Category Archives: Kolkata

For the self-serving elite, mother tongue poses hindrance

[ DNA, 27 May 2014; Echo of India, 7 June 2014; Dhaka Tribune, 3 June 2014]

My parents, both of whom went to Bangla-medium schools, had decided to send me to an English-medium school. Among other things, this was a marker of relative affluence. From Kolkata’s insular perch, it was perceived to be an essential lubricant to socio-economic ascendency. It was also true that much of Kolkata’s upper-middle and middle classes had deserted public institutions – schools and hospitals were the major casualties of this trend because institutions of the poor and administered by the rich without a stake in them run very poorly. This reality may have also worked in my parent’s minds – the only son needs to succeed and earn. In the 144 municipal wards of Kolkata, there were only a few Bangla-medium schools that matched the English-medium schools in public imagination. This illusion of being the choicest medium of successful (however defined) education was perpetuated partly by a cabal of ‘good’ English schools (places where the superiority of people-like-us was ingrained as ideology), which competed against in other and created their own legends. Public imagination is not the same as a public examination and this is where many of these English-medium schools were cut to size. The state board examination results (Delhi head-quartered boards are numerically marginal and hence irrelevant in this discussion) brought into our consciousness these ‘others’, some in Kolkata but mostly in other districts of West Bengal, who competed successfully with ‘us’ and often out-competed us. What one must not forget is the competitive advantage English as a medium had, given that the elite had invested hard in English medium schools when it came to infrastructure and most other things that state-funded public institutions could not match. But still they matched. And when I gained admission to my undergraduate institution, a medical college, I saw that a majority of my classmates came from a non-English-medium background. The odds of gaining admission to a medical college were higher if one was from the Bengali-medium Bankura Zilla School than from my alma mater South Point High School. One saving grace of my high school was that its English-medium was only in name. We wrote our answer-scripts in English but the instruction and rebuke was in Bangla. Thankfully, there was no ideology or ‘manners’ that was taught – making unlearning an easier and less self-destructive process. The alienated chose to be alienated and they had their circles and ‘hobbies’. By Mother Saraswati’s grace, most of us remained Bengalis writing answer-sheets in English. I felt that this long introduction to my background was necessary for readers to know where I come from. Disclosure is good practice.

On May 6, when the 5-judge constitutional bench struck down the 1994 language policy of the Karnataka government that mandated that either Kannada or mother-tongue be the medium of instruction for Classes I to IV. The judges cited the lofty ideal of freedom expression and speech as well as protection of minority rights. It has been widely documented that mother-tongue instruction is far superior when it comes to grasping ideas and foster creative thinking. In fact, all the judges agreed that children ‘learn better’ when initially taught in their mother tongue. One can easily guess which sector of society will feel most ‘persecuted’ by the 1994 language policy. This is the same class that increasingly converses in English with people from the same mother tongue. Some of them even scoff at the idea of mother tongue in this ‘globalized era’ of ‘cosmopolitan ethos’. Lord Macaulay must be a happy man today.

The judgement goes against the spirit of the National Curriculum Framework of 2005 that also points out that the child’s mother language or home language is the “best medium of instruction”. This judgement is a triumph of the powerful Anglicized class which has typically punched above its weight. The implications of this judgement go beyond the court matter. It signals the confidence of the elite in using the language of rights to marginalize the masses.

Let us be clear on a few things. This push comes from English and Hindi-ized sectors of the Indian Union, the most vociferous cheerleaders of the new Indian project. By their inordinate grip over certain urban centres (Bangaluru, Delhi, Mumbai), they have been exerting an influence over policy that they cannot otherwise gain by democratic means. Karnataka’s populist Chief Minister Siddaramaiah knows that his people have no great clamour against mother-tongue instruction. In recent times, Karnataka has been one of those few states that have tried to restore dignity of their languages. The deliberate marginalization that comes with terms ‘regional’ / ‘vernacular’ language has now become normal. If the judiciary is so concerned about freedom of speech and expression and rights of linguistic minorities, it might want to look at the primacy accorded to English and Hindi. A staggering majority of the people in the subcontinent does not know English. The same goes for Hindi outside the Hindi-ized belt.

The elites and decision-makers of the subcontinent comes from a class that would start perspiring if they were asked to speak their mother’s tongue only, even for a week. The classes of people who actually perspire due to hard labour that puts food on the tables of the urbane and the entrenched elites can accomplish this easily. The subcontinent is almost unique to have a class that looks to non-mother tongues with so much pride. No wonder, when it comes to scientific creativity, China, Russia, South Korea, Japan, etc surpass this nation. What is common between these nations is that their mother-tongue is their language of instruction, often all through the university level. The narrative of incompatibility between ‘higher education’ and mother-tongue is a creation of the self-serving Anglicized classes of the subcontinent whose privilege and entitlements would be threatened and their ‘authentic spokesperson to goras’ status threatened if mother-language education in the subcontinent went the Japanese way. But privilege doesn’t self-destruct. Hence we remain a self-hating land of forgotten mothers and persecuted tongues, good for creating a class of cyber-coolies and enthusiastic documenters of Euro-American mood-swings. From building high-rises to making highways, the real heavy lifting in the cosmopolitan cyber-coolie haven of Bengaluru is done by Kannada mother-tongue folks. Next time, look at the counter-girl in a chain-coffee store, uncomfortable in her dress. You walked up to her and placed an order in English. She breaks into Kannada when you are not looking. We are all complicit in the annihilation of her cultural self. Perverse word play is displayed when the calls for the rights of the marginalized majority is denounced as chauvinism. Freedom of speech and expression, anyone?

Leave a comment

Filed under Academia, Bengal, Education, Elite, Identity, Kolkata, Uncategorized

গোলাম আলির গজল সন্ধ্যার নেপথ্য রাজনীতি

গত অক্টোবর মাসে, পূর্ব পঞ্জাবের পাটিয়ালা ঘরানার প্রবাদপ্রতিম গজল গায়ক পাকিস্তানি পাঞ্জাবী নাগরিক গোলাম আলির একটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিল মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাজধানী মুম্বই শহরে।উগ্র-হিন্দুত্ববাদী শিবসেনা দলের হুমকি ও চাপে সে অনুষ্ঠান বাতিল হয়। ফলে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে এনিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এই ঘোলা জলে মাছ ধরে নিজেদের  “সহনশীলতা” প্রমাণ করে  বাহবা পাওয়ার প্রচেষ্টায় জুট যায় বেশ কিছু অ-বিজেপি রাজনৈতিক শক্তি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় তাদের মধ্যে অন্যতম। তিনি গোলাম আলিকে আমন্ত্রণ জানান পশ্চিমবঙ্গে এসে তাঁর অনুষ্ঠান করার জন্য। এই বছরের ১২ জানুয়ারী কলকাতার নেতাজী ইনডোর স্টেডিয়ামে ১৫০০০ শ্রোতার সামনে অনুষ্ঠিত হয় গোলাম আলির গজল সন্ধ্যা। সেদিনের সব ব্যবস্থাপনাকে ব্যক্তিগত ভাবে তদারকি করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় স্বয়ং। গোলাম আলিকে তিনি সংবর্ধনাও দ্যান। দৃশ্যতই আপ্লূত হয়ে অভিজ্ঞ গায়ক মমতাদেবীর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, “আমি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ। তিনি সরস্বতী রূপে আমাদের সকলের উপকার করেছেন”।  

মমতা দেবীর গোলাম আলির অনুষ্ঠানের হোতা হওয়া নানাভাবে ইঙ্গিতময়। সবচেয়ে বড় করে যে সংকেত তিনি দিলেন না হলো এই যে ভারত সংঘরাষ্ট্রের সকল এলাকায় সকল মানুষ পাকিস্তানি সবকিছুকে বয়কট করার প্রশ্নে এককাট্টা নয়, সকল এলাকায় অসহনশীলতা শক্তিগুলির খবরদারিও চলে না । উপমহাদেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক পটভূমিতে এটি অবশ্যই একটি সুস্থ ও শুভ লক্ষণ। কিনতু আমরা যদি এই অনুষ্ঠান ও পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক আরো কিছু অনুরূপ ঘটনার খুঁটিনাটি তলিয়ে দেখি, তাহলে দেখব যে ব্যাপারটি অতটা সহজ নয়। বিশেষতঃ পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরে  ধর্মনিরপেক্ষ ও  সাম্প্রদায়িক সামাজিক-রাজনৈতিক স্রোতগুলির মধ্যে যে আপাত সহজ বিভাজন আছে, তার প্রেক্ষিতে মমতা দেবীর  কিছু সংকেত ও কিছু চিহ্ন ব্যবহারের রাজনীতি কোন স্রোতগুলিকে পুষ্ট করে, সেটা পরিষ্কার করে বোঝা প্রয়োজন।

কলকাতায় পাকিস্তানি গায়ক গোলাম আলির গজল সন্ধ্যার উদ্যোক্তা ছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার।  কিনতু  পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কোন দফতর? পাকিস্তানি গায়কের উর্দু গজলের যে আসলেই কোন  ধর্ম হয়না, তা বোঝাতে এটির উদ্যোক্তা হতেই পারত সংস্কৃতি দফতর বা নিদেনপক্ষে পর্যটন দফতর। উদ্যোক্তা ছিল পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ নিগম। পশ্চিমবঙ্গের “সংখ্যালঘু”-দের মধ্যে ৯০%এরও বেশি হলেন মোসলমান। তাদের সাথে একজন পাকিস্তানি গায়কের কিভাবে কোন ‘বিশেষ’ সম্পর্ক থাকতে পারে, তা পরিষ্কার নয়, যদি না পশ্চিমবঙ্গ সরকার বোঝাতে চান যে পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য জনগণের তুলনায়  গোলাম আলি কোন অর্থে পশ্চিমবঙ্গের মোসলমানের বেশি কাছের। গোলাম আলির উর্দুও কোন ‘বিশেষ  সম্পর্কে পশ্চিমবঙ্গের মোসলমানের সাথে তাকে আবদ্ধ করে না কারণ এ রাজ্যের মোসলমানের মধ্যে ৯০%এরও বেশি হলেন বাংলাভাষী, বাঙ্গালী। এই উদ্যোক্তা চয়নের মাধ্যমে যে ভাবে পশ্চিমবঙ্গের জনগণের এক অংশকে স্রেফ তার ধর্মীয় (পড়ুন  মোসলমান ) পরিচিতির মধ্যে সীমিত করা হলো এবং সেই গোদা পরিচিতিটিকে বেশ প্রকট ভাবেই পাকিস্তানের আরেক মোসলমান গায়কের সাথে ‘বিশেষ ভাবে যুক্ত করা হলো, তা ভারত সংঘের রাজনৈতিক আবর্তের সাম্প্রদায়িক ধারায় মোসলমান সম্বন্ধে চালু সবচেয়ে ক্ষতিকারক  স্টিরিওটিপিকাল ধারনাগুলিকেও হাওয়া দেয়। এই ধারণার সংক্ষিপ্ত আকার হলো – মোসলমানদের পাকিস্তানের প্রতি বিশেষ প্রেম আছে। উপমহাদেশের প্রায় সকল রাষ্ট্রেই প্রধান ধর্মীয় সংখ্যালঘুকে ‘অন্যের মাল’ বা ঘরশত্রু হিসেবে কল্পনা করার একটি সুদীর্ঘ লজ্জাজনক ঐতিহ্য চালু আছে, এমনকি রাজনৈতিক ভাবে যারা ধর্মনিরপেক্ষ অর্থে মন্দের ভালো বলে পরিচিত, তাদের মধ্যেও।

প্রসঙ্গত, মমতা দেবী  এই প্রথমবার  সংখ্যালঘু উন্নয়ন ও অর্থ নিগমের ঢাল ব্যবহার করছেন আধা-রাজনৈতিক স্বার্থে, এমন নয়। এই নিগমেরই অনুস্থানগুলিতে তিনি ধর্মীয় সংখ্যালঘু, প্রধানত মোসলমানদের জন্য বিশেষ প্রকল্প ঘোষণা করতে করেছেন। নানা বিশেষের মধ্যে একটি বিশেষ ছিল বড়ই দৃষ্টিকটু। সেটি ছিল পশ্চিমবঙ্গে একটি বিরাট নজরুল কেন্দ্র স্থাপনার ঘোষণা (যেটি ইতিমধ্যে রাজারহাটে নজরুলতীর্থ নামে  চালু হয়ে গেছে)। নিখিল বাংলাদেশে মোসলমান ঘরে জন্মানো ব্যক্তিত্ব খুব কম ছিলেন বা আছেন যাদের প্রতিপত্তি ও যশ হিন্দু-মোসলমানের ধার ধারে না, যদিও ১৯৭১ পরবর্তী কালে (এবং কিছুটা তার পূর্ব্বেও) নজরুলকে গনপ্রজান্তন্ত্রী বাংলাদেশের জাতীয় কবি বানিয়ে আলতো করে নজরুলকে ‘বিশেষ’ ভাবে পূর্ব্ব-বাংলার করে গড়ে তোলা হয়েছে। এই ‘বিশেষ’ এর মধ্যে ধর্মের ছাপ অনস্বীকার্য্য এবং মমতা দেবীর রকম-সকম দেখে মনে হয়, তিনিও বোধহয় নজরুলের এই ভ্রান্ত চরিত্রায়নে আস্থা রাখেন, অন্ততঃ রাজনৈতিক স্বার্থে।  একটি সংখ্যালঘু উন্নয়ন মঞ্চকে ব্যবহার করে মমতা দেবীর নজরুল সংক্রান্ত ঘোষণা আবার করে দেখিয়ে দেয় পশ্চিমবঙ্গের মোসলমান কি শুনতে চায়, সেই সম্বন্ধে তাঁর ঠিক বা বেঠিক ধারণা।

২০১৫র মে মাসে, মমতা দেবীর সরকার প্রখ্যাত উর্দু কবি আল্লামা ইকবালের নাতি ওয়ালিদ ইকবালকে কলকাতায় ডাকেন সরকারী সাহায্যে চলা পশ্চিমবঙ্গ উর্দু অকাদেমির বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে। সুদূর লাহৌর থেকে এসে তিনি তাঁর দীর্ঘদিন আগে প্রয়াত ঠাকুর্দার সম্মানার্থে দেওয়া একটি পুরস্কার গ্রহণ করেন।  আবারও, কোন উর্দু কবিকে সম্মান দেওয়ার ব্যাপারে আপত্তির কিই বা থাকতে পারে? আপত্তির কিছুই নেই।  সমস্যা হলো, তৃনমূল দল যেভাবে উর্দু ও মোসলমানকে যুক্ত করে ফেলে সেটা নিয়ে , যার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লামা ইকবালের নাতিকে এনে সেই ব্যাপারটিকে বিশাল সংখ্যক হোর্ডিং-এর সাহায্যে কলকাতার মোসলমান প্রধান এলাকাগুলিতে প্রচার করার পিছনের রাজনৈতিক হিসেব-নিকেশ ও ধারণা নিয়ে। তৃণমূল দলের ২০১১সালের ঘোষণাপত্রে তারা যেভাবে মাদ্রাসা ও উর্দু স্কুলের ব্যাপারটি সহজেই একসাথে বলেছে, তা থেকেই  ধারণা পাওয়া যায় তারা মোসলমান ও উর্দু, এই দুটি ব্যাপারকে কি ভাবে দেখে। ঘোষণাপত্রে তারা প্রকট-ভাবে গুলিয়ে ফেলে মোসলমান ও উর্দু, আর তাদের অনুষ্ঠান-সম্মান্প্রদানের মধ্যে অন্তর্নিহিত থাকে  উর্দু ও পাকিস্তানকে গুলিয়ে ফেলার, এবং পরিশেষে আভাস থাকে মোসলমান ও পাকিস্তানকে গুলিয়ে ফেলার। শেষের ভ্রান্তিটিই সবচেয়ে বিপদজনক।

পশ্চিমবঙ্গের ৯০% মোসলমান  বাংলাভাষী। আল্লামা ইকবাল  বা উর্দু বা গোলাম আলি পশ্চিমবঙ্গের  হিন্দু  বাঙ্গালীর থেকে যত দুরে, ততটাই দুরের সেখানকার মোসলমান বাঙ্গালীর থেকেও। অথচ তৃনমূল দলের মোসলমান নেতৃত্ত্বের মধ্যে আনুপাতিক হারে বাংলাভাষীদের প্রতিনিধিত্ব বেশ কম। তৃণমূলের জন্মসুত্রে মোসলমান সাংসদ-দের মধ্যে ৪০% হলেন উর্দুভাষী, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মোসলমানদের মধ্যে তারা ১০%ও না। এদেরকে নেতৃত্বে রাখার একটা সুবিধে হলো, জনভিত্তিহীন নেতাদের বসিয়ে একাধারে যেমন দলের মোসলমানদের মধ্য থেকে স্বতন্ত্র জননেতা তৈরীকে আটকানো যায়, আবার একই সাথে এই নেতাদের মোসলমানত্ব ভাঙ্গিয়ে  সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের দায়টিও সারা হয়। পশ্চিমবঙ্গের ২৫%জনগণ হলেন মোসলমান বাঙ্গালী। সেই বর্গ থেকে উঠে আসা স্বতন্র জননেতা যে শর্তে দর কষাকষি করবেন, যে ভাবে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারার অন্য বিন্যাস তৈরীর সম্ভাবনা ধারণ করবেন, তা প্রাতিষ্ঠানিক রাজনীতির মধ্যে আজকে বর্তমান কায়েমী স্বার্থগুলির স্থিতিশীলতার পক্ষে বিপদ। দেশ-ভাগ পুর্ব্ববর্তি সময়ে শের-এ-বাংলা ঠিক এটিই করেছিলেন কৃষক-প্রজা পার্টির আমলে, সামন্তপ্রভু নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস ও সামন্ত্রপ্রভু নিয়ন্ত্রিত  মুসলিম লীগের ‘শরিফজাদা’ নেতৃত্বের বাড়া ভাতে ছাই দিয়ে। ৭১-ও এক অর্থে এই আপাত বাঙ্গালী  ছুপা  ‘উচ্চকুল্শীল“ উর্দুপ্রেমীদের ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদের আরেকটি ধাপ। দুঃখের বিষয়, পশ্চিমবঙ্গের মোসলমান ৪৭-এর পর থেকে কোন ফজলুল হক-কে পায়নি। তাই কলকাতায় উর্দু-পাকিস্তান আপ্যায়ন করে মোসলমান -মোসলমান খেলা করা সম্ভব।  গোলাম আলীর গজল সন্ধ্যাকে বুঝতে হবে সেই পরিপ্রেক্ষিতেও । সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার কালিয়াচকে প্রায় লক্ষাধিক মোসলমান জনতা এক জমায়েত করে সুদূর উত্তর প্রদেশের এক অখ্যাত হিন্দু সাম্প্রদায়িক নেতার হজরত মহম্মদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের প্রতিবাদে। জমায়েতটি সহিংস হয়ে ওঠে এবং বেশ কিছু গাড়ি জ্বালায় এবং হিন্দু দোকান ভাঙ্গচুর করে। এই দুরের ঘটনার উপর ভিত্তি করে, সামাজিক মাধ্যমে ঘৃণার প্রচার যেভাবে এতগুলি মানুষকে এককাট্টা করলো এক সহিংস প্রতিবাদে, তা চিন্তার বিষয় কারণ রাজনৈতিক দল বহির্ভূত  এত বড় হিংসাত্বক জমায়েত প্রাতিষ্ঠানিক রাজনৈতিক সংগঠনের অক্ষমতা ও মাঠস্তরে অনুপস্থিতিকেই প্রমাণ করে । যে কোন গোষ্ঠীর উপর ভিন্নতা আরোপ করতে করতে তা এক সময় ফ্র্যন্কেনস্টাইন দৈত্যে পরিণত হতেই পারে।  বরং পশ্চিমবঙ্গের মোসলমান বাঙ্গালীর আর্থ-সামাজিক ক্ষমতায়নের যে রাজনীতি, তা গজল সন্ধ্যা ও নজরুল তীর্থের চমকের মাধ্যমে সম্ভব না। কারণ তার চাহিদাগুলি বিশাল-সংখ্যক হিন্দু বাঙ্গালির থেকে আলাদা নয় – যথা  খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ইত্যাদি। এই পথটি কন্টকময় ও  লম্বা – অনেক বিরোধিতাও আসবে আশরাফ মোসলমান ও সবর্ণ হিন্দু কায়েমী স্বার্থে ঘা লাগলে। কিনতু সে কঠিন পথের কোন সহজ  বিকল্প নেই।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Elite, Faith, Identity, Kolkata, Language, Pakistan, Partition, Polity, Power, Religion, Uncategorized

এই বাংলায় মায়ের দুটি পা, গরুর চারটে

অনেকে হয়তো এই লেখাটি সকালে কাজে যেতে যেতে বাসে-ট্রামে-ট্রেনে-মেট্রোতে পড়বেন। কেউ হয়ত পড়বেন সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফিরে, চান করে খাওয়ার টেবিলে। ভেবে দেখুন, খেতে বসেছেন। ফ্রীজে একটু মাংস রাখা আছে।  কাল বা পরশু রাঁধা হবে।  স্ত্রী খাবার বারছেন। বুড়া বাপ সোফায় বসে।  হঠাত শতশত লোক এসে আপনাকে, আপনার বাবাকে টেনে নিয়ে গেল। হঠাতই। তারপর অনেকে মিলে আপনাকে আধমরা করলো, আপনার বাবাকে মেরেই ফেলল।  তারপর চলে গেল। আপনার দুনিয়াটা শেষ হয়ে গেল। কারণ আপনার ফ্রিজে রাখা প্যাকেটে সেই মাংস এই খুনীদের, এই পাপীদের ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাত করেছে। উত্তর প্রদেশের দাদরিতে ঠিক এই ঘটনাটাই ঘটেছে।  মহম্মদ আখলাক খুন হয়েছেন। তার লাশের মাংসের চেয়ে তার ফ্রীজের মাংসকে শনাক্ত করতে যে পাপিষ্ঠদের বেশি মাথাব্যথা, তাদেরই গুরু-ভাইরা দিল্লির মাধ্যমে এই বাংলাকেও শাসান এবং কোন একদিন শাসন করার স্বপ্ন দ্যাখেন। দাদরি কোথায় জানেন? নয়ডা-তে।  সেই নয়ডা যেখানে আপনার ছেলে-মেয়েকে আপনি পাঠাতে উত্সুক, যাতে তারা ‘আরো বড়’ হয়। এইটা হলো নয়ডা। শিকড়হীন যুবসমাজের ঝিনচ্যাক আর গরুর জন্য মানুষ খুন, এই নিয়ে সেখানকার সংস্কৃতি। ভাগ্যিস ‘আরো বড়’ হইনি, রয়েছি বঙ্গবাসী হয়ে, নয়ডাবাসী হইনি।

বিহারের মানুষের বড়ই দুর্ভাগ্য।  একটা নির্বাচন যেটা কিনা তাদের সামনে শিক্ষা-স্বাস্থ্য-নারী অধিকার-জাত ভিত্তিক বৈষম্য এবং আরো কত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হবার সুযোগ এনে দিয়েছিল, কিছু ঘৃণার কারবারী সেই নির্বাচনকে গরু-কেন্দ্রিক নির্বাচনে পরিনত করতে চায় জনগণকে ভ্যাড়া বানিয়ে। আর বাকি রাজ্যেও তারা ঢোকাতে চায় গরুর পাল, চালাতে চায় গরুর হাড়-শিং-মাংস নিয়ে ফেইসবুক, এসএমএস, হওয়াট্সয়াপের ছবি ও ঘৃণা  চালাচালির রাজনীতি। যে সময়ে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আয়ের দিক থেকে সামান্য এগিয়ে থাকা আফ্রিকা মহাদেশের সাথে মহাসমেল্লনে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আয়ের দিক থেকে আফ্রিকার থেকেও গড়ে পিছিয়ে থাকা ভারতীয় সংঘরাষ্ট্র গরীব জনতার টাকায় সস্তা বারফাট্টাই করে আফ্রিকাকে আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ‘সাহায্য’ করার নানা চুক্তি করে, একই সময়ে আমাদের এই পোড়ার রাষ্ট্রে আত্মহত্যারত কৃষক, বেকার যুবক, ক্ষুধার্ত মা, রোগাক্রান্ত দাদু ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সামনে হাজির করা হচ্ছে তাদের সব সমস্যার এক দাওয়াই – গরুকে মা রূপে পুজো করা। আমরা যারা রোজ পেট পুরে খেতে পাই, যাদের আয় করার মোটামুটি একটা নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা আছে, তাদের একটা দায় আছে এই ষড়যন্ত্রের আগুনে হাওয়া না দেবার। বিজয়া দশমী সবে গেল।  সামনে কালী পুজো আসছে। তার মাঝে মানুষের জীবনের ইস্যুগুলিকে তুচ্ছ করে গরু, গরু করা একটা পাপ। আমরা বাঙ্গালী। মা দূর্গা আমাদের মা। মা দূর্গা আমাদের দ্যাখেন  এবং তিনি সব কিছুই দ্যাখেন। হিন্দুস্তানি এলাকায় গরু নিয়ে রাজনীতি দেখে এখানে কিছু লোকের মনে কি কি ফন্দি মাথায় আসছে, তিনি সেটাও দেখছেন। তিনি আমাদের হাড়ে হাড়ে চেনেন। আমাদের একটু সাবধান হওয়া উচিত। পাপ-পূণ্য বলে একটা ব্যাপার আছে – যেটা গরু-ভ্যাড়া-ছাগলের-শুয়োরের অনেক উপরে।

আমরা বঙ্গবাসী।  আমরা মাকে মা বলে জানি আর গরুকে গরু বলে জানি।  আমার মায়ের দুটো পা। গরুর চারটে পা। দুটো যাতে গুলিয়ে না ফেলি, এবং দুনিয়াকে চেনার সঠিক শিক্ষা পাই, তার জন্য আমার মা ও ঠাকুমা ছোটবেলায় আমাকে অনেকবার ‘আস্ত একটা গরু’ বলে বকাবকি করেছেন, উচিত শিক্ষা দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে ‘শুয়ার’ বলে গালি দিয়েছেন আমাকে আমার মা।  সেই শিক্ষায় আমরা মানুষ হয়েছি। যে মা আমাকে ‘গরু’ বলে গালি দিয়ে শিক্ষা দিত, আজ কারুর প্ররোচনায় যদি গরুকে মা বলে ডাক দিই, তাহলে আমাদের মায়ের শিক্ষা ব্যর্থ। বাংলা মায়ের অযোগ্য সন্তান হবার শখ আমার নেই। আজ বাইরে থেকে নানা তত্ত্ব আমদানি করে বাঙ্গালীকে কেউ কেউ মাকে ও গরুকে নতুন করে চেনানোর ঠিকাদারী নিয়ে বাংলায় ঘনঘন যাতাওয়াত করছে। এদের যাতাওয়াতের খাই-খরচা দিয়ে বাংলার মাটিতে বসেই ১৯৪৩-র মন্বন্তরে অশুভলাভ করা গণশত্রু  মজুতদারের নাতি-পুতিরা আরেকটা মহামৃত্যু ঘটানোর ফন্দি আটছে আরো বড় মুনাফার জন্য। তারা দিল্লীর সাথে ষড়যন্ত্র করে এককালে  বাংলা ভাগ করেছে, কলকাতাকে নিংড়ে নিয়েছে, তারা রক্ত শুষেছে বাংলার মানুষের, কিন্তু তাদের রক্তের খাই মেটে নাই। পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ানক হলো অহিংসার কীর্তন করা মানুষের চোরাগোপ্তা সহিংসতা। জল বেশি দূর গড়ানোর আগেই এই খেলার নেপথ্য খেলোয়ারদের জার্সির রং, ক্লাবের তাঁবুর ঠিকানা, সব চিনে নেওয়া প্রয়োজন।  বাংলার স্বার্থে। শান্তি-রক্ষার স্বার্থে। মানবতার স্বার্থে।

বাংলার বাইরে অর্থাৎ  মুম্বই, গুরগাঁও, ছত্তিসগড়, রাজস্থান ইত্যাদি নানা জায়গায় সম্প্রতি গরু পেরিয়ে ভ্যাড়া, ছাগল ও মুরগির দিকেও হাত পড়েছে ধর্মের দোহাই দিয়ে। আমি শাক্ত, আমার চৌদ্দ পুরুষ শাক্ত, আমরা কালিঘাটে পাঠা বলি দিই মাকে তুষ্ট করতে, সেই বলির মাংস আমাদের কাছে  মায়ের প্রসাদ। সেই প্রসাদকে যারা হেয় করে, ঘেন্না করে, সেটাকে নিষিদ্ধ করে ধর্মের দোহাই দিয়ে, তাদের ধর্ম আমাদের নয়। সে ধর্মের প্রভাব থেকে মা কালী আমাদের রক্ষা করে আসছেন, করে যাবেন।  মা কালীর বাংলায় আমাদের যারা নিরামিষাশী গরু-ছাগল বানাতে চায়, তাদের ঠাঁই নাই। আজ কলকাতা শহরের বেসরকারী হাসপাতালে মুমূর্ষু রুগীকে নিরামিষ খেতে দেওয়া হয় মালিকের ধর্মীয় ‘অনুভূতি’ অনুযায়ী, চিকিত্সাবিজ্ঞানে কিছু ক্ষেত্রে আমিষ-প্রোটিন পথ্য বলে দেওয়া সত্ত্বেও।  আমাদের অজান্তেই আমাদের ঘর বেদখল হয়ে যাচ্ছে না তো ? এরা গরুতে থামবে না, এরা ছাগলে থামবে না, এরা সুজলা সুফলা বাংলাকে হিন্দি-হিন্দু-হিন্দুস্তান বানিয়ে তবে থামবে। শুয়োর-গরু-ছাগলের পাল যদি আমাদের এই বাংলার সোনালী-সবুজ ক্ষেতে ঢুকে শত শত বছর ধরে মানুষের রক্তে-ঘামে-ভালবাসায়-বোধে-বিশ্বাসে তৈরী করা সহাবস্থানের ফসল ধ্বংস করতে চায়, তাহলে মা কালিকে সাক্ষী রেখে কালিপটকার চেইন বাঁধা দরকার।  সে কালী পটকার চেইন লাগিয়ে দেওয়া দরকার বহির্শত্রুর ল্যাজে। তারপর আলতো করতে একটু আগুন জ্বালালেই পাপাত্মা থেকে মুক্তি। ব্যাপারটা সিরিয়াস। অনেককালের, অনেক যুগের, অনেক সিঞ্চনের, অনেক প্রেমের ফসল এই বাংলার মাটি। এই মাটিতে আমরা খাল কেটে কুমির ডাকবো নাকি এ মাটির ফসল লালন করব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বঙ্গবাসীর জন্য, সিদ্ধান্তটা আমাদের। ব্যক্তিগত ভাবে সিদ্ধান্তটা আমি নিয়ে ফেলেছি। তাই ঘরে কালিপটকা মজুত রেখেছি জন্ম থেকেই।  আসলে ওই মজুত করা কালী-পটকা আমি কিনিনি।  কিনেছিল আমার পূর্বপুরুষেরা। অনেক শতক আগে।  সেই থেকে ঘরে আছে। মাঝে মাঝে ওগুলোকে ছাদে উঠে রোদে তা দেওয়াই। কে জানে কখন কাজে লাগে। মা দুর্গাকে প্রার্থনা করি যেন কখুনো কাজে না লাগে, কিন্তু হিন্দুস্তানি এলাকার হল-হকিকত দ্যাখে আজকাল একটু ঘনঘনই ছাদে উঠি। রোদে তা দিই এবং মেঘের রং দেখি। আমরা ঘরপোড়া। অনেকের সিঁথির সিঁদুর উজাড় হয়েছে, অনেকের সম্ভ্রম লুন্ঠিত হয়েছে, অনেকের জান-মাল নষ্ট হয়েছে, ভিটামাটি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ১৯৪৭-এর আগেকার গরু-ভ্যাড়ার রাজনীতিতে। পূর্ব্ববঙ্গে সে রাজনীতি ধিকিধিকি আজও চলছে। ভিটা ছেড়ে তারা আজও আসছে এই বাংলায়। এই বাংলা যে সে মাটি নয়। আমাদের একটা দায়িত্ব আছে। রোগ না ছড়ানোর। রোগ সারানোর। মা কালী সকলের মঙ্গল করুন।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Kolkata, Religion

উবার চড়ে যাচ্ছি কোথায়?

খুব বেশিদিন আগের কথা বলছি না, কলকাতায় একটা সময় ছিল যখন গাড়ি চড়ে কোথাও যাবার মানে ছিল হয় প্রাইভেট গাড়ি বা টেক্সী। কিন্তু স্মার্টফোন ভিত্তিক আপ-এর দৌলতে ২৮ ঘন্টা  তত্ক্ষণিক ভাড়া গাড়ি বুকিং ব্যবস্থা ভারতের কিছু কিছু শহরের এক বিপুলভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উবার বা ওলা গোছের কোম্পানিগুলি এখানে খুবই ভালো ব্যবসা করছে।  এছাড়া তাদের জোরদার বিজ্ঞাপনের ফলে তাদের নাম ছড়িয়েছে যথেষ্ট। আমাদের এই বাংলাদেশের পশ্চিমাংশে  তাদের এমনই রমরমা ব্যবসা যে উবার কোম্পানি জানিয়েছে যে মার্কিন কলকাতাই তাদের  বাড়তে থাকা বাজার এবং তাদের এই বৃদ্ধির হার তাদের লন্ডনের ব্যবসার চেয়েও বেশি। ভারতে  কলকাতার পরে তাদের সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকা বাজার হলো মুম্বইর। এই ধরনের পরিষেবা বিশ্বের অনেক জায়গাতেই চিরাচরিত লাইসেন্স প্রাপ্ত টেক্সী ব্যবসার লাভের গুড়ে থাবা বসিয়েছে। সেটা এখানকার ক্ষেত্রেও সত্যি। ফ্রান্স থেকে দক্ষিন আফ্রিকা, নানা জায়গায় ট্যাক্সি চালক তথা মালিক ইউনীয়ন্গুলি উবারের ব্যবসা পদ্ধতিকে অনৈতিক ও বে-আইনি বলে প্রতিবাদ জানিয়েছে – যে ধরনের সরকারী নজরদারির স্বীকার সাধারণ তেক্সীরা, বা যতরকমের কর তাদের দিতে হয়, তার ফলেই উবারদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। উদাহরণ স্বরূপ, টেক্সী না যেতে চাইলে আইনে জরিমানার ব্যবস্থা আছে, উবারদের ক্ষেত্রে এমন কোন আইন-ই নেই। সাধারণ টেক্সীগুলি বেসরকারী মালিকানাধীন হলেও সে ব্যবসা বেশ ভালো পরিমানে সরকারী নিয়ন্ত্রনের আওতায়।  টেক্সী ভাড়ার তালিকাও সরকারের সাথে বোঝাপড়া করে ঠিক হয়। উবার-ওলারা তাদের রেট্ ঠিক করে ও বদলে নিজেদের ব্যবসা মাফিক, নানারকম ছাড় ও অন্যান্য বিপণন-ফন্দিরও তারা সাহায্য নিয়ে থাকে, যা সাধারণ টেক্সী আইনত পারে না।

এই ভাবে যখন কোথাও এক ধরনের ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য বেসরকারী পরিবহণ ব্যবসার একটা রেকর্ড প্রসার ঘটে, তখন সেই জায়গার গণ-পরিবহণের অবস্থা ও মান সম্পর্কে প্রশ্ন মনে চলেই আসে। তাই ভারতের প্রধান শহরগুলির গণপরিবহনের মান বিশ্বের নিরিখে দেখে নেওয়া যাক। ‘ফিউচার অফ আর্বান মোটিলিটি ২.০’ নামের বিশদ একটি জরিপ-ভিত্তিক গবেষণার ফল সম্প্রতি প্রকাশিত হয়। এই জরিপ রিপোর্ট-টি প্রনিধানযোগ্য কারণ এতে বাজার-আদর্শ ও শ্বেতাঙ্গ-বিশ্ব ‘প্রগতি’ ও ‘উন্নয়ন’ বলতে যা বোঝায় (মূলতঃ চওড়া রাস্তা ধরে হুস-হুস করে যাওয়া রাশি রাশি সমাজ-বিছিন্ন প্রাইভেট গাড়ি) , তার কিছুটা বাইরে গিয়েও গণপরিবহনের মানের একটা মানাঙ্ক কষা হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টরকে মাথায় রেখে। এই সব ফ্যাক্টরের কয়েকটি হলো – মোট যাত্রা-সংখ্যার মধ্যে গণপরিবহনের সাহায্যে করা যাত্রার হিস্যা, স্মার্ট কার্ডের ব্যবহার, রাস্তার ঘনত্ব, গণপরিবহনের বৈচিত্র এবং সেগুলি কত সময় অন্তর অন্তর আসে, সরকারী পরিবহণ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগ, ইত্যাদি। সারা বিশ্বের ৮৪টি বৃহৎ শহরে এই নিয়ে গবেষণা ও জরিপ চালানো হয়।  তার থেকে পাওয়া ফলগুলি এইরকম। ভারতে দ্বিতীয় স্থানাধিকারী মুম্বই-এর হাল মার্কিন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি-র চেয়ে সামান্য ভালো, লস এঞ্জেলেস পিছিয়ে আছে চেন্নাই-এর থেকে। অনেকের ধারনায় ভারতে ‘উন্নত’ দিল্লির হাল এই বহুমাত্রিক গণমুখী ফ্যাক্টরগুলির নিরিখে বেশ খারাপ – সেটির স্থান ৮৪টি শহরের মধ্যে শেষের দিক থেকে ৫ম। কলকাতা হলো ভারতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ – ৮৪র মধ্যে তার স্থান ৩১, যার মানে আমরা নিউ ইয়র্ক, মন্ট্রিয়ল, টরন্টো ও সিডনির থেকে এগিয়ে আছি। জনসংখ্যার অনুপাতে ব্যক্তিগত গাড়ি মালিকানার হার ভারতের মেট্রো শহরগুলির মধ্যে কলকাতায় সবচেয়ে কম। পয়লা স্থান অধিকার করে হংকং। প্রসঙ্গত এই পরিমাপে ঢাকার রেঙ্ক করাচীর থেকে খারাপ কিন্তু বেঙ্গালুরু বা ওসাকা বা মায়ামির থেকে ভালো। এই রেঙ্কগুলি আমাদের যদি অবিশ্বাস্য লাগে, তার থেকে এই বোঝা যায় যে দুনিয়ায় উন্নয়ন ও প্রগতির জনবিরোধী হেজিমনিক ধারণা আমাদের কল্পনা ও ইপ্সাকে কতটা গুলিয়ে দিয়েছে যার ফলে আমরা সামনে ঘটমান বাস্তবকে দেখেও দেখি না, হাঁ করে অন্যত্র তাকাই। মাথার মধ্যে ভালো-খারাপ-গণমুখী-জনবিরোধী এইসব ব্যাপারগুলি কেমন গুলিয়ে মিলিয়ে দিয়েছে বাজার ও ক্ষমতার যুগলবন্দীতে তৈরী আমাদের এই ‘কমনসেন্স’। আর কলকাতা ও মুম্বই-এর তুলনামূলক ভালো স্থানের কারণে এরই রহস্যময় ও বেমানান লাগে সেই প্রাথমিক তথ্যটি – যে ভারতে উবার যে ধরনের  ব্যক্তিগত পরিবহণ ব্যবসা করে খায়, তাতে তারা সবচেয়ে সফল ঠিক এই কলকাতা ও মুম্বই-তেই।  আসলে ঘটছে তা কি? আমার কিছু আন্দাজ আছে।  আর সেই আন্দাজের হাত ধরে মনে আসে কিছু আশঙ্কা।

ভারতের শহরগুলির প্রায় সবকটিই অতি বিভক্ত শহর – বিভক্ত শ্রেণী, জাত ও অন্যান্য নানা ফেক্টর দ্বারা। আমরা এলিট বলতে বুঝি টাটা-বিড়লা।  আর বাকি সকলেই নিজেদের মনে করে মধ্যবিত্ত – অথচ এই মধ্যবিত্ত প্রায় কিছুতেই কোন কিছুর মধ্যস্থান অধিকার করে না – অর্থ-সামাজিক ভাবে তো নয়-ই। এই উপমহাদেশে এই গোষ্ঠিকে তুলনামূলক-ভাবে কম এলিট বলা যেতে পারে, কিন্তু এলিট তারা বটেই।  এই গোষ্ঠির নিজের গাড়িতে চেপে সবসময় সবজায়গায় যাবার সামর্থ্য নেই, যার ফলে তাদের অনেক ক্ষেত্রেই না চাইলেও অগত্যা গণ-পরিবহণের শরণাপন্ন হতে হয়। তাদের জীবনের এই অংশটি তাদের খরুচে ‘ট্রেন্ডি’ জীবনযাত্রার সাথে খাপ খায় না। গণপরিবহনে তাদেরকে এমন সমস্ত মানুষজনের পাশে বসতে হয়, এমন সমস্ত মানুষের গায়ের গন্ধ ঘামের গন্ধ নাকে আসে, ভিড়ের মান্ঝে এমন মানুষের থেকে ঠেলা ও গুঁতো খেতে হয়, নিজে দাঁড়ানো অবস্থায় এমন সব মানুষকে বসা অবস্থায় দেখতে হয়, যাদের কিনা তারা তাদের জীবনের অন্য সকল অঙ্গন থেকে নির্বাসিত করেছে সফলভাবে – নানা ধরনের প্রকাশ্য বা ছদ্ম ভৃত্য ভূমিকা ছাড়া। উবার-ওলার সাফল্যকে এই আঙ্গিকে দেখা প্রয়োজন। প্রথমতঃ।এর ফলে ‘পাবলিক’ থেকে নিজেকে স্থানিক-ভাবে আলাদা করা যায় – অর্থাৎ একই জায়গায় বসে যাতাওয়াত করতে হয় না, একই যানের মধ্যে বসে। দ্বিতীয়তঃ, পাবলিকের থেকে কালিক ভাবেই আলাদা হওয়া যায় – তাদের ২৪ ঘন্টা তত্পর পরিষেবার কারণে। অর্থাৎ সাধারণ মানুষ যে সময় গনপ্রবহনের অপ্রতুলতার জন্য বেশি ঘোরাফেরা করতে পারে না, যেমন ধরা যাক গভীর রাত, এই শ্রেণী সেই সময়গুলিকে কেন্দ্র করে নিজেদের জীবনধারা সাজিয়ে নেয়। সমাজের কিছু পাত্র-পাত্রীর মধ্যে জনসাধারণের থেকে নিজেদের আলাদা করে স্থান-কালের মালিকানা নেবার যে মানসিক ইপ্সা, উবার-ওলারা সেই বৈকল্যের ইচ্ছা-নদীতে সাঁকোর কাজ করে।  তার উপর দিয়ে আমাদের মত কিছু মনুষ তরতরিয়ে চলে যায় ইপ্সিত ওপারে, ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, সুরক্ষিত ভাবে। বৈষ্ণবঘাটা-পাটুলি থেকে লেটনাইট পার্টি করে হিন্দুস্থান পার্কে ফেরত আশা হয়ে যায় জলভাত। শহরেরএলিটদের  জীবনে কিছু নতুন স্রোতের জন্ম হয়। কে কোথায় কখন কি ভাবে আসছে-যাচ্ছে, তাতে কারোর কিছু এসে যেত না, যদি না এই অর্থ-সমাজিক গোষ্টির প্রভাব ও প্রতিপত্তি তাদের সংখ্যার তুলনায় দৃষ্টিকটু ভাবে অনেক বেশি না হতো। কিন্তু বাস্তবে, তাদের উদ্বেগকে পাত্তা দেওয়া, তাদের সুরক্ষাকে সিরিয়াসলি নেওয়া, তাদের ইছাগুলিকে প্রশমিত করা হয়ে ওঠে  নগরের সরকারী ও বেসরকারী অধিপতিদের প্রথম কর্তব্য – কারণ যে মাছের মুড়ো এরা. তারই পেটি হলো উবার-ওলা শ্রেণী।  সংবাদমাধ্যমের বড় অংশও এই ক্ষুদ্র অংশের উদ্বেগ-সুরক্ষা ইত্যাদিকে এমন ভাবে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে একটা ‘গণ’ চরিত্র দেবার চেষ্টা করে যে মনে হতেই পারে যে আমরা ইতিমধ্যেই একটি আর্থ-সামাজিক বৈষম্যহীন মিডিল ইনকাম সমাজে পরিণত হয়েছি।

এর একটি কুফল দেখা গেছে সম্প্রতি।  যখন ভারতে রাস্তা-ঘাটে নারী নিরাপত্তার মত একটি গুরুত্তপূর্ণ বিষয় নিয়ে বেশ একটা জনমত তৈরী তৈরী হচ্ছিল, উবারের একজন চালক দ্বারা এক মহিলা যাত্রীর ধর্ষিত হবার ফলে নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি এই প্রতাপশালী গোষ্টির উদ্বেগের জোরে পর্যবসিত হলো উবার গাড়ির নিষিদ্ধকরণ ও উবার চালকদের নিয়োগের আগে পূর্ব অপরাধ বিষয়ক খোজখবর নেওয়া গুরুত্ব ইত্যাদিতে। ভারতে, নারীদের এক বিপুলভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশের কাছে  ভাড়া করা বা নিজ মালিকানাধীন গাড়িতে একা চলাফেরার সুবিধে-বিপদ সংক্রান্ত যে আলোচনা, তা একদমই অপ্রাসঙ্গিক কারণে তাদের জীবনের বাস্তবতার সাথে এর কোন সম্পর্কই নেই। অথচ ‘নারী নিরাপত্তার’ মোড়কে মিডিয়ায়ে আদতে চলল এলিট নারীদের নিরাপত্তার পুঙ্খানুপুন্ক্ষ আলোচনা।

যখনই সমাজের ক্ষমতাধারী ও গনপরিসরে-কি-আলোচিত-হবে-তা-নির্ণয়কারী গোষ্ঠীগুলি সর্বসাধারণের জন্য তৈরী পরিষেবাগুলি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়, তখন সেই সেই পরিষেবার মান নিম্নগামী হয়। কারণ পরিষেবাগুলি থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিলেও সেই পরিসেবা চালনা সংক্রান্ত সকল ক্ষমতা এই গোষ্ঠীই কুক্ষিগত করে রাখে। তখন এদের নির্দেশে-উপদেশে সরকার যা করে তা হলো অপেক্ষাকৃত গণতান্ত্রিক ভাবে বন্টিত গণপরিষেবা থেকে অর্থ শুষে বার করে তারা ঢুকিয়ে দেয় এমন সব পরিষেবায় যা আপাত ভাবে সর্বসাধারণের জন্যে হলেও বাস্তবে কাজে লাগে মূলতঃ এলিট শ্রেনীর-ই। পূর্ব্বে উন্নত মানের এবং নির্ভরযোগ্য সংস্থা যেমন বৃহৎ সরকারী হাসপাতাল বা সরকারী ইস্কুল এই গোত্রে পড়ে। এলিট শ্রেণী এক-কালে এসব জায়গায় যেতো।  তারপর যখন তারা সরকারী ভর্তুকি ব্যবহার করে নিয়ম বদলিয়ে বেসরকারী পুঁজি দিয়ে এসব ক্ষেত্রে নিজেদের বিকল্প ব্যবস্থা করলো, তখন সরকারী সংস্থাগুলিতে তাদের আর কোন আগ্রহ রইলো না।  যে সর্বসাধারণের গরুর দুধ তারা রোজ খেতো এবং সেই কারণে বিচালি দিত, পরিষ্কার করত, সেই গরুর দুধ বেচে তারা তৈরী করলো নিজেদের মালিকিনাধীন গরুর  প্রাইভেট গোয়াল। কলকাতায়, টিবি হাসপাতাল ১ টাকা দিয়ে বেসরকারী সংস্থাকে বেছে তৈরী হলো কেপিসি হাসপাতাল।  ঢাকুরিয়ার এএমআরআই হাসপাতাল ও সরকারী মালিকানা থেক বেসরকারী মালিকানায় দেওয়া হলে ১ টাকার নাম-কে-ওয়াস্তে অঙ্কের বিনিময়ে।  শর্ত থাল এখানে একটা বড় শতাংশ বেদ থাকবে গরিবের জন্য সংরক্ষিত।  বলাই বাহুল্য, সেই সংরক্ষণ থেকে গেছে কাগজের পাতায়, এগ্রিমেন্টের দলিলে। আমি যেটা বলতে চাই সেটা এই যে ভারতে সরকারী হাসপাতাল বা ইস্কুলের মানের নিম্নগামী মানের সাথে এলিট শ্রেণীর স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে নিজ বিকল্প করে তলার ব্যাপারটি অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত। দুটো আলাদা ঘটনা নয়। তাই আশঙ্কা হয়, হারত সরকারের জোরদার প্রাইভেট গাড়ি তৈরী ও বিক্রির ক্ষেত্রে নানা রকম আর্থিক উত্সাহপ্রদানের যুগে উবার-ওলার বিস্ময়কর ব্যবসায়িক সাফল্য দেশের মোটামুটি ভাবে চলনসই গণপরিবহন ব্যবস্থার জন্য কোন অশনি সংকেত বয়ে আনবে ? আরেকটু ব্যাপক ভাবে বলতে হলে, যে দেশ ও সমাজের শক্তিশালী নীতিনির্ধারক অংশ ব্যাপক গণ-মানুষের কোনরকম ছোয়া থেকে নিয়েজদের দূরে রাখতে চায়, এমন বৈসম্যযুক্ত সমাজপতি-ওয়ালা সমাজের ভবিষ্যত কি?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Democracy, Dhaka, Elite, Kolkata, Urbanity

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উত্কর্ষ – পিছিয়ে থাকা নিয়ে কিছু ভাবনা

প্রতি বছর বিশ্বের কিছু নামী সংস্থা দুনিয়ার সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিশাল রেঙ্কিং তালিকা এনে উপস্থিত করেন। কোন বছরেই কোন তালিকাতেই সেখানে ভারতীয় সংঘরাষ্ট্রের কোন বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ২০০-র মধ্যে আসে না। সেই নিয়ে এখানকার কিছু লোক একটু চিন্তা ব্যক্ত করেন। আর কেউ কেউ বলেন ওসব রেঙ্কিং আসলে পশ্চিমা দুনিয়ার চক্রান্ত, যাতে কিনা আমাদেরকে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয় (তারা বেমালুম চেপে যান যে শ্রেষ্ঠ ২০০-র তালিকায় একাধিক এশীয় বিশ্ববিদ্যালয় থাকে, থাকে চীনের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়)। যেসব পন্ডিত মনে করেন যে সমগ্র বিশ্ব একমাত্র আমাদেরকে কোণঠাসা করার জন্য এই শ্রেষ্ঠত্বের তালিকা থেকে আমাদেরগুলিকে বাদ দ্যান, তাদের জানা উচিত, এই ধরণের বিশ্ব-ষড়যন্ত্র মার্কা ধারণা গভীর মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ। অনেক ক্ষেত্রে কিছু রাজনৈতিক ধারা বা ধর্মীয় ধারা এমন ভাবে নিজেদের সকল বিশ্বের ষড়যন্ত্রের স্বীকার বলে প্রচার চালায়। এই সব সেয়ানা কারবারীদের চেনা প্রয়োজন। এরা কেউ অসুস্থ নয় – ষড়যন্ত্রের শাঁক দিয়ে নিজেদের ভেতরের পচনের মাছ ঢাকার একটা নিষ্ফলা চেষ্টা করেন এরা। এর ফলে বন্গায়ে শিয়াল রাজা হয়ে অন্যান্য রদ্দি শেয়ালদের থেকে বাহবা পাওয়া যায়, কিন্তু বিশ্ব-দরবারের বেঞ্চিতে এক ইঞ্চি জায়গা-ও জোটে না।

এই ধরা যাক বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ৫০-টা  বিশ্ববিদ্যালয় – সেগুলির কিছু বৈশিষ্টের দিকে একটু মন দিয়ে দেখি। তারপর নিজেদের সাথে তুলনা করি। আপাতত টাইমস হায়ার এডুকেশন রেন্কিং মেনে চলি, যদিও কিউ.এস এবং এ.আর.ডাব্লু.ইউ, এই দুটিও যথেষ্ট খ্যাতনামা। আমাদের সঙ্গে সবচেয়ে বড় একটা তফাত হলো যে এই শ্রেষ্ঠতম বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্নাতক স্তরের কোর্সগুলো মূলতঃ হয় সেই দেশের প্রচলিত মাতৃভাষায়। এবং সেই দেশে ইস্কুল্গুলির, পাঠ্যবই-এর মধ্যেও মাতৃভাষার দাপট-ই বেশি – এটা কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন চৈনিক, সুইডিশ, ইংরেজি, জাপানি, জার্মান, অর্থাত যে সব দেশের মাতৃভাষার দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম শ্রেষ্ঠ ৫০-এর তালিকায় আছে, এই সকল ভাষার ক্ষেত্রেই সত্যি। আমাদের এই বাংলাদেশে তথা দিল্লি-তে অনেক পন্ডিত বলেন যে মাতৃভাষায় ব উচ্চ-শিক্ষা হলে সমাজ পিছিয়ে পড়বে। তথাকথিত এক আন্তর্জাতিক পরিসরের দোহাই দিয়ে বলা হয় এইসব। তথ্য থেকে এটা পরিষ্কার যে মাতৃভাষা-হীন উচ্চ-শিক্ষা দিয়ে ইংরেজি-ভাষা প্রচলিত দেশের জন্য প্রযুক্তি-ব্যবসার ঝাঁকা-মুটে  বা মূলতঃ শ্বেতাঙ্গ বাচ্চাদের আমদানি করা ‘বৈচিত্রময়’ অধ্যাপক হওয়া সম্ভব, কিন্তু নিজ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাতৃভাষাকে দুরে রেখে উত্কর্ষ তৈরী কঠিন। রাজনৈতিক নেতারা যতই ‘সেন্টার ও এক্সেলেন্স’ লেখা শ্বেতপাথর উদ্বোধন করে জনগণ-কে ধোঁকা দিন, এক্সেলেন্স-হীনতার এই ফাঁকি এইসব রেঙ্কিং তালিকায় ধরা পড়ে যায়। এছাড়াও এর ফলে মাতৃভাষায় শিক্ষিত ইস্কুলের গন্ডি পেরুনো যে শিক্ষার্থী-সমাজ, যারা কিনা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপকভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাদেরকে অবহেলা করে, প্রান্তিক করে দিয়ে, হীনমন্যতায় ভুগিয়ে তাদের মেধা সম্পদ নষ্ট করা হয়। এই সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয় দেশ ও জাতি।  অবশ্যই এর পিছনে রয়েছে আমার মতো ইংরেজিতে পরা ভদ্রলোকের বাচ্চার কায়েমী স্বার্থ। এই মাতৃভাষায় শিক্ষিত সমাজকে প্রান্তিক করে রাখা নিয়ে রেঙ্কিং হলে ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়-গুলি যে বিশ্বে প্রথম ৫০-টি স্থান অধিকার করবে, এ নিয়ে আমার সন্দেহ নেই। তবে নিজেদের কায়েমী স্বার্থকে কি করে সর্বসাধারণের স্বার্থ হিসেবে দেখিয়ে ক্ষমতা ও প্রাধান্য ধরে রাখতে হয়, তার ইন্টেলেকচুয়াল ট্রেনিং দিতে আমরা ওস্তাদ।  পশ্চিমবঙ্গে অধ্যাপকের চাকরি লোভনীয়। নানা দেশের অধ্যাপকের মাস মাইনের সঠিক তুলনা (অর্থাৎ সেই পরিমাণ অর্থের সেই দেশে ক্রয়ক্ষমতা – যাকে বলে পারচেসিং পাওয়ার) করলে দেখা যায় যে এদেশের অধ্যাপকেরা গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী, ফ্রান্স, জাপান প্রভৃতি দেশের অধ্যাপকদের থেকে বেশি ক্রয়ক্ষমতার অধিকারী। আমাদের পিছিয়ে থাকাটা টাকাকড়ির কারণে না।

কি কি দেখা হয়েছে এই সব রেন্কিং-এ ? রয়েছে গবেষনার খ্যাতি ও পরিমাণ, শিক্ষা-দানের খ্যাতি, তবে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে ‘সাইটেশন ইম্পেক্ট’-এ।  অর্থাৎ এই যে জনগণের টাকা নিয়ে বিদ্যাচর্চা ও গবেষণার আয়োজন, তাতে যা পয়দা হচ্ছে, তা কি জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিশ্বে অন্যদের নজরে আসছে, তারা কি সেগুলির কথা বলছেন, নিজেদের কাছে ব্যবহার করছেন ? আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলি মূলতঃ জ্ঞান দেবার জায়গা, নতুন জ্ঞান তৈরী অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গৌণ। এর ফল খুব সহজ। আমরা এখুনো  হা-পিত্যেশ করে বসে থাকি সাহেব-মেম-রা নতুন কি বার করলো। যেহেতু নিজেদের উঠোনে হয়না সেসব কাজ, তাই আমদানি করা জ্ঞান সিলেবাস ভুক্ত করতেও হয়ে যায় বিরাট সময়ের ব্যবধান। আর এই কারণেই চলে বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি-ছাটার সময়ে দেশে আশা স্বজাতীয় পরিযায়ী পাখি অধ্যাপকদের নিয়ে একটা আদেখলাপনা। সাফল্যের মাপকাঠি হয়ে ওঠে বিদেশে কে কত নাম করলো। ফলে গবেষনার বিষয়-গুলিও মূলতঃ হয়ে যায় বিদেশের সমাজের মাথাব্যথার উপশম করার
‘আন্তর্জাতিক’ প্রকল্পে হাথ লাগানো বা শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতকুলের আভ্যন্তরীণ বিতর্কে নাক গলিয়ে জাতে ওঠার চেষ্টা। আমাদের দুর্ভাগ্য যে এদেশের
ব্যবস্থা ঠিক এই ধরনের আচরণ-কে পুরস্কৃত করে।

অথচ এহেন গুরুদের প্রশ্নবিদ্ধ করার সংস্কৃতিকেও এখানে বেশ জোর দিয়ে ধামাচাপা দেওয়া হয়।  যেখা চিত্ত হওয়ার কথা ভয়-শূন্য, সেখানে
সামন্ত্রতান্ত্রিক গুরুবাদের ঠেলায় তৈরী হয় ত্রাসের পরিবেশ। প্রশ্ন করতে নেই, নিলে স্যার রেগে যাবেন, তারপর স্যার তার ক্ষমতা-মতো ‘দেখে
নেবেন’, তখন কে বাঁচাবে ? জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা এমন এক জিনিস, যেখানে সব কিছুকে অনাবৃত করতে হয়।  যেখানে যুক্তির শানিত ব্যবহারে অধ্যাপক-কে কাছাখোলা করাটাই শ্রেয়, সেইসব ক্ষেত্রে গুরুর ঘরের সামনে মাথা নোয়ানোকে মনে করা হয় আদর্শ ব্যবহার। মেধার বিকাশের জন্য গুরু-ভজনা নয়, গুরু-মারা বিদ্যা আয়ত্ত করা প্রয়োজন।  এবং দরকার সেই ধরনের গুরু, যারা ছাত্রদের গুরু-মারা জ্ঞানচর্চা করতে উত্সাহিত বোধ করেন, ‘আমি জানি না’ -পরিষ্কারভাবে  এই বাক্যটি  ভাবে বলতে পারেন সকলের সামনে।  এক্সেলেন্স ফলে মানুষের মাঝে মুক্তচিন্তার অঙ্গনে, শিক্ষামন্ত্রীর বাণীতে  না, ফলকে না, অধ্যাপকের চেয়ারে রাখা তোয়ালের নিষ্ফলা ‘মর্যাদা’তেও না।

মতান্তর ও বিতর্ক হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ। ক্ষমতার সান্নিধ্য মুক্ত-চিন্তার কাছে বিষময়। ঠিক সে কারণেই চিরকাল-ই প্রতিষ্ঠান-বিরোধী ছাত্র রাজনীতির নেতৃত্ত্বের সাথে মেধা ও উত্কর্ষের একটা সম্পর্ক থেকেছে আর ক্যাম্পাসে সরকারপন্থী ছড়ি ঘোরানোর রাজনীতি জন্ম দিয়েছে গতদিনের
প্রফেসর অনিল ও আজকের  প্রফেসর শঙ্কুদের। এই বাংলার অন্যতম ভালো বিশ্ববিদ্যালয় যাদবপুরে কাশ্মীর নিয়ে আলোচনা-সভা করতে অনুমতি দেওয়া হয়না, উপাচার্যের টুকলি-করা গবেষণা-পত্র ধরা পড়েও চাকরি থেকে সে বরখাস্ত হয় না – সসম্মানে ফিরে যায়ে পুরনো আস্তানায় – আরেক ‘উত্কর্ষ’ কেন্দ্রে, নিরাপত্তার নাম করে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর সিসিটিভি নজরদারী চালানো হয়। যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তা ও আলোচনার বিষয়
কর্তৃপক্ষের অনুমতিসাপেক্ষ, অধ্যাপক-বেশী চোরেরা আসল অধ্যাপকদের দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসেন, খাঁকি জামাপরা পুরুষ সরকারী কর্মীরা
সুরক্ষার নামে যুবক-যুবতীরা বিশ্ববিদ্যালয় চত্তরে কখন-কোথায়-কি করছে, তা টিভি-তে দেখার মত অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকে, সে দেশের কোন
বিশ্ববিদ্যালয় যে বিশ্ব-বরেণ্য তালিকায় নেই, এতে এত আশ্চর্যের কি আছে। তবুও এর মধ্যেই যাদবপুরের নয়া উপাচার্য্য সুরঞ্জন দাস যাদবপুরে
সিসিটিভি-গুলি নামিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।  শুরুটি ভালো। কার তাতে কি, আমরা যদি এই আকালেও স্বপ্ন দেখি।

Leave a comment

Filed under Academia, বাংলা, Bengal, Education, Knowledge, Kolkata, Language

ভারত ও ঢাকার মাঝখানে – অনিকেত প্রান্তর

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সাথে ভারতীয় সংঘ-রাষ্ট্রের নরেন্দ্র মোদীর চুক্তির ফলে নিরসন হলো ছিটমহল অধ্যায়, যদিও এর মধ্যেই অন্য রাষ্ট্র  বেছে নেওয়ায়ে সংখ্যালঘু ঘর ইতিমধ্যেই ঘর জ্বলেছে এক রাষ্ট্রে । অদ্ভূত জিনিস এই ধর্ম, রাষ্ট্র ও নাগরিকত্বের টানাপড়েন-গুলি।  আর এসব  এলোমেলো করে দেওয়া সেই অদ্ভূত শব্দটি – ‘জন্মভূমি’। বাংলাদেশের অন্তর্গত ‘ভারতীয়’ ছিটমহলে ‘ভারতীয়’ নাগরিক শিশু পাশের গ্রামে (অর্থাৎ বাংলাদেশে) গিয়ে শিখেছে যে তার প্রধানমন্ত্রী হলো শেখ হাসিনা। সর্বার্থেই ছিট-মহল গুলি প্রান্তিক, এমনকি রাষ্ট্রও তাদের থেকে আনুগত্য দাবি করে না। ভারতের নাগরিক নিজেকে ভারতীয় মনে করে কিনা, তেরঙ্গা দেখে সটান হয় কিনা, গান্ধী দেখে শ্রদ্ধা দেখানোর ভাব করে কিনা, ক্রিকেটে পাকিস্থান-ঘেন্না করে কিনা, ছিটমহলবাসীদের ক্ষেত্রে ভারতের তাও এসে যেত না। আজকালকার রাষ্ট্র-ভিত্তিক বিশ্ব-চরাচর-কল্পনার দিনে  দিনে এর চেয়ে হতোছেদা আর কি করে করা যেতে পারে। যাই হোক, আশা করা যায় যে এখান থেকে দুই দেশের বাচ্চারা ঠিক ঠিক পতাকা দেখে ঠিক ঠিক সটান হতে শিখবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী, যিনি ঘুণাক্ষরেও সোসিয়াল মিডিয়া-তে হিন্দি ছাড়া কোন দেশী ভাষায় তার প্রজাদের বার্তা পাঠান না, এ হেন পাক্কা ভারতীয় জাতীয়তাবাদী পূর্ব্ববাংলা সফরকালে সস্তা চমক দিয়ে সেখানকার বাঙ্গালীর মন জয় করার জন্য টুইট করলেন বাংলায়। একজন পশ্চিম-বঙ্গবাসী হিসেবে এটা  কতটা অপমানজনক যে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাঙ্গালী হিসেবে আমাদের সেটুকু স্বীকৃতিও দেয় না, যতটা কিনা পূর্ব্ব-বঙ্গবাসীদের দেয়। আকাশ খুব অন্ধকার।  আমরা একটু নিজেদের ভাঙ্গা সিঁড়দারাটার দিকে চেয়ে দেখি, একটু লজ্জা পাই, একটু ক্ষুব্ধ হই, একটু আত্মসম্মান সঞ্চয় করি । স্বীকৃতি দিক না দিক, দিল্লি বাংলা ও অন্যান্য রাজ্যের থেকে করের টাকা নিয়ে খয়রাতি করে আসবে বিদেশে একটি বিশেষ ভাষা-কে ‘ভারতের  মুখ’হিসেবে ফোকাস দেওয়ার জন্য। এবার-ও নরেন্দ্রভাই-এর ঢাকা সফরকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগের শ্রীবৃদ্ধি ঘটেছে নতুন দিল্লির সরকার বাহাদুরের কল্যানে। বাঙালি, তামিল, অহমিয়া, তেলুগু, কন্নড়-ভাষী মানুষেরা এটা জেনে প্রীত হবেন যে তাদের ভাষা-সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব-টা হিন্দী আপনাদের না জানিয়েই নিয়ে নিয়েছেন আর সাথে নিয়েছে আপনাদের করের টাকা।  বলাই-বাহূল্য, নতুন দিল্লীর খয়রাতি পাওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগটির নাম হিন্দী। আর এই সব খয়রাতি করে অনেকে ভেবেছেন ওরা হেব্বি খুশি।  ওরা কিন্তু অনেকেই বেশ রেগে আছেন।

কলকাতার হো চি মিন সরনীর নাম অনেকেই শুনে থাকবেন।  কেউ কেউ হয়তো জানবেন যে এই রাস্তার আগের নাম ছিল হ্যারিংটন স্ট্রীট। কে এই হ্যারিংটন? ইনি ফিরিঙ্গি কোম্পানির আমলে নিজামত বা সদর আদালত-এর প্রধান বিচারক ছিলেন।  ১৮২৩ সালের  ২৮ জুন তিনি লিখিত মন্তব্য করেন যে সতীদাহ প্রথা যদি তখুনি নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলেও এই নিষিদ্ধকরণের বিরুধ্যে তেমন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন তিনি আশা করেন না। অর্থাৎ জনগণ সে অর্থে সতিদাহর পক্ষে ছিল না। সতী-দাহ প্রথা নিষিদ্ধ হয় এর ছয় বছর পরে, ১৮২৯ -এ। নানা বিরুদ্ধতা উপেক্ষা সত্তেও সতিদাহ নিষিদ্ধকরণের যে প্রকাশ্য নায়কদের কথা আমাদের চিরকাল জেনে এসেছি, কিন্তু নেপথ্য নায়ক যে জনগণ, তাদেরকে স্বীকার করে নেন হ্যারিংটন। ফলে নায়কদের উচ্চতা একটু কমে, তাদের সংগ্রাম একটু ফ্যাকাশে হয়। তবুও সেটাই বাস্তব।  হ্যারিংটন-এর নামের জায়গায় হো চি মিন  দিয়ে সেটা ভোলা যায় না।  তবে হো চি মিন নামকরণের ছিল আরেকটি উদ্দেশ্য, এবং সেটি কিন্তু গর্ব করার মতো। এই রাস্তাতেই মার্কিন কনসুলেট। ভিয়েতনাম-এ মহিলা-শিশু-বৃদ্ধ নির্বিশেষে মানুষকে হত্যা করার যে নৃশংস খেলায় মেতেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, এটা ছিল তার-ই বিরুধ্যে কলকাতার নিজের মত করে প্রতিবাদ। একটু লজ্জা দেওয়া, একটু বিড়ম্বনায় ফেলা। কলকাতার মার্কিন দূতাবাসকে আজ-ও হো চি মিন-এর নাম স্মরণ করতে হয়, না চাইলেও। নৃশংসতার প্রতিবাদ হিসেবে লজ্জা দেওয়ার মতো নাম পরিবর্তনের দাবি কিন্তু বেশ ছোয়াঁচে।  নিষ্পাপ শিশু ফেলানি-কে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বি-এস-এফ বাহিনী গুলি করে হত্যা করে দুই বাংলার সীমান্তে। গরীবের মেয়ে ফেলানির দেহ লটকে সীমান্তের কাঁটাতারে লটকে থাকে বেশ কিছু সময়। আর বিঁধে থাকে ‘অনুভূতিগুলো’। এই কাঁটা-তার-এ ঝুলে থাকা শিশুর ছবিটি ভারতের ‘স্বাধীন’ ও ‘মুক্ত’ সংবাদ-মাধ্যম খুব বেশি প্রচার না করলেও, সারা বিশ্ব জেনে গেছিল ফেলানিকে এবং তাকে খুন করা উর্ধি-ধারী বাহিনীকে, যাদের মাইনে  আমি আপনি দিই। বাঙ্গালীর দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ঢাকায় উঠেছিল প্রতিবাদের ঝড়, দাবি উঠেছিল সেখানকার ভারতীয় দুতাবাসের সামনের রাস্তার নাম বদলে  ফেলানির নামে করে দেবার জন্য। তারপর যা হবার, তাই হয়েছে।  গরিব মানুষের মেয়ের মৃত্যু নিয়ে প্রতিবাদ বেশিদিন টিকে থাকে না – ঘটনা হয়ে যায় সংখ্যা । ফেলানি ঝুলে ছিল যে কাঁটা-তারে, দুই বাংলার মধ্যে সে কাঁটা-তার বানিয়েছে দিল্লী। এতে ওপার থেকে অনুপ্রবেশ কমেছে কিনা, তার কোন খবর নেই , তবে এই কাঁটা-তার লাগানোর বরাত পেয়ে যে ঠিকাদার-রা কাজ করেছেন, তারা যাদের ঠিকাদার হবার নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের যে পকেট ভালই ভরেছে, সেটা বলাই বাহুল্য। সেটাও আমার আপনার টাকা। তবে এটা যেহেতু ‘জাতীয় সুরক্ষা’র প্রশ্ন, বেশি হিসেব চাইবেন না। বেশি হিসেব চাইলে আপনাকে সিধা করার মত নানা কালা কানুন ভারতে মজুত আছে – অশোক-স্তম্ভের সিংহ-গুলি শুধু দাঁড়িয়ে থাকে না, কামড়ে রক্ত-ও বার করে।

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি পূর্ব্ব বাংলা ঘুরে এসে বললেন যে ছিট-মহল বিনিময়ের ঘটনা হলো বার্লিনের প্রাচীরের পতনের মতই ‘ঐতিহাসিক’। এই ‘ঐতিহাসিক’ ধারণাটা আমি কখুনই ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। কোনটা ঐতিহাসিক, কোনটা নয়, কেই বা সেসব ঠিক করে দেয়।  তবে এটুকু জানি, যে দুই গরীব বাস্তুহারা টইটুম্বুর  বাংলার মধ্যে যে ‘অনিকেত প্রান্তর’, তার মাঝে কাঁটা-তার বসিয়ে আর যাই হোক, বার্লিনের প্রাচীর পতন হয় না। সীমান্ত-বাসী মানুষের ভাষা যারা বোঝে না, তাদের গায়ে উর্দি পরিয়ে, হাতে বন্দুক ধরিয়ে ধর্ষণ করানোকে, মন-মর্জি মতো মারামারি ও জিনিস-পত্র হাতানোকে, হতদরিদ্র মানুষ খুন করানোকে ‘সুরক্ষা’র নাম দেওয়া পাপ। এই পাপ কিন্তু আমাদের পয়সায় মাইনে পাওয়া-রা কিন্তু করে এপার বাংলার মানুষজনের সঙ্গেও।  এমন পাপ মা দূর্গা কখুনো মাফ করবেন কিনা জানিনা।

যখন এই দিল্লী-ঢাকা শীর্ষ দেওয়া-নেওয়া হচ্ছিল, পাশে থাকা থেকে সাথে থাকার সুললিত বাণী দেওয়া হচ্ছিল, ঠিক তখুনই হাসিনা সরকারের প্রবাস কল্যাণমন্ত্রী মোশারফ হোসেন ফরিদপুরে তার বহুদিনকার চেনা একটি প্রথিত্জসা সংখ্যালঘু পরিবারের বসতবাড়ি জোর করে হাতিয়ে নেবার সব রকম ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। একদিন হয়তো সেই নিপীড়িত পরিবারের একজন ‘এপারে’ চলে আসবে। পশ্চিম-বঙ্গের বাঙ্গালীদের সংস্কৃতিক নিজস্বতাকে যারা স্বীকৃতি দেয় না, তাদের কোলেই খুঁজতে হবে নতুন আশ্রয় ও পরিচয়। তারপর তার এই নতুন প্রভু তার নিজের রাজনীতির খেলার অংশ হিসেবে দেখাবেন ‘নাগরিকত্বের’ লোভ। তাই দেখে পূর্ব্ব বাংলার কেউ কেউ বলবেন যে এমন ঘোষণা হলো অনধিকার-চর্চা। ঘর-পালানো মানুষটা কি আজ-ও ‘ওপারের’?  পূর্ব্ব বাংলার ভিটে ছেড়ে পালিয়ে আসা বাঙ্গালী হিন্দু ঠিক কোন মুহুর্তে ‘ইন্ডিয়ান’ হয়ে যায় এবং দেশ নিয়ে কিছু বলার অধিকার হারায়? পালানোর দিন ? বর্ডার পেরোলে ? ‘ইন্ডিয়ান’ নাগরিকত্ব পেলে? দুই পুরুষ পরে? নাকি এসবের অনেক আগে, ‘ভুল’ ধর্মে জন্মমুহুর্তে? আমি জানি না।

Leave a comment

Filed under Army / police, বাংলা, Bengal, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Hindustan, Identity, India, Kolkata, Language, Partition, Religion

কুমিল্লা সংস্কৃতি উত্সব – স্পর্ধা অন্যতর

আমি যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌছলাম পড়াশুনো করতে, তখন ওখানে স্থিত পশ্চিম বাংলার বাঙ্গালীদের মধ্যে অদ্ভূত আবিষ্কার করলাম। আপনি কোথাকার, এটা জিগেশ করলে, কেউ তার জেলা শহরের কথা বলেন না। প্রশ্নকর্তার ‘সুবিধার্থে’ বলেন যে তিনি কলকাতার।  কলকাতার একটা ব্যাপ্তি আছে।  ১৪৪ ওয়ার্ড-দিয়ে গড়া। আমি কলকাতা থেকে  বরানগরে  কর্মস্থলে যাই।  এটা কলকাতা নয়। কলকাতার উত্তরে একটা এলাকা। এখানকার অনেক মানুষ সহজ ভাবেই বলেন যে কাজে কলকাতায় যাচ্ছেন। আরেকটু উত্তরে ব্যারাকপুরে  কথাই নেই।  সেখানে এটা আরো পরিষ্কার ভাবে কলকাতা নয়, মানুষের ভাবনায়, চেতনায়, কল্পনায়। কিন্তু এই সব কিছু-কে কলকাতা মহানগরের মধ্যে মিলিয়ে দেবার প্রবণতার পিছনে আরেকটা কিছু রয়েছে। একটি শ্রেনীর হয়েছে, যারা কোনো কিছুরই নন গভীর-ভাবে।  তাদের ক্ষেত্রে স্থানীয় পরিচয় অপ্রাসঙ্গিক।  ‘গ্লোবাল’ দুনিয়ার ম্যাপে একটা খুঁটি পোতা  এবং অন্যদের কে বোঝানো – এটাই সেই আত্মপরিচিতির লক্ষ্য। এক সাথে রয়েছে স্থানীয় অনেক ব্যাপার থেকে এলিয়েনেশন। সেটা শ্রেণীগত কারণে হতে পারে, ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির লেজুর-বৃত্তির ইপ্সায়  হতে পারে, স্থানীয় সংস্কৃতিক ধারা নিয়ে নিরক্ষরতাও একটা কারণ বটে। কিন্তু সকলে এমন নন। পূর্ব বাংলার যে মানুষদের সাথে আমার পরিচয়, তাদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত ভাবে স্থানীয় পরিচয় গৌণ  নয়, বা নিজেকে ‘ঢাকা’র বলে জানানোর প্রবৃত্তি কম।  এটা অনাবাসীদের ক্ষেত্রেও সত্যি। আমার বাড়ি চেতলা এলাকায়। আমি এখুন সেখানে থাকি।  পড়াশুনো ও গবেষনার কারণে ৮ বছরের প্রবাস জীবন কাটিয়ে বাড়ি ফিরেছি। আমি অতি ভাগ্যবান যে এমন এক নিবিড় পারা-সংস্কৃতি, ধর্মাচার ও নানা রকম মানুষ ও বাজারের সাথে পরিচিত হতে পেরেছি বড় হবার সময়ে। যেহেতু আমি চেতলার, বাকি কলকাতা বা ‘কলকাতা’ কে দেখার আমার যে দৃষ্টি , যার মধ্যে চেতলার ছাপ অনস্বীকার্য।  আর সেটা হবে নাই বা কেন?  মাটি থেকে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, হাওয়া থেকে নয়, এলিয়েনেটেড মানুষের আমদানি করা ভাঁজ থেকে না। স্বেচ্ছায় শিকড়হীন শ্রেণী যে পশ্চিম বঙ্গে ও কিছুটা পূর্ব বঙ্গেও রাজনীতিতে, ক্ষমতায়, সংস্কৃতিতে – অন্দরে ও বিশ্বের কাছে নিখিল বাংলাদেশের মানুষের ‘মুখপত্র’ হয়েছেন মূলতঃ শ্রেণীগত ভাবে এক ধরনের ইংরেজি ভাষায় সমাজকে স্থুল ভাবে সাহেবের কাছে ও একে অপরের কাছে প্রদর্শনের কারণে, এ আমাদের লজ্জা। দোষ তাদের না – দোষ বাকিদের, যারা এই জায়গা ছেড়ে দিয়েছে ভয়, স্পর্ধাহিনতায়। মাটির থেকে, স্থানজ সংস্কৃতি থেকে বিছিন্ন শ্রেনীর এই আধিপত্যের বিরুধ্যে লড়াই একটা গভীর লড়াই – এর সাথে আমাদের যুগের সংস্কৃতিক সংকট, ও তার সাথে ক্ষমতার সম্পর্কের প্রশ্ন অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। এই ‘আব্সেনটি ল্যান্ডলর্ড’ শ্রেনীর বিরুধ্যে সংগ্রাম কোন প্রতিক্রিয়াশীল সংস্কৃতিক প্রতিরোধ নয়। পশ্চিম-চালিত একমুখী বৈচিত্র-বিরোধী যে দানবের দুনিয়া জোড়া আস্ফালন আমাদের পোড়ার দেশগুলিতে, তার শিকড়হীন দেশীয় দালাল-দের বিরুধ্যে সংগ্রাম আসলে গণতন্ত্রিকরণের সংগ্রাম। এটাই এই যুগের গণ-লাইন। নানা বৈচিত্রের, নানা বিভন্গের মানব-জমিন কে দখলদার মুক্ত করা, যাতে কিনা ‘ডকুমেন্টেশন’ এর বাইরেও কিছু হয়, যাতে সে জমিতে নতুন ফসল ফোটে , যে জমিতে পূর্বসুরীরা ফসল ফলিয়েছেন – তার ধারাবাহিকতায় ও এবং সেই  স্থানীয় পরিপ্রেক্ষিতে তার থেকেই বিচ্ছিন্নতায় – যে বিছিনতায় রয়েছে, যার থেকে বিছিন্ন, তার গভীর ছাপ।

এই কথাগুলি বলার কারণ হলো আমাদের সংস্কৃতিক ভাবনা ও পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও, কলকাতা-ঢাকা কেন্দ্রিকতার ঝোঁক স্পষ্ট। কল্কে পাবার যে সংজ্ঞা গুলি, কোন উদ্যোগ হলে সেটি কোথায় হতে হবে, করা করা না দেখলে তা প্রায় দেখার মতোই হলো না – এই ধরনের প্রশ্ন নিয়ে বেশ কিছু কুসংস্কার কাজ করে। ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতি থেকেও তাহলে কিছু কিছু কুসংস্কারের উদ্ভব হয় – সব কিছু আমাদের স্থানজ যাপন ও চর্চার দোষ না। কি বলেন ?

অনেক কিছুই হয় কলকাতায়।  কিছুতে লোক আসে, কিছুতে আসে না।  অনেক ক্ষেত্রে অপাত্রে দান হয়। যদিও সে চর্চার মাহাত্ম্য বোঝার আসল লোক অন্যত্র।  কিন্তু সেখানে হলে মহানগরবাসী আদৌ যাবেন না।  অত দূর যাওয়া যায় নাকি। বাঁকুড়া – সে তো বহুদূর।  কিন্তু সে বাঁকুড়া থেকেই তারা আসেন, কলকাতার অত্যধিক ত্যালা মাথার তেল একটু গায়ে লাগানোর জন্য।  এই ধরনের সংস্কৃতিক কেন্দ্রিকতা সংস্কৃতিকে একটা নিষ্প্রাণ ধারণার সাথে ঠিক আছে, কিন্তু যাপন ও স্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, এলাকার জল-আবহাওবায় ভেজে না সে সংস্কৃতি। তাই হয়তো তা  ‘এক্সপোর্ট কোয়ালিটি’র না। ডানা ছেঁটে, তাকে সাইজ করে, ‘ডকুমেন্ট’ করে, রামের জিনিস শ্যামকে দেখিয়ে,  সংগঠক হিসেবে নিজের নাম দিয়ে, এক শ্রেনীর ঠিকাদার নাম কামান সংস্কৃতির ধারক বাহক ও সমঝদার হিসেবে।  এদের শিকর-হীনতার জন্যেই, স্থানীয় ভ্যালুস এদের জীবনে অপ্রাসঙ্গিক হবার কারণে, এদের গর্জে ওঠেন ‘ঘষা-মজা’ না-করা স্থানীয় সংস্কৃতিক প্রকাশের বিরুধ্যে। কেন্দ্রিকতায় এদের কায়েমী স্বার্থ। ‘কস্মপলিটানিজম’ এর নাম এক বিশেষ ধরনের সংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ এদের মূল-মন্ত্র, যেখানে ল্যাজ-কাটা শেয়াল ল্যাজ-ওলা শেয়ালদের নিজ ল্যাজ সম্বন্ধে লজ্জিত করানোর চেষ্টা করে, ‘উচ্চমার্গ’ ও সূক্ষতার দোহাই দিয়ে। গণসংস্কৃতি, জনসংখ্যা -এদের বড় শত্রু। তাই সেগুলিকে জোর করে অদৃশ্য করে দেওয়ার চেষ্টা চলে নিরন্তর। তাই তো মনে হয় অনেকের কথা শুনে না ‘ইউথ’ মানে সে যে কফির পেয়ালা ধরে এক ধরনের চর্চা করে।  বাকি কিছুই ইউথ না। অন্ততঃ তাদের ইউথ হয়ে উঠতে অনেকগুলি ধাপ পেরোতে হবে, পরীক্ষা দিতে হবে শিকড়হীনতার – মাথায় তেলের চেয়ে সেম্পু বেশি লাগানোর।

এত কথা বললাম, কারণ ক্ষমতার সঙ্গে সন্ধি করে যে সংস্কৃতিক স্রোত বইছে মহানগরে, তার থেকে আলাদা যে কোন উদ্যোগ-ই বিরুদ্ধতা।  দহয়ত এটা দুঃখের যে স্বাভাবিক ভাবে বাঁকুড়া তে থেকে বাঁকুড়া নিমজ্জিত থাকাও আজকে একরকম দ্রোহ। এতেই ‘গ্লোবাল’ সংস্কৃতির অসহনশীলতার প্রকাশ। এরই মাঝে দাঁড়িয়ে আছে – এক, দুই, তিন নয় – ৫ বছরের কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।

এই বাত্সরিক উত্সব কুমিল্লার মানুষের, অবারিত দ্বার সেখানে। সংগঠক এলাকার মানুষ, নতুন মানুষ এবং কুমিল্লার চশমা পরে বিশ্ব দেখে এসে ফের কুমিল্লায় আস্তানা বাঁধা মানুষজন – মনজুরুল আজিম পলাশ যার অন্যতম। এলাকার সংস্কৃতি, তার উপর যে নানা স্বার্থান্বেষী, বিদ্বেষী আঘাত – আধুনিকতার নাম, ধর্মের নাম – সে সকলের বিরুধ্যে দাঁড়িয়ে আছে এই উত্সব। ঢাকা, কলকাতা, চিটাগাং, টরন্টো, চীন এসকল জায়গা থেকে মানুষ কুমিল্লা গেছিলাম।  বড় শহর থেকে মানুষ ছোট শহরে যাবে কিছু পাবার জন্য – জজ-জুরি হিসেবে না, অতিথি হিসেবে, নিজেকে ব্যাপ্ত করার সুযোগ হিসেবে – এটা আজকের সময়ে বড় কম কথা নয়। এবং সেখানকার গণ-সংস্কৃতির কাছে মাথা নবাবে, আঁজলা  ভরে নেবে, হয়ত বা কিছু দেবেও।  এই ভাবেই অতিথির চোখে দেখলাম এই অসাধারণ উত্সব।  সুসু অতীত চর্চা নয়, শুধু ‘সনাতন’ চর্চা নয়, আবার সেসব বাদ দিয়েও নয়, আবার সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা কে সামনে রেখে, অনেক স্বেচ্ছা-সেবকের উদ্যোগে হলো এই উত্সব।  এলাকার গণ-সংস্কৃতির ও গর্ববোধের কাঠামো যে মজবুত তা বুঝলাম কুমিল্লার একাধিক স্থানীয় দৈনিক কাগজ দেখে – এবং সেখানে এই উত্সবের উত্সাহী রিপোর্টিং দেখে।  আলাপ হলো কুম্মিলার কাগজের নির্ভিক দরদী সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয়ের সাথে।  আরো কত জানা হলো, কত কিছু শিখলাম।

এই সময়ে, এই স্পর্ধা করা যে কুমিল্লায়, তাদের কাছে যে মাল মজুত আছে, তা ঝুলি থেকে বার করে দেখালে, বাইরে থেকে লোক আসবে। তারাও আসবে নিজেদের একটু আধটু নিয়ে, নিয়ে যাবে অনেক বেশি।  আজকের কেন্দ্রিকতার দুনিয়ায়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব ( কুমিল্লা কালচারাল ফেস্টিভেল) -এর স্পর্ধা অন্যতর বিশ্বায়নের এক মেনিফেস্টোর মত – গণসংযোগ, স্থানীয় সংস্কৃতিক স্বাক্ষরতা, মাটির সাথে সম্পর্ক, মানুষ সম্পর্কে শ্রদ্ধা, বিকেন্দ্রীকরণ, গণতন্ত্রীকরণ এবং নিজেকে পৃথিবীর কেন্দ্র মনে করা এক বহুকেন্দ্রিক পৃথিবীর কল্পনা করা।

গেছিলাম আমন্ত্রণে।  ফিরলাম এলাকাকে ও তার মানুষকে একটু চিনে, আর এও জেনে যে ঢাকা ও কলকাতার দিয়ে সংস্কৃতির সকল ধারা কে বাধ দেওয়া যায় না, এবং সেগুলি অনেক কিছুর জন্যই আদর্শ স্থান নয়।  আমার-ও কিছু পাওয়ার আছে কুমিল্লা থেকে। কাউন্টার ভ্যানগার্ড হয়ে হয়্তো তা ভ্যানগার্ড ধারণার সঙ্গে একটা সমালোচনা-মূলক সংলাপ। সেদিক থেকে কুমিল্লার এই উত্সব পথিকৃত। এলাকার গান ছিল, এলাকার নাটক ছিল, বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আশা মানুষের একাধিক মাস্টার ক্লাস ছিল, মোটর সাইকেল স্টান্ট ছিল, আলাপ-আড্ডা-হেঁটে বেড়ানো ছিল। পর্যালোচনা ও আত্মসমালোচনা ছিল।  স্থানীয় অশুভ শক্তির সাথে যুগপত সমঝোতা ও বিরুদ্ধতার যে কঠিন আভ্যন্তরীন সংগ্রাম, তাও ছিল।  শুধু অনুষ্ঠান সূচী দিয়ে এই উত্সব কে বোঝা যাবে না।  তার জন্য নিজ এলাকায় এমন উত্সব সংগঠিত করতে হবে, মানুষকে জুড়তে হবে।  কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব কোন তীর্থ না, এটি একটি মডেল। সতী মাতার শরীরের নানা অংশ বাংলার নানা স্থানে পড়েছিল , এক স্থানে পড়ে নি। তাই এত গুলি তীর্থ কে কেন্দ্র করা এতগুলি ধারা, এতগুলি চর্চা ও ভাবনা। পুরনো তীর্থ গুলু ধুঁকছে, নতুন তীর্থ জন্মাচ্ছে না,  ঢাকা-কলকাতা ‘মহাতীর্থ’ হয়ে উঠছে।  এই সময়ে দাঁড়িয়ে কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব একটি আলোকবর্তিকা হয়ে ওঠার আভাস দেখায়। পরের বার ষষ্ঠ কুমিল্লা সংস্কৃতিক উত্সব।  চোখ কান খোলা রাখব আমি, আপনারাও রাখবেন। বিকল্প অন্বেষণের  একই প্রয়োগশালাটি  আবার দেখা সুযোগ যেন হাতছাড়া না হয়।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Community, Culture, Dhaka, Kolkata

বোর্ড, শিক্ষা, আদর্শ – দিল্লী আমাদের ভবিষ্যত লুটছে

আমি যখন ডাক্তারী পড়তাম, একটা কথা বেশ চালু ছিল।এই যে পৃথিবীতে ডাক্তারদের বাজার কখুনোই কমবে না।  কারণ জনসংখ্যা বাড়তেই থাকবে, ফলে রোগীর সংখ্যাও বাড়তেই থাকবে। এই যুক্তিটি জন-সংখ্যার সাথে যুক্ত অনেক কিছুর ক্ষেত্রেই খাটে – যদি না ভয়ানক গোলমেলে কিছু ঘটে।  ঠিক তেমনই কিছু একটা ঘটছে আমাদের এই পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা-ক্ষেত্রে। এবং আমরা উদাসীন।  একটু খুলে বলি।

শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যা দিন কে দিন বাড়ছে, স্কুল পড়ুয়ার সংখ্যা বাড়ছে আর এসবের মধ্যেই এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে ! ভাবা যায়? তাও সামান্য, নয় – নয় নয় করে প্রায় ১৫ হাজার। একই সাথে অবশ্য এ বাংলায় প্রতি বছর বেড়ে চলেছে দিল্লীর নানা বোর্ডের পরীক্ষার্থী সংখ্যা। পর্ষদ কর্তারা বেহায়া হয়ে অদ্ভূত সব কারণ দিচ্ছেন। কলকাতা শহরে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা এতই কমে গেছে যে নানা রকম অজুহাতের শাক দিয়ে পচে যাওয়া মাছ থেকে দুর্গন্ধ আটকানো যাচ্ছে না একেবারেই। এ কেমন করে হলো? এবং এমন চলতে থাকলে, ক্ষতি কি? ক্লাস টেন পাশ করাই তো মোদ্দা কথা – মাধ্যমিক হোক বা সিবিএসই /আইসিএসই। ব্যাপারটা এত সহজ নয়।

শিক্ষা নাগরিক গঠন করে। তাই একজন স্কুল-পড়ুয়াকে কি শেখানো হবে, সেটা গুরুত্তপূর্ণ। আমাদের বাংলাদেশের জাতি ও সমাজের ভবিষ্যত এই ‘কি শেখানো হবে’র আদর্শের উপ নির্ভরশীল। একেই বলে সিলেবাস। মাধ্যমিক ও দিল্লী থেকে আমদানি করা বোর্ড-গুলির সিলেবাস এক নয়। পার্থক্য আছে।  এই পার্থক্য মানের তারতম্যের প্রশ্ন না , ভিন্নতার প্রশ্ন। ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে এতগুলি রাজ্য বোর্ড, তাদের সিলেবাসের ভিন্নতা আছে কারণ এই এলাকার মধ্যে বিশাল বৈচিত্র ও ভিন্নতা রয়েছে। তাই সিলেবাসকে যদি হতে হয় বাস্তবমুখী ও ছাত্রের আপন পরিবেশের সাথে নিবিড় সম্পর্কযুক্ত, রাজ্য বোর্ড ছাড়া তার গতি নেই।  আর যদি ছাত্রটিকে তার পারিপার্শিকতা থেকে বিছিন্ন করে, তার বাঙালিত্বকে ছেঁটে দিল্লি-নির্দেশিত এক কল্পিত ভারতীয়ত্তর জোব্বা পড়ানোই হয় সিলেবাসের লক্ষ্য, তাহলে দিল্লির বোর্ড-গুলির জুড়ি মেলা ভার। যা শুরু হয়েছিল সৈন্য বাহিনী ও বদলির চাকরির লোকেদের সুবিদার্থে তথা মিশনারী কিছু প্রচেষ্টায়, সেই গোষ্ঠী-গুলির দ্বারা পরিচালিত বোর্ড-গুলি এখুন কেন্দ্রীয়-সরকারী নীতির মদতে এক-কালের শক্তিশালী ও খ্যাতিমান রাজ্য বোর্ড-গুলিকে পরিকল্পনা-মাফিক মুমূর্ষু করে তুলছে – শিক্ষার বানিজ্যিকরন তথা নাগরিকদের বৈচিত্র হরণের দ্বিমুখী উদ্দেশ্যে।  তার ফল ভয়ানক।

বাংলার বোর্ডে ইংরাজি, বাংলা বা হিন্দী মাধ্যমে পড়া ছাত্রটি জানতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ভূগোলের খুঁটিনাটি বা বাংলার ধানের খেতে কি কি বোকা লাগে। তার ইতিহাস শিক্ষা স্রেফ দিল্লির  প্রাচীন ও বর্তমান সম্রাটদের গুনগাথায় সীমিত থাকে না। ভবিষ্যতে, জলে আর্সেনিক দুষণের প্রভাব দিল্লি থেকে আমদানি বোর্ড-গুলির সিলেবাসে না ঢুকলেও আমাদের ছেলে-মেয়েদের তা নিয়ে শিক্ষিত হওয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। আমাদের এই বাংলাদেশের বৈশিষ্টগুলিকে বিশেষ-ভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ইচ্ছা বা দায়, কোনটাই দিল্লীর নেই। ওদের থেকে আমদানি করা বোর্ড-এ  আপনার ছেলে-মেয়ে এই বাংলায় বসে ক্লাস-টেন পাশ করতে পারে এক বর্ণ বাংলা না শিখে। এই বঙ্গদেশের অধিকাংশ দিল্লী-বোর্ড-ওয়ালা ইস্কুলে প্রথম ভাষা হিসেবে বাংলা পড়ার কোন সুযোগ নেই। ভারতীয়ত্বের হাঁড়িকাঠে বাঙালিত্বের বলি দিয়ে যারা গুরগাঁও-বেঙ্গালুরুর দিকে শিশুকাল চেয়ে থাকবে চাতকের মতো, স্বপ্ন দেখবে হিন্দীর দেশের ইংরেজি মরুদ্যানে খেজুর গাছ হবার, আমরা কি সেই সন্তান গড়তে চাই? আত্মঘাতী হবার জন্য এর চেয়ে অনেক সহজ পথ আছে। 

এই বোর্ড-গুলি কার, এবং কাদের প্রাধান্য রক্ষা করতে গঠিত ও পরিচালিত, তা তামিল নাডু বা কর্ণাটকের অনেক শিক্ষাবিদের কাছেই পরিষ্কার।  শুধু এই অধম বাঙালি তার নিজের বোর্ড-এ পড়া ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যত অন্ধকার করতে চায়, দিল্লির বোর্ড-গুলির সুবিধা করে দিয়ে।  কি ভাবে ? অনেক ভাবে।  একটা উদাহরণ এরকম।  অনেক  ছাত্র-ছাত্রীর স্বপ্ন পশ্চিমবঙ্গে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার।  তার জন্য দিতে হয় জয়েন্ট পরীক্ষা। তার সিলেবাস অধুনা বদলানো হয়েছে – যাতে কিনা পশ্চিমবঙ্গের বোর্ড ও দিল্লি থেকে আমদানি করা বোর্ড-গুলির সিলেবাসের মধ্যে যে অংশটুকু কমন, প্রশ্ন আসবে শুধু সেখান থেকেই।  অথচ, কেন্দ্র যে আইআইটি বা  অল ইন্ডিয়া প্রি-মেডিকেল পরীক্ষা নেয় , সেখানে কিন্তু কোন কমনের বালাই নেই – একদম সোজাসুজি দিল্লির বোর্ড-গুলির সিলেবাসকে অনুসরণ করা হয়।  অথচ, যেটুকু সুযোগ আমরা আমাদের ছাত্রদের দিতে পারি, সেখানে আমরা তাদের লেঙ্গি মারছি ‘কমন’ ‘কমন’ খেলায়।  আর বাংলার মেডিকেল কলেজগুলি থেকে যে ডাক্তার বেরুবে, যে কলেজগুলি বাংলার মানুষের টাকায় গড়া, তা কার  স্বার্থে? নিশ্চই কতিপয় কলকাতাবাসী ‘এস্পিরেসনাল’ যুবক-যুবতীর কেরিয়ার গর্তে নয়।  বরং তা বাংলার মানুষের স্বাস্থ্যের স্বার্থে।  আজ-ও বাংলার কনে কনে যে ডাক্তার , তারা অধিকাংশ সেই পশ্চিমবঙ্গ বোর্ড-এই পড়া  .গুরগাঁও-বেঙ্গালুরু-লন্ডনের স্বপ্নে বিভোর আধুনিক শহুরে ভারতীয় দিয়ে এই বাংলার স্বাস্থ্য পরিসেবা চলবে না, তার জন্য চাই সেই বাংলা বোর্ডের ছেলেমেয়েগুলিকে  – যারা জেলাগুলিকে চেনে, বাংলার গ্রাম-মফস্স্বল চেনে, এলাকার ভাষা জানে।  কোথায় আমরা তাদের আরো আরো সামনে আনব – তা না করে আমরা  ‘আধুনিকীকরণের’ নাম বাংলার নিজের বোর্ড-কে ধ্বংস করছি। এ সকলেই জানেন যে পশ্চিমবাংলায় দিল্লি থেকে আমদানি করা বোর্ডে পরা শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে  বেশি  শহরকেন্দ্রিক, বেশি বিত্তশালী বর্ণহিন্দু প্রভাবিত। পাশ করলেই বাংলা ছেড়ে ফুরুত হবার স্বপ্নে বিভোর শ্রেনীর ত্যালা মাথায়ে তেল দিয়েই কি আমরা  সোনার বাংলা গড়ার চেষ্টা করছি ?  গুরগাঁও-এর কর্পোরেট হাসপাতালের ডাক্তার গড়ার কোন দায় পশ্চিম-বাংলার মানুষের নেই। বাংলা বোর্ডের সিলেবাস নির্ধারণকারী আধিকারিক যারা, জয়েন্ট এন্ট্রেন্স বর্ডার পদাধিকারী যারা, তাদের সন্তানেরা কোন বোর্ডে পড়েন, সেটা জানা দরকার। নইলে এসব ক্ষেত্রে  অন্য কি কি ধরনের স্বার্থ  কাজ করতে পারে, তা জানা যাবে না।  আমাদের বুঝতে হবে কাদের চক্রান্তে বাংলা বোর্ড ক্রমে পরিনত হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেনীর বোর্ডে, যেখানে বনের জলে ভেসে আসার ঠাই পাবেন।

বাঁকুড়া জেলা স্কুল, বর্ধমানের সিএমএস। সিউরী জেলা স্কুল – এই নামজাদা প্রতিষ্ঠানগুলিকে জোর করে হারিয়ে দিলে শেষ নিরিখে বাংলা হারবে। দিল্লির নামধারী ইস্কুলে দিল্লি থেকে আমদানি সিলেবাস পড়ে শহুরে বাঙালির  বাচ্চারা মানুষ হবে – বাংলার ভবিষ্যত আর যেখানেই হোক, এই উড়ে এসে জুড়ে ব্যবসা করা ইস্কুল্গুলির অলিন্দে খোঁজা অনুচিত। ব্যাপারটিকে যেন আমরা  মাতৃভাষায় শিক্ষার সাথে গুলিয়ে না ফেলি।  পশ্চিমবঙ্গের মধ্যশিক্ষা প্রসদের অনুমোদিত স্কুলগুলির সিলেবাস বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমে অভিন্ন।  আমি পড়েছিলাম সাউথ পয়েন্ট-এ , এক কালের নামজাদা ইস্কুল, পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের মুকুটের একসময়কার মণি।  এখান সময় পাল্টেছে – সেখানেও দিল্লি ও কেন্দ্র ঢুকেছে। শুনি ব্যবসা বেড়েছে। বেনিয়া কেন্দ্রীয়করণের এই প্রকল্পে, বাংলার মাজরা পোকা ও আলুর ধ্বসা রোগে নিয়ে শিক্ষার কোন জায়গা নেই।  তবুও কি আমরা আশা করতে পারি না, আমরা আমাদের বাংলার বোর্ড সেই ভাবে গড়ব , যাতে কিনা শহুরে বাঙ্গালী  ‘মিডিল-কেলাস’-এর গ্লোবাল ও ইন্ডিয়ান পোলাপানের সাথে মফস্স্বলের, গ্রামের, শহরের মধ্যে অন্যত্র শহরের সেইসব ছেলেমেয়েরাও সুযোগ পায় সাফল্যের – যাদের আজ দিল্লি ও তাদের বাঙালি দালালেরা জোর করে হারিয়ে দিচ্ছে।


Filed under Acedemia, বাংলা, Bengal, Class, Delhi Durbar, Education, Elite, Identity, Kolkata, Language

আমার শহর, আমার আশা

সামনেই আমার শহর কলকাতার পৌর নির্বাচন। এ শহর আমার জন্মের শহর। এখানে বস্তিবাসীকে নিমেষে হটিয়ে দিয়ে শহর ‘পরিষ্কার’ করা যায় না – কাউন্সিলর এম-এল-এর বেনামীতে প্রমোটারী ব্যবসা সত্ত্বেও। এখানে প্রধান প্রধান রাজপথে লক্ষ লক্ষ্য হকার সৎ ভাবে আয় করেন – মানুষের পেটে লাথি মেরে সূর্যোদয়ের বিরূদ্ধে দাঁড়ায় এ শহরের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ। এ শহরের পথে বিহারের দ্বারভাঙ্গা জেলার গরীব খাটিয়ে মানুষ বাংলা ভাষার জ্ঞান ছাড়াই ক্ষুন্নিবৃত্তি করে। অন্য কিছু শহর যেমন বাঙ্গালিকে হিন্দুস্তানি বা ইংরেজি বুলি বলতে বাধ্য করে, আমার শহর সেই পংক্তিতে পড়ে না। এ শহরের মন বড়। এ শহর আমার গর্বের শহর। তাই শহরের পৌরসভায় আমার প্রতিনিধিত্ব করবে কে, এটা খুব এলে-বেলে একটা সিদ্ধান্ত নয়। তেরঙ্গা পতাকার রাষ্ট্রর থেকে এই শহর আমার রোজকার জীবনে অনেক অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক, অনেক বেশি বাস্তব।

আমার এ শহর নিয়ে ক্ষোভ আছে – যেমন মানুষের থাকে একদম একান্ত নিজের কিছুকে নিয়ে। আমার ওয়ার্ডের পৌরপিতা আমাদের এলাকার নতুন কাজ বা পরিকল্পনা নিয়ে অরাজনৈতিক নাগরিক সভা করেন না। আমার এলাকায় আমার প্রতিনিধি যিনি, তার কাছ থেকে এইটুকু কি আশা করা খুব অন্যায়। আপনারা যারা এবারও আমার পৌর-প্রতিনিধি হবার ইচ্ছা রাখেন, এলাকার নানা পরিকল্পনা দলের রং না দেখে, নাগরিক-দের সাধারণ সভা ডেকে করবেন – এমন কথা দেবেন? এই টুকু চাইব না? অথচ আমার করের টাকাতেই তো পুরসভা চলে। বাড়ির বাচ্চাকে আলু-বেগুন কিনতে বাজারে পাঠালে আমরা পাই-পয়সার হিসেব নিই, আর কোটি কোটি টাকার বরাতে কর্পোরেশনের বাজার-রাস্তা-ইস্কুল-ত্রিফলার হিসেব নেব না ? হিসেব চাইব আমি নাগরিক হিসেবে। শহরের সৌন্দর্যায়নে আমার আপনার মতামত নেওয়ার দরকার নেই আমাদের প্রতিনিধিদের? নইলে সে কেমন প্রতিনিধি ? আমার আপনার ভোটে জিতে সে তাহলে কার প্রতিনিধিত্ব করে?

যে চরিত্রহীন, তার হীনমন্যতাই তাকে বাধ্য করে অন্যের চরিত্র ধার করে নিজেকে চরিত্রবান প্রমাণ করাতে। যার গায়ে কাপড় নেই, সে অন্যের জমকালো কাপড় গায় জড়িয়ে লজ্জা নিবারণ করে। যারা কলকাতাকে লন্ডন-নিউয়র্ক বানাতে চান, তারা না চেনেন কলকাতাকে, না চেনেন লন্ডন-নিউয়র্ককে। তাই তো তারা পরমা আইল্যান্ডের ‘পরমা’ স্থাপত্যকে ভেঙ্গে দেন অবলীলায়, বৃটেনের সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের প্রতিবাদ করে ইংল্যান্ড থেকে কলকাতায় এসে আস্তানা গড়া বিশ্ববরেণ্য বিজ্ঞানী ও সমাজচিন্তক জে বি এস হলডেনের নামাঙ্কিত রাস্তার নাম বদলের পায়তাড়া করা হয়। মধ্যমেধা ও মধ্যকল্পনার সাথে চাটুকারিতা ও দুনম্বরী মেশালে তিলোত্তমা গড়ার তিলের যোগান হয় না, লন্ডন-সিঙ্গাপুরের কয়েক তাল স্থুল অনুকরণ গড়া যায় ঠিকাদারী ব্যবসার মাধ্যমে। এ শহরের নিজস্বতা, এ শহরের প্রাণ-ভোমরা – শহর সাজাতে যদি তাকে যদি মন্থন না করা হয়, তখন সৌন্দর্য্য হয়ে ওঠে নগর ও নাগরিকের মধ্যেকার একটি দেওয়াল। সে দেওয়ালের উচ্চতা দেখে ভয় ও সমীহ হতে পারে, কিন্তু কেউ সেখানে গিয়ে চুমু খাবে না, আল্পনা দেবে না।

এ শহর দাঁড়ায় সিঙ্গুরের পাশে। তাই এ শহরে বিজনেস ক্লাসে উড়ে আসা লোক কম। আর খুব কম সম্বল করেও অমাবস্যার রাতে একটুখানি চাঁদের আলোর স্পর্শ পেতে চাওয়া লোকের সংখ্যা অনেক। আমার শহরের নায়কেরা শহরের নাম ভাঙিয়ে ক্রিকেট দল খোলে না , বিনোদন টেক্স বাকি রেখে নেচে কুদে ‘আই লাভ কলকাতা’ বলে বোম্বাই পালিয়ে যায় না। আমার শহরের আসল নায়কদের একজন হলো শমভু সিং। এ শহরের দক্ষিণে গগনচুম্বী বহুতলের খোপ-ঘরের আধুনিক হুল্লোড়ের উপর ঘুরপাক খায় জয় ইঞ্জিনিয়ারিং-এর নিহত কর্মী শমভু সিং-এর বিদেশী আত্মা – অপরাজিত সৈনিকের মতো। এহেন শহরের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব করা যে-সে কাজ না। এ শহর দিল্লি-বেঙ্গালুরু-নয়ডা-গুরগাঁও হতে চায় না। এ শহর এখুনো দোকানের নাম ও রাজনৈতিক পোস্টার লেখে মাতৃভাষায়। এ শহর হিন্দুস্তানের মরুভূমিতে মরুদ্যান নয়, ভাগীরথী-হুগলীর ব-দ্বীপের কোল ঘেঁসে গড়ে ওঠা মহা-গঞ্জ। এ শহর নিখিল বাংলাদেশের বৃহত্তম শহর। এ শহর অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের সকল বঙ্গবাসীর।

আমার শহরে থাবা বসিয়েছে অনেক দুর্বৃত্ত। তারা শহরের রাজপথে সাইকেল চালানোকে বে-আইনি ঘোষণা করেছে। তারা গাড়ি থামিয়ে মানুষকে সিগনাল পারাপার করতে একটু বেশি সময় চায় না। তাদের কাছে ট্রাফিক মানেই গাড়ি, রাস্তা মানে শুধুই গাড়ীর পথ। আমি চাই আমার পৌর-প্রতিনিধি এদের সমঝে দিক। আমি চাই আমার শহরে গাড়ি কমুক, বাস বাড়ুক, পথিক বাড়ুক। আমি চাই আমার আগামী প্রজন্ম সুস্থ থাকুক, ভালো ভাবে শহরে নিশ্বাস নিতে পারুক। যিনি আমার প্রতিনিধি হবেন, তার প্রতি আমার দাবি অনেক, আশা অনেক। তারা পারবেন-ও, যদি ইচ্ছা থাকে। আর যদি থাকে শহরের প্রতি ভালবাসা, শহরবাসীর প্রতি দরদ।

আমি চাই আমার ওয়ার্ডে আরো গাছ লাগানো হোক – ফলের, ফুলের। সবুজ রং দিয়ে শহর মুড়লে সবুজায়ন হয় না। নীল রং দিয়ে মুরলে নীলকন্ঠ হওয়া যায় না, পাপ পাপ-ই থেকে যায়। সাদা রং করে পবিত্র হওয়া যায় না – প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। লাল নিশান ওড়ালেই সংগ্রামী হওয়া যায় না – তাপসী মালিকের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। আসন্ন নির্বাচন পুরনো হিসেব বুঝে নেবার নির্বাচন, নতুন দাবি রাখার নির্বাচন।

আমার শহর দেশভাগের শহর। এ শহরে একাধিক বাজারের নাম বাস্তুহারা বাজার। এ শহরের অনেক হকার প্রথম-দ্বিতীয়-তৃতীয় প্রজন্মের রিফিউজি। এ শহর বিস্থাপিতের অভয়ারণ্য। এ শহর শুধুমাত্র মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্তদের দিয়ে তৈরী ‘বস্তিহীন’ হকার-হীন ‘ছিম-ছাম’ ও ‘শান্তিপূর্ণ’ নকল শহর না। বাস্তুহারা বাজারের প্রতিনিধিত্ব বড়বাজারের দ্বারা সম্ভব না। ওসব এখানে হয় না।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Democracy, Kolkata, Urbanity

গোবিন্দ হালদারের নিষিদ্ধ ফিসফিস

সে যতই দেখনদারী হোক, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ওপার বাংলায় যাত্রার ফলে কিছু সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে – যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হলো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই একটি জাতির দুই বিভক্ত অংশের একে অপরের দিকে নতুন করে তাকানো। এই বিভক্তির কারণের মধ্যে, তার ঠিক-ভুলের মধ্যে না গিয়েও একটা কথা বলা যায়। দেশভাগ ও তার পরেও ঘটতে থাকা খুন-ধর্ষণ-ধর্মান্তরকরণ-লুঠ-ঘরপোড়ানো-সম্পত্তিদখল ইত্যাদি ভয়ানকের অপরাধের শাস্তি হয়নি, এপারেও – ওপারেও। এই আদি পেপার বোঝা সুদে-আসলে এতই ভারী যে মানুষ সেই বোঝাকে ফেলে দিয়ে ভুলেই গেছে পাপের কথা। প্রায়শ্চিত্ত তো দূরস্থান।

১৯৪৭-এর বাংলা-ভাগের সাথে ব্রিটিশদের দ্বারা উপমহাদেশের শক্তিশালী গোষ্ঠীগুলির হাতে যে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল, আজকের ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন, পাকিস্তান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ এক অর্থে তার-ই ফসল। এই ভাগের সাথে সাথেই ‘আমরা’ কারা ,’বন্ধু’ কারা ’, ‘শত্রু’ কারা- এগুলির নানা মিথ রচনার বীজ পোঁতা হয়, যার থেকে বেরোনো মহীরুহ আজকের দিনে আমাদের মনকে, আমাদের কল্পনাকে একদম আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলেছে। নতুন রাষ্ট্রের পেটের গভীর থেকে জন্মানো এই কল্পকাহিনীগুলি যে আজ পবিত্র সত্যের স্থান নিয়েছে, তা শুধু গল্পের ভাবের জোরে নয়। সরকারী প্রচার এবং সরকারী বাহিনী, ঘুষ ও শাসানি, আঁচড় ও আদর, পুরস্কার ও থার্ড ডিগ্রী, জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও মিথ্যা মামলায় হাজতবাসের এক অসামান্য সংমিশ্রনেই আজকের পবিত্রতা, সংহতি, ‘বিকাশ’, রাষ্ট্রপ্রেমের জন্ম (দেশপ্রেমের নয়)। সাবালক এই সব বিষবৃক্ষের রসালো ফলের আমার দৈনিক কাস্টমার। দেশভাগ পরবর্তী সময়ে, আমাদের স্বকীয় আত্মপরিচিতকে পিটিয়ে পিটিয়ে রাষ্ট্রীয় ছাঁচে ঢোকানো হয়েছে দিল্লী, ইসলামাবাদ ও ঢাকার মাতব্বরদের স্বার্থে। মানুষের আত্মাকে কেটে সাইজ করা হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার জুজু দেখিয়ে। এই পাপ বঙ্গোপসাগরের থেকেও গভীর।

আমাদের কল্পনা ও স্মৃতির অগভীরতার কারণে আমরা মনে করি যে এক রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য বোধয় দৈব নির্ধারিত কোন ‘প্রাকৃতিক’ নিয়ম যা না মানলে আমরা দুনম্বরী বিশ্বাসঘাতক মানুষ। যাদের আনুগত্য, টান ও ভালবাসা রাষ্ট্র-সীমান্ত পেরোলে ঝুপ করে উবে যায় না, তারা বুঝিবা মানসিক বিকারগ্রস্ত এবং রাষ্ট্রের চোখে নেমকহারাম। রোজ এই ধারণাগুলিকে বিনা বাক্যে মেনে দিয়ে আমরা আমাদের এই মর্ত্যলোকে স্বল্প সময়ের জীবনকে করে তুলি ঘৃণাময়, ভীতিময়, কুঁকড়ে থাকা। ১৯৭১-এ কিছু সময়ের জন্য পূর্ব বাংলার মুক্তিসংগ্রামের সময়ে এপার বাংলায় এরকম অনেক তথাকথিত বিকার চোরাগলি ছেড়ে রাজপথে মুখ দেখানোর সাহস ও সুযোগ পেয়েছিল। এ সত্যি যে ১৯৭১-এ ইন্ডিয়ান উনীয়নের নানা এলাকায় পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য সমর্থন ও সাহায্য ছিল। কিন্তু পশ্চিম বাংলায় এই সাহায্যের আড়ালে যে আবেগের প্রকাশ ঘটেছিল, তা আজকের ডেটল-ধোয়া ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্রাষ্ট্রিক সম্পর্কের পবিত্র গণ্ডির বাইরের এক প্রায়-নিষিদ্ধ জিনিস। পশ্চিমবঙ্গের সাথে পূর্ববঙ্গের যে একাত্তুরে ‘ঘনিষ্টতা’, তার সাথে কর্ণাটকের সাথে পশ্চিমবঙ্গের ঘনিষ্টতা বা কর্ণাটকের সাথে পূর্ববঙ্গের ঘনিষ্টতার কোন মিল নেই। এই মিল-অমিলের অঙ্ক মেলাতেই তো ঘনঘন বেজে ওঠে জাতীয় সঙ্গীত, যাতে এরম চিন্তা গুলিয়ে যায় মিলিটারি ব্যান্ডের আওয়াজে। দিল্লি-ও একাত্তরে ভালই জানত এসব ‘নিষিদ্ধ’ প্রেমের কথা – কিন্তু এই প্রেম তখন তার রাষ্ট্রীয় স্বার্থের পক্ষে কাজ করেছিল বলে বাড়তে দিয়েছিল কিছুদিন অন্যদিকে তাকুয়ে, তারপর রাশ টেনে সমঝে দিয়েছিল সময়মত। এই আচরণেরও অন্য উদাহরণ আছে। যেমন তামিল নাদুর বিধানসভায় শ্রীলংকার ইলম তামিলদের সমর্থনে যেসব প্রস্তাব পাশ হয়, তা নিয়ে দিল্লীর নিস্তব্ধতা – যেন দেখেও দেখছে না। যেমন কাবুল ও পেশোওয়ারের মধ্যে যে ঠান্ডা-গরম পাখতুন বন্ধন ও তা নিয়ে আজকে ইসলামাবাদের চাপা ভীতি।

১৯৭১ অবশ্যই অতীত। সেই ‘নিষিদ্ধ’ প্রেম আমরা কবে বন্ধক দিয়েছি বেঙ্গালোর-দিল্লী-নয়ডা-গুরগাঁও স্বপ্নে বিভোর হয়ে। তাই তো আজ, আমরা, এই বাংলায়, দিল্লির থেকে ধার করা চশমায় পূব দিকে তাকাই আর দেখি – গরুপাচারকারীর মুখ, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর মিছিল, হিন্দু বাঙালির শেষ আশ্রয়স্থল হোমল্যান্ডটিকেও জনসংখ্যার বিন্যাসে কেড়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদী ষড়যন্ত্র। এই সবই কিছু ঠিক, কিছু ভুল, কিন্তু সেসব ঠিক-ভুলের পরেও মধ্যে লুটোয় দিগন্তজোড়া বাংলাদেশের মাঠ, যে মাঠ শুধু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মাঠ নয়, বরং নিখিল বাংলাদেশের মাঠ। সে উত্তরাধিকার আজ প্রায় তামাদি।

বিগতকালের এই যে সম্পর্ক, যার শেষ প্রতিভুদের একজন এই গোবিন্দ হালদার। একরাষ্ট্রের আনুগত্যে বাঁধা আমরা, তাই এ প্রেমের কথা কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার পায় না। এ সম্পর্ক – তা ঠিক পরকীয়া নয়, বরং এমন এক প্রেম যার শুরুর পরে প্রেমিক হয়েছে বিভাজিত। আর প্রেমিকার প্রেম থেকে গেছে একইরকম। কিন্ত অন্যের চোখে সে দুই প্রেমিকের প্রেমিকা, এবং কলঙ্কিনী। এমনই এক প্রেমিকা ছিলেন গোবিন্দ হালদার। গত ১৭ জানুয়ারী, ৮৪ বছর বয়সে মারা গেলেন অতি সাধারণ এক হাসপাতালে। অবিভক্ত যশোর জেলার বনগাঁ এলাকায় জন্ম।বনগাঁ ‘পড়ে’ ‘ইন্ডিয়ায়’।আকাশবাণীর জন্য গান লিখেছেন। একাত্তরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল আকাশবাণী কলকাতা। পরে যুদ্ধকালীন স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে তার স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের জন্য প্রচুর গান লেখেন যা মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ও পূর্ব বাংলার জনগণের মুখের গান, প্রাণের গান হয়ে ওঠে। মোরা একটি ফুল বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি, পূর্ব দিগন্তে সূর্য্য উঠেছে রক্ত লাল, পদ্মা মেঘনা যমুনা তোমার আমার ঠিকানা – এগুলি তার প্রবাদপ্রতিম রচনা। শ্রোতার ভোটে তৈরী বিবিসি রেডিওর সর্বকালের সেরা ১০টি বাংলা গানের তালিকায় তার দুটি গান উপস্থিত। এই লোকটি মারা গেল, কোন বঙ্গশ্রী, পদ্মশ্রী ছাড়াই। আসলে সে ঠিক গান লিখেছিল ‘ভুল’ রাষ্ট্রের জন্য। তাই এপারে তার কল্কে নেই। আমাদের মধ্যেই ছিলেন এতদিন। জানতে চেষ্টাও করিনি, কারণ রাষ্ট্রর ক্ষমতা যত বেড়েছে, তা আমাদের মানুষ হিসেবে ছোট করে দিয়েছে। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র-ও একাত্তরে গোবিন্দ হালদারের নাম ফলাও করত না – সে ‘ভুল’ রাষ্ট্রের যে। পরে ঋণ শোধের চেষ্টা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিত্সার খরচ পাঠিয়েছেন, সরকার পুরস্কৃত করেছেন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ কলকাতায় মৃত্যুপথযাত্রী গোবিন্দ হালদারকে দেখে গেছেন। আমার কাছে একটা ছবি আছে – বৃদ্ধ গোবিন্দ হালদার বাংলাদেশের পতাকা নিজের বুকের কাছে ধরে আছেন। পার্টিশন এলাকার যারা নন, একদেশ-একজাতি-একরাষ্ট্র রাষ্ট্রের গর্বে বলিয়ান যারা, হয়ত ভাগ্যশালী তারা,কিন্তু তাদের কি করে বোঝাব এসব ? হয়ত তারা বুঝবে পরজনমে, রাধা হয়ে। তখুন হয়তো তারা অনুভব করবে গোবিন্দ হালদারদের দেশের ঠিকানা।

কেউ কেউ কিন্তু তলে তলে বোঝে। ঢাকার অভিজিত রায় – খ্যাতিমান মুক্তমনা ব্লগার। ২৬ তারিখে , একুশে বইমেলা থেকে ফেরত আসার সময়ে তাকে রামদা দিয়ে হত্যা করা হলো। তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। দায় নিয়েছে ইসলামী সংগঠন আনসার বাংলা-৭। প্রতিবাদে এ বাংলার কিছু মানুষ ২৭এই কিন্তু জমায়েত করলেন যাদবপুরে। নিষিদ্ধ প্রেম পরিণত হয় নিষিদ্ধ কান্নায়, কাঁটাতার ভেদী শপথে, চোরাগোপ্তা। সব রং তেরঙ্গায় নেই।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Foundational myths, Kolkata, Language, Nation, Open futures

কলকাতার গাজী ইলিয়াস

কলকাতার পথের মধ্যে গল্প থাকে। শীত কাল বলে সে গল্প ভালো করে শোনা যায় – শীতে নিখিল বাংলাদেশে মানুষ একটু কম ঘামে। গল্প চেঁচিয়ে কথা বলে ফাঁকা রাস্তাতেও। তাই অনেক গল্প পথিকের মিস হয়ে যায়। এই তো কদিন আগে আমি ভাগ্যক্রমে এক গল্পের সাক্ষী থাকলাম যেটা কিনা একটু হলেই আড়ালে ঘটে যেত। কলকাতার সেই ছোট গল্পের আগে ঢাকার একটি গল্প দিয়ে একটা  গৌরচন্দ্রিকা করব।
সে ছিল আরেকটি শীতের মরশুম। ২০১০-এর ডিসেম্বরে ঢাকায় লাইভ প্রোগ্রাম করতে এলেন হিন্দী চলচিত্র জগতের জনপ্রিয় নায়ক শারুখ খান, ‘কিং’ খান। হয়তো অনেকেরই মনে আছে। সেদিন শারুখ ছিল স্টেজে।  দাপাদাপি করে সে জনতাকে বিনোদন দিয়েছিল।  এটাই তার পেশা ও কাজ। লাইভ শোতে একটি জনপ্রিয় ক্যারদানি হলো  হঠাত করে দর্শকদের মধ্যে থেকে কাউকে স্টেজে ডাকা। সুপারস্টার ও ভক্ত – এই ব্যাপারটি নিয়ে একটি তাত্ক্ষণিক নাটক মঞ্চস্থ করা আর কি। হঠাত করে ডাক পাওয়া ভক্ত স্টেজে উঠে নায়ক-কে বলবে আপনি মহান, আপনার জন্মদিন-বিয়ের তারিখ-সন্তানের অন্নপ্রাশনের তারিখ সকলই আমার মুখস্থ, কোনদিন-ই আপনার একটি বই-ও মিস করিনি, এখুনো বারবার দেখি বউবাচ্চা নিয়ে, চিরকাল ইচ্ছে ছিল আপনার গা ঘেঁষে একটু দাঁড়াই , আজ সে সুযোগ পেলাম, যেন লটারি-ই জিতলাম আর কি, ইত্যাদি, ইত্যাদি ।  নায়ক-ও ধন্যবাদ জানাবেন, একটু ‘মাটির মানুষ’ বা ‘আমি তোমাদেরই একজন’ গোছের একটু বিনয়, একটু  হাসি ঠাট্টা করবেন আর কি।  এমনই  দস্তুর। সব কিছুরই নাকি একটা ব্যাকরণ আছে অর্থাৎ সকলে তথাকথিত ভাবে ‘সর্বজ্ঞাত’ অনুযায়ী নিজের নিজের ভূমিকা পালন করবে। ‘কিং’-এর শুনবে, আহ্লাদিত হবে, প্রায় পায়ে পড়বে আর এহেন ‘ফ্যান’-এর গ্যাঁজলার গন্ধে  দর্শকেও মত্ত হবে।  প্রোগ্রাম তার ব্যাকরণ মেনে হবে সুপারহিট।
 কপট হয়েই হোক বা অকপট হয়েই হোক, এই ব্যাকরণ যখন লাইভ প্রোগ্রাম-এ কারুর দ্বারা কোন  ভাবে ভঙ্গ হয়, তখন আর এডিট করে ব্যাকরণ-মত করার সুযোগ থাকে না।  বরং ব্যাকরণ  একটি ভান, একটি আস্তরণ, একটি কিম্ভূত নির্মাণ, সেটাই প্রকাশ হয়ে পরে নগ্ন ভাবে। যে পৃথিবীতে কোথায় কেমন ভাবে ঠিক কি করে আচরণ করতে হয়, তা জানা এবং না জানা দিয়ে মানুষের ভাগ্য ও ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়, সেই পৃথিবীতে যারা অজান্তে হোক বা জ্ঞানপাপী হয়েও হোক, ব্যাকরণ ভাঙ্গেন, তাদের সাধুবাদ প্রাপ্য। তাই সাধুবাদ দিতেই হয় গাজী ইলিয়াস-কে।  মনে পরে গাজী ইলিয়াস-কে? শাহরুখ খান যখন তাকে স্টেজে ডাকে, সে এসে বলে যে সে বাংলা জানে, দাবি করে যে সে হিন্দী জানেনা। না জানাটাই স্বাভাবিক। ইলিয়াস কিন্তু একরকম চালিয়ে দেবার ইংরেজি জানে। এরপরে সে লম্ফঝম্ফ করা শাহরুখের জন্য রাখা জলের বোতল চেয়ে জল খায়, পিপাসা নিবৃত্তি করতে। তাকে দেখে মনে হয় সে ‘নার্ভাস’, কিন্তু তবুও যখন শাহরুখ বলে যে স্টেজে সকলে দেখছে, ইটা লাইভ প্রোগ্রাম, তাই ‘ঠিক করে’ আচরণ করতে, ঠিক স্টাইলে দাঁড়াতে, তখন ইলিয়াস জানায় যে শাহরুখের স্টাইল এক, আর ইলিয়াসের স্টাইল অন্যরকম।  মঞ্চের কাঠামো অটুট থাকলেও ব্যাকরণ ভেঙ্গে পড়ে।  এর পরে ইলিয়াস আবার বোতল থেকে জল খায়, সবার সামনেই। অনেকের কাছে সে হাসির খোরাক হয়। সে উপযুক্ত ভাবে তার ভূমিকা পালন করতে পারে নি। ইলিয়াস কিন্তু তার নাম ভূমিকা পালন করেছিল সেদিন। গাজী ইলিয়াস ছিল গাজী ইলিয়াস। আর উজ্জ্বল নক্ষত্রের সামনেও গাজী ইলিয়াস থেকে যাওয়ার ফলে শাহরুখ খান-এরই কিছু সময়ের জন্য  করতে হয়েছে, ইলিয়াসকে ধমক দিতে হয়েছে, তারপর ‘ইমেজ’এর স্বার্থে দ্রুত সামলে নিতে হয়েছে। এরই মাঝে এক মেরু-দণ্ডযুক্ত বাঙালিকে শাহরুখ তার বলশালী মারকুটে পাঠান পরিচয় দিয়েছে এক হুমকি-ইয়ার্কির মাধ্যমে। কায়িক বলের এই খেলাচ্ছলে আস্ফালনের জবাব দেয়নি গাজী ইলিয়াস – দিতে পারত। দিলে আরো রসভঙ্গ হত। শাহরুখ খান অভিনেতা।  ইলিয়াস গাজী নার্ভাস কিন্তু অভিনেতা নন।  তার জল পিপাসার ফলে জল খাওয়া শারুখের প্লান-মাফিক মায়া তৈরিকে হঠাত করে রুদ্ধ করেছে।  শারুখের অভিনয়ে গাজী ইলিয়াস সাময়িক যতি চিন্হ এনে দিয়েছে – স্ক্রিপ্ত্হীন নায়ক-কে একটু ঘামিয়েছে। শাহরুখ যে আসল নয়, সে যে অভিনয়, তা ওই সাময়িক যতির কারণে আরো বেশি বেশি প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশ করেছে নার্ভাস গাজী ইলিয়াস।যেখানে যে কথা বললে খাপে খাপ হয়, সেটা না করে বা করতে না জেনে। আমরা গাজী ইলিয়াসকে চিনি।  আমাদের অনেকের মধ্যে সে বাস করে।  আমরা তাকে চেপে রাখি, আমি নিজেদের ভেতরের গাজী ইলিয়াসকে ঘেন্না করি। আমাদের মনের মধ্যে গাজী ইলিয়াস  আছে  বলে আমরা লজ্জা পাই। আমরা নিজেদের ভেতরের গাজী ইলিয়াসকে হত্যা করতে চাই।  আমরা রাস্তার গাজী ইলিয়াসকে নিয়ে নাক সিঁটকোতে চাই , তাকে দুয়ো  দিতে চাই। আমরা আমাদের বাপ-মায়েদের-আত্মীয়-স্বজন-পারা-প্রতিবেশীদের নিচু নজরে দেখি কারণ তাদের অনেকের মধ্যে গাজী ইলিয়াসের সুস্পষ্ট ছাপ।  হয়ত  তারাও নিজেদের অপছন্দ করতে শিখে গেছে। কোথা থেকে আসে এই ছিছিকার, এই নিজেকে লজ্জা করা? আমরা চাই, তারাও চায়, যে তাদের সন্তান যেন দুধে-ভাতে থাকে আর তাদের মধ্যে যেন এক ফোঁটা গাজী ইলিয়াস না থাকে।  তারা যেন স্মার্ট হয়, তারা যেন স্টেজে তুললে পটাপট খাপেখাপ জবাব দিতে পারে।  তাদের দেখে যেন শাহরুখের মাথা একটুও গরম না হয়, একটুও যেন রাগ না চাপতে হয়। যেন শুধুই থাকে ‘সভ্য ব্যাকরণ’ সম্মত হাসি আর আনন্দ। এভাবেই রস গড়াতে থাকে। গড়াতেই  থাকে।
স্থান-কাল-পাত্র বোঝার, তার ব্যাকরণ বোঝার একটা রাজনীতি আছে।  এই রাজনীতির প্রকাশ আচরণে – স্থান-কাল- আচরণে। কিন্তু সে আর নতুন কি? নতুন হলো এই আচরণকে সারাক্ষণ অভ্যাস করে যাওয়া।  এই আচরণকে, এই ভানকে সত্য ও সুন্দর মনে করা। কোন কোন আচরণ? আমি গোদা ভাবে বলতে হলে আমি বলব আমাদের মত কালো মানুষের কল্পনায় শ্বেতাঙ্গ মানুষ যেমন আচরণ করে , তেমন আচরণ। এই আচরণ যে সাফল্যের চাবিকাঠি তা আর কেউ না জানুক,স্পোকেন-ইংলিস সম্রাট সাইফুর স্যার প্রচন্ড ভালো জানেন। এই উপমহাদেশে অন্যের হীনমন্যতা ভাঙ্গিয়ে ব্যবসা করার ঐতিহ্য বেশ পুরাতন। আমরা চাই আমাদের যেন ‘পাতে দেওয়া যায়’। এই পাত কিন্তু কলাপাতা বা শালপাতার না, এমনকি ভূমিজ এলিটের কাঁসার থালা ও না। একেবারে ম্যালামাইন। তাই দরকার পরে চামচ ঠিক করে ধরতে শেখার, আওয়াজ না করে স্যুপ খাওয়ার, এবং আরো হাজারো ‘সভ্য’ ঢং।
ঢং শিক্ষার দুনিয়ায়ে যে অশিক্ষিত, তাকে দেখলেই বোঝা যাবে যে এখুন কোথায় কখন কি করা উচিতের যে বিশ্বজনীন ‘স্বাভাবিক’ সহজপাঠ, তার শিক্ষাগুলি সত্যই শেষ প্রান্ত অবধি পৌঁছয়নি। তাই হঠাত করে আলোকিত করে দেয় অকপট গাজী ইলিয়াস। তাই রক্ষে। আর সে যদি ছুপা রুস্তম কপট হয়?  আমি তাহলে  বলব, সাবাস ইলিয়াস । কত লোকে ক্লিষ্ট ইংরেজি লিখে ভুঁরু ফুটিয়ে সাবভার্সন মারালো, তুমি করে দেখালে।
অথচ কোথায় কেমন করে কি কতক্ষণ করা উচিত – অপিসে, ক্যাফেতে , শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতের সামনে, ইংরেজি-কপচানো আমাদের দেশেরই হাপ-পন্ডিতের সামনে, সিনেমা হলে, জলে, স্থলে, অন্তঃরিক্ষে, যারা তার পাঠ বিলোয়ে ‘আধুনিক’ স্বকীয়তার মোড়কে এবং ইলিয়াস্দের প্রবল দুয়ো দেয় ‘অন্কাল্চারড’ হিসেবে – তারাই আবার পরিবার, পারিবারিক আচারআচরণ, বয়স্জ্যেষ্ঠেকে সম্মান, পারিবারিক চেতনা, কোথায় কার সাথে কেমন ভাবে কি আচরণ করতে হয়, বা করতে হয় না,তাকে পদে পদে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ঐযে বিশ্বজনীন ‘স্বাভাবিক’ আচরণের সহজপাঠ, তার প্রথম পাঠ হলো – নিজের সবকিছুকে প্রশ্ন করো, কিন্তু প্রশ্নের উছিলায় তুমি নিজে যে অন্যতর বিশ্বকল্পের দাস হয়ে যাচ্ছো, সে প্রক্রিয়া কে প্রশ্ন করো না। একবার কাছি কেটে দিলেই সহজপাঠের কাজ শেষ, তারপর মানুষ জলে না দবার জন্যই অন্য ডাঙ্গার সন্ধানে জোরে দাঁড় চালাবে, পৌছক আর না পৌছক। এই প্রক্রিয়াটাই খাপে-খাপ। যে ডাঙ্গা থেকে কাছি কেটে আসা হয়েছে, সেখানে ফেরা যাবে না।  সেখানে ইলিয়াস্দের বাস।  ফিরলে সে যদি হাসে? ইলিয়াস্দের উপর হাসা যেতে পারে, কিন্তু ইলিয়াস্দের হাসির পত্র হওয়াটা ঘোর অপমানের। আসলে আমরা আমাদের ক্ষমতাই বুঝি না।  অধিকাংশ ইলিয়াসের মেরুদন্ড আমরা ভেঙ্গে দিয়েছি কবেই। ওই হাড়ের গুঁড়া দিয়েই আমাদের কালো ত্বক সাদা করার পাউডার যোগান হয়। সাদা পাউডার মেখে নিজ সমাজের নরম মাটিতে আমরা নৃসংশ ভাবে আঁচড়ে  দেখাই স্বকীয়তা,  মুক্তিকামিতা, স্বাধীনতা, স্পষ্টবাদিতা , আর কত কি। আসলে যে অন্যকে ‘আন্কাল্চার্ড’ বলে,সে যে ভীষণভাবে সংস্কৃতিক ভাবে নিরক্ষর হতে পারে। বিশেষত দেশ-দশ-সমাজ যদি দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তিস্বাধীনতার অন্তরায় হয়, তখন কাছি কাটাই হয় নবধর্ম। আর ভূমিজ ধর্ম ছেড়ে নবধর্ম ধরলে প্রথম প্রথম যা ঘটার তাই ঘটে – চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসী, চূড়ান্ত পূর্ব-আত্মবিস্মৃতি এবং আত্মসমালোচনার নিদারুণ অভাব। যা কিনা চলতি ক্ষমতার সংস্কৃতি,  হাজার রকম বড় বড় ইংরেজি শব্দ দিয়ে ‘ক্রিটিসিজম’ হবে, মোটা বই হবে।হারেমের স্বেছাবাশিনিরা এবং দ্বাররক্ষীরা কেমনে -বলবে  রাজা তোর  কাপড় কোথায়? রসভঙ্গ করতে লাগবে মানুষ। সে কাজটি করবে অন্য মানুষ। সহজ কিন্তু সরল নয় , এমন মানুষ। এবার ফিরি কলকাতার পথে।
আমি যাচ্ছি বরানগর থেকে হাওড়া স্টেশন, দিল্লীগামী রাজধানী এক্সপ্রেস ধরতে।  আমি ট্যাক্সি করে যাচ্ছি। সাধারনতঃ আমি ট্যাক্সিচালকের নাম, ধাম জিজ্ঞেস করি, কিন্তু সেদিন নানা ব্যাপারে একটু চিন্তার মধ্যে ছিলাম।  তার-ই মধ্যে তারস্বরে চালু হলো এফ এম রেডিও, ট্যাক্সির মধ্যেই লাগানো। এক নারী উপস্থাপিকা সুন্দর গলা করে বললেন, শীত তো এসে পড়ল।  আপনার শীতে কি কি ভালো লাগে? এক ব্যাক্তি উত্তর দিতে শুরু করলো – আওয়াজের ধরণে বুঝলাম ইটা লাইভ টেলিফোন কলের মাধ্যমে কোন শ্রোতা বলছেন।  একজন পুরুষ। সে জানায় যে শীতকাল মানেই বিয়ে ও নানা সামাজিক অনুষ্ঠানের মরশুম। এত অবধি ঠিক-ই ছিল।এত অবধি রাজার, বা ঢপের চলতি বিনোদনের কোন লজ্জাহানি হয়নি। এরপর জল গড়ায় অন্য দিকে।  সে বলে যে শীতকালে তাই মেয়েদের অসুবিধে আর ছেলেদের একটু সুবিধে। অনুষ্ঠানে মেয়েরা সেজেগুজে যায় – শাল জড়ালেও সুন্দর পোশাক আশাক সাজগোজ করতে হয়। কিন্তু ছেলেদের একটা জ্যাকেট বা ফুল হাতা সোয়েটার পরলেই হয়ে যায়ে , নিচে কি পরা, তা ইস্ত্রী করা না কুচ্কোনো, কেমন দেখতে, কিছু এসে যায় না।  পুরনো হলেও এসে যায় না। সুন্দর জামা, সুন্দর দোকান, সুন্দর ক্রেতা ,বিকিকিনি কেন্দ্রিক জীবনকল্পনা, ভালো থাকা কাকে বলে, তার জনসমক্ষে প্রকাশের যে ‘আধুনিক, সুশীল,পাতে দেওয়ার মতো’ ব্যাকরণ, তা টেলিফোন-কারী শ্রোতা লঙ্ঘন করতে শুরু করে।  আমি তখন স্ট্র্যান্ড রোড-এ। বিরল এক মুহূর্ত। উপস্থাপিকা একটু বিষয় বদলাতে চেষ্টা করে কিন্তুপ্রাণবন্ত সচল ডাকসু-তে শুধু সুন্দর গলা দিয়ে অচল করা শক্ত। শ্রোতা থামে না, সে বলে যায়  অবলীলায়, ‘প্লাস ২-৩ দিন কাপড় না  কাচ্লেও শীতকালে গন্ধ কম হয়।  ধরেন চান টান হয়নি তখুন  ভালো করে সেন্ট টেন্ট মেরে জ্যাকেট দিয়েও বিয়েবাড়ি  যাওয়া যায়।  কেউ বুঝতে পারবে না।’ ‘স্টাইলিশ’ ফরফর ইংরেজি-বাংলা মিলমিশ  উপস্থাপিকার গলায় অপ্রস্তুত বেকুব হাসি শুনতে পাই। এর পর বিজ্ঞাপন বিরতি। আর আমার ট্যাক্সি পৌছে গেছে হাওড়া স্টেশন, হাতে কিছুটা সময় নিয়েই। এই ভাবেই, আজকের  সময়ে, কলকাতার পথে যেতে যেতে শুনলাম, যেন আরেক গাজী ইলিয়াসের গলা – ‘রাজা, তোর কাপড় কোথায়?’ কোন এক অজানা কারণে আমার মনে পড়ে  যায় ছাত্রজীবনের স্লোগান ‘তাই তো বলি কমরেড, গড়ে তোল ব্যারিকেড’। ঠাকুর সব দেখছেন, কিন্তু কি ভাবছেন?

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bahishkrit Samaj, Bengal, Culture, Elite, Kolkata, The perfumed ones, Urbanity

বাম্বু ও বিষ্ণু

যে জাতি মাতৃভাষার অধিকার ও সম্মান রক্ষা করতে মানভূমে, ঢাকায়, বরাক উপতক্যায় বারবার রাস্তায় নেমেছে, মার খেয়েছে, মৃত্যুবরণ করেছে, এমনকি দেশ স্বাধীন করেছে, সে জাতির মুখের ভাষার প্রশ্ন যে রাজনৈতিক প্রশ্ন হয়ে ওঠে, সে আর আশ্চর্য কি। তবে পশ্চিমবঙ্গে সাম্প্রতিক কালের যে বিতর্ক দানা বেঁধেছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখের ভাষা নিয়ে, তা ঠিক ভাষার অধিকার নিয়ে নয়, সর্বসমক্ষে শালীনতা বজায় রাখার দায়িত্বজ্ঞান নিয়ে। সে কথায় একটু পরে আসব। প্রথমেই বলি আমার নিজের কুল-গরিমা নিয়ে। আমার পিতৃকুল হুগলী জেলার পাটুলিগ্রামের অনেক বহুকালের (মানে বহু শতকের) বাসিন্দা এবং এই ‘দেশ’-এর সঙ্গে এই প্রজন্মেও আমাদের সম্পর্ক বেশ গভীর। আমরা রাঢী ব্রাহ্মণ এবং কৌলিন্যপ্রাপ্ত (অর্থাৎ কুলীন)। আমার পূর্বপুরুষেরা বিবাহ-সুত্রে ফুলিয়া মেল প্রাপ্ত হন। অর্থাৎ হিন্দু-প্রধান পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক বিন্যাসে আমরা একদম যাকে বলে টপ-ক্লাস। আমাদের কুলের একজন রায় বাহাদুর ছিলেন, যা কারণে অকারণে (যেমন এখুন) আমরা টুক করে জানিয়ে দিই (ইংরেজিতে যাকে বলে নেমড্রপিং)। এর থেকে একটা জিনিস পরিষ্কার। তা হলো যাকে কিনা কিছু পন্ডিত এক বিশেষ ধরণের ‘সাবল্টার্ন’ বলেন, এবং আমাদের ‘নিজেদের’ মধ্যে চর্চায় বলি ‘ছোটলোক’ (প্রকাশ্যে বলি অন্ত্যজ, ব্রাত্যজন ইত্যাদি ), আমরা আর যাই হই, তা নই। আমার এই কুলেরই আমার প্রিয় এক জ্ঞাতি জ্যাঠামশাই আমাদের পৈতের পরের বছর দুর্গাপূজার সময় এক সংস্কৃত মন্ত্র শেখান। এটি আচমন মন্ত্র। কোনো অস্ট্রিক ব্যাপার স্যাপার নাই। মন্ত্রটি এরকম – ‘ওঁ বিষ্ণু তদ্‌বিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা পশ্যন্তি সূরয়ঃ। দিবীব চক্ষুরাততম্‌।। ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু ওঁ বিষ্ণু।’ কুলীন টু কুলীন জ্ঞান ট্রান্সফার হিসেবে আমার রসিক জ্যাঠা ফাজিল ভাইপো-কে এর মানে বলেন। ‘ওঁ বিষ্ণু’ অর্থাৎ একটি বাঁশ , তদ্‌বিষ্ণোঃ অর্থাৎ সেই বাঁশ, পরমং পদং সদা পশ্যন্তি অর্থাৎ পরের পশ্চাতে সদা প্রবেশ করাইবে, ইত্যাদি ইত্যাদি। বলাই বাহূল্য, আসল মানেটা তাই ছিল না। সেই অর্জিনাল-এ বিষ্ণুর বঙ্গায়ন হয়ে বাঁশ হয় নাই। আমাদের পাটুলিগ্রাম তথা জিরাট-বলাগড় এলাকায় বাঁশঝার বেশ ঘন। তাই হয়তো বিষ্ণু যখন হিন্দুস্তান থেকে বাঁশঝার নিবিড় এই বাংলাদেশে আসেন আমাদের হাত ঘুরে, একটু অদলবদল হয়ে যায় আর কি। ইয়ার্কি মারছি বলে রাখলাম – বিশেষতঃ বোষ্টমদের প্রতি এই ক্ষমাপ্রার্থনা। আমরা শাক্তরা একটু ইয়ে হই। এবার ফিরি রাজনীতি, ভাষা ও শালীনতা প্রসঙ্গে।

পাটুলিগ্রামে যা বাঁশ, লন্ডনে তাই ব্যাম্বু, আর এই দুইয়ের মাঝামাঝি জল্পাইগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাই হয় ‘বাম্বু’। এতে বেশ একটা ‘বিতর্ক’ হয়েছে। এক দল বলছেন, রামঃ, বঙ্গেশ্বরীর মুখের এই ভাষার ছিরি? একদম ‘ঝি-ক্লাস’। কোটি টাকার আঁকিয়ে ও গল্প-কবিতার বই লিখিয়ের আড়ালে এই তাহলে স্বরূপ? আরেকদল বলছেন, আমাদের এই বাংলাদেশের লক্ষলক্ষ মানুষের মুখের ভাষা এরকমই। যিনি জননেত্রী তার ভাষাও যে হবে গণমানুষের মতো, নন্দনে বসে মার্কেজ পড়নেওয়ালাদের মত নয়, তা বলাই বাহূল্য। দুই পক্ষকেই বলি, ভাবের ঘরে চুরি করে কি লাভ? বাম্বু দেওয়ার কথা শুনে আকাশ থেকে পড়া, প্রবল ভাবে শ্রেণী-ঘৃনা উগরে দেওয়া মুখ্যমন্ত্রীর শব্দচয়নকে সমালচনার উছিলায়, এগুলি ভন্ডামি ও ন্যক্কারজনক। একই সাথে, যারা এমন ভাব করছেন যে কিছুই হয়নি, ভাষা তো ভাষাই, শব্দ তো শব্দই, মানুষে তো এমন করেই কথা বলে গোছের অজুহাত দেখিয়ে বাম্বুর খুঁটি দিয়ে নেত্রীর সাথে জনগনের হৃদয়ের সম্পর্কের গভীরতা মাপছেন, তাদেরকে বলি যে বাংলার গণমানুষকে অপমান করবেন না।

এটা ঠিক যে সব শব্দই সমানভাবে একটি ভাষার সম্পদ – বেশি সম্পদ বা কম সম্পদ নয় । ভাষা জীবন পায় তার ব্যবহারে। সেই ব্যবহারের একটা প্রেক্ষিত আছে। ঠিক যেমন আমরা মাষ্টারমশাই-এর সামনে সিগারেট খাইনা ( যারা উচ্চতর লিবার্টি চেতনার ভারে কুঁজো হয়ে গেছে, তাদের কথা বাদ দিলাম ), ঠিক তেমনই মা-বাপের সামনে কিছু ধরণের শব্দ প্রয়োগ করিনা যা কিনা ইয়ার-বন্ধুদের সাথে চলে। ব্যক্তিগত জীবন ও যাপনকে উলঙ্গ ভাবে মেলে ধরা যাদের জীবনাদর্শ, তারা এই স্থান-কাল-পত্র বুঝে শব্দ প্রয়োগের মধ্যে দ্বিচারিতা দেখতে পারেন। তাদেরকে অনুরোধ, যে ধরনের গণমানুষের কথা বলে বাম্বুর সামনে পর্দা টানা হচ্ছে, সেই রকম ভাষা তারা পথে যেতে-আসতে রোজ ব্যবহার করে দেখুন। গণমানুষ বলবেন ‘মুখ সামলে’। এই গণমানুষ ‘গালমন্দ’ বোঝেন, আবার বোঝেন কারুর মুখের কথা সুন্দর। তাই জনগনের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বুলেট বা বাম্বু, কিছুই ছোঁড়া অনুচিত। জলের লাইনে ‘ঝি’-দের ঝগড়ার ভাষা টুকুই যারা শুনেছেন কিন্তু শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা রোজ সক্কাল সক্কাল উঠে কিছুক্ষণের কর্পোরেশনের জলের সাপ্লাই-এর জন্য একাধিক বালতি নিয়ে অপেক্ষা করা যাদের জীবন-যাপনের অংশ নয়, তাদেরকে বলি – এরা গান গায়, ভালবাসে,ঘুম পাড়ানিয়া গান শোনায় শিশুদের। আপনারা যাদের লোকসঙ্গীত বিশ্ববাজারে বেচে খান ও ফান্ড আনান, এরা সেই ‘লোক’। গালি দেওয়া বা বাম্বু দেওয়া, একটিও সহজাত নয়। হয় তা পরিস্থিতির সামনে একটি প্রত্যুত্তর, চরম হতাশার প্রকাশ কিংবা জিঘাংসার উদগিরণ। আমি অবশ্যি কলকাত্তাই সেই ভদ্দরলোক শ্রেণীকে এসব গালি-চরিত থেকে বাদ দিলাম, যাদের কাছে f-ওয়ালা ৪ বর্ণের ইংরেজি গালি হলো কুল (অর্থাত নব্য কৌলিন্যের চিহ্ন) কিন্তু বাংলা গালি হলো চীপ ও ভালগার। তারা অন্য গ্রহের বাসিন্দা। তাদের দূর থেকে প্রণাম।

বাম্বু দেওয়া বা বাম্বুর দ্বারা তাড়া খাওয়া, এ যদি রাজনীতির ভাষা হয়, তাহলে আমি বলব এ ভাষা অশালীন হোক না হোক, চরম হিংস্র তো বটেই। রাজনীতি যখন এলাকা দখল বা এলাকা ধরে রাখার খেলায় পরিনত হয়, সেই প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বাম্বু এক প্রতিশোধমূলক একক। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার আরেক মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির কুকথার বলেছেন যে নিরঞ্জন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের মানুষ উঠতে বসতে সাম্প্রদায়িক বিষ ছড়ান না, বাংলার তৃণমূল স্তরের মানুষ বাম্বুর চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকেন না। তারা চাকরি চান, নিরাপত্তা চান, বাম্বু দিতে চান না, নিতে তো নয়-ই। বাঁশকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংগ্রাম কল্পনা আমাদের বাংলাদেশে বেশ পুরনো। বাঁশেরকেল্লার মধ্যে যতটা ছিল ‘সাবল্টার্ন’ ততটা ছিল হিংস্র সাম্প্রদায়িক মৌলবাদ। প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার আরেক মন্ত্রী সাধ্বী নিরঞ্জন জ্যোতির কুকথার সাফাইতে বলেছেন যে নিরঞ্জন গ্রামাঞ্চলের মানুষ। গ্রামাঞ্চলের মানুষ উঠতে বসতে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ান না, বাংলার তৃণমূল স্তরের মানুষ বাম্বুর চিন্তায় আচ্ছন্ন থাকেন না। তারা চাকরি চান, নিরাপত্তা চান, বাম্বু দিতে চান না, নিতে তো নয়-ই। রাজনৈতিক দল একটি তাঁবুর মত, তা দাঁড় করিয়ে রাখতে বাঁশ লাগে। বাঁশ যেন বাংলার রাজনীতিতে স্থায়ী কাঠামোর কাজ করে, সচল না হয়। নইলে তাঁবু-ও ভেঙ্গে পড়বে। তাঁবুর ব্যাপারীরা বাঁশ সচল করার আগে আশা করি একটু ভাববেন। কারণ ফেইসবুকে সেদিন দেখি এক জায়গায় লেখা , ‘সময় থাকতে পিওর হন,নইলে বাম্বু দেবে জনগণ’।


Filed under বাংলা, Bahishkrit Samaj, Bengal, Caste, Elite, Kolkata, Language, Polity, Power

কলকাতার কাশ্মীর

[ Doinik Arthokotha (Dhaka), Nov 2014]

কয়েকদিন আগে দিল্লীর একটি মেগাজিনে একটা লেখা দেখলাম। শিরোনাম ‘কলকাতা আফটার ক্যালক্যাটা’। নামটি বেশ ব্যঞ্জনাময়।  এই লেখা তাদের জন্য, যাদের জন্য ক্যালক্যাটা ছিল সুন্দর, তার পরে তা যখন কলকাতায়ে পরিণত হলো,  তখন শহরের জাত গেল, সম্মান গেল, সেই ‘চার্ম’-টা আর রইলো না। এ শহরের একটা বড় অংশ কিন্তু কখুনই কলকাতা থেকে ক্যালকাটায়ে সে অর্থে প্রবেশ করেনি ফেরিওয়ালা বা ভৃত্য হিসেবে ছাড়া।  তাদের জন্য কোনো ‘কলকাতা আফটার ক্যালক্যাটা’ নেই।  রয়েছে কলকাতার নিরবিছিন্নতা। ক্যালক্যাটা পরিযায়ী পাখিদের শহর।  তারা অনেকে আজ উড়ে গেছে ব্যাঙ্গালোর, বোম্বেতে । যদিও সেখানেও বেঙ্গালুরু বা মুম্বই-এর সাথে তাদের যোগ ক্ষীণ।  ঠিক যেমন কলকাতায়ে অবস্থান-কালীন সময়ে এই ক্যালক্যাটা কোনো ক্রমে কলকাতা-কে বাঁচিয়ে চলত। কলকাতার পরিসর থেকে ক্যালক্যাটার স্বেচ্ছা-নির্বাসনে কলকাতার খুব তফাৎ হয়নি।  কলকাতা নিজের  মধ্যে যাযা ধারণ করে, তা ক্যালক্যাটার ধারণার অতীত। এমনকি এক কলকাতা হলো কলকাতার কাশ্মীর।

বলাই বাহুল্য এই কাশ্মীরের সাথে ভারতীয় জাতীয়তাবাদীদের ‘কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী’ হুঙ্কারের কাশ্মীরের মিল নেই।  প্রায় সকল কাশ্মীর-ই আমাদের মনে মনে বানিয়ে নেওয়া। প্রায় সকল বললাম কারণ কাশ্মীরিদের-ও একটা কাশ্মীর আছে , যেটা এই নানা কাশ্মীরের মাঝে হারিয়ে যায়। ‘টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া’র হুঙ্কারে , স্লোগানে বাস্তবের টেকনাফ বা তেঁতুলিয়া বড় প্রান্তিক।  উচ্চ্চারিত অক্ষরের মিল ঘটিয়ে স্লোগান বলশালী ও ছন্দময় হয়, কিন্তু টেকনাফ ও তেঁতুলিয়ার সাথে ঢাকার দূরত্ব একই থেকে যায়। প্রসঙ্গত, পশ্চিম বাংলাতেও একাধিক তেঁতুলিয়া নামধারী জায়গা আছে। তবে এখুন সেটা থাক।ফিরি কাশ্মীরে , কলকাতার কাশ্মীরে।

আমার কর্মস্থল আমার ঘর থেকে বেশ খানিকটা দূরে।  আমি থাকি কলকাতা শহরের দক্ষিণ দিকে, চেতলা অঞ্চলে।  এলাকাটি শহর কলকাতার থেকে পুরনো – তখন নাম ছিল জেলেপাড়া। এখুনো এই জেলেপাড়া নাম ও পরিচয় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি। জেলেপাড়া থেকে আজকের চেতলায়ে  এলাকার  বিবর্তন-ও এক অসামান্য গল্প, যা আরেকদিন বলব । তো রোজ-ই চেতলা থেকে আমি যাই বরানগর। এটি কলকাতা ছাড়িয়ে উত্তরে একটি ছোট শহর। আমি কলকাতার ভূগর্ভস্থ মেট্রো-রেলে চড়ে পৌছই শ্যামবাজার – একটি  বিশাল, বর্ণময়, জনবহুল, সদাব্যস্ত বাজার এলাকা – তাঁতের শাড়ি থেকে ভাং-এর মিষ্টি, সবই পাওয়া যায়। এখানেই ৫টি রাস্তা এসে মিশেছে – তাই নাম ৫ মাথার মোড়। কেন্দ্রস্থলে রয়েছে সুভাষ চন্দ্র বসুর মূর্তি, ঘোড়ায় চড়া, সমর-সজ্জায়। ঘোড়ার উন্নত ল্যাজ যে দিকে নির্দেশ করে, সেদিক ধরে আমি এগিয়ে একদিন পৌছলাম এক তেলে ভাজার  দোকানে। সবই সুলভ মূল্যের – একটু বেশীই সুলভ যা কিনা আমার মতো সবর্ণ ভদ্রলোক স্বচ্ছল মানুষের মনে খাবারের গুণমান সম্পর্কে সন্দেহ জাগায়। সঙ্গের ছবিতে দিলাম মূল্য তালিকা। জিনিসগুলি প্রায় সবই বেশ চেনা – আলুর চপ, বেগুনী, কচুরী, সিঙ্গাড়া, ধোকা ইত্যাদি। চোখ আটকালো কাশ্মিরী চপ-এ গিয়ে।  এ আবার কি জিনিস? জিজ্ঞেস করলাম দোকানিকে।  ততক্ষণে আমার হাতে কাগজের ঠোঙায় ইতিমধ্যেই একটা ভাজা ধোকা রয়েছে। দোকানি বলল, খেয়ে দেখতে পারেন একটা।  আমি নেবার আগে জিজ্ঞেস করলাম কেমন খেতে? দোকানি  বলল খেয়েই দেখুন না – মাত্র ৩টে টাকাই তো দাম। তারপর বলল, একটু টক-ঝাল-মিষ্টি। ৩
টাকার কাশ্মীরি চপ কেনার আগে অজানা স্বাদ নিয়ে ঠকে যাবার ব্যাপারে সজাগ এই ক্রেতা (অর্থাৎ আমি) যে কতবার দামি খাবারের হোটেলে গিয়ে নাম না জানা ভিনদেশী খাবার নিয়ে ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করেছে। স্থান, কাল, পত্র দেখে আমার পরীক্ষা কমে, নিরীক্ষা বাড়ে। স্বচ্ছল মানুষের ব্যক্তিগত দুনম্বরীর নানা অব্যক্ত বিভঙ্গ আছে, এটি তার একটি। আজ তার-ই মধ্যে একটা বাজারে প্রকাশ করে দিলাম। সে যাই হোক, নিলাম একটা কাশ্মীরি চপ।  বাইরে থেকে দেখতে ভেজিটেবিল চপের থেকে আলাদা নয়, ভেতরেও বিশেষ তফাৎ নেই।  তফাৎ-টা স্বাদে। সত্যই টক-মিষ্টি, ঝাল প্রায় নেই। উদরস্থ করলাম দ্রুত। ভাই, এটাকে কাশ্মীরি চপ কেন বলা হয় ? সে বলল, কাশ্মীরে খায়টায় বোধহয়, ঠিক জানিনা। তবে অনেকদিনের আইটেম। আমারও এই ‘কাশ্মীরে খায়টায়’ ব্যাপারটি ঠিক বিশ্বাস হলো না।  তাতে কি। নিখিল বাংলাদেশে, কলকাতায়, ঢাকায়, টেকনাফ থেকে হাসিমারা, দীঘা থেকে বিয়ানীবাজার ফুটবলকে কেন্দ্র করে যে ব্রেজিল-আর্জেন্টিনা মত্ততা, তা একান্তই আমাদের, ব্রেজিল-আর্জেন্টিনা তার খবর জানে না, রাখেও না।  তাতে আমাদের ভারী বয়েই যায়। আমি নিশ্চিত আরো এমন ছোট দোকানে ‘কাশ্মীর’ বেঁচে আছে।  কলকাতার এই কাশ্মীরি ঐতিহ্য একান্তই তার নিজের। এবং খাঁটি। এর ভাষা ও ভাষ্য, পোড়া নিকৃষ্ট তেল, বদহজম, ঘাম, টক-ঝাল-মিষ্টি আমাদের। এই কাশ্মীরের তারিফ করতে গেলে শ্বেতাঙ্গ পন্ডিতের মতামত ধার করতে হয় না, যেমন করতে হয় শ্বেতাঙ্গ মানসিকতার কালা আদমির ইংরেজি রচনার ক্ষেত্রে। সায়েব পিঠ চাপড়ে সাবাস না বললে কালা আদমির ইংরেজি রচনা থেকে যায় অক্ষম। কলকাতার এই কাশ্মীর চর্চার জন্য শারীরিক বা মানসিক শ্বেতাঙ্গের দ্বারা পিঠ চাপড়ানোর দরকার পড়ে না। শ্বেতাঙ্গ দৃষ্টির শ্বেতাঙ্গ মননের সীমাবদ্ধতা বিশাল। সে জানেই না আমাদের পিঠ কোথায় আর পেট কোথায়। তাই অনেক মরেও বাংলা বেঁচে গেছে। ঠাকুর মঙ্গলময়।

এই শহর কলকাতায় আমি আরো কাশ্মীর দেখেছি। যখন আমি কলেজ স্ট্রিটস্থ মেডিকেল কলেজে ডাক্তারি পড়তাম, তখন মাঝে সাঝেই যেতাম কলুটোলা স্ট্রিট ধরে চিত্তরঞ্জন এভিনিউর ওপারে, মৌলানা সৌকত আলী স্ট্রিটে। সেখান থেকে বেরিয়েছে এক অবিস্মরণীয় ছোট গলি – নাম ফিয়ার্স লেন। ফিয়ার্স লেন-এর নানা মহিমা নয় আরেকদিন বলব, আজ আসি এখানকার সুতা কাবাবের দোকানের সামনে। এখানকার অসম্ভব স্বস্বাদু শাল-পাতায় পরিবেশিত কাবাব আমি খেয়েছি অনেকবার।  একদিন দেখি উল্টোদিকে বসেছেন আরেকজন – সাদা জামা-কাপড়, টুপি-দাঁড়ি, সামনে একটা ডেকচি, আর পাশে লেখা ‘কাশ্মীরি কাবাব’। গিয়ে খেলাম।   যা পেলাম, তা হলো দুপিস ছোট বান-রুটির মধ্যে হলুদ রঙের থকথকে মশলাদার কাই-তে মাংসের কিমা।  অর্থাৎ এই সে অর্থে ‘কাবাব’ নয়। জিজ্ঞেস করলাম, উনি কে, কবে থেকে বসছেন ( আমি তো প্রায়-ই যেতাম ওখানে, আগে দেখিনি), কাশ্মীরি ব্যাপারটা কি, ইত্যাদি। জানলাম ওরা ৩ পুরুষ কলকাতায়, এরা হিন্দুস্থানী – সেখান থেকেই এখানে আসা কিন্তু কাশ্মীর থেকে কিনা বলতে পারেন না, জানবাজারে একটা ঘড়ি সারাই-এর দোকান ছিল বা আছে কিন্তু তা ভালো চলছে না, নতুন ব্যবসা শুরু করে আয়ের চেষ্টা করছেন। আর কাশ্মীর ? ওটা এমনিই লিখেছেন।  কদিন বাদে ওনাকে আর দেখিনি – হয়ত কাশ্মীরি কাবাব ব্যবসা চলেনি, হয়ত ঘড়ি সারাই-তে ফের একটা চেষ্টা করছেন, হয়ত অন্য কোথাও কাশ্মীরি কাবাব বেচছেন, যেখানে উল্টোদিকেই এমন সফল কাবাব দোকান নেই। যদি কাশ্মীরি কাবাব ব্যবসা সফল হত, এর ৩-৪ পুরুষ পরে এক খাঁটি ‘কাশ্মীরি’
আইটেমটিকে , পরিবারটির আদি কাশ্মীরি বংশপরম্পরা ও আরো নানা প্রবাদ তৈরী হত। সেটা হয়নি।  গড়ার সাথে সাথেই ভেঙ্গে গেছে হয়তো। কিন্তু যেগুলি ভাঙ্গেনি, এমনই অনেক খাঁটি ‘কাশ্মীর’ , এমনই অনেক খাঁটি ‘বঙ্গীয়’ ব্যাপার-স্যাপার লুকিয়ে আছে আমাদের মাঝে, আমাদের অস্থিমজ্জায় , আমাদের আত্মপরিচয়ে, বাঙ্গালিত্বে।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Kolkata, Urbanity


[ Ebela, 4 Nov 2014]
খণ্ডিত বঙ্গের দুই অংশ – ছোট ভাই পশ্চিমবঙ্গ ও বড় ভাই পূর্ব্ববঙ্গ।  এই দুই বঙ্গ মিলেই আবহমানকালের বাংলাদেশ – যদিও ১৯৭১-এর পর তা মূলতঃ পূর্ব্ববঙ্গের জাতিরাষ্ট্রের
‘অফিসিয়াল’ নামে পরিণত হয়েছে। নিজেকে বাংলাদেশ নামে ডাকার অধিকার পশ্চিমবঙ্গের বড় অংশই ছেড়ে দিয়েছে। সেটা দুঃখজনক। নিজের নাম স্বেচ্ছায় কেন কেউ নিজে থেকেই ভুলে যাবে, তা আমার বোধগম্য নয়। তো সে যাই হোক, এতটাই আত্মবিস্মৃত আমরা যে বাংলাদেশ নামটির পুরো অধিকারটাই আমরা তুলে দিয়েছি পূর্ব্ববঙ্গের হাতে। খন্ড-বঙ্গের ছোট খন্ড আমরা।  এই খন্ড ভাব আর ছোট ভাব দুটি প্রায় হারাতে বসেছে আজ দিল্লীর তালে নাচতে গিয়ে। তাই তো আজ পশ্চিমবঙ্গের অধঃপতিত জাতি নাক সিঁটকে বলতে শিখেছে ‘ওরা তো বাংলাদেশি’। আর তোরা হলি ‘ইন্ডিয়ান’। বাঙ্গালী তাহলে বোধহয় বঙ্গোপসাগরের গভীরে বসে মাঝে মাঝে মুণ্ডু তুলে কলকাতার ডাঙ্গা দেখছে – কেকেআর, শাহরুখের নাচ, আটলেটিকো, দিওয়ালি, হোলি, গুরগাঁও তথা আরো হরেক বেঙ্গলী ব্যাপার-স্যাপার। এরই মাঝে বোমা ফাটল বর্ধমানে। আরেক রকমের বেঙ্গলী সকলের টিভিতে এসে উপস্থিত। বাংলাদেশী ! এবার আর গরু-পাচারকারী বা কাঁটাতার পেরোনো বেআইনি হিসেবে নয়। পরিচয় এবার জেহাদি। খবরে তেমনই প্রকাশ।
অথচ চিরকাল ব্যাপারটা এমন ছিল না। পশ্চিমবঙ্গ বুঝত ও জানত যে ‘ওপারে’ যে দেশটি, তার সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক। সে সম্পর্কের স্বীকৃতি কোনো আইন বা সংবিধান দেয় না। তাতে কি বা এসে যায়? এসে যায়নি বলেই তো ১৯৭১-এ পূর্ববঙ্গের মুক্তিযুদ্ধের সময় পশ্চিমবঙ্গে  যে বিশেষ সংহতির উন্মাদনা দেখা গেছিল, তাতে অনেক ঐক্য ও অখন্ডতার পূজারীরা ভয়ানক জুজু দেখেছিল। যখন স্লোগান উঠেছিল – এপার বাংলা, অপার বাংলা, জয় বাংলা, জয় বাংলা – তখন অশোকস্তম্ভের ৪ সিংহের ভুরু কুঁচকে গেছিল। পূর্ব্ববঙ্গের এক নকশালপন্থী (হ্যা, ওদিকেও ছিল ও আছে) দল -এর স্লোগানে ছিল অন্যতর কল্পনার বীজ – দুই বাংলার চেকপোস্ট উড়িয়ে দাও, গুঁড়িয়ে দাও। সে  বীজ থেকে যে কোনো চারাগাছ বেরোয়নি আজ অবধি, তা বলাই বাহুল্য। যে কোন দাবি বা স্লোগান একটি বিশেষ সময়ের দলিল। আজ এই স্লোগান উঠলে অবশ্যই শুনতে পাব – চেকপোস্ট উড়িয়ে মরি আর কি। এমনিতেই বিএসএফ দিয়ে ওদের পিলপিল করে আশা রোখা যাচ্ছে না, উড়িয়ে দিলে তো পশ্চিমবঙ্গ-টাই দখল করে নেবে।  ন্যায্য চিন্তা, বিশেষতঃ যখন ১৯৭১-এর পরেও পূর্ব্ববঙ্গের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর
নির্যাতন, সম্পত্তিদখল, দাঙ্গা ইত্যাদি চলেছে প্রায় নিরন্তর – সরকারী/বেসরকারী পৃষ্ঠপোষকতায়। আর হিন্দুদের পূর্ববঙ্গ থেকে পালিয়ে আসাও চলেছে নিরন্তর।  চলছে আজ-ও। তবে তারা নিম্নবর্গের, তারা ব্রাহ্ম্মন-কায়স্থ-বৈদ্য নয়, তাই তাদের আখ্যান পশ্চিমবঙ্গে উপেক্ষিত। তার উপর আছে এক ধরনের মেকি ধর্মনিরপেক্ষতার। ১৯৭১-এর সংহতি থেকে আজকের পূর্ব্ববঙ্গের বাস্তব চিত্র সম্পর্কে সম্পূর্ণ জ্ঞানহীনতা, ইটা ঘটল কি করে? কি করে পশ্চিমবঙ্গ তার ওপর অংশ কে দেখার বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি হারিয়ে ফেলল?  কেন আজ তাকে দিল্লীর থেকে চোখ, ক্রাচ আর দূরবীন ধার করে পুর্ব্ববঙ্গকে দেখতে হয়। কখন আমরা অন্ধ, অশিক্ষিত ও পঙ্গু হয়ে গেলাম? কখন আমরা ‘বৈরী বাংলাদেশী’ নামক চরিত্রের নির্মাণের দিল্লী রেজিমেন্টে নাম লেখালাম?
আজকে বর্ধমানের কল্যাণে আমরা জেনেছি জামাত-এ-ইসলামীর নাম। এর আগের গল্প কেন আমরা এত কম জানি? আসলে আমরা তো ক্রমে পশ্চিমবঙ্গের জেলাগুলিরও নাম ভুলতে শিখেছি, ওপারের খবর কি জানব। বরং দিল্লি-বম্বে-গুরগাঁও-নয়ডার মানচিত্র মুখস্থ করি গিয়ে। সচিন মোদের  ব্রহ্মা, শাহরুখ মোদের বিষ্ণু আর দিল্লীশ্বর হলেন সাক্ষাত মহেশ্বর। মন্দিরে আর জায়গা কই ? কার সন্তান কত অন্যাশে বঙ্গ-ত্যাগ করে দিল্লী-বোম্বাই পৌছেছে, এই যাদের সাফল্যের মাপকাঠি, তারাই ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশী অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে। অনুপ্রবেশ অবশ্যই সামাজিক-রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণ হিসেবে দেখা দিতে পারে, কিন্তু বলবে কারা – যারা পশ্চিমবঙ্গ ত্যাগ করে উন্মুখ, তারা ? বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ব্যাপক অংশ জেহাদ করতে কাঁটাতার পেরোন না, আসেন জীবিকার জন্য। দুবাই বা মালয়শিয়া পাথেয় যোগার করতে পারলে এদিকে আসতেন-ও না। ঠিক যেমন আমলাশোল থেকে ঢাকা যাবার সহজ ব্যবস্থা থাকলে অনাহারে মরার থেকে অনেকেই গার্মেন্ট কারখানায় কাজ করতে বেশি পছন্দ করতেন।
ক্ষুদ্রতর পশ্চিমবঙ্গবাসী হিসেবে বৃহত্তর পূর্ব্ববঙ্গকে বোঝার দায় আমাদের আছে। আজকের পুর্ব্ববঙ্গকে। কবেকার ফেলে আসা ভিটেকে খোঁজা না , সেই ভিটেতে যে ব্যাপক বদল ঘটেছে – সেটাকে বোঝা। আমাদের জানতেই হবে যে শিশু ফালানি খাতুনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ কেন কাঁটাতারে ঝুলছিল, জানতেই হবে কোন সীমান্তরক্ষী তাকে খুন করলো – তবে জানতে পারব এই পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে সীমান্তরক্ষীদের দৈনিক অত্যাচারের কথা।ওদিকের সীমান্ত রক্কাহ করে বাঙ্গালী। স্থানীয় মানুষের মুখের ভাষা বোঝে।  এদিকের কথা আর বললাম না। মার্কিন দূতাবাসের সামনের রাস্তার নাম হোচিমিনের নামাঙ্কিত করে যে দুঃসাহস ও ঘৃণা জানিয়েছিল কলকাতা, সেই দায়তেই জানতে হবে কেন ঢাকার ভারতীয় দূতাবাসের সামনের রাস্তা ফেলানির নামাঙ্কিত করার দাবি ওঠে।  জানতে হবে ওদিকের সুন্দরবনের রামপালে ভারতের এনটিপিসি-র পরিবেশ ধ্বংসকারী বিদ্যুত প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গবাসী দায়হীন কিনা। জানতে হবে সব সাইক্লোন শেষ মুহুর্তে আমাদের কাটিয়ে যখন ওদিকে ঘুরে যায়,তারপর কি হয়? তার জন্য পরের ছুটিতে হিমাচল-কন্তাকুমারি-রাজস্থান-আন্দামান না করে একটু যান-না ওদিকে।
এক শ্রেনীর পশ্চিমবঙ্গীয় ওদিক ঘুরে এসে এক রোমান্টিক স্বর্গের চিত্র আঁকেন। ঢাকায় দুর্গাপুজো দেখে বলেন, সব ঠিক-ই আছে। ফি বছর যে বেশ কিছু দুর্গাপ্রতিমা আক্রান্ত হয় ওদিকে, সেটা বলতে কুন্ঠা কেন? ওদিকের সংবিধানের আগেই রয়েছে একেশ্বরবাদী ইসলামী বাণী।  এদিকে মা দূর্গা সহায় বা জয় শ্রী রাম নেই। এদিকে সংখ্যালঘুদের সম্পত্তিলুঠ হচ্ছে, দেশত্যাগে
বাধ্য করা হচ্ছে, একথা নিন্দুকেও বলতে পারবেন না। এ প্রসঙ্গে ওদিকের লজ্জিত হওয়া উচিত। অতীতের হিন্দু জমিদারের অত্যাচারের শাক দিয়ে আজকের বাস্তবতার মাছ ঢাকা যায়না। আবার ওদিকেই শাহবাগে ৭১-এর চেতনাধারী মূলতঃ মোসলমান বিশাল যুবসমাবেশে ডাক ওঠে ‘সূর্য্য সেনের বাংলায়, জামাত-শিবিরের ঠাই নাই’। সূর্য্য সেনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে  ওদিকের খবরের কাগজে একটি ব্যাঙ্কের পাতাজোড়া বিজ্ঞাপন দেখেছি – এদিক কল্পনা করতে পারে?
শরতচন্দ্র বাঙ্গালী ও মোসলমানের মধ্যে ফুটবল খেলিয়ে অনেক গাল খেয়েছেন। আজ কলকাতা নামধারী ফুটবল-দলের সাথে ঢাকা মহমেডান ক্লাবের খেলা হলে উনি বুঝতেন, মোসলমানের টিমটাই বাঙ্গালীর টিম। কলকাতার দলটি বাঙালিও নয়,মোসলমান-ও নয়, এক্কেরে আন্তর্জাতিক – স্রেফ টাকাটা দিল্লি-বম্বের। অন্যের মাতাকে মাতৃজ্ঞানে পুজো করতে বাধ্য হবার মত পরাধীন ওরা নয়, সেটা ‘মাইন্ড’ না করার মত শিরদাঁড়াহীন-ও ওরা নয়। ওরা বাংলার ভবিষ্যৎ বলতে জাতির, ভাষার ভবিষ্যৎ বোঝে – আমরা বুঝি রাজারহাটে কল-সেন্টার।  আমাদের মধ্যে ‘কানেকশান’ সত্যিই আজ কম।  কারণ ওরা বাঙ্গালী, আমরা বং।

1 Comment

Filed under বাংলা, Bengal, Delhi Durbar, Dhaka, Identity, India, Kolkata, Nation

খেলা স্রেফ খেলা নয়

[ Ebela, 15 Jul 2014]

পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছিল আমাদের চেতলা পাড়া থেকে রাসবিহারী মোড় যাওয়ার অটো রুটেই। জনগণতান্ত্রিক বিপ্লবের রক্ত পতাকাগুলি নেমে আসতে শুরু করলো। তার জায়গায়ে এলো মা-মাটি-মানুষের নিশান। এখুন-ও সেগুলি উড্ডীন। এই পথেই এক-কালে বসত বিরাট রথের মেলা। চলত ১৪ দিন। এখুন সে ঐতিহ্যশালী মেলা চেতলা ব্রিজের নীচে নির্বাসিত। পরিসরে ১০ বছর আগের তুলনায় এক দশমাংশ-ও নয়। সে যাই হোক, বর্ষাস্নাত এক সন্ধ্যায় আমি রাসবিহারী মোড়ের অটোর জটলার দিকে গেলাম। দেখি কয়েকটা অটো-তে এক নতুন পতাকা। ব্রেজিল দেশের। এই পতাকা বদল সাময়িক এবং তার জন্য এই তরুণ অটোচালককে কোন চোখ রাঙ্গানি দেখতে হবে না।  কোনো সরকার, কোনো দল , কোনো ইউনিয়ন বা ক্লাব-কেই ব্রেজিলের থেকে কোনো ভয় নেই।  তাই একয়দিন নতুন পতাকা উড়বে। তা উরুক।  শত পতাকা বিকশিত হোক।

ব্রেজিল যে কজন মানুষকে গৃহহীন করে এই বিশ্বকাপ রোশনাই করছে, কত ব্রেজিলীয় সুরেশ কালমাদী রিও-সাওপাওলোর স্টেডিয়ামের ভিআইপি দর্শকাসনগুলি আলো করে আছে, তার বিবরণ আমাদের নরম হৃদয়ে ধাক্কা মারতে পারে, তাই ওই খারাপ জায়গায়ে বেশি হাতরাবো না। আর্জেন্টিনার ভক্তদের হাতে ব্রেজিলের বিরুদ্ধে খেলার মাঠের বাইরের রসদ দিয়ে লাভ নাই। এ যুদ্ধে যেই জয়ী হোক, নিখিল বাংলাদেশে একটি মানুষের কিসুই হবে না।  তবে তাতে কি? তা নয়, শুধু এটাই যে এই বাংলাদেশের বুকেই কলকাতার মাটিতে এক ফুটবল
যুদ্ধের ফলাফলে আমাদের কিসু এসে গেছিল। আইএফএ শিল্ডে কালা আদমির দল মোহনবাগান যখন সাহেবদের খেলায়ে সাহেবদের বাচ্চাদের হারিয়েছিল। এই খেলা শুধু খেলা নয়।  সমাজ-জাত কোন কিছুই শুধু খেলা থাকে না, সমষ্টিগত বোধ তাকে ক্রমে সামাজিক সত্যে পরিনত করে। বাংলাদেশের পাড়ায়ে পাড়ায়ে যে ফুটবল-চর্চা তা অনেকটাই কিআইএফএ শিল্ডের  যুদ্ধের উত্তরাধিকার নয় ? আর এই চর্চা যে খেলার জন্ম দেয়, তার দাম, তার শিহরণ, ঠিক হয়েছিল এই মাটির নিরিখে।  আমাদের সেরা দল ব্রেজিল বা আর্জেনটিনার কাছে ২০ গোল খেলেও নয়। সেটা আমাদের খেলা, আমাদের অতীত, আমাদের যাপন,  আমাদের রাজনীতির সঙ্গতে গড়ে ওঠা।  সেটা ফুটবল হলেও বিশ্বকাপ-এ যে খেলাটি হয়, সেটা নয়।
একান্তই আমাদের একটি খেলা। আমাদের ব্রাজিল, আমাদের আর্জেনটিনা একান্তই আমাদেরই।  কোন ব্রেজিলবাসী বা আর্জেনটিনাবাসী তাকে চেনে না।

ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মোহমডান, আবাহনী  – এই নামগুলি যে স্রেফ দল নয়, বরং ভিন্ন-ভিন্ন গোষ্ঠিচেতনার প্রকাশ, তার আভাস এখুনো খেলার মাঠে গিয়ে দর্শকাসনে কান পাতলে একটু একটু পাওয়া যায়। আজকে অতি ক্ষীণ হয়ে আসা এই গোষ্ঠিচেতনায় কুমোরটুলি, উয়ারী, রাজস্থান, এরিয়ান, টালিগঞ্জ অগ্রগামী স্রেফ ফুটবল দল মাত্র থাকে না , আমাদের সমাজজীবনের নানা খন্ডচিত্রের, শহর কলকাতার মধ্যে থাকা মানুষের আত্মচেতনার দলিল হয়ে থাকে। জাত-ধর্ম-জাতি-ভূগোল-ধন-অতীতের মত  আরো নানা পরিচয়কে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা গোষ্ঠী ও তাদের একান্ত ক্ষোভ-গর্ব-অভিমান ও এমন শত আবেগ-কে দিয়ে তৈরী বাংলাদেশের যে সমাজ চেতনা, ফুটবল তার এক প্রকাশ মাত্র। সমাজের
অভ্যন্তরের সংলাপ সেটি। তাই ব্রেজিল-কে লুঙ্গী পরে, আর্জেন্টিনা-কে সায়া পরে বাংলাদেশের সেই অন্দরমহলে ঢুকতে হত বহুকাল।  শত শত বার্সিলোনা-মেদ্রিদ-মিউনিখ-ম্যানচেস্টারের মিলেও অন্দরমহলের সে খেলা খেলতে পারবে না। স্পেনীয়দের নিজেদের দেশে কিন্তু বার্সিলোনা-মেদ্রিদ এমন-ই নিজস্ব আত্মচেতনার অংশ। কিছু খেলা, কিছু বোধ, কিছু মনোভাব, কিছু বিশ্বদর্শন একদম নিজেদের, একদম আসল জিনিস, একটুও বিনিময়যোগ্য নয়।  এই আসলটার একটা কার্টুন রূপ যে বিক্রয়যোগ্য, তা বিশ্ব-ব্যাপী খোলা বাজারের
ব্যাপারীরা বুঝে গেছে বেশ কিছুকাল । আজকের ব্রেজিল দল গড়ে ওঠে য়ুরোপের ভিন্ন ভিন্ন শহরের, জেলার, গঞ্জের আত্মচেতনার প্রকাশের নিশানী দলগুলির হয়ে ভাড়া খাটনেওয়ালাদের দিয়ে। ব্রেজিল ও বার্সিলোনা , দুই স্থানীয় মধ্যে যোগসূত্র বিশ্ব ফুটবল বাজারের কিছু পরিযায়ী পণ্য।

শ্বেতাঙ্গ থেকে শেখা খেলাকে আমরা নিজেদের করে নিয়েছিলাম – বিলেতের ফুটবল এসোসিয়েশন যে খেলার ঠিকাদার, তার সাথে আমাদের খেলার মিল বাহ্যিক। শ্বেতাঙ্গের তালে তালে ‘মানুষের মতো মানুষ’ হয়ে উঠতে আমরা আমাদের অন্দরের খেলাটির দিকে মৃত্যুবাণ ছুড়েছি। বিকিনি মডেল, চোলাই কোম্পানি আর মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল যখন তলে তলে এক দল হয়ে যায়ে , শেষের শুরু তখুনি। যে মৃত্যু গোষ্ঠ পালের বিষ্ঠাপুর্ণ মূর্তিতে মাল্যদান করে ঠেকানো যায়ে না। তাই অন্দরমহলে আনাগোনা লিভারপুল-ম্যানচেষ্টার-চেলসি দলের
নামধারী পণ্যগুলির। সদর দরজা এখন হাট করে খোলা। উঠোনের জাম গাছটির শিকড় আলগা হয়ে এসছে। এমনকি বট গাছটিও কেটে ফেলা হয়েছে – ৬ কাঠা জমিতে উঠেছে
যে বহুতল, তাকেই জায়গা করে দিতে। মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন নবসমাজের বিচ্ছিন্নতা একে অপরের সঙ্গে।  সামূহিক আত্মপরিচয় নাকি ব্যক্তিকেন্দ্রিক আধুনিকতার পথে বিশাল কাঁটা, এবং বেশ ‘ব্যাকডেটেড’ ও বটে।  তাই নবসমাজের আভ্যন্তরীন সংলাপ নাই, সমাজ থেকে উঠে আসা খেলার দরকার নাই, আমদানি করা মাল প্যাকেট শুদ্ধ গিলে ফেলার মধ্যেই মুক্তি।  ব্যাক্তিমুক্তি।

সমাজ থেকে উঠে আসা বলেই বিভিন্ন স্তরে যে ফুটবল খেলা হয় নিখিল বাংলাদেশে। অন্ত্যজের ক্ষমতায়নের সাথে তাল মিলিয়েই উচু-জাতের মৌরসীপাট্টা নয় আর ফুটবল। তাই দেশীয় এলিটের দেশীয় ফুটবল এমনিতেও দৃষ্টিকটু লাগবে। যে কারণে দৃষ্টিকটু লাগে না টলিউড বা বলিউডের প্রধান অভিনেতা-অভিনেত্রী-কলাকুশলী -নির্দেশক-প্রযোজকদের মধ্যে উচু জাতের, রয়িস খান্দানের মানুষের প্রায় একাধিপত্য।  সংবেদনশীল ফিলিমপ্রেমীরা তা দেখতে যান, প্রশংসা করেন, খারাপ বলেন। হলিউডিও-য়ুরোপীয় তুলনা দ্যান। এও এক
ধরনের সমাজের আভ্যন্তরীন সংলাপ।  তবে সে সমাজের পা কি মাটিতে ? সে সমাজের স্বপ্ন কি নিজের না আমদানি করা? সেই সমাজের লিভারপুল প্রেমের মধ্যে নিজের
পারিপার্শিক সমাজকে ঘেন্নার একটু গন্ধ কি নেই ?

কোনো কিছুই বিনামূল্যে হয় না।  কোনো না কোনো ভাবে মূল্য চোকাতে হয়। যখন চেতলায়ে কেউ হয়ে ওঠেন চেলসির ভক্ত, মল্লিকবাজারের কোনো বহুতলীয় তরুণের স্বপ্নে দেখা দেয় ম্যানচেষ্টার, তখন আমাদের আত্মপরিচয়ের ভিত আলগা হয়। অতীত ও সমাজ, দুই হতেই বিচ্ছিন্ন বাঙ্গালীকে তাই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গণমৃত্যুর কথা জিজ্ঞেস করলে শুনতে পাবো ইহুদী, জিপসী ও অন্যান্য শ্বেতাঙ্গ গোষ্ঠির নাম। ১৯৪৩-এ  ব্রিটিশ শাসক ও তার দেশীয় তাবেদারদের ষড়যন্ত্রে যে ৩০ লক্ষাধিক মানুষ মারা গেছিল নিখিল বাংলাদেশে, মৃত শ্বেতাঙ্গদের সাথে তারা একাসনে জায়গা পায়না।  কল্পনা ও আত্মপরিচয় যখন সমাজ-বিচ্ছিন্ন, তখন সে নরসংহারের চিত্র উত্তরপুরুষদের জন্য রেখে গিয়েছেন যে  জয়নুল আবেদীন বা চিত্তপ্রসাদ, তাদের নাম যে চেলসির ভক্ত জানে না, তা কি খুব আশ্চর্যের? উত্তর-মনমোহন কলকাতা তথা বাংলায়ে সমানে চলেছে জাম গাছের শিকড় উপড়ে কিউই ফ্রুট খেতে শেখার গল্প। বিশ্বায়িত হওয়া মানে শ্বেতাঙ্গ মানুষের আত্মপরিচয়ের সাথে হাইফেন দ্বারা যুক্ত হওয়া। এটলেটিকো মাদ্রিদ ‘কলকাতা’কে নিলামে কিনে বানায়ে ‘এটলেটিকো ডি
কলকাতা’।  কালা মানুষে ধন্য হয়।

Leave a comment

Filed under বাংলা, Bengal, Colony, Dhaka, Elite, Kolkata

The Goonda first came for the Assamese / Gunday on the loose / The Bollywood Gunday threat against Assam and Bengal

[ Daily News and Analysis, 4 Mar 2014 ; Dhaka Tribune, 5 Mar 2014 ; Echo of India, 11 Mar 2014 ]

People in the Bengals use the word ‘Goonda’ quite liberally – to refer to anything between a naughty child to the local political thug. But in the eyes of law, who is a Goonda? One of its many legal definitions is to be found in the Control of Disorderly and Dangerous Persons (Goondas) Act (East Bengal Act IV of 1954). There is goonda is someone ‘involved in affray, rowdyism or acts of intimidation or violence in any place private or public so as to cause alarm to the people living or frequenting the neighbourhood’. According to the Uttar Pradesh Control of Goondas Act (U.P. Act No. 8 of 1971, amended by U.P. Act No. 1 of 1985), it is ‘generally reputed to be a person who is desperate and dangerous to the community’. But if film and artist communities in Assam and West Bengal have been protesting mischief and many young people in the People’s Republic of Bangladesh are disgusted at the false and mischievous retelling of its Liberation struggle, then the source of mischief can safely be called a Goonda, at least rhetorically if not legally. When there is more than one such public enemy, in Hindi they are called Gunday. Gunday are backed by deep-pockets whose ulterior projects are more extensive than the specific acts of mischief. More often than not, the Gunday of the real-world are mercenaries for other people’s projects, even part of broader, more sinister projects of which the employed Gunday may not be even aware of. The Gunday are as important as the people who dictate what Gunday does, how they do it, when they do it.

In the reel-world, ‘Gunday’ is a project of Yash Raj Films, a Bollywood centric entertainment behemoth. It is one of greatest flag-bearer of Bollywood Hindi films, that grandest by-product of ‘Indianness’. Some perverse people like me feel that the relationship is inverse – that ‘Indianness’ is a byproduct of Bollywood Hindi films, among other things. It is the thread that connects the browns to browns, with the punitive sedition laws at hand just in case some folks didn’t get the point. Whatever be the tall ‘diversity’ claims of the Indian Union, the cultural landscape after partition has a couple of winners (English being one) and a large set of losers. In the Indian Union, we all know that cultural and political clout of which language has expanded after partition, so much so that not knowing it is seen as a sign of being politically and culturally queer. This advancement comes with the retreat of Marathi, Kannada, Bengali, Assamese, etc. as playgrounds of cultural imagination and virtual annihilation of fecund tongues like Maithili, Awadhi, Brajbhasha, etc. It is not accidental that the most successful film industry is of the same language that receives the maximum preferential subsidy for its advancement. The subsidy to English in poor brown-land is a scandal of another scale altogether.

Let me not beat about the bush and come to the point. Gunday is a Bollywood Hindi film. For West Bengal, it was dubbed in Bengali. This make one, get many formula by dubbing into other tongues makes economic sense for the producer. But that also opens the flood-gates for this trend. The film and cultural community in West Bengal has protested against this. If using their mighty economic muscle, Bollywood producers can brow-beat distribution networks and cinema halls into showing such dubbed material, this will be an economic bonanza for Bollywood. Much black money will find greater returns but fledling non-Hindi film industries will fail ruin as they cannot outcompete Bollywood in black money, film volume and the cinema-hall blackmailing strength that comes with it. This desperate aggression was in full display in Assam where Rajni Basumatary’s Assamese film ‘Raag’ which was running quite well was removed by economic goondaism to make way for Gunday. Not too many films are produced in Assamese and when a good one is made with help from the Assam Film Development Corporation, this is the fate. Cultural diversity, even cultural competition, can only flourish in a level economic playing field. No amount of bleating about ‘unity in diversity’ changes that basic fact.

Let me describe a scenario. Dubbing my story and then forcing it down your throat using my economic muscle will slowly silence you. You wont be able to tell your own stories. You will have to adapt my stories. It does not matter if you have a long tradition of telling stories. Soon you may even develop an aesthetic sense for my stories, get alienated from your stories, from your people, look at them with curious eyes of an outsider. In short, I will destroy you cultural roots, replace them with mine and you will finally clap along the way. If that does not make me a Goonda, I don’t know what does.

The acts of some gansters have international manifestations. Gunday has chosen to parrot the official Delhi fiction of Bangladesh being a product of a brief Indo-Pak war. The people of that independent nation did not take that lying down. The producers have apologized. The Assamese can dream on. Pakistan has sought to protect its film industry by trying to restrict ‘Indian’ (read Bollywood) films. The states of the Indian Union have no such power, just like they do not have the power to protest the huge subsidy and preference given to one desi language. Apparently, this language ‘unites’. We know how this unidirectional unity works. No Assamese film will be dubbed in Hindi and released to multiplex audiences in Delhi and Mumbai. Not in this nation state. If slow but sure annihilation of certain cultures is a pre-condition to some kind of a ‘national integration’ project, then that nation is an enemy of those cultures. It is up to the Indian Union to decide what integration project it wants to promote – a predatory one or a harmonious one. It is up to you, the viewer, to ask whether your film ticket is filling a goonda’s pocket.



1 Comment

Filed under Bengal, Culture, Delhi Durbar, Dhaka, Hindustan, Kolkata, Language, Nation, Pakistan

Why Pakistan’s resistance to Bollywood is justified

[ The Express Tribune, 24 Dec 2013 ]

The case in Pakistan regarding the continued certification and commercial screening of films produced in the Indian Union territory has been settled. Mubashir Lucman, Film Producers Association and Cinema Owners Association have come to an agreement that would allow for the equal sharing of screening time between films made locally and those imported from the Union of India. This is a useful opportunity to discuss some issues regarding the commercial import and certification of Bollywood Hindi films in Pakistan.

Let us first understand what are these ‘Indian’ films. We are largely talking of films made in the Hindi language produced via a very cash rich industry setting in Mumbai. For the rootless young people in certain metros of the Indian Union, that is much of what constitutes ‘Indian’ films. But for those who are talking in terms of greater mutual understanding via these films, one needs to realize that much of the Indian Union does not speak Hindi. Additionally, they do produce their own films. The content of such non-Hindi films represent a much greater terrain of the subcontinent than Bollywood Hindi flicks can ever aspire to. To be fair, Bollywood Hindi films never did aspire to that. Thank the gods for that, as with the money power behind Bollywood Hindi films, they might even try to define Tamil-ness or Bengali-ness through a metro-centric Hindi medium. Are they influencing people in Pakistan with an alien commercially produced idiom? If yes, people in Pakistan better take notice.

And those who portray films as some sort of a medium to develop Indo-Pak bonhomie might also do well to look beyond Bollywood. Virulently anti-Pakistan films with a lot of ‘action’ are also a Bollywood Hindi film sub-genre. Yes, that does good business. Go find an Assamese, Bengali, Tamil, Manipuri or a Oriya film in the last fifteen years that has an anti-Pakistan theme. There are none. Are these not ‘Indian’ films? What is it about Bollywood Hindi film idiom that lends itself to making films like Gadar: Ek Prem Katha and LOC Kargil, which unabashedly dehumanize people from Pakistan? The economic muscle of Bollywood ensures that such films receive a wide audience. It is not the specific film that matters. Pakistan can choose to not allow this film or that. But it is the same set of cartels that produce most of the films – the ones that are anti-Pakistan and the ones that are unrelated. This industry understands only money and would not stop from producing the next commercially lucrative anti-Pakistan blockbuster? There is a market for such prejudice in India just like there is a market for anti-Hindu prejudice in Pakistan. Do people from Lahore and Karachi really need to add to the profits of an industry that sees no qualms in showing Pakistanis in bad light?

Most Bollywood Hindi films are set in the cities of Mumbai or New Delhi, and increasingly in cities of the Western World where people from North India live and aspire to flourish. This can be Sydney, London, New York or Chicago (Dhoom 3, an action film released a few days ago and which has already grossed crores of Rupees, is set largely in Chicago). Delhi and Mumbai choses to tell its story and wants people to pay for it. But Karachi is not Delhi and I am sure it has its own stories to tell, stories that are different from the stories of young partying explorers of Mumbai and Goa, stories that are not about aspirational or ‘everyday’ life of Delhi people. Inspite of the Zia years, one can be sure that 15 crore people have stories to tell. If the decision was left to the burgers, they might even start a juloos in support of Hollywood and Bollywood. The culturally illiterate has no investment in their own cultural milieu. That is precisely why their ‘tastes’ shouldn’t be setting agendas. Nor can they be depended on for a revitalization of films culturally rooted in Pakistan (and not cheap Bollywood remakes).

Bollywood Hindi films represent the metro-centric and homogenized ‘idea of India’ in the mind of the new Indians – 20-40 years old, in the top 5% income category, aspirational migrants with Hindi and English being their near exclusive vocabulary. They are concentrated in a few cities but they have the economic might to determine cultural policy. These multiplex consumers with their moneybags have done a great assault to the idea of mass-films, which is why now film profits are not an indication of film popularity. Pakistani film industry is up against an economic behemoth with an agenda of own-cultural expansion. Its production, distribution and broadcasting machines are well oiled. Stupendous amounts of black money from deep pockets bankroll the ‘creative’ explosion that is Bollywood.

The twin attack of a homogenizing national ideology and economic muscle has grave implications on visible public culture. The 19th Kolkata International Film Festival witnessed the extra-ordinary scene of Bollywood Hindi filmstars being feted in a manner as though they represented some pinnacle of human achievement. It was a sad moment – underlining how limited and predictable the cultural horizon of West Bengal’s film industry had become. The lack of self-confidence showed. Film industries that do not have as much black money circulating, have lesser number of casting couches, have lesser number of ageing ‘artists’ and producers targeting young actresses, have lesser number of big crooks financing films and which do not make films in Hindi or India-English, have been relegated to second and third class status. Pakistan has the legal mechanisms to stop the damage that Bollywood has done to films industries elsewhere. It better act soon.

Leave a comment

Filed under Culture, Delhi Durbar, Identity, Kolkata, Language, Pakistan

Battling religious censorship / Muzzling Expression of Taslima Nasreen

[ Outlook, 23 Dec 2013 ; Echo of India, 29 Dec 2013 ]

Kolkata, the so-called ‘cultural capital’, has demonstrated the increasing emptiness of the epithet, yet again. Taslima Nasreen, one of the most famous Bengali authors alive, had scripted a TV serial named ‘Doohshahobash’ ( Difficult cohabitaions) portraying 3 sisters and their lives – standing up to kinds of unjust behaviour that are everyday realities for the lives of women in the subcontinent. Nasreen has long lent a powerful voice to some of the most private oppressions that women face, often silently. The private channel where the serial was slotted ran a vigorous and visible advertising campaign – Nasreen’s name still has serious pull among Bengalis and the channel knew it. Nasreen had made it clear that the serial had nothing to do with religion.  However that was not enough for the self-appointed ‘leaders’ of the Muslims of West Bengal who issued warnings to the effect that the serial not be aired. The commencement of the serial, sure to be a hit and a commercial success for the channel, has now been postponed indefinitely. One can imagine the pressure the producers and broadcasters have faced that led to the shelving of a potential runaway commercial success. As in the recent incident of Salman Rushdie being prevented from coming to Kolkata due to the protest by similar characters, one can be sure of the kind of role the Trinamool Congress government and its law enforcement agencies had in this affair. If the government is to be believed, it had no role in the criminal farce that is being played out unchecked. Muzzling free speech and right to expression does not always need written orders from the government. A phone call here, a verbal order there – these are typically enough.

Nasreen has been living in New Delhi since 2007, after being hounded out of Kolkata by the CPI(M) led government on the instigation of Muslim groups threatening ‘unrest’. The pathetic reality of the lives of ordinary women in the subcontinent and the extraordinary oppression meted out to them, especially due to certain religious systems, have been the single most important theme of her writing. Steeped broadly and deeply in the cultural fabric of Bengal, the specific socio-geographical setting of much of her work is in the Muslim-majority nation-state of Bangladesh. Hence, in her earlier writings, Islam primarily represented the ugly face of religious majoritarianism. However, those who have cared to read her corpus, know very well that she has been an equal-opportunity truth-teller, castigating both Hindu and Muslim religious practices and ideologies.

Taslima Nasreen is a daughter of the subcontinent. Islamists in Bangladesh wanted her head and made life miserable for her. After a few years in the West, she returned to West Bengal. I say ‘returned’ as it was an inalienable part of her cultural homeland. In Kolkata too, she lived in the face of constant death-threats there too. After her forcible ejection from Kolkata, she has never been allowed back, though she remains extremely interested in relocating back. One would think that the culture of issuing death-threats to one feels one’s religion has been slighted by is alien to Bengal – which has, for centuries, been the ground Zero of religious syncretism as well as tolerance to so-called deviants of all hues. It is indeed sad that this alien culture of extremism of relatively recent import has managed to gain the upper-hand so as to force the government of the day to pander to these elements at huge cost to the social and cultural fabric of West Bengal.

Who exactly are these vocal opposers of Taslima Nasreen’s serial being shown publicly? Whenever one has self-appointed spokespersons doing the shrillest speaking, it is useful to study their antecedents. Abdul Aziz of Milli Ittehad Parishad and Mohammad Quamruzzaman of the All Bengal Minority Youth Federation are two prime examples who have been extraordinarily active in running the Taslima-denounication industry in West Bengal. Both these organizations share another distinction. They led a mass-meeting earlier this year in Kolkata protesting the punishment of Islamist leaders of Bangladesh who had directly committed crimes against humanity during the 1971 Bangladesh Liberation War.  Thus those who defended rapists and mass murderers of 1971 (the victims were Bengalis, of whom a significant proportion were Muslims) have taken upon the mantle of community guardianship of Muslims in West Bengal. It cannot be clearer what kind of Muslim interest these folks represent. To even consider that such elements represent Muslim interests of West Bengal is tantamount to insulting the intelligence and humanity of the Mohammedans of the state.

Kolkata’s intelligentsia and youth, once known to take to the streets and chant songs to protest the muzzling of Paul Robeson, a black-American singer and artist, has had nothing but silence to offer on this one. The Trinamool Congress rulers and the erstwhile CPI(M) rulers have set a record of competing with each other on muzzling free speech on the instigation of groups in whose worldview, free speech has no place. While there may be short-term electoral gain for such posturing, this race to the bottom has no winners. The loser is the idea of a free and democratic society where dialogue and understanding is privileged over violence to ‘solve’ differences. In effect, such groups aspire for a society where there are no differences – no diversity of thought, expression, living and being. Nothing is more alien to the human condition than that. Gods only can help a society where governmental policy is dictated by sociopaths, unless a critical mass stands up to publicly state that enough is enough. Does the right to be offended take precedence over the right to free speech? If yes, we are in sad and dark times.

When insulting books, gods and other creatures has become the touchstone of ‘community leadership’, one might do well to remember the words of Kaji Nazrul Islam, the fiery poet of all of Bengal who is increasingly being packaged into a ‘Muslim’ poet – ‘Manush enechhe grontho, grontho aneni manush kono’ (Man has produced books, no book has ever produced a man). There is nothing truer than man himself and free speech is an pre-condition for that truth to shine forth, in its myriad hues.

Leave a comment

Filed under Bengal, Culture, Kolkata, Religion, Rights, The written word

Death of a general / The unconquered General Giap

[ Daily News and Analysis, 12 Oct 2013 ; New Age (Dhaka), 24 Oct 2013 ]

‘Amar nam, tomar naam,

Vietnam, Vietnam’

(Your name, my name, Vietnam, Vietnam)

–       a popular slogan in West Bengal expressing solidarity with the Vietnemse people during the US-led military operations against Vietnam in the 60s and the 70s.

General Vo Nguyen Giap, the brilliant chief of the Vietnamese forces who gave the French, till-then the hardest kick in their back from a colonized people, died on 4th October. The development of civilizational and philosophical finesse in the form of Michelin stars, ‘fine’ dining, schools of politics and philosophy, experimental art and delicate wines have long been subsidized by the blood and tears of non-White people. So General Giap and his Vietnamese guerrillas surely left a bad, non-fruity after taste in the French palate. The French were thoroughly defeated at Dien Bien Phu. They surrendered to the Vietnamese. We had won.

For the subcontinent, whose ‘liberation’ from colonial rule did not involve surrender of the colonizers naturally did not involve liberation from the institutions that suppressed rebellions, beat up and tortured political workers, certain national liberation struggles of South-East Asia may seem from a different world. Indeed, it was a different world, where the native-staffed army and police that swore undying allegiance to some European power, did not automatically become the army of police of ‘independent’ nation-states. In the subcontinent, armed group of men in uniform loyal to the British crown, turned desi patriots overnight, with rank, pay and pension protected. Thus, it should not come as a surprise that the Indian Union’s Indian Army has conducted extensive aerial bombing of its own citizens in Mizoram and armed-uniformed wings of the state are the organizations accused of the largest number of rapes, again, of its own citizens. Its twin born out of the same transfer of power, the Pakistan Army has aerial bombed its own citizens in Balochistan for years. For a subcontinent, which has been taught to mix up transfer of power (and institutions) with national liberation, Vietnam would have showed them what the real thing looks like.

The Vietnamese victory at Dien Bien Phu shook the world. For those uninfected by the ‘White-awe’ syndrome, like Malcolm X, the meaning of this victory was clear who used this for his own political preaching. ‘White man can’t fight a guerilla warfare. Guerilla action takes heart, takes nerve, and he doesn’t have that. He’s brave when he’s got tanks. He’s brave when he’s got planes. He’s brave when he’s got bombs. He’s brave when he’s got a whole lot of company along with him, but you take that little man from Africa and Asia, turn him loose in the woods with a blade. That’s all he needs. All he needs is a blade. And when the sun goes down and it’s dark, it’s even-steven.’

There was a time when the 1905 Japanese naval victory over the Russians broadened the chest of many a brown people. There was a time when a significant number of middle-class brown people too considered themselves Asians. The idea of Asia and Asian-ness is long-gone from the subcontinent. The great-grand children of such brown Asians have their mindscapes dominated by video games and films and shows, with white winners, white saviours, white sexiness, white ruggedness, white determination, white failings, white sacrifices, white sadness and a million other minute shades of white-human personhood. To this generation, the Asian is a term for folks with ‘slit eyes’ – such is the pernicious grip of whiteness on bankrupt minds. Part of the reason that the subcontinent is saddled with false gods and extreme alienation is that we never had our own General Giap. Which is why, when this towering personality breathed his last, we did not know that we had lost our very own. The Vietnamese got a national liberation army. We got folks who pride themselves on being patted on the back for killing colored people, at home and in faraway land, for the British monarch.

My own city, Kolkata, had a special connection with General Giap and Vietnam. Even before partition, the students of Kolkata observed Vietnam Day in January 1947 in solidarity with the Vietnamese anti-colonial struggle. The brown British police killed 2 protesting students. The same police would be designated loyal enforcers of law in about 8 months time. General Giap visited the city more than once and then, as a school student, I had the good fortune of seeing him with my own eyes. Thousands had assembled to catch a glimpse of him that day. I feel it is not unrelated that removing slums is still the hardest in that metropolis. Many browns have a peculiar interest in the twists and turns of the World Wars. That the chivalrous white man dropped more bombs in Vietnam to crush them than they dropped in each other in Europe during the Second World war is one of those details that do not break into brown consciousness due to the ideological predilections we have to due other kinds of story-telling that we have become specifically atuned to, as an enslaved people. We know about white successes and white failings, white truths and white fictions, but that’s about it. In our enslaved heads, we can love or critique Rambo and other ‘world’-saving White creatures, real and imagined, but many coloured people were saved for the likes of General Giaps, big and small. Let us expand our heads to accommodate our heroes.


Leave a comment

Filed under Bengal, Colony, History, Kolkata, Memory, Nation, Obituary, Sahib

Paying the price for a gory ideology of hostage theory / Vague vengeance driving terror / Vague vengeance and Pakistan church blast

[ Daily News and Analysis, 1 Oct 2013; Millenium Post, 7 Oct 2013; Shillong Times, 7 Oct 2013; Echo of India, 9 Oct 2013 ]

“Ekbar matir dike takao,

 Ekbar manusher dike”

 (Once, take a look at the ground beneath your feet. Then, look at human beings)

 –  Birendra Chattopadhyay, Bengali poet (1920-1985)


In the most murderous attack on what is left of the ever-terrorized Christian population in Pakistan, Islamic terrorists have killed at least 85 worshippers at the All Saints Church in Peshawar on September 22nd. Inspired suicide bombers were the weapon of choice to target the Christian congregation. The death count is still rising, as more people succumb to their injuries in the hospitals. Outright murder represents the sharpest edge of what Christian and other ‘constitutionally’ non-Muslim people endure in Pakistan. Their daily life in a nation-state that officially considers them unequal in various ways to official Muslims is not pretty. Usurpation of property, blasphemy charges, attacks and destruction of places of worship, rape and subsequent forced conversion (or the reverse order) of womenfolk form the visible tip of a much broader systemic antagonism.

Thankfully, the minorities are not completely friendless in Pakistan. At huge personal risk, people like IA Rahman, Asma Jehangir, Abid Hasan Minto and many others have been standing in solidarity with religious minorities of Pakistan, protesting on the streets, for decades together. The threat to their lives is real, as was shown by the brutal murder of Salman Taseer, governor of West Punjab, and someone who had expressed solidarity with a Christian woman, Aasia Bibi, phonily charged with blasphemy against Islam and given a death sentence. The recent anti-Christian massacre has brought the predictable protestors to the streets – human rights activists, left activists and the Christian community itself. But in addition to this, a somewhat broader segment also has protested. These groups have demanded that there be no dialogue or negotiations with Islamic terrorists behind this attack.

While shunning dialogue, the society in Pakistan may do well to initiate a broader dialogue. Directed not at the clearly-defined demons like the Taliban, this dialogue may point to a broader disease that emanates uncomfortably from the holy-cows of that nation-state. Only the society-at-large can initiate such a dialogue that explores the contours and content of inherited socio-political ideology, things that take a providential status as foundation-myths of any nation-state. Should one take a closer look at holy cows and foundation myths to diagnose the disease?

Jundallah, the Islamic terrorist group that claimed responsibility for the Peshawar massacre, laid out in no uncertain terms how it justifies the attack. ‘‘All non-Muslims in Pakistan are our target, and they will remain our target as long as America fails to stop drone strikes in our country.’’ So, non-Muslims in Pakistan are, in their understanding, more America’s than Pakistan’s and if America cared enough for its ‘own’ in Pakistan, it had better stop doing things to Muslims in Pakistan. This equation of America = Christian = some hapless Suleiman Masih in Peshawar has widespread appeal, not only for its simplicity, but also for its antiquity. For those who have a somewhat longer memory, the subcontinent has known this for some time – most famously as the pernicious ‘hostage’ theory.

The ‘hostage’ theory has been around for some time. This was enunciated most explicitly by Mohammad-Ali Jinnahbhai, the quaid of the All India Muslim League, as a macabre formula for peace. By this notion, the safety of religious ‘minorities’ in the then still-to-be-born Pakistan and India would be ensured by the fact that the majority community A wont attack minority community B, because in other places, community A is a minority where B is the majority, and hence vulnerable to ‘retributive’ counterattack. Hence, it would ensured (or so it was thought) that violence would not happen locally, as communities that imagine themselves non-locally, would see that this could go tit for tat for ‘themselves’ elsewhere. A minority then is a hostage of the majority. If there are two hostage takers, peace will be ensured. Rather then hostage-driven peace, the subcontinent has witnessed many instances of what can be called retaliatory hostage torture. The massacre of Hindus in Noakhali on Kojagori Lakshmi puja day, the massacre of Muslims at Garhmukteshwar, the reciprocal train-massacres crossing the Radcliffe border of the Punjab, the massacres in Dhaka and Barisal – the list goes on. The list shows that hostage torture enjoyed a broad currency. The Muslim League was simply brazen enough to state it as such. Other groups also used it to their advantage to the hilt.

A tacit acknowledgement of the ‘hostage’ status of minorities was the basis of the Nehru-Liaquat pact – to protect the minorities in West Bengal and East Bengal. The hostage theory lives on when the Babri mosque demolition causes hundreds of temples to be destroyed in the Peoples Republic of Bangladesh. This is why a Hindu there is more India’s than theirs – sort of an unreasonable remnant that ideally shouldn’t have been there. The hostage theory is an ideology of the book and not of the soil. The question of a human’s belonging, in that heartless scheme of things, is not with the soil beneath his ground, but with someone faraway bound by similar ideology. This binds people from disparate soils similarly, and divides people from the same soil. The modern dominance of universalist, extra-local ideologies of community definition, as opposed to the local and the ecological, has taken a very heavy toll on humanity. Peshawar shows that the ideology of the hostage theory is alive and well in the subcontinent. Jundallah is its bloody edge. The softer margins include a very many among us.

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Foundational myths, Identity, India, Kolkata, Our underbellies, Pakistan, Partition, Religion, Scars, Terror, Under the skin

Cities that are easy on the eye / Swanky dreams and apartheid by other means

[ Daily News and Analysis, 30 Apr 2013 ]

Flights connecting the gulf-countries with Mumbai, Kolkata, Delhi, Cochin and other cities form a large portion of the international air-traffic between them. I have been in these flights a few times. Many of the travelers are labourers coming back to their families for a vacation after being away for months, sometimes years. Because they form a large part of the air-traffic, they also provide a large part of the airport revenue. Very few of the labourers I have interacted with can read English fluently, if at all . That most if not all of the airport, its nook and crannies, only make complete sense only to an English literate person, makes one wonder which ‘public’ did the planners have in mind when designing this public utility space. The unwashed masses and their squat latrines have no place here. The architectural language of these places conform to a ‘global’ idiom, however alien that may be to most desis. Airports and sites such as these are so-called ‘gateways’ of a place that would ideally exude an up-market, ‘international’ look – never mind that non-English literates form a significant part of the market. Such places are the product of a certain imagination – that conceive places like air-ports not only as places where people catch air-planes but also where a certain kind of people should ideally be able to enter. It is also symptomatic of nationalist anxieties – of being ‘up to standard’ to the west, so that the occasional gora who steps in should not feel confused in the least. Some of us browns know English anyways and empathize deeply with that discomfort. For the rest of the brown, frankly, who cares? They walk about hesitantly in the mirror chamber of its alien interiors. There is an invisible wall and often thinly veiled disgust in the face of coconut (brown outside, white inside) desis. This invisible wall has an invisible sign hanging on it which says ‘Unwelcome’ or ‘Unfit to be the kind of Indian that South Bombay is proud of’. What am I talking about is not about airports, signage or English – the disease is deeper and more serious.

There is something deeply troubling about the nature of our imagination of the city, including the idea of urban citizenship, who is included in that imagination, who is not, who is the city for. And how ”we’ appear to the West captures an inordinately large part of those concerns. City elites are obsessed in proving that they are tropic-burnt brothers of goras – and they wish that the tropic-burnt others, whose land and labour pay for such obsessions, ideally should vanish. Given that this is not an ideal world, splendid use has been made of their control over the bureaucracy and policy circles, to make others vanish, if not from the city, but at least out of sight. It is a hard task to make a city of their wish – a city easy on their eyes – but they do try.

During the commonwealth games, that ill-fated coming-of-age ritual of a diseased and demented nation-state with ‘super-power’ fantasies, its capital city was ‘beautified’. Among other things, it involved ‘garib hatao’. Thus the urban poor were kicked out and judicial officers moved around in police vans to sentence beggars. The normally slow judiciary knows where its priorities lie. If that were not enough, large sheets have been put up in many areas of Delhi, especially near bridges, to block out ‘unsightly’ (read poor people’s) areas so that the upwardly mobile residents and visitors can enjoy a virtual-reality show on its roads. The soul of this wall is made out of the same material that the invisible wall of the airport is made up of. The T3 airport terminal does not allow legally licensed auto-rickshaws to come near it lest phoren visitors have a ‘good impression’. In Kolkata, bicycles have been banned from plying in most of its main streets. Hand-pulled rickshaws are being pushed out.They say it is ‘inhuman’ and heart-wrenching, as if loss of employment is heart-warming.  Beyond the Indian Union, residents of Baridhara, one of the elite areas of Dhaka, have banned cycle-rikshaw-wallas who were the lungi. Shame about one’s people and feeling alienated from one’s broader environ is a nasty disease that afflicts whole of the subcontinent.

The dream of being counted as a part of the global cosmopolitan class has led to the blatant exclusion of people from public spaces who do not ‘fit the bill’. This forcible homogeneity of being ‘cool’ and ‘international’ finds its twin in the Hindi-ization of various subcontinental identities – in the name of being ‘traditional’ and ‘swadeshi’. Thus emerges the new desi – Bollywood loving, English speaking, having wholesome family fun eating McAloo Tikki. In many ways, the gated community, that pinnacle of contemporary desi urban aspirations, is a concrete form of this dystopic vision. It is safe inside, we are surrounded by people like us, we talk in English and Hindi and cheer for European football leagues There is a word that sums of all this that may sound quite bitter and might hurt those with ‘liberal’ and ‘inclusive’ sensibilities. It is called apartheid.

Leave a comment

Filed under Class, Elite, India, Kolkata, Language, Our underbellies, The perfumed ones, Under the skin, Urbanity

Bad moon rising / A dangerous connivance /

[ The Hindu, 6 Apr 2013 ; The Friday Times (Lahore), April 19-25, 2013 – Vol. XXV, No. 10 ; Kashmir Monitor, 25 Apr 2013 ; Himalayan Mirror (Gangtok), 12 Apr 2013 ; Himalayan Mail (Jammu), 7 Apr 2013; South Asia Citizen’s Web, 23 Apr 2013 ]

Many in West Bengal are looking to the Shahbag protests in Dhaka with a lot of hope and solidarity – as an important and necessary step that would usher in a rollback of the creeping communalism that has afflicted the People’s Republic of Bangladesh since 1975. 1971 is still fresh in the mind of many Bengalees from the West, when a massive relief and solidarity effort was under taken on that side of the border to reach out to a large mass of humanity trying to escape a situation that has been described variously – from ‘civil war’ to ‘genocide’. The then leaders of the Jamaat-e-Islami in East Bengal and its students wing organized murder and rape squads, at times in collaboration with the armed forces. The specific crimes include mass-murder, rape as a weapon of war, arson and forced conversions. They escaped prosecution due to the by generals who used them to cast an Islamic veneer of legitimacy over their illegal capture of power. They were gradually rehabilitated until the present Awami League led government came to power – whose manifesto among other things, promised the trial of war criminals. Thus started the proceedings against them in the War Crimes tribunal. The Shahbag protests have demanded maximum punishment for the guilty.

In West Bengal, a few meetings and assemblies have happened around Shahbag. However, to the shock and dismay of many, the largest of these assemblies was a massive rally held in central Kolkata’s Shahid Minar on 30th March, explicitly against the Shahbag protests and in support of the war criminals convicted by the tribunal. Various Muslim groups including the All India Milli Council, All Bengal Minority Youth Federation, West Bengal Sunnat Al Jamat Committee, Association of Protection of Civil Rights, Milli Ittehad Parishad, West Bengal Madrasa Students Union, Ashikane Rasul Committee, All India Minority Association, All Bengla Muslim Think Tank, All India Muslim Majlish E Mushawarat, Aminia Jamiat E Muttakin Committee, Ulama Parishad, Magribi Bangla Anzumane Wayejin, Bangiya Imama Parishad and All Bengal Imam Muazzin Assiciation convened the meeting. People had also arrived in buses and trucks from distant districts of West Bengal like Murshidabad and Nadia, in additional to those from the adjoining districts of North and South 24 Parganas, Haora and Hooghly, among others. Students of madrassas and the newly minted Aliah Madrassa University were conspicuous at the gathering.

They rallied because ‘Islam is in danger’ in Bangladesh. Never mind that that post-1947, that part of the world through all its forms ( East Bengal, East Pakistan, People’s Republic of Bangladesh) has seen a continuous drop in the population percentage of religious minorities, in every census since 1951.This rallying cry is not new. It was heard in 1952 when the mother language movement of was in full swing, in 1954 when the United Front led by Fazlul Haq and Maulana Bhashani challenged the Muslim League, in 1969 when the Awami League made its 6 demands and in 1971 when Bengalees fought for independence and now in the context of Shahbag in 2013 – basically during every secular movement for rights and justice. One of the main accused in the war-crimes trial, Golam Aazam (also the leader of the Jamaat in East Pakistan in 1971), had used this old trick in the hat when he has stated in 1971 “the supporters of the so-called Bangladesh Movement are the enemies of Islam, Pakistan, and Muslims”. Replace ‘Bangladesh’ with ‘Shahbag’ and ‘Pakistan’ with ‘Bangladesh’ and you have the same logic. Terming the struggle in Bangladesh to be one between Islam and Shaitan (Satan), it was announced at the meeting that they would cleanse West Bengal of those who were trying to support the present Prime-minister of Bangladesh and the war-crime trial effort. It was also threatened that those political forces that support Shahbag would ‘beaten with broom-sticks’ if they came to ask for votes from Muslims. Just like Taslima Nasreen and Salman Rushdie, Sheikh Hasina will also be kept out of Kolkata – they added. They also supported the anti-Shahbag ‘movement’ in Bangladesh. The last assertion is especially worrisome as this anti-Shahbag movement has let loose its fury on the religious minorities of Bangladesh. This has resulted in a wave of violent attacks on Hindus, Buddhists and secular individuals, with wanton burning and destruction of Hindu and Buddhist homes, businesses and places of worship. Amnesty International communiqué mentioned attacks on over 40 Hindu temples as of 6th March. The number is over 100 now and still rising.

Given the recent trends of politics in West Bengal, this large gathering and its pronouncements are not shocking. The writing has been in the wall for a while. A collapse in the Muslim vote of the Left Front is an important factor in its recent demise after more than three decades of uninterrupted rule. Various Muslim divines like Twaha Siddiqui of Furfura Sharif, have explicitly pointed that out as a point of threat to the present government. The Trinamool Congress wants to ensure a continued slice of this vote. The present government has tried to hand out sops to build a class of Muslim ‘community leaders’ who eat of its hand by its unprecedented move to giving monthly stipends to imams and muezzins. Very recently, it has been decided that such a cash scheme might be worked out for Muslim widows too. Given that it is beyond the ability of the debt-ridden, vision-poor government to solve the problems that are common to the poor, it has cynically chosen to woo a section of the marginalized on the basis of religion using handouts. These are excellent as speech-making points masquerading as empathy and social justice. This is dangerous politics to say the least. It sets into motion currents and gives fillip to forces whose trajectories are beyond the control of the present political groups. The Left Front’s political fortune has not improved after its humiliating defeat. It has cynically chosen not too oppose this communal turn to West Bengal’s politics, for it too, believes that silently waiting for the incumbent to falter is a better roadmap to power. The damage that is doing to the political culture of the state in immense and may well be irreparable. The incumbent’s connivance and the opposition’s silence are largely due to decades of erosion in the culture of democratic political contestation through grassroots organizing. Both the incumbent and the oppostition parties deal with West Bengal’s sizeable minority population primarily via intermediaries, often doing away with any pretense of political ideology while indulging in such transactions.

For their part, organizations owing allegiance to a particular brand of political Islam ala Moududi, have used this disconnect to the hilt. An emerging bloc of divines and ex-student leaders of certain organizations have used the students that they can amass at short notice to launch specific protests, aimed in getting a leverage in terms of policy. Sadly, this blackmailing is hardly aimed at uplifting the living standards of West Bengal Muslims in this world. Rather, its string of victories started with successfully driving out the famous persecuted humanist writer Taslima Nasreen during the Left Front regime. The most recent example was the governmental pressure that was exerted on their direction to keep Salman Rushdie out of a proposed event in Kolkata, after he successfully did such events in Bangalore, New Delhi and Mumbai. This slowly pushing of the envelope fits into a sequence of events that are increasingly stifling the freedom of expression. At the same time, its double-standards are explicit. On March 21st, a medium-sized group consisting of little-magazine publishers, human rights workers, theatre artists, womens’ organizations and peace activists had announced that they would march in solidarity with the Shahbag protests and express their support to the Bangladesh government’s war crimes trial initiative by marching to the deputy high-commission of Bangladesh. Even after prior intimation, the rally was not allowed to move by the police due to ‘orders’ and some of the marchers were detained. The same police provided security cover to pro-Jamaat-e-Islami organizations as they conducted a rally submitted a month earlier and again later when they submitted a memorandum to the same deputy high commission demanding acquittal of convicted war criminals. Last year, it issued a circular to public libraries to stock a sectarian daily even before its first issue had been published! The role of the state is explicit in these actions – it possibly thinks that it can play this game of brinksmanship with finesse. The flight of cultural capital from the self-styled cultural capital of India is but a natural corollary of such unholy alliances with the political class playing tactical spectators and tactical facilitators to apologists for one the largest mass-murders in the last century .

The recent bye-election to Jangipur, a Muslim majority constituency carried certain signals. Prompted by the elevation of Mr.Mukherjee to Presidency, this election saw the combined vote of the 2 main parties fall from 95% in 2009 to 78% in 2012. The major beneficiaries were the Welfare Party of India, a thinly veiled front organization of the Jamaat-e-Islami Hind and the Social Democratic Party of India, an even more radical group of a similar ilk. Such groups are armed with a programme of ‘tactical pluralism’, quite akin to the tactical defence of Taslima’s freedom of speech by majoritarian communal political forces in the Indian union. The rallying against Shahbag has blown the cover of faux pluralism. There was another significant beneficiary and predictable in the same election, the BJP. Communal tension has been on the rise in recent years – there has been serious disturbance by West Bengal standards in Deganga and Noliakhali. The majoritarian forces smell a subterranean polarization of the polity. Mouthing banalities about Bengal’s ‘intrinsically’ plural culture is quite useless – culture is a living entity, that is always in flux, created and recreated every moment. It is being recreated by the victimization discourse by fringe groups like Hindu Samhati. It is being recreated in certain religious congregations in parts of West Bengal of Aila where unalloyed poison produced by divines like Tarek Monawar Hossain from Bangladesh is played on loud-speakers. Thanks to technology, such vitriol produced in a milieu of free-style majoritarian muscle flexing in Bangladesh easily finds its way to a place where the demographic realities are different. Hence the popularity and consequent defence of one of the convicted war criminals, Delwar Hossain Sayedee, who in his post-71 avatar had become something of a superstar in the Bengali waz-mahfil (Islamic religious discourse congregation) circuit. What are the effects of the subterranean cultural exchange of this kind? The rally is a partial clue. A defence of Sayedee and claiming him to be innocent, as was repeatedly done in that rally, is like perpetrating Holocaust-denialism.

Just a day after the anti-Shahbag rally in Kolkata, almost as a divine reminder of starker realities beyond the defense of Islam, nearly 45 lakh unemployed youth, Hindus and Muslims, sat for the appointment as primary school teachers recruitment examination for 35000 empty posts. Roughly 1 in 128 will succeed. There is no employment exchange worth its name, including the ‘minority’ employment exchange set up by the incumbents, which would absorb the unsuccessful 44 lakh. West Bengal is one of the few states that have petitioned for a relaxation of the minimum qualifications for primary school teachers in the Sarva Shiksha Abhijan scheme, as stated in the Right of Children to Free and Compulsory Education Act of 2009. There is a rot at the base with every community affected. It has been long in the making. The promotion of religious education is hardly the way to empowerment and livelihood generation for minorities, especially in a state where they have been grossly under-represented in the all white-collar services. There are no short cut solutions to this.

Majority and minority communalism in West Bengal, though not generally overt, can be found easily by scratching the surface. A combination of circumstances can awaken it. Will more such circumstances arise, or will more responsible politics prevent a potential communal unraveling of West Bengal? Bengal’s past experience with communal politics is distinctly bitter, both in the west and the east.  The west lives with half-sleeping demons. In the east, the demons never really slept, and have been in and out of power.



Leave a comment

Filed under Bengal, Community, Democracy, Dhaka, History, Identity, Kolkata, Language, Pakistan, Polity, Religion, Scars

The heavenly duties of stones in our punyabhumi / Just the nature of my game / The life of stones

[ Daily News and Analysis, 16 Apr 2013;  Kashmir Reader, 20 Apr 2013 ]

Police forces in many areas of the Indian Union engage people in their area of activities by organizing football tournaments. By some heavenly design, these incidents almost always make it to the media, in a subcontinent where police atrocities find it hard to get reported. A smiling lion of a man handing a cup to some sweat-soaked youths. In other nations where police atrocities happen less frequently, police organize fewer football tournaments.

The recent months have seen passionate championing of the right of women not to be raped. The Justice Verma commission set up in the aftermath of the Delhi rape and murder incident invited responses from the public. It received many inputs from many quarters on their own. Not a single Director General of Police responded to the notices of the commission. They were probably busy giving away prizes at football tournaments. Image building exercises become important when exercises  to protect the rights of common people fail. But I am dirty-minded enough to suspect that there is more to this ‘failing’. I will simply ask the question – which domestic organization, in the business of providing monthly salaries and occasional bravery medals,  happens to employ the largest number of alleged rapists and serial abusers? Hint – such lions also fight against social vices by extracting money from sex-workers of all genders after raping them. Given that the ‘rule of law’ comes down hard when certain lines are crossed, I will not answer the question. Are you thinking what I am thinking?

This punyabhumi is choc-a-bloc full of men and women whose sensitivities are often bruised by the non-desi concept of a  sexual woman – in skin, in paint, on screen, in public. Stones have often been the weapon of choice against this anti-national evil. Where do these stones go after national duty like attacking artists is done? Since every inch of the land is punyabhumi, no wonder the stones also carry that near-heavenly quality. The national fervour that is deeply embedded in each and every such piece of stone does not decay like its slightly less masculine cousin of radioactivity. The stones simply march forward to Chhattisgarh to continue their holy duty.

Some of the stones made their way into the vagina and the rectum of one Soni Sori, held by Chhattisgarh police for 8 cases. In spite of the stones that were inserted deep in her vagina and rectum, the police could not prove the charges in 4 out of 8 cases. The other 4 are going on. The patriotic stones might have continued to torment an adibashi woman like Soni Sori unless her medical examination was shifted out of Chhattisgarh to less godly Kolkata. Soni Sori has also alleged that she has been repeatedly raped. But some of the prime witnesses, the patriotic stones, have been removed by the Kolkata doctors. Acharya Jagadish Chandra Bose of Kolkata, in his later years, started finding ‘the living response’ in many inorganic matters, including rocks. Nothing short of the expertise of that departed soul can help make sense of the testimony of the stones. Till such time, Soni Sori’s rape will remain ‘alleged’.

The charges against Soni Sori that were proven false in court included very specific things like opening fire and using explosives to blast the vehicles of Essar steel, attacking the police at Kirandul and blowing up a police station. If the state were a person that imagined such crimes from thin air, concerns about mental health would arise. If the state deliberately made up these cases, then it is sociopathic.The state, after failing to prove charges against Soni Sori ( incidentally, a  school-teacher), has started an enquiry to ascertain whether she should be sent to the mental asylum in Agra.

Lets concentrate on the football tournament instead. SP saheb has already arrived for the prize distribution ceremony. I think we should all stand up, clap and smile  because our culture teaches us that we should be respectful to elders, especially those who win gallantry medals. Brown women need  not fear – too many lions of Bharatmata are protecting them in every street.

1 Comment

Filed under Army / police, Class, Kolkata, Our underbellies, Power, Rights, Terror, Under the skin

Chavez – a subcontinental remembrance

[ Daily News and Analysis, 7 Mar 2013 ; Kashmir Reader, 11 Mar 2013]

I never met the just-deceased leader of the neo-Bolivarian movement of Venezuela, Hugo Chavez, in person. However, living in this subcontinent, somewhat fortuitously, I have seen him in various forms. What does his death mean to the subcontinent? Did he mean anything to us when he was alive? I have a couple of personal snapshots to offer. It can be considered a tribute.

When I say that I have never met Hugo Chavez, it is only half true. I had seen him up on the stage at a mass-rally in Kolkata in 2005. At that point, I was in Medical College, Kolkata and a member of an independent students association, which was regularly threatened and sometimes physically beaten by members of the ‘Party’s’ student wing. Rakesh, a class-mate of mine and now a humanitarian doctor at the Shramajibi Hospital in the Sundarbans, and I saw the posters in the city that the ‘Party’ was organizing a mass rally at the Lake Stadium and Chavez would speak. At that time, the coup that had briefly deposed him and his valiant and popular return had gained wide currency in our minds. We did not have too much access to the Internet and online videos never smoothly streamed anyways. But what we had seen and heard, from here and there, had made us realize that this would be an opportunity of a lifetime. A ‘red’ leader whose action, mannerism and style was in such contrast to the Dodos that walked about in Kolkata neighbourhoods back then – this was reason enough for us to go to his rally that evening.

I must confess that we were rather scared. Rakesh had been repeatedly threatened and assaulted by the ‘Party’ and I was a known face too. And here we were, among thousands of the Party faithful. We hoped nobody recognized us – realistically the chances were slim. Half-jokingly, half-nervously, I whispered to Rakesh that in this 10000 (or more) versus 2 scenario, we could be vanished without trace.

The event was nominally organized the government. But the ‘Party’s top brass was in full attendance – some on stage and some very near it. Events like these were a strange version of universalism that only Kolkata used to experience. Once, the city was also treated to an event where Che Guevara’s daughter had come visiting. Around the time of these events, the public posturing of the ‘Party’ and the tone of the columns in the ‘Party’ daily used to be such as if the dhoti-clad were very uncomfortable in their air-conditioned offices, and were itching to hit the trenches. The last installment of this periodic farce was when Maradona came to Kolkata.

And then Chavez spoke. There was an interpreter who translated his Spanish to Bangla realtime. That poor soul drew angry jeers from the ‘Party’ faithful when he said ‘Karlos Markos’ – a name Hugo Chavez had just mentioned in that form. And I perked my ears up. Over the cacophony of the mujahideen disgusted at the Holy Name being taken in a non-divine Spanish ( and not divine English, but not German, mind you), a different Hugo emerged to us. The person on stage had been engaging with Karl Marx, on his own terms, with a confidence that comes from being deeply embedded in one’s cultural ethos. Rakesh and I were won.

There were layers upon layers of irony that evening. In the Panchayat Elections held less than two years earlier, as many as 5030 Gram Panchayat seats were won ‘unopposed’ by the same party that was hosting the character who had unleashed the most democratic regime that part of the world had seen in recent times – even facing a recall election. At some point in his speech, Chavez mentioned Gandhi (I don’t remember whether it was the Father or the Mother). The crowd fell silent – evidently, Hugo had not been briefed about the time and place. Rakesh and I, dirty-minded as we were, deliberately chose to clap hard at that moment, amongst angry looks of people around us. Looking back, I feel, that bit of bravado was not worth the potential risk.

When he left the stadium, he stuck out his torso the car-window, waving spiritedly. For a moment, he waved directly at us, or so I thought. A day later, there was a picture of him in the ‘Party’ daily from one of the ‘agricultural progress’ tours they must have organized. He smilingly held a giant-sized pumpkin on top of his head – with the dhoti-wallas around him not sure how to react. That moment, from the unlikely vantage of a still-photo in a Party daily, he spoke directly to irreverents like us. Such was Hugo.

And then, 8 years later, I saw ‘Hugo’ again, in Shahbag, Dhaka. He was about 25, wore a similar beret cap, and was leading the sloganeering. I saw a few others in Shahbag, sporting the ‘Hugo’ look. Surely Hugo was more alive in the East, beyond the clutches of the dodos of the West.

On Hugo’s death, my friend Aiyan Bhutta of Lahore, improvised an old Pakistan People’s Party slogan that had originally been coined after the hanging of Zulfikar Ali Bhutto. ‘Har ghar se Hugo nikleyga tum kitnay Hugo maaro gai’. ( From every home a Hugo will emerge, how many Hugo’s will you kill?). I remembered the 25-year old Bengali at Shahbag. Indeed. Tum kitnay Hugo maaro gai. Har ghar se Hugo nikleyga.

Leave a comment

Filed under Americas, Bengal, Democracy, Kolkata, Obituary, Power

The Great veil / A pecking order falls / The veil of civilisation and Hurricane Sandy / The veil of civilization / After Hurricane Sandy blew the veil

[ The Friday Times (Lahore) December 14-20, 2012 – Vol. XXIV, No. 20 ; Down to Earth, 15 Dec 2012 ; Frontier (web), 7 Dec 2012 ; Echo of India, 13 Dec 2012 ; Millenium Post, 7 Dec 2012 ; The Social Science Collective, 9 Jan 2012 ]

“ Ashole keu boro hoy na

Boror moto dekhaye.

Ashole ar nokole take boror moto dekhaye.

Gachher kachhe giye dnarao

Dekhbe koto chhoto.“

–       Shakti Chattopadhyay (poet from Bengal)


Nobody is actually big,

They just appear so.

With the real and the unreal, they appear big.

Go stand near the tree

You will see the small-ness.

We live in a world filled with theories of human nature, or more correctly, theories of human nature that explain differences between people. Such theories have a wide ranging currency and explain differences between people in things as varied as poverty, labour efficiency, honesty, graciousness, violence (or lack thereof), scientific progress, cleanliness of streets, alcoholism, sexual prowess and what not. The power of these theories are in that they set the agenda, around which we create our perceptions of ourselves and others, our assessment of the present, our hopes for the future, our aspiration and desires. This is why it is important we take such ‘human nature’ theories seriously and critically, for they define our present and limit our future.

The cold-blooded violence of the Taliban, the ‘simplicity’ of Chhattisgarh adivasis, the mathematical ability of Tamil Brahmins, the ability of German companies to build precision instruments, the courteousness (‘How are you doing?’) of a white bus driver in Boston, the ‘sense of justice’ of the British, the ‘spirit of entrepreneurship’ of immigrant Europeans in North America, the dapper look of a New York police officer, the sense of duty, discipline and punctuality that is apparently absent among brown folks – this long list is only a small set of qualities that are attributed to the intrinsic nature of a group of people. The Pashtun are prone to gratuitous violence ‘by nature’. The other examples I cite also have this quality of being explained by the nature of the people, an ethnic-quality, so to say, that specially marks them out, for good or for bad. This way of explaining away differences between people not only obfuscate strands of commonality between them, but also work against initiatives of transformation of societies from within (Pashtun women cannot ‘save’ themselves and Pashtun men cannot have any role in such an initiative). Such ideas also make us permanent prisoners of an inferiority complex (lazy, dishonest, unclean brown men) – piecemeal personal liberation coming through some kind of an internal theorizing that one is among the very few with the ‘wrong’ skin but the ‘right’ nature. Our world has this organization, this ‘civilizational’ pecking order of sorts, which manages to encroach upon our innermost subjectivities, deeply colouring our attitudes and aspirations. It even warps our sense of aesthetics, so much so that we cannot even make ourselves dislike what we may know to be bad. For example, my modern urban aesthetic can only imagine beauty in concrete while I know that paving the ground makes rain-water run off, causing water tables to drop. The alternatives, soil, dust, clay, have lost all aesthetic appeal, irrespective of my public posturing. This crisis has multiple far-reaching implications – environmental effects are only one of them.

It is not easy to see the world bare naked, without the ideological veil of the civilizational pecking order, especially when it has been naturalized. Rare are the moments when the veil is lifted. It is the witnessing of such rare moments that helps one unlearn, cleanse oneself off handed-down ideologies and breathe easy. And here comes the story of the hurricane. For Nature in itself (not our perception of nature) has not been brainwashed.

Because it has not been brainwashed, it can be irreverent, indiscriminate. It can lash Haiti’s coastline and lower Manhattan in similar ways and in one stroke can be the great equalizer when dehumanized Haitians and refined New Yorkers, the ‘animal’ and the ‘ideal’ both are frightened and shiver. Rare are these moments when layer upon layer of ideology, constructed over centuries, can be briefly peeled back to show what is generally concealed by the apparent disparities between the garbage-scavenger of Mumbai and the iphone-totting yuppie New Yorker. The approaching Hurricane Sandy caused panic. People tried to stock up on water and food. There were fistfights to buy water. There was no queue. There was no ‘discipline’. There was no ‘West’. There is no ‘West’ without surplus – the genie that bankrolls the breathing space between mere survival and the life of consumer dignity.

A friend from New Jersey called. There was no electricity. ‘Whats the correct way to wash my clothes without the machine – you are from India, you know right? Alas, I am from elite Kolkata, but I knew by seeing. Put water, put clothes, put soap. He said ‘ and then spin by hand?’ He wanted to mimic the machine. With the power gone, the powerlessness showed. Notions of differential ‘progress’ due to difference in ‘intrinsic’ nature felt dubious, the arrows pointing to paradise momentarily did not all point in the same direction. Rare are these moments when the inclined plane of progress, where difference in ethnic location becomes difference in ‘developmental’ time, caves in near the peak. It self-corrects fast. Electricity will be restored. But in the intervening darkness, if you remember what you fleetingly saw, you will never believe again.

To be able to look at your belief-system being battered by a hurricane is not easy. It is not easy to see unclean public lavatories that you thought you had left behind in the tropics. Just one day of a Hurricane blessed holiday of the underclass janitors is enough to create a stench that one has learned to associate with some and not with some.  In the gullet of Manhattan, from where the Empire State Building cannot be seen, pecking orders briefly collapse. They collapse without Hurricanes too, on a daily basis, between the rounds that the janitor makes, in the obnoxious splatters in lavatories of Michelin starred restaurants, in the toilets left unflushed in the most exclusive of hotels. The anonymity of the restroom latch lets out a ‘West’ that is more like something we associate with our skin that we have learned to hate. To take away a single-minded aspiration, from those who are otherwise alienated from all other aspirational trajectories, can be destabilizing. The frequent restroom cleaning keeps the ideological veneer on, for us to aspire and be awed. Cleanliness is next to godliness. Surplus makes near-godliness achievable in this earth. For a significant part of the year I live in a locality of Kolkata. This is also where I grew up – a distinctly ‘down-market’ area called Chetla. People often wear lungis on streets and near the rail-bridge, there are lumps of human excreta on the roadside every morning. As I stroll down the manicured streets of Boston, a dirty thought emerges. If the surplus were to evaporate, would the sauve Bostonian come to resemble my people from Chetla? How would the sidewalks of Massachusetts Avenue look, early in the morning then? Would the air still be filled with the nauseatingly the high number of ‘Thank you’s’ , ‘Sorry’s ‘and  ‘Excuse me’s’ I say and hear every day? Would this veneer of gracefulness, thankfulness, personal space, yoga retreats and wine-tastings still mesmerize? What does it take to lift the veil? The ease of unraveling might hold better clues to our commonalities and differences than ideologies of progress and development.

Barbarians say that surplus is the stake that holds the veil to the ground. The stake is deeply embedded – it has taken centuries to ram in thousands of them. They are only getting deeper. Hurricanes can only pull out a couple of them, that too very briefly. The stakes have slave labour, usurped lands and colonial extraction written all over them. Reparations can send the veil flying off.

Meanwhile in other parts of global urbania that are playing catch-up, elaborate mechanisms of creating lavatories and frequently cleaning them are being finalized. However they do not have the advantage of acquiring shipfuls of humans from Senegal. Their dreams of creating a ‘world-class’ Delhi need more than a few fingers of Katam Suresh of Gompad, Chattisgarh. One needs many Chhattisgarhs, millions of fingers to adorn the necks of lakhs of unreformed ‘Angulimalas’. To ‘naturally’ fit in to the class of connoisseurs of ‘Belgian’ chocolate, one needs to be better than King Leopold. King Leopold of Belgium. Google him. Léopold Louis Philippe Marie Victor. Even their names sound better between hurricanes.

“ Ashole tumi khudro chhoto,

Fuler moto bagane foto.

Birohe jodi dnariye othho

Bhuter moto dekhaye.

Ashole keu boro hoy na

Boror moto dekhaye.”

Translation :

Actually you are small, tiny,

Blooming like a flower in the garden.

If you stand up in sadness

You look like a ghost.

Nobody is actually big,

They just appear so.

Leave a comment

Filed under Americas, Class, Environment, Knowledge, Kolkata, Non-barbarians, Power, Scars, Under the skin

Eternal ‘outsiders’ – Marwaris of Kolkata / KaliKatha via Bypass

[ HardNews, Nov 2012 ]

Salt Lake City, a satellite township located east of Kolkata, was developed from 1958-1965, largely during the regime of Bidhan Chandra Roy, West Bengal’s longest serving Congressite chief minister. ‘Reclaimed’ by destroying wetlands and a rich pisciculture zone comprising of large salt-water lakes, the land-filled erstwhile marshes came to be known as Bidhannagar. The area was then parsed into sectors, plotted and allotted largely to Bengali service and professional classes, except for occasional lollies to various loyalists of the ruling parties, through the decades, till such plots lasted. These were not sold as free-hold plots but were given on lease. There had been no provision of lease-transfer, so complicated procedures were devised by the ‘leasees’ so that ‘selling’ could happen – primarily by naming the buyer as the legal inheritor of the plot. Money changed hands as usual, just that the government did not get a piece of this extra-legal action. It was losing a lot of potential revenue as Bidhannagar has emerged as an elite residential hub. This year, it has been decided that the government would make legal provisions for lease-transfer and collect revenue from these transactions.

The recent outpouring of concern around legalizing lease-transfers of property in Salt Lake City, is a potent cocktail of entrenched prejudice and false victimhood concocted and vouched for by a sizeable section of the Bengali urban middle class. It is being said quite openly that the original intention behind sealing up ecologically irreplaceable wetlands and turning them into residential plots was to enable members of the Bengali middle class to make their homes. Not going into the patently classist and racist connotation that gives to a public project like Bidhannagar, one thing is clear. Even if many Bengalis in Salt Lake City do transfer their leases to non-Bengalis (read Marwaris), we will see quite a few Bengali crorepatis emerging in the process. Neither will these Bengalis transfer lease under the kind of coercion many of their peasant brethren have faced over the last few years. In short, these would-be crorepati Bengalis are neither victims nor middle-class. Some will park their cash in Rajarhat, a new real-estate boomtown created during the previous regime largely by forcibly acquiring land from Bengali peasants, adding an ironic twist to this evicted Bengali victim story. What emerges from this is that the villainous Marwari is alive and well in many urban Bengali minds.

I know this mind well, for I too possessed it at one point. I daresay, like many Kolkata-bred Bengali children, I too grew up with a dangerous concoction of socially replicated prejudice and received wisdom. Utterly false binaries were created and perpetuated – the wily, slimy Marwari poaches upon the unsuspecting, honest Bengali so that our tragic hero loses his ancestral home, his financial status and advantageous social status vis-à-vis the baniya. The victimhood fiction masquerades as a definitive answer to a variety of questions – the decline of Bengali culture to the changing demographic compositions of certain Kolkata localities. 1943 famine is a key year in this narrative when many Marwaris who ran a significant portion of the disgraceful wartime grain-speculation racket did hoard food grains. While that is condemnable, the vicious racist edge to that is problematic. The middle class Bengalis do not harbour any visceral hate against the subinfeudatory (madhyasattwobhogi) class from which many of them come, which for decades slowly extracted the life blood out of the Bengali peasantry. While the Calcutta Marwari lobby is partly blamed (and rightly so) for scuttling the 1947 United Bengal scheme of Sarat Bose and Suhrawardy, and consequently for the partition of Bengal, the other staunch Bengali opposers of the scheme like the Congress High Command darling Bidhan Chandra Roy have gone on to become unblemished cult figures. To try to explain all misfortune by invoking ‘external conspiracies’ is a lazy route to absolve oneself of blame – a comfortable but ultimately self-destructive position.

There seems to exist a small but fashionable cottage industry that simultaneously laments the disappearing cosmopolitanism of Kolkata by documenting the present and past of its resident Armenian, Jewish and Chinese populations among others. Given that, it is also the right time to change the narrative about the Marwaris – a more numerous group that is constitutive of the famed Kolkata cosmopolitanism, or the shreds of it that remain.

The Marwaris have been part of the Bengal landscape from pre-British times. They were a conspicuous part of the entrepreneurial and industrial initiatives that was partly responsible in once making Kolkata the ‘greatest city between Aden and Singapore’. The philanthropic initiatives in Kolkata by the Marwari business houses are second to none. The dismal condition of the state’s apex health facility, the SSKM hospital does not do justice to its large Marwari benefactor Seth Sukhlal Karnani, who was also instrumental in bringing a precocious virtuoso from Kasur (near Lahore) to Kolkata, giving the world Lata Mangeshkar’s early idol, Noorjahan. Walk over to the Sambhunath Pandit Street and you will be standing in front of the only specialized Neurology institute in West Bengal, the Bangur Institute of Neurology. The Marwari House of Bangurs were also the donors behind setting up the Bangur Hospital near Tollygunge. Successive state governments could only manage to turn these great institutions of public good into dismal caricatures of their earlier selves. This closely parallels our best attempt at caricaturing Marwaris, by portraying them in films as slimy creatures who speak bad Bengali. Few of these Bengalis, including those who serve at the Bangur Institute of Neurology or who live in Bangur Avenue, know how to pronounce the name of the benefactor properly (‘Bangar’ and not ‘Bangoor’). The Marwari Hospital in North Kolkata is in shambles but does show the philanthropic imprint of this community on the city, especially on the public healthcare infrastructure.  That the Bengali ‘prince’ Dwarakanath Tagore (Rabindranath’s grandfather) was financed in his indigo ventures by Marwari trade houses of Sevaram Ramrikh Das and Tarachand Ghanshyam Das is conveniently forgotten.

When Bengali-origin people like Jhumpa Lahiri and Jaya Bhaduri, who were neither born in Bengal nor grew up here, achieve fame, we quickly feel proud to claim them as our own. Few Bengalis proudly own up in the same way people like Jagmohan Dalmiya and Bimal Jalan who were born and brought up in the city .For stalwarts like Lakshmipat Singhania and GD Birla, who made Kolkata their karmabhumi, this same sense of ‘owning’ is largely absent even though we do celebrate past Bengali entrepreneurs like Biren Mukherjee and even the semi-mythical Chad Showdagor! At a time when chit funds represent the pinnacle of Bengal based entrepreneurial skills, we forget the houses of Goenka, Birla, Oswal, Jalan, Dalmia and many others started their journey from this city. The community even got its ‘Marwari’ name from this city, a name that has become a self-identity tag. A friend of mine, from the Marwari Somani family of Kolkata, a PhD scholar in Economics at Harvard, found his match in a Kolkata Marwari family girl. This alliance between Kolkata Marwaris is very common and there is much more than locational convenience at play. There is a lot Kolkata about Kolkata Marwaris – something Bengalis find it hard to acknowledge, treating them as eternal outsiders.

At a time when subinfeudation was gasping for life, many literate middle class Bengalis landed in Burma for better opportunities. In part, Marwari trade networks in South-East Asia helped these Bengalis gain employment and remit money from Burma, the ‘Dubai’ of those days, back home to Bengal. Bengalis have arrived from the hinterland to Kolkata in batches. Some of these Johnny-come-latelys, with hardly a 50 year relationship with the city, still manage to lay a greater claim to Kolkata, of being more authentic ‘Calcatians’ vis-a-vis Marwaris. They also have arrogance of looking upon the Marwaris, who have century old residential connections with the city, as interlopers and outsiders.

Cosmopolitanism is better lived than remembered. Bengalis, whose lungi carry an unmistakably Burmese-Arakan influence, whose ‘authentic’ Malai-curry is derived from the Malay peninsula, ought to know better. An insular mediocre middle-class bengalism is surely no way to show love for Bengal.


Filed under Bengal, Community, History, Kolkata, Our underbellies

A failure of imagination / A moment of Bengali glory?

[ Hindustan Times, 15 Oct 2012 ]

Sometimes moments of apparent glory also underline deeper failures. But very often the big hurrah is the last hurrah. Let me come to the point. For the first time in the post-partition Indian Union, two of the highest constitutional posts, that of the president and the chief justice of the supreme court, have Bengalee occupants. Altamas Kabir, the incumbent chief justice, is a Muslim from Bengal, hailing from one of the most elite Muslim families of the Subcontinent. If your grand-father was awarded a badge of service and loyalty by the British – a  Rai Bahadur or a Khan-Bahadur, it still matters in inexplicable and indeterminate ways, in terms of who you are, where you are and where you can get to. That there is a Bengali chief justice after more than twenty years was not greeted with much enthusiasm in Paschimbanga. There are very few Bengali Muslims from Paschimbanga who rise to such levels. Many possibly did not know he was a Bengali.  Structural disparities also colour attitudes and expectations. Kabir babu was sworn in by Shri Mukherjee. However, none of the two Bengalis are in directly elected posts. Still, this unlikely moment of crowding at the apex comes at a time when Bengal’s shadow on the subcontinent is at its shortest.

However, that is nothing to lament. There are a few good reasons why West Bengal’s shadow over the rest of the Indian Union would not be a good thing, at this point. If it looks to the east, East Bengal (whose geo-political avatar is the People’s Republic of Bangladesh) now matches if not surpasses the West in numerous indices of human well-being. When they were separated during the 2nd partition of Bengal or in the aftermath of 1971, very few would have bet that indices would turn out to be this way. But there they are.

Institutions of West Bengal, which for a long time were peerless in the subcontinent if not beyond, now stand as ghostly reminders of their former selves. In the secondary education front, the ‘Bengal board’ is one which does not regularly update itself, having been reduced to a teeming cesspool of political appointees of the CPI(M). This is something that the Trinamool looks eager to replicate. As pan-Indian boards of education start getting undue advantage due to central government policies, this process of ‘Indianization’ has been happening together with de-‘Bengalizing’ – a process whose full impact will not be evident till it is too late, a process that takes a direct stab at the plural reality of the Subcontinent. In the name of uniformity and simplicity, Bengali language is being denied its position as a medium of public life , education and commerce, under the undemocratic patronage of Hindi, a language that has decimated language diversity in the cow-belt itself. In higher education, the debt ridden state continues to pay less to its academicians vis-à-vis the central institutions, thus causing a Bengali brain-drain of epic proportions. Mukherjee and Kabir, have reached the pinnacle, outside Bengal – a point that should not be lost on the readers. Third-rate central universities pay their academicians more than Presidency University or Calcutta University – institutions that produced the pedagogical foundations of contemporary formal academics for much of the Subcontinent. Autonomy of educational institutions is still a pipe-dream in West Bengal with excellence always losing out to servility to the government of the day – the most recent example being that of the upright Chinmoy Guha, the ex-vice chancellor of Rabindra Bharati University.

In matters of  health, it is the paradise of low-grade unaccountable private health-care mafia. Its institutions of pride like the Calcutta Medical College Hospital being places where only the very poor and the helpless would go. There is a lot of medical traffic from West Bengal to Maharashtra and Tamil Nadu, a trend unthinkable a few decades ago.

Cities and towns in West Bengal are more ‘Bengali’ than ever before, indicating a loss of employment and entrepreneurial opportunities for non-Bengali migrants from Hindustan and beyond that created a semblance of a cosmopolitan culture for more than a century on the two banks of Bhagirathi-Hooghly. A union centre that discriminates has not helped matters.

On the cultural-linguistic front, excellent Bilingualism thereby which people could interpret that world of Bengali and the world made available by English, is near extinction. Anglophone elites retain nominal Bengali-ness and those whose cultural world is embedded in Bengal increasingly find themselves second class citizens in a scenario where Hindi is the language of political power and English is the language of socio-economic ascendancy. Ashok Mitra and his likes who would at ease write beautifully in both are rare, thus resulting in a collective curtailment in intellectual and interpretative space. In this context one notes the fall in the genre of translation of contemporary world classics in Bengali.

In the political sphere, but for the specific numbers in the present Lok Sabha, Bengal’s general clout has been, for decades, disproportionately small in proportion to its population in the Indian Union. The easy parallelism between ultra-centrism and the Congress system is to blame, but the long rule by the CPI(M) that pawned Bengal’s interests by not claiming the requisite pound of flesh, so that it could engage in ‘doctrinaire’ inner-party posturing has certainly assisted that. West Bengal has been one of the few regions in the Indian Union where long-dispossessed caste groups are still far from power, let alone being an effective power-brokering block as such. For all its ‘progressiveness’, post-partition West Bengal has only been able to produce Mamatas and Buddhadebs, not Mayabatis and Karunanidhis. More than anything else, this democratic deficit seriously cripples West Bengal’s potentialities. Being ruled by middle class / upper-middle class forward castes, its primary concerns are also of those groups – why Bengali IT graduates work in Bangalore and so forth. Its cultural icons are also from that small group, thus resulting in state-sponsored cretinization of the myriad cultures that constitute Bengal.

The same week when two Bengalees ‘reached the top’, a Hindi-film actor eyeing a tax break from West Bengal for a private cricket team entity he ‘owns’ and operates, produced a ‘promotional video’ as the state’s ‘brand ambassador’. Banalities about ‘mishti doi’ aside, this failure of imagination is not accidental. This is the greatest sign of decline. West Bengal has lost the confidence to look inward for inspiration and when it looks outward, it only imports kitsch.

Leave a comment

Filed under Acedemia, Bengal, Caste, Culture, Delhi Durbar, Kolkata, Language

Opposition as sin : symptoms of a decaying federalism

[ Daily News and Analysis, 5 Oct 2012 ; Globeistan, 9 Oct 2012 ]

In the last millennium, Delhi could dismiss elected state governments at will. The yearning to do so still remains, but the once-sharp blades have become blunt. Commanding majorities are a thing of the past. Some deplore this lack of decisive punishment and call it the ‘fracturing’ of the polity.  It is also increased representativeness. Monotheists have never been at peace with the idea of robust polytheism. The post-partition Indian Union is no different.

But Delhi knows other ways to make worshippers of other gods submit or pay tribute to it. These ways, enshrined in the constitution and vigorously cemented by the servility of a whole generation of Congressite politicians to the High Command have to do largely with two things – lists and revenue. The lists of jurisdiction, which mark out what is Caesars’ and what is not his, and what he shares with others, have been one of the choicest methods by which the Delhi imperium has run roughshod over the diverse policy aspirations of different regions of the Subcontinent. Especially brash is the concurrent list where marks out that a province, say, Tamil Nadu, cannot make a law for Tamil Nadu that contravenes what Delhi has in mind for Tamil Nadu. The other big stick is of course the Union centre’s control over taxation, mineral resources and the stupendous amounts of revenue that come with it. From angrez to kangrez, the mastery over revenue collection from the provinces to keep them in a state of permanent dependence is an art that has been passed on like Dronacharya would pass it to Arjun. As a self-respecting person who has elected his/her provincial government, it is not easy to imagine a future with the Article 356 intact. But there it is. However, even in the absence of it, the Union centre is trying to punish provinces for policy pronouncements that are well within the ambit of provincial rights, however moth-eaten they may be.

This was in naked display when Anand Sharma, the Union cabinet Minister in charge of commerce and industry, a prominent jewel among the ones that Sanjay Gandhi, the peerless gem-master, chose. Before the Trinamool Congress parliamentary party walked out of the Union government, the Government of West Bengal was given to understand that the Global Partnership Summit 2013, a high profile investors meet organized jointly by the Confederation of Indian Industries (CII) and the Union Commerce ministry would be organized in Kolkata in winter. After the pullout, suave Commerce minister said “given the strident opposition and a hostile approach to FDI in general, it would not be appropriate to invite corporate leaders of the world and the global investors to Kolkata when the government is totally opposed to FDI.” The said summit, he said, would now take place in Agra. Apart from the politicking aspect of it, it is important to realize the deeply anti-democratic strands inherent in pronouncements of this kind and why this is not a matter of concern for Kolkata alone.

I will not visit the question of relative merits or demerits of FDI in multi-brand retail here. What is important is that in the last election manifesto of the Trinamool, its opposition to it was clearly mentioned. It is not opposed to FDI in general – the right honourable Mr.Sharma knew this even at the moment he was publicly stating otherwise to the press. The world beyond the New Delhi ‘Municipal’ corporation or the India International Centre is very different. The frightening thing is, Sharmaji knows it.

He announced that the new location of the event is Agra, a city in a province ruled by the Samajwadi Party that has assured that it will come to the rescue of the Union government when oxygen supply may be threatened. Importantly, the Samajwadi party is also opposed to FDI in multi-brand retail. In the 2012 Uttar Pradesh assembly elections, two each of the four seats in Agra were won by the BJP and the BSP, SP trailing third in terms of votes. Thus, the top 3 political parties in Agra and Uttar Pradesh have publicly opposed FDI in multi-brand retail. Agra seems to be a curious choice if local opposition to FDI in multi-brand retail is a consideration as Sharmaji suggested. Something does not add up.

If the Trinamool has ignored or even reversed in practice more than one promise it had made in the election manifesto, including political appointments of university administrators and denial, even criminalization, of the right of protest and free expression. It is clear that such hypocritical practice had also extended to FDI in multi-brand retail, no shifting of venue of the proposed meet would have occurred. Ironically, it has received a rap on its knuckle from Delhi for actually standing by its manifesto on this one. Sudhangshu Shekhar Roy, a Trinamool MP, reacted to this asking whether Bengal was a colony of Delhi. Although it is posturing, still words such as these underline the long dysfunctional federalism in the Indian Union.

This is not a matter of West Bengal alone. The constitution of the Indian Union does not mandate penalization of a constituent state, if the party leading the state government takes a certain position on a policy matter of the Union government. Such penalization is unconstitutional. It is the job of the state government to maintain law and order so that private and public life is not disrupted. The centre’s job is not to second-guess the law and order maintenance ability of a state. Using the hypothetical ruffling of sensibilities of corporate mandarins as a basis for retribution against a state government whose policies the centre does not like is Article 356 by other means. How can so-called ‘threat’ perceptions be used to counter rights of opinion as enshrined in the constitution? Is the centre then working on the basis of another, ‘higher’ constitution? Can pesky provincials have a look at it?

Leave a comment

Filed under Bengal, Delhi Durbar, Democracy, Federalism, India, Kolkata, Nation, Power

Green is the new farce in Kolkata

[ Echo of India : 30 June 2012 ; Globeistan ]

On June 30, Indian Union’s secretary for urban development Sudhir Krishna came to Kolkata for a holy purpose. The tram system of Kolkata that had been systematically decimated by the Left Front government was at the centre of his agenda. Krishna preached that the trams need to be ‘revived’, even expanded. Why so? Because it has dawned that trams are eco-friendly and major cities in the world are in a tram revival or acquisition spree. The browns need to play catch up. Hence the tram system in Kolkata needs to be revived, expanded and even initiated in other cities. Trams pollute much less than cars per person carried. So far so good.

We need to appreciate the deep farce that such meetings, pronouncements and decisions often constitute. The meeting in question was also graced by the august presence of Police Commissioner of Kolkata. While lesser members of the public are not allowed to hear the deliberations between public servants on public affairs, one can imagine that the Police Commissioner of Kolkata nodded in agreement when Sudhir Krishna hit the green notes about the tram’s energy efficiency and eco-friendliness, how the tram is a less-polluting transport medium of the future. After all, in such green pronouncements, everyone needs to nod their head. Everyone needs to show that are in sync with the good thoughts and ideas permeating the planet. By his nods and occasional quips, the Commissioner might have fancies himself of being a green warrior, in his small way. Such are the tales of heroism that forever go unsung. Bengal can be such an ungrateful place.

At the end of the day, secretary Krishna left for Delhi, a city where the government has ensured that cycling lanes have been demarcated in a big way. While, the unfortunate citizens of Kolkata are stuck with the police that it has, with its lip-service to ecological sustainability, it is its ruthless extortion service that has a special bearing with all this green-talk.

With the approval of the police commissioner, and his predecessor, the Kolkata police has declared more than 30 main roads off limits for bicycles. Kolkata must be one of those rare cities of the world that shamelessly sports large signs on the main roads prohibiting bicycles. Kolkata’s police forces can put up as many shabby posters as they want for the Environment Day. It can organize as many football matches it wants as cheap public relation exercises. That does not take away the reality of the police. The green sheen fades away when the police wait in the streets as stealthy hyenas to pounce upon a hapless person on a bicycle. This bicycle rider was possibly the only person on the street who was not contributing to pollution. For the past few years, a system of daily oppression is executed on Kolkata’s streets. The bicyclers, largely poor, earn a daily wage of less than 150 Rupees. Their ‘crime’ of riding bicycles is ‘fined’ by the police on a sliding scale of Rupees 80 to Rupees 100. The receipt for this ‘fine’ is a chit of paper with an illegible rubber-stamp and an equally illegible signature. The failure to pay Rupees 100, quite common in urban Montekland, leads to confiscation of the bicycle and a date to appear in front of the police. The bicycles often have parts missing when they are recovered. Such is the racket that is at play. Such is the conspiracy against those very people of Kolkata who want to use a non-polluting transport mode. It is a war against the poor and against the city. Some police honchos will sit on environment panels, will talk with conviction about the importance of curbing pollution in the company of the rich and famous in elite clubs. In this sordid theatre, they will have ample time to play their ‘respectable citizen’ role. But the daily wage earner who had to part with more than half of his earning for the sin of riding a bicycle knows these creatures too well. Real fangs are bared in these moments when the green mask falls off the face of the extortionist. The money makes its way up – how high does it get, we will never know. Our Right to Information has limits.

Contrary to Kolkata, many cities of the world have large zones demarcated to be car and bus free, so that maximal mobility can be ensured for the largest number of people without pollution. It is only the brown sahibs who refuse to walk the last 250 metres. What is so special about the brown sahibs that walking does not sit well with their constitution? The National Urban Transport policy, formulated by the Union Urban Development ministry, clearly lays out that bicycling should be preferentially encourages over motorized transport, by earmarking bicycle lanes wherever possible. Did Sudhir Krishna quiz the Police Commissioner of Kolkata about the reason why the policy had been turned on its head in the city? The police commissioner of Kolkata is the product of the force he heads. Why blame only him? He is just the latest.

Leave a comment

Filed under Army / police, Bengal, Environment, Kolkata, Rights

Dilli dur ast / Delhi and the rest of us – a gangrenous old saga

[ The Friday Times (Lahore), April 27-May 03, 2012 – Vol. XXIV, No.11; United Kashmir Journal(web); Frontier(web); Globeistan(web)]


Contrary to the claims of the Indian National Congress (INC), the 1946 Indian election results showed that though the INC was by far the largest force in the British governed territories in the Indian subcontinent, there were other players with considerable mass support, including the All India Muslim League, Communist Party of India, Scheduled Caste Federation and others, who altogether won nearly 40% of the seats. The false dominance of the Indian National Congress in the Madras province was largely due to the election boycott by the Dravidar Kazhagam, in part a continuation of the Justice Party current.  Indeed in some British constituted ‘provinces’, the Indian National Congress was a minority force. This was largely true for the 1937 elections, where the results were similar – a Congressite dominance in most provinces, but its marginality in populous provinces like Punjab and Bengal. The All Indian Muslim League (AIML) in the 1937 election had received a serious drubbing, virtually everywhere it contested. Though compromised by the factor that all these elections, 1937 or 1946 were far from representative in the absence of universal adult franchise (a point that is often forgotten in discussions around the events of 1946-47), one thing is clear – significant sections of the population were not with the INC, for whatever reason. A considerable section of the INC’s leadership always harboured ‘strong-centre’ ideas, though their inspirations were varied. It ranged from the necessity of a strong policy-driving centre congruent with ideas of command economy in vogue, the need of a tutelary centre that would provide the right lessons of modern citizenship so that a ‘sack of potatoes’ become ‘Frenchmen’ to the outright fantastic one that wanted a strong centre that would make sons of Bharatmata out of the wayward multitude that practiced ‘non-classical’ and plural Indic religions.

Given the INC’s serious marginality in more than one province at that point, the future of an Indian Federation was envisaged as a liberal union of provinces, where the Union government would only administer a few things and the provinces (or states) would be having pre-eminence in most matters.

The centralizing hawks of the INC were kept in check, for the time being, by the political realities and power equations. It is in this backdrop the Cabinet Mission plan, the blueprint of a future self-governing Indian Union was proposed.  Not going into the validity and judgment of making communal provincial groupings envisaged in the plan of May 16th, one does see the other aspect of the plan. The ‘centre’ would be in charge of defence, communications and foreign affairs – everything else would be within the ambit of provincial rights. Indeed, the centre would be the meeting ground of the provinces, not the imperial powerhouse from where the provinces would be governed. The latter was the British model of colonial domination – and such systems do facilitate smooth extraction of resources from far-flung areas but they are hardly the model of welfare where democratic aspirations of the people for self-governance has the priority.

In the political class, there was a general sense of resignation ( not necessarily agreement) to the basic thrust of the cabinet mission plan as a way to contain the diverse aspirations that India constituted and also politically expressed. It is this thrust or rather the destruction thereof that has grown to be a serious issue which goes largely undebated in post-partition Union of India.

In 1946, when the Cabinet Mission plan was proposed, the India that was conceived in it had provinces with powers that would put today’s Kashmir’s moth-eaten ‘special status’ to shame. Senior Congressites like Abul Kalam Azad, Vallabh-bhai Patel and numerous other mandarins of the party publicly and privately were more than prepared to give this dispensation a shot. The problematic idea of a sectarian grouping notwithstanding, the plan was overtaken by a breakdown of agreements between the INC and the AIML. The intense ground-level hostility in ‘mixed’ provinces in 1946 no doubt seriously undercut the chances of a grand federal Indian union, in the immediate context of prevailing circumstances. Whether the AIML’s motive on a sectarian grouping of people was holy or cynical, anti-people or liberating, is a question I will not visit here. But what is true is that the exit of the AIML due to the partition of India in 1947 suddenly changed the entire scenario. Till then, the field was a contested one. Now, one opposing side had left. Virtually unchallenged in the legislature, the Congress centralizers started scoring goals after goals in the unguarded field. These goals for the Indian centre turned out to be disastrous same-side goals as far as a democratic federal union of India was concerned.

Post-partition India was hardly any less heterogeneous and the principle of provincial autonomy with federal non-imperious centre still made democratic sense. But in that field without serious political opposition, the centralizing proponents of the INC had smelled blood, taking the idea of a strong-centre to the extreme. The lists that divide power between the union centre and the states in India are a stark testimony to this process by which states were reduced to dignified municipal corporations. They would thereafter be found forever standing with begging bowls, making depositions and cases in fronts of central government bureaucrats and ministers. Among the elite’s of that generation, the strong centre idea had appeal – it provided an excuse and an opportunity, of ‘shaping the masses’ into what was the elite’s definition of an ‘Indian’, a presentable citizen of a new nation-state.

The erosion of provincial rights in the post-partition Indian Union has seen a concomitant development of a veritable army of carrion-feeders who have mastered the process of carrying the spoils from the length and breadth of the land to pad their Delhi nests. These are the new ‘Indians’. In some way they are no different from Hindustan’s emperors and their hanger-ons who would deck up the capital by squeezing the country. What is different is that the earlier forms of ferocious extraction, of explicit carriage of loot to Delhi is now replaced by the fine art of legislative injustice. The process has been honed to near perfection over the decades, now designed and lubricated to work smoothly without making a sound. Delhi and its surrounds are showered with money that Delhi does not produce. It is peppered with infrastructure that India’s provinces had toiled hard to pay for. It is lavished with highly funded universities, art and cultural centres, museums that are designed to sap talent from India’s provinces and handicap the development of autonomous trajectories of excellence beyond Delhi. Over the decades, numerous white elephants have been reared, maintained and fed in Delhi – none of them paid for by those of live in Delhi. Of late, there is the perverse politics of infrastructure development. Who could oppose a cow as holy as infrastructure? In essence what infrastructure development in Delhi has become is the following – a method by which revenues extracted from India’s provinces are lavished in and around Delhi by making good roads, snazzy flyovers, water supply infrastructure, urban beautification projects, new institutes and universities, big budget rapid transport systems like the metro and numerous other things that India’s impoverished wastelands as well as other towns and cities can only dream of. This is perfectly in line with the new ‘expansion’ of Delhi in which Delhi’s political class has major stakes. Essentially this is cash transfer of a very sophisticated kind. Delhi’s richer classes acquire nearly uninhabited land or rural farmland. The ‘centre’ chips in by ensuring the areas get ‘developed’ from scratch. This ensures that these areas become quickly habitable or investable by Delhi’s perfumed classes, thus pushing up real estate prices, making the rich of Delhi richer. This is backed up by real infrastructure that is backed up by real cold, cash from India’s central government. The only thing unreal here is the process of pauperization of India’s provinces, of the great cities of Chennai, Kolkata and Bhopal, which have been systematically decimated by this distributive injustice. The other pauperization that has happened is more insidious, though equally corrosive. I am talking of the process of internal brain drain. Delhi’s bevy of highly funded institutions, lavish research funds, impeccable infrastructure, creation of a semblance of high culture by governmental khairati, has made Delhi the centre of aspiration for the brightest in India’s provinces. Delhi poaches on the intellectual capital of Kolkata and Chennai by the way it knows best, the baniya method.

The largesse that Delhi gets flows over to various other sectors. The large concentration of central government jobs in and around Delhi ensures that those who live there or are from those areas are more likely to end with those jobs, especially the jobs in the lower rung. This artificial support to a certain geographical area with ties to the national capital goes against all principles of natural justice, let alone those of a federal union based of equality. The Delhi-based political class uses various events and excuses of ‘national pride’ like the Asian Games or the Commonwealth Games to bestow Delhi’s residents and in effect themselves and their families, better infrastructure, inflated asset values, a better life, so to say – underwritten, as always, by India’s parochial and provincial masses. The provinces, West Bengal, (East) Punjab continue to pay for partition, by paying for Delhi.

Even the media is a part of this process. A summary look at newspapers in Kolkata and Delhi will show that Delhi-based newspapers have page after page of central government advertisements – while the population of the two cities are not too different. The media is an integral part of that Delhi-based illuminati, also consisting of policy wonks, security apparatchiks, immobile scions of upwardly mobile politicians, bureaucrats, professors, defence folks, hanger-ons, civil society wallahs, suppliers, contractors, importers, lobbyists and all the stench that connects them. This cancerous network of self-servers are curiously termed simply ‘Indians’ – largely devoid of the visceral rootedness that this large land provides to its billion. Their regional identity is hidden shamefully, displayed diplomatically, cashed in cynically and forgotten immediately. This is a window to the mind of the deep state at Delhi. This deep state – eating away at our plural fabric, creaming at the thought of the Delhi-Mumbai urban corridor, holds a disproportionate sway over the billion who are not simply Indian. This unacknowledged billion comes with its proud identity and sense of autonomy. Its diversity is still a robust one, not a browbeaten domesticated version fit for India International Centre consumption.

The preference for things Delhi-based or things ‘Indian’ and not ‘provincial’ has resulted not only in cash transfer of epic proportions, but has surreptitiously help develop the ideology that the roots of success in India go through Delhi, by denying one’s own rooted identities, clinging onto some rung of a ladder to Delhi, moving away from one’s origins. In short, this distributive injustice serves to disincentivize aspirations that don’t hold ‘Indianism’ as the ideology, Delhi as the location.

In the era of long indoctrination, Delhi has been built up as an imperial zoo, where all we provincial rustics have to come to gawk, to be awed, and expunge ourselves of our ‘parochial-ness’ to become ‘Indians’, hailing a very specific kind of motherland. But we are people who happen to have our own mothers, those on whose lap we slept, those whose milk we drank, that whose smell we recognize. She is beautiful in a sari. She does need ornaments of gold to make her beautiful. But there sits a woman, decked up with precious jewels, none earned by herself, but brought as tributes by servile ones who want to be seen in a photograph with her, the queen. That queen is called Delhi.  And she is the reigning goddess, gathering devotees by throwing money – devotees who are working feverishly to move closer and closer into the charmed circle, into Delhi’s gilded embrace.  For all her glitz based on loot, the queen attracts awe and fear, not love and respect, from peoples who have mothers less shiny.

Some final thoughts on India’s provinces. States, provinces, nations – none are designed to contain the aspirational trajectories of the plural multitudes in the Indian Union. Democracy is a deity that has seen a lot of empty, cynical and faithless obeisance be made in her front. Increasing democratization, transfer of the locus of power away from the centre, is a way of deepening democracy. There have been very few attempts to do this. The Sarkaria Commission of 1983 was a positive step in this direction with clear recommendations of making a more inclusive, federal and democratic union of India by transferring certain rights from the central list to the state list. Predictably, the commission’s report is in suspended animation. For all that we know, it might have died already. The Indian state may not admit it. All too cynically, the centre has often tried to bypass the provinces by speaking over the heads the state governments through its army of central bureaucrats and law enforcers posted as imperial minders in every district. This friction between the different levels – between the local bodies and the state governments, assures the centre’s stability. It has also tried to project an ultimately false sense of autonomous empowerment at the local level by the Panchayati Raj institutions by not giving the local bodies any power to veto decisions and proposals that affect their own futures. The blatant disregard of these institutions when ‘higher authorities’ push a project through in the face of massive opposition to loss of livelihood, destruction of homestead and displacement shows what lofty catch-words peddled by the higher level of administration like ‘local empowerment’ or ‘deepening democratic institutions’ really mean, when push comes to shove.

Some ‘states’ in India vaguely are entities that existed even before the modern idea of India was conceived and will probably outlive the idea too. Some of them would have been among the top 20 entities in the whole world in terms of population. They are repositories of plural cultures that the myopic Delhi-based circus called Dilli-haat cannot even fathom, much less domesticate, package and consume – with a bit of ‘central funding support’ thrown in for window dressing. The union of Indian exists, but it is and never was an inevitable union. To take that myth seriously, for that matter to take foundational myths of any nation-state seriously, is a dangerous error – realities are glossed over by textbook manufactured pride. The past of the constituents of the Indian Union were partially intertwined and largely not. To change this balance decisively, so that a Delhi-prescribed and Delhi-centric path to the future becomes a pan-Indian obsession is dangerous dream.  Whether the future of the Union of India will look  a joint family where the feared patriarch sets the rules for all or more like a split joint family living in proximity who are in good terms but cook separately, is a choice we need to make. The latter is much closer to our social reality anyway. Structures that limit aspirations and exile imaginations are fundamentally sociopathic. I am sure, Delhi wants to be loved. Like the plural pasts, to unlock the greatest potential, we need a plural future – an Indian union with thousands of sisterly centres. Delhi no doubt will be one of the sisters in that love-in. Distributive justice would be the glue holding together that future circle of sisterhood. I hope.

Leave a comment

Filed under Democracy, Elite, Foundational myths, Hindustan, History, Identity, India, Jal Jangal Zameen, Kolkata, Madraj, Nation, Open futures, Pakistan, Partition, Plural pasts, Polity, Power, Urbanity

In defence of the West – reflections on the renaming debate of West Bengal

[ Himal Southasian, 26 Aug 2011 ]

“The past is never dead, it is not even past.”  ~ William Faulkner

Nations and national identities are transient entities. The entities might be imagined but what is very real is the feeling of belonging – no amount of ontological information, about how it came to be like it is, can easily take away that feeling. Meanings of life, meanings of community, meanings of love, pride, shame and desire are built from such feelings. Add to it a transient continuity through a set of  directly experienced or indirectly ‘felt’ scenarios, held in common. That is what makes memories of the past – a communitarian memory of sorts. To deny that memory, however irrelevant that may be to some sectors of the present populace, is, to deny a community certain ways of expressing its identity and continually coming to terms with the past. To look at the present as some kind of a thing in itself, with the past being a book that that has been read and shelved, only belies a very arrogant and strange understanding of the nature of human pasts, and indeed the nature of human presents.

As far as names of such entities go, the naming and more crucially, renaming, represents some kind of a project. For the last few weeks, the province of West Bengal in the Union of India, underwent a ‘renaming’ process. To people who were not indifferent to the renaming exercise, the end result of the process has evoked various hues of emotion – intense disappointment, anti-climax and for folks like me, relief. At this point, it is useful to have a brief recap of this entity, West Bengal.

This is not be confused with the shortlived western segment of Bengal arising out of the Partition of Bengal of 1905.  The 1905 partition saw eastern parts of the Bengali speaking areas sliced off from it to form the province of Eastern Bengal and Assam. The rest, called simply Bengal, though technically Western Bengal and much of present day Bihar and Orissa, never really came to be known as such. In any case, the partition was reversed with the Bengals reunited in 1911. By 1947, the demand for a separate homeland, for ensuring the rights of Indian Muslims, had taken shape through the formation of Pakistan. While the pro-Pakistan Muslim League held a majority in the Bengal Legislative assembly and hence supported a wholesale inclusion of Bengal into Pakistan, an intense demand for the partition of Bengal came from the non-Muslim political forces. June 20, 1947 saw the legislators of these non-Muslim-majority areas assemble  and vote overwhelmingly for the partition of Bengal. This emerging entity,  intended to be formed by the assemblage of most non-Muslim-majority districts of Bengal, is what came to be West Bengal. The contours of the cleavage between West Bengal and East Bengal, and hence, by implication, the contours of West Bengal, were decided by Cyrille Radcliffe’s ‘award’. The said ‘award’ resulted in one of the greatest mass migrations in recent human past. In the tumultuous times of 1947 and shortly thereafter, nearly 3 million ‘East’ Bengalis came to West Bengal. According to the 1951 census of India, 27% of the population of Kolkata were partition-related migrant refugees from East Bengal. Especially spurting after the communal violence in East Bengal ( by then, rechristened and officialized by the state of Pakistan as ‘East Pakistan’) in 1950 and 1964, migration to West Bengal continued through the 50s and the 60s. It is estimated that by 1970, about 5 million refugees had arrived from East Bengal. In subsequent years, the westward migration due to real or perceived insecurity and/or opportunities has been slower, but far from absent. A substantial portion of the population of West Bengal have migrated from their ancestral abode in East Bengal in the last one or two generations.

Rumblings of discontent about the name ‘West Bengal’ started in government circles a few years ago. The reason was primarily one of discomfiture with the position of ‘W’ at the fag end of the alphabet series in English. The Union of India, being a federal system, often has meetings on important policy matters where representatives of the provinces ( called ‘states’) deliberate and present their viewpoints. Like an obedient brown-skilled English-educated schoolboy, the Union of India choses to follow the alphabetical order of English to call the representatives of the provinces, one by one. The problem should be clear by now. West Bengal with its ‘W’ is called last. It does not get much hearing, after all the provinces have spoken.After all, the Union of India has 28 provinces. After the recent change in government in West Bengal, the process of remedying West Bengal’s name gathered steam. And many people chimed in with suggestions.There were civil debates carried out in the television but in a more detailed way in the newspapers.

Any name, it may seem on the outset, is as good as any other. But the nature of alternatives that were being thrown up was an interesting socio-political indicator of sorts. A few names, of the Bangla, Bawngo or Bengal kind, made the rounds. Names of this kind found their votaries in people who argued – there is no East Bengal, why should we then call our province West Bengal? There is a certain problem with this unfortunate ‘there is no East Bengal’ view point. The roughly eastern segment of the land inhabited primarily by Bengali speaking people will always be East Bengal. East Bengal is as much a geographical entity as it was a political entity. The political entity has been conceived variously as East Bengal (1947-1955), East Pakistan (1955-1971) and Bangladesh ( 1971- present). The changing political construction of that geographical space does not change the psychogeographical space that East Bengal holds in the mind of large sections of the people of West Bengal, especially the refugees and their immediate descendants. People who were refugees from East Bengal did not locate their abode differently in the same psychogeographical space as East Bengal’s official political name changed with time. There also exists the East Bengal that does not simply reside in the memory of migrants. This is the living entity of East Bengal, in its political form of Bangladesh. It is not surprising that radical political groups, extremely staunch in their opposition to the Pakistani state, still chose to refer to themselves with their East Bengal epithet – various factions of the Purbo Banglar Shorbohara Party (Proletarian Party of East Bengal) and the Purbo Banglar Communist Party ( East Bengal Communist Party).

Names that simply refer to Bangla or Bengal show a thrust to create a wholly-contained identity, one that is contained within West Bengal’s territorial limits.The name Bangla or Bawngo is not new. However, it is hardly conceivable that a person’s conception of Bangla or Bengal suddenly underwent a radical transformation right after 14th August 1947 in one’s imagination of the place they imagined to be Bangla. The unfortunate illusion that the post-partition generations suffer from has the Bengal of one’s imagination stop at the international border. It is especially acute in West Bengal, which in fact is the smaller of the 2 politico-geographical segments of Bengal. Add to this the primarily Hindu name roll-call of the who’s who of Bengal’s past as taught in West Bengal. What one ends up with is a weird view of Bengal. The very-real presence of East Bengal in Satyendranath Bose’s professorship at Dhaka University, Bankim Chandra Chattyopadhyay’s deputy-collectorship at Jessore, Rabindranath Thakur’s literary productions while being stationed at Shelaidaha in Kushtia, Masterda Shurjo Sen and Pritilata Waddedar’s armed insurrection against the colonial occupation in Chattagram and myriad such events, ideas, conceptions, ownerships, get projected, very-really, imperceptibly but exclusively, onto the physical imaginary of Bengal’s western sliver. It is my suspicion that this psychological phenomenon where trans-frontier locales get uprooted from their real location but do not quite  get correspondingly embedded on this side of the frontier leaving places, faces, spaces, events in a strange purgatory of cognitive inaccessibility, is a major sequelae of partition. This possibly has given rise to  misshapen, constricted visions of one’s cultural  past, severely restricting initiatives of cultural engagement in the present time. Trends that seek to rename West Bengal as simply Bangla or Bengal may only add to this smugness of being complete.

Some have pointed out that the other great casualty of the partition of India, namely Punjab, do not go by East or West Punjab but is called Punjab on both sides of the international border. Without going into the details of its specific renaming, a few facts are to be borne in mind. Entities called West Punjab ( in Pakistan) and East Punjab state ( in the Union of India) arose right after partition. The East Punjab name carried itself into the later PEPSU ( Patiala and East Punjab State’s Union) fomation. Whatever the names cleaved entities politically go by, Punjab to the east of the border is still East Punjab. In certain unfortunate respects, the Punjabs are less amenable to cross-border imaginaries. Firstly, the ‘cleansing’ of populations in 2 sides of the international border in Punjab are almost surgically complete. The Muslim/ non-Muslim divide in terms of population distribution is nearly complete in the Punjabs. West Punjab has less than 3% non-Muslims and other Punjab’s numbers are correspondingly dismal, when one keep’s in mind the pre-partition demographic mix in these areas. The Bengals, inspite of migrations ( mostly from East to West), retain large number of the ‘other’ religious community within their slivers. A living access to the constructed ‘other’ puts certain limits to the process of ‘othering’. Furthermore, with increasing proportions of the two Punjabi population getting literate, their cultural productions are not mutually comprehensible in print, as West uses Shahmukhi ( Arabic) and the East uses Gurmukhi. This seriously inhibits the bonds of exchange and engagement of the kind that the Bengals continued to have post-partition, albeit not to an extent a culturally continuous geographical space should have within its different parts. Borders of the land do make their presence felt as borders in the mind.The logic of the nation-state devices the agenda of cultural continuities and discontinuities.

There is another aspect to these calls for ‘Bengal’.This one jives very well with that snazziness that shining India is all about – ‘Brand Bengal’ as it is called in the chambers of commerce and in the upmarket cafes of Kolkata. Some of this is the upwardly mobile upper middle class with its ‘consumer product’ centric view of all things. Then there is the element of supposed ‘coolness’ of ‘Bengal’ vis-à-vis the vernacular.  Whats more, it even reeks of the nostalgia of  stolen Burma teak, lazy colonial evenings and a booming Calcutta port to drain away surplus. The over bearing presence of the Calcutta-centric ( not Kolkata-centric) discourse on the question of renaming West Bengal did serve to skew the public. To some inhabitants of Calcutta, whose ‘Bengal’ or ‘West Bengal’ do not stretch beyond the confines of the metropolis (except a flight to Darjeeling). They are very perturbed about the discomfiture that foreigners (read inhabitants of Western Europe and USA) would endure pronounce this new name. If they had half the empathy for their fellow beings just beyond their city compared to what they have for folks who live half a world away, may be they would have better appreciated the importance of ‘West’ in ‘West Bengal’. Their lived reality remains utterly divorced from the sensitivities of the matuas and other low-caste communities who migrated from East Bengal and have trans-border organic connections in terms of family ties and pilgrimages. Slicing off references to ‘West’ would have been a project of cleavage – especially ironic in the face of officially sanctioned joint-exercises ( the drill-sounding expression is used intentionally)  between India and Bangladesh using Rabindranath Thakur’s 150th birth anniversary as the reason.This, at the same time when, poor Bengalis in either Bengal, are continuously harassed and belittled by immigration functionaries and East Bengalis are gunned down at the Indian Republican frontier by Government of India’s Border Security Force at a disturbingly regular interval.That the killing of East Bengalis does not evoke any serious reaction in Kolkata, the capital of West Bengal, might suggest that the time has indeed come to drop the ‘West’ in West Bengal, as its mandarins show not a shred of sympathy to its brothers and sisters to the east. But there may be hope still.

Of late, there has been a veritable explosion of sorts, in writing memory. In these times, we are really seeing the final passing away of that generation from West Bengal who not only had ancestral roots in East Bengal but had actually lived their, often right into their adulthood , as was the case for many later refugees. What they have also seen is the gradual loss of the signs of their distinctiveness in their future generations – distinctiveness that defined self-identities and attitudes. Few people of Barisal origin born in  West Bengal have anything akin to the stereotypical Barishailya raag ( the innate short-temper of Barisal people). In West Bengal, hardly any post-partition generation of Dhaka-Bikrampur origin would self-identify oneself with that dash of brash pride that comes with the epithet of ‘Dhakaiya kutty’. The slow loss of the cultural peculiarities of these sons and daughters, and grandsons and granddaighters, of East Bengal, thrust upon West Bengal, has resulted in the writing of memoirs – memoirs of a way of life, memoirs of the loss of a way of life. These memoirs differ from the kinds which were produced earlier, post-partition, which often had  the backdrop of recent loss, that one had not come to terms with. The present crop of writing is rich with the story of loss, that has been digested and reflected upon, in terms of the double loss in identity that they see right in front of their eyes, in their progeny. That makes this genre of literary exploration especially poignant as it is also the last gasp of a robust, secure and self-confident East Bengal in West Bengal. Aldous Huxley said, every man’s memory is his private literature. Now, after long last, some of that is becoming public.

Gangchil publications of West Bengal has become the outlet for a stream of life and migration stories from East Bengal. Published in Bengali, the continued presence of East Bengal in the metropolis that is Kolkata is exemplified by the following lines ( translated by the present author from the Bengali original) from a 4- volume memoir from Adhir Biswas. This particular volume is called ‘Amra to ekhon Indiaey’ ( We are now in ‘India’) –

“ I left desh ( homeland) in 1967. My son argues, what do you mean you left your homeland? Isnt this your country , this India? I want to say, desh means the land of one’s birth, my village Magura, district Jessore, river Nabogonga ….. My son says, that is a story from 42 years ago. For 42 years , you have been here. This city Kolkata, river Gonga, the temple at Kalighat. I shut up at my son’s rebuke.
In front of my eyes, the branches of the banyan touch the water of Nabogonga.The water submerges the vegetation on its banks. The clear dawn peeks in through the slit in the bamboo fence. I hear the doel bird – cheeik, cheeik. Seeing my shutting up, my son thinks that he has hurt me, tried to say something to console me. By then, I see the  swaying boats tied up at the  jetty by the temple. I see the shadow of the pakur tree in the water. The small bamboo bridge. In the middle of the Naboganga, an eddy whirls up. I feel it, my homeland hasnt left me –  it is living on embracing this thin, worn out body of mine.
I dont reply back.I keep silent.’

At another place, Biswas goes on – ‘ A new country, a new city. Double-decker buses, trams, the Kalighat temple. The liver and leg pieces at butcher Mohanda’s shop. And then at some point, I think about my childhood homestead. Sitting with a fishing rod by the bank of Nabogonga. I remember and think a lot about sitting with Bhombol, the dog and cleaning its ear-wax. Before my mother was cremated in the grounds at Satdoa, her pillow and madoor ( mattress) was thrown in the forest. I feel that they are still right there.I can clearly see the state of the madoor, the shape of the pillow.But I dont have a passport.’

‘But I dont have a passport’ – West Bengal stands to lose when it cannot appreciate the importance of that space of mental topography called East Bengal, which also is a real geographical entity. The lamentations for his long-dead mother with her spectral presence in a home he does not and cannot live but is the only place he can ever call home makes the case for the continued presence of the East Bengal in the West Bengal imagination. We do need it for sanity, to avoid a process of loss of parts of oneself. The present project of dropping the ‘West’  would help erase the memory of the grandmother altogether for the next generation, let alone lamenting the inability to return. For the next generation, there is no return may be, to the east. They are all marching to Delhi, to become ‘Indians’, a people without grandparents, but a people with an ‘ancient history’, I am told. In Delhi descend all the cosmopolitans without grandparents and great-grandparents – the first true Indians who are nothing but Indians, and powerful ones at that. Being ‘too’ Bengali or worse still, Lepcha, makes one that bit less suitable for this ‘Indianness’. This Indianness is a sophisticated shoe to fill, and I have smelly feet. Some of that smell comes as an inheritance from people who came from places where they do not even fly the Indian tri-colour.

One suggested name that also was in contention was Banga-pradesh, the pradesh( province) part seeking to specify that it is not a ‘desh’ or nation by itself and to underscore its unquestionably within-India-ness. Others suggested banga-bharati, a not-so-ingenious rip-off from Rabindranath Thakur’s Visva Bharati. It might as well have been called Delhi-Bengal or Dilli-Bongo, to make the attachment to the heart of Mother India ever so tight. Among the list of alternatives were Bawngodesh and Bawngobhoomi. Both had inadequacies that mired names like Bengal or Bangla – a pretension to a quarter-baked wholeness that flew in the face of the reality of indelible trans-border connections. Another alternative ‘Gour-Bawngo’ harkened back to some mythic continuity to an older name for a certain part of Bengal. It would have been inadequate, regressive and plain fictional, in the present context.

The present government, after a rare consensus based agreement, with all opposition political groups including the Gorkha Janmukti Morhca in tow, decided to officially rename West Bengal as Paschim Banga ( pronounced Poshchim Bwango). This name is simply a translation of the name West Bengal in Bangla. To me, this name brings more respite than elation. Name changing exercises are either cosmetic or cheap tricks to serve reactionary political agendas. In this case, the dropping of the reference to ‘West’ could have achieved something silently damaging.That this was thwarted is a big respite. Not that I would mind if ‘West Bengal’ was not perturbed.  As Ashis Nandy often states, all cosmopolitan geographies have multiple names. Calcutta, Kolkata and Kalkatta may be geographically similar, but they reflect differently poised parts of the city and indeed different cities within the city. Such is the name for West Bengal. Poshchim Bwango is the name by which a large number of its inhabitants are used to calling it anyway.The popular constituency of Poshchim Bawngo is clearly larger than that of West Bengal, and in that sense, the ‘official’ political name now is more aligned to what most people call it in real-life, Poshchim Bawngo or Poshchim Bangla, rather than West Bengal. Not that I would mind if ‘West Bengal’ was not perturbed. I come exactly from the social milieu who do daily treks between ‘West Bengal’ and ‘Poshchim Bawngo’, depending on the situation. ‘West Bengal’ is a name that is inaccessible to a large portion of the population.

The present moment also holds within itself the half-chance of another future. In the age of increasing reach of the internet, the web has enabled intercourse of ideas between the two Bengals at levels that were unthinkable and is unprecedented since the 1947 partition. A website like Bangalnama, set up by young people from West Bengal, is active in the preservation of this collective memory of the ‘lost’ East.  But it will be erroneous to think that it is simply nostalgia. Websites like this are buoyed by active participation from people from both Bengals and cannot be discounted as digital mourning saga of the Hindu upper caste refugee generation-next.  This memory is now serving as glue where young people from both Bengals are interacting with each other, commenting in each other’s blogs and websites, which are proliferating everyday. Transportation between the two Bengals is now easier than it has been in decades. The dropping of the ‘West’ epithet, at this juncture, would have been nothing short of a failure to imagine a recovery of cultural consonance in this part of Southasia, may be even reversing some of the wounds that can only come from the severance of the deepest bonds.

I return to a question that had been posed many times in the run-up to this renaming debate. Where is East Bengal? Among other places, it  is also in what is implied by ‘West’ in ‘West Bengal’- that there is that other half. Till global warming induced rising sea levels actually finish of this West/East debate for good, ‘East’ Bengal also lives in the matrimonial advertisements of the scions of East Bengal, 3 generations removed from partition, which lists  never-visited-again ancestral abodes – Barisal, Faridpur, Mymansingh, Khulna, Noakhali, Srihatta, Rajshahi, Tangail, Bogura, Sherpur, Narayanganj, Brahmhonbaria. All this is in the ‘East’. It is that east, to whose west my land lies. West Bengal. Poshchim Bawngo. At least, for now.

“For in the end, it is all about memory, its sources and its magnitude, and, of course, its consequences.” ~ Elie Wiesel

Leave a comment

Filed under Bengal, Elite, Identity, Kolkata, Language, Nation, Open futures, Partition

Why Kolkata still matters – grave implications of its mode of urbanization on Southern Bengal

[ New Age ( Dhaka) – Feb 2010  &  Weekly Blitz ( Dhaka) – Feb 2010 ]

For the longest time, Kolkata was the nerve centre of Bengal and this was especially true of the Khulna and Jessore of united Bengal erstwhile which looked westwards to Kolkata as its major center for trade, education and other pursuits. After the partition in 1947, arguably the largest man-made environmental impact due to Kolkata on the landscape of both Bengals was the construction of the Farakka barrage. One of the main reasons of having the barrage in the first place was to minimize and rather grandiosely, reverse the heavy silting of the Bhagirathi-Hooghly river which was serious threatening the eminence and even existence of Kolkata as a major port. Hence the planners of Kolkata’s future pushed for the barrage – over much opposition from environmentalists from both Bengals.No real study was done in the planning stages of the possible adverse environmental impact of the construction of the barrage and also on the life and livelihood of the people living downstream in both Bengals.The effects of that misjudgement is well-known and well-felt in Bangladesh and India.Now it stands as a gigantic tombstone to a dead dream of a certain post-colonial era, when technology and emancipation became synonymous. The mistrust that this brewed between Bangladesh and India is the only lingering heritage – for all the planning that it entailed, downward spiral of the navigability of the port at Kolkata could not be effectively checked.Once deemed a “traitor” to India, Kapil Bhattacharyya, who had the pre-eminent vision of questioning the notion of progress and the ecological cost of India’ development track, has been proved right , time after time.

But the notion of “progress” has not changed and if anything, the “development” beast is only more emphatically self-righteous about its methods.In recent years, under the current Left Front regime , there has been a conscious public relations effort to portray agriculture as an out-dated occupation which is to be phased out progressively and if need be, forcefully,  to make way for industry, which ostensibly will solve the unemployment problems of West Bengal. An urban-industrial vision of the world where there would be mega-urban centers, satellite townships,large patches of special economic zones and industrial areas and , as sort of an after thought, the agricultural hinterland of stupendous productivity that “science” would apparently usher in, to offset the loss of agricultural land now dominates the psyche of the leaders and opinion-makers of most of the erst-while colonies of the West. However, as recent events in Singur and Nandigram in West Bengal have shown, that there are other visions of the future too.

This brings us to the issue of the present tendency or urbanization of Kolkata. When Bengali refugees arrived in the vicinity of Kolkata after partition, the “colonies” that were set up around the city were largely unplanned and unchecked.It was an imperative of insane times and the balanced growth of Kolkata, if it had to happen, should have happen northwards but instead happened eastwards.Huge wetlands and salty-marshes were filled – giving Kolkata a new face. But at present there is a more sinister drive towards urbanization , which is not due to any impulse generated by the humanitarian catastrophe of the partition, but due to the interest of the richer sections of society to have urban and industrial bases in the immediate vicinity of present Kolkata. The idea is, these would be posh, well connected, modern centres which eventually would become part of a Kolkata mega-city.The displaced peasants and their families from these newly acquired areas would be employed as cheap labour – mainly in non-skilled roles and domestic homes.This is what has pushed the extension of Kolkata into Rajarhat-Bishnupur-Lauhati area and the recent scandal of violence around Vedic Village amply shows what such land acquisitions necessarily entail.

But there is a greater threat and that it is of immense importance to the whole of Southern Bengal.Subrata Sinha , the former deputy director general of the Geological Survey of India, possibly the best expert on the effects of Kolkata’s urbanization trend on the lower Gangetic deltaic region, has opined the following “The Calcutta wetlands form part of the deltaic region of the geo-hydrologically connected Ganga-Hugli-Meghna-Brahamputra river systems and part of the trans-national watershed comprising the Himalayan mountains. The shareholders mainly include India, Bangladesh, Nepal and Bhutan. Unfortunately, the wetlands have been severely affected by urban encroachment; largely crippling their functions.” He continues “The terrain analysis (including the study of aerial photo and satellite imagery mosaics) reveals that numerous rivulets of the shared Indo-Bangladesh deltaic drainage system originate in this zone. Major impediments (roads, buildings and other infrastructure), which are inevitable adjuncts of intensive
urbanization , shall act as a wall across the route of overland flow. Allowing the Singur- Rajarhat belt to develop into a major urban-industrialisation agglomeration will only strengthen the wall. The excessive run-off during the monsoon shall be diverted downslope towards Bangladesh and metropolitan Kolkata. This will aggravate water-logging and floods. “

The potential implications of this is understandable and cannot be under-stated.The land which constitutes Bengal is older than Bakhtiar Khilji’s invasion of Bengal or Aryan expansion into primarily Austric Bengal.The rivers, the aquifers, the mangroves – tie the Bengals together – and their destruction – will bring them down together like inseparable twins.Hence there is an urgent need of the environmental groups and activists to come together without the prejudices that their respective nation-state affiliations bring.Environmentalists from Kolkata, Dhaka, Nadia and Chattagram should be able to talk about the devastation that Farakka and Kaptai have brought to Bengal.Given our
shared past, only an engaging present, can lead to, in all pragmatism, a shared future – for neither flash floods nor salinization respect nation state boundaries.

Leave a comment

Filed under Bengal, Environment, Kolkata

Long way from home – silent shuffles towards not sticking out

[ Agenda  – special issue on Migration and Displacement, July 2008 ; The Friday Times (Lahore), May 10-16, 2013 – Vol. XXV, No. 13 ]

A narrative set around the displacement during the partition of Bengal in 1947, exploring traumas not so explicit, adaptations not so consensual. And imprints of things thought to be lost.


I have crossed the border between the two Bengals multiple times. In February 2013, I took back my maternal uncle Bacchu mama to his ancestral home in East Bengal (now part of the People’s Republic of Bangladesh).He had fled after his matriculation, a little before the 1965 war. When we reached his 2-story modest tin-shed erstwhile home in the Janaki Singho Road of the Kawnia neighbourhood of Barishal town, I saw this mama of mine, trying to touch and feel dusty walls and stairs. He is by far the jolliest person I have seen. This was for the first time I have ever seen his eyes tear up. The story that follows is of his paternal aunt, or pishi.

Having had taken active interest and in some cases active participation in anti-displacement agitations of various sorts and hues, what does ring hollow to my privileged existence is the real trauma of the experience. I know the statistics, the caste break up of the internally displaced, the pain of being transformed from sharecroppers to urban shack dweller – raw stories of loss and displacement. The “on-the-face” ness of the accounts, unfortunately, has a numbing effect. With a populace numbed to the explicit, its sensitivity to things hidden is nearly non-existent. In spite of my association with causes of displacement, in my heart of heart, I empathize but don’t relate. Nobody I have grown up with seemed to have any psychological scar or trauma about it – at least none that they carried around, although I grew up around victims of one of the biggest mass displacements of all times – I am talking about the partition of Bengal in 1947.

When I grew up in Calcutta in the 80s, visits to my maternal grandparents’ place were a weekly feature. They were Bangals to my father’s extended family – we lived in a 30 something strong joint family, firmly rooted in West Bengal, very Ghoti. Bangals  are East Bengalis, a people with a culture less-sophisticated, in the minds of the Ghotis. In later years, especially post-1947, the term also came to mean refugees and hence evoked certain discomfiture about the presence of Bangals in West Bengali minds, if not outright animosity. With time, ties- political, amorous and otherwise were built between certain sections of the two communities. I am a child of mixed heritage – with a Ghoti father and a Bangal mother. Much of what I have said, except the last statement are generalizations, but they are useful in terms of broadly demarcating the space within which the narrative is set.

The people of my mother’s extended family had their displacement stories – not really of trauma, but a sense of material loss- the money they couldn’t bring, their land that had been expropriated ever since, the struggle of some families they knew, etc. Calcutta subsumed much of their selves now that they were here and most of them had been here in Calcutta for most of their lives. The character of importance here is my maternal grandmother, my Dida. She was married off to my maternal grandfather, my dadu, who I hear was visibly unwilling about the marriage at that time, if not the match itself – both were teenagers. When she came to Calcutta in tow with her husband, she was still quite young. My mother was born in Calcutta.

They lived in a rented place near Deshopriya Park. There was a certain air of dampness about the place – it connected to the metalled road by a longish and narrow path, not revolting but full of a strange smell of dampness. The path, gritty and dimly lit, was nearly metaphorical of my dida’s connection to her new world – connecting to the mainstream required a certain effort. Inside that house, it was strange and intriguing to me. The lingo was different – they spoke Bangal ( a Bengali dialect) with a Barishal twang ( Barishal was one of the more pupulous districts of East Bengal) called Barishailya. Dida referred to chokh ( eye) as tsokkhu and amader ( our) as amago. I used to pick these up and relate it to my Ghoti joint family, regaling them. Now I don’t think it is hard to imagine that many Bangals didn’t like the fact that other people found simple pronouncements in their dialect amusing and even comical.( Some comedians have used this aspect in Bengali comedy. I am reminded of black clowns with artificial and heightened mannerisms who regaled White audiences).

Dida cooked well and was known for it. What did she want to be known for? My mother related to me how her father was a great lover of letters and sciences. This was somewhat true – sometimes I abhorred going to him because he would not only tell me to do a math problem but also ask me why did I do it that way. He tried to get all his children formally educated – a Bangal signature of the time with imprints still continuing. Markedly different was his attitude towards Dida – I remember numerous instances of “o tumi bozba na” ( You wouldn’t understand that.) On her 50th marriage anniversary, her children got together for a celebration. The couple garlanded each other. She looked happy with her self and her world. “ Togo sara amar ar ki aase” (What else do I have but you people) was her pronouncement. Something happened a few years later that made me question the exhaustive nature of her statement..

Things happened in quick succession after this. The brothers and sisters split. The turn of events resulted in Dida staying with us . Our joint family had ceased to exist too. By now, I was a medical student. Dida was getting worse due to diabetes. So, I spent time with her. I remember her trying to speak ( and miserably failing) our non-Bangal Bengali dialect, to my paternal grandmother. She did try to mingle in, for circumstances demanded that she do. At the time, I   thought that she was extraordinarily fortunate. With my new-found sensitivity towards “identities”, I thought, she must have been very happy to speak Bangal until now. She did her groceries at a bazaar full of grocers who were themselves refugees from East Bengal. In fact one bazaar near my home in Chetla is actualled called the Bastuhara bajar ( the homestead loser’s bazar).Her husband’s extended family was essentially her social circle and they all chattered away in Bangal. They ate their fish their way and did their own thing. In spite of being displaced from East Bengal, she had retained her identity, her “self”. Or so I thought.

She suffered a cerebral stroke sometime later. A stroke is tragic and fascinating. It cripples and unmasks. The social beings we are, who care about what words to speak to whom, what state of dress or undress to be where and when, etc- this complex monument of pretense can come crashing down in a stroke. She had been for a day in what would medically be termed “delirium” , characterized by, among other things, speech that may be incoherent to the rest of us. She couldn’t move much and spoke what to us what was nearly gibberish- names we didn’t know, places we hadn’t heard of. To ascertain the stage of cerebral damage, one asks questions like Who are you? Where are we? What is the date? Etc. I was alone with her when I asked this first. Who are you? “Ami Shonkor Guptor bareer meye”.( I am a girl from Shonkor Gupto’s family).I repeated, and she gave the same answer. She couldn’t tell me her name. Shonkor Gupto wasn’t her father but an ancestor who had built their house in Goila village of Barisal, East Bengal. She recovered from the stroke and remembered nothing of the incident. When I asked her later, she replied “Jyotsna Sen” or  “Tore mare ziga” (Ask your mother).”Who are you” and “What’s your name” had become one and the same, again. She died sometime later. Another stroke felled her.

Displacement brings trauma with it. And the trauma can be cryptic. It can be hidden. It can be pushed down, sunk deep with the wish that it doesn’t surface. But displacement from home is a strange phenomenon – resurfacing in odd ways. And often an involuntary journey away from home is a journey away from one’s self too. The journey of displacement is hardly linear. It is more like a long arc. In most cases, the arc doesn’t turn back to where it started from. The journey looks unhindered by identities left back. But we can sometimes peer deeper. Nobody called my Dida  by the name Jyotsna Sen – she merely signed papers by the name. She had a name by which people called her before her marriage – “Monu”. This name had become hazy after her marriage and journey to her husband’s house and then essentially lost after she migrated to Calcutta. She had been doubly removed from the people, the household, the organic milieu that knew “Monu”. She had 3 children, 4 grandchildren, a husband, a new city. Where was she? And when all this was shorn off, what remained was a teenage girl from East Bengal village – a place she hadn’t been in 60 years, may be the only place where she will be much of herself. Monu of Shankar Gupto’s house.

At this point, I wonder, whether she silently bled all through. Would she have bled similarly if she had choices about her own life or at a bare minimum, if she had  an active participation in the  decisions that changed her life’s trajectory? The speculative nature of the inferences I draw from her “unmasking” story is not a hindrance to imagine what could have been. A little looking around might show such stories of long-drawn suppressions all around – suppressions we consider facts of life and take for granted. Who knows what she would have wanted at age 15 or at 22. Where was her voice, her own thing in the whole Calcutta saga that followed? The picture perfect 50th anniversary clearly didn’t capture all that she was. Her husband believed she had her due – what more does one need, he thought for her. My mother thought, with a well-intentioned husband that her father was, Dida must be happy. The identity-politics fired lefty in me had thought she hadn’t been displaced enough, given her Bangal milieu!  We were all wrong! A part of her lived repressed all along. In the microcosms we inhabit, there are stories of displacement, failed rehabilitation and denial of life choices. It is my suspicion that on learning about the Narmada valley displaced, a part of my Dida’s self would have differed vehemently with the Supreme Court judges Kirpal and Anand*1 – stances which often elude the nuanced mind of the intellectual.

*1 Justice Kirpal and Anand in their majority decision disposed off Narmada Bachao Andolan’s public interest litigation and allowed the resumption of construction of the Sardar Sarovar Dam and increasing of its height upto EL 90m, resulting in further displacements of many more families, in addition to the thousands already affected.


Filed under Bengal, Home, Identity, Kolkata, Language, Memory, Partition, Scars

More than ruins in an unfamiliar city – locating the Bengalee urban middle class psyche in change and persistence

( Himal SouthAsian, Jan 2008)

The milieu of the urban Bengalee middle class in Kolkata and mofussil towns is undergoing tremendous changes. There is an overt change in how urban settlement units look and what constitutes the neighbourhood. But there is an ongoing change within homes as well. This change inside encompasses both physical changes and changes in life practices. Such changes have an unequal distribution which means that certain practices, certain ways of living, being, arranging and utilizing the domiciliary space have proved to be more refractory to changes than others which have been given up with less persuasion or greater cajoling – persuaded from within and persuaded by changes around. To look into the differential pattern of refractivity to changes provides an interesting window to a question – what constitutes the signature of the Bengali urban middle class identity? Beyond quantitative economic indices of income and consumption, one can conceive of a space whereby a constellation of signature elements of urban domiciliary space layout and utilization, the urban Bengalee middle class can be satisfactorily mapped to.

Defining the middle class in pure economic terms, discounting the particular engagement of its psychological self with its milieu and aspects of this engagement that help define the middle-class stereotype, can be dangerously off limits. There is a greater danger of such definitions :changes in economic parameters, for the better, are considered to be surrogates of ex post-facto consent to changes in ways of living, consuming, engaging. Many of the drastic changes in the exterior urban landscape and associated changes to concepts of neighbourhoods and the sense of belonging therein, concepts of ecology and nature, concepts of inter-human relations within and beyond relations of consumption have been without consent. A specific type of a ever more consuming urban vision delegitimises such lack of consent. Being the products and perpetrators of the self-exorcism that regularly figures in the journey from the village to the city in the tropics, the urban middle class often finds itself in a peculiar double bind when forces of “progress” or “development” of the day start trumping the sense of perch, identity and imagined antiquity of urban middle class ways of life, especially when such forces drastically threaten to turn on its head this negotiated identity the middle class has come to know as a part and parcel of its way of living. In this assault, amidst changes within domiciliary urban spaces, what the urban middle class negotiates to hold on to give a peek into some of the innermost chambers of their selves. And a closer look at the past and present living spaces and practices of the Bengalee urban middle class might offer a few of the signatures of their “middle class-ness”.

To look at such urban domiciliary spaces of the Bengalee middle class with the above aim has to be done with caution. It is not about documenting how these spaces look today or they looked yesterday. It is about what aspects of yesterday remain today, in spite of greater spending capacity per family and the overarching logic of ‘saving time’. It is this gap between affordability and reality which is of interest – the specific patterns of “falling short” can be illuminating.

The middle class, dhoti-panjabi clad bhadralok or gentleman has appropriated a large part of the written history of colonial Bengal. This urban, middle class, liberally educated bhadralok had also become the cultural symbol of Calcutta, marginalizing other social or ethnic groups by the sheer normalising power of this image. In the past two decades, there has been a dramatic change in the rate at which things change, at least in the material realm around this urban populace. There has also been a perceptible, however feeble, tendency to find a historical comfort and maintain a continuity to its past which in some ways resists change, or at the least, tries to modulate its rate.

The privacy of the bedroom does not quite stand in as high regard to the middle class Bengali as it does to a westerner. After everyone has woken up in the morning, amongst the first order of business is to ‘sweep’ the bed clean, neatly arrange the pillows and the mosquito net in one corner of the bed and cover it with a bedcover, usually a heavier cloth than the bed-sheet. Tucked tightly around the mattress, the bedcover encapsulates and protects the privacy of the nights spent on it and prepares the bed as a place to sit for the close friends and visiting relatives. In contrast to the bedroom, the drawing room is meant to entertain formal guests who fall outside the large circumference of ‘like a family member’. The changing middle class has not ignored the demand for a clearer distinction between the drawing room and the bedroom, yet they have not given up the bedroom as a place for heartfelt conversations or plain simple adda. The bed, as a place to sit and talk has survived the changing lifestyles of the Bengalis and so has the thin hard-stick broom to ‘sweep’ the bed in the morning.

Large sections of the middle class Bengali have shifted to modular living in multi unit apartment buildings, transforming both the sociological and spatial boundaries of a para (neighbourhood) as well as redefining the individual space within a household. Examples of incongruous ways of living could be interpreted either as efforts to adapt to an unfamiliar yet sought after way of life, or a resistance to un-participatory change.

The bedrooms in the older houses almost necessarily came with taks – built in recessed shelves in the wall. A collection of Tagore’s songs and poems (Gitobitan and Sanchayita) on these shelves, held in public view, were a unifying factor for the middle class Bengali across the political spectrum. Other names that have a high probability of occupying the coveted spaces are Saratchandra Chattopadhyay, Subhash Chandra Bose and Swami Vivekananda. A Materia Medica, the popular encyclopaedia of homeopathy, was not an uncommon find. The literary display on the shelves, as it were, was an intellectual companion of the middle class Bengali. The tendency to have a series of “Complete Works of…” was perhaps a wish for comprehensive erudition.

Some boundaries have been made porous while others rigid, and taaks have fallen victim to these changing permeability. Boundary walls enclosing gated communities have grown higher and thicker while the thickness of the walls of the buildings has been reduced to half, eliminating the possibility of built-in taaks. The ability to hum the tune of a Rabindrasangeet, recite a stanza from a poem to match a situation, quiz others about the author of a recited poem or invoke Marx on occasions, during serious opinionated discussions, have continued to be the mark of an erudite Bengali which is intrinsically tied to the intellectual companionship of the books. The evicted books have found room in stand alone wooden cases with sliding glass doors. It has remained an important companion of the family, finding a niche in the bedroom as a first preference failing which it has found itself relocated to the drawing room.

Eliminating the class insensitive mosquitoes has not been a priority of the rapid changes that have been sweeping across Bengal and the mosquito net remains the primary defence of the middle class Bengali. Methods of stringing up the nets, across various households, are as diverse as the stagnant water bodies, including the drains that are the breeding grounds for the mosquitoes. Sari paars (sari liner that prevents the edges from fraying), pyjama strings, jute or plastic strings and sometimes a combination of all kinds knotted at ends could be found hanging from door latches or hinges and from miniature hooks precariously embedded in the walls. The mosquito net is erected by adjusting the tension in the four, mostly unequal, strings that are tied to the pre-fabricated loops at the corners of the net itself.

The art of setting up the mosquito net before going to bed has remained largely untouched by the transitioning lifestyles of the middle class Bengali. When the lights are switched off and no one is watching, and there is a momentary let-up in the pressure to modularise, the self, finds comfort of familiarity under the sagging roof of an asymmetrically strung up mosquito net.

The bathroom of a Bengali urban middle class family is arguably the most unacknowledged part of the home. But there are markers which set it apart from the upper class homes.

The soap used for the body gets thinner and thinner by use till it becomes a thin flake or a small pebble. At this point, the soap is added to a pre-existing soap of a peculiar variety. This is formed solely of such earlier thin flakes and pebbles. The soap has a variegated appearance reflecting the brands that household has used. The use of this soap is solely to wash the unclean hand after defecation. It is a very specific type of a hand washing soap. The absence of a soap to solely wash hands is a feature. The issue of cleanliness creates its own signature where the presence of a bathing soap for exclusive hand washing use is generally as exception.

Several specificities come out of the issue of cleanliness and cleaning. The bathroom is nearly universally associated with stench of varying degrees. This phenomenon leads to a middle class person’s first observances about luxury hotel bathrooms or bathrooms of the upper classes – “The bathroom does not have a (bad) smell!” Comodes and pans which regularly have one of the following dysfunction – flush not working due to broken piston or chain has broken, leading to various ingenious ways of flushing – mostly by manually enabling the dysfunctional flush to work. The thickness of the air can partially be attributed to dysfunctional flushes , lack of air ventilation and the semi-permanent presence of a zone of slippery material called pechhol. The semi-permanence can be attributed to the presence of the jhnata, a type of short broomstick. This jhnata is different from the room sweeping jhnata whose cleaning units are more like soft sheafs than stuff sticks. What is typical of the jhnata is the unequal lengths of the dnatis (sticks). The jhnata has a long -shelf life and is mostly not used.Whether that is the cause of the pechhol not being cleaned or the presence of pechhol being the natural state of a bathroom making the jhnata a secondary accessory is an open question. The bathroom jhnata is generally used many times before they are discarded – the particularly tough sticks of the broom pack into themselves a lot of service. Interestingly, the idea of cleanliness originates from hygiene but microbial and germ theories of infection of European vintage don’t hold much currency in middle class consciousness and hence the jhnata does remain the mainstay of cleanliness, driving out macroscopic threats. The incursion of microorganism killers even in commode or latrine pan cleaning has been very slow in urban middle class Bengalee households. Robert Koch lives but the jhnata rocks. Like the jhnata, there is a certain lethargy to replace a broken mug in the bathroom. The commonest point of breakage is the handle. In fact, attempts at mending the mug along the fault lines are not uncommon.

Certain feature are evident in the fittings too – certain patterns which have been a part of life as it was practiced but stay on in changed circumstances. The presence of a tap, poised at nearly half-length of the shower is a fairly constant feature. But it is not a random length. Though now mostly used to fill up buckets and occasional foot cleaning, the length, either in emergency, ineptitude or plain familiarity serves as a surrogate for the shower – the “koltola” or tap station being recreated. The builders and architects have continued keeping this feature, may be even oblivious to the reason of its specific height, as it is unlikely to be mentioned in the texts and plans they studied at universities. The height allows someone to sit under it and bath – few people do it, except the force bathing of children (who can stand full height) under it by parents. This standard height has somewhat unwittingly lingered on in the perception of the designers of small flat units. Also, something that is retained is the storing of water in buckets even in modern residential units with non-stop water supply. This primordial storage even in the face of abundance – logical or not – needs an arrangement by which water is not wasted. Hence, often a thin cloth is tied at the mouth of the tap to make it a controlled focussed flow, into the bucket. The tap generally leaves its mark on the floor directly beneath, especially if its made of tiles with stone chips. It is more rocky than smooth and marks the place where the gushing tap has been hitting the floor for a few years. The hand shower also called the telephone shower is also kept largely unused – a late 80s addition to housing projects, its ornamental role is sometimes very obvious. The most obvious difference between strict upper classes and the middle classes in how they think the bathroom floor should be – the upper classes prefer it to be dry, all the time. The only time the middle class bathroom floor is dry is when they leave the home en masse for more than a couple of days.

If one moves from the health of the bathroom to the cleanliness of it users, a few other signatures become evident. The fogginess of the bathroom mirror calls into action sophisticated internal correction strategies so that a semblance of the real face and hair can be constructed from what is seen in the mirror. Gamchhas (thin red cotton cloths) or towels, whatever is used to dry the body after bath, are generally not allocated exclusively for each family member, but each randomly chooses to use whichever is dry or semi-dry. The presence of coconut oils is as characteristic as the general absence of washing machines because they purportedly they don’t “wash well”. This has another aspect. There is an hesitancy in the move to mechanisation for that is also gives a sense of loss of control (in a very different sense than the numerous “controls” in the washing machine display or buttons). During certain times of the month, there are toothpaste packs which are crumpled – crumpled from the end to the mouth to squeeze out that last brush full left in it.

Unlike the bedroom or the bathroom, and indeed, the practices and daily rituals associated with them, the contemporary urban middle-class kitchen has less in common with its preceding models. A lot of this has to do with the physical layout of the kitchen of urban living unit, notably flats. Compressed living spaces have necessitated smaller kitchens, which with the advent of interior planning have nonetheless become more efficient in the actual utility of allotted space, given that the space is small to start with. Also, kitchens in contemporary homes have only the identity of a functional space or unit, unlike a social space that it once used to be.

Not too far back, kitchens in their classifications and their appendages and accessories, were a cultural signifier of the female social narrative. Perhaps the one practice that, with sudden changes in urban lifestyles and therefore in socio-religious practices, has been completely erased from the discourse of cooking spaces is the dual existence of amish and niramish kitchens. ‘Amish’ being the Bengali word for cuisine that includes animal flesh and the vegetables used typically to season it (primarily, onions and garlic), and ‘niramish’ encapsulating that which the Bengali, traditionally scornful of vegetarian diets, would dismiss as cattle food. That the niramish kitchen was a necessity in even small houses is representative of the function and position of women in contemporary Bengali society. First was the unavoidable fact that the number of widows of considerable, and the firm adherence to a distant behavioural code for them put them into special prominence. The niramish kitchen was ‘their’ kitchen, these women who, with the death of their husbands, had lost the right to a high protein diet – which included certain pulses along with every form of animal flesh – because a high protein diet would encourage those physical impulses which as widows, they had lost socially-approved access to. But the “loss” of the separate kitchens have been negotiated as separated utensils and even separate stoves and most ingeniously, separate portions of the stovetop. The negotiations do point to impulses of cultural survival, in a milieu that throws up living conditions that do not really have the Bengali urban middle class cultural context in mind.

The urban kitchen achieved visibility when Calcutta first saw a noticeable upsurge of middle-class family settlements, as opposed to messes or hostels where men, young and old, would live in dormitories or rooms, drawing nourishment from either the establishment’s common kitchen or one of the many affordable eateries of questionable hygiene. Initially, the kitchens in the city were not much different from the kitchens in the suburbs or villages, one prominent difference being the source of water. For those areas that provided them, a kitchen would extend up to the koltola, which was a tap or a hand-pump just outside the kitchen. This was where the utensils were washed and often, where fish or the occasional meat was cleaned. Few kitchens had running water inside them. The so called ‘Indian’ convention of washing utensils under running water comes after the actual availability of said running water in newly installed kitchen taps and sinks.

What transformed the modern kitchen and made it nearly unrecognisable from its predecessors is the advent of gadgets, both as cooking aides and as preservative devices. Even the humble knife, indispensable in today’s kitchen, was unheard of at the turn of the last century, when bNotis were the sole device to cut, chop or dice. It is the refrigerator in particular that replaced the once-ubiquitous meatsafe (which, contrary to it’s name, was never used to keep uncooked meat) as well as the somewhat obscure concept of jolshora, which involved keeping food safe from insects by floating a bowl or dish of it in a larger flat bowl of water. Following convention, however, few Bengali homes install their refrigerator in their kitchen. Like the meatsafe, which usually held leftovers, sweets, butter tins kept in jolshoras and various snacks and savouries, the usurping refrigerator is usually situated a few feet away from the door of the kitchen, at one corner of what is usually the dining space. Bengali kitchens do not provide the scope for functional machinery to exist within it’s premises, unless it the exhaust fan, that successor of the tiny ventilators which dispelled the smells of cooking and the smoke more effectively. The walls behind the oven are proof to this – they are as greasy and dark with smoke and residue of fried oil today as they were a few decades back.

The more than lingering presence of the bNoti, even in the presence of fashionable vegetable cutters and graters begs more explanation than efficiency. The hamandista, which is a medium size mortar and pestle to grind dry spices and the sheel-nora, a flat version to make pastes out of non-dry spices as well as onion, garlic and the like, are in some ways, more real statements for cultural choices than sporting a Che-Guevara T shirt in a western metropolis. These devices exist in spite of top of the line mixer-grinder contraptions and in the hired labour that is employed to do this, the rational goes similar to what is given for not replacing the domestic helper for washing clothes by the washing machine.

Reasons for cultural choices may run deeper.” Many oppressed cultures, in trying to keep alive an alternative vision of a normal civilization and resisting some of the modern forms of man-made suffering, have sought to defy the modern concept of productive work and the totally instrumental concept of knowledge which goes with it.”1 While on the face of it, to look upon the Bengali middle class way of life of their imagined antiquity as an oppressed culture would be somewhat erroneous, but one could say, with some trepidation, that some elements which define the selfhood and identity of the class, do feel threatened and indeed oppressed – just that other parts of their selves may be complicit as cogs, wheels and even engines of this supposed oppression. Mixers-grinders and sheel-nora play out this internal dialectic tussle of sorts in living spaces – it is much more than a tussle between automation and authenticity, but crucially includes elements of those. By the sheer “irrationality” of the persistence sheel-nora, the domestic help who washes clothes, one gets a hint of its subversive underbelly.

The listing of these instances serves a purpose – the purpose with which we started from. These patterns, some or all of them, together at least partially help define the psychocosmology of the middle class. And to stick to them, in the face and in spite of alternatives thrown in from without, is in a large part an attempt to keep a sense of self-hood that comes with certain values and life practices. The element of dissent here is not to be missed for it is this urban middle class of Bengal which are considered the most vociferous cheerleaders for the patterns of change that are perturbing life practices and domiciliary spaces, especially in the last 15 years.

The Bengali urban middle class self exposes a particular tentativeness and apprehension of vulnerability if one looks at the pattern – the things that are retained. The middle classes are split between a hitch ride to a lifestyle that is swank and unknown and a lifestyle that has a certain comfort level due to familiarity as well as a sense of perch and imagined antiquity. So, when external non-consensual changes come in, there is a negotiation to preserve the existing identity of the self. There is another aspect too. The pattern also gives away another aspect. They are not fully convinced about the permanence and sustainability of this change brought about by new money and aspirations – hence these tries to keep a lifestyle less expensive. This zeroes in on one of the deepest middle class values – an economically low risk lifestyle where status quo has much more currency than a higher risk game of rising. This shunning of change for a rise comes with a dread of falling. One of the elements which go into rationalising this shunning comes out in middle class contempt of the rich and aN a priori assumption of dishonesty on the part of anyone who has made a considerable amount of money or has a flashy lifestyle. The disjoint between affordability and lifestyle of Bengali urban middle classes is extremely revealing. With increase in riches and getting confronted with lifestyles middle classes associate with luxury, the middle classes are faced with a nagging feeling about the value-neutrality of its own recent prosperity. They do want to see in its domiciliary space as less as possible, signs that mark a radical departure from their lifestyle that was honest in their own imagination. And this complicity and dissent exists at the same time. In between the two, the complicity has a non-consensual element to it too, arising out of what it thinks is absence of choices – the choice being not of choosing to be a MBA or an information technologist but the choice to chose how far down any road it wants to go. No one is obligated to make the journey. In the same vein, no one is obligated to complete the “full” journey either, having once embarked on it. It is the absence of choice to drop off the bandwagon that creates internal turmoil of the most extraordinary kind. When one cannot chose extents of complicity to non-consensual change all over, dissent works out in maintaining an illusion of no-change. Having little or no control over the external urban geography, the theatre of such dissent shifts to the indoor.

What we have just described might well apply to other South Asian middle classes but we studied only the Bengalee urban middle class. May be in some of these tenacious “typical” middle class behaviours, people externalise their lack of consent to aspects of change that have come to affect their urban spaces, especially after it became passé to be ashamed of being rich, at least in urban public discourses in Bengal. Who is to say?

1 Ashis Nandy , Traditions, Tyranny and Utopias : Essays in the politics of awareness, (Delhi: Oxford University Press, 1987), p.42

Leave a comment

Filed under Bengal, Change, Identity, Kolkata, Urbanity

Along Chitpur Road

(  Himal SouthAsian Mar 2008)

Sometimes historical facts tend to obscure current realities by transforming themselves into popular myths. The bangaliana of Calcutta is one such example – the city’s pervasive projected identity is defined by the lifestyle and cultural moorings of a specific class of the middle-class Bengali. Yet of course, in the manner of all economically strategic centres, Calcutta has never been exclusive to any one ethnicity or culture. But for several centuries since its supposed British founding in 1690 (a date that is now widely debated), Calcutta has certainly been a ‘Bengali’ city. Indeed, it is only during the latter part of the 20th century that minority communities in the city have ceased to be mere statistical figures and begun to assert themselves culturally. This transformation has become particularly noticeable on the city’s streets, in the faces of the daily labourers and street vendors who are largely from Uttar Pradesh and Bihar, and the Rajasthani accent that has secured a place for itself among the middle- and upper-middle-classes of the business community. The diversity of Calcutta, always present in reality but long absent from the vision and imagery the city invokes,within its constituents and beyond,  has undergone a transformation.

In the collective mind of the city, the parallel non-Bengali cultures always had a certain niche. But centres of parallel cultures that held cultural prominence during the time of the British Raj have slowly been moved to the fringe of popular consciousness in Calcutta. In this way, over the past few decades their impact on the city’s mainstream culture has been significantly diminished.however, this new consciousness seems to somehow have lost sight of the older centres of non-Bengali parallel cultures that held great prominence at the time of the Raj, such that the most prominent such centre, Chitpur Road, has become a fringe slice of exotica with very little influence on Calcutta’s cultural composition. Instead, the newly conjured multiculturalism is more of an extension of the projected idea of a modern, urban, pan-Indian ‘culture’. Fortunately, buried amidst this new gloss there remains a sublet tapestry in certain parts of Calcutta: its own organic fibre of a-modern multi-ethnicity – muted, non-jazzy, real.

What was named Lower Chitpur Road after the British birth or rebirth of Calcutta historically predates the city. It is a part of the old stretch between Kalighat and the capital of the Nawabs of Bengal, Murshidabad. In postcolonial Calcutta, its great thoroughfare status has been taken away by the newer, more spacious Central Avenue (which has, since the nineteen thirties, been officially called Chittaranjan Avenue, but the colonial name persists in public memory), and with the decline of the baiji or nautch-girl culture, Chitpur Road has also lost it’s place on city’s internal entertainment map. Nonetheless, Chitpur remains crowded throughout the day, mostly with trams, buses, cars and carts jostling for space, and with people who see it as a connector between more ‘modern’ sections of the city, but also with those who still define their lives around the aura of quaintness Chitpur Road has developed with evolving times — traders selling hookahs of silver, glass and jute, street-vendors advertising food that finds no mention in the city’s mainstream restaurants, and perfumes or attars that the average Calcuttan of any faith traditionally associates with Lucknow.


Lower Chitpur Road can be divided into two parts, the Muslim Bihari-Lakhnavi section and the Hindu Marwari-Bihari section. The confluence of these two is, perhaps aptly, at Mahatma Gandhi Road. The area, which has its inhabitants live by its amodern cultural specificities, in its trade, faith, food and perfume, would be a strange conundrum to the liberal modern-secular.

Especially so in Calcutta, which construes such concepts as “secular” and “communal harmony” as the primacy of a civil identity of the individual over a religious or ethnic one; indeed it is a matter of pride amongst certain sections of the city’s inhabitants that communal politics has found little place in it over the decades. Chitpur Road, however, stands in sharp contrast to this interpretation of secularism, portraying instead a system where purportedly incompatible religiocentric lifestyles occupy living spaces in close proximity to each other, and  manage, it would appear, rather better than planned attempts at cohabitation. Here, it actually is the living faiths in living spaces that constitute a force that allow for the ‘edges’ of purportedly dissimilar communities to live side by side. In the Calcutta riots of 1946, Chitpur Road was certainly the scene of some violent acts; but at the same time, it was also the theatre of a much greater number of instances of public resistance to troublemakers deemed as ‘outsiders’.

Living faiths in living spaces are the arena for action of long range forces in time, that make purported edges brush with each other and not bristle, without losing the edges.This could be due to the pragmatism of the trader and the common marginality of both of these communities (non-Bengali Hindu and Muslim) with regards to ‘Bengali’ Calcutta. But, the section of Mahatma Gandhi Road that runs through Lower Chitpur Road is as much a confluence of two cultures as a sharp visual divider between them. And thus the Marwari merchant of Sri Ganesh Stores, selling mattresses bearing motifs of the Kaa’ba becomes as unique to Chitpur Road as does the suburban daily-train-riding Hindu clients of the Ambari Tobacco and Hookah Shop (see pics). In their combined ambience, these individuals do not actively seek unity. The long-range forces that arise out of faith as practiced by the common masses, after all, are not cynical social-engineering projects. Instead, they are primarily methods of peaceful existence. These are not proactive interventions that seek unity, but rather mere interactions that arise almost invariably due to individuals who live side by side – this is what ensures the possibility of coexistence. Living faiths hold in its corpus and  in its praxis by little people an idea of non-modern tolerance, ensuring mutually non-annihilatory co-existences. And not based on urban industrial dystopias of assimilation by denial of cultural choices of the ‘Hum sab ek haain’ (We are all the same) kind, faith keeps it real.


Lower Chitpur Road thus presents a close encounter of another kind: the geography here breeds engagement, possibly not as neighbours but not as aliens either. Living faiths are the cement that minimises friction here – acknowledging the natural difference in the kind of faith, but through a tacit acknowledgement of what can be thought of as the ‘spread-out location of the divine’. From faith and engagement with the divine is able to grow an appreciation of someone else’s path to the divine, subsequently leading to a reverential non-engagement. This is in sharp contrast to the modern usage of religion by various types of politician: from the cynical instrumentation of faith by religio-nationalists to the hubris-laden denunciation of faith by progressives.


Refresh the memory

The advertisements on Chitpur — not the large billboards owned or rented by well known advertising agencies, but the hand-painted tin boards and shop sign-boards — are yet another reminder of it’s uniqueness. Billboards are written in English and Urdu, gradually changing to Hindi and sparingly, Bangla, as we moved from the visibly Muslim area to the Hindu one, obviously marking the demographic change along the way. Hand-painted bills advertise special prices on couriers small Uttar Pradesh towns as Faizabad and Moradabad – names that rarely, if ever, merit mention in the average Calcuttan’s travel itinerary. Signboards over street shops promise delicacies, the likes of which are rarely encountered in other Calcutta eateries, even in traditional Mughlai restaurants.


And, of course, there are the wares: chamors (made of the tail-hairs of chamri gai or yaks and used in Muslim, Hindu and Sikh religious ceremonies), attars, tobacco-cutters, every kind of Indian musical instrumnets, strange desserts. These are all relics of older, barely electrical days of a more antiquated style of living and of business; one of trading through the day before the nine-to-five schedule gained widespread popularity. To the Calcuttan inhabiting the space we shall broadly call the modern, mainstream life, these almost uniformly empty shops and genteel, indulgent shopkeepers might well be a live show in an anthropological museum.


In Chitpur’s Muslim section, there are references to a mythic Mughal connection. The Muslim lower-middle-class of this area, of course, never had much in common, even historically or culturally, with the great rulers of Hindustan and their ways of living and eating. But when a hole-in-the-hall eatery displays an advertisement board reading “Ahd-e-Mughaliya ka yaad taza kaarein” (Refresh the memory of Mughal times), the lingering appeal of claiming connection with what was arguably the greatest period of Muslim cultural richness is clear.


After crossing Mahatma Gandhi Road, the change of the outward character of shops from the Muslim section to the Hindu one is a drastic one, not only in shop names but in wares, too. Moradabadi stores give way to Bikaner Bhujiawalas. Suddenly there are no more lungi shops or itr khanas (perfumeries). Khaini sellers replace hookah shops. Street vendors selling paan, durba grass, mango leaf and other signifiers of Hindu rituals are suddenly conspicuous, as are swastikas as the omnipresent emblem of faith, whether of one kind or another. There is even a nuanced change in the character of street foods – vendors of dates, kulfis and sheek kebabs give way to phuchka and masala muri.


The bustling streets thin slightly during early evening prayers of the Muslims. Those that had just concluded their prayers go in groups into the Aminia, one of the oldest Muslim eateries in Calcutta. Others are hurrying from the Mahatma Gandhi end to the Lalbazaar end, using Chitpur merely as a conduit. Meanwhile, the cordial, smiling shopkeepers sit in their shops, and watch the city with an air of ambivalence. For our part, we too sit and watch this complex flow. In the smells of unidentifiable spices and roasting meat, in the fleeting reflections on the polished silvers and brasses of hookahs and massive pots and pans, we too catch a glimpse of life governed by a different ethos of trade – one in which interactions are personal, time is less of a commodity, and aspirations to change are not nearly so virulent.

Leave a comment

Filed under Bengal, Faith, Identity, Kolkata, Urbanity

The multiverse of loyalty

[ Himal SouthAsian, May 2007 ; Dhaka Tribune, 7 Feb 2014 ; Shillong Times, 23 Jan 2014 ; Echo of India, 28 Jan 2014 ]

The multiverse of loyalty: ethnicity, state and the Bangladesh-India cricket match.



For the West Bengali bhadralok, East Bengal continues to represent vastly different things to different people: a Muslim-majority country, an audacious dream of ethnic pride and secularism, a land vaguely culturally similar but distant in imagination, their forefather’s homeland, the place where cyclones aimed at West Bengal finally end up, a hub of ISI activity, the place of origin of the wondrous Ilish fish, the list, of course, goes on. While every West Bengali’s attitude towards East Bengal/Bangladesh is formed from one or more such memories and connotations, many of these have a limited acceptability in standard discourse, particularly in public expression. That does not make them any less potent, however, and forces their manifestation only under very particular instances.


One of those instances was 17 March, the day Bangladesh scored its historic win over India in the World Cup cricket match in the West Indies. I watched the Bangladesh-India game in an undergraduate house at Harvard University. With India being the odds-on favourite, the Bangladeshi team was widely expected to take a beating. Since live telecasts of cricket matches are not available on cable TV, the Harvard Cricket Club folks, comprised primarily of Indians (including this writer), had bought a special subscription. Watching along with me were two East Bengali friends. If truth be told, I only watched the Bangladeshi innings because I could not wake up in time for the Indian innings after a late night’s work. Regardless, while I was happy that West Bengal’s own Sourav Ganguly, the Indian team’s former captain, was in the process of scoring the highest number of runs for the Indian side, I was not very happy with the Indian total. But slowly, perhaps as I became more and more caught up in the action on the field that reaction changed.


With the Bangladesh Tigers prowling all over, I felt the first of many alarm bells going off in my head. I was surrounded by non-Bengali supporters of India, who were cursing the Indian team for its poor performance. But as the direction of the game became increasingly obvious, I did not really see the coming defeat as my own. In fact, I was busy asking  somewhat quietly and ashamedly questions about the Bangladeshi team: Oi batsman tar nam ki? (What is that batsman’s name?) By the time the match was nearing its end, I had become an unabashed Bangladeshi cheerleader. This led to a few strange stares, but I did not care. Nonetheless, it did all feel a bit odd. My cheers, after all, were not really for good cricket. There was nothing remarkable about a single run taken by Bangladesh, except perhaps that it was bringing the underdog a little closer to a win against the titan. And I was happy, long-forbidden loyalties were having a free ride, and the Bengali (not the West-Bengali Hindu) in me loved that we had won.


After the game ended, the general ambience in the room was distinctly dark. But I found that my own mood was not part of the gloom. My East Bengali friends treated me to a pint of beer, and we had a hearty, congratulatory talk. As I walked home that evening, I felt a nagging confusion- not about the anger of the Indians, nor about their reaction to my cheers for Bangladesh. Rather, of my own change of heart. A side of me had opened that only had so much space and time for loyalties. It is an easy call, perhaps, when Ganguly is on the team – he is an Indian Bengali. But even here I was found wanting. And more generally? In the games to come, would I continue to root for the Bangladeshi team? And what did this opening mean for India-Pakistan matches to come?


Primordial organic identity

The way that my reaction had publicly changed during the course of the game would have been inconceivable had I been watching the match anywhere within India or Bangladesh. The split self that I harbour and which, I believe, many others do as well , does not have a legitimate space for expression in any but the most liberal of establishments in the Subcontinent. But such dual identities remain within us, deep down in our hearts, where politically correct stances and obeisance to national symbols cannot cast a shadow.


Ethnicity is a category, as is identification with a nation state. However, these two differ in one important aspect. A nation state demands explicit loyalty, and de-legitimises everything else; those who balk at this explicit parade of fidelity are at best and parasites at worst, loyal to another nation state. The kind of fealty that ethnicity proposes, I like to believe, is at once more organic and primordial than that demanded by the nation state. In most cases, the loyalties to ethnicity and to nation state do not come into specific conflict with one another. But the varying degrees of distance between the two can be mapped as a continuum. On the one hand is the Naga, for instance, who has no nation state but is held within an all-consuming one, which goes to repressive lengths to extract explicit loyalty. At the same time there is the Hindi belt, an area that can explicitly declare its unflinching loyalty, as the points of declaration in its case do not interfere with claims of ethnicity. The Hindi belt is to the localities the natural claimant of the spot where the Indian pulse is to be felt, something that the rest of India only grudgingly acknowledges.


West Bengal is an interesting case in this regard, falling somewhere in the middle of this continuum. Together with the explicit declaration of loyalty to the Indian nation state, we find here a vague understanding and acknowledgement of ethnic kinship with Bangladeshis. But of course, almost all Hindu (and Muslim) West Bengalis would balk at a declaration of loyalty to the state of Bangladesh. And so the split self remains masked. Even among West Bengalis there would be a continuum of the exact extent to which this kinship is felt, irrespective of loyalty to the state of India. It is an interesting and open question: How does the barrier between Muslim and Hindu West Bengalis differ from that between West Bengali Hindus and East Bengali Muslims? For that matter, can any such difference be attributed to allegiance to India? Would the dynamics of West Bengali loyalty to India change if Bangladesh were not a state that bore the primacy of Islam in its Constitution? Further, did Hindu West Bengalis feel clear affinity with the Bangladesh that was still officially ‘secular’ before the 1988 constitutional amendment that made it ‘Islamic’?


The day after Bangladesh’s 17 March win, I was reading Sangbad Pratidin, a Bangla daily published in Calcutta. It reported that, following India’s loss, local cricket fans were not as grief-stricken as was the rest of the country. This same story was echoed in the national media. I could not help wondering whether I would have felt as positive as I did if my local Calcutta boy, Sourav Ganguly, had not scored well  indeed, had he not been the highest run-getter among all of the two team’s batsmen. How would I have taken to East Bengali bowlers cutting short Sourav’s innings?


Days later, the Bangladeshi team defeated South Africa, the world’s top-ranked squad, doing much to demonstrate that their win against India was not a fluke. West Bengal’s largest-circulating Bangla daily, Anandabazar Patrika, carried huge headlines trumpeting, “Bengalis stun the world’s best”. Bangladesh had the sudden chance of a glory run, and I found that I wanted to cheer it all the way , my conscience perhaps cleared by India’s elimination.


United in grief

An inward-looking state experiences great problems with transnational loyalties and animosities associated with those loyalties. Nowhere were the disadvantages of this seen more clearly than in this year’s Cricket World Cup. It is widely acknowledged that Southasia, specifically India and Pakistan, are the lifeblood of commercial cricket (See Himal November 2006, Cricket cooperation). Southasian interests are the major stakeholders in wooing sponsors, popularising the game, worshipping the players, studying the telecasts, watching the ads, performing related ceremonies, baying for the blood of fallen stars, critiquing the teams, purchasing the tickets, buying the players. The majority of this exuberance has not spilled over into other global cricket audiences, except possibly the West Indies in an earlier era.


In the 2007 Cricket World Cup, all of this was fantastically played up. India lost unceremoniously to an unrated but spirited Bangladesh. Pakistan lost to Ireland, one of the weakest teams in the series. The drama reached its bizarre crescendo after the Pakistani loss, when the South African coach of the Pakistani team, Bob Woolmer, was found murdered in his hotel room. Rumour had it that Woolmer had learned that the match had been fixed, and that he might have had specific names. The reaction in India and Pakistan was one of shellshock. Normally larger-than-life cricketers came back home as social outlaws under cover of darkness, to avoid the wrath of fans. Allegations flew wildly, as did dispensations on what had gone wrong. India’s coach Greg Chappell resigned days later, checking himself into a hospital, reportedly fearing for his life. Only one player received a hero’s welcome upon his return to India, and that was Sourav Ganguly. Some Bengalis might have taken satisfaction in the thought that they had not been the ones who had lost. In the West Bengal imagination, India had.


With an estimated 70 percent of global cricket viewership residing in India and Pakistan, the economic fallout of the losses of these two teams was enormous. International and national corporations had invested tens of millions of dollars in television commercials touting the country’s cricket stars, while broadcasters were charging up to three times more for advertising during Indian games. Following the losses, many advertisers pulled out, with some of the largest attempting to default on contracts. The poor showing from these two teams also hit the host West Indies hard. An overwhelming number of travel and accommodation bookings had been made from India and Pakistan, and their near-simultaneous losses brought in a wave of cancellations and demands for refunds.


In the midst of all this, one heard oft-repeated laments of how invincible a combined India-Pakistan team would have been. In sleek television studios, ex-cricket stars frankly criticised their respective cricketing establishments, and even took the liberty of the moment to give advice to the other side. It was one of those rare moments when segments of the Indian and Pakistani populace were united in grief  and even sympathetic to the grief of the other.


These losses, however, did not have much direct emotional impact on me. I (along with many others, evidently) was still looking out for Bangladesh, and was finding doing so surprisingly easy. Given the relatively low expectation from Bangladesh, a loss did not bring sadness, but wins were unmistakably joyful. Segments of the Indian and Pakistani audiences may have broadly turned off emotionally from the game, but that only went to show how the ethnic continuums that spread across Southasian borders make it so tricky for the inward-looking nation states of Southasia to promote tendencies of crossborder solidarity.


Cricket in Southasia is not a game; it is serious business, and a regular metaphor for public imagination and expression. Cricket has been used as an acid test for loyalty to one’s country. In general, it does not leave much space to reach across and support the neighbours.


But primitive loyalties know no political frontiers, however strong the efforts of Southasian states to seek out exclusive loyalties. Rather, this more guttural type of devotion inevitably finds its own space in private imagination; crossborder organic connections, after all, predate the Southasian political landscape – not to mention cricket itself. But what can be used as a tool to solidify loyalty to a nation state can also act as an avenue of private, almost unconscious, subversion. Because the relationship between a country and its citizens has been moulded into one of either loyalty or defiance, this process inevitably comes with guilt.


Can we not imagine beyond this? If political identities in Southasia are largely imagined, then forceful transnational identities are potent triggers for an organic re-imagining of the region. Guilt makes the private dissident crave legitimacy, for intimate alternative identities do not like suppression. The dissident can only hope that organic continuities will eventually make states negotiate with transnational loyalties, with the audacious hope that such negotiations will be obligatory to the long-term survival of nation states in Southasia.




Bangladeshi-Pakistani bhai-bhai?

Of course, the Southasian story in 2007 World Cup cricket did not end with the defeats of Pakistan and India. Perhaps just as significant as the losses of those titans were the surprising wins by Bangladesh and Sri Lanka. But while the series organisers must have prayed that the turn of events from these two teams would successfully retain the interest of the great mass of Indo-Pakistani audiences, they were to be disappointed.


There were widespread stories of Indians and other Southasians, once the smarting had subsided, changing their loyalties to cheer for either Bangladesh or Sri Lanka. This regional camaraderie and the denial thereof was unbeknownst to me, until I chanced upon it on the Internet. On a widely used social-networking website, a group of Pakistanis had formed a virtual community to cheer on what they called the ‘East Pakistanis’. This attempt at comradeship, of course, would not sit well with any Bangladeshi. The site called East Pakistan for World Champions included the line, After kicking India’s ass, they take on the world.


The forum quickly became a space for nationalist abuse and counter-abuse, all under the guise of sporting solidarity. After anger arose due to Bangladesh being referred to as ‘East Pakistan’, a Pakistani member retorted, ‘Ah, personal insults. I would expect nothing less from you, my less evolved, but still Pakistani brother.’ The thread of this type of baiting continued, with increasingly personal put-downs from both sides.

Leave a comment

Filed under Bengal, Dhaka, Foundational myths, Identity, Kolkata, Nation