জাতীয় সঙ্গীত, জাতীয় পশু, এক সংসদ, এক প্রশাসনিক ক্যাডার (আইএএস, আইপিএস), কেন্দ্রীয় সিলেবাস, শিক্ষা বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি নানা ব্যবস্থার মাধ্যমে এই কল্পনাকে বাস্তবের রং দিতে হয়, মন্ত্রের মত বলে যেতে হয় এই ধারণার পবিত্রতার কথা। আবার একই সাথে ধারালো অস্ত্রে সান দিতে হয় সারাক্ষণ – এই গানের সুরে যারা গলা মেলায় না, তাদের উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য। এইখানে ইন্ডিয়া-পাকিস্তানের আশ্চর্য মিল। তা গুমখুন হওয়া বেলুচি-সিন্ধি-মণিপুরী-নাগারা হাড়েহাড়ে জানেন।

‘ইন্ডিয়া’র অন্তর্গত জাতীয়গোষ্ঠির্গুলিকে কেন্দ্র যে এক চোখে দ্যাখে না, সেটা কারো অজানা নয়। কাল্পনিক ‘ইন্ডিয়া’র ”আসল’ আত্মাটি যে বিন্ধ্য পর্বতমালার উত্তরে হিন্দুস্থানী এলাকায়, তা আর বলতে অপেক্ষা রাখে না। বলিউডিয় ‘আম আদমি’ যে পূর্বের বা দক্ষিণের আদমি নন, সেটা পরিষ্কার নিশ্চই পরিষ্কার হয় এশিয়াড বা অলিম্পিকে ‘ইন্ডিয়া’ দলের ‘আসল’ পাগড়ি দেখে – সে মাথা তামিল হোক বা উড়িয়া। পাগড়ি হলো মেনস্ট্রিম। বাকিদের কষ্ট করে বোঝাতে হয় তারা কারা, কি খায়, কি গায়, কি করে, কি পরে, কি বলে, ইত্যাদি। যেমন পুষ্প-প্রদর্শনীতে অজানা গাছের নাম ছোট করে লেখা থাকে , তেমনই আর কি। ‘সাউথ অফ ইন্ডিয়া’ ভিডিওর মূলে রয়েছে ‘আসলি’ ইন্ডিয়ানদের কাছে নিজেদেরকে তুলে ধরার, বুঝিয়ে বলার প্রচেষ্টা। যাতে তাদেরকে একইভাবে স্টিরিওটাইপ না করা হয়। ‘ইন্ডিয়া’র দিল যে দিল্লীতে , একের পর এক নাগা, মিজো , মণিপুরী হত্যা, ধর্ষণ, প্রহার, অপমানের ঘটনা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায় যে সব স্টিরিওটাইপ বাঙ্গালীর ‘মাদ্রাজির’ মত অপেক্ষাকৃত নিষ্পাপ নয়। হিন্দী বচন, গুরগাঁও গমন, দেওয়ালি পালন – এগুলিই ‘ইন্ডিয়া’র আত্মা থেকে দুরে থাকা জনগষ্টিগুলির ‘ইন্ডিয়ান’ হবার সোপান। কিন্তু আমাদের নিজনিজ মাতৃদুগ্ধ-মাতৃভাষা-মাতৃভূমি তো কাল্পনিক নয়। উপমহাদেশের অনেকে ‘ইন্ডিয়ান’ বলতে যাকে কল্পনা করেন, তাদের সাথে অনেক ‘ইন্ডিয়ান’এরই কোন মিল নেই। তারা যদি আজ মাইল গান গায় , ‘দেয়ার ইজ নো ইন্ডিয়ান, উই আর অল পারোসি’ – তারা কি খুব ভুল বলবে? ‘ম্যাড্রাসী’ নামের ধারণাকে যদি বেশি তলিয়ে মারো টান, আরো অনেক পবিত্র কল্পনাও হয় খানখান। তাই, ‘ওপারে যেও না ভাই, ফটিংটিং-এর ভয়’। দিনকাল ভালো না।

2 Comments

Filed under বাংলা, Bengal, Colony, Foundational myths, Hindustan, India, Nation, Pakistan

Next time, electing a sarkar from Great Nicobar

[ Daily News and Analysis, 29 Apr 2014 ; Dhaka Tribune, 22 May 2014 ; Millenium Post, 2 May 2014 ; Echo of India, 7 May 2014]

At the very outset, I should make my position on certain things very clear. I believe that there are many, many ways of being human – none of them being ‘better’ or ‘worse’, ‘progressive’ or ‘regressive’, ‘forward’ or ‘backward’ than others. There is no rank order of ‘civilizations’, cultures, millenia and the like. For that matter, I am not sure what ‘civilization’ means, unless you define it by a set of arbitrary parameters and ascribe those parameters some kind of inherently positive value, just because you fancy them. This line of thought may be particularly irritating to those who, after their unfortunate birth in brown-land, were born-again when exposed to White people’s worldviews. But the irritation of such dwijas (twice born) is irrelevant. They would have been altogether irrelevant if a deep democracy were able to function in the subcontinent. I hope such a time comes soon, before the dwijas are able to stamp out all diversity and cultural rootedness from this world. I hope they are soon kicked off the centre-stage that they have occupied for too long, by keeping the people out by sheer power. Till such time, before the story of the hunt is rewritten and the lions still lurk, some will continue to make hay. But let me get back to the many many ways to being human.

Now that we have the clap-trap about ‘higher’ and ‘lower’ humans out of the way, let me come to the ongoing elections to the Indian Union parliament. Using the principle of one-man one-vote, this exercise seeks to present an opportunity to the people to determine and influence the nature of the power that will rule over them. But that is not all. This exercise also relegitimizes (kind of like license renewal) the structure and apparatus that imposes itself on the people. Thus power structures seek legitimacy by offering a pre-determined amount of decision-making power. It does not give all powers to the people. For example, the people who are supposedly the only sovereign in this schema cannot alter the ‘basic structure’ of the Indian Union constitution, even when fundamental rights of the individual are protected.

The crucial part of such schemes is that they are all-pervasive. The intense focus of resources and energy by modern nation-states on maintaining and defining territorial limits is not accidental. Within that zone, it is supreme. Which is precisely why territories where such monarchic supremacy is not established are sources of unending paranoia for the powers-to-be. The smokescreen of people’s welfare is used to unleash the non-pretentious forces of a nation-state – money and military. In places where people don’t live, powers dangle the notion of ‘strategic importance’.

We are born from our mother’s womb. We are born where our mother lay pregnant with us. When we are born, we are as human anyone else. This is before there is consciousness of the state, constitution, Gandhi, Nehru, tricolor, New Delhi, etc. Is it a pre-condition of being human that these notions have to be built up within our heads for an individual to be considered fully human? Clearly not. Our bloodlines and human consciousness predates all flags and constitutions and gods willing, will outlive them too. So one has a right to be fully human and not be impinged upon, counted, exercised power upon, demanded loyalty from by institutions like the nation. One has a right to exist in the land one was born upon, to mingle in the society into which one is born or welcomed, live a glorious life among one’s kins and so on. Institutions that place themselves as mediators of these rights, without being called to mediate, are inhuman and anti-social in a very fundamental sense. They may well be legal, depending on how many guns back up the self-imposed mediator. Legality is different from justness– only the people can create the latter. No paper document written in their name can.

Whether one votes or not votes or boycotts it, all of these positions are vis-à-vis the voting process and the state that sponsors it. The all pervasiveness of such schemes means that you will be counted, not matter what – you will be classified, even if you don’t belong. Lack of ‘consciousness’ is not an option and in any case, irrelevant. Institutions that intensively survey uninhabited islands, wrap the remains of the dead in distinct flags, ‘teach’ loyalty through school syllabi do face a problem when they face people who regard the state as alien. Some of the indigenous peoples of Andaman and Nicobar Islands like the Shompen are such aliens. But they are ‘Indian’ citizens, irrespective. Are they proud of Gandhi? Do they respect the tricolour? Do they have a stake in Siachen and Sir Creek, given what happens there is done in their name too? Do they believe in ‘unity in diversity – given that their numbers have sharply dwindled ever since they were ‘claimed’ as ‘Indians’? It is from the perspective of the Shompen people of the Great Nicobar island that the all pervasive state starts looking not so pervasive – a hint that there is an outside, even when high resolution maps and detailed anthropological surveys have been done. This ‘outside’ consciousness is an extremely dangerous thing. Hence, when the Shompen people voted in Indian Union elections for the first time, whatever that act means, there was a sigh of relief at the deepest heart of the state. A portal to an outside, however small, was technically sealed. There is an outside and there will always be an outside. It comes with every child who is born. Hence there is a persistent and dangerous glimmer. To live without certain indoctrinations makes a dynamite of a people, even if they don’t ‘know’ it. The distance from birth-rights to full-citizenship is a journey that requires surrender of rights, without consent or with indoctrination that there is no outside.

I remember a 4-panel cartoon. At first, a bear stands in a jungle. Then some trees are cleared, encroachers arrive. The bear looks on. Finally, everything is ‘clean’ and someone is taken aback that there is a bear in the midst of ‘civilization’ and asks where it came from. The bear was always there. I am sure they created a ‘sanctuary’ for the bear thereafter. May be it will start speaking Hindi and English and straighten up its spine when the band plays Jana-Gana-Mana. With enough ‘aspiration’, it might go on to sing ‘the world will live as one’. There wont be any bears left any more. Such is progress in a world without outsides.

Leave a comment

Filed under Army / police, Democracy, Foundational myths, History, Home, Identity, India, Nation, Polity, Power, Rights

Myth of the safe scribe / The subcontinental freedom of press-oppression

[ Open Magazine, 2 May 2014 ; Dhaka Tribune, 8 May 2014 ]

On April 19th, bullets fired by ‘unknown’ gunmen injured Hamid Mir, acclaimed Pakistani journalist, columnist and political talk-show host for Geo TV. His brother alleges that Pakistan’s intelligence agency ISI is behind the attack. Known to be a strong votary for democratic rule in Pakistan and consistently against religion-inspired militancy, he has never been in the good books of the intelligence establishment. The subcontinent is a dangerous place, especially for people who consistently speak truth to power. This danger can often be in the form of threat to life, especially if you are in media expressing the right thing at the right time. Since I write for daily and weekly newspapers in Pakistan, I happen to have acquaintances in Lahore and Karachi who have over time become close friends. I have met some of them. One of them is Raza Rumi.

My Pathan broadcaster friend Wajahat S Khan had introduced me to Raza Rumi. It was Raza who first welcomed the idea of me publishing in The Friday Times, the Najam Sethi–edited weekly. Raza was and still is a consulting editor with the publication. It is important to state that quite a view of my pieces published there have been quite critical of the human rights and civil liberties situation in Pakistan and I believe that the editorial team is in no small measure responsible for that. Raza has been very active in Indo-Pak peace initiatives and as the Director of the Jinnah Institute, a think-tank, has been a key participant in Track 2 dialogues of all sorts. He has an ongoing love affair with all things Delhi and especially revels in the bygone cultural space of North India that encompassed Delhi and his favourite city and hometown, Lahore. He had recently published an exquisite travelogue, Delhi by heart. I was among the people he shared his manuscript with for comments, before it was published. On March 28th, I heard that Raza had been shot at by a group of ‘unknown’ assailants. He survived. I suspect that his views, which have always been supportive of greater regional cooperation in Southasia, and especially between Pakistan and the Indian Union, are not entirely unrelated to the reasons of this attack.

After anchoring is television show, Raza Rumi was on his way to the Data Darbar shrine. That was when bullets rained on his car. His driver succumbed to the gunshots while his bodyguard was seriously wounded. For a long time, he has been one of the most vocal champions of secularism in Pakistan. He has stuck his neck out for the continued repression of the hapless religious minorities of Pakistan who have very few real supporters. Probably the most consequential stance vis-à-vis the attack on him, Raza Rumi has been one the staunchest critics of the Tehreek-e-Taliban Pakistan (TTP) and other extremist Islamic groups that are directly opposed to his vision of a pluralist and harmonious society. Specifically, the Express Media group, for which he often writes and whose TV channel he does his show for, has been attacked five times with 3 staff members being killed in a attack earlier this year. Raza Rumi has appealed to the government to provide him security and prevent him from becoming the ‘victim of an ideology asserted with bullets and bombers’. Most TV channels in Pakistan basically underplayed the incident and conveniently reported about Srinivasan and IPL.

Now there is a feeling perpetrated by Delhi-based ‘watchers’ and other peddlers of the ‘idea of India’ that things are radically different on this of the Radcliffe, that this is some kind of a safe haven for journalists and fearless reporting. Of course, the usual exceptions apply. Local journalists in ‘disputed’ territories of the Indian Union have been paying with their life and limb for decades now. You can be beaten up with bamboo canes and dragged along the road by the Indian police and Central Reserve Police Force if you interview protesting students or take pictures that the powers-to-be don’t want being taken – as Azhar Qadri of Kashmir Tribune and Showkat Shafi, a Srinagar-based freelance photojournalist found out in painful ways. These are not exceptional events but simply illustrative. Delhi journalists who go visit often enjoy embedded junkets masquerading as reporting. As for foreign journalists who might be critical – they are simply classified as persona-non-grata and are denied entry into the Indian Union, as was the recent case with the famous American journalist David Barsamian. A closer look tells us that the threat to journalists is more widespread in the Indian Union and not only limited to separatist insurgency-hit areas.

Strangely enough or may be it is not that strange that fame works for you, in terms of protection – in terms of how long you hold out. If Raza Rumi were a local reporter in Swat or Waziristan, saying what he has been saying and also doing local reporting, we would have crossed his 10th death anniversary by now. Or he would have long left for the UK or USA. Or he would have done what most people end up doing – simply shut up, change the reported subjects, change his views, change vocation. In the Indian Union, the complicity of media is sustaining abuse of power makes the powerful in media quite safe in this sense. Far from a life threat, they might even end up as parliamentarians. But for the honest and fearless reporter on the ground, things are often very different.

Chhattisgarh ranks high in the list of areas where threat to reporters is very high. ‘unknown’ people on a motorbike shot Umesh Rajput of Nai Duniya dead near his home in Raipur. He had been receiving threats to stop doing the kind of reporting he was doing. In Dantewada, Bappi Ray of Sahara Samay was harassed after he interviewed a farmer who had been assaulted by the District Collector. Naresh Mishra of Zee TV was badly beaten and Azad Saxena and Venu Gopal were kidnapped for hours together to prevent them from reporting from the village of Tadmetla. Surpiya Sharma of Times of India also faced the denial of entry. According to Reporters Without Borders, an international media freedom-watch organization, police rammed the car of Bastar Impact editor Suresh Mahapatra and several other journalists. The disturbing commonality lies in the finger pointing at the police and government security forces as being the criminals behind these crimes. A journalist is attacked to deny the people’s right to know the truth. What might be the kind of crimes that need to be hidden away from public view that the state agencies feel that it is worth the bad-press that comes from bloodying journalists?

Chhattisgarh is not the lone bad apple, though the rot there is particularly offensive. The killing of Shehla Masood, Right To Information (RTI) activist and blogger, in Bhopal created some furore, especially in light of the fact that she had been harassed by the police for sometime. On 10 February this year, officers of the Indian Reserve Battalion at the Kangla Fort beat Arindam Chaoba Sharma of Imphal Free Press ferociously. In recent times, reports of killings and grave assaults on journalists come in from Madhya Pradesh, Uttar Pradesh, West Bengal, Arunachal Pradesh, Manipur, Karnataka – the list goes on. It extends even to the Andamans where the police have continuously harassed Denis Giles, the editor of Andaman Chronicle, ever since he broke the now-famous story of poachers and outsiders sexually exploiting Jarawa women.

At least eight murders of journalists have been reported in 2013. This was the year when the Indian Union slipped to an abysmal rank of 140 out of 179 countries in the Press Freedom Index issued by Reporters with Borders. However smug may be the claims of the power elite in terms of freedom of expression and hence, the freedom to express freely, this rank represents its worst point. As for a reality check, Afghanistan and Zimbabwe, two basket-cases in the Anglo-American worldview, do marginally better than incredible India. If this is the state of freedom of expression, a fundamental right under Article 19 of the constitution, then one should reflect very critically about what happens to this right when one drives 10 miles away from Mumbai or Delhi. If it is any consolation to a warped mind, Pakistan ranks 158 in the list. The neighbor has managed to make the power-centres unsafe too. As for India, “Criminal organizations, security forces, demonstrators and armed groups all pose a threat to India’s journalists” – the Reporters without Borders report said. In that list, the security forces are the ones that have greatest impunity. Surely the violator of liberties with the greatest impunity is the most serious threat to securing the freedom of expression of people. Raza Rumi, in a public statement, appealed to the state for protection. Where do potential victims of state agencies in India turn to?

If truths are security threats for the powers to be and security forces are engaged in curbing people’s right to know the truth, it is a sad commentary on state of the republic undergoing the world’s most elaborate exercise in representative democracy.

Leave a comment

Filed under Army / police, India, Media, Pakistan, Scars, Terror

Bostonian accent and coconuts / Urban vision blind to the poor and their languages

[ Daily News and Analysis, 15 Apr 2014 ; The Independent (Bangladesh), 16 Apr 2014 ; Millenium Post, Apr 23 2014 ]

The greater Boston area of the United States of America has a very good public transportation system. This comprises of buses, local trains, boats and the metro rail. The Red line is one of the metro routes, stopping at Harvard and MIT, the two institutions where I have spent all of my academic-professional life outside Bengal. This means that I have taken the Red Line metro many, many times. One of the stations on the route is called Porter Square. Soon after the metro leaves a stop, there is a recorded voice which lets the passengers know what the next station is. The way that voice said ‘Porter Square’ was in what can be called a Bostonian accent. That is apt since the metro is in Boston, most users of the metro are from Boston and that is the accent they are most comfortable with.

The Unites States of America exists much beyond its territorial limits. Specks of California and Manhattan are scattered in urban centres of the southern world, including our subcontinent. Here, in Delhi, Mumbai, Bangalore and beyond, those specks of Amerikana exist with a lot of vigour thanks to the brown-outside-white-inside coconut desis whose rootlessness attracts them to these ‘cosmopolitan’ areas. The subcontinent lives with such offsprings, proudly alienated, consciously ‘liberated’ and hip. With sentences peppered with ‘like’ and liberally spreading their ‘sh*t’,‘cr*p’ and other four-letter jewels among the rest of us, they constantly want to signify their ‘cosmopolitan’ awareness, maturity and liberation. Picking up the expressions of their own life’s many moments not from their living environment but from but from American/western popular media styles is the principal marker of these types. The problem is, it does not end there.

Given their numbers, they wouldn’t have mattered unless wielded inordinate power over policy and public life, given ‘English mediates our own social hierarchy’, as Hartosh Bal astutely puts it. They speak English in ‘cafes’ and restaurants, Hindi to their domestic helps. They prefer to live within self-created bubbles where they perform predictable ‘firangi duniya’-philia rituals with a commitment that often amuses the West. This is like the amusement of a father who has just come to know that the rape he had committed actually resulted in a child who loves him more than its mother.

Coming back to public transport. The coconuts constantly lament that brown cities are not ‘outsider’ and tourist friendly. This is rich coming from those who are voluntary outsiders in their birth-lands. They lament that the buses often have things written in ‘local’ language. The same goes for street signs, shop names and so much more. This constant reminder of brown-ness is an eyesore that they have successfully removed from their bubbles. Their all-English restaurant menus, their all English working spaces, get-togethers, poetry-readings, book-launches, debates, discussions, malls and supermarkets help them, at least in certain hours during their daily life, forget the horrid brown land whose imprint they carry, whether they like it or not. And so they complain of their spaces being ‘too vernacular’, harbor ideas of transforming the subcontinent’s urban areas into ‘world class’ – which is a code for a place where a firang would not feel lost. The fact is that in the last couple of decades, in the language of street names, public signage, private spaces and much more, the staggering majority of the people have been progressively told to ‘get lost’.

The poor and their language have been excluded for long. Now even the middle-class is under attack. In the brown subcontinent, even a telecaller now starts in default in English or Hindi, irrespective of whether it is Chennai or Mumbai. We are staring at an increasingly exclusionary urban vision which is undemocratic and downright insensitive which consciously overcounts the few and ignores the majority. At the root of this is an elite idea of citizenship, what constitutes a human being, who is counted as a person of value.

Yet, our languages live among the people on whose back breaking work everything is made, while angrejiwalas have their sausage, wine, banter and sophistication, building tapestries and ‘narratives’. If there is good in this universe or there are gods and goddesses who care about human dignity, something must give.

Leave a comment

Filed under Americas, Class, Culture, Education, Elite, Knowledge, Language, Sahib, The perfumed ones

AAP is too much of a wild card for the deep state

[ Daily News and Analysis, 2 Apr 2014 ; New Age (Dhaka), 26 Apr 2014 ]

Not everyone starts at the top. Some do. This is very true for politics. Similarly, not everyone starts out cynically. Some do. This again holds true for the kind of politics that has benefits in terms of holding power – financial, controlling other people’s lives or both. Not everyone needs to control the whole world to feel like a dictator. In the subcontinent, dictators and wanna-be dictators come in all sizes, big and small, from the local area tough to the president-style prime minister in waiting. They support each other by being involved in a complex pyramid of power. What binds them together, across apparently different ideologies, is the notion that certain individuals are more important than people. It takes an immense amount of narcissism to think that most people are worthless or fools. The ‘people’ can be tactically utilized, but they should never be empowered in the sense that they could question power hierarchies that maintain this relationship of the powerful individuals lording over the people, sometimes even in the form of the most benevolent despot. The people variously are a ‘bag of potatoes, ‘disunited, non-martial Hindus’, ‘ignorant and superstitious masses’ and a host of things that are irritating to the small or big wanna-be dictator a.k.a. the people’s most ‘earnest’ well-wisher or to the ‘enlightened’ narcissist.

The government is not like a bicycle, a neutral piece of machinery that can be driven by anyone towards any end. There is the deep-state to contend with. Unelected bureaucrats, big business, planners, policy wonks, academics, military and security men, mediawallahs, contractors and pimps in collusion with narcissitic inviduals with some network among the people form the deep-state. The deep-state is a reflection of the collective interest of such individuals. It is also by requirement and design a system of preserving the continued disempowerment of the people. While they swear by the constitution, they decide when to suspend the applicability of its humane sections. This makes them the real sovereign, the decider of exceptions. In the jails, a great deal of care is taken to see to it that inmates don’t have anything like a wire or long pieces of cloth or other things by which they could commit suicide. At the same time, deaths by ‘encounters’, torture in jail or in police custody are also ordered and implemented. It is the deep-state’s interest that binds these two apparently contradictory things. This sovereign decides the time and place or illegality.

But can the people not organize themselves, into parties, take over government and change all of that? Theoretically yes but one of the many ways that path is made nearly impossible is by power centralization. If a gram-panchayat or any other level of administration could decide on their own issues and no one from above could veto that, then we could be seeing real democratic gains. Centralization loves to accord greater ‘wisdom’ and ‘power’ to those who are ‘above’, keeping those below in strict control like a kid who is allowed to suck on lollypops of certain approved flavours and even that can be snatched away at will.

But the people are hardly a ‘bag of potatoes’ or passive victims. Otherwise such a large police and military establishment would not be required. And they have used every means necessary, including the electoral means, to throw up challenges to power. When a genuine broad-based democratic challenge appears and gains critical-mass, the deep-state brings forth its greatest weapon – that of co-option of individuals who come to represent people’s resistance. It is a measure of the depth of the deep-state. Having personally had some opportunities to sit-in as an unnoticed (who knows) guest in ante-chambers of the deep state, one thing is clear. The goings-on in there and the whole scene have a seductive charm to it. Even those who grew up viewing such things cynically also slowly crumble. The trappings of power make them want to suspend their commitment to the people and believe in the special value of the unbridled power, that there is real accomplishment lurking, that there really, really is no alternative, but this. This isn’t simple cooption, but seduction at a visceral level, for wanting to let go of long held albatrosses of people’s interests around one’s neck, and feel curiously light and accomplished and important. They want to fit-in. The deep-state is more than welcoming.

But not everyone can be co-opted. Many sons and daughters of this hard land have not simply been brave but good souls in a way that matters, of overcoming seduction that is even soothing and designed to not give guilt to those who give in. Stuff of greatness is born out of those who cannot be co-opted. They don’t need monuments for their acts sustain human liberty when monuments crumble.

The magnitude of difference between the characteristics of an at-least nominally democratic constitutional state and the deep state, is a measure of transparency and democratic functioning. The Aam Aadmi Party (AAP) is yet another expression of people’s unending hope for dignity and rights. Whether the AAP is up to that challenge is another matter. It too has some characters who are stuck waste-deep in the existing power establishment. Whether they will chose to rise or sink into seduction, only time will tell. But one thing is clear. The deep-state is not sure about AAP. It has not found a way to fully co-opt it. It is still too much of a wildcard.

Leave a comment

Filed under Change, Democracy, Elite, Federalism, India, Polity, Power

কলকাতার কাশ্মীর

[ Doinik Arthokotha (Dhaka), Nov 2014]

কয়েকদিন আগে দিল্লীর একটি মেগাজিনে একটা লেখা দেখলাম। শিরোনাম ‘কলকাতা আফটার ক্যালক্যাটা’। নামটি বেশ ব্যঞ্জনাময়।  এই লেখা তাদের জন্য, যাদের জন্য ক্যালক্যাটা ছিল সুন্দর, তার পরে তা যখন কলকাতায়ে পরিণত হলো,  তখন শহরের জাত গেল, সম্মান গেল, সেই ‘চার্ম’-টা আর রইলো না। এ শহরের একটা বড় অংশ কিন্তু কখুনই কলকাতা থেকে ক্যালকাটায়ে সে অর্থে প্রবেশ করেনি ফেরিওয়ালা বা ভৃত্য হিসেবে ছাড়া।  তাদের জন্য কোনো ‘কলকাতা আফটার ক্যালক্যাটা’ নেই।  রয়েছে কলকাতার নিরবিছিন্নতা। ক্যালক্যাটা পরিযায়ী পাখিদের শহর।  তারা অনেকে আজ উড়ে গেছে ব্যাঙ্গালোর, বোম্বেতে । যদিও সেখানেও বেঙ্গালুরু বা মুম্বই-এর সাথে তাদের যোগ ক্ষীণ।  ঠিক যেমন কলকাতায়ে অবস্থান-কালীন সময়ে এই ক্যালক্যাটা কোনো ক্রমে কলকাতা-কে বাঁচিয়ে চলত। কলকাতার পরিসর থেকে ক্যালক্যাটার স্বেচ্ছা-নির্বাসনে কলকাতার খুব তফাৎ হয়নি।  কলকাতা নিজের  মধ্যে যাযা ধারণ করে, তা ক্যালক্যাটার ধারণার অতীত। এমনকি এক কলকাতা হলো কলকাতার কাশ্মীর।

বলাই বাহুল্য এই কাশ্মীরের সাথে ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের ‘কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী’ হুঙ্কারের কাশ্মীরের মিল নেই।  প্রায় সকল কাশ্মীর-ই আমাদের মনে মনে বানিয়ে নেওয়া। প্রায় সকল বললাম কারণ কাশ্মীরিদের-ও একটা কাশ্মীর আছে , যেটা এই নানা কাশ্মীরের মাঝে হারিয়ে যায়। ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’র হুঙ্কারে , স্লোগানে বাস্তবের টেকনাফ বা তেঁতুলিয়া বড় প্রান্তিক।  উচ্চ্চারিত অক্ষরের মিল ঘটিয়ে স্লোগান বলশালী ও ছন্দময় হয়, কিন্তু টেকনাফ ও তেঁতুলিয়ার সাথে ঢাকার দূরত্ব একই থেকে যায়। প্রসঙ্গত, পশ্চিম বাংলাতেও একাধিক তেঁতুলিয়া নামধারী জায়গা আছে। তবে এখুন সেটা থাক।ফিরি কাশ্মীরে , কলকাতার কাশ্মীরে।

আমার কর্মস্থল আমার ঘর থেকে বেশ খানিকটা দূরে।  আমি থাকি কলকাতা শহরের দক্ষিণ দিকে, চেতলা অঞ্চলে।  এলাকাটি শহর কলকাতার থেকে পুরনো – তখন নাম ছিল জেলেপাড়া। এখুনো এই জেলেপাড়া নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি। জেলেপাড়া থেকে আজকের চেতলায়ে  এলাকার  বিবর্তন-ও এক অসামান্য গল্প, যা আরেকদিন বলব । তো রোজ-ই চেতলা থেকে আমি যাই বরানগর। এটি কলকাতা ছাড়িয়ে উত্তরে একটি ছোট শহর। আমি কলকাতার ভূগর্ভস্থ মেট্রো-রেলে চড়ে পৌছই শ্যামবাজার – একটি  বিশাল, বর্ণময়, জনবহুল, সদাব্যস্ত বাজার এলাকা – তাঁতের শাড়ি থেকে ভাং-এর মিষ্টি, সবই পাওয়া যায়। এখানেই ৫টি রাস্তা এসে মিশেছে – তাই নাম ৫ মাথার মোড়। কেন্দ্রস্থলে রয়েছে সুভাষ চন্দ্র বসুর মূর্তি, ঘোড়ায় চড়া, সমর-সজ্জায়। ঘোড়ার উন্নত ল্যাজ যে দিকে নির্দেশ করে, সেদিক ধরে আমি এগিয়ে একদিন পৌছলাম এক তেলে ভাজার  দোকানে। সবই সুলভ মূল্যের – একটু বেশীই সুলভ যা কিনা আমার মতো সবর্ণ ভদ্রলোক স্বচ্ছল মানুষের মনে খাবারের গুণমান সম্পর্কে সন্দেহ জাগায়। সঙ্গের ছবিতে দিলাম মূল্য তালিকা। জিনিসগুলি প্রায় সবই বেশ চেনা – আলুর চপ, বেগুনী, কচুরী, সিঙ্গাড়া, ধোকা ইত্যাদি। চোখ আটকালো কাশ্মিরী চপ-এ গিয়ে।  এ আবার কি জিনিস? জিজ্ঞেস করলাম দোকানিকে।  ততক্ষণে আমার হাতে কাগজের ঠোঙায় ইতিমধ্যেই একটা ভাজা ধোকা রয়েছে। দোকানি বলল, খেয়ে দেখতে পারেন একটা।  আমি নেবার আগে জিজ্ঞেস করলাম কেমন খেতে? দোকানি  বলল খেয়েই দেখুন না – মাত্র ৩টে টাকাই তো দাম। তারপর বলল, একটু টক-ঝাল-মিষ্টি। ৩
টাকার কাশ্মীরি চপ কেনার আগে অজানা স্বাদ নিয়ে ঠকে যাবার ব্যাপারে সজাগ এই ক্রেতা (অর্থাৎ আমি) যে কতবার দামি খাবারের হোটেলে গিয়ে নাম না জানা ভিনদেশী খাবার নিয়ে ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করেছে। স্থান, কাল, পত্র দেখে আমার পরীক্ষা কমে, নিরীক্ষা বাড়ে। স্বচ্ছল মানুষের ব্যক্তিগত দুনম্বরীর নানা অব্যক্ত বিভঙ্গ আছে, এটি তার একটি। আজ তার-ই মধ্যে একটা বাজারে প্রকাশ করে দিলাম। সে যাই হোক, নিলাম একটা কাশ্মীরি চপ।  বাইরে থেকে দেখতে ভেজিটেবিল চপের থেকে আলাদা নয়, ভেতরেও বিশেষ তফাৎ নেই।  তফাৎ-টা স্বাদে। সত্যই টক-মিষ্টি, ঝাল প্রায় নেই। উদরস্থ করলাম দ্রুত। ভাই, এটাকে কাশ্মীরি চপ কেন বলা হয় ? সে বলল, কাশ্মীরে খায়টায় বোধহয়, ঠিক জানিনা। তবে অনেকদিনের আইটেম। আমারও এই ‘কাশ্মীরে খায়টায়’ ব্যাপারটি ঠিক বিশ্বাস হলো না।  তাতে কি। নিখিল বাংলাদেশে, কলকাতায়, ঢাকায়, টেকনাফ থেকে হাসিমারা, দীঘা থেকে বিয়ানীবাজার ফুটবলকে কেন্দ্র করে যে ব্রেজিল-আর্জেন্টিনা মত্ততা, তা একান্তই আমাদের, ব্রেজিল-আর্জেন্টিনা তার খবর জানে না, রাখেও না।  তাতে আমাদের ভারী বয়েই যায়। আমি নিশ্চিত আরো এমন ছোট দোকানে ‘কাশ্মীর’ বেঁচে আছে।  কলকাতার এই কাশ্মীরি ঐতিহ্য একান্তই তার নিজের। এবং খাঁটি। এর ভাষা ও ভাষ্য, পোড়া নিকৃষ্ট তেল, বদহজম, ঘাম, টক-ঝাল-মিষ্টি আমাদের। এই কাশ্মীরের তারিফ করতে গেলে শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতের মতামত ধার করতে হয় না, যেমন করতে হয় শ্বেতাঙ্গ মানসিকতার কালা আদমির ইংরেজি রচনার ক্ষেত্রে। সায়েব পিঠ চাপড়ে সাবাস না বললে কালা আদমির ইংরেজি রচনা থেকে যায় অক্ষম। কলকাতার এই কাশ্মীর চর্চার জন্য শারীরিক বা মানসিক শ্বেতাঙ্গের দ্বারা পিঠ চাপড়ানোর দরকার পড়ে না। শ্বেতাঙ্গ দৃষ্টির শ্বেতাঙ্গ মননের সীমাবদ্ধতা বিশাল। সে জানেই না আমাদের পিঠ কোথায় আর পেট কোথায়। তাই অনেক মরেও বাংলা বেঁচে গেছে। ঠাকুর মঙ্গলময়।

এই শহর কলকাতায় আমি আরো কাশ্মীর দেখেছি। যখন আমি কলেজ স্ট্রিটস্থ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়তাম, তখন মাঝে সাঝেই যেতাম কলুটোলা স্ট্রিট ধরে চিত্তরঞ্জন এভিনিউর ওপারে, মৌলানা সৌকত আলী স্ট্রিটে। সেখান থেকে বেরিয়েছে এক অবিস্মরণীয় ছোট গলি – নাম ফিয়ার্স লেন। ফিয়ার্স লেন-এর নানা মহিমা নয় আরেকদিন বলব, আজ আসি এখানকার সুতা কাবাবের দোকানের সামনে। এখানকার অসম্ভব স্বস্বাদু শাল-পাতায় পরিবেশিত কাবাব আমি খেয়েছি অনেকবার।  একদিন দেখি উল্টোদিকে বসেছেন আরেকজন – সাদা জামা-কাপড়, টুপি-দাঁড়ি, সামনে একটা ডেকচি, আর পাশে লেখা ‘কাশ্মীরি কাবাব’। গিয়ে খেলাম।   যা পেলাম, তা হলো দুপিস ছোট বান-রুটির মধ্যে হলুদ রঙের থকথকে মশলাদার কাই-তে মাংসের কিমা।  অর্থাৎ এই সে অর্থে ‘কাবাব’ নয়। জিজ্ঞেস করলাম, উনি কে, কবে থেকে বসছেন ( আমি তো প্রায়-ই যেতাম ওখানে, আগে দেখিনি), কাশ্মীরি ব্যাপারটা কি, ইত্যাদি। জানলাম ওরা ৩ পুরুষ কলকাতায়, এরা হিন্দুস্থানী – সেখান থেকেই এখানে আসা কিন্তু কাশ্মীর থেকে কিনা বলতে পারেন না, জানবাজারে একটা ঘড়ি সারাই-এর দোকান ছিল বা আছে কিন্তু তা ভালো চলছে না, নতুন ব্যবসা শুরু করে আয়ের চেষ্টা করছেন। আর কাশ্মীর ? ওটা এমনিই লিখেছেন।  কদিন বাদে ওনাকে আর দেখিনি – হয়ত কাশ্মীরি কাবাব ব্যবসা চলেনি, হয়ত ঘড়ি সারাই-তে ফের একটা চেষ্টা করছেন, হয়ত অন্য কোথাও কাশ্মীরি কাবাব বেচছেন, যেখানে উল্টোদিকেই এমন সফল কাবাব দোকান নেই। যদি কাশ্মীরি কাবাব ব্যবসা সফল হত, এর ৩-৪ পুরুষ পরে এক খাঁটি ‘কাশ্মীরি’
আইটেমটিকে , পরিবারটির আদি কাশ্মীরি বংশপরম্পরা ও আরো নানা প্রবাদ তৈরী হত। সেটা হয়নি।  গড়ার সাথে সাথেই ভেঙ্গে গেছে হয়তো। কিন্তু যেগুলি ভাঙ্গেনি, এমনই অনেক খাঁটি ‘কাশ্মীর’ , এমনই অনেক খাঁটি ‘বঙ্গীয়’ ব্যাপার-স্যাপার লুকিয়ে আছে আমাদের মাঝে, আমাদের অস্থিমজ্জায় , আমাদের আত্মপরিচয়ে, বাঙ্গালিত্বে।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Kolkata, Urbanity

বঙ্গদর্শন

[ Ebela, 4 Nov 2014]
খণ্ডিত বঙ্গের দুই অংশ – ছোট ভাই পশ্চিমবঙ্গ ও বড় ভাই পূর্ব্ববঙ্গ।  এই দুই বঙ্গ মিলেই আবহমানকালের বাংলাদেশ – যদিও ১৯৭১-এর পর তা মূলতঃ পূর্ব্ববঙ্গের জাতিরাষ্ট্রের
‘অফিসিয়াল’ নামে পরিণত হয়েছে। নিজেকে বাংলাদেশ নামে ডাকার অধিকার পশ্চিমবঙ্গের বড় অংশই ছেড়ে দিয়েছে। সেটা দুঃখজনক। নিজের নাম স্বেচ্ছায় কেন কেউ নিজে থেকেই ভুলে যাবে, তা আমার বোধগম্য নয়। তো সে যাই হোক, এতটাই আত্মবিস্মৃত আমরা যে বাংলাদেশ নামটির পুরো অধিকারটাই আমরা তুলে দিয়েছি পূর্ব্ববঙ্গের হাতে। খন্ড-বঙ্গের ছোট খন্ড আমরা।  এই খন্ড ভাব আর ছোট ভাব দুটি প্রায় হারাতে বসেছে আজ দিল্লীর তালে নাচতে গিয়ে। তাই তো আজ পশ্চিমবঙ্গের অধঃপতিত জাতি নাক সিঁটকে বলতে শিখেছে ‘ওরা তো বাংলাদেশি’। আর তোরা হলি ‘ইন্ডিয়ান’। বাঙ্গালী তাহলে বোধহয় বঙ্গোপসাগরের গভীরে বসে মাঝে মাঝে মুণ্ডু তুলে কলকাতার ডাঙ্গা দেখছে – কেকেআর, শাহরুখের নাচ, আটলেটিকো, দিওয়ালি, হোলি, গুরগাঁও তথা আরো হরেক বেঙ্গলী ব্যাপার-স্যাপার। এরই মাঝে বোমা ফাটল বর্ধমানে। আরেক রকমের বেঙ্গলী সকলের টিভিতে এসে উপস্থিত। বাংলাদেশী ! এবার আর গরু-পাচারকারী বা কাঁটাতার পেরোনো বেআইনি হিসেবে নয়। পরিচয় এবার জেহাদি। খবরে তেমনই প্রকাশ।
অথচ চিরকাল ব্যাপারটা এমন ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ বুঝত ও জানত যে ‘ওপারে’ যে দেশটি, তার সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক। সে সম্পর্কের স্বীকৃতি কোনো আইন বা সংবিধান দেয় না। তাতে কি বা এসে যায়? এসে যায়নি বলেই তো ১৯৭১-এ পূর্ববঙ্গের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গে  যে বিশেষ সংহতির উন্মাদনা দেখা গেছিল, তাতে অনেক ঐক্য ও অখন্ডতার পূজারীরা ভয়ানক জুজু দেখেছিল। যখন স্লোগান উঠেছিল – এপার বাংলা, অপার বাংলা, জয় বাংলা, জয় বাংলা – তখন অশোকস্তম্ভের ৪ সিংহের ভুরু কুঁচকে গেছিল। পূর্ব্ববঙ্গের এক নকশালপন্থী (হ্যা, ওদিকেও ছিল ও আছে) দল -এর স্লোগানে ছিল অন্যতর কল্পনার বীজ – দুই বাংলার চেকপোস্ট উড়িয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। সে  বীজ থেকে যে কোনো চারাগাছ বেরোয়নি আজ অবধি, তা বলাই বাহুল্য। যে কোন দাবি বা স্লোগান একটি বিশেষ সময়ের দলিল। আজ এই স্লোগান উঠলে অবশ্যই শুনতে পাব – চেকপোস্ট উড়িয়ে মরি আর কি। এমনিতেই বিএসএফ দিয়ে ওদের পিলপিল করে আশা রোখা যাচ্ছে না, উড়িয়ে দিলে তো পশ্চিমবঙ্গ-টাই দখল করে নেবে।  ন্যায্য চিন্তা, বিশেষতঃ যখন ১৯৭১-এর পরেও পূর্ব্ববঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর
নির্যাতন, সম্পত্তিদখল, দাঙ্গা ইত্যাদি চলেছে প্রায় নিরন্তর – সরকারী/বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায়। আর হিন্দুদের পূর্ববঙ্গ থেকে পালিয়ে আসাও চলেছে নিরন্তর।  চলছে আজ-ও। তবে তারা নিম্নবর্গের, তারা ব্রাহ্ম্মন-কায়স্থ-বৈদ্য নয়, তাই তাদের আখ্যান পশ্চিমবঙ্গে উপেক্ষিত। তার উপর আছে এক ধরনের মেকি ধর্মনিরপেক্ষতার। ১৯৭১-এর সংহতি থেকে আজকের পূর্ব্ববঙ্গের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞানহীনতা, ইটা ঘটল কি করে? কি করে পশ্চিমবঙ্গ তার ওপর অংশ কে দেখার বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি হারিয়ে ফেলল?  কেন আজ তাকে দিল্লীর থেকে চোখ, ক্রাচ আর দূরবীন ধার করে পুর্ব্ববঙ্গকে দেখতে হয়। কখন আমরা অন্ধ, অশিক্ষিত ও পঙ্গু হয়ে গেলাম? কখন আমরা ‘বৈরী বাংলাদেশী’ নামক চরিত্রের নির্মাণের দিল্লী রেজিমেন্টে নাম লেখালাম?
আজকে বর্ধমানের কল্যাণে আমরা জেনেছি জামাত-এ-ইসলামীর নাম। এর আগের গল্প কেন আমরা এত কম জানি? আসলে আমরা তো ক্রমে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিরও নাম ভুলতে শিখেছি, ওপারের খবর কি জানব। বরং দিল্লি-বম্বে-গুরগাঁও-নয়ডার মানচিত্র মুখস্থ করি গিয়ে। সচিন মোদের  ব্রহ্মা, শাহরুখ মোদের বিষ্ণু আর দিল্লীশ্বর হলেন সাক্ষাত মহেশ্বর। মন্দিরে আর জায়গা কই ? কার সন্তান কত অন্যাশে বঙ্গ-ত্যাগ করে দিল্লী-বোম্বাই পৌছেছে, এই যাদের সাফল্যের মাপকাঠি, তারাই ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে। অনুপ্রবেশ অবশ্যই সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে, কিন্তু বলবে কারা – যারা পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে উন্মুখ, তারা ? বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপক অংশ জেহাদ করতে কাঁটাতার পেরোন না, আসেন জীবিকার জন্য। দুবাই বা মালয়শিয়া পাথেয় যোগার করতে পারলে এদিকে আসতেন-ও না। ঠিক যেমন আমলাশোল থেকে ঢাকা যাবার সহজ ব্যবস্থা থাকলে অনাহারে মরার থেকে অনেকেই গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতে বেশি পছন্দ করতেন।
ক্ষুদ্রতর পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে বৃহত্তর পূর্ব্ববঙ্গকে বোঝার দায় আমাদের আছে। আজকের পুর্ব্ববঙ্গকে। কবেকার ফেলে আসা ভিটেকে খোঁজা না , সেই ভিটেতে যে ব্যাপক বদল ঘটেছে – সেটাকে বোঝা। আমাদের জানতেই হবে যে শিশু ফালানি খাতুনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ কেন কাঁটাতারে ঝুলছিল, জানতেই হবে কোন সীমান্তরক্ষী তাকে খুন করলো – তবে জানতে পারব এই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমান্তরক্ষীদের দৈনিক অত্যাচারের কথা।ওদিকের সীমান্ত রক্কাহ করে বাঙ্গালী। স্থানীয় মানুষের মুখের ভাষা বোঝে।  এদিকের কথা আর বললাম না। মার্কিন দূতাবাসের সামনের রাস্তার নাম হোচিমিনের নামাঙ্কিত করে যে দুঃসাহস ও ঘৃণা জানিয়েছিল কলকাতা, সেই দায়তেই জানতে হবে কেন ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাস্তা ফেলানির নামাঙ্কিত করার দাবি ওঠে।  জানতে হবে ওদিকের সুন্দরবনের রামপালে ভারতের এনটিপিসি-র পরিবেশ ধ্বংসকারী বিদ্যুত প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গবাসী দায়হীন কিনা। জানতে হবে সব সাইক্লোন শেষ মুহুর্তে আমাদের কাটিয়ে যখন ওদিকে ঘুরে যায়,তারপর কি হয়? তার জন্য পরের ছুটিতে হিমাচল-কন্তাকুমারি-রাজস্থান-আন্দামান না করে একটু যান-না ওদিকে।
এক শ্রেনীর পশ্চিমবঙ্গীয় ওদিক ঘুরে এসে এক রোমান্টিক স্বর্গের চিত্র আঁকেন। ঢাকায় দুর্গাপুজো দেখে বলেন, সব ঠিক-ই আছে। ফি বছর যে বেশ কিছু দুর্গাপ্রতিমা আক্রান্ত হয় ওদিকে, সেটা বলতে কুন্ঠা কেন? ওদিকের সংবিধানের আগেই রয়েছে একেশ্বরবাদী ইসলামী বাণী।  এদিকে মা দূর্গা সহায় বা জয় শ্রী রাম নেই। এদিকে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তিলুঠ হচ্ছে, দেশত্যাগে
বাধ্য করা হচ্ছে, একথা নিন্দুকেও বলতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে ওদিকের লজ্জিত হওয়া উচিত। অতীতের হিন্দু জমিদারের অত্যাচারের শাক দিয়ে আজকের বাস্তবতার মাছ ঢাকা যায়না। আবার ওদিকেই শাহবাগে ৭১-এর চেতনাধারী মূলতঃ মোসলমান বিশাল যুবসমাবেশে ডাক ওঠে ‘সূর্য্য সেনের বাংলায়, জামাত-শিবিরের ঠাই নাই’। সূর্য্য সেনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে  ওদিকের খবরের কাগজে একটি ব্যাঙ্কের পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দেখেছি – এদিক কল্পনা করতে পারে?
শরতচন্দ্র বাঙ্গালী ও মোসলমানের মধ্যে ফুটবল খেলিয়ে অনেক গাল খেয়েছেন। আজ কলকাতা নামধারী ফুটবল-দলের সাথে ঢাকা মহমেডান ক্লাবের খেলা হলে উনি বুঝতেন, মোসলমানের টিমটাই বাঙ্গালীর টিম। কলকাতার দলটি বাঙালিও নয়,মোসলমান-ও নয়, এক্কেরে আন্তর্জাতিক – স্রেফ টাকাটা দিল্লি-বম্বের। অন্যের মাতাকে মাতৃজ্ঞানে পুজো করতে বাধ্য হবার মত পরাধীন ওরা নয়, সেটা ‘মাইন্ড’ না করার মত শিরদাঁড়াহীন-ও ওরা নয়। ওরা বাংলার ভবিষ্যৎ বলতে জাতির, ভাষার ভবিষ্যৎ বোঝে – আমরা বুঝি রাজারহাটে কল-সেন্টার।  আমাদের মধ্যে ‘কানেকশান’ সত্যিই আজ কম।  কারণ ওরা বাঙ্গালী, আমরা বং।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Delhi Durbar, Dhaka, Identity, India, Kolkata, Nation

মেরী কম, তেরঙ্গা বেশি

[ Ebela, 10 Oct 2014]

জাতীয়তাবাদের মার শেষ রাতে, এমনই আমার সাম্প্রতিক উপলব্ধি । নাইটশোতে হিন্দী বই ‘মেরী কম’ শেষ  হলো ‘জনগনমন’ দিয়ে। বইটার-ই অঙ্গ – হলমালিকের অত্যুত্সাহ নয়। প্রায়ে মাঝরাতে রাষ্ট্রপ্রেম পরীক্ষা। কে দাঁড়ায়ে, কে দাঁড়ায়ে না – এই সব পায়তারা। বন্ধুর থেকে খবর পেলাম হিন্দুস্তানের রাজধানীর। সেখানে একটি সিনেমা-হলে নাকি এই দাঁড়ানো-না দাঁড়ানো কেন্দ্র করে হাতাহাতি হয়েছে।  তা ভালো।  ঘুষোঘুষি নিয়ে যে বই, তার যবনিকা মুহুর্তে কিছু মানুষের হাত নিশপিশ করতেই পারে। সেখানেই ছবির সার্থকতা। মশলাদার ডিনার খেয়ে পেট গুরগুর, হল-এ ঠায়ে বসে কোমর অবশ কিন্তু বুকে চাগার দেয়ে ‘ইন্ডিয়া’। পয়সা উসুল।

চ্যাম্পিয়ন মনিপুরি মুষ্টিযোদ্ধা মেরী কম-এর জীবনসংগ্রাম-ই ‘মেরী কম’ বই-এর মূল ব্যাপার। তাতে নানা ভাবে এসেছে একাধিক প্রসঙ্গের ছোয়াচ – মনিপুরের রাজনৈতিক অস্থিরতা, মনিপুরীদের সঙ্গে হিন্দুস্তানিদের বৈষম্যমূলক ব্যবহার, ভারতীয় বাহিনী, মনিপুরি সন্ত্রাসবাদী ( কারুর কাছে সসস্ত্রসংগ্রামি), ইত্যাদি। ‘মেরী কম’ মালাইকারি-তে নাম চরিত্রের ব্যক্তিগত  সংগ্রাম-সংসার যদি হয় চিংড়ি, তবে এই অন্য গল্পগুলি হলো মশলা। চিংড়ি যতই ভালো হোক, মশলা ঠিকঠাক না পড়লে, ঠিক করে না কষলে, পাতে দেওয়া যায় না – বিশেষতঃ সে পাত যখন ছড়িয়ে আছে ভারত রাষ্ট্রের শহরে-গঞ্জে হলে-মাল্টিপ্লেক্সে। প্রতিদিন বলিউডের হেসেলে তৈরী খাবার হিন্দী-মাতা বেড়ে দ্যান দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার রাষ্ট্রপ্রেমী সন্তানদের পাতে । অশোক-স্তম্ভের উপর দাঁড়ানো সিংহ-গুলির গায়ে গত্তি লাগে। অনেকেই এখন নানা কুইজিন আস্বাদন করতে চান – একটু মুখ বদলানো, একটু ‘বৈচিত্রের মধ্যে একতা’ আর কি । তাই জমে গেছে ‘মেরী কম’ এর গল্প – এক মেয়ের কাহিনী, এক মায়ের কাহিনী, এক স্ত্রীর কাহিনী, মনেপ্রাণে ভারতীয় এক  মণিপুরীর ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার কাহিনী, প্রান্তিক ভারতীয়তার মঞ্চের কেন্দ্রে আসার কাহিনী, দুষ্টু মেয়ে মনিপুরের সাথে ভারতমাতার মান-অভিমানের কাহিনী। ভারত রাষ্ট্র লিবারেল – এসব এখন নেওয়া যায়।  মনিপুরি-দের কথা জানিনা তবে নাগা-রা নাকি আরো কিসব খায়। সেসব হিন্দুস্তানী পাতে দেওয়া মুশকিল কারণ কিছু স্বাদ এতই ভিন্ন যে অনেক তেরঙ্গা গরম মশলা দিয়েও তা বাগে আনা যায় না। যে সাপের বিষদাঁত আছে, তাকে নিয়ে খেলা দেখানো যে বিপদজনক তা সব সাপুড়ে জানে।

‘মেরী কম’ বইতে অন্তঃসত্ত্বা নায়িকা তার স্বামীর হাত ধরে এগোচ্ছে হাসপাতালের দিকে।  প্রসব বেদনা উঠেছে।  বাইরে চলছে কারফিউ। স্ত্রী-কে একটু অপেক্ষা করতে বলে স্বামী এগিয়ে গেল। রাষ্ট্রবিরোধীদের তাড়া করতে ব্যস্ত  খাঁকি উর্দি পড়া সরকারী বাহিনীর সামনে পরে গেল স্বামী। সে জানালো তার স্ত্রীর কথা।  এক জওয়ান এগিয়ে গিয়ে দেখতে পেল স্ত্রী-কে – ঠিকই বলছে। যেতে দেওয়া হলো। অস্থির মণিপুরের এমন নানা কাল্পনিক খণ্ডচিত্র বারবার ফিরে আসে ‘মেরী কম’-এ। কাল্পনিক বলছি কারণ কিছু বাস্তব বড়ই অন্যরকম। সেই বাস্তবের মণিপুরে সরকারী বাহিনী ইম্ফল-এর ভিড়ের রাস্তায়  দিনে-দুপুরে সকলের সামনে চংখাম সঞ্জিতকে ঘিরে ফেলে। সঞ্জিত বাধা দেয় না। উর্দিধারীরা তাকে নিয়ে যায় রাস্তার পাশে এক ওষুধের দোকানের মধ্যে। কয়েক মিনিট  বাদে সঞ্জিতের রক্তাক্ত মৃতদেহ খাঁকি-ওয়ালারা বাইরে এনে তুলে দেয় একটা ট্রাক-এ। পুলিশ একই সঙ্গে আরেকজন যুবক-কে তাড়া করে এবং গুলি করে মারে পথচলতি রবীনা দেবীকে। রবীনা দেবীও ছিলেন অন্তঃস্বত্ত্বা। রবীনা দেবী ও সঞ্জিতের নিথর দেহদুটি ট্রাক-এ পরে থাকে পাশাপাশি।  প্রায় সিনেমার মতই এই ঘটনাটির সব মুহূর্ত  লাইভ ধারাভাষ্যের মত উঠে যায় কামেরায়ে। আগ্রহী পাঠক গুগুল দেবতার কাছে খোজ করলেই তা দেখতে পাবেন। মাল্টিপ্লেক্সে বর্ণিত অস্থির মণিপুরের যে শিশুভোলানো নকল চিত্র, তার পাল্টা এই অন্তঃসত্বার বিয়োগান্ত পরিণতি। বিশেষ সেনা ক্ষমতা আইন-এর তলায় কাঁপতে থাকা মণিপুরীর দৈনন্দিন বাঁচা ও মরার গল্পের বাজার নেই। নাকে-নল নিয়ে অনশনকারী ইরম সর্মিলার আখ্যান পপকর্নের স্বাদকে একটু তেঁতো করে দিতে পারে।আর সেন্সর-বোর্ড তো আছেই – প্রাপ্তবয়স্ক দেশবাসীকে এই অনুত্তেজক রাষ্ট্রীয় নগ্নতা থেকে বাঁচানোর জন্য। তাই খেলাধুলাই ভালো। মণিপুরী মেয়ের শত প্রতিকূলতায় ভারতীয়ত্ব প্রমানের চেষ্টা এবং আসতে আসতে ভারতমাতার পক্ষ থেকে তাকে বুকে টেনে নেওয়া।  তালি তালি। আর যারা ভারতীয় হতেই চায় না? ওদিকে যেও না ভাই ফটিংটিং-এর ভয়। তেরঙ্গা বুনয়িপ একেবারে কাঁচা খেয়ে ফেলবে – কেউ জানতেই নাও পারতে পারে।

তাই ফিরে আসি ফিলিমেই। বাঙালি বা পাঞ্জাবি অভিনেত্রী দিয়ে ‘অথেন্টিক’ সাঁওতাল বাহা বা দুলি নামানো গেছে ইষ্টিকুটুম থেকে অরণ্যের দিনরাত্রিতে। সঞ্জয় ভনশালী সেদিক থেকে অনন্য নন। তিনি ভালোই জানেন যে তার বই-এর বাজার ইন্ডিয়া নামক চড়া তেরঙ্গা এলাকায়ে, মনিপুর-মিজোরাম-নাগাল্যান্ডের মত ফিকে তেরঙ্গার দেশে নয়। বাস্তব জীবনে মণিপুরী নন ভারতীয়-বাহিনীতে কর্মরত পিতা-মাতার কন্যা প্রিয়াঙ্কা চোপরা। ‘মেরী কম’ সেজে তিনি যা আয় করেছেন, মেরী কম বক্সিং রিং-এ এতদিনে তা আয় করেননি, করতে পারবেন ও না। তবু দুচোখে স্বপ্ন থাকলে ক্ষতি কি? ঠিক যেমন ‘মেরী কম’ বইটি রিলিজ হবার দিনেই শিক্ষক দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রিজির ভাষণ শেষে ইম্ফল থেকে তাকে প্রশ্ন করলো ১৭ বছরের এক মিজো তরুণ। আমি কি করে প্রধানমন্ত্রী হতে পারি ? প্রধানমন্ত্রিজি ইয়ার্কিছলে উপদেশ দিলেন ২০২৪-এর নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে। যে সর্বজ্ঞাত সত্য তিনি বলেননি তা হলো অশোক-স্তম্ভের রাষ্ট্রে কোন মিজোর প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব না – আজ না, কাল না, ২০২৪ এও না। তারা বরং চীনা-জাপানী টিপ্পনী শুনতে শুনতে তথাকথিত ভারতীয়ত্বের তথাকথিত মূলস্রোতে গা ভাসানোর চেষ্টা করুক। এই চেনা ছকের বাইরে গেলে যে পরিণাম খুব একটা মনোরম হয় না, তা জানেন মনোরমা। বছর ৩৪-এর থাংজাম মনোরমাকে ২০০৪-এ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আধাসামরিক বাহিনী। অনেক বুলেটে বিদ্ধ এবং পুরুষসিংহদের বীর্যমাখা মৃতদেহ পাওয়া যায় পরদিন। এর প্রতিবাদে ৩০জন মণিপুরী নারী সরকারী বাহিনীর সদরদপ্তরের সামনে উলঙ্গ হয়ে গর্জে ওঠেন – আমরা মনোরমার মা, ভারতীয় বাহিনী আমাদেরও ধর্ষণ করো। যেদেশে মনোরমার ও তার মায়েদের গল্প হিন্দুস্তানী মশলা ছাড়াই নাইট-শো তে পরিবেশিত হবে, সেই দেশের জাতীয় সংগীতের আওয়াজে দাঁড়ানোর জন্য অপেক্ষায় রইলাম।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Culture, Hindustan, Nation, Terror

সংহতির রাজনীতি – গাজা থেকে আইসিস

[ Ebela, 4 Sep, 2014]

গণহত্যার ফলে যখন মানুষ মারা যায়ে, তখন ‘সন্তান মোর মার’ গোছের ভাবনার একটা দাম আছে। কিন্তু কত মানুষ মরলো, সেই সংখ্যার বিচার-ও একদম ফেলনা নয়।  তাই তো চোরাগোপ্তা হাজারো হত্যার মাঝেও জ্বলজ্বল করে কলকাতা ৪৬, নোয়াখালি ৪৬, পাঞ্জাব ৪৭, বরিশাল ৫০, দিল্লী ৮৪, গুজরাট ২০০২। গণহত্যা বা জেনোসাইড কথাটিও ঠিক যত্রতত্র ব্যবহারের জিনিস নয়।  পৃথিবীর বুকে থাকার অধিকার আছে সকলের। একটি বিশেষ জনগোষ্ঠী নিকেষ হবার উপক্রম হলে শুধু কটা মানুষ হারিয়ে যায় না।  হারিয়ে যায়ে পৃথিবীকে ও জীবনকে দেখার একটি প্রণালী। হারিয়ে যায়ে মানুষ হবার নানা বিকল্প পথের একটা।  ফলে আমরা সকলে একটি মোক্ষম চেতনার একটা অংশ হারায়।  সেটা হলো – নানা ভাবে মানুষ হওয়া যায়ে।  এই যুগে যখন জামা-কাপড়-খাওয়া-দাওয়া-শিল্প-সংস্কৃতি-কথন-বলন সবই যখন বিশ্বজুড়ে একরকম হয়ে আসছে, এই চেতনাটি খুব দামি।  মানব জীবনের বৈচিত্র ওই ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য’-র মত ছেলেভোলানো সরকারী স্লোগান না।  এটা মানব জাতির ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে বিস্তৃত করে।
এজিদী-রা সংখ্যায় খুব বেশি নয়।  ব্রিগেডে বড় মিছিলের দিন নেতা-নেত্রীরা কত লোক এসছে, তার যে করেন , তার মতই সংখ্যা হবে তাদের। ইরাকে তাদের মূল নিবাস।  এরা ক্রিষ্ঠান বা মসলমান নন – এদের ধর্ম অতি প্রাচীন। সম্প্রতি ইরাক ও সিরিয়া-তে ইসলামিক স্টেট নামক জল্লাদতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয়েছে।  রক্তের হোলি খেলা এই    সন্ত্রাসী আন্দোলনের নাপসন্দ যে তাদের অধীকৃত এলাকায়ে বিধর্মী-রা বেঁচে-বর্তে থাকবেন।  তাই শুরু হয়েছে ঢালাও জবাই। এজিদী-দের, ক্রিস্টান-দের, এবং ইসলামিক স্টেট-এর সংজ্ঞায় যারা মোসলমান হয়েও ‘সহি’ মোসলমান নন, তাদের। তাদের হত্যা-লীলায়ে মৃতের সংখ্যা বেশ কয়েক হাজার।  এবং এজিদী-দের কে তারা যেমন করে  নিকেশ করছে, তা গনহত্যারই সামিল। কিন্তু এই গণহত্যার প্রতিবাদে অকাদেমি অফ ফাইন আর্টস-এর সামনে কোনো মোমবাতি, কোনো সহমর্মিতা, কোনো ধিক্কার, কোনো দরদ ফুটে ওঠে নি। লাল-তেরঙ্গা নানা দলের গাজায়ে ইস্রাইলি আগ্রাসনের বিরোধিতা করা  হুড়োহুড়ি দেখে মনে চিন্তা জন্মায়ে।  অন্য সকল ব্যাপারে এমন নিস্তব্ধতা কেন? কোনো কোনো মৃত শিশুর ছবি কি বেশি কান্নার উদ্রেক করে? যদি তাই হয়, তবে কি সেই বেশি দুঃক্ষ ও বেশি সহমর্মিতার মাপকাঠি ?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আমি ছাত্র ছিলাম, তখন পালেস্তাইন সংহতি আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে আমাকে নানা ভাবে হেনস্থা করা হয়।  সে হেনস্থার কারণে  আমার সংহতি আন্দোলনে যুক্ত থাকার জন্য একটুও আমার একটুও খেদ নেই।  অনেকে এর চেয়ে অনেক, অনেক বেশি দাম চুকিয়েছেন।  কিন্তু পালেস্তাইন সংহতির নাম তার  বিশাল বপুতে কি কি লুকিয়ে থাকে, তার খোজ নেওয়া প্রয়োজন। যদি কোনো সংহতি আন্দোলন ব্যক্তিগত জাতি, ভাষা, ধর্ম  উদ্বুদ্ধ হয় কিন্তু তা প্রকাশ্যে মানবতাবাদের নাম চালানো হয়, তখন সেই ফাঁকিটা বোঝা দরকার।  ফেইসবুক বা  টুইটার-এর কল্যাণে আমার নিরীহ অনেক পালেস্তিনীয় শিশুর বীভত্স মৃতদেহের ছবি দেখেছি।  দেখেছি ইসরাইলী হানায়ে ছিন্ন-ভিন্ন সাধারণ মানুষের ছবি, অনেক ক্ষেত্রে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের। কিন্তু কোথায় নাইজেরিয়া-র বোকো হারাম বা ইরাক-সিরিয়ার ইসলামিক স্টেট-এর ততোধিক নৃশংসতার ছবি? এই একচোখামী-র একটা মানে আছে।  এতে কিছু  ধরনের মৃত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা আদায় হয়, কিছু হানাদারের প্রতি ঘৃণা উদ্রেক করানো হয় এবং কিছু ধরনের হানাদারের ব্যাপারে নিশ্চুপ থাকা হয়। এই চুপ থাকা অনেক কিছু বয়ান করে।
মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার হবার সময় এই বাছাবাছি, এই চিত্কার ও নিশ্চুপ থাকার আলো-আধারি খেলার তলার খেলাটা কী? তাহলে বলতেই হয়, এই মৃতের প্রতি সমমর্মিতার ব্যাপারটি ভুয়ো।  যা সত্য, তা হলো হানাদারকে আমি কতটা ঘৃণা করি সেটা প্রকাশ করতে আক্রান্ত ও মৃত-কে ব্যবহার করে।  সেই সংহতির রাজনীতি ন্যক্কারজনক।  হানাদারের  ধর্মীয়/জাতিগত/শ্রেণীগত পরিচয় দিয়ে যদি গণহত্যার জন্য কাঁদবো কি কাঁদবো না, পথে নামবো কি নামবো না, সেসব ঠিক হয়, তাহলে সমস্যা বড় ভয়ানক।  আক্রান্তের ধর্মপরিচয় , আততায়ীর ধর্মপরিচয় – এগুলি দেখে সহমর্মিতার ভঙ্গি, তা যতই সততার সঙ্গে করা হোক, অন্য ভেজালে তা ভুরভুর করে।  ছত্তিস্গরে যখন হিন্দু গ্রামবাসীরা মূলতঃ হিন্দু মিলিটারী দ্বারা আক্রান্ত হয়, তখন হিন্দুত্বের ঠিকাদার-দার মুখে যায়ে না কোনো প্রতিবাদ।  পাকিস্থান,আফ্ঘানিস্থান, সিরিয়া, ইরাক – এসকল জায়েগায়ে গত এক বছরে প্রায় এক লক্ষ্  মোসলমান মারা গেছেন মোসলমানের হাতে সন্ত্রাসী কায়্দায়ে।  তখন হয় না মিছিল।  হত্যালীলা যখন চালায় মূলতঃ ইহুদী ইসরাইল রাষ্ট্র-শক্তি, তখন মাথা চাড়া দেয় মানবাধিকার, সংহতি, ইত্যাদি। এই দুনম্বরিকে পষ্টাপষ্টি দুনম্বরী বলা প্রয়োজন।
গাজায়ে ঘটে যাওয়া হত্যালীলায়ে আমরা ব্যথিত।  আমরা সকলে জানি গাজার গল্প।  আমরা মন থেকেই এই আগ্রাসনকে ঘেন্না করি।  কিন্তু আমাদের এই ঘেন্না করার লিষ্টি-তে কার অগ্রাধিকার , সেটা কিন্তু ঠিক হয় অন্য কোথাও।  আমরা জাগি ঘুম থেকে, কিন্তু ঘড়ির অ্যালার্ম দেওয়া হয় অন্য কোথাও।  কিসের থেকে কি ‘বেশি’ গুরুত্বপূর্ণ, তা ঠিক করে দেয় যে বিশ্বকল্প, তা কি স্রেফ মানবতাবাদের ভিত্তিতে তৈরী? কোন মৃত্যু হয় হেডলাইন আর কোন মৃত্যু হয় সাইডলাইন? তাই ন্যুয়র্ক, লন্ডন, কলকাতা, প্যারিস – সকলে যখন জানায়ে ধিক্কার ও সমবেদনা, তলিয়ে ভাবা দরকার – কেন শুধু  এদেরকে ধিক্কার? কেন আরো বিস্তৃত নয় সমবেদনা ? পালেস্তাইন-এর মুক্তি চাই, মার্কিন সমর্থনে ইস্রাইলি আগ্রাসন মানছি না, ইত্যাদি বলা সহজ।  কঠিন হলো মানুষ হিসেবে গাজার পাশে দাড়ানোর অধিকার অর্জন করা।  ২০১৪-তেই যেসব বৃহত্তর গণহত্যার জন্য বাংলায়ে একটি মিছিল-ও হয় নি, সেই গণহত্যার শিকার যে মানুষ, তারা সেই অধিকার অর্জনের পরীক্ষা নেবে। আমরা তৈরী তো ?

1 Comment

Filed under বাংলা, Our underbellies, Power, Religion, Terror, Under the skin

David versus Goliath in Benares

[ Express Tribune, 7 Apr 2014 ; Kashmir Times, 8 Apr 2014 ; Daily Peoples Times, 8 Apr 2014 ; Dhaka Tribune, 21 Apr 2014; Millenium Post, 22 Apr 2014]

As the Congress(I) looks sure to reap what it sowed, the possibilities for the Bharatiya Janata Party looked exceedingly certain in almost a walk-over game. It was just a few months ago when there was an air of everything having been settled. A corruption-ridden second term government of the Indira Congress was looking increasingly out of touch with people’s issues and aspirations. And a ‘saviour’ has descended from Gujarat –a ‘saviour’ whose public image was curated by the Bharatiya Janata Party’s slick PR machine to appear in stark contrast with the Nehru-Gandhi scion. It was but a matter of time. It still is a matter of time. Much is still quite settled. But the air has cleared a bit and faces of the demi-gods don’t appear as divine anymore. The man from Gujarat still stands tall and is way ahead in the battle. However, political currents in the last few months have ensured that at the end, the winner of the battle can claim political power, legislative power, administrative power, even the power to subvert habeas corpus and other things sacred to human dignity but it cannot claim ethical and moral power with full-throated confidence. The rise of the Aam Aadmi Party has ensured that.

Touted initially as a ‘electronic media creation’ that would vanish as soon as the cameras turned elsewhere, the Aam Aadmi Party has continued to punch way above it popular weight even after much of corporate media turned hostile overnight over the party’s decision to deny the Walmarts and Tescos of the world to set up shop in Delhi. This party, which cannot claim numerical parity with either of the 2 behemoths of the political scene of the Indian Union, has been able to go strength to strength with these two in the game of political agenda-setting. This is partly due to the base it has been able to create for itself in crucial urban sectors of Hindi-Hindustan (and not in many urban centres of the Indian Union). Anything in Hindi-Hindustan is able to claim top slot in the ‘national’ agenda – such is the nature of politics in this republic. But that is not all. The Aam Aadmi Party has been able to edge past its rivals in the universe of political morals and ethics by disclosing the hitherto undisclosable donor lists to party funds, naming the hitherto unnamable individuals and families who hold the political system in an unholy grip, forcing others to respond, retaliate, ignore and thus expose themselves. The subcontinent has a special place for this sort of thing, even if ethical giants were really acting all the way. Even if silenced by fear or state violence, people in the subcontinent have shown that they have respect for those who speak truth to power. Which is precisely why other agendas for respect garnering have to be generated – ‘strong’ leadership, teaching ‘them’ a lesson and content-less slogans of the ‘India first’ type. Such respect-generation is coupled with hope-production by false promises for job-creation and material prosperity that will be ushered in by the same corporates who help fund advertisements of the ‘strongman’ in widely circulated dailies, TV channels, cell phones and websites.

Arvind Kejriwal, ex-Chief Minister of Delhi and the public face of the Aam Aadmi Party, will be challenging Narendrabhai Modi, the chief-minister of Gujarat and prime-ministerial candidate of the Bharatiya Janata Party, in Benares in the upcoming parliamentary elections. This holy city, which is also the site of the controversial mosque that Aurangzeb Alamgir built after destroying the erstwhile Vishwanath temple, is all set for a David verses Goliath battle. And Goliath will win. When Arvind Kejriwal entered Benares for his inaugural political rally, he was pelted with rotten eggs and black ink was thrown on him. The kickback that is given by the saviour’s favourite banias in exchange of mining rights, ports, agricultural lands, tax breaks, mega-subsidies and natural resources finds it way into the petrol of the campaign helicopter, the liquor consumed by the black-ink and egg throwers, the danda that holds the jhanda. Kejriwal is astute enough to know that focus on Benares will garner publicity helping people know about the political agenda of a credible opposition to the Bharatiya Janata Party, especially when the Indira Congress is in retreat. An atheist turned believer, he can publicly pull off a call upon non-sectarian divine powers to intervene on the side of the ‘aam aadmi’. Call them publicity stunts, call them what you will but the egg and ink smeared Kejriwal has ensured that in spite of a ‘chhappan inch’ chest, immaculately clean dresses and ‘Har Har’ chants, the winner this time cannot rise above the fray. The owner of the 56-inch chest will invariably see his height diminished when the duel with Kejriwal progresses, when he reacts to the Aam Aadmi challenge. The ironman may stand tall but his rusty core will not be hidden either. That is serious political currency for the Aam Aadmi Party, which really is preparing for the election after this one.

Leave a comment

Filed under Democracy, Hindustan, Polity, Power, Religion

Looking for colours beyond Holi / Are there colours that Holi suppresses?

[ Daily News and Analysis, 19 Mar 2014 ]

There is a high possibility that some of the readers of this column still have colour-stains on their faces and bodies from the festival of colours. Monday, March 17, was Holi. All parts of the Indian Union had a riot with colours – one would have been led to believe. The multi-colour motif of Holi comes in handy as a living manifestation of the much-touted ‘unity in diversity’ trademark of this nation-state. People sprinkled colours on each other. Unsuspecting people who were out and about wearing normal dress regretted that they did so. A lot of bhang-laden Thandai was drunk. A lot of women were taken advantage of. Some desi and many firangi photographers were shooting away to capture the colourful ‘soul of India’ that was on public display on its streets and on private display in the farmhouses of the powerful. That was the day. Or was it?

Sunday, March 16, was Dol-Jatra for tens of millions of inhabitants of Odisha, Assam and Bengal, and yes that too was a riot of colours. ‘Dol’ means a swing and Jatra means journey. Of course, Lord Krishna and Radha are the ones of the swing and the devotees take them around. Phakuwa happened in Assam around the same time. All this is accompanied with much merriment with colours. There is no thandai involved. Not all ‘festivals of colour’ are the same. When someone says, Dol Jatra is Bengal’s version of Holi, it does not sound objectionable. However, if I say, Holi is Delhi’s or Uttar Pradesh’s version of Dol Jatra, it sounds odd. At that, some will say, I am being ‘parochial’. I will be advised not to mix-up up the mainstream with the variant, the standard language with the marginal dialect. I will be shown my place. I will be forced to play along in the ‘national’ festival of colours. Some will say, how does the name matter – it’s a fun occasion after all. It is easy for people to ‘look past’ variations, when the hierarchy of variations favours their cultural world. Others ‘look past’ to be accepted by the ‘mainstream’.

The problem with this idea of a cultural ‘mainstream’ with ‘regional’ variants is that it is a sophisticated name for good old crude majoritarianism. So much for the half-hearted paeans to ‘unity in diversity’. If you thought that the state does not endorse one view over another, think again. In West Bengal, the governor notified that the day after Dol Jatra will also be a holiday in all offices under the Government of West Bengal. In the Central governments list of holidays, there is only mention of Holika Dahan. There is no mention of the name Dol Jatra. The deep ideology of a state is given by these ‘innocuous’ choices, of font-size variations of different languages in Gandhi-chhap currency notes, the automatic language of CRPF or BSF irrespective of their posting in West Bengal or Tamil Nadu and many other instances. Look for such signs. They are everywhere.

There are soft-exports too. The marriage-associated events from the Punjab and the Hindi-heartland are now increasingly part of marriage ceremonies of Bengalis and Kannadigas. The most sublime form of this cultural hierarchy is seen is diasporic communities whose marriages invariably have ‘Sangeet’ and the colour festival is always called ‘Holi’. They are nothing but Indians. The next group who embody this sublime ideology are the upwardly mobile, well-off yuppies who have voluntarily moved to subcontinental cities located outside the province they were born in. Such ethno-cultural flattening does no service to the Hindi-heartland where many cultures are in a state of decay, thanks to metro-centrism Hindianism.

Whose ‘local’ becomes ‘national’ and whose ‘local’ disappears when ideas like ‘all India’ and ‘mainstream’ are evoked? Why is the direction of traffic in this supposedly two-way street so predictable? When was the last time a Tamil marriage/religious/cultural custom went ‘mainstream’ and was picked up in Delhi? Why does the leading contender for prime-ministership focus most in areas where Holi is the uncontested name for the festival of colours. Whether that kind of politics expands the palette in this diverse subcontinent is a different matter.

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Community, Culture, Delhi Durbar, Faith, Identity

The Aam Aadmi phenomenon

[ Millenium Post, 9 Mar 2014 ; Dhaka Tribune, 11 Mar 2014 ; Daily Peoples Time, 12 Mar 2014 ]

While the big winner of the forthcoming general elections of the Indian Union may be the Narendra Modi led Bharatiya Janata Party (BJP), the newly formed Aam Aadmi Party (AAP) will have achieved something grander – a shift in the political discourse around people’s everyday issues. With Aam Aadmi Party’s Arvind Kejriwal taking the fight against the ‘Gujarat model’ straight to the Aam Gujaratis, the party has raised the stakes in what is now clearly a very dangerous game. The AAP may or may not be successful in stemming the rise of the Bharatiya Janata Party in urban areas of the North and the West of the Indian Union. But in taking the fight against Modi to the Hindu-Chhote-Sardar’s hometurf, he has managed to do what the party of babalogs and dole-funded Delhi-based ‘secular’ talk shops have never been able to do. Perhaps it is conviction, perhaps it is spontaneity, perhaps it is calculation and most probably it is all of the above and much more. But the AAP has made the BJP nervous and it is showing. The way it also has clashed with the AAP in Delhi and attacked them elsewhere shows that they care deeply. The established political class fears one thing more than the present AAP organization – its potential contagion effect. Politics of the poor and the deprived thrives on hope. AAP peddles that as if on steroids. Hence a politics centred on the issues of the excluded majority always has an ‘escape velocity’ potential under those who are both clever and honest. And there are many of them in the subcontinent. This is the thrust that AAP potentially represents for many and those whose reliance on Reliance is crucial for their business do not under-estimate the AAP’s potential threat.

President’s rule over any territory in the Indian Union is always an useful opportunity to study the deep consensus that exists underneath the apparently partisan bickering that is staged for public consumption and political career advancement. During such rules, the police and the administration work according to the ‘common minimum programme’ that is common to the major factions of the subcontinental ruling class. Thanks to sanitized civics books that are designed to instill state-friendly common-sense among common-folk, some people living in urban middle class bubbles might mistakenly think that this ‘common minimum programme’ is the constitution itself. The power of the deep state is seen not in how effectively it rules by its constitution, but how selective can it be in upholding the ‘rule of law’. That which can make exceptions is the true sovereign in this land – it is not the people, it is not the state, it is the deep state. Which is why a Delhi Police, apparently not under any partisan control states that 13 AAP activists and 10 BJP supporters were injured in clashes in Delhi, and decides to detain AAP supporters. In detaining the AAP supporters, the Delhi Police was upholding the rule of law. In not detaining the people who injured the 13 AAP activists, it was upholding the rule of a deeper law, that one which is not the constitution, but the one that decides when the constitution is to be invoked at convenience. The lady of justice in this latter more powerful rule of law is not blind. She sees everything but has blindspots that conveniently guard those who are committed to the preservation of the deep state. The alacrity with which the Election commission takes notice of AAP’s violations is less astonishing than the speed with which corporate media houses are rushing to report these notices as headlines and ‘breaking news’. Equally astonishing is Arvind Kejriwal’s unconditional apology on AAP Delhi’s militant protest and his stern cell to stop all such protests. No such call from those who injured the 13 AAP activists and have been periodically attacking AAP offices elsewhere. These are exceptional times.

The AAP by its evolution has not been effectively contained by the deep-state. It surely wants to make it one of these others – whose periodic musical chair games makes sure it does not matter who loses, but the Delhi-Mumbai based elite illuminati and their retinue of policy wonks, security apparatchiks, immobile scions of upwardly mobile politicians, bureaucrats, professors, defence folks, hanger-ons, childhood friends, civil society wallahs, media-wallahs, suppliers, contractors, importers, lobbyists and pimps always wins. There is a tiny bit of possibility that the AAP may not be easily incorportable in this way of life. Since this way of life and loot is not negotiable, the AAP is an headache, small now, but potentially a recurrent migraine. Big corporates, including foreign corporates, and Delhi-Mumbai elute interests would ideally want to coopt AAP into their model of business-as-usual. The AAP is not totally immune to this threat from the grand-daddies of vested interests of the subcontinent. Even the powerful want to sleep in peace.

It is in parts of its line-up that one sees a possibility that such co-option, even if it is being tried at this moment, will not be a cakewalk. While many suspiciously looks at AAP as a motley crowd of over-ambitious jholawalas, the reality that the party is pitching a big tent in which there are a spectrum of forces and interests jostling for space and do represent a curious collection. These include victims of police brutalities to RTI activists to single-generation knowledge-industry millionaires to veterans of people’s struggles to aam aadmi, who are actually very khaas in being veterans of quotidian aam existence but distinguish themselves by their outspokenness and conviction in the AAP experiment. The AAP Lok Sabha candidate list includes Medha Patkar, the grand dame of non-party people’s movements, leader of the Narmada Bachao Andolan, honest to the core and deeply committed to issues of the poor and the marginalized. And incorruptible. Dayamani Barla, the indefatigable fighter from Jharkhand who led the movement for preservation of the adivasi forest rights against the mining giant Arcelor-Mittal, had joined AAP and might contest too. SP Udayakumar of the Koodankulam anti-nuclear movement has joined. In all their ‘anti’-ness, they collectively represent a humane approach to politics that has been altogether missing for a long time in the electoral arena. The people’s right to knowledge and governmental transparency has bloomed many RTI activists, many of whom have joined AAP. Among them, Raja Muzaffar Bhat is their candidate from Srinagar, Jammu and Kashmir. In the subcontinent, forgotten atrocities form the underbelly of this apparently calm land. This is the land of 1984, Delhi and Bhopal. HS Phoolka, the tireless warrior for 1984 anti-Sikh riot victims’ justice is an AAP candidate. So is Rachna Dhingra, a person who gave up a luxurious life in the USA to start working among the victims of the 1984 Bhopal gas tragedy and fights for their rights to this date, living in Bhopal. Today the parliament has more supporters of Dow Chemicals/Union Carbide in its power corridors than those who want justice for the Bhopal gas victims. AAP represents a threat to this state of affairs. The list of illustrious people in the AAP candidate list goes on – Mukul Tripathi, Jiyalal, Lingraj, Baba Hardev Singh, Sarah Joseph. Typically the state has co-opted such people by felicitations, with politicians standing beside them to be seen as patrons of such people. Just as they patronize goons. Different charades for different stages. It has attracted a fairly impressive set of tycoons and technocrats to its fold, especially those who fit the bill of being ‘self-made’ single generation millionaires. This class is averse to dynasticism and might have a certain kind of idealism that makes them resonate with AAP’s staunch anti-dynastic stance. If one suspends cynicism at some risk, one cannot also discount that some of them may be looking for redemption, at some point of their careers. Everyone wants redemption, at some level. Some of these types used to flock to the BJP before that ‘party with a difference’ simply introduced different dynasties, big and small. They also perceive themselves as non-receivers of the special favours from the political establishment, which makes them stand for clean and ‘fair’ business practises as opposed to crony capitalism and outright loot of state resources. There are civil society activists, academics, grassroots workers and quite a few aam aadmis and aurats. There is however a serious concern that its candidate list does not reflect the caste demographics of the land. While numerical representativeness is not enough, it is a start. A move away from that to faces more often than not from urban and higher caste backgrounds is a point of concern. Many from the left have pilloried the AAP for not coming clean on structural issues. If any group is most seriously concerned about AAP, it is the left of all hues, as the AAP seems to have struck an emotive cord with the people around pet issues that the left-wingers thought was their home ground. The AAP is clearly pushing the envelope on common people’s issues and that is broadly reflected in its choice of candidates. The AAP has learned from the past that small, localized movements, however spirited and however much they enjoy people’s support, ultimately suffer from a problem of failing to be scaled up to a size that matters, in an electoral and hence legislative sense. Part of the AAP leadership clearly wants to wed the politics of people’s movements to a pragmatic large-scale alternative that cannot be wished away. They have partially succeeded. The AAP is also limited by its perception of being a North-India party, with the name itself being distinctly Hindustani. A comprehensive commitment to making the Union into a truly federal one, which also is in line with the party’s focus on decentralization, should go a long way in clearing some air on that front.

At one level, AAP is like Gandhi’s Swaraj or Jinnah’s Pakistan. In the imagination of the people, it is whatever one thinks it to be, the harbinger of good rule. But what is good for one sector of the population may not be so for other sectors. It cannot be all things to all people at the same time. The long-range future of AAP, if it at all has one, will depend on which of these collective fantasies it will ally itself most closely to. Given its big tent character, there will be tussles and splits for sure. And that is not necessarily bad.

Like any populist political formation, the AAP has a demagoguish potential. The only real insurance against that is democratic control of a political formation. Similarly a state that runs rogue can only be restrained by democratic control. Some of AAP’s Lok Sabha candidates have been at the receiving end of the some of the most brutal acts by rogue state. The politics of changing the nature of politics is a means to changing the nature of the state – initially to convert a rogue state into a state having some rogue sections. This is no easy job as rogueness is not simply a character fault. It comes with wielding unaccountable and undemocratic power at any level. Unaccountable power that is beyond democratic control is the mother of all corruptions. One does not need to abuse this power. It is abusive to the people by its very existence. Many faces of the present AAP Lok Sabha line up understand that only too well. But they are not alone in understanding that. Those in power, including those who were victims of extraordinary abuse during the Panditain’s emergency regime are also aware of this. Awareness of abuse is not enough. Conviction is equally important. There is a difference between pimps and anti-trafficking activists. Both are ‘aware’ of the abuse. One thrives because of abuse, the other wants to end it. One can transform into the other – as the trajectories of many of those from the JP movement shows. Any political formation that wants claims to be difference in this age has to ponder deeply what is it beyond ‘personal honesty’ that will sustain politics, what is it beyond leadership that will sustain such politics. After all, the Patna University Student Union leader who later went to jail for the fodder scam was the same man who the Indira Congress locked up during the emergency. The AAP’s fielding of a few good men and women can be a start but not a long-range solution. If times can change people, what is it that will ensure that gains from one time idealism are not wasted. The AAP has pointed to greater and greater democratic control of political institutions at all levels, with an eye towards decentralization. If it is serious about this democratic decentralization, which in the political scene translates into a call for true federalism in the Indian Union and greater non-alienable powers to the bottom of the pyramid, then it may be onto something. Even if the AAP experiment fails, if it is successful in making democratic decentralization a key issue, just like it has done successfully with corruption, it would have made a greatly positive contribution to this Union.

1 Comment

Filed under Change, Democracy, Polity, Power

Lit fests and not so well-lit fests / Not so organic fests

[ Down to Earth, 15-28 Feb 2014 ; Dhaka Tribune, 5 Apr 2014 ]

My home in Kolkata happens to be very near Kalighat. This is one of the holy Shaktipeeths (centres of divine power) that are spread across the subcontinent where different body parts of Lord Shib’s wife Mother Sati fell. For Bengali Shaktos, the Shaktipeeths, especially those in Bengal and Assam are of immense divine importance. At Kalighat, the reigning goddess is Mother Kali. In my life, I can rarely remember an auspicious occasion where a trip to Mother Kali of Kalighat was not undertaken. Kali, the dark mother holds immense sway over her mortal children.

As I grew up, I have often roamed about in the by-lanes around the temple. The temple lies on the bank of the Adi Ganga, at one time the principal flow channel of the Ganga and now a near-dead, rotting creek. This area with river-bank, shops, inhabitants, ganja-sellers and smaller temples has pulled me towards it time and again. Some of the smaller temples right on the river-bank belonged to goddesses whose names I did not know. In the pantheon of caste-Hindu Bengalis like me, there was an assumed mainstream where Mother Kali and Mother Durga had very important places. It was only by chance that I went to Kalighat once on a weekday afternoon on a chance school holiday due to rains. I was quite taken aback by the huge crowd, a few thousands strong, that had gathered around the temple. But to my astonishment, they were not there for the main temple of Mother Kali but for a very small temple of Mother Bogola. The people had a very intricate set of offerings that looked quite different from what I was used to seeing. And everyone there knew this occasion and at that moment, I was the fool in town, with my pantheon suddenly seeming irrelevant. Due to my very limited immersion in what we call in Bengali as gono-samaj (mass society can be a poor translation of the concept), a divine set had been built in my head that had entirely bypassed what was so near and what was always there. The blindness and illiteracy due to my social locus and ideologies that come with it was very badly exposed. Social alienation creates culturally illiterate beings.

Thankfully, the festivals of Southern West Bengal (where my home is broadly located) gave me many opportunities of unlearning and literacy. And they are not too hard to come by unless one is of the kind whose worlds are not defined by the physical-ecological-social reality they live in but the fantasy worlds they can afford to inhabit. I started attending the mela of Dharma Thakur, whose few sacred sites spread over the two Bengals, and have a distinct character in the kind of rice product that is offered (called hurrum) among other things. There is the 500-year old fish-fair held near the akhara of the seer Raghunath Das Goswami at Debanandapur in my ancestral district of Hooghly. The many Charaker melas that I have been too have been so enriching in its cultural produce that one wishes to be a sponge. The Gajaner mela in Tarakeswar, again in Hooghly district, goes on for 5 days and the cultural action is frenzied. The number of ‘parallel sessions’ (if one were to call the things going on there) is probably more than a thousand and there are no websites to print out the schedule. And that does not matter. The Ganga Sagar Mela is different every time. This mela, the second-largest in the Indian Union, is literally and allegorically an immersion experience. The experience is different in different times of the day, on different days of the mela and in different years. The festival around Salui Puja (worshipping the Sal tree) in Medinipur has tremendous footfall. Further west, in the adibashi areas, I once attended the Chhata Parab on Bhadra Sankranti day. In Malda, the week-long Ramkeli festival is a cultural cauldron that overflows during the summer month of Jaistha. The 2 big Ms associated with this fair is music of the Gaur-Vaishnavite tradition and mangoes that are harvested around this time. While stalls selling wares are an integral part of these festivals, each festival is different in its different parts and substantially different from each other. It is sad that I have to underline this point but I say this remembering my one-time know-all attitude towards these festivals before I had even attended them. What culture can a bunch of brown people produce left to their own devices? To know that, one has to have some humility in admitting cultural illiteracy and suspend ideas of supposed superiority of textual literacy, White man knowledge systems and the artifacts they produce. This unlearning can be harsh, especially when whole self-identities are built around wallowing on these artifacts. But there are too many brown people making too many things for too many centuries to take imported ideas of superiority seriously. One can live without being exposed to this reality and that wont cause any peril. The urbanites of the subcontinent have created a wondrous system by which they can eat rice but not know the rice-type or the growing area, get a house built but not know where the masons live. But of course they know where Indian wines are grown and the life-events of authors they have read, and other details of the lives of sundry characters of their fantasy world. The mindscape of the ‘enlightened’ can be more enlightening to the rest of us than they would want to it be.

The point of mentioning these festivals is not to create a mini catalogue but mention certain characteristics. Most of these festivals have a deep connection with the local ecology – cultural and natural. These are not American Burning Man type of fossil-fuel powered ‘creative’ fantasies (I have always failed to understand what is ‘creative’ about pursuits that require high fossil fuel burning or require pollution intensive factory made accessories). They don’t say ‘free entry’; that I mention that at all is absurd in their context. They don’t ‘say’ anything at all. They happen. They are organic, as opposed to the ‘festivals’ that are primarily thronged by the ‘fashionable’, the ‘articulate’, the ‘backpacker’, the ‘explorer’ and other curious species of the top 5% earning class of the subcontinent. Most of these festivals don’t have the kind of portable artifact quality that is so popular with the rootless, possibly best exemplified both by the Great India Mall and its location (the ‘Sector’ ‘city’ called NOIDA created by destroying many villages like Chhajarsi and Hazipur, now known by more fashionable and presentable names like Sector 63 and Sector 104). Most of them are not part of the ‘Incredible India!’ imagination and hence are largely devoid of white and brown people with cameras. Such a shabby state of affairs, however, has not prevented some of these festivals to go on for centuries, without sponsorship from ill-gotten-big-money supporters.

It was sometime in high school that I started noticing newspaper headlines such as ‘Kolkata’s young heads to the clubs’ (clubs being dancing places with rhythmic music). Many more young people regularly headed (and still do) to the East Bengal club or Mohan Bagan club grounds for football matches. But this was a different club. The idea was to create a fantasy and a false sense of feeling left out, of being in a minority, on not being ‘in’. For the already socially alienated, this pull can be magnetic – particularly because these come without pre-conditions of prior social immersion. If at all, certain kinds of fantasies and ‘enlightenments’ celebrate delinking from one’s immediate social milieu and replacing that with fantasy milieus, typically with White people’s hobbies. If the products of such indoctrination happen to arrive at the Muri Mela of Bankura (a festival where hundreds of varieties of ‘muri’ or puffed rice is produced, exhibited and sold), all they might see is more of the same. However, they do aspire to tell the difference between different red wines. Anything that requires being socially embedded in a largely non-textual cultural milieu (hence Wikipedia doesn’t come in handy), they are like fish out of water, gasping for the cultural familiarity of over-priced chain coffee stores.

It is the season of a new type of festival. Like an epidemic, big-money ‘lit’ fests have spread all over the subcontinent. The sudden-ness of the epidemic reminds me of the time when suddenly, year after year, brown women started winning ‘international’ beauty pageants. That ’arrival’ was meant to signify that browns are beautiful. The present trend probably is meant to convey that now there are enough number of moneyed browns spread all over who can nod knowingly hearing English. ‘Half of Jaipur is here at Google Mughal Tent’ – read a tweet from one of the fests. This tone sounded familiar to that time when I read that youth of my city headed to the clubs, but saw that no one around me did. May be I just belonged to an odd social sector, or may be they never counted me. But I am quite privileged otherwise. I never ever saw a headline saying youth of India head to Ganga Sagar mela on Makar Sankranti. At any rate, it is a greater statistical truth than saying youth of such and such city head to such and such ‘lit’ fest. This non-counting of many and over-counting of some is a predictable and sinister game that is played by the urbanbubbleophiles over and over again till it actually starts sounding true. The believers in such a worldview fear real numbers – the ‘odd’, the stubborn, the smelly. They would much rather ‘weigh’ according to their ‘subjectivities’. The sizeable ‘hip’ throngs within their tents are never ‘masses’; they are assemblages of aficionados. They have individual minds. They can think. They are human. The rest are better kept out until some floor mopping is required.

When real estate dacoits, construction mafias and mining goondas come together for a ‘cause’, one can well imagine the effect. The well lit fests provides a good opportunity for branding and white-washing crimes. Taking prizes from greasy hands, some authors are only too happy to oblige in that project. There they are, on the newspaper –smiling. They write ‘sensitively’, argue ‘provocatively’, and entertain ‘charmingly’. Ill-gotten prize money from the infrastructure mafia can supply powerful batteries for their headlights as they reach into the dark inner recesses of the human condition through their words. All this boils down to a few days of litting, ‘Think’ing, festing and other things that may get you in jail when done to people who have dignity and the courage to speak up.

The need to distinguish oneself from others can be rather acute in certain sectors of the subcontinental bubble urbania. What distinguishes one from the others whose ‘purposeful’ lives are peppered by sampling cultures whose social roots they are alienated from, long drives, coffee-chain hangouts, mall meetups, multiplex evenings and money-powered ‘rebelliousness’. To see oneself purely as a consumer – a seeker of market defined and mass-produced hatke (alternative for the discerning new Indian) ‘experiences’ and ‘thrills’, can be bit of a self turn-off for the brand and ego conscious yuppie. In a society where they want to define taste, no quarters should be given to others to make them appear as vacuous and crude. Hence, there is the search for ‘meaningfulness’ beyond the necessary evil of quotidian parasitism. This is best accomplished while practicing parasitism with a thin veneer of ‘meaningfulness’. Practising White people’s hobbies and engagements, with a bit of Indian elephant motif thrown in, fits the bill perfectly, at home and in the head. The well Lit fests of the rich with the ‘famous’ for the aspirational and the arrived accomplishes multiple functions at the same time. It is apparently ‘meaningful’ to be an onlooker at ill-gotten money sponsored talk-shows with only a few rows of seated brown sahibs and mems separating the top 5% income audience from the gods discussing the intricacies of brown and paler experiences. This ‘refinement’ is so much more substantive than double-refined mustard oil. And then there is the extra benefit of the Question and Answer – that which gives a feeling of participation and contribution, even accomplishment and ‘production’. That should give enough warmth, inject enough meaning and experiential richness to last through a cosmopolitan, urban winter after the show is over. And if any heat was lacking, such festivals and the spotlight it brings on the ‘winners’ and other such losers gives them an opportunity to impress those who hold such characters in awe and worship them. This gives these heroes a perfect pretext and opportunity to sample some fresh, young, fan ‘meat’. Some famous winning authors frequenting these spaces are equally famous for drug binges, for serial hunting of fans half their age, with some of these hapless young ones dying early deaths. Such ‘launches’ bring together publisher and author, writer and fan and above all, potential bedfellows. When infrastructure sleaze hosts ‘intellectual’ posturing, the sleaze-fest is complete. And of course it has to be winter. That is the time when brown and white migratory birds from White lands come down to brown land. They are in much demand – hopping from one gawk-fest to another. They dare not hold it in summer, like the Ramkeli festival. Their armpits might just start smelling like those of the ones outside the gates.

The well lit festivals have as much connection to ground realities as the owners of the palaces have with the local population. The court-like atmosphere, graced by tropic-charred whites turned native and tropic-born natives itching to be white, creates much gaiety and banter. Typically and predictably, the pre-eminent language of these well lit courts is something that most localites would not identify with. That goes for most of the books and the preferred language of the authors. Collectively it represents their fantasy world, as they claim to represent much. It is not as if the writers thronging these places are most sold or most read. The English-speaking spokesperson who has captive white and coconut (brown outside, white inside) ears becomes the chosen voice. He is the authentic insider and quite often a chronicler of the urban ennui and excitement of the parasites. The subcontinent has many authors who have sold more and been read more than all brown Englishwallahs taken together, but no infrastructure mafia wants to honour them by prizes. The loot of people’s money from the Commonwealth games by a famous prize giving company is better utilized elsewhere. Why is it that the Chennai or Kolkata book fair, with more attendance of authors and readers than a desert jamboree can ever manage, will never be covered by corporate media with the same degree of detail, as an event of similar importance. One has to ask, what are these choices meant to convey, why now, for what, for whom, against whom. The benign smile of prize acceptance of some of these first-boys and the fellowship of enthusiastic clappers need to be seen for what they are and what they represent. Why this project of pumping air into the English cat so that it looks like a tiger, to assist it to punch above its weight? Who does it want to scare into submission? Who does it want to provide confidence? Cultures, especially those that come associated with upward mobility, hubris and power, seek to displace others. As Hartosh Singh Bal puts it, ‘English mediates our own social hierarchy.’ The soft hearts of sensitive beneficiaries of cultural-economic hierarchies are too sensitive to probe their complicity in this project. Elsewhere, as Akshay Pathak has shown, the way some well ‘lit’ fests have tried to replicate their foreign idiom of ‘storytelling’ through festivals in less ‘lit’ places like Dantewada shows another aspect of the dark underbelly of the ‘articulate’ beast. Such beasts hunt in packs, as shown by their excellent ‘teamwork’.

This odd idea of non-local ‘exploratory’ tourism cum weekend-thrill is a symptom of a deeper disease. This disease adds layer after layer between the earth and the birds who float atop that earth, with the organizers making sure that the undomesticated and the unrefined stench of the earth does not make its way in to this stratospheric paradise. Such ‘cosmopolitan’ inhabitants who belong nowhere produce nothing. Of course they know about the Sati ‘tradition’ and shur their book and minds with that. These are those who see no intrinsic value in any tradition but partake in its goodies, document it, sample it, sell it to visiting firangs, package it as if they were wares on sale but contribute very little to the richness of the human condition, on a long term basis. If this worldview and lifestyle becomes the dominant one, I shudder to think what kind of a cultural desert the flittering non-traditionalists will produce with their contempt of tradition and rootedness. Given their clout and power, that urban-industrial dream of an atomized society might become true, till every grain looks the same. Individual grains of sand around Jaipur have more heterogeneity and character than this.

Would the dominant idiom and language of these well lit fests survive if Whites paid reparations for colonialism and slavery? Will any of these well lit fests survive even for a year if the world magically becomes becomes crime-free? Something that owes its very survival to dirty money and claims to be a festival of ‘mind-opening’ needs to be exposed. This is true for many other creative pursuits of these times and these classes- they don’t exist without the backing of money, cannot be produced by the poor (hence most human beings) and, if the world could be flattened so that everyone was at mean income, none of these creativities would even exist. These are pursuits for which inequity is a necessary pre-condition. But there is art beyond that, in persisting oral traditions, lores, gods, non-‘cosmopolitan’ ways of everyday creativity and knowledge and earth inspired insurgents like Namdeo Dhasal and Gaddar but that is beyond the well lit faces and enlightened minds of the perfumed ones. It must be painful for the ‘enlightened’ ones to imagine that the world can actually go on without their collective knowledge being at the centre of it. But it does. It always has. And whether you like it or not, and whether you matter or not, it always will.

1 Comment

Filed under A million Gods, Bahishkrit Samaj, Class, Colony, Culture, Delhi Durbar, Elite, Faith, Knowledge, Sahib, Sex, The perfumed ones, Urbanity

খেলা স্রেফ খেলা নয়

[ Ebela, 15 Jul 2014]

পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল আমাদের চেতলা পাড়া থেকে রাসবিহারী মোড় যাওয়ার অটো রুটেই। জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের রক্ত পতাকাগুলি নেমে আসতে শুরু করলো। তার জায়গায়ে এলো মা-মাটি-মানুষের নিশান। এখুন-ও সেগুলি উড্ডীন। এই পথেই এক-কালে বসত বিরাট রথের মেলা। চলত ১৪ দিন। এখুন সে ঐতিহ্যশালী মেলা চেতলা ব্রিজের নীচে নির্বাসিত। পরিসরে ১০ বছর আগের তুলনায় এক দশমাংশ-ও নয়। সে যাই হোক, বর্ষাস্নাত এক সন্ধ্যায় আমি রাসবিহারী মোড়ের অটোর জটলার দিকে গেলাম। দেখি কয়েকটা অটো-তে এক নতুন পতাকা। ব্রেজিল দেশের। এই পতাকা বদল সাময়িক এবং তার জন্য এই তরুণ অটোচালককে কোন চোখ রাঙ্গানি দেখতে হবে না।  কোনো সরকার, কোনো দল , কোনো ইউনিয়ন বা ক্লাব-কেই ব্রেজিলের থেকে কোনো ভয় নেই।  তাই একয়দিন নতুন পতাকা উড়বে। তা উরুক।  শত পতাকা বিকশিত হোক।

ব্রেজিল যে কজন মানুষকে গৃহহীন করে এই বিশ্বকাপ রোশনাই করছে, কত ব্রেজিলীয় সুরেশ কালমাদী রিও-সাওপাওলোর স্টেডিয়ামের ভিআইপি দর্শকাসনগুলি আলো করে আছে, তার বিবরণ আমাদের নরম হৃদয়ে ধাক্কা মারতে পারে, তাই ওই খারাপ জায়গায়ে বেশি হাতরাবো না। আর্জেন্টিনার ভক্তদের হাতে ব্রেজিলের বিরুদ্ধে খেলার মাঠের বাইরের রসদ দিয়ে লাভ নাই। এ যুদ্ধে যেই জয়ী হোক, নিখিল বাংলাদেশে একটি মানুষের কিসুই হবে না।  তবে তাতে কি? তা নয়, শুধু এটাই যে এই বাংলাদেশের বুকেই কলকাতার মাটিতে এক ফুটবল
যুদ্ধের ফলাফলে আমাদের কিসু এসে গেছিল। আইএফএ শিল্ডে কালা আদমির দল মোহনবাগান যখন সাহেবদের খেলায়ে সাহেবদের বাচ্চাদের হারিয়েছিল। এই খেলা শুধু খেলা নয়।  সমাজ-জাত কোন কিছুই শুধু খেলা থাকে না, সমষ্টিগত বোধ তাকে ক্রমে সামাজিক সত্যে পরিনত করে। বাংলাদেশের পাড়ায়ে পাড়ায়ে যে ফুটবল-চর্চা তা অনেকটাই কিআইএফএ শিল্ডের  যুদ্ধের উত্তরাধিকার নয় ? আর এই চর্চা যে খেলার জন্ম দেয়, তার দাম, তার শিহরণ, ঠিক হয়েছিল এই মাটির নিরিখে।  আমাদের সেরা দল ব্রেজিল বা আর্জেনটিনার কাছে ২০ গোল খেলেও নয়। সেটা আমাদের খেলা, আমাদের অতীত, আমাদের যাপন,  আমাদের রাজনীতির সঙ্গতে গড়ে ওঠা।  সেটা ফুটবল হলেও বিশ্বকাপ-এ যে খেলাটি হয়, সেটা নয়।
একান্তই আমাদের একটি খেলা। আমাদের ব্রাজিল, আমাদের আর্জেনটিনা একান্তই আমাদেরই।  কোন ব্রেজিলবাসী বা আর্জেনটিনাবাসী তাকে চেনে না।

ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মোহমডান, আবাহনী  – এই নামগুলি যে স্রেফ দল নয়, বরং ভিন্ন-ভিন্ন গোষ্ঠিচেতনার প্রকাশ, তার আভাস এখুনো খেলার মাঠে গিয়ে দর্শকাসনে কান পাতলে একটু একটু পাওয়া যায়। আজকে অতি ক্ষীণ হয়ে আসা এই গোষ্ঠিচেতনায় কুমোরটুলি, উয়ারী, রাজস্থান, এরিয়ান, টালিগঞ্জ অগ্রগামী স্রেফ ফুটবল দল মাত্র থাকে না , আমাদের সমাজজীবনের নানা খন্ডচিত্রের, শহর কলকাতার মধ্যে থাকা মানুষের আত্মচেতনার দলিল হয়ে থাকে। জাত-ধর্ম-জাতি-ভূগোল-ধন-অতীতের মত  আরো নানা পরিচয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গোষ্ঠী ও তাদের একান্ত ক্ষোভ-গর্ব-অভিমান ও এমন শত আবেগ-কে দিয়ে তৈরী বাংলাদেশের যে সমাজ চেতনা, ফুটবল তার এক প্রকাশ মাত্র। সমাজের
অভ্যন্তরের সংলাপ সেটি। তাই ব্রেজিল-কে লুঙ্গী পরে, আর্জেন্টিনা-কে সায়া পরে বাংলাদেশের সেই অন্দরমহলে ঢুকতে হত বহুকাল।  শত শত বার্সিলোনা-মেদ্রিদ-মিউনিখ-ম্যানচেস্টারের মিলেও অন্দরমহলের সে খেলা খেলতে পারবে না। স্পেনীয়দের নিজেদের দেশে কিন্তু বার্সিলোনা-মেদ্রিদ এমন-ই নিজস্ব আত্মচেতনার অংশ। কিছু খেলা, কিছু বোধ, কিছু মনোভাব, কিছু বিশ্বদর্শন একদম নিজেদের, একদম আসল জিনিস, একটুও বিনিময়যোগ্য নয়।  এই আসলটার একটা কার্টুন রূপ যে বিক্রয়যোগ্য, তা বিশ্ব-ব্যাপী খোলা বাজারের
ব্যাপারীরা বুঝে গেছে বেশ কিছুকাল । আজকের ব্রেজিল দল গড়ে ওঠে য়ুরোপের ভিন্ন ভিন্ন শহরের, জেলার, গঞ্জের আত্মচেতনার প্রকাশের নিশানী দলগুলির হয়ে ভাড়া খাটনেওয়ালাদের দিয়ে। ব্রেজিল ও বার্সিলোনা , দুই স্থানীয় মধ্যে যোগসূত্র বিশ্ব ফুটবল বাজারের কিছু পরিযায়ী পণ্য।

শ্বেতাঙ্গ থেকে শেখা খেলাকে আমরা নিজেদের করে নিয়েছিলাম – বিলেতের ফুটবল এসোসিয়েশন যে খেলার ঠিকাদার, তার সাথে আমাদের খেলার মিল বাহ্যিক। শ্বেতাঙ্গের তালে তালে ‘মানুষের মতো মানুষ’ হয়ে উঠতে আমরা আমাদের অন্দরের খেলাটির দিকে মৃত্যুবাণ ছুড়েছি। বিকিনি মডেল, চোলাই কোম্পানি আর মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল যখন তলে তলে এক দল হয়ে যায়ে , শেষের শুরু তখুনি। যে মৃত্যু গোষ্ঠ পালের বিষ্ঠাপুর্ণ মূর্তিতে মাল্যদান করে ঠেকানো যায়ে না। তাই অন্দরমহলে আনাগোনা লিভারপুল-ম্যানচেষ্টার-চেলসি দলের
নামধারী পণ্যগুলির। সদর দরজা এখন হাট করে খোলা। উঠোনের জাম গাছটির শিকড় আলগা হয়ে এসছে। এমনকি বট গাছটিও কেটে ফেলা হয়েছে – ৬ কাঠা জমিতে উঠেছে
যে বহুতল, তাকেই জায়গা করে দিতে। মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন নবসমাজের বিচ্ছিন্নতা একে অপরের সঙ্গে।  সামূহিক আত্মপরিচয় নাকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক আধুনিকতার পথে বিশাল কাঁটা, এবং বেশ ‘ব্যাকডেটেড’ ও বটে।  তাই নবসমাজের আভ্যন্তরীন সংলাপ নাই, সমাজ থেকে উঠে আসা খেলার দরকার নাই, আমদানি করা মাল প্যাকেট শুদ্ধ গিলে ফেলার মধ্যেই মুক্তি।  ব্যাক্তিমুক্তি।

সমাজ থেকে উঠে আসা বলেই বিভিন্ন স্তরে যে ফুটবল খেলা হয় নিখিল বাংলাদেশে। অন্ত্যজের ক্ষমতায়নের সাথে তাল মিলিয়েই উচু-জাতের মৌরসীপাট্টা নয় আর ফুটবল। তাই দেশীয় এলিটের দেশীয় ফুটবল এমনিতেও দৃষ্টিকটু লাগবে। যে কারণে দৃষ্টিকটু লাগে না টলিউড বা বলিউডের প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী-কলাকুশলী -নির্দেশক-প্রযোজকদের মধ্যে উচু জাতের, রয়িস খান্দানের মানুষের প্রায় একাধিপত্য।  সংবেদনশীল ফিলিমপ্রেমীরা তা দেখতে যান, প্রশংসা করেন, খারাপ বলেন। হলিউডিও-য়ুরোপীয় তুলনা দ্যান। এও এক
ধরনের সমাজের আভ্যন্তরীন সংলাপ।  তবে সে সমাজের পা কি মাটিতে ? সে সমাজের স্বপ্ন কি নিজের না আমদানি করা? সেই সমাজের লিভারপুল প্রেমের মধ্যে নিজের
পারিপার্শিক সমাজকে ঘেন্নার একটু গন্ধ কি নেই ?

কোনো কিছুই বিনামূল্যে হয় না।  কোনো না কোনো ভাবে মূল্য চোকাতে হয়। যখন চেতলায়ে কেউ হয়ে ওঠেন চেলসির ভক্ত, মল্লিকবাজারের কোনো বহুতলীয় তরুণের স্বপ্নে দেখা দেয় ম্যানচেষ্টার, তখন আমাদের আত্মপরিচয়ের ভিত আলগা হয়। অতীত ও সমাজ, দুই হতেই বিচ্ছিন্ন বাঙ্গালীকে তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গণমৃত্যুর কথা জিজ্ঞেস করলে শুনতে পাবো ইহুদী, জিপসী ও অন্যান্য শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠির নাম। ১৯৪৩-এ  ব্রিটিশ শাসক ও তার দেশীয় তাবেদারদের ষড়যন্ত্রে যে ৩০ লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছিল নিখিল বাংলাদেশে, মৃত শ্বেতাঙ্গদের সাথে তারা একাসনে জায়গা পায়না।  কল্পনা ও আত্মপরিচয় যখন সমাজ-বিচ্ছিন্ন, তখন সে নরসংহারের চিত্র উত্তরপুরুষদের জন্য রেখে গিয়েছেন যে  জয়নুল আবেদীন বা চিত্তপ্রসাদ, তাদের নাম যে চেলসির ভক্ত জানে না, তা কি খুব আশ্চর্যের? উত্তর-মনমোহন কলকাতা তথা বাংলায়ে সমানে চলেছে জাম গাছের শিকড় উপড়ে কিউই ফ্রুট খেতে শেখার গল্প। বিশ্বায়িত হওয়া মানে শ্বেতাঙ্গ মানুষের আত্মপরিচয়ের সাথে হাইফেন দ্বারা যুক্ত হওয়া। এটলেটিকো মাদ্রিদ ‘কলকাতা’কে নিলামে কিনে বানায়ে ‘এটলেটিকো ডি
কলকাতা’।  কালা মানুষে ধন্য হয়।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Colony, Dhaka, Elite, Kolkata

Playing the ‘poor’ card to criticise caste-based reservations / Pitting class against caste – a false dichotomy

[ Daily News and Analysis, 19 Feb 2014 ; Millenium Post, 19 Feb 2014 ]

There is the Congress, the outer Congress, the inner Congress and the inner-inner Congress. Janardan Dwivedi, a long time fixture at the Indira Congress, has is a member of the last circle. The sovereign who wants to push something unpopular also wants to know how deeply unpopular it is. One-way to do this is to make someone very important but not supremely important to say something that the party can distance itself from given the reaction is too harsh.  Debates around caste-based reservations, especially revisiting its principles, fall in that category.

The Dwivedi has opined that economic criterion and not caste-based criterion should be the basis of reservations. That the Dwivedi heart bleeds for all poor and not only the lower-caste or tribal poor is now out in the open. In an election year, the poor gain transient importance. The Indira Congress fancies itself to be everybody’s party and is fast becoming anything but that. Cryptic winks to savarnas,‘impromptu’ eating with Dalits, scaremongering at the minority ghetto, private aircraft travellers ‘mixing’ with rail-station coolies – all these are the bamboo poles that some people hope will hold up the Congress tamboo (big tent) at the elections. But let’s return to reservations.

Remember when Mayawati was building statues in Uttar Pradesh a few years ago? A predictable class was disgusted about the crassness of Mayawati building her own statue, as if this megalomania was unprecedented. It is not surprising that the same class choses to forget that the ‘Emergency’ Gandhi was awarded a Bharat-ratna during her own regime. To her credit, Mayawati did not suspend people’s right to life so that trains could run on time. Mayawati did not only build her own statues. People who did not know and did not care about the identity of these other statues nevertheless became oceans of empathy overnight. Overnight empathizers of Dalits precisely tabulated the amount of good that the statue money could have done to Dalits. Health-care, education, sanitation and much more – Uttar Pradesh has many needs. While all this is true, these timeless needs get spotlight only at specific times. The timing gives away the apathy that is dressed up as empathy at opportune moments. This was true about statues. This was true about the intense brainstorming and ‘out-of-box’ thinking about expansion and deepening of primary education that highborn thinkers did during their Youth For Equality protests. Ingenious recipes of making the pie sweeter were proposed to stall a fairer sharing of the pie. Well-timed love can couch much hate. Experienced serial abusers know this well.

Is there any substance in Dwivediji’s concerns? When someone talks about reservation on economic basis, he is saying that poverty in itself, irrespective of caste, is an impediment to equality of opportunity. That is very true. What wrong did the poor Vaishya boy do for which he is denied certain opportunities that a not-so-poor Dalit girl may get due to the reservation system as it exists? On the face of it, this goes against the principal of natural justice. But that is true only if the society is considered a unified one, as some fairy stories would want you to believe. It is not. Reservations do not create societal divisions. The divisions are pre-existing realities. The demand for reservations is a demand for rightful share of present opportunities given such realities. Savarnas and Ashrafs should be thankful that the ‘low-born’ are not demanding reparation or separate electorate, yet.

One may fantasize that we live in some post-casteist society, but this is simply not true. Given these pre-existing divisions, the empathy for the poor Kshatriya or Saiyyad and his lack of opportunities also has a solution. That part of the pie that is at present ‘unreserved’ (‘general category’ as the lingo does) and is openly competitive to all has to be modified to reflect economic reality. Rather than ending caste-based reservations, the hitherto unreserved opportunities (the ‘general category’ pie) ought to have reservation solely on the basis of economic criterion. The proportion of economic reservation in the general category must reflect the economic inequity in the general population. The question is not whether reservation should be for the poor or the lower castes. It should be for the poor and the lower castes, separately. What say, Dwivediji?

Leave a comment

Filed under Bahishkrit Samaj, Caste, Class

The Goonda first came for the Assamese / Gunday on the loose / The Bollywood Gunday threat against Assam and Bengal

[ Daily News and Analysis, 4 Mar 2014 ; Dhaka Tribune, 5 Mar 2014 ; Echo of India, 11 Mar 2014 ]

People in the Bengals use the word ‘Goonda’ quite liberally – to refer to anything between a naughty child to the local political thug. But in the eyes of law, who is a Goonda? One of its many legal definitions is to be found in the Control of Disorderly and Dangerous Persons (Goondas) Act (East Bengal Act IV of 1954). There is goonda is someone ‘involved in affray, rowdyism or acts of intimidation or violence in any place private or public so as to cause alarm to the people living or frequenting the neighbourhood’. According to the Uttar Pradesh Control of Goondas Act (U.P. Act No. 8 of 1971, amended by U.P. Act No. 1 of 1985), it is ‘generally reputed to be a person who is desperate and dangerous to the community’. But if film and artist communities in Assam and West Bengal have been protesting mischief and many young people in the People’s Republic of Bangladesh are disgusted at the false and mischievous retelling of its Liberation struggle, then the source of mischief can safely be called a Goonda, at least rhetorically if not legally. When there is more than one such public enemy, in Hindi they are called Gunday. Gunday are backed by deep-pockets whose ulterior projects are more extensive than the specific acts of mischief. More often than not, the Gunday of the real-world are mercenaries for other people’s projects, even part of broader, more sinister projects of which the employed Gunday may not be even aware of. The Gunday are as important as the people who dictate what Gunday does, how they do it, when they do it.

In the reel-world, ‘Gunday’ is a project of Yash Raj Films, a Bollywood centric entertainment behemoth. It is one of greatest flag-bearer of Bollywood Hindi films, that grandest by-product of ‘Indianness’. Some perverse people like me feel that the relationship is inverse – that ‘Indianness’ is a byproduct of Bollywood Hindi films, among other things. It is the thread that connects the browns to browns, with the punitive sedition laws at hand just in case some folks didn’t get the point. Whatever be the tall ‘diversity’ claims of the Indian Union, the cultural landscape after partition has a couple of winners (English being one) and a large set of losers. In the Indian Union, we all know that cultural and political clout of which language has expanded after partition, so much so that not knowing it is seen as a sign of being politically and culturally queer. This advancement comes with the retreat of Marathi, Kannada, Bengali, Assamese, etc. as playgrounds of cultural imagination and virtual annihilation of fecund tongues like Maithili, Awadhi, Brajbhasha, etc. It is not accidental that the most successful film industry is of the same language that receives the maximum preferential subsidy for its advancement. The subsidy to English in poor brown-land is a scandal of another scale altogether.

Let me not beat about the bush and come to the point. Gunday is a Bollywood Hindi film. For West Bengal, it was dubbed in Bengali. This make one, get many formula by dubbing into other tongues makes economic sense for the producer. But that also opens the flood-gates for this trend. The film and cultural community in West Bengal has protested against this. If using their mighty economic muscle, Bollywood producers can brow-beat distribution networks and cinema halls into showing such dubbed material, this will be an economic bonanza for Bollywood. Much black money will find greater returns but fledling non-Hindi film industries will fail ruin as they cannot outcompete Bollywood in black money, film volume and the cinema-hall blackmailing strength that comes with it. This desperate aggression was in full display in Assam where Rajni Basumatary’s Assamese film ‘Raag’ which was running quite well was removed by economic goondaism to make way for Gunday. Not too many films are produced in Assamese and when a good one is made with help from the Assam Film Development Corporation, this is the fate. Cultural diversity, even cultural competition, can only flourish in a level economic playing field. No amount of bleating about ‘unity in diversity’ changes that basic fact.

Let me describe a scenario. Dubbing my story and then forcing it down your throat using my economic muscle will slowly silence you. You wont be able to tell your own stories. You will have to adapt my stories. It does not matter if you have a long tradition of telling stories. Soon you may even develop an aesthetic sense for my stories, get alienated from your stories, from your people, look at them with curious eyes of an outsider. In short, I will destroy you cultural roots, replace them with mine and you will finally clap along the way. If that does not make me a Goonda, I don’t know what does.

The acts of some gansters have international manifestations. Gunday has chosen to parrot the official Delhi fiction of Bangladesh being a product of a brief Indo-Pak war. The people of that independent nation did not take that lying down. The producers have apologized. The Assamese can dream on. Pakistan has sought to protect its film industry by trying to restrict ‘Indian’ (read Bollywood) films. The states of the Indian Union have no such power, just like they do not have the power to protest the huge subsidy and preference given to one desi language. Apparently, this language ‘unites’. We know how this unidirectional unity works. No Assamese film will be dubbed in Hindi and released to multiplex audiences in Delhi and Mumbai. Not in this nation state. If slow but sure annihilation of certain cultures is a pre-condition to some kind of a ‘national integration’ project, then that nation is an enemy of those cultures. It is up to the Indian Union to decide what integration project it wants to promote – a predatory one or a harmonious one. It is up to you, the viewer, to ask whether your film ticket is filling a goonda’s pocket.

 

 

1 Comment

Filed under Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Hindustan, Kolkata, Language, Nation, Pakistan

Woody Allen and the halo of art

[ Millenium Post, 13 Feb 2014 ; New Age (Dhaka), 14 Feb 2014 ; Echo of India, 17 Feb 2014 ]

Browns are peculiar in being invested in what can only be a firangi-appreciation disease. Woody Allen is a famous Jewish-American actor-director and author. He is quite an idol to many people. They like what he films he makes, what he says, and often nod at what they think are ‘deep’ statements on life itself. Recently, he has denied the allegations by his daughter that he had sexually molested her when she was 7. She describes the sickening details and bit-by-bit the pretension behind the awkward, bespectacled one comes apart. When such idols are exposed, the reaction of idol-worshippers are a good clue to how sections of society are happy to look away from the sins of one person, if they like some other aspect of the person. Whether these aspects are different from each other is a different matter.

Somehow, some of those who think they are specially qualified to appreciate the ‘arts’ often create an exception for such idols. They would happily separate the ‘artist’ from ‘other’ aspects of his life. That this is a prejudiced stance can be shown by a related example. There may be something, say trade union activism, in which the ‘artsy’ ones may have no interest. Now, if the trade union activist is a regular wife-beater, then of course, the wife-beating aspect clouds all other things of the trade union activist. If anything, one would be doubly condemned for their pretension of trade unionism while doing such dastardly things at home. Some acts cloud everything else you do, as they should, unless of course, you happen to be an ‘artist’ or a ‘creative’ person. Then, as we say in Bangla, it is ‘shaat khoon maaph’ (forgiving seven murders). World over, there have been too many people from the film and literary world who have associated with such ‘creative freedom’ so that they are revered years after being exposed as sick creatures. Their fan base remains loyal. The romanticized notion of the ‘alternative’ and the ‘creative’, things that untutored plebians don’t understand, helps create the society of ‘alter-creative’ lovers. This gives many of them a bloated sense of exclusivity, refinement and understanding, and is crucial props to their notion of selfhood.

In the case of the ‘artist’ or ‘creative’ person, people defend him as if his ‘intellect’ and ‘creativity’ comes from a different mind than from where his ‘personal traits’ arise. The long leash these elements get, because of ‘creativity’, is shameful. This is what allows such elements to regularly prey on younger ones. Some artistic people have ‘special tastes’. Society should try to understand, I guess, and let them carry on. They are eternally ‘misunderstood’ or society-at-large is not ‘ready’ for the kind of ‘rebellious’ alternative’ lifestyles they lead. Surely, in their ideal world, perverted religious leaders, who are often rightly condemned for sexual perversions, are to be vilified while these art-types are to be glorified. But broader society does not see the fine differences between different sets of the Emperor’s new clothes. That must be because they are unrefined and cannot appreciate the true genius of the ‘creative’ ones. By refusing to put the ‘creative ones’ at the same pedestal as the other molesters, if we are to not take the allegations against an alleged paedophile seriously, then we, as a society, are in trouble. If our first instinct is one that disbelieves the victim, then we better look back at our belief system and the value that it accords to certain forms of creativity. If there is a place for benefit of doubt, I think, it should go to the survivor who was bold enough to speak up.

What is educational in the reaction of certain fans are the differential standards / burden of proof, when it comes to regular sexual perverts vis-a-vis these ‘creative’ ones. The fan either says that the ‘creativity’ and ‘personal life’ have different sources, or is simply in denial, saying they cannot believe someone so ‘sensitive’ and ‘creative’ could have done this. In the latter case, the exposure to ‘ creative work’ of this person clearly has something to do with the over-all assessment of a person. In this schema, the public creativity is deemed to be an expansion of the ‘personal self’. This is all good during adulation. But when the times are rough, the watertight non-communicating public and personal schema rules the roost. That is all very convenient as we often chose what we want to continue to believe. Nobody likes to see heroes fall, especially when portions of their brittle selfhood are derived from hero worship.

However disturbing may be its implications, at some point, one must recognize that a human being is an organism whose private is in communication with the public, each shaping the other. The one who writes also does the molesting. It is not a monster-self that molests and the gifted-self that writes. Some blind-fans would actually try to have it both ways by insisting that some forms of giftedness actually has monstrosity as its Siamese twin – there is surely no limit to excuses and white-washing. It really is up to the ethical choice of the audience, with an appreciation of human dignity, the ‘refinement’ that really matters, as to what kind of ‘creative’ human being would they like to engage with. I would like to believe not all artists are sick and just may be that the world wont come to an end if sick people’s ‘creativity’ lost popularity preferentially.

There is nothing inherent in art that would attract only the deranged and perverted to it. Art lives among people. Most artists are regular folk who live everyday lives. Most male artists – one the street, on the bus, in their not-so-rich homes live family lives. Some people may romanticize mental conditions as well as the fame associated with some male artists. That is part of the aura the older male artists develops and only a few succumb to in response. Given that we live in a society on unequal power relationships, in ‘relationships’ between people starkly different in age, fame and money, we typically know who is the male and who is the female- and it says something about them. Thankfully, not everyone is looking for a power trip and not everyone is looking for a celebrity trip. If the idea of alternative rebelliousness were more often than not a power trip for a rich old celebrity male, then I would count myself out of that ‘sexy’ alternative rebellious world. As for who cares, all well-wishers, parents and family of victims care. The world, thankfully, is still not simply a society of atomized individual, whose goal in life is to seek experience and pleasure, without heed to the power inequities that define the world.

The more crooked one is, the greater stake they have in perpetrating the notion of a world where anything goes – for everything is in ‘shades of grey’, that the world is nearly bereft of general goodness, however defined – and there is a general moral ambiguity all around. There are too many good people who are not counted and this probably has something to do with the kind of people who do the agenda setting – probably trying to cover their misdeeds, by putting everything into a morass of relativism. We have to seriously expand the ambit of the aesthetic and the beautiful. That can only expand life experiences. Then the rigidity of overlooking the sick will probably not hurt as much as it does now. Of course one has the right to appreciate and oppose simultaneously. But would such compartmentalized (if that is possible) appreciation jeopardize the opposition, given that opposition is a public political act (and not some private state of mind), especially given that ‘creativity’ can draw from various sources, including those from which the sickness/perversion arises?

There is a different question here that cannot be pushed aside. Why does it seem that the ‘creative’, ‘artistic’ types are much too often at the centre of such allegations? This is probably because, art and creativity, only when narrowly defined by powerful and their worshippers, produced such skews. This serves these people well and they would like to make art and art appreciation a non-mass thing that requires arbitrary yardsticks of immersion and engagement. The truth is most of the world aint sick and the world is full of art. There is a huge world out there for the rest to avoid paedophiles and other sick species, and still maintain a very rich conception of the aesthetic. The problem is not simply about liking some tarnished person’s ‘art’, but about the blind fan’s instinctive defence of the artist, when some disturbing facts emerge. At that point, a choice arises and the result of that choice making might be informative. To barge or not to barge into the bedroom of a paedophile or a rapist who ‘creativity’ one appreciates is a choice one exercises. This can be an ethico-moral choice for some or there can be a policy of separating art from the artist. That choice that would be exercised by someone would be a reflection of how much that person values what over what at what cost.

 

Leave a comment

Filed under Class, Elite, Gender, Scars, Sex, The perfumed ones

Is this the Bangladesh we wanted? Analyzing the Hindu Population Gap (2001-2011)

[ Alal o Dulal, Apr 2014 ]

Garga Chatterjee and Naeem Mohaiemen for AoD

In October 2012, Prothom Alo published a frightening report that stated, in plain words, that over the last decade (which spans a BNP, an AL, and a Military “CTG” government), the Hindu population of Bangladesh has dropped dramatically and continuously. We at Alal O Dulal are a group of editors committed to a secular Bangladesh. At the same time, we are mindful that “secularism” has become a politically inert, and semantically complex, category, often providing cover for a political party’s other follies (the sentiment here can broadly be categorized as, “at least they are secular”).

Since the publication of the PA report, the editors of AoD have been having a series of discussions on what these numbers mean for the future of Bangladesh. We believe secularism cannot be enforced by force, certainly not through the barrel of a gun. A process of domination, subjugation, and political nullification of oppositions in order to “defend” secularism is dangerous. Instead of producing secularism as a normative, naturalized, and lasting category, it reinforces the perception (internally and externally) that secularism can only be defended by force. This, in the long term, weakens secularism.

Neither of the two main political parties (the AL or the BNP) have made secularism a priority, using it mainly at the polls as a strategy. A common perception that minorities were safer under an AL government, prevailed for a while, benefiting AL in a number of past elections. Riots instigated during the twilight of Ershad era, or the anti-Hindu backlash carried out after 2001 election victory of BNP-JI alliance, or the more recent anti-Hindu violence in 2013, are highlighted to support this view. We have done such highlighting ourselves in our past activist work (at Alal O Dulal, at Drishtipat, in the pages of Daily Star, New Age, Prothom Alo, and Dhaka Tribune). Our own personal political commitments have also been guided by a belief in secularism and therefore in opposition to parties that do not take a public secular stance. However, events of the last four decades prove that minorities have fared poorly under every government.

There is also the concern, in 2013, that our national politics has been degraded to such a degree that attacks against Hindu community may even be deployed as a “false flag” operation, giving a cover to target the opposition parties as the presumed protagonists of these attacks. It is difficult to believe such a scenario, but it is difficult to entirely ignore the troubling evidence.

Indeed, the BNP and Jamaat are usually presumed to be the protagonists of these attacks according to the media. However, the post-Shahbag/Shapla murky political landscape of Bangladesh forces us to ask ourselves uncomfortable questions. One question we have been asking ourselves is this: Since the Jamaat is currently hamstrung by the negative backlash it faces due to its role in 1971, and the BNP faces the problem of its alliance with Jamaat, who benefits at the present time from these attacks? What is the benefit to the Jamaat (or BNP) to attacking Hindu homes– a move certain to result in widespread national and international backlash against these two parties (as has happened). Recall that the 2001 attacks happened after BNP-Jamaat were solidly in power, and presumably considered themselves invincible. But the attacks of 2013 happened when that coalition was out of power and in fact on the defensive (in spite of public posturing)– the recent announcement that BNP would not undertake any long campaigns until they get the party (http://www.dhakatribune.com/politics/2014/apr/09/bnp-wants-overcome-frustration-first) shows the party acknowledging its (http://www.dhakatribune.com/politics/2014/apr/11/question-bnp%E2%80%99s-existence-ignites-debate) current weakness, and the tenuousness/controversy of its alliance with Jamaat. In this weakened scenario, why would that alliance, or its subsidiaries, carry out attacks on Hindu homes– an event that would surely create backlash and condemnation against the party?

A few newspaper reports have reported that, in at least some of the cases, ruling AL party affiliated activists were either involved in the attacks, or fomented them, or stood by while they happened . We at Alal O Dulal do not have the resources to investigate these reports further, but an independent, neutral probe body must look into these issues. These reports, mostly falling into silence since they do not match a national liberal-secular script, have reminded us that 2013 is not the same as 2001– when the BNP election victory saw widespread attacks against the Hindu community, and a (http://www.dhakatribune.com/law-amp-rights/2014/jan/24/judicial-commission-finds-bnp-jamaat-involved) probe found BNP-Jamaat involved. At that time, some AoD editors worked actively to rehabilitate victims of one such attack in the village of Annadaprashad– as members of the diaspora activist organization (https://groups.yahoo.com/neo/groups/mukto-mona/conversations/topics/8110),Drishtipat. But in 2014, we find a complex situation where minority communities are surrounded by both hostile forces and “friends” who use them as chess pawns.

In his introduction to the investigative book, Ramu: Shamprodayik Shohingshota Shongkolon<, Barrister Barua shares how communalism is a cross-party, indeed pan-Bangladesh, phenomenon:
“In my professional life I often have to face a different kind of communalism. Instead of feeling pride in my achievements often I am made to feel embarrassed by trivial things. In 2001 when on the occasion of being inducted into the Dhaka Barristers’ Association I went to a courtesy meeting with committee, the Awami League backed Chairman, on examining my educational qualifications, commented,“I see that all your degrees are from India, so why didn’t you stay back there?”

Does the Chairman not know how many of young men from the majority religion go to India every year to obtain their degrees and how many of them choose to stay there? After almost nine years of studying in England when I returned home in 2011 and was interviewing for the post of the lawyer for Dhaka City Corporation, North and was asked exactly the same question by a teacher from Dhaka University, I realized that the country hadn’t moved ahead much from 2001, at least in terms of communal thinking.

Beside these, among the communal words that we hear or use often but pretend to not to notice are: the use of the word “Babu” to address to someone, to call someone “malaun” or “nere” (shaved head) despite deep friendship whenever we lose an argument with them. In recent times the Awami League leader Suranjit Sen has been a major victim of this sort of things. The roots of these ugly words go so deep that it is not easy to uproot them. On top, we have gotten so used to hearing these words that we are no longer shocked by them. But, in the words of Tagore, whether this acceptance is true acceptance is rather doubtful.

In my opinion the fact that there is no law regarding this is a contributing factor as to why we aren’t able to come out of this. The time has come for us to think about introducing an anti-communalism/anti-racism law in our country. In many countries of the world there are effective laws regarding this and these laws are implemented. If we had a similar law in our country that would help in increasing communal harmony. At least it would somewhat alleviate the everyday harassment that minorities have to face in the country.” (excerpt translated by Tibra Ali)
***

How gholate(murky) is our national politics that we need to consider seriously the allegation made by some newspapers, that attacks against the Hindu community may also have been deployed by the party that represents secularism, as a “false flag” operation to blame the opposition? The water is very muddy by now.

Meanwhile, the opposition BNP also continues to have a party position that is silent on support for secularism as state policy. Other than a few pro forma responses denying responsibility for these attacks, we have not seen the BNP take any strong stance for secularism. This party also uses this issue for their political advantage (no doubt some party stalwarts will take comfort from the fact that we have indicted AL equally for this issue– but again, this is simply about one party getting an advantage over another, neither party is sincere on this issue).

In this situation, where will those outside of majoritarian, Bengali, Muslim, domination-subjugation identification go for political support? They are homeless in Bangladesh.

We should also point out that, in academic discourse, “secularism” is now a vastly debated term. What it means in 2013 is not what it meant in 2001. There is a sprawling body of work and debate on this, but without delving into that, we at AoD define “secularism” as a safeguarding and guaranteeing of all non-majority communities’ political, economic, and cultural rights.

Secularism, in our view would be an embedding set of national policies which would ensure full, deep, and representative presence of such communities in all national spaces. It would foster the implementation of “affirmative action” policies that would ensure representation of these communities to counterbalance decades of under-representation and marginalization. At the same time, we caution that such policy cannot take the forms of current cynical political practice, where representation of minority communities in economic and political life is simply used as a political tool to ensure visible “loyalty”– those are policies that benefit, as with many things in our politics, party not people.

Let us take a longer view. Analysis of the Enemy Property Act (later the Vested Property Act) shows that both AL and BNP, when in power, have used this to grab minorities land. Abuse of state power to grab land from minorities, in fact, appears to be the only constant–on this issue, both major parties are on the same wavelength when it comes to grabbing minorities properties and land.

Every government has used the minorities for political gain, yet nobody has truly been on their side. In the end, no political party truly defends the rights of minorities, perhaps with the exception of small left parties who are sincere at the grassroots, but weak at national electoral level.

After the PA report, AlalODulal published the post (http://alalodulal.org/2012/10/02/hindu-2/)Final destination and quoted Afsan Chowdhury’s words. We at AoD shared his anger and shame and feel it’s appropriate to quote, again, his cuttings words: “After all the words are spent, what remains behind is the shame. We have allowed this to happen again and again (http://opinion.bdnews24.com/2012/10/01/ramu-when-shame-is-not-enough/). We didn’t need a new version of old Pakistan. Bangladesh was to be the exact opposite but thanks to inefficiency, corruption, bigotry and religious excess, we have failed to build a state we could be proud of. For us there is only disgust. On behalf of all who accept what we have said, our sincerest and humblest apology to the people who have suffered in particular and to all minorities in general.”

And of course we must nod toward the late Humayun Azad, who passed away from complications six months after he was brutally attached outside the Book Fair. He coined the phrase “Is this the Bangladesh we wanted?”

Over six months in 2013, a group of independent researchers have been looking at the data cited by Prothom Alo, from Bangladesh Bureau of Statistics (BBS). They have shared it with AlalODulal, for wider dissemination. In a web exclusive we publish those research results in excel data form (go to article end  for link, if quoting these results anywhere, please cite “AlalODulal.org”).

***

Research Summary:

1. In the 2001 census, the total Hindu population was 11,608,268. The annual population growth rate was 1.37%. According to the published research in the Prothom Alo, by 2011 the number of the Hindu population should be 13,200,000. But in BBS` 2011 census report the actual Hindu population is 12,299,940. The gap amounts to 900,060. This is the missing Hindu population.

2. The study of the Prothom Alo had one limitation. BBS adjusted its census and its 2011-data of the Hindu population in 2012 including data of the Bangladesh Institute of Development Studies (BIDS) that were assigned for the post-enumeration check and that found 3.97 percent people were left out in the first count. Now, the actual number of the Hindu population in 2011 is 12,789,113. Considering the total Hindu population in 2001 and the annual growth rate of 1.37% the predicted number in 2011 should actually be 13,337,065 people. This means that the decrease of Hindu population would change to 547,953 (instead of 900,060). The adjusted figures data from the IRC data sheet on the population change characteristics of Bangladesh between 2001 and 2011 have certain important features.

3. To discover that the decline in Hindu population is 0.5 million, instead of 0.9 million is of little comfort. This is still a very large number and confirms the worrying trend of continuous decline.

4. Even on the adjusted numbers, there is a shortfall of 0.5 million Hindus from what would be predicted using the rate of growth of population in the decade. Unless there has been some drastic and unexplainable change in Hindu fecundity rates or large-scale conversion to other faiths (both of which we consider unlikely as explanations), the reason for this shortfall has to be explored. Prima facie, this represents the net Hindu emigration out of Bangladesh in that period. The real population growth of Hindus of Bangladesh between 2001 and 2011 was 1,148,769 (using the adjusted figures). The gap between predicted growth and actual growth is 547,953.

5. Assuming that the 1.37% annual growth in Hindu population did happen (dismissing drastic fecundity /death rate/life expectancy/conversion explanations), something around 547,953 Hindu individuals of Bangladesh origin exist, somewhere in the world. To make sense of these numbers in some other way, we can state that in the 2001-2011 decade, for 1696721 new individuals added to the Hindu population, 547,953 have left the country. That is about 1 person leaving the country for every 3 persons newly added. This is a shocking statistic.

6. Family planning depends on the long-term plans of the family – which also includes the stability of their present state, including stability of homestead and source of income. While we think that low birth-rates cannot explain a deficit as large as 547,953, it is well known that a sense of security and long-term stability affects birth-rates in a community. For example, the birth-rates of Kashmiri Pandits, after their displacement from the Kashmir valley, have taken a drastic hit. Numerous studies document this.(http://www.hardnewsmedia.com/2009/03/2679 ). It is not improbable that a small proportion of the ‘missing Hindus’ were not actually born.

7. What is the geographical distribution of the deficit and does that tell us anything? Some districts have actually registered a net decrease in Hindu population in the 2001 to 2011 period. There are 9 such districts. Most of these 9 districts form a near-contiguous belt – Bhola, Barisal, Jhalokathi, Pirojpur, Bagerhat, Narail, Gopalganj and then Rajbari and Manikganj. What does this strong geographical concentration of the districts actually registering a net Hindu population decrement in 10 years tell us. Some of these districts (Bhola being the most infamous example) have been sites for serious anti-Hindu attacks. It may also be useful to note that in 2001 the BNP-Jamaat won all seats in Manikganj, Bhola, Pirojpur, Jhalokathi, Barisal and Rajbari. But Gopalganj, the ultra-identified borough of Awami League is also in the list. Hence this precludes any clear explanation in terms of local party domination, though one cannot rule it out as one of the out-migration factors.

8. Studies  which also look at the volume of ‘enemy property’ in different districts in terms of number of affected families, percentage of Hindu families affected and correlating that with the percentage of Hindu population change would be useful to trying to find out the reasons behind the ‘missing Hindus’ of Bangladesh. For example, see this 2009 ( http://archive.thedailystar.net/forum/2009/february/our.htm )summary of Abul Barakat’s research. Here are some key statistics from Barakat’s research:

a) Households: 43% of all Hindu households (1.2 million) have been affected by EPA/VPA. 57% of households that lost land lost an average of 100 decimals. Survey data shows 33% of affluent Hindu families lost land due to EPA/VPA. 50% of affluent households had at least one close relative who lost land

b) Total Land: Total area of land lost is 2.01 million acres, which is 5.5% of Bangladesh’s total land mass but 45% of land owned by the Hindu community. The research shows two numbers: one is the impact on Hindu community as measured by the official land records, the second is the impact as measured by survey data. The survey data shows 22% more land loss (2.6 million acres) than official records. The type of land lost is typically agricultural, homestead, pond area, orchard, fallow land, etc.

d) Value: Assuming average market price of land as seen in the year 2007, total value of land lost is Tk. 2,416,273 million (Tk. 3,106,636 million from survey data).

e) Sale Value: Even if land is being lawfully sold, the price of Hindu-owned land is reported as Tk. 900,000 per acre, as compared to Tk. 1,500,000 for similar Muslim-owned land

f) Methods of dispossession: Influential parties grab land in connivance with Tahsil and Thana Revenue Office, Tahsil and Thana Revnue Office itself grabs land. Death and/or out-migration of one member of a Hindu family is used as excuse to enlist the whole property. Influential parties grab the land by using violence, local thugs, and forged documents. Influentials allure sharecroppers to occupy land, and then become eventual owners, etc.

g) Accompanying harassment: Harassment that accompanies land-grabbing includes obstruction in casting vote in elections, obstruction in harvesting crops, workplace intimidation, property destruction, eve-teasing, looting, robbery, obstruction in shopping, extortion, etc.

h) Political affiliation: Barakat’s research also shows that grabbers try to change their political affiliation with each change in government. We can conclude that either party affiliation is switching after change of government, or ownership is switching from one party affiliate to another.

9. For those looking to one party or another for a solution, note that this drop has happened in both AL and BNP period. Unless there is an united political push to protect minorities and to give them full rights of a citizen, neither of the two parties will be able to reverse this trend. Where would this trend lead to? This statistical analysis has some shocking pointers. As Dipen Bhattacharya wrote in an earlier op-ed for Alal O Dulal:
“Until a few years ago, I believed that even though the Hindu percentage was declining, the absolute number of the Hindu population was increasing and would continue to increase. However, the truth is <strong>bitter and it’s statistical. It seems the trend is for negative growth numbers. For the next forty years or so, we might expect to see the Hindu population drop from a high of 13 million (in 2011) to 10 million. Whether the population will plummet drastically after 2051 is a matter of speculation. But for all practical purposes, the Hindu community will stop being a major participating community in Bangladesh. If the country stabilizes its population at 250 million, then an estimate for the Hindu number for the year 2101 could be as low as 3.75 million.

Among several explanations of  the low growth rate are (i) mass exodus to India, (ii) the disruption of the family structure and (iii) the willful underestimation by the the Census Bureau. Some say the migration to India is for better economic opportunities. Even when the existing religious bonding favors the power structure, some explanations comprise “land-shortage” and “land-grabbing” as if those words could take away the inherent religious bigotry that is present. They fail to see how – without any access to the existing power system of the current Bangladesh society – vulnerable the Hindu population is. Soft and hard intimidation, extortion, threat to family structures, illegal occupation of property, and looting and burning of households and temples are sufficient to have this population scurry across the border. The Hindus migrate to India because their lives are made unbearable through various means in Bangladesh. (http://alalodulal.org/2014/01/09/statistics/)  (The Statistical Future of Bangladeshi Hindus )

Meanwhile Ali Riaz came to this conclusion in 2012:
“Take for example the issue of the dwindling Hindu population in the country. An examination of the census data of the composition of religious minorities since 1901, led me to conclude in 2004 that there is a massive out-migration of the Hindu population: about 5.3 million in the preceding 25 years. The Hindu community in Bangladesh has been weak owing to its lack of access to resources and hence has never been able to mount resistance to the institutional persecutions faced. This has left Hindus with no choice but to relocate. In 2001, for example, a large number of Hindus from three districts (Barisal, Pirojpur and Bagerhat) initially moved to the neighbouring Gopalganj district in search of a safe haven. In the absence of a potential haven nearby the persecuted Hindus decided to cross the border. The porous border between Bangladesh and West Bengal, not to mention the cultural and historical ties between these two parts of Bengal, helped the intended migrants to move to the Indian state. Some returned later, but some didn’t…

The census reports of the past 60 years show a steady decline of the Hindu population. This decline is not consistent with the population growth rate of the country. For example, the population growth rate was 3.13 percent for 1961-1974, 3.08 percent for 1974-1981; 2.20 percent for 1981-1991; 1.58 percent for 1991-2001; and roughly 1.34 percent for 2001-2011. It cannot be ascribed to low Total Fertility Rate (TFR) of the adherents of Hindu religion. Even if one takes into account that the TFR among Hindu women is estimated at 13% less (estimate is based on recent contraceptive use rates) until 1991 and 15% after 1991, the average annual growth rates of the Hindu population would have been 2.72 during 1961-1974, 2.68% during 1974-1981; 1.92% during 1981-1991; 1.34% during 1991-2001, and 1.14% during 2001-2011.

If we factor in these assumptions and reconsider the government statistics, the numbers change drastically. By 1991 the Hindu population should have reached 16.5 million as opposed to 11.16 million recorded in census data. The rate of the missing population has increased in the past two decades. The current Hindu population, 13.47 million, is far short of the number one should expect based on population growth rates. The decline of the religious minority community is matched by the increased use of Islamic icons and symbols in political rhetoric, not to mention deletion of secularism as state principle and official designation of Islam as the state religion.”

Full data, with district wise break up on Hindu and other populations and detailed tables are available at Alal o Dulal :

http://alalodulal.org/2014/04/12/hindu-population-gap/

1 Comment

Filed under Bengal, Dhaka, Partition, Religion, Terror

A khidki into our minds / Khidki opens a window

[ Fountain Ink, April 2014 ]

Thanks to the mid-night anti ‘drug’ and ‘prostitution’ activism by the erstwhile Delhi law minister Somnath Bharti, the Khidki Village in Delhi had suddenly shot into prominence in the subcontinent and beyond. Many from New Delhi and elsewhere, who had barely heard of this place, descended upon the area in the aftermath of the ‘racist vigilantism’, to see the ‘backward’ brown creatures that inhabit that area. They wanted to see the village that lives up to its ’village-ness’, tucked in one of the armpits of the ‘cosmopolitan’ NCR metropolis. The Khidki village is older than all the malls and multiplexes of the NCR, older than all the universities of ‘New Delhi’, older than the nation’s bequeathed capital ‘New Delhi’, older than the nation, older than the idea of the ‘national’ and for that matter older than the ‘idea of India’. For all its antiquity, yuppies who claim to have a thing for brown heritage would much rather live in some sector of Gurgaon or Noida. Who wants to live in ‘Khidki village’? You know how that sounds, especially the derogation with which names like Khidki village are taken.

Outsiders (the non-village kind) from New Delhi refer to it as an ‘urban village’ (the inhabitants simply call it their village). There is a certain hip-ness that comes with the ‘urban village’ tag as it prepares the ground for using the area as a creative arts canvas by hip folks whose dads wont allow their own ‘authorised’ neighbourhoods for similar ‘creative’ projects. Khidki village and its extension have yet not earned the ‘hip and cool’ tag associated with another similar largely ‘unauthorised’ village agglomerate in Delhi called Shahpur Jat. This one has excelled as a haunt of White foreigners and brown yuppies with disposable cash. ‘Creativity’, ‘experimentation’, ‘urban village’ – brochures are full of these terms, marking out a niche as a social calendar hotspots. The elite’s ‘art’ studios feeding on low rents and insecurity of ‘unauthorised colonies’ bloom here. The inequality helps stretch the urban canvas – creative ‘arts’ indeed.

But I digress. The residents – they live there. They call it home. They have been calling it home much before six other villages were destroyed to make way for what is the New Delhi of the Union of India. Some people have roots, live in communities and do ‘come into their own’ with the fashionable beam of ‘urban anomy’.

The Khidki extension episode about Aam Aadmi Party minister Somnath Bharti’s nocturnal activism over ‘drugs’ and ‘prostitution’ has made monsters-at-large out of the minister and the complaining people of Khidki village. In circles whose voice comes most alive in European jargon, this has been called the cheap politics of ‘othering’. Worse displays of animus against African people have happened through cases of outright violence and at least one instance of vilification by a Goa minister. ‘Liberal India’ has typically swung into damage control mode. This damage control has included round after round of sanctimonious condemnation of racism against African black people. Television media knows its constituency of self-congratulation well and has followed it up with various talk shows themed around various versions of the question ‘Are we racists?’ and has invariably concluded that some bad apples are. And have added ‘I love you’ notes to Nigerians, at the end of such shows. Such shows also discuss the racism faced by desis abroad. The racism that uppity NRI desis show in their promised land and many desis show in the subcontinent can only be matched by the alarm that raised when some relatively elite brown gets paid back in the same coin in some white land.

With upward mobility for a section of the metropolis janata and the Indian Union taking a ‘greater role’ at the world stage, more of these people have white friends and acquaintances than ever before. Just when elite desis and their known whites seemed to have reached non-racist nirvana – imagining themselves as part of some universal brotherhood of idea, commerce, commodity and romance exchange, the prejudiced desi hordes are letting this emancipated side down. This is the source of embarrassment. Not themselves, but those who share their skin colour and give the whole team a bad name. During the British Raj, this embarrassed class of browns was quite well known and did well for themselves by distinguishing themselves from the ‘uncivilised’ loathsome browns. The overall rising tide of anti-colonial sentiment made such embarrassment less fashionable for sometime. Post 1990s, the sharp rise in the petulance/anger of brown consumer elites with racism they face abroad is matched by their condemnation of racism at home. This is one real contribution of GDP growth and ‘international“10 ization’ of commodity markets. With India rising and shining alongside the white world, in malls and tourist destinations, commercial and academic engagements, and anti-colonialism being passé, the time is ripe for more public display of embarrassment. The audience for this is the white World and self-image the desi liberal has created for oneself and almost believes in. They would hate to be confused with other browns.

But then, talk is cheap. The backward browns have shown their true colour through explicit racism that makes liberal, our homegrown ‘world citizens’ shudder. But what about things that are implicit in patterns of behaviour? Those are harder to track down but when done, do say a whole lot about the people practicing it. Their own displaying prejudice explicitly can be called out for it and asked to change, or at least reassess, their positions. But what about those whose public lives are epitomes of ‘ultra-liberal’ posturing peppered with condemnation of the ‘backward’ while implicit in their behaviour are exactly the for which they publicly bad-mouth the ‘backward’ every day? When you have such a class lecturing the prejudiced at every opportunity, the result is a farce of a poor quality. The farce needs to be exposed for what it is – too many people enjoy excellent views from the moral high ground that they occupy undeservedly. Too many are condemning the ‘backward’ by standing on self-constructed pedestals.When we are all naked, and the ‘liberal’ gives up the pretension of wearing ‘ultra-fine’ clothes, we can start talking truth. We can have a dialogue. We can be embarrassed or not, for what we are – irrespective of whether white people are watching.

What constitutes the ‘world’ of the ‘world citizen’– the world is mentally, if not physically located in a temperate zone OECD white-Caucasian country, given that not much of the world fits that description, the extent of the mental world of the world citizen is not so big after all. It is hard to map out the mental world but some things can give us certain clues.

The ‘free choice’ that these brown ‘world-citizens’ in matters of marriage, romance and sex can be revealing. With increasing number of non-browns coming to the subcontinent and a correspondingly increasing number of browns going to ‘foreign’ countries, there are some foreign-brown marriages that happen. That’s all good. Now close your eyes and picture such a couple. There are many such ‘cute couples’ now. Note the colour of the ‘foreigner’ in the frame. Most likely, it is not someone African or Afro-American. The ‘cute’ or the ‘angelic’, sadly is from the same races whose mental worlds have shaped the world-view of the brown liberal – typically French of Anglo.

One in eight Americans are black. More than one in six are non-Whites (including Latinos, not including other browns). Now think of some people you may know or you may have heard of, who have married Americans. Normal human interaction without any colour prejudice or special colour affinity would have resulted in one in six such marriages being with non-Whites. Is that the case? Hell no. Is that the case even among those who would declare that in their post-racist world, love runs blind? Hell no. If you ask them individually, they would have said that their own White choice is ‘incidental’. It could have been someone black. Just that it hardly ever is. Their non-prejudiced ‘choice’ is so predictable, that it takes away all suspense. Many such individual choices hide behind the mask of politically correct speech. This closely parallels the marriage choices of the ‘I don’t believe in caste’ types. Individually, they would burn the sacred-thread (if a male) and/or denounce the ‘caste system’. Just that their life choices speak louder than their speeches and posturing. The cosmopolitan Savarna liberal usually leads a schizophrenic existence.

Let us come back to the subcontinent. Darker Africans have been coming to many parts of the subcontinent in recent years. A large number of them are students. ICCR has offered 900 specialised scholarships for students from African countries. There are more than 10,000 African students in the subcontinent and the largest chunk is in the institutions of NCR. Incidentally, African students consider Kochi, a city without the intellectual pretensions of New Delhi, very safe. There are thousands of Nigerians in the NCR. As for the students, we are talking of very meritorious ones, many of them studying in significant numbers in the NCR’s most premier institutions. But when it comes to campus-coupling of browns with foreigners (especially in vogue among liberal circles of elite institutions), whites rule the roost. The students from Africa may study advanced biology, Kathak dance, journalism, architecture, literature, history, sociology, urban planning, gender studies and many other things, but they are no match. I stress the liberal and elite bit, as these are the spaces from where the shrillest chants against racism typically come, along with pronouncements that they stand above differences of race, caste, colour and such things. For the ‘radical’ and ‘liberated’, neither the African nor the East Asian students do not forms a part of their desirable cohort, for purposes of campus romance or intimacy. Those from Manipur or Nagaland are also similarly excluded, always spoken on behalf of, by the predictable crowds. But when it comes to ‘desirability’ and ‘companionship’ as equals, other aliens matter. Whites win hands on. The white on campus will have an inordinately long line of droolers. Desirability is as much about how one’s views oneself as it is about the desirable one out there.

What is the source of such desire and skewed choices? Doesn’t it have something to do with fantasies tied with the awe that power evokes in certain minds? More often than not, it comes from a weak bond with one’s living environment, developing into a hatred of things associated with one’s own community. This journey away from the self is couched in the celebratory notion of ‘liberation’ – a journey involving progress towards a universal human ‘love-in’. That suits white Caucasians on campus very well, to find suddenly themselves in the enviable position of being able to punch way above their weight. It does not matter who approaches ‘first’ but the white in skin is acutely aware of his/her ‘market value’ in postcolonial lands, especially among the tribe of those with brown bodies with culturally illiterate, trying-hard-to-be-white minds. This state of thing makes it relatively easy for the gora who only has to show a little interest in things native and might even learn a native phrase or two. Before they can show that off, the coconut native is already trying to impress by showing off his/her acquaintance with all things white – their culture (pop and sophisticated), their stories, their sitcoms, their epistemologies, their myths, their histories, their nuances with some half-baked critique thrown in so as to avoid appearing too eager. Gone are the ‘politically correct’ measures of mutual compatibility based on mutual respect – otherwise the East Asian and black African students would not be so undesirable in romance and intimacy compared to Whites, even among the ‘thinking’ and ‘elite’ academic spaces, even among the ‘liberated’ and the ‘radical’? For these coconuts, of course the next best thing after a white body with a white mind is another fellow brown body with a white-mind. Certain kinds of urban agglomerations offer excellent refuges for browns to explore their mutually shared whiteness. They are also the elite – fatafat English, chain-café hangout types, even with browns of the same mother tongue.

The ex-colony is indeed an unfortunate thing. There is always a lingering infection at the head, because the vernacular non-elites could never quite take over and are on a retreat. Transfer of power happened so that the production of brown bodies with white minds could go on with locally produced grease. Not quite Macaulay. Way sophisticated. Way sordid. At least Macaulay’s children looked like buffoons to the rest of the browns and they themselves had few illusions of reciprocal equality with the whites. Now, the illusion of reciprocal equality with whites is strong. Alienated from their own communities, they need to maintain self-respect by these means. Due to their ubiquity in media and academia, they have an inordinate influence over the aspirational dreams of the masses. The new buffoons have indeed turned the joke on the people. It must be supreme irony that some of these ‘liberated’ browns will go on to lecture us other browns on agency, structures of power, media representation, feminism, politics of culture, indigeneity, even equality.

This holding of whites in high esteem is not peculiar to certain browns. Data from millions of users of the popular US dating website OKCupid suggests exactly the same (http://qz.com/149342/the-uncomfortable-racial-preferences-revealed-by-online-dating/). Disproportionately high (as in higher than what population percentages would suggest) desirability of whites as partners cuts across most non-white races, except African-Americans. The funny bit is that the data also reveals that this special desirability is not reciprocated by whites to any non-white group. One non-white person probably gets tantalizingly close to the origins of disproportionate desire by a description. The person talks about having grown up filled primarily with white narratives and depictions of white people and felt as if she was ‘in a movie’ when she was romancing a white. From the lists of ‘hottest actors’ to ‘sexiest actresses’, from fiction to philosophy, they cast a very deep shadow on the person’s mind that felt during intimate moments with the white partner that one was living a long-pregnant fantasy, as if it was a movie. The African-Americans, having to live with the reality of whiteness, as opposed to the nurtured fantasy about whiteness, have no illusions. They are confident enough to have a spine to hold them up straight without white crutches.

The ‘conservative’ in brown-land at least makes his/her mindset clear. They probably neither like the white nor the black. However, for the ‘liberal’, among the itinerant foreigners who come for study and pleasure, it is mostly the white that gets intimate attention, with others largely avoided. The ‘liberated’ typically talks his/her way out by jargonised hypocritical bluster. In fact, the observable action of black-avoidance being same, this bit dishonesty makes them a notch worse than the conservatives – and there is the rub. For the ‘enlightened’ and the ‘liberated’ are loathe to admit that they too are products of the ‘dominant’ worldview of white-worship. That in practice boils down to racial preference and that does not sound nice. The ‘liberated’ believes that dominant world-views only affect the ‘mindless’ hoi polloi. Facts show that they are not outside but inside the circle of dominance. Such stark demonstrations can be heart wrenching. Liberation warriors become quivering and petulant balls of self-defence, alarmed at the tug at the ground beneath their feet, the ground they had fashioned into a pedestal to preach others from. All kinds of desperate and verbose ego defences come up, aided by jargonized bluster.

Those who are busy condemning and vilifying the people of Khidki extension en masse stress that some of the residents who had gathered had even uttered the ‘N-word’. It was. The ‘N-word’ was also used to build brown-black solidarity against racism and anti-communist witch-hunt in the United States of America. One does not expect the yuppie anti-racists to have heard about the song ‘Negro bhai amar, Paul Robeson’ that Kamal Sarkar composed based on Najim Hikmet’s verses, a most popular song that the legendary folk-singer Hemango Biswas extensively sang. For that matter, the N-word vigilantes probably have not heard of Paul Robeson. For them, history started with 1991. One might add that the song inspired more people in the subcontinent to develop serious anti-racist views as well as a critique of the American state that newly-learned knee-jerk political correctness about ‘N-word’ and other White speech-forms can ever evoke. The particular charge that comes with the ‘N-word’ has a certain context. Ashis Nandy has repeatedly taught us one thing – to take people’s categories seriously. Grounded social and cultural literacy is not to be expected from those who think that only white people’s categories are the ones with meaning. A peculiar kind of browns whose cosmopolitanism almost always translates into a greater understanding of nuances and contexts of things from white lands than things back ‘home’ (the flittering class actually doesn’t like to be ‘tied down’ to the concept of ‘home’) possibly doesn’t realise the ridiculousness of charging the people of Khidki extension of using the ‘N-word’. Having gained adulthood by being consumers of Anglo-American public discourse and pop trivia, they often forget that their books, TV shows, webpages and magazines are part of their bubble-existence. To think that the bubble is the world may be fine for life and times in the bubble-urbania. The problem happens when they venture out into the real world and use their bubble-derived notions and categories to judge that. While being exquisitely literate about the ‘N-word’s horrendousness, they would not be able to name even 10 derogatory words used to refer to dalits in the subcontinent. This is no sign of enlightened purity or post-casteism or castelessness but the stench of super privilege by which everyday categories and realities have been shut out of their lives. Forever coddled, forever urban, forever ‘non-casteist’, forever offended by the N-word, neither can they name 10 dalit sub-groups (not that those who can pass the ‘name test’ are virtuous, but they are at least in touch with the structure they benefit from and have no illusions of innocence). Some of the disproportionate beneficiaries of a system can afford to not know the details of the victims. What is offensive is that these are kinds who are stomping all over the Khidki residents, with a righteous indignation. The browns are an unfortunate people. Those divorced from reality are the narrative-peddlers and the chroniclers of social tension and cultural flux of the browns. Sleek presentation in elite language and idiom, coupled with political correctness has helped many of the chroniclers go places.

The reality is, hundreds of African students stayed in the Khidki area. The same cannot be said of most ‘respectable’ yuppie locations of New Delhi, Noida and Gurgaon. Not every locality allows a ‘ghetto’ to develop. The curious bit is that areas without African ‘ghettos’ are typically places where the Khidki-haters like to live in. Whites get treated differently. May be they would have been treated differently at Khidki too. But wouldn’t those who criticize the Khidki residents while regularly lounging at ‘artistic’ cafes and other upscale hangout-with-whites-like-whites locales also treat them differently? The ‘backward’ Khidki-wallas do not hide their feelings. Khidki residents have not (yet) learned the language and style of appearing to be non-racist. The ‘backward’ often responds with equal alienation to black and white. Others who hide their selective alienation, having learned the language of not letting feelings and subjectivities publicly known, uses the ill-gotten pedestal to preach against racism.

The Khidki incident has given rise to many paeans to the ‘diversity’ of New Delhi and how the ‘othering’ of the black-Africans is a blot on its ‘cosmopolitan’ image. This ‘othering’ bit, a category dutifully imported from ‘Continental’ discourse, is a non-issue here. The problem is segregation. That is a broader issue than Africans. It is also about who is typically rounded up by the police when a car-lifting happens, or who is issued an ID card or is asked to register at the local police station because one happens to work as a domestic help in a upscale area. Just because these browns do not have an explicit skin-marker, does not make the treatment meted out them any different. However, all that is normal, even as youths from these posh homes have also added their voice against Khidki. It is not a simple blind spot. What are the predictable triggers of righteous indignation? Why does it typically parallel what would trigger indignation in a supposedly post-racist Euro-American society? Why are our daily segregations, born in the belly of our society, not similarly spectacular and newsworthy? The yardsticks of whose social realities have we borrowed to assess our own? What makes us chose among the segregations? What is the rank-order in our heads? From where did we import this hierarchy? By choosing to privilege one kind of segregation over another, which audience are we signaling to? Are all these audiences domestic? What does this tacitly self-congratulatory ‘anti-racism’ vis-à-vis the silence over daily seggregations tell us about our selves?

Leave a comment

Filed under Acedemia, Community, Culture, Elite, Eros, Gender, Non-barbarians, Our underbellies, Sahib, The perfumed ones, Under the skin, Urbanity

Netaji and the politics of legacy and memory

[ Daily News and Analysis, 4 Feb 2014 ;  Millenium Post, 6 Feb 2014 ; Echo of India, 11 Feb 2014 ; Frontier Weekly online, 5 Apr 2014 ]

When Mohandas Karamchand Gandhi was born in Porbandar, he ensured that many decades later, all state government and union government employees get a day off on October 2nd every year. When Jawaharlal arrived in a Kashmiri Brahmin family of Allahabad on 14th November, the seed of Children’s Day was born in this brown land. For some curious reason, decades of publicly money funded propaganda has ensured that people are fed stories about unverifiable heartwarming anecdotes about child welfare priorities of the Indian Union’s first Prime Minister, father of the Union’s fourth Prime Minister and grandfather of a subsequent one. What is verifiable though is that the regime of the great do-gooder of children also ruled for long years over the highest number of hungry, starving children among United Nations member states. But then, Henry Kissinger also won a Nobel peace prize. If you have not heard of the ‘National Integration Day’ of 19th November beyond large newspaper ads with beaming faces of people your government wants to remind you at a cost to the public exchequer, you should be ashamed of yourself. The lone child of the great man of Children’s Day fame was born on that day. You should mark your calendars for another version of that auspicious day coming up this year. While you are at it, lose you eyes and take a deep breadth. Imagine your worst enemy. Do you feel any pent up anger? If yes, you may be lacking in the Sadbhavna Quotient (SQ – yes you first heard it here). Then I suggest you make the best of the Sadbhavna Day celebrations that happen on August 20th every year. On this auspicious day, the first prime minister who took over from his mother’s constitutional position without a non-family interregnum was born. The sarkar bahadur at Delhi sends memoranda on unforgetabble days to all central government departments, to do the needful. You better head to the nearest central sarkar bahadur office next time to catch the action. You might even get some chai-biskit to smoothly complement the ‘sadbhavna’ or ‘national integration’ feeling that might be evoked. One tends to get carried away at such holy occasions with free chai, year after year. Browns are, after all, very emotional people.

On 23rd January, a only MP who turned up at the Parliament of India to garland the picture of Subhash Chandra Bose on his birthday was Lal Krishna Advani of the BJP. Some MPs from West Bengal were busy in similar events in their state. The Indira Congress must have been tired from cheering the great rise of the great-grandson of Government of India’s children’s welfare champion Number one. Or they could have been tired of the burden of extra cylinders. Subhash Chandra Bose was also figured in the expanded pantheon that loomed large behind of podium from where the great grandson demanded cylinders. The curious shape of the select pantheon of past presidents of the Indian National Congress (which Indira Congress claims to be the successor of) resembled a 9-headed Ravan with the non-family Gandhi at the centre. Electoral desperation forces many things. Subhash Bose was there too, with the white cap that was snatched from his head by Nehru-Gandhi Congressites after the 1939 Tripuri session of the Congress. The military cap that Netaji put on later is too uncomfortable for those who would want to erase the various other currents and means that was part of the anti-colonial struggle in the subcontinent. Greater awareness of such trends may undercut official narratives and make many question the differences between freedom and brown-mask-government, liberation and transfer of power. That can be very uncomfortable.

This erasure has enabled the sons and grandsons of the Hindu Mahasabha and JanSangh to add past Congress presidents to their sordid pantheon of Hitler-lovers and British informers. In a subcontinent where erasure of public memory and creation of false legacies is a fine art, even the atheist, socialist, anti-communal Bhagat Singh is now wrapped in a saffron turban for 272+ mileage. The lure of power is reflected in the eagerness of liliputs to stand on the shoulder of giants.

But this false bhakti can be easily tested. The Prime Minister’s Office admits that there are 20 secret files relating to Netaji’s disappearance. Can the BJP guarantee that it will publicly disclose uncensored versions of these files if its alliance attains power in 2014? The complicity of all the players of the deep state to this conspiracy of silence and evasion needs to be exposed.

Leave a comment

Filed under Bengal, Delhi Durbar, Democracy, Foundational myths, History, Memory

Indianness / strange thoughts on an republican eve

[ Daily News and Analysis, 21 Jan 2014 ; New Age (Dhaka), 26 Jan 2014 ]

26th January is the Republic Day of the Union of India. In spite of the high drama performed by the Aam Aadmi Party in the sanctum sanctorum of power, this week will end with another edition of an annual ritual commemorating the day when representatives of about 12% of the population of the subcontinent decided to frame the constitution in the name of 100%. Thus the Republic of India was born. In this auspicious week, one may ask with some trepidation, what is India? What kind of a question is that, one may ask. One can show the territorial limits of the Union of India in some map, point to it and say, there it is. That kind of an answer oddly makes Cyril Radcliffe the father of the nation.  So let us shift gears to a different question. What makes India and ‘Indianness’? Well, technically, the transfer of power by the British to certain sections of the subcontinental elites, the partition and the constitution framed in the name of the people makes India. But such legal definitions would sadden lovers of a transcendental ‘Indianness’ that is apparently millennia old and permeates through Ganga, Yamuna, Bollywood and Mohenjodaro (remember the weird bearded man?). A variant of this ‘Indianness’ is also to be found in our special ‘Indian genes’ and aloo tikki (aloo came to the subcontinent about 500 years ago from the continent of ‘Indians’ living half-way across the world). More recently, the fervor with which one cheers for a group of male players contracted by a private entity and sponsored by a New-York headquartered company has become a marker of ‘Indianness’ or lack thereof.

The real state of affairs of a human being cannot be ascertained by the perfume one dabs on oneself. It is to be found in the original smell of the armpits, that the perfume is designed to shoo away. The continuous tutelage in ‘Indianness’ that was explicit in mass media earlier (remember Sai Paranjpe’s Ek Chiriya style cartoons with a cute and sly message continuously aired during turbulent times when some chiriyas wanted to fly away?) has now become a monolithic cultural norm, with decades of preferential promotion of a language and a forced monolithic identity finally paying off. With enough rokra, a good, strong dandaa and pervasive indoctrination, orderly and docile queues can be created. Anek anek chiriyas have a stake in this game now.

When a Tamilian goes to New Delhi vis-à-vis Beijing, I am assuming that Beijing feels more alien. That is something undeniable. I am not including the rootless cosmopolitan class of the browns who feel at home at any place that has a chain-coffee outlet. I am talking of the earth, not of the shifting crust. However I am not sure that this even this grade of alienation holds true for the Naga – whose sas-bahoo diet is not imported from Hindustan but from Korea. Korea, thus, is not equally far from all trajectories of ‘Indianness’ – real or imagined. Even for the Tamilian’s supposed closeness in New Delhi, that is too is a project in progress. The non-alienation is less than it was 60 years ago. This is because of a common, constructed mould that has been used to make ‘citizens of a nation-state’ out of human beings. That commonality needs to be continuously manufactured even while proclaiming its transcendental pre-existence as a matter-of-fact. The shape of this mould represents what is the ‘core’ of this ‘Indianness’. Hence, more and more will come to speak a predictable ‘core’ language – the non-core will have to know it to be counted equally. That precisely is the indignity of forced top-down one-ness. One size never fits all. Some come pre-fitted, others have to try hard to fit in, excising parts of their identity.

Leave a comment

Filed under Delhi Durbar, Foundational myths, Identity, Nation

Decentralization 2014 / When the Centre lords over federal aspirations

[ Daily News and Analysis, 7 Jan 2014 ; Millenium Post, 7 Jan 2014 ; Echo of India, 14 Jan 2014 ]

The Gregorian calendar says it is January now, so for a very many people, it is a new year. One near-constant thing about New Year days, birthdays, 100th anniversaries and the like, is that nothing is very different before and after that day. That does not stop us from making New Year resolutions or seminars about the special relevance of some dead man’s centennial. While each one of us may harbor private dreams about the year 2014 of Common Era, it is events and processes happening around us that would actually shape the year. I am tempted to string together some apparently unrelated developments in the last 30 days, to bring out what my private fantasy for 2014 might look like. It also happens to be an important public concern of the present day. I am talking about the battle between centralization and decentralization, between the hollowing and deepening of democracy. This is something that never surfaces as it is, always burrowing under some other agenda. But there it is, always, and always tense.

And it starts at daybreak. 6 am happens at the same moment all over the territory of the Union of India, because the central government had long decided so for the rest of us. However, the sun rises at vastly different moments in different parts of the world and Assam and Gujarat are indeed situated in different parts of the world. Bharat Mata’s children, held tightly together by the constitution, stand widely apart on the bosom of Mata Basundhara. Sadly, things like the sunrise and sunset, human physiological functions like sleeping and waking up and other things that predate man-made rules and nations and will outlive them too, are still not totally subject to the power of the central government. Such a state of affairs, even after 66 years after partition, is not the sign of a strong enough state. The Assam state has decided to delink its time from that of the ‘heart’ of Hindustan, Allahabad of Uttar Pradesh. If Assam has its way, it will no longer wake up according to the time governed by Mother Nature and the Sun god but go to work at a time that best suits Allahabad, the city where Ganga and Yamuna but not the Brahmaputra meet. I do not know what is more ironic – that it took 66 years for Assam to decide to abide by a time that is more in like with its geographical location or the fact that its decision is not enough and that it needs the approval of folks hailing from far-away longitudes. That many parts of the subcontinent had times more in line with their natural location before partition only adds a further layer of irony. If the Assam move succeeds, more areas might want pay more heed to chirpings in their surroundings than the ajaan from Delhi. A new force that has risen from Delhi seemingly wants to sing a different tune – this is the Aam Aadmi Party’s call for decentralization of decision-making power. If the party means what it says, the potentialities are immense. This being an election year with most parties being quite non-committal about joining one of the 2 ‘national’ parties, there is a faint possibility that some new life might be unleashed at the centre. Whether we want people’s opinion to matter in their own lives is a question that any purported democracy has to deal with. A true federal system should be capacious enough to accommodate diversity of needs and aspirations. This is the primary challenge that the subcontinent faces – beyond all the talk of development, growth, discontent and what not.

May be I am making a mountain out of a molehill. These couple of green shoots for the decentralizing ideal can easily be lost among the smoke emitted by the relentless centralizing state. The central cabinet is seriously thinking of starting the River Linking Project that aims to join most major rovers of the Indian Union. This project that will surely drown the land and culture of many a people will be don’t for ‘greater common good’. We know that not an inch of the National Capital Region (NCR) will ever be drowned for any good, however great, however common. Such is the absurdity of central decision-making in this purported powerhouse of information technology and wireless communication that the headquarters of the Coast guard and the Inland Waterway Authority are situated in a place that has absolutely nothing to do with the on-the-ground daily workings of these agencies. That is the heart of the giant that joins the NCR, the Delhi-Mumbai Industrial Corridor (DMIC) and the Amritsar-Kolkata-Delhi Industrial Corridor (AKDIC). The naked power of centralized authority flavours these alphabet soups designed to drown the million discordant sounds from the ground. There can only be so many jobs and boom-towns, only so many rootless techies, academicians, corporates, pimps and their families that can grow up shielded from the discontent from evisceration of identities and selfhoods. But there is only so much alms that can the alphabet soup wallahs and their hip-urban collaborators can part with – so that centralizing can go on seamlessly. But there is a wide world out there that the centre cannot hold. Something must give.

Leave a comment

Filed under Delhi Durbar, Democracy, Federalism

January on Jessore Road / The besieged Hindus of Bangladesh

[ The Hindu, 16 Jan 2014 ; The Friday Times (Lahore), 17 Jan 2014 ]

“Hey there mister can you tell me what happened to the seeds I’ve sown

Can you give me a reason sir as to why they’ve never grown?

They’ve just blown around from town to town

Till they’re back out on these fields

Where they fall from my hand

Back into the dirt of this hard land”

– Bruce Springsteen, This Hard Land

Few moments in the past century evoked as much hope in its stakeholders than the emergence of the People’s Republic of Bangladesh as a secular state in the eastern part of the subcontinent. Drenched in the blood of martyrs and fired by lofty idealism that has still not completely died, this nation-state has not lived up to its ideals. Often declared by some to be the greatest achievement of the Bengali people, is at a dangerous crossroad, once again. The ruling Awami League has an unenviable record of corruption and graft tainting its last 5 years in government. To be fair, the previous elected government of the Bangladesh Nationalist Party (BNP)-Jamaat-e-Islami combine had a track record far worse in this regard. But the country is young and the BNP-Jamaat was last in power 7 years ago – when a significant section of the present population was had not reached adulthood. In addition to that, the opposition, especially the Jamaat, has been partially successful in using its massive economic clout and international propaganda apparatus to portray itself as a victim of state-sponsored witch-hunting. The ‘witch-hunting’ boils down to two things that can all but finish the Jamaat off as a viable political force. The first is the deregistration of Jamaat as an electoral force, as it privileged divine ideas over democracy in the party constitution – something that the Supreme Court deemed as illegal. The second is the War Crimes trial of those who committed crimes against humanity during 1971. Almost all of the present Jamaat leadership was heavily involved in murder, rape, arson and forced conversions. In a subcontinent where politics thrives on the erasure of public memory, this episode has refused to disappear. In fact, a dilly-dallying Awami League government was almost forced by the youth movement in Shahbag to pursue the war crimes trial seriously. Facing the prospect of political annihilation, the Jamaat responded by a three-pronged offensive. One, marshaling young Madrassa students and use them for blockading Dhaka. Two, lending BNP its activists to act as boots-on-the-ground. Three, carrying out targeted attacks on the homes, businesses and places of worship of Hindus, the nation’s largest religious minority. But the collateral damage is often wider.

Farid Mia, a fruit seller, had the extreme misfortune of being near the Ruposhi Bangla Hotel in Dhaka when the street-fighters of the opposition BNP–Jamaat combine hurled petrol bombs indiscriminately. They were aiming to create a scenario of fear in the run-up to the parliamentary elections of January 5, which the principal opposition combine was boycotting. By January 8th, the elections were over. So was Farid’s fight for life at the Dhaka Medical College Hospital. The devastated face of the young child Mohammod Liton, Farid Mia’s youngest son, will go down as a call to conscience, however transient. Farid was unlucky. He could not have known that he would be a victim.

But there are predictable victims. In 2001, after the BNP led alliance won the elections, the usual pattern of murder, rape and arson targeting Hindus happened on a very wide scale. Hindus have traditionally voted for the Awami League. The guarantee for ‘Jaan’ and ‘Maal’ is important for the survival of any people. In the Awami League regime, although Maal in the form of property and homestead has been regularly taken away by Awami League powerfuls, the attack of life and systematic rape of minority women was not part of the party’s policy. The same cannot be said of the BNP-Jamaat under whom cadres, systematically aided by the police forces, have regularly threatened both ‘Jaan and Maal’. Thus, it is not hard to see why the Hindus chose the devil over the deep sea. The Hindus who had voted in 2001 had learned their lesson when they were targeted in massive post-poll violence, most infamously in Bhola. This time around, the Hindus seemed to be out of favour from both sides. While they were targeted by the BNP-Jamaat for coming out to vote at all, in other areas they were targeted by Awami League rebels for coming out to vote for the official Awami League candidate who happened to be of the Hindu faith. There have been disturbing signs over the last few years that at the very local level, the difference between the ‘secular’ Awami League and the communal-fundamentalist BNP-Jamaat seems to disappear, though publicly the former does not tire in parroting the secular ideals of 1971 – the much used and abused ‘Muktijudhher chetona’ (Ideals of the Liberation War).

The violence unleashed against the Hindus this time around, before and after the 5th January polls, have been worst in Jessore, Dinajpur and Satkhira, though many other places like Thakurgaon, Rangpur, Bogra, Lalmonirhat, Gaibandha, Rajshahi and Chittagong have been affected. If people remember Thakurgaon and Dinajpur from a different time, it is probably because these were strongholds of the communist-led Tebhaga movement of the late 1940s. Part of the reason few riots happened in these areas when the subcontinent was in the throes of communal riots was the cross-community solidarity and political consolidation that had been achieved. That was then and we have come a long way since then. Malopara in Abhaynagar, Jessore, inhabited by Bengali Dalit castes, has been attacked repeatedly. Large scale attacks on villages, businesses and places on worship, able-bodied men being on night vigils, women huddling together in one place – all these things brought back memories of 1971 for many of its inhabitants. In Hazrail Rishipara of Jessore, women were raped at gunpoint for the crime that their families had voted in the January 5th election. Dinajpur has been badly hit with cases of beatings, home and shop burnings, and putting fire to haystacks and crops. Both Jessore and Dinajpur being areas bordering West Bengal, crossing the border for preserving life is a sad trek that many have undergone. Such slow ‘squeezing out’ is not new, neither is it intermittent. It is a continuously process that is an effect of a political discourses the willy-nilly aims to delegitimize the very existence of the minorities on their ancestral land by always asking the question –‘Why are you still here?’. ‘Why am I still here’ is a question the minorities have asked themselves and as the statistics show, a staggering number could not find a good answer and hence they left. The trickle has been slow and silent. The ‘Partition’ continues.

The ‘Partition’ was swift and vicious in the Punjabs and Sindh where religious minorities have ceased to exist for all practical purposes. This is not so in the Bengals, where many still live in the ancestral land claimed by nations whose legitimacies are much more recent than people’s ancestral claims over their homestead. Nearly 30% of the Bengal’s western half’s population is Mohammeddan (the figure was 19.46% in 1951, after the 1947 partition). Even in the eastern half, little less than 10% of the population is Hindu (it was 22% in 1951). In East Bengal, secular politics does exist beyond the fashionable drawing rooms of liberaldom. It was one of the four much touted foundational principles of the 1971 Liberation war. The autocratic years of BAKSAL, the long years of army rule when the barracks used Islam to create a veneer of political legitimacy beyond the Awami League and pro-liberation forces, the overtures by mainstream parties to fundamentalist groupings – all of this has given religion-based politics a front-row seat in the nation. Neither have religio-political organizations been immune to the violent turn of this brand of politics internationally in the last decade or so.

How did things come to be this way? The issue of minority targeting, one must admit has deeper roots than simple ‘communal politics’ and ‘mixing politics with religion’. Pro-Pakistan forces, which looked to faith-unity as basis of statehood, did not disappear after the Liberation War. They were broadly and transiently (as it increasingly seems) delegitimized due to the their role in the atrocities of 71. But what about the ideological moorings of the project that religion marks a nation? What about the splinters of that project stuck deep in the political and social structures? That trend did not die not did it dry up. One has to remember that even the Awami League in its inception is a faction of such a trend that reoriented later along the lines of Bengali Nationalism. In the imagination of all the ruling factions since 1947 during East Bengal, East Pakistan and Bangladesh periods, there has been a tacit understanding of the normative citizen – a Muslim Bengali male or a Bengali Muslim male. Hindus of East Bengal are a living reminder of a Bengaliness that is not co-terminal with narratives that conflate Bengaliness (or Bangladeshiness) with being a Bengali Muslim. Their progressive marginality in numbers makes this conflation project easier. Such projects are not necessarily active political projects but often live in the underside of mindscapes that can be ‘secular’ in very many declarations. Thus they can be marginalized without being actively targeted in ‘innocuous’ everyday dealings. Communally targeted violence feeds off from a broader spectrum of support, from active to lukewarm to unconscious.

In any modern nation-state, the majority can decide to be whatever it wants and the minority has to follow suit. So Hindus were expected to become Pakistanis overnight in 1947. While Bengali Muslims politicians have the autonomous agency to un-Pakistanize themselves at will, east Bengali Hindus could only publicly do so at explicit cue from their Bengali Muslim brethren. At any rate, they are never ‘good enough’ citizens in whatever dispensation they find themselves. At one point, they weren’t good enough Pakistanis. Now they are not good enough Bangladeshis. What is the commonality between being a good enough Bangladeshi and good-enough Pakistanis, since being Bengali is not enough. Isn’t religious majoritarianism part of that mix? If yes, what did 1971 achieve for the security of ‘maal’ for Hindus, given that more Hindu land has been usurped by the Awami League than by any other party. But still the Sarkar Bahadur is responsible for jaan and maal. As I said before, the Awami League takes maal for protection of jaan. BNP assures neither. This is part of the draw for Awami League for the Hindus of East Bengal. Just like other minorities, extra-territorial loyalty is the easiest slur that is bandied about. And this is also what makes minorities lesser citizens in a polity – they cannot critique their state in all the ways a majority community person can. They are forced into living double lives and then condemned for living it. Fortunately or unfortunately for Hindus of East Bengal, West Bengal exists where their situation is nothing but information to be used tactically by Hindu-majoritarian forces to oil their own political ambitions. Thankfully, they have been more successful outside West Bengal than within it, but who can say for how long?

But still one cannot but hope that the People’s Republic of Bangladesh would live up to its original ideals. Minorities have fled the nation-state for want of security in large numbers, year after year. Numbers matter. It also matters that nothing of the scale of Delhi 1984 or Gujarat 2002 has happened there since 1971. The name of a ‘Hindu’ hero like Shurjo Sen can be chanted spiritedly by tens of thousands of mostly Muslim youths in the streets of Dhaka. There is no such parallel in the nation-states that are the other fragments of 1947. Even in the recent protests at Shahbag, lakhs raised slogans in his name. “Shurjo sen-er banglaye, jamaat-shibirer thhai nai (No place for Jamaat-Shibir in Shurjo Sen’s Bengal).” There is significant presence of minorities in the bureaucracy and local administration. Even in the recent spate of violence, the state has transferred police officials for failing to provide security. Gonojagoron Moncho, the youth movement that spearheaded the Shahbag protests for war crime trials, has led a road-march to violence stricken Abhaynagar to stand in solidarity with the affected. This is not a fly-by-night visit by VIPs or a handful of politicos. This reality exists too. It is this reality that partly prevents a mass exodus of Hindus beyond the levels seen at present. There is too much to lose to leave. Still. For far too many.

সুধাংশু যাবে না

–শামসুর রাহমান

লুণ্ঠিত মন্দির, আর অগ্নিদগ্ধ বাস্তুভিটা থেকে

একটি বিবাগী স্বর সুধাংশুকে ছুঁলো

‘আখেরে কি তুলি চলে যাবে?’ বেলা শেষে

সুধাংশু ভস্মের মাঝে খুঁজে

বেড়ায় দলিল, ভাঙা চুড়ি, সিঁদুরের স্তব্ধ কৌটা,

স্মৃতির বিক্ষিপ্ত পুঁতিমালা।

স্বর বলে, ‘লুটেরা তোমাকে জব্দ ক’রে

ফেলে আশে পাশে

তোমার জীবনে নিত্যদিন লেপ্টে থাকে

পশুর চেহারা সহ ঘাতকের ছায়া,

আতঙ্কের বাদুড় পাখার নিচে কাটাচ্ছ প্রহর,

তবু তুমি যেও না সুধাংশু।’

আকাশের নীলিমা এখনো

হয়নি ফেরারি, শুদ্ধাচারী গাছপালা

আজও সবুজের

পতাকা ওড়ায়,

ভরা নদীকোমর বাঁকায় তন্বী বেদিনীর মতো।

এ পবিত্র মাটি ছেড়ে কখনো কোথাও

পরাজিত সৈনিকের মতো

সুধাংশু যাবে না।

Risen from the embers of an ancestral place–plundered temple–

An unearthly voice vibrates in Sudhanshu

Are you, finally, leaving?’ At the end of the day

Sudhanshu gropes amidst cinders

For the deeds of his homestead, splintered bangles, the mute colours of a vermillion box.

The dog-eared scatters of manuscripts in memory.

The phantom says, ‘The plunderer has beaten you

Here and there

Your daylight clings to

An animal outline ambushed by a murderer’s mien,

You spend your hours crouching under the bat-wings of terror,

Despite all, do not leave, oh Sudhanshu.’

The blue of this sky is yet to

Diminish, the sacred trees

Are yet flying green

Banners, the copious river

Meanders her waist like a slim snakecharmer lass.

He won’t abandon this sacred earth for elsewhere,

Unlike a retreating soldier in defeat,

Sudhanshu would forever not leave

– Shamsur Rahman

(Gargi Bhattacharya translated the poem from the Bengali original)

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Displacement, Foundational myths, History, Identity, India, Language, Memory, Nation, Pakistan, Partition, Power, Religion, Rights, Terror

Why Pakistan’s resistance to Bollywood is justified

[ The Express Tribune, 24 Dec 2013 ]

The case in Pakistan regarding the continued certification and commercial screening of films produced in the Indian Union territory has been settled. Mubashir Lucman, Film Producers Association and Cinema Owners Association have come to an agreement that would allow for the equal sharing of screening time between films made locally and those imported from the Union of India. This is a useful opportunity to discuss some issues regarding the commercial import and certification of Bollywood Hindi films in Pakistan.

Let us first understand what are these ‘Indian’ films. We are largely talking of films made in the Hindi language produced via a very cash rich industry setting in Mumbai. For the rootless young people in certain metros of the Indian Union, that is much of what constitutes ‘Indian’ films. But for those who are talking in terms of greater mutual understanding via these films, one needs to realize that much of the Indian Union does not speak Hindi. Additionally, they do produce their own films. The content of such non-Hindi films represent a much greater terrain of the subcontinent than Bollywood Hindi flicks can ever aspire to. To be fair, Bollywood Hindi films never did aspire to that. Thank the gods for that, as with the money power behind Bollywood Hindi films, they might even try to define Tamil-ness or Bengali-ness through a metro-centric Hindi medium. Are they influencing people in Pakistan with an alien commercially produced idiom? If yes, people in Pakistan better take notice.

And those who portray films as some sort of a medium to develop Indo-Pak bonhomie might also do well to look beyond Bollywood. Virulently anti-Pakistan films with a lot of ‘action’ are also a Bollywood Hindi film sub-genre. Yes, that does good business. Go find an Assamese, Bengali, Tamil, Manipuri or a Oriya film in the last fifteen years that has an anti-Pakistan theme. There are none. Are these not ‘Indian’ films? What is it about Bollywood Hindi film idiom that lends itself to making films like Gadar: Ek Prem Katha and LOC Kargil, which unabashedly dehumanize people from Pakistan? The economic muscle of Bollywood ensures that such films receive a wide audience. It is not the specific film that matters. Pakistan can choose to not allow this film or that. But it is the same set of cartels that produce most of the films – the ones that are anti-Pakistan and the ones that are unrelated. This industry understands only money and would not stop from producing the next commercially lucrative anti-Pakistan blockbuster? There is a market for such prejudice in India just like there is a market for anti-Hindu prejudice in Pakistan. Do people from Lahore and Karachi really need to add to the profits of an industry that sees no qualms in showing Pakistanis in bad light?

Most Bollywood Hindi films are set in the cities of Mumbai or New Delhi, and increasingly in cities of the Western World where people from North India live and aspire to flourish. This can be Sydney, London, New York or Chicago (Dhoom 3, an action film released a few days ago and which has already grossed crores of Rupees, is set largely in Chicago). Delhi and Mumbai choses to tell its story and wants people to pay for it. But Karachi is not Delhi and I am sure it has its own stories to tell, stories that are different from the stories of young partying explorers of Mumbai and Goa, stories that are not about aspirational or ‘everyday’ life of Delhi people. Inspite of the Zia years, one can be sure that 15 crore people have stories to tell. If the decision was left to the burgers, they might even start a juloos in support of Hollywood and Bollywood. The culturally illiterate has no investment in their own cultural milieu. That is precisely why their ‘tastes’ shouldn’t be setting agendas. Nor can they be depended on for a revitalization of films culturally rooted in Pakistan (and not cheap Bollywood remakes).

Bollywood Hindi films represent the metro-centric and homogenized ‘idea of India’ in the mind of the new Indians – 20-40 years old, in the top 5% income category, aspirational migrants with Hindi and English being their near exclusive vocabulary. They are concentrated in a few cities but they have the economic might to determine cultural policy. These multiplex consumers with their moneybags have done a great assault to the idea of mass-films, which is why now film profits are not an indication of film popularity. Pakistani film industry is up against an economic behemoth with an agenda of own-cultural expansion. Its production, distribution and broadcasting machines are well oiled. Stupendous amounts of black money from deep pockets bankroll the ‘creative’ explosion that is Bollywood.

The twin attack of a homogenizing national ideology and economic muscle has grave implications on visible public culture. The 19th Kolkata International Film Festival witnessed the extra-ordinary scene of Bollywood Hindi filmstars being feted in a manner as though they represented some pinnacle of human achievement. It was a sad moment – underlining how limited and predictable the cultural horizon of West Bengal’s film industry had become. The lack of self-confidence showed. Film industries that do not have as much black money circulating, have lesser number of casting couches, have lesser number of ageing ‘artists’ and producers targeting young actresses, have lesser number of big crooks financing films and which do not make films in Hindi or India-English, have been relegated to second and third class status. Pakistan has the legal mechanisms to stop the damage that Bollywood has done to films industries elsewhere. It better act soon.

Leave a comment

Filed under Culture, Delhi Durbar, Identity, Kolkata, Language, Pakistan

‘Sala Main To Sahab Ban Gaya’… and other thrills / Angrezi delusions

[ Daily News and Analysis, 23 Dec 2013 ]

Very recently, I was on a flight from Zurich to New Delhi, operated by Swiss International Air Lines. My co-passenger was brown like me and had strong opinions on the mis-pronunciation of English words by desis. The person was especially perturbed how even proper nouns and place names were being rendered unrecognizable. My co-passenger was quite sad that this was happening. I mostly did the listening. I guess trans-continental flights are spaces that assume a kind of brown cultural homogeneity and hence a commonly held set of sensibilities. The top 5% income category browns have many worldly burdens. Defending the sanctity of the mother tongue of Anglo-Saxons apparently is one of them.

All through our journey, the captain kept us updated about how the flight was going. The captain, who was Swiss, repeatedly said that out destination city was ‘Deheli’. The firangi word pronunciation Nazi who I was sitting with it seemed to have no take on this. ‘Deheli’ was okay, given the race of the speaker. There was nothing to be ‘corrected’. It was his natural accent. There was no need to graduate into some ‘ higher’ state of correctness, whatever that is. While ‘Deheli’ of Swiss extraction was deemed acceptable, ‘Delly’ is the pronunciation of choice for the uppity. This is what some pack of pale-face marauders had pronounced a few centuries ago and what could be wrong about that. Dehli or Dilli may not sound anything like ‘Delly’ but that did not make ‘Delly’ a mis-pronunciation in my co-passenger’s sensibilities. This sensibility is more widely held. It is my suspicion that the origin and contours of such refined sensibilities and the predictable double-standards hold some clue to the increasingly rootlessness one observes in the metro-centric aspirational classes of the subcontinent.

Now try to imagine the reverse. When someone says ‘New Yaark’ as many in Punjab may do, or ‘Lawndawn’ as many in Bengal do, the brown thikadars of English pronunciation will react with thinly veiled contempt. You may even be ‘corrected’ in ‘good faith’ – ‘See, it is ‘actually’ pronounced like this’. Between these responses, the speaker of ‘Lawndawn’ will be classified by the enlightened brown ones as either being not well rounded enough or being an obstinate non-learner or worst still, getting some vicarious thrill by sticking out.

They will try to explain root-cause of ‘New Yaark’ and ‘Lawndawn’  – you know, socio-economic rungs and such. And that moment of trying to explain is an illuminating moment – it explains the person who is doing the explaining. Their exasperation with ‘Lawndawn’ standing uncorrected goes much further and deeper than plain prickliness about the mother tongue of English people. It veers into the underbellies of their Anglicized exteriors – into ideas of correctness, propriety, higher and lower, sameness and difference, own and foreign, alienation and privilege.

At the centre of this probably stands the fear of being swept away in this brown subcontinent by those who think, imagine and love in their mother tongue. The alienated recognize the confidence that comes with it. That confidence is a threat that needs to be broken; otherwise it has insurgent qualities that might just want to reclaim centre-stage. What absurdity is that, in ‘this time and age’? The speed with which we label something absurd hints at something else. As Allan Bloom said, ‘The most successful tyranny is not the one that uses force to assure uniformity, but the one that removes awareness of other possibilities, that makes it seem inconceivable that other ways are viable, that removes the sense that there is an outside’. The even sadder bit is that an alienated, self-hating minority is able to dictate the terms of what is this outside.

‘New Yaark’ and ‘Lawndawn’ symbolize exactly the sort of confident agency that is rootless is fearful of, partly because it reminds them of their own ‘non-place’-ness. Identifying deeply with the oppressor’s ‘refinement’, they would rather have agency always stay with the oppressor while they can take on the mantle of being gatekeepers to that enchanted world of refinement. The culturally illiterate Bombay-Delhi bubble urbania, with their undue and incestuous grip on the ideology of indoctrination systems like centres of higher learning, fear things that draw inspiration from the ground beneath their feet, and not from the words of gods from superior worlds. They love to play the role of this native priest (to lesser brown folks) and translator (to remotely enthusiastic firangis). They stand at the gates of modern citizenship in brownland, correcting their backward folks as liberated pundits. I wish it were funny. It is not.

Leave a comment

Filed under Bahishkrit Samaj, Class, Colony, Elite, Identity, Knowledge, Language, Sahib

Battling religious censorship / Muzzling Expression of Taslima Nasreen

[ Outlook, 23 Dec 2013 ; Echo of India, 29 Dec 2013 ]

Kolkata, the so-called ‘cultural capital’, has demonstrated the increasing emptiness of the epithet, yet again. Taslima Nasreen, one of the most famous Bengali authors alive, had scripted a TV serial named ‘Doohshahobash’ ( Difficult cohabitaions) portraying 3 sisters and their lives – standing up to kinds of unjust behaviour that are everyday realities for the lives of women in the subcontinent. Nasreen has long lent a powerful voice to some of the most private oppressions that women face, often silently. The private channel where the serial was slotted ran a vigorous and visible advertising campaign – Nasreen’s name still has serious pull among Bengalis and the channel knew it. Nasreen had made it clear that the serial had nothing to do with religion.  However that was not enough for the self-appointed ‘leaders’ of the Muslims of West Bengal who issued warnings to the effect that the serial not be aired. The commencement of the serial, sure to be a hit and a commercial success for the channel, has now been postponed indefinitely. One can imagine the pressure the producers and broadcasters have faced that led to the shelving of a potential runaway commercial success. As in the recent incident of Salman Rushdie being prevented from coming to Kolkata due to the protest by similar characters, one can be sure of the kind of role the Trinamool Congress government and its law enforcement agencies had in this affair. If the government is to be believed, it had no role in the criminal farce that is being played out unchecked. Muzzling free speech and right to expression does not always need written orders from the government. A phone call here, a verbal order there – these are typically enough.

Nasreen has been living in New Delhi since 2007, after being hounded out of Kolkata by the CPI(M) led government on the instigation of Muslim groups threatening ‘unrest’. The pathetic reality of the lives of ordinary women in the subcontinent and the extraordinary oppression meted out to them, especially due to certain religious systems, have been the single most important theme of her writing. Steeped broadly and deeply in the cultural fabric of Bengal, the specific socio-geographical setting of much of her work is in the Muslim-majority nation-state of Bangladesh. Hence, in her earlier writings, Islam primarily represented the ugly face of religious majoritarianism. However, those who have cared to read her corpus, know very well that she has been an equal-opportunity truth-teller, castigating both Hindu and Muslim religious practices and ideologies.

Taslima Nasreen is a daughter of the subcontinent. Islamists in Bangladesh wanted her head and made life miserable for her. After a few years in the West, she returned to West Bengal. I say ‘returned’ as it was an inalienable part of her cultural homeland. In Kolkata too, she lived in the face of constant death-threats there too. After her forcible ejection from Kolkata, she has never been allowed back, though she remains extremely interested in relocating back. One would think that the culture of issuing death-threats to one feels one’s religion has been slighted by is alien to Bengal – which has, for centuries, been the ground Zero of religious syncretism as well as tolerance to so-called deviants of all hues. It is indeed sad that this alien culture of extremism of relatively recent import has managed to gain the upper-hand so as to force the government of the day to pander to these elements at huge cost to the social and cultural fabric of West Bengal.

Who exactly are these vocal opposers of Taslima Nasreen’s serial being shown publicly? Whenever one has self-appointed spokespersons doing the shrillest speaking, it is useful to study their antecedents. Abdul Aziz of Milli Ittehad Parishad and Mohammad Quamruzzaman of the All Bengal Minority Youth Federation are two prime examples who have been extraordinarily active in running the Taslima-denounication industry in West Bengal. Both these organizations share another distinction. They led a mass-meeting earlier this year in Kolkata protesting the punishment of Islamist leaders of Bangladesh who had directly committed crimes against humanity during the 1971 Bangladesh Liberation War.  Thus those who defended rapists and mass murderers of 1971 (the victims were Bengalis, of whom a significant proportion were Muslims) have taken upon the mantle of community guardianship of Muslims in West Bengal. It cannot be clearer what kind of Muslim interest these folks represent. To even consider that such elements represent Muslim interests of West Bengal is tantamount to insulting the intelligence and humanity of the Mohammedans of the state.

Kolkata’s intelligentsia and youth, once known to take to the streets and chant songs to protest the muzzling of Paul Robeson, a black-American singer and artist, has had nothing but silence to offer on this one. The Trinamool Congress rulers and the erstwhile CPI(M) rulers have set a record of competing with each other on muzzling free speech on the instigation of groups in whose worldview, free speech has no place. While there may be short-term electoral gain for such posturing, this race to the bottom has no winners. The loser is the idea of a free and democratic society where dialogue and understanding is privileged over violence to ‘solve’ differences. In effect, such groups aspire for a society where there are no differences – no diversity of thought, expression, living and being. Nothing is more alien to the human condition than that. Gods only can help a society where governmental policy is dictated by sociopaths, unless a critical mass stands up to publicly state that enough is enough. Does the right to be offended take precedence over the right to free speech? If yes, we are in sad and dark times.

When insulting books, gods and other creatures has become the touchstone of ‘community leadership’, one might do well to remember the words of Kaji Nazrul Islam, the fiery poet of all of Bengal who is increasingly being packaged into a ‘Muslim’ poet – ‘Manush enechhe grontho, grontho aneni manush kono’ (Man has produced books, no book has ever produced a man). There is nothing truer than man himself and free speech is an pre-condition for that truth to shine forth, in its myriad hues.

Leave a comment

Filed under Bengal, Culture, Kolkata, Religion, Rights, The written word

Supremely unjust / 377

[ Millenium Post, 12 Dec 2013 ; Shillong Times, 12 Dec 2013 ; Daily Excelsior, 13 Dec 2013 ]

Many had assembled in New Delhi to hear the Supreme Court judgement on the case of Suresh Kumar Koushal & Ors. v. Naz Foundation & Ors.(SLP (c) 15436/2009), in popular terms the constitutionality of Section 377 case. Indian Penal Code’s Section 377 is a colonial era production that criminalizes what it terms ‘unnatural sex’. This has typically been one of the legal excuses behind the routine police harassment and extortion against homosexuals – not that the police needs legal excuses most of the times it abuses queer/trans people. It also means that certain sexual practices, even when indulged in without coercion, are illegal and the practitioners are criminals. This effectively makes being gay a criminal offence in the Indian Union. Many of the assembled had expected to party. The Supreme Court judgement set aside the earlier Delhi High court judgement that had effectively nullified Section 377. The court has referred this to the parliament, which alone has the authority to make and change law.

The court that has been of late accused of ‘judicial activism’ has skillfully evaded the case at hand. By doing that, it has dealt a huge blow to the lived reality of queer people in the Indian Union. Make no mistake  – in a society where increasingly legal defines right and transgression of law defines wrong, this is bad news. It is not as if the scrapping of Section 377 will overnight change what it means to be queer in the subcontinent, but its continued criminal content will make it even harder, given the amount of attention the case has received. Why is the enlightened judiciary so selective in its activism?

The judiciary does not exist in a vacuum. Well meaning elite can talk to the judicial elite via the code language of articulately argued details of Common Law. While this tactic can yield good results (the Delhi High Court judgement decriminalizing Section 377), a perception of such initiatives being elite can do serious disservice to the cause. No right can be won or defended by only employing high fangled lawyers with donor money and lobbying, bypassing the majority of the very people one is supposedly fighting for. There is no replacement to organizing among the people, including those who oppose you for whatever reason. The Supreme Court has pushed the onus of 377 to the parliament, in a shamefully smart way. The way the ‘queer movement’ of the subcontinent has mostly steered clear of the queer who are poor, who are not from the upper castes, who are non-urban, who dont speak English, who are illiterate, who dont use the word ‘queer’ to describe themselves, who do not describe their life, identity and experience in big neologisms, and has instead created a ‘movement’ that moves without those who they claim to move for. But then this is to be expected of those thriving in the Delhi-Mumbai bubble urbania.

While the Supreme Court should not be let off lightly on this, the connectedness of all assaults on human rights needs to be appreciated. We also need to appreciate, how those rights were won. If habeas corpus, banning child labour and many other things that are considered inalienable elements of human rights, were effected by movements pressuring power and not by court adjudication, why would one think this would be any different? It is also important that one appreciates the associations and dissociations of the court and the state, as well as the statist context of the court. The supreme court of India has previously upheld the suspension of habeas corpus during the Panditain’s brief dictatorship. Only recently, it has found the Armed Forces Special Powers Act to be perfectly in line with the fundamental rights of a citizen as per the constitution. Given this record, should this order on Section 377 come as a shocker? It will be infantile to suggest that people’s pressure that goes against the grain of state interest and ideology will force the courts to give rulings. But it certainly can help. And for that, one needs to start with the people. People who have direct stake in this. People who are potential allies of the direct stakeholders. There is no judicial shortcut to politics for the underdog.

To live in a state that denies the right to not be shot dead on mere suspicion or whim of state agencies needs a constant working around the state and its apparatus. Life has not stopped in AFSPA areas. Neither has people’s resistance, inspite of the court ruling it as perfectly legal. Hence, life will go on. So will ‘unnatural sex’. Given its acute sensitivity to what White people think of them, the elite of the Indian Union and their representatives in the parliament might suddenly discover that ‘unnatural sex’ is not unnatural after all.

Leave a comment

Filed under Class, Elite, Eros, Sex, The perfumed ones, Uncategorized

When Nagas follow the constitution and ruffle the centre / At the margins of homogeneity / When the state of Nagaland upholds the constitution

[ Daily News and Analysis, 9 Dec 2013 ; Millenium Post, 9 Dec 2013 ; Echo of India, 9 Dec 2013 ; Morung Express ; Kashmir Reader, 16 Dec 2013 ; Dhaka Tribune, 17 Dec 2013 ]

The Union of India is not a homogenous union. It never was. What I mean by this is that its constituent parts are not created equal nor does the law of the land treat them equally. There are a host of special provisions that apply to specific constituents only – thereby removing any chance of homogeneity. There is indeed a great deal of homogeneity of law – but that is in ‘mainstream India’. ‘Mainstream India’ has typically been those parts of the Union where the Indian Army is not deployed at present. Naturally, the contour of this ‘mainstream’ has been changing. Places where the Armed Forces Special Powers Act (AFSPA) is in action, there are sweeping powers that the Armed Forces have over the life and liberty of people. The AFSPA has been applied at different times to most of what constitutes the Union of India’s northeast. No points for guessing in which other zone, apart from the northeast, does the AFSPA remain in force. But lets get back to homogeneity.

The non-homogeneity of the law typically remains buried from the mainstream (for definition of mainstream, see above) because most people from the mainstream simply do not have much reason to venture ‘out there’. The converse is actually true. In an over-centralized system, largesse in the form of opportunities, public facilities, institutions, universities, infrastructure, etc are inordinately showered around a zone around New Delhi called the National Capital Region (NCR). Hence, those from ‘out there’ have to trudge to the centre of the ‘mainstream’, whether they like it or not. It is very rare that this non-homogeneity comes into public scrutiny in the mainstream. Except for the big exception – the K exception. The provisions of the constitution of the Union of India that accords special K provisions has been the stick by which religious majoritarian forces have tried to show their super-special Indian-ness. Others have avoided the issue, for their supposed fear of losing religious minority vote-banks. The agreements between them are far deeper, but let us not go there.

Auspicious days have a special value in our lives. So much so that the ‘bad guys’ specially choose such occasions to mar the jubilation. They must be having a particularly twisted mind. 1st December 2013 marked the 50th anniversary of the Indian Union declaring the state (in the constituent province sense) of Nagaland. As late as 1936, the British authorities were not entirely sure where to put most of the ‘northeast’ – in the Empire of India or in the soon-to-be-created crown colony of Burma. Indeed, after 1937, some Naga areas ‘fell’ in Burma. Funny, isn’t it, that the land, that inalienable heirloom of ancestors on which a people live and their identity thrives are not the most important truths – but lines drawn without consent and ‘falling’ on people are. Nagas have led the longest struggle (someone’s terrorism, someone’s insurgency, someone’s freedom struggle – we all know the routine disclaimer) against both the post-British Burmese and Indian states. Whether they are post-colonial states (and this doubtful list includes Pakistan too) depends on whom you ask.

More than 50 years ago, the then prime minister of the Union of India, Jawaharlal Nehru said in the Lok Sabha – “ The Nagas are a hard-working and disciplined people, and there is much in their way of life from which others can learn with profit. We have had for many years Nagas in the Indian Army and they have proved to be excellent soldiers. Our policy has always been to give the fullest autonomy and opportunity to self-development to the Naga people, without interfering in any way in their internal affairs or way of life.” The last sentence is critical, as it goes against the usual thrust of policies from New Delhi – typically aimed at creating a homogenized, Hindustan (Hindi-heartland) centric identity. However, the context is important. When the Brahmin from Allahabad was speaking those words, he knew the stakes. A few years before that, certain Naga groups had conducted a plebiscite. The Union of India did not consider any such plebiscite legal and of course there was no question of respecting the verdict of something it considered illegal in the first place. Legality is something. Reality is typically something else. The army was brought in. These pronouncements by Jawaharlal came shortly after his discussions with a group called the Naga People Convention (NPC). They negotiated the subsequent statehood status for Nagaland. Given the prevailing conditions, special provisions for the State of Nagaland were incorporated as Article 371A of the constitution of the Union of India.

Now on the eve of the 50 glorious years of Nagaland’s life as a state of the Union of India, the ruling party of Nagaland called the Naga People’s Front has decided to take Article 371A of the constitution and certain pronouncements by the Petroleum Ministry in the parliament of the Indian Union at face value. The Nagaland state government wants to use all its natural resources on their own and has cited the constitution to say it is constitutional. This is the kind of problem you get into when you have non-pliant provincial governments. New Delhi is not amused at the constitution being thrown at them. This is a crisis, not so much of law breaking, but of law-following. We probably know how this ends. There will be ‘high-level’ ‘meetings’ and ‘consultations’. The otherwise passive position of the Governor of a state (a New Delhi agent and probably predictably a former CBI apparatchik) will become active. The state government will probably back down. The courts will go the ‘right’ way if it comes to that. It will be ‘all peaceful’ on the Northeastern front. And the Union of India will have lost another opportunity to breathe much-needed life-blood into its federal structure.

1 Comment

Filed under Army / police, Caste, Change, Delhi Durbar, Federalism, Foundational myths

The vast reality beyond Narendrabhai and Rahulbaba / The potentialities of ‘regionalism’

[ Daily News and Analysis, 25 Nov 2013 ; Millenium Post, 27 Nov 2013 ; New Age (Dhaka), 28 Nov 2013 ; Echo of India, 29 Nov 2013 ]

If you are one of those who think that English language television channels headquartered in and around Delhi present a reliable picture of the subcontinent, it is time to take a serious reality check. Such and other Delhi-centric views would have you believe that the coming Lok Sabha election of the Indian Union is some sort of a boxing match between Narendra Modi and Rahul Gandhi and that the sentiments of the people are neatly divided between the Indira Congress and the Bharatiya Janata Party (BJP). These 2 parties distinguish themselves from others by the influence Delhi-based operators have on their policy and workings. Many ‘think-tanks’ that have sprouted up in Delhi, staffed with well-heeled ‘analysts’ with opaque connections to these 2 parties. Puncture one of these ‘tanks’ and what gushes forth is predictable – a lamentation about how the Indian Union cannot be left to anything but ‘national’ parties. The combined chorus of Delhi-based policywallahs, mediawallahs, academics, defence contractors, security apparatchiks and other glittering-shady characters has one tune – there is no choice beyond the Cong and the BJP. Lobbyists and pimps of all hues have invested hard in parties that are operated from Delhi. Each of these sectors has their own reasons to sing that song – but their combined howl has a terrific effect that has the power to move people. Which is precisely why they do the familiar singing when elections are near.

Let me put this cheerleading for the ‘national’ parties in some perspective. For the longest time, a single ‘national’ party ruled the Indian Union uninterruptedly. Since 1989, governments have essentially formed by a national party with a pound-of-flesh arrangement with some others. The national party makes policy while the coalition ‘partners’ keep mum and take their cut. This arrangement is at the heart of the present United Progressive Alliance (led by the Indira Congress) and the National Democratic Alliance (led by the Bharatiya Janata Party). The National Front and United Front governments were notable exceptions where parties with diverse regional origins came together to form policy. The Indian Union is supposedly a federal union – which is an arrangement in which the constituent units  (the states) and Delhi govern together.

Over the decades since partition of 1947, Delhi has consistently and systematically encroached on the rights of the states, by its ‘directives’, arm-twisting opponents or simply by using super-majorities of the Congress years and now increasingly by the unholy alliance on certain matters between the two nationals, Cong and BJP. Whereas centralization of executive power has made the Indian Union less democratic, it has also made the removal of entrenched elites harder. No wonder most members of parliament own property in Delhi and their progeny increasingly live there. On the other hand, the regional parties have been steadfast in their defense of the principle of federalism – as the recent stances by the Trinamool Congress, Biju Janata Dal and others on the issue of opposing the National Counter Terrorism Centre (NCTC) clearly show. It is majorly due to the decline of the national parties that today it is not easy to use the kalo ain called Article 356 to remove a democratically elected state government. Balancing the over-centralization that has occurred over the last few decades needs an agenda for true federalism that can be supplied most muscularly by parties that consider their own state as the ‘centre’. Only such formations can demand exclusive state rights over their own resources and revenue. In the absence of economic autonomy of the states, ad-hocism and pound-of-flesh favouritism will keep some states happy and some states neglected. Delhi will corner disproportionate resources and subsidies anyways.

The continued use of the term ‘regional’ has another goal. This is to paint certain groups as hindrances to the speedy march of the Indian Union. ‘Regional’ has become a bad word. But the reality is that most of us (barring some post-liberalization yuppie urbanites) are not ashamed to be Tamils, Marathis, Bengalis, Oriyas and no other identity, real or imagined, can displace that.

What is the scope of these ‘regional’ parties in the global perspective? The Trinamool Congress got more votes in 2009 Lok Sabha than the victorious Tories got in the UK parliamentary elections of 2010. The DMK got more votes than the ruling Conservative party of Canada got in their 2011 federal election. Consider this. Post-partition, no national party has won an absolute majority of votes, ever. Also consider this. Even if I add up the 2 national parties, they have won less than 50 percent votes in 3 of the last 5 Lok Sabha elections. By concentrating simply on these 2 nationals, we stand to lose sight of the diverse and substantial political currents that represent the subcontinental reality. The Indian Union is a federal union. To make it a more democratic union, Delhi needs to be kept in leash by the states. The over centralized, Delhi-controlled India must die so that the Union of India may live.

1 Comment

Filed under Delhi Durbar, Democracy, Federalism, Identity, India, Polity

Mine is bigger / Heights of silence

[ Outlook, 9 Dec 2013 ]

October and November have been months of big-ticket items that we have been told to be proud of.  While one of these, a mission to Mars, is simply out of this world, the other is not quite so. The proposed statue of Vallabhbhai Jhaverbhai Patel will be the tallest in this world. At 182 metres, this ‘Statue of Unity’ will be able to look down upon the ‘Statue of Liberty’, standing at a mere 93 metres. Calls for unity have always cast a long shadow on liberty. Nothing too exceptional there. This latter source of ‘national’ pride will however be built by a non-swadeshi consortium – muscular MNCs from the USA and Australia. It is estimated that the project with all its paraphernalia will cost about 2500 crores.

The primary legatee of Patel’s political stature was the Congress party. But ever since the Panditain split the party in 1967, the successor party has been very selective about its pantheon. Godliness runs in the bloodline and hence the political legacies of many erstwhile Congressite stalwarts with the wrong surnames have gone largely unclaimed, till Narendrabhai really upped the ante by trying to stand on the shoulders of Vallabhbhai. For that antic to pay off, one first needs to create a giant. 2500 crores seems to be enough to build one.

Not so long ago, statues of a different kind were the talk of the town. They too were very costly, but they were numerous and the project did not seem to be particularly timed to serve some greater purpose for Mayawati, the chief patron. When Mayawati got the statues built, including infamously, her own statue, the chattering classes who have long checked out of government hospitals and government schools suddenly became acutely interested in how the money that was being spent in this project would have otherwise done so much good for Uttar Pradesh. Many reams of newsprint and many hours of primetime television were devoted to the absence of proper sanitation facilities, the high maternal mortality rate and other such sad things in Uttar Pradesh. This sharp focus invariably came twinned with the statue project – how the money could have helped Uttar Pradesh in so many ways but for its megalomaniac leader. The shabby state of health and public infrastructure in Uttar Pradesh was not new. What was new was the acute sense of empathy and concern for these timeless problems. What was crucial was the time when the concern came forth. The silence of those sectors of society and media, when it comes to the ‘Statue of Unity’, is deafening, given that Gujarat is not exactly a champion in human development indicators. It was even more deafening in 2010, when the project had been first announced by Narendrabhai. Between then and now, the Indira Congress – NCP government in Maharashtra, has announced a grandiose Shivaji statue project. But the light of scrutiny about the ‘misuse’ of public funds fall disproportionately on mass leaders of certain predictable caste backgrounds. Casteism is unconstitutional but casteism under the cover of public interest is not.

The minimal middle class grumblings that have emerged to the Vallabhbhai statue project is a reflection of some opposition to Narendrabhai’s rising stature as a pretender to Vallabhbhai’s legacy and prime ministerial aspirations. This opposition by its very nature is narrowly partisan and essentially anti-Modi. This is in sharp contrast to the nearly across the board condemnation that Mayawati’s Ambedkar Memorial project received from these very classes. Selective silences that follow many words often tell us a lot about the speakers.

What is Mayawati’s Ambedkar Memorial project anyways? The recent focus on Vallabhbhai by way of Narendrabhai has provided an opportunity for many to get reinformed about the long-dead ‘Iron Man’s’ life in excruciating detail. The audience has had its fill of ‘its’ national greatness that it ought not to forget, not after the statue. But beyond Mayawati and Ambedkar, do they know even the names of the other people whose statues were put up at the Ambedkar Memorial? Who was Sant Narayan Guru? Why do they not know? Why do we know more about certain things vis-à-vis certain other things?

Vallabhbhai has been credited with the process of ‘reuniting’ ‘India’ by forcing the lands of 500 plus princely states into the newly formed Union of India. For many, the unity of the lives of people is the unity that matters. That is the unity that Bhimrao Ambedkar envisaged. It is yet to be achieved. It is that unmet dream that makes him stand out amongst the leaders whose stature, post-partition, has only grown and grown, largely without state patronage and in spite of statue desecrations.

When the powerful or pretenders to power want to thrust forward, they often need vivid inspirations, real or imagined, preferably larger than life. Without such inspirations, certain tempos cannot be sustained for too long. Figures from the past prop up the present and vice versa – in whatever way deemed fit for future purposes. In an environment of power politics that is obsessed with projecting and executing ‘manly’ solutions for a ‘chaotic’ and disobedient subcontinent (my extra-judicial killing is more patriotic than yours), the need for a grand something that brings together the republic, the phallic and the symbolic has been quite acute. It is even overdue, some may say. The invocation of ‘unity’ as a counterweight to insurgent liberty is not new.

Leave a comment

Filed under Caste, Elite, India, Media, Memory

The urban myth of the ‘simple villager’ / The convenient fiction of the ‘simple villager’ / Urban legend of the simple villager

[ Daily News and Analysis, 11 Nov 2013 ; Millenium Post, 9 Nov 2013 ; Echo of India, 12 Nov 2013 ; New Age (Dhaka), 12 Nov 2013 ]

Our family hails from Patuligram near Jirat, in the Hooghly district of Bengal. We have been there for at least four centuries and our clan has deep ties with the place. This ensured that I accompanied my parents to our ancestral village home once or twice a year. By no stretch of imagination can I claim myself to be a village boy but it was not an altogether alien thing to me. It was not ‘exotic’ or many other things apparently villages in the subcontinent are. That there are as many types of villages as there are villages is something I learned slowly, but that is another matter.

In my childhood years in urban Bengal, ‘Boshe Ako’ (Sit and Draw) painting competitions were a rage among the pre-teens. Anecdotes gathered from others make me think that this was prevalent in many areas of the subcontinent. Today, the definition of ‘coolness’ does not include such things, especially among the more Anglo-Americanized segments of society, but that was then and there. A ‘village scene’ figured among the most popular themes that one would draw.

A typical ‘village scene’ would include a focal hut and sometimes a few huts in the distance, a river, a few coconut trees, a lot of empty paper to signify open land, sometimes a few human figures to denote villagers, and most curiously, a few sharp triangles in the background that might have signified hills with peaks, with the sun peeking out from behind, much like the electoral symbol of the Dravida Munnetra Kazhagam. Most villages of the subcontinent do not look like this. This was an idea of the village generated in city-spaces populated with the scions of a generation that could not completely deny their erstwhile origin from villages but were mostly clueless about what it might look like. The tiny producers of these kitsch villages have grown up and gone on to form that generation that wears rootlessness as a badge of honour.

That urban kid of yesteryears was expressing a very distilled form of an ideology. The same kid would draw many more articles in a city scene, make it a much more ‘active’ site of human activity. The village was of one type – undifferentiated. Simple. So were the villagers. Of simple mind. The lack of a human connection with the village (as opposed to the ‘exploration’ tourism type of thing that some urbanites now do) enabled the construction of a certain idea of a village and the villager. Now that rural lands are the primary targets for the unsustainable and parasitic urban expansion, this idea comes most handy. Especially in a development discourse, the simple villager idea helps getting consent and support from crucial urban sectors for land grabbing and urbanization.

The creamier part of this sector is shameless enough to partake in ‘traditional cuisine’ in an ‘authentic’ village setting, set up false ‘village-like’ props during their marriage ceremonies, de-stress at ‘traditional’ spas (the notorious ‘Vedic Village’ is one such) and seek a pollution-free ‘green’ life ‘away from the city’ – one’s private concrete ‘ashiyana’ in a manicured make-believe ‘village’ setting. The obscenity of it all is probably beyond these urban denizens but is not lost on the evicted villagers who often hover around their erstwhile homes and lands as menial help. It is my suspicion that they hover around the Rajarhats and Greater Noidas of the subcontinent even after death.

But the villagers were not so ‘simple’ even in the recent past. Though literary representations are a poor approximation of life itself, for what they are worth, the villagers in the works of Sarat Chandra Chattopadhyay, Munshi Premchad or Rabindranath Thakur are far from simple. The ‘simple’ villager fiction would not have sold amongst folks whose fathers and grandfathers were from the village and were not quite simple. Manmohan Singh grew up in a village during his ‘impressionable’ years before adulthood. Whatever be his virtues, ‘simplicity’ is not one of them.

The ‘simple’ villager is a useful product of propaganda, which dictates that villagers need to be protected against their own ‘simplicity’. The ‘simple’ villager is most commonly invoked when an obstinate and rooted one does not give up one’s land. His ‘simplicity’ makes him impressionable. He can be easily excited to protest against the state by manipulative ‘outsiders’. He, thus, has no agency. His opposition is false. His protest is false. His simplicity is true. Under these false ideas, we find the ideology of power at work, that always saves people from their own ideas. The simple village was born in a complex metropole without an umbilical cord but a voracious appetite. The objective of this infantilizing of the village is not nurture but infanticide. The paintings of our urban childhood were not that simple after all.

Leave a comment

Filed under Bengal, Displacement, Elite, Identity, Jal Jangal Zameen, Sahib, Urbanity

The many avatars of Asaram Bapu / The Asarams around us

[ Daily News and Analysis, 28 Oct 2013 ]

The way the likes of Asaram Bapu and other ‘godmen’ have allegedly taken sexual advantage of the iniquitous power dynamic they had with their ‘disciples’ makes any consent in their acts questionable. Especially in the case of Asaram Bapu, the image of this man with ‘fans’ and disciples half his age or even less has evoked widespread revulsion from disciples and non-disciples alike. What Asaram preaches cannot be separated from what Asaram does. Can we extend these criteria to others? Which other people get away by taking advantage of iniquitous power dynamics?

There is something called ‘artistic license’, a concept often used to create a smoke-screen of exception around activities otherwise abhorrent. Some things are apparently okay if an iniquitous power situation is perpetrated by an artist, writer, poet, musician, visual artists, film-types – some ‘creative’ person. Not everyone is like this but you know the type we are talking about. In this ‘creative’ crowd, one often discovers characteristics that Asaram would recognize. A famous Bengali poet-novelist was known for his ‘intellectual’ communion with fans, typically half his age. Another equally famous and now-deceased writer of romance from Bangladesh married his daughter’s friend who was into films. Typically, they marry or propose to people half their age. The need for ‘fresh meat’ is a sick mentality that they can couch well by their word-wizardry and their ‘artistic’ bent. Some who marry early (like the deceased poet-novelist) put their spouses through a life of shame and indignity. Those who were just too cool for marriage before their 40s make it up by marrying people half their age. Are god-men the only schemers while these are on experimental ‘journeys’? Do these writers write why they mostly like them young – or will that literary ‘exploration’ destroy the ‘opportunity’ at hand one might be nourishing? Will abstract painters paint and film-types make ‘experimental’ films on the nitty-gritties of their inner schemes? That we don’t call out what’s going on here should cause serious self-reflection in those of us who condemn the Asarams. This blind-spot is especially troubling due to the deep sexism embedded of these circles. In such inequities, the less rich, famous and younger is mostly a female.

How do these wreckers of families and individuals, get such a long leash? Just because they are rich celebrities who can charm young ones in whirlwind summer romances of ‘special attention’ when people of their own age cohort have moved on? The combination of age, power/fame and economic difference is characteristic of a predator. Sadly, the victim’s false sense of agency is characteristic of the ‘liberated’ circles. Just like god-men, predators also often have a fully liberated person in every town, you know, just in case on has to drop in for some relief and ‘catching up’. Some victims are lured into thinking that they too are part of the predator’s dreamy, ‘interesting’, ‘care-free’, ‘experiential’ and ‘experimental world. This charade of agency is important for the ‘liberated’, for from that flows a sense of consent. Tragically, the predators know this too well and use to the hilt to their advantage.

Some victims return to society to cut losses. It hurts the pride of the ‘conscious’ and ‘liberated’ victim to admit that. Society holds the bag to collect the wreckage; due to ties it considers sacred – family values, matrimony and other markers of ‘backwardness’. If only these backward types could mix in the right circles, read the correct books and be ‘articulate’, snort the right stuff in right company, then they would understand such ‘creative’, ‘consensual’ projects. But alas.

Leave a comment

Filed under Culture, Elite, Eros, Gender, Our underbellies, Sahib, Scars, Sex, The perfumed ones, Under the skin, Urbanity

Death of a general / The unconquered General Giap

[ Daily News and Analysis, 12 Oct 2013 ; New Age (Dhaka), 24 Oct 2013 ]

‘Amar nam, tomar naam,

Vietnam, Vietnam’

(Your name, my name, Vietnam, Vietnam)

–       a popular slogan in West Bengal expressing solidarity with the Vietnemse people during the US-led military operations against Vietnam in the 60s and the 70s.

General Vo Nguyen Giap, the brilliant chief of the Vietnamese forces who gave the French, till-then the hardest kick in their back from a colonized people, died on 4th October. The development of civilizational and philosophical finesse in the form of Michelin stars, ‘fine’ dining, schools of politics and philosophy, experimental art and delicate wines have long been subsidized by the blood and tears of non-White people. So General Giap and his Vietnamese guerrillas surely left a bad, non-fruity after taste in the French palate. The French were thoroughly defeated at Dien Bien Phu. They surrendered to the Vietnamese. We had won.

For the subcontinent, whose ‘liberation’ from colonial rule did not involve surrender of the colonizers naturally did not involve liberation from the institutions that suppressed rebellions, beat up and tortured political workers, certain national liberation struggles of South-East Asia may seem from a different world. Indeed, it was a different world, where the native-staffed army and police that swore undying allegiance to some European power, did not automatically become the army of police of ‘independent’ nation-states. In the subcontinent, armed group of men in uniform loyal to the British crown, turned desi patriots overnight, with rank, pay and pension protected. Thus, it should not come as a surprise that the Indian Union’s Indian Army has conducted extensive aerial bombing of its own citizens in Mizoram and armed-uniformed wings of the state are the organizations accused of the largest number of rapes, again, of its own citizens. Its twin born out of the same transfer of power, the Pakistan Army has aerial bombed its own citizens in Balochistan for years. For a subcontinent, which has been taught to mix up transfer of power (and institutions) with national liberation, Vietnam would have showed them what the real thing looks like.

The Vietnamese victory at Dien Bien Phu shook the world. For those uninfected by the ‘White-awe’ syndrome, like Malcolm X, the meaning of this victory was clear who used this for his own political preaching. ‘White man can’t fight a guerilla warfare. Guerilla action takes heart, takes nerve, and he doesn’t have that. He’s brave when he’s got tanks. He’s brave when he’s got planes. He’s brave when he’s got bombs. He’s brave when he’s got a whole lot of company along with him, but you take that little man from Africa and Asia, turn him loose in the woods with a blade. That’s all he needs. All he needs is a blade. And when the sun goes down and it’s dark, it’s even-steven.’

There was a time when the 1905 Japanese naval victory over the Russians broadened the chest of many a brown people. There was a time when a significant number of middle-class brown people too considered themselves Asians. The idea of Asia and Asian-ness is long-gone from the subcontinent. The great-grand children of such brown Asians have their mindscapes dominated by video games and films and shows, with white winners, white saviours, white sexiness, white ruggedness, white determination, white failings, white sacrifices, white sadness and a million other minute shades of white-human personhood. To this generation, the Asian is a term for folks with ‘slit eyes’ – such is the pernicious grip of whiteness on bankrupt minds. Part of the reason that the subcontinent is saddled with false gods and extreme alienation is that we never had our own General Giap. Which is why, when this towering personality breathed his last, we did not know that we had lost our very own. The Vietnamese got a national liberation army. We got folks who pride themselves on being patted on the back for killing colored people, at home and in faraway land, for the British monarch.

My own city, Kolkata, had a special connection with General Giap and Vietnam. Even before partition, the students of Kolkata observed Vietnam Day in January 1947 in solidarity with the Vietnamese anti-colonial struggle. The brown British police killed 2 protesting students. The same police would be designated loyal enforcers of law in about 8 months time. General Giap visited the city more than once and then, as a school student, I had the good fortune of seeing him with my own eyes. Thousands had assembled to catch a glimpse of him that day. I feel it is not unrelated that removing slums is still the hardest in that metropolis. Many browns have a peculiar interest in the twists and turns of the World Wars. That the chivalrous white man dropped more bombs in Vietnam to crush them than they dropped in each other in Europe during the Second World war is one of those details that do not break into brown consciousness due to the ideological predilections we have to due other kinds of story-telling that we have become specifically atuned to, as an enslaved people. We know about white successes and white failings, white truths and white fictions, but that’s about it. In our enslaved heads, we can love or critique Rambo and other ‘world’-saving White creatures, real and imagined, but many coloured people were saved for the likes of General Giaps, big and small. Let us expand our heads to accommodate our heroes.

 

Leave a comment

Filed under Bengal, Colony, History, Kolkata, Memory, Nation, Obituary, Sahib

Paying the price for a gory ideology of hostage theory / Vague vengeance driving terror / Vague vengeance and Pakistan church blast

[ Daily News and Analysis, 1 Oct 2013; Millenium Post, 7 Oct 2013; Shillong Times, 7 Oct 2013; Echo of India, 9 Oct 2013 ]

“Ekbar matir dike takao,

 Ekbar manusher dike”

 (Once, take a look at the ground beneath your feet. Then, look at human beings)

 –  Birendra Chattopadhyay, Bengali poet (1920-1985)

 

In the most murderous attack on what is left of the ever-terrorized Christian population in Pakistan, Islamic terrorists have killed at least 85 worshippers at the All Saints Church in Peshawar on September 22nd. Inspired suicide bombers were the weapon of choice to target the Christian congregation. The death count is still rising, as more people succumb to their injuries in the hospitals. Outright murder represents the sharpest edge of what Christian and other ‘constitutionally’ non-Muslim people endure in Pakistan. Their daily life in a nation-state that officially considers them unequal in various ways to official Muslims is not pretty. Usurpation of property, blasphemy charges, attacks and destruction of places of worship, rape and subsequent forced conversion (or the reverse order) of womenfolk form the visible tip of a much broader systemic antagonism.

Thankfully, the minorities are not completely friendless in Pakistan. At huge personal risk, people like IA Rahman, Asma Jehangir, Abid Hasan Minto and many others have been standing in solidarity with religious minorities of Pakistan, protesting on the streets, for decades together. The threat to their lives is real, as was shown by the brutal murder of Salman Taseer, governor of West Punjab, and someone who had expressed solidarity with a Christian woman, Aasia Bibi, phonily charged with blasphemy against Islam and given a death sentence. The recent anti-Christian massacre has brought the predictable protestors to the streets – human rights activists, left activists and the Christian community itself. But in addition to this, a somewhat broader segment also has protested. These groups have demanded that there be no dialogue or negotiations with Islamic terrorists behind this attack.

While shunning dialogue, the society in Pakistan may do well to initiate a broader dialogue. Directed not at the clearly-defined demons like the Taliban, this dialogue may point to a broader disease that emanates uncomfortably from the holy-cows of that nation-state. Only the society-at-large can initiate such a dialogue that explores the contours and content of inherited socio-political ideology, things that take a providential status as foundation-myths of any nation-state. Should one take a closer look at holy cows and foundation myths to diagnose the disease?

Jundallah, the Islamic terrorist group that claimed responsibility for the Peshawar massacre, laid out in no uncertain terms how it justifies the attack. ‘‘All non-Muslims in Pakistan are our target, and they will remain our target as long as America fails to stop drone strikes in our country.’’ So, non-Muslims in Pakistan are, in their understanding, more America’s than Pakistan’s and if America cared enough for its ‘own’ in Pakistan, it had better stop doing things to Muslims in Pakistan. This equation of America = Christian = some hapless Suleiman Masih in Peshawar has widespread appeal, not only for its simplicity, but also for its antiquity. For those who have a somewhat longer memory, the subcontinent has known this for some time – most famously as the pernicious ‘hostage’ theory.

The ‘hostage’ theory has been around for some time. This was enunciated most explicitly by Mohammad-Ali Jinnahbhai, the quaid of the All India Muslim League, as a macabre formula for peace. By this notion, the safety of religious ‘minorities’ in the then still-to-be-born Pakistan and India would be ensured by the fact that the majority community A wont attack minority community B, because in other places, community A is a minority where B is the majority, and hence vulnerable to ‘retributive’ counterattack. Hence, it would ensured (or so it was thought) that violence would not happen locally, as communities that imagine themselves non-locally, would see that this could go tit for tat for ‘themselves’ elsewhere. A minority then is a hostage of the majority. If there are two hostage takers, peace will be ensured. Rather then hostage-driven peace, the subcontinent has witnessed many instances of what can be called retaliatory hostage torture. The massacre of Hindus in Noakhali on Kojagori Lakshmi puja day, the massacre of Muslims at Garhmukteshwar, the reciprocal train-massacres crossing the Radcliffe border of the Punjab, the massacres in Dhaka and Barisal – the list goes on. The list shows that hostage torture enjoyed a broad currency. The Muslim League was simply brazen enough to state it as such. Other groups also used it to their advantage to the hilt.

A tacit acknowledgement of the ‘hostage’ status of minorities was the basis of the Nehru-Liaquat pact – to protect the minorities in West Bengal and East Bengal. The hostage theory lives on when the Babri mosque demolition causes hundreds of temples to be destroyed in the Peoples Republic of Bangladesh. This is why a Hindu there is more India’s than theirs – sort of an unreasonable remnant that ideally shouldn’t have been there. The hostage theory is an ideology of the book and not of the soil. The question of a human’s belonging, in that heartless scheme of things, is not with the soil beneath his ground, but with someone faraway bound by similar ideology. This binds people from disparate soils similarly, and divides people from the same soil. The modern dominance of universalist, extra-local ideologies of community definition, as opposed to the local and the ecological, has taken a very heavy toll on humanity. Peshawar shows that the ideology of the hostage theory is alive and well in the subcontinent. Jundallah is its bloody edge. The softer margins include a very many among us.

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Foundational myths, Identity, India, Kolkata, Our underbellies, Pakistan, Partition, Religion, Scars, Terror, Under the skin

Tropical universities and knowledge production / University rankings and India / University rankings and Indian academia

[ Daily News and Analysis, 16 Sep 2013; Kashmir Reader, 17 Sep 2013; Millenium Post, 20 Sep 2013; Shillong Times, 21 Sep 2013; Hitavada, 22 Sep 2013; Echo of India, 25 Sep 2013]

As world rankings of universities are being discussed, we are back to that sad truth. No university in the subcontinent figures in the top 200 universities in the world. However, one would not realize this when one looks at the cocksureness and pomposity of desi academics in the subcontinent. There is a Bengali idiom called ‘Bon gaye sheyal raja’ which means that in a far-way forested village, even a fox can be king. Such is the state of affairs around us.

Some would have us believe that it was not always so. Around the time of the great uprising of 1857 led by the mercenaries of the East India Company, 3 universities were also established in the 3 presidency towns of Calcutta, Bombay and Madras. In no small way the result of a 1854 dispatch sent by Charles Wood, a top dog of the Company, to James Broun-Ramsay, the then governor general of Company territories in the subcontinent, these 3 institutions continue to be important institutions of higher learning in the Union of India.

Founded in the same year, all these institutions celebrated 150 years of their existence, with a lot of pomp. I graduated from one of these afore-mentioned universities and I was present at more than one such ‘celebration’. Four years after 1857, on the other side of the globe, the Massachusetts Institute of Technology (MIT), the institution I am affiliated to at present, was established. I was also present at its 150-year celebration events. Thus I had the opportunity to compare what I had seen and heard in the subcontinent and in Massachusetts, USA. The difference could not have been starker. Much of what I heard in the sub-continental anniversary celebrations was about a supposed glorious past, long-standing ‘heritage’, a lot of talk about famous personalities associated with the institutions and gloating over all this. At MIT, almost invariably I heard about plans about the future – new avenues of research, newer expansions, and newer challenges. There was not much mention of personalities in the institute that has produced 78 Nobel laureates till date. Neither is MIT peppered with ‘museums’ dedicated to Nobel laureates. Museums are same as temples and mosques – places of praying for things to go right miraculously, not places of action.

In the subcontinent, when one thinks of MIT, a centre of excellence for research in engineering and technology is the typical impression. While that is true, according to the 2013 update of the well-regarded QS World University Rankings published last week, in the whole world, MIT is second only to Harvard in Biological Sciences and Economics. What this means is that it has not simply stuck to its one-time strengths but has actively diversified its ‘priorities’. In doing so, it has also shut down departments and divisions whose shelf life was perceived to be over. These are signs of a living institution in conversation with the cutting edge of knowledge production – situated squarely within the social needs and agendas of the society it derives meaning from.

In the QS rankings, MIT tops the list Harvard, Cambridge, Stanford, Yale, Oxford and Princeton are also among the top 10. It may be news to some readers that not one of the top 10 universities of the world has a department of botany at present. In most cases, they ceased to exist decades ago. All that remains are museums bearing that erstwhile department’s name. Contrast this to the large departments of botany in most universities of the subcontinent. May be there is something we get that ‘they’ don’t. Given that the occidental university system and department making is something that ‘they’ taught us, could it be that there is something they get that we don’t?

It is worthwhile to continue with the example of botany. When the white colonial powers set up universities in the subcontinent, why did they set up departments of botany? What knowledge did they seek to produce? For whose benefit? What made them wind up or fuse certain departments? To cut whose loss? All knowledge production and prioritization exists in a societal context – the colonizer’s societal context fashioned their decisions, at home and in the colonies. Given that we are not only inheritors of such university systems but also active perpetuators, do we have an appreciation of our own reasons to do so? Why are there so few institutions like the Indian Statistical Institute that was conceived in a social context, whose agenda is in conversation with the society it derives funding from and blooms in and also is a centre of excellence?

But then this is part of a bigger problem. So let me broaden the ambit a bit.Why do certain things, like homeopathy and psychoanalysis, have long after-lives in the once-colonized tropics compared to places from where they were imported? Lets hone in on psychoanalysis. To understand the mind, one needs to study the mind and yes, people are studying the mind. Much of these studies are not aimed towards illness or pharmaceuticals, in any foreseeable way. If some have a muse in the form of psycho-analysis, an outdated fad which has all but died except in ‘fields’ insulated from currents around them, they can have it. Just not with people’s funds. The tropics can ill afford it. Understanding the mind shouldnt be a dead idea but unverifiable tracts cannot replace inquiry and can hardly be called a knowledge project. And again, the social context is crucial to all these things. The question in the piece is, why do such things continue to live in tropics long after they are dead in their places of origin. The answer may partly lie in the very skewed class-caste composition in the academia of the subcontinent – this enables socially insulated indulgence to a dangerous degree.

When the site of knowledge production is far off and they cater primarily to needs of alien societies, transferred knowledge and ideas create a sense of awe. This results in a lack of confidence to manipulate, to break, to discard. In so far as universities are fountainheads of societal knowledge yearnings, what do our societies want to know? Have we even asked? We better start doing that. Otherwise we risk becoming expert cleaners and preservers of other people’s furniture, even lacking the confidence of changing the arrangement. However the cleaner’s wage is paid by our own brown people. This is how the third world continues down the path of being  2nd class at the 1st world’s priorities and it is mightily proud about it.

Leave a comment

Filed under Acedemia, Education, Elite, Identity, Knowledge, Science

My vote for pluralism

[ Open Magazine, 14 Sep 2013 ]

On one issue, there is no doubt. If there was a murder most foul – it was Narendra Dabholkar’s. The slain leader of the Maharashtra Andha Shraddha Nirmoolan Samithi was, by any measure, a well-wisher of the people. He was a strong supporter of inter-caste and inter-religious marriages. He had been fighting, for decades, an unwavering war against ‘black magic’ practitioners and had ruined the business for quite a few. Threat to his life was ever-present. It is thought that the recent airing of his views endorsing inter-caste marriages and his long-term push for an anti-superstition bill finally did him in.

A doctor by training, Narendra Dabholkar cut his teeth in rural social service with another doctor-turned-activist Baba Adhav during the “Ek gaav, ek panavtha” (One village, one pond) movement. What set Dabholkar apart from many atheist-rationalists is how his work was deeply embedded in society – not preaching from above but militantly conversing alongside. He earned his legitimacy by living an exemplary life. The widespread shock and anger on his murder points to that. Urban rationalist talking heads might learn a thing or two from his life before complaining for the umpteenth time how ignorant the people are. During his lifetime, he was painted, with partial success, as someone who was anti-religion. That view also has serious currency. It is important to see why.

Dabholkar led a crusade against the deleterious environmental effects of divine idols. Water pollution was the holy cow that was used to elicit a court order banning certain kinds of idol-making substance in Maharashtra. Is that being anti-religion or anti a particular religion? Who knows. But put back in the context of a world where the people see the pollution and choking of rivers, lakes and other waterbodies by large-scale industrial effluents going unpunished, this particular focus on water pollution from idols does carry a different charge.  What conclusion should those idol-worshippers draw, who see both the ban against plaster-of-paris idols and the unchecked water pollution from other sources? Believers are not donkeys.

It is not a coincidence that nearly all the self-styled gung-ho rationalists or ‘magic’-busters of the subcontinent are also staunch atheists. A stupendous majority of the people is not. However, when preaching rationalism, the preacher’s atheism bit is downplayed or made invisible. We are not against religion but against superstition, they say. Believers are not sheep either and can identify patronizing double-speak. They are naturally left unimpressed by those who claim to be sympathetic do-gooders but actually could give two hoots about people’s beliefs and viewpoints.

The grand failure of such atheist/rationalist projects, in spite of having the full weight of the constitution of the Indian Union behind them, also has to do with the patently alien idioms of communication and propaganda that they use. That the rationalist propagandists themselves are often alienated from the living currents of their own society does not help matters.

When a miniscule minority aims to scare, browbeat and threaten people of faith by trying to get legislation passed that criminalize practices that believers voluntarily submit to, what we have is a most naked use of privileged access. This privilege follows the usual path of undemocratic access in the subcontinent – urban backgrounds, English education, Delhi connections, friends in media and so on. Every time such legislation is passed, it undercuts democracy – for, in their spirit, such legislations seek to act as wise elders, running roughshod over the beliefs and opinions of the people at large. It may befit a sociopath to assume that the masses are either juvenile or imbecile or manipulated or in darkness. It hardly is the ideal characteristic of a socially engaged being in a democratic society. Every individual is a complete moral agent with as much intelligence and responsibility as the next one.

In the absence of empathy and respect towards difference – things that are the basis of a harmonious society, we have elitocracy. When some urban rationalists shamelessly clap at ‘anti-supersetition’ bills and legislations that few believers would agree to in a referendum, they often let the mask of false empathy and democratic pretense fall off from their faces. They can afford to do this as throwing stones at glass houses far from one-self has always been a very non-risky affair. Some excel at this. It is in the context of this snooty and privileged way of looking down and talking down to the believing unwashed masses that Ashis Nandy, the shaman of our times, had said ‘There are superstitions, and there are superstitions about superstitions.’ Others chose to work amongst the people and live (and some, like Dabholkar, unfortunately die) in the consequence of their actions. It is this latter kind which has won some legitimacy from the people.

In some ways, the work of rationalists should have become easier with rise of textual religion in many parts of the world, including the subcontinent. The level of canon literacy that exists now among the believers is truly unprecedented. But text also pins down belief, making it vulnerable to the kinds of tactics that rationalists use to expose certain practices. Ostensibly, contradictions between a certain belief and empirical reality can be shown more easily as scriptures and canons have taken up a largely immutable form by now. For example, followers of scriptures which claim a flat-earth or that the sun revolves around the earth are ripe for engagement as part of the rationalists’ ‘blind-faith’ removal programme. Rationalists have failed to do even that.

Reminding the body of believers that the development of ‘scientific temper’ is one of the ‘fundamental duties’ of the citizen according to the constitution of the Indian Union does not win any friends, neither does it challenge rationalists to develop meaningful ways of  engagement for their cause. This compounded by the notion that such ‘juktibadi’ (rationalist) types even look and act in a certain way. They are not different from other posturing social types like the faux-westernized body-art loving ‘rebellious’ 20-something yuppie of the post-liberalization era or the jhola-beard-jeans-chappal type communist youth of the same era. That certain rationalists chose to boycott all social occasions like marriage, funeral and so on as religious rites are performed there does not help in their social immersion.

Lived religion, like any other aspect of human life, is not something unpolluted from a changing world. Religion is not what it used to be and that is how it has always been. Religion has also taken up characteristics and props of this age of mass production of material goods, easy transport, mass media and increasing literacy in a few languages of dominance and power. The peculiarities of this age put their stamp on religion to create bizarre products that are as much characteristics of the age as they are of religion that consents to such corruption. In a way, that is how religion has always ‘survived’ in any meaningful sense of the word ‘survive’. However, to use the specific peculiarities of an age to paint religiosity or practices in general as a timeless evil is neither honest nor tactically smart. Constitutions and new ‘values’ that disappear almost as soon as they develop cannot and should not speak down to faith. This point becomes especially poignant when one quotes Karl Marx out of context – ‘Religion is the sigh of the oppressed creature, the heart of a heartless world, and the soul of soulless conditions.’

Let me make a final point. What is it to be human is a question that is hard to answer but a significant part of the world population, including the present author, believes that there are multiple ways of being human. Faith elements that are non-textual, that are handed down in communities, that makes their presence known in myriad practices (some of which may qualify in rationalist-speak as superstition) also contribute to the multiple ways of being human. These very many ways of being human come with as many world-views and whole theories of the workings of the world. These theories, world-views and practices – to what extent are they separable from one’s special sense of self and identity in this world? Religions, gods, goddesses and other beings, in so far as they are responsive to the changing world and living communities with which they are in constant interaction, also change. Being a certain kind of Bengalee, I grew up in the thick of brotos (practices to receive divine blessings) and many other acts, from which my particular kind of ‘Bengaleeness’ is indistinguishable. The gods and goddesses of my ‘Bengaleeness’, Ma Durga, Ma Monosha (often vulgarized off-hand as a ‘snake goddess’), Dhormo Thakur, and other divines who inhabit fringes of my ‘Bengaleeness’ like Ma Shitola, BonoDurga, and the practices and ‘superstitions’ associated with the particulars of my birth accident make me, in no small way. This Bengaleeness is not a static thing – static not even in a lifetime. Faiths and gods continue to communicate and adapt with the changing world their adherents inhabit. When some gods cannot adapt, they die too. An earlier time would have produced a different notion of selfhood in me.

Without this scaffolding, what kind of human would I be? Some may have no need of such things but what about the rest of us? What does this lack of particular scaffolding look like anyways?  Why do those do prescribe leaving such things, appear so much more similar to each other? Those who have some stake in the intrinsic plurality of the human condition and think that preserving that is a good thing, where would they stand if this homogeneity were the cost of inculcating a atheist-rationalist worldview. In any case, in colonial societies, the anti-traditionalist worldview can be as much received wisdom as any other tradition. Such a formulation might hurt the bloated egos of those who think that university departments and wistfully imported and badly digested bits of European post-enlightenment thought elevates them vis-à-vis their fellow hapless and ignorant brown people. Make no mistake; the hapless also have a theory about those who hold them in contempt.

Till ‘rationalism’ finds a way of preserving and strengthening the plural ways of being human that human societies believe they have produced in cahoots with their gods among other things, it certainly does not have my vote. An imported version of the universal brotherhood of man, something that some curious residents of the tropics always take to with more zeal and seriosity than the west itself ever did, is a cheap replacement for the loss of a million gods and a billion ‘superstitions’.

Leave a comment

Filed under A million Gods, Bengal, Caste, Democracy, Elite, Faith, Identity, Knowledge, Plural pasts, Religion, Science

Of Sati, Snake-bites and ‘blind’ superstitions

[ Daily News and Analysis, 2 Sep 2013 ]

Recently I was exposed to an interesting concept called Godwin’s law. Godwin’s law states that ‘As an online discussion grows longer, the probability of a comparison involving Nazis or Hitler approaches 1.’ This means, the longer an online discussion gets, it becomes more and more likely that someone would bring in some comparison with Hitler or the Nazis. Those who inhabit the fractious world of online discussions (and I sometimes do) would be able to appreciate whether Mike Godwin has a point or not. The more general point of Godwin’s ‘law’ is that certain words, concepts and themes (like ‘Hitler’, ‘Nazi’) have such a wide currency (at least among a majority of Westerners and a minority of browns) as powerful symbols that they have been used in almost any context, to counter anything, to badmouth anyone. Of course that reflects poorly on the user of these terms. If every debate with me involves me throwing the same debate-stopping expletive at the other person, I have just put my intolerance on display. And if one cannot counter someone else’s point of view except by throwing back words that are mostly used as exaggerations out of context, then we have someone who is also petulant and insecure.

Be that as it may, this Godwin’s ‘law’ reminded me of certain similar things that I have often faced in discussion with some modern brown people (a.k.a. ‘enlightened Indians’ who have a particular distaste for those who use hair-oil). When one discusses any element that might faintly sound as a defence of things whose ethno-cultural roots are to be found among brown-people, certain alarm-bells and defences go up among the hair-oil haters. And by chance if something relatively indigenous is counterposed to something imported from a White domain, all hell breaks lose. Specifically two hells – Sati and snakebite. In that predictable and unimaginative barrage, any talk of being comfortable in one’s inherited brown mode of life in defiance of the newest imported flavor of the week makes one a supporter of wife-burning. And of course, the same person would be confronted with the ‘gotcha’ question – so what would you do in case of a snakebite?  Such is the potency of these two symbols of brown viciousness and backwardness respectively that even partner-assaulting modern males and patient-gouging medical practitioners liberally use these without an iota of shame and self-reflection. It is the ‘ideology’ that matters, stupid.

This same class of moderns typically exhibits a near-complete lack of understanding of the fall and the rise of Sati, its caste specificity, especially in the context of the subcontinent’s colonial encounter. Any engagement with modern Sati is apologia; any nuance is ‘obscurantism’. Again, when they go after ‘witch-doctors’ and faith healers with the certitude of a neo-convert, they hardly want to understand the reasons behind the continued presence of these institutions in society, against the tremendous odds of denigrating propaganda. This lofty non-engagement reminds me of those savarnas who ‘do not believe in caste’, ‘hate casteism’, have savarnas over-represented among their friend circles and cannot name even 10 shudra caste surnames.

The struggle against the practice of Sati were led by fighters with a social connect, and could not have been decisive without people’s consent. This was true then, this is true now. It is in this context that the Maharashtra ordinance against ‘black magic’ has to be seen. The anti-superstition bill criminalizes displays of miracles, doing ‘black magic’ to search for missing things, saying that a divine spirit has possessed oneself and various other things. Far from being criminal, many of these things are deemed to be within the domain of real happening by a significant number of people in whose name the ordinance has been promulgated. Paying homage to the respected rationalist Narendra Dabholkar is something, passing laws as a knee-jerk reaction that criminalizes activities which enjoy wide social acceptance is quite another. Yes, there are organized vested interests in some of these activities. But to think that whole people are being manipulated and that they need to be saved by know-it-all people is not only demeaning to the personhood of the believers, but also demeaning to the concept of unfettered universal adult franchise. It infantilizes the people, opening the gates of paternalistic legislation. And that, my friends, is not good for democratic functioning.

Beyond fundamental rights of individuals like right to life and right to consent to bodily intervention, whether a practice in society is harmful or not is not something that only ‘experts’ can decide. Social practices are multi-dimensional and can have more consent and agency built into them that have ‘uses’ beyond the immediate ‘efficacy’ of ‘black-magic’. One also has to understand how and why a witch doctor whose interventions could not save a life is looked upon as a bigger criminal than a MBBS doctor whose negligence causes the death of a patient. The social alienation of those who look upon the people as backward and superstitious might do well to ask themselves – why is it more likely that they have heard of Richard Dawkins, the fiery rationalist from England, but may not have a clue who frail, brown Aroj Ali Matubbor was? The problem is that metro-bred and metro-based alienated life-forms have infected the decision making and power centres of the nation-state – the government, the ‘NGO’s, the universities and the like. The socially alienated cannot expect people’s support and no wonder people’s support eludes them – if anything, they live in fear of their alienation and contempt being exposed in front of the people on whose name they so often speak and act. Narendra Dabholkar knew that and had been wise to avoid that posturing. I hope those who are mourning this selfless man’s death also keep that in mind.

Leave a comment

Filed under A million Gods, Class, Education, Elite, Faith, History, Knowledge, Power, Religion, Science, Urbanity